জ্ঞান - Knowledge
2K subscribers
1.27K photos
21 videos
10 files
462 links
🙂🙂🙂
Download Telegram
আমল: ৫৮
সুরা ইখলাছের ফজিলত :-
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'তোমরা কি কেউ প্রতি রাতে কোরআন মাজীদের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে অক্ষম? তাহলে সে প্রতি রাতে সুরা ইখলাছ পড়বে। তাহলে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াতের সাওয়াব পাওয়া যাবে।' (মুসনাদে আহমদ : ২৩৫৫৪)

আমল: ৫৯
গোপনে নফল পড়ার ফজিলত :-
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'জনসম্মুখের তুলনায় লুকিয়ে নফল নামাজ পড়ার মধ্যে ২৫ গুণ বেশি সাওয়াব।

আমল_৬০
মানুষের উপকার করার ফজিলত :-
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে কিছুক্ষণ সময় দেওয়া আমার কাছে এক মাস মসজিদে ইতেকাফ করার চেয়েও বেশি পছন্দনীয়।' (আল মু'জামুল কাবির : ১৩৬৪৬)

আমল : ৬১
আমলের নিয়তেও সাওয়াব মেলে :-
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'যদি কোনো ব্যক্তি রাতে শয়নকালে এই নিয়ত করে যে সে রাতে উঠে নামাজ পড়বে; কিন্তু প্রচণ্ড ঘুমের কারণে সকাল হয়ে যায়, তাহলে সে তার নিয়ত অনুযায়ী নামাজের সওয়াব পাবে। আর ঘুমটা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সদকাস্বরূপ হবে। (নাসায়ি : ১৭৮৭)

আমল: ৬২
রোগী দেখার ফজিলত :-
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান ভাইয়ের রোগের খোঁজখবর নেয়, আল্লাহ সত্তর হাজার ফেরেশতাকে তার মাগফিরাতের দোয়ায় নিযুক্ত করে দেন। সে দিনের যে সময়ই তা করবে, ফেরেশতারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করবে। আর রাতের যে সময়ই করবে, ফেরেশতারা ফজর পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করবে।' (মুসনাদে আহমদ : ৯৫৫)

আমল: ৬৩
বিশুদ্ধ নিয়ত :-
নিয়ত অর্থ সংকল্প। এটি মনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আমল। প্রত্যেক কাজ, তা দ্বীনী কাজ হোক কিংবা দুনিয়াবী, শুরুতেই নিয়তকে শুদ্ধ করা কর্তব্য। সব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার সংকল্পই হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। এই নিয়ত মুমিন বান্দার ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সকল কাজকেই নেকির কাজে পরিণত করতে পারে। হাদিসে আছে, হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করিম (সা.) কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার নিয়ত সে করবে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্যই হবে। আর যে দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত উক্ত বিষয়ের জন্যই হবে, যার জন্য সে হিজরত করেছিল। -সহিহ বোখারি, হাদিস- ১; সহিহ মুসলিম হাদিস- ১৯০৭

আমল: ৬৪
আবু যার (রা:) থেকে রেওয়ায়েত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ-
তিন ব্যক্তির সাথে রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক কথা বলবেন না। তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। তাদেরকে পবিত্র করবেন না। আর তদের জন্য রয়েছে ভীষণ আযাব। রেওয়ায়েতকারী বলেন তিনি এ আয়াতটি তিনবার পড়লেন । আবু যার (রা:) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ), তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হলো: যে ব্যক্তি টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে , যে ব্যক্তি দান করে খোটা দেয় এবং যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ করে মাল বিক্রি করে। (মুসলিম-ঈমান পর্ব:১৯৫)

আমল: ৬৫
হযরত নবী করিম (সা.) বলেছেন, কোনো সৎ কাজকেই কখনো তুচ্ছ জ্ঞান করবে না। যদিও তা হয় তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাত। -সহিহ মুসলিম, কারণ এই ধরনের সহজ আমলের মধ্যেও অনেক সময় নিহিত থাকে অনেক প্রাপ্তি ও পুরষ্কার। হাদিস শরিফে এমন অনেক আমলের বর্ণনা পাওয়া যায়, যা করতে সহজ, কিন্তু এর বিশাল প্রাপ্তি ও পুরষ্কারের কথা নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন।

আমল: ৬৬
আন-নওয়াস বিন সাম’আন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “উত্তম চরিত্র হচ্ছে নেকী, আর গোনাহ্ তাকে বলে যা তোমার মনকে সংশয়ের মধ্যে ফেলে এবং তা লোকে জানুক তা তুমি অপছন্দ কর।”[মুসলিম: ২৫৫৩]

আমল: ৬৭
আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন :-
আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন জানাবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুত্‌বা দেয়ার জন্য বের হন তখন মালাইকা (ফেরেশতাগণ) যিক্‌র শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৮৮১

আমল: ৬৮
রাসূল (সা:) বলেন.... "অন্ধকারের মধ্যে যাহারা মসজিদে বেশী বেশী যাতায়ত করে, কিয়ামতের দিনের জন্য তাহাদেরকে পূর্ণ নূরের সুসংবাদ শুনাও।" —(আল হাদীস
আমল: ৬৯
হযরত আবু হুরাইরহ রাদিয়াল্লহু আ’নহু
(أبىْ هريْرة رضى الله عنْه)
হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লহ সাল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, (যখন) কোন বান্দা অন্তরের এখলাসের সহিত, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে, তখন এই কালিমার জন্য নিশ্চিতরূপে আসমানের দরজাসমূহ খুলিয়া দেওয়া হয়। এমনকি এই কালিমা সোজা আরশ পর্যন্ত পৌঁছিয়া যায়। অর্থাৎ সাথে সাথেই কবুল হইয়া যায়। তবে শর্ত হইল, যদি এই কালিমা পাঠকারী কবীরা গুনাহ হইতে বাঁচিয়া থাকে। (তিরমিযী)

আমল: ৭০
ভালো কাজ মন্দ কাজকে মুছে দেয় :-
আবূ যার জুনদুব বিন জুনাদাহ্ এবং আবূ আব্দুর রহমান মু’আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত আছে, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তুমি যেখানে যে অবস্থায় থাক না কেন আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক মন্দ কাজের পর ভাল কাজ কর, যা তাকে মুছে দেবে; আর মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর।” [তিরমিযী]
والله اعلم بالصواب

উত্তর দাতা:
মোহাম্মদ আমীর হোসাইন, মুফতি ও মুহাদ্দীস,
শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, মোহাম্মাদপুর।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায় হলো MR (Measles-Rubella) টিকা নেওয়া। সরকারি রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে এটি বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

বেসরকারিভাবেও দেওয়া যায়। MMR (Measles-Mumps-Rubella) ভ্যাকসিন। চাইলে বড়োরাও এই ভ্যাকসিন নিতে পারে।

টিকা কখন দিতে হয়?

সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে হয়। একটি ডোজও মিস করা যাবে না।

এটি বাংলাদেশ সরকারের EPI শিডিউলের অন্তর্ভুক্ত।

তবে বর্তমানের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ৬ মাস বয়সীদেরও এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। (আসন্ন এই ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকেই হামের টিকা দেওয়া হবে। এমনকি আগে পূর্ণাঙ্গ/অপূর্ণাঙ্গ ডোজ দেওয়া থাকলেও। )

এই প্রসঙ্গে কয়েকটি কৌতুহলের জবাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

কেন এই টিকাটি ৯ মাসে গিয়ে দেওয়া হয়? যেখানে আরও বেশ কিছু টিকা আগেই দিয়ে ফেলা হয়?

জন্মের সময় শিশু তার মায়ের শরীর থেকে প্লাসেন্টার মাধ্যমে হাম প্রতিরোধের প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি নিয়ে জন্মায়। এই অ্যান্টিবডিগুলো শিশুকে জীবনের প্রথম কয়েক মাস সুরক্ষা দেয়।

আগে দেওয়া হয় কি?

হ্যাঁ, যদি কোনো এলাকায় হামের ব্যাপক আউটব্রেক দেখা দেয়, তবে অনেক সময় চিকিৎসকরা ৬ মাস বয়সেই একটি অতিরিক্ত ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেটিকে 'জিরো ডোজ' ধরা হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী ৯ মাস পূর্ণ হলে আবার নিয়মিত ডোজ দিতে হয়।

কেন ২ ডোজ?

প্রথম ডোজে প্রায় ৮৫-৯০% সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। বাকি ১০-১৫% ক্ষেত্রে যেন কোনো ঝুঁকি না থাকে, সেজন্য ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।

মনে রাখতে হবে, এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। এর সঙ্গে অটিজম বা প্রতিবন্ধত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। কন্সপিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এই মুহূর্তে যারা ছড়াবে তাদেরকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে হবে ও বর্জন করতে হবে।

টিকা দেবার পরেও কি হাম হতে পারে?

হ্যাঁ, পারে। বলা হয়, হামের টিকা প্রায় ৯০-৯৫% কার্যকর। তবে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, দীর্ঘমেয়াদি অসুখে ভোগে তাদের ক্ষেত্রে টিকা নেয়া থাকলেও হাম হতে পারে। তবে আশার বিষয় এই যে, টিকা নেয়া থাকলে সাধারণত হামের জটিলতা বেশ কম হয়।
ইস্তেখারা: যেকোনো হালাল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করুন।

ইস্তেখারা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো কল্যাণ কামনা করা। ইসলামে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। যখন কোনো হালাল (অনুমোদিত) বিষয়ে দ্বিধা বা সিদ্ধান্তহীনতা দেখা দেয়—যেমন বিয়ে, চাকরি, ব্যবসা, ভ্রমণ, শিক্ষা বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ—তখন আল্লাহ তা‘আলার কাছে হিদায়াত ও কল্যাণ চাওয়ার নামই ইস্তেখারা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজ করার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে, তারপর এই দোয়া পড়ে।” (সহিহ বুখারি)। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের সুরা শেখানোর মতো করে সাহাবায়ে কেরামকে প্রত্যেক কাজে ইস্তেখারা শেখাতেন। এটি শুধু হালাল বিষয়ের জন্য। হারাম কাজ বা ফরজ/ওয়াজিব বিষয়ে ইস্তেখারা করার প্রয়োজন নেই।

ইস্তেখারা কেন করবেন?

▪️আল্লাহর জ্ঞান অসীম, আমাদের জ্ঞান সীমিত। তিনি জানেন কোন কাজ আমাদের দুনিয়া-আখিরাতের জন্য কল্যাণকর।

▪️দ্বিধা দূর হয়, মনের শান্তি আসে।

▪️আল্লাহ যা সহজ করে দেন, সেটাই আমাদের জন্য ভালো।

ইস্তেখারা করার সঠিক নিয়ম (ধাপে ধাপে)

১. ওজু করুন: ভালোভাবে অজু করে নিন।

২. নিয়ত করুন: মনে মনে বলুন— “আমি আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত ইস্তেখারার নফল নামাজ পড়ছি।” (বাংলায় নিয়ত করলেও চলবে)।

৩. দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন:

▪️প্রথম রাকাতে: সুরা ফাতেহার পর যেকোনো সুরা পড়ুন (সুন্নাত: সুরা কাফিরুন)।

▪️দ্বিতীয় রাকাতে: সুরা ফাতেহার পর যেকোনো সুরা পড়ুন (সুন্নাত: সুরা ইখলাস)।

▪️নামাজ শেষে সালাম ফিরান।

৪. দোয়া পড়ুন:

▪️নামাজের পর দুই হাত তুলে আল্লাহর প্রশংসা করুন (যেমন: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার)।

▪️দরূদ শরীফ পড়ুন (যেকোনো দরূদ, যেমন দরূদ ইব্রাহিম)।

▪️তারপর ইস্তেখারার দোয়া পড়ুন। দোয়াটি মুখস্থ না থাকলে কাগজ থেকে দেখেও পড়া যায়।

▪️ইস্তেখারার দোয়া (আরবি):
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ ، وَأَسْتَعِينُكَ بِقُدْرَتِكَ ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلا أَقْدِرُ ، وَتَعْلَمُ وَلا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ () خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي وَعَاجِلِهِ وَآجِلِهِ ، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي وَعَاجِلِهِ وَآجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي ، وَاصْرِفْنِي عَنْهُ ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ، ثُمَّ رَضِّنِي بِهِ

▪️বাংলা উচ্চারণ:
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বিইলমিকা, ওয়া আস্তাকদিরুকা বিকুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আযীম। ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়া লা আকদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়া লা আ‘লামু, ওয়া আনতা আল্লামুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা (এখানে নিজের কাজের নাম বলুন, যেমন: “অমুকের সাথে বিয়ে” বা “অমুক চাকরি”) খাইরুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আকিবাতি আমরী ওয়া ‘আজিলিহী ওয়া আ-জিলিহ, ফাকদুরহু লী, ওয়া ইয়াসসিরহু লী, সুম্মা বারিক লী ফীহ। ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আকিবাতি আমরী ওয়া ‘আজিলিহী ওয়া আ-জিলিহ, ফাসরিফহু আন্নী ওয়াসরিফনী আনহু, ওয়াকদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কানা সুম্মা আরদিনী বিহ।

