The I’lm Diary
3.7K subscribers
13 photos
8 links
এই চ্যানেলটি উস্তাযা নায়লা নুযহাত এবং বোন উমাইমাহ মুহাম্মাদের একটি উদ্যোগ। এখানের যেকোনো ম্যাটেরিয়াল যদি কেউ শেয়ার করতে চান, রেফারেন্স সহ শেয়ার করার অনুরোধ করা যাচ্ছে।

লিংক: t.me/theilmdiary
Download Telegram
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তায়ালা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি শরীয়তের আলেমদের — যারা তাদের জ্ঞানের ওপর আমল করেন — দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদার দিক থেকে উঁচু স্থানে উন্নীত করেন।

আল্লাহ বলেছেন:

"....তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ্ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন; আর তোমরা যা কর আল্লাহ্ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।"

[সূরা আল মুজাদালা: ১১]
16👍6
তৃতীয়ত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আন্তরিক (খাঁটি নিয়তসম্পন্ন) শরীয়তের আলেমদের এমন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যারা তাঁর প্রতি গভীর ভয় (খশিয়া) পোষণ করেন এবং তাঁর কিতাবের প্রতি দৃঢ় ঈমান রাখেন।

আল্লাহ বলেছেন:

".... আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই কেবল তাঁকে ভয় করে; নিশ্চয় আল্লাহ্ প্রবল পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।"

[সূরা ফাতির: ২৮]


এবং আল্লাহ বলেন:

"...আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, ‘আমরা এগুলোতে ঈমান রাখি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে’ এবং জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা ছাড়া আর কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।"

[সূরা আলে ইমরান: ৭]
20👍9
চতুর্থত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জ্ঞানের স্থানকে ঈমানের আগে রেখেছেন, কারণ সঠিক ঈমান কেবল সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে। তিনি আহলে ইলম (জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের) কিয়ামতের দিনে দৃঢ় ও অটল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এবং দুনিয়ায় তারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন বলে তাঁদের প্রশংসা করেছেন।

আল্লাহ বলেছেন,

‘আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে তারা বলবে, ‘অবশ্যই তোমরা আল্লাহর লিখা অনুযায়ী পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত অবস্থান করেছ। সুতরাং এটাই তো পুনরুত্থান দিন, কিন্তু তোমরা জানতে না।’

[সূরা আর রূম: ৫৬]
27👍5
পঞ্চমত: আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে ﷺ জ্ঞান এর বৃদ্ধি চাইতে আদেশ করেছেন।

আল্লাহ বলেছেন,

...এবং বলুন, ‘হে আমার রব্ব্! আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ করুন।’

[সূরা তহা: ১১৪]
22👍7
ষষ্ঠত: আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানীদেরকে (আহলে ইলমকে) নিজে বেছে নিয়েছেন, তাঁদের যা আছে তাকে মহান অনুগ্রহ (ফজিলত) বলে বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁদের জন্য চিরস্থায়ী জান্নাতের (জান্নাতুল ‘আদন) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেছেন,

"তারপর আমরা কিতাবের অধিকারী করলাম তাদেরকে, যাদেরকে আমাদের বান্দাদের মধ্য থেকে আমরা মনোনীত করেছি; তবে তাদের কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যমপন্থী এবং কেউ আল্লাহর ইচ্ছায় কল্যাণের কাজে অগ্রগামী। এটাই তো মহাঅনুগ্রহ---স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের।"

[সূরা ফাতির: ৩২,৩৩]
21👍5
সপ্তম: আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানকে “রূহ” (প্রাণশক্তি) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ এটি হৃদয়কে জীবিত করে তোলে, এবং “নূর” (আলো) হিসেবেও বর্ণনা করেছেন, যা মানুষের জীবনপথকে আলোকিত করে।

আল্লাহ বলেন:

"আর এভাবে আমরা আপনার প্রতি আমাদের নির্দেশ থেকে রূহকে ওহী করেছি; আপনি তো জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী! কিন্তু আমরা এটাকে করেছি নূর, যা দ্বারা আমরা আমাদের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছে হিদায়াত দান করি; আর আপনি তো অবশ্যই সরল পথের দিকে দিকনির্দেশ করেন---"

[সূরা শুরা: ৫২]
24👍3
অষ্টমত: আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানী ব্যক্তিকে অজ্ঞ ব্যক্তির চেয়ে মর্যাদায় উচ্চ স্থানে উন্নীত করেছেন।

আল্লাহ বলেন:

