পরীক্ষা নিয়ে আপনাদের লেখাগুলো পড়ছিলাম। ভয় পাবেন না, আমাদের সবারই এমন হয়।
আমার সৌদি আরবের জীবনের প্রথম পরীক্ষার ডেট দুইদিন এগিয়ে আসলো। উস্তাজা ফোন দিয়ে বললেন সেদিনই পরীক্ষা! আমার প্ল্যান করে পড়ার অভ্যাস। আলে ইমরান তো শেষ। কিন্তু সূরা আন নিসা টা পড়বো কখন? পরীক্ষা দিতে যেয়ে দেখি একেকজন রুমে যায়, পরীক্ষা দিয়ে মুখ লাল করে বের হয়। নিজেও বের হওয়ার সময় বুঝলাম মুখটা টেনশনে লাল হয়ে আছে! এক বান্ধবী বললো, "দুনিয়ার পরীক্ষায় আমাদের অবস্থা দেখো। কিয়ামতের দিন কী হবে!"
আরেক পরীক্ষায় উস্তাজা বললেন সূরা আল বাকারার যেকোনো জায়গা থেকে পড়তে। আমার মাথা পুরা ব্ল্যাংক হয়ে গেল। সব কমন আয়াত বাদ দিয়ে যেই আয়াতে আমার সবচেয়ে বেশী ভুল হয়, ওটা পড়তে শুরু করলাম। ভুল তো করলামই। পরীক্ষার পর পিচ্চি এক সহপাঠী, বললো সে আয়াতুল কুরসী পড়েছে। কাজ শেষ! আমার মনে হলো, "আয়াতুল কুরসী বলে যে সূরা বাকারার একটা আয়াত আছে, ভুলে গেলাম কেমনে??"
প্রথমবার সনদের পড়া দেয়ার সময়, পুরা কুরআন শেষে সূরা বুরুজে পৌঁছে আর কিছুতেই মাথায় আসছে না শুরুটা। বার বার বলছি "ইজা আস সামা" আর উস্তাজা মাথা নাড়ছেন। আমার মেয়ে আর উস্তাজার মেয়ে ফিক ফিক করে হাসছে। শেষ পর্যন্ত মনে করতে পারিনি!
আরেকদিন ক্লাসে যাওয়ার আগে মেয়েকে গাড়িতে পড়া দিব সূরা আর রুম। বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলাম তাজউইদ সহ "রুঊঊম"। মেয়ে বিরক্ত হয়ে বললো "এই আয়াতটা কই পেলে!"
আরেকবার আরেকজনের গল্প শুনেছিলাম যে গোটা কুরআন পড়া দিয়ে সূরা ইখলাসে এসে আটকে গেছেন। সবাই কেঁদেছিলেন সেদিন, আল্লাহ তৌফিক না দিলে চিরপরিচিত সূরা ও কঠিন!
টিচার্স ট্রেনিংয়ের প্রথম পরীক্ষায় উস্তাজা আমাকে একটা কথা বলেছিলেন। আপনাদেরও বলে রাখছি। বলেছিলেন,
"নায়লা, এই পরীক্ষা তোমারও মূল লক্ষ্য না। আমারও না। এই পরীক্ষা আমাদের মূল লক্ষ্যে পৌঁছানোর মাধ্যম মাত্র।"
এরপর থেকে মনটা অনেক ঠান্ডা হয়েছে পরীক্ষা নিয়ে।
হিফজের যাত্রা- এই সমস্ত টক ঝাল মিষ্টি নিয়েই। আল্লাহ যেন যাত্রার শেষটা অনেক মিষ্টি করেন। আখিরাতে।
~ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে উস্তাযা নায়লা নুযহাত এর বলা কিছু কথা
আমার সৌদি আরবের জীবনের প্রথম পরীক্ষার ডেট দুইদিন এগিয়ে আসলো। উস্তাজা ফোন দিয়ে বললেন সেদিনই পরীক্ষা! আমার প্ল্যান করে পড়ার অভ্যাস। আলে ইমরান তো শেষ। কিন্তু সূরা আন নিসা টা পড়বো কখন? পরীক্ষা দিতে যেয়ে দেখি একেকজন রুমে যায়, পরীক্ষা দিয়ে মুখ লাল করে বের হয়। নিজেও বের হওয়ার সময় বুঝলাম মুখটা টেনশনে লাল হয়ে আছে! এক বান্ধবী বললো, "দুনিয়ার পরীক্ষায় আমাদের অবস্থা দেখো। কিয়ামতের দিন কী হবে!"
আরেক পরীক্ষায় উস্তাজা বললেন সূরা আল বাকারার যেকোনো জায়গা থেকে পড়তে। আমার মাথা পুরা ব্ল্যাংক হয়ে গেল। সব কমন আয়াত বাদ দিয়ে যেই আয়াতে আমার সবচেয়ে বেশী ভুল হয়, ওটা পড়তে শুরু করলাম। ভুল তো করলামই। পরীক্ষার পর পিচ্চি এক সহপাঠী, বললো সে আয়াতুল কুরসী পড়েছে। কাজ শেষ! আমার মনে হলো, "আয়াতুল কুরসী বলে যে সূরা বাকারার একটা আয়াত আছে, ভুলে গেলাম কেমনে??"
প্রথমবার সনদের পড়া দেয়ার সময়, পুরা কুরআন শেষে সূরা বুরুজে পৌঁছে আর কিছুতেই মাথায় আসছে না শুরুটা। বার বার বলছি "ইজা আস সামা" আর উস্তাজা মাথা নাড়ছেন। আমার মেয়ে আর উস্তাজার মেয়ে ফিক ফিক করে হাসছে। শেষ পর্যন্ত মনে করতে পারিনি!
আরেকদিন ক্লাসে যাওয়ার আগে মেয়েকে গাড়িতে পড়া দিব সূরা আর রুম। বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলাম তাজউইদ সহ "রুঊঊম"। মেয়ে বিরক্ত হয়ে বললো "এই আয়াতটা কই পেলে!"
আরেকবার আরেকজনের গল্প শুনেছিলাম যে গোটা কুরআন পড়া দিয়ে সূরা ইখলাসে এসে আটকে গেছেন। সবাই কেঁদেছিলেন সেদিন, আল্লাহ তৌফিক না দিলে চিরপরিচিত সূরা ও কঠিন!
টিচার্স ট্রেনিংয়ের প্রথম পরীক্ষায় উস্তাজা আমাকে একটা কথা বলেছিলেন। আপনাদেরও বলে রাখছি। বলেছিলেন,
"নায়লা, এই পরীক্ষা তোমারও মূল লক্ষ্য না। আমারও না। এই পরীক্ষা আমাদের মূল লক্ষ্যে পৌঁছানোর মাধ্যম মাত্র।"
এরপর থেকে মনটা অনেক ঠান্ডা হয়েছে পরীক্ষা নিয়ে।
হিফজের যাত্রা- এই সমস্ত টক ঝাল মিষ্টি নিয়েই। আল্লাহ যেন যাত্রার শেষটা অনেক মিষ্টি করেন। আখিরাতে।
~ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে উস্তাযা নায়লা নুযহাত এর বলা কিছু কথা
✍3
মক্কার একজন আলেম ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘর থেকে বের হলেন।
রাস্তায় খুঁজে পেলেন একটি ব্যাগ। ব্যাগটা নিয়ে ঘরে আসলেন। খুলে দেখলেন সেটাতে একটি হীরার নেকলেস!
তিনি বলেন, এমন নেকলেস আমি আমার জীবনে দেখিনি। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি কয়েকশো কোটি টাকার মালিক!
কিছুক্ষণ পর দরজায় একজন নক করলো। তিনি দরজা খুললেন। একজন বৃদ্ধ বললো, "আমি আমার একটি ব্যাগ হারিয়ে ফেলছি। সম্ভবত আশেপাশের কোথাও পড়েছে। কেউ যদি ব্যাগটি পেয়ে থাকেন, তাকে আমি ৫০০ দিনার দেবো।"
৫০০ দিনার মানে কয়েক কোটি টাকা!
যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাস্তায় বের হলেন, তিনি হীরা পেলেন, হীরা ফেরত দেবার বিনিময়ে কোটি টাকার অফার পেলেন, সেই ব্যক্তি আমাদের কাছে অনেক সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে না?
