দেশে গুম বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এমনকি অতি উৎসাহী কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তারও কাজ নয়। জোরপূর্বক নিখোঁজ রেখে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ছিল সেনা ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে পরিকল্পিত, সমন্বিত এবং দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রাখা একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। গুমসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া এই অপরাধের দায় শুধু মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অপারেশনাল ইউনিট, মধ্যম পর্যায়ের কমান্ড, গোয়েন্দা নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তারা—সবার ওপর বর্তায় বলে কমিশনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
🤔3
গত ৪ জানুয়ারি গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের প্রথম ধাপ ছিল চোখ বেঁধে তুলে নেওয়া, অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখানো ছাড়াই আটক রাখা। এসব কাজ মাঠ পর্যায়ের সেনা ও নিরাপত্তা সদস্যরাই বাস্তবায়ন করেছেন। এই পর্যায়ের সদস্যরা নির্দ্বিধায় সরাসরি অপরাধে যুক্ত ছিলেন, কারণ তারা জানতেন যে, গ্রেপ্তারের কোনো আইনি কাগজ নেই, আটক ব্যক্তির অবস্থান গোপন রাখা হচ্ছে এবং পরিবার ও আদালতও অন্ধকারে ছিল। এ কারণে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের দায় প্রাথমিক ও প্রত্যক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মধ্যম পর্যায়ের কমান্ডারদের দায়
কমিশন বলছে, গুমের অপরাধ কেবল মাঠপর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ইউনিট কমান্ডার ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা আটক সেল সম্পর্কে জানতেন। এছাড়া নিয়মিত রোল কল ও প্রস্তুতির নির্দেশ দিতেন এবং পরিদর্শনের সময় আটক ব্যক্তিদের সেল দেখেছেন। সৈনিকদের সাক্ষ্যে এসেছে যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঈদের দিনও আটক সেল পরিদর্শনে গেছেন।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই স্তরের সেনা কর্মকর্তারা শুধু জানতেনই না, বরং অননুমোদিত আটক রাখার কার্যক্রম চলমান রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাই এটি ইচ্ছাকৃত সহায়তা ও অনুমোদনের দায়।
গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটে দায়
কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন ইউনিটে চোখ বাঁধার ধরন, আটক রাখার পরিবেশ, জিজ্ঞাসাবাদের কৌশল ও মুক্তির পর মামলা দেওয়ার প্যাটার্ন প্রায় অভিন্ন ছিল। এক ইউনিট থেকে আরেক ইউনিটে আটক ব্যক্তিদের হস্তান্তরের সময়ও পদ্ধতিগত সমন্বয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় এসেছে যে ডিজিএফআই এবং র্যাবের আলাদা সরঞ্জাম ও ভিন্ন ব্যবস্থাপনা ছিল। এ ধরনের সমন্বয় পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব নয়, যা গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দায়ের প্রমাণ।
সর্বোচ্চ সেনা কমান্ডের দায়
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর সেনা কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অজুহাত ছিল—তারা নাকি জানতেন না। কমিশন এই দাবি তিনটি ভিত্তিতে বাতিল করেছে। কারণ, আটক রাখার সেলগুলো ছিল কমান্ডিং অফিসারদের অফিসের কাছেই। একই ভবন, সিঁড়ি ও লিফট ব্যবহার করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি দৃষ্টিসীমার মধ্যে ছিল। শব্দরোধী ব্যবস্থা না থাকায় নির্যাতনের শব্দ শোনা যেত। এমন অবস্থায় অজ্ঞতার দাবি বাস্তবতাবিবর্জিত।
অনুসন্ধানকালে কমিশনের সামনে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবর স্বীকার করেছেন যে, হুম্মাম কাদেরের গুম নিয়ে তিনি সরাসরি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। সিটিআইবি ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে আটকদের বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা হতো। এছাড়া জেআইসি ও টিএফআইতে পরিদর্শন করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ সেনা নেতৃত্বের অবগত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে।
কমিশন বলছে, গুম একটি চলমান অপরাধ। যতক্ষণ একজন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে আটক রাখা হয় এবং তার অবস্থান গোপন থাকে, ততক্ষণ অপরাধ চলতে থাকে। এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় ব্রিগেডিয়ার আজমি গুমের ঘটনায়। সেনাবাহিনীর নিজস্ব কোর্ট অব ইনকোয়ারির রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, শুধু প্রাথমিক অনুমোদনদাতা নন, পরবর্তী ডিরেক্টর জেনারেলরাও দায়ী। কারণ, তারা অননুমোদিত আটকের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
সেনাকাঠামোর দায় আড়ালের চেষ্টা
গুমকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘সন্ত্রাস দমন’-এর অজুহাতে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল জানিয়ে কমিশন বলছে, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কোনো জরুরি অবস্থায় বা যুদ্ধকালেও জোরপূর্বক নিখোঁজ রাখা বৈধ নয়।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের শিকার ব্যক্তিদের বড় অংশই ছিলেন রাজনৈতিক বিরোধী ও সমালোচক। এ কারণে এটি নিরাপত্তা নয় বরং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার ছিল।
দায় এড়ানোর কাঠামোগত কৌশল
প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনায় সেনা আইনের আওতায় বিচার চাওয়া হয়, যা বাস্তবে দায় এড়ানোর কৌশল। কারণ, সেনা আইনে গুম অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত নয় এবং কমান্ড দায়ের সুস্পষ্ট বিধান নেই। ব্রিগেডিয়ার আজমির ঘটনায় কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। র্যাব ও ইলিয়াস আলী গুম তদন্ত বোর্ডের বিপুল প্রমাণ ‘অনুপলব্ধ’ হয়ে গেছে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক বাধা ও দায় আড়াল করার নজির।
কমিশনের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশে গুমের ঘটনা ছিল ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত ও সেনা-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। এতে মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্য, ইউনিট, মধ্যম পর্যায়ের কমান্ডার, গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটের নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ সেনা কমান্ডের দায় আছে । সরাসরি জড়িত অথবা নীরবতার মাধ্যমে—সব স্তরই এ অপরাধ সম্ভব করেছে।
