.
এখন প্রশ্ন হলো - এটি কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? না, মোটেও নয়।
ইন্ডিয়া হেইট ল্যাবের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে, ভারতে ১,৩১৮টি যাচাইকৃত হেইট স্পীচের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১,২৮৯টি ঘটনা, যা প্রায় ৯৮ শতাংশ - মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ৯৭ শতাংশ বেশি। [২]
দ্য কুইন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে জুন ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত ৯৪৭টি হেইট ক্রাইমের কথা বলা হয়েছে; এসব ক্রাইমে অন্তত ২৫ জন মুসলিম নিহত হন। [৩]
আমরা এসব খবর দেখি, কয়েক সেকেন্ড পর স্ক্রল করে চলে যাই এবং ভাবি -“এটা তো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়; আমাদের কী?” কিন্তু ভূরাজনীতি কোনো সীমান্ত মানে না। ভূমিকম্প যেমন সীমান্ত দেখে থামে না, তেমনি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় উগ্রতা, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের রেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এসেও পৌঁছায়। বড় কোনো ঘটনার আগে এ রকম অসংখ্য ছোট সংকেত প্রকাশ পেতে থাকে; আমরা সেগুলো উপেক্ষা করি বলেই পরে হুমকির সম্মুখীন হই।
.
হাসিনা আমলেও আমরা একই ধরনের একটি বয়ান দেখেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক, সুশীল শ্রেণী এবং মিডিয়া মিলে - “শুদ্ধ ভাবে সালাম দেওয়া”, “আলহামদুলিল্লাহ” বলা, “দাড়ি রাখা”, “টাখনুর উপরে প্যান্ট পরা“ এ ধরনের স্বাভাবিক ধর্মীয় আচরণকেও জঙ্গিবাদের লক্ষণ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।
এটি কী ভাবার মত বিষয় নয় যে - ভারতে মুসলিমের ইসলামী অভিবাদনের কারণে পুলিশ অফিসার বদলি এবং বাংলাদেশে ইসলামী মূল্যবোধ বিশ্বাসের কারণে “জঙ্গি” হিসেবে চিহ্নিত-করণ এগুলো কি শুধুই র্যান্ডম? এই দুই প্রবণতার মধ্যে একটি মৌলিক সাদৃশ্য দেখা যায়, আর তা হচ্ছে - ইসলামি মূল্যবোধের প্রকাশকে স্বাভাবিক নাগরিক আচরণ হিসেবে না দেখে অপরাধ বা নিরাপত্তা-ঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা! এটিই ভারতের আগ্রাসন, কালচারাল হেজেমনি!
.
লক্ষ্য করুন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঠিক পরেই - ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ আক্ষেপ করে বলেছিল:
“Bangladeshis never had much love for India. I knew their love for India was temporary. For inspiration they would look not towards India but towards Pakistan and Mecca.” [৪]
অর্থাৎ, বাংলাদেশের মানুষের ভারতের প্রতি ভালোবাসা সাময়িক; অনুপ্রেরণার জন্য তারা ভারতের দিকে নয়, পাকিস্তান ও মক্কার দিকে তাকাবে।
অর্থাৎ বাংলাদেশ জন্মের সাথে সাথেই বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের বিদ্বেষ রেডি হয়ে গিয়েছিল এবং এর একমাত্র কারণ - ইসলাম।
.
তাহলে আমাদের করণীয় কী?
যেমনটা সান যু বলেছিল:
“If you know the enemy and know yourself, you need not fear the result of a hundred battles. If you know yourself but not the enemy, for every victory gained you will also suffer a defeat.” [৫]
আমরা মুখে বলি, “ভারত আমাদের শত্রু।” কিন্তু এই উপলব্ধি যদি কেবল আবেগের স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তার কোনো কৌশলগত মূল্য নেই। প্রতিপক্ষকে চেনার পাশাপাশি নিজেদের শক্তি, দুর্বলতা, অর্থনীতি, সামরিক সক্ষমতা, জনমত, তথ্যব্যবস্থা ও কূটনৈতিক অবস্থানও বুঝতে হবে। এবং এই বোঝাপড়া আমাদের পররাষ্ট্রনীতি, সীমান্তনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় কী পরিবর্তন আনছে সেটিই মূল প্রশ্ন।
প্রলয়ের সংকেতগুলো এখন আমাদের সামনেই। প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেগুলো উপলব্ধি করতে পারছি? নাকি প্রতিবারের মতো স্ক্রল করে চলে যাচ্ছি?
–
এখন প্রশ্ন হলো - এটি কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? না, মোটেও নয়।
ইন্ডিয়া হেইট ল্যাবের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে, ভারতে ১,৩১৮টি যাচাইকৃত হেইট স্পীচের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১,২৮৯টি ঘটনা, যা প্রায় ৯৮ শতাংশ - মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ৯৭ শতাংশ বেশি। [২]
দ্য কুইন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে জুন ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত ৯৪৭টি হেইট ক্রাইমের কথা বলা হয়েছে; এসব ক্রাইমে অন্তত ২৫ জন মুসলিম নিহত হন। [৩]
আমরা এসব খবর দেখি, কয়েক সেকেন্ড পর স্ক্রল করে চলে যাই এবং ভাবি -“এটা তো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়; আমাদের কী?” কিন্তু ভূরাজনীতি কোনো সীমান্ত মানে না। ভূমিকম্প যেমন সীমান্ত দেখে থামে না, তেমনি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় উগ্রতা, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের রেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এসেও পৌঁছায়। বড় কোনো ঘটনার আগে এ রকম অসংখ্য ছোট সংকেত প্রকাশ পেতে থাকে; আমরা সেগুলো উপেক্ষা করি বলেই পরে হুমকির সম্মুখীন হই।
.
হাসিনা আমলেও আমরা একই ধরনের একটি বয়ান দেখেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক, সুশীল শ্রেণী এবং মিডিয়া মিলে - “শুদ্ধ ভাবে সালাম দেওয়া”, “আলহামদুলিল্লাহ” বলা, “দাড়ি রাখা”, “টাখনুর উপরে প্যান্ট পরা“ এ ধরনের স্বাভাবিক ধর্মীয় আচরণকেও জঙ্গিবাদের লক্ষণ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।
এটি কী ভাবার মত বিষয় নয় যে - ভারতে মুসলিমের ইসলামী অভিবাদনের কারণে পুলিশ অফিসার বদলি এবং বাংলাদেশে ইসলামী মূল্যবোধ বিশ্বাসের কারণে “জঙ্গি” হিসেবে চিহ্নিত-করণ এগুলো কি শুধুই র্যান্ডম? এই দুই প্রবণতার মধ্যে একটি মৌলিক সাদৃশ্য দেখা যায়, আর তা হচ্ছে - ইসলামি মূল্যবোধের প্রকাশকে স্বাভাবিক নাগরিক আচরণ হিসেবে না দেখে অপরাধ বা নিরাপত্তা-ঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা! এটিই ভারতের আগ্রাসন, কালচারাল হেজেমনি!
.
লক্ষ্য করুন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঠিক পরেই - ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ আক্ষেপ করে বলেছিল:
“Bangladeshis never had much love for India. I knew their love for India was temporary. For inspiration they would look not towards India but towards Pakistan and Mecca.” [৪]
অর্থাৎ, বাংলাদেশের মানুষের ভারতের প্রতি ভালোবাসা সাময়িক; অনুপ্রেরণার জন্য তারা ভারতের দিকে নয়, পাকিস্তান ও মক্কার দিকে তাকাবে।
অর্থাৎ বাংলাদেশ জন্মের সাথে সাথেই বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের বিদ্বেষ রেডি হয়ে গিয়েছিল এবং এর একমাত্র কারণ - ইসলাম।
.
তাহলে আমাদের করণীয় কী?
যেমনটা সান যু বলেছিল:
“If you know the enemy and know yourself, you need not fear the result of a hundred battles. If you know yourself but not the enemy, for every victory gained you will also suffer a defeat.” [৫]
আমরা মুখে বলি, “ভারত আমাদের শত্রু।” কিন্তু এই উপলব্ধি যদি কেবল আবেগের স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তার কোনো কৌশলগত মূল্য নেই। প্রতিপক্ষকে চেনার পাশাপাশি নিজেদের শক্তি, দুর্বলতা, অর্থনীতি, সামরিক সক্ষমতা, জনমত, তথ্যব্যবস্থা ও কূটনৈতিক অবস্থানও বুঝতে হবে। এবং এই বোঝাপড়া আমাদের পররাষ্ট্রনীতি, সীমান্তনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় কী পরিবর্তন আনছে সেটিই মূল প্রশ্ন।
প্রলয়ের সংকেতগুলো এখন আমাদের সামনেই। প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেগুলো উপলব্ধি করতে পারছি? নাকি প্রতিবারের মতো স্ক্রল করে চলে যাচ্ছি?