কিন্তু, তিনি ভাবলেন অন্য কিছু। তিনি ভাবলেন, এই হীরার মালিক আমি নই, এগুলোর বিনিময়ে ৫০০ দিনার গ্রহণ করা আমার জন্য ঠিক হবে না।
ফলে, বৃদ্ধকে হীরার থলেটি ফিরিয়ে দিলেন।
মক্কায় জ্ঞানার্জন করতে লাগলেন। এভাবেই কয়েক বছর কেটে গেলো।
একবার তিনি কয়েকজনের সাথে ভ্রমণে বের হলেন। নৌকায় ভ্রমণ করছিলেন। মাঝপথে ঝড় ওঠে। নৌকা ডুবে যায়, প্রায় সবাই মৃত্যুবরণ করে।
সেই আলেম কোনোরকম একটা তীরে ফিরেন। অপরিচিত দ্বীপে গিয়ে কয়েকজনের সাথে কথাবার্তা বললেন। তখন নামাজের সময় হলো।
একজন তার পোশাক দেখে জিজ্ঞেস করলো, "আপনি নামাজ পড়াতে পারবেন?"
তিনি বললেন, "হ্যাঁ, পারবো।"
তার তেলাওয়াত শুনে সবাই মুগ্ধ। তাকে তারা ইমাম হিশেবে রেখে দিলো। তিনি কুরআন পড়তে পারতেন। সেখানকার বাচ্চাদের কুরআন শেখাতে লাগলেন।
প্রতিদিন নানান উপহার-উপঢৌকন আসতে থাকে। দ্বীপের লোকেরা ইমাম সাহেবকে ছাড়তে রাজি না। এমন ইমাম পেয়ে তারা খুব খুশি।
তিনিও ভাবতে লাগলেন, কই থেকে কই আসলেন? একেবারে অপরিচিত এলাকার মানুষ তাকে আপন করে নিলো। আল্লাহ তার রিযিকের কী সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন!
ইমাম সাহেব যেন তাদেরকে ছেড়ে যেতে না পারেন, সেজন্য তারা একজন ইয়াতিম মেয়ের সাথে ইমামের বিয়ে দিতে চাইলো। অনেকটা জোর করেই বিয়ে দিলো!
ইমাম সাহেব বাসর রাতে স্ত্রীকে দেখে অবাক। তিনি দেখতে পেলেন স্ত্রীর গলায় সেই হীরার নেকলেস, যেটা তিনি মক্কায় ফেরত দিয়েছিলেন বৃদ্ধকে!
পরদিন লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কীভাবে সম্ভব?
লোকজন চিৎকার করে বললো, "আল্লাহু আকবর!"
এমন চিৎকারে ইমাম সাহেব ভয় পেয়ে গেলেন।
লোকজন বললো, "কয়েকবছর আগে আমাদের এলাকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মক্কা থেকে ফিরে একটি ঘটনা শুনান। সেখানে এক যুবক তার হারিয়ে যাওয়া হীরের নেকলেস ফেরত দিয়েছে, যা তিনি নিজের মেয়ের জন্য কিনেছিলেন।
এলাকায় ফিরে তিনি আফসোস করতে থাকেন সেই যুবকের জন্য। তিনি ইচ্ছাপোষণ করেন সেই যুবকের সাথে মেয়ের বিয়ে দেবেন।
কিন্তু, তার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন!
দেখুন, আপনার তাকদীর, সেই সম্ভ্রান্ত লোকের দু'আ আপনাকে এখানে নিয়ে আসলো। আপনি সেই মেয়েকেই বিয়ে করেন, যার জন্য সেই মেয়ের বাবা দু'আ করে যান। যেই হীরার নেকলেস আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, এখন সেই নেকলেস আপনার ঘরে!"
সেই মহান আলেমের নাম ছিলো কাদিল মারিস্তান।
তার মনে পড়লো কুরআনের একটি আয়াত:
"ধৈর্যধারণ করো। আল্লাহ পুণ্যবানদের প্রতিদান নষ্ট করেন না!" [সূরা হুদ: ১১৫]
{আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ: ৯/৬২১, হায়াতুস সাহাবা: ৪/৫১৫, তারিখে তাবারি: ৩/৩৩, কিতাবুয যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলা: ৩/১৯৩}
রাস্তায় খুঁজে পেলেন একটি ব্যাগ। ব্যাগটা নিয়ে ঘরে আসলেন। খুলে দেখলেন সেটাতে একটি হীরার নেকলেস!
তিনি বলেন, এমন নেকলেস আমি আমার জীবনে দেখিনি। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি কয়েকশো কোটি টাকার মালিক!
কিছুক্ষণ পর দরজায় একজন নক করলো। তিনি দরজা খুললেন। একজন বৃদ্ধ বললো, "আমি আমার একটি ব্যাগ হারিয়ে ফেলছি। সম্ভবত আশেপাশের কোথাও পড়েছে। কেউ যদি ব্যাগটি পেয়ে থাকেন, তাকে আমি ৫০০ দিনার দেবো।"
৫০০ দিনার মানে কয়েক কোটি টাকা!
যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাস্তায় বের হলেন, তিনি হীরা পেলেন, হীরা ফেরত দেবার বিনিময়ে কোটি টাকার অফার পেলেন, সেই ব্যক্তি আমাদের কাছে অনেক সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে না?
কিন্তু, তিনি ভাবলেন অন্য কিছু। তিনি ভাবলেন, এই হীরার মালিক আমি নই, এগুলোর বিনিময়ে ৫০০ দিনার গ্রহণ করা আমার জন্য ঠিক হবে না।
ফলে, বৃদ্ধকে হীরার থলেটি ফিরিয়ে দিলেন।
মক্কায় জ্ঞানার্জন করতে লাগলেন। এভাবেই কয়েক বছর কেটে গেলো।
একবার তিনি কয়েকজনের সাথে ভ্রমণে বের হলেন। নৌকায় ভ্রমণ করছিলেন। মাঝপথে ঝড় ওঠে। নৌকা ডুবে যায়, প্রায় সবাই মৃত্যুবরণ করে।
সেই আলেম কোনোরকম একটা তীরে ফিরেন। অপরিচিত দ্বীপে গিয়ে কয়েকজনের সাথে কথাবার্তা বললেন। তখন নামাজের সময় হলো।
একজন তার পোশাক দেখে জিজ্ঞেস করলো, "আপনি নামাজ পড়াতে পারবেন?"
তিনি বললেন, "হ্যাঁ, পারবো।"
তার তেলাওয়াত শুনে সবাই মুগ্ধ। তাকে তারা ইমাম হিশেবে রেখে দিলো। তিনি কুরআন পড়তে পারতেন। সেখানকার বাচ্চাদের কুরআন শেখাতে লাগলেন।
প্রতিদিন নানান উপহার-উপঢৌকন আসতে থাকে। দ্বীপের লোকেরা ইমাম সাহেবকে ছাড়তে রাজি না। এমন ইমাম পেয়ে তারা খুব খুশি।
তিনিও ভাবতে লাগলেন, কই থেকে কই আসলেন? একেবারে অপরিচিত এলাকার মানুষ তাকে আপন করে নিলো। আল্লাহ তার রিযিকের কী সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন!
ইমাম সাহেব যেন তাদেরকে ছেড়ে যেতে না পারেন, সেজন্য তারা একজন ইয়াতিম মেয়ের সাথে ইমামের বিয়ে দিতে চাইলো। অনেকটা জোর করেই বিয়ে দিলো!
ইমাম সাহেব বাসর রাতে স্ত্রীকে দেখে অবাক। তিনি দেখতে পেলেন স্ত্রীর গলায় সেই হীরার নেকলেস, যেটা তিনি মক্কায় ফেরত দিয়েছিলেন বৃদ্ধকে!
পরদিন লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কীভাবে সম্ভব?
লোকজন চিৎকার করে বললো, "আল্লাহু আকবর!"
এমন চিৎকারে ইমাম সাহেব ভয় পেয়ে গেলেন।
লোকজন বললো, "কয়েকবছর আগে আমাদের এলাকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মক্কা থেকে ফিরে একটি ঘটনা শুনান। সেখানে এক যুবক তার হারিয়ে যাওয়া হীরের নেকলেস ফেরত দিয়েছে, যা তিনি নিজের মেয়ের জন্য কিনেছিলেন।
এলাকায় ফিরে তিনি আফসোস করতে থাকেন সেই যুবকের জন্য। তিনি ইচ্ছাপোষণ করেন সেই যুবকের সাথে মেয়ের বিয়ে দেবেন।
কিন্তু, তার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন!
