Forwarded from পাঠশালা
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফজর কাযা হয়!
একটি অভিযান থেকে ফেরার পথে সবাই ক্লান্ত ছিলেন। এমন অবস্থায় ঘুমালে ফজরে উঠার সম্ভাবনা কম। এজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিন্তা করলেন।
তখন বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দায়িত্ব দেয়া হয়, তিনি যেন সবাইকে ডেকে তুলেন।
যাত্রাপথের ক্লান্তির ফলে সবাই গভীর ঘুমে। এদিকে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুও ঘুমিয়ে পড়েন!
যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘুম ভাঙ্গলো, দেখা গেলো সূর্য উঠে গেছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? তোমার না আমাদেরকে জাগানোর কথা?
বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর সরল স্বীকারোক্তি- আপনাদেরকে যা আচ্ছন্ন করেছে, আমাকেও তা!
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে ফজরের কাযা নামাজ আদায় করেন এবং বলেন- “কেউ কোন নামাজ আদায় করতে ভুলে গেলে যখন স্মরণ হবে তখনই যেন সে তা আদায় করে নেয়।”
এই ঘটনাটি তো না ঘটলেও পারতো, তাই না?
কিন্তু, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন তো আমাদের জন্য শিক্ষা। এই কারণে একটা নামাজ মিস হলেও কী ধরণের সিরিয়াসনেস থাকা দরকার সেটা বুঝানোর জন্য আল্লাহ হয়তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফজর কাযার মাধ্যমে আমাদেরকে শিখালেন।
আমাদের অনেকের নামাজ কাযা হয়। বিশেষ করে ফজরের। সেক্ষেত্রে কী করতে হবে সেটা এই ঘটনা থেকে আমরা শিখতে পারি। তার মানে এই না কিন্তু প্রতিদিন এটা করবো। বরং প্রায়োরিটি হলো ওয়াক্তের সময় নামাজ; যদি মিস হয় তখন যেন অবহেলা না করে সাথে সাথে পড়ি।
.
তথ্যসূত্র:
সহীহ বুখারী: ৫৯৫, সহীহ মুসলিম: ৬৮৪।
একটি অভিযান থেকে ফেরার পথে সবাই ক্লান্ত ছিলেন। এমন অবস্থায় ঘুমালে ফজরে উঠার সম্ভাবনা কম। এজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিন্তা করলেন।
তখন বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দায়িত্ব দেয়া হয়, তিনি যেন সবাইকে ডেকে তুলেন।
যাত্রাপথের ক্লান্তির ফলে সবাই গভীর ঘুমে। এদিকে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুও ঘুমিয়ে পড়েন!
যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘুম ভাঙ্গলো, দেখা গেলো সূর্য উঠে গেছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? তোমার না আমাদেরকে জাগানোর কথা?
বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর সরল স্বীকারোক্তি- আপনাদেরকে যা আচ্ছন্ন করেছে, আমাকেও তা!
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে ফজরের কাযা নামাজ আদায় করেন এবং বলেন- “কেউ কোন নামাজ আদায় করতে ভুলে গেলে যখন স্মরণ হবে তখনই যেন সে তা আদায় করে নেয়।”
এই ঘটনাটি তো না ঘটলেও পারতো, তাই না?
কিন্তু, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন তো আমাদের জন্য শিক্ষা। এই কারণে একটা নামাজ মিস হলেও কী ধরণের সিরিয়াসনেস থাকা দরকার সেটা বুঝানোর জন্য আল্লাহ হয়তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফজর কাযার মাধ্যমে আমাদেরকে শিখালেন।
আমাদের অনেকের নামাজ কাযা হয়। বিশেষ করে ফজরের। সেক্ষেত্রে কী করতে হবে সেটা এই ঘটনা থেকে আমরা শিখতে পারি। তার মানে এই না কিন্তু প্রতিদিন এটা করবো। বরং প্রায়োরিটি হলো ওয়াক্তের সময় নামাজ; যদি মিস হয় তখন যেন অবহেলা না করে সাথে সাথে পড়ি।
.