–
👍5❤2🤔1
Reality Check BD
~ “আস সালামু আলাইকুম“ ই যখন বিদ্বেষের লক্ষ্য: WHY? Exposing the DNA ~ - সাম্প্রতিক সময়ে আপনারা জেনেছেন - পশ্চিমবঙ্গের আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানুকে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ হচ্ছে তার নিজের একটি ভিডিওতে তিনি “আসসালামু আলাইকুম”, “ইনশাআল্লাহ” এবং “জাযাকাল্লাহ”…
রেফারেন্সঃ
[১] https://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/ips-officer-transferred-after-speech-row/articleshow/134243240.cms
[২] https://www.indiahatelab.com/2026/01/13/hate-speech-events-in-india-2025/
[৩] https://www.thequint.com/news/politics/947-hate-crimes-reported-in-year-one-of-pm-modis-third-term-says-new-apcr-report
[৪] অশোকা রায়না, ইনসাইড ‘র’, অনুবাদ: আবু রূশদ, বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল পাবলিশিং, ২০১৮
[৫] Sun Tzu, The Art of War, Chapter III, “Attack by Stratagem.”
[১] https://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/ips-officer-transferred-after-speech-row/articleshow/134243240.cms
[২] https://www.indiahatelab.com/2026/01/13/hate-speech-events-in-india-2025/
[৩] https://www.thequint.com/news/politics/947-hate-crimes-reported-in-year-one-of-pm-modis-third-term-says-new-apcr-report
[৪] অশোকা রায়না, ইনসাইড ‘র’, অনুবাদ: আবু রূশদ, বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল পাবলিশিং, ২০১৮
[৫] Sun Tzu, The Art of War, Chapter III, “Attack by Stratagem.”
❤4👍4
বর্তমান জিওপলিটিক্সে অনেক বুদ্ধিজীবী, অ্যাকাডেমিয়া আছেন - যারা অ্যামারিকার জঘন্য সব অপকর্ম নিয়ে মুখ খুলছেন, কথা বলছেন, which is good, but the problem is no one is talking about what should be the solution to that? Is there any “system” to punish US? Can that be a consideration? How exactly US should be stopped? A military might like US, can not be stopped just by “talk”, without using the military hardware or without power projection. But seems like - no one is interested on that specific!
সাম্প্রতিক সময়ে অ্যামেরিকা ইসরায়েলের কাছে ২.৮ বিলিওন ডলার মুল্যের গোলা বারুদ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। এখানে রয়েছে “দুই হাজার পাউন্ডের” ৪০,০০০ বোমা যা এর আগে ইসরায়েলকে দেয়া হয়নি। এগুলোকে ইউএস আর্মি নিজেদের মধ্যে বলে থাকে “ন্যাস্টি” কারণ এগুলোর ধ্বংস ক্ষমতা ভয়াবহ! এমনকি বাইডেন পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই বোমা গুলো দেয়নি। উল্লেখ্য যে, এই “দুই হাজার পাউন্ড” বোমা গুলো ইসরায়েলের অন্যতম পছন্দের, কারণ এগুলো বিধ্বংসী সক্ষমতা!
সাম্প্রতিক সময়ে অ্যামেরিকা ইসরায়েলের কাছে ২.৮ বিলিওন ডলার মুল্যের গোলা বারুদ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। এখানে রয়েছে “দুই হাজার পাউন্ডের” ৪০,০০০ বোমা যা এর আগে ইসরায়েলকে দেয়া হয়নি। এগুলোকে ইউএস আর্মি নিজেদের মধ্যে বলে থাকে “ন্যাস্টি” কারণ এগুলোর ধ্বংস ক্ষমতা ভয়াবহ! এমনকি বাইডেন পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই বোমা গুলো দেয়নি। উল্লেখ্য যে, এই “দুই হাজার পাউন্ড” বোমা গুলো ইসরায়েলের অন্যতম পছন্দের, কারণ এগুলো বিধ্বংসী সক্ষমতা!
❤7👍4😢4
এই বোমা গুলো কোথায় ইউজ হবে? মূলত গাজা, লেবানন, সিরিয়া - মুসলিম ভূখন্ডে, নিহত হবে আরো লক্ষ লক্ষ, আহত হবে আরো লক্ষ লক্ষ, গৃহহীন হবে আরো লক্ষ লক্ষ।
আসুন তাহলে প্রশ্ন করি, কিভাবে অ্যামেরিকা এই - “free wild ride” এর পাস পেয়ে গেলো, যার কারণে লক্ষ-লক্ষ নিরীহ মুসলিম হত্যা করার পরেও তাকে কিছুই করা হবে না!
What is that one good reason - America should not be punished for it’s crime against humanity?
আসুন তাহলে প্রশ্ন করি, কিভাবে অ্যামেরিকা এই - “free wild ride” এর পাস পেয়ে গেলো, যার কারণে লক্ষ-লক্ষ নিরীহ মুসলিম হত্যা করার পরেও তাকে কিছুই করা হবে না!
What is that one good reason - America should not be punished for it’s crime against humanity?
👍12💔5❤3
একটা আইফোনের জন্য একটা মাসুম বাচ্চার জীবন!
-
খবরটি পড়ার পর কিছুক্ষণের জন্য থমকে যেতে হয়। কিন্তু এর চেয়েও ভয়ংকর বাস্তবতা হলো—কেউ মুখে স্বীকার না করলেও এ ধরনের সংবাদে আমাদের মানসিক অবস্থা আগের মতো আর বিচলিত হয় না। আমরা খবরটি পড়ি, কিছুক্ষণ ক্ষোভ প্রকাশ করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা জানাই, তারপর খুব সহজেই অন্য কোনো কনটেন্টে চলে যাই। সমাজ যখন বিকৃতি এবং পাপের প্রতি পুরোপুরি অনুভূতিশূন্য হয়ে যায়, তখন এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। এটি এক দিনে হয়নি; আমাদের প্রতিদিনের সম্মিলিত উদাসীনতা, স্বার্থপরতা এবং আত্মকেন্দ্রিকতা আজকের এই মৃতপ্রায় সমাজ তৈরি করেছে।
-
খবরটি পড়ার পর কিছুক্ষণের জন্য থমকে যেতে হয়। কিন্তু এর চেয়েও ভয়ংকর বাস্তবতা হলো—কেউ মুখে স্বীকার না করলেও এ ধরনের সংবাদে আমাদের মানসিক অবস্থা আগের মতো আর বিচলিত হয় না। আমরা খবরটি পড়ি, কিছুক্ষণ ক্ষোভ প্রকাশ করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা জানাই, তারপর খুব সহজেই অন্য কোনো কনটেন্টে চলে যাই। সমাজ যখন বিকৃতি এবং পাপের প্রতি পুরোপুরি অনুভূতিশূন্য হয়ে যায়, তখন এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। এটি এক দিনে হয়নি; আমাদের প্রতিদিনের সম্মিলিত উদাসীনতা, স্বার্থপরতা এবং আত্মকেন্দ্রিকতা আজকের এই মৃতপ্রায় সমাজ তৈরি করেছে।
😢6❤3
.
এটি শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের গভীরতার প্রমাণ। কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সি অপ্রতিমকে তার হাতে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শিশুটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার ওপর লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং মৃত্যুর পর সেই আইফোন নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। একটি মোবাইল ফোনের জন্য একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়া কোনো সাধারণ অপরাধের ঘটনা নয়। এটি এমন এক নৈতিক পতনের প্রতিচ্ছবি, যেখানে একটি বস্তু মানুষের জীবনের চেয়েও মূল্যবান হয়ে উঠেছে।
.
এখানে আরও একটি প্রশ্ন জরুরি: কেন আমরা এমন ঘটনায় ক্রমশ অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়ছি? সমাজ যখন বিকৃতি, লোভ ও পাপের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে উদাসীন থাকে, তখন একসময় পাপ আর পাপ হিসেবে অনুভূত হয় না। অপরাধ তখন কেবল একটি সংবাদ, একটি মামলা কিংবা একটি পরিসংখ্যান হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের উদাসীনতা, স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা ধীরে ধীরে এমন একটি সমাজ তৈরি করেছে, যেখানে নৈতিক বিপর্যয়ও যেন দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ - The “New Normal”.
.
