Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)
1.84K subscribers
210 photos
8 videos
69 files
113 links
Download Telegram
সহজ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল জেনে নিন; জিলহজের প্রথম দশ দিনকে কাজে লাগান (বিশেষত যে বোনেরা পিরিয়ডে আছেন, তাদের জন্য প্রতিটি আমল খুবই উত্তম হবে)

◉ চার ধরনের যিকর সবসময় পড়া: রাসুল (ﷺ) বলেন,

আল্লাহ তা‘আলার নিকট জিলহজের দশ দিনের আমলের চেয়ে মহান এবং প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং, তোমরা সেই দিনগুলোতে অধিক পরিমাণে তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার) পড়ো।[ইমাম আহমাদ,আল-মুসনাদ:৫৪৪৬;হাদিসটির সনদ সহিহ]


এই চার ধরনের যিকর এই দিনগুলোতে ১০০ বার করে আদায় করা যায়,কারণ ১০০ বার করে পড়ার সীমাহীন সওয়াব ও মর্যাদা রয়েছে।রাসুল (ﷺ) উম্মে হানি (রা.)-কে বলেন,

• তুমি ১০০ বার তাসবিহ(সুবহানাল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে।

• তুমি ১০০ বার আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মুজাহিদ প্রেরণের সমতুল্য হবে।

• তুমি ১০০ বার তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলবে,এটি তোমার পক্ষ থেকে ১০০টি মাকবুল(কবুলকৃত) উট কুরবানির সমতুল্য হবে।

• তুমি ১০০ বার তাহলিল(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বলবে,এত সওয়াব পাবে, যার ফলে আসমান ও যমিন পূর্ণ হয়ে যাবে।
[ইমাম আহমাদ,আল-মুসনাদ: ২৬৯১১;শায়খ আলবানি,সহিহুত তারগিব: ১৫৫৩;হাদিসটি হাসান]

◉ অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা: রাসুল (ﷺ) বলেন,

যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন, ১০ টি গুনাহ মোচন করবেন এবং তার জন্য ১০ টি স্তর উন্নীত করবেন।[ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯৭; ইমাম ইবনু হিব্বান,আস-সহিহ:৯০৪; হাদিসটি সহিহ]


নামাজের শেষ বৈঠকে যে দরুদটি আমরা পড়ি, সেটি সর্বোত্তম দরুদ। এটি পড়াই উত্তম। তবে, এটি ছাড়া অন্য দরুদও পড়া যাবে। হাদিসে বর্ণিত দরুদগুলোর বাইরে না যাওয়াই উত্তম।

সাধ্যানুযায়ী দান-সদাকাহ করা: রাসুল (ﷺ) বলেন,

প্রত্যেক ব্যক্তি (হাশরের মাঠে) তার সদাকার ছায়াতলে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত লোকদের মাঝে ফয়সালা শেষ না হবে।[ইমাম আহমাদ,আল-মুসনাদ:১৭৩৩৩; শায়খ আলবানি,সহিহুত তারগিব: ৮৭২;হাদিসটি সহিহ]


সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহি সুবহা-নাল্লা-হিল আযী-ম বেশি করে পড়া:
রাসুল (ﷺ) বলেন, দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা উচ্চারণে সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী এবং আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। তা হলো—

سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহি সুবহা-নাল্লা-হিল ‘আযী-ম।
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, প্রশংসা কেবল তাঁরই;মহান আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত। [ইমাম বুখারি,আস-সহিহ:৬৬৮২]

◉ ‘লা ‘হাউলা ওয়া লা কুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’ বেশি বেশি পাঠ করা: রাসুল (ﷺ) বলেন,

ওহে আব্দুল্লাহ ইবন কায়েস! আমি কি জান্নাতের এক রত্নভাণ্ডার সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করবো না?” আমি বললাম, নিশ্চয়ই হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বলেন, “তুমি বলো—

لَا ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ

উচ্চারণ:লা হাউলা ওয়ালা ক্বুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ।
অর্থ:আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।[ইমাম বুখারি আস-সহিহ: ৬৩৮৪]

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ খুব বেশি পরিমাণে পড়তে থাকা:
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন; আমি আল্লাহর (ﷺ) কে বলতে শুনেছি,

সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।[ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৩৮৩; হাদিসটি হাসান]


তাওবাহ-ইস্তিগফার পাঠ করা: আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (ﷺ) এর চেয়ে আর কাউকে এটি অধিক পরিমাণে পড়তে দেখিনি—

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ:আসতাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতূ-বু ইলাইহি।
অর্থ:আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ করছি। [ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ:৯২৮;হাদিসটি সহিহ]

এটি বেশি করে পড়া যেতে পারে। এটিতে তাওবাহ ও ইস্তিগফার উভয়টিই আদায় হবে। তবে, গুনাহ থেকে অনুশোচনা ও আন্তরিকতা জরুরি।

দু‘আ করা: রাসুল (ﷺ) বলেন,

দু‘আ হলো ইবাদত।[ইমাম আবু দাউদ,আস-সুনান:১৪৭৯;হাদিসটি সহিহ]


আমরা দু‘আর ব্যাপারে নিঃস্পৃহ থাকি।অথচ দু‘আ নিজেই একটি স্বতন্ত্র ইবাদত।

◉ চারটি সম্মানিত মাসের একটি হলো জিলহজ; তাই এই মাসের সম্মানে যথাসম্ভব সকল গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা: আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত ফলকে (বছরে) মাসের সংখ্যা বারোটি—আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তার মধ্যে চারটি (মাস) সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা (গুনাহ করার মাধ্যমে) নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।[সুরা তাওবাহ ৩৬]


এছাড়া মানুষকে সাহায্য করা, তাদের কষ্ট দূর করা, মা-বাবার খেদমত করা ইত্যাদি আমলগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। পিরিয়ডে থাকা বোনেরা নামাজ, রোজা, কাবাঘর তাওয়াফ ও কুরআন তিলাওয়াত বাদে যেকোনো নেক আমল করতে পারবেন

• বছরসেরা দশটি দিন (তৃতীয় পর্ব)
২য় পর্ব

~ Nusus
@Fatayatalhuda
6👍2
দান-সাদাকায় আত্মীয় স্বজনকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা এই জায়গায় অনেকেই ভুল করি। মনে করি, আত্মীয়কে দান করার চেয়ে অন্যকে দান করা ভালো! অথচ সাদাকার আদব হলো, আত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘(অনাত্মীয়) মিসকিনকে দান করলে তা (কেবল) দান আর নিকটাত্মীয়কে দান করলে দুটো (সওয়াব)—সাদাকাহ (করার নেকি) এবং আত্মীয়তা সম্পর্ক রক্ষা (করার নেকি)।’’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৮৪৪; হাদিসটি সহিহ]

কোনো আত্মীয় যদি আমাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে বা সম্পর্ক না রাখে, তাহলেও তাকে দান করা উচিত। এক ব্যক্তি নবিজিকে প্রশ্ন করলো,