"যে ব্যক্তি রাতের বিভিন্ন প্রহরে সাজ্দাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রবের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে, (সে কি তার সমান, যে তা করে না?) বলুন, ‘যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান?’ বোধশক্তি সম্পন্ন লোকেরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে।"

[সূরা আয যুমার: ৯]
25👍7
দশমতঃ

নবী ﷺ আল্লাহর প্রতি জ্ঞানীদের সম্পর্ককে সম্মান ও মর্যাদার সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যখন তিনি বলেছেন:

“কুরআনের লোকেরা আল্লাহর লোক এবং তাঁর বিশেষজন।”

(ইবন মাজাহ)
22👍9
নবমতঃ

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“যে কোনো দল আল্লাহর ঘরগুলোর (অর্থাৎ মসজিদগুলোর) কোনো একটিতে একত্র হয়, কুরআন পাঠ করে এবং তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে — তাদের চারপাশে ফেরেশতারা ঘিরে ফেলে, রহমত তাদের আচ্ছন্ন করে, প্রশান্তি নেমে আসে, এবং আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের মধ্যে স্মরণ করেন।”

(মুসলিম)


অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা জ্ঞানচর্চার আসরগুলোকে এই মহান ফজিলতগুলো দ্বারা বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন।
22👍10
একাদশতঃ

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং তা অন্যকে শেখায়।”

(আত-তিরমিযী)


এর মধ্যে কুরআনের সব ধরনের জ্ঞান — তিলাওয়াত, অর্থ, বিধান ও ব্যাখ্যা — অন্তর্ভুক্ত।
29👍7
দ্বাদশতঃ

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“আলিমের মর্যাদা ইবাদতকারীর তুলনায় এমন, যেমন চাঁদের মর্যাদা অন্যান্য নক্ষত্রের তুলনায়। আর নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি মাছও, মানুষের মধ্যে যারা কল্যাণ শিক্ষা দেয় তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।”

(তিরমিযী)
27👍6
ত্রয়োদশতঃ

নবী ﷺ বলেছেন:

“নিশ্চয়ই ফেরেশতারা সেই ব্যক্তির জন্য দো‘আ করে, যে মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দেয়।”

[আত-তিরমিযী]


ফেরেশতাদের “দো‘আ করা” বলতে বোঝায় — সেই ব্যক্তির জন্য ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করা।
26👍6
চতুর্দশতঃ

নবী ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো পথে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।”

(আত তিরমিযী)


এখানে ‘পথ’ বলতে সকল মাধ্যম বোঝায় — যেমন বই সংগ্রহ, অডিও লেকচার শোনা, বা অনলাইনে শরঈ বিষয় পড়া।
28👍8
পঞ্চদশতঃ

নবী ﷺ বলেছেন:

“ফেরেশতারা জ্ঞান অনুসন্ধানকারীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে এবং সম্মানার্থে নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেয়।”

[আত- তিরমিযী]
26👍5
ষোড়শতঃ

আলেমদের মাধ্যমে আল্লাহ ﷻ পাপীদের পথ দেখান:

আবূ সাঈদ সা’দ ইবনু মালেক ইবনু সিনান খুদরী রাদিয়াল্লাহু ’আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী ﷺ বলেছেন,

’’তোমাদের পূর্বে (বনী ইস্রাইলের যুগে) একটি লোক ছিল; যে ৯৯টি মানুষকে হত্যা করেছিল। অতঃপর লোকদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তাকে একটি খ্রিষ্টান সন্নাসীর কথা বলা হল। সে তার কাছে এসে বলল, ’সে ৯৯ জন মানুষকে হত্যা করেছে। এখন কি তার তওবার কোন সুযোগ আছে?’ সে বলল, ’না।’ সুতরাং সে (ক্রোধান্বিত হয়ে) তাকেও হত্যা করে একশত পূরণ করে দিল। পুনরায় সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। এবারও তাকে এক আলেমের খোঁজ দেওয়া হল। সে তার নিকট এসে বলল যে, সে একশত মানুষ খুন করেছে। সুতরাং তার কি তওবার কোন সুযোগ আছে? সে বলল, ’হ্যাঁ আছে! তার ও তওবার মধ্যে কে বাধা সৃষ্টি করবে? তুমি অমুক দেশে চলে যাও। সেখানে কিছু এমন লোক আছে যারা আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করে। তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর ইবাদত কর। আর তোমার নিজ দেশে ফিরে যেও না। কেননা, ও দেশ পাপের দেশ।’

