SSMC Chronicle 06:
এক ভুক্তভোগীর উপর হওয়া নির্যাতনের ঘটনা:
সাল ২০১৩
ফার্স্ট ইয়ার এর বাচ্চা ছেলে তখন। নতুন হওয়া ডেন্টাল ইউনিটে ২য় ব্যাচ হিসেবে ক্যাম্পাসে ৯ মাস কাটিয়েছি। ধূলিময় ক্যাম্পাস আর ঘিঞ্জি পুরান ঢাকার প্রতি অল্প অল্প ভালোলাগাও তৈরী হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রচণ্ড introvert আমি, আস্তে আস্তে মিশতে শুরু করেছি সিনিয়র, ব্যাচমেটদের সাথে। যেহেতু আমরা দুই ব্যাচ মাত্র ডেন্টাল ইউনিটে, খুবই অল্প সংখ্যক ছেলে ছিলাম। ফার্স্ট ব্যাচের সিনিয়র ভাইয়েরা ( এখানে ভাই বলতে ঘৃণা লাগে তাও বললাম ) একটা কথা সবসময় বলতো, সেটা হলো আমরা সবসময় এক থাকবো। আমিও তেমন টাই ভাবতাম। ক্যাম্পাসে কোন সিনিয়র কোন জুনিয়রের গায়ে হাত তুলবে, এটা ছিলো আমার কল্পনারও বাইরে।।।
আমি ব্যক্তিগতভাবে রেগুলার মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার চেষ্টা করতাম, রুমের সবাইকে নামাজের জন্য ডাকতাম। এমনিতে সেই সময় ২০১৩ সালে পুরো দেশ শাহবাগ এবং হেফাজত নিয়ে উত্তপ্ত ছিলো। তবে ছোট থাকার কারণে আমি এই সব বিষয়ে তেমন কিছু বুঝতাম না। তখন ইন্টারনেট খুবই স্লো ছিলো। আমি নেট থেকে বিভিন্ন ধরণের বই download করে পড়তাম। আস্তে আস্তে ইসলামী বিভিন্ন বই এবং ইতিহাস কেন্দ্রিক বই পড়তে শুরু করি এবং চেষ্টা করতাম বিষয়গুলো বন্ধুদের সাথে আলোচনা করার। আমার এক বন্ধু ছিলো, ওর সাথে বহু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম সেটা রুমের ভেতরেও করতাম। আমাদের রুমে আমরা ১২ জন ছিলাম। আমি তখনো জানতাম না, ইসলাম নিয়ে আলোচনা করা শিবিরের লক্ষণ এবং এই কারণে আমার উপরে নেমে আসবে ভয়াল এক রাত এবং যার ফলাফল বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে একটা দীর্ঘ সময়। মূল কথার আগে এতো কথা বলা আসলে বিরক্তিকর, তারপরও ঘটনা বোঝার জন্য হয়তো সহায়ক।
২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩
রাত ১০ টা। আমি আমার এক Cousin এর সাথে দেখা করে রুমে এসেছি। ওযু করে নামাজ পড়ার জন্য বেডে জায়নামাজ বিছিয়ে দাঁড়াবো সেই মুহূর্তে ফার্স্ট ব্যাচ এর মামুন, সবুজ, মিদ্দিন, দেশ, রোকন, সাকিব, সুজয়, আরিফ এরা সবাই হঠাৎ রুমে আসলো। এসে সবাইকে নিয়ে বসলো। কিচ্ছুক্ষন নরমাল কথা বার্তা বলে আমাকে আলাদা করে একটা বেডে বসালো।
আমাকে আলাদা করে বসিয়ে মামুন জিজ্ঞেস করলো, কিরে তোরে তো হলে একদমই দেখি না, বড়ভাই দের তো গুণস না।( অথচ আমি হলেই থাকতাম বেশিরভাগ সময়ে, যেহেতু টিউশন বা অন্য কোন ব্যস্ততা ছিলো না তখন)
আমি বললাম ভাই, আমি তো থাকি হলে, হয়তো টাইম মিলে না (যদিও সেই সময়ে জোর করে নিয়ে যাওয়া ছাত্রলীগের সব প্রোগ্রামেই গিয়েছি)
তারপর আমাকে বলে যে, তোর নামে তো অভিযোগ পাইছি, তুই শিবির করস....
আমি বললাম, না ভাই। আমার কোন আইডিয়া নেই এই বিষয়ে।
তারপর একজন বললো, তোরে তো শিবিরের এক সিনিয়র এর সাথে কথা বলতে দেখছি।
শুনে আমি তো অবাক!!
পরে নাম বলাতে চিনলাম, ক্যাম্পাসে এক ভাইকে দেখে কথা বলেছিলাম, এডমিশন কোচিং এ যার ক্লাস করেছিলাম।
আমি বললাম, উনি তো আমার টিচার ছিলেন।
শুনেই মামুন এসে থাপ্পড় মারলো আর
বাকী সবাই চিল্লায়ে বলে উঠলো মুখে মুখে তর্ক করিস!!!
তারপর আমার ফোন আর ল্যাপটপ নিয়ে নেয়।
ল্যাপটপ সার্চ করতে শুরু করে আরিফ। কিছুক্ষন সার্চ করার পরে বলে উঠে, ওর ল্যাপটপে তো অনেক ইসলামিক বই আছে। বলা মাত্রই ৫-৬ জন একসাথে লাত্থি মারে। আমি বেড থেকে পরে যাই। মারতে থাকে আর বলতে থাকে তুইতো তাইলে শিবিরের অনেক বড় নেতা!!!
বল কে কে আছে শিবির মিটফোর্ডে!!
সেই সাথে অকথ্য ভাষায় গালাগালি আর একটানা ফ্লোরে ফেলে লাত্থি, যে যেভাবে পারছে সেভাবে লাত্থি দিচ্ছে যেনো আমি ফুটবল। আর সেই একই জিজ্ঞাসা... নাম বল কে কে আছে শিবির!!!
প্রায় ২ ঘন্টা ধরে এভাবে কিল ঘুষি, চড় থাপ্পড় দেবার পরে ওরা ফোন দিলো MBBS এর ওদেরকে... শিবির ধরছি একটা!!!
রাত ১২ টা। দলবেঁধে আসলো তৎকালীন ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ৩৬তম ব্যাচের শাওন দাস, ৩৭ তম ব্যাচের উপল,আকিব, ৩৮ ব্যাচের বিজন, ৩৯ ব্যাচের সজীব, অচিন্ত্য,জনি, অভিষেক, ৪০ ব্যাচের এঞ্জেল, জয়দীপ, দীপাঞ্জন সহ মোট ১২-১৫ জন....
এসেই কোন কথা না বলে ১ ঘন্টা ধরে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক দিয়ে পেটায় ৪০ ব্যাচের এঞ্জেল, জয়দীপ,দীপাঞ্জন আর ৩৯ ব্যাচের সজীব, জনি, অচিন্ত্য। প্রথমদিকের মারগুলো টের পেয়েছি, এর পরের মারগুলোর সময়ে sensitivity একদমই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। শুধু ভাবছিলাম কাল সকাল টা আমার জীবনে আসবে তো?!! বেঁচে থাকবো তো?!!