একাডেমিক আলোচনায় এই সংকটকে বোঝার জন্য moral relativism এবং জিগমুন্ট বাউমানের liquid modernity ধারণা প্রাসঙ্গিক। liquid modernity’র ফলাফল হিসেবে সমাজে মূল্যবোধ, সম্পর্ক ও সামাজিক অঙ্গীকারগুলো ক্রমশ স্থায়িত্ব হারায়। কোনটি ন্যায়, কোনটি অন্যায়, কোনটি পবিত্র এবং কোনটি অপবিত্র—এসব প্রশ্নের উত্তরও অনেক সময় পরিস্থিতি, সুবিধা ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা সেকুলার সমাজব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি হিসেবে যখন ন্যায়নীতি, মানবজীবনের পবিত্রতা, সত্যবাদিতা, লজ্জা ও দায়িত্বের মতো মূল্যবোধকে পারবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপট থেকে থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়, তখন সেগুলো ধীরে ধীরে পরিবর্তনশীল ও সুবিধানির্ভর হয়ে ওঠে। তখন নৈতিকতা বইয়ের পাতায় থাকে, কিন্তু মানুষের সিদ্ধান্তে তার কার্যকর উপস্থিতি থাকে না।
.
অন্যদিকে পুঁজিবাদ ও ভোগবাদের চরম রূপ মানুষের পরিচয়কে তার চরিত্র দিয়ে নয়, বরং তার মালিকানাধীন পণ্য দিয়ে নির্ধারণ করতে শুরু করেছে। মানুষ কী ব্যবহার করে, কী পরিধান করে, কোথায় যায় এবং কত দামি ফোন বহন করে—এসব অনুষঙ্গ সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি হয়ে ওঠে। সমাজতাত্ত্বিক ভাষায় একে বলা হয় commodification—যেখানে মানবিক সম্পর্ক ও সামাজিক মর্যাদার জায়গা দখল করে পণ্য ও বাজারমূল্য।
এই ভোগবাদী সংস্কৃতি মানুষকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে একটি আইফোন আর কেবল একটি পণ্য থাকেনা; তা হয়ে ওঠে আকাঙ্ক্ষা, মর্যাদা ও সাফল্যের প্রতীক। তখন আত্মসংযম, বিবেক ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দুর্বল হলে একটি পণ্য অর্জনের জন্য হত্যার মত জঘন্য অপরাধ ও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে! এই হত্যাকাণ্ড তাই নিছক কোন দুর্ঘটনা নয়, এবং এটি পচে যাওয়া সমাজ ব্যবস্থার রক্তাক্ত প্রতিচ্ছবি, ঠি অই মানুষটির মত যার ফুসফুস বিষে ক্ষয় হয়ে গেছে এখন তার কাশির সাথে শুধুই রক্ত বের হয়! এটি তো তার দীর্ঘ বছরের তামাকের ফল যা তার কাছে “নরমাল“ বিষয়’ই ছিল!
.
এখন আমাদের নিজেদের কিছু কঠিন প্রশ্ন করতে হবে—এর জন্য আসলে কে দায়ী? শুধু হত্যাকারীরা? প্রত্যক্ষ অপরাধের জন্য অবশ্যই তারাই দায়ী এবং তাদের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু সমাজ হিসেবে আমাদেরও দায় আছে। পরিবারে নৈতিক শিক্ষার দুর্বলতা, শিক্ষাব্যবস্থায় চরিত্রগঠনের অনুপস্থিতি, গণমাধ্যমে ভোগবাদী সাফল্যের প্রচার, হাইপার ফ্যান্টাসাইজড সোশ্যাল ট্রেন্ড এবং অন্যায়ের সঙ্গে প্রতিদিনের ছোট ছোট আপস—সবকিছু মিলেই অপরাধের পরিবেশ তৈরি করে।
.
শুধু টেলিভিশন টকশো, সংবাদপত্রের কলাম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না। কারণ এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। প্রতিটি অপরাধকে যদি আমরা আলাদা ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করি, তবে মূল কারণ সবসময় আড়ালে থেকে যাবে। ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ কথাটি অনেক সময় সমাজের গভীর পচনকে সাময়িকভাবে ঢেকে রাখে। আমরা দোষ চাপাই একজন ব্যক্তি বা একটি ঘটনার ওপর, কিন্তু যে জীবনব্যবস্থা প্রতিদিন লোভ, আত্মকেন্দ্রিকতা ও নৈতিক শূন্যতা তৈরি করছে, তাকে প্রশ্ন করি না।
এটি শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের গভীরতার প্রমাণ। কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সি অপ্রতিমকে তার হাতে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শিশুটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার ওপর লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং মৃত্যুর পর সেই আইফোন নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। একটি মোবাইল ফোনের জন্য একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়া কোনো সাধারণ অপরাধের ঘটনা নয়। এটি এমন এক নৈতিক পতনের প্রতিচ্ছবি, যেখানে একটি বস্তু মানুষের জীবনের চেয়েও মূল্যবান হয়ে উঠেছে।
.
এখানে আরও একটি প্রশ্ন জরুরি: কেন আমরা এমন ঘটনায় ক্রমশ অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়ছি? সমাজ যখন বিকৃতি, লোভ ও পাপের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে উদাসীন থাকে, তখন একসময় পাপ আর পাপ হিসেবে অনুভূত হয় না। অপরাধ তখন কেবল একটি সংবাদ, একটি মামলা কিংবা একটি পরিসংখ্যান হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের উদাসীনতা, স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা ধীরে ধীরে এমন একটি সমাজ তৈরি করেছে, যেখানে নৈতিক বিপর্যয়ও যেন দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ - The “New Normal”.
.
একাডেমিক আলোচনায় এই সংকটকে বোঝার জন্য moral relativism এবং জিগমুন্ট বাউমানের liquid modernity ধারণা প্রাসঙ্গিক। liquid modernity’র ফলাফল হিসেবে সমাজে মূল্যবোধ, সম্পর্ক ও সামাজিক অঙ্গীকারগুলো ক্রমশ স্থায়িত্ব হারায়। কোনটি ন্যায়, কোনটি অন্যায়, কোনটি পবিত্র এবং কোনটি অপবিত্র—এসব প্রশ্নের উত্তরও অনেক সময় পরিস্থিতি, সুবিধা ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা সেকুলার সমাজব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি হিসেবে যখন ন্যায়নীতি, মানবজীবনের পবিত্রতা, সত্যবাদিতা, লজ্জা ও দায়িত্বের মতো মূল্যবোধকে পারবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপট থেকে থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়, তখন সেগুলো ধীরে ধীরে পরিবর্তনশীল ও সুবিধানির্ভর হয়ে ওঠে। তখন নৈতিকতা বইয়ের পাতায় থাকে, কিন্তু মানুষের সিদ্ধান্তে তার কার্যকর উপস্থিতি থাকে না।
.
অন্যদিকে পুঁজিবাদ ও ভোগবাদের চরম রূপ মানুষের পরিচয়কে তার চরিত্র দিয়ে নয়, বরং তার মালিকানাধীন পণ্য দিয়ে নির্ধারণ করতে শুরু করেছে। মানুষ কী ব্যবহার করে, কী পরিধান করে, কোথায় যায় এবং কত দামি ফোন বহন করে—এসব অনুষঙ্গ সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি হয়ে ওঠে। সমাজতাত্ত্বিক ভাষায় একে বলা হয় commodification—যেখানে মানবিক সম্পর্ক ও সামাজিক মর্যাদার জায়গা দখল করে পণ্য ও বাজারমূল্য।
এই ভোগবাদী সংস্কৃতি মানুষকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে একটি আইফোন আর কেবল একটি পণ্য থাকেনা; তা হয়ে ওঠে আকাঙ্ক্ষা, মর্যাদা ও সাফল্যের প্রতীক। তখন আত্মসংযম, বিবেক ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দুর্বল হলে একটি পণ্য অর্জনের জন্য হত্যার মত জঘন্য অপরাধ ও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে! এই হত্যাকাণ্ড তাই নিছক কোন দুর্ঘটনা নয়, এবং এটি পচে যাওয়া সমাজ ব্যবস্থার রক্তাক্ত প্রতিচ্ছবি, ঠি অই মানুষটির মত যার ফুসফুস বিষে ক্ষয় হয়ে গেছে এখন তার কাশির সাথে শুধুই রক্ত বের হয়! এটি তো তার দীর্ঘ বছরের তামাকের ফল যা তার কাছে “নরমাল“ বিষয়’ই ছিল!
.
এখন আমাদের নিজেদের কিছু কঠিন প্রশ্ন করতে হবে—এর জন্য আসলে কে দায়ী? শুধু হত্যাকারীরা? প্রত্যক্ষ অপরাধের জন্য অবশ্যই তারাই দায়ী এবং তাদের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু সমাজ হিসেবে আমাদেরও দায় আছে। পরিবারে নৈতিক শিক্ষার দুর্বলতা, শিক্ষাব্যবস্থায় চরিত্রগঠনের অনুপস্থিতি, গণমাধ্যমে ভোগবাদী সাফল্যের প্রচার, হাইপার ফ্যান্টাসাইজড সোশ্যাল ট্রেন্ড এবং অন্যায়ের সঙ্গে প্রতিদিনের ছোট ছোট আপস—সবকিছু মিলেই অপরাধের পরিবেশ তৈরি করে।
.
