Sufism-সুফিবাদ(তাসাউফ)
105 subscribers
33 photos
1 video
1 link
Sufism-সুফিবাদ(তাসাউফ) হলো মদ(মাদক),নারী(অশ্লীলতা) ও বাদ্যযন্ত্র বিবর্জিত এক আত্মশুদ্ধির পথ।
Download Telegram
ওরে ও দেখরে ফি-লি°স্তিন
মুসলমানের কী দুর্দিন,
ছোট ছোট ফুলগুলো সব
ধূলোয় লুটায় ত|গুতের অধীন।
মোরা আলোর আবাবিল — সালাহুদ্দীনের মিছিল,
মোরা জাগলেই তবে শত্রুর পিঠে পড়বে পাথর-শিল।
মোরা বন্ধুর তরে হস্ত বাড়াই, শত্রুর তরে অস্ত্র।
মোদের গাফলতি নিদ ভাঙলে বাজবে,
ঝঙ্কার,অগ্নি-বজ্র।
সাহরী খেয়ে ময়দানে চল,ছুঁড়ে ফেল মুড়িমাখা-বুট।
চলে আয় ঘোড়সওয়ারে-কিংবা চড়ে উট।
দ্বীনের তরে যাক না জীবন, হোক না রে সব লুট।
মোদের আজ ইফতার হবে,
শাহাদাতের পান পেয়ালায়,চুমুক দেবে ঠোঁট।
ওরে ও ডাকছে বালাকোট
ডাকছে বালাকোট,
দ্বীনের তরে যাক না জীবন, হোক না রে সব লুট।
— সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ওমর ফারুক হাফিজাহুল্লাহ
.
শহিদে আযম,আমীরুল মুসলিমীন,সুলতানুল আরেফিন,আওলাদে রসুল ﷺ হযরত সাইয়্যিদ শাহ আহমাদ শহীদ ব্রেলভি (রহঃ) কে উৎসর্গ করলাম। উক্ত লিখনীর মাধ্যমে এ মহান বুযুর্গকে স্মরণ করছি। আল্লাহ জাল্লা জালালূহু ওয়া সানাউহু তার শাহাদাৎ কে কবুল করুক।
1
গা যার প্রায় নব্বই শতাংশ ধ্বংস করলে প্রায় দেড় মিলিয়ন নিরহ জনগণ সাময়িক আশ্রয় গ্রহণ করে রাফাহ অঞ্চলে। অস্থায়ী তাবু টেনে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছিলো তারা !

আজ দু'দিন থেকে রাফাহ অঞ্চলেও স ন্ত্রাসীরা অনবরত হা মলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষ কোন রকম প্রাণ নিয়ে অজানা এক গন্তব্যের দিকে ছুটছে।

গা যার এক ভাইয়ের সাথে কথা বললাম। জানালেন সবাই এখন মৃত্যুকে সামনে রেখে প্রতিটা মুহুর্ত পার করছে। কে, কখন এবং কোথায় শ হীদ হচ্ছে, তা কেউ জানে না। এদিক-ওদিক প্রায় চতুর্দিক থেকেই জা লিমেরা হা মলা চালাচ্ছে। তাই কোথাও বাঁচারও জায়গা নাই।

আল্লাহ জাল্লা জালালূহু হেফাজত করুক!
1
"আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى مِنْ مَرَضٍ فَمَا سِوَاهُ إِلاَّ حَطَّ اللَّهُ بِهِ سَيِّئَاتِهِ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا

কোনো মুসলিম ব্যক্তির জ্বর কিংবা অন্য কোনো বিপদ আপতিত হলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা এমনভাবে তার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন, যেভাবে গাছ তার পাতা ঝরায়।

সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৭১
1
Sufism - সুফিবাদ(তাসাউফ)কে দুইভাগে ভাগ করা যায়। একটা বিশুদ্ধ সুফিবাদ। আরেকটা অশুদ্ধ সুফিবাদ।
১. বিশুদ্ধ Sufism-সুফিবাদ(তাসাউফ) হলো মদ(মাদক),নারী(অশ্লীলতা) ও বাদ্যযন্ত্র বিবর্জিত এক আত্মশুদ্ধির পথ।
২. অশুদ্ধ সুফিবাদ হচ্ছে বিশুদ্ধ সুফিবাদের বিপরীত। যেখানে হারাম-হালালের কোনো বাছ বিচার থাকেনা। শরীয়তকে যেখানে সুফিবাদের বিপরীতে দাঁড় করানো হয়। সুফিবাদের নামে শিরক ও বিদআতের রমরমা ব্যবসা চলে। এদের পুরো সিস্টেমটাই আমদানি করা হয়েছে শিয়া ও হিন্দুয়ানীদের থেকে।
যদিও উপমহাদেশের মানুষ সুফিবাদ বলতে এই ভ্রান্ত দলকেই চিনে। কিন্তু, এর আড়ালে তাওহিদবাদী, বিশুদ্ধ, কুরআনিক সুফিবাদ ও রয়েছে।
তাই,ঢালাওভাবে ❝পুরো সুফিবাদটাই শিয়াদের থেকে আমদানী করা❞ দাবি করা অজ্ঞতার পরিচয় বহন করে।
— সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ওমর ফারুক হাফিঃ
2
একটি বহুল প্রচলিত কুসংস্কার ঃ ৯ই জিলহজ্জ থেকে ১৩ই জিলহজ্জ অর্থাৎ কুরবানির ঈদের সময়টাতে ২পা বিশিষ্ট প্রাণী যেমনঃ হাঁস,মুরগি,কবুতর প্রভৃতি যবেহ করা যাবে না। শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। আপনি আপনার প্রয়োজনে এই দিনগুলোতে চাইলেই হালাল যেকোনো প্রাণী খাওয়ার জন্যে যবেহ করতে পারেন। কোনো বিধিনিষেধ নেই।
তবে, হ্যাঁ কোনো কোনো গ্রামাঞ্চলে এ প্রচলন আছে যে গরীব লোকেরা কুরবানির সময় হাঁস,মুরগি ইত্যাদি কুরবানির নিয়তে যবেহ করে। যা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম কাজ। কুরবানির নিয়ত ব্যতীত এ সকল হালাল প্রাণী যবেহ করে খেতে কোনো আপত্তি নেই।
শায়খ শাহ মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ (মা.জি.আ) - আমীরে হিজবুল্লাহ, ছারছীনা দারুসসুন্নাত দরবারের বর্তমান গদিনশীন পীর সাহেব আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। আল্লাহ জাল্লা জালালূহু ওয়া সানাউহু শিফায়ে আজেলা-কামেলা দান করুক। তার ছায়াকে আমাদের উপর দীর্ঘায়িত করুক।
2
গদীরে খুমে মাওলা আলীকে মাওলা ঘোষণা করেছেন। তাই সেদিন ঈদে গদীর পালন করতে হবে।ভালো খুব ভালো!
তো খায়বারে মাওলা আলীকে ফাতেহে খায়বার বলেছেন, আল্লাহ ও রাসুলের (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুহিব্ব বলেছেন যেটা অন্য কাউকে বলেনি।তো সেদিন কেনো ঈদ নয়।অবশ্যই সেদিনও ঈদ! ঈদে খায়বার?
তাবুকের দিন বলেছেন-হে আলী,মুসা আঃ এর জন্য হারুন যেমন, তুমি আমার জন্য তেমন।এ শান আর কারো জন্য নেই। তাই সেদিন চলুন মাওলা আলীর মুহাব্বতে ঈদে তাবুক পালন করি?
ওহুদের দিন বলেছেন "লা ফাতাহ ইল্লা আলী;লা সাইফা ইল্লা জুলফিকার।
মানে আলী ছাড়া কোন বিজয় নেই ;জুলফিকার ছাড়া কোন তলোয়ার নেই।
অতএব এ শান আর কারো জন্য বলা হয়নি।তাই সেদিন ঈদে ওহুদ পালন করি?
মক্কা বিজয়ের দিন মাওলা আলীকে লক্ষ্য করে বললেন " আন্তা আখী ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখেরাহ"
তুমি আলী দুনিয়া আখেরাতে আমার ভাই।সেটাই মহাখুশির বিষয়।তাই সেদিনও ঈদে মক্কা?
আরেকদিন বললেন-আনা মদিনাতুল ইলমি ওয়া আলীয়্যুন বাবুহা" আমার ইলমের দরজা হলো আলী ।তাই সেদিন কেনো ঈদ নয়! সেদিনও ঈদ মানে ঈদে বাবুল এলম?
গদীরে খুমে যেমন মাওলা আলীর বেলায়াতের শান প্রকাশ হয়েছে উল্লেখিত হাদিস গুলোতেও মাওলা আলীর একক শান প্রকাশিত হয়েছে। ঐদিন ঈদ হলে উল্লেখিত বাকী দিনগুলো কি দোষ করলো?বাকী দিনগুলো ঈদ পালন না করলে মাওলা আলীর শান কমে যাবেনা?
আচ্ছা মাওলা আলীর শানে এক একটি হাদিসের উপর ঈদ পালন করলে অন্যান্য সাহাবীর শানেও তো অসংখ্য হাদিস আছে।সেগুলো ঈদ কেনো পালিত হবেনা? আচ্ছা এভাবে সব ফাজায়েলের উপর ঈদ পালন করতে হলে ৩৬৫দিনে কুলাবে? ওহে বন্য হাইওয়ান, চুপা শিয়ারা উত্তর দেও?
আক্কলজ্ঞান কি কোথাও বর্গা দিয়েছো?
পবিত্র মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে।হাদিস শরীফে মাওলা মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমান, রমজানের পরে রোজা রাখার জন্যে উত্তম মাস হচ্ছে মুহাররম।আর উত্তম সালাত হচ্ছে রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ)।
চলতি মাসে আশুরার রোজা মোট ২ দিন (এ রোজা মুসা আলাইহিস সালাম রাখতেন)। ৯ এবং ১০ ই মুহাররম [১৬ এবং ১৭ ই জুলাই] অথবা ১০ এবং ১১ ই মুহাররম [১৭ এবং ১৮ ই জুলাই]। ১০ ই মুহাররম বুধবার হচ্ছে পবিত্র আশুরার দিন। আশুরা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ফলো করুন। আরেকটি বিষয় এ মাসে শিয়াদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। আমরা না এ মাসে শিয়াদের মতো মাতম করবো, আর না নজদীদের মতো আনন্দ উৎযাপন করবো। এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন। হাদিসে পাকে আসছে মুহাররম হচ্ছে শাহরুল্লাহ তথা আল্লাহর মাস। এ মাসে করণীয় অসংখ্য আমল আছে। বিস্তারিত সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ।

