ISLAMIC ARTICLE (ইসলামি প্রবন্ধ)
2.88K subscribers
185 photos
79 files
1.8K links
Download Telegram
হাকীমুল উম্মত হযরত থানবী (রহঃ) এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপদেশ
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

হাকীমুল উম্মত হযরত থানবী (রহঃ) বলেন, তরীকতের সাধক তথা সালেকের জন্য উচিত হলো, সর্বদা নিজের শাইখের শিক্ষা ও উপদেশাবলী অনুসরণ করে চলা। এ বিষয়ের কিতাব দেখে নিজে নিজে আমল করা ভুল। হযরত থানবী (রহঃ) আরো বলেন, তাসাওউফ বিষয়ক কিতাব তরীকতের প্রাথমিক পর্যায়ের লোকদের জন্য নয়। বরং এ লাইনে যারা চূড়ান্ত পর্যায়ের সাধক এবং কামেল ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তি তাদের জন্য হলো কিতাব। আর প্রাথমিক পর্যায়ের ব্যক্তিদের জন্য কিতাব হচ্ছে তার শাইখ। সে তার শাইখকে দেখবে, তার কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবে জানবে এবং তার উপর আমল করবে। যেমন হাকীমী ও ডাক্তারী বইসমূহ হলো, হাকীম ও ডাক্তাদের জন্য। তারাই শুধু এসব বই দেখে ফায়দা হাসিল করতে পারে। পক্ষান্তরে অসুস্থ ব্যক্তি নিজেই যদি ডাক্তারী বইপত্র পড়ে ঔষধ খেতে যায় তবে তা তার জীবনের জন্য হবে আশঙ্কাজনক।

❑❑ প্রত্যেকের উচিত তার বড়কে অনুসরণ করা

হযরত থানবী (রহঃ) ইরশাদ করেন, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচিত হলো, নিজের বড়কে অনুসরণ করা, তার পরামর্শ মেনে চলা। কখনো খোদরায়ী বা স্বেচ্ছাচারিতা করা উচিত নয়। হযরত থানবী (রহঃ) আরো বলেন যে, কোন ব্যক্তি যদি এমন অবস্থায় থাকে যে, নিয়মতান্ত্রিক হিসাবে তার চাইতে বড় কেউ নেই, তবে সে কি করবে? এরূপ ব্যক্তির ব্যাপারেও আল্লাহ পাক আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান দান করেছেন। তা হলো এই যে, এরূপ ব্যক্তি নিজের ছোটদেরকেই একত্রিত করে পরামর্শ করবে। সকলের মতামত শুনে যার মতের উপর তার মন সায় দিবে বা যার মত অধিক গ্রহণযোগ্য বলে মন গ্রহণ করে নিবে তার উপর আমল করবে। এ পদ্ধতিতে একদিকে খোদরায়ী তথা স্বেচ্ছাচারিতার বিপদ থেকেও রক্ষা পাবে অপরদিকে পরামর্শের বরকতে আল্লাহ পাক তাকে মঙ্গলের দিকে হিদায়াত ও পথপ্রদর্শন করবেন।

🔰 মাজালিসে হাকীমুল উম্মত | পৃষ্ঠা-৪৭৭

─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive
স্বামীর আনুগত্যের ক্ষেত্রে মহিলা সাহাবিদের ঘটনাবলি বড়ই আশ্চর্যজনক
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

এক মহিলা সাহাবির ছেলে জন্মাল। স্বামী জিহাদে ছিলেন। যেদিন তাঁর বাড়ি আসার কথা, সেদিন ঘণ্টাকয়েক আগে ছেলেটি মারা গেল। এখন তিনি চিন্তায় পড়ে গেলেন, এত দিন পর স্বামী বাড়ি এসে যখন জানতে পারবেন, ছেলে মারা গেছে, তখন তিনি কতই-না দুঃখ পাবেন এবং মনে কত আক্ষেপ যে হবে হায়! যদি জীবিতাবস্থায় ছেলেকে একটু আদর দিতে পারতাম! চিন্তিত অবস্থায় তিনি বাচ্চাটিকে গোসল করিয়ে চৌকির ওপর কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে দিলেন। কাউকে কিছু জানাননি। স্বামী বাড়ি এসে জিজ্ঞাসা করলেন, সন্তান কী হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা পুত্রসন্তান দান করেছেন। স্বামী বললেন, কোথায় ও? বললেন, সে শান্তিতে আছে।

স্বামী ভাবলেন, সে ঘুমিয়ে আছে। তাই তিনি খাওয়া-দাওয়া করলেন। রাত হয়ে গেল। দুজনে মেলামেশাও হলো। সফরের নানা কথা আলাপসালাপও হলো। কিন্তু দেখুন, এ মহিলা মা ছিলেন। তার অন্তরে কেমন একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছিল, যার নিষ্পাপ ছেলের লাশ সামনে চৌকিতে পড়ে রয়েছে! কেবল স্বামীর সন্তুষ্টির খাতিরে বুকের ওপর পাথর চেপে এ রহস্যটি লুকিয়ে রেখেছেন, যেন আমার স্বামীর অন্তর দুঃখিত না হয়। সে তার সাথে খানাপিনাও করছে, হাসি-ঠাট্টাও চলছে, উভয়ে মেলামেশাও করেছে। এমনকি এভাবেই সকাল হয়ে গেল।

সকালবেলা স্বামীকে বললেন, একটি কথা বলুন তো। স্বামী বললেন, বলো কী কথা? তিনি বললেন, যদি কেউ কারো নিকট কোনো আমানত রাখে আর কিছুদিন পর তা ফেরৎ চায়, তাহলে কি তা খুশি মনে ফেরত দেওয়া উচিৎ, নাকি ভগ্নহৃদয়ে? স্বামী উত্তর দিলেন, খুশি মনে। স্ত্রী বললেন, বেশ; মহান আল্লাহ আপনাকে একটি আমানত দিয়েছিলেন এবং আপনি আসার একটু আগে আবার ফেরৎ নিয়ে গেছেন। এখন যান; সন্তুষ্টচিত্তে তাকে আল্লাহর হাওলা করে দিন। আল্লাহু আকবার!

এই মহিলা সাহাবি সদাচরণের হক আদায় করে দিয়েছেন। ভোরবেলা স্বামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হয়ে বললেন, ওগো আল্লাহর নবী! আমার ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে যে, আমার স্ত্রী আমার সন্তুষ্টির খাতিরে এত ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। নবীজি তাঁর জন্য দোআ করলেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা ওই রাতটিতে বরকত দিলেন আর মহিলা তার স্বামীর সাথে মেলামেশার দরুন গর্ভবতী হলেন। আল্লাহ তাদের আরেকটি পুত্রসন্তান দান করলেন, যে কালের হাফেযে কুরআনও হয়েছে, আবার হাফেযে হাদীছও হয়েছে।

🔰 খুতুবাতে যুলফিকার | পৃষ্ঠাঃ ১-২:৬৩

─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive
ঈমানের অগ্নি পরীক্ষা
━━━━━ • ✿ • ━━━━━

হযরত উমর (রা.) এর শাসন কাল। চতুর্দিকে মুসলমানদের জয়জয়কার। একের পর এক পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানগণ বিজয় পতাকা উড্ডীন করে চলেছেন। তাদের বিজয়ের পথে বাধা দেওয়ার সাধ্য যেন কারো নেই।

তৎকালীন সময়ে রোম আর পারস্য ছিল দুটি শক্তিধর রাষ্ট। তারা শক্তির বড়াই করতো। হযরত উমর (রা.) রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সৈন্য পাঠালেন। মুসলিম মুজাহিদরা অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বর্তমান ইতালির রাজধানী রোমের দিকে এগিয়ে চললেন।

এদিকে রোম সম্রাট মুসলমানদের অনেক কিংবদন্তীর কথা শুনেছেন। শুনেছেন তাদের অনেক বীরত্বপূর্ণ অবিশ্বাস্য কাহিনী। তিনি এও শুনেছেন যে, মুসলমানদের অপ্রতিরোধ্য বিজয় যাত্রার কারণ হলো তারা মৃত্যুকে পরওয়া করে না এবং ভয়-ভীতি বা প্রলোভনের সামনে কখনোই মাথানত করে না। এসব কথা রোম সম্রাটের বিশ্বাস হতো না। সে এগুলোকে কল্প-কাহিনী মনে করতো।

মুসলমান মুজাহিদরা রোম আক্রমণ করতে আসছে এ সংবাদপ্রাপ্ত হয়ে সম্রাটের মনে কৌতূহল জাগলো যে, যদি এ যুদ্ধে কয়েকজন মুসলমানকে জীবিত বন্দী করতে পারি তাহলে আমি পরীক্ষা করে দেখবো যে, তারা কি পরিমাণ প্রলোভনকে প্রত্যাখান করতে পারে, আর কি পরিমাণ ভয়-ভীতি উপেক্ষা করতে পারে। তাই সে তার সেনাবাহিনীকে বলে দিল, যদি তোমরা রণাঙ্গণ থেকে মুসলমানদেরকে জীবিত বন্দী করে আনতে পার তাহলে তাদের মারধর না করে যত্ন সহকারে আমার নিকট পাঠিয়ে দিবে।

৫০/৬০ জন মুসলিম মুজাহিদের দলনেতা ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.)। রোমানদের সাথে মুসলমানদের তুমুল লড়াই শুরু হলে এক পর্যায়ে তিনি সঙ্গী সাথীসহ রোমানদের হাতে বন্দী হন। তাদের এ বন্দী হওয়ার পিছনে হয়তো একটি কারণ এও থাকতে পারে যে, আল্লাহ তায়ালা সকল বেঈমান-কাফের গোষ্ঠীকে বাস্তবেও দেখিয়ে দিতে চান যে, সত্যিকার অর্থেই মুসলমানগণ মৃত্যুকে ভয় করে না; টাকা-পয়সা আর ধন-ঐশ্চর্য্যের প্রলোভন দেখিয়ে কখনোই তাদেরকে সত্যের পথ থেকে সামান্যতমও বিচ্যুত করা যায় না।

যা হোক, সম্রাটের নির্দেশ মোতাবেক বন্দীদের রাজধানীতে পাঠিয়ে দেয়া হলো। সম্রাট প্রথমে আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) কে তার খাস কামরায় ডেকে বললো, দেখ, আমি খৃষ্টান। আমি খৃষ্ট ধর্মকে ভালবাসি। যদি তুমি তোমার ধর্ম ছেড়ে আমার ধর্ম গ্রহণ কর তাহলে এখনই তোমার নামে আমার বিশাল সাম্রাজ্যের অর্ধেক লিখে দিব। শুধু তাই নয়, আমার একটি সুন্দরী ষোড়শী কন্যা আছে। তাকেও তোমার নিকট বিবাহ দেব। আমি মরে গেলে বাকী অর্ধেক সাম্রাজ্যের মালিক তুমি এমনিই হয়ে যাবে। তুমি হবে তখন রাষ্ট্রপ্রধান।