মধ্যম পর্যায়ের কমান্ডারদের দায়
কমিশন বলছে, গুমের অপরাধ কেবল মাঠপর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ইউনিট কমান্ডার ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা আটক সেল সম্পর্কে জানতেন। এছাড়া নিয়মিত রোল কল ও প্রস্তুতির নির্দেশ দিতেন এবং পরিদর্শনের সময় আটক ব্যক্তিদের সেল দেখেছেন। সৈনিকদের সাক্ষ্যে এসেছে যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঈদের দিনও আটক সেল পরিদর্শনে গেছেন।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই স্তরের সেনা কর্মকর্তারা শুধু জানতেনই না, বরং অননুমোদিত আটক রাখার কার্যক্রম চলমান রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাই এটি ইচ্ছাকৃত সহায়তা ও অনুমোদনের দায়।
গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটে দায়
কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন ইউনিটে চোখ বাঁধার ধরন, আটক রাখার পরিবেশ, জিজ্ঞাসাবাদের কৌশল ও মুক্তির পর মামলা দেওয়ার প্যাটার্ন প্রায় অভিন্ন ছিল। এক ইউনিট থেকে আরেক ইউনিটে আটক ব্যক্তিদের হস্তান্তরের সময়ও পদ্ধতিগত সমন্বয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় এসেছে যে ডিজিএফআই এবং র্যাবের আলাদা সরঞ্জাম ও ভিন্ন ব্যবস্থাপনা ছিল। এ ধরনের সমন্বয় পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব নয়, যা গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দায়ের প্রমাণ।
সর্বোচ্চ সেনা কমান্ডের দায়
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর সেনা কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অজুহাত ছিল—তারা নাকি জানতেন না। কমিশন এই দাবি তিনটি ভিত্তিতে বাতিল করেছে। কারণ, আটক রাখার সেলগুলো ছিল কমান্ডিং অফিসারদের অফিসের কাছেই। একই ভবন, সিঁড়ি ও লিফট ব্যবহার করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি দৃষ্টিসীমার মধ্যে ছিল। শব্দরোধী ব্যবস্থা না থাকায় নির্যাতনের শব্দ শোনা যেত। এমন অবস্থায় অজ্ঞতার দাবি বাস্তবতাবিবর্জিত।
অনুসন্ধানকালে কমিশনের সামনে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবর স্বীকার করেছেন যে, হুম্মাম কাদেরের গুম নিয়ে তিনি সরাসরি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। সিটিআইবি ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে আটকদের বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা হতো। এছাড়া জেআইসি ও টিএফআইতে পরিদর্শন করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ সেনা নেতৃত্বের অবগত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে।
কমিশন বলছে, গুম একটি চলমান অপরাধ। যতক্ষণ একজন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে আটক রাখা হয় এবং তার অবস্থান গোপন থাকে, ততক্ষণ অপরাধ চলতে থাকে। এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় ব্রিগেডিয়ার আজমি গুমের ঘটনায়। সেনাবাহিনীর নিজস্ব কোর্ট অব ইনকোয়ারির রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, শুধু প্রাথমিক অনুমোদনদাতা নন, পরবর্তী ডিরেক্টর জেনারেলরাও দায়ী। কারণ, তারা অননুমোদিত আটকের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
সেনাকাঠামোর দায় আড়ালের চেষ্টা
গুমকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘সন্ত্রাস দমন’-এর অজুহাতে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল জানিয়ে কমিশন বলছে, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কোনো জরুরি অবস্থায় বা যুদ্ধকালেও জোরপূর্বক নিখোঁজ রাখা বৈধ নয়।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের শিকার ব্যক্তিদের বড় অংশই ছিলেন রাজনৈতিক বিরোধী ও সমালোচক। এ কারণে এটি নিরাপত্তা নয় বরং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার ছিল।
দায় এড়ানোর কাঠামোগত কৌশল
প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনায় সেনা আইনের আওতায় বিচার চাওয়া হয়, যা বাস্তবে দায় এড়ানোর কৌশল। কারণ, সেনা আইনে গুম অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত নয় এবং কমান্ড দায়ের সুস্পষ্ট বিধান নেই। ব্রিগেডিয়ার আজমির ঘটনায় কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। র্যাব ও ইলিয়াস আলী গুম তদন্ত বোর্ডের বিপুল প্রমাণ ‘অনুপলব্ধ’ হয়ে গেছে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক বাধা ও দায় আড়াল করার নজির।
কমিশনের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশে গুমের ঘটনা ছিল ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত ও সেনা-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। এতে মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্য, ইউনিট, মধ্যম পর্যায়ের কমান্ডার, গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটের নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ সেনা কমান্ডের দায় আছে । সরাসরি জড়িত অথবা নীরবতার মাধ্যমে—সব স্তরই এ অপরাধ সম্ভব করেছে।
❤1
কাবুল প্রদেশের সুরোবি জেলায় ২২ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নাগলু সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। ৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দা আফগানিস্তান ব্রেশনা শেরকতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল বারী ওমর হাফিযাহুল্লাহ বলেন, নাগলু সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন—এই দুইটি পৃথক অংশে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আঠারো মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক যুগে বিদ্যুৎ মানুষের দেহে রক্ত সঞ্চালনের মতোই অপরিহার্য। দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে ইমারাতে ইসলামিয়া বহুমুখী জ্বালানি উৎস ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। নাগলু সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই বয়ে আনেনি, বরং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ইমারাতে ইসলামিয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দা আফগানিস্তান ব্রেশনা শেরকতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল বারী ওমর হাফিযাহুল্লাহ বলেন, নাগলু সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন—এই দুইটি পৃথক অংশে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আঠারো মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক যুগে বিদ্যুৎ মানুষের দেহে রক্ত সঞ্চালনের মতোই অপরিহার্য। দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে ইমারাতে ইসলামিয়া বহুমুখী জ্বালানি উৎস ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। নাগলু সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই বয়ে আনেনি, বরং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ইমারাতে ইসলামিয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