দেখুন, আপনার তাকদীর, সেই সম্ভ্রান্ত লোকের দু'আ আপনাকে এখানে নিয়ে আসলো। আপনি সেই মেয়েকেই বিয়ে করেন, যার জন্য সেই মেয়ের বাবা দু'আ করে যান। যেই হীরার নেকলেস আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, এখন সেই নেকলেস আপনার ঘরে!"
সেই মহান আলেমের নাম ছিলো কাদিল মারিস্তান।
তার মনে পড়লো কুরআনের একটি আয়াত:
"ধৈর্যধারণ করো। আল্লাহ পুণ্যবানদের প্রতিদান নষ্ট করেন না!" [সূরা হুদ: ১১৫]
{আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ: ৯/৬২১, হায়াতুস সাহাবা: ৪/৫১৫, তারিখে তাবারি: ৩/৩৩, কিতাবুয যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলা: ৩/১৯৩}
👍4👌3
01. Bn Seerah Personality of Prophet Muhammad saw
Rain Drops Media
اللهم صل على محمد و على ال محمد كما صليت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.
اللهم بارك على محمد و على ال محمد كما باركت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.
اللهم بارك على محمد و على ال محمد كما باركت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.
💊3
আপনার কুরআনে ধুলোর আস্তরণ জমে থাকলে, আপনার ক্বলব ও জীবনেরও একই অবস্থা হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
লেখা: শাইখ আহমাদ মুসা জিবরীল (হাফিজ.)
লেখা: শাইখ আহমাদ মুসা জিবরীল (হাফিজ.)
💯4
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
আপনি কুরআন পড়লে পুরাটা দিন যে বরকত লাভ করবেন......
ওয়েবসাইটঃ
https://muslimbangla.com/masail/171848
নিয়মিত সদাকাহ করতে না পারলে অন্তরের খারাপ লাগা কি সুন্নাহসম্মত?
https://muslimbangla.com/masail/171848
নিয়মিত সদাকাহ করতে না পারলে অন্তরের খারাপ লাগা কি সুন্নাহসম্মত?
👍3
02. Bn Seerah Why Study Seerah and it's Sources
Rain Drops Media
اللهم صل على محمد و على ال محمد كما صليت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.
اللهم بارك على محمد و على ال محمد كما باركت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.
اللهم بارك على محمد و على ال محمد كما باركت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.
🔥2
শাইখ আল-আলবানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
“একজন নারীর জন্য সর্বোত্তম পোশাক হলো কালো রঙের পোশাক। কারণ, এতে অধিক গাম্ভীর্য ও শালীনতা রয়েছে এবং সাজসজ্জা থেকে দূরে থাকা যায়। সাহাবিগণের নারীদের মধ্যে এ ধরনের পোশাকই ছিল অধিক প্রচলিত।”
“একজন নারীর জন্য সর্বোত্তম পোশাক হলো কালো রঙের পোশাক। কারণ, এতে অধিক গাম্ভীর্য ও শালীনতা রয়েছে এবং সাজসজ্জা থেকে দূরে থাকা যায়। সাহাবিগণের নারীদের মধ্যে এ ধরনের পোশাকই ছিল অধিক প্রচলিত।”
সূত্র: জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাহ, পৃষ্ঠা ১২১/১২৪।
🔥5
কিছু শব্দ। পাঠককে জানানো হয় যে ইবরাহীম আত্মসমর্পণ করেছেন, কিন্তু কখনোই কত তাৎক্ষণিকভাবে। দুটি জিনিস উবে যায়: যে সংযোজকহীন গঠন আহ্বান ও জবাবকে এক করে দেয়, আর যে সম্পন্ন-কালের ক্রিয়া আত্মসমর্পণকে ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ ঘোষণা করে। ব্যাকরণ ছাড়া আপনি পড়েন এক ভদ্র জবাব; ব্যাকরণসহ আপনি দেখেন এক ব্যক্তি তার রবের কাছে আত্মসমর্পণ করছেন একটিমাত্র শব্দ উচ্চারণের চেয়েও দ্রুত। জরুরি ভাবটা শব্দের অর্থে নেই — তা আছে শব্দের ব্যাকরণে। ব্যাকরণ হারালে মূল কথাটাই হারাবেন।
অংশ ২ — ইবরাহীম থেকে শিক্ষা
আমরা অধিকাংশই যেভাবে জবাব দিই
এখানে এক অস্বস্তিকর আয়না। যখন আল্লাহর কোনো স্পষ্ট আদেশ আমাদের কাছে পৌঁছায় — সময়মতো সালাত পড়ো, এই হারাম ছাড়ো, তাকে ক্ষমা করো, সদকা দাও, দৃষ্টি নামাও — আমাদের অধিকাংশই আসলামতু বলি না। আমরা একটি সংযোজক ঢুকিয়ে দিই। আমরা কার্যত বলি, “…সুম্মা“ — “করব, পরে।“ “এই পর্বটা শেষ করে।” “আরেকটু বড় হয়ে।” “রমজানের পরে।” “জীবন একটু থিতু হলে।” আমরা বর্তমান এক আদেশের জবাব দিই ভবিষ্যৎ ক্রিয়ায় — সা-উসলিম, “করে নেব” — আর শোনা ও মানার মাঝের ফাঁকটা ভরে ওঠে দরকষাকষি, শর্ত আর বিলম্বে। আরবিতে এই রোগের একটি নাম আছে: التَّسْويف (আত-তাসবীফ) — অন্তহীন “সাওফা,” সেই “করব-করব” যা কখনো সত্যিই আসে না।
ইবরাহীম সেই ফাঁকে কিছুই রাখেননি। না সুম্মা। না সাওফা। না কোনো শর্ত। আসলামতু — হয়ে গেছে।
তাঁর দ্রুততা অবিবেচনা ছিল না — ছিল দৃঢ় প্রত্যয়
এটা দেখা জরুরি যে তিনি কেন এত দ্রুত জবাব দিতে পারলেন। তিনি কেবল আসলামতু বলেননি; তিনি বলেছেন أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ — “আমি আত্মসমর্পণ করলাম জগৎসমূহের রবের কাছে।“ যাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করছেন, তাঁর নাম তিনি নিলেন। তাঁর তাৎক্ষণিকতা ছিল না কোনো চিন্তাহীন প্রতিবর্ত; তা ছিল ঠিক কে আদেশ করছেন তা জানার ফল। যখন আপনি নিশ্চিত যে জগৎসমূহের রবই কথা বলছেন, তখন দ্বিধার কোনো জায়গাই থাকে না — বিলম্বের কোনো মানেই হয় না। তাই শিক্ষাটা “না ভেবে প্রতিক্রিয়া দেখাও” নয়। বরং উল্টোটা: আপনি যত সত্যিকারভাবে আপনার রবকে চিনবেন, তাঁর আদেশ ও আপনার আনুগত্যের মাঝের জায়গা তত ছোট হবে — যতক্ষণ না ইবরাহীমের মতো এক হৃদয়ের কাছে কোনো জায়গাই আর অবশিষ্ট থাকে না।
আসলামতু দিয়ে গড়া এক গোটা জীবন