এ প্রস্তাব শুনে ঘৃণা আর ক্রোধে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) এর সমস্ত দেহ কাঁপতে শুরু করল। আঘাত খাওয়া বাঘের ন্যায় তার সমস্ত সত্তা যেন একত্রে লাফিয়ে উঠলো। অতঃপর তার অগ্নিঝরা কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হলো-
হে রোমের কুকুর! তুমি কি দুনিয়ার বিনিময়ে আমার দ্বীন ক্রয় করতে চাও? দুনিয়ার সম্পদ দিয়ে আমার ধর্ম কিনে নিতে চাও? বেওকুফ কোথাকার! খবরদার! এই নিকৃষ্ট বাজে কথা আমার সামনে আর কখনোই উচ্চারণ করবে না।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) এর বক্তব্যে সম্রাটের মাথায় যেন আগুন ধরে গেল। ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে সে হিংস্র হায়েনার রূপ ধারণ করলো। সে একটু অস্ফুট স্বরে বিড়বিড় করে বললো, আমি রোমের সম্রাট! সমস্ত রোমবাসী আমার কথায় উঠা-বসা করে!! আর এক দুর্বল বন্দী কি-না আমাকে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলে!!! কত বড় স্পর্ধা তার! দাঁড়াও, এখনই মজা বুঝিয়ে দিচ্ছি।

অতঃপর সম্রাট তার অনুগত বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বললো, যাও, এদেরকে এখনই জেল খানার প্রকোষ্টে আবদ্ধ কর। আমার আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে যেন এক দানা খাদ্যও না দেয়া হয়, এক ফোটা পানিও না দেয়া হয়।

সম্রাটের নির্দেশ মোতাবেক তা-ই করা হল। আজ কয়েকদিন যাবত মুসলিম মুজাহিদদের খানা-পিনার সাথে কোন সাক্ষাত নেই। সকলেই নিস্তেজ ও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। মনে হয় মৃত্যু যেন তাদেরকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

এদিকে সম্রাট একজন বিজ্ঞ ডাক্তারকে এ বলে জেলখানায় পাঠিয়ে দিলেন যে, তুমি তাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবে। যখন দেখবে যে, এখন খানা না খেলে তারা মারা যাবে ঠিক তখনই আমাকে সংবাদ দিবে। কারণ আমার মূল উদ্দেশ্য হল, ওদের পরীক্ষা করা, মেরে ফেলা নয়।

ক্রমাগত কয়েক দিন খেতে না দেয়ার পর ডাক্তার যখন দেখলেন, মুজাহিদদের শিরা একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে, শরীরের স্পন্দনও মনে হয় থেমে যাচ্ছে, সকলেই অচেতন হয়ে পড়ে আছে, তখন তিনি সম্রাটের নিকট খবর পাঠালেন যে, এ মুহূর্তে যদি তাদেরকে খাবার না দেয়া হয় তবে তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

☞ অসম্পূর্ণ | পরবর্তী পর্ব...
✿ Notion | ✿ Facebook

🔰 যে গল্পে হৃদয় গলে-২ | পৃষ্ঠা-১৮

─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive
ঈমানের অগ্নি পরীক্ষা
━━━━ • পার্ট-২ • ━━━

খবর পেয়ে সম্রাট নির্দেশ দিলেন, ওদেরকে শুকরের গো ও মদ মিশ্রিত পানি খেতে দাও। আর স্পষ্ট বলে দাও যে, এটা শুকরের গোশ্ আর এটা মদ মিশানো পানি। যদি বাঁচতে চাও তবে এগুলোই তোমাদের খেতে হবে। এ ছাড়া তোমাদের জন্য দ্বিতীয় কোন ব্যবস্থা নেই।

সম্রাটের কথামত যখন বন্দী মুসলমানদের সামনে এ সব হারাম ও নাপাক খাবার পরিবেশন করা হল এবং সবকিছু পরিস্কার জানিয়ে দেয়া হল, তখন দলপতি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) এক মুহূর্তও দেরী না করে চোখ রাঙ্গিয়ে হুংকার ছেড়ে বললেন, এক্ষুণিই এগুলো সামনে থেকে সরিয়ে নাও। যদি বিন্দুমাত্রও সময় নষ্ট কর তাহলে লাথি মেরে থালা-বাসন ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলবো।

অবস্থা দৃষ্টে কারারক্ষীরা হতবাক হলো। তারা ভাবলো, একটু পূর্বেও যারা ক্ষুধার যন্ত্রণায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর সাথে আলিঙ্গণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল; খাবার পরিবশন করার পর খাবার তো খেলই না বরং কত কঠিন কথা তাদের মুখ থেকে উচ্চারিত হল! এ তো এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার!!

প্রসঙ্গক্রমে এখানে একটি কথা পাঠক ভাই-বোনদের জানিয়ে রাখা প্রয়োজন যে, জান বাঁচানোর জন্য যদিও হারাম খাওয়া জায়েয তথাপি যদি অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, হারাম খাবার ভক্ষণ করলে ইসলামের শান-শওকত ও মর্যাদা ভূলণ্ঠিত হবে, ক্ষুন্ন হবে; তখন যদি হারাম না খেয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে উঁচু পর্যায়ের শহীদ বলে গণ্য হবে। (ফতওয়ায়ে শামী)

যা হোক, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) এর কথা সম্রাটের কানে পৌঁছলে সে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল এবং তাদেরকে চূড়ান্ত পরীক্ষা করার কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।

অহংকারী সম্রাট তার অনুচরদের নির্দেশ দিল, বন্দী মুসলমানদের প্রত্যেকের জন্য এতবড় একটি ডেগ তৈরী কর যাতে সম্পূর্ণ মানুষটি তাতে ডুবে যায়। অতঃপর ডেগগুলো তৈল দ্বারা ভর্তি করে ফুটাতে থাক। সম্রাটের আদেশ অনুসারে বিশাল বিশাল ডেগ তৈরী করা হল এবং এগুলো বড় বড় চুলার উপর বসিয়ে তৈল দ্বারা পূর্ণ করে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বাল দেয়া হলো। এসময় সম্রাট মন্ত্রীদের নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিলো।

তেল যখন টগবগ করে ফুটতে শুরু করল তখন সম্রাট জল্লাদকে নির্দেশ দিয়ে বললো, মুজাহিদদের দলপতি আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) ছাড়া অন্য যে কোন একজন মুসলিম বন্দীকে এই ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ কর।

নিষ্ঠুর জল্লাদ তাই করল। যখন একজন সাহাবীকে উত্তপ্ত তেলের মধ্যে ফেলা হল, তখন মুহূর্তের মধ্যে তার সমস্ত দেহ মাছের ন্যায় ভাজা হয়ে গেল। তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শহীদদের তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করলেন। বিদায় নিলেন এ ধরাপৃষ্ঠ থেকে চিরকালের মত। এবার আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) এর পালা। সম্রাট তাকেও ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করার জন্য জল্লাদকে নির্মম নির্দেশ দিল।

জল্লাদ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) কে ধরে ডেগের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। সবাই নীরব, নিস্তব্ধ। কারো মুখে কোন কথা নেই। সকলেই পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দলপতির মুখের দিকে। ভাবছে, তাকেও পূর্বের লোকটির ন্যায় একই ভাগ্যবরণ করতে হবে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) ধীরপদে সামনে অগ্রসর হচ্ছেন। তার চেহারায় কোন ভয়ের ছাপ নেই, নেই হীম-শীতল মৃত্যুর ভয়াল বিভীষিকার আতংকে কোন বিষন্নতা। তবে বাহ্যত কিছুটা বিচলিত হওয়ার ক্ষীণতম লক্ষণ তার মধ্যে পরিস্ফুট হয়ে উঠেছিল। কারণ তার দু'গন্ড বেয়ে তখন ফোটা ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। সম্রাট মনে করলো, তিনি ভয় পেয়েছেন। তাই তাকে ফিরিয়ে এনে ডেকে বললো, দেখ, তুমি আমার হাতে বন্দী। তোমার মনে আছে যে, প্রথম দিন আমি তোমাকে বলেছিলাম, যদি তুমি আমার ধর্ম গ্রহণ কর তাহলে আমার রাজত্বের অর্ধেক তোমার নামে লিখে দিব, আমার কন্যাকে তোমার নিকট বিবাহ দিব। আর আমি মারা যাওয়ার পর বাকী অর্ধেক রাজত্বের মালিকও তুমিই হবে। আমার সে প্রস্তাব এখনও বলবৎ আছে। যদি আমরা প্রস্তাব না মেনে এবার টু শব্দটি পর্যন্ত কর তাহলে তোমার সাথীকে যেভাবে ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করে জীবন লীলা সাঙ্গ করা হয়েছে তোমার অবস্থাও তা-ই হবে।

এ কথা শুনার সাথে সাথে হযরত হুযাইফা (রা.) এর ধৈর্যের সবগুলো বাধ যেন এক সঙ্গে ভেঙ্গে গেল। তিনি ক্রোধে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, হে বোকা সম্রাট! তুমি মনে করেছ মৃত্যুর ভয়ে আমি চোখের পানি ঝরাচ্ছি? মৃত্যুর ভয়ে নয়, বরং আমি তো চোখের পানি ফেলে খোদার দরবারে আফসোস করে বলছিলাম, হে পরওয়ারদিগার! তুমি তো আমাকে একটি মাত্র জীবন দিয়ে পরীক্ষা করছ। অথচ একটি মাত্র জীবন দিয়ে আমি কিভাবে তোমাকে বুঝাব যে, আমি তোমাকে কত ভালবাসি? তোমার দ্বীনকে কত ভালবাসি? যদি তুমি আমাকে একশ জীবন দিতে তাহলে এক একটি করে সবগুলো জীবনকে তোমার পথে বিলীন করে দিয়ে তোমাকে দেখিয়ে দিতাম যে, আমি তোমাকে এবং তোমার দ্বীনকে কত ভালবাসি।

☞ অসম্পূর্ণ | বাকি অংশ...

🔰 যে গল্পে হৃদয় গলে-২ | পৃষ্ঠা-১৮

─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive
ঈমানের অগ্নি পরীক্ষা
━━━━ • পার্ট-৩ • ━━━

তার কথা শুনে সম্রাট ঘাবড়ে গেল। সে ভাবলো, এরা মানুষ নয়, দেবতা বা অন্য কিছু হবে। এদের মারলে আমাদের পরিণতি শুভ হবে না। অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, এদেরকে মুক্তি দিয়ে বিদায় করতে পারলেই যেন তার জীবন বাঁচে। অবশেষে সে সাহাবীদেরকে মুক্তি দিল। শুধু মুক্তিই নয়, তাদের প্রত্যেককে মদীনা পর্যন্ত পৌঁছার ব্যবস্থাও করল।

এ সংবাদ মদীনায় পৌছলে স্বয়ং হযরত উমর (রা.) সহ সকল মুসলমান মদীনার বাইরে এসে তাদের সংবর্ধনার জন্য দাঁড়িয়ে রইলেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) তার সঙ্গী-সাথীসহ সেখানে পৌঁছার পর উষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়ে তাদেরকে মদীনায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনা থেকে আমরা এ শিক্ষা নিতে পারি যে, হযরত সাহাবায়ে কেরাম ঈমানের অগ্নি পরীক্ষায় যেরূপ উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, অনুরূপ কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আমরাও যেন তাদের মত উত্তীর্ণ হই। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন। (সূত্র: সত্যের পথে সংগ্রাম পৃঃ ২৫)

🔰 যে গল্পে হৃদয় গলে-২ | পৃষ্ঠা-১৮

─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive
নবীজি (ﷺ)-এর দারিদ্র্যতা
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