শুধু টেলিভিশন টকশো, সংবাদপত্রের কলাম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না। কারণ এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। প্রতিটি অপরাধকে যদি আমরা আলাদা ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করি, তবে মূল কারণ সবসময় আড়ালে থেকে যাবে। ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ কথাটি অনেক সময় সমাজের গভীর পচনকে সাময়িকভাবে ঢেকে রাখে। আমরা দোষ চাপাই একজন ব্যক্তি বা একটি ঘটনার ওপর, কিন্তু যে জীবনব্যবস্থা প্রতিদিন লোভ, আত্মকেন্দ্রিকতা ও নৈতিক শূন্যতা তৈরি করছে, তাকে প্রশ্ন করি না।
এই অবক্ষয় এক দিনে তৈরি হয়নি; এক দিনে এর সমাধানও সম্ভব নয়। আইন প্রয়োজন, বিচার প্রয়োজন, সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। কিন্তু এরও আগে মানুষের অন্তর, মূল্যবোধ ও জীবনদর্শনের পরিবর্তনও অপরিহার্য। মানুষ যখন স্রষ্টাকে ভুলে যায়, তখন সে নিজের প্রবৃত্তি ও লালসার দাসে পরিণত হয়। তাই স্থায়ী সমাধান কেবল বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণে নয়; এমন একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক জীবনব্যবস্থার বাস্তবায়নে, যা মানুষের জীবনের পবিত্রতাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়।
.
সেই জীবনব্যবস্থা আল্লাহ আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এর কেন্দ্রে রয়েছে জবাবদিহি, ন্যায়, আত্মসংযম, মানবমর্যাদা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব। অপ্রতিমের মৃত্যু তাই শুধু বিচার দাবি করে না; এটি আমাদের বিবেকের পুনর্জাগরণ দাবি করে। প্রশ্ন হলো—আমরা কি এই ঘটনাকে আরেকটি খবর হিসেবে ভুলে যাব, নাকি নিজেদের সমাজ ও জীবনব্যবস্থার দিকে সত্যিই ফিরে তাকাব?
--
.
সেই জীবনব্যবস্থা আল্লাহ আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এর কেন্দ্রে রয়েছে জবাবদিহি, ন্যায়, আত্মসংযম, মানবমর্যাদা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব। অপ্রতিমের মৃত্যু তাই শুধু বিচার দাবি করে না; এটি আমাদের বিবেকের পুনর্জাগরণ দাবি করে। প্রশ্ন হলো—আমরা কি এই ঘটনাকে আরেকটি খবর হিসেবে ভুলে যাব, নাকি নিজেদের সমাজ ও জীবনব্যবস্থার দিকে সত্যিই ফিরে তাকাব?
--
❤11👍2😢1
রাত দুইটা, ফোনের নীল আলোয় একটা মুখ ভেসে আছে। থাম্ব স্ক্রল করছে অবিরাম, একটা ভিডিও থেকে আরেকটায়, একটা মুখ থেকে আরেক মুখে, একটা সত্তা থেকে আরেক বিভ্রমে। এই ছেলেটি বা এই মেয়েটি জানে না সে কী খুঁজছে। কিন্তু খুঁজেই যাচ্ছে, স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া এক পাতার মতো। এই দৃশ্যই আমাদের জীবনের “New Normal“ খুব পরিচিত একটা লুপের মত ঘুরতে থাকে। যে লুপ ডোপামিন রিলিজ করে ক্লান্তি তৈরি করে আবার ক্লান্তির পরে ডোপামিনের আকাংখা তৈরি করে। কেমন যেন এক গিলে খাওয়ার রাক্ষসী ক্ষুধা, যাকে হয়ত সর্বোচ্চ চেনা যায়, কিন্তু থামানো যায়না!
👍5❤3😁1😭1
.
এটাই আজকের TikTok Generation - এমন এক প্রজন্ম যাদের মনোজগত তৈরি হচ্ছে অ্যালগরিদমের হাতে, স্ক্রিনের হাতে, মূল পরিচয়, আদর্শ বিশ্বাস কিংবা শিকড়ের সাথে নয়। মনোবিজ্ঞানী Jonathan Haidt দেখিয়েছে, ২০১০-১৯ সালের মধ্যে স্মার্টফোন-নির্ভর কিশোর প্রজন্মে বিষণ্নতা বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি, আর ১০-১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের আত্মহত্যার হার বেড়েছে ১৩১ শতাংশ। [১]
সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়, এগুলো প্রজন্মের ধ্বসে যাওয়া, ঝরে যাওয়া সংখ্যা, যারা জানে না তার আদর্শ কী, তার ভিত্তি কোথায়। ইসলামে মানুষকে বলা হয় আশরাফুল মাখলুকাত, সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, যার অস্তিত্বই এই দাবির প্রতি প্রত্যুত্তর। কিন্তু যে সৃষ্টি স্ক্রিন-ডোপামিনের লুপ খুঁজছে, তার কাছে সেই মর্যাদা মৌলিক পরিচয় হারিয়েছে। সে আজ এমন মর্যাদা চেনে যার পরিচয় বা অস্তিত্ব কেবল স্ক্রিনেই সীমাবদ্ধ!
.
বিপদের মাত্রা এক নয়, অসংখ্য। এমনই একটা নাম হচ্ছে পর্ন/সফট পর্ন। বিনোদনের মোড়কে মোড়ানো এক নেশা! Common Sense Media জরিপ বলছে, মার্কিন কিশোরদের ৭৩ শতাংশ পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে এসেছে, আর প্রথম দেখার গড় বয়স মাত্র বারো।[২] বাংলাদেশেও এই সংখ্যা লুকিয়ে নেই, শুধু আলোচিত হয় না।
বিনোদন বা আর্টের নামে যা পরিবেশিত হয়, তা আসলে একটা প্রজন্মের চিন্তাধারা, কল্পনাজগত এবং লজ্জাবোধকে নিঃশেষ করে দেয়। তাদের সামনে আল্লাহর সতর্কবার্তা যেন কোন প্রাসঙ্গিকতাই বহন করেনা! সূরা আন-নূরে আল্লাহ বলেন, বিশ্বাসী নারী-পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখতে বলা হয়েছে, কারণ তা তাদের জন্য অধিক পবিত্র।[৩] এটি নিছক অনুশাসন নয়, এটা মানসতাত্ত্বিক সুরক্ষার একটা ফর্মুলা, যা লিবারেল ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের কাছে হুমকি মনে হয়! কারণ সেখানে স্বার্থের সবকিছুই "right" এবং "consent"-এর ভাষায় দেখা হয়।
.
পবিত্রতা এখানে একটা সীমাহীন পরিভাষা, কিংবা দাসত্ব কিংবা শিকল! যেমনটা লুত আলাইহিস সালামের কওম পবিত্রতার প্রতি বড় বিরক্ত হয়ে আল্লাহর নবীকে বলেছিল - আহ! এসেছেন বড় পবিত্রতার কথা বলতে!
আরেকটা ঘর, আরেকটা দৃশ্য। একজন মা বসে আছেন জানালার পাশে, স্বামী ফেরেননি গভীর রাত পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্সের ২০২২ সালের জরিপ বলছে, দেশে বিচ্ছেদের প্রধান কারণ পরকীয়া সম্পর্ক। উত্তরদাতাদের ২৩ শতাংশ এটাকেই কারণ বলেছেন।[৪] পরিবার ভেঙে গেলে সমাজের নিউক্লিয়াস ভেঙে যায়, আর যে সন্তান একা বাবা বা একা মায়ের সাথে বেড়ে ওঠে, তার ভেতরে তৈরি হয় নিরাপত্তাহীনতার ছায়া। সূরা আর-রুমে বলা হয়েছে, আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সাকীনাহ (প্রশান্তি), মাওয়াদ্দাহ (প্রেম) ও রাহমাহ (দয়া) স্থাপন করেছেন।[৫] এই তিনটি উপাদানই যখন বাজারি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের কাছে বলি হয়ে যায়, তখন যা ভাঙে তা শুধু একটা সম্পর্ক নয়, একটা সভ্যতার বুনিয়াদি ভিত্তি কাঠামো।
.