এটি ছিল না একবারের কোনো বাক্য। এটি ছিল ইবরাহীমের গোটা চরিত্র। একই মূল — আসলামা — ফিরে আসে তাঁর জীবনের কঠিনতম পরীক্ষায়: যখন পুত্রকে কুরবানির আদেশ হলো, “ফালাম্মা আসলামা“ — “যখন তারা উভয়েই আত্মসমর্পণ করল“ (সাফফাত ৩৭:১০৩), আবারও কোনো টানাপোড়েন ছাড়াই, আবারও পূর্ণভাবে। আর এটিই সেই উত্তরাধিকার, যা তিনি জরুরিভাবে তুলে দিয়েছেন সন্তানদের হাতে শেষ নিঃশ্বাসে (২:১৩২): মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না। ২:১৩১-এর এক ছোট্ট ব্যাকরণিক বিশদ — একটি অনুপস্থিত সংযোজক ও একটি সম্পন্ন-কালের ক্রিয়া — সেই মানুষের বীজ, যাঁকে কুরআন একাই একটি উম্মাহ বলে অভিহিত করেছে (১৬:১২০)।
আমাদের জন্য প্রশ্ন
তাই শিক্ষাটা এসে দাঁড়ায় এক প্রশ্নে, যার সৎ জবাব আমাদের প্রত্যেককে দিতে হবে: আমার জীবনের কোথায় আমি আল্লাহর আদেশ ও আমার জবাবের মাঝে একটি সুম্মা বসিয়ে রেখেছি? কোন আনুগত্যের জবাব আমি “করেছি”-র বদলে “করব” দিয়ে দিচ্ছি? ইবরাহীমের আসলামতু-ই সেই মানদণ্ড — আর সেই আহ্বান।
সারকথা
জরুরি ভাবটা থাকে ব্যাকরণে, অভিধানে নয়। আয়াতটি আদেশ ও জবাবকে এক করে দেয় কোনো সংযোজক ছাড়াই (আল-ফাসল লিকামালিল ইত্তিসাল), আর একটি আদেশের জবাব দেয় সম্পন্ন কালে (আসলামতু, “হয়ে গেছে”)। অনুবাদে দুটোই হারায়।
এমনকি ফা-এর চেয়েও দ্রুত। আমরা শিখেছি ফা মানে “ঠিক পরপরই”; এখানে কোনো “পরে”-ই নেই — আত্মসমর্পণ আর আদেশ এক গতি।
আমাদের স্বভাব তাসবীফ — সেই “পরে” যা কখনো আসে না। আমরা আল্লাহকে জবাব দিই সা-উসলিম (“করব”) দিয়ে আর ফাঁকটা ভরি বিলম্বে; ইবরাহীম তা ভরেছেন কিছু না দিয়ে।
সত্যিকার তাৎক্ষণিকতা জন্ম নেয় সত্যিকার মা’রিফাহ থেকে। তাঁর দ্রুততা এসেছে কে আদেশ করছেন তা জানা থেকে — রাব্বুল আলামীন। আল্লাহকে চেনাই ফাঁকটা মুছে দেয়।
নিজের সুম্মা খুঁজে দেখুন। ব্যবহারিক শিক্ষা হলো, খুঁজে বের করা কোথায় আমরা স্পষ্ট আদেশকে “করব” বলি, আর শেখা “করেছি” বলতে।
অংশ ২ — ইবরাহীম থেকে শিক্ষা
আমরা অধিকাংশই যেভাবে জবাব দিই
এখানে এক অস্বস্তিকর আয়না। যখন আল্লাহর কোনো স্পষ্ট আদেশ আমাদের কাছে পৌঁছায় — সময়মতো সালাত পড়ো, এই হারাম ছাড়ো, তাকে ক্ষমা করো, সদকা দাও, দৃষ্টি নামাও — আমাদের অধিকাংশই আসলামতু বলি না। আমরা একটি সংযোজক ঢুকিয়ে দিই। আমরা কার্যত বলি, “…সুম্মা“ — “করব, পরে।“ “এই পর্বটা শেষ করে।” “আরেকটু বড় হয়ে।” “রমজানের পরে।” “জীবন একটু থিতু হলে।” আমরা বর্তমান এক আদেশের জবাব দিই ভবিষ্যৎ ক্রিয়ায় — সা-উসলিম, “করে নেব” — আর শোনা ও মানার মাঝের ফাঁকটা ভরে ওঠে দরকষাকষি, শর্ত আর বিলম্বে। আরবিতে এই রোগের একটি নাম আছে: التَّسْويف (আত-তাসবীফ) — অন্তহীন “সাওফা,” সেই “করব-করব” যা কখনো সত্যিই আসে না।
ইবরাহীম সেই ফাঁকে কিছুই রাখেননি। না সুম্মা। না সাওফা। না কোনো শর্ত। আসলামতু — হয়ে গেছে।
তাঁর দ্রুততা অবিবেচনা ছিল না — ছিল দৃঢ় প্রত্যয়
এটা দেখা জরুরি যে তিনি কেন এত দ্রুত জবাব দিতে পারলেন। তিনি কেবল আসলামতু বলেননি; তিনি বলেছেন أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ — “আমি আত্মসমর্পণ করলাম জগৎসমূহের রবের কাছে।“ যাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করছেন, তাঁর নাম তিনি নিলেন। তাঁর তাৎক্ষণিকতা ছিল না কোনো চিন্তাহীন প্রতিবর্ত; তা ছিল ঠিক কে আদেশ করছেন তা জানার ফল। যখন আপনি নিশ্চিত যে জগৎসমূহের রবই কথা বলছেন, তখন দ্বিধার কোনো জায়গাই থাকে না — বিলম্বের কোনো মানেই হয় না। তাই শিক্ষাটা “না ভেবে প্রতিক্রিয়া দেখাও” নয়। বরং উল্টোটা: আপনি যত সত্যিকারভাবে আপনার রবকে চিনবেন, তাঁর আদেশ ও আপনার আনুগত্যের মাঝের জায়গা তত ছোট হবে — যতক্ষণ না ইবরাহীমের মতো এক হৃদয়ের কাছে কোনো জায়গাই আর অবশিষ্ট থাকে না।
আসলামতু দিয়ে গড়া এক গোটা জীবন
এটি ছিল না একবারের কোনো বাক্য। এটি ছিল ইবরাহীমের গোটা চরিত্র। একই মূল — আসলামা — ফিরে আসে তাঁর জীবনের কঠিনতম পরীক্ষায়: যখন পুত্রকে কুরবানির আদেশ হলো, “ফালাম্মা আসলামা“ — “যখন তারা উভয়েই আত্মসমর্পণ করল“ (সাফফাত ৩৭:১০৩), আবারও কোনো টানাপোড়েন ছাড়াই, আবারও পূর্ণভাবে। আর এটিই সেই উত্তরাধিকার, যা তিনি জরুরিভাবে তুলে দিয়েছেন সন্তানদের হাতে শেষ নিঃশ্বাসে (২:১৩২): মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না। ২:১৩১-এর এক ছোট্ট ব্যাকরণিক বিশদ — একটি অনুপস্থিত সংযোজক ও একটি সম্পন্ন-কালের ক্রিয়া — সেই মানুষের বীজ, যাঁকে কুরআন একাই একটি উম্মাহ বলে অভিহিত করেছে (১৬:১২০)।
আমাদের জন্য প্রশ্ন
তাই শিক্ষাটা এসে দাঁড়ায় এক প্রশ্নে, যার সৎ জবাব আমাদের প্রত্যেককে দিতে হবে: আমার জীবনের কোথায় আমি আল্লাহর আদেশ ও আমার জবাবের মাঝে একটি সুম্মা বসিয়ে রেখেছি? কোন আনুগত্যের জবাব আমি “করেছি”-র বদলে “করব” দিয়ে দিচ্ছি? ইবরাহীমের আসলামতু-ই সেই মানদণ্ড — আর সেই আহ্বান।
সারকথা
জরুরি ভাবটা থাকে ব্যাকরণে, অভিধানে নয়। আয়াতটি আদেশ ও জবাবকে এক করে দেয় কোনো সংযোজক ছাড়াই (আল-ফাসল লিকামালিল ইত্তিসাল), আর একটি আদেশের জবাব দেয় সম্পন্ন কালে (আসলামতু, “হয়ে গেছে”)। অনুবাদে দুটোই হারায়।
এমনকি ফা-এর চেয়েও দ্রুত। আমরা শিখেছি ফা মানে “ঠিক পরপরই”; এখানে কোনো “পরে”-ই নেই — আত্মসমর্পণ আর আদেশ এক গতি।
আমাদের স্বভাব তাসবীফ — সেই “পরে” যা কখনো আসে না। আমরা আল্লাহকে জবাব দিই সা-উসলিম (“করব”) দিয়ে আর ফাঁকটা ভরি বিলম্বে; ইবরাহীম তা ভরেছেন কিছু না দিয়ে।
সত্যিকার তাৎক্ষণিকতা জন্ম নেয় সত্যিকার মা’রিফাহ থেকে। তাঁর দ্রুততা এসেছে কে আদেশ করছেন তা জানা থেকে — রাব্বুল আলামীন। আল্লাহকে চেনাই ফাঁকটা মুছে দেয়।
নিজের সুম্মা খুঁজে দেখুন। ব্যবহারিক শিক্ষা হলো, খুঁজে বের করা কোথায় আমরা স্পষ্ট আদেশকে “করব” বলি, আর শেখা “করেছি” বলতে।
স্বামীর পবিত্রতা রক্ষা করো, হে স্ত্রী!