ইমাম কাসতালানী রহ. তার 'মাওয়াহিব' কিতাবে লিখেছেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীদের সম্পর্কে একদিকে যেমন বলা হয়েছে তারা ক্রমাগত দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অভুক্ত থাকতেন, তাদের জন্য খাবারের কোনো আয়োজনই থাকতো না, কখনো খেজুর খেয়ে এবং তা-ও না-পাওয়া গেলে শুধু পানি পান করেই দিন কাটিয়ে দিতেন; অন্যদিকে বলা হয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবার-পরিজনকে বছরের খোরাক ও ভরণ-পোষণ একবারেই দিয়ে দিতেন। একবার তিনি চল্লিশজন সাহাবীর মাঝে চল্লিশটি উট বিতরণ করেন। অন্য এক বিবরণে জানা যায়, হজ ও উমরার সময় তিনি একশ উট জবাই করেছেন। একবার এক বেদুইনকে একপাল ছাগল দান করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কোনো সাহাবী বিপুল সম্পদের মালিক ছিলেন। হযরত আবুবকর, হযরত উসমান গনী, হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ প্রমুখ সাহাবী বিত্তশালী ছিলেন। বিত্তহীন মুসলিমদের সেবায় তারা প্রচুর অর্থ দান করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, তারা যদি এতই অর্থ-বিত্ত ও বিষয়-সম্পত্তির মালিক ছিলেন, তবে ক্রমাগত কয়েকদিন অভুক্ত থাকা এবং মাসের পর মাস তাদের চুলায় আগুন না-জ্বলার অর্থ কী? আর এতই যদি দরিদ্র ছিলেন যে, নিয়মিত পানাহারেরও আয়োজন হতো না, তা হলে কীভাবে এতো বিপুল পরিমাণ সম্পদ দান করতেন? সাধারণ মানুষের নিকট এ এক দুর্বোধ্য ও জটিল বিষয়।

ইমাম তাবারী রহ. এই জটিল প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ একারণে এতটা কষ্ট ভোগ করেননি যে, সত্যিই তারা নিজেদের আহার-পানির ব্যবস্থা করতে অক্ষম ছিলেন। এমন সাহাবীর সংখ্যা কমই ছিলো, যারা নিদারুণ দৈন্য-দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করেছেন। তবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ কদাচ অক্ষমতার কারণেও অভুক্ত থেকেছেন। অন্যথায় সাধারণভাবে তারা ইচ্ছা করেই ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করেছেন, যেন নিজেদের মধ্যে বিত্তহীনদের কষ্টের অনুভূতি এবং অপরের জন্য কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারের প্রেরণা সৃষ্টি হয়। পর্যাপ্ত সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তারা স্বেচ্ছায় অনাহার-অর্ধাহারে থেকে পার্থিব বিত্ত-সম্পদ ও আরাম-আয়েশের প্রতি অনাগ্রহ ও অনাসক্তি প্রকাশ করেছেন। কেননা ধনসম্পদ ও ভোগ-বিলাস মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও সত্য প্রতিষ্ঠার পথ থেকে বিচ্যুত করে।

হাফেয ইবনে হাজার রহ. বলেন, প্রকৃত অবস্থা হলো, অধিকাংশ সাহাবীই হিজরতের পূর্বে মক্কায় চরম দৈন্য-দারিদ্র্যের মাঝে জীবনযাপন করেছেন। মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আসার পর আনসারগণ সর্বতোভাবে তাদের সহযোগিতা করেন। মুহাজিরদের তারা নিজেদের ঘরে আশ্রয় দেন। সকল কাজকর্মে তাদের শরিক করে নেন। তারপর জিহাদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা বিজিত হতে লাগলো। সেখান থেকে পাওয়া গনিমত দ্বারা সাহাবীদের আর্থিক দৈন্য ঘুচে যায়। এ-পর্যায়ে প্রায় সাহাবীই প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক হন। কিন্তু এর পরেও তারা ওই সম্পদ ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসিতায় ব্যয় না-করে সাধারণ মুসলিমদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন।

হযরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার রব আমাকে বলেছেন, হে নবী, আপনি যদি ইচ্ছা করেন, সমগ্র মক্কা উপত্যকা আপনার জন্য স্বর্ণ বানিয়ে দেওয়া হবে। আমি আরয করলাম, হে আমার প্রতিপালক, আমি পছন্দ করি, আমি একদিম উপবাস থাকবো আরেকদিন পেট ভরে আহার করবো। যেদিন উপবাস থাকবো সেদিন আপনার দরবারে রোনাজারি করবো আর আপনার যিকির করে সময় কাটাবো। আর যেদিন পেট ভরে আহার করবো সেদিন অন্তরের অন্তঃস্তল থেকে আপনার শোকর ও প্রশংসা করবো। ১৮

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার পূর্ববর্তী সকল নবী দারিদ্র্য ও উপবাসের কষ্ট সহ্য করেছেন। আমিও আল্লাহ তায়ালার এই অনুগ্রহটি খুব পছন্দ করি।

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তৃপ্তির সঙ্গে আহার করতেন না। নিজের অর্ধাহার অনাহারের কথা প্রকাশ করতেন না। কেননা তিনি ধনাঢ্যতার চেয়ে দরিদ্রতা এবং আহারের চেয়ে অনাহারে থাকাই বেশি পছন্দ করতেন। প্রায় সময় তিনি ক্ষুধার কারণে সারারাত অস্থিরতার মধ্যে কাটাতেন। অথচ এই ক্ষুধার কারণে তিনি পরের দিনের রোযা থেকে বিরত থাকতেন না। রাতে আহার-পানীয় কিছুই গ্রহণ না-করে পরের দিন রোযা রাখতেন। অথচ তিনি ইচ্ছা করলে পৃথিবীর সকল ধনভাণ্ডার এবং নিয়ামত ও ঐশ্বর্য প্রার্থনা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি দারিদ্র্য ও উপবাসকে আরাম-আয়েশের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন।

✦✦ অসম্পূর্ন | বাকী অংশ...✍️

🔰 উসওয়ায়ে রাসুলে আকরাম (ﷺ) | পৃষ্ঠা-১০২

─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive
নবীজির দারিদ্র্য
━━ • পার্ট-২ • ━━

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই অবস্থা দেখে আমার খুব-কান্না আসতো। ক্ষুধার কারণে আমিও অস্থির হয়ে পড়তাম। পেটের উপর হাত বুলাতাম। এ-সময় আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতাম, হায়, আমাদের যদি জীবনধারণ উপযোগী আহারের ব্যবস্থা থাকতে।; সচ্ছলতা ও বিলাসিতা না-হোক, অন্তত স্বাভাবিক জীবনযাপনেরও যদি সুযোগ হতো! আমার একথা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আয়েশা, দুনিয়ার সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক? আমার পূর্বে আমার অনেক ভাই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তারা বড়ো বড়ো পয়গামবর ছিলেন। দুনিয়ায় তারা আমার চেয়েও বেশি কষ্ট সহ্য করেছেন এবং সে অবস্থাতেই তারা আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। সেখানে তাদের উচ্চ মর্যাদা ও নানাপ্রকার নিয়ামত দান করা হয়েছে। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, দুনিয়ায় আমাকে যদি অধিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দান করা হয় তা হলে হয়তো আখিরাতের চিরস্থায়ী নিয়ামত হ্রাস পাবে। আমার নিকট এরচেয়ে অধিক পছন্দের কিছুই নেই যে, আমি এই দারিদ্র্য অবস্থা নিয়েই পরকালে আমার ভাই-বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হবো।

صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এই কথা বলার পর এক মাসও দুনিয়ায় ছিলেন না। তারপর তিনি মালিকে হাকিকী রাব্বুল আলামিনের সান্নিধ্যে চলে যান।

اِنَّا للهِ وَاِنَّاۤ اِلَیۡہِ رٰجِعُوۡنَ

صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا كَثِيرًا

🔰 উসওয়ায়ে রাসুলে আকরাম (ﷺ) | পৃষ্ঠা-১০২

─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive
গানের অনুষ্ঠানের জন্য মাইক ও সাউন্ডবক্স ভাড়া দেওয়া প্রসঙ্গ

গান-বাদ্যের অনুষ্ঠানের জন্য মাইক, সাউন্ডবক্স ইত্যাদি ভাড়া দেওয়া গুনাহের কাজে সরাসরি সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে— وَ لَا تَعَاوَنُوْا عَلَی الْاِثْمِ وَ الْعُدْوَانِ ‘গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করো না।’ (সূরা মায়িদা-২) সুতরাং গান-বাদ্যের জন্য মাইক, সাউন্ডবক্স ইত্যাদি ভাড়া দেওয়া, সেখানে মেশিনপত্র পাঠানো, বা তাদের জন্য নিজের কোনো লোক দেওয়া সবই নাজায়েয। যে শ্রমিক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে সে দু’ভাবে গুনাহগার হবে। গুনাহের কাজে সহযোগিতা করার কারণে এবং গান-বাদ্য শ্রবণের কারণে। আল মাবসূত, সারাখসী ১৬/৩৮, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৪৯; জাওয়াহিরুল ফিকহ ২/৪৫৩।

লেখক: মাসিক আল কাউসার

আরও পড়ুন: https://hanafifiqh.net/articles/667
তাহাজ্জুদ | আল্লাহ তা'আলার প্রিয় হওয়ার আমল
-মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

অন্য সময়ের ইবাদতে আমরা আল্লাহ তাআলাকে পাওয়ার চেষ্টা করি, আর রাতের শেষ প্রহরে স্বয়ং আল্লাহ বান্দাকে ডাকতে থাকেন। অন্য সময়ে আমরা আল্লাহকে তালাশ করি, রাতের শেষ প্রহরে স্বয়ং আল্লাহ তাঁর কিছু বান্দাকে তালাশ করেন।

আল্লাহ যেন আমার ডাকে সাড়া দেন। তিনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন; এর জন্য আমাদের কত ভাবনা! আর রাতের শেষ প্রহরে স্বয়ং আল্লাহ বান্দাকে ডাকতে থাকেন দোয়া কবুলের জন্য, বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য! আর এর জন্য তিনি প্রথম আসমানে চলে আসেন।

শিশু যখন কাঁদে, বাবা তখন সন্তানকে এভাবে জিজ্ঞেস করে, আব্বু! তোমার কী লাগবে? মজা লাগবে? আইসক্রিম দরকার? চকলেট দিব? কী প্রয়োজন? আব্বুকে বলো! আব্বু এখুনি এনে দিচ্ছি।

অনুরূপভাবে রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাকে জিজ্ঞেস করেন, বান্দা! তোমার কী দরকার? ক্ষমা দরকার? ক্ষমা করে দিব। রিজিক লাগবে? রিজিক দিয়ে দিব। বান্দা! আমি মাওলার কাছে বলো, তোমার কী প্রয়োজন, আমি পূরণ করে দিব।

َالْحَمْدُ لِلّهِ وَكَفَى وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِيْن َاصْطَفَى اَمَّا بَعْدُ! فَاَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ. بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ. تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
بارك الله لنا ولكم في القرآن العظيم ونفعني وإياكم بما فيه من الآيات والذكر الحكيم وجعلني وإياكم من الصالحين. أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم. اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَّعَلَى الِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَّبَارِكْ وَسَلِّمْ

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, তিনি আজকেও আমাদেরকে তাঁর জন্য কিছু সময় বের করে বসার তাওফীক দান করেছেন আলহামদুলিল্লাহ। আজ যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা করেছি, শুরুতেই আমরা প্রত্যেকেই বিশেষ করে যারা ইতেকাফে আছি; এই নিয়ত করে নিব যে, ইনশাআল্লাহ, বিষয়টার ওপর সারা জীবন আমল করবো।

ফরজ নয় তবে বহু ফরজের চেয়ে ফযিলতপূর্ণ আমল

মুহতারাম হাজেরীন! তেলাওয়াতকৃত আয়াতে মুমিনগণের একটি গুণ এই বলে বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাতের বেলা তারা শয্যা ত্যাগ করে জাহান্নামের ভয় ও জান্নাতের আশা নিয়ে তাদের মালিককে ডাকে। এর উদ্দেশ্য, তাহাজ্জুদ ও নফল নামায যা ঘুম থেকে উঠার পর গভীর রাতে পড়া হয়।

ওলামায়ে কেরাম লিখেছেন, ফরজ নয় তবে বহু ফরজের চেয়ে ফযিলতপূর্ণ একটা আমল আছে, যার নাম তাহাজ্জুদ।

তাহাজ্জুদ পড়ি না; নাকি আল্লাহ সুযোগ দেন না?

