The Bengal Post
12 subscribers
1 photo
Download Telegram
Channel created
ধামরাইয়ে মুসলিম দম্পতিকে জিম্মি করে হিন্দুদের গণধর্ষণ ও লুণ্ঠন: বিচার চাইতে গিয়ে লাঞ্ছিত

ঢাকার ধামরাইয়ে বেড়াতে এসে এক মুসলিম গৃহবধূ ভয়াবহ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন গ্রামে এই পাশবিক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মুসলিম নারীর স্বামীকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরের খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে তাঁকে রাতভর ধর্ষণ করে হিন্দু সন্ত্রাসীরা। একই সাথে ভিকটিমের প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেওয়া হয়।

ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী দম্পতি মানিকগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। স্বামী ধামরাইয়ের পাবরাইল এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী কৃষ্ণচন্দ্র মনি দাসের সাথে তারা বালিয়াটি প্রাসাদ ঘুরতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে কৃষ্ণচন্দ্র তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং রাতযাপনের জন্য তার বোন শান্তি রানী মনিদাসীর বাড়িতে পাঠান।
🤬1
রাত ১২টার দিকে ৫-৭ জন হিন্দু সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে ঐ মুসলিম স্বামীকে বেঁধে ফেলে এবং ওই তাঁকে রাতভর ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনি দাসের কাছে বিচার চাইতে গেলে পুনরায় হামলার শিকার হন। স্থানীয় হিন্দু সন্ত্রাসী সজীব চন্দ্র মনি দাসসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী ভিকটিম দম্পতিকে বেদম মারধর করে গ্রাম থেকে বের করে দেয়।

প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকা ও বিচারহীনতার অভিযোগ

ঘটনার পর ধামরাই থানার এএসআই হারাধন সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও তার বক্তব্যে চরম উদাসীনতা ফুটে উঠেছে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি ভিকটিম বা অপরাধী কাউকেই খুঁজে পাননি। একই দাবি করেছেন ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনি দাস।


এই পরিস্থিতিতে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে রাষ্ট্রের কাছে কিছু মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে:

নিরাপত্তার সংকট ও প্রশাসনিক পক্ষপাত: দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক হওয়ার পরেও কেন একজন মুসলমান নারী ও তার স্বামী নিজ ভূমিতে এমন চরম অনিরাপত্তার শিকার হচ্ছেন? প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের ধর্মীয় পরিচয় কি অপরাধীদের আড়াল করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে? একজন পুলিশ কর্মকর্তা কেন দ্রুততার সাথে অপরাধীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলেন, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

সংখ্যালঘু আধিপত্য ও দুঃসাহস: হিন্দু সন্ত্রাসীরা অপরাধ করার পর উল্টো ভুক্তভোগীকে পিটিয়ে গ্রামছাড়া করার দুঃসাহস কোথায় পায়? বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কি ইঙ্গিত দেয় যে কথিত সংখ্যালঘুরা প্রতিবেশী দেশের মদদে এমন ভয়ঙ্কর অপরাধ করে বেড়াচ্ছে আর রাষ্ট্রীয় মদদে তারা বিচারের ঊর্ধ্বে থাকার নিশ্চয়তা পাচ্ছে? এটি শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং পদ্ধতিগত নিরাপত্তা ব্যর্থতা যেখানে সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের মাধ্যমে ভূখণ্ডের মূল জনগোষ্ঠী মুসলিমরা ন্যায় বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মিডিয়ার নীরবতা ও পক্ষপাত: দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো কেন এই জঘন্য অপরাধের সংবাদটি গুরুত্ব সহকারে প্রচার করছে না? এভাবে হিন্দুত্ববাদী মিডিয়া কৌশলে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করে যে, মনে হয় ঘটনাটি সাধারণ অপরাধ মাত্র, অথচ বাস্তবে এটি ধর্মভিত্তিক নিপীড়ন এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের দ্বারা পরিকল্পিত সহিংসতা। নাকি অপরাধীদের পরিচয় ও ভুক্তভোগীর ধর্ম বিবেচনায় নিয়ে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে কি কোনো অদৃশ্য সেন্সরশিপ কাজ করছে? এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, মুসলিমরা এই ভূখণ্ডে নাগরিক হিসেবে গণ্য হয় না। জম্মু-কাশ্মীরের মতো পরিস্থিতি কি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও তৈরি হচ্ছে যেখানে ভুক্তভোগীর বিচার চাওয়ার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে?

পরিকল্পিত ফাঁদ: এছাড়া সালিশ কর্তা থেকে পুলিশ প্রশাসন সব ক্ষেত্রেই হিন্দু হওয়ায় প্রশ্ন উঠে: আশ্রয়দাতা ও স্থানীয় প্রশাসন কি এই ধরনের ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে?
কারণ আশ্রয়দাতা থেকে শুরু করে পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা পর্যন্ত যখন একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের হওয়ার পর ভুক্তভোগীর বিচার চাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং পুলিশ অপরাধীদের খুঁজে পায়নি বলে দায়সারা বক্তব্য দেয়, তখন এই ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না, সেই সন্দেহ তৈরি হওয়া অমূলক নয়। মেহমান হিসেবে ডেকে নিয়ে হিন্দু জঙ্গিদের হাতে তুলে দিয়ে এমন নির্যাতন কি মুসলিম নারীদের প্রতি উগ্রবাদী হিন্দুদের লালসা মেটানোর ব্রাহ্মণ্যবাদী মিশনের মতোই কোনো গভীর চক্রান্তের অংশ?

রাষ্ট্র ও নাগরিক অধিকার
বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হলেও এখানকার নাগরিকরা নিজ ভূমিতে অধিকারহীন মানুষে পরিণত হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রের টিকে থাকা এবং উন্নয়ন যাদের ট্যাক্সের টাকায় নিশ্চিত হয়, সেই সাধারণ মুসলিম নাগরিকরা কেন আজ নিজ দেশে সংখ্যালঘুদের কাছে জিম্মি? কেন বিচার চাওয়ার অধিকারকে 'সাম্প্রদায়িক উস্কানি' হিসেবে তকমা দেওয়া হয়? কেন সংখ্যালঘুদের জমিদারের আসনে বসিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন চালানো হচ্ছে?

দেশের ৯০ ভাগ নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ধামরাইয়ের এই ঘটনায় দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা আরও প্রকট হবে। এই দেশের নাগরিকরা হিন্দু জমিদারদের গোলাম নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং হাজার বছরের অধিবাসী হিসেবে মুসলিমরা এই দেশের মূল জনগোষ্ঠী। অথচ তাঁরাই সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকারও পাচ্ছে না।
😢2
Channel photo updated