তথ্যসূত্র:
সহীহ বুখারী: ৫৯৫, সহীহ মুসলিম: ৬৮৪।
❤14
Forwarded from ইসলামী নূর
...অতএব যার লজ্জা আছে সে আল্লাহকে ভয় করে চলবে। আর যার লজ্জা নেই সে এহেন নির্লজ্জ কাজ নেই যা করতে পারে না। এবং শাস্তির জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
❤17
Forwarded from হাদিসের বাণী
মিকদাম ইবনু মাদীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ
মানুষ (তার নিজের)পেট হতে অধিক নিকৃষ্ট কোন পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে এমন কয়েক গ্রাস খাবারই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন হলে পাকস্থলীর এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।
- সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৩৪৯.
মানুষ (তার নিজের)পেট হতে অধিক নিকৃষ্ট কোন পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে এমন কয়েক গ্রাস খাবারই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন হলে পাকস্থলীর এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।
- সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৩৪৯.
❤22
Forwarded from The Quran Verse (Sayeed Hasan)
#একটুখানি_তাদাব্বুর
إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا
“নিশ্চয়ই শয়তানের ষড়যন্ত্র দুর্বল।”
— সূরা আন-নিসা, ৪:৭৬।
কী আশ্চর্য!
আমরা অনেক সময় শয়তানকে এমন এক শক্তিশালী শত্রু হিসেবে কল্পনা করি, যার হাত থেকে বাঁচা প্রায় অসম্ভব। গুনাহের পর গুনাহ হয়ে যায়, নফসের কাছে হেরে যাই, নামাজে অলসতা আসে, হারামের দিকে চোখ চলে যায়—তারপর মনে হয়, “শয়তান আমাকে হারিয়ে দিয়েছে।”
কিন্তু কুরআন এসে আমাদের ধারণাটাই বদলে দেয়—
“নিশ্চয়ই শয়তানের ষড়যন্ত্র দুর্বল।”
অর্থাৎ শয়তান যতটা শক্তিশালী মনে হয়, বাস্তবে সে ততটা শক্তিশালী নয়।
তার হাতে আমাদের ওপর কোনো জবরদস্তিমূলক ক্ষমতা নেই। সে কেবল প্ররোচনা দেয়, প্রলোভন দেখায়, ভয় দেখায়, মিথ্যা আশা দেয় এবং পথকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমাদেরই।
তাহলে আমরা বারবার হেরে যাই কেন?
কারণ শয়তানের শক্তি অনেক সময় তার নিজের মধ্যে নয়—আমাদের দুর্বলতার মধ্যে।
সে জানে কোথায় আঘাত করতে হবে।
যে ব্যক্তি অহংকারী, তার কাছে সে অহংকার নিয়ে আসে।
যে ব্যক্তি অর্থের প্রতি দুর্বল, তার কাছে সে লোভ নিয়ে আসে।
যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির কাছে দুর্বল, তার সামনে সে হারামের দরজা খুলে দেয়।
যে ব্যক্তি হতাশ, তাকে সে বলে—
“তোমার আর ক্ষমা নেই।”
যে ব্যক্তি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় পায়, তাকে বলে—
“আল্লাহর ওপর ভরসা করে কী হবে? আগে নিজের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করো।”
যে ব্যক্তি গুনাহ করতে চায়, তাকে বলে—
“এটা তো সামান্য ব্যাপার।”
আর সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গায় এসে বলে—
“পরে তাওবা করে নিও।”
এভাবেই একটি দুর্বল ষড়যন্ত্র আমাদের কাছে ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
শয়তান প্রথমে গুনাহকে ছোট করে দেখায়
সে সাধারণত বলে না—
“এসো, তোমার জীবন ধ্বংস করে দিই।”
বরং বলে—
“একবার করলেই বা কী হবে?”