একটা সময় ছিল, তাকবীরে উলা ছুটে গেলে তাঁরা কান্নাকাটি করতেন। তাহাজ্জুদ ছুটে গেলেও কান্নাকাটি করতেন। আর এখন তো ফরজ ছুটে গেলেও কান্না আসে না। ঈমান চলে গেলেও আমরা কান্না করি না।

আমরা অনেকে এভাবে চিন্তা করি, আমি তাহাজ্জুদ পড়ি না। আমার অভ্যাস নেই।
কিন্তু বুজুর্গানে দীন এভাবে চিন্তা করতেন না। তাঁরা ভাবতেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে তাহাজ্জুদ পড়ার সুযোগ দেননি।
আল্লাহ তাআলা কেন সুযোগ দিলেন না? নিশ্চয় আমার জীবনে এমন কোনো গোনাহ আছে, যার কারণে তিনি এই বিশেষ সময়ে আমার চেহারা দেখতে চান না।

অনেক সময় যুবকেরা আমাদের কাছে এসে বলে যে, হুজুর! কত বছর হয়ে গেছে রাতের বেলা ঘুমাইনি। বিস্ময়কর ব্যাপার হল, সারা রাত জেগে থাকি, কিন্তু ভোর রাত যখন হয় তখন ঘুম এমনভাবে চেপে বসে যে, ফজর নামাজটাও পড়তে পারিনা।

এর মূল কারণ হল, আল্লাহ তাআলা চান, এই বিশেষ সময়ে তাঁর প্রিয় বান্দারা তাঁর সঙ্গে নির্জনে সময় কাটাবে। এই জন্য কেমন যেন তিনি এই সময়ে পাপিষ্ঠদেরকে দূরে সরিয়ে দেন।

অনেক সময় দেখবেন, বিয়ে বাড়িতে লোকজন জড়ো হয় এবং চিন্তা করে, সারা রাত আড্ডা দিবে, গল্প করবে। কিন্তু ভোর রাত হলে দেখা যায়, সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। কারণ কী?

কারণ এটাই যে, আল্লাহ তাআলা চান, এই সময়ে তিনি তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের সুযোগ দিবেন। তাঁরা আল্লাহর সঙ্গে একান্ত সময় কাটাবে। সুতরাং এর মাঝে যেন অন্যরা ডিস্টার্ব করতে না পারে।

☞ অসম্পূর্ণ | সম্পূর্ণ প্রবন্ধটি পড়ুন…

--
🔰 PDF File 1 - 🔰 PDF File 2
--

─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | DOT | IA | HAI | WA1 | WA2 | WA3
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | AHM | KQ | SLT
আত্মিক রোগ বা জাহেরী গুনাহ বর্জনের জন্য শুধু দোয়া করা যথেষ্ট না। এখানে মূল বিষয় হলো মুজাহাদা করতে হবে এবং আল্লাহওয়ালাদের সোহবতে যাওয়া-আসা করতে হবে।

আত্মিক রোগ বা জাহেরী গুনাহ
নিজের বিভিন্ন ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধনের জন্য হিম্মত দরকার আগ্রহ দরকার আল্লাহওয়ালাদের সোহবত দরকার, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার যে, আমার মধ্যে এই এই দোষ আছে, এই এই ত্রুটি আছে; এগুলো সংশোধন করতে হবে। এই এক ফিকির থাকতে হবে সারাক্ষন ২৪ ঘন্টা। এই এক আগ্রহ এই এক চেতনা লালন করতে হবে আমৃত্যু। এটা না করে কেউ যদি শুধু দোয়া করে, "ইয়া আল্লাহ আমার এই সমস্যা আমার মধ্যে অহংকারের সমস্যা আছে, আমার কুধারনার সমস্যা আছে, অহেতুক রাগ করি ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা আছে; আপনি এগুলো দুর করে দেন।"
দোয়া করা অবশ্যই ঠিক আছে। দোয়া করা অনেক বড় সুন্নত আমল। দোয়া করার দ্বারা আল্লাহ তা'লার সাথে সম্পর্ক বাড়ে, আল্লাহ তায়ালার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, আমল নামায় নেকী জমা হয়; ফায়দাই ফায়দা হয়। কিন্তু নিজের ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য যে কাজগুলি করণীয় সেগুলি করতে হবে, বর্জণীয় গুলি বর্জন করতে হবে। এখানে শুধু দোয়া করা কাফি না। এখানে করণীয়টা করতে হবে বর্জণীয়টা বর্জন করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ এক ব্যক্তি হযরত থানবী (র:) কে জানালেন যে, আমার খুব রাগ। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। হযরত থানবী (র:) তাঁর এক খলিফার কথা বলে দিলেন যে, তুমি ওমুক ব্যক্তির নিকট যাও।
তার সুহবতে কিছু দিন থাকো। সেই ব্যক্তি পরামর্শ মানলেন, সেখানে গেলেন। সেই ব্যক্তি কাপড়ের ব্যবসা করতেন। দোকানে কাস্টমার আসছে অনেক কাপড় নামাইতেছে দেখতেছে। শেষে চলে গেছে। কাপড় কিনে নাই। চলে গেছে। আবার সব গুছগাছ করে জায়গা মত রেখে দিছে। এই ভাবে চলে। লোকজন আসে। কেউ কিনে, কেউ কিনে না। অনেক কাপড় এলোমেলো করে চলে যায়। আবার সেগুলো ভাজ করে রাখে। এগুলো দেখে ওই লোকের খুব কষ্ট লাগে, রাগ হয়।

সুহবতের প্রভাব আছে। ওই নেককার ব্যবসায়ীর সহ্য ক্ষমতা আছে। কাস্টমার আসবে। সব কাস্টমার সমান হবে না। অনেকেই অনেক কাপড় দেখবে। একটাও কিনবে না। কিন্তু তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না। খারাপ আচরণ করলে দুই ক্ষতি। দুনিয়ার ক্ষতি হলো ওই কাস্টমার নষ্ট হবে। সে আর আসবে না। আখেরাতের ক্ষতি হলো বদ আখলাক দেখানো ভালো বিষয় না। হযরত থানবী (র:) যাকে পাঠিয়েছিলেন, সেই নেক ব্যবসায়ীর নিকট, তার ফায়দা হলো। তার বিমারী দূর হয়ে গেলো।

যা বলতেছিলাম, নিজের ত্রুটি বিচ্যুতি সেটা আত্মিক হোক অথবা বাহ্যিক কোনো গুনাহ হোক, সেটা দুর করার জন্য শুধু দোয়া করা যথেষ্ঠ না; বরং করনীয়টা করতে হবে আর বর্জনীয়টা বর্জন করতে হবে।

রাগের ব্যাপারে হযরত আলী (রা:) এর আমল অত্যন্ত কার্যকরী। বুখারী শরীফের হাদিসে এসেছে এই ঘটনা। তো আলী (রা:) এর আমল ছিলো যখন কারো সঙ্গে মনোমালিন্য হতো, তিনি সে স্থান দ্রুত ত্যাগ করতেন। যার সঙ্গে রাগ হচ্ছে সে যদি সামনেই না থাকে, তাহলে রাগ আর কোথা থেকে প্রকাশ পাবে? রাগের এইটা হচ্ছে অনেক ফলপ্রসু চিকিৎসা। নিজে সে স্থান দ্রুত ত্যাগ করা। আল্লাহ পাক আমাদেরকে নিজের তামাম ত্রুটি বিচ্যুতির দিকে খেয়াল রাখার তৌফিক দান করেন। এবং সেখানে করনীয় যা সেটা করা, বর্জণীয়টা বর্জন করা আর সঙ্গে সঙ্গে দোয়া করতে থাকা।আল্লাহওয়ালাদের সুহবত ব্যতিত এটা নিজে একা একা সাধারণত হয় না। চুড়ান্ত  কামিয়াবী অর্জন হয় না। এজন্য আল্লাহওয়ালাদের সুহবত দরকার। আল্লাহওয়ালাদের সুহবতের সঙ্গে যদি মুজাহাদা জারি থাকে তখন দ্রুত ফায়দা হয়। আল্লাহপাক আমাদেরকে বুঝার তৌফিক দান করেন।
সারা জীবন গানের আসরে সর্ব শেষে কালিমা নিয়ে মৃত্যুর দুয়ারে
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

হযরত উমর (রা.) এর কালের ঘটনা। সেকালে এক গায়ক ছিল। সে লুকিয়ে লুকিয়ে গান গাইত। গান-বাজনা হারাম বলে মানুষের সামনে খোলামেলা গাইত না। লুকিয়ে লুকিয়ে যারা তার গান শুনত তারাও তাকে কিছু পয়সা দিত। যখন সে বৃদ্ধ হয়ে পড়ল তখন তার আওয়াজ শ্রুতিকটু হয়ে পড়ল। এখন আর গাইতে পারে না। তখন শুরু হয় ক্ষুধা ও তৃষ্ণার ক্রমাগত আক্রমণ। অবশেষে জান্নাতুল বাকির পেছনে গিয়ে নিরিবিলি বসে পড়ল এবং বলতে লাগল-হে আল্লাহ্! যখন আমার সুমিষ্ট আওয়াজ ছিল, সুমধুর কণ্ঠ ছিল তখন মানুষ আমার গান শুনত। এখন আমার কণ্ঠ হারিয়ে গেছে এতে আমার শ্রোতারাও হারিয়ে গেছে। এখন আমার কণ্ঠ শোনার কেউ নেই। অথচ তুমি সকলের কণ্ঠই শোন। তুমি জান, আমি দুর্বল। তুমি জান আমি তোমার অবাধ্য। এরপরও আমি তোমার কাছে এসেছি। তুমি আমার অভাবকে দূর করে দাও। এ কথা বলে সে এমন জোরে চিৎকার করল, তার কণ্ঠ গিয়ে পৌঁছল আল্লাহর দরবারে। মসজিদে শায়িত অবস্থায় ছিলেন হযরত উমর (রা.)। তাঁর কাছে নির্দেশ এল- আমার বান্দা আমাকে ডাকছে। তুমি তাকে সাহায্য কর। হযরত উমর (রা.) নাঙ্গা পায়ে ছুটে গেলেন জান্নাতুল বাকিতে। সেখানে গিয়ে দেখলেন একজন দুর্বল, বয়সের ভারে ন্যুজ্ব বৃদ্ধ বিড়বিড় করে আল্লাহকে তার জীবন কাহিনী শোনাচ্ছে। কিন্তু সে হযরত উমর (রা.) কে দেখেই ওঠে ছুটে পালাতে চেষ্টা করল। হযরত উমর (রা.) তাকে ডেকে বললেন, দাঁড়াও, দাঁড়াও। আমি তোমাকে ধরতে আসিনি। আমাকে তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে। বৃদ্ধ ফিরে তাকাল। বলল, কে পাঠিয়েছে? উমর (রা.) বললেন, তুমি যাকে ডাকছ তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন। একথা শোনতেই বৃদ্ধ আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলে বলল, হে আল্লাহ্! সত্তরটি বছর তোমার অবাধ্যতায় কাটিয়েছি, তোমাকে কখনো স্মরণ করিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে স্মরণ করলাম, তাও পেটের তাগাদায়। এরপরও তুমি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছ! হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। এ কথা বলেই সে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল এবং এ কান্নার ভেতর দিয়েই সে মহান মালিকের সাথে গিয়ে মিলিত হল। হযরত উমর (রা.) নিজে তাঁর জানাযা পড়ালেন।