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
পবিত্রতার অর্থ শুধু শারীরিক সম্পর্ক নয়। প্রত্যেক স্বামীর প্রয়োজন আলাদা হয়ে থাকে। বিবাহের মূল উদ্দেশ্যই হলো—স্ত্রী যেন তার স্বামীর পবিত্রতা ও সতীত্ব অক্ষুণ্ণ রাখে।
তোমার দায়িত্ব হলো—তোমার স্বামীর সেইসব প্রয়োজন পূরণ করা, যেগুলোর মাধ্যমে সে নিজের পবিত্রতা ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে পারে। এজন্য জরুরি হলো, তুমি তার প্রয়োজনকে তার স্বভাব ও চাহিদা অনুযায়ী বুঝো, নিজের মানদণ্ডে নয়।
🔹 যদি তোমার স্বামী পবিত্রতা অনুভব করে শারীরিক সম্পর্কে, তবে তার এই প্রয়োজন পূরণ করো।
🔹 যদি সে ভালোবাসায় ভরা কথা ও আন্তরিকতায় পবিত্রতা অনুভব করে, তবে তার সঙ্গে ভালোবাসাপূর্ণ আলাপ করো।
🔹 যদি সে খাবারে তৃপ্তি ও পবিত্রতা অনুভব করে, তবে তার জন্য খাবারে বৈচিত্র্য আনো।
🔹 যদি সে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় সন্তুষ্টি অনুভব করে, তবে তোমার ঘরকে পরিপূর্ণ পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টান্ত বানাও।
🔹 যদি সে সন্তানের সুশিক্ষা ও শালীন আচরণে তৃপ্তি অনুভব করে, তবে সেই দিকেও মনোযোগ দাও।
🔹 যদি সে নিজের চেহারা-চরিত্র ও পরিবেশে প্রশান্তি খুঁজে পায়, তবে তোমার পোশাক, চুল ও বাহ্যিক সৌন্দর্যের যত্ন নাও।
🔹 যদি তোমার স্বামী চায় যে কেউ তার সঙ্গে কথা বলুক, তবে নিজেকে তার জন্য সময় দাও। শুধু ঘর, সন্তান বা রান্নাবান্নার কথা নয়, মাঝে মাঝে অন্য বিষয়ে কথোপকথন করো—যাতে সে বাইরে কারও কাছে মন খুলে বলার প্রয়োজন অনুভব না করে।
🔹 যদি তোমার স্বামী রোমান্টিক প্রকৃতির হয়, তবে তুমিও তার সঙ্গে রোমান্টিক হও। যদি সে বাস্তববাদী হয়, তবে বাস্তববাদী হও। আর যদি সে সমাজমুখী হয়, তবে তার সঙ্গে সামাজিকভাবে অংশগ্রহণ করো।
মনে রেখো, তুমি বিবাহ করেছো শুধু বিবাহ-অনুষ্ঠানের জন্য বা সাদা পোশাক পরার জন্য নয়, কিংবা শুধু নিজের একটি ঘর ও সন্তান পাওয়ার জন্যও নয়।
বিবাহ হলো একটি দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দু তোমার স্বামী।
যদি তুমি না বোঝো যে বিবাহের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তবে বিবাহ না করাই ভালো।
মনে রেখো, তোমার দায়িত্ব হলো তোমার স্বামীকে পবিত্রতা প্রদান করা—এবং এর জন্যই তুমি সওয়াব পাবে। আল্লাহ তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি কি তোমার স্বামীর পবিত্রতার যত্ন নিয়েছো?
তুমি যদি তোমার স্বামীকে পবিত্র রাখো, তাহলে গোটা সমাজ পবিত্রতার পথে চলবে।
স্বামীর প্রয়োজন তার স্বভাব ও চাহিদা অনুযায়ী পূরণ করো—নিজের বা অন্যের মানদণ্ডে নয়।
(একটি উর্দূ গ্রুপ থেকে সংগৃহিত ও অনুবাদিত)
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
পবিত্রতার অর্থ শুধু শারীরিক সম্পর্ক নয়। প্রত্যেক স্বামীর প্রয়োজন আলাদা হয়ে থাকে। বিবাহের মূল উদ্দেশ্যই হলো—স্ত্রী যেন তার স্বামীর পবিত্রতা ও সতীত্ব অক্ষুণ্ণ রাখে।
তোমার দায়িত্ব হলো—তোমার স্বামীর সেইসব প্রয়োজন পূরণ করা, যেগুলোর মাধ্যমে সে নিজের পবিত্রতা ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে পারে। এজন্য জরুরি হলো, তুমি তার প্রয়োজনকে তার স্বভাব ও চাহিদা অনুযায়ী বুঝো, নিজের মানদণ্ডে নয়।
🔹 যদি তোমার স্বামী পবিত্রতা অনুভব করে শারীরিক সম্পর্কে, তবে তার এই প্রয়োজন পূরণ করো।
🔹 যদি সে ভালোবাসায় ভরা কথা ও আন্তরিকতায় পবিত্রতা অনুভব করে, তবে তার সঙ্গে ভালোবাসাপূর্ণ আলাপ করো।
🔹 যদি সে খাবারে তৃপ্তি ও পবিত্রতা অনুভব করে, তবে তার জন্য খাবারে বৈচিত্র্য আনো।
🔹 যদি সে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় সন্তুষ্টি অনুভব করে, তবে তোমার ঘরকে পরিপূর্ণ পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টান্ত বানাও।
🔹 যদি সে সন্তানের সুশিক্ষা ও শালীন আচরণে তৃপ্তি অনুভব করে, তবে সেই দিকেও মনোযোগ দাও।
🔹 যদি সে নিজের চেহারা-চরিত্র ও পরিবেশে প্রশান্তি খুঁজে পায়, তবে তোমার পোশাক, চুল ও বাহ্যিক সৌন্দর্যের যত্ন নাও।
🔹 যদি তোমার স্বামী চায় যে কেউ তার সঙ্গে কথা বলুক, তবে নিজেকে তার জন্য সময় দাও। শুধু ঘর, সন্তান বা রান্নাবান্নার কথা নয়, মাঝে মাঝে অন্য বিষয়ে কথোপকথন করো—যাতে সে বাইরে কারও কাছে মন খুলে বলার প্রয়োজন অনুভব না করে।
🔹 যদি তোমার স্বামী রোমান্টিক প্রকৃতির হয়, তবে তুমিও তার সঙ্গে রোমান্টিক হও। যদি সে বাস্তববাদী হয়, তবে বাস্তববাদী হও। আর যদি সে সমাজমুখী হয়, তবে তার সঙ্গে সামাজিকভাবে অংশগ্রহণ করো।
মনে রেখো, তুমি বিবাহ করেছো শুধু বিবাহ-অনুষ্ঠানের জন্য বা সাদা পোশাক পরার জন্য নয়, কিংবা শুধু নিজের একটি ঘর ও সন্তান পাওয়ার জন্যও নয়।
বিবাহ হলো একটি দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দু তোমার স্বামী।
যদি তুমি না বোঝো যে বিবাহের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তবে বিবাহ না করাই ভালো।
মনে রেখো, তোমার দায়িত্ব হলো তোমার স্বামীকে পবিত্রতা প্রদান করা—এবং এর জন্যই তুমি সওয়াব পাবে। আল্লাহ তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি কি তোমার স্বামীর পবিত্রতার যত্ন নিয়েছো?
তুমি যদি তোমার স্বামীকে পবিত্র রাখো, তাহলে গোটা সমাজ পবিত্রতার পথে চলবে।
স্বামীর প্রয়োজন তার স্বভাব ও চাহিদা অনুযায়ী পূরণ করো—নিজের বা অন্যের মানদণ্ডে নয়।
(একটি উর্দূ গ্রুপ থেকে সংগৃহিত ও অনুবাদিত)
🏆3⚡2
03. Bn Seerah Status of Pre Islamic World
Rain Drops Media
اللهم صل على محمد و على ال محمد كما صليت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.
اللهم بارك على محمد و على ال محمد كما باركت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.