একবার থেকে অভ্যাস।
অভ্যাস থেকে আসক্তি।
আসক্তি থেকে অন্তরের কঠিনতা।
আর একসময় মানুষ সেই গুনাহকে গুনাহ বলেই মনে করে না।
এটাই শয়তানের কৌশল।
তাই কোনো গুনাহকে ছোট করে দেখবেন না। ছোট আগুনও বড় ঘর পুড়িয়ে দিতে পারে।
কিন্তু মুমিনের হাতে একটি শক্তিশালী অস্ত্র আছে। আর তা হলো আল্লাহর স্মরণ।
শয়তান যখন কুমন্ত্রণা দেয়, মুমিন যখন বলে—
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
“আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই।”
তখন সে বুঝতে পারে—
এই বান্দা আমার ওপর নির্ভর করছে না; তার একজন রব আছেন।
কুরআনও বলে, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের যখন শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের দৃষ্টি খুলে যায়।
— সূরা আল-আ'রাফ: ২০১।
আরেকটি ভয়ংকর কৌশল— হতাশা।
শয়তান শুধু গুনাহে ডাকে না; গুনাহের পর আল্লাহর রহমত থেকে হতাশও করতে চায়।
আপনি ভুল করেছেন?
সে বলবে—
“তুমি আর ভালো হতে পারবে না।”
আপনি বারবার পড়ে যাচ্ছেন?
সে বলবে—
“তোমার তাওবা করে লাভ কী?”
কিন্তু এটি শয়তানের আরেকটি প্রতারণা।
কারণ আল্লাহ বলেছেন—
“আল্লাহর রহমত থেকে তোমরা নিরাশ হয়ো না।”
— সূরা আয-যুমার: ৫৩।
তাই মনে রাখুন—
গুনাহ করে পড়ে যাওয়া আপনার পরাজয় নয়; পড়ে গিয়ে আর না ওঠাই প্রকৃত পরাজয়।
এই আয়াতটি তাই সাহসের আয়াত বলা চলে।
আপনি যদি কোনো গুনাহের সঙ্গে লড়াই করেন, মনে রাখুন—
শয়তান আপনার চেয়ে শক্তিশালী নয়।
আপনি যদি হারাম কোনো অভ্যাস ছাড়তে চান—
আপনি পারবেন, ইনশাআল্লাহ।
আপনি যদি দীর্ঘদিনের গাফিলতি থেকে ফিরে আসতে চান—
আজই শুরু করতে পারেন।
আপনি যদি তাওবা করে আবার পড়ে যান—
আবার তাওবা করুন।
আল্লাহর দরজায় ফিরে আসতে লজ্জা করবেন না।
কারণ শয়তান চায় আপনি ভাবুন—
“আমি শেষ।”
আর আল্লাহর রহমত আপনাকে শেখায়—
“ফিরে এসো।”
এবার একটু নিজের দিকে তাকাই!
আমার জীবনে শয়তানের সবচেয়ে বেশি প্রবেশ কোন দরজা দিয়ে?
রাগ?
অহংকার?
লোভ?
কামনা?
অলসতা?
হিংসা?
নাকি দীর্ঘ আশা?