সুতরাং সে ব্যক্তি ঐ দেশ অভিমুখে যেতে আরম্ভ করল। যখন সে মধ্য রাস্তায় পৌঁছল, তখন তার মৃত্যু এসে গেল। (তার দেহ-পিঞ্জর থেকে আত্মা বের করার জন্য) রহমত ও আযাবের উভয় প্রকার ফিরিশ্তা উপস্থিত হলেন। ফিরিশ্তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক আরম্ভ হল। রহমতের ফিরিশ্তাগণ বললেন, ’এই ব্যক্তি তওবা করে এসেছিল এবং পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর দিকে তার আগমন ঘটেছে।’ আর আযাবের ফিরিশ্তারা বললেন, ’এ এখনো ভাল কাজ করেনি (এই জন্য সে শাস্তির উপযুক্ত)।’ এমতাবস্থায় একজন ফিরিশ্তা মানুষের রূপ ধারণ করে উপস্থিত হলেন। ফিরিশ্তাগণ তাঁকে সালিস মানলেন। তিনি ফায়সালা দিলেন যে, ’তোমরা দু’ দেশের দূরত্ব মেপে দেখ। (অর্থাৎ এ যে এলাকা থেকে এসেছে সেখান থেকে এই স্থানের দূরত্ব এবং যে দেশে যাচ্ছিল তার দূরত্ব) এই দুয়ের মধ্যে সে যার দিকে বেশী নিকটবর্তী হবে, সে তারই অন্তর্ভুক্ত হবে।’ অতএব তাঁরা দূরত্ব মাপলেন এবং যে দেশে সে যাওয়ার ইচ্ছা করেছিল, সেই (ভালো) দেশকে বেশী নিকটবর্তী পেলেন। সুতরাং রহমতের ফিরিশতাগণ তার জান কবয করলেন।’’

(আল-বুখারী ও মুসলিম)
35👍5
সপ্তদশতঃ

আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিনে আলেমদেরকে বিশেষ মর্যাদা দেবেন।

নবী ﷺ বলেছেন:

“মু’আয ইবনু জাবাল কিয়ামতের দিনে আলেমদের অগ্রভাগে থাকবেন।”

(আত- তবারানি)
20👍3
অষ্টাদশতঃ

আলেমরা ফেরেশতাদের নিকটবর্তী পর্যায়ে থাকবেন এবং জান্নাতে তাদের স্থান হবে উচ্চতম পর্যায়ে।

নবী ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি কুরআন পাঠে দক্ষ, সে সম্মানিত ও সৎ ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে।”

[আল বুখারী ও মুসলিম]

আরও বলেছেন:

“কুরআন পাঠককে বলা হবে: পাঠ করো, সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করো ও উপরে উঠো, কারণ তোমার অবস্থান হবে সেই আয়াতে যেখানে তোমার পাঠ শেষ হবে।”

[আবু দাউদ]
28👍7
উনবিংশতঃ

নবী ﷺ বলেছেন:

“সূরা আল-বাকারা ও সূরা আলে ইমরান কিয়ামতের দিনে দুই মেঘ বা ছায়ারূপে আসবে, যা তাদের পাঠকের ওপর ছায়া দেবে।”

(মুসলিম)
23👍4
বিংশত:

আল্লাহ তাআলা জ্ঞান অর্জনকে মানুষের জন্য ওয়াজিব (ফরজ) করেছেন।

যে তা অর্জন করে, সে পুরস্কৃত হয়, আর যে অবহেলা করে, সে গুনাহগার হয়।

এর কিছু ফরজে কিফায়া, অর্থাৎ কিছু মানুষ পালন করলে অন্যদের দায়িত্ব উঠে যায় — যেমন তাফসির, হাদীস, আরবি ভাষা ইত্যাদিতে বিশেষজ্ঞ হওয়া।

আর কিছু ফরজে আইন, অর্থাৎ প্রতিটি মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক — যেমন সূরা আল-ফাতিহা শেখা, ওজু ও সালাতের পদ্ধতি জানা, ঈমানের মৌলিক বিশ্বাস শেখা ইত্যাদি।
রাসূল ﷺ বলেছেন:

“জ্ঞান অর্জন প্রতিটি মুসলিমের ওপর ফরজ।”

[আল জামি' আস সগীর]
30👍7
একবিংশ:

নবী ﷺ তার দো‘আয় সর্বদা আল্লাহর কাছে উপকারী জ্ঞানের জন্য প্রার্থনা করতেন।

কারণ, প্রকৃত উপকারী জ্ঞান হচ্ছে শরঈ জ্ঞান, যার মাধ্যমে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করেন।

তিনি দো‘আ করতেন:

“হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিজিক, এবং কবুলযোগ্য আমল চাই।”

[ইবন মাজাহ]
44👍6