‘কোন সাদাকাহ সর্বোত্তম?’ নবিজি বলেন, ‘‘(সর্বশ্রেষ্ঠ সাদকা হলো) শত্রুতাপোষণকারী নিকটাত্মীয়কে দেওয়া (সাদাকাহ)।” [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৪৮৯৬; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ১১১০; হাদিসটি সহিহ]

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিগণকে সবসময় এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদিনার আনসারদের মধ্যে আবু তালহা (রা.) সবচেয়ে বেশি খেজুরবাগানের মালিক ছিলেন। মসজিদে নববির নিকটবর্তী বায়রুহা নামক বাগানটি তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিলো। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বাগানে প্রবেশ করে এর সুপেয় পানি পান করতেন (অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি এর ছায়ায় বিশ্রামও নিতেন)। আনাস (রা.) বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো, “তোমরা যা ভালবাসো, তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯২)”

তখন আবু তালহা (রা.) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা যা ভালবাসো তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না”, আর আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো বায়রুহা (বাগানটি)। এটি আমি আল্লাহর নামে সাদাকা করলাম। আমি এর প্রতিদান কামনা করি এবং তা আল্লাহর নিকট আমার জন্য সঞ্চয়রূপে থাকবে। কাজেই আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে আপনি এখান থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করুন।’

তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘চমৎকার! এতো লাভজনক সম্পদ! এতো লাভজনক সম্পদ! তুমি যা বললে তা তো শুনলাম। আমার মত হলো, তুমি তোমার আপনজনদের মধ্যে এটি বণ্টন করে দেবে।’’ আবু তালহা (রা.) বললেন,

‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি তাই করবো।’ অতঃপর তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং তাঁর চাচার বংশধরের মধ্যে তা বন্টন করে দিলেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৪৬১]

• আদব আখলাক (পর্ব: ১২)
পর্ব ১১

~ Nusus
@Fatayatalhuda
5👍41
আরাফার রোজা কোন্ দিন রাখতে হবে?

প্রথমেই বলে নিই: বর্তমানে আরবি চন্দ্রবছরের জিলহজ মাস চলছে। জিলহজ মাসের ৯ তারিখে হাজিগণ আরাফার মাঠে অবস্থান করেন। আরাফার দিনটিই হজের দিন। আর এর পরের দিন অর্থাৎ, জিলহজের ১০ তারিখ হলো ঈদের দিন।

যেদিন রাখতে হবে আরাফার রোজা:

আরাফার রোজা কোন্ দিন রাখতে হবে, তা নিয়ে আলিমগণের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে।

প্রথম মত:

আল্লাহর রাসুল (ﷺ) বলেন,

আরাফার দিনের রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর দ্বারা বিগত বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৩৬]
উপরের হাদিসে ‘‘আরাফার দিনের রোজা’’র কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, যেদিন আরাফার মাঠে হাজিগণ অবস্থান করেন।

আমরা জানি, আগামী ৫ জুন (বৃহস্পতিবার) হাজিগণ আরাফার মাঠে অবস্থান করবেন। তাই, বাংলাদেশের অধিবাসীরাও সেদিন রোজা রাখবেন। অর্থাৎ ৪ জুন রাতে সাহরি খেয়ে ৫ জুন, বৃহস্পতিবার আরাফার রোজা রাখবেন। সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি, গত শতাব্দীর শীর্ষ আলিম শায়খ আবদুল আযিয ইবনু বায (রাহ.)-সহ অনেক আলিমের মত এটি। সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড লাজনা দায়িমা এবং মিসরের ফতোয়া বোর্ড দারুল ইফতার মতামতও এমন। [শায়খ আমিন ইবনু আবদিল্লাহর প্রবন্ধ (আল-আলুকাহ সাইট থেকে)]

দ্বিতীয় মত:

আমরা জানি, জিলহজের ৯ তারিখে হাজিগণ আরাফার মাঠে অবস্থান করেন। আলিমগণের অনেকেই বলেছেন, হাদিসে বর্ণিত ‘‘আরাফার দিন’’ ফ্রেইজটি দিয়ে মূলত জিলহজের ৯ তারিখ বুঝানো হয়েছে। তাই, নিজ নিজ দেশের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী জিলহজের ৯ তারিখে আরাফার রোজা রাখতে হবে। মাওলানা যাকারিয়া আব্দুল্লাহ এ ব্যাপারে মাসিক আলকাউসারে সুন্দর আলোচনা করেছেন। গত শতাব্দীর শীর্ষ আলিম শায়খ মুহাম্মাদ বিন সলিহ আল উসায়মিন (রাহ.) ও ইবনু জিবরিন (রাহ.) এই মত দিয়েছেন। হানাফি মাযহাবের সিদ্ধান্ত এটিই। এই মতানুসারে, বাংলাদেশের অধিবাসীরা আগামী ৫ জুন রাতে সাহরি খেয়ে ৬ জুন, রোজ শুক্রবার আরাফার রোজা রাখবেন।

তাহলে, আমরা দেখলাম: প্রথম মতানুসারে আরাফার রোজা সৌদির চন্দ্রের হিসাবে রাখতে হবে। আর সেটি হলো, বৃহস্পতিবার। দ্বিতীয় মতানুসারে, নিজ দেশের চন্দ্রের হিসাবে রাখতে হবে। আর, সেটি হলো, শুক্রবার।

সমন্বয় সাধন ও বিকল্প সমাধান:

যেহেতু বিষয়টি ইখতিলাফি (মতভেদপূর্ণ), সেহেতু আমরা সতর্কতা হিসেবে দুই দিনই রোজা রাখতে পারি। অর্থাৎ, সৌদির হিসাবে জিলহজের ৯ তারিখ (জুনের ৫ তারিখ) রোজ বৃহস্পতিবার (যেদিন হাজিগণ আরাফায় থাকবেন) এবং আমাদের দেশের হিসাবে জিলহজের ৯ তারিখ (জুনের ৬ তারিখ), রোজ শুক্রবার (অর্থাৎ, হাজিদের আরাফায় অবস্থানের পরের দিন)। তাহলে নিশ্চিতভাবে আমাদের আরাফার রোজা আদায় হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ; কোনো সন্দেহ থাকবে না।

তবে, দুটো রোজাই আরাফার নিয়তে রাখা যাবে না। যেকোনো একটি আরাফার নিয়তে রাখতে হবে আর অপরটি সাধারণ নফলের নিয়তে।

হ্যাঁ, দুশ্চিন্তার কিছু নেই; আরাফার দিনে যদি কেউ সাধারণ নফলের নিয়তেও রোজা রাখে, তবে সেটি আরাফার রোজা হিসেবেই পরিগণিত হবে, ইনশাআল্লাহ। তাই, আমাদের পরামর্শ হলো: ৫ জুন, রোজ বৃহস্পতিবার আরাফার নিয়তে রোজা রাখবেন আর ৬ জুন, রোজ শুক্রবার সাধারণ নফলের নিয়তে রাখবেন (কেউ অন্য মতটি মানতে চাইলে, ৫ জুন সাধারণ নফলের নিয়তে রাখবেন আর ৬ জুন আরাফার নিয়তে রাখবেন)। ইনশাআল্লাহ, নিশ্চিতভাবেই আরাফার রোজা হয়ে যাবে। নিয়ত মুখে বলতে হবে না; অন্তরের ইচ্ছাই যথেষ্ট।