যে দরজাটি দিয়ে সে বারবার প্রবেশ করে, সেই দরজাটিই বন্ধ করতে হবে।
✅ নামাজ ঠিক করুন।
✅ কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ুন।
✅ যিকর বাড়ান।
✅ হারামের পথ বন্ধ করুন।
✅ সৎ মানুষের সঙ্গ নিন।
✅ গুনাহের পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন।
আর প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
কারণ শয়তানের কৌশল দুর্বল—
কিন্তু গাফেল হৃদয় সেই দুর্বল কৌশলকেও ভয়ংকর করে তোলে।
আপনি শয়তানের হাতে বন্দী নন। আপনার সামনে তাওবার দরজা আছে। আপনার হাতে দোয়া আছে। আপনার জিহ্বায় যিকর আছে। আপনার সামনে কুরআন আছে।
আপনার রব আছেন।
তাই শয়তানের কুমন্ত্রণাকে নিজের ভাগ্য মনে করবেন না।
যে কণ্ঠ আপনাকে গুনাহের দিকে ডাকে, সেটিই আপনার পরিচয় নয়।
আপনি তার চেয়েও বড়—কারণ আপনি আল্লাহর বান্দা।
আর আপনার রব ঘোষণা করেছেন—
“নিশ্চয়ই শয়তানের ষড়যন্ত্র দুর্বল।”
তাই আজ থেকে শয়তানকে ভয় নয়—
আল্লাহর ওপর ভরসা করুন।
যখন সে বলবে, “তুমি পারবে না,”
আপনার হৃদয় বলুক—
“আমার রব আমার সঙ্গে আছেন।”
যখন সে বলবে, “তোমার তাওবার আর মূল্য নেই,”
আপনি বলুন—
“আমার রব পরম ক্ষমাশীল।”
আর যখন সে আপনাকে গুনাহের দিকে ডাকবে—
একবার শুধু মনে করুন:
“ইন্না কাইদাশ শাইতানি কানা দাঈফা—নিশ্চয়ই শয়তানের ষড়যন্ত্র দুর্বল।”
إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا
“নিশ্চয়ই শয়তানের ষড়যন্ত্র দুর্বল।”
— সূরা আন-নিসা, ৪:৭৬।
কী আশ্চর্য!
আমরা অনেক সময় শয়তানকে এমন এক শক্তিশালী শত্রু হিসেবে কল্পনা করি, যার হাত থেকে বাঁচা প্রায় অসম্ভব। গুনাহের পর গুনাহ হয়ে যায়, নফসের কাছে হেরে যাই, নামাজে অলসতা আসে, হারামের দিকে চোখ চলে যায়—তারপর মনে হয়, “শয়তান আমাকে হারিয়ে দিয়েছে।”
কিন্তু কুরআন এসে আমাদের ধারণাটাই বদলে দেয়—
“নিশ্চয়ই শয়তানের ষড়যন্ত্র দুর্বল।”
অর্থাৎ শয়তান যতটা শক্তিশালী মনে হয়, বাস্তবে সে ততটা শক্তিশালী নয়।
তার হাতে আমাদের ওপর কোনো জবরদস্তিমূলক ক্ষমতা নেই। সে কেবল প্ররোচনা দেয়, প্রলোভন দেখায়, ভয় দেখায়, মিথ্যা আশা দেয় এবং পথকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমাদেরই।
তাহলে আমরা বারবার হেরে যাই কেন?
কারণ শয়তানের শক্তি অনেক সময় তার নিজের মধ্যে নয়—আমাদের দুর্বলতার মধ্যে।
সে জানে কোথায় আঘাত করতে হবে।
যে ব্যক্তি অহংকারী, তার কাছে সে অহংকার নিয়ে আসে।
যে ব্যক্তি অর্থের প্রতি দুর্বল, তার কাছে সে লোভ নিয়ে আসে।
যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির কাছে দুর্বল, তার সামনে সে হারামের দরজা খুলে দেয়।
যে ব্যক্তি হতাশ, তাকে সে বলে—
“তোমার আর ক্ষমা নেই।”
যে ব্যক্তি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় পায়, তাকে বলে—
“আল্লাহর ওপর ভরসা করে কী হবে? আগে নিজের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করো।”
যে ব্যক্তি গুনাহ করতে চায়, তাকে বলে—
“এটা তো সামান্য ব্যাপার।”
আর সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গায় এসে বলে—
“পরে তাওবা করে নিও।”
এভাবেই একটি দুর্বল ষড়যন্ত্র আমাদের কাছে ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
শয়তান প্রথমে গুনাহকে ছোট করে দেখায়
সে সাধারণত বলে না—
“এসো, তোমার জীবন ধ্বংস করে দিই।”
বরং বলে—
“একবার করলেই বা কী হবে?”