❤5
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের প্রশাসনিক উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুস সালাম হানাফি হাফিযাহুল্লাহ। তিনি বলেন, বর্তমানে আফগানিস্তানে আবাসিক খাতে পাঁচ হাজার এবং শিল্প খাতে দশ হাজার মেগাওয়াটের অধিক বিদ্যুতের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে দেশে মাত্র দুইশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো; তবে ইমারাতে ইসলামিয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বছরের মধ্যেই এক হাজার দুইশ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইমারাতে ইসলামিয়ার অন্যান্য কর্মকর্তারাও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক কল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।
নাগলু সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে আফগানিস্তানের জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এই প্রকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথে ইমারাতে ইসলামিয়ার অগ্রযাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইমারাতে ইসলামিয়ার অন্যান্য কর্মকর্তারাও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক কল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।
নাগলু সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে আফগানিস্তানের জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এই প্রকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথে ইমারাতে ইসলামিয়ার অগ্রযাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশের জাফরান আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতিতে হেরাতের জাফরান বিশ্বসেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। টানা দশমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে হেরাতের জাফরান তার অনন্য মান ও উৎকর্ষের প্রমাণ রেখেছে।
আন্তর্জাতিক স্বাদ মূল্যায়ন সংস্থার ঘোষণায় বলা হয়েছে, গুণগত মান, স্বাদ ও সুগন্ধের দিক থেকে হেরাতের জাফরান বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে। এই অর্জন শুধু হেরাত প্রদেশের জন্য নয়, বরং পুরো দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই স্বীকৃতির প্রেক্ষিতে হেরাত প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণের প্রতি জাফরান চাষে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই মূল্যবান ও লাভজনক ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে প্রদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আন্তর্জাতিক স্বাদ মূল্যায়ন সংস্থার ঘোষণায় বলা হয়েছে, গুণগত মান, স্বাদ ও সুগন্ধের দিক থেকে হেরাতের জাফরান বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে। এই অর্জন শুধু হেরাত প্রদেশের জন্য নয়, বরং পুরো দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই স্বীকৃতির প্রেক্ষিতে হেরাত প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণের প্রতি জাফরান চাষে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই মূল্যবান ও লাভজনক ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে প্রদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
❤5
হেরাতের জাফরানের টানা দশমবার বিশ্বসেরা স্বীকৃতি অর্জন প্রমাণ করে যে, সঠিক যত্ন ও মনোযোগের মাধ্যমে দেশের কৃষি পণ্য আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানো সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাফরান চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে এই সাফল্য আরও সুদৃঢ় হবে এবং হেরাত প্রদেশ বিশ্ববাজারে তার অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
খাগড়াছড়ির রামগড়ে ভারতের স্বার্থে নির্মিত স্থলবন্দরের জমি ভরাটে পরিবেশ ধ্বংস করে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের অন্তত তিনটি পাহাড় সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব পাহাড়ের মাটি রাতের আঁধারে ট্রাকে করে এনে রামগড় স্থলবন্দরের প্রায় ১০ একর জমি ভরাট করা হয়েছে। অথচ টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী, বালু কিনে এনে জমি ভরাট করার কথা ছিল। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের আগ্রহে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার এই বন্দরকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ আখ্যা দিয়ে এর লাভ-ক্ষতি পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দেয়। সে সময় কিছুদিন ধীরগতিতে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের অন্তত তিনটি পাহাড় সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব পাহাড়ের মাটি রাতের আঁধারে ট্রাকে করে এনে রামগড় স্থলবন্দরের প্রায় ১০ একর জমি ভরাট করা হয়েছে। অথচ টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী, বালু কিনে এনে জমি ভরাট করার কথা ছিল। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের আগ্রহে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার এই বন্দরকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ আখ্যা দিয়ে এর লাভ-ক্ষতি পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দেয়। সে সময় কিছুদিন ধীরগতিতে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।
🤬3❤1👎1
এখন ঠিকাদার নিজের দায় এড়িয়ে দোষ দিচ্ছেন সাব-ঠিকাদারকে। আর প্রশাসনের লোকজনও দায়সারা বক্তব্য দিয়ে স্বীকার করছেন, কাজ প্রায় শেষের দিকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ও বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছন।