এরপরে আসে সেই তর্ক, যা এই অঞ্চলে "প্রগতিশীলতা"’র মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে সমকামিতার সামাজিকীকরণ। ইতিহাসের বিবরণে, লূত (আঃ)-এর জাতির কাহিনিতে, কুরআন বলে দেয় কীভাবে এক জাতি আল্লাহর নিষিদ্ধ সীমা অতিক্রম করে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।[৬]
ইবনে খালদুনের সভ্যতা-তত্ত্বে যাকে বলা হয় আসাবিয়াহ’র ক্ষয়। যখন বিলাস ও কামনা সামাজিক বন্ধনের ওপরে বসে যায়, সভ্যতা নিজের মধ্যেই ধ্বংসের বীজ বহন করে।[৭] যা একসময় শাস্তি হিসাবে পড়েছে, তাই আজ স্বাভাবিকতা হিসাবে পরিবেশিত হবার চেষ্টা – এই পরিবর্তন নিজে এক বিষ, যেটা ধীরে ধীরে সমাজকে অচেতন করে দেয়।
.
অপর দিকে, আঙ্গুল দেখিয়ে পশ্চিমকে দলিল সাব্যস্ত করা সেই পশ্চিমের পুরো দর্শনের চূড়ান্ত রূপের এক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে – Jeffrey Epstein। গবেষকরা দেখিয়েছে কীভাবে ক্ষমতা, অর্থ আর কনসেন্ট এর তরল সংজ্ঞা মিলে তৈরি করেছিল একটা এলিট শোষণ-নেটওয়ার্ক, যেখানে শত শত কিশোরী শিকার হয়েছিল।[৮] এটা লিবারেল sexual liberation এর সবচেয়ে অন্ধকার আয়না। এটা প্রমাণ করে যে, যে সমাজ মানবিক মুল্যবোধ, ন্যায় নীতি বোধ সরিয়ে দেয়, সেই সমাজে সবচেয়ে বেশি বেশি নির্যাতন থাকে তারা, যারা সবচেয়ে দুর্বল।
Zaytuna কলেজের এক স্কলার লিখেছেন, পশ্চিমেই আজ চল্লিশ বছর বয়সীদের এক চতুর্থাংশ কখনো বিয়েই করেননি। [৯] থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশগুলো সেই একই পথ অনুকরণ করছে rights আর modernity’র নামে। এতে কি হচ্ছে? হতাশা বাড়ছে, নীতি বিবর্জিত অপরাধ বাড়ছে, পরিবার ভাংছে, সমাজ অস্থিতিশীল হচ্ছে।
.
একটা দৃশ্য কল্পনা করুন। একটা প্রজন্ম, একলা ঘরে বসে, স্মার্টফোনের স্ক্রীনে নিজের পরিচয় খুঁজছে এমন কারো মাঝে যে না তার পরিবার, না তার আত্মীয়, না সে তার আদর্শ বিশ্বাসের কাছাকাছি কেউ!
এটাই আজকের TikTok Generation - এমন এক প্রজন্ম যাদের মনোজগত তৈরি হচ্ছে অ্যালগরিদমের হাতে, স্ক্রিনের হাতে, মূল পরিচয়, আদর্শ বিশ্বাস কিংবা শিকড়ের সাথে নয়। মনোবিজ্ঞানী Jonathan Haidt দেখিয়েছে, ২০১০-১৯ সালের মধ্যে স্মার্টফোন-নির্ভর কিশোর প্রজন্মে বিষণ্নতা বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি, আর ১০-১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের আত্মহত্যার হার বেড়েছে ১৩১ শতাংশ। [১]
সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়, এগুলো প্রজন্মের ধ্বসে যাওয়া, ঝরে যাওয়া সংখ্যা, যারা জানে না তার আদর্শ কী, তার ভিত্তি কোথায়। ইসলামে মানুষকে বলা হয় আশরাফুল মাখলুকাত, সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, যার অস্তিত্বই এই দাবির প্রতি প্রত্যুত্তর। কিন্তু যে সৃষ্টি স্ক্রিন-ডোপামিনের লুপ খুঁজছে, তার কাছে সেই মর্যাদা মৌলিক পরিচয় হারিয়েছে। সে আজ এমন মর্যাদা চেনে যার পরিচয় বা অস্তিত্ব কেবল স্ক্রিনেই সীমাবদ্ধ!
.
বিপদের মাত্রা এক নয়, অসংখ্য। এমনই একটা নাম হচ্ছে পর্ন/সফট পর্ন। বিনোদনের মোড়কে মোড়ানো এক নেশা! Common Sense Media জরিপ বলছে, মার্কিন কিশোরদের ৭৩ শতাংশ পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে এসেছে, আর প্রথম দেখার গড় বয়স মাত্র বারো।[২] বাংলাদেশেও এই সংখ্যা লুকিয়ে নেই, শুধু আলোচিত হয় না।
বিনোদন বা আর্টের নামে যা পরিবেশিত হয়, তা আসলে একটা প্রজন্মের চিন্তাধারা, কল্পনাজগত এবং লজ্জাবোধকে নিঃশেষ করে দেয়। তাদের সামনে আল্লাহর সতর্কবার্তা যেন কোন প্রাসঙ্গিকতাই বহন করেনা! সূরা আন-নূরে আল্লাহ বলেন, বিশ্বাসী নারী-পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখতে বলা হয়েছে, কারণ তা তাদের জন্য অধিক পবিত্র।[৩] এটি নিছক অনুশাসন নয়, এটা মানসতাত্ত্বিক সুরক্ষার একটা ফর্মুলা, যা লিবারেল ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের কাছে হুমকি মনে হয়! কারণ সেখানে স্বার্থের সবকিছুই "right" এবং "consent"-এর ভাষায় দেখা হয়।
.
পবিত্রতা এখানে একটা সীমাহীন পরিভাষা, কিংবা দাসত্ব কিংবা শিকল! যেমনটা লুত আলাইহিস সালামের কওম পবিত্রতার প্রতি বড় বিরক্ত হয়ে আল্লাহর নবীকে বলেছিল - আহ! এসেছেন বড় পবিত্রতার কথা বলতে!
আরেকটা ঘর, আরেকটা দৃশ্য। একজন মা বসে আছেন জানালার পাশে, স্বামী ফেরেননি গভীর রাত পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্সের ২০২২ সালের জরিপ বলছে, দেশে বিচ্ছেদের প্রধান কারণ পরকীয়া সম্পর্ক। উত্তরদাতাদের ২৩ শতাংশ এটাকেই কারণ বলেছেন।[৪] পরিবার ভেঙে গেলে সমাজের নিউক্লিয়াস ভেঙে যায়, আর যে সন্তান একা বাবা বা একা মায়ের সাথে বেড়ে ওঠে, তার ভেতরে তৈরি হয় নিরাপত্তাহীনতার ছায়া। সূরা আর-রুমে বলা হয়েছে, আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সাকীনাহ (প্রশান্তি), মাওয়াদ্দাহ (প্রেম) ও রাহমাহ (দয়া) স্থাপন করেছেন।[৫] এই তিনটি উপাদানই যখন বাজারি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের কাছে বলি হয়ে যায়, তখন যা ভাঙে তা শুধু একটা সম্পর্ক নয়, একটা সভ্যতার বুনিয়াদি ভিত্তি কাঠামো।
.
এরপরে আসে সেই তর্ক, যা এই অঞ্চলে "প্রগতিশীলতা"’র মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে সমকামিতার সামাজিকীকরণ। ইতিহাসের বিবরণে, লূত (আঃ)-এর জাতির কাহিনিতে, কুরআন বলে দেয় কীভাবে এক জাতি আল্লাহর নিষিদ্ধ সীমা অতিক্রম করে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।[৬]
ইবনে খালদুনের সভ্যতা-তত্ত্বে যাকে বলা হয় আসাবিয়াহ’র ক্ষয়। যখন বিলাস ও কামনা সামাজিক বন্ধনের ওপরে বসে যায়, সভ্যতা নিজের মধ্যেই ধ্বংসের বীজ বহন করে।[৭] যা একসময় শাস্তি হিসাবে পড়েছে, তাই আজ স্বাভাবিকতা হিসাবে পরিবেশিত হবার চেষ্টা – এই পরিবর্তন নিজে এক বিষ, যেটা ধীরে ধীরে সমাজকে অচেতন করে দেয়।
.
অপর দিকে, আঙ্গুল দেখিয়ে পশ্চিমকে দলিল সাব্যস্ত করা সেই পশ্চিমের পুরো দর্শনের চূড়ান্ত রূপের এক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে – Jeffrey Epstein। গবেষকরা দেখিয়েছে কীভাবে ক্ষমতা, অর্থ আর কনসেন্ট এর তরল সংজ্ঞা মিলে তৈরি করেছিল একটা এলিট শোষণ-নেটওয়ার্ক, যেখানে শত শত কিশোরী শিকার হয়েছিল।[৮] এটা লিবারেল sexual liberation এর সবচেয়ে অন্ধকার আয়না। এটা প্রমাণ করে যে, যে সমাজ মানবিক মুল্যবোধ, ন্যায় নীতি বোধ সরিয়ে দেয়, সেই সমাজে সবচেয়ে বেশি বেশি নির্যাতন থাকে তারা, যারা সবচেয়ে দুর্বল।
Zaytuna কলেজের এক স্কলার লিখেছেন, পশ্চিমেই আজ চল্লিশ বছর বয়সীদের এক চতুর্থাংশ কখনো বিয়েই করেননি। [৯] থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশগুলো সেই একই পথ অনুকরণ করছে rights আর modernity’র নামে। এতে কি হচ্ছে? হতাশা বাড়ছে, নীতি বিবর্জিত অপরাধ বাড়ছে, পরিবার ভাংছে, সমাজ অস্থিতিশীল হচ্ছে।
.