একবার থেকে অভ্যাস।
অভ্যাস থেকে আসক্তি।
আসক্তি থেকে অন্তরের কঠিনতা।
আর একসময় মানুষ সেই গুনাহকে গুনাহ বলেই মনে করে না।
এটাই শয়তানের কৌশল।
তাই কোনো গুনাহকে ছোট করে দেখবেন না। ছোট আগুনও বড় ঘর পুড়িয়ে দিতে পারে।
কিন্তু মুমিনের হাতে একটি শক্তিশালী অস্ত্র আছে। আর তা হলো আল্লাহর স্মরণ।
শয়তান যখন কুমন্ত্রণা দেয়, মুমিন যখন বলে—
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
“আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই।”
তখন সে বুঝতে পারে—
এই বান্দা আমার ওপর নির্ভর করছে না; তার একজন রব আছেন।
কুরআনও বলে, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের যখন শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের দৃষ্টি খুলে যায়।
— সূরা আল-আ'রাফ: ২০১।
আরেকটি ভয়ংকর কৌশল— হতাশা।
শয়তান শুধু গুনাহে ডাকে না; গুনাহের পর আল্লাহর রহমত থেকে হতাশও করতে চায়।
আপনি ভুল করেছেন?
সে বলবে—
“তুমি আর ভালো হতে পারবে না।”
আপনি বারবার পড়ে যাচ্ছেন?
সে বলবে—
“তোমার তাওবা করে লাভ কী?”
কিন্তু এটি শয়তানের আরেকটি প্রতারণা।
কারণ আল্লাহ বলেছেন—
“আল্লাহর রহমত থেকে তোমরা নিরাশ হয়ো না।”
— সূরা আয-যুমার: ৫৩।
তাই মনে রাখুন—
গুনাহ করে পড়ে যাওয়া আপনার পরাজয় নয়; পড়ে গিয়ে আর না ওঠাই প্রকৃত পরাজয়।
এই আয়াতটি তাই সাহসের আয়াত বলা চলে।
আপনি যদি কোনো গুনাহের সঙ্গে লড়াই করেন, মনে রাখুন—
শয়তান আপনার চেয়ে শক্তিশালী নয়।
আপনি যদি হারাম কোনো অভ্যাস ছাড়তে চান—
আপনি পারবেন, ইনশাআল্লাহ।
আপনি যদি দীর্ঘদিনের গাফিলতি থেকে ফিরে আসতে চান—
আজই শুরু করতে পারেন।
আপনি যদি তাওবা করে আবার পড়ে যান—
আবার তাওবা করুন।
আল্লাহর দরজায় ফিরে আসতে লজ্জা করবেন না।
কারণ শয়তান চায় আপনি ভাবুন—
“আমি শেষ।”
আর আল্লাহর রহমত আপনাকে শেখায়—
“ফিরে এসো।”
এবার একটু নিজের দিকে তাকাই!
আমার জীবনে শয়তানের সবচেয়ে বেশি প্রবেশ কোন দরজা দিয়ে?
রাগ?
অহংকার?
লোভ?
কামনা?
অলসতা?
হিংসা?
নাকি দীর্ঘ আশা?
যে দরজাটি দিয়ে সে বারবার প্রবেশ করে, সেই দরজাটিই বন্ধ করতে হবে।
✅ নামাজ ঠিক করুন।
✅ কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ুন।
✅ যিকর বাড়ান।
✅ হারামের পথ বন্ধ করুন।
✅ সৎ মানুষের সঙ্গ নিন।
✅ গুনাহের পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন।
আর প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
কারণ শয়তানের কৌশল দুর্বল—
কিন্তু গাফেল হৃদয় সেই দুর্বল কৌশলকেও ভয়ংকর করে তোলে।
আপনি শয়তানের হাতে বন্দী নন। আপনার সামনে তাওবার দরজা আছে। আপনার হাতে দোয়া আছে। আপনার জিহ্বায় যিকর আছে। আপনার সামনে কুরআন আছে।
আপনার রব আছেন।
তাই শয়তানের কুমন্ত্রণাকে নিজের ভাগ্য মনে করবেন না।
যে কণ্ঠ আপনাকে গুনাহের দিকে ডাকে, সেটিই আপনার পরিচয় নয়।