▪️বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের সাহায্যে তোমার কাছে কল্যাণ চাইছি, তোমার কুদরতের সাহায্য চাইছি এবং তোমার মহান অনুগ্রহ চাইছি। তুমিই সবকিছু করতে পারো, আমি পারি না। তুমি জানো, আমি জানি না। তুমি গায়েবের জ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে, এই কাজ (এখানে নিজের বিষয় বলুন) আমার দ্বীন, জীবিকা ও পরিণামের (দুনিয়া-আখিরাত) জন্য কল্যাণকর, তাহলে তুমি এটাকে আমার জন্য নির্ধারিত করে দাও, সহজ করে দাও এবং এতে বরকত দাও। আর যদি তুমি জানো যে, এটা আমার জন্য ক্ষতিকর, তাহলে এটাকে আমার থেকে দূর করে দাও, আমাকে এর থেকে দূর করে দাও এবং যেখানে কল্যাণ থাকে সেখানে কল্যাণ নির্ধারিত করে দাও, তারপর আমাকে এতে সন্তুষ্ট করে দাও।

৫. দোয়ার পর করণীয়:

▪️নিজের বিষয়টি মনে করে আল্লাহর উপর ভরসা করুন।

▪️ঘুমানোর আগে বা সাধারণভাবে চিন্তা করুন। কখনো স্বপ্নে ইঙ্গিত আসতে পারে, কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক নয়।

▪️মূল লক্ষণ: হৃদয়ে যে কাজের প্রতি স্বস্তি ও সহজতা অনুভব হয়, সেটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালো। যেটায় অস্বস্তি হয়, সেটা এড়িয়ে চলুন।

▪️যদি একবারে সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে ৩-৭ দিন পর্যন্ত ইস্তেখারা চালিয়ে যান।

গুরুত্বপূর্ণ কথা

▪️আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের সঙ্গে করুন। শুধু নামাজ-দোয়া নয়, আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখুন।

▪️ইস্তেখারার পরও সাধারণ চেষ্টা (ওয়াসিলা) চালিয়ে যান—যেমন পরামর্শ নেওয়া, তথ্য সংগ্রহ করা।
▪️ইস্তেখারা করলে আল্লাহ কখনো খারাপের দিকে ঠেলে দেন না। তিনি যা দেন, তাতেই বরকত ও কল্যাণ থাকে।

প্রত্যেক হালাল সিদ্ধান্তের আগে ইস্তেখারা করুন। এতে আল্লাহর রহমতে ভুলের সম্ভাবনা কমে যায় এবং মনের শান্তি পাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।

(উপরোক্ত নিয়ম ও দোয়া সহিহ হাদিস ও বিশ্বস্ত ইসলামিক সোর্স অনুসারে সংকলিত।)
শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্কের জন্য বিয়ে কইরেন না। বরং এমন একজন সঙ্গী খুঁজে নিন, যার সঙ্গে ভালোবাসা, বোঝাপড়া এবং মানসিক সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়।

ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই সুন্দর হয়ে ওঠে, এমনকি শারীরিক সম্পর্কও স্বাস্থ্যকর ও পরিপূর্ণ হয়।

অন্যথায়, আপনি না পাইবেন প্রকৃত ভালোবাসা, না পাবেন একটি সুস্থ ও সুখী দাম্পত্য জীবন।
6
ফ্যামিলি প্রেশার আর টাকার সংকট, এই দুইটা একসাথে আসলে কী হয় সেটা আমি জানি
হ্যাঁ, আমি জানি।
থিউরি থেকে না। বই পড়ে না। নিজে পার করে আসছি বলে জানি।

ধরো একটা সময়, যখন মাসের শেষে ঘরে চাল নাই, আর বাইরে মুখ দেখানোর উপায় নাই। আত্মীয়রা জিজ্ঞেস করতেছে কী করতেছ, কোথায় যাইতেছ, কবে সব হবে।
আর তুমি হাসিমুখে বলতেছ, হ্যাঁ ভালোই আছি, সব ঠিক হয়ে যাবে। ভেতরে ভেতরে জানো কিছুই ঠিক নাই। কিন্তু সেটা বলার জায়গা নাই, বলার মানুষ নাই, বললেও লাভ নাই।

এই অনুভূতিটার নাম কী জানো? এটাকে বলে একা যুদ্ধ করা। আর এই যুদ্ধটা দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ। কারণ এই যুদ্ধে বাইরের শত্রুর সাথে লড়তে হয় না। লড়তে হয় নিজের মাথার ভেতরের সেই কণ্ঠস্বরের সাথে যেটা বলে, তোমার দিয়ে হবে না।

একজন একটা কমেন্টে বলতেসিল সেদিন আমি এই স্ট্রাগল নিয়ে বলা এড়িয়ে যাই। হয়তো সত্যি। কারণ এটা কঠিন। এটা নিয়ে কথা বলতে গেলে সহজ কোনো উত্তর দেওয়া যায় না। আর আমি সহজ উত্তর দিতে অভ্যস্ত না বলে কঠিন উত্তরটা দিতে সাহস করিনি।

ফ্যামিলি প্রেশার আর ফাইনান্সিয়াল সংকট একসাথে আসলে একটা মানুষের ভেতরে কী হয় সেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। বাইরে থেকে মনে হয় লোকটা কেন এগোইতেছে না। কেন চেষ্টা করতেছে না। কেন অলস হয়ে বসে আছে।

কিন্তু ভেতরে কী হইতেছে জানো? ভেতরে একটা মানুষ প্রতিদিন সকালে উঠে নিজেকে বলতেছে আজকে কিছু একটা করবো। আর রাতে ঘুমাইতে যাওয়ার সময় ভাবতেছে আজকেও হলো না। এই সাইকেলটা যে পার করেছে সে জানে এটা কত ভারী।

কিন্তু এইখানেই একটা কথা বলা দরকার। কঠিন কথা।

কষ্ট সত্যি। পরিস্থিতি সত্যি। ফ্যামিলির চাপ সত্যি। টাকার অভাব সত্যি। এর কোনোটাই অস্বীকার করছি না। কিন্তু এই সত্যিগুলো তোমার থামার কারণ হতে পারে, থামার পারমিশন না।

পার্থক্যটা বুঝলে?

কারণ আর অনুমতি এক জিনিস না।

বাংলাদেশে এমন হাজারো মানুষ আছে যারা একই পরিস্থিতি থেকে বের হয়েছে। তারা কোনো মিরাকেলে বের হয়নি। লটারি জিতে বের হয়নি। বের হয়েছে একটা একটা করে ছোট সিদ্ধান্ত নিয়ে। আর সেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার সময় পরিস্থিতি ভালো ছিল না। পরিস্থিতি খারাপ থাকতে থাকতেই নিয়েছে।

তাহলে তারা কী করেছে?

প্রথমত তারা রিসোর্স না খুঁজে স্কিল খুঁজেছে। টাকা না থাকলে কোর্স কেনা যায় না, এটা সত্যি। কিন্তু ইউটিউব ফ্রি। লাইব্রেরি ফ্রি। সিনিয়রদের কাছ থেকে শেখা ফ্রি। যে ফ্রিতে পাওয়া যায় সেটা আগে শেষ করো। তারপর টাকার কথা বলো। বেশিরভাগ মানুষ ফ্রি রিসোর্সের ১০ ভাগও ব্যবহার করেনি, কিন্তু বলতেছে সুযোগ নাই।

দ্বিতীয়ত তারা ফ্যামিলির চাপকে জ্বালানি বানিয়েছে, বোঝা না। ফ্যামিলি প্রেশার দিতেছে মানে ফ্যামিলি তোমার কাছ থেকে কিছু আশা করে। সেই আশাটা ব্যবহার করো। কেউ তোমার দিকে তাকিয়ে আছে মানে তুমি গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বটাকে কাজে লাগাও। কান্না করতে করতে না, দাঁত কামড়ে ধরে।

তৃতীয়ত তারা একটাই জিনিসে ফোকাস করেছে। ফাইনান্সিয়াল সংকটে থাকলে একসাথে দশটা সমস্যা সমাধান করতে যাওয়া যায় না। একটা বেছে নাও। এই মাসে শুধু এই একটা স্কিল। এই সপ্তাহে শুধু এই একটা কাজ। ছোট করে শুরু করো। কারণ কিছু না করার চেয়ে ছোট কিছু করা অনেক বেশি ভালো।

এবার সবচেয়ে কঠিন কথাটা বলি।

কিছু সমস্যা আসলেই সিস্টেমের। দুর্নীতি আছে, বৈষম্য আছে, সুযোগের অসমতা আছে। এগুলো একা একা বদলানো যায় না। এটা সত্যি। কিন্তু সিস্টেম বদলানোর জন্য অপেক্ষা করতে গেলে তোমার জীবনটা চলে যাবে। সিস্টেম বদলায় ধীরে। জীবন চলে দ্রুত।

তাই দুইটা কাজ একসাথে করতে হবে। সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়তে হবে, আর নিজেকেও গড়তে হবে। একটা ছেড়ে আরেকটা না। দুইটাই।

তুমি যে পরিস্থিতিতে আছ সেটার জন্য তুমি দায়ী না। কিন্তু সেই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার দায়িত্ব তোমার। এই দুইটা কথা একসাথে সত্যি। প্রথম কথাটা তোমাকে নিজেকে দোষ না দিতে শেখায়। দ্বিতীয় কথাটা তোমাকে বসে না থাকতে শেখায়।

দুইটা কথাই মনে রাখো।

আমি জানি এটা সহজ না। আমি নিজে পার করে আসছি বলেই জানি। কিন্তু এটাও জানি, যারা এই কষ্টটা পার করতে পেরেছে, তারা পরে বলেছে ওই কঠিন সময়টাই আমাকে তৈরি করেছে।

তোমার সময়টাও তোমাকে তৈরি করতেছে।
শুধু ভেঙে পড়ো না।
আল্লাহ ভরসা।
3
ইয়া আল্লাহ!'যদি আমার ভাগ্য আগে থেকেই লিখা থাকে তাহলে কেনো আমি আপনার কাছে চাইবো?'

“আল্লাহ” হাসলেন এবং বললেন, "কিছু পৃষ্ঠায় আমি এমনও লিখে রাখতে পারি তুমি যা চাইবে তাই তোমাকে দেওয়া হবে!'

আল্লাহ বলেন, "তোমরা আমার কাছে দোয়া করো আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো"!'🤍

(সূরা মুমিন, আয়াত ৬০)
5
‎এক ছোট ভাই জানতে চেয়েছে, পড়াশুনার পাশাপাশি সে কোন স্কিল ডেভেলপ করতে পারে? তাকে কথা দিয়েছিলাম এ বিষয়ে পোস্ট দেব, সেই কারণেই এ লেখা।

‎# আমি যদি আগের মত চিন্তাভাবনা করতাম, তাহলে হয়ত বলতাম AI এর উপর কোর্স কর, বা মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ শিখ। কিন্তু বাংলাদেশ এবং বিশ্বের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় আমি বলব, বরং গ্রামে যদি নিজের জমি থাকে, তবে সেখানে চাষাবাদ কিভাবে করবে, গবাদি পশু কিভাবে পালবে, কিভাবে মাছ চাষ করবে সেটার উপর একটা ট্রেনিং নিয়ে নাও।

‎শুনতে হয়ত কারও কারও খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু বৈশ্বিক বাস্তবতা এবং বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণের আলোকে আমার ধারণা বাংলাদেশ সামনে একটা খাদ্য সংকটে পড়বে। রাসূল সা. এর ফিতনার যুগে শহুরে জনপদ থেকে দূরে পশুচারণের নির্দেশনায় আমার কাছে মনে হচ্ছে প্রত্যেক পরিবারের নিজস্ব খাদ্য উৎপাদনের একটা মেকানিজম সেট করা উচিত।

‎আমি এটাকে প্রায়োরিটি দেব।

‎# যে প্রশ্ন করেছে, তার বয়স ১৮-১৯... অনলাইনে কিছু ফ্রি কোর্স করা যায়, যেমন coursera আছে, এরকম আরও আছে। ওখান থেকে কিছু প্রযুক্তি বিষয়ক কোর্স করে নিতে পার। এটা তোমার নিজেকেই করতে হবে। একটা এক্সট্রা সার্টিফিকেট এবং স্কিল থাকল।

‎# এই বয়স থেকে নিয়মিত ব্যায়াম করতে শুরু কর। প্রতিদিনের রুটিনে একটা সময় রাখ। এটা এজন্য না যে, মেয়েদেরকে বডি দেখাতে হবে, বরং এটা এজন্য যে আল্লাহ শক্তিশালী মুমিন পছন্দ করেন এবং কিয়ামতের একটা নিদর্শন হল ভুড়িওয়ালা লোকের আধিক্য।

‎পারলে আত্মরক্ষামূলক কোন কৌশল, ক্যারাটে বা তাইকোয়ান্দো শিখে ফেল। যে যমানা আসছে, নিজের মা-বোন-স্ত্রীকে নিজের নিরাপত্তা দিতে হবে।

‎# রুটিন বদলায়া ফেলো। আমরা এটা পারিনাই, তোমরা এটা কর। অনেকেই দেখবা দাওয়াহ করার অযুহাতে রাতের ১১ টা পর্যন্ত বাইরে দাওয়াহ করে। কিন্তু কোন বরকত নাই। কেনো জানো? কারণ, আল্লাহ এভাবে টাইম সেট করেননাই। এশার মধ্যে সব কাজ শেষ করে ফেল। আমি বলব হাইয়েস্ট গেলে ১০ টা। এসময় ঘুমিয়ে যাও, নিশ্চিতভাবেই তাহাজ্জুদে উঠতে পারবে। ফজরের পর ঘুমিয়োনা।

‎রিজিকের এমন একটা সন্ধান কর, যেটা ফজরের পর করা যায়, টিউশনি কিংবা কাউকে কুরান শিখানো বা গাছ লাগানো বা হোয়াটেভার, যেটাই হোক।

‎# বিয়ের জন্য কখনও অন্যের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবেনা তা বাপ মাই হোক, কিংবা কোন দাঈ ভাই ব্রাদার। বিয়ের জন্য ছেলেরা নিজেরা নিজের ওয়ালী, আল্লাহ এটা এমনে এমনে করেননাই। তোমার যদি মনে হয়, বিয়ে করা দরকার এবং সম্মানের সাথে স্ত্রীকে পরিচালিত করতে পারবে, বিয়ে করে ফেলবে। কোন বড় ভাই কি বুদ্ধি দিল ওগুলো আমলে নিবেনা।

‎আপাতত আমার পরামর্শ এটুকুই।
3👍2
৫ জন নবী যেভাবে রিজিক চেয়েছেন — আপনি কোন দোয়াটা পড়বেন?

রিজিকের জন্য আমরা কার কাছে যাই?

বসের কাছে। কোম্পানির কাছে। ব্যাংকের কাছে। আত্মীয়ের কাছে। সরকারের কাছে।

কিন্তু নবীরা? তাঁরা শুধু একজনের কাছে গেছেন — আল্লাহর কাছে।

আর সবচেয়ে সুন্দর বিষয়? ৫ জন নবী ৫টা সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে রিজিক চেয়েছেন। কেউ একা-পরদেশি হয়ে। কেউ পরিবারের জন্য। কেউ শুকরিয়া জানিয়ে। কেউ মুজিযা হিসেবে। কেউ প্রতিদিনের রুটিন হিসেবে।

আর আল্লাহ প্রতিবার দিয়েছেন।

আজ এই ৫টা দোয়া জানুন — আর আপনার পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে আমল শুরু করুন।

---

দোয়া ১: মুসা (আ.) — যখন কিছুই নেই, শূন্য থেকে শুরু

মুসা (আ.) মিসর থেকে পালিয়ে মাদইয়ানে এসেছেন। ঘর নেই। চাকরি নেই। টাকা নেই। খাবার নেই। পরিবার নেই। একা। পরদেশি। ক্ষুধার্ত।

কূপের পাশে দুই মেয়েকে সাহায্য করলেন — তাদের পশুদের পানি খাইয়ে দিলেন। বিনিময়ে কিছু চাননি।

তারপর গাছের ছায়ায় বসে আল্লাহর কাছে বললেন —

رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকীর।

"হে আমার রব, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাযিল করবেন — আমি তার মুখাপেক্ষী।"
(সূরা কাসাস: ২৪)

তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি কী চান। বলেননি "চাকরি দাও" বা "টাকা দাও।" বলেছেন — "যেকোনো খাইর, আমি মুখাপেক্ষী।"

আল্লাহ কী দিলেন? একসাথে সব — বিয়ে, ঘর, চাকরি, পরিবার, নিরাপত্তা।

কখন পড়বেন? যখন জীবনে কিছুই নেই। চাকরি হারিয়েছেন। ব্যবসা ডুবে গেছে। শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে। তখন এই দোয়া পড়ুন — আল্লাহ চাওয়ার চেয়ে বেশি দেবেন।

---

দোয়া ২: ইবরাহীম (আ.) — যখন পরিবারের রিজিকের চিন্তা

ইবরাহীম (আ.) স্ত্রী হাজেরা ও শিশু ইসমাঈলকে মক্কার জনমানবশূন্য মরুভূমিতে রেখে যাচ্ছিলেন। আল্লাহর নির্দেশে। সেখানে কিছুই নেই — পানি নেই, খাবার নেই, মানুষ নেই, ছায়া নেই।

একজন বাবার কেমন লাগছিল ভাবুন — নিজের স্ত্রী-সন্তানকে মরুভূমিতে রেখে যেতে হচ্ছে।

তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন —

رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنتُ مِن ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِندَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِّنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُم مِّنَ الثَّمَرَاتِ

উচ্চারণ: রাব্বানা ইন্নি আসকানতু মিন যুররিইয়্যাতি বিওয়াদিন গাইরি যি যারঈন ইনদা বাইতিকাল মুহাররাম, রাব্বানা লিইউকিমুস সালাহ, ফাজআল আফইদাতাম মিনান নাসি তাহওয়ি ইলাইহিম ওয়ারযুকহুম মিনাস সামারাত।

"হে আমাদের রব, আমি আমার বংশধরদের চাষাবাদহীন এক উপত্যকায় আপনার পবিত্র ঘরের কাছে বসিয়ে রেখেছি — যাতে তারা নামাজ কায়েম করে। তাই মানুষের হৃদয়কে তাদের দিকে আকৃষ্ট করুন এবং তাদের ফলমূল দিয়ে রিজিক দান করুন।"
(সূরা ইবরাহীম: ৩৭)

খেয়াল করুন — ইবরাহীম (আ.) রিজিকের আগে কী বলেছেন? "লিইউকিমুস সালাহ" — যাতে তারা নামাজ কায়েম করে। মানে তিনি রিজিক চেয়েছেন — কিন্তু উদ্দেশ্য বলেছেন আল্লাহর ইবাদত।

আল্লাহ কী দিলেন? মরুভূমিতে যমযমের ঝর্ণা। সেই শুষ্ক জায়গা আজ পৃথিবীর সবচেয়ে জমজমাট শহর — মক্কা। লাখো মানুষ প্রতিবছর আসে।

কখন পড়বেন? যখন পরিবারের রিজিকের চিন্তায় আছেন। স্বামী হিসেবে সংসার চালাতে পারছেন না। বাবা হিসেবে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। তখন ইবরাহীম (আ.)-এর মতো চান — "ওয়ারযুকহুম মিনাস সামারাত" — আমার পরিবারকে রিজিক দিন।

---

দোয়া ৩: সুলাইমান (আ.) — যখন রিজিক পেয়ে শুকরিয়া জানাতে চান

সুলাইমান (আ.)-কে আল্লাহ দিয়েছিলেন এমন সাম্রাজ্য যা কাউকে দেননি। বাতাস তাঁর অধীনে। জিন তাঁর অধীনে। পশু-পাখির ভাষা বুঝতেন।

একদিন পিঁপড়ার কথা শুনে হাসলেন। তারপর আল্লাহর কাছে বললেন —

رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ

উচ্চারণ: রাব্বি আওযিনি আন আশকুরা নিমাতাকাল্লাতি আনআমতা আলাইয়্যা ওয়া আলা ওয়ালিদাইয়্যা ওয়া আন আমালা সালিহান তারদাহ।

"হে আমার রব, আমাকে তাওফিক দিন যেন আপনার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি — যা আপনি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দিয়েছেন — এবং যেন এমন নেক আমল করতে পারি যা আপনাকে সন্তুষ্ট করে।"
(সূরা নামল: ১৯)

এত বড় সাম্রাজ্যের মালিক — কিন্তু তিনি আরও সম্পদ চাননি। চেয়েছেন — শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক।

কারণ তিনি জানতেন — নেয়ামতে শুকরিয়া না করলে নেয়ামত চলে যায়। আর শুকরিয়া করলে আল্লাহ বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ নিজেই বলেছেন — "লাইন শাকারতুম লাআযীদান্নাকুম" — শুকরিয়া করলে বাড়িয়ে দেবো। (সূরা ইবরাহীম: ৭)

কখন পড়বেন? যখন আল্লাহ কোনো নেয়ামত দেন। চাকরি পেয়েছেন। বেতন বেড়েছে। ব্যবসায় লাভ হয়েছে। সন্তান হয়েছে। সুস্থ আছেন। তখন এই দোয়া পড়ুন — নেয়ামত টিকে থাকবে, আর বাড়বে।

---

দোয়া ৪: ঈসা (আ.) — যখন আল্লাহর কাছে সরাসরি রিজিক চান
ঈসা (আ.)-এর হাওয়ারিরা (সাহায্যকারীরা) তাঁকে বললেন — "আপনার রব কি আমাদের জন্য আসমান থেকে খাবারের টেবিল পাঠাতে পারবেন?"

ঈসা (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন —

اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ ۖ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বানা আনযিল আলাইনা মাইদাতাম মিনাস সামাই তাকুনু লানা ঈদাল লিআওয়্যালিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়াতাম মিনকা ওয়ারযুকনা ওয়া আনতা খাইরুর রাযিকীন।

"হে আল্লাহ, আমাদের রব, আমাদের ওপর আসমান থেকে একটি খাবারের টেবিল নাযিল করুন — যা আমাদের প্রথম ও শেষ সবার জন্য ঈদ হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে নিদর্শন হবে। আমাদের রিজিক দিন — আর আপনিই সর্বোত্তম রিজিকদাতা।"
(সূরা মাইদা: ১১৪)

শেষ কথাটা পড়ুন — "ওয়া আনতা খাইরুর রাযিকীন" — আপনিই সর্বোত্তম রিজিকদাতা।

আল্লাহ মাইদা পাঠিয়েছিলেন। আসমান থেকে। সরাসরি।

কখন পড়বেন? যখন রিজিকের জন্য সরাসরি আল্লাহর কাছে চাইতে চান। যখন মনে হয় সব দরজা বন্ধ — একটাই দরজা খোলা, আল্লাহর দরজা। তখন বলুন — "ওয়ারযুকনা ওয়া আনতা খাইরুর রাযিকীন" — আমাদের রিজিক দিন, আপনিই সবচেয়ে ভালো রিজিকদাতা।

---

দোয়া ৫: নবীজি ﷺ — প্রতিদিনের রিজিকের দোয়া

নবীজি ﷺ প্রতিদিন সকালে — ফজরের নামাজের পর — এই দোয়া পড়তেন —

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআন ওয়া রিযকান তাইয়িবান ওয়া আমালান মুতাকাব্বালান।

"হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিজিক এবং কবুলযোগ্য আমল চাই।"
(সুনানে ইবনে মাজাহ: ৯২৫)

তিনটা জিনিস একসাথে — জ্ঞান, রিজিক, আমল। আর "রিযকান তাইয়িবান" — শুধু রিজিক না, পবিত্র রিজিক। হালাল রিজিক। বরকতময় রিজিক।

নবীজি ﷺ এটা প্রতিদিন পড়তেন। রুটিন বানিয়েছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল — তারপরও প্রতিদিন রিজিক চাইতেন।

কখন পড়বেন? প্রতিদিন। ফজরের পর। ১০ সেকেন্ডের দোয়া। কিন্তু সারাদিনের রিজিকে বরকত আনতে পারে।

---

৫টা দোয়া — এক নজরে

মুসা (আ.) — কিছুই নেই, শূন্য থেকে শুরু?
"রাব্বি ইন্নি লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকীর"

ইবরাহীম (আ.) — পরিবারের রিজিকের চিন্তা?
"ওয়ারযুকহুম মিনাস সামারাত"

সুলাইমান (আ.) — নেয়ামত পেয়ে শুকরিয়া?
"রাব্বি আওযিনি আন আশকুরা নিমাতাক"

ঈসা (আ.) — সরাসরি আল্লাহর কাছে রিজিক চাওয়া?
"ওয়ারযুকনা ওয়া আনতা খাইরুর রাযিকীন"

নবীজি ﷺ — প্রতিদিনের রিজিকের দোয়া?
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা রিযকান তাইয়িবান"

৫ জন নবী। ৫টা ভিন্ন পরিস্থিতি। কিন্তু একটা কমন — সবাই আল্লাহর কাছে গেছেন। বস, কোম্পানি, সরকার — কারো কাছে না। শুধু আল্লাহর কাছে। আর আল্লাহ প্রতিবার দিয়েছেন।

শুধু এই ৫টা দোয়া না — কুরআন ও হাদিসে রিজিকের আরও অসংখ্য দোয়া ও আমল আছে। ইস্তিগফারে রিজিক বাড়ে, তাকওয়ায় রিজিকের দরজা খোলে, সদাকায় রিজিক কমে না — বরং বাড়ে। কোন দোয়া কখন পড়বেন, কোন আমল কীভাবে করবেন, রিজিকে বরকত আনার পূর্ণ সিস্টেম — এসব আরও বিস্তারিতভাবে, গুছিয়ে, হাতে রাখার মতোভাবে জানতে চাইলে "রিজিকে বরকতের আমল ও ওয়াজিফা" বইটি আপনার উপকারে আসতে পারে।

সংগ্রহ করতে WhatsApp করুন 01984-563362 নম্বরে, লিখুন "রিজিকের বই চাই"

আর যারা শুধু একটি বিষয় না, বরং সূরা, দোয়া, রিজিক, সন্তান, শিফা ও আমল — সবকিছু একসাথে গুছিয়ে রাখতে চান, তাদের জন্য আমরা সাজিয়েছি "গ্র্যান্ড মেগা কম্বো" — ৬টি বই একসাথে, পুরো পরিবারের আমল-লাইফের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।

✔️ কুরআনের সূরার আমল ও ফজিলত
✔️ রিজিকে বরকতের আমল ও ওয়াজিফা
✔️ কুরআনের বরকতময় দোয়া
✔️ সন্তান যেন নেক ও সালেহ হয়
✔️ আল্লাহর ৯৯ নামের আমল ও ওয়াজিফা
✔️ আয়াতে শিফা: রোগ ও চিকিৎসার আমল

সংগ্রহ করতে—
📩 Inbox বা WhatsApp: 01984-563362
📝 মেসেজ দিন: "গ্র্যান্ড মেগা কম্বো চাই"

অথবা বইগুলোর রিভিউ ও বিস্তারিত পড়ে অর্ডার করতে চাইলে
🔗 কমেন্টে দেওয়া লিংকে ক্লিক করুন।

---

মনে রাখবেন!

রিজিকের মালিক আল্লাহ। শুধু আল্লাহ।

মুসা (আ.)-এর কিছুই ছিল না — আল্লাহ একসাথে সব দিলেন। ইবরাহীম (আ.) পরিবারকে মরুভূমিতে রেখেছিলেন — আল্লাহ যমযম দিলেন, মক্কা দিলেন। সুলাইমান (আ.) শুকরিয়া করেছেন — আল্লাহ আরও দিয়েছেন। ঈসা (আ.) আসমান থেকে চেয়েছেন — আল্লাহ আসমান থেকেই দিয়েছেন। নবীজি ﷺ প্রতিদিন চেয়েছেন — আল্লাহ প্রতিদিন দিয়েছেন।

আপনার রিজিকের চিন্তা কোনটা?

কিছুই নেই? মুসা (আ.)-এর দোয়া পড়ুন।
পরিবারের চিন্তা? ইবরাহীম (আ.)-এর দোয়া পড়ুন।
নেয়ামত ধরে রাখতে চান? সুলাইমান (আ.)-এর দোয়া পড়ুন।
সরাসরি আল্লাহর কাছে চান? ঈসা (আ.)-এর দোয়া পড়ুন।
প্রতিদিনের বরকত চান? নবীজি ﷺ-এর দোয়া পড়ুন।

আল্লাহ রাযিক — রিজিকদাতা। তিনি দিয়েছেন, দিচ্ছেন, দেবেন। শুধু তাঁর কাছে চান।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিক দিন। রিজিকে বরকত দিন। অভাব দূর করুন। ঋণমুক্ত করুন। আর নবীদের দোয়ায় আমল করার তাওফিক দিন। আমিন।

এই ৫টা দোয়ার মধ্যে কোনটা আপনার সবচেয়ে বেশি দরকার?
কমেন্টে নম্বর লিখুন — ১/২/৩/৪/৫

রেফারেন্স:
— সূরা কাসাস: ২৪
— সূরা ইবরাহীম: ৭, ৩৭
— সূরা নামল: ১৯
— সূরা মাইদা: ১১৪
— সুনানে ইবনে মাজাহ: ৯২৫
— তাফসীরে ইবনে কাসীর

/EKRAMHOSSAIN
আজকাল আমরা অনেকেই ফোনের স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করি, যা অনেক সময় আমাদের মানসিক ক্লান্তি এবং সময়ের অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই আর্টিকেলটিতে ফোন থেকে দূরে থাকার একটি কার্যকর উপায় আলোচনা করা হয়েছে৷

১. সমস্যাটি কী?

আমরা যখন বিরক্ত বোধ করি বা আমাদের হাতে অল্প অবসর থাকে, তখন অবচেতনভাবেই পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রল করতে শুরু করি। এটি একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ফোন হাতে নেওয়ার পর আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে আমরা কেন তা হাতে নিয়েছিলাম এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটিয়ে দিই।

২. 'অ্যাক্টিভিটি লিস্ট' বা কাজের তালিকা কী?

ফোন স্ক্রলিংয়ের এই অভ্যাস ভাঙতে 'অ্যাক্টিভিটি লিস্ট' তৈরি করুন। এটি হলো এমন কিছু কাজের তালিকা যা আপনি ফোনের বিকল্প হিসেবে করতে পারেন। যখনই আপনার ফোন ব্যবহার করতে ইচ্ছে করবে, আপনি ফোন না ধরে এই তালিকা থেকে কোনো একটি কাজ বেছে নেবেন।

৩. তালিকার জন্য কিছু আইডিয়া:

বই পড়া: ফোনের বদলে হাতের কাছে সবসময় একটি বই রাখা।

ঘর গোছানো: মাত্র ৫ বা ১০ মিনিটের জন্য কোনো একটি ড্রয়ার বা টেবিল গোছানো।

হাঁটাচলা করা: বারান্দায় বা ঘরের ভেতরে একটু পায়চারি করা।

ডায়েরি লেখা: নিজের অনুভূতি বা সারাদিনের কাজের পরিকল্পনা লেখা।

নতুন কিছু শেখা: সৃজনশীল কোনো কাজ শেখা, যেমন- পেইন্টিং, সেলাই ইত্যাদি৷

৪. এটি কীভাবে কাজ করে?

দৃষ্টির সামনে রাখা: এই তালিকাটি ফোনের নোটস-এ না রেখে একটি কাগজে লিখে এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে আপনার নজর পড়ে (যেমন: ফ্রিজের দরজা বা পড়ার টেবিল)।

ছোট পদক্ষেপ: শুরুতেই বড় কোনো কাজ না করে ৫-১০ মিনিটের ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু করতে হবে।

সচেতনতা: ফোন হাতে নেওয়ার মুহূর্তে নিজেকে প্রশ্ন করা— "আমি কি আসলেই কোনো প্রয়োজনে ফোন ধরছি, নাকি স্রেফ অভ্যাসবশত?"

ফোন আমাদের অনেক সময় কেড়ে নেয় কারণ আমাদের হাতে অন্য কোনো বিকল্প তৈরি থাকে না। যদি আমাদের সামনে একটি আকর্ষণীয় কাজের তালিকা থাকে, তবে ফোন থেকে দূরে থাকা অনেক সহজ হয়ে যায়। এটি কেবল ফোন আসক্তিই কমায় না, বরং জীবনকে আরও অর্থবহ এবং উৎপাদনশীল করে তোলে।
____
1👍1
নতুন শিশুর মা-বাবা যা জানতে চায়

এমবিবিএস পড়ার সময় পেডিয়াট্রিক্সের প্রফেসর ম্যাডামকে আমি বেশ ভয় পেতাম। এতে উপকার যেটি হয়েছে সবচেয়ে ভালো পড়া হয়েছিল পেডিয়াট্রিক্সই।

আবিদ হোসেন মোল্লা স্যারের একটি লাল বই ছিল তখন, যেটির প্রায় পুরোটাই মেমোরাইজ হয়ে গিয়েছিল। যতোদূর মনে পড়ে, ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় পেডিয়াট্রিক্স থেকে কোনো প্রশ্নেই আটকাইনি।

পরবর্তী সময়ে ম্যাডামের মাতৃসুলভ স্নেহ ও আন্তরিকতা কখনও ভোলার না।

আমার কন্যা ইনশিরাহ মেহরিশ খান-এর জন্মের আগ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নিওন্যাটালজির (নবজাতক) দেশ-বিদেশের অথেন্টিক সোর্সের কতো আর্টিকেল যে পড়েছি তার কোনো হিসেব নেই!