একটা দৃশ্য কল্পনা করুন। একটা প্রজন্ম, একলা ঘরে বসে, স্মার্টফোনের স্ক্রীনে নিজের পরিচয় খুঁজছে এমন কারো মাঝে যে না তার পরিবার, না তার আত্মীয়, না সে তার আদর্শ বিশ্বাসের কাছাকাছি কেউ!
❤6👍2🤔1
এভাবেই ঘুরে ঘুরে রাত আসে, দিন আসে – আর আমাদের পরিবার থেকে খুবলে খুবলে তুলে নিয়ে যায় আমাদের পরিচিতি, আমাদের বিশ্বাস, আমাদের আদর্শ! এরপরে হঠাত কোন এক রাতে আমরা খুঁজে ফিরি আমি কে? কি আমার পরিচিতি? কি আমাদের উদ্দেশ্য? গভীর রাত স্ক্রিনের নীল আলো ব্যতিত আর কোন উত্তর দিতে পারেনা!
.
প্রশ্নটা তাই সহজ, কিন্তু ভয়ংকর! আমরা কি ফিতরাতের দিকে ফিরব, নাকি স্রোতে ভেসে যাবো? স্রোত যেন একটা শূন্যতা, যা আমাদের হতাশার কোন উত্তর দেয়না বরং জোর করে মুখটা স্ক্রীনে ডুবিয়ে দেয়, আর ভুলিয়ে দেয় - আমি কে?
.
প্রশ্নটা তাই সহজ, কিন্তু ভয়ংকর! আমরা কি ফিতরাতের দিকে ফিরব, নাকি স্রোতে ভেসে যাবো? স্রোত যেন একটা শূন্যতা, যা আমাদের হতাশার কোন উত্তর দেয়না বরং জোর করে মুখটা স্ক্রীনে ডুবিয়ে দেয়, আর ভুলিয়ে দেয় - আমি কে?
😢9❤4
Reality Check BD
রাত দুইটা, ফোনের নীল আলোয় একটা মুখ ভেসে আছে। থাম্ব স্ক্রল করছে অবিরাম, একটা ভিডিও থেকে আরেকটায়, একটা মুখ থেকে আরেক মুখে, একটা সত্তা থেকে আরেক বিভ্রমে। এই ছেলেটি বা এই মেয়েটি জানে না সে কী খুঁজছে। কিন্তু খুঁজেই যাচ্ছে, স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া এক পাতার মতো।…
রেফারেন্সঃ
[১] "The Terrible Costs of a Phone-Based Childhood" — Jonathan Haidt, The Atlantic, March 13, 2024.
https://www.theatlantic.com/technology/archive/2024/03/teen-childhood-smartphone-use-mental-health-effects/677722/
[২] "Teens and Pornography" — Robb, M.B., & Mann, S. (2023), Common Sense Media National Survey Report.
https://www.commonsensemedia.org/sites/default/files/research/report/2022-teens-and-pornography-final-web.pdf
[৩] Quran.com
https://quran.com/an-nur/30-31
[৪] "Extramarital relationships are main reason for divorce" — Prothom Alo (English), Feb 9, 2024, citing Bangladesh Sample Vital Statistics-2022 (BBS). https://en.prothomalo.com/bangladesh/bi48k3yakr
[৫] Quran.com https://quran.com/ar-rum/21
[৬] Quran.com https://quran.com/al-araf/80-84
[৭] "Ibn Khaldun on Luxury and the Destruction of Civilizations" — Fountain Magazine, Issue 117, May-June 2017. https://fountainmagazine.com/all-issues/2017/issue-117-may-june-2017/ibn-khaldun-on-luxury-and-the-destruction-of-civilizations/
[৮] "Elite Sex Trafficking as a Crime of the Powerful: A Comparative Case Study of Jeffrey Epstein and Peter Nygard's Alleged Trafficking Enterprises" — Thomas Volscho, Deviant Behavior (CUNY), 2025. http://files.commons.gc.cuny.edu.s3.amazonaws.com/wp-content/blogs.dir/14913/files/2025/07/Corrected-Proof-Volscho-2025-Deviant-Behavior.pdf
[৯] "We Need a Politics Grounded in Human Nature to Heal Our Divisions" — Renovatio (Zaytuna College), April 1, 2026, citing Pew Research https://renovatio.zaytuna.edu/article/we-need-a-politics-grounded-in-human-nature-to-heal-our-divisions
[১] "The Terrible Costs of a Phone-Based Childhood" — Jonathan Haidt, The Atlantic, March 13, 2024.
https://www.theatlantic.com/technology/archive/2024/03/teen-childhood-smartphone-use-mental-health-effects/677722/
[২] "Teens and Pornography" — Robb, M.B., & Mann, S. (2023), Common Sense Media National Survey Report.
https://www.commonsensemedia.org/sites/default/files/research/report/2022-teens-and-pornography-final-web.pdf
[৩] Quran.com
https://quran.com/an-nur/30-31
[৪] "Extramarital relationships are main reason for divorce" — Prothom Alo (English), Feb 9, 2024, citing Bangladesh Sample Vital Statistics-2022 (BBS). https://en.prothomalo.com/bangladesh/bi48k3yakr
[৫] Quran.com https://quran.com/ar-rum/21
[৬] Quran.com https://quran.com/al-araf/80-84
[৭] "Ibn Khaldun on Luxury and the Destruction of Civilizations" — Fountain Magazine, Issue 117, May-June 2017. https://fountainmagazine.com/all-issues/2017/issue-117-may-june-2017/ibn-khaldun-on-luxury-and-the-destruction-of-civilizations/
[৮] "Elite Sex Trafficking as a Crime of the Powerful: A Comparative Case Study of Jeffrey Epstein and Peter Nygard's Alleged Trafficking Enterprises" — Thomas Volscho, Deviant Behavior (CUNY), 2025. http://files.commons.gc.cuny.edu.s3.amazonaws.com/wp-content/blogs.dir/14913/files/2025/07/Corrected-Proof-Volscho-2025-Deviant-Behavior.pdf
[৯] "We Need a Politics Grounded in Human Nature to Heal Our Divisions" — Renovatio (Zaytuna College), April 1, 2026, citing Pew Research https://renovatio.zaytuna.edu/article/we-need-a-politics-grounded-in-human-nature-to-heal-our-divisions
👍3
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
So your job is to "condenm" only! and by the way - since when the role has been changed from sanction to "condenm"?
👍5😁4
সাবেক চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম পোস্ট করেছেন - “আওয়ামী আমলের “রডের বদলে বাঁশ/ কঞ্চি” পদ্ধতি এখনো চালু!? এতো রক্ত দিয়ে ফ্যাসিস্ট হটিয়ে অর্জন কি তাহলে?“
অর্জনের প্রশ্নটিই ভুল, কারণ অবশ্যই ফ্যাসিস্ট পালিয়ে গেছে কিন্তু কারখানা রয়ে গেছে। So the question is a fantasy! কখনো এই প্রশ্নগুলো আমাদের সস্তা সুখ দেয়- “দ্যাখো এই যে আমরা… বেশ গভীর সব প্রশ্ন-ট্রশ্ন করতে পারছি”। যেমন মনে করা যাক- “ফ্যাসিস্ট হটিয়ে অর্জন কি?”
এটি কেমন বিলাসিতা আমরা বুঝে উঠতে পারিনা, ফ্যাসিস্ট যে সিস্টেম থেকে তৈরি হয় সেই সিস্টেম ইন্ট্যাক্ট রেখে- অর্জন নিয়ে প্রশ্ন করার অর্থ কি?
এই প্রশ্ন-গুলো সাময়িক কিছু মেকি সুখ হয়ত দিতে পারে, কিন্তু বাস্তবতার ক্ষেত্রে তা কচুপাতার উপরে বৃষ্টির পানি!
অর্জনের প্রশ্নটিই ভুল, কারণ অবশ্যই ফ্যাসিস্ট পালিয়ে গেছে কিন্তু কারখানা রয়ে গেছে। So the question is a fantasy! কখনো এই প্রশ্নগুলো আমাদের সস্তা সুখ দেয়- “দ্যাখো এই যে আমরা… বেশ গভীর সব প্রশ্ন-ট্রশ্ন করতে পারছি”। যেমন মনে করা যাক- “ফ্যাসিস্ট হটিয়ে অর্জন কি?”