আপনি তার চেয়েও বড়—কারণ আপনি আল্লাহর বান্দা।
আর আপনার রব ঘোষণা করেছেন—
“নিশ্চয়ই শয়তানের ষড়যন্ত্র দুর্বল।”
তাই আজ থেকে শয়তানকে ভয় নয়—
আল্লাহর ওপর ভরসা করুন।
যখন সে বলবে, “তুমি পারবে না,”
আপনার হৃদয় বলুক—
“আমার রব আমার সঙ্গে আছেন।”
যখন সে বলবে, “তোমার তাওবার আর মূল্য নেই,”
আপনি বলুন—
“আমার রব পরম ক্ষমাশীল।”
আর যখন সে আপনাকে গুনাহের দিকে ডাকবে—
একবার শুধু মনে করুন:
“ইন্না কাইদাশ শাইতানি কানা দাঈফা—নিশ্চয়ই শয়তানের ষড়যন্ত্র দুর্বল।”
❤8🥰2
Forwarded from Focused
চাচাতো ভাই বিপদে পড়ে টাকা চাইল, আপনি দিলেন। লজ্জায় কিছু লিখে রাখেননি। এক বছর পর সে বলে কত দিয়েছিলেন মনে নেই। টাকাও গেল, সম্পর্কও নষ্ট হলো।
কুরআনের সবচেয়ে দীর্ঘ আয়াত, সূরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াত, এই বিষয় নিয়েই। শুরুতেই আল্লাহ বলেছেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ
উচ্চারণ: ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানূ ইযা তাদায়ানতুম বিদাইনিন ইলা আজালিম মুসাম্মান ফাকতুবূহ।
অর্থ: হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো। সূরা বাকারা, আয়াত ২৮২।
এখানে শব্দটা فَاكْتُبُوهُ, উচ্চারণ ফাকতুবূহ, মানে লিখে রাখো। একই আয়াতের শেষে আল্লাহ কারণটাও বলে দিয়েছেন: লিখে রাখলে সাক্ষ্য মজবুত হয়, আর পরে সন্দেহ তৈরি হয় না।
মানে লিখে রাখা অবিশ্বাস না, বরং সম্পর্ক রক্ষার উপায়। কারণ মানুষ ভুলে যায়, আর ভুল থেকেই ভুল বোঝাবুঝি হয়।
পরের বার কাউকে ধার দিলে, সে যত আপনই হোক, টাকার পরিমাণ, তারিখ আর ফেরত দেওয়ার সময় লিখে রাখুন। একটা খাতায় বা ফোনের নোটে লিখে দুজনই একবার দেখে নিন, এতেই যথেষ্ট।
এতে সম্পর্ক ভাঙ্গে না, বরং টিকে থাকে।
কুরআনের সবচেয়ে দীর্ঘ আয়াত, সূরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াত, এই বিষয় নিয়েই। শুরুতেই আল্লাহ বলেছেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ
উচ্চারণ: ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানূ ইযা তাদায়ানতুম বিদাইনিন ইলা আজালিম মুসাম্মান ফাকতুবূহ।
অর্থ: হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো। সূরা বাকারা, আয়াত ২৮২।
এখানে শব্দটা فَاكْتُبُوهُ, উচ্চারণ ফাকতুবূহ, মানে লিখে রাখো। একই আয়াতের শেষে আল্লাহ কারণটাও বলে দিয়েছেন: লিখে রাখলে সাক্ষ্য মজবুত হয়, আর পরে সন্দেহ তৈরি হয় না।
মানে লিখে রাখা অবিশ্বাস না, বরং সম্পর্ক রক্ষার উপায়। কারণ মানুষ ভুলে যায়, আর ভুল থেকেই ভুল বোঝাবুঝি হয়।
পরের বার কাউকে ধার দিলে, সে যত আপনই হোক, টাকার পরিমাণ, তারিখ আর ফেরত দেওয়ার সময় লিখে রাখুন। একটা খাতায় বা ফোনের নোটে লিখে দুজনই একবার দেখে নিন, এতেই যথেষ্ট।
এতে সম্পর্ক ভাঙ্গে না, বরং টিকে থাকে।
👍2❤1