সূত্র জানায়, ভারতের আবদারে খাগড়াছড়ি ও ফেনী সীমান্তের রামগড়ে স্থলবন্দর প্রকল্প গ্রহণ করে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। শেষ না হওয়া সত্ত্বেও ভারতের আগ্রহে গত বছরের ১৪ আগস্ট যাত্রী পারাপারের জন্য বন্দরের কার্যক্রম উদ্বোধন করার দিন নির্ধারণ করে পতিত সরকার। কিন্তু ৫ আগস্ট পতন হয় হাসিনা সরকারের। এতে বন্ধ হয়ে যায় স্থলবন্দরটির উদ্বোধনী কার্যক্রম।
গত ১০ জানুয়ারি এ বিষয়ে দৈনিক আমার দেশে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিন পর রামগড় স্থলবন্দর পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, এই বন্দর মূলত ভারতের স্বার্থে তৈরি হচ্ছে এবং এতে একতরফাভাবে লাভবান হবে ভারত। প্রকল্পে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি পুনর্নিরীক্ষার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি।
সরকারপতনের আগে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও পরবর্তী অংশ সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। তবে বর্তমানে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ফেনী নদীতীরবর্তী এলাকায় পাহাড় কেটে আনা মাটি দিয়ে ট্রাক টার্মিনালসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে।
বালুর বদলে মাটি, মান নিয়ে শঙ্কা
এ প্রকল্পে ভারতের স্বার্থে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করায় শতকোটি টাকার এ স্থাপনার মান ও স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, পুরো প্রকল্প তৈরিতে অসংখ্য পাহাড় সাবাড় করা হয়েছে। প্রকল্পের মধ্যে মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট থেকে রামগড় পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় চার লেনের সড়ক তৈরির প্রকল্প রয়েছে। এই এলাকার মধ্যে রিজার্ভ ফরেস্টও আছে। অসংখ্য পাহাড় আর সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। গণঅভ্যুত্থানে তাদের পতন হলে নতুন করে পরিবেশ ধ্বংস হবে নাÑএমন আশায় বুক বাধেন স্থানীয়রা। কিন্তু তাদের হতাশ করে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে পাহাড় কাটায় মেতেছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড় কাটা ও প্রশাসনের ভূমিকা
রামগড় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বলিটিলা মসজিদের সামনে একটি পাহাড়, একই ওয়ার্ডের আরেকটি পাহাড় এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চৌধুরীপাড়া এলাকার একটি পাহাড় পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাটি ভরাট ছাড়াও পুরো প্রকল্প তৈরিতে ছোটবড় অসংখ্য পাহাড় কেটে ধ্বংস করা হয়েছে। অনেক পাহাড় খাড়াখাড়িভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে কাটা হয়েছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি পাহাড় ধসে জীবনহানিরও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বালি ভরাটের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন দ্রুততার সঙ্গে বন্দরের ইয়ার্ডের কাজ শেষ করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম বলেন, গত মাসে পাহাড় কাটার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগের সরকার আমলে এখানকার একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই পাহাড়গুলো কেটে প্রকল্পে মাটি সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে পাহাড় কাটা হচ্ছে না। তারপরও স্থানীয়রা যখন অভিযোগ করেছে, তখন বিষয়টি তদন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করায় শতকোটি টাকার এ প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রামের সম্পাদক খান মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, ভরাটের কাজে সাধারণত নদীর বালি ব্যবহার করা হয়। পাহাড়ি মাটির কমপ্যাকশন কম হওয়ায় সময়ের সঙ্গে জমি দেবে যাওয়া, ফাটল ধরা ও অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ওই জায়গার ওপর নির্মিত পুরো অবকাঠামোর মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালে রামগড়ের মহামুনি এলাকায় অধিগ্রহণ করা ১০ একর জমিতে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি), কাস্টমস অফিস, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন, পোর্ট বিল্ডিং, ট্রান্সশিপমেন্ট শেড, ওয়্যার হাউস, ইয়ার্ড ও আবাসিক ভবন নির্মাণে ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথমে মনিকো লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। তবে ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি কাজ শুরু হলে ভারতের ডিজাইনে কাজ না হওয়ার অজুহাতে তাতে বাধা দেয় সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। এক বছরের বেশি সময় কাজ বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল হয়।
সূত্র জানায়, ভারতের আবদারে খাগড়াছড়ি ও ফেনী সীমান্তের রামগড়ে স্থলবন্দর প্রকল্প গ্রহণ করে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। শেষ না হওয়া সত্ত্বেও ভারতের আগ্রহে গত বছরের ১৪ আগস্ট যাত্রী পারাপারের জন্য বন্দরের কার্যক্রম উদ্বোধন করার দিন নির্ধারণ করে পতিত সরকার। কিন্তু ৫ আগস্ট পতন হয় হাসিনা সরকারের। এতে বন্ধ হয়ে যায় স্থলবন্দরটির উদ্বোধনী কার্যক্রম।
গত ১০ জানুয়ারি এ বিষয়ে দৈনিক আমার দেশে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিন পর রামগড় স্থলবন্দর পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, এই বন্দর মূলত ভারতের স্বার্থে তৈরি হচ্ছে এবং এতে একতরফাভাবে লাভবান হবে ভারত। প্রকল্পে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি পুনর্নিরীক্ষার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি।
সরকারপতনের আগে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও পরবর্তী অংশ সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। তবে বর্তমানে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ফেনী নদীতীরবর্তী এলাকায় পাহাড় কেটে আনা মাটি দিয়ে ট্রাক টার্মিনালসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে।
বালুর বদলে মাটি, মান নিয়ে শঙ্কা