এটি কেমন বিলাসিতা আমরা বুঝে উঠতে পারিনা, ফ্যাসিস্ট যে সিস্টেম থেকে তৈরি হয় সেই সিস্টেম ইন্ট্যাক্ট রেখে- অর্জন নিয়ে প্রশ্ন করার অর্থ কি?
এই প্রশ্ন-গুলো সাময়িক কিছু মেকি সুখ হয়ত দিতে পারে, কিন্তু বাস্তবতার ক্ষেত্রে তা কচুপাতার উপরে বৃষ্টির পানি!
👍24❤5
Media is too big
VIEW IN TELEGRAM
ভিডিওটি কেমন লাগলো আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন, শেয়ার করুন, বন্ধুদের সাথে ট্যাগ করুন।
❤33🔥9👍6
গাজায় হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুর রক্ত, চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে জেনোসাইড! আর সেই জেনোসাইডের মূল শয়তান নেতানিয়াহু কিনা বুক ফুলিয়ে স্পিচ দিচ্ছে খোদ UN-এর মঞ্চে!
যে জাতিসংঘের জন্মই হয়েছিল এই ধরনের জঘন্য গণহত্যা ঠেকানোর জন্য, তারা আজ নির্লজ্জের মতো গণহত্যার জন্য দায়ীদের স্পেস দিচ্ছে!
মঞ্চে দাঁড়িয়ে 'বিপার' হামলার প্রচ্ছন্ন থ্রেট দিচ্ছে নেতানিয়াহু, আর তার অ্যাটাশে ঘুরে ঘুরে সবার নাম নোট করছে! কে শুনছে, কে শুনছে না— লিটারেলি ওপেন থ্রেট দেওয়ার ভাইব!
তবে সবচেয়ে আইকনিক দৃশ্য কোনটা জানেন? অভিশপ্ত বানর/শূকরের ভাই যখন স্পিচ দিচ্ছে, তার প্রতিবাদে একের পর এক দেশের প্রতিনিধিরা ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। আর সেখানে প্রায় ফাঁকা হলে বসে একা নির্লজ্জের মতো হাততালি দিচ্ছে তার বউ!
পুরো ঘটনার সামারি করলে দিনশেষে একটাই লাইন মাথায় আসে:
শয়তান কথা বলে, বউ তালি বাজায় আর ইউ এন এই আয়োজনের স্পন্সর!
𝐃𝐞𝐯𝐢𝐥 𝐭𝐚𝐥𝐤𝐬, 𝐰𝐢𝐟𝐞 𝐜𝐥𝐚𝐩𝐬 - 𝐔𝐍 𝐬𝐩𝐨𝐧𝐬𝐨𝐫𝐬!
যে জাতিসংঘের জন্মই হয়েছিল এই ধরনের জঘন্য গণহত্যা ঠেকানোর জন্য, তারা আজ নির্লজ্জের মতো গণহত্যার জন্য দায়ীদের স্পেস দিচ্ছে!
মঞ্চে দাঁড়িয়ে 'বিপার' হামলার প্রচ্ছন্ন থ্রেট দিচ্ছে নেতানিয়াহু, আর তার অ্যাটাশে ঘুরে ঘুরে সবার নাম নোট করছে! কে শুনছে, কে শুনছে না— লিটারেলি ওপেন থ্রেট দেওয়ার ভাইব!
তবে সবচেয়ে আইকনিক দৃশ্য কোনটা জানেন? অভিশপ্ত বানর/শূকরের ভাই যখন স্পিচ দিচ্ছে, তার প্রতিবাদে একের পর এক দেশের প্রতিনিধিরা ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। আর সেখানে প্রায় ফাঁকা হলে বসে একা নির্লজ্জের মতো হাততালি দিচ্ছে তার বউ!
পুরো ঘটনার সামারি করলে দিনশেষে একটাই লাইন মাথায় আসে:
শয়তান কথা বলে, বউ তালি বাজায় আর ইউ এন এই আয়োজনের স্পন্সর!
𝐃𝐞𝐯𝐢𝐥 𝐭𝐚𝐥𝐤𝐬, 𝐰𝐢𝐟𝐞 𝐜𝐥𝐚𝐩𝐬 - 𝐔𝐍 𝐬𝐩𝐨𝐧𝐬𝐨𝐫𝐬!
👍11❤7
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
দুনিয়াতে জালিমের পরিণতি দেখতে পাওয়া, আল্লাহর পক্ষ থেকে মাজলুমের জন্য অন্তরের এক প্রশান্তি!
❤28🔥7👍4
নিরাপত্তা - নাগরিকের অধিকার, রাষ্ট্রের অনুগ্রহ নয়!
–
সম্প্রতি নিজের স্টুডিওতে সন্ত্রাসী হামলার পর কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির অত্যন্ত বাস্তবমুখী একটি প্রসঙ্গ এনেছেন এবং তার প্রসঙ্গের যৌক্তিকতা নিয়ে সাধারণ জনগণ সরব হয়েছেন কারণ বিষয়টি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সালমান মুক্তাদির তার অবস্থান থেকে কোন কথা বললে তা যেভাবে মিডিয়া কাভারেজ পায়, বাংলাদেশের লক্ষ-কোটি সাধারণ জনগণের সে সুবিধা নেই। এজন্য সালমানের কথা যেন তাদেরই কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সালমানের বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু ছিল — নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মূল কাজই তো দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই নিশ্চিত করা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা প্রশাসন ব্যবস্থা কতটুকু রেডি? তাদের ইন্টেন্ট/সদিচ্ছা কতটুকু রেডি?
কথিত “গণতান্ত্রিক” এই রাষ্ট্র কি - নাগরিক ফার্স্ট নীতিতে চলে? নাকি আড়ালে রয়েছে প্রথাগত গৎবাঁধা পলিটিক্স ফার্স্ট নীতি?
–
সম্প্রতি নিজের স্টুডিওতে সন্ত্রাসী হামলার পর কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির অত্যন্ত বাস্তবমুখী একটি প্রসঙ্গ এনেছেন এবং তার প্রসঙ্গের যৌক্তিকতা নিয়ে সাধারণ জনগণ সরব হয়েছেন কারণ বিষয়টি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সালমান মুক্তাদির তার অবস্থান থেকে কোন কথা বললে তা যেভাবে মিডিয়া কাভারেজ পায়, বাংলাদেশের লক্ষ-কোটি সাধারণ জনগণের সে সুবিধা নেই। এজন্য সালমানের কথা যেন তাদেরই কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সালমানের বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু ছিল — নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মূল কাজই তো দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই নিশ্চিত করা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা প্রশাসন ব্যবস্থা কতটুকু রেডি? তাদের ইন্টেন্ট/সদিচ্ছা কতটুকু রেডি?
কথিত “গণতান্ত্রিক” এই রাষ্ট্র কি - নাগরিক ফার্স্ট নীতিতে চলে? নাকি আড়ালে রয়েছে প্রথাগত গৎবাঁধা পলিটিক্স ফার্স্ট নীতি?
❤9👍4
ব্যাক্তি সালমান মুক্তাদিরের মৌলিক নীতি, বিশ্বাস, আদর্শ, জীবনদর্শন এবং জীবনযাপন পদ্ধতির সাথে আমাদের দুরত্ব অনেক তবে সুনির্দিষ্ট ভাবে সালমান যে প্রশ্নটি রাষ্ট্র কাঠামোর সামনে রেখেছেন তা কেবল সালমানের একার কথা নয় বরং বাংলাদেশের নাম না জানা লক্ষ, লক্ষ নাগরিকের অব্যক্ত কথা!
এই আলোকপাত কেবল আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কথা নয় বরং ইসলাম’ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই নীতিকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইসলামে নাগরিকের নিরাপত্তা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় বা করুণা নয়, বরং তা শাসকের ওপর সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক আমানত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ নেতৃত্বের এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে বলে গেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন-
“সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। একজন শাসক তার জনগণের অভিভাবক, তাকে তার প্রজাদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে...”
— (সহীহ বুখারী: ৭১৩৮)
.