এর পরে ওরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, ক্যাম্পাসে কে কে শিবির করে, স্বভাবতই আমার এ বিষয়ে কিছু জানা ছিলো না। উত্তর না হবার দরুন মার চলতে থাকে। মাঝে মাঝে চড় থাপ্পড় দিতে থাকে শাওন দাস আর উপল। আমার সাথে যাদের বেশী কথা হতো ওদেরকেও চড় থাপ্পড় দেয়। রাত ৩ টার দিকে আব্বুর নাম্বারে ফোন দিয়ে বলে, আপনার ছেলে তো জঙ্গি, ওকে পুলিশে দিয়ে দিচ্ছি।
সেই রাত বাসায় কি পরিমান অস্থিরতায় কেটেছে সেটা ধারনাতীত যদিও আমি অনেক অনুনয় করেছিলাম বাসায় যেনো ফোন না দেয়।
এক ভুক্তভোগীর উপর হওয়া নির্যাতনের ঘটনা:
সাল ২০১৩
ফার্স্ট ইয়ার এর বাচ্চা ছেলে তখন। নতুন হওয়া ডেন্টাল ইউনিটে ২য় ব্যাচ হিসেবে ক্যাম্পাসে ৯ মাস কাটিয়েছি। ধূলিময় ক্যাম্পাস আর ঘিঞ্জি পুরান ঢাকার প্রতি অল্প অল্প ভালোলাগাও তৈরী হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রচণ্ড introvert আমি, আস্তে আস্তে মিশতে শুরু করেছি সিনিয়র, ব্যাচমেটদের সাথে। যেহেতু আমরা দুই ব্যাচ মাত্র ডেন্টাল ইউনিটে, খুবই অল্প সংখ্যক ছেলে ছিলাম। ফার্স্ট ব্যাচের সিনিয়র ভাইয়েরা ( এখানে ভাই বলতে ঘৃণা লাগে তাও বললাম ) একটা কথা সবসময় বলতো, সেটা হলো আমরা সবসময় এক থাকবো। আমিও তেমন টাই ভাবতাম। ক্যাম্পাসে কোন সিনিয়র কোন জুনিয়রের গায়ে হাত তুলবে, এটা ছিলো আমার কল্পনারও বাইরে।।।
আমি ব্যক্তিগতভাবে রেগুলার মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার চেষ্টা করতাম, রুমের সবাইকে নামাজের জন্য ডাকতাম। এমনিতে সেই সময় ২০১৩ সালে পুরো দেশ শাহবাগ এবং হেফাজত নিয়ে উত্তপ্ত ছিলো। তবে ছোট থাকার কারণে আমি এই সব বিষয়ে তেমন কিছু বুঝতাম না। তখন ইন্টারনেট খুবই স্লো ছিলো। আমি নেট থেকে বিভিন্ন ধরণের বই download করে পড়তাম। আস্তে আস্তে ইসলামী বিভিন্ন বই এবং ইতিহাস কেন্দ্রিক বই পড়তে শুরু করি এবং চেষ্টা করতাম বিষয়গুলো বন্ধুদের সাথে আলোচনা করার। আমার এক বন্ধু ছিলো, ওর সাথে বহু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম সেটা রুমের ভেতরেও করতাম। আমাদের রুমে আমরা ১২ জন ছিলাম। আমি তখনো জানতাম না, ইসলাম নিয়ে আলোচনা করা শিবিরের লক্ষণ এবং এই কারণে আমার উপরে নেমে আসবে ভয়াল এক রাত এবং যার ফলাফল বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে একটা দীর্ঘ সময়। মূল কথার আগে এতো কথা বলা আসলে বিরক্তিকর, তারপরও ঘটনা বোঝার জন্য হয়তো সহায়ক।
২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩
রাত ১০ টা। আমি আমার এক Cousin এর সাথে দেখা করে রুমে এসেছি। ওযু করে নামাজ পড়ার জন্য বেডে জায়নামাজ বিছিয়ে দাঁড়াবো সেই মুহূর্তে ফার্স্ট ব্যাচ এর মামুন, সবুজ, মিদ্দিন, দেশ, রোকন, সাকিব, সুজয়, আরিফ এরা সবাই হঠাৎ রুমে আসলো। এসে সবাইকে নিয়ে বসলো। কিচ্ছুক্ষন নরমাল কথা বার্তা বলে আমাকে আলাদা করে একটা বেডে বসালো।
আমাকে আলাদা করে বসিয়ে মামুন জিজ্ঞেস করলো, কিরে তোরে তো হলে একদমই দেখি না, বড়ভাই দের তো গুণস না।( অথচ আমি হলেই থাকতাম বেশিরভাগ সময়ে, যেহেতু টিউশন বা অন্য কোন ব্যস্ততা ছিলো না তখন)
আমি বললাম ভাই, আমি তো থাকি হলে, হয়তো টাইম মিলে না (যদিও সেই সময়ে জোর করে নিয়ে যাওয়া ছাত্রলীগের সব প্রোগ্রামেই গিয়েছি)
তারপর আমাকে বলে যে, তোর নামে তো অভিযোগ পাইছি, তুই শিবির করস....
আমি বললাম, না ভাই। আমার কোন আইডিয়া নেই এই বিষয়ে।
তারপর একজন বললো, তোরে তো শিবিরের এক সিনিয়র এর সাথে কথা বলতে দেখছি।
শুনে আমি তো অবাক!!
পরে নাম বলাতে চিনলাম, ক্যাম্পাসে এক ভাইকে দেখে কথা বলেছিলাম, এডমিশন কোচিং এ যার ক্লাস করেছিলাম।
আমি বললাম, উনি তো আমার টিচার ছিলেন।
শুনেই মামুন এসে থাপ্পড় মারলো আর
বাকী সবাই চিল্লায়ে বলে উঠলো মুখে মুখে তর্ক করিস!!!
তারপর আমার ফোন আর ল্যাপটপ নিয়ে নেয়।
ল্যাপটপ সার্চ করতে শুরু করে আরিফ। কিছুক্ষন সার্চ করার পরে বলে উঠে, ওর ল্যাপটপে তো অনেক ইসলামিক বই আছে। বলা মাত্রই ৫-৬ জন একসাথে লাত্থি মারে। আমি বেড থেকে পরে যাই। মারতে থাকে আর বলতে থাকে তুইতো তাইলে শিবিরের অনেক বড় নেতা!!!
বল কে কে আছে শিবির মিটফোর্ডে!!
সেই সাথে অকথ্য ভাষায় গালাগালি আর একটানা ফ্লোরে ফেলে লাত্থি, যে যেভাবে পারছে সেভাবে লাত্থি দিচ্ছে যেনো আমি ফুটবল। আর সেই একই জিজ্ঞাসা... নাম বল কে কে আছে শিবির!!!
প্রায় ২ ঘন্টা ধরে এভাবে কিল ঘুষি, চড় থাপ্পড় দেবার পরে ওরা ফোন দিলো MBBS এর ওদেরকে... শিবির ধরছি একটা!!!
রাত ১২ টা। দলবেঁধে আসলো তৎকালীন ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ৩৬তম ব্যাচের শাওন দাস, ৩৭ তম ব্যাচের উপল,আকিব, ৩৮ ব্যাচের বিজন, ৩৯ ব্যাচের সজীব, অচিন্ত্য,জনি, অভিষেক, ৪০ ব্যাচের এঞ্জেল, জয়দীপ, দীপাঞ্জন সহ মোট ১২-১৫ জন....
এসেই কোন কথা না বলে ১ ঘন্টা ধরে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক দিয়ে পেটায় ৪০ ব্যাচের এঞ্জেল, জয়দীপ,দীপাঞ্জন আর ৩৯ ব্যাচের সজীব, জনি, অচিন্ত্য। প্রথমদিকের মারগুলো টের পেয়েছি, এর পরের মারগুলোর সময়ে sensitivity একদমই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। শুধু ভাবছিলাম কাল সকাল টা আমার জীবনে আসবে তো?!! বেঁচে থাকবো তো?!!
এর পরে ওরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, ক্যাম্পাসে কে কে শিবির করে, স্বভাবতই আমার এ বিষয়ে কিছু জানা ছিলো না। উত্তর না হবার দরুন মার চলতে থাকে। মাঝে মাঝে চড় থাপ্পড় দিতে থাকে শাওন দাস আর উপল। আমার সাথে যাদের বেশী কথা হতো ওদেরকেও চড় থাপ্পড় দেয়। রাত ৩ টার দিকে আব্বুর নাম্বারে ফোন দিয়ে বলে, আপনার ছেলে তো জঙ্গি, ওকে পুলিশে দিয়ে দিচ্ছি।
সেই রাত বাসায় কি পরিমান অস্থিরতায় কেটেছে সেটা ধারনাতীত যদিও আমি অনেক অনুনয় করেছিলাম বাসায় যেনো ফোন না দেয়।
এরপর ওরা আবার ব্যাচমেট দের বলে, কি রে? তোরা ওরে মারিস না কেনো?!!এ কথা বলার পরে মারতে শুরু করে ব্যাচমেট নামক কুলাঙ্গার রকিব, জহির আর মুস্তাফিজ!!! আবার চলতে থাকে মারধর!!