পূর্ববর্তী নেককার ব্যক্তিগণ জিলহজের প্রথম ৯ দিনই রোজা রাখতেন। সুতরাং আরাফার রোজার জন্য সতর্কতা হিসেবে একদিন বেশি রোজা রাখলেও ক্ষতি নেই; বরং একটি নফল রোজা অতিরিক্ত রাখা হবে। সম্ভব হলে তো জিলহজের প্রথম ৯ দিনই রোজা রাখা ভালো।

জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমল অত্যন্ত মর্যাদার। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

আল্লাহ তা‘আলার নিকট জিলহজের (প্রথম) দশ দিনের আমলের চেয়ে মহান এবং প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৫৪৪৬; হাদিসটির সনদ সহিহ]

নফল রোজা তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। তাই, এই দিনগুলোতে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা উত্তম।

◉ আরাফার দিনে হাজি সাহেবরা রোজা রাখবেন না; বরং অন্যরাই শুধু রাখবেন।

উম্মুল ফাদ্বল (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আরাফার দিন নবি (ﷺ) রোজা রেখেছেন কি না, তা নিয়ে লোকজন সন্দেহে পতিত হলো। আমরা তখন রাসুলের সাথেই ছিলাম। আমি তাঁর নিকট এক পেয়ালা দুধ পাঠালাম। তখন তিনি আরাফায় ছিলেন। তিনি (দুধটুকু) পান করলেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৫২৫]

আমাদের যাদের সুযোগ আছে, তাদের আরাফার রোজা রাখা উচিত। এই দিনটি অত্যন্ত মর্যাদার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

অন্যান্য দিনের তুলনায় আরাফার দিনে আল্লাহ তা‘আলা বান্দাকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৩১৭৯]

• বছরসেরা দশটি দিন (চতুর্থ পর্ব)
৩য় পর্ব

~ Nusus
@Fatayatalhuda
8👎1
আরাফার দিন হলো বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন; এই দিনের মর্যাদা ও আমলসমূহ জেনে নিন।

১) আরাফার দিনের রোজা দ্বারা দুই বছরের গুনাহ ক্ষমা করা হয়:

নবি করিম (ﷺ) বলেন,
আরাফার দিনের রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর দ্বারা বিগত বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৩৬]
তবে, আরাফার মাঠে অবস্থানকারী হাজিগণ রোজা রাখবেন না। নবিজি হজ করা অবস্থায় আরাফার দিন রোজা রাখেননি, বরং এদিন দুধ পান করেছেন মর্মে হাদিস আছে। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৫২৫]

২) আরাফার দিনে সর্বাধিক পরিমাণ জাহান্নামিকে মুক্তি দেওয়া হয়:

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
অন্যান্য দিনের তুলনায় আরাফার দিনে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সবচেয়ে বেশি পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৩১৭৯]
শয়তানের জন্য এই দিনটি বিষাদময়। সে এই দিনে নিজেকে তুচ্ছ ও অপদস্থ মনে করে এবং রাগান্বিত অবস্থায় থাকে। কারণ এ দিনে আল্লাহ্ মাগফিরাতের ঝর্ণাধারা বইয়ে দেন তাঁর বান্দাদের জন্য। [মুয়াত্তা মালিক]

৩) আরাফাবাসীকে নিয়ে আল্লাহ গর্ব করেন:

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আরাফায় অবস্থানকারীদের নিয়ে আসমানের ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন। তিনি তাদের বলেন,
আমার এই বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, তারা আমার কাছে এসেছে উশকোখুশকো ও ধূলিমলিন অবস্থায়। [ইমাম ইবনু খুযাইমাহ, আস-সহিহ: ২৮৩৯; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১১৩২; হাদিসটির সনদ সহিহ]

৪) আরাফার দিনের দু‘আ মর্যাদাপূর্ণ:

রাসুলুল্লাহ (ﷺ)  বলেন,
সর্বোত্তম দু‘আ হলো আরাফার দিনের দু‘আ। আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবিগণ এদিনে উত্তম যে দু‘আটি পড়েছি, তা হলো—

لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ


[লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা শারী-কা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদী-র]

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব; তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫৮৫; হাদিসটি হাসান]
আমাদের উচিত, আরাফার দিনে এই দু‘আটি বেশি পরিমাণে পাঠ করা।

৫) আরাফায় আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে তাঁর রবুবিয়্যাত তথা প্রভুত্বের স্বীকৃতি নিয়েছিলেন:

ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন,
নিশ্চয়ই আল্লাহ আরাফার ময়দানে আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাঁর সন্তানদের বের করে এই প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন, ‘‘আমি কি তোমাদের রব নই?’’, তারা (অর্থাৎ, আমরা) সকল মানুষ সেদিন বলেছিলো, ‘নিশ্চয়ই হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম।’ [সুরা আ’রাফ, আয়াত: ১৭২; ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৪৫১; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ১৭০১; হাদিসটি সহিহ]

৬) আরাফার দিনেই আমাদের দ্বীন তথা ইসলামকে পূর্ণতা দেওয়া হয়েছিলো:
একবার ইহুদিরা উমার (রা.)-কে বললো, তোমরা কুরআনের এমন একটি আয়াত তিলাওয়াত করো, যদি সে আয়াতটি আমাদের মাঝে অবতীর্ণ হতো, তবে, আমরা সেই দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে উদযাপন করতাম। উমার (রা.) বলেন, ‘সেটি কোন্ আয়াত?’ সে বললো, ‘‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন (জীবনবিধান) হিসেবে মনোনীত করলাম। (সুরা আল মায়িদাহ ৩)

উমার (রা.) বলেন,
আমরা জানি কোন্ দিন এবং কোথায় এটি নবি (ﷺ) উপর অবতীর্ণ হয়েছে। সেদিন তিনি আরাফার ময়াদানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং সেই দিনটি ছিলো জুমু‘আর দিন।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৪৫]
উল্লেখ্য, এই দিনটিই ছিলো বিদায় হজের দিন।

৭) এই দিনটিও ঈদের মতই আনন্দের দিন:

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
আরাফার দিন, কুরবানির দিন এবং তাশরিকের দিনগুলো (ঈদের পরের তিন দিন) হলো ইসলামে আমাদের ঈদের দিন।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ৩০০৪; হাদিসটি সহিহ]

৮) এই দিন এবং এর পরবর্তী আরও ৪ দিনের অন্যতম কাজ হলো, বেশি বেশি তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা; এটি ওয়াজিব:

একটি সুন্নাহসম্মত তাকবির:
.
اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ وَلِلّٰهِ الْحَمْد

আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; ওয়া লিল্লা-হিল হামদ।

(আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। আল্লাহই সবচেয়ে বড়; আল্লাহই সবচেয়ে বড়; আর আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা)

এটি ইবনু মাস‘উদ (রা.) ও অন্যান্য পূর্বসূরিদের থেকে প্রমাণিত। [ইমাম দারা কুতনি, আস-সুনান: ১৭৫৬; শায়খ আলবানি, ইরওয়াউল গালিল: ৬৫৪; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]

আরেকটি বিশুদ্ধ সনদের সহজ তাকবির (এটি পড়লেও ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে):

সালমান ফারসি (রা.) বলেন, ‘তোমরা তাকবির দাও (এভাবে)—

اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ كَبٍيْرًا

আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার কাবি-রা
2
(আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়;আল্লাহই সবচেয়ে বড়; তিনি মহান)।’ [ইমাম বাইহাকি, ফাদ্বাইলুল আওক্বাত: ২২৭; ইমাম ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি:২/৪৬২; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]

আরাফার দিন অর্থাৎ, জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একাকী বা জামাতে নামাজ আদায়কারী, নারী অথবা পুরুষ—প্রত্যেকের জন্য একবার তাকবিরে তাশরিক (উপরে বর্ণিত যেকোনো একটি তাকবির) পাঠ করা ওয়াজিব। পুরুষদের উচ্চ আওয়াজে বলতে হবে, আর নারীরা নিচু আওয়াজে বলবে, যাতে শুধু নিজে শুনতে পায়। [ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমু‘উ ফাতাওয়া:২৪/২২০; ইমাম ইবনুল কায়্যিম,যাদুল মা‘আদ: ২/৩৬০; ইমাম ইবনু আবিদিন,রাদ্দুল মুহতার:৩/৬১;আল্লামা উসমানি, ইলাউস সুনান:৮/১৫২]

🌀 পিরিয়ডে থাকা নারীদের জন্য এই তাকবির পাঠ করা জরুরি নয়। কারণ এটি ফরজ নামাজের পর পাঠ করতে হয়। তবে, তাঁরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি পড়বেন। তাহলে নেকি পাবেন।

বি:দ্র: ফরজ নামাজ শেষে কোনো কথা বলা বা নামাজ পরিপন্থী কোনো কিছু করার আগেই অন্তত একবার তাকবির পাঠ করা ওয়াজিব। তাই, ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর বিলম্ব না করে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা উচিত। মিস হয়ে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্র পড়ে নেবে, পাশাপাশি বিলম্ব হওয়ার জন্য ইস্তিগফার পড়বে।

৯) যেকোনো নেক আমলই আরাফার দিনে করা, কারণ এটি জিলহজের দশকের অন্তর্ভুক্ত:
রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন,
আল্লাহ তা‘আলার নিকট জিলহজের (প্রথম) দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ ও প্রিয় অন্য কোনো আমল নেই।’’ সাহাবিগণ বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ রাস্তায় জিহাদও কি এর চেয়ে উত্তম নয়?’ তিনি বললেন, ‘‘না। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান ও মাল নিয়ে (জিহাদে) ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং এর কোনোটি নিয়েই আর ফিরে এলো না (অর্থাৎ, শহিদ হয়ে গেলো, তার কথা ভিন্ন)। [ইমাম বুখারি,আস-সহিহ: ৯৬৯;ইমাম আবু দাউদ,আস-সুনান: ২৪৩৮]

আত্বা (রহ) বলেন,
যদি আরাফার দিনের বিকেলটা (সন্ধ্যা পর্যন্ত) নির্জনে কাটিয়ে দিতে পারো, তবে তাই করো। [ইমাম আবু নু‘আইম, হিলয়াতুল আওলিয়া: ৩/৩১৪]

১০) গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা:
রাসুল (ﷺ) ইবনু আব্বাস (রা.)-কে বলেন,

হে আমার চাচাতো ভাই, এই দিনে যে ব্যক্তি নিজ কান ও চোখের নিয়ন্ত্রণ করবে, তাকে ক্ষমা করা হবে।’’ [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৩০৪২; হাদিসটির সনদ সহিহ]

• বছরসেরা দশটি দিন (পঞ্চম পর্ব)
৪র্থ পর্ব

~ Nusus
@Fatayatalhuda
4
আমাদের অধিকাংশ গুনাহ হয় জবানের দ্বারা। শুধু জিহ্বাটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে বেঁচে যাবো, ইনশাআল্লাহ।

একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জিহ্বা ধরে বলেন, ‘‘একে সংযত রাখো।...মানুষকে তো তার জিহ্বার ফসলের (অপব্যবহারের) কারণেই অধোমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে!’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ২৬১৬; হাদিসটি সহিহ]

কারণ এই জিহ্বার কারণেই আমরা অধিকাংশ সময় গুনাহে লিপ্ত হই। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আদম সন্তানের অধিকাংশ পাপ সংঘটিত হয় তার জবান দ্বারা।’’ [ইমাম তাবারানি, মু‘জামুল কাবির: ১০২৯৪; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ২৮৭২; হাদিসটি সহিহ]

আমাদের মুখ থেকে উচ্চারিত কোনো কথাই ফেলনা নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘সে (মানুষ) যা-ই উচ্চারণ করে, (তা লিখে রাখার জন্য) তার কাছে রয়েছে সতর্ক প্রহরী।’’ [সুরা কাফ, আয়াত: ১৮]

এজন্য হাদিসে এসেছে, কথা বললে শুধু ভালো কথাই বলা; আর না হয় চুপ থাকা। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে, সে যেন ভালো কথা বলে নতুবা চুপ থাকে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬১৩৬]

ইমাম নববি (রাহ.) বলেন,

‘‘কল্যাণলাভের বিচারে যদি কথা বলা বা না বলা উভয়ই সমান হয়, তবে সেক্ষেত্রে নিরব থাকাই সুন্নাত। কেননা, স্বাভাবিক জায়েয কথাবার্তাও ক্ষেত্রবিশেষে মানুষকে মাকরুহ বা হারামের দিকে ধাবিত করার আশঙ্কা রাখে; বরং অভ্যাসবশত অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুলের আশঙ্কাই প্রবল।’’ [জবানের হেফাজত, পৃষ্ঠা: ২৮]

জিহ্বা দ্বারা আমরা যেসব গুনাহ করি, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: মিথ্যা, গিবত, চোগলখোরি, অন্যের মানহানি, অন্যকে কষ্ট দেওয়া, ঝগড়া, গালিগালাজ, অশ্লীল বাক্যালাপ ইত্যাদি। এজন্য আমরা প্রয়োজন ব্যতীত কোনো কথা বলবো না। তাহলে ইনশাআল্লাহ অনেক গুনাহ থেকে বেঁচে যাবো।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যতক্ষণ তুমি চুপ থাকবে, ততক্ষণ তুমি নিরাপদ। অতঃপর যখন কথা বলবে, তখন সেটি তোমার পক্ষে লিখিত হবে অথবা বিপক্ষে।’’ [ইমাম আবু দাউদ তয়ালিসি, আল-মুসনাদ: ৫৬২; ইমাম বাইহাকি, শু‘আবুল ঈমান: ৪৬০৮; হাদিসটি মুরসাল, সনদ হাসান]

• আদব আখলাক (পর্ব: ১৩)
পর্ব ১২

~ Nusus
@Fatayatalhuda
53
অধিকাংশ মানুষ গিবতের সংজ্ঞা জানে না। তারা অপবাদকে গিবত মনে করে। অথচ গিবত আর অপবাদ দুটো ভিন্ন জিনিস। না জানার কারণে প্রকৃত গিবতের গুনাহকে আর গুনাহই মনে হচ্ছে না। আজ আমরা গিবতের পরিচয় জানবো, ইনশাআল্লাহ।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা কি জান, গিবত কী?’’ তারা (সাহাবিগণ) বলেন, ‘‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘(গিবত হলো) তোমার (ঈমানদার) ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু বলা, যা সে অপছন্দ করে।’’ তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, ‘‘আমি যা বলছি, তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে পাওয়া যায়, তাহলে কী মনে করেন?’’ তখন নবিজি বলেন, ‘‘তুমি তার ব্যাপারে যা বলছো তা যদি তার মধ্যে (আসলেই) পাওয়া যায়, তাহলেই তুমি তার গিবত করলে। আর যদি তা তার মধ্যে সেটি না পাওয়া যায়, তাহলে তো তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে!’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৪৮৭]

তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম, কারও মধ্যে দোষ-ত্রুটি থাকলে, সেটি অন্যের কাছে বললে গিবত হবে। আমরা এমন কথা কখনও বলবো না যে, ‘‘অমুক তো আসলেই এমন, তাহলে এটা বললে গিবত হবে কেন?’’ কারণ গিবত মানেই হলো, অন্যের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে বিদ্যমান কোনো ত্রুটি প্রকাশ করা।

ধরুন, কারও পোশাক আপনার পছন্দ হয়নি। তখন অন্যের কাছে বললেন, ‘‘অমুকের পোশাকটা বস্তির লোকদের পোশাকের মতো!’’ এটা নিশ্চিতভাবেই গিবত হবে। ইমাম নববির মতে, কারও চরিত্র, পোশাক, দ্বীনদারি, দুনিয়াদারি কিংবা কারও শারীরিক গঠন নিয়ে সমালোচনা করলেও গিবত হবে।

গিবত শুধু কথার দ্বারাই নয়, লিখনীর মাধ্যমে হতে পারে। এমনকি হাত-পা, মাথা বা মুখের ইশারা-ইঙ্গিতের দ্বারাও গিবত হতে পারে। [ইমাম নববি, আল-আযকার, পৃষ্ঠা: ৫৩৪]

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাফিয়্যাহ (রা.)-কে বিয়ে করে ঘরে আনেন, তখন আয়িশা (রা.)-কে বলেন নববধুকে দেখে আসতে। আয়িশা (রা.) নারীসুলভ ঈর্ষা থেকে মন্তব্য করেন, ‘সাফিয়্যাহ তো এই ধরনের মহিলা!’ বর্ণনাকারী বলেন, আয়িশা (রা.) হাত দিয়ে ইশারা করে সাফিয়্যাহর খাটো হওয়ার বিষয়টি বলছিলেন। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তুমি এমন কথা বলেছো, যেটিকে কোনো সাগরের পানির সাথে মেশানো হলে, সেটি (সাগরের পানিকে) দূষিত করে দেবে!’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ২৫০২; ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৪৯৯৪; হাদিসটি সহিহ]

এবার নিজেরাই চিন্তা করে দেখি, কতভাবে আমরা গিবতে লিপ্ত হই! আসল কথা হলো, আমরা গিবত কী, সেটাই ভালোভাবে জানি না। এজন্যই মূলত আজকের এই লেখা। সামনে গিবত প্রসঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু লেখা আসবে, ইনশাআল্লাহ।

সর্বনাশা গিবত (প্রথম পর্ব)

কাল-পরশুর মধ্যে গিবত সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব আসতে পারে, ইনশাআল্লাহ।

~ Nusus

@FatayatalHuda
👍115
ইবলিস আমাদের পর্যন্ত গুনাহগুলো পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যে দ্বিতীয় রাস্তা ব্যবহার করে তার নাম হল শাহওয়াত। শাহওয়াত মানে কামনা, বাসনা এবং যৌনতার প্রতি লালসা। ইবলিস আমাদের দেহের মাঝে এই কামনাগুলো তৈরি করে। সুতরাং ইবলিস শুবুহাত এবং শাহওয়াত এ দুটি রাস্তার মাধ্যমেই সকল গুনাহ সাপ্লাই করে আর আমাদের নফস সেগুলো রিসিভ করে।

নফস গুনাহগুলো রিসিভ করে কীভাবে?

প্রশ্ন হল, রিসিভ করে কীভাবে? আসলে সে তো গডফাদার; তাই সে নিজে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। আর রিসিভ করার কাজে লাগায় আমাদের দেহের কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে। যেগুলোকে সে রিসিভ করার কাউন্টার হিসেবে ব্যবহার করে। শুবুহাত কিংবা শাহওয়াত— যে পথেই গুনাহ আসুক না কেন, ইবলিস গুনাহ যে পথেই সরবরাহ করুক না কেন; ওই অঙ্গগুলো তা গ্রহণ করে এবং এর মাধ্যমেই নফসের গ্রহণ করা হয়ে যায়। অর্থাৎ নফস কেমন যেন ওই অঙ্গগুলোকে বলে, তুমি গুনাহটা ধারণ কর এতেই আমি পেয়ে যাব। কেননা তোমার রিসিভ করা মানে আমার রিসিভ করা। তোমার ধারণ করা মানে আমার ধারণ করা। তোমার গ্রহণ করা মানে আমার গ্রহণ করা।

গুনাহ রিসিভ করার চার কাউন্টার

মুহতারাম হাজিরীন! সুতরাং এ পর্যায়ে আমাদের জানা প্রয়োজন ইবলিসের সরবরাহকৃত গুনাহগুলো রিসিভ করার জন্য আমাদের কোন কোন অঙ্গকে নফস কাউন্টার হিসেবে ব্যবহার করে? এ রকম অঙ্গ প্রধানত চারটি।

১. চোখ
২. জবান
৩. কান
৪. মস্তিষ্ক।

সুতরাং যদি আমরা এই চারটি অঙ্গের হেফাজত করতে পারি তাহলে ব্যভিচার ও গীবত কিংবা হারাম খাদ্য গ্রহণ করা থেকে শুরু করে কুফরি পর্যন্ত  কোনো গুনাহই আমাদের দ্বারা ইবলিস কিংবা নফস করাতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِۦ عِلْمٌ  إِنَّ ٱلسَّمْعَ وَٱلْبَصَرَ وَٱلْفُؤَادَ كُلُّ أُوْلَٰٓئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْـُٔولًا

যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, অযথা তার পিছনে পড়ো না। কেননা কেয়ামতের দিন কান, চোখ ও অন্তর; এ সব কয়টির ব্যবহার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। [সূরা ইসরা ৩৬]

~ উমায়ের কোব্বাদি হাফি

@FatayatalHuda
4👍3
গিবতের ভয়াবহতা এবং শাস্তির ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। আসুন সেগুলো জানি এবং মেনে চলি।

একদিন সাহাবি আমর ইবনুল আস (রা.) এবং তাঁর সাথীরা একসাথে কোথাও যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাঁরা একটি মৃত গাধা দেখতে পান, যেটি মরে পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমর (রা.) গাধাটির দিকে ইশারা করে তাঁদের বলেন, ‘‘কোনো মুসলিম ভাইয়ের মাংস খাওয়ার চেয়ে এই গাধাটির মাংস খেয়ে পেট ভরা তোমাদের জন্য উত্তম।’’ [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ২৪৯৫০; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]

মূলত তিনি গিবতের ভয়াবহতা বুঝিয়েছেন। কুরআন মাজিদে গিবত করাকে মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে।

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন—

وَلَا یَغۡتَبۡ بَّعۡضُکُمۡ بَعۡضًا ؕ اَیُحِبُّ اَحَدُکُمۡ اَنۡ یَّاۡکُلَ لَحۡمَ اَخِیۡهِ مَیۡتًا فَکَرِهۡتُمُوۡهُ

‘‘তোমরা একে অন্যের গিবত করবে না। তোমাদের কেউ কি নিজেদের মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পছন্দ করবে?’’ [সুরা আল হুজুরাত ১২]

• নবি সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

‘‘মিরাজের রাতে আমি এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, যাদের নখগুলো তামার তৈরি আর তা দিয়ে তারা অনবরত তাদের মুখমণ্ডলে ও বুকে আঁচ*ড় মারছিলো। আমি বললাম, হে জিবরিল! এরা কারা?’’ তিনি বললেন, ‘‘এরা সেসব লোক, যারা মানুষের গোশত খেতো (গিবত করতো) এবং তাদের মানসম্মানে আঘা*ত হানতো।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৪৮৭৮; হাদিসটি সহিহ]

• নবি সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

‘‘অন্যায়ভাবে কোনো মুসলিমের মানসম্মানে হস্তক্ষেপ করা বৃহৎ সুদের অন্তর্ভুক্ত।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৪৮৭৬; হাদিসটি সহিহ]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

‘‘যদি কেউ (গিবত, গালি বা অপমান করে) কারো মর্যাদা নষ্ট করে অথবা অন্য কোনোভাবে কারো প্রতি জুলুম করে থাকে, তবে সে যেন কিয়ামতের পূর্বে আজই তার থেকে মুক্তি নিয়ে নেয়। কারণ সেই দিন কোনো দিনার-দিরহাম (অর্থের বিনিময়) থাকবে না। যদি তার নেক আমল থাকে, তবে তার জুলুমের পরিমাণ অনুসারে নেক আমল নিয়ে নেওয়া হবে (এবং মজলুমকে এর দ্বারা বদলা দেওয়া হবে)। আর যদি তার নেক আমল না থাকে, তবে তার সাথির (যার অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে) পাপ নিয়ে তার কাঁধে চাপানো হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২৪৪৯]

একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের প্রশ্ন করলেন, ‘‘তোমরা কি জানো, দেউলিয়া (নিঃস্ব) কে?’’ তাঁরা বললেন, ‘আমাদের মধ্যে দেউলিয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যার দিরহামও নেই, কোনো সম্পদও নেই।’ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

‘‘আমার উম্মাতের মধ্যে সেই ব্যক্তি হচ্ছে (প্রকৃত) দেউলিয়া, যে কিয়ামতের দিন (বহু) নামাজ, রোজা, জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে এবং এর সাথে (দুনিয়াতে) সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কারো রক্ত প্রবাহিত (হত্যা) করেছে, কাউকে মারধর করেছে (সেসব অপরাধও নিয়ে আসবে)। সে তখন বসবে এবং তার নেক আমল হতে অমুক ব্যক্তি কিছু নিয়ে যাবে, তমুক ব্যক্তি কিছু নিয়ে যাবে। এভাবে সম্পূর্ণ বদলা (বিনিময়) নেওয়ার আগেই তার নেক আমল নিঃশেষ হয়ে গেলে তাদের গুনাহসমূহ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৪৭৩]

আপনি দুনিয়াতে তার মান-সম্মান যতটুকু নষ্ট করবেন, তার চেয়ে অনেক বেশি খেসারত দিতে হবে আখিরাতে। কারণ আখিরাতে কেবল নেকির মাধ্যমে বিনিময় হবে।

আবু বাকরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুটি কবর অতিক্রম করার সময় বলেন, নিশ্চয়ই এই দুই কবরবাসীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং তাদেরকে কোনো কঠিন অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। এদের একজনকে পেশাবের (অসতর্কতার) কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং অপরজনকে গিবত করার কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৪৯: হাদিসটি হাসান সহিহ]

সর্বনাশা গিবত (দ্বিতীয় পর্ব)
প্রথম পর্ব

প্রথম পর্বে বিস্তারিতভাবে গিবতের পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে।

~ Nusus
@FatayatalHuda
👍61
নবিজির উপর দরুদ পাঠের অনন্য ১০ টি লাভ ও উপকারিতা (নির্ভরযোগ্য হাদিস থেকে)

১) সকল দুশ্চিন্তামুক্তি ও প্রয়োজন পূরণ:

একজন সাহাবি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন, তিনি তাঁর উপর সর্বদা দরুদ পাঠ করবেন। তখন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, ‘‘যদি তুমি তাই করো, তবে তোমার সকল চিন্তা-উৎকণ্ঠা দূর করা হবে (প্রয়োজন পূরণ হবে) এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ২৪৫৭, হাদিসটি হাসান সহিহ]

২) রহমতপ্রাপ্তি, গুনাহমুক্তি ও মর্যাদাবৃদ্ধি:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন।” [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৭৯৮]

৩) দরুদ মুমিনের জন্য জাকাতস্বরূপ:

নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমার উপর দরুদ পড়ো। কেননা এটা তোমাদের জন্য জাকাতস্বরূপ।’’ (এ সংক্রান্ত একটি দরুদের বাক্য পরবর্তী কোনো পর্বে আসবে ইনশাআল্লাহ) [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৮৭৭০; হাদিসটির সনদ দুর্বল]

৪) কিয়ামতের মাঠে নবিজির সান্নিধ্য:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব লোকের চাইতে আমার বেশি নিকটবর্তী হবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমার উপর দরুদ পড়বে।” [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৪৮৪; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৬৮৮; হাদিসটি হাসান ]

৫) রাসুলের কাছে দরুদ পেশ করা হয়:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হচ্ছে জুমু‘আর দিন।... সুতরাং এই দিনে তোমরা আমার উপর বেশি করে দরুদ পড়ো। কেননা, তোমাদের দরুদ আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়।” [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১০৪৭; হাদিসটি সহিহ]

৬) নবিজির শাফা‘আত (সুপারিশ) লাভ:

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি সকালে ১০ বার এবং বিকালে ১০ বার দরুদ পাঠ করবে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আমার শাফা‘আত (সুপারিশ) লাভ করবে।’’ [ইমাম হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১৭০২২; শায়খ আলবানি, সিলসিলা দ্বয়িফাহ: ৫৭৮৮; হাদিসটির সনদকে শায়খ আলবানি ‘দুর্বল’ বললেও ইমাম সাখাবি এর একটি সনদকে ‘জায়্যিদ’ বলেছেন এবং ইমাম সুয়ুতি ‘হাসান’ বলেছেন]

৭) দরুদ দু‘আ কবুলের অন্যতম উপায়:

একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামাজে দু‘আ করতে শুনলেন। সে আল্লাহর প্রশংসাও করলো না, নবিজির উপর দরুদও পড়লো না। তখন নবিজি তাকে বললেন, ‘‘হে মুসল্লি! তুমি খুব তাড়াহুড়া করে ফেললে!’’ তারপর নবিজি তাদের শিক্ষা দিলেন (কীভাবে দু‘আ করতে হয়)। তখন তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে নামাজ আদায় করলো এবং আল্লাহর গুণ (মাহাত্ম্য) বর্ণনা করলো, তাঁর প্রশংসা করলো এবং রাসুলের উপর দরুদ পাঠ করলো। তখন নবিজি (তাকে) বললেন, ‘‘তুমি দু‘আ কর, কবুল করা হবে; (আল্লাহর কাছে) চাও, তোমাকে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৮৪; হাদিসটি সহিহ]

৮) রাসুলের দু‘আ লাভের সুযোগ:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে, আমি তার জন্য ১০ বার সালাত পাঠ করি (দু‘আ করি)।’’ [ইমাম তাবারানি, মু‘জামুল আউসাত্ব: ১৬৪২; ইমাম তাবারানি হাদিসটির সনদ নির্ভরযোগ্য বলেছেন]

৯) দরুদ (গুনাহর) কাফফারাস্বরূপ:

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা আমার উপর দরুদ পড়ো। কেননা, আমার উপর দরুদ পড়া তোমাদের জন্য কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত)।’’ [ইমাম ইবনু আবি আসিম, আস সলাতু ‘আলান নাবিয়্যি: ৭৮, ইমাম ইবনু হাজারের মতে, হাদিসের রাবিগণ সহিহ হাদিসের রাবি]

১০) অনন্য মর্যাদা ও বৈশিষ্টপূর্ণ আমল:

কুরআন কারিমে এসেছে, ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবির প্রতি সালাত (দরুদ) প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত (দরুদ) ও সালাম প্রেরণ করো।’’ [সুরা আহযাব ৫৬]

আল কুরআনে অন্য কোনো আমলের ক্ষেত্রে এমনটি বলা হয়নি যে, ‘স্বয়ং আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতাগণ এরূপ করেন, সুতরাং তোমরাও করো।’ নিঃসন্দেহে এটি দরুদের বিশেষ মর্যাদা ও অনন্য বৈশিষ্টের প্রমাণ।

আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের তাওফিক দিন, যেন আমরা সর্বাবস্থায় রাসুলের উপর দরুদ পাঠ করতে পারি এবং দরুদময় জীবন গঠন করতে পারি।

দরুদ সমাধানের বারুদ (তৃতীয় পর্ব)
পর্ব ১
পর্ব২



~ Nusus
@FatayatalHuda
41
● গিবত থেকে বিরত থাকার লাভ এবং গিবতের আলোচনাকে প্রতিহত করার অসামান্য পুরস্কার:

গিবত থেকে বিরত থাকার ফজিলত:

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি (আল্লাহর) কোনো বান্দার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৪৮৯]

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ্ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭৪৬]

তবে, কারও উপর জুলুম হলে, সে এটি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে এমন কারও সাথে তার জুলুমের বিবরণ দিতে পারবে, যে এর বিচার করার ক্ষমতা রাখে। কুরআন মাজিদে আল্লাহ বলেন, ‘‘মন্দ কথার প্রচারণা আল্লাহ পছন্দ করেন না; তবে যার উপর জুলুম করা হয়েছে (তার ব্যাপারটি ভিন্ন)। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’’ [সুরা নিসা, আয়াত: ১৪৮]

তবে, মানহানির উদ্দেশ্যে সাধারণভাবে সবার কাছে বলে বেড়াতে পারবে না। কারণ হাদিসে এসেছে, ‘‘প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও মর্যাদা অপর মুসলিমের জন্য হারাম।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৪৩৫]

গিবত প্রতিহত করার পুরস্কার:

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের গিবত প্রতিরোধ করে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা আল্লাহর হক (অর্থাৎ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহর)।’’ [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৭৬৫০; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ২৮৪৭; হাদিসটি সহিহ]

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি অপর মুসলিমকে এমন স্থানে ত্যাগ করে, যেখানে তার সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয় এবং তার মর্যাদা বিনষ্ট করা হয়, আল্লাহ তাকে এমন স্থানে সাহায্য করা হতে বিরত থাকবেন, যেখানে সে নিজের সাহায্য কামনা করবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে এমন স্থানে সাহায্য করবে, যেখানে তার মর্যাদা বিনষ্ট করা হয় এবং তার সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয়, আল্লাহ তাকে এমন স্থানে সাহায্য করবেন, যেখানে সে নিজের সাহায্য প্রত্যাশা করবে।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৪৮৮৪; হাদিসটির সনদ দুর্বল]

অন্য হাদিসে এসেছে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘যে তার (মুসলিম) ভাইয়ের মান-সম্মানের উপর আঘাতকে প্রতিরোধ করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তার মুখমণ্ডল হতে জাহান্নামের আগুনকে প্রতিহত করবেন।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ১৯৩১; হাদিসটি সহিহ]

গিবত করতে আমাদের ভালো লাগলেও এর শাস্তি মারাত্মক। আবার, এ থেকে বেঁচে থাকার পুরস্কারও অসাধারণ। আমরা যদি স্রেফ অপ্রয়োজনীয় কথা কমিয়ে দিতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ গিবত থেকে অনেকাংশে বাঁচতে পারবো। যখন আমাদের প্রয়োজনীয় আলোচনা থাকে না, তখনই অন্যের বিষয়ে রসিয়ে রসিয়ে আলাপ জমাই আর মানুষের সম্মানহানি করি।

সর্বনাশা গিবত (তৃতীয় পর্ব)
প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব

~ Nusus

@FatayatalHuda
👍6
📌 তাকবীরে তাশরীক


اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد


উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ

অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই।আল্লাহই সবচেয়ে বড়; আল্লাহই সবচেয়ে বড়;আর আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা।

জিলহজের ৯ তারিখ অর্থাৎ আগামীকাল ফজর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একাকী বা জামাতে নামাজ আদায়কারী, নারী অথবা পুরুষ— প্রত্যেকের জন্য একবার তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব। পুরুষদের উচ্চ আওয়াজে, আর নারীরা নিচু আওয়াজে পড়বে,যাতে শুধু নিজে শুনতে পায়।

◉ প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালামের পর পরই কোনো কথাবার্তা বলা বা নামাজ পরিপন্থী কোনো কাজ করার আগেই তাকবীরে তাশররীক অন্তত একবার পড়তে হবে।

◉ শুধু পাঁচ ওয়াক্ত ফরজের পর পড়তে হবে। বিতরের পর এবং অন্য কোনো সুন্নাত বা নফলের পরে পড়ার প্রয়োজন নেই। তবে কোনো কোনো পূর্বসূরি নফল নামাজ শেষেও পড়তেন।

◉ পড়তে ভুলে গেলে খুব বেশি দেরি না হলে স্মরণ হওয়া মাত্র পড়ে নিতে হবে। আর একদম মিস হয়ে গেলে বা নামাজের পর বেশি দেরি হয়ে গেলে ইস্তিগফার করবে।

◉ প্রত্যেক ফরজের পর একবার পড়াই ওয়াজিব। ঈদের দিনে ঈদগাহে যেতে যেতে এটি পড়া উত্তম।

🔺 পিরিয়ডে থাকা নারীদের জন্য এই তাকবির পাঠ করা জরুরি নয়। কারণ এটি ফরজ নামাজের পর পাঠ করতে হয়। তবে তাঁরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি পড়বেন, তাহলে নেকি পাবেন।

🍀 এই ওয়াজিব আদায় না করলে ওয়াজিব তরকের গুনাহ হবে। তাই হাজারো ব্যস্ততার মাঝে কেউ তাকবীর দিতে ভুলবেন না। সবাই তাকবীর পাঠ করবেন ইন শা আল্লাহ।

@FatayatalHuda
4
تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَ مِنْكُمْ


উচ্চারণ: তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া-মিনকুম।

অর্থ: আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং আপনার নেক আমল তথা ভালো কাজগুলো কবুল করুন।

• ঈদ মোবারক 🌙

@Fatayatalhuda
72
সহজ ৭ টি দরুদের বাক্য উপস্থাপন করছি। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ; সবসময় পড়তে পারেন।
.
(১) দরুদে ইবরাহিম (সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ):
.
কা’ব বিন উজরাহ (রা.) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, ‘কীভাবে আমরা আপনার উপর এবং আপনার পরিবারবর্গের (আহলে বাইতের) উপর দরুদ পাঠ করবো?’ তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরুদে ইবরাহিম পাঠ করতে বলেন, যা আমরা প্রত্যেক নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু...)-এর পর পড়ি। সেটি হলো: আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা.....হামিদুম মাজিদ। সবারই মুখস্থ আছে, তাই এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজনবোধ করছি না। এই দরুদটিই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৩৩৭০]
.
(২) সবচেয়ে ছোট বিশুদ্ধ দরুদ:
.
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ، وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ
.[আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা মু‘হাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আ-লি মু‘হাম্মাদ]
.
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন।
.রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা আমার প্রতি দরুদ পড়ো এবং সাধ্যানুযায়ী দু‘আ করো ও বলো (উপরের দরুদটি)।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯১; হাদিসটি সহিহ]
.
(৩) আরেকটি সুন্দর বিশুদ্ধ দরুদ:
.নবিজি বলেন, ‘‘তোমরা বলো—
.
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ، وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ
.[আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা মু‘হাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি, ওয়া ‘আলা আ-লি মু‘হাম্মাদ]
.অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি উম্মি নবি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৯৮১; হাদিসটি হাসান]
.
(৪) দরুদে ইবরাহিমের সংক্ষিপ্ত রূপ:
.
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার উপর সালাম পাঠানোর নিয়ম তো আমরা জেনেছি, কিন্তু আপনার উপর দরুদ কীভাবে পাঠ করবো? তিনি বললেন, তোমরা বলবে—
.
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ
.[আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা মু‘হাম্মাদিন ‘আবদিকা ওয়া রাসু-লিক, কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরা-হি-ম; ওয়া বা-রিক ‘আলা মু‘হাম্মাদ ওয়া আ-লি মু‘হাম্মাদ, কামা বা-রাকতা ‘আলা ইবরা-হি-ম]
.(হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদের উপর রহমত প্রেরণ করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহিমের উপর রহমত প্রেরণ করেছেন। মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের উপর বরকত দান করুন, যেভাবে বরকত দিয়েছেন ইবরাহিমের উপর (তাঁর পরিবারের উপর)।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯৩; হাদিসটি সহিহ]
.
(৫) যে দরুদে আছে সাদাকাহর সওয়াব:
.
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ، وَصَلِّ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ
.[আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা মু‘হাম্মাদিন ‘আবদিকা ওয়া রাসু-লিক, ওয়া সল্লি ‘আলাল মুঅ্মিনি-না ওয়াল মুঅ্মিনা-ত, ওয়াল মুসলিমি-না ওয়াল মুসলিমা-ত]
.
(হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং সকল মুমিন-মুমিনা ও মুসলিম-মুসলিমার উপরও রহমত বর্ষণ করুন)
.আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে-মুসলমানের দান-সাদাকাহ করার মতো কিছু নেই, সে যেন দু‘আ করার সময় এটি বলে। এটি তার জন্য জাকাতস্বরূপ।’’ [ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯০৩; শায়খ আলবানি ও শু‘আইব আরনাউত্ব (রাহিমাহুমাল্লাহ) হাদিসটির সনদ দুর্বল বলেছেন, তবে অন্য কয়েকজন মুহাদ্দিস হাদিসটির সনদ মোটামুটি গ্রহণযোগ্য (হাসান) বলেছেন]
.
(৬) ছোট একটি দরুদ:
.
صَلَّى اللّٰهُ عَلَى النَّبِيِّ مُحَمَّدٍ
.[সল্লাল্লা-হু ‘আলান্নাবিয়্যি মু‘হাম্মাদ]
.
অর্থ: নবি মুহাম্মাদের উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন।
.নবিজির নাতি হাসান (রা.) হতে বর্ণিত কুনুতের শেষ অংশ এটি। চাইলে এই বাক্যটিও দরুদ হিসেবে পড়া যাবে। [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১৭৪৬; হাদিসটির সনদ দুর্বল, তবে আমলযোগ্য]
.
(৭) নবিজির শাফা‘আত লাভের দরুদ:
.
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ، وَأَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
.[আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা মু‘হাম্মাদ, ওয়া আনযিলহুল মাক্ব‘আদাল মুক্বাররবা ‘ইনদাকা ইয়াওমাল ক্বিয়া-মাহ্].
(হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং কিয়ামতের দিন আপনার নিকটেই তাঁকে স্থান দিন)
.রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে এটি বলবে, তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে।’’ [ইমাম তাবারানি, মু‘জামুল কাবির: ৪৪৮০; ইমাম হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১৭৩০৪; হাদিসটির সনদ দুর্বল, তবে আমলযোগ্য]
.
#দরুদ_সমাধানের_বারুদ (চতুর্থ পর্ব)
আগের পর্বগুলোর লিংক নিচে দেওয়া হলো।
পর্ব ১
পর্ব ২
পর্ব ৩

Nusus
@FatayatalHuda
👍41