اللهم بارك على محمد و على ال محمد كما باركت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
আমার রব আমাকে কতটুকু ভালোবাসেন
মুস্তাহাব আমল:
(১) ঘুমানোর পূর্বে অজু করা মুস্তাহাব।
(২) ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(৩) সর্বদা উযূ সহকারে থাকা মুস্তাহাব।
(৪) উযূ থাকা সত্ত্বেও (কোনো নেক আমল আদায়ের জন্য) পুনরায় উযূ করা মুস্তাহাব।
(৫) গীবত করার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(৬) মিথ্যা কথা বলার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(৭) চোগলখুরি করার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(৮) যে কোনো গুনাহের কাজের পর অজু করা মুস্তাহাব।
(৯) অশ্লীল কবিতা পাঠ করার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(১০) নামাযের বাইরে সশব্দে খিলখিল করে হাসার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(১১) মৃতকে গোসল দেওয়ার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(১২) জানাযা বহন করার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(১৩) (উযূ থাকা সত্ত্বেও) প্রত্যেক নামাযের সময় হলে পুনরায় অজু করা মুস্তাহাব।
(১৪) জানাবাত তথা ফরজ গোসলের পূর্বে অজু করা মুস্তাহাব।
(১৫) জুনুবী তথা অপবিত্র ব্যক্তির জন্য পানাহার, নিদ্রা ও সহবাস ইত্যাদির অজু করা মুস্তাহাব।
(১৬) ক্রোধ তথা রাগের সময় অজু করা মুস্তাহাব।
(১৭) কুরআন শরীফ (স্পর্শ না করে) পড়ার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(১৮) হাদীছ পড়ার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(১৯) হাদীছ বর্ণনা করার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২০) দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষাদানের জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২১) আযান দেওয়ার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২২) ইকামাত দেওয়ার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২৩) খুতবা পাঠের জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২৪) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রওযা শরীফ যিয়ারত করার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২৫) উকুফে আরাফার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২৬) সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২৭) উটের গোশ্ত খাওয়ার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(২৮) ফিক্হবিদ ইমামগণের মতানৈক্য থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য। যেমন— কোনো নারীকে স্পর্শ করার পর অজু করা মুস্তাহাব।
সূত্র: ফিকহুন নিসা - ৭৬,৭৭)
(১) ঘুমানোর পূর্বে অজু করা মুস্তাহাব।
(২) ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(৩) সর্বদা উযূ সহকারে থাকা মুস্তাহাব।
(৪) উযূ থাকা সত্ত্বেও (কোনো নেক আমল আদায়ের জন্য) পুনরায় উযূ করা মুস্তাহাব।
(৫) গীবত করার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(৬) মিথ্যা কথা বলার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(৭) চোগলখুরি করার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(৮) যে কোনো গুনাহের কাজের পর অজু করা মুস্তাহাব।
(৯) অশ্লীল কবিতা পাঠ করার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(১০) নামাযের বাইরে সশব্দে খিলখিল করে হাসার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(১১) মৃতকে গোসল দেওয়ার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(১২) জানাযা বহন করার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(১৩) (উযূ থাকা সত্ত্বেও) প্রত্যেক নামাযের সময় হলে পুনরায় অজু করা মুস্তাহাব।
(১৪) জানাবাত তথা ফরজ গোসলের পূর্বে অজু করা মুস্তাহাব।
(১৫) জুনুবী তথা অপবিত্র ব্যক্তির জন্য পানাহার, নিদ্রা ও সহবাস ইত্যাদির অজু করা মুস্তাহাব।
(১৬) ক্রোধ তথা রাগের সময় অজু করা মুস্তাহাব।
(১৭) কুরআন শরীফ (স্পর্শ না করে) পড়ার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(১৮) হাদীছ পড়ার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(১৯) হাদীছ বর্ণনা করার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২০) দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষাদানের জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২১) আযান দেওয়ার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২২) ইকামাত দেওয়ার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২৩) খুতবা পাঠের জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২৪) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রওযা শরীফ যিয়ারত করার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২৫) উকুফে আরাফার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২৬) সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করার জন্য অজু করা মুস্তাহাব।
(২৭) উটের গোশ্ত খাওয়ার পর অজু করা মুস্তাহাব।
(২৮) ফিক্হবিদ ইমামগণের মতানৈক্য থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য। যেমন— কোনো নারীকে স্পর্শ করার পর অজু করা মুস্তাহাব।
সূত্র: ফিকহুন নিসা - ৭৬,৭৭)
إِنَّمَا أَشْكُو بَنِّى وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ
আমি কেবল আল্লাহর কাছেই আমার অস্থিরতা ও দুঃখ-কষ্টের ব্যাপারে অনুযোগ করছি।
সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৬
আমি কেবল আল্লাহর কাছেই আমার অস্থিরতা ও দুঃখ-কষ্টের ব্যাপারে অনুযোগ করছি।
সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৬
👍4💊3
দুনিয়ার চাওয়াগুলো সব পূরণ হবে না বলেই আল্লাহ্ জান্নাত নামের কিছু একটা বানিয়ে রেখেছেন। ইচ্ছাপূরণের জায়গা হল ওটা। না পাওয়ার হিসাব কষতে ব্যস্ত হওয়া অকৃতজ্ঞতা নির্দেশ করে, জান্নাতের স্বপ্নের ওপর ধুলোর আস্তরণের কথা জানিয়ে দেয়।
জাবের (রা.) বলেন, উমর (রা.) আমার হাতে ঝুলন্ত অবস্থায় কিছু মাংস দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “হে জাবের, এটি কী?” আমি বললাম– “মাংস খাওয়ার খুব ইচ্ছা হয়েছিল, তাই এক দিরহাম দিয়ে তা কিনেছি।” তখন উমর (রা.) বললেন, “হে জাবের! তোমার যখনই যা মনে চায়, তখনই কি তা কিনে ফেলবে? তুমি কি এই আয়াতটিকে ভয় পাও না— তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনেই সব পবিত্র ও ভালো জিনিসগুলো নিঃশেষ করেছ এবং তা উপভোগ করে ফেলেছ।” (সূরা আল-আহকাফ : ২০)
[সূত্র : কিতাবুয যুহদ, ১২৫]
এই তো দর্শন, এই তো জীবন, এই তো দুনিয়া, এই তো কারাগার। কারাগারের বন্দী, বালিশে ফুটো দেখে সেটা বদলে দিতে বলে না। মু'মিনের জন্য দুনিয়া হল কারাগার। কী চাইব আমি? চাওয়ার ক্ষমতা আমার নেই, কেবল তা ব্যতীত যা বিশ্বজগতের প্রতিপালক ইচ্ছা করেন। চাইতে তো পারেন তিনিই।
মানুষের জীবনে কষ্ট থাকে। স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট। অপূর্ণতার কষ্ট। এই কষ্টগুলো বাকিরা দেখে না। একজন দেখেন, একজন জানেন। তিনি শুনতে পান। তাঁকেই বলব সব কথা। কেন আর দশজন জানবে আমার আর্তি? কেন ফেসবুকের পাবলিক জগতে এসে জানাতে হবে- আমারও কিছু বলার আছে? কষ্টের সময়গুলোয় হাসিমুখে স্রষ্টার দাসত্ব করে যাওয়া- এই তো সবর।
বিশ্বজগতের শাহানশাহের কাছে জীবন-সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছি সেই কবেই। যেদিন নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করেছি। পারিনি কেবল ক্রেতার হক মেটাতে। বিক্রিত দ্রব্যের ওপর নিজের অনধিকারটুকু মেনে নিতে। তবু আমার রব্ব আমাকে শাস্তি দেননি। সুযোগ দিয়েছেন, দিয়ে যাচ্ছেন।
স্বপ্ন দেখি আমলনামা ডান হাতে পাওয়ার। বড় দামি সেই স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখি সেই মানুষটার পাশে বসে এক ঝর্নার পানি খাওয়ার, যিনি আমার জন্য কেঁদেছিলেন যখন আমার অস্তিত্ব ছিল না। ইয়াকুত পাথরের প্রাসাদে বসে এমন একটা মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার, যার তুলনা আমার প্রতিপালক দিয়েছেন “প্রবাল ও পদ্মরাগ।”
সূরা আর-রহমানে আল্লাহ্ মুত্তাকীদের পুরষ্কারের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন– “উত্তমের বিনিময় উত্তম ছাড়া আর কী হতে পারে?” (আয়াত : ৬০).... এই আয়াতটি যখন অনুভব করি চোখ দুটো ভিজে ওঠে, অন্তর আর্দ্র হয়ে যায়। আমি আল্লাহ্-র জন্য একটা ছোট্ট কষ্ট স্বীকার করব, আর আল্লাহ্ সেটাকে লক্ষগুণে বাড়িয়ে প্রতিদান দেবেন না, তা কি হয়? আল্লাহ্-র প্রতিদান তো এমনই হয় যা তাঁর মর্যাদার জন্য উপযোগী। তিনি তো বান্দার ক্ষুদ্রতার দিকে তাকান না, বরং নিজের বড়ত্বের দিকে তাকিয়ে পুরস্কার দেন। অল্প বিনিময় দেওয়া যে তাঁর শানের খেলাফ!
