সালাফি ARTICLE
1.52K subscribers
636 photos
20 videos
226 links
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

দ্বীনের সঠিক জ্ঞানের সমুদ্রে ডুব দিন,
আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জন করুন।
Download Telegram
তাআলাও প্রতিটি স্থানে বিদ্যমান, কোনো স্থানই তাঁর থেকে খালি নয়, অথচ তিনি স্থান ও কাল থেকে উর্ধ্বে বা মুক্ত)। [আল-হাভী লিল-ফাতাওয়া, ২/২৮৯]

আল্লাহ তাআলা বলেন: “পরম দয়াময় আল্লাহ আরশে সমুন্নত হয়েছেন।” [সূরা ত্বাহা, ৫]

ইমাম আদ-দারেমী বলেছেন: “এটিও কুফরি [যখন কেউ দাবি করে যে তিনি (আল্লাহ) প্রতিটি নোংরা, অপবিত্র ও নিকৃষ্ট স্থানে প্রবেশ করেছেন]”। [আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াজ জানাদিকা; ইমাম আহমাদ, তাহকীক: সাবরি; পৃ. ১৫৬]

(٤) القول إن الله في كل مكان
قال السيوطي: «لَمَّا كَانَ الرُّوحُ فِي الْجَسَدِ لَا يُعْلَمُ لَهُ أَيْنِيَّةٌ عَلِمْنَا أَنَّهُ مُنَزَّهٌ عَنِ الْكَيْفِيَّةِ وَالْأَيْنِيَّةِ فَلَا يُوصَفُ بِأَيْنَ وَلَا كَيْفَ بَلِ الرُّوحُ مَوْجُودَةٌ فِي كُلِّ الْجَسَدِ مَا خَلَا مِنْهَا شَيْءٌ مِنَ الْجَسَدِ، وَكَذَلِكَ الْحَقُّ سبحانه وتعالى مَوْجُودٌ فِي كُلِّ مَكَانٍ مَا خَلَا مِنْهُ مَكَانٌ وَتَنَزَّهَ عَنِ الْمَكَانِ وَالزَّمَانِ». [الحاوي للفتاوي (2/ 289)]
قال تعالى" ﴿ ٱلرَّحْمَـٰنُ عَلَى ٱلْعَرْشِ ٱسْتَوَىٰ ﴾[سورة طه 5]
قال الدارمي: «كان هذا كفرًا أيضًا [حين زعم أنه دخل في كل مكان وحش قذر رديء». [الرد على الجهمية والزنادقة للإمام أحمد ت صبري (ص156)]

(৫) রাসূলুল্লাহ (সা.) সশরীরে জীবিত থেকে মহাবিশ্ব পরিচালনা করছেন বলে দাবি করা — সুয়ূতী বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দেহ ও আত্মা সহিত জীবিত রয়েছেন। তিনি যেভাবে চান পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এবং মালাইকা বা ফেরেশতাদের জগতে চলাফেরা ও পরিচালনা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি যে আকৃতিতে ছিলেন, তিনি সেই আকৃতিতেই আছেন, তাঁর কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফেরেশতারা সশরীরে জীবিত থাকা সত্ত্বেও যেভাবে চোখের আড়ালে থাকে, তিনিও সেভাবে চোখের আড়ালে আছেন। আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দাকে তাঁর দর্শনের মর্যাদা দিয়ে সম্মানিত করতে চান, তখন তিনি পর্দা তুলে নেন এবং বান্দা তাঁকে তাঁর আসল আকৃতিতেই দেখতে পান। [আল-হাভী লিল-ফাতাওয়া, ২/৩১৯]

আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয়ই তোমারও মৃত্যু হবে এবং তাদেরও মৃত্যু হবে।” [সূরা আয-যুমার, ৩০]

(٥) ادعاء أن رسول الله حي بجسده يتصرف في الكون.
قال السيوطي: «النبي صلى الله عليه وسلم #حي #بجسده وروحه، وأنه يتصرف ويسير حيث شاء في أقطار الأرض وفي الملكوت وهو بهيئته التي كان عليها قبل وفاته لم يتبدل منه شيء، وأنه مغيب عن الأبصار كما غيبت الملائكة مع كونهم أحياء بأجسادهم، فإذا أراد الله رفع الحجاب عمن أراد إكرامه برؤيته رآه على هيئته التي هو عليها». [الحاوي للفتاوي (2/ 319)]
قال تعالى: ﴿ إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ ﴾ [سورة الزمر 30]

এমন কিছু বিষয় যা স্পষ্ট কুফরির দলিল নয়, তবে ফায়দার জন্য উল্লেখ করা হলো:


(১) তাঁর দিকে জাদুর কিছু বই সম্বন্ধ করা হয়, তবে তা প্রমাণিত নয়। কিন্তু তাঁর ছাত্র আশ-শাযিলী বলেছেন যে, সুয়ূতী তাঁর ছাত্রকে আসইউত থেকে মক্কায় মাত্র ২৭ কদমে নিয়ে গিয়েছিলেন; আর এটি জাদু হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তবে আমরা জানি না যে, সূফীরা যখন মসজিদের টাকা চুরির অপবাদে তাঁকে কাঠের জুতো (খড়ম) দিয়ে মারধর করেছিল, তখন কেন তিনি সূফীদের হাত থেকে বাঁচতে মক্কায় হেঁটে চলে যাননি! [বাহজাতুল আবিদীন, পৃ. ৫৬]

(২) তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর কাছে জান্নাতে প্রবেশের অনুরোধ জানালে নবী (সা.) তা নিশ্চিত করেছেন [বাহজাতুল আবিদীন, পৃ. ১৫৩]।

— এটি নবী (সা.) ওপর একটি মিথ্যাচার, আর কোনো কোনো আলেম আল্লাহর রাসূলের ওপর মিথ্যা আরোপ করাকে কুফরি বলে গণ্য করেছেন।

(أ) نُسِب له كتب في السحر، ولا تثبت، ولكن قال تلميذه الشاذلي إن السيوطي أخذ تلميذه من أسيوط إلى مكة ب27 خطوة، ولا يبعد أن ذلك سحر. ولا ندري لماذا لم يهرب من الصوفية الذين ضربوه بالقباقيب أيام اتِّهامِه بسرقة مال المسجد لم يمش إلى مكة. [بهجة العابدين ص56]

(ب) زعم أنه التقى بالنبي صلى الله عليه وسلم، حقيقة يقظة، وطلب منه أن يدخُلَ الجنة فضمِنَها له [بهجة العابدين ص153] وهذا كذب على النبي صلى الله عليه وسلم، وقد اعتبر بعض العلماء الكذب على رسول الله كف.

📄 পোস্ট: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত & ভিডিও: মুহাম্মদ ইকবাল আওযাঈ।
😱2🔥1
▌তাবীজ ঝুলানোর বিষয়ে মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ গ্রন্থের আসারসমূহের তাহক্বীক

হানাফী সম্প্রদায়ের মূর্খ হুজুররা তা'বীজ বিষয়ে মুসান্নাফ ইবনু শাইবাহ গ্রন্থের "مَنْ رَخَّصَ فِي تَعْلِيقِ التَّعَاوِيذِ ( যারা তা'বীয ঝুলিয়ে রাখায় সম্মতি দিতেন)" অধ্যায়ের আসারসমূহ পেশ করে তাদের তা'বীযের ব্যবসা চালিয়ে থাকে। কিন্তু ঐ আসারসমূহ কি বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত? আসুন যেনে নেই।

🍂 বর্ণনা নং: ০১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي عِصْمَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ عَنِ التَّعْوِيذِ، فَقَالَ: «لَا بَأْسَ إِذَا كَانَ فِي أَدِيمٍ»

সা'য়িদ ইবনুল মুসায়্যিব এর নিকট তা'বীজ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি জবাবে বললেন,কোন সমস্যা নাই যদি তা (তা'বীয) মানুষের জন্য হয়। [ মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, হা/ ২৩৫৪৩,"কামাল ইউসুফ এর তাহক্বীক্বকৃত" ]।

তাহক্বীক্ব : বর্ণনাটি জাল।

কারণ : ১. ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল এর নিকট তার পুত্র 'আব্দুল্লাহ 'أَبِي عِصْمَةَ' এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাবে বলেন, “তিনি সেই আবূ 'ইসমাহ নয়,যিনি নু'আইম ইবনে হাম্মাদ এর সাথী। তা'বীয বিষয়ে একটি বর্ণনা শু'বাহ, আবূ 'ইসমাহ থেকে; আবূ 'ইসমাহ, জনৈক ব্যক্তি থেকে; জনৈক ব্যক্তি সা'য়িদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন।