🔰 ঈমানজাগানিয়া কাহিনী | পৃষ্ঠা-৭৪
পারিবারিকখরচের বেলায় উদারমনা হওয়া উচিত
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

খানা-পিনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছলতা ও আন্তরিকতা থাকা চাই। অনেকে 'না হলেই নয়' পরিমাণে খাবার দিয়ে দায় সারতে চান। আর ভাবেন, 'মারা না গেলেই তো হলো।' এমনটি ঠিক নয়। বরং গৃহস্বামীর আয়ের মাত্রানুযায়ী প্রসন্ন মনে উপযুক্ত খাবারের আয়োজন করা উচিত। অনেকের মনে আবার খটকা লাগতে পারে। কারণ খরচাদির ব্যাপারে কঞ্জুশী করতে পারবে না। বরং প্রসন্নতা ও বদান্যতার আশ্রয়ে সংসার চলা উচিত। তাই স্বভাবতঃই প্রশ্ন জাগে কার্পণ্য বলতে কি বুঝায় আর অপব্যয়ের পরিমাণটাই বা কি? এ দু'টো নির্ণয়ের কোন সীমারেখা আছে কি?

❂❂ বৈধ প্রয়োজন; বৈধ আয়োজন

এ প্রশ্নের জবাবে হযরত থানবী (রহ.) বলেছেন, 'ঘর' বলা হয় এমন একটি নিবাসকে যা বসবাসের পূর্ণউপযুক্ত। যেমন একটি চাল টনিয়ে দিল, বস্তিতে ঝুপড়ী পেতে দিল। ওতেও মানুষ বসবাস করে। এবং এমন স্থানে বসবাস করাটাও বৈধ অবৈধ কিছু নয়। তবে আরেকটি পর্যায় হলো, যেখানে বৈধ বসবাসের সাথে বৈধ আয়োজন আয়েশেরও ব্যবস্থা আছে। যেমন থাকার জন্য পাকা বাড়ি তৈরী করা হলো। যেমন মানুষ একটু আরাম আয়েশে থাকতে পারে। কিংবা এর সাথে আরো কিছু সামগ্রীর আয়োজন করা হলো। আয়েশী সামগ্রী। ইসলাম এতে বাধা দেয়নি। কারণ, কেউ কেউতো ঝুপড়ীতেও বসবাস করতে পারে আবার অনেকেই তা পারে না। যারা পারে না তাদের তো থাকা খাওয়ার জন্যে অবশ্যই পাকা বাড়ি চাই। চাই সেখানে বিদ্যুৎ, বিদ্যুৎ পাখা আর কত কি। ইসলামের দৃষ্টিতে তার এই বিদ্যুৎ ও পাখা কোনটাই অপচয়ের শামিল নয় বরং প্রয়োজন মাত্র।

❂❂ সাজ সজ্জার বৈধসীমা

তৃতীয় অবস্থা হলো, বৈধ আসবাব পত্রের পাশাপাশি সাজ সজ্জারও ব্যবস্থা কর। যেমন, এক ব্যক্তির একটি পাকা বাড়ি আছে। প্লাস্টার, বিদ্যুৎ, বিদ্যুৎ পাখা সবই আছে। তবে রং করেনি সে বাড়িটিতে। বলা বাহুল্য, এ ঘরে থাকতে আরামগত কোন অপূর্ণতা নেই। তবে তা দেখতে যেন কেমন ঠেকে এই যা অসুবিধা। এখন যদি বাড়িওয়ালা সৌন্দর্য ও সাজ সজ্জার খাতিরে বাড়িতে রং করে তাহলে এটাও শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ।

সার কথা হলো, থাবার উপযুক্ত আবাস তৈরীর ক্ষেত্রে একান্ত প্রয়োজন মাফিক, আরামদায়ক ও সৌন্দর্য মণ্ডিত সব ধরনের আয়োজনেরই অবকাশ আছে ইসলামে। পার্থিব সৌন্দর্য ও সাজ সজ্জা বলতে যদি একথা বুঝানো হয় যে, কেউ তার বাড়িটিকে সুন্দর করে তৈরী করলো যেন দেখলে মনটা খুশী লাগে, দেখতে ভালো দেখায় এবং তৃপ্তি বোধ হয়। তাহলে এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রূপ বাধা নেই। বরং সম্পূর্ণ বৈধ।

❂❂ অবৈধ সাজ সজ্জা

এই পরিমাণে সাজ সজ্জা যার উদ্দেশ্য শারীরিক আরাম কিংবা মনের তৃপ্তি ও খুশীবোধও নয়। বরং নিজেকে অন্যের চোখে দৌলতমান্দ ধনী বলে জাহির করাই এর মূল মতলব। তার কাছে যে প্রচুর অর্থ আছে, সে যে এখন বেশ বড় শ্রেণীর মানুষ এই বড় মানুষী ফোটানোর লক্ষ্যেই যে সাজ সজ্জার আয়োজন করা হয় শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা অবৈধ এবং অপচয়ের শামিল।

❂❂ অপচয়ের সীমারেখা

উপরোল্লেখি চারটি স্তর খানাপিনা পোশাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বরং সর্বক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কেউ যদি আরাম ও ভালো লাগার উদ্দেশ্যে ভালো কাপড় পরে, যদি এজন্যে ভালো পোশাক পরিধান করে যে, আবার পরিবার পছন্দ করবে, আমার সাক্ষাতে যারা আসে তাদের একটু আরাম অনুভব হবে তাহলে এতে আপত্তি করার কিছুই নেই। কিন্তু যদি নিজেকে ধনী প্রমাণিত করার জন্যে, নিজের সম্পদের প্রাচুর্য বিকাশের জন্যে কেউ ভালো পোশাক পরে কিংবা উদ্দেশ্য হয় নিজের মর্যাদা প্রকাশ করা তাহলে বৈধ হবে না। হযরত থানবী (রহ.) অবশ্য অপচয়ের একটি সীমানাও এঁকে দিয়েছেন। যদি কেউ নিজের প্রয়োজন পূরণার্থে, আরাম, মানসিক তৃপ্তি কিংবা অন্যের আরামের খাতিরে কোন খরচ করে ওটা অপচয় হবে না।

আমি একবার একটি শহরে অবস্থান করছিলাম। করাচী ফিরে আসব ভাবছিলাম। তখন প্রচণ্ড গরম ছিল। তাই আমি একজনকে বললাম, ভাই এয়ারকন্ডিশন কোচে আমার টিকেট বুক করবে এবং এই বলে তাকে আমি পূর্ণ পয়সাও দিয়ে দিলাম। তখন আমার পাশেই আরেক ভদ্রলোক বসা ছিলেন। তিনি সাথে সাথেই বলে উঠলেন; জনাব, আপনিতো অপচয় করছেন দেখছি। কারণ নর্মাল কোচে না গিয়ে এয়ারকন্ডিশনে যাওয়াটা কি অপচয় নয়?

অনেকেই এমনটি মনে করেন। তাদের ধারণা ভালো ক্লাশের টিকেটে সফর করা মানেই অপচয়। তাই খুব ভালভাবে স্মরণ রাখতে হবে, যদি শারীরিক আরামের উদ্দেশ্যে কেউ ভালো ক্লাশের গাড়িতে সফর করে তাহলে এটা অপচয় নয়। যেমন ধরুন, গরমের মৌসুম। অসহ্য গরম। কিংবা তার গরম মোটেই বরদার্শত হয় না এবং আল্লাহ তাআলা তাকেও অর্থও দিয়েছেন। তাহলে এমন বাক্তির জন্যে ভালোমানের গাড়িতে সফর করা মোটে অপচয় নয়। হ্যাঁ, কেউ যদি এই মানসিকতার বশীভূত হয়ে ভালো শ্রেণীতে ভ্রমণ করে যে, মানুষ তাকে ধনী ও বড়লোক মনে করবে, তাহলে এটা অপচয়ের শামিল হবে এবং এটা অবৈধ। অনুরূপ বিধান খানা পিনা, আসবাব-পত্র সর্বক্ষেত্রেই।

🔰 আদর্শ দাম্পত্য জীবন | পৃষ্ঠা-৮৩
কুরআন-হাদীসে যে সকল গুনাহের উপর লা‘নত করা হয়েছে
-হযরত মুফতী মনসূরুল হক সাহেব
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

০১। যে স্ত্রী বা পুরুষ সূঁচের দ্বারা নিজ হাতে নিজের শরীর খোদায় বা অন্যের দ্বারা তা অঙ্কিত করায় তার প্রতি আল্লাহর লা‘নত। (বুখারী: হাদীস নং ৫৯৩৭, মুসলিম: হাদীস নং ২১২৪)

০২। যে স্ত্রীলোক নিজ হাতে বা অন্য কারো দ্বারা অন্যের চুল নিজের চুলের সঙ্গে মিশিয়ে নিজের চুলের পরিমাণ বাড়ায় তার উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (বুখারী: হাদীস নং ৫৯৩৭, মুসলিম: হাদীস নং ২১২৪)

০৩। যে ব্যক্তি নিজে সূদ খায় বা (বিনা অপরাগতায়) অন্যকে সূদ খাওয়ায়, যে সূদের দলীলে বা কারবারে স্বাক্ষী হয়, যে সূদের দলীল লেখে তাদের সকলের উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (মুসলিম: হাদীস নং ১৫৯৮)

০৪। যে নিজ স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে হীলা-বাহানা করে হারামকে হালাল করার জন্য সে স্ত্রীকে অন্য কারো নিকট এই শর্তে বিবাহ দেয় যে, বিবাহের পর সহবাস করে তালাক দিতে হবে এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি এরূপ শর্ত স্বীকার করে বিবাহ করে উভয় ব্যক্তির উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (তিরমিযী শরীফ: হাদীস নং ১১২১)

০৫। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি ডিম বা রশি ইত্যাদি ক্ষুদ্র জিনিষও চুরি করে আল্লাহ তা‘আলা তার হাত কাটার হুকুম দিয়েছেন এবং আল্লাহ তা‘আলা তার উপর লা‘নত করেছেন। (বুখারী: হাদীস নং ৬৭৯৯, মুসলিম: হাদীস নং ১৬৮৭)

০৬। যে মদ তৈরী করে, যার জন্য তৈরী করে, যে মদ পান করে, যে মদ পান করায়, যে মদ বিক্রি করে, যে মদ বিক্রি করে পয়সা খায়, যে মদ বহন করে আনে, যার জন্য বহন করে আনা হয়, যে মদ দান করে, তাদের সকলের উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (তিরমিযী: হাদীস নং ১২৯৮)