সেদিন যদি হাসতে পারি, আমি তো সফল হয়ে গেলাম। তুচ্ছ দুনিয়ার চাওয়া-পাওয়ার হিসেব দিয়ে আমার কী এসে যায়, বল?
*[সংগৃহীত]*
জাবের (রা.) বলেন, উমর (রা.) আমার হাতে ঝুলন্ত অবস্থায় কিছু মাংস দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “হে জাবের, এটি কী?” আমি বললাম– “মাংস খাওয়ার খুব ইচ্ছা হয়েছিল, তাই এক দিরহাম দিয়ে তা কিনেছি।” তখন উমর (রা.) বললেন, “হে জাবের! তোমার যখনই যা মনে চায়, তখনই কি তা কিনে ফেলবে? তুমি কি এই আয়াতটিকে ভয় পাও না— তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনেই সব পবিত্র ও ভালো জিনিসগুলো নিঃশেষ করেছ এবং তা উপভোগ করে ফেলেছ।” (সূরা আল-আহকাফ : ২০)
[সূত্র : কিতাবুয যুহদ, ১২৫]
এই তো দর্শন, এই তো জীবন, এই তো দুনিয়া, এই তো কারাগার। কারাগারের বন্দী, বালিশে ফুটো দেখে সেটা বদলে দিতে বলে না। মু'মিনের জন্য দুনিয়া হল কারাগার। কী চাইব আমি? চাওয়ার ক্ষমতা আমার নেই, কেবল তা ব্যতীত যা বিশ্বজগতের প্রতিপালক ইচ্ছা করেন। চাইতে তো পারেন তিনিই।
মানুষের জীবনে কষ্ট থাকে। স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট। অপূর্ণতার কষ্ট। এই কষ্টগুলো বাকিরা দেখে না। একজন দেখেন, একজন জানেন। তিনি শুনতে পান। তাঁকেই বলব সব কথা। কেন আর দশজন জানবে আমার আর্তি? কেন ফেসবুকের পাবলিক জগতে এসে জানাতে হবে- আমারও কিছু বলার আছে? কষ্টের সময়গুলোয় হাসিমুখে স্রষ্টার দাসত্ব করে যাওয়া- এই তো সবর।
বিশ্বজগতের শাহানশাহের কাছে জীবন-সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছি সেই কবেই। যেদিন নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করেছি। পারিনি কেবল ক্রেতার হক মেটাতে। বিক্রিত দ্রব্যের ওপর নিজের অনধিকারটুকু মেনে নিতে। তবু আমার রব্ব আমাকে শাস্তি দেননি। সুযোগ দিয়েছেন, দিয়ে যাচ্ছেন।
স্বপ্ন দেখি আমলনামা ডান হাতে পাওয়ার। বড় দামি সেই স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখি সেই মানুষটার পাশে বসে এক ঝর্নার পানি খাওয়ার, যিনি আমার জন্য কেঁদেছিলেন যখন আমার অস্তিত্ব ছিল না। ইয়াকুত পাথরের প্রাসাদে বসে এমন একটা মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার, যার তুলনা আমার প্রতিপালক দিয়েছেন “প্রবাল ও পদ্মরাগ।”
সূরা আর-রহমানে আল্লাহ্ মুত্তাকীদের পুরষ্কারের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন– “উত্তমের বিনিময় উত্তম ছাড়া আর কী হতে পারে?” (আয়াত : ৬০).... এই আয়াতটি যখন অনুভব করি চোখ দুটো ভিজে ওঠে, অন্তর আর্দ্র হয়ে যায়। আমি আল্লাহ্-র জন্য একটা ছোট্ট কষ্ট স্বীকার করব, আর আল্লাহ্ সেটাকে লক্ষগুণে বাড়িয়ে প্রতিদান দেবেন না, তা কি হয়? আল্লাহ্-র প্রতিদান তো এমনই হয় যা তাঁর মর্যাদার জন্য উপযোগী। তিনি তো বান্দার ক্ষুদ্রতার দিকে তাকান না, বরং নিজের বড়ত্বের দিকে তাকিয়ে পুরস্কার দেন। অল্প বিনিময় দেওয়া যে তাঁর শানের খেলাফ!
সেদিন যদি হাসতে পারি, আমি তো সফল হয়ে গেলাম। তুচ্ছ দুনিয়ার চাওয়া-পাওয়ার হিসেব দিয়ে আমার কী এসে যায়, বল?
*[সংগৃহীত]*
💯3
‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বনাম ‘লিল্লাহিল হামদ’
-Words in depth in Quran
কুরআন মাজিদ অধ্যয়ন করলে আমরা দেখতে পাই যে, একই ভাব প্রকাশের জন্য আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন শব্দক্রম বা বাক্যের গঠন ব্যবহার করেছেন। আজ আমরা দুটি পরিচিত বাক্য নিয়ে আলোচনা করব: ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ এবং ‘লিল্লাহিল হামদ’।
আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী উভয় গঠনই সঠিক, কিন্তু যখন আল্লাহ একটি জায়গায় একটি নির্দিষ্ট গঠন বেছে নেন, তখন তার পেছনে একটি সুনিশ্চিত উদ্দেশ্য এবং গভীর অর্থ থাকে।
১. আয়াতের তুলনা
সূরা আল-ফাতিহা (১:২): “আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক)। এখানে ‘হামদ’ বা প্রশংসা শব্দটি আগে এসেছে।
সূরা আল-জাসিয়া (৪৫:৩৬): “ফালিল্লাহিল হামদু রাব্বিস সামাওয়াতি…” (অতএব সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই—যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক)। এখানে ‘লিল্লাহ’ বা আল্লাহর জন্য অংশটি আগে এসেছে।
২. মূল নিয়ম: আগে আসলে গুরুত্ব বাড়ে
আরবী অলঙ্কারশাস্ত্রের একটি সাধারণ নিয়ম হলো—বাক্যে যে শব্দটি আগে আসে, সেই শব্দটির ওপরই বেশি জোর বা গুরুত্ব (Emphasis) দেওয়া হয়। দ্বিতীয় আরেকটি নিয়ম হলো, যখন ‘লিল্লাহ’ (আল্লাহর জন্য) অংশটি আগে চলে আসে, তখন সেটি একটি ‘একচ্ছত্র অধিকার’ বা অনন্যতা (Exclusivity/Qaṣr) তৈরি করে। এর মানে দাঁড়ায়—”প্রশংসা কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য, অন্য কারো নয়।”
৩. সূরা আল-ফাতিহা: প্রশংসার ডাক
সূরা আল-ফাতিহা হলো পুরো কুরআনের শুরু। এই মুহূর্তটির মেজাজ হলো মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার জাগরণ ঘটানো।
কেন ‘হামদ’ আগে? আপনি যখন কুরআনের মতো মহান একটি উপহার পাঠ শুরু করছেন, তখন আপনার প্রথম কাজ হলো প্রশংসা করা। এখানে কোনো বিতর্ক নেই, কাউকে সংশোধন করা হচ্ছে না। এটি একটি শান্ত এবং মৌলিক সূচনা। তাই এখানে মূল বিষয় বা থিম হলো ‘প্রশংসা’।
এজন্য এখানে বলা হয়েছে— “আল-হামদু লিল্লাহ” (প্রশংসা—তা আল্লাহর জন্য)। এখানে মূল লক্ষ্য হলো পাঠককে প্রশংসার কাজে উদ্বুদ্ধ করা।
৪. সূরা আল-জাসিয়া: তর্কের অবসান ও একচ্ছত্র মালিকানা
সূরা আল-জাসিয়ার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই আয়াতের ঠিক আগেই কাফেরদের অবাধ্যতা, পরকাল নিয়ে তাদের সন্দেহ এবং মিথ্যা জিনিসের আরাধনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আয়াতটি শুরু হয়েছে ‘ফা’ (অতএব) দিয়ে, যা একটি উপসংহার নির্দেশ করে।
কেন ‘লিল্লাহ’ আগে? যখন মিথ্যা উপাস্য বা ভুল জিনিসের প্রশংসা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়, তখন উপসংহারে এসে জোর দিয়ে বলতে হয় যে—প্রশংসা অন্য কারো নয়, বরং একমাত্র আল্লাহরই। এই ‘একমাত্র’ বা অনন্যতা বোঝানোর জন্যই এখানে ‘লিল্লাহ’ শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে।