"سَأَلت أبي عَن أبي عصمَة الَّذِي حدث عَنهُ شُعْبَة عَن الْأَعْمَش عَن عبيد بن حسن عَن بن أبي أوفى قَالَ لَيْسَ هُوَ أَبُو عصمَة صَاحب نعيم بن حَمَّاد وَقد روى شُعْبَة عَن أبي عصمَة عَن رجل عَن بن الْمسيب فِي التعويذ"

[ আল 'ইলাল ওয়া মা'রিফাতু রিজাল রিওয়াইয়াতু 'আব্দুল্লাহ, ক্রমিক নং ১৪৬০ ]।

তা'বীয মুসান্নাফ ইবনু শাইবাহর এই বর্ণনাটি ইমাম ইবনে আবীদ দুনইয়া তার 'আল 'ইয়াল' গ্রন্থে (২/৮৬৪) নিয়ে আসেন এই সানাদে ~

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ رَجُلَيْنِ مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ يُقَالُ لِأَحَدِهِمَا أَبُو عِصْمَةَ , عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ , أَنَّهُ سَأَلَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ عَنِ التَّعْوِيذِ فَقَالَ: "لَا بَأْسَ إِذَا كَانَ فِي أَدِيمٍ أَوْ فِضَّةٍ"

এখানে রাবী 'أَبُو عِصْمَةَ', জনৈক ব্যক্তি (رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ) থেকে বর্ণনা করেছেন স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে।
.

সুতরাং এই বর্ণনাটি রাবী 'أَبُو عِصْمَةَ', জনৈক ব্যক্তি (মাজহুল) থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনটা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল বলেছেন এবং ইমাম ইবনে আবীদ দুনইয়া সানাদ পেশ করে স্পষ্ট করেছেন।
.

২.সানাদের রাবী 'أَبُو عِصْمَةَ' এর নাম পুরো নাম হচ্ছে 'نوح بن أبي مريم، أبو عِصْمة المروزي'।
তিনি জাল হাদিস বর্ণনাকারী, হাদিস বর্ণনায় মাতরূক (পরিত্যাজ্য), অনির্ভরযোগ্য। তিনি জাহমীদের পথে চলতেন। [ তাক্বরীবুত তাহযীব লিল হাফিয,রাবী নং ৭২১০; দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন লি ইবনুল জাওযী, রাবী নং ৩৫৫৭; তাহযীবুত তাহযীব লিল হাফিয, ১০/৪৮৬-৪৮৮ ]।

সানাদে মাতরুক,জাল হাদিস বর্ণনাকারী এবং জাহালাত থাকায় বর্ণনাটি মাওদ্বু' (জাল)।

🍂বর্ণনা নং: ০২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ ثُوَيْرٍ، قَالَ: «كَانَ مُجَاهِدٌ يَكْتُبُ لِلنَّاسِ التَّعْوِيذَ فَيُعَلِّقُهُ عَلَيْهِمْ»

সুয়াইর বলেন, মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ লোকদের জন্য তা'বীজ লিখে দিতেন এবং ঝুলিয়ে দিতেন। [ মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, হাদিস নং ২৩৫৪৫ ]।

তাহক্বীক্ব: সানাদ দ্বঈফ।

🔳কারণ:
১.সানাদের রাবী 'ثُوَيْرٍ' হচ্ছেন 'ثُوَيْر بن أبي فَاخِتَة'। তিনি হাদিস বর্ণনায় অনির্ভরযোগ্য, দ্বঈফ (মাতরূক পর্যায়ের)। তিনি রাফেদ্বীদের মতো ছিলেন।

ইমাম সুফইয়ান আস সাওরী তার ব্যাপারে সমালোচনা করে বলেন, সুয়াইর হচ্ছে মিথ্যার খু্ঁটির মাঝে একটি খুঁটি (ثوير ركن من أركان الكذب)। [ দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন লি ইবনুল জাওযী,রাবী নং ৬২২; তাহযীবুত তাহযীব, ২/৩৬-৩৭; মিযানুল ই'তিদাল, রাবী নং ১৪০৮ ]।

💠 সানাদে অনির্ভরযোগ্য,দ্বঈফ রাবী থাকায় বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়।

🍂 বর্ণনা নং: ০৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا فَزِعَ أَحَدُكُمْ فِي نَوْمِهِ فَلْيَقُلْ: بِسْمِ اللَّهِ، أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ" «فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يُعَلِّمُهَا وَلَدَهُ مَنْ أَدْرَكَ مِنْهُمْ، وَمَنْ لَمْ يُدْرِكْ كَتَبَهَا وَعَلَّقَهَا عَلَيْهِ»
'আব্দুল্লাহ ইবনে 'আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি কেউ ঘুমাতে ভয় পায়, তাহলে তাকে বলতে দেও (এই বাক্যগুলো):
"بِسْمِ اللَّهِ، أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ"

আব্দুল্লাহ ইবনে 'আমর এই বাক্যগুলো তার সন্তানকে শিখাতেন, যারা পড়তে (মুখস্ত) পারত আর যারা মুখস্ত করতে পারত না,তাদের জন্য এই বাক্যগুলো লিখে দিতেন। [ মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ,হা/২৩৫৪৭ ]।

🔲তাহক্বীক্বঃ সানাদ দ্বঈফ।

🔳কারণঃ
১.সানাদের রাবী 'مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ' সত্যবাদী,সিক্বাহ।
তবে তিনি প্রসিদ্ধ মুদাল্লিস রাবী ছিলেন। উনার তাদলীসের জন্য মুহাদ্দিসগণ তার ব্যাপারে জারাহ করেন।

🍂বর্ণনা নং: ০৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ: «أَنَّهُ كَانَ لَا يَرَى بَأْسًا بِالشَّيْءِ مِنَ الْقُرْآنِ»
“মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহিমাহুল্লাহ) ক্বুর'আন থেকে কিছু লিখে তা'বীজ বানানোর মাঝে কোন সমস্যা দেখতেন না।”

(মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, হাদিস নং ২৩৫৪৮)

🔳তাহক্বীক্বঃ সানাদ দ্বঈফ।

🔳কারণ:
১.সানাদের রাবী 'إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ' হচ্ছেন 'إسحاق بن مسلم، أبو إسحاق المكي، البصري'।

যেমনটা ইমাম দারাক্বুতনী তার 'দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন' গ্রন্থে (১/২৫৫),
এবং ইমাম মিযযী তার তাহযীবুল কামাল গ্রন্থে (৩/১৯৯) স্পষ্ট করেছেন।

রাবী 'إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ' এর ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ জারাহ (সমালোচনা) করেছেন।

🎓ইমাম বুখারী এই রাবীর ব্যাপারে বলেন,
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু সা'ঈদ আল ক্বাত্ত্বান তাকে বর্জন করেছেন।
ইমাম 'আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী তাকে বর্জন করেছেন।
ইমাম 'আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক তাকে বর্জন করেছেন।

(তারীখ আল আওসাত্ব, রাবী নং ১৮৮৮)

🎓ইমাম 'ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন' বলেন, "তিনি হাদিস বর্ণনায় কিছুই না।"

(দ্বু'আফা আল কাবীর লিল 'উক্বাঈলী,১/৯২)

🎓ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল তাকে 'দ্বঈফ,মুনকারুল হাদিস (হাদিস বর্ণনায় প্রত্যাখ্যাত)' বলেছেন।

(দ্বু'আফা আল কাবীর লিল 'উক্বাঈলী,১/৯২; আল জারহু ওয়াত তা'দীল,২/১৯৮)

🎓ইমাম নাসাঈ তাকে 'মাতরূকীল হাদিস (হাদিস বর্ণনায় পরিত্যাজ্য)' বলেছেন।

(দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন লিল নাসাঈ, রাবী নং ৩৬)

🎓ইমাম ইয়া'ক্বুব ইবনে ইব্রাহীম আল জাওযুজানী বলেন, "তিনি হাদিস বর্ণনায় খুবই দূর্বল-বিভ্রান্তিকর।" 'আলী ইবনুল মাদিনী বলেছেন, "আমাদের সাথীগণ তার হাদিস বর্জিত হওয়ার ব্যাপারে একমত।"
"إسماعيل بن مسلم واهي الحديث جدا قال علي أجمع أصحابنا على ترك حديثه"

(আহওয়ালুর রিজাল,রাবী নং ২৬১)

🎓ইমাম 'আলী ইবনুল মাদিনী' বলেছেন, "তার হাদিস লিখা যাবে না।"

(আল জারহু ওয়াত তা'দীল, ২/১৯৯)

🎓ইমাম দারাক্বুতনী তাকে 'দ্বঈফ এবং মাতরূক' বলেছেন।

(দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন, রাবী নং ৭৬; সুওয়ালাতু বুরক্বানী লিদ দারাক্বুতনী, রাবী নং ০৬)
.