০৭। যে পিতা-মাতাকে লা‘নত করে আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর লা‘নত করেন। (মুসলিম: হা: নং ১৯৭৮)

০৮। যে পিতা-মাতাকে গালি দেয় বা সমালোচনা করে আল্লাহ তা‘আলা তার উপর লা‘নত করেন। (মুসনাদে আহমদ: হা: নং ২৮২০)

০৯। যে ব্যক্তি তীর বা ধনুকের লক্ষ্য ঠিক করার জন্য কোন প্রাণীকে কষ্ট দিয়ে তাকে নিশানা বানায় তার উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন।

১০। যে পুরুষ স্ত্রীলোকের সুরত ও বেশ-ভুষা বা যে স্ত্রীলোক পুরুষের সূরত বেশ-ভুষা ধারণ করে তার উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন।

১১। যে এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে প্রাণী যবাহ করে আল্লাহ তা‘আলা তার উপর লা‘নত করেছেন। (মুসলিম: হা: নং ১৭৮৯)

১২। যে ইসলাম ধর্মের বাহিরের কোন কথা ইসলাম ধর্মের ভিতরে দাখিল করে এবং যে এমন ব্যক্তির সহায়তা করে আল্লাহ তা‘আলা, ফেরেশতা এবং মানব সকলেই তার উপর অভিসম্পাত করে। (আবূ দাউদ: হা: নং ৪৫১৯)

১৩। যে ব্যক্তি কোন জীব-জন্তুর ছবি অঙ্কিত করে তার উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (বুখারী: হা: নং ২০৮৬)

১৪। যে ব্যক্তি লুত আলাইহিস সালামের কওমের পাপকার্যে অর্থাৎ সমকামিতায় লিপ্ত হয় সে অভিশপ্ত। (মুসনাদে আহমাদ: হা: নং ১৮৮০)

১৫। যে কোন জীবের সাথে কু-কর্ম করে সে অভিশপ্ত। (প্রাগুক্ত)

১৬। যে ব্যক্তি কোন জীবের মুখের উপর লোহা গরম করে দাগ দিবে অথবা তার মুখের উপর আঘাত করবে সে অভিশপ্ত। (আবূ দাউদ: হা: নং ২৫৬৪)

১৭। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের সহিত ধোঁকাবাজী করে বা জ্ঞাতসারে কোন মুসলমানের ক্ষতি করে সে অভিশপ্ত। (তিরমিযী: হা: নং ১৯৪৬)

১৮। যে সব স্ত্রীলোক মাজারে যাবে এবং যারা মাজারে গিয়ে সিজদা করবে বা তথায় বাতি জ্বালাবে তাদের উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (তিরমিযী: হা: নং ৩২০)

১৯। যে লোক কারো স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে উস্কানী দিয়ে খাড়া করাবে (বা চাকর-গোলামকে তার মুনিবের বিরুদ্ধে বা শাগরেদকে উস্তাদের বিরুদ্ধে) কুমন্ত্রণা দিয়ে উত্তেজিত করবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন সে আমার দলভুক্ত নয়। (আবূ দাউদ: হা: নং ২১৭৫)

২০। যে পুরুষ তার স্ত্রীর পশ্চাতদ্বারে সহবাস করবে সে অভিশপ্ত। (আবূ দাউদ: হা: নং ২১৬২)

২১। যে স্ত্রী তার স্বামীর উপর রাগ করে স্বামী থেকে পৃথক রাত্রিযাপন করে তার উপর ফেরেশতাগণ ভোর পর্যন্ত লা‘নত করতে থাকেন। (মুসলিম হা: নং ১৪৩৬)

✪✪ অসম্পূর্ণ | বাকি অংশ...✍️
🔰 PDF File

তথ্যসূত্রঃ ইসলামী যিন্দেগী | জাযাউল আমাল

─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW
কয়েকটিইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | AHM | KQ | SLT
হযরত আমর ইবনে জামুহ (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের কাহিনী
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

হযরত আমর ইবনে জামুহ প্রথম প্রথম ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে তেমন একটা আগ্রহী ছিলেন না। তার ছেলে মুসলমান হয়েছিল। আমর বললেন, আমি আমার মূর্তি পরিত্যাগ করতে পারব না। ছেলে রাতে এসে মূর্তিগুলোকে তুলে বাইরে রেখে এল। সকালে আমর দেখলেন মূর্তি নেই। ঘর খালি। এদিক সেদিক সন্ধান করতে করতে বাইরে যেয়ে দেখে খোদা আস্তাকুঁড়ে পড়ে রয়েছে। হায় আমার মাবুদ। তোমার সাথে কে এমন আচরণ করল? জানতে পারলে তার গর্দান উড়িয়ে দেব। যাই হোক খোদাকে সেখান থেকে উঠিয়ে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে আবার ঘরে এনে স্থাপন করল। পরের রাতে ছেলে আবারও তা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে এল। সকালে দেখে খোদা আবার গায়েব। কয়েকদিন চলল এ অবস্থা। একদিন আমর ইবনে জামুহ বলল, হে আমার খোদা, আমি এখন বৃদ্ধ হয়েছি। ঠিকমত তোমার দেখাশুনা করতে পারি না, তোমার কাছে এ তলোয়ার রেখে দিচ্ছি। তুমি নিজেই আত্মরক্ষা কর। এ বলে সে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। তখন তার বয়স সত্তর বছর। ছেলে রাতে এসে দেখল খোদার পাশে এবার তলোয়ার শোভা পাচ্ছে। তিনি বাইরে বেরিয়ে গেলেন। সারা মদীনা ঘুরে ঘুরে এক জায়গায় দেখতে পেলেন একটি মৃত কুকুর পড়ে আছে। শরীর তার ফুলে ফেটে গেছে। সেটিকে তিনি ঘরে এনে তার পায়ের সাথে মূর্তির পা বেঁধে বাইরে ফেলে দিয়ে এলেন। পিতা সকালে উঠে দেখে খোদা আবার গায়েব। তরবারী যেখানে ছিল সেখানেই পড়ে রয়েছে। মনে মনে বলল, হায় আফসোস। কে আমার খোদার সাথে এ বেয়াদবী করছে, তার সর্বনাশ হোক। এর পরে খুঁজতে খুঁজতে বাইরে এসে দেখে মরা কুকুরের পায়ের সাথে খোদার পা বাঁধা। এবার তার বিবেকে কষাঘাত হল। ভাবল এ যদি খোদাই হবে তাহলে কুকুরের পায়ের সাথে বাধা পড়ে কিভাবে? এরপর ইসলাম সম্পর্কে তার আর কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বই রইল না। সত্তর বছর বয়সে তিনি মুসলমান হয়ে গেলেন। নবীজীর সাথে এক বছর থাকতে না থাকতেই উহুদ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। তার এক পা ছিল ল্যাংড়া। কিন্তু তাঁরও জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা হল। বললেন জিহাদে যেয়ে আমি শহীদ হতে চাই। ছেলেরা নিষেধ করল। বলল আমরা যাচ্ছি, আপনি না গেলেও চলবে। কিন্তু তিনি তা মানতে রাজি হলেন না। পরিশেষে মুকাদ্দামা নবীজীর দরবার পর্যন্ত পৌছে গেল। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তো মাজুর, তোমার উপরে জিহাদ ফরয নয়। আমর (রা.) বললেন, আমার আকাংখা যে, আমি এ ল্যাংড়া পা নিয়েই জান্নাতে চলাফেরা করব। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিহাদে যাওয়ার এজাজত দিলেন। চিন্তা করুন ভাইয়েরা আমার! সত্তর বছরের কাফের মাত্র এক বছর নবীর বাণীর অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে কোন পর্যায়ে পৌছে গেছেন। তিনি উহুদের ময়দানে শহীদ হলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর লাশের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, আমি দেখতে পাচ্ছি আমর জান্নাতের যমীনে হেটে বেড়াচ্ছে। কিন্তু ল্যাংড়া পায়ে নয় বরং সুস্থ পায়ে।

উৎসঃ ঈমানজাগানিয়া কাহিনী | পৃষ্ঠা-৫১
গুনাহ বর্জন রহমতের দলিল আর গুনাহ করা হতভাগ্যের দলিল
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

মাত্র কয়েক দিনের হারাম মজা উপভোগ করার জন্য নিজের মাওলাকে ক্রোধান্বিত করো না। বন্ধুগণ! আল্লাহ তাআলা আমাদের উপর রহমত নাযিল করুন। সবচেয়ে বড় রহমত হলো গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। এজন্য হুযূর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম দ্বীনের উপর 'অটল থাকা'র জন্য আমাদেরকে দোয়া শিখিয়েছেন। আমি সেই দোয়া পড়তেছি, আপনারাও তা শিখে নিন।

اَللّٰهُمَّ ارْحَمْنِيْ بِتَرْكِ الْمَعَاصِىْ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার উপর রহমত নাযিল করুন, যার ফলে আমার গুনাহ ত্যাগের তওফীক হয়ে যায়।

وَلَا تُشْقِنِيْ بِمَعْصِيَتِكَ

এবং আপনার নাফরমানীর কাজে লিপ্ততার দ্বারা আমাকে 'হতভাগা' বানাবেন না।

এই দোয়া থেকে বুঝা যায় যে, গুনাহগার মানুষ অত্যন্ত ভয়ঙ্কর অবস্থায় জীবন কাটায়। যে কোন সময় সে 'হতভাগ্য' হয়ে যেতে পারে, বে-ঈমান অবস্থায় মৃত্যু হয়ে যেতে পারে, আল্লাহপাকের গোস্বার মধ্যে গ্রেফতার হয়ে যেতে পারে। নতুবা হুযূর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম এমন কঠিন শব্দ কেন ব্যবহার করলেন? আমি ওলামায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করছি, আপনারা তো এলেম-ওহীর শিক্ষায় শিক্ষিত, আপনারা বলুন, "হে আল্লাহ! আপনার নাফরমানীর কারণে আমাকে হতভাগা বানাবেন না।” এই দোআ দ্বারা কি বুঝা যায়? বুঝা যায় যে, নাফরমানীর মধ্যে হতভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের ক্রিয়া ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান আছে।

অনেক লোক এমন আছে যাদেরকে দেখলে বাহ্যতঃ বায়জীদ বলে মনে হয়, কিন্তু তওবা না করার দরুন 'ইয়াযীদের জীবন' নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় হয়েছে। ফেরেশতাদের আযাবের সম্মুখীন হয়েছে।

আসুন, আমরা সকলে এই দোআ মুখস্ত করে নিই-

اَللّٰهُمَّ ارْحَمْنِيْ بِتَرْكِ الْمَعَاصِىْ

(আল্লাহুম্মারহাম্‌নী বি-তারিক্কল মাআছী)