এদিকে ওরা বারবার বলতে থাকে পুলিশে দিবে। পরে আমার এক কাজিন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলায় শেষ পর্যন্ত পুলিশে দেয়নি। ৪টা পর্যন্ত পিটিয়ে সবাই চলে যায় আর বলে যায় তুই আগামী পাঁচ মাস আর ক্যাম্পাসে আসবি না, আর কোনোদিন যেনো তোকে হলের আশে পাশে দেখা না যায়। ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে দাঁড়াতে পারছিলাম না। একটু পরে , আমার কাজিন আমাকে হল থেকে নিয়ে হসপিটালে ভর্তি করে। শেষ হয় সেই ভয়াল রাত!!!
বেঁচে যাই বলে হয়তো আবরার এর মতো আলোচিত হয়নি!!!
আল্লাহর রহমতে ফ্রাকচার হয়নি কোনো কিন্তু বেশ ভালো muscle injury ছিলো। কিন্তু শারীরিক ক্ষতির চাইতে সবচাইতে বড় ক্ষতি যেটি হয় সেটি হলো মেন্টাল ট্রমা।
এরপর ……….............
পাঁচমাস বাসায় ছিলাম। চোঁখ বন্ধ করলেই সেই পৈশাচিক চেহারাগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠত। কত রাত দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙে জেগে উঠেছি তার হিসেব নেই।। নির্ঘুম কেটেছে কত রাত!!!!
আমার ব্যাচের থেকে আলাদা হয়ে যাই পুরোপুরি। ৩য় ব্যাচের সাথে ক্লাস শুরু করি পাঁচমাস পরে। কিন্তু প্রতিনিয়ত সেই মানসিক ট্রমা তাড়া করে বেড়াতো। লুকিয়ে লুকিয়ে ক্লাসে যেতাম। ক্লাস শেষ করেই চলে আসতাম। কিছুদিন পরে আবারো ফার্স্ট ব্যাচের মামুন আমাকে ক্যাম্পাসে দেখে বলে, কিরে!! ক্যাম্পাসে কি করিস তুই?!!!
এরপর আবার ক্যাম্পাসে আসার সাহস হারিয়ে ফেলি। চলতে থাকে সময়ের চাকা আর একই সাথে আমার মনের ভেতরে প্রতিনিয়ত সেই চেহারাগুলো ফুটে উঠতো বিভীষিকার মতো!!
ক্যাম্পাসে আসার কথা ভাবলেই মনে হতে থাকতো ওই চেহারাগুলোর কথা!!! যদি আবারও মারে?!!
বছরের পর বছর এভাবে চলতে থাকে!!
মেডিকেলে পিছিয়ে গেলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো যে কি পরিমাণ কঠিন , এটা সকলেই অবগত।
পরিবারের সবচাইতে ব্রিলিয়ান্ট ছেলে হয়ে উঠি পরিবারের বোঝা। এর মধ্যে আমাদের বিডিএস এর ৪ বছরের কারিকুলাম চেঞ্জ হয়ে ৫ বছর হয়। সেই সময়ে গিয়ে আমি জানতে পারি ৪ টি prof পরীক্ষা না দেবার কারণে আমার ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে গিয়েছে। চরমভাবে হতাশ হয়ে যাই এবং পরিবার থেকে আমাকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার জন্য জোরাজুরি করে। কিন্তু সেটাও আমি করিনি।
সেই সময়ে জানতে পারি ভার্সিটির একাডেমিক কাউন্সিলে Application এর মাধ্যমে জরিমানা দিয়ে Re-admission নেয়া যায়। টিচারদের কাছে অনেক ঘোরাঘুরি, গালি শুনে শেষ পর্যন্ত তাঁদের signature নিয়ে application করি। কিন্তু কোন টিচারকে বলতে পারিনি আমার উপর ঘটে যাওয়া নির্মমতার কথা!!। তাঁদের কাছে আমি ছিলাম নিজের গাফিলতিতে পিছিয়ে পড়া এক defaulter মাত্র!!!
পরবর্তীতে এক লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়ে Re-admission এর সুযোগ পাই।
অবশেষে আমাকে যারা যারা মেরেছিলো, তাঁদের প্রত্যেকে ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নেবার পরে আমি ৯ম ব্যাচের সাথে শুরু করি একদম নতুন ছাত্র হিসেবে। প্রথমে একদমই মিশতে পারতাম না ৮ বছরের জুনিয়রদের সাথে। চুপচাপ ক্লাসে যেতাম, আবার চলে আসতাম। কিন্তু আমি খুবই ভাগ্যবান। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা ৯ম ব্যাচের সকলের প্রতি। এতটা আন্তরিকতা দিয়ে আমাকে গ্রহণ করার জন্য। একজন পিছিয়ে পড়া ছাত্রের জন্য তোমাদের যে সহযোগিতা এটা কল্পনাতীত এবং আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করি।
তোমাদের সহযোগিতায় নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পেরেছি, তিনটি prof কোন ধরণের supple ছাড়া রেগুলার পাশ করে যেতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ।।
আমি কৃতজ্ঞ, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে তোমরা আমাকে ডেন্টাল ইউনিট এর ছাত্র প্রতিনিধি মনোনীত করেছো❣️❣️❣️।
যেই ক্যাম্পাস থেকে আমাকে রক্তাক্ত করে মেরে বের করে দিয়েছিলো ছাত্রলীগের অ/মানুষরা, সেই ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রদের ভালোবাসায় ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারাটা আমার জন্য পরম পাওয়া। যদিও পেছন ফিরে তাকালে ৮টি হারিয়ে যাওয়া বছর তো আর ফিরে পাবোনা। এখনো আমি আমার পরিবারের জন্য বলা যায় একরকম বোঝা। যেখানে আমার ব্যাচমেট দের পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমার এখনো গ্রাজুয়েশন শেষ হয়নি!!!
অনেক দীর্ঘ লেখা লিখে ফেললাম। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ ধৈর্য্য ধরে পড়ার জন্য। সবশেষে একটা কথাই বলবো , ক্যাম্পাস গুলোতে শিবির সন্দেহে অথবা যে কোন কারণেই পেটানোর যে ঘৃন্য সংস্কৃতি ছিলো সেটা নির্মূল হোক এবং কোনদিন ফিরে না আসুক। একই সাথে নির্যাতনের সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
আমার ব্যক্তিগত কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই, কখনোই ছিলোও না। আমি তখনো শুধুই ছাত্র ছিলাম এবং এখনো শুধুই ছাত্র। তবে এখন ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কাজ করার সুযোগ যেহেতু পেয়েছি সেটা আমি করবোই।
এদিকে ওরা বারবার বলতে থাকে পুলিশে দিবে। পরে আমার এক কাজিন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলায় শেষ পর্যন্ত পুলিশে দেয়নি। ৪টা পর্যন্ত পিটিয়ে সবাই চলে যায় আর বলে যায় তুই আগামী পাঁচ মাস আর ক্যাম্পাসে আসবি না, আর কোনোদিন যেনো তোকে হলের আশে পাশে দেখা না যায়। ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে দাঁড়াতে পারছিলাম না। একটু পরে , আমার কাজিন আমাকে হল থেকে নিয়ে হসপিটালে ভর্তি করে। শেষ হয় সেই ভয়াল রাত!!!
বেঁচে যাই বলে হয়তো আবরার এর মতো আলোচিত হয়নি!!!
আল্লাহর রহমতে ফ্রাকচার হয়নি কোনো কিন্তু বেশ ভালো muscle injury ছিলো। কিন্তু শারীরিক ক্ষতির চাইতে সবচাইতে বড় ক্ষতি যেটি হয় সেটি হলো মেন্টাল ট্রমা।
এরপর ……….............
পাঁচমাস বাসায় ছিলাম। চোঁখ বন্ধ করলেই সেই পৈশাচিক চেহারাগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠত। কত রাত দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙে জেগে উঠেছি তার হিসেব নেই।। নির্ঘুম কেটেছে কত রাত!!!!
আমার ব্যাচের থেকে আলাদা হয়ে যাই পুরোপুরি। ৩য় ব্যাচের সাথে ক্লাস শুরু করি পাঁচমাস পরে। কিন্তু প্রতিনিয়ত সেই মানসিক ট্রমা তাড়া করে বেড়াতো। লুকিয়ে লুকিয়ে ক্লাসে যেতাম। ক্লাস শেষ করেই চলে আসতাম। কিছুদিন পরে আবারো ফার্স্ট ব্যাচের মামুন আমাকে ক্যাম্পাসে দেখে বলে, কিরে!! ক্যাম্পাসে কি করিস তুই?!!!