💠সানাদে মাতরূক রাবী থাকায় বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়।
...

🍂বর্ণনা নং: ০৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَسَنٌ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: «لَا بَأْسَ أَنْ يُعَلِّقَ الْقُرْآنَ»

আত্বা ইবনে আবী রবাহ বলেন, “ক্বুর'আন থেকে লিখে তা'বীজ বানিয়ে ঝুলিয়ে দেয়ার মাঝে কোন সমস্যা নেই।”

(মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ, হা/২৩৫৫০)

🔲তাহক্বীক্ব: সানাদ দ্বঈফ।

🔳কারণ:
১.সানাদের রাবী 'لَيْثٍ' হচ্ছে 'ليث بن أبي سليم'। তিনি দ্বঈফ, বিকৃত হিফযের অধিকারী,মুযত্বারিবুল হাদিস, মুখতালিত্ব রাবী। মুহাদ্দিসগণের নিকট সমালোচিত রাবী হিসেবে বিবেচিত।

( দ্বু'আফা আল কাবীর লিল 'উক্বাঈলী,রাবী নং ১৫৬৯; আল কামিল ফিদ দ্বু'আফা লি ইবনু 'আদী, রাবী নং ১৬১৭; আল মাজরূহীন লি ইবনু হিব্বান, রাবী নং ৯০৬; দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন লি ইবনুল জাওযী,রাবী নং ২৮১৫; তাহযীবুল কামাল লিল মিযযী, রাবী নং ৫০১৭)

ইমাম আবূ যুর'আহ আর রাযী বলেন, “আহলুল 'ইলমদের নিকট তার হাদিস বর্ণনা দ্বারা হুজ্জাত (দলীল) কায়েম (প্রতিষ্ঠা) হত না।”
"لا تقوم به الحجة عند أهل العلم بالحديث"

(আল জারহু ওয়াত তা'দীল,৭/১৭৯)
.

💠সানাদে সমালোচিত রাবী বিদ্যমান থাকায় বর্ণনাটি দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
...

🍂বর্ণনা নং: ০৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ أَبَانَ بْنِ تغلَبٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا جَعْفَرٍ عَنِ التَّعْوِيذِ يُعَلَّقُ عَلَى الصِّبْيَانِ، «فَرَخَّصَ فِيهِ»

ইউনুস ইবনে খব্বাব বলেন, “আবূ জা'ফার এর নিকট বালকদের (গলায়) তা'বীজ ঝুলিয়ে রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি এতে সম্মতি জানান (অনুমোদন করেন)।”

(মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ, হা/২৩৫৫১)

তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি খুবই দূর্বল (জাল পর্যায়ের)।
কারণঃ ১.সানাদের রাবী 'يونس بن خباب' এর ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ জারাহ (সমালোচনা) ছিলেন। তিনি খারাপ মানুষ ছিলেন। তিনি রাফেদ্বী, শী'আ, মিথ্যুক ছিলেন। তিনি 'উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু) কে গালি দিতেন। হাদিস বর্ণনায় অনির্ভরযোগ্য, মুনকার রাবী ছিলেন।

(মিযানুল ই'তিদাল, রাবী নং ৯৯০৩; তাহযীবুল কামাল লিল মিযযী,রাবী নং ৭১৭৪; দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন লি ইবনুল জাওযী,রাবী নং ৩৮৬৫)।

— সানাদে রাফেদ্বী খবিস, অনির্ভরযোগ্য রাবী থাকায় বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়।

পরিশেষে বলব, “তা'বীজ ঝুলানোর বিষয়ে মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ গ্রন্থের আসারসমূহ বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নয়।”

তাই তাবীজ থেকে বিরত থাকাই উত্তম।


উপস্থাপক: এইচ.আর শিহাব মুহতাদী।
❤1👍1🔥1
ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কি একজন মুসলিমকে হত্যা করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন?

আমাদের দেশের ওয়াজ মাহফিলে প্রায় বক্তা তাদের বক্তৃতায় এই কাহীনিটা বলে থাকেন যে, ওমর রাদিআল্লাহু আনহু বিচারের সময় একজন মুসলিমকে হত্যা করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে নবী (সা) এর প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু উক্ত কাহীনিটা আসলে কতটুকু যৌক্তিক?

সানাদসহ বর্ননা


حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قِرَاءَةً، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، وأخبرني عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي الْأُسُودِ، قَالَ: اخْتَصَمَ رَجُلَانِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى الله عليه وسلم فقضى بينهما، فقال المقضي عَلَيْهِ: رُدَّنَا إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «نَعَمْ» ، انطلقا إليه، فلما أتيا إليه، فقال الرَّجُلُ: يَا ابْنَ الْخَطَّابِ قَضَى لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى هَذَا.فقال: ردنا إلى عمر بن الخطاب، فردنا إليك: فقال: أكذاك؟قال: نَعَمْ. فَقَالَ عُمَرُ:مَكَانَكُمَا حَتَّى أَخْرُجَ إِلَيْكُمَا فأقضي بينكما. فخرج إليها مُشْتَمِلًا عَلَى سَيْفِهِ فَضَرَبَ الَّذِي قَالَ: رُدَّنَا إلى عمر فقتله، وأدبر الآخر فأتى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَتَلَ عُمَرُ وَاللَّهِ صَاحِبِي، وَلَوْلَا أَنِّي أَعْجَزْتُهُ لَقَتَلَنِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنْ يَجْتَرِئَ عُمَرُ عَلَى قَتْلِ مُؤْمِنٍ

একদা দুব্যক্তি তাদের বিবাদ মীমাংসার জন্যে মুহাম্মাদ ﷺ এর দরবারে উপস্থিত হয় তিনি একটা মীমাংসা করে দেন। কিন্তু মীমাংসা যার বিপক্ষে গিয়েছিল সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ মীমাংসার জন্যে আপনি আমাদেরকে হযরত ওমর রাদিআল্লাহু আনহু এর নিকট পাঠিয়ে দিন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন ঠিক আছে, তোমরা সেখানেই যাও। তারা এখানে আসলে যার পক্ষে ফয়সালা হয়েছিল সে সমস্ত ঘটনা হযরত উমারের নিকট বর্ণনা করে। উমার (রাঃ) অপর ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, এটা সত্যা কি?' সে স্বীকার করে নেয়।

ওমর রাদিআল্লাহু আনহু তখন তাদেরকে বলেন, এখানে তোমরা থাম, আমি এসে ফায়সালা করছি।' তিনি তরবারী নিয়ে আসলেন এবং যে ব্যক্তি বলেছিল, আমাদেরকে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু এর নিকট পাঠিয়ে দিন তার গর্দান উড়িয়ে দেন।

অপর ব্যক্তি এটা দেখেই দৌড়ে পালিয়ে আসে এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলে হে আল্লাহর রাসূল ﷺ আমার সঙ্গীকে হত্যা করা হয়েছে এবং আমি পালিয়ে না আসলে আমার মঙ্গল ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বলেন আমি উমার-কে এরুপ জানতাম না যে, তিনি এরুপ বীরত্বপনা দেখিয়ে একজন মুসলমানের রক্ত প্রবাহিত করবেন।

[তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম, হা/৫৫৬০; তাফসিরে ইবনে ওয়াহাব, হা/১৬০]

তাহক্বীক্ব: এর সানাদ বিশুদ্ধ নয় তাই এই ঘটনা শুদ্ধ নয়।

হাফিয ইবনে কাসীর রহিমাহুল্লাহ বলেন, এর সানাদ মুরসাল (বিচ্ছিন্ন) এবং গারীব যিদ্দান (খুবই দুর্বল); সানাদে ইবনে লাহিয়া 'দ্বঈফ (দুর্বল বর্ননাকারী)। [তাফসির ইবনে কাসীর, ২/৩০৮; সূরা নিসার ৬৫ নং আয়াতের তাফসির]।

হাফিয ইবনে হাজার আস্কালানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবনে লাহিয়া পঞ্চম স্তরের মুদাল্লিস রাবি ছিলেন, দুর্বল বর্ননাকারীদের থেকে তাদলিস করতেন (كان يدلس عن الضعفاء)। আর মুদাল্লিস রাবির আন বর্ননা গ্রহনযোগ্য নয়। [তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন রাবি নং ১৪০; আসমাউল মুদাল্লিসিন, রাবি নং ৩৯]

আর এরকম অনেক হাদিস বর্নিত হয়েছে উমার (রা.) কোন অপরাধীকে হত্যা করার আগে রাসুল (সা.) এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন। [সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬১০, ৪৯০৫, ৩০০৭ ]