হে আল্লাহ! আমার উপর সেই রহমত নাযিল করুন যদ্বারা গুনাহ বর্জনের হিম্মত পয়দা হয়ে যায়। আমাদের শিয়াল-মার্কা কাপুরুষতা যেন সিংহের সাহসিকতায় রূপান্তরিত হয়ে যায়। যদিও আমাদের দেখতে সিংহের মত মনে হয়, কিন্তু হিম্মত ও সাহসিকতায় আমরা একদম শিয়ালের মত। দুনিয়াবী ব্যাপারে গোস্বার এতটা পাওয়ার থাকে যে, মনে হয় তার মোকাবিলা করার মত ক্ষমতা কারুরই নাই। কিন্তু নফ্স্ ও কুপ্রবৃত্তির গোলামীর ক্ষেত্রে মনে হয়, তার চেয়ে হীন মনোবল-কাপুরুষ আর কেউই নাই। আল্লাহপাক এমন লোকদের থেকে যদি তাঁর 'ছাত্তার' নামের 'পর্দা' হটিয়ে দিয়ে তাদের অন্যায়গুলো মানুষের মাঝে প্রকাশ করে দিতেন, তাহলে স্পষ্ট বোঝা যেত যে, এদের চেয়ে নিচু, জঘন্য ও হীন-মনের কাপুরুষ আর কেউ নেই।

দোআর দ্বিতীয় অংশ হলোঃ وَلَا تُشْقِنِيْ بِمَعْصِيَتِكَ (ওয়া-লা তুশক্বিনী বি-মা'ছিয়াতিক্) "এবং আমাদের গুনাহের ফলে আমাদেরকে 'হতভাগ্য' বানাবেন না।" বুঝা গেল, গুনাহের মধ্যে হতভাগ্য তথা জাহান্নামী হওয়ার ক্রিয়া ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। নতুবা আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম গুনাহ থেকে পানাহ চাওয়ার জন্য 'এই শব্দ' দ্বারা কেন দোআ করলেন? অর্থাৎ 'হতভাগ্য করবেন না'।

বন্ধুগণ! হিম্মতের সাথে কাজ করতে হবে। নিজেকে দুর্বল ভাবা যাবে না যে, আমি তো পারি না, আমার দ্বারা হবে না। যে নিজেকে দুর্বল ভাবে, সে দুর্বলই থেকে যায়। সকলকেই আল্লাহপাক 'হিম্মত'-এর 'মহা সম্পদ' দান করেছেন। সুতরাং কেউ হিম্মতচোর হয়ো না। আমি কসম খেয়ে বলছি, যে হিম্মতকে কাজে লাগিয়েছে, অবশ্যই সে আল্লাহর সাহায্য লাভ করেছে। এমন লোকও আছে যে, চল্লিশ বছর পর্যন্ত তার কোন এক গুনাহের অভ্যাস ছিল। কিন্তু হিম্মতের সাথে ঐ গুনাহ ত্যাগের চেষ্টা করেছে। আলহামদুলিল্লাহ ঐ গুনাহ থেকে সে এখন মুক্তি পেয়েছে। সম্পূর্ণ মুক্ত আছে। (হিম্মতের বরকতে কী রহমত নসীব হয়ে গেছে!)

আমাদের মীর সাহেব (হযরতওয়ালার খাদেম) বারো বছর পর্যন্ত খুব কড়া জর্দা আর পান খেয়েছে। এখন তওবা করেছে (বাদ দিয়েছে)। জিজ্ঞাসা করুন তাকে, এখন তার কি অবস্থা? পান-জর্দার কথা স্মরণ তো হয়, কিন্তু এতটা নয় যে, আবারও সেই পান-তামাক খেতে শুরু করবে!

স্মরণ দুই ধরনের। এক প্রকার 'স্মরণ' যা স্মরণকারীকে 'কাঙ্ক্ষিত বস্তু' পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। পান-তামাক প্রিয় বটে এবং ওসবের কথা স্মরণও হয়। কিন্তু এতটা নয় যে, মন তজ্জন্য অস্থির হয়ে যায়। আলহামদুলিল্লাহ! আজ মীর সাহেবের মুখ আল্লাহর নামের জন্য সম্পূর্ণ খালি। ইতিপূর্বে সে 'পান-তামাক' মুখে নিয়েই বসে থাকতো। হরম-শরীফে আযান হয়ে গেছে। কিন্তু মুখে পান থাকার কারণে এই মুখে আল্লাহপাকের নাম নিতে পারতো না। ফলে এই পান-জর্দাই তাকে তখন বায়তুল্লাহ থেকে বের করে দিচ্ছে! পান বান্দাকে খোদার ঘর থেকে বের করে দিচ্ছে! হরম শরীফ থেকে বের হয়ে কুলি করে মুখ পরিষ্কার করে তারপর হরমে ঢুকতে হচ্ছে। 'এ ধরনের বস্তুনিচয়' সম্পর্কে কি বলা উচিত, কি মন্তব্য করা উচিত?

🔰 আসমানী আকর্ষণ | পৃষ্ঠা-১২৮

• ────── ✾ ────── •
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | DOT | AIF | IA
কয়েকটিইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | AHM | KQ | SLT
মা-বোনদের উদ্দেশে দশটি মূল্যবাননসীহত
-হযরত মাওলানা উমায়ের কোব্বাবী (দাঃ বাঃ)
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

০১। আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট হওয়া
হাদীসে কুদসীতে, আল্লাহ তায়ালা বলেন যে আমার ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট না হয় তবে সে যেন আমাকে রব হিসেবে না মানে। দ্বীন মানার নাম জিন্দেগী।

সকাল সন্ধার দোয়াঃ
رَضِيتُ بالله رَبًّا وبالاسلام دينا وَبِمُحَمَّدٍ صل الله عليه و سلم نَبِيًّا ورسولا

০২। শোকর বেশি করে আদায় করা
এটা আমাদের মা বোনদের মধ্যে খুবই কম।
নবীজি (সা:) বলেনঃ জাহান্নামে বেশির ভাগই নারী, তা হল দুই কারনে:
ক) লানত করে বেশি,
খ) স্বামীর নাফরমানি করা,

০৩। ওয়াক্ত মতো নামাজ আদায় করা
আমাদের মা বোনেরা বেশি গাফলতি হলো ফজর ও আসর এর নামাজ।

০৪। স্বামীর আনুগত্য করা
স্বামী, স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে সুখ আসার তিন পথ:
ক) ছাড় দেওয়া।
দুজনের মেজাজ এক হবেনা তাই একজন আরেকজনকে ছাড় দেওয়া।
খ) একে অপরের প্রতি সম্মান রাখা।
গ) অল্প তুষ্টি, অল্পতে সন্তষ্ট থাকা।

ঐ সংসারে কখনোই শান্তি আসবেনা যে সংসারের নারীর মধ্যে অল্পতুষ্টি থাকে না।

নবীজি (সা:) বলেন স্বামীর আনুগত্য করা ওয়াজিব।

০৫। জবানের নিয়ন্ত্রন করা
ক) বিশেষ করে চোগলখোরী না করা।
নবীজি (সা:) বলেন চোগলখোর কখনো জান্নাতে যাবে না।
খ) গীবত না করা।

০৬। বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়া
আল্লাহ তায়ালা কোরআন মাজীদে মহিলাদের ঘরে থাকতে বলেছেন।

০৭। সন্তানের দ্বীন শিক্ষার প্রতি জোঢ় দৃষ্টি রাখা
ক) সন্তানের আক্বীদাগত শিক্ষা,
খ) সন্তানের আদবগত শিক্ষা,
গ) সন্তানের আখলাকগত শিক্ষা।

০৮। পরিবারকে দ্বীনের পথে নিয়ে আসার চেষ্টা করা

০৯। সর্বদা জ্বিকিরের সাথে থাকা।

১০। লজ্জ্বাশীলতার সাথে থাকা
হযরত আলী (রা:) বলেনঃ নেককার মহিলালদের তিনটি গুনঃ
ক) হাত সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকা।
খ) চেহারায় লজ্জা শীতলতা থাকা।
গ) জবানে জিকির থাকা।

──────⊱◈◈◈⊰──────
HAKEEM ACADEMY | iLIBRARY | iBOOKS | iARTICLE | iMASAYEL | iACADEMY
হযরত শাহ্ ওয়াছীউল্লাহ্ (রঃ) ও হযরত মুফতী শফী ছাহেব (রঃ)-এর অমূল্য বাণী
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

আল্লাহ্পাক সকলের চেয়ে বেশী দয়াবান, মেহেরবান। তিনি আরহামুর রাহিমীন (সকল দয়ালু অপেক্ষা বড় দয়ালু)। তাহার রহমত হইতে কখনও নিরাশ হইবে না। বারবার আন্তরিকভাবে খুব তওবা করিবে, তওবার ফিকির রাখিবে। আবারও গুণাহ্ হইয়া গেলে অনতি-বিলম্বে আবার তওবা করিবে। মাওলানা শাহ্ ওছীউল্লাহ্ ছাহেব (রঃ) এই ছন্দটি পাঠ করিতেন-

ہم نے طے کیں اسطرح سے منزلیں گر کر اٹھے اٹھکر ملے گر پڑے

অর্থ : আমরা আল্লাহর পথের মনযিল সমূহ এইভাবে অতিক্রম করিয়াছি যে, পড়িয়া গেলে আবার উঠিয়াছি, উঠিয়া আবার সম্মুখে অগ্রসর হইয়াছি। এই ভাবেই একদিন আরাধ্য মনযিলে পৌছিয়াছি।

ছগীরা গুণাগুলিতো নেক আমল সমূহের দ্বারাও মাফ হইয়া যাইতে পারে। কিন্তু কবীরা গুণাহের ক্ষমার জন্য তওবা করা জরুরী। ইহাও জানা দরকার যে, ক্ষমার সুসংবাদ শুনিয়া এই খেয়ালে পাপাচারের প্রতি দুঃসাহসী হইয়া উঠা যে, মৃত্যুর আগে তওবা করিয়া নিব, ইহা শক্ত বোকামী, নাদানী ও বেওকুফী। কারণ, ভবিষ্যতের কথা কেহ বলিতে পারে না। কি জানি কখন মৃত্যুর ঘন্টা বাজিয়া উঠে, হঠাৎ জাঁ-কান্দানি (মুমূর্ষু-অবস্থা) শুরু হইয়া যায়, ফলে, তওবার দরজাই বন্ধ হইয়া যায়। পাকিস্তানের মুফতীয়ে আ'যম হযরত মাওলানা মুতী শফী ছাহেব (রঃ) এর ছন্দ-

ظالم ابھی ہے فرصت تو یہ نہ دیر کر وہ بھی گرانہیں جو گرا پھر سنبھل گیا

অর্থঃ হে পাপী, শোন, দেরী করিসনা, এখনও তওবার সুযোগ আছে। যে পড়িয়া গিয়া আবার উঠিয়া দাঁড়াইয়াছে, তাহাকে তো পড়ন্ত (পতিত) গণ্য করা হয় না।

(তিরমিযী-শরীফ ২য় খণ্ড, ৭২ পৃষ্ঠায় কেয়ামতের আলোচনার অধ্যায়ে)

একটি হাদীছে হুযূর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম ফরমাইয়াছেন-

الْكَيْسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَ تَمَتَّى عَلَى اللَّهِ

অর্থ: বুদ্ধিমান ঐ ব্যক্তি যে স্বীয় নফছকে (শরীঅতের অধীনে) নিয়ন্ত্রণ করিয়া রাখে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে। আর বোকা ও অথর্ব ঐ ব্যক্তি যে নিজেকে নফছের তাবেদার বানাইয়া রাখে, অথচ আল্লাহর নিকট (বড় বড়) আশা পোষণ করে।