ছন্দ ও মিল: এই আয়াতের পরের অংশটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেখানেও বলা হয়েছে— “ওয়া লাহুল কিবরিয়া” (এবং বড়ত্ব বা অহংকার কেবল তাঁরই)। এখানেও ‘লাহু’ (তাঁরই) শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে। এভাবে ‘তাঁরি জন্য… তাঁরই জন্য…’—একটি বিশেষ ছন্দ তৈরি করে এটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, প্রশংসা এবং মহানত্ব কেবল এবং কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য।
৫. মূল শিক্ষা: পরিস্থিতির উপযোগী বাণী
এই দুটি আয়াতের পার্থক্য থেকে আমরা শিখি যে, কুরআন কতটা নিখুঁতভাবে পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শব্দ ব্যবহার করে।
সূরা আল-ফাতিহা একটি বইয়ের সূচনা করছে, তাই এটি আমাদের সেই কাজের দিকে ডাকছে যা আমাদের করা উচিত—অর্থাৎ প্রশংসা।
সূরা আল-জাসিয়া একটি তর্কের সমাপ্তি টানছে, তাই এটি সেই সত্তার দিকে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করছে যিনি একমাত্র প্রশংসার যোগ্য—অর্থাৎ আল্লাহ।
একই শব্দ, কিন্তু কেবল ক্রম পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন মুহূর্তে সত্যকে বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে হয়।
আমরা যখন ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলি, তখন কি আমরা কেবল অভ্যাসগতভাবে বলি, নাকি আমরা সেই প্রশংসার ওজন অনুভব করি যা কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য? শব্দক্রমের এই সূক্ষ্মতা আমাদের নামায এবং তেলাওয়াতে আরও বেশি মনোযোগ আনতে সাহায্য করবে।
-Words in depth in Quran
কুরআন মাজিদ অধ্যয়ন করলে আমরা দেখতে পাই যে, একই ভাব প্রকাশের জন্য আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন শব্দক্রম বা বাক্যের গঠন ব্যবহার করেছেন। আজ আমরা দুটি পরিচিত বাক্য নিয়ে আলোচনা করব: ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ এবং ‘লিল্লাহিল হামদ’।
আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী উভয় গঠনই সঠিক, কিন্তু যখন আল্লাহ একটি জায়গায় একটি নির্দিষ্ট গঠন বেছে নেন, তখন তার পেছনে একটি সুনিশ্চিত উদ্দেশ্য এবং গভীর অর্থ থাকে।
১. আয়াতের তুলনা
সূরা আল-ফাতিহা (১:২): “আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক)। এখানে ‘হামদ’ বা প্রশংসা শব্দটি আগে এসেছে।
সূরা আল-জাসিয়া (৪৫:৩৬): “ফালিল্লাহিল হামদু রাব্বিস সামাওয়াতি…” (অতএব সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই—যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক)। এখানে ‘লিল্লাহ’ বা আল্লাহর জন্য অংশটি আগে এসেছে।
২. মূল নিয়ম: আগে আসলে গুরুত্ব বাড়ে
আরবী অলঙ্কারশাস্ত্রের একটি সাধারণ নিয়ম হলো—বাক্যে যে শব্দটি আগে আসে, সেই শব্দটির ওপরই বেশি জোর বা গুরুত্ব (Emphasis) দেওয়া হয়। দ্বিতীয় আরেকটি নিয়ম হলো, যখন ‘লিল্লাহ’ (আল্লাহর জন্য) অংশটি আগে চলে আসে, তখন সেটি একটি ‘একচ্ছত্র অধিকার’ বা অনন্যতা (Exclusivity/Qaṣr) তৈরি করে। এর মানে দাঁড়ায়—”প্রশংসা কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য, অন্য কারো নয়।”
৩. সূরা আল-ফাতিহা: প্রশংসার ডাক
সূরা আল-ফাতিহা হলো পুরো কুরআনের শুরু। এই মুহূর্তটির মেজাজ হলো মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার জাগরণ ঘটানো।
কেন ‘হামদ’ আগে? আপনি যখন কুরআনের মতো মহান একটি উপহার পাঠ শুরু করছেন, তখন আপনার প্রথম কাজ হলো প্রশংসা করা। এখানে কোনো বিতর্ক নেই, কাউকে সংশোধন করা হচ্ছে না। এটি একটি শান্ত এবং মৌলিক সূচনা। তাই এখানে মূল বিষয় বা থিম হলো ‘প্রশংসা’।
এজন্য এখানে বলা হয়েছে— “আল-হামদু লিল্লাহ” (প্রশংসা—তা আল্লাহর জন্য)। এখানে মূল লক্ষ্য হলো পাঠককে প্রশংসার কাজে উদ্বুদ্ধ করা।
৪. সূরা আল-জাসিয়া: তর্কের অবসান ও একচ্ছত্র মালিকানা
সূরা আল-জাসিয়ার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই আয়াতের ঠিক আগেই কাফেরদের অবাধ্যতা, পরকাল নিয়ে তাদের সন্দেহ এবং মিথ্যা জিনিসের আরাধনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আয়াতটি শুরু হয়েছে ‘ফা’ (অতএব) দিয়ে, যা একটি উপসংহার নির্দেশ করে।
কেন ‘লিল্লাহ’ আগে? যখন মিথ্যা উপাস্য বা ভুল জিনিসের প্রশংসা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়, তখন উপসংহারে এসে জোর দিয়ে বলতে হয় যে—প্রশংসা অন্য কারো নয়, বরং একমাত্র আল্লাহরই। এই ‘একমাত্র’ বা অনন্যতা বোঝানোর জন্যই এখানে ‘লিল্লাহ’ শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে।
ছন্দ ও মিল: এই আয়াতের পরের অংশটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেখানেও বলা হয়েছে— “ওয়া লাহুল কিবরিয়া” (এবং বড়ত্ব বা অহংকার কেবল তাঁরই)। এখানেও ‘লাহু’ (তাঁরই) শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে। এভাবে ‘তাঁরি জন্য… তাঁরই জন্য…’—একটি বিশেষ ছন্দ তৈরি করে এটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, প্রশংসা এবং মহানত্ব কেবল এবং কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য।
৫. মূল শিক্ষা: পরিস্থিতির উপযোগী বাণী
এই দুটি আয়াতের পার্থক্য থেকে আমরা শিখি যে, কুরআন কতটা নিখুঁতভাবে পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শব্দ ব্যবহার করে।
সূরা আল-ফাতিহা একটি বইয়ের সূচনা করছে, তাই এটি আমাদের সেই কাজের দিকে ডাকছে যা আমাদের করা উচিত—অর্থাৎ প্রশংসা।
সূরা আল-জাসিয়া একটি তর্কের সমাপ্তি টানছে, তাই এটি সেই সত্তার দিকে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করছে যিনি একমাত্র প্রশংসার যোগ্য—অর্থাৎ আল্লাহ।
একই শব্দ, কিন্তু কেবল ক্রম পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন মুহূর্তে সত্যকে বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে হয়।
আমরা যখন ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলি, তখন কি আমরা কেবল অভ্যাসগতভাবে বলি, নাকি আমরা সেই প্রশংসার ওজন অনুভব করি যা কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য? শব্দক্রমের এই সূক্ষ্মতা আমাদের নামায এবং তেলাওয়াতে আরও বেশি মনোযোগ আনতে সাহায্য করবে।
04. Bn Seerah Stories of Abdul Muttalib and Childhood of Prophet…
Rain Drops Media
اللهم صل على محمد و على ال محمد كما صليت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.
اللهم بارك على محمد و على ال محمد كما باركت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.
اللهم بارك على محمد و على ال محمد كما باركت على إبراهيم و على ال إبراهيم إنك حميد مجيد.