মাওলা মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন চাঁদ দেখে পড়তেন,

اللَّهُمَّ أهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالأمْنِ وَالإيمانِ، وَالسَّلاَمَةِ وَالإسْلاَمِ، رَبِّي وَرَبُّكَ اللهُ

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ। হেদায়াত ও কল্যাণের চাঁদ।

(সুনানে তিরমিজিঃ ১২২৮)

আজ সূর্যাস্তের পরই শুরু হয়েছে হিজরী ১৪৪৬সাল। হিজরী সন বা হিজরী ক্যালেন্ডার মুসলিম জগতে প্রচলিত একটি চান্দ্র ক্যালেন্ডার। সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসুল মাওলা মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মক্কা মুকাররমা থেকে মদিনা মুনাওয়ারা হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সন গণনা করা হয়। হিজরী সনের বছরগুলি চান্দ্রমাস অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, যা সূর্যমাস থেকে প্রায় ১০-১২ দিন ছোট। এজন্য হিজরী বছর প্রতি বছর কিছুটা আগেই শুরু হয়।
হিজরী সনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
প্রথম মাস: মুহাররম
শেষ মাস: যিলহজ্জ
প্রতিটি মাসের দৈর্ঘ্য: সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিন
মোট মাস: ১২ মাস
একটি চান্দ্র বছর: প্রায় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন
হিজরী সনের গণনার শুরু ৬২২ খ্রিস্টাব্দ, যেটি ইসলামিক ক্যালেন্ডারের প্রথম বছর হিসেবে ধরা হয়।
হিজরী সনের মাসগুলির নাম:
মুহাররম
সফর
রবিউল আউয়াল
রবিউস সানি
জমাদিউল আউয়াল
জমাদিউস সানি
রজব
শা'বান
রমজান
শাওয়াল
জিলক্বদ
জিলহজ্জ
***প্রতিটি হিজরী মাসের শুরু নতুন চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে, তাই বিভিন্ন অঞ্চলে মাসের শুরু ও শেষের সময়সূচী ভিন্ন হতে পারে।

—সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ওমর ফারুক হাফিজাহুল্লাহ
প্রকৃত সুন্নী আহলে বাইতপ্রেমী এবং শিয়াবাদী কিংবা নামধারী সুন্নী ও মিথ্যুক আহলে বাইতপ্রেমী দাবিদারদের চেনার উপায় কি?

প্রথমেই জানতে হবে আহলে বাইত কারা? বা আহলে বাইত মানে আসলে কি? আরবী আহলুল বাইত অর্থ হচ্ছে ঘরের সদস্য তথা পরিবার। আরবী বাইত অর্থ ঘর,গৃহ,কক্ষ। প্রচলিত পারিভাষিক অর্থে আহলুল বাইত বা আহলে বাইত বলতে বুঝায় তাজেদারে মাদিনা সাইয়্যিদুল কাওনাইন মাওলা মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের সদস্যদেরকে। তো গৃহের প্রধান কে? গৃহকর্তা। তারপর কে? গৃহকর্ত্রী। তো রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার সদস্যদের প্রধান হচ্ছেন স্বয়ং রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে। এরপরে যাদের অবস্থান তারা হলেন রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মানিতা বিবিগণ তথা মুমিনদের আম্মাজানগণ।
এরপরে সন্তানগণ তথা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যাগণ। ফাতিমা,জয়নব,রুকাইয়া,কুলসুম রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা। স্বভাবত জামাতা এবং মেয়ের ঔরসে জন্ম নেয়া সন্তানদেরকে পরিবারের আওতাভূক্ত করা হয় না। তাহলে কি হযরত আলী রাযিঃ, এবং হাসান ও হুসাইন রদিয়াল্লাহু আনহুম আহলে বাইত তথা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার সদস্য না? ধৈর্য ধরেন।
আল্লাহ জাল্লা জালালূহু ওয়া সানাউহু কুরআনে কারীমে ইরশাদ ফরমান,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا

(হে নবী পত্নীগণ) তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যগণ, আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে। (সূরা আহযাব ঃ৩৩)
এ আয়াতে কারীমে বিশেষভাবে রসুলল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণ কে আহলে বাইত বলে সম্বোধন এবং তাদের পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়েছে।
হাদিস শরীফে এসেছে,
আম্মাজান আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালে বের হলেন। তার পরনে ছিল কালো নকশী দ্বারা আবৃত একটি পশমী চাদর। হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) এলেন, তিনি তাকে চাদরের ভেতর প্রবেশ করিয়ে নিলেন। হুসাইন ইবনে আলী (রাযিঃ) এলেন, তিনিও চাদরের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়লেন। ফাতিমা (রাযিঃ) এলেন, তাকেও ভেতরে ঢুকিয়ে ফেললেন। তারপর আলী (রাযিঃ) এলেন তাকেও ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। তারপরে বললেনঃ "হে আহলে বাইত আল্লাহ তা’আলা তোমাদের হতে অপবিত্রতাকে দূরীভূত করে তোমাদের পবিত্র করতে চান" অর্থাৎ সূরা আহযাবের সে আয়াত তিলাওয়াত করলেন। (সহিহ মুসলিম)
অতএব, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ স্বীকৃতির দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, উম্মুল মুমিনীন তথা নবীপত্নীগণ,নবীর আওলাদগণ এবং হযরত আলী রাযিঃ এরা সকলেই আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। অপর কিছু হাদিসে বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবকেও আহলে বাইত হিসেবে স্বীকৃতির বর্ণনা পাওয়া যায়। আহলে বাইত এবং তাদের বংশধরদের উপর সাদকাহ গ্রহণ করা হারাম।
অতএব, অতি উৎসাহী একদল শুধু কুরআনের আলোকে উম্মুল মুমিনীনদেরকে আহলে বাইত মানতে রাজি কিন্তু বাকিদেরকে আহলে বাইত মানতে নারাজ এরা খারেজি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মত এটাই যে নবীপত্নীগণ সহ নবী কণ্যা,জামাতা ও নাতিরাও আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। রদিয়াল্লাহু আনহুম।
আর যারা পাক পাঞ্জাতন তথা শুধুমাত্র ফাতিমা,আলী,হাসান,হুসাইন রদিয়াল্লাহু আনহুমদেরকেই আহলে বাইত মনে করে নবীপত্নীগণ তথা মুমিনদের আম্মাজানদেরকে আহলে বাইত মানতে নারাজ এরা পথভ্রষ্ট, জাহেল,খারেজি শিয়াদের দোসর। আর শিয়াদের স্বভাবই হচ্ছে মুমিনদের মা বিশেষভাবে আম্মাজান আয়িশার বিরুদ্ধাচারণ করা। আল্লাহ এদের হিদায়াত দান করুক নয়তো সমূলে ধ্বংস করুক।
পাক পাঞ্জাতন -আহ্লুস সুন্নাহর পরিভাষা না। এটা শিয়া নাসেবীদের পরিভাষা।
শিয়ারা যতই আহলে বাইত প্রেম দেখাক না কেন বস্তুত তারাই নাসেবী তথা আহলে বাইত বিদ্বেষী।
অতএব, যারাই উম্মুল মুমিনীনদেরকে আহলে বাইত হিসেবে মানতে অস্বীকার করবে তারাই আহলুস সুন্নাহ থেকে খারিজ হয়ে যাবে। যারা আহলে বাইত এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে তারা নাসেবী হয়ে যাবে।
আল্লাহ জাল্লা জালালূহু ওয়া সানাউহু আমাদেরকে নাসেবী,বদ নসীব হওয়া থেকে হিফাজত করুক।
— সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ওমর ফারুক হাফিজাহুল্লাহ্‌
1
হযরত হুসাইন (রাঃ) উনার প্রতি ভালোবাসায়, উনার শাহাদাতে- আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়,আমাদের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়।
এই উম্মাহর তরুণদের রাজনৈতিক আইডল হচ্ছেন সাইয়্যিদ ইমাম হুসাইন (রাঃ)। যিনি সাইয়্যিদুশ শুহাদা,সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ জান্নাতি যুবকদের সর্দার। তিনি দুনিয়াতেও আমাদের নেতা,আমাদের সাইয়্যিদ,আমাদের সর্দার এবং জান্নাতেও আমাদের নেতা,আমাদের সাইয়্যিদ,আমাদের সর্দার।
তার প্রতি ভালোবাসা এবং শোক প্রকাশ কোনোটাই দিবস কেন্দ্রিক নয়।তবে, মহরম মাসে এ নিয়ে আলোচনা বেশি হওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়।
যারা ইমাম হুসাইনের শাহাদাতে শোক প্রকাশকে বিদআত বলে প্রচার করে তারা প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে এজিদের দালালী করে।
তারা প্রচার করে রসুলুল্লাহ ﷺ তো শোক পালন করেনি কারবালা ঘটনায় আমরা কেন করবো? তাদের কাছে আমার প্রশ্ন কারাবালা প্রান্তরের ঘটনা কি রসুলল্লাহ’র ﷺ জীবদ্দশায় ঘটেছিলো? অথবা এটা কি কোনো নেকি অর্জন/পাপমোচনের উদ্দেশ্যে আমল করা হয়?
যদি মুসা (আঃ)এর অনুসরণে ইহুদিদের সাদৃশ্য হওয়া সত্ত্বেও আমরা আশুরার সিয়াম পালনে অধিক হক্বদার হই, তাহলে একই ভাবে হুসাইনের প্রতি ভালোবাসা স্থাপনেও আমরা শিয়াদের থেকে অধিক হক্বদার।
একদল লোক শিয়া জুজুর ভয় দেখিয়ে রসুলল্লাহ’র ﷺ আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে কার্পণ্য/অনুৎসাহিত করে এদের ঈমানে নিঃসন্দেহে ত্রুটি রয়েছে।
তাজিয়া মিছিল,বুক চাপড়ানো,শরীর রক্তাক্ত করা,এ মাসে বিয়ে না করা প্রভৃতি যে সকল কাজ শিয়ারা করে থাকে তা নিঃসন্দেহে জাহিলি যুগের রেওয়াজ এবং অবশ্যই তা পরিত্যাজ্য। কিন্তু, আমাদের চোখ অশ্রুসিক্ত হবেই, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবেই।
এজিদ ও তার দোসরদের উপর আল্লাহ,আল্লাহর রাসুল ﷺ,ফেরেশতা, ও সমগ্র মানবতার পক্ষ থেকে লানত বর্ষিত হোক।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদেরকে জামানার এজিদদের বিরুদ্ধে সাইয়্যিদু শুহাদা ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর মতো অবিচল রাখুক।
—সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ওমর ফারুক
মঞ্জিলে মকসুদ বহুদূর। কিন্তু, আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী।
সুবহানাল্লহি ওয়াবিহামদিহী - সুবহানাল্লহিল আযীম।
আস্তাগফিরুল্লহা ওয়া আতুবু ইলাইহ। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।
1
শাইখ মাহমুদ আফেন্দী নকশবন্দি (রহঃ) কে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, "হুজুর, ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, আমরা কি ইস্তামবুল ছেড়ে চলে যাব?" তিনি উত্তরে বলেছিলেন,
❝শহর নয়, পাপ ছেড়ে দাও!❞

[ ছবিঃ শাইখ সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ইবনে আলাভী আল মালিকী (রহঃ) এর হাত চুম্বনরত শাইখ মাহমুদ নকশবন্দি (রহঃ) ]
5