এ প্রকল্পে ভারতের স্বার্থে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করায় শতকোটি টাকার এ স্থাপনার মান ও স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, পুরো প্রকল্প তৈরিতে অসংখ্য পাহাড় সাবাড় করা হয়েছে। প্রকল্পের মধ্যে মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট থেকে রামগড় পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় চার লেনের সড়ক তৈরির প্রকল্প রয়েছে। এই এলাকার মধ্যে রিজার্ভ ফরেস্টও আছে। অসংখ্য পাহাড় আর সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। গণঅভ্যুত্থানে তাদের পতন হলে নতুন করে পরিবেশ ধ্বংস হবে নাÑএমন আশায় বুক বাধেন স্থানীয়রা। কিন্তু তাদের হতাশ করে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে পাহাড় কাটায় মেতেছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড় কাটা ও প্রশাসনের ভূমিকা
রামগড় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বলিটিলা মসজিদের সামনে একটি পাহাড়, একই ওয়ার্ডের আরেকটি পাহাড় এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চৌধুরীপাড়া এলাকার একটি পাহাড় পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাটি ভরাট ছাড়াও পুরো প্রকল্প তৈরিতে ছোটবড় অসংখ্য পাহাড় কেটে ধ্বংস করা হয়েছে। অনেক পাহাড় খাড়াখাড়িভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে কাটা হয়েছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি পাহাড় ধসে জীবনহানিরও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বালি ভরাটের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন দ্রুততার সঙ্গে বন্দরের ইয়ার্ডের কাজ শেষ করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম বলেন, গত মাসে পাহাড় কাটার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগের সরকার আমলে এখানকার একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই পাহাড়গুলো কেটে প্রকল্পে মাটি সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে পাহাড় কাটা হচ্ছে না। তারপরও স্থানীয়রা যখন অভিযোগ করেছে, তখন বিষয়টি তদন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করায় শতকোটি টাকার এ প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রামের সম্পাদক খান মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, ভরাটের কাজে সাধারণত নদীর বালি ব্যবহার করা হয়। পাহাড়ি মাটির কমপ্যাকশন কম হওয়ায় সময়ের সঙ্গে জমি দেবে যাওয়া, ফাটল ধরা ও অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ওই জায়গার ওপর নির্মিত পুরো অবকাঠামোর মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালে রামগড়ের মহামুনি এলাকায় অধিগ্রহণ করা ১০ একর জমিতে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি), কাস্টমস অফিস, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন, পোর্ট বিল্ডিং, ট্রান্সশিপমেন্ট শেড, ওয়্যার হাউস, ইয়ার্ড ও আবাসিক ভবন নির্মাণে ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথমে মনিকো লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। তবে ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি কাজ শুরু হলে ভারতের ডিজাইনে কাজ না হওয়ার অজুহাতে তাতে বাধা দেয় সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। এক বছরের বেশি সময় কাজ বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল হয়।
পরে ভারতীয় পক্ষের সম্মতির পর প্রকল্প আবার চালু হলে এমএসসিএল অ্যান্ড এমএসডিবিএল জেবি ও মনিকো লিমিটেডকে যৌথভাবে নতুন করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে মনিকো লিমিটেড বন্দরের ১০ একর জমি ভরাটসহ ওয়্যার হাউস, ইয়ার্ড, রিটেইনিং ওয়াল, বাউন্ডারি ওয়াল ও দুটি ওয়েব্রিজ স্কেল নির্মাণের জন্য প্রায় ৮৯ কোটি টাকার কাজ পায়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রায় ২২ ফুট উচ্চতায় বালু দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও বাস্তবে পাহাড় কেটে আনা মাটি দিয়েই পুরো এলাকা ভরাট করা হয়েছে।
বিষয়টি স্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনিকো লিমিটেডের স্থানীয় ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানান, প্রজেক্টের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বিশ্বপ্রদীপ কারবারির একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাব-কন্ট্রাক্টে বালি ভরাটের কাজ দেওয়া হয়েছিল। কন্ট্রাক্টে উল্লেখ ছিল পাহাড়ি ঝরনার বালি সরবরাহ করতে হবে। খাগড়াছড়ি এলাকার সব বালিই লাল রঙের, তাই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পাহাড় কেটে বালি সরবরাহ করলে তা বোঝার উপায় নেই।
একতরফা লাভ ভারতের
রামগড়ের ওপারে আসামের গোহাটি ও ত্রিপুরার আগরতলা সেভেন সিস্টারের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নিকটতম মূল শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কলকাতা। শিলিগুড়ি করিডোর হয়ে গোহাটি কিংবা আগরতলার দূরত্ব এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৬৫০ কিলোমিটারের মধ্যে। দুর্গম ও পাহাড়ি এসব পথে ভারী পরিবহন চলাচল একেবারেই অসম্ভব। বিপরীতে রামগড় হয়ে আগরতলার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৩০০ কিলোমিটার আর গোহাটির দূরত্ব ৬০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। রামগড় বন্দর হয়ে ট্রানজিট সুবিধা পেলে বিচ্ছিন্ন এ রাজ্যগুলোর সঙ্গে সহজ যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হবে ভারতের। আর এ কারণেই ছোট্ট এ বন্দরের প্রতি তাদের এত আগ্রহ।
রামগড় ব্রিজ পার হলে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম এলাকার অবস্থান। এ সাবরুমকে কেন্দ্র ধরে সম্প্রতি সেভেন সিস্টারের রাজ্যগুলোর সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে কানেকটিভিটি বাড়িয়েছে ভারত। তাদেরই আগ্রহে রামগড়ে বন্দর তৈরি করে দিচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে ফেনী নদীর ওপর নিজস্ব অর্থায়নে ১৩৩ কোটি টাকা খরচ করে ব্রিজ বানিয়ে দিয়েছে দিল্লি। রামগড় থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত রাস্তা বানানোর খরচের প্রায় অর্ধেকের জোগানও দিয়েছে দেশটি। তবে এই টাকা চড়া সুদে নিয়েছে বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিট সুবিধায় তামাবিল, আখাউড়া ও রামগড় বন্দর দিয়ে পণ্য নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে ভারত। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তামাবিলের দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। আখাউড়াও ২০০ কিলোমিটারের বেশি। কিন্তু রামগড় মাত্র ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে। ফলে বন্দর চালু হলে একচেটিয়া ট্রানজিট সুবিধা ভোগ করবে ভারত।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বক্তব্য
রামগড় বন্দরের নামে ভারতের সঙ্গে যে কানেকটিভিটি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদ উল্লাহ চৌধুরী জানান, রামগড় থেকে বঙ্গোপসাগরের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটারের কিছু বেশি। তাই এ এলাকাটি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি। ভারতের জন্য চিকেন নেক যেমন গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য রামগড়ও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট্ট এ এলাকাটি দখলে নিতে পারলে পুরো চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বন্দরের জন্য সেতু তৈরি হওয়ার আগে সরাসরি ভারতের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ বাংলাদেশের ছিল না। ফেনী নদী প্রাকৃতিকভাবে দুই দেশকে আলাদা করার পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষিত করে রেখেছিল। কিন্তু এই স্থলবন্দরের জন্য নদীর ওপর নির্মিত সেতু আমাদের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
২০১০ সালে রামগড়কে স্থলবন্দর ঘোষণা করে সরকার। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো। এর ধারাবাহিকতায় রামগড় বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব শামসুল আলম বলেন, মূলত ভোলাগঞ্জ, শ্যাওলা ও রামগড়Ñএ তিনটি বন্দর নিয়ে একটি প্রকল্প, যার কাজ ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। সেক্ষেত্রে রামগড় বন্দরের অবকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে বন্দর কবে চালু হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার
বিষয়টি স্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনিকো লিমিটেডের স্থানীয় ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানান, প্রজেক্টের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বিশ্বপ্রদীপ কারবারির একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাব-কন্ট্রাক্টে বালি ভরাটের কাজ দেওয়া হয়েছিল। কন্ট্রাক্টে উল্লেখ ছিল পাহাড়ি ঝরনার বালি সরবরাহ করতে হবে। খাগড়াছড়ি এলাকার সব বালিই লাল রঙের, তাই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পাহাড় কেটে বালি সরবরাহ করলে তা বোঝার উপায় নেই।
একতরফা লাভ ভারতের
রামগড়ের ওপারে আসামের গোহাটি ও ত্রিপুরার আগরতলা সেভেন সিস্টারের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নিকটতম মূল শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কলকাতা। শিলিগুড়ি করিডোর হয়ে গোহাটি কিংবা আগরতলার দূরত্ব এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৬৫০ কিলোমিটারের মধ্যে। দুর্গম ও পাহাড়ি এসব পথে ভারী পরিবহন চলাচল একেবারেই অসম্ভব। বিপরীতে রামগড় হয়ে আগরতলার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৩০০ কিলোমিটার আর গোহাটির দূরত্ব ৬০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। রামগড় বন্দর হয়ে ট্রানজিট সুবিধা পেলে বিচ্ছিন্ন এ রাজ্যগুলোর সঙ্গে সহজ যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হবে ভারতের। আর এ কারণেই ছোট্ট এ বন্দরের প্রতি তাদের এত আগ্রহ।
রামগড় ব্রিজ পার হলে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম এলাকার অবস্থান। এ সাবরুমকে কেন্দ্র ধরে সম্প্রতি সেভেন সিস্টারের রাজ্যগুলোর সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে কানেকটিভিটি বাড়িয়েছে ভারত। তাদেরই আগ্রহে রামগড়ে বন্দর তৈরি করে দিচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে ফেনী নদীর ওপর নিজস্ব অর্থায়নে ১৩৩ কোটি টাকা খরচ করে ব্রিজ বানিয়ে দিয়েছে দিল্লি। রামগড় থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত রাস্তা বানানোর খরচের প্রায় অর্ধেকের জোগানও দিয়েছে দেশটি। তবে এই টাকা চড়া সুদে নিয়েছে বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিট সুবিধায় তামাবিল, আখাউড়া ও রামগড় বন্দর দিয়ে পণ্য নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে ভারত। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তামাবিলের দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। আখাউড়াও ২০০ কিলোমিটারের বেশি। কিন্তু রামগড় মাত্র ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে। ফলে বন্দর চালু হলে একচেটিয়া ট্রানজিট সুবিধা ভোগ করবে ভারত।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বক্তব্য
রামগড় বন্দরের নামে ভারতের সঙ্গে যে কানেকটিভিটি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদ উল্লাহ চৌধুরী জানান, রামগড় থেকে বঙ্গোপসাগরের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটারের কিছু বেশি। তাই এ এলাকাটি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি। ভারতের জন্য চিকেন নেক যেমন গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য রামগড়ও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট্ট এ এলাকাটি দখলে নিতে পারলে পুরো চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বন্দরের জন্য সেতু তৈরি হওয়ার আগে সরাসরি ভারতের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ বাংলাদেশের ছিল না। ফেনী নদী প্রাকৃতিকভাবে দুই দেশকে আলাদা করার পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষিত করে রেখেছিল। কিন্তু এই স্থলবন্দরের জন্য নদীর ওপর নির্মিত সেতু আমাদের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
২০১০ সালে রামগড়কে স্থলবন্দর ঘোষণা করে সরকার। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো। এর ধারাবাহিকতায় রামগড় বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব শামসুল আলম বলেন, মূলত ভোলাগঞ্জ, শ্যাওলা ও রামগড়Ñএ তিনটি বন্দর নিয়ে একটি প্রকল্প, যার কাজ ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। সেক্ষেত্রে রামগড় বন্দরের অবকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে বন্দর কবে চালু হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার
👎3
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে দুই বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় পুলিশ। ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ভোরে জহুরপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায় ভারতের জঙ্গিপুর থানা পুলিশ। বুধবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান।
তারা হলেন- সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দেবীপুর গ্রামের খাইরুল ইসলাম (৩০) ও মমিন আলী (২৫)। স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তে গরু আনতে যায় চার যুবক।
এ সময় বিএসএফের সহযোগিতায় ভারতীয় পুলিশ খাইরুল ও মমিনকে ধরে নিয়ে চলে যায়। অপর দুজন বাবু (২২) ও পিঠুর (২৯) মধ্যে একজন ভারতে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অপরজন বাংলাদেশে ফিরে আসে।
নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির উদ্দিন বলেন, দুজনকে আটকের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তারা গরুর ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।
তারা হলেন- সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দেবীপুর গ্রামের খাইরুল ইসলাম (৩০) ও মমিন আলী (২৫)। স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তে গরু আনতে যায় চার যুবক।
এ সময় বিএসএফের সহযোগিতায় ভারতীয় পুলিশ খাইরুল ও মমিনকে ধরে নিয়ে চলে যায়। অপর দুজন বাবু (২২) ও পিঠুর (২৯) মধ্যে একজন ভারতে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অপরজন বাংলাদেশে ফিরে আসে।
নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির উদ্দিন বলেন, দুজনকে আটকের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তারা গরুর ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, চারজন ব্যক্তি গরু আনার জন্য জহুরপুর সীমান্তে যায়। এর মধ্যে দুজনকে আটক করে ভারতীয় পুলিশ। অপর একজন ভারতের অংশে অবস্থান করছে। আরেকজন বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় ৭টি গরু জব্দ করে নিয়ে গেছে বিএসএফ।
😡8
হারাকাতুশ শা/বাব মু*জাহি/দিনরা সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে মোগাদিশু বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা তীব্রতর করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় দলটির মু*জাহি/দিনরা দক্ষিণাঞ্চলে মোগাদিশু বাহিনীকে হটিয়ে নতুন করে আরও ২টি সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।
আঞ্চলিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতে, হারাকাতুশ শা/বাব মু*জাহি/দিনরা সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বে রাজ্যের বাইদোয়ায় শহরে একটি সমন্বিত আক্রমণ চালিয়েছেন। শহরটিতে অবস্থিত মোগাদিশু বাহিনীর ২টি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মু*জাহি/দিনরা অভিযানটি পরিচালনা করেছেন। মু*জাহি/দদের অতর্কিত এই আক্রমণে শত্রু বাহিনীতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে, যাদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৪ নিহত সৈন্য এবং ৬ আহত সৈন্যের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই লড়াইয়ের সময় মোগাদিশু বাহিনীর অন্য সৈন্যরা জীবন বাঁচাতে সামরিক অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে যায়।
মোগাদিশু বাহিনীর এই পলায়নের ঘটনার পর হারাকাতুশ শা/বাব মু*জাহি/দিনরা ২টি সামরিক ঘাঁটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন। এসময় আশ-শা/বাব মু*জাহি/দিনরা ঘটনাস্থল থেকে ২টি AK47 রাইফেল, একটি RP রাইফেল এবং ৯টি গোলাবারুদ বাক্স গনিমত হিসাবে উদ্ধার করেন।
আঞ্চলিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতে, হারাকাতুশ শা/বাব মু*জাহি/দিনরা সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বে রাজ্যের বাইদোয়ায় শহরে একটি সমন্বিত আক্রমণ চালিয়েছেন। শহরটিতে অবস্থিত মোগাদিশু বাহিনীর ২টি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মু*জাহি/দিনরা অভিযানটি পরিচালনা করেছেন। মু*জাহি/দদের অতর্কিত এই আক্রমণে শত্রু বাহিনীতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে, যাদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৪ নিহত সৈন্য এবং ৬ আহত সৈন্যের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই লড়াইয়ের সময় মোগাদিশু বাহিনীর অন্য সৈন্যরা জীবন বাঁচাতে সামরিক অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে যায়।
মোগাদিশু বাহিনীর এই পলায়নের ঘটনার পর হারাকাতুশ শা/বাব মু*জাহি/দিনরা ২টি সামরিক ঘাঁটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন। এসময় আশ-শা/বাব মু*জাহি/দিনরা ঘটনাস্থল থেকে ২টি AK47 রাইফেল, একটি RP রাইফেল এবং ৯টি গোলাবারুদ বাক্স গনিমত হিসাবে উদ্ধার করেন।
🔥16
কেনিয়া-অধিকৃত মান্দিরা রাজ্য থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হারাকাতুশ শা/বাব মু*জাহি/দিনরা দেশটির ক্রুসেডার সেনাবাহিনীর উপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছেন।
আঞ্চলিক গণমাধ্যম সূত্রমতে, বুধবার ৭ জানুয়ারি সকালে, হারাকাতুশ শা/বাব মু*জাহি/দিনরা কেনিয়ার মান্দিরা রাজ্যের লাফি জেলায় একটি অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছেন। এই আক্রমণটি জেলার ধামসি এলাকায় অবস্থিত কেনিয়ান বাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ফলশ্রুতিতে কেনিয়ান বাহিনীতে কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে।
আঞ্চলিক গণমাধ্যম সূত্রমতে, বুধবার ৭ জানুয়ারি সকালে, হারাকাতুশ শা/বাব মু*জাহি/দিনরা কেনিয়ার মান্দিরা রাজ্যের লাফি জেলায় একটি অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছেন। এই আক্রমণটি জেলার ধামসি এলাকায় অবস্থিত কেনিয়ান বাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ফলশ্রুতিতে কেনিয়ান বাহিনীতে কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে।
🔥11❤1
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় একটি মসজিদে থাকা অন্তত ৩০টি পবিত্র কোরআন শরীফ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) গভীর রাতে পাকুন্দিয়ার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের বালিয়াপাড়ায় একটি মসজিদে এ দূর্ঘনা ঘটে। এ ঘটনায় পারভেজ নামের সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে স্থানীয় বাজারের একটি মাইক সার্ভিসের কয়েকজন কর্মচারী ওয়াজ মাহফিলের কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন। এসময় পথিমধ্যে মসজিদের বারান্দায় আগুন দেখতে পান তারা। তখন তাদের চিৎকারে মসজিদের ইমামসহ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে মসজিদের বারান্দায় মক্তবের শিক্ষার্থীদের রাখা প্রায় ৩০টি পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
মসজিদের ইমাম মাওলানা বায়েজিদ জানান, মসজিদের পাশের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পথচারীদের ডাকচিৎকারে ঘুম ভেঙে উঠে দেখি কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
গত ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) গভীর রাতে পাকুন্দিয়ার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের বালিয়াপাড়ায় একটি মসজিদে এ দূর্ঘনা ঘটে। এ ঘটনায় পারভেজ নামের সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে স্থানীয় বাজারের একটি মাইক সার্ভিসের কয়েকজন কর্মচারী ওয়াজ মাহফিলের কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন। এসময় পথিমধ্যে মসজিদের বারান্দায় আগুন দেখতে পান তারা। তখন তাদের চিৎকারে মসজিদের ইমামসহ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে মসজিদের বারান্দায় মক্তবের শিক্ষার্থীদের রাখা প্রায় ৩০টি পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
মসজিদের ইমাম মাওলানা বায়েজিদ জানান, মসজিদের পাশের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পথচারীদের ডাকচিৎকারে ঘুম ভেঙে উঠে দেখি কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
🤬5
বুধবার এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল হক, আহুতিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল, পাকুন্দিয়া উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম এবং পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরুজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাস বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহুতিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পারভেজ নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল হক, আহুতিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল, পাকুন্দিয়া উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম এবং পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরুজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাস বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহুতিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পারভেজ নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
😡9
৭ জানুয়ারি দিল্লির তুর্কমান গেট-রামলীলা ময়দান এলাকায় একটি প্রাচীন মসজিদের পাশে অবস্থিত স্থাপনাসমূহে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে হিন্দুত্ববাদী ভারত প্রশাসন। দিল্লির প্রাচীন এই মসজিদের নাম ফয়েজ-ই-ইলাহি। হাইকোর্টের নির্দেশে ৩০০ হিন্দুত্ববাদী কর্মী ও ১৭টি বুলডোজার এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই সময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে পুলিশের সাথে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। এর ফলে ১০ জন নিরীহ নাগরিককে আটক করেছে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ।
সংঘর্ষ চলাকালীন জনগণের প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ। এছাড়া সিসিটিভি ও অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হবে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি জানায়, স্থাপনাসমূহ ১০০ বছরের অধিক পুরনো, উক্ত জমি দিল্লি ওয়াক্বফ বোর্ডের অধীন, তাই এর জন্য নিয়মিত লিজ ফি প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দয় পদক্ষেপের মাধ্যমে কবরস্থানসহ মুসলমানদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলো কেড়ে নিল হিন্দুত্ববাদী ভারত প্রশাসন।
এই সময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে পুলিশের সাথে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। এর ফলে ১০ জন নিরীহ নাগরিককে আটক করেছে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ।
সংঘর্ষ চলাকালীন জনগণের প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ। এছাড়া সিসিটিভি ও অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হবে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি জানায়, স্থাপনাসমূহ ১০০ বছরের অধিক পুরনো, উক্ত জমি দিল্লি ওয়াক্বফ বোর্ডের অধীন, তাই এর জন্য নিয়মিত লিজ ফি প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দয় পদক্ষেপের মাধ্যমে কবরস্থানসহ মুসলমানদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলো কেড়ে নিল হিন্দুত্ববাদী ভারত প্রশাসন।
🤬7
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত নভেম্বর মাসে তুর্কমান গেটসংলগ্ন রামলীলা গ্রাউন্ড এলাকায় প্রায় ৩৮ হাজার ৯৪০ বর্গফুট এলাকা তিন মাসের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে দিল্লি পৌর কর্পোরেশন (এমসিডি) ও দিল্লি পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।
🤬1😡1
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আনোয়ার হোসেন নামে আরেকজন।
৭ জানুয়ারি (বুধবার) রাত ৮টার কিছু পরে রাজধানীর বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরি বাজার এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা তাদের গুলি করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, স্টার কাবাবের পাশের ওই গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এদের একজন মারা গেছেন। তাদেরকে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
৭ জানুয়ারি (বুধবার) রাত ৮টার কিছু পরে রাজধানীর বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরি বাজার এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা তাদের গুলি করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, স্টার কাবাবের পাশের ওই গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এদের একজন মারা গেছেন। তাদেরকে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
❤4🤔1