ইসলামের ইতিহাসে খলিফাদের শাসনকাল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নাগরিকের দায়ভার তাঁরা কীভাবে নিজেদের কাঁধে তুলে নিতেন। আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু রাতে ছদ্মবেশে মদিনার অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়াতেন এই ভয়ে যে কোনো নাগরিক কষ্টে আছে কি না। তাঁর সেই ঐতিহাসিক বাক্য আজও আমাদের জন্য রাষ্ট্র নেতাদের মুল্যায়ন প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিকঃ
“ফোরাত নদীর তীরে যদি একটি কুকুরও পথ হারিয়ে বা না খেয়ে মারা যায়, তবে আমি উমর ভয় পাই—কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আমাকেই তার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জবাবদিহি চাইবেন।”
জনগণের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করার অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছিলেন তিনি। দুর্ভিক্ষের বছর মদিনার মানুষ যখন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছিল, তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ঘি ও গোশত খাওয়া সম্পূর্ণ বর্জন করেন। তিনি বলেছিলেন, "যতক্ষণ না অন্য মুসলিমরা পেট ভরে খেতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কীভাবে সুস্বাদু খাবার গ্রহণ করতে পারি?" একজন শাসকের মানসিকতা এমন ছিল বলেই কোনো নাগরিককে নিজের অধিকার চাইতে গিয়ে ক্ষমতার দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়নি।
.
এমনকি অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ইসলামের ইনসাফ ছিল নজিরবিহীন! খলিফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর আমলে রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় মুসলিম সেনাপতি আবু উবাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর বাহিনী সহ খালিদ উবনুল ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে মূল বাহিনীতে যোগ দিতে বলা হয়। আবু উবাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন বুঝতে পারলেন - এখান থেকে মুসলিম বাহিনী চলে গেলে সম্ভাব্য কোন আক্রমন থেকে হিমসবাসীদের তারা রক্ষা করতে পারবেন না, তখন তিনি অমুসলিম নাগরিকদের থেকে নেওয়া পুরো জিজিয়া ফেরত দিয়ে দেন।
মুসলিম বাহিনীর বার্তা ছিল: “আমরা আপনাদের রক্ষার বিনিময়ে জিজিয়া নিয়েছিলাম। যেহেতু এখন আপনাদের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে পারছি না, তাই আপনাদের এই অর্থ আমাদের কাছে রাখার কোনো অধিকার আমাদের নেই।”
যেখানে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে জিজিয়া পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হতো, সেখানে আজ নাগরিকের ওপর প্রকাশ্যে জুলুম হওয়ার পরও রাষ্ট্রযন্ত্র যখন বিভিন্ন ফিরিস্তি, বয়ান সামনে নিয়ে আসে তখন কেবলমাত্র সেটিই নতুন আরেক জুলুম!
.
রামিশা ইস্যু নিয়ে এক মাসের মধ্যে যে বিচার নিশ্চিত হবে এমন আশ্বাস এসেছিল সেই “আশ্বাস“ বাস্তবায়ন অবশ্যই হয়নি এবং এর’ই মাঝে আরো অনেক রামিশার জীবন শেষ হয়ে গেছে!
লক্ষ্য করুন, আমরা এগুলোই আমাদের জীবনের নিউ নরমাল হিসেবে মেনে নেই, ইস্যু আসলে সরব হই, এরপরে আবার আগের “নরমালে” ফিরে যাই, আমাদের এই মানসিকতা রাষ্ট্র খুব ভালো ভাবেই জানে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব অবশ্যই আছে, তবে সেই দায়িত্বের ব্যাপারে রাষ্ট্রের অবহেলা আমাদের দায়িত্ব নাই করে দেয় না!
.
ইসলাম বলে, ক্ষমতা কোনো ভোগের বস্তু নয়, ক্ষমতা হলো চরম জবাবদিহিতা। অপরাধীর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রই হবে তার বিরুদ্ধে প্রধান বাদী, মাজলুমের হয়ে ইনসাফ এবং বিচার নিশ্চিত করাই হবে রাষ্ট্রের মূল কাজ।
ইসলাম এটাও বলে, নায্য অধিকার আদায় করে নেয়া বা জুলুম প্রতিহত করা, জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলা কোন অপশন নয় বরং দায়িত্ব, আল্লাহর স্পষ্ট আদেশ!
এ ব্যাপারে আপনারা কী ভাবছেন?
এই আলোকপাত কেবল আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কথা নয় বরং ইসলাম’ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই নীতিকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইসলামে নাগরিকের নিরাপত্তা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় বা করুণা নয়, বরং তা শাসকের ওপর সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক আমানত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ নেতৃত্বের এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে বলে গেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন-
“সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। একজন শাসক তার জনগণের অভিভাবক, তাকে তার প্রজাদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে...”
— (সহীহ বুখারী: ৭১৩৮)
.
ইসলামের ইতিহাসে খলিফাদের শাসনকাল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নাগরিকের দায়ভার তাঁরা কীভাবে নিজেদের কাঁধে তুলে নিতেন। আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু রাতে ছদ্মবেশে মদিনার অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়াতেন এই ভয়ে যে কোনো নাগরিক কষ্টে আছে কি না। তাঁর সেই ঐতিহাসিক বাক্য আজও আমাদের জন্য রাষ্ট্র নেতাদের মুল্যায়ন প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিকঃ
“ফোরাত নদীর তীরে যদি একটি কুকুরও পথ হারিয়ে বা না খেয়ে মারা যায়, তবে আমি উমর ভয় পাই—কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আমাকেই তার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জবাবদিহি চাইবেন।”
জনগণের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করার অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছিলেন তিনি। দুর্ভিক্ষের বছর মদিনার মানুষ যখন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছিল, তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ঘি ও গোশত খাওয়া সম্পূর্ণ বর্জন করেন। তিনি বলেছিলেন, "যতক্ষণ না অন্য মুসলিমরা পেট ভরে খেতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কীভাবে সুস্বাদু খাবার গ্রহণ করতে পারি?" একজন শাসকের মানসিকতা এমন ছিল বলেই কোনো নাগরিককে নিজের অধিকার চাইতে গিয়ে ক্ষমতার দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়নি।
.
এমনকি অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ইসলামের ইনসাফ ছিল নজিরবিহীন! খলিফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর আমলে রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় মুসলিম সেনাপতি আবু উবাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর বাহিনী সহ খালিদ উবনুল ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে মূল বাহিনীতে যোগ দিতে বলা হয়। আবু উবাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন বুঝতে পারলেন - এখান থেকে মুসলিম বাহিনী চলে গেলে সম্ভাব্য কোন আক্রমন থেকে হিমসবাসীদের তারা রক্ষা করতে পারবেন না, তখন তিনি অমুসলিম নাগরিকদের থেকে নেওয়া পুরো জিজিয়া ফেরত দিয়ে দেন।
মুসলিম বাহিনীর বার্তা ছিল: “আমরা আপনাদের রক্ষার বিনিময়ে জিজিয়া নিয়েছিলাম। যেহেতু এখন আপনাদের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে পারছি না, তাই আপনাদের এই অর্থ আমাদের কাছে রাখার কোনো অধিকার আমাদের নেই।”
যেখানে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে জিজিয়া পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হতো, সেখানে আজ নাগরিকের ওপর প্রকাশ্যে জুলুম হওয়ার পরও রাষ্ট্রযন্ত্র যখন বিভিন্ন ফিরিস্তি, বয়ান সামনে নিয়ে আসে তখন কেবলমাত্র সেটিই নতুন আরেক জুলুম!
.
রামিশা ইস্যু নিয়ে এক মাসের মধ্যে যে বিচার নিশ্চিত হবে এমন আশ্বাস এসেছিল সেই “আশ্বাস“ বাস্তবায়ন অবশ্যই হয়নি এবং এর’ই মাঝে আরো অনেক রামিশার জীবন শেষ হয়ে গেছে!
লক্ষ্য করুন, আমরা এগুলোই আমাদের জীবনের নিউ নরমাল হিসেবে মেনে নেই, ইস্যু আসলে সরব হই, এরপরে আবার আগের “নরমালে” ফিরে যাই, আমাদের এই মানসিকতা রাষ্ট্র খুব ভালো ভাবেই জানে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব অবশ্যই আছে, তবে সেই দায়িত্বের ব্যাপারে রাষ্ট্রের অবহেলা আমাদের দায়িত্ব নাই করে দেয় না!
.
ইসলাম বলে, ক্ষমতা কোনো ভোগের বস্তু নয়, ক্ষমতা হলো চরম জবাবদিহিতা। অপরাধীর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রই হবে তার বিরুদ্ধে প্রধান বাদী, মাজলুমের হয়ে ইনসাফ এবং বিচার নিশ্চিত করাই হবে রাষ্ট্রের মূল কাজ।
ইসলাম এটাও বলে, নায্য অধিকার আদায় করে নেয়া বা জুলুম প্রতিহত করা, জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলা কোন অপশন নয় বরং দায়িত্ব, আল্লাহর স্পষ্ট আদেশ!
এ ব্যাপারে আপনারা কী ভাবছেন?
❤28👍9