এরপর আবার ক্যাম্পাসে আসার সাহস হারিয়ে ফেলি। চলতে থাকে সময়ের চাকা আর একই সাথে আমার মনের ভেতরে প্রতিনিয়ত সেই চেহারাগুলো ফুটে উঠতো বিভীষিকার মতো!!
ক্যাম্পাসে আসার কথা ভাবলেই মনে হতে থাকতো ওই চেহারাগুলোর কথা!!! যদি আবারও মারে?!!
বছরের পর বছর এভাবে চলতে থাকে!!
মেডিকেলে পিছিয়ে গেলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো যে কি পরিমাণ কঠিন , এটা সকলেই অবগত।
পরিবারের সবচাইতে ব্রিলিয়ান্ট ছেলে হয়ে উঠি পরিবারের বোঝা। এর মধ্যে আমাদের বিডিএস এর ৪ বছরের কারিকুলাম চেঞ্জ হয়ে ৫ বছর হয়। সেই সময়ে গিয়ে আমি জানতে পারি ৪ টি prof পরীক্ষা না দেবার কারণে আমার ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে গিয়েছে। চরমভাবে হতাশ হয়ে যাই এবং পরিবার থেকে আমাকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার জন্য জোরাজুরি করে। কিন্তু সেটাও আমি করিনি।
সেই সময়ে জানতে পারি ভার্সিটির একাডেমিক কাউন্সিলে Application এর মাধ্যমে জরিমানা দিয়ে Re-admission নেয়া যায়। টিচারদের কাছে অনেক ঘোরাঘুরি, গালি শুনে শেষ পর্যন্ত তাঁদের signature নিয়ে application করি। কিন্তু কোন টিচারকে বলতে পারিনি আমার উপর ঘটে যাওয়া নির্মমতার কথা!!। তাঁদের কাছে আমি ছিলাম নিজের গাফিলতিতে পিছিয়ে পড়া এক defaulter মাত্র!!!
পরবর্তীতে এক লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়ে Re-admission এর সুযোগ পাই।
অবশেষে আমাকে যারা যারা মেরেছিলো, তাঁদের প্রত্যেকে ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নেবার পরে আমি ৯ম ব্যাচের সাথে শুরু করি একদম নতুন ছাত্র হিসেবে। প্রথমে একদমই মিশতে পারতাম না ৮ বছরের জুনিয়রদের সাথে। চুপচাপ ক্লাসে যেতাম, আবার চলে আসতাম। কিন্তু আমি খুবই ভাগ্যবান। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা ৯ম ব্যাচের সকলের প্রতি। এতটা আন্তরিকতা দিয়ে আমাকে গ্রহণ করার জন্য। একজন পিছিয়ে পড়া ছাত্রের জন্য তোমাদের যে সহযোগিতা এটা কল্পনাতীত এবং আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করি।
তোমাদের সহযোগিতায় নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পেরেছি, তিনটি prof কোন ধরণের supple ছাড়া রেগুলার পাশ করে যেতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ।।
আমি কৃতজ্ঞ, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে তোমরা আমাকে ডেন্টাল ইউনিট এর ছাত্র প্রতিনিধি মনোনীত করেছো❣️❣️❣️।
যেই ক্যাম্পাস থেকে আমাকে রক্তাক্ত করে মেরে বের করে দিয়েছিলো ছাত্রলীগের অ/মানুষরা, সেই ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রদের ভালোবাসায় ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারাটা আমার জন্য পরম পাওয়া। যদিও পেছন ফিরে তাকালে ৮টি হারিয়ে যাওয়া বছর তো আর ফিরে পাবোনা। এখনো আমি আমার পরিবারের জন্য বলা যায় একরকম বোঝা। যেখানে আমার ব্যাচমেট দের পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমার এখনো গ্রাজুয়েশন শেষ হয়নি!!!
অনেক দীর্ঘ লেখা লিখে ফেললাম। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ ধৈর্য্য ধরে পড়ার জন্য। সবশেষে একটা কথাই বলবো , ক্যাম্পাস গুলোতে শিবির সন্দেহে অথবা যে কোন কারণেই পেটানোর যে ঘৃন্য সংস্কৃতি ছিলো সেটা নির্মূল হোক এবং কোনদিন ফিরে না আসুক। একই সাথে নির্যাতনের সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
আমার ব্যক্তিগত কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই, কখনোই ছিলোও না। আমি তখনো শুধুই ছাত্র ছিলাম এবং এখনো শুধুই ছাত্র। তবে এখন ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কাজ করার সুযোগ যেহেতু পেয়েছি সেটা আমি করবোই।
my only identity is i am a human being and i stand for freedom, democracy and justice. It's loud and clear.
আমার শুধু একটাই জিজ্ঞাসা এভাবে আমার জীবনের ৮টি বছর যারা নষ্ট করেছে, কখনো কি তাঁদের খারাপ লাগা কাজ করে?! তাঁদের পিতামাতা, স্ত্রী সন্তানরাও কি তাঁদের নিয়ে গর্ব করে??
অবশ্য এখনো যারা বলে আগেই ভালো ছিলাম তাঁদের জন্য শুধু করুনাই হয়। যাদের কাছে মানুষ হত্যা করাও একদমই স্বাভাবিক সেখানে আমার ৮টা বছর তো কিছুই না, বেঁচে তো আছি!!! যাই হোক, আল্লাহর কাছে দেয়া বিচার পূরণ হওয়া শুরু হয়েছে এখন।।
আল্লাহ ভরসা।।।।
K.M Sabbir Ahmed
Current Batch: {SSMC D-09}
~The Hidden Truth Of SSMC
আমার শুধু একটাই জিজ্ঞাসা এভাবে আমার জীবনের ৮টি বছর যারা নষ্ট করেছে, কখনো কি তাঁদের খারাপ লাগা কাজ করে?! তাঁদের পিতামাতা, স্ত্রী সন্তানরাও কি তাঁদের নিয়ে গর্ব করে??
অবশ্য এখনো যারা বলে আগেই ভালো ছিলাম তাঁদের জন্য শুধু করুনাই হয়। যাদের কাছে মানুষ হত্যা করাও একদমই স্বাভাবিক সেখানে আমার ৮টা বছর তো কিছুই না, বেঁচে তো আছি!!! যাই হোক, আল্লাহর কাছে দেয়া বিচার পূরণ হওয়া শুরু হয়েছে এখন।।
আল্লাহ ভরসা।।।।
K.M Sabbir Ahmed
Current Batch: {SSMC D-09}
~The Hidden Truth Of SSMC
😢1
গৃহযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বাংলাদেশকে ইঙ্গিত দিচ্ছে আমেরিকা।
একদিকে ভারত ও বাংলাদেশের হিন্দুরা ব্যাপকভাবে এবিষয়ে প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়েছে অন্যদিকে বাংলাদেশের বিদেশী দূতাবাসগুলোতে খুনি হাসিনার প্রেতাত্মারা এখনো বসে আছে। যার কারণে তারা এই মিথ্যা প্রোপ্যাগান্ডাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা না নিয়ে এইগুলো ছড়ানোতে আরও সহযোগিতা করছে। আর ট্রাম্পের হিন্দু ভোটগুলো নিজের পক্ষে টানার একটা বিষয় তো আছেই।
এবিষয়ে ড. ইউনুস সরকারকে অত্যাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বহির্বিশ্বে কারা বাংলাদেশকে নিয়ে এমন সাম্প্রদায়িক প্রোপ্যাগান্ডা ছড়াচ্ছে সেগুলো তদন্তপূর্বক কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে অতিদ্রুত।
একদিকে ভারত ও বাংলাদেশের হিন্দুরা ব্যাপকভাবে এবিষয়ে প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়েছে অন্যদিকে বাংলাদেশের বিদেশী দূতাবাসগুলোতে খুনি হাসিনার প্রেতাত্মারা এখনো বসে আছে। যার কারণে তারা এই মিথ্যা প্রোপ্যাগান্ডাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা না নিয়ে এইগুলো ছড়ানোতে আরও সহযোগিতা করছে। আর ট্রাম্পের হিন্দু ভোটগুলো নিজের পক্ষে টানার একটা বিষয় তো আছেই।
এবিষয়ে ড. ইউনুস সরকারকে অত্যাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বহির্বিশ্বে কারা বাংলাদেশকে নিয়ে এমন সাম্প্রদায়িক প্রোপ্যাগান্ডা ছড়াচ্ছে সেগুলো তদন্তপূর্বক কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে অতিদ্রুত।
👍4😱1
ব্যক্তি স্বাধীনতার ধজাধারীরা কি এখন চুপ থাকবে?
পরপর দুই দিন একই ঘটনা। এটা কাকতালীয় না, পরিকল্পিত মনে হচ্ছে।
স্থান: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, বাংলাদেশ।
প্রথম ঘটনাটি ২৯/১০/২০২৪ তারিখের।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ক্লাস চলাকালীন সৌম্য সরকার নামক এক শিক্ষক ক্লাসে আগমন করেন। তিনি ক্লাসে প্রবেশের সাথে সাথে আদেশ জারি করেন যে, ক্লাসরুমে উপস্থিত ছেলে এবং মেয়ে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের পৃথক বসার জায়গা থেকে সরে একসাথে মিলে বসে! এসময় তিনি হুমকি দেন যে, শিক্ষার্থীরা ওনার এই আদেশ না মানলে উনি ক্লাস নিবেন না!
দ্বিতীয় ঘটনাটি ৩০/১০/২০২৪ তারিখের।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের "১৭ ব্যাচের" সিনিয়ররা আজ আমাদের সবার সাথে কথা বলার নাম করে আমাদের ক্লাসকে একটা রুমে ডেকে নেয়। শিক্ষার্থীরা রুমে ঢোকার সাথে সাথে ১৭ ব্যাচের "কৌশিক দত্ত" আমাদের ক্লাসের সকল ছেলে-মেয়েকে নিম্নোক্ত আদেশ করে,
- ছেলেরা যেন মেয়েদের বেঞ্চে এবং মেয়েরা যেন ছেলেদের মাঝে গিয়ে বসে। এই আদেশ পালনের জন্য সকলকে সর্বোচ্চ ০২ মিনিট সময় দেওয়া হলো!
এসময় কৌশিক দত্ত আরও জানায় যে, ০২ মিনিটের ভেতর কেউ এই আদেশ পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নাকি সমস্যা হবে!
এসময় সেখানে ১৭ ব্যাচের মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছেলে ও বোরকা পরিহিতা মুসলিম ধর্মের কয়েকটি মেয়েও ছিল। এরা উপরোক্ত নির্দেশের বিপক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। বরং এরা কৌশিক দত্তের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকে আরও তাড়াতাড়ি করবার আদেশ দেয়। এসময় আমি (ঘটনার বিবরণ প্রদানকারিণী ভুক্তভোগী) আমার পূর্বেকার আসন থেকে না সরে বসে থাকলে ওরা আমার পাশে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিপরীত লিঙ্গের একজনকে এনে বসিয়ে দেয়! আমাদের ব্যাচে আরও বোরকা পরিহিতা অনেক মেয়ে ছিল। তারা এসময় মারাত্মক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে গিয়ে পড়ে। তারা না পারছিলেন ছেলেদের পাশে বসতে, আর না পারছিলেন কিছু বলতে।
(ভুক্তভোগী বর্ণনাকারিণী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের Department of Geography & Environment এর শিক্ষার্থী)
এগুলো কি হচ্ছে?
পরপর দুই দিন একই ঘটনা। এটা কাকতালীয় না, পরিকল্পিত মনে হচ্ছে।
স্থান: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, বাংলাদেশ।
প্রথম ঘটনাটি ২৯/১০/২০২৪ তারিখের।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ক্লাস চলাকালীন সৌম্য সরকার নামক এক শিক্ষক ক্লাসে আগমন করেন। তিনি ক্লাসে প্রবেশের সাথে সাথে আদেশ জারি করেন যে, ক্লাসরুমে উপস্থিত ছেলে এবং মেয়ে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের পৃথক বসার জায়গা থেকে সরে একসাথে মিলে বসে! এসময় তিনি হুমকি দেন যে, শিক্ষার্থীরা ওনার এই আদেশ না মানলে উনি ক্লাস নিবেন না!
দ্বিতীয় ঘটনাটি ৩০/১০/২০২৪ তারিখের।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের "১৭ ব্যাচের" সিনিয়ররা আজ আমাদের সবার সাথে কথা বলার নাম করে আমাদের ক্লাসকে একটা রুমে ডেকে নেয়। শিক্ষার্থীরা রুমে ঢোকার সাথে সাথে ১৭ ব্যাচের "কৌশিক দত্ত" আমাদের ক্লাসের সকল ছেলে-মেয়েকে নিম্নোক্ত আদেশ করে,
- ছেলেরা যেন মেয়েদের বেঞ্চে এবং মেয়েরা যেন ছেলেদের মাঝে গিয়ে বসে। এই আদেশ পালনের জন্য সকলকে সর্বোচ্চ ০২ মিনিট সময় দেওয়া হলো!
এসময় কৌশিক দত্ত আরও জানায় যে, ০২ মিনিটের ভেতর কেউ এই আদেশ পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নাকি সমস্যা হবে!
এসময় সেখানে ১৭ ব্যাচের মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছেলে ও বোরকা পরিহিতা মুসলিম ধর্মের কয়েকটি মেয়েও ছিল। এরা উপরোক্ত নির্দেশের বিপক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। বরং এরা কৌশিক দত্তের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকে আরও তাড়াতাড়ি করবার আদেশ দেয়। এসময় আমি (ঘটনার বিবরণ প্রদানকারিণী ভুক্তভোগী) আমার পূর্বেকার আসন থেকে না সরে বসে থাকলে ওরা আমার পাশে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিপরীত লিঙ্গের একজনকে এনে বসিয়ে দেয়! আমাদের ব্যাচে আরও বোরকা পরিহিতা অনেক মেয়ে ছিল। তারা এসময় মারাত্মক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে গিয়ে পড়ে। তারা না পারছিলেন ছেলেদের পাশে বসতে, আর না পারছিলেন কিছু বলতে।
(ভুক্তভোগী বর্ণনাকারিণী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের Department of Geography & Environment এর শিক্ষার্থী)
এগুলো কি হচ্ছে?
👍5
দুইটা জিনিসকে কখনোই বিশ্বাস করবে না - নারীর অশ্রু ও পুরুষের হৃদয়!
আর দুইটা জিনিসকে কখনোই মিথ্যে ভাববে না - নারীর অন্তর আর পুরুষের কান্না।
--ড. আদহাম শারকাভি
আর দুইটা জিনিসকে কখনোই মিথ্যে ভাববে না - নারীর অন্তর আর পুরুষের কান্না।
--ড. আদহাম শারকাভি
🔥3🤡1
‘আমি মরহুম বকুল মিয়ার ছেলে, আমার বাবা ঢাকায় রিকশা চালাতেন। আমার বাবা উত্তরা আজিমপুরে উনিশ তারিখে মারা যান।
আমার বাবা আমাকে খুব আদর করতেন। আমি যখন সকালে নাস্তা খেতে আসতাম মাদ্রাসা থেকে, বাবা বলতেন, তুমি কি সবক ঠিক মতো দেও? আমি বলি, আমি সবক দিয়ে এসেছি।
বাবা কইলো, তুমি ভালো করে পইড়ো, আমার বংশে কোনো হাফেজ টাফেজ নাই, তারজন্য তোমাকে আমি মাদ্রাসায় ভর্তি করাইছি তুমি আমার জানাজা করে যেনো মাটি দিতে পারো। কিন্তু খুব দুঃখের বিষয় আমি আমার বাবাকে জানাজা করে মাটি দিতে পারিনি।’
- বকুল মিয়ার সন্তান
আমার বাবা আমাকে খুব আদর করতেন। আমি যখন সকালে নাস্তা খেতে আসতাম মাদ্রাসা থেকে, বাবা বলতেন, তুমি কি সবক ঠিক মতো দেও? আমি বলি, আমি সবক দিয়ে এসেছি।
বাবা কইলো, তুমি ভালো করে পইড়ো, আমার বংশে কোনো হাফেজ টাফেজ নাই, তারজন্য তোমাকে আমি মাদ্রাসায় ভর্তি করাইছি তুমি আমার জানাজা করে যেনো মাটি দিতে পারো। কিন্তু খুব দুঃখের বিষয় আমি আমার বাবাকে জানাজা করে মাটি দিতে পারিনি।’
- বকুল মিয়ার সন্তান
😭4😢1
Savoy Ice Cream নামের এই প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন পদে ভাইবা দিতে আসা যারা সিলেক্ট হয়নি তাদের ভাইবা শেষে এই খামটি হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। এই নিউজটা আমাকে সত্যিই স্বস্তি দিয়েছে।
একজন বেকার যুবক পরীক্ষা দিতে আসা যাওয়ার টাকা ম্যানেজ করতে হিমশিম খায়। অনেকে খুব কষ্টে পরীক্ষা দিতে এসে চাকরী না পেলে অনেক কষ্ট পায়।
Savoy Ice Cream এই কোম্পানিটির HR Practice সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করলো। দেশের প্রত্যেকটা কোম্পানি কিছুটা হলেও বেকারদের সাহায্য করা উচিত।
You deserve respect Savoy Ice Cream.
- শাকিল আহাম্মেদ
একজন বেকার যুবক পরীক্ষা দিতে আসা যাওয়ার টাকা ম্যানেজ করতে হিমশিম খায়। অনেকে খুব কষ্টে পরীক্ষা দিতে এসে চাকরী না পেলে অনেক কষ্ট পায়।
Savoy Ice Cream এই কোম্পানিটির HR Practice সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করলো। দেশের প্রত্যেকটা কোম্পানি কিছুটা হলেও বেকারদের সাহায্য করা উচিত।
You deserve respect Savoy Ice Cream.
- শাকিল আহাম্মেদ
❤14
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় টার্ম অ্যামেরিকান এম্পায়ারকে আরও ডিস্ট্যাইবেলাইয করবে। অ্যামেরিকার ভেতরে মেরুকরণ বাড়াবে। বিশ্বে মাল্টিপোলারিটি বাড়বে। অস্থিতিশীলতা, অনিশ্চয়তা, শঙ্কা এবং সম্ভাবনাও বাড়বে। ইন শা আল্লাহ।
.
অ্যামেরিকা নিয়ন্ত্রিত ওয়ার্ল্ড অর্ডারের পতন ছাড়া আল কুদস এবং উম্মাহর মুক্তি সম্ভব না।
.
এক্সিলারেট।
- আসিফ আদনান
.
অ্যামেরিকা নিয়ন্ত্রিত ওয়ার্ল্ড অর্ডারের পতন ছাড়া আল কুদস এবং উম্মাহর মুক্তি সম্ভব না।
.
এক্সিলারেট।
- আসিফ আদনান
👍3❤1
বিমানে যখন খাবার সার্ভ করা হচ্ছিলো, তখন আমার পাশের যাত্রীকে সফট ড্রিংকস হিসেবে Pe-p-si/Co-ca-Co-la অফার করা হলে তিনি কোনোটাই নিতে রাজি হলেন না।
তারপর আমার দিকে ফিরে বললেন : যেদিন থেকে জানলাম এগুলো ★জ-রা★লী প্রো-ডা-ক্ট, সেদিন থেকে আর কোনোদিন এসব মু-খে দিইনি। এখন এগুলোর দিকে তাকালেই আমি শুধু আমার মুস-লিম ভাইদের র-ক্ত দেখতে পাই।
এ পর্যায়ে তিনি আমার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বললেন : হুজুর আপনিই বলেন, আমি কীভাবে আমার ভাইয়ের র-ক্ত পা-ন করতে পারি?
~ শাবীব তাশফী!
তারপর আমার দিকে ফিরে বললেন : যেদিন থেকে জানলাম এগুলো ★জ-রা★লী প্রো-ডা-ক্ট, সেদিন থেকে আর কোনোদিন এসব মু-খে দিইনি। এখন এগুলোর দিকে তাকালেই আমি শুধু আমার মুস-লিম ভাইদের র-ক্ত দেখতে পাই।
এ পর্যায়ে তিনি আমার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বললেন : হুজুর আপনিই বলেন, আমি কীভাবে আমার ভাইয়ের র-ক্ত পা-ন করতে পারি?
~ শাবীব তাশফী!
❤7
১৮ জুলাই ২০২৪
যাত্রাবাড়ীর এক গলি থেকে ফজর নামাজ পড়ে ৩/৪ টা ছেলে মেইন রোডের দিকে যাচ্ছিল। তাদের উদ্দেশ্য, ভোর হবার আগেই যাত্রাবাড়ী চিটাগং রোড হাইওয়ে দ*খলে নেয়া।
আর মাত্র ৫ টা বিল্ডিং পরে গলি শেষ, সামনে মেইন রোড। হঠাৎ গু_লির শব্দ, তাদের একজন সঙ্গী লুটিয়ে পড়ল। ছেলেটার নাম মারুফ। হতবিহ্বল বাকীরা বুঝতে পারছিল না কোথা থেকে গু_লি এসেছে, কে গু_লি করেছে। এদিকে লুটিয়ে পড়া সঙ্গীর শরীর থেকে গলগল করে র*ক্ত বের হচ্ছে। তার দিকে ভালোভাবে তাকাতেই ২য় গু_লির শব্দটা শোনা গেল। উপস্থিত সবাই মাটিতে শুয়ে পড়ল। এদের গায়ে গু_লি লাগে নি। এরা নিরাপত্তার জন্য শুয়েছে৷ আহত মারুফকে টেনে হিঁচড়ে গ_লির ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো। মারুফের কাঁধ ছুয়ে গু_লি বেরিয়ে গেছে। রাবার বু_লেট না। এটা স্না*ই*পার বু_লেট। এগুলো যু_দ্ধে ব্যবহার করা হয় আরেক দেশের সৈন্য হ_ত্যা@ করতে।
এদিকে যাত্রাবাড়ী বাসী গত ৩ দিন গু_লির শব্দ শুনে অভ্যস্ত তবে এখন ভোর হওয়ায় শব্দের মাত্রাটা বেশি ছিল। এলাকার সবার ঘুম ভেঙে গেল। অনেকে বাসা থেকে নেমে গেল। বাইরে কী হচ্ছে জানার জন্য।
গু_লির শব্দের উৎস নিয়ে আলোচনা করে বের করা হলো গলির মাথায় কোনো বাড়িতে স্না*ই*পার আছে। গলি থেকে বের হলেই গু_লি করবে। কিন্তু কোন বিল্ডিং এ স্না*ই*পার সেটা জানে না কেউ। আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে হলে মেইন রোডে যেতে হবে। যদিও এটা যাত্রাবাড়ী। মেইন রোডে যাওয়ায় অনেকগুলো রাস্তা আছে। আশেপাশের গলি থেকেও সেইম তথ্য এলো। গলি থেকে বের হতেই অদৃশ্য স্থান থেকে তাদের উপর গু_লি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নিল যে করেই হোক স্না*ই*পারের লোকেশন বের করতে হবে। এটা বের করার জন্য জানবাজ কিছু লোক দরকার যার গু_লি খাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কয়েকজনকে আগে গলি থেকে বের হতে হবে। পেছনে পেছনে কিছু লোক দেখবে কোন বাসা থেকে গু_লি করছে। কে হবে সেই জা@নবাজ?
ইন্টার পড়ুয়া একটা ছেলে আগে যেতে রাজি হলো। সে একা একা আগে যাবে।
ছেলেটার নাম অনিক। সে বন্ধুর সাথে কোলাকুলি করল। এক বন্ধুর কানে কানে বলল "আমার কিছু হলে মাকে সান্ত্বনা দিস।" বন্ধু দুষ্টামি করে উত্তর দিল "আর তোর ক্রাশ?" অনিক উত্তর দিল "তাকে আমার কথা বলিস।'
হাসিমুখে অনিক গলির মুখের দিকে এগোলো। তার চোখে সতর্ক দৃষ্টি। আগে যেখানে মারুফ গু_লি খেয়েছে ঠিক সেই স্থানে আসার সাথে সাথে গু_লির শব্দ শোনা গেল। এদিকে অনিক আগে থেকেই একে বেঁকে চলছিল। গু_লি তার গায়ে লাগে নাই। তবে গু_লিটা আশেপাশের কোথাও দিয়ে গেছে বোঝা গেছে। অনিক পেছন দিকে না গিয়ে সামনের দিকে দৌড় দিল। এবার আরেকটা গু_লি হলো। এটাও অনিকের গায়ে লাগে নাই। এদিকে অনিকের পেছন পেছন আরো ২ টা ছেলে এলোমেলো ভাবে দৌড়াচ্ছিল। পেছন থেকে শরীফ আর শাহাদাৎ ভাই মোটামুটি একটা ধারনা পেলেন কোন বিল্ডিং থেকে গুলি করেছে। এদিকে অনিক ও ২ টা ছেলে গলির মাথায় পৌঁছে গেছে। তারা একটা বিল্ডিং এর ঠিক নিচে অবস্থান করছে। এখানে উপর থেকে কেউ গুলি করতে পারবে না। এদিকে শরীফ আর শাহাদাৎ আগের জায়গায় ফিরে গেল। সেখানে এখন মিনিমাম ১০০ জন আন্দোলনকারী। আরো অনেকেই জড়ো হচ্ছে।
সবাই ইতিমধ্যে জেনে গেছে গলির মুখে অদৃশ্য স্না*ই*পার অবস্থান করছে। কোন বিল্ডিং থেকে গু_লি করা হয়েছে সেই ধারনাও পেয়ে গেছে। তারা এটা নিয়ে বলাবলি করল। এক পর্যায়ে তারা জানতে পারল ঐ বিল্ডিংটার মালিক এক আ@ওয়ামী*লীগ নেতা। তার মানে তাদের ধারণা সঠিক। আ@ওয়ামী*লীগ নেতার বাসায় পুলিশ অথবা আ@ওয়ামী*লীগের স্না*ই*পার অ_স্ত্র তাক করে বসে আছে।
বিল্ডিং টা ৬ তলা। গু_লি করা হয়েছে ৩ থেকে ৬ তলার মধ্য থেকে যেকোনো একটা ফ্ল্যাট থেকে। গলির যে পয়েন্টে ভোরে মারুফ গু_লি খেয়েছে সেখান থেকে ৪/৫/৬ তলা ভালো করে দেখা যায়। তার মানে ৩ তলা থেকে গু_লি করা হয় নি। আবার ছাদ থেকেও গু_লি করা হয় নি। এদিকে ২ টা করে মোট ৬ টা ফ্ল্যাট আছে। ৩ টা ফ্ল্যাট আগেই বাদ দেয়া হলো। কারণ এই ৩ টা ফ্ল্যাট থেকে মেইন রোডের দিকে গু_লি করা যাবে, গলির ভেতরের দিকে নয়। ৪/৫ ও ৬ তলাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা হলো কিন্তু কাউকে দেখা গেলো না। ৫ তলার একজন মহিলা বারান্দায় এসে কী যেন দেখে রুমে ঢুকে গেলেন। তার মানে ৫ তলাতেও স্না*ই*পার নেই। অর্থাৎ ৪ ও ৬ তলার এদিকের ফ্ল্যাটের যেকোনো একটায় স্না*ই*পার আছে। এখন আন্দোলনকারীরা টার্গেট নিয়েছে এই বিল্ডিং এর দখল নিবে। তারপর বিল্ডিং এ ঢুকে স্না*ই*পারকে বের করবে। কাজটা খুবই ভয়ানক কারণ আ@ন্দোল*নকারী কারো হাতে পি_স্তল নাই। লা*ঠি ও ইটের টুকরাই একমাত্র ভরসা।
আ@ন্দোলন*কারীরা এক এক করে গলির বিল্ডিং গুলোর দেয়ালের সাথে গা ঘেঁষে ঘেঁষে মেইন রোডের দিকে এগোলো। একজন একজন করে আগানোর কারণে উপর থেকে কেউ দেখার সুযোগ নেই। তাই গু_লিও হলো না।
৫ মিনিটের মধ্যে আ@ওয়ামী*লীগ নেতার বাড়ির সামনে প্রায় শ খানেক আ@ন্দোলন*কারী হাজির হয়ে গেল।
যাত্রাবাড়ীর এক গলি থেকে ফজর নামাজ পড়ে ৩/৪ টা ছেলে মেইন রোডের দিকে যাচ্ছিল। তাদের উদ্দেশ্য, ভোর হবার আগেই যাত্রাবাড়ী চিটাগং রোড হাইওয়ে দ*খলে নেয়া।
আর মাত্র ৫ টা বিল্ডিং পরে গলি শেষ, সামনে মেইন রোড। হঠাৎ গু_লির শব্দ, তাদের একজন সঙ্গী লুটিয়ে পড়ল। ছেলেটার নাম মারুফ। হতবিহ্বল বাকীরা বুঝতে পারছিল না কোথা থেকে গু_লি এসেছে, কে গু_লি করেছে। এদিকে লুটিয়ে পড়া সঙ্গীর শরীর থেকে গলগল করে র*ক্ত বের হচ্ছে। তার দিকে ভালোভাবে তাকাতেই ২য় গু_লির শব্দটা শোনা গেল। উপস্থিত সবাই মাটিতে শুয়ে পড়ল। এদের গায়ে গু_লি লাগে নি। এরা নিরাপত্তার জন্য শুয়েছে৷ আহত মারুফকে টেনে হিঁচড়ে গ_লির ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো। মারুফের কাঁধ ছুয়ে গু_লি বেরিয়ে গেছে। রাবার বু_লেট না। এটা স্না*ই*পার বু_লেট। এগুলো যু_দ্ধে ব্যবহার করা হয় আরেক দেশের সৈন্য হ_ত্যা@ করতে।
এদিকে যাত্রাবাড়ী বাসী গত ৩ দিন গু_লির শব্দ শুনে অভ্যস্ত তবে এখন ভোর হওয়ায় শব্দের মাত্রাটা বেশি ছিল। এলাকার সবার ঘুম ভেঙে গেল। অনেকে বাসা থেকে নেমে গেল। বাইরে কী হচ্ছে জানার জন্য।
গু_লির শব্দের উৎস নিয়ে আলোচনা করে বের করা হলো গলির মাথায় কোনো বাড়িতে স্না*ই*পার আছে। গলি থেকে বের হলেই গু_লি করবে। কিন্তু কোন বিল্ডিং এ স্না*ই*পার সেটা জানে না কেউ। আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে হলে মেইন রোডে যেতে হবে। যদিও এটা যাত্রাবাড়ী। মেইন রোডে যাওয়ায় অনেকগুলো রাস্তা আছে। আশেপাশের গলি থেকেও সেইম তথ্য এলো। গলি থেকে বের হতেই অদৃশ্য স্থান থেকে তাদের উপর গু_লি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নিল যে করেই হোক স্না*ই*পারের লোকেশন বের করতে হবে। এটা বের করার জন্য জানবাজ কিছু লোক দরকার যার গু_লি খাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কয়েকজনকে আগে গলি থেকে বের হতে হবে। পেছনে পেছনে কিছু লোক দেখবে কোন বাসা থেকে গু_লি করছে। কে হবে সেই জা@নবাজ?
ইন্টার পড়ুয়া একটা ছেলে আগে যেতে রাজি হলো। সে একা একা আগে যাবে।
ছেলেটার নাম অনিক। সে বন্ধুর সাথে কোলাকুলি করল। এক বন্ধুর কানে কানে বলল "আমার কিছু হলে মাকে সান্ত্বনা দিস।" বন্ধু দুষ্টামি করে উত্তর দিল "আর তোর ক্রাশ?" অনিক উত্তর দিল "তাকে আমার কথা বলিস।'
হাসিমুখে অনিক গলির মুখের দিকে এগোলো। তার চোখে সতর্ক দৃষ্টি। আগে যেখানে মারুফ গু_লি খেয়েছে ঠিক সেই স্থানে আসার সাথে সাথে গু_লির শব্দ শোনা গেল। এদিকে অনিক আগে থেকেই একে বেঁকে চলছিল। গু_লি তার গায়ে লাগে নাই। তবে গু_লিটা আশেপাশের কোথাও দিয়ে গেছে বোঝা গেছে। অনিক পেছন দিকে না গিয়ে সামনের দিকে দৌড় দিল। এবার আরেকটা গু_লি হলো। এটাও অনিকের গায়ে লাগে নাই। এদিকে অনিকের পেছন পেছন আরো ২ টা ছেলে এলোমেলো ভাবে দৌড়াচ্ছিল। পেছন থেকে শরীফ আর শাহাদাৎ ভাই মোটামুটি একটা ধারনা পেলেন কোন বিল্ডিং থেকে গুলি করেছে। এদিকে অনিক ও ২ টা ছেলে গলির মাথায় পৌঁছে গেছে। তারা একটা বিল্ডিং এর ঠিক নিচে অবস্থান করছে। এখানে উপর থেকে কেউ গুলি করতে পারবে না। এদিকে শরীফ আর শাহাদাৎ আগের জায়গায় ফিরে গেল। সেখানে এখন মিনিমাম ১০০ জন আন্দোলনকারী। আরো অনেকেই জড়ো হচ্ছে।
সবাই ইতিমধ্যে জেনে গেছে গলির মুখে অদৃশ্য স্না*ই*পার অবস্থান করছে। কোন বিল্ডিং থেকে গু_লি করা হয়েছে সেই ধারনাও পেয়ে গেছে। তারা এটা নিয়ে বলাবলি করল। এক পর্যায়ে তারা জানতে পারল ঐ বিল্ডিংটার মালিক এক আ@ওয়ামী*লীগ নেতা। তার মানে তাদের ধারণা সঠিক। আ@ওয়ামী*লীগ নেতার বাসায় পুলিশ অথবা আ@ওয়ামী*লীগের স্না*ই*পার অ_স্ত্র তাক করে বসে আছে।
বিল্ডিং টা ৬ তলা। গু_লি করা হয়েছে ৩ থেকে ৬ তলার মধ্য থেকে যেকোনো একটা ফ্ল্যাট থেকে। গলির যে পয়েন্টে ভোরে মারুফ গু_লি খেয়েছে সেখান থেকে ৪/৫/৬ তলা ভালো করে দেখা যায়। তার মানে ৩ তলা থেকে গু_লি করা হয় নি। আবার ছাদ থেকেও গু_লি করা হয় নি। এদিকে ২ টা করে মোট ৬ টা ফ্ল্যাট আছে। ৩ টা ফ্ল্যাট আগেই বাদ দেয়া হলো। কারণ এই ৩ টা ফ্ল্যাট থেকে মেইন রোডের দিকে গু_লি করা যাবে, গলির ভেতরের দিকে নয়। ৪/৫ ও ৬ তলাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা হলো কিন্তু কাউকে দেখা গেলো না। ৫ তলার একজন মহিলা বারান্দায় এসে কী যেন দেখে রুমে ঢুকে গেলেন। তার মানে ৫ তলাতেও স্না*ই*পার নেই। অর্থাৎ ৪ ও ৬ তলার এদিকের ফ্ল্যাটের যেকোনো একটায় স্না*ই*পার আছে। এখন আন্দোলনকারীরা টার্গেট নিয়েছে এই বিল্ডিং এর দখল নিবে। তারপর বিল্ডিং এ ঢুকে স্না*ই*পারকে বের করবে। কাজটা খুবই ভয়ানক কারণ আ@ন্দোল*নকারী কারো হাতে পি_স্তল নাই। লা*ঠি ও ইটের টুকরাই একমাত্র ভরসা।
আ@ন্দোলন*কারীরা এক এক করে গলির বিল্ডিং গুলোর দেয়ালের সাথে গা ঘেঁষে ঘেঁষে মেইন রোডের দিকে এগোলো। একজন একজন করে আগানোর কারণে উপর থেকে কেউ দেখার সুযোগ নেই। তাই গু_লিও হলো না।
৫ মিনিটের মধ্যে আ@ওয়ামী*লীগ নেতার বাড়ির সামনে প্রায় শ খানেক আ@ন্দোলন*কারী হাজির হয়ে গেল।
👍2❤1
এদিকে দারোয়ান এত লোক দেখে ভয় পেয়ে গেল। তাকে হুমকি ধামকি দিতেই সে গেইট খুলে দিল। সবাই এলাকার স্থানীয় পোলাপান। এদেরকে ক্ষেপিয়ে দারোয়ানের চাকরি করা যাবে না। গেইট খোলা পেয়েই হুড়মুড় করে ছাত্ররা বিল্ডিং এ ঢুকে পড়ল। একদল ৪ তলার টার্গেটেড ফ্ল্যাটের দরজায় আরেকদল ৬ তলার ফ্ল্যাটের দরজা ধাক্কা দিতে লাগল। ৪ তলার দরজা খুলল না কিন্তু ৬ তলার দরজা খুলে ফেলল। ভেতরে ভয়ার্ত বাসার লোকজনকে দেখে বুঝল এখানে কোন স্না*ই*পার থাকার কথা না। ৪ তলার দরজা কেউ খুলছে না। শব্দ শুনে পাশের রুমের দরজা খুলে একজন দেখা দিয়ে বললেন "এই বাসাটা ফাঁকা।" ফাকা বাসার কথা শুনে পোলাপাইনদের উৎসাহ আরো বেড়ে গেল। এক পর্যায়ে তারা দরজা ভেংগে ফেলল। ভেতরে হুড়মুড় করে ঢুকেই তারা সেই কাঙ্ক্ষিত স্না*ই*পারের দেখা পেল। পুলিশের পোষাক পরা দুইজন লোক রা@ই*ফেল হাতে এই বাসায় অবস্থান করছে। এই বাসাটা আসলেই ফাঁকা। দুইজন পুলিশ প্রাণ ভিক্ষার উদ্দেশ্যে মাফ চাওয়ার ভঙ্গিতে হাত জোড় করে রাখল। উত্তেজিত জনতার এখন এসব দেখার সময় নেই। তারা পুলিশ দুইজনকে উত্তম মধ্যম লাগানো শুরু করল। একজন এক রুমে দুইটা রা@ই*ফেল খুজে পেল। রাই@ফে*লের নল এখনো গরম। তার মানে এই রা@ই*ফেল থেকেই গু_লি করা হয়েছে। পুলিশ দুইজনকে মা*রতে মা*রতে বিল্ডিং এর নিচে নামানো হলো। এদিকে শোরগোল টের পেয়ে বিল্ডিং এর মালিক পালিয়ে গেল। তাকে অবশ্য বিল্ডিং এ হা@মলা*কারী আ@ন্দোলন*কারীরা চিনত না। চিনলে তার পালানোর সুযোগ হতো না।
আধা ঘণ্টা পরে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে দুইটা উলঙ্গ লা_শ ঝুলে রইল। তাদের পা উপরের দিকে আর মাথা নিচের দিকে। এদিকে সূর্য উঠে গেছে। রাস্তায় হাজার হাজার মাদ্রাসার ছাত্র তাকবির ধ্বনি দিচ্ছিল। আশেপাশের মাদ্রাসা থেকে পঙপালের মত ছাত্র আসছিল। খু_নি পুলিশের এই পরিণতি দেখে সমবেত জনতার উৎসাহ বেড়ে গেলো। আজকে যাত্রাবাড়ীর বেরিকেড ভাঙতেই হবে। এমনিতেই যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর ব্রীজ ৩ দিন ধরে অচল৷ কয়েকশো গাড়ির চাকা পাংচার করে রাখা হয়েছে। চাইলেও এখান দিয়ে কোনো গাড়ি আসা যাওয়া করতে পারবে না। ১৮ জুলাই ২০২৪ ছিল আ@ন্দো*লনের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন।
মূল লেখার লিংক—
https://www.facebook.com/share/p/15uvSCkKT8/
আধা ঘণ্টা পরে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে দুইটা উলঙ্গ লা_শ ঝুলে রইল। তাদের পা উপরের দিকে আর মাথা নিচের দিকে। এদিকে সূর্য উঠে গেছে। রাস্তায় হাজার হাজার মাদ্রাসার ছাত্র তাকবির ধ্বনি দিচ্ছিল। আশেপাশের মাদ্রাসা থেকে পঙপালের মত ছাত্র আসছিল। খু_নি পুলিশের এই পরিণতি দেখে সমবেত জনতার উৎসাহ বেড়ে গেলো। আজকে যাত্রাবাড়ীর বেরিকেড ভাঙতেই হবে। এমনিতেই যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর ব্রীজ ৩ দিন ধরে অচল৷ কয়েকশো গাড়ির চাকা পাংচার করে রাখা হয়েছে। চাইলেও এখান দিয়ে কোনো গাড়ি আসা যাওয়া করতে পারবে না। ১৮ জুলাই ২০২৪ ছিল আ@ন্দো*লনের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন।
মূল লেখার লিংক—
https://www.facebook.com/share/p/15uvSCkKT8/
Facebook
Log in or sign up to view
See posts, photos and more on Facebook.
❤5👍5