তাই এ ধরনের অসত্য বর্ননা গ্রহনযোগ্য নয় এবং আত্মরক্ষা ছাড়া আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোন নির্দেশনা ইসলামে নেই। এ ব্যাপারে ইমামদের ইজমা (ঐক্যমত) রয়েছে যে ইসলামের দন্ডবিধি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব শাসকের।

🖋️ আবূ মুয়াবিয়াহ সিহাব মুহতাদি।
❤2👍1
যে সকল নাম দ্বারা সন্তানের নামকরণ অনুচিত:


সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম, ও সিনিয়র স্কলার পরিষদের সদস্য এবং মসজিদে নববীর মুদাররিস শায়খ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যাইদ (রাহ.) বলেছেন:

"وَمِنْ هٰذَا الغَلَطِ التَّعْبِيدُ لِأَسْمَاءٍ يُظَنُّ أَنَّهَا مِنْ أَسْمَاءِ اللهِ تَعَالَى، وَهِيَ لَيْسَتْ كَذٰلِكَ، مِثْلُ: عَبْدُ المَقْصُودِ، عَبْدُ السَّتَّارِ، عَبْدُ المَوْجُودِ، عَبْدُ المَعْبُودِ، عَبْدُ الهُوٰى، عَبْدُ المُرْسِلِ، عَبْدُ الوَحِيدِ، عَبْدُ الطَّالِبِ، عَبْدُ النَّاصِرِ، عَبْدُ القَاضِي، عَبْدُ جَامِعٍ، عَبْدُ الحَنَّانِ، عَبْدُ الصَّاحِبِ.
فَهٰذِهِ يَكُونُ الخَطَأُ فِيهَا مِنْ جِهَتَيْنِ:
مِنْ جِهَةِ تَسْمِيَةِ اللهِ بِمَا لَمْ يَرِدْ بِهِ السَّمْعُ، وَأَسْمَاؤُهُ سُبْحَانَهُ تَوْقِيفِيَّةٌ عَلَى النَّصِّ مِنْ كِتَابٍ أَوْ سُنَّةٍ.
وَالجِهَةُ الثَّانِيَةُ: التَّعَبُّدُ بِمَا لَمْ يُسَمِّ اللهُ بِهِ نَفْسَهُ وَلَا رَسُولُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
وَكَثِيرٌ مِنْهَا مِنْ صِفَاتِ اللهِ؛ وَلٰكِنْ قَدْ غَلِطَ غَلَطًا بَيِّنًا مَنْ جَعَلَ لِلّٰهِ مِنْ كُلِّ صِفَةٍ أَسْمَاءً وَاشْتَقَّ مِنْهَا، فَقَوْلُ اللهِ تَعَالَى:
﴿وَاللَّهُ يَقْضِي بِالْحَقِّ﴾ [غافر: ٢٠]
لَا يُشْتَقُّ مِنْهَا اسْمُ (القَاضِي)، لِهٰذَا لَا يُقَالُ: (عَبْدُ القَاضِي)، وَهٰكَذَا."

"এই ভুলের অন্তর্ভুক্ত হলো এমন কিছু নামের সাথে 'আব্দ' (দাস) শব্দ যুক্ত করে নাম রাখা, যেগুলোকে মহান আল্লাহর নাম মনে করা হয়; অথচ প্রকৃতপক্ষে সেগুলো আল্লাহর নাম নয়। যেমন:

১. আবদুল মাকসুদ
২. আবদুস সাত্তার [এই নামটি আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হলেও প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহর নাম হিসেবে 'সাত্তার' (الستار) নামটি বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত নয়। সঠিক হল 'সিত্তীর' (الستير), যদিও উভয়টি একই অর্থবোধক। তা হলো: পাপ গোপনকারী]
৩. আবদুল মাওজুদ
৪. আবদুল মাবুদ
৫. আবদুল হাওয়া
৬. আবদুল মুরসিল
৭. আবদুল ওয়াহীদ [আল ওয়াহীদ (الوحيد) নামটি আল্লাহর নাম হিসেবে সাব্যস্ত নয়। তবে ওয়াহেদ (الواحد) এবং আহাদ (الاحد) আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
৮. আবদুত তালিব
৯. আবদুন নাসির [উল্লেখ্য যে, আব্দুন নাসীর (عبد النصير) নামে কোন সমস্যা নেই]
১০. আবদুল কাদী
১১. আবদু জামি‘
১২. আবদুল হান্নান
১৩. আবদুস সাহিব

এই নামগুলোর ক্ষেত্রে ভুলটি দুটি দিক থেকে ঘটে থাকে:


১. প্রথমত: এই নামগুলোতে আল্লাহর এমন সব নাম রয়েছে যেগুলো দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয়। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহ সম্পূর্ণরূপে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ওপর নির্ভরশীল (তাওকিফিয়্যাহ)।
২. দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য এবং তাঁর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য যেসব নাম নির্ধারণ করেননি, সেগুলোর সাথে দাসত্ব বা 'আব্দ' সম্বন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।

হ্যাঁ, এসবের অনেকগুলোই আল্লাহর সিফাত বা গুণের অন্তর্ভুক্ত শব্দ থেকে গঠিত তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতিটি সিফাত থেকে নাম গঠন করে সেখান থেকে (আব্দ যুক্ত) নতুন নাম বের করেছে, সে স্পষ্ট ভুল করেছে। যেমন: মহান আল্লাহর বাণী:

﴿وَاللَّهُ يَقْضِي بِالْحَقِّ﴾

"আর আল্লাহ ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করেন।" [গাফির/মুমিন: ২০]

এই আয়াত থেকে 'আল কাদী' (বিচারক) নামটি গ্রহণ বা উদ্ভাবন করা যাবে না। এ কারণেই 'আবদুল কাদী' বলা যাবে না। একইভাবে বাকি নামগুলোও বুঝে নিতে হবে।"

বই: মু‘জামুল মানাহিল লাফযিয়্যাহ (مُعْجَمُ المَنَاهِي اللَّفْظِيَّةِ)
লেখক: শাইখ বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবু যাইদ (রহ.)
অধ্যায়: হারফুল ‘আইন (حَرْفُ العَيْنِ)
পরিচ্ছেদ: আবদুল মুক্তাদির, আবদুল মাকসুদ (عَبْدُ المُقْتَدِرِ، عَبْدُ المَقْصُودِ)
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
❤4
ইবনে হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ আশআরী নাকি সালাফী?

উত্তর: ইমাম ইবনে হাজার যদিও বেশ কিছু মাসআলায় আশআরী মতবাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তবুও তিনি বহু মাসআলায় সালাফ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদা ও মানহাজের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং আশআরী মতবাদের বিরোধিতা করেছেন। যেমন,

১- কুরআন ও সুন্নাহর নসকে বিবেকের যুক্তির ওপর প্রাধান্য দেয়ার মাসআলায় তিনি সালাফে সালেহীনের নীতি অবলম্বন করেছিলেন। অনুরূপভাবে তিনি সালাফে সালেহীনের নীতি অনুযায়ী এটা বিশ্বাস করতেন যে, স্পষ্ট বিবেকের যুক্তির সাথে বিশুদ্ধ হাদিসের কখনো বিরোধ হয় না। বরং সর্বদা মিলে যায়।

২- সালাফে সালেহীনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন যে, তাওহীদের তিনটি অংশ রয়েছে। তাওহীদ আর রুবূবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যা ও তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত।

৩- সালাফে সালেহীনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন যে, আল্লাহর পরিচিতি লাভ করার বিষয়টি মৌলিকভাবে মানুষের মাঝে ফিত্বরাত দ্বারাই হয়। অর্থাৎ স্বভাবজাত।

৪- সালাফে সালেহীনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন যে, মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারী ব্যক্তি যদি সন্দেহ ও সংশয় থেকে মুক্ত হয় তবে তার ঈমান বিশুদ্ধ।

৫- তিনি কালাম শাস্ত্রবিদদের সে নীতির বিরোধিতা করেছেন যাতে তারা বান্দাদের ওপর নযর বা সন্দেহ চিন্তা করা আবশ্যক করে দিয়েছিল এবং যারা মনে করেছিল যে মুকাল্লিদ এর ঈমান বিশুদ্ধ না। তাদের এ ভ্রান্ত নীতির তিনি বিরোধিতা করেছেন।

৬- তাকদীরের সংজ্ঞা ও তাকদীরের ওপর ঈমানের চারটি স্তরের ব্যাপারে তিনি সালাফে সালেহীনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

৭- সালাফে সালেহীনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন যে, বান্দার যাবতীয় কর্মের স্রষ্টা হচ্ছেন আল্লাহ্।

৮- সালাফে সালেহীনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন যে, মহান আল্লাহর সকল কর্মে হিকমত ও কারণ রয়েছে।

৯- সালাফে সালেহীনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন যে, আল্লাহর ওপর কোনো কিছু আবশ্যক নেই। তবে যদি তিনি নিজের ওপর কোনো কিছু আবশ্যক করে নেন।

১০- মৌলিকভাবে তিনি সালাফে সালেহীনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন যে, মহান আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করতে হবে যেমনটি কুরআন ও সুন্নাহর দাবী। আর তা তাওকীফী বা কুরআন ও সুন্নাহ নির্ভর। সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়া ব্যতীত তা সাব্যস্ত করা যাবে না।

১১- সালাফে সালেহীনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন যে, আল্লাহর সিফাত সাব্যস্ত করার বিষয়টি তাঁর সত্তা সাব্যস্ত করার মতোই। সুতরাং যেভাবে তাঁর সত্তা অন্য কোনো সত্তার সাথে সাদৃশ্য দিয়ে সাব্যস্ত করা হয় না, তেমনি তাঁর গুণাবলিও অন্য কোনো সৃষ্টির গুণের সাথে সাদৃশ্য দিয়ে সাব্যস্ত করা হবে না।

১২- সালাফে সালেহীনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন যে, ইবাদত বা দাসত্ব কেবল মহান আল্লাহর অধিকার। তাঁর কোনো শরীক নেই। সুতরাং এতে তাঁর সাথে কাউকে শরীক বা অংশীদার করা জায়েয হবে না, সে ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন।

১৩- ঈমানের সংজ্ঞায় তিনি সালাফে সালেহীনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন যে, ঈমান মুখের কথা, অন্তরের বিশ্বাস ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সংঘটিত কর্মের নাম। যা আশআরী ও মাতুরিদিয়াদের নীতির বিরোধী।

আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদা ও মানহাজের সাথে আরো একাত্মতা পোষণ করেছেন যে ঈমান বাড়ে ও কমে।

১৪- কালাম শাস্ত্রীয় লোক আশআরী ও মাতুরিদিয়াদের জাওহার ও আরদ্ব নীতির তিনি বিরোধিতা করেছেন। [ফাতহুল বারী, ১৩/৫০৭]

এসব থেকে বুঝা গেল যে ইমাম ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ কালাম শাস্ত্রবিদ আশআরী ও মাতুরিদিয়াদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। কারণ তিনি এমন সব বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করেছেন যেগুলো তাদের মতবাদের মৌলিক বিষয় বলে তাদের কাছে স্বীকৃত।

তাছাড়া তিনি রাসূলের হাদিস ও সুন্নাত থেকে সন্দেহ সংশয় প্রতিরোধ করেছেন। সালাফে সালেহীনকে ভালোবাসতেন। বিদআতের নিন্দা ও প্রতিবাদ করতেন। বিদআতকারীদের ঘৃণা করতেন। কালাম শাস্ত্রবিদদের মতবাদ সম্পর্কে সাবধান করতেন। এ ব্যাপারে তাঁর রয়েছে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য অনেক ভাষ্য।

🖋️ শাইখ আবু বকর জাকারিয়া (হাফি.)
❤4
শাইখ আলবানীর মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা কেন শেষ হয়েছিল?

শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ.)-এর মদিনা মুনাওয়ারা থেকে বিদায় নেওয়ার ঘটনাটি কোনোভাবেই 'বহিষ্কার' ছিল না, যেমনটা কেউ কেউ অপবাদ দিয়ে থাকেন। বরং এর পেছনে বেশ কিছু বস্তুনিষ্ঠ কারণ নিহিত ছিল, যা নিচে তুলে ধরা হলো:

◾ভিন্নধর্মী পাঠদান ও ছাত্রদের বিপুল সাড়া: শাইখ আলবানী (রহ.) মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন বছর শিক্ষকতা করেন। তাঁর পাঠদানের ধরন ছিল ব্যাতিক্রমধর্মী। তিনি কেবল প্রথাগত ক্লাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না; বরং ক্লাসের আগে ও পরে ছাত্রদের সঙ্গে সময় কাটাতেন, কখনো নিজের গাড়িতে করে তাদের নিয়ে যেতেন এবং হাদিসের বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিতেন। এর ফলে ছাত্রদের মাঝে তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি হয় এবং তাঁর দরসে ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ইলমি (জ্ঞানগত) প্রভাব অত্যন্ত প্রবল হয়ে ওঠে।

◾চুক্তি নবায়ন না হওয়া: শাইখের নিজস্ব বর্ণনা অনুযায়ী, ছাত্রদের এই বিশাল সমাগম ও তাঁর প্রতি এই আকর্ষণ কিছু শিক্ষকের মনঃপূত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এমন কিছু রিপোর্ট পেশ করা হয়েছিল, যেখানে দেখানো হয় যে ছাত্ররা তাঁর চারপাশে সংঘবদ্ধ হয়ে একটি আলাদা 'দল' বা 'জোট' তৈরি করছে। শেষ পর্যন্ত তাঁর চুক্তির মেয়াদ আর নবায়ন করা হয়নি এবং শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায (রহ.) তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেন। (উল্লেখ্য, এই বর্ণনাটি শাইখ আলবানীর নিজস্ব বক্তব্য, স্বাধীন কোনো সূত্র দ্বারা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যৌক্তিক নয়।)

◾গবেষণায় আত্মনিয়োগের আকাঙ্ক্ষা: আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে, তা হলো আলবানী মূলত বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সুন্নাহর খেদমতের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন এবং তিনি মনে করতেন যে হাদীসের কিতাবসমূহ তাহকীক, তাখরীজ ও অধ্যয়নের ক্ষেত্রই তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ময়দান। তাই গবেষণা, তাহকীক ও রচনার জন্য অবসর নেওয়া তাঁর ইলমী জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ছিল এবং তাঁর পথচলা নিয়ে আলোচনা করার সময় এ বিষয়টিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে আরও সঠিক কথা হলো: বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাদান শেষ হওয়া চুক্তি নবায়ন না হওয়ার কারণেই ঘটেছিল, আর হাদীস, গবেষণা ও তাহকীকের জন্য অবসর নেওয়ার তাঁর ইচ্ছা ছিল এমন একটি বিষয় যা তাঁর ইলমী প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কিন্তু এটিই তাঁর চুক্তি শেষ হওয়ার একমাত্র প্রমাণিত কারণ নয়।

◾সিরিয়ার কারাবাসের সাথে বিভ্রান্তি: অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে সিরিয়ায় শাইখ আলবানীর কারাবরণের ঘটনাকে গুলিয়ে ফেলেন, যা সম্পূর্ণ ভুল। সিরিয়ায় তাঁর কারাবাসের ঘটনাটি ঘটেছিল ভিন্ন একটি সময়ে এবং মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর বিদায়ের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

এভাবেই সময়ের দিক থেকে সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রভাবের দিক থেকে মহান একটি পর্যায় শেষ হয়; সেই পর্যায় থেকে এমন কয়েকজন ছাত্র বেরিয়ে আসেন যারা তাঁর হাদীসের পদ্ধতি বিভিন্ন দেশে বহন করে নিয়ে যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদীস বিজ্ঞান শিক্ষাদান তাঁর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রসারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে ওঠে।

লেখক: রবের মুখাপেক্ষী বান্দা, মুহাম্মাদ আব্দুল লতিফ (প্রধান তত্ত্বাবধায়ক, ইমাম আলবানী ওয়েবসাইট)।
❤3🍓2
ডিএনএ টেস্টের ভিত্তিতে শরিয়া আইনে ধ*র্ষক হুজুরকে শাস্তি দেয়া সম্ভব কিনা এটা নিয়ে অনলাইনে তর্ক চলছে। কোনো কোনো ইসলামবিরোধী দাবি করছে ডিএনএ টেস্টের ভিত্তিতে শরিয়া আইনে নাকি শাস্তি দেয়া যায় না। তাদের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। হ্যাঁ, ডিএনএ টেস্ট বা অন্য কোনো আধুনিক পদ্ধতিতে ধ*র্ষককে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা গেলে শরিয়া আইনের আওতায় "হদ" শাস্তি প্রয়োগ করা যায় না। কিন্তু শরিয়া আইনে এক্ষেত্রে উপযুক্ত "তাযির" বা দণ্ডগত শাস্তি প্রয়োগ করা যায়। রাবেতাহ আল আলম আল ইসলামী (ইসলামিক ফিকহ কাউন্সিল অব মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ) এর বক্তব্য অনুযায়ী অপরাধী চিহ্নিতকরণে ডিএনএ টেস্ট নাজায়েজ কিছু নয়। এর উপর ভিত্তি করে তাযির শাস্তি প্রয়োগ করা যায়। [১]

সাক্ষী পাওয়া না গেলে ফরেনসিক টেস্ট বা অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করে ধ*র্ষককে শণাক্ত করবার কথা উল্লেখ করেছেন সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলিম শায়খ আসিম আল হাকিম (হাফি.)। [২]

জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়ার মুফতী ও মুহাদ্দিস শায়খ শফিকুল ইসলাম (হাফি.) উল্লেখ করেছেন, কেবল সাক্ষী নয় বরং আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ডিএনএ টেস্টও প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। [৩]

তাযির শাস্তি সম্পর্কে ইসলামবিরোধীরা নানা রকমের মন্তব্য করে। তাদের অনেককে বলতে দেখা যায় এটা নাকি খুব লঘু শাস্তি বা নামমাত্র শাস্তি যার দ্বারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয় না! আমরা এখন যাচাই করে দেখবো তাদের দাবি কতোটুকু সঠিক।

তাযির শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে কিনা এ সম্পর্কে শায়খ ড. আব্দুল কারীম যাইদানের العقوبة في الشريعة الإسلامية (ইসলামী শরী‘আতে শাস্তির বিধান) গ্রন্থে 'তা‘যীর হিসেবে হ*ত্যা করা' অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছেঃ
.
"তা‘যীর শাস্তি হিসেবে অপরাধীকে হ*ত্যা করা যদি অত্যাবশ্যক হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে হ*ত্যা করা ব্যতীত অন্য কোনো উপায় না থাকে, এমতাবস্থায় বিশুদ্ধ বিবেচনা মতে হ*ত্যা করা বৈধ। সুন্নতে নববী থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কেউ যদি তোমাদের একক নেতৃত্বে ফাটল ধরাতে বা দলের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করতে তৎপর হয়, তবে তাকে হ*ত্যা কর।”

এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, যার ফিৎনা-ফাসাদ ও সন্ত্রা*সী কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্কৃতি লাভের জন্য তাকে হ*ত্যা করা ব্যতীত অন্য কোনো পথ না থাকে তাকে হ*ত্যা করা বৈধ। অপর এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যার মদ্যপান করার অভ্যাস কোনো ক্রমেই বন্ধ করা যায় না। জবাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি এহেন কাজ থেকে বিরত না হয় তাকে হ*ত্যা কর।” [৪]

এ থেকে বোঝা গেলো ইসলামী শরিয়া আইনে ক্ষেত্রবিশেষে বিচারক কর্তৃক তাযিরের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড দেবার অবকাশ রয়েছে।

ইসলামবিরোধীরা দাবি করে হাদিসে নাকি ১০ বেত্রাঘাতের চেয়ে বেশি তাযির শাস্তি দিতে নিষেধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তারা এই হাদিসটি দেখায়ঃ

" আবু বুরদা(রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী(ﷺ)বলতেনঃ আল্লাহর নির্ধারিত হদ সমুহের কোনো হদ ব্যতিত অন্য ক্ষেত্রে দশ কশাঘাতের ঊর্ধ্বে দণ্ড প্রয়োগ করা যাবে না।" [৫]

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবন হাজার আসকালানী(র.) তাঁর সুবিখ্যাত 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন,

"...এখানে "হুদুদ" শব্দ দ্বারা উদ্যেশ্য হলো আল্লাহর ঐ সমস্ত হক যা আদেশ ও নিষেধের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন [আল্লাহর] এই বাণীর উদ্যেশ্যঃ “আর যে আল্লাহর সীমারেখাসমূহ (হুদুদ) লঙ্ঘন করে, বস্তুত তারাই যালিম। (বাকারাহ ২২৯)”। এবং এই বাণীতেওঃ “যে আল্লাহর (নির্ধারিত) সীমারেখাসমূহ (হুদুদ) অতিক্রম করে সে অবশ্যই তার নিজের ওপর যুলম করে (সুরা তালাক্ব ১)”। এবং এই বাণীতেওঃ “এগুলো আল্লাহর সীমারেখা (হুদুদ) । কাজেই এগুলোর নিকটবর্তী হয়ে না (সুরা বাকারাহ ১৮৭)”। এবং এই বাণীতেওঃ “আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা (হুদুদ) লঙ্ঘন করে আল্লাহ তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন (সুরা নিসা ১৪)”। এবং তিনি বলেন, দশের বেশি বেত্রাঘাত করা যাবে না ঐ সমস্ত শাস্তিদানের ক্ষেত্রে যা গুনাহের সাথে সম্পৃক্ত না। যেমন পিতা তার ছোট শিশুকে শিক্ষাদানের উদ্যেশ্যে শাস্তি দেয়া।”" [৬]

অর্থাৎ এ থেকে বোঝা গেলো আলোচ্য হাদিসে “حُدُودِ اللَّهِ” (হুদুদিল্লাহ) দ্বারা আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের সীমা লঙ্ঘনের অপরাধ অর্থাৎ অনেক বড় ধরণের অপরাধ ব্যতিত অন্য অপরাধে ১০ বেত্রাঘাতের বেশি শাস্তি দিতে নিষেধ করা হচ্ছে। ‘হদ’ (শাব্দিক অর্থ সীমারেখা, বহুবচন হুদুদ) শব্দ দ্বারা শরিয়া আইনে নির্ধারিত শাস্তিকে যেমন বোঝানো হয়, তেমনি আল্লাহ তা’আলার নির্ধারিত আদেশ-নিষেধের সীমারেখাকেও বোঝানো হয় (হুদুদিল্লাহ)।
আলোচ্য হাদিসের উদ্যেশ্য হচ্ছে এই ২য়টি। আল কুরআনের অনেকগুলো আয়াতের সাহায্যে ফাতহুল বারীতে আলোচ্য হাদিসের এই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর দ্বারা এটা বোঝানো হয়নি যে শরিয়া নির্ধারিত কিছু অপরাধের হদ শাস্তি বাদে ১০ বেত্রাঘাতের বেশি তাযির দেয়া যাবে না। উম্মাহর অধিকাংশ উলামার ব্যাখ্যা এটিই, এটিই ছিলো সাহাবীদের বুঝ। ফাতহুল বারীতে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বিস্তারিত আলোচনায় এটি উল্লেখ করা হয়েছে যে এ হাদিসের দ্বারা তাযির শাস্তির সীমা ১০ বেত্রাঘাতের বেশি দেয়া নিষিদ্ধ হয় না।

সাহাবীদের থেকে ১০ বেত্রাঘাতের বেশি তাযির শাস্তি দেবার অনেক উদাহরণ আছে। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল(র.) থেকে বর্ণিত আছে, উমার(রা.) এর আমলে হদ এর চেয়েও তাযির শাস্তি বৃদ্ধি করার ঘটনা ঘটেছিলো। তিনি একজন মদপানকারী ব্যক্তিকে ৮০ বেত্রাঘাত করেছিলেন। নবী (ﷺ) এবং আবু বকর(রা.) মদ পানকারীদেরকে ৪০ বার বেত্রাঘাত করতেন, তিনি এর সাথে ৪০ বার বেত্রাঘাত যোগ করে (তাযির) শাস্তি প্রদান করেছিলেন। এ ছাড়া একজন ব্যক্তি রমযান মাসে দিনের বেলায় মদপান করেছিলো। তাঁকে আলী(রা.) এর নিকট আনা হলে তিনি তাকে নির্ধারিত শাস্তি হিসাবে [উমার(রা.) এর সুন্নাহ অনুসারে] ৮০ বেত্রাঘাত করেছিলেন এবং রমযানের রোযা ভাঙার জন্য অতিরিক্ত আরো ২০ বেত্রাঘাত করেছিলেন। [৭]

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া (র.) উল্লেখ করেছেন, “আবু বকর (রা.) ও উমার (রা.) একজন নারী ও পুরুষকে একসাথে বিছানায় পাবার পরে ১০০ বেত্রঘাত এবং পরে আবার ১০০ বেত্রাঘাত করেছেন। যে ব্যক্তি উমার(রা.) এর সীলমোহর জাল করে অবৈধভাবে বাইতুল মাল থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছিলো, তাকেও তিনি [উমার(রা.)] ১০০ বেত্রাঘাত করেছিলেন। এরপর ২য় দিন তিনি তাকে ১০০ বেত্রাঘাত এবং ৩য় দিনে আরো ১০০ বেত্রাঘাত করেছিলেন।” [৮]

কাজেই কেউ যদি দাবি করে ইসলামী শরিয়া আইনে তাযির শাস্তি হল "লঘু শাস্তি" বা মাত্র ১০ বেত্রাঘাতের বেশি তা বৃদ্ধি করা যায় না - তাহলে তার দাবি সর্বৈব মিথ্যা। ইসলামি শাসক বা বিচারক অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে কঠোর তাযির শাস্তি প্রয়োগ করতে পারেন।

[১] islamqa.info/en/158282/
[২] archive.is/SvMO5
[৩] muslimbangla.com/masail/154856/ইসলামে-ধর্ষনের-শাস্তি-কি-
[৪] islamland.com/uploads/books/bn_islami_shariate_shastir_bidhan.pdf
[৫] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৬৩৮৪
[৬] ফাতহুল বারী, ইবন হাজার আসকালানী, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ১৮৫
[৭] islamweb.net/en/fatwa/12066/
[৮] islamweb.net/en/fatwa/366016/

🖋️ শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলিল মাদানী হাফিজাহুল্লাহ।
শাসকের অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই কি কেউ খারেজী হয়?

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের এমন সংজ্ঞা ছিল না যে, কোন হাকিমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই সে খারেজী। খুরুজের কারণ তারা স্পষ্ট উসুলে দিয়েছেন। খারেজী যাদের বলা হয় তাদের মধ্যে অন্যতম হলো ‘যারা মুসলিমকে কাফির, মুশরিক তাকফীর করে থাকে। মুসলিমের রক্তপাতকে জায়েজ মনে করে। ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা।

অন্যদিকে শাসকের অপকর্মের প্রতিবাদ করা আহলুল ইলমগণ পার্থক্য করেছেন। (الخروج) এবং (الإنكار) মধ্যে পার্থক্য আছে। কোন ব্যক্তি শাসকের দোষের প্রতিবাদ বা সমালোচনা করলেই সে খারেজী হয় না। শায়খ তারেফী নিজেই বিদ্রোহ করতে নিষেধ করেছেন এবং এর অর্থ এই নয় যে শাসকের ভুল ক্রুটি প্রতিবাদ করা যাবে না!

আমাদের প্রিয় শায়খ মুহাদ্দিসুল আছর মুক্ববীল ইবন হাদী আল-ওয়াদী’ঈ বলেন, أما الإنكار عليهم فلا بأس بذلك “তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাতে সমস্যা নেই”।

http://www.muqbel.net/fatwa.php?fatwa_id=4262

এখন কী শায়খ মুক্ববীলকে (রহ.) খারেজী বলা হবে? আস্তাগফিরুল্লাহ!

— মনে রাখতে হবে যে, শাসকের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করা বিদ্রোহ নয়, আর বিদ্রোহও শুধু প্রতিবাদ করার নাম নয়।

এরপরেও যারা শায়খ তারীফিকে খারেজী বলবে তারা যেন দলিল উপস্থাপন করে। হ্যাঁ; শাসকের ব্যাক্তিগত ভাবে নসিহা করার কথা আছে এবং এটিও সুন্নাহর মধ্যে শামিল হয়, কিন্তু “কোন ব্যক্তি প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলে খারেজী হবে” এমন দাবি করতে হলে কোরআন এবং হাদীস থেকে দলিল দিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুক।

◑ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন:

উবাদা ইবনুস সামিত (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ) ও অন্যান্য সাহাবী বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এই শর্তে বাই‘আত (আনুগত্যের শপথ) নিয়েছি যে, আমরা যেখানেই থাকি সত্য কথা বলব এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দাকারীর নিন্দার ভয় করব না। আমরা আল্লাহর সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা এই বাই‘আতের শর্ত পূর্ণ করেছেন, তারা সত্য বলেছেন, সত্যের প্রকাশ ঘটিয়েছেন এবং আল্লাহর পথে কোনো নিন্দাকারীর নিন্দা তাদেরকে ভীত করেনি। তারা কোনো চাবুক, লাঠি, আমির বা শাসকের ভয়ে কিছুই গোপন করেননি, যেমনটি তাদের আদর্শ ও জীবনী অনুধাবনকারীরা জানেন।

আবু সাঈদ (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ) মদীনার শাসক মারওয়ান-এর উপর ইনকার (অসন্তোষ ও প্রতিবাদ) জানিয়েছিলেন। উবাদা ইবনুস সামিত (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ) মু‘আবিয়ার নিন্দা জানিয়েছিলেন, অথচ তিনি (মু‘আবিয়া رَضِيَ اللهُ عَنْهُ) খলিফা ছিলেন। ইবনু উমার (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ) হাজ্জাজের নিন্দা জানিয়েছিলেন, তার প্রবল ক্ষমতা ও ভয়ঙ্কর অস্তিত্ব সত্ত্বেও। আর তিনি (ইবনু উমার) আমর ইবনু সাঈদেরও নিন্দা জানিয়েছিলেন, অথচ তিনি (আমর) মদিনার আমির ছিলেন।

এ ধরনের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে, যেখানে সাহাবী ও তাবেঈনগণ শাসক ও গভর্নরদের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে প্রতিবাদ করেছেন—তাদের চাবুক বা শাস্তির ভয়ে ভীত হননি।

কিন্তু তাদের পরবর্তী যুগের লোকদের মধ্যে এই মর্যাদা ছিল না, বরং তারা জুলুমকারী শাসক ও অত্যাচারী আমিরদের ভয়ে অনেক সত্য বলা থেকে বিরত থাকতেন। তাই এটি একেবারেই অসম্ভব যে, পরবর্তী যুগের লোকেরা সঠিক পথ পাবে অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ তা থেকে বঞ্চিত হবেন।

[ই’লামুল মুয়াক্বিয়িন, ৬/১৪-১৫ পৃ.]
📄 জামা‘আতুত তাবলীগ সম্পর্কে দেওবন্দি হানাফি আলেমদের বক্তব্য।
🖋️ আবু খুযাইমাহ আনসারী

জামা‘আতুত তাবলীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল-জামা‘আহর আলেমগণ তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, তাদের কর্মপদ্ধতি এবং মানহাজের দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের বিভিন্ন ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত ও স্পষ্ট করে আসছেন। কিন্তু আহলুস সুন্নাহ ওয়াল-হাদীসের আলেমগণ যখন কিতাব ও সহীহ সুন্নাহর দলিলের ভিত্তিতে জামা‘আতুত তাবলীগের ভুলগুলো সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, তারপরও তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি এবং হচ্ছে না।

এই পুরো মতবিরোধের সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—আহলুস সুন্নাহ ও আহলুল হাদীস যে বিষয়গুলোতে জামা‘আতুত তাবলীগের সমালোচনা করেছেন, তাদের নিজেদের নেতৃস্থানীয় দেওবন্দি হানাফি আলেমরাও ঠিক একই বিষয়গুলো উত্থাপন করেছেন। যেমন:

- জামা‘আতুত তাবলীগের পদ্ধতি কুরআন, সুন্নাহ কিংবা সালাফে সালেহীনের বুঝের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
- সাধারণ মানুষের আকীদা সংশোধনের বিষয়টি তারা পরিত্যাগ করেছে।
- তাওহীদের (আল্লাহর একত্বের) মৌলিক আকীদাকে ছেড়ে দিয়ে নামাজের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং তাবলীগের কাজকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে অভিহিত করা।
- জ্ঞান ছাড়া কথা বলা; এমন সাধারণ মানুষকে বক্তৃতা ও ওয়াজ করার সুযোগ দেওয়া, যাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই।
- জামা‘আতুত তাবলীগের পদ্ধতিই সংশোধনের একমাত্র পদ্ধতি এবং এটিই পূর্ণাঙ্গ—এমন বিশ্বাস রাখা।

📄 দেওবন্দি হানাফি আলেমদের বক্তব্য:

মাওলানা এহতিশামুল হাসান খান্দেলভী ছিলেন জামা‘আতুত তাবলীগের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াসের শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মাওলানা এহতিশামুল হাসান ‘জিন্দেগী কি সিরাতে মুস্তাকীম’ (জীবনের সরল পথ) নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। গ্রন্থের শেষে তিনি ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ নোট’ নামে একটি ছোট পুস্তিকা সংযুক্ত করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন:

“আমার জ্ঞান ও উপলব্ধি অনুযায়ী, বর্তমান নিজামুদ্দীনের (দিল্লি—তাবলীগী জামা‘আতের সদর দপ্তর) তাবলীগের পদ্ধতি কুরআনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমনকি এটি হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী, হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী কিংবা সত্যপন্থী আলেমদের পদ্ধতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অতএব, যে আলেমগণ এই তাবলীগে অংশগ্রহণ করেন, তাদের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত—এই প্রচেষ্টাকে কুরআন, হাদীস, সালাফ (পূর্ববর্তী নেককার আলেমগণ) এবং সত্যপন্থী আলেমদের পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।”

এর জবাবে আরেকজন দেওবন্দি হানাফি আলেম মাহমুদ হাসান গাঙ্গোহী (তিনি মাওলানা মাহমুদুল হাসান বা শাইখুল হিন্দ নন) বলেন:

“আজ পর্যন্ত আমি মনে করতাম যে, তিনি (মাওলানা এহতিশামুল হাসান) অসুস্থতার কারণে খান্দেলায় অবস্থান করছেন এবং এ কারণেই নিজামুদ্দীনে উপস্থিত হওয়া ও তাবলীগের কাজে অংশগ্রহণ ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই ‘গুরুত্বপূর্ণ নোট’ থেকে জানতে পারলাম যে, তার অংশগ্রহণ না করার কারণ হলো—তার মতে তাবলীগের এই কাজ প্রয়োজনীয় নয়; বরং এটি দ্বীনকে ধ্বংস করছে।”

(চশমাহ আফতাব, পৃষ্ঠা ৭)

‘চশমাহ আফতাব’-এর লেখক ক্বমরুদ্দীন মাযাহিরী তার ভূমিকায় লিখেছেন:

“মাওলানা এহতিশামুল হাসান এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অতি সম্প্রতি তিনি জামা‘আতুত তাবলীগকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি এমন একটি দল, যারা মানুষকে পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে।”

(চশমাহ আফতাব, পৃষ্ঠা ৩)

মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়্যাহ বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং একই সঙ্গে তাবলীগীদের ও দেওবন্দীদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:

“তবে আমিও শুনছি যে, মাওলানা থানভীর কিছু খলিফা ও বিশেষ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ জামা‘আতুত তাবলীগকে পছন্দ করেন না।”

(চশমাহ আফতাব, পৃষ্ঠা ১১)

খলীল আহমাদ সাহারানপুরীর প্রতিনিধি (খলিফা) এবং জামা‘আতুত তাবলীগের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ ইলিয়াস ও তার ছেলে মাওলানা ইউসুফের ঘনিষ্ঠ কর্মী দেওবন্দি আলেম আবদুর রহীম শাহ বলেন:

“যে কাজটি জ্ঞানীদের জন্য নির্ধারিত, সাধারণ মানুষ সেটিই করতে চায়। অথচ তারা শুধু দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞই নয়; বরং তাদের অজ্ঞতা ও অসৎকর্মের কারণে সমাজে তাদের ভালোভাবেও দেখা হয় না। এরপর এই কথাটি বিবেচনা করুন: ‘যখন কোনো জাতির নেতা খারাপ হয়ে যায়, তখন সে তার জাতিকে কেবল ধ্বংসের পথই শিক্ষা দেয়।’”

(উসূলু দা‘ওয়াতি ওয়াত-তাবলীগ, পৃষ্ঠা ৩)

তিনি আরও বলেন:

“আমি (আবদুর রহীম) আল্লাহর কসম করে বলছি যে, আমি যে তাবলীগ করছি, তা কেবল প্রয়োজনের কারণে করছি। ফলে মানুষের কাছে আমি ওজরগ্রস্ত। কারণ, এই যুবকেরা যখন থেকে প্রকাশ্যে ওয়াজ শুরু করেছে—যার জন্য শরীয়ত অনুযায়ী তাদের কোনো অনুমতি নেই—এবং তাবলীগের ফযীলত ও গুরুত্বের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করেছে, তখন তারা দ্বীনের অন্যান্য দিকগুলো প্রকাশ্যে গোপন করেছে। ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও যখন তাদের থামানো হয়নি, তখন এসব পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত বিষয়টি প্রকাশ্যে ও সর্বসমক্ষে
❤3
তুলে ধরা।”

(উসূলু দা‘ওয়াতি ওয়াত-তাবলীগ, পৃষ্ঠা ৫২)

মাওলানা আবদুর রহীম শাহ লিখেছেন:

“বিদ‘আতকে (সুন্নাহ-বহির্ভূত বিষয়কে) সুন্নাহ মনে করা আকীদাগত দিক থেকে একটি নিন্দনীয় কাজ। মানুষের কিছু আমল সংশোধন করা অথচ তাদের আকীদার ত্রুটিগুলোর প্রতি চোখ বন্ধ করে রাখা কীভাবে সঠিক হতে পারে—তা আমি বুঝতে পারি না। কারণ সঠিক আকীদাই মুক্তির মাধ্যম; আমল নয়।”

(উসূলু দা‘ওয়াতি ওয়াত-তাবলীগ, পৃষ্ঠা ৬৪)

প্রসিদ্ধ দেওবন্দি আলেম মানযূর আহমাদ নু‘মানী জামা‘আতুত তাবলীগের বিরুদ্ধে একটি আপত্তি উত্থাপন করে বলেন:

“এই ভুলটি বেশ ব্যাপক যে, সাধারণ সমাবেশগুলোতে এমন লোকদের বক্তৃতা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়, যারা এর উপযুক্ত নয়। কখনো কখনো এই লোকেরা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কেও পূর্ণ জ্ঞান রাখে না। ফলে কথা বলার সময় তারা তাদের জ্ঞানের সীমাও উপলব্ধি করে না। এ ব্যাপারে এটাই বাস্তবতা এবং এই ভুলগুলো প্রায়ই ঘটে থাকে। অতএব, ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের এ বিষয়ে চিন্তা ও পর্যালোচনা করা উচিত।”

(তাযকিরাতুয যাফর, পৃষ্ঠা ২৪৪)

আবুল হাসান আলী নদভী বলেন:

“মাওলানার (আশরাফ আলী থানভী) একটি অসন্তোষের বিষয় ছিল—জ্ঞান ছাড়া এসব মানুষ (অর্থাৎ জামা‘আতুত তাবলীগ) কীভাবে মানুষকে তাবলীগের গুরুত্বের দিকে আহ্বান করবে? অতঃপর যখন (মাওলানার ভাগ্নে) যাফর আহমাদ থানভী তাকে জানালেন যে, যেসব বক্তা এসব বক্তব্য দেন, তারা কেবল তাদেরকে যে বিষয়গুলোতে কথা বলতে বলা হয়েছে সেসব বিষয়েই কথা বলেন এবং এর বাইরে কিছু বলেন না, তখন তিনি (মাওলানা আশরাফ আলী) সন্তুষ্ট হলেন।”

(দীনী দা‘ওয়াত, পৃষ্ঠা ১২৬)

মাওলানা যাফর আহমাদ থানভীর জীবনীকার মাওলানা আবদুশ শাকুর তিরমিযী বলেন:

“আমরা আরও ব্যাপকভাবে দেখতে পাচ্ছি যে, যারা তাবলীগের উদ্দেশ্যে সফর করেন, তাদের জ্ঞান নেই। এর ফলে বক্তারা বিভিন্ন ধরনের বিষয় নিয়ে কথা বলেন এবং এর সঙ্গে গল্প ও লোককাহিনি উল্লেখ করেন। আর এভাবে তাদের অধিকাংশই তাদের জ্ঞানের সীমা অতিক্রম করেন।”

(তাযকিরাতুয যাফর, পৃষ্ঠা ২৪২)

মাওলানা যাফর আহমাদ থানভী নিজেই বলেন:

“মানুষকে ইসলামের জ্ঞান এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের জ্ঞানের ওপর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জামা‘আতুত তাবলীগের বর্তমান পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে অবহেলিত।”

(তাযকিরাতুয যাফর, পৃষ্ঠা ২৫২)

তিনি আরও বলেন:

“ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তির তাবলীগ নির্ভরযোগ্য নয়।”

(তাযকিরাতুয যাফর, পৃষ্ঠা ২৫৩)

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে, মাওলানা যাফর আহমাদ থানভী এমন একজন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন, যিনি জামা‘আতুত তাবলীগের পদ্ধতি অনুসারে তাবলীগ করেন এবং তাকে ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আবদুশ শাকুর তিরমিযী লিখেছেন:

“মাওলানা (যাফর আহমাদ) কখনোই জামা‘আতুত তাবলীগে যোগদান করা এবং তাদের সঙ্গে কাজ করাকে যথেষ্ট মনে করতেন না।”

(তাযকিরাতুয যাফর, পৃষ্ঠা ২৪১)

দারুল উলূম দেওবন্দের আরেকজন শিক্ষক বলেন:

“আমি যখন তাদের (অর্থাৎ জামা‘আতুত তাবলীগের) তাবলীগের পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, তখন থেকেই আমি কখনোই এতে সন্তুষ্ট ছিলাম না।”

(তানবীহাত, পৃষ্ঠা ১২)
❤1