এই হাদীছে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম-এর নবুয়তী-যবানে বুদ্ধিমানের সার্টিফিকেট তাহাকে প্রদান করা হইতেছে যে নিজের নফছের (প্রবৃত্তির) কথা মানে নাই এবং মৃত্যুর পরবর্তী জিন্দেগীর জন্য আমল করিয়াছে। আর বোকা (ও অথর্ব) বলা হইয়াছে ঐ ব্যক্তিকে যে নিজেকে নফছের খাহেশাতের (তথা কুমন্ত্রণাদির) অনুগামী করিয়া রাখিয়াছে, অথচ, আল্লাহ্পাকের নিকট লম্বা-লম্বা আশা পোষণ করিয়াছে।

🔰 আল্লাহর মহব্বত এর পরীক্ষিত তিনটি কিতাব | পৃষ্ঠা-২২৭

━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | DOT | AIF | IA
কয়েকটিইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | AHM | KQ | SLT
হযরত শাহ্ ওয়াছীউল্লাহ্ (রঃ) ও হযরত মুফতী শফী ছাহেব (রঃ)-এর অমূল্য বাণী
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

আল্লাহ্পাক সকলের চেয়ে বেশী দয়াবান, মেহেরবান। তিনি আরহামুর রাহিমীন (সকল দয়ালু অপেক্ষা বড় দয়ালু)। তাহার রহমত হইতে কখনও নিরাশ হইবে না। বারবার আন্তরিকভাবে খুব তওবা করিবে, তওবার ফিকির রাখিবে। আবারও গুণাহ্ হইয়া গেলে অনতি-বিলম্বে আবার তওবা করিবে। মাওলানা শাহ্ ওছীউল্লাহ্ ছাহেব (রঃ) এই ছন্দটি পাঠ করিতেন-

ہم نے طے کیں اسطرح سے منزلیں گر کر اٹھے اٹھکر ملے گر پڑے

অর্থ : আমরা আল্লাহর পথের মনযিল সমূহ এইভাবে অতিক্রম করিয়াছি যে, পড়িয়া গেলে আবার উঠিয়াছি, উঠিয়া আবার সম্মুখে অগ্রসর হইয়াছি। এই ভাবেই একদিন আরাধ্য মনযিলে পৌছিয়াছি।

ছগীরা গুণাগুলিতো নেক আমল সমূহের দ্বারাও মাফ হইয়া যাইতে পারে। কিন্তু কবীরা গুণাহের ক্ষমার জন্য তওবা করা জরুরী। ইহাও জানা দরকার যে, ক্ষমার সুসংবাদ শুনিয়া এই খেয়ালে পাপাচারের প্রতি দুঃসাহসী হইয়া উঠা যে, মৃত্যুর আগে তওবা করিয়া নিব, ইহা শক্ত বোকামী, নাদানী ও বেওকুফী। কারণ, ভবিষ্যতের কথা কেহ বলিতে পারে না। কি জানি কখন মৃত্যুর ঘন্টা বাজিয়া উঠে, হঠাৎ জাঁ-কান্দানি (মুমূর্ষু-অবস্থা) শুরু হইয়া যায়, ফলে, তওবার দরজাই বন্ধ হইয়া যায়। পাকিস্তানের মুফতীয়ে আ'যম হযরত মাওলানা মুতী শফী ছাহেব (রঃ) এর ছন্দ-

ظالم ابھی ہے فرصت تو یہ نہ دیر کر وہ بھی گرانہیں جو گرا پھر سنبھل گیا

অর্থঃ হে পাপী, শোন, দেরী করিসনা, এখনও তওবার সুযোগ আছে। যে পড়িয়া গিয়া আবার উঠিয়া দাঁড়াইয়াছে, তাহাকে তো পড়ন্ত (পতিত) গণ্য করা হয় না।

(তিরমিযী-শরীফ ২য় খণ্ড, ৭২ পৃষ্ঠায় কেয়ামতের আলোচনার অধ্যায়ে)

একটি হাদীছে হুযূর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম ফরমাইয়াছেন-

الْكَيْسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَ تَمَتَّى عَلَى اللَّهِ

অর্থ: বুদ্ধিমান ঐ ব্যক্তি যে স্বীয় নফছকে (শরীঅতের অধীনে) নিয়ন্ত্রণ করিয়া রাখে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে। আর বোকা ও অথর্ব ঐ ব্যক্তি যে নিজেকে নফছের তাবেদার বানাইয়া রাখে, অথচ আল্লাহর নিকট (বড় বড়) আশা পোষণ করে।

এই হাদীছে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম-এর নবুয়তী-যবানে বুদ্ধিমানের সার্টিফিকেট তাহাকে প্রদান করা হইতেছে যে নিজের নফছের (প্রবৃত্তির) কথা মানে নাই এবং মৃত্যুর পরবর্তী জিন্দেগীর জন্য আমল করিয়াছে। আর বোকা (ও অথর্ব) বলা হইয়াছে ঐ ব্যক্তিকে যে নিজেকে নফছের খাহেশাতের (তথা কুমন্ত্রণাদির) অনুগামী করিয়া রাখিয়াছে, অথচ, আল্লাহ্পাকের নিকট লম্বা-লম্বা আশা পোষণ করিয়াছে।

🔰 আল্লাহর মহব্বত এর পরীক্ষিত তিনটি কিতাব | পৃষ্ঠা-২২৭

━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | DOT | AIF | IA
কয়েকটিইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | AHM | KQ | SLT
গুনাহ যেন প্রতিক্রিয়াশীল না হয়

কিছু গুনাহ আছে এমন যা কেবল একজনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং অন্যদের মাঝেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আমরা সদকায়ে জারিয়ার কথা শুনেছি। অনুরূপভাবে কিছু গুনাহ্ও আছে এমন যে, জারি থাকে।

গুনাহ আমাদের দ্বারা হয়ে যাবে। কিন্তু আমি সবসময় সতর্ক থাকবো যেন জারি থাকে এমন গুনাহ না হয়। অনুরূপভাবে কিছু গুনাহ আছে ছোট কিন্তু স্থানের কারণে সেটা বড় হয়ে যায়। যেমন হারাম শরিফ। কুদৃষ্টি দেওয়া গুনাহ। কিন্তু হারাম শরীফে বসে দেওয়া আরও বড় গুনাহ।

অনুরূপভাবে কিছু সময় আছে, যে সময়ে গুনাহ-কে বড় করে দেখা হয়। যেমন কোনো লোক যদি লাইলাতুল কদরে মাহরুম হয়ে যায় তাহলে নবীজী বলেন যে, সব কল্যাণ থেকে মাহরুম হয়ে যায়। কারণ সে এত বড় সময়টাকে মূল্য দিতে পারেনি। রমযানে যে নিজেকে মাফ করাতে পারে না; জিবরাইল আ. বলেন, সে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে গেল। কেন? কারণ এত বড় রমযান আসল, এত বড় অফার আসল অথচ সে এই অফারটা নিতে পারেনি!

সুতরাং বোঝা গেল, কিছু সময় আছে এমন যে, ওই সময়ে গুনাহ করলে সেটা বড় করে দেখা হয়।

আবার কিছু ব্যক্তি আছে এমন যাদের সামনে গুনাহ করলে সেটা বড় করে দেখা হয়। যেমন নবীজী এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি ডান হাতে খানা খাও। তার মাঝে অহংকার চেপে বসল। সে বলে বসল, আমি ডান হাতে খেতে পারি না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ডান হাতে খেতেও পারবে না। পরবর্তীতে তার হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল।

আবার কিছু ব্যক্তি আছে এমন, গুনাহ-টা হয়তো ছোট কিন্তু ওই ব্যক্তির জন্য গুনাহ-টা বড়। যেমন ইমাম সাহেব যদি ইস্তেঞ্জার পরে শুধু পানি নেন মুসল্লিদের সামনে। যদিও পানি ও ঢিলার যে কোনো একটা নিলেই হয়ে যায়। কিন্তু মুসল্লিরা বলে বসবে, হায়রে! আমরা কোন ইমামের পিছনে নামায পড়ি, ঢিলা কুলুখ কিছু নেয় না, পানিও খরচ করে না!

আমি বলবো না যে, লোকটার কোনো দোষ নেই। বরং আমি এ কথা বলব যে, ওই লোকের চেয়ে ইমাম সাহেবের দোষ বেশি। কারণ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
اتَّقُوا مَوَاضِعَ التَّهَمَةِ

তোমার ওপর অপবাদ আসতে পারে এমন কথা থেকে, কাজ থেকে, জায়গা থেকে বেঁচে থাক। (ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন: খণ্ড ০৩ পৃ. ২৩)
হাকীমুল উম্মত হযরত থানবী (রহঃ) এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপদেশ
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

হাকীমুল উম্মত হযরত থানবী (রহঃ) বলেন, তরীকতের সাধক তথা সালেকের জন্য উচিত হলো, সর্বদা নিজের শাইখের শিক্ষা ও উপদেশাবলী অনুসরণ করে চলা। এ বিষয়ের কিতাব দেখে নিজে নিজে আমল করা ভুল। হযরত থানবী (রহঃ) আরো বলেন, তাসাওউফ বিষয়ক কিতাব তরীকতের প্রাথমিক পর্যায়ের লোকদের জন্য নয়। বরং এ লাইনে যারা চূড়ান্ত পর্যায়ের সাধক এবং কামেল ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তি তাদের জন্য হলো কিতাব। আর প্রাথমিক পর্যায়ের ব্যক্তিদের জন্য কিতাব হচ্ছে তার শাইখ। সে তার শাইখকে দেখবে, তার কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবে জানবে এবং তার উপর আমল করবে। যেমন হাকীমী ও ডাক্তারী বইসমূহ হলো, হাকীম ও ডাক্তাদের জন্য। তারাই শুধু এসব বই দেখে ফায়দা হাসিল করতে পারে। পক্ষান্তরে অসুস্থ ব্যক্তি নিজেই যদি ডাক্তারী বইপত্র পড়ে ঔষধ খেতে যায় তবে তা তার জীবনের জন্য হবে আশঙ্কাজনক।

❑❑ প্রত্যেকের উচিত তার বড়কে অনুসরণ করা

হযরত থানবী (রহঃ) ইরশাদ করেন, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচিত হলো, নিজের বড়কে অনুসরণ করা, তার পরামর্শ মেনে চলা। কখনো খোদরায়ী বা স্বেচ্ছাচারিতা করা উচিত নয়। হযরত থানবী (রহঃ) আরো বলেন যে, কোন ব্যক্তি যদি এমন অবস্থায় থাকে যে, নিয়মতান্ত্রিক হিসাবে তার চাইতে বড় কেউ নেই, তবে সে কি করবে? এরূপ ব্যক্তির ব্যাপারেও আল্লাহ পাক আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান দান করেছেন। তা হলো এই যে, এরূপ ব্যক্তি নিজের ছোটদেরকেই একত্রিত করে পরামর্শ করবে। সকলের মতামত শুনে যার মতের উপর তার মন সায় দিবে বা যার মত অধিক গ্রহণযোগ্য বলে মন গ্রহণ করে নিবে তার উপর আমল করবে। এ পদ্ধতিতে একদিকে খোদরায়ী তথা স্বেচ্ছাচারিতার বিপদ থেকেও রক্ষা পাবে অপরদিকে পরামর্শের বরকতে আল্লাহ পাক তাকে মঙ্গলের দিকে হিদায়াত ও পথপ্রদর্শন করবেন।

🔰 মাজালিসে হাকীমুল উম্মত | পৃষ্ঠা-৪৭৭

─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটিইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive