নারীদের আতর-সুগন্ধি ব্যবহার নিয়ে ইসলাম যা বলে
সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব এবং রাসূল সা.-এর সুন্নত। রাসূল সা. সুগন্ধি খুবই পছন্দ করতেন এবং তিনি প্রায় সবসময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। তাঁর সুগন্ধি ব্যবহার সম্পর্কে এক হাদিসে হজরত আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
রাসূল (ﷺ) যখন আমাদের দিকে আসতেন তখন তাঁর সুগন্ধির কারণে আমরা আগে থেকেই টের পেতাম যে তিনি আসছেন। [আখলাকুন্নবী সা. ২১৮]
নারী পুরুষ সবাই সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে। আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা নারীদের সাজসজ্জার অন্তর্ভূক্ত। নারীরা ঘরে নিজের পরিবারের মধ্যে, যেখানে মাহারাম থাকবে, সেখানে আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে। তবে তাদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে গায়রে মাহরাম বা পরপুরুষের সামনে বের হওয়া জায়েজ নেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
❝তারা যেন তাদের সজ্জা প্রকাশ না করে।❞ [সূরা আন-নূর ৩১]
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন-
"যে নারী সুগন্ধি মেখে (পুরুষ) জনসমষ্টির পাশ দিয়ে গমন করে যাতে করে তার সুগন্ধি তাদের নাকে লাগে সে নারী ব্যভিচারী। [সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৫১২৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ১৮৯১৬]
ইবনে আসকালনী রহ. বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার কারণ সুস্পষ্ট। যেহেতু সুগন্ধি যৌন কামনাকে চাঙ্গা করে তোলে। তাই হাদিসে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। [ফাতহুল বারী ২/২৭৯]
নারীদের ক্ষেত্রে ইসলাম যেহেতু শালীনতার বিধান দিয়েছে তাই নারীদের জন্য ঘরের ভেতরে সুগন্ধি ব্যবহার জায়েজ। অথবা যেখানে পরপুরুষ থাকবে না এমন জায়গায় সেন্ট, পারফিউম, বডি স্প্রে ইত্যাদিতে যদি কোনো ধরনের নাপাক বস্তু মিশ্রিত না থাকে, তাহলে মুসলিম নারীরা অবশ্যই সুগন্ধি ব্যবহার করবে। [তুহফাতুল আহওয়াজি ৮/৭১]
তবে, পরপুরুষ গন্ধ পাবে এমন জায়গা দিয়ে নারীদের সুগন্ধি মেখে চলাচল করা নিষেধ। এতে পর্দার লঙ্ঘন হয়। কেননা ইসলামে নারীদের সুগন্ধি ব্যবহারের বিধান পর্দার বিধানের মতোই। অর্থাৎ নারী সুগন্ধি মেখে ঘর থেকে বের হলে শরয়ী পর্দা আদায় হয় না। হাদিসে ওসব নারীর ওপর অভিসম্পাত করা হয়েছে।মহানবী (ﷺ) বলেছেন,
'প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর কোনো নারী যদি (কোনো ধরনের) সুগন্ধি ব্যবহার করে কোনো (পুরুষের) মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তবে সে ব্যভিচারিণী।’ [আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুজাইমা, হাকেম, সহিহুল জামে ৪৫৪০]
এমনকি নারীরা আল্লাহর ইবাদত করার উদ্দেশ্যে মসজিদে যেতেও সুগন্ধি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে হাদিসে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
‘আল্লাহর বান্দিদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, তবে তারা যেন খুশবো ব্যবহার ছাড়া সাধাসিধাভাবে আসে।’ [আহমদ, আবু দাউদ, সহিহ জামে: ৭৪৫৭]
সুতরাং, নারীরা ঘরে মাহরামদের মাঝে সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে, তবে গায়রে মাহরামের সামনে বা জনসমক্ষে সুগন্ধি ব্যবহার করা ইসলামে অনুমোদিত নয়।
~ কালেক্টেড
• ওহে মুসলিমাহ! জেনে নাও তোমার ড্রেস-কোড (পর্ব-৯)
• পর্ব-৮ (শরয়ী পর্দা)
@FatayatalHuda
সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব এবং রাসূল সা.-এর সুন্নত। রাসূল সা. সুগন্ধি খুবই পছন্দ করতেন এবং তিনি প্রায় সবসময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। তাঁর সুগন্ধি ব্যবহার সম্পর্কে এক হাদিসে হজরত আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
রাসূল (ﷺ) যখন আমাদের দিকে আসতেন তখন তাঁর সুগন্ধির কারণে আমরা আগে থেকেই টের পেতাম যে তিনি আসছেন। [আখলাকুন্নবী সা. ২১৮]
নারী পুরুষ সবাই সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে। আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা নারীদের সাজসজ্জার অন্তর্ভূক্ত। নারীরা ঘরে নিজের পরিবারের মধ্যে, যেখানে মাহারাম থাকবে, সেখানে আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে। তবে তাদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে গায়রে মাহরাম বা পরপুরুষের সামনে বের হওয়া জায়েজ নেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
❝তারা যেন তাদের সজ্জা প্রকাশ না করে।❞ [সূরা আন-নূর ৩১]
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন-
"যে নারী সুগন্ধি মেখে (পুরুষ) জনসমষ্টির পাশ দিয়ে গমন করে যাতে করে তার সুগন্ধি তাদের নাকে লাগে সে নারী ব্যভিচারী। [সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৫১২৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ১৮৯১৬]
ইবনে আসকালনী রহ. বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার কারণ সুস্পষ্ট। যেহেতু সুগন্ধি যৌন কামনাকে চাঙ্গা করে তোলে। তাই হাদিসে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। [ফাতহুল বারী ২/২৭৯]
নারীদের ক্ষেত্রে ইসলাম যেহেতু শালীনতার বিধান দিয়েছে তাই নারীদের জন্য ঘরের ভেতরে সুগন্ধি ব্যবহার জায়েজ। অথবা যেখানে পরপুরুষ থাকবে না এমন জায়গায় সেন্ট, পারফিউম, বডি স্প্রে ইত্যাদিতে যদি কোনো ধরনের নাপাক বস্তু মিশ্রিত না থাকে, তাহলে মুসলিম নারীরা অবশ্যই সুগন্ধি ব্যবহার করবে। [তুহফাতুল আহওয়াজি ৮/৭১]
তবে, পরপুরুষ গন্ধ পাবে এমন জায়গা দিয়ে নারীদের সুগন্ধি মেখে চলাচল করা নিষেধ। এতে পর্দার লঙ্ঘন হয়। কেননা ইসলামে নারীদের সুগন্ধি ব্যবহারের বিধান পর্দার বিধানের মতোই। অর্থাৎ নারী সুগন্ধি মেখে ঘর থেকে বের হলে শরয়ী পর্দা আদায় হয় না। হাদিসে ওসব নারীর ওপর অভিসম্পাত করা হয়েছে।মহানবী (ﷺ) বলেছেন,
'প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর কোনো নারী যদি (কোনো ধরনের) সুগন্ধি ব্যবহার করে কোনো (পুরুষের) মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তবে সে ব্যভিচারিণী।’ [আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুজাইমা, হাকেম, সহিহুল জামে ৪৫৪০]
এমনকি নারীরা আল্লাহর ইবাদত করার উদ্দেশ্যে মসজিদে যেতেও সুগন্ধি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে হাদিসে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
‘আল্লাহর বান্দিদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, তবে তারা যেন খুশবো ব্যবহার ছাড়া সাধাসিধাভাবে আসে।’ [আহমদ, আবু দাউদ, সহিহ জামে: ৭৪৫৭]
সুতরাং, নারীরা ঘরে মাহরামদের মাঝে সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে, তবে গায়রে মাহরামের সামনে বা জনসমক্ষে সুগন্ধি ব্যবহার করা ইসলামে অনুমোদিত নয়।
~ কালেক্টেড
• ওহে মুসলিমাহ! জেনে নাও তোমার ড্রেস-কোড (পর্ব-৯)
• পর্ব-৮ (শরয়ী পর্দা)
@FatayatalHuda
❤6👍2
নারী হলো পুরুষ গড়ার কারখানা, পুরুষকে মুগ্ধ করার উপকরণ নয়!
যখন নারীরা পুরুষ গড়ার কারিগর হবে, পুরুষকে মুগ্ধ করার উপকরণ নয় — তখনই সমাজের অবস্থা পরিবর্তন হবে।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) তার মাকে নিয়ে বলেছেন —
“আমার মা আমাকে দশ বছর বয়সে কুরআন মুখস্থ করিয়েছিলেন। তিনি ফজরের নামাজের আগে আমাকে জাগিয়ে দিতেন, বাগদাদের শীতল রাতে আমার জন্য ওজুর পানি গরম করতেন, আমার পোশাক পরিয়ে দিতেন, তারপর নিজে চাদর ও পর্দা দিয়ে নিজেকে ঢেকে আমার সঙ্গে মসজিদে যেতেন। কারণ, আমাদের বাড়ি মসজিদ থেকে দূরে ছিল আর রাস্তা ছিল অন্ধকার।”
~ মুফতি মাসুম বিল্লাহ হাফি.
@FatayatalHuda
যখন নারীরা পুরুষ গড়ার কারিগর হবে, পুরুষকে মুগ্ধ করার উপকরণ নয় — তখনই সমাজের অবস্থা পরিবর্তন হবে।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) তার মাকে নিয়ে বলেছেন —
“আমার মা আমাকে দশ বছর বয়সে কুরআন মুখস্থ করিয়েছিলেন। তিনি ফজরের নামাজের আগে আমাকে জাগিয়ে দিতেন, বাগদাদের শীতল রাতে আমার জন্য ওজুর পানি গরম করতেন, আমার পোশাক পরিয়ে দিতেন, তারপর নিজে চাদর ও পর্দা দিয়ে নিজেকে ঢেকে আমার সঙ্গে মসজিদে যেতেন। কারণ, আমাদের বাড়ি মসজিদ থেকে দূরে ছিল আর রাস্তা ছিল অন্ধকার।”
~ মুফতি মাসুম বিল্লাহ হাফি.
@FatayatalHuda
❤23❤🔥3
মেয়েদের পায়ে নূপুর পরা জায়েয কি?
ইসলামে নারীদের সাজসজ্জা এবং অলংকার পরার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে ইসলাম নির্ধারিত শর্তাবলী মেনে তা করতে হবে। যেমন: পর পুরুষের সামনে সাজসজ্জা, অলংকারাদি, শরীর বা পোশাকের সৌন্দর্য প্রকাশ করা যাবে না এবং এতে শরিয়া বিরোধী বা হারাম এর মিশ্রণ থাকা চলবে না।
সুতরাং
ولا يَضْرِبْنَ بأرجُلِهِنّ لِيُعْلَمَ ما يُخْفِين من زِينَتِهِنّ
“আর তাদের পা দিয়ে যেন তারা আঘাত না করে যাতে তাদের অলংকারের যা লুকিয়ে আছে তা জানানো যায়।” [সূরা আন-নূর ৩১]
● বাজনাদার নূপুর পড়া বৈধ নয়:
একদিন মা আয়েশা রা. এর নিকট কোনও এক বালিকা বাজনাদার নূপুর পরে আসলে তিনি তাকে বললেন:
খবরদার! তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।’ [সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ ৫২৩৭]
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
ঘণ্টি, বাজা, ঘুঙুর হল, শয়তানের বাদ্যযন্ত্র। [সহীহ মুসলিম ২১১৪]
আল্লাহু আলাম।
~ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
• ওহে মুসলিমাহ! জেনে নাও তোমার ড্রেস-কোড (পর্ব-১০)
• পর্ব-৯ (নারীদের আতর-সুগন্ধি ব্যবহার)
@FatayatalHuda
ইসলামে নারীদের সাজসজ্জা এবং অলংকার পরার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে ইসলাম নির্ধারিত শর্তাবলী মেনে তা করতে হবে। যেমন: পর পুরুষের সামনে সাজসজ্জা, অলংকারাদি, শরীর বা পোশাকের সৌন্দর্য প্রকাশ করা যাবে না এবং এতে শরিয়া বিরোধী বা হারাম এর মিশ্রণ থাকা চলবে না।
সুতরাং
একজন মুসলিম নারী পায়ের নূপুর পরিধান করতে পারে। তবে শর্ত হল, তাতে বাজনা থাকা যাবে না এবং তা পর পুরুষদের সামনে প্রকাশ করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:ولا يَضْرِبْنَ بأرجُلِهِنّ لِيُعْلَمَ ما يُخْفِين من زِينَتِهِنّ
“আর তাদের পা দিয়ে যেন তারা আঘাত না করে যাতে তাদের অলংকারের যা লুকিয়ে আছে তা জানানো যায়।” [সূরা আন-নূর ৩১]
তবে স্বামী, মাহরাম পুরুষ অথবা মহিলা অঙ্গনে; পরলে তাতে কোন সমস্যা নেই।● বাজনাদার নূপুর পড়া বৈধ নয়:
একদিন মা আয়েশা রা. এর নিকট কোনও এক বালিকা বাজনাদার নূপুর পরে আসলে তিনি তাকে বললেন:
খবরদার! তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।’ [সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ ৫২৩৭]
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
ঘণ্টি, বাজা, ঘুঙুর হল, শয়তানের বাদ্যযন্ত্র। [সহীহ মুসলিম ২১১৪]
আল্লাহু আলাম।
~ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
• ওহে মুসলিমাহ! জেনে নাও তোমার ড্রেস-কোড (পর্ব-১০)
• পর্ব-৯ (নারীদের আতর-সুগন্ধি ব্যবহার)
@FatayatalHuda
⚡8❤3
নারীদের কাজের জন্য বাইরে পাঠানো হলো, ফলে অর্ধেক পুরুষ বেকার হলো !
আর বেকার পুরুষরা বিয়ে না করায় তারাও অর্ধেক নারীর বৈবাহিক সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিলো। তাহলে কি বিচক্ষণতা এই নয় যে, নারীদের আবার ঘরে ফিরিয়ে আনা হোক।
© শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া
◽উত্তম নসীহা (পর্ব-৪২)
@FatayatalHuda
আর বেকার পুরুষরা বিয়ে না করায় তারাও অর্ধেক নারীর বৈবাহিক সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিলো। তাহলে কি বিচক্ষণতা এই নয় যে, নারীদের আবার ঘরে ফিরিয়ে আনা হোক।
© শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া
◽উত্তম নসীহা (পর্ব-৪২)
@FatayatalHuda
❤7💯2
ভ্রু প্লাক করা কি জায়েজ?
ইসলামে ভ্রু প্লাক করা সম্পূর্ণ হারাম। পাশাপাশি এটা আল্লাহর অভিশাপের মাধ্যম। হাদিস শরিফে এসেছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত:
"আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক সে সব নারীদের উপর যারা শরীরে উলকি অঙ্কন করে এবং যারা অঙ্কন করায়, আর সে সব নারীদের উপর যারা চুল, ভ্রু তুলে ফেলে, সে সব নারীদের উপর যারা সৌন্দর্যের জন্যে সম্মুখের দাঁত কেটে সরু করে, দাঁতের মধ্যে ফাঁক তৈরি করে, যা আল্লার সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।"
রাবি বলেন, আমি কেন তার উপর অভিশাপ করব না, যাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ করেছেন? আর আল্লাহর কিতাবে আছে রসুল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর। [সুরা আল-হাশর ৭, সহিহ বুখারি ৫৭৪৩, মুসলিম ২১২৫]
অন্য হাদিসে আছে, হযরত আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
এরপর বনী আসাদ গোত্রের উম্মে ইয়াকুব নামে এক মহিলার কাছে এ সংবাদ পৌঁছালে সে এসে বলল, আমি জানতে পারলাম, আপনি এ ধরনের মহিলাদের প্রতি লানত করেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর রসুল (ﷺ) যার প্রতি লানত করেছেন, আল্লাহর কিতাবে যার প্রতি লানত করা হয়েছে, আমি তার প্রতি লানত করব না কেন? তখন মহিলা বলল, আমি দুই ফলকের মাঝে যা আছে তা (পূর্ণ কুরআন) পড়েছি। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা তো এতে পাইনি। (আংশিক) [সহিহ বুখারি ৪৫২৫]
🔺এছাড়াও ভ্রু প্লাকে স্বাস্থ্য ক্ষতি তো আছেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন,
❝ভ্রু প্লাকে চোখের ওপর চাপ পড়ে। সেই চাপ থেকেই ভ্রু প্লাকের সময় চোখ দিয়ে পানি ঝরে। যা চোখের ক্ষতি করে। তাছাড়া জোর দিয়ে ভ্রু প্লাকের সময় চোখেরও ক্ষতি হয়। দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। ভ্রু প্লাক করার সময় সুতোর চাপে চোখের ওপরের ত্বকে প্রেসার পড়ে। এতে সেই ত্বক কেটে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। অনেকে সময় ইনফেকশনও হয়। এছাড়াও ভ্রু প্লাকের সময় পাউডার ব্যবহার করা হয়। এটিও শরীরের জন্য ক্ষতিকর।❞
• ভ্রু প্লাকের পর ত্বক লাল হয়ে যায়। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের জ্বালাভাবও বেশি হয়। ভ্রু প্লাকের পর জ্বালাভাবে কমাতে বিভিন্ন ক্রিম ব্যবহার করা হয়। যা দিয়ে ভ্রু ও চোখের আশপাশের ম্যাসেজ করা হয়। এটিতে চোখের ভেতরে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একে তো এটি ইসলামে নাজায়েজ তার উপর রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। তাই ভ্রু প্লাক থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করি।
~ মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
• ওহে মুসলিমাহ! জেনে নাও তোমার ড্রেস-কোড (পর্ব-১১)
• পর্ব-১০ (মেয়েদের নূপুর পরা কি জায়েজ)
@FatayatalHuda
ইসলামে ভ্রু প্লাক করা সম্পূর্ণ হারাম। পাশাপাশি এটা আল্লাহর অভিশাপের মাধ্যম। হাদিস শরিফে এসেছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত:
"আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক সে সব নারীদের উপর যারা শরীরে উলকি অঙ্কন করে এবং যারা অঙ্কন করায়, আর সে সব নারীদের উপর যারা চুল, ভ্রু তুলে ফেলে, সে সব নারীদের উপর যারা সৌন্দর্যের জন্যে সম্মুখের দাঁত কেটে সরু করে, দাঁতের মধ্যে ফাঁক তৈরি করে, যা আল্লার সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।"
রাবি বলেন, আমি কেন তার উপর অভিশাপ করব না, যাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ করেছেন? আর আল্লাহর কিতাবে আছে রসুল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর। [সুরা আল-হাশর ৭, সহিহ বুখারি ৫৭৪৩, মুসলিম ২১২৫]
অন্য হাদিসে আছে, হযরত আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
❝আল্লাহ লানত করেছেন ওইসব নারীর প্রতি যারা অন্যের শরীরে উলকি অঙ্কন করে, নিজ শরীরে উলকি অঙ্কন করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। এরা আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি ঘটিয়েছে।❞
এরপর বনী আসাদ গোত্রের উম্মে ইয়াকুব নামে এক মহিলার কাছে এ সংবাদ পৌঁছালে সে এসে বলল, আমি জানতে পারলাম, আপনি এ ধরনের মহিলাদের প্রতি লানত করেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর রসুল (ﷺ) যার প্রতি লানত করেছেন, আল্লাহর কিতাবে যার প্রতি লানত করা হয়েছে, আমি তার প্রতি লানত করব না কেন? তখন মহিলা বলল, আমি দুই ফলকের মাঝে যা আছে তা (পূর্ণ কুরআন) পড়েছি। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা তো এতে পাইনি। (আংশিক) [সহিহ বুখারি ৪৫২৫]
🔺এছাড়াও ভ্রু প্লাকে স্বাস্থ্য ক্ষতি তো আছেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন,
❝ভ্রু প্লাকে চোখের ওপর চাপ পড়ে। সেই চাপ থেকেই ভ্রু প্লাকের সময় চোখ দিয়ে পানি ঝরে। যা চোখের ক্ষতি করে। তাছাড়া জোর দিয়ে ভ্রু প্লাকের সময় চোখেরও ক্ষতি হয়। দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। ভ্রু প্লাক করার সময় সুতোর চাপে চোখের ওপরের ত্বকে প্রেসার পড়ে। এতে সেই ত্বক কেটে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। অনেকে সময় ইনফেকশনও হয়। এছাড়াও ভ্রু প্লাকের সময় পাউডার ব্যবহার করা হয়। এটিও শরীরের জন্য ক্ষতিকর।❞
• ভ্রু প্লাকের পর ত্বক লাল হয়ে যায়। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের জ্বালাভাবও বেশি হয়। ভ্রু প্লাকের পর জ্বালাভাবে কমাতে বিভিন্ন ক্রিম ব্যবহার করা হয়। যা দিয়ে ভ্রু ও চোখের আশপাশের ম্যাসেজ করা হয়। এটিতে চোখের ভেতরে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একে তো এটি ইসলামে নাজায়েজ তার উপর রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। তাই ভ্রু প্লাক থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করি।
~ মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
• ওহে মুসলিমাহ! জেনে নাও তোমার ড্রেস-কোড (পর্ব-১১)
• পর্ব-১০ (মেয়েদের নূপুর পরা কি জায়েজ)
@FatayatalHuda
❤12
❛ আধুনিক যেসব গুনাহকে আমরা গুনাহ মনে করি না ❜
আধুনিক জীবনযাত্রার স্বাভাবিক অংশ বলে মনে হলেও, কিছু কাজ আমাদের অজান্তে গুরুতর পাপের কারণ হতে পারে। এইসব কাজগুলো সমাজের চোখে স্বাভাবিক, কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে তা মারাত্মক গুনাহ।
১. অনলাইনে গিবত ও অপবাদ:
কারো অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করা, ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো বা অনলাইনে ট্রল করা—এ সবই গিবত ও অপবাদের অংশ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং একে অন্যের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে?" (সূরা আল-হুজুরাত ১২)
২. সময় নষ্ট করা (অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি):
সময় আল্লাহর দেওয়া আমানত। মূল্যবান সময়কে উদ্দেশ্যহীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া বা বিনোদনে নষ্ট করা আমানতের খেয়ানত। এটি আখিরাতের প্রস্তুতির পথে বাধা। রাসূল ﷺ বলেছেন,
"দুটি নিয়ামত এমন আছে, যার কারণে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হলো: স্বাস্থ্য ও অবসর সময়।" [সহীহ বুখারী ৬৪১২]
৩. পর্দায় উদাসীনতা:
অপ্রয়োজনীয়ভাবে ছবি বা ভিডিওতে নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করাকে অনেকেই আধুনিক স্বাধীনতা মনে করা। এটি মুমিন নর-নারীর জন্য আল্লাহ নির্দেশিত দৃষ্টি সংযত রাখা এবং শালীনতা বজায় রাখার আদেশের লঙ্ঘন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,
"মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।" (সূরা আন-নূর ৩০)
৪. লোক দেখানো আমল (রিয়া):
ভালো কাজ বা দানশীলতার ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার উদ্দেশ্য যদি হয় মানুষের প্রশংসা বা বাহবা পাওয়া, তবে তা 'রিয়া' বা লোক দেখানো কাজ। এটি এক প্রকার গোপন পাপ, যা আমলের সওয়াব নষ্ট করে দেয়। রাসূল ﷺ বলেন,
"আমি তোমাদের জন্য যা ভয় করি, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয় করি ছোট শিরককে।" তিনি বললেন, "তা হলো রিয়া (লোক দেখানো আমল)।" [সুনান ইবনু মাজাহ ৪২০৪]
৫. দ্বীনের বিষয়ে ঠাট্টা ও তাচ্ছিল্য:
ইসলামের কোনো বিধান (যেমন: পর্দা, দাড়ি) বা আল্লাহর নির্দেশিত কোনো বিষয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা, ব্যঙ্গ করা কিংবা তাচ্ছিল্যসূচক মন্তব্য করা মারাত্মক গুনাহ।
আধুনিক সমাজে সোশ্যাল মিডিয়া বা আড্ডায় এসব চলে আসে, কিন্তু এটি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও রাসূলের (ﷺ) প্রতি অসম্মানজনক যা ইমান বিধ্বংসী হতে পারে।
© সংগৃহীত এবং আংশিক পরিমার্জিত
@FatayatalHuda
আধুনিক জীবনযাত্রার স্বাভাবিক অংশ বলে মনে হলেও, কিছু কাজ আমাদের অজান্তে গুরুতর পাপের কারণ হতে পারে। এইসব কাজগুলো সমাজের চোখে স্বাভাবিক, কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে তা মারাত্মক গুনাহ।
১. অনলাইনে গিবত ও অপবাদ:
কারো অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করা, ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো বা অনলাইনে ট্রল করা—এ সবই গিবত ও অপবাদের অংশ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং একে অন্যের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে?" (সূরা আল-হুজুরাত ১২)
২. সময় নষ্ট করা (অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি):
সময় আল্লাহর দেওয়া আমানত। মূল্যবান সময়কে উদ্দেশ্যহীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া বা বিনোদনে নষ্ট করা আমানতের খেয়ানত। এটি আখিরাতের প্রস্তুতির পথে বাধা। রাসূল ﷺ বলেছেন,
"দুটি নিয়ামত এমন আছে, যার কারণে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হলো: স্বাস্থ্য ও অবসর সময়।" [সহীহ বুখারী ৬৪১২]
৩. পর্দায় উদাসীনতা:
অপ্রয়োজনীয়ভাবে ছবি বা ভিডিওতে নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করাকে অনেকেই আধুনিক স্বাধীনতা মনে করা। এটি মুমিন নর-নারীর জন্য আল্লাহ নির্দেশিত দৃষ্টি সংযত রাখা এবং শালীনতা বজায় রাখার আদেশের লঙ্ঘন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,
"মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।" (সূরা আন-নূর ৩০)
৪. লোক দেখানো আমল (রিয়া):
ভালো কাজ বা দানশীলতার ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার উদ্দেশ্য যদি হয় মানুষের প্রশংসা বা বাহবা পাওয়া, তবে তা 'রিয়া' বা লোক দেখানো কাজ। এটি এক প্রকার গোপন পাপ, যা আমলের সওয়াব নষ্ট করে দেয়। রাসূল ﷺ বলেন,
"আমি তোমাদের জন্য যা ভয় করি, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয় করি ছোট শিরককে।" তিনি বললেন, "তা হলো রিয়া (লোক দেখানো আমল)।" [সুনান ইবনু মাজাহ ৪২০৪]
৫. দ্বীনের বিষয়ে ঠাট্টা ও তাচ্ছিল্য:
ইসলামের কোনো বিধান (যেমন: পর্দা, দাড়ি) বা আল্লাহর নির্দেশিত কোনো বিষয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা, ব্যঙ্গ করা কিংবা তাচ্ছিল্যসূচক মন্তব্য করা মারাত্মক গুনাহ।
আধুনিক সমাজে সোশ্যাল মিডিয়া বা আড্ডায় এসব চলে আসে, কিন্তু এটি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও রাসূলের (ﷺ) প্রতি অসম্মানজনক যা ইমান বিধ্বংসী হতে পারে।
© সংগৃহীত এবং আংশিক পরিমার্জিত
@FatayatalHuda
❤4👍2
কৃত্রিম নখ ও পাপড়ি ব্যবহার করা কি জায়েজ?
প্রাকৃতিক নখ কোনো কারণে ভেঙে গেলে বা উঠে গেলে কৃত্রিম নখ প্রতিস্থাপন করা জায়েজ। চোখের পাপড়ি যদি কোনো অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে উঠে যায়, তাহলেও কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহার করা জায়েজ। তবে কৃত্রিম নখ বা পাপড়ি যেন অজুর পানি চামড়া পর্যন্ত পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক না হয় বা অজুর সময় যেন সেগুলো খুলে রেখে অজু করা যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
কিন্তু স্বাভাবিক সুন্দর নখ ও পাপড়ি আছে এমন কোনো নারী শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কৃত্রিম নখ ও পাপড়ি ব্যবহার করতে পারবে কি না এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কোনো কোনো আলেমের মতে কৃত্রিম নখ ও পাপড়ি ব্যবহার নারীদের অন্যান্য অলঙ্কার পরিধানের মতো এবং জায়েজ।
কিন্তু অনেক আলেম কৃত্রিম নখ ও পাপড়ি ব্যবহারকে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার কারণে এবং ‘আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন’ গণ্য করে নাজায়েজ বলেছেন। তারা বলেন, কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহার পরচুলা ব্যবহারের মতোই। আল্লাহর রাসুল (ﷺ) পরচুলা পরতে নিষেধ করেছেন। রাসুল (ﷺ) বলেন,
"আল্লাহ তাআলা সে সব নারীদের লানত করেন যারা নিজেরা পরচুলা পরে বা পরায়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি অঙ্কন করে বা করায়। [সহিহ বুখারি ৫৯৩৩]
সুতরাং সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে ফেক আইল্যাস (নকল চোখের পাপড়ি) বা কৃত্রিম পাপড়ি লাগানো জায়েয নেই।
● ফেক আইল্যাশ বা কৃত্রিম পাপড়ি নিয়ে শায়েখ উমায়ের কোব্বাদী হাফি.- এর ফতোয়া হলো:
ফেক আইল্যাস বা কৃত্রিম পাপড়ি লাগানো জায়েয নেই। ড. খালিদ আল মুসলিহ বলেন,
আর এটা তো স্পষ্ট যে, কাজটি মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত। এটা প্রতারণাও। এজন্য মুসলিম বোনদেরকে আমি উপদেশ দিচ্ছি, তারা যেন এধরণের মেকআপ থেকে বেঁচে থাকে এবং বৈধ মেকআপ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে।
তাই কেউ কেউ জায়েজ বললেও মুসলিম পরহেজগার নারীদের উচিত আল্লাহর দেওয়া স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও সাধারণ রূপচর্চায় সন্তুষ্ট থাকা। এ সব ক্ষতিকর অতিরিক্ত রূপচর্চা থেকে দূরে থাকাই কল্যাণকর।
~ কালেক্টেড
• ওহে মুসলিমাহ! জেনে নাও তোমার ড্রেস-কোড (পর্ব-১২)
• পর্ব-১১ (ভ্রু প্লাক করা কি জায়েজ)
@FatayatalHuda
প্রাকৃতিক নখ কোনো কারণে ভেঙে গেলে বা উঠে গেলে কৃত্রিম নখ প্রতিস্থাপন করা জায়েজ। চোখের পাপড়ি যদি কোনো অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে উঠে যায়, তাহলেও কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহার করা জায়েজ। তবে কৃত্রিম নখ বা পাপড়ি যেন অজুর পানি চামড়া পর্যন্ত পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক না হয় বা অজুর সময় যেন সেগুলো খুলে রেখে অজু করা যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
কিন্তু স্বাভাবিক সুন্দর নখ ও পাপড়ি আছে এমন কোনো নারী শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কৃত্রিম নখ ও পাপড়ি ব্যবহার করতে পারবে কি না এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কোনো কোনো আলেমের মতে কৃত্রিম নখ ও পাপড়ি ব্যবহার নারীদের অন্যান্য অলঙ্কার পরিধানের মতো এবং জায়েজ।
কিন্তু অনেক আলেম কৃত্রিম নখ ও পাপড়ি ব্যবহারকে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার কারণে এবং ‘আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন’ গণ্য করে নাজায়েজ বলেছেন। তারা বলেন, কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহার পরচুলা ব্যবহারের মতোই। আল্লাহর রাসুল (ﷺ) পরচুলা পরতে নিষেধ করেছেন। রাসুল (ﷺ) বলেন,
"আল্লাহ তাআলা সে সব নারীদের লানত করেন যারা নিজেরা পরচুলা পরে বা পরায়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি অঙ্কন করে বা করায়। [সহিহ বুখারি ৫৯৩৩]
সুতরাং সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে ফেক আইল্যাস (নকল চোখের পাপড়ি) বা কৃত্রিম পাপড়ি লাগানো জায়েয নেই।
● ফেক আইল্যাশ বা কৃত্রিম পাপড়ি নিয়ে শায়েখ উমায়ের কোব্বাদী হাফি.- এর ফতোয়া হলো:
ফেক আইল্যাস বা কৃত্রিম পাপড়ি লাগানো জায়েয নেই। ড. খালিদ আল মুসলিহ বলেন,
"আমি আশঙ্কা করছি, এটি নিষিদ্ধ পরচুলার অন্তর্ভুক্ত, যার কর্তাকে আল্লাহ তাআলা লানত করেছেন। যেমনটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই বলেছেন যে,‘আল্লাহ তাআলা পরচুলা ব্যবহারকারিনী ও যে ব্যবহার করায় উভয়কে লানত করেছেন।’ আর এটা তো স্পষ্ট যে, কাজটি মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত। এটা প্রতারণাও। এজন্য মুসলিম বোনদেরকে আমি উপদেশ দিচ্ছি, তারা যেন এধরণের মেকআপ থেকে বেঁচে থাকে এবং বৈধ মেকআপ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে।
তাই কেউ কেউ জায়েজ বললেও মুসলিম পরহেজগার নারীদের উচিত আল্লাহর দেওয়া স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও সাধারণ রূপচর্চায় সন্তুষ্ট থাকা। এ সব ক্ষতিকর অতিরিক্ত রূপচর্চা থেকে দূরে থাকাই কল্যাণকর।
~ কালেক্টেড
• ওহে মুসলিমাহ! জেনে নাও তোমার ড্রেস-কোড (পর্ব-১২)
• পর্ব-১১ (ভ্রু প্লাক করা কি জায়েজ)
@FatayatalHuda
❤8
কোনো মানুষের উপকার করলে, এটি আর মনে রাখবেন না। একদম ভুলে যান, না হয় ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করুন। বরং এই ভেবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন যে, আল্লাহ তাঁর কোনো বান্দা/বান্দীকে সাহায্য করার জন্য আপনাকে বাছাই করেছেন। মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করে, এটি যতদিন মনে রাখবেন, ততদিন আপনি তার কাছ থেকে সমীহ আচরণ প্রত্যাশা করবেন। এটা ভালো বিষয় নয়। এর ফলে নিজের উপর অব্যাহত মানসিক চাপ অনুভব করবেন। বিশেষত উপকারের বদলা না পাওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে একটু ছোটভাবে দেখতে মন চাইবে এবং নিজের মধ্যে এক অদ্ভুত সুপ্রিমেসি (প্রভুত্ব-আধিপত্য) কাজ করবে। এক্ষেত্রে আমরা কুরআনের একটি আয়াতকে মূলনীতি হিসেবে নির্ধারণ করতে পারি—
لَا نُرِيْدُ مِنْكُمْ جَزَاءاً وَّلَا شُكُوْرَا
আমরা তোমাদের থেকে না কোনো বিনিময় চাই আর না কোনো কৃতজ্ঞতা চাই। [সুরা ইনসান/দাহর, আয়াত: ০৯]
আমাদের প্রতিটি ভালো কাজ, প্রতিটি সহযোগিতার পূর্ণ বিনিময় আল্লাহ দেবেন। এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। আল্লাহ তাআলার বলেন—
اِنَّ اللّٰهَ لَا یُضِیۡعُ اَجۡرَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ ইহসানকারীদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না। [সুরা হুদ, আয়াত: ১১৫]
~ Nusus
@FatayatalHuda
لَا نُرِيْدُ مِنْكُمْ جَزَاءاً وَّلَا شُكُوْرَا
আমরা তোমাদের থেকে না কোনো বিনিময় চাই আর না কোনো কৃতজ্ঞতা চাই। [সুরা ইনসান/দাহর, আয়াত: ০৯]
আমাদের প্রতিটি ভালো কাজ, প্রতিটি সহযোগিতার পূর্ণ বিনিময় আল্লাহ দেবেন। এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। আল্লাহ তাআলার বলেন—
اِنَّ اللّٰهَ لَا یُضِیۡعُ اَجۡرَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ ইহসানকারীদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না। [সুরা হুদ, আয়াত: ১১৫]
~ Nusus
@FatayatalHuda
❤9👍1🤝1
একবার ভেবে দেখুন, একজন নারী যখন মারা যান, তখন তাকেও পাঁচটি কাপড়ে মুড়িয়ে ঢেকে দেওয়া হয়... অথচ তখন তিনি ফিতনার কোনো কারণই নন!
তাহলে কীভাবে সেই নারীই জীবন্ত অবস্থায়, নিজের ইচ্ছায়, সবার সামনে নিজেকে খোলামেলাভাবে উপস্থাপন করেন? কীভাবে তিনি পর্দাহীন হয়ে চলেন?
~ মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান
@FatayatalHuda
তাহলে কীভাবে সেই নারীই জীবন্ত অবস্থায়, নিজের ইচ্ছায়, সবার সামনে নিজেকে খোলামেলাভাবে উপস্থাপন করেন? কীভাবে তিনি পর্দাহীন হয়ে চলেন?
~ মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান
@FatayatalHuda
💯10👍6
আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে, যারা মনে করে তাদের ঈমান শক্ত। দ্বীনের ওপর তাদের অবস্থান স্থিতিশীল। কিন্তু বাস্তবতা ধারণার সাথে মেলে না। তাদের হৃদয়গুলো বিনয়াবনত না। ইবাদাতে তাদের অনীহা। ইলম অর্জনে আগ্রহ নেই। ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাওয়া লোকেদের ব্যাপারে তারা নিষ্ক্রিয়। দ্বীনের জন্য কাজ করার কোনো উদ্যোগ নেই তাদের। মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকার ব্যাপারেও উদাসীন। তাদের অনেকে দৃষ্টির হেফাযত করে না। হিজাব পালন করে না সঠিকভাবে। অনেকে অবাধে নারীপুরুষ মেলামেশা করে। তারপরও তারা ভাবে—আমরা বেশ ভালো আছি। দ্বীনের ওপর আছি। আমাদের ঈমান মজবুত।
আসলে তারা নিজেদের ধোঁকা দিচ্ছে।
এতকিছুর পরও আল্লাহ তাঁদের দ্বীনের ওপর থাকার সুযোগ দিয়েছেন। এমন কোনো ফিতনায় ফেলেননি, যা তাদের দ্বীন ইসলাম থেকে বের করে দেবে। তারা এখনো সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে, ইসলামকে ভালোবাসে। চেষ্টা করে কবীরাহ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার (যদি আমরা ধরে নিই যে ওপরে যে অবহেলাগুলোর কথা বলা হচ্ছে সেগুলোর কারণে এরই মধ্যে তারা কবীরাহ গুনাহতে জড়িয়ে পড়েননি)। এ কারণে, দ্বীনের প্রতি অবহেলা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের ইসলামের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করেননি। হিদায়াত বঞ্চিত হবার মতো শাস্তির মুখোমুখি করেননি।
কিন্তু তার মানে এই না যে তারা কিছুই হারায়নি। দ্বীনের প্রতি অবহেলার কারণে তারা হারিয়েছে প্রচণ্ড দামি এক নিয়ামত। যদিও এ নিয়ে তারা বেখবর। তাদের সামনে সুযোগ ছিল ইতিহাসে নিজেদের পদচিহ্ন রেখে যাবার। সুযোগ ছিল আল্লাহর দ্বীনের সমর্থনে এগিয়ে আসার। তারা পারত একটি একটি করে অবহেলিত সুন্নাহকে জীবিত করতে, ফিতনাহর কবর রচনা করতে।
তারা পারত সংশয়ের প্রতিরোধ আর বাতিলকে চূর্ণ করতে, ঘুমন্তকে জাগাতে, ইসলামের আলো থেকে দূরে সরে যাওয়া মানুষগুলোকে আলোর পথ দেখাতে। তারা পারত অজ্ঞতা আর প্রবৃত্তির ফাঁসে নিস্তেজ হয়ে আসা হৃদয়গুলোতে হিদায়াতের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে।
তারা হতে পারত ওইসব বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের নাম উচ্চারিত হয় আসমানে। আসমানের অধিবাসীদের সামনে আল্লাহ যাদের কথা বলেন। যাদের জন্য দু’আ করেন ফেরেশতারা। তারা হতে পারত অগ্রগামী, সত্যবাদী, শহীদ ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তারা এমন সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারত যারা কোনো হিসেব এবং শাস্তি ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তারা পারত ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিতে। সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর গৌরবের উত্তরাধিকারী হতে। আল্লাহর ইচ্ছায় দ্বীনের জন্য কুরবানি দিয়ে মানবজাতির জন্য কিয়ামত পর্যন্ত অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।
তাদের সুযোগ ছিল এ সবকিছু অর্জন করার। কিন্তু অনেক অল্পতে সন্তুষ্ট হয়ে গেল তারা। ভেবেও দেখল না এ মর্যাদা, সম্মান আর মহত্ত্বের কথা । কিংবা ভাবলেও ক্ষণিকের সে ভাবনা দ্রুত মিলিয়ে গেল বিস্মৃতির অতল গহ্বরে।
তারপর বছরের পর বছর ফজরের সালাত আদায় করতে তারা হিমশিম খেয়ে গেল। সময় পার হয়ে যেতে থাকল খাওয়া, ঘুম, আলস্য, অফিসের নারী কলিগের ফিতনাহ আর দুনিয়ার খেল-তামাশায় আটকে থেকে।
তাদের জন্য কি আল্লাহর দ্বীনের কাজ থেমে আছে?
না!
আল্লাহ তাঁর দ্বীনের কাজ আর হেফাযতের জন্য বেছে নিয়েছেন অন্য একদল বান্দাকে। তাঁদের সম্মানিত করেছেন। আল্লাহর আনুগত্যের পরীক্ষায় টিকে যাওয়া এই বান্দারা সফল হয়ে গেছেন। তারা তাঁদের জান-মাল দিয়ে কিনে নিয়েছেন জান্নাত। আল্লাহ তাঁদের মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন। অনন্তকালের জন্য তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন আরশের অধিপতি। অনিন্দ্য-সুন্দর ফিরদাউসের বাগানে তারা পেয়ে গেছেন সর্বোচ্চ মাকাম।
.
এই মহাসম্মান, এই মহাসাফল্য হারাবার চেয়ে বড় ক্ষতি আর কী হতে পারে? এরচেয়ে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে?
অমূল্য এ সুযোগ হারানো মানুষগুলো শেষমেশ একদিন হয়তো জান্নাতে যাবেন। কিন্তু সেই দিনের অনুশোচনার তিক্ত স্বাদ নিয়ে যে দিনকে আল্লাহ বলেছেন, ‘ইয়াউমুত ত্বাগ্বাবুন’ (লাভ-লোকসানের দিন)। এটা সেই দিন, যেদিন পাপীরা দুনিয়াতে তাদের পাপের জন্য অনুশোচনা করবে আর সৎকর্মশীলরা আফসোস করবে—কেন দুনিয়াতে তারা আরও সৎকর্ম করল না।
হে আল্লাহ, আপনার রাহমাহর চাদরে আমাদের ভুলগুলো ঢেকে দিন। অনুশোচনার সে দিনের আগে আমাদের শুধরানোর সুযোগ দিন।
يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ الْجَمْعِ ۖ ذَٰلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ ۗ وَمَن يُؤْمِن بِاللَّـهِ وَيَعْمَلْ صَالِحًا يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
স্মরণ করো, যখন একত্র করার দিন তিনি তোমাদের একত্র করবেন, সেদিন হবে লাভ-লোকসানের দিন। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তিনি তার পাপসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার পাদদেশ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়, তথায় তারা স্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য। [সূরা তাগাবুন, ৬৪ : ৯]
অনুশোচনার দিন
বই: আয়নাঘর
ড. ইয়াদ আল-কুনাইবি
@FatayatalHuda
আসলে তারা নিজেদের ধোঁকা দিচ্ছে।
এতকিছুর পরও আল্লাহ তাঁদের দ্বীনের ওপর থাকার সুযোগ দিয়েছেন। এমন কোনো ফিতনায় ফেলেননি, যা তাদের দ্বীন ইসলাম থেকে বের করে দেবে। তারা এখনো সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে, ইসলামকে ভালোবাসে। চেষ্টা করে কবীরাহ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার (যদি আমরা ধরে নিই যে ওপরে যে অবহেলাগুলোর কথা বলা হচ্ছে সেগুলোর কারণে এরই মধ্যে তারা কবীরাহ গুনাহতে জড়িয়ে পড়েননি)। এ কারণে, দ্বীনের প্রতি অবহেলা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের ইসলামের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করেননি। হিদায়াত বঞ্চিত হবার মতো শাস্তির মুখোমুখি করেননি।
কিন্তু তার মানে এই না যে তারা কিছুই হারায়নি। দ্বীনের প্রতি অবহেলার কারণে তারা হারিয়েছে প্রচণ্ড দামি এক নিয়ামত। যদিও এ নিয়ে তারা বেখবর। তাদের সামনে সুযোগ ছিল ইতিহাসে নিজেদের পদচিহ্ন রেখে যাবার। সুযোগ ছিল আল্লাহর দ্বীনের সমর্থনে এগিয়ে আসার। তারা পারত একটি একটি করে অবহেলিত সুন্নাহকে জীবিত করতে, ফিতনাহর কবর রচনা করতে।
তারা পারত সংশয়ের প্রতিরোধ আর বাতিলকে চূর্ণ করতে, ঘুমন্তকে জাগাতে, ইসলামের আলো থেকে দূরে সরে যাওয়া মানুষগুলোকে আলোর পথ দেখাতে। তারা পারত অজ্ঞতা আর প্রবৃত্তির ফাঁসে নিস্তেজ হয়ে আসা হৃদয়গুলোতে হিদায়াতের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে।
তারা হতে পারত ওইসব বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের নাম উচ্চারিত হয় আসমানে। আসমানের অধিবাসীদের সামনে আল্লাহ যাদের কথা বলেন। যাদের জন্য দু’আ করেন ফেরেশতারা। তারা হতে পারত অগ্রগামী, সত্যবাদী, শহীদ ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তারা এমন সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারত যারা কোনো হিসেব এবং শাস্তি ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তারা পারত ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিতে। সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর গৌরবের উত্তরাধিকারী হতে। আল্লাহর ইচ্ছায় দ্বীনের জন্য কুরবানি দিয়ে মানবজাতির জন্য কিয়ামত পর্যন্ত অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।
তাদের সুযোগ ছিল এ সবকিছু অর্জন করার। কিন্তু অনেক অল্পতে সন্তুষ্ট হয়ে গেল তারা। ভেবেও দেখল না এ মর্যাদা, সম্মান আর মহত্ত্বের কথা । কিংবা ভাবলেও ক্ষণিকের সে ভাবনা দ্রুত মিলিয়ে গেল বিস্মৃতির অতল গহ্বরে।
তারপর বছরের পর বছর ফজরের সালাত আদায় করতে তারা হিমশিম খেয়ে গেল। সময় পার হয়ে যেতে থাকল খাওয়া, ঘুম, আলস্য, অফিসের নারী কলিগের ফিতনাহ আর দুনিয়ার খেল-তামাশায় আটকে থেকে।
তাদের জন্য কি আল্লাহর দ্বীনের কাজ থেমে আছে?
না!
আল্লাহ তাঁর দ্বীনের কাজ আর হেফাযতের জন্য বেছে নিয়েছেন অন্য একদল বান্দাকে। তাঁদের সম্মানিত করেছেন। আল্লাহর আনুগত্যের পরীক্ষায় টিকে যাওয়া এই বান্দারা সফল হয়ে গেছেন। তারা তাঁদের জান-মাল দিয়ে কিনে নিয়েছেন জান্নাত। আল্লাহ তাঁদের মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন। অনন্তকালের জন্য তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন আরশের অধিপতি। অনিন্দ্য-সুন্দর ফিরদাউসের বাগানে তারা পেয়ে গেছেন সর্বোচ্চ মাকাম।
.
এই মহাসম্মান, এই মহাসাফল্য হারাবার চেয়ে বড় ক্ষতি আর কী হতে পারে? এরচেয়ে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে?
অমূল্য এ সুযোগ হারানো মানুষগুলো শেষমেশ একদিন হয়তো জান্নাতে যাবেন। কিন্তু সেই দিনের অনুশোচনার তিক্ত স্বাদ নিয়ে যে দিনকে আল্লাহ বলেছেন, ‘ইয়াউমুত ত্বাগ্বাবুন’ (লাভ-লোকসানের দিন)। এটা সেই দিন, যেদিন পাপীরা দুনিয়াতে তাদের পাপের জন্য অনুশোচনা করবে আর সৎকর্মশীলরা আফসোস করবে—কেন দুনিয়াতে তারা আরও সৎকর্ম করল না।
হে আল্লাহ, আপনার রাহমাহর চাদরে আমাদের ভুলগুলো ঢেকে দিন। অনুশোচনার সে দিনের আগে আমাদের শুধরানোর সুযোগ দিন।
يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ الْجَمْعِ ۖ ذَٰلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ ۗ وَمَن يُؤْمِن بِاللَّـهِ وَيَعْمَلْ صَالِحًا يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
স্মরণ করো, যখন একত্র করার দিন তিনি তোমাদের একত্র করবেন, সেদিন হবে লাভ-লোকসানের দিন। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তিনি তার পাপসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার পাদদেশ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়, তথায় তারা স্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য। [সূরা তাগাবুন, ৬৪ : ৯]
অনুশোচনার দিন
বই: আয়নাঘর
ড. ইয়াদ আল-কুনাইবি
@FatayatalHuda
😢8❤1
অন্তরে গুনাহর অবস্থান হচ্ছে কাপড়ে তেল লেগে যাবার মত ব্যাপার। আপনি যদি তা ধুয়ে ফেলার জন্য তাড়াহুড়া না করেন তাহলে তা বিস্তার লাভ করবে।
~ ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহ.)
[আল মুদহিশ, পৃষ্ঠা: ৩৫৭]
@FatayatalHuda
~ ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহ.)
[আল মুদহিশ, পৃষ্ঠা: ৩৫৭]
@FatayatalHuda
❤8👍2
জুমার দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ এবং বরকতময়। এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং এই দিনের ইবাদত-বন্দেগি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। হাদিসে জুমার দিনের অনেক ফজিলত এবং বিশেষ আমলের কথা উল্লেখ আছে।জুমার দিনের বিশেষ আমলের মধ্যে রয়েছে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. গোসল করা: জুমার দিন ফজরের পর গোসল করা সুন্নত। এটি পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার নিদর্শন। হাদিসে বলা হয়েছে,
"যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করবে, তার জন্য এটি পবিত্রতার কারণ হবে।" [সহিহ বুখারি ৮৮০]
২. পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা: সাদা পোশাক পরা উত্তম এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত।
৩. সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা: জুমার দিন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে একটি নূর থাকবে।" [সহিহ মুসলিম]
৪. দরুদ পাঠ করা: রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "জুমার দিন আমার উপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ কর।" [আবু দাউদ ১০৪৭]
৫. জুমার খুতবা মনোযোগ সহকারে শোনা: খুতবা চলাকালে কথা বলা নিষিদ্ধ। খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।
৬. জুমার বিশেষ দোয়া কবুলের সময়: হাদিসে এসেছে, "জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন বান্দা যদি আল্লাহ্র কাছে কোনো দোয়া করে, তা কবুল করা হয়।" [সহিহ বুখারি ৯৩৫]
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুমার দিনের আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন এবং এর মাধ্যমে আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা দান করুন, আমিন।
~ IOM-Islamic Online Madrasah
@FatayatalHuda
১. গোসল করা: জুমার দিন ফজরের পর গোসল করা সুন্নত। এটি পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার নিদর্শন। হাদিসে বলা হয়েছে,
"যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করবে, তার জন্য এটি পবিত্রতার কারণ হবে।" [সহিহ বুখারি ৮৮০]
২. পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা: সাদা পোশাক পরা উত্তম এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত।
৩. সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা: জুমার দিন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে একটি নূর থাকবে।" [সহিহ মুসলিম]
৪. দরুদ পাঠ করা: রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "জুমার দিন আমার উপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ কর।" [আবু দাউদ ১০৪৭]
৫. জুমার খুতবা মনোযোগ সহকারে শোনা: খুতবা চলাকালে কথা বলা নিষিদ্ধ। খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।
৬. জুমার বিশেষ দোয়া কবুলের সময়: হাদিসে এসেছে, "জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন বান্দা যদি আল্লাহ্র কাছে কোনো দোয়া করে, তা কবুল করা হয়।" [সহিহ বুখারি ৯৩৫]
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুমার দিনের আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন এবং এর মাধ্যমে আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা দান করুন, আমিন।
~ IOM-Islamic Online Madrasah
@FatayatalHuda
❤9
দ্বীন ও দুনিয়ার সকল প্রয়োজন পূরা হওয়ার মাধ্যম হলো ইস্তিগফার, তথা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা।
~ হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ.
[মাআসিরে হাকীমুল উম্মত ৫২১]
@FatayatalHuda
~ হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ.
[মাআসিরে হাকীমুল উম্মত ৫২১]
@FatayatalHuda
❤🔥12⚡1❤1
মহিলাদের কিছু বর্জনীয় অভ্যাস:
১. দ্বীনি ইলমে অজ্ঞতা:
অনেক মহিলা ফরয পরিমাণ আকায়িদ, ইবাদত, পিতা-মাতা, স্বামী ও সন্তানের হক জানার চেষ্টা করে না। অথচ এসব ইলম অর্জন করা ফরযে আইন। কেবল দুনিয়াবি শিক্ষায় সন্তুষ্ট থাকা গুনাহের কাজ। (ইবনে মাজাহ ২২৪)
২. সময় অপচয় ও দেরি করা:
নামায, গোসল, খাওয়া বা অন্য কাজেও দেরি করে; ফলে নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও অন্যদের কষ্ট দেয়। ইসলাম সময়নিষ্ঠাকে গুরুত্ব দিয়েছে। (বুখারী ৬৪১২)
৩. গীবত ও দোষ চর্চা:
দুই-তিনজন একত্র হলে অন্যের দোষ বলে সময় কাটায়। গীবত এমন গুনাহ, যা মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার মতো জঘন্য। (হুজুরাত ১২)
৪. সালাম না দেয়া:
সালাম প্রচার করলে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। (বুখারী ২৮)
৫. চোগলখুরি ও পরনিন্দা:
চোগলখোরকে নবী ﷺ কবরের আজাবে আক্রান্ত হতে দেখেছেন। (বুখারী ১৩৭৮)
৬. অতিরিক্ত সাজসজ্জা ও দেখানোর উদ্দেশ্য:
বাহিরে সৌন্দর্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ; কেবল স্বামীর জন্য সাজা বৈধ। (তিরমিযী ১১৬১)
৭. হারাম সৌন্দর্যচর্চা:
ভ্রূ তোলা, নখে পালিশ, চুল কাটা নিষিদ্ধ। (আবু দাউদ ৪০৩১)
৮. অশালীন পোশাক:
শরীর ঢেকে না রাখলে নামাযও কবুল হয় না। (নূর ৩১)
৯. পর্দাহীনতা ও দেবর-ভাশুরের সাথে মেলামেশা:
নবী ﷺ বলেছেন, “দেবর হলো মৃত্যু।” (তিরমিযী ১১৭১)
১১. চেহারা খোলা রাখা:
মুখ ঢাকা নারীর পরিপূর্ণ পর্দার অংশ। (নূর ৩১)
১২. যাত্রায় বিলম্ব/অতিরিক্ত বোঝা বহন করানো:
প্রয়োজনের বাইরে মালামাল নিয়ে পুরুষদের কষ্ট দেওয়া অন্যায়। হালকা মালসামানের সাথে ভ্রমণ করা উত্তম। (নাসাঈ ৪৯৯৬)
১৩. অপ্রয়োজনে খরচ ও ঋণগ্রহণ:
অপ্রয়োজনে কেনাকাটা ও ঋণ করা মূর্খতা। ইসলাম অপচয় নিষিদ্ধ করেছে। (আনআম ১৪১, বুখারী ২৪০৮)
১৪. শুকরিয়া আদায় না করা:
অন্যের উপকারের কৃতজ্ঞতা না জানালে আল্লাহর শুকরিয়াও কবুল হয় না। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” বলা উত্তম অভ্যাস। (তিরমিযী ১৯৫৫)
১৫. শাশুড়ির অন্যায় আচরণ:
পুত্রবধূকে মেয়ের মতো না দেখে অন্যায় আচরণ করা,এতে সংসারে ঝগড়া বাড়ে। প্রয়োজন হলে আলাদা থাকা ভালো। (বুখারী ২৪৪৭)
১৬. পুত্রবধূর অবাধ্যতা:
শাশুড়িকে মায়ের মতো সম্মান না করা। এতে পারিবারিক শান্তি নষ্ট হয়। (বুখারী ১৯৬৮)
১৭. স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা:
স্বামীর উপকার ভুলে গিয়ে ছোট ঘটনায় অভিযোগ করা বড় গুনাহের কারণ। (বুখারী ২৯)
১৮. উপহার প্রত্যাখ্যান:
স্বামীর দেওয়া জিনিস পছন্দ না হলেও খুশি মনে গ্রহণ করা উচিত, কারণ এতে স্বামী সন্তুষ্ট হয়। (বুখারী ২৯)
১৯. অসতর্কতা ও অভিযোগ:
মূল্যবান জিনিস হারিয়ে নিরপরাধকে দোষ দেওয়া গুনাহ। সবকিছু নিরাপদে রাখা উচিত। (হুজুরাত ১২)
২০. অলসতা ও ধীরগতি:
অতি ধীরে কাজ করলে সুযোগ নষ্ট হয়, আবার তাড়াহুড়াও ক্ষতিকর। মধ্যপন্থা অবলম্বনই সুন্নাহ। (তিরমিযী ২০১২)
২১. অযাচিতভাবে কথায় হস্তক্ষেপ:
দুজন কথা বললে তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপ শিষ্টাচারবিরোধী। (হুজুরাত ১২, বুখারী ৭০৪২)
২২. অন্য নারীর বর্ণনা স্বামীর কাছে করা:
এতে স্বামী অন্য নারীতে আকৃষ্ট হতে পারে—নিজের ক্ষতির কারণ। (আহমদ ৩৬০৮)
২৩. অনুমতি ছাড়া কথা বলা:
কাউকে কথা বলার সময় অনুমতি ও সময় দেখা উচিত। (বুখারী ৬৩৩৭)
২৪. মনোযোগহীনভাবে শোনা:
অন্যের কথা শুনতে মনোযোগ না দিলে ভুল বোঝাবুঝি হয় ও বক্তার কষ্ট হয়। (নাসাঈ ৪৯৯৬)
২৫. ভুল স্বীকার না করা:
ভুল করলে তা স্বীকার করে সংশোধন করা উচিত; অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে। (বুখারী ২৪৫৮)
২৬. অসম্পূর্ণ কথা বলা:
অর্ধেক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা অন্যায়; স্পষ্টভাবে বলা উচিত। (নাসাঈ ৪৯৯৬)
২৬. কৃত্রিম কান্না:
লোক দেখানো কান্না বা আবেগপ্রদর্শন ইসলামে নিরুৎসাহিত। (সাদ ৮৬)
২৮. ফরয গোসল বিলম্ব:
মাসিক বন্ধ হলে সঙ্গে সঙ্গে গোসল ফরয হয়; বিলম্ব করলে নামায কাযা হয়ে যায়। (তিরমিযী ২৬২৩)
২৯. গোসলের মাসআলা না জানা:
গোসল কখন ফরয, তা না জানা মহিলাদের জন্য লজ্জার বিষয়। বাবা-মাও দায়ী। (ইবনে মাজাহ ২২৪)
৩০. স্বামী ফিরলে কলহের কথা বলা:
ক্লান্ত স্বামীর সামনে অভিযোগ না করে শান্ত হলে বিষয় বলা উচিত। (বুখারী ৩০৪)
৩১. ননদ-বৌ দ্বন্দ্ব:
অন্যায় প্রতিযোগিতা সংসার ভেঙে দেয়। সৌহার্দ্য বজায় রাখা ঈমানের দাবি। (বুখারী ৫৯৮৬)
৩২. অপরিচ্ছন্নতা:
পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ; শরীর ও ঘর পরিপাটি রাখা উচিত। (মুসলিম ২২৩)
৩৩. সন্তানের প্রতি পক্ষপাত:
সব সন্তানকে সমান ভালোবাসা ইনসাফের অংশ। (বুখারী ২৫৮৭)
৩৪. রোগ লুকানো ও চিকিৎসা অবহেলা:
রোগের চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন; শরীর আল্লাহর নিয়ামত। (আবু দাউদ ৩৮৫৫)
৩৫. নারীর চাকরি-প্রীতি:
অনেক শিক্ষিতা মহিলা স্বামীর ঘরে আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করার চেয়ে বাইরে গিয়ে চাকুরী করাকে বেশি পছন্দ করে। অথচ সংসারের ব্যয়ভার বহন করা স্বামীর দায়িত্ব। তার দায়িত্ব হলো সন্তান ও সংসার সামলানো। (সূরা নিসা:৩৪)
মুফতী মনসুরুল হক দামাত বরাকাতুহ্
পরিমার্জিত।
©️সিরাতুল মুস্তাক্বীম
@FatayatalHuda
১. দ্বীনি ইলমে অজ্ঞতা:
অনেক মহিলা ফরয পরিমাণ আকায়িদ, ইবাদত, পিতা-মাতা, স্বামী ও সন্তানের হক জানার চেষ্টা করে না। অথচ এসব ইলম অর্জন করা ফরযে আইন। কেবল দুনিয়াবি শিক্ষায় সন্তুষ্ট থাকা গুনাহের কাজ। (ইবনে মাজাহ ২২৪)
২. সময় অপচয় ও দেরি করা:
নামায, গোসল, খাওয়া বা অন্য কাজেও দেরি করে; ফলে নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও অন্যদের কষ্ট দেয়। ইসলাম সময়নিষ্ঠাকে গুরুত্ব দিয়েছে। (বুখারী ৬৪১২)
৩. গীবত ও দোষ চর্চা:
দুই-তিনজন একত্র হলে অন্যের দোষ বলে সময় কাটায়। গীবত এমন গুনাহ, যা মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার মতো জঘন্য। (হুজুরাত ১২)
৪. সালাম না দেয়া:
সালাম প্রচার করলে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। (বুখারী ২৮)
৫. চোগলখুরি ও পরনিন্দা:
চোগলখোরকে নবী ﷺ কবরের আজাবে আক্রান্ত হতে দেখেছেন। (বুখারী ১৩৭৮)
৬. অতিরিক্ত সাজসজ্জা ও দেখানোর উদ্দেশ্য:
বাহিরে সৌন্দর্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ; কেবল স্বামীর জন্য সাজা বৈধ। (তিরমিযী ১১৬১)
৭. হারাম সৌন্দর্যচর্চা:
ভ্রূ তোলা, নখে পালিশ, চুল কাটা নিষিদ্ধ। (আবু দাউদ ৪০৩১)
৮. অশালীন পোশাক:
শরীর ঢেকে না রাখলে নামাযও কবুল হয় না। (নূর ৩১)
৯. পর্দাহীনতা ও দেবর-ভাশুরের সাথে মেলামেশা:
নবী ﷺ বলেছেন, “দেবর হলো মৃত্যু।” (তিরমিযী ১১৭১)
১১. চেহারা খোলা রাখা:
মুখ ঢাকা নারীর পরিপূর্ণ পর্দার অংশ। (নূর ৩১)
১২. যাত্রায় বিলম্ব/অতিরিক্ত বোঝা বহন করানো:
প্রয়োজনের বাইরে মালামাল নিয়ে পুরুষদের কষ্ট দেওয়া অন্যায়। হালকা মালসামানের সাথে ভ্রমণ করা উত্তম। (নাসাঈ ৪৯৯৬)
১৩. অপ্রয়োজনে খরচ ও ঋণগ্রহণ:
অপ্রয়োজনে কেনাকাটা ও ঋণ করা মূর্খতা। ইসলাম অপচয় নিষিদ্ধ করেছে। (আনআম ১৪১, বুখারী ২৪০৮)
১৪. শুকরিয়া আদায় না করা:
অন্যের উপকারের কৃতজ্ঞতা না জানালে আল্লাহর শুকরিয়াও কবুল হয় না। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” বলা উত্তম অভ্যাস। (তিরমিযী ১৯৫৫)
১৫. শাশুড়ির অন্যায় আচরণ:
পুত্রবধূকে মেয়ের মতো না দেখে অন্যায় আচরণ করা,এতে সংসারে ঝগড়া বাড়ে। প্রয়োজন হলে আলাদা থাকা ভালো। (বুখারী ২৪৪৭)
১৬. পুত্রবধূর অবাধ্যতা:
শাশুড়িকে মায়ের মতো সম্মান না করা। এতে পারিবারিক শান্তি নষ্ট হয়। (বুখারী ১৯৬৮)
১৭. স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা:
স্বামীর উপকার ভুলে গিয়ে ছোট ঘটনায় অভিযোগ করা বড় গুনাহের কারণ। (বুখারী ২৯)
১৮. উপহার প্রত্যাখ্যান:
স্বামীর দেওয়া জিনিস পছন্দ না হলেও খুশি মনে গ্রহণ করা উচিত, কারণ এতে স্বামী সন্তুষ্ট হয়। (বুখারী ২৯)
১৯. অসতর্কতা ও অভিযোগ:
মূল্যবান জিনিস হারিয়ে নিরপরাধকে দোষ দেওয়া গুনাহ। সবকিছু নিরাপদে রাখা উচিত। (হুজুরাত ১২)
২০. অলসতা ও ধীরগতি:
অতি ধীরে কাজ করলে সুযোগ নষ্ট হয়, আবার তাড়াহুড়াও ক্ষতিকর। মধ্যপন্থা অবলম্বনই সুন্নাহ। (তিরমিযী ২০১২)
২১. অযাচিতভাবে কথায় হস্তক্ষেপ:
দুজন কথা বললে তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপ শিষ্টাচারবিরোধী। (হুজুরাত ১২, বুখারী ৭০৪২)
২২. অন্য নারীর বর্ণনা স্বামীর কাছে করা:
এতে স্বামী অন্য নারীতে আকৃষ্ট হতে পারে—নিজের ক্ষতির কারণ। (আহমদ ৩৬০৮)
২৩. অনুমতি ছাড়া কথা বলা:
কাউকে কথা বলার সময় অনুমতি ও সময় দেখা উচিত। (বুখারী ৬৩৩৭)
২৪. মনোযোগহীনভাবে শোনা:
অন্যের কথা শুনতে মনোযোগ না দিলে ভুল বোঝাবুঝি হয় ও বক্তার কষ্ট হয়। (নাসাঈ ৪৯৯৬)
২৫. ভুল স্বীকার না করা:
ভুল করলে তা স্বীকার করে সংশোধন করা উচিত; অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে। (বুখারী ২৪৫৮)
২৬. অসম্পূর্ণ কথা বলা:
অর্ধেক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা অন্যায়; স্পষ্টভাবে বলা উচিত। (নাসাঈ ৪৯৯৬)
২৬. কৃত্রিম কান্না:
লোক দেখানো কান্না বা আবেগপ্রদর্শন ইসলামে নিরুৎসাহিত। (সাদ ৮৬)
২৮. ফরয গোসল বিলম্ব:
মাসিক বন্ধ হলে সঙ্গে সঙ্গে গোসল ফরয হয়; বিলম্ব করলে নামায কাযা হয়ে যায়। (তিরমিযী ২৬২৩)
২৯. গোসলের মাসআলা না জানা:
গোসল কখন ফরয, তা না জানা মহিলাদের জন্য লজ্জার বিষয়। বাবা-মাও দায়ী। (ইবনে মাজাহ ২২৪)
৩০. স্বামী ফিরলে কলহের কথা বলা:
ক্লান্ত স্বামীর সামনে অভিযোগ না করে শান্ত হলে বিষয় বলা উচিত। (বুখারী ৩০৪)
৩১. ননদ-বৌ দ্বন্দ্ব:
অন্যায় প্রতিযোগিতা সংসার ভেঙে দেয়। সৌহার্দ্য বজায় রাখা ঈমানের দাবি। (বুখারী ৫৯৮৬)
৩২. অপরিচ্ছন্নতা:
পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ; শরীর ও ঘর পরিপাটি রাখা উচিত। (মুসলিম ২২৩)
৩৩. সন্তানের প্রতি পক্ষপাত:
সব সন্তানকে সমান ভালোবাসা ইনসাফের অংশ। (বুখারী ২৫৮৭)
৩৪. রোগ লুকানো ও চিকিৎসা অবহেলা:
রোগের চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন; শরীর আল্লাহর নিয়ামত। (আবু দাউদ ৩৮৫৫)
৩৫. নারীর চাকরি-প্রীতি:
অনেক শিক্ষিতা মহিলা স্বামীর ঘরে আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করার চেয়ে বাইরে গিয়ে চাকুরী করাকে বেশি পছন্দ করে। অথচ সংসারের ব্যয়ভার বহন করা স্বামীর দায়িত্ব। তার দায়িত্ব হলো সন্তান ও সংসার সামলানো। (সূরা নিসা:৩৪)
মুফতী মনসুরুল হক দামাত বরাকাতুহ্
পরিমার্জিত।
©️সিরাতুল মুস্তাক্বীম
@FatayatalHuda
❤18
মুসলিম নারীর মাথার চুল বড় করা ইসলামের দাবি, বিনা প্রয়োজনে মাথা মুণ্ডন করা হারাম।
সৌদি আরবের মুফতি শাইখ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম রহ. বলেন: “নারীর চুল কাটা বৈধ নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে মাথা মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন।" [তিরমিযি ৯১৪; নাসাঈ ৫০৪৯]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নিষেধাজ্ঞার অর্থ হারাম, যদি তার বিপরীত দলীল না থাকে।
মোল্লা আলী ক্বারী মিশকাতের ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘মিরকাত’-এ বলেন: নারীর মাথা মুণ্ডনের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণ:
মাথার চুল কাঁটা যদি সৌন্দর্য ছাড়া কোনো প্রয়োজনে হয়, যেমন চুল বহন করা কঠিন ঠেকে অথবা বেশি বড় হওয়ার কারণে পরিচর্যা করা কষ্টকর হয়, তাহলে প্রয়োজন মোতাবেক কাটা সমস্যা নয়। যেমন নবী (ﷺ) এর মৃত্যুর পর তাঁর কতক স্ত্রী চুল ছোট করতেন। কারণ, তাঁর মৃত্যুর পর তারা সৌন্দর্য পরিহার করতেন, তাই চুল বড় রাখা তাদের প্রয়োজন ছিল না।
নারীর চুল কাটার উদ্দেশ্য যদি হয় কাফির ও ফাসিক নারী বা পুরুষদের সাথে সামঞ্জস্য গ্রহণ করা, তাহলে নিঃসন্দেহে তা হারাম। কারণ কাফিরদের সামঞ্জস্য গ্রহণ না করাই ইসলামের সাধারণ নির্দেশ। অনুরূপ নারীদের জন্য পুরুষদের সামঞ্জস্য গ্রহণ করা হারাম, যদি সৌন্দর্যের উদ্দেশ্য গ্রহণ করা হয় তবুও হারাম।
আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ আমীন শানকিতি রহ. ‘আদওয়াউল বায়ান’ গ্রন্থে বলেন:
“অনেক দেশে নারীরা মাথার কাছ থেকে চুল কাঁটার যে অভ্যাস গড়ে নিয়েছে -তা পশ্চিমা ও ইউরোপীয় রীতি। এ স্বভাব ইসলাম ও ইসলাম পূর্ব যুগে আরবদের নারীদের ছিল না। উম্মতের মাঝে ধর্মীয়, চারিত্রিক ও বৈশিষ্ট্যে সেসব বিকৃতি ও পদস্খলন মহামারির আকার ধারণ করেছে এটা তারই অংশ। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত হাদীস সম্পর্কে বলেন:
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ কানের লতি পর্যন্ত তাদের মাথার চুল কর্তন করতেন।" [সহীহ মুসলিম ৩২০]
এরূপ করেছেন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর, তার জীবিতাবস্থায় তারা সৌন্দর্য গ্রহণ করতেন, যার অন্যতম অংশ ছিল চুল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তাদের জন্য বিশেষ বিধান হয়, যে বিধানে পৃথিবীর কোনো নারী তাদের শরীক নয়। সেটা হচ্ছে বিবাহের আশা তাদের একেবারেই ত্যাগ করা। এমনভাবে ত্যাগ করা যে, কোনো অবস্থায় বিবাহ সম্ভব নয়। নবী (ﷺ) এর মৃত্যুর পর তারা আমৃত্যু ইদ্দত পালনকারী নারীর মত ছিলেন। ইদ্দত পালনকারী নারীর মতো তাদের পক্ষে বিবাহ করা বৈধ ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
"আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া এবং তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীদেরকে বিয়ে করা কখনো তোমাদের জন্য সঙ্গত নয়। নিশ্চয় এটি আল্লাহর কাছে গুরুতর পাপ।" [সূরা আল-আহযাব ৫৩]
অতএব, একেবারে পুরুষদের সঙ্ঘ থেকে নিরাশ হওয়ার ফলে সৌন্দর্য গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা ছাড় রয়েছে, যেভাবে নিরাশ হওয়া অন্যান্য নারীদের জন্য বৈধ নয়। [আদওয়াউল বায়ান: ৫/৫৯৮-৬০১]
• স্বামী যদি চুল কাঁটার নির্দেশ দেয় তবুও তার পক্ষে চুল কাঁটা বৈধ নয়, কারণ স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির কোনো অনুকরণ নেই।
তাই নারীর ওপর কর্তব্য হচ্ছে, মাথার চুল সংরক্ষণ করা, চুলের যত্ন নেওয়া ও লম্বা বেণী বানিয়ে রাখা, মাথার ওপর বা ঘাড়ে জমা করে রাখা নিষেধ।
শাইখুল শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া রহ. বলেন: “কতক অসৎ নারী দুই কাঁধের মাঝে চুলের একটি খোঁপা বা বেণী বানিয়ে ঝুলিয়ে রাখে।" [মাজমুউল ফতোয়া: ২২/১৪৫]
সৌদি আরবের মুফতি শাইখ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম রহ. বলেন: “এ যুগে কতক মুসলিম নারী, মাথার চুলকে যেভাবে একপাশে নিয়ে ঘাড়ের নিকট খোপা বানিয়ে রাখে অথবা মাথার ওপর স্তূপ করে রাখে, যেরূপ পশ্চিমা ও ইউরোপীয় নারীরা করে তা বৈধ নয়। কারণ, এতে কাফিরদের নারীদের সাথে সামঞ্জস্য হয়। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত একটি লম্বা হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
“দু’প্রকার জাহান্নামী লোক যাদের আমি এখনো দেখি নি: এক প্রকার লোকের সাথে গরুর লেজের ন্যায় লাঠি থাকবে, তা দিয়ে তারা মানুষদের পেটাবে। আর পোশাক পরিহিত বিবস্ত্র নারী, তারা নিজেরা ধাবিত হয় ও অপরকে ধাবিত করে। তাদের মাথা উটের ঝুঁকে পড়া কুজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার গন্ধও পাবে না, যদিও তার গন্ধ এত এত দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।" [সহীহ মুসলিম ২১২৮; আহমদ ২/৪৪০; ইমাম মালিক ১৬৯৪]
“ধাবিত হয় ও ধাবিত করে” কথার ব্যাখ্যায় কতক আলেম বলেন: “তারা নিজেরা এমনভাবে চিরুনি করে যা আবেদনময়ী ও অপরকে আকৃষ্টকারী এবং অপরকেও তারা সেভাবে চিরুনি করে দেয়, যা নষ্ট নারীদের চিরুনি করার রীতি। পশ্চিমা নারী এবং তাদের অনুসারী বিপথগামী মুসলিম নারীদের চিরুনি করার এটিই রীতি। [মাজমুউল ফতোয়া: ২/৪২]
সৌদি আরবের মুফতি শাইখ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম রহ. বলেন: “নারীর চুল কাটা বৈধ নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে মাথা মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন।" [তিরমিযি ৯১৪; নাসাঈ ৫০৪৯]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নিষেধাজ্ঞার অর্থ হারাম, যদি তার বিপরীত দলীল না থাকে।
মোল্লা আলী ক্বারী মিশকাতের ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘মিরকাত’-এ বলেন: নারীর মাথা মুণ্ডনের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণ:
পুরুষের পুরুষত্ব ও সৌন্দর্যের জন্য দাঁড়ি যেরূপ নারীর নারীত্ব ও সৌন্দর্যের জন্য চুল/মাথার বেণী সেরূপ।" [মাজমুউল ফতোয়া শাইখ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ: ২/৪৯]
মাথার চুল কাঁটা যদি সৌন্দর্য ছাড়া কোনো প্রয়োজনে হয়, যেমন চুল বহন করা কঠিন ঠেকে অথবা বেশি বড় হওয়ার কারণে পরিচর্যা করা কষ্টকর হয়, তাহলে প্রয়োজন মোতাবেক কাটা সমস্যা নয়। যেমন নবী (ﷺ) এর মৃত্যুর পর তাঁর কতক স্ত্রী চুল ছোট করতেন। কারণ, তাঁর মৃত্যুর পর তারা সৌন্দর্য পরিহার করতেন, তাই চুল বড় রাখা তাদের প্রয়োজন ছিল না।
নারীর চুল কাটার উদ্দেশ্য যদি হয় কাফির ও ফাসিক নারী বা পুরুষদের সাথে সামঞ্জস্য গ্রহণ করা, তাহলে নিঃসন্দেহে তা হারাম। কারণ কাফিরদের সামঞ্জস্য গ্রহণ না করাই ইসলামের সাধারণ নির্দেশ। অনুরূপ নারীদের জন্য পুরুষদের সামঞ্জস্য গ্রহণ করা হারাম, যদি সৌন্দর্যের উদ্দেশ্য গ্রহণ করা হয় তবুও হারাম।
আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ আমীন শানকিতি রহ. ‘আদওয়াউল বায়ান’ গ্রন্থে বলেন:
“অনেক দেশে নারীরা মাথার কাছ থেকে চুল কাঁটার যে অভ্যাস গড়ে নিয়েছে -তা পশ্চিমা ও ইউরোপীয় রীতি। এ স্বভাব ইসলাম ও ইসলাম পূর্ব যুগে আরবদের নারীদের ছিল না। উম্মতের মাঝে ধর্মীয়, চারিত্রিক ও বৈশিষ্ট্যে সেসব বিকৃতি ও পদস্খলন মহামারির আকার ধারণ করেছে এটা তারই অংশ। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত হাদীস সম্পর্কে বলেন:
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ কানের লতি পর্যন্ত তাদের মাথার চুল কর্তন করতেন।" [সহীহ মুসলিম ৩২০]
এরূপ করেছেন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর, তার জীবিতাবস্থায় তারা সৌন্দর্য গ্রহণ করতেন, যার অন্যতম অংশ ছিল চুল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তাদের জন্য বিশেষ বিধান হয়, যে বিধানে পৃথিবীর কোনো নারী তাদের শরীক নয়। সেটা হচ্ছে বিবাহের আশা তাদের একেবারেই ত্যাগ করা। এমনভাবে ত্যাগ করা যে, কোনো অবস্থায় বিবাহ সম্ভব নয়। নবী (ﷺ) এর মৃত্যুর পর তারা আমৃত্যু ইদ্দত পালনকারী নারীর মত ছিলেন। ইদ্দত পালনকারী নারীর মতো তাদের পক্ষে বিবাহ করা বৈধ ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
"আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া এবং তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীদেরকে বিয়ে করা কখনো তোমাদের জন্য সঙ্গত নয়। নিশ্চয় এটি আল্লাহর কাছে গুরুতর পাপ।" [সূরা আল-আহযাব ৫৩]
অতএব, একেবারে পুরুষদের সঙ্ঘ থেকে নিরাশ হওয়ার ফলে সৌন্দর্য গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা ছাড় রয়েছে, যেভাবে নিরাশ হওয়া অন্যান্য নারীদের জন্য বৈধ নয়। [আদওয়াউল বায়ান: ৫/৫৯৮-৬০১]
• স্বামী যদি চুল কাঁটার নির্দেশ দেয় তবুও তার পক্ষে চুল কাঁটা বৈধ নয়, কারণ স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির কোনো অনুকরণ নেই।
তাই নারীর ওপর কর্তব্য হচ্ছে, মাথার চুল সংরক্ষণ করা, চুলের যত্ন নেওয়া ও লম্বা বেণী বানিয়ে রাখা, মাথার ওপর বা ঘাড়ে জমা করে রাখা নিষেধ।
শাইখুল শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া রহ. বলেন: “কতক অসৎ নারী দুই কাঁধের মাঝে চুলের একটি খোঁপা বা বেণী বানিয়ে ঝুলিয়ে রাখে।" [মাজমুউল ফতোয়া: ২২/১৪৫]
সৌদি আরবের মুফতি শাইখ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম রহ. বলেন: “এ যুগে কতক মুসলিম নারী, মাথার চুলকে যেভাবে একপাশে নিয়ে ঘাড়ের নিকট খোপা বানিয়ে রাখে অথবা মাথার ওপর স্তূপ করে রাখে, যেরূপ পশ্চিমা ও ইউরোপীয় নারীরা করে তা বৈধ নয়। কারণ, এতে কাফিরদের নারীদের সাথে সামঞ্জস্য হয়। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত একটি লম্বা হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
“দু’প্রকার জাহান্নামী লোক যাদের আমি এখনো দেখি নি: এক প্রকার লোকের সাথে গরুর লেজের ন্যায় লাঠি থাকবে, তা দিয়ে তারা মানুষদের পেটাবে। আর পোশাক পরিহিত বিবস্ত্র নারী, তারা নিজেরা ধাবিত হয় ও অপরকে ধাবিত করে। তাদের মাথা উটের ঝুঁকে পড়া কুজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার গন্ধও পাবে না, যদিও তার গন্ধ এত এত দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।" [সহীহ মুসলিম ২১২৮; আহমদ ২/৪৪০; ইমাম মালিক ১৬৯৪]
“ধাবিত হয় ও ধাবিত করে” কথার ব্যাখ্যায় কতক আলেম বলেন: “তারা নিজেরা এমনভাবে চিরুনি করে যা আবেদনময়ী ও অপরকে আকৃষ্টকারী এবং অপরকেও তারা সেভাবে চিরুনি করে দেয়, যা নষ্ট নারীদের চিরুনি করার রীতি। পশ্চিমা নারী এবং তাদের অনুসারী বিপথগামী মুসলিম নারীদের চিরুনি করার এটিই রীতি। [মাজমুউল ফতোয়া: ২/৪২]
❤9
যেরূপ নিষেধ বিনা প্রয়োজনে মুসলিম নারীর মাথার চুল কর্তন অথবা ছোট করা, সেরূপ নিষেধ তার চুলের সাথে অপরের চুল যুক্ত করা ও অপরের চুল দ্বারা তার চুল বর্ধিত করা। কারণ, সহীহ বুখারী বুখারী ও মুসলিমে এসেছে:
“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াসিলাহ ও মুসতাওসিলাহকে অভিসম্পাত করেছেন।" [সহীহ বুখারী ৫৫৯৮; সহীহ মুসলিম ২১২৪; তিরমিযী ১৭৫৯, নাসাঈ ৫০৯৫; আবু দাউদ ৪১৬৮; ইবন মাজাহ ১৯৮৭]
‘ওয়াসিলাহ’ সে নারীকে বলা হয়, যে নিজের চুলের সাথে অপরের চুল যোগ করে, আর যে নারী চুল যোগ করার কাজ করে তাকে বলা হয় মুসতাওসিলাহ। এ কাজ ও পেশায় মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করা হয় তাই হারাম। চুল যোগ করার পর্যায়ে পড়ে বারুকা তথা ‘পরচুলা’ পরিধান করা। বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেন: মু‘আবিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মদিনায় এসে খুৎবা প্রদান করেন, তখন তিনি চুলের একটি খোঁপা অথবা চুলের কিছু অংশ বের করেন এবং বলেন:
তোমাদের নারীদের কী হলো, তারা তাদের মাথা এরূপ করে? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে কোনো নারী নিজের মাথায় অপরের চুল রাখবে সে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণকারী।"
‘বারুকা’ বা ‘পরচুলা’ একপ্রকার কৃত্রিম চুল, যা দেখতে মাথার চুলের ন্যায়। এগুলো পরিধান করাও মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করার শামিল।
~ হাদিস বিডি
• ওহে মুসলিমাহ! জেনে নাও তোমার ড্রেস কোড (পর্ব-১৩)
• পর্ব-১২ (কৃত্রিম নখ ও পাপড়ি ব্যবহার করা কি জায়েজ)
@FatayatalHuda
“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াসিলাহ ও মুসতাওসিলাহকে অভিসম্পাত করেছেন।" [সহীহ বুখারী ৫৫৯৮; সহীহ মুসলিম ২১২৪; তিরমিযী ১৭৫৯, নাসাঈ ৫০৯৫; আবু দাউদ ৪১৬৮; ইবন মাজাহ ১৯৮৭]
‘ওয়াসিলাহ’ সে নারীকে বলা হয়, যে নিজের চুলের সাথে অপরের চুল যোগ করে, আর যে নারী চুল যোগ করার কাজ করে তাকে বলা হয় মুসতাওসিলাহ। এ কাজ ও পেশায় মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করা হয় তাই হারাম। চুল যোগ করার পর্যায়ে পড়ে বারুকা তথা ‘পরচুলা’ পরিধান করা। বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেন: মু‘আবিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মদিনায় এসে খুৎবা প্রদান করেন, তখন তিনি চুলের একটি খোঁপা অথবা চুলের কিছু অংশ বের করেন এবং বলেন:
তোমাদের নারীদের কী হলো, তারা তাদের মাথা এরূপ করে? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে কোনো নারী নিজের মাথায় অপরের চুল রাখবে সে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণকারী।"
‘বারুকা’ বা ‘পরচুলা’ একপ্রকার কৃত্রিম চুল, যা দেখতে মাথার চুলের ন্যায়। এগুলো পরিধান করাও মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করার শামিল।
~ হাদিস বিডি
• ওহে মুসলিমাহ! জেনে নাও তোমার ড্রেস কোড (পর্ব-১৩)
• পর্ব-১২ (কৃত্রিম নখ ও পাপড়ি ব্যবহার করা কি জায়েজ)
@FatayatalHuda
❤6