নতুন শিশু যেমন অনেক আনন্দ আর উত্তেজনা নিয়ে আসে, আবার তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তারও অন্ত থাকে না নতুন প্যারেন্টের।

ভাবছি নন-ডক্টর প্যারেন্টদের জন্য যদি বাংলা ভাষায় কিছু সাধারণ বিষয় ধারাবাহিকভাবে লিখি তো কেমন হয়? মনে হয় তারা দু'আ করবে।

১. গোল্ডেন আওয়ার বলে একটা টার্ম শোনা যায়। বিষয়টি আসলে কী?

জন্মের পরবর্তী প্রথম ৬০ মিনিট বা এক ঘণ্টাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে 'গোল্ডেন আওয়ার' বলা হয়। এই সময়টি শিশুর নতুন পৃথিবীর সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের পেটের ওপর বা বুকের ওপর রাখা হয়। স্কিন টু স্কিন কনটাক্ট। এতে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং সে মায়ের শরীরের পরিচিত গন্ধ ও হৃদস্পন্দনে নিরাপদ বোধ করে।

এই এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা শুরু করতে হবে। এই সময়ে শিশু বেশ অ্যালার্ট থাকে, যা বুকের দুধ টানার অভ্যাস তৈরি করতে সাহায্য করে।

এটি শিশুর কান্নাকাটি কমায়, রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে এবং মা ও শিশুর মধ্যে গভীর বন্ধন তৈরি করে।

স্কিন-টু-স্কিন কন্টাক্টের ফলে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন বাড়ে, যা দুধ নিঃসরণ সহজ করে এবং জরায়ুর রক্তক্ষরণ কমায়।

(National Strategy for Infant and Young Child Feeding in Bangladesh Guidelines)

২. শালদুধ কি ফেলে দিতে হবে?

প্রসবের পর প্রথম ২-৩ দিন মায়ের স্তন থেকে যে ঘন, আঠালো এবং কিছুটা হলুদ রঙের দুধ বের হয়, তাকেই শাল দুধ বলা হয়। অনেক জায়গায় ভুলবশত এটি ফেলে দেওয়া হয়, যা শিশুকে চরমভাবে বঞ্চিত করার নামান্তর।

এটিকে শিশুর প্রথম টিকা বলা হয়। শাল দুধে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি (Immunoglobulin A) থাকে, যা শিশুকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এটি সরাসরি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

এটি সহজপাচ্য তো বটেই, ভীষণ পুষ্টিকরও। এতে প্রচুর প্রোটিন এবং ভিটামিন থাকে। কিন্তু চর্বি কম থাকে। যা নবজাতকের অপরিণত পাকস্থলীর জন্য একদম পারফেক্ট।

শাল দুধ একটি প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে। এটি শিশুর পেটের প্রথম মল (Meconium) পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, যার ফলে নবজাতকের জন্ডিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

মনে রাখতে হবে, শুরুতে শাল দুধের পরিমাণ খুব কম মনে হতে পারে। মাত্র কয়েক চামচ। কিন্তু নবজাতকের পাকস্থলী তখন একটি ছোট মার্বেলের সমান থাকে, তাই এই সামান্য পরিমাণই তার জন্য যথেষ্ট। একটা মার্বেলের মধ্য আর কতোটুকুইবা দুধ ধরে?

(Baby-Friendly Hospital Initiative of WHO & UNICEF)

৩. বাচ্চা তো দেখি কি সারাক্ষণ ঘুমায়। চিন্তার বিষয় না?

নবজাতকের পৃথিবীটা সত্যিই আমাদের থেকে অনেক আলাদা। মায়ের জরায়ুর অন্ধকার ও নিরাপদ পরিবেশ থেকে বের হয়ে বাইরের উজ্জ্বল আলো এবং শব্দের সাথে মানিয়ে নিতে তার বেশ সময় লাগে।

একজন সুস্থ নবজাতক গড়ে দিনে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারে। তাদের ঘুমের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকে না। তারা দিনের চেয়ে রাতে বেশি জাগতে পারে। এটিকে (Day-night reversal) বলে। যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

কেন এত ঘুমায়?

ঘুমের মধ্যেই শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ সবচেয়ে দ্রুত ঘটে এবং শরীর বৃদ্ধির হরমোন নিঃসৃত হয়। তারা মূলত জেগে ওঠে ক্ষুধার তাড়নায়, পেট ভরে দুধ খাওয়ার পর আবার প্রশান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ে।

কখন সতর্ক হতে হবে?

- যদি দেখা যায়, বাচ্চা দুধ খাওয়ার জন্য একেবারেই জাগছে নাশরীর একদম নিস্তেজ বা ঢিলেঢালা হয়ে আছে

- কান্না খুব ক্ষীণ বা দুর্বল

- বাচ্চার গায়ের রং ফ্যাকাশে বা নীল হয়ে যাচ্ছে।
এমন হলে দ্রুতই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

(American Academy of Pediatrics- Sleep in Newborns.)

৪. নবজাতককে কতবার এবং কেন ঘন ঘন দুধ খাওয়াতে হবে?

নবজাতকের পাকস্থলী ছোটো হওয়ায় একবারে খুব সামান্যই খেতে পারে এবং বুকের দুধ খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়।

প্রথম কয়েক সপ্তাহ শিশুকে প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর দুধ খাওয়ানো উচিত। একে বলা হয় "Feeding on Demand" বা শিশু যখনই চাইবে তখনই খাওয়ানো।

কেন ঘন ঘন খাওয়ানো জরুরি?
-ওজন বৃদ্ধি: বাচ্চার সঠিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নিরবচ্ছিন্ন পুষ্টি নিশ্চিত হয়।

-জন্ডিস প্রতিরোধ: ঘন ঘন দুধ খেলে বাচ্চার পায়খানা ও প্রস্রাব নিয়মিত হয়, যা শরীর থেকে বাড়তি বিলিরুবিন বের করে দিয়ে নবজাতকের জন্ডিস কমাতে সাহায্য করে।

- দুধের সরবরাহ বৃদ্ধি: বাচ্চা যতো বেশি দুধ টেনে খাবে, মায়ের শরীরে তত বেশি অক্সিটোসিন ও প্রোল্যাকটিন হরমোন তৈরি হবে, যা দুধের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।

প্রথম কয়েক সপ্তাহ যদি বাচ্চা ৩-৪ ঘণ্টার বেশি একটানা ঘুমায়, তবে তাকে হালকা সুড়সুড়ি দিয়ে বা শরীর মুছে জাগিয়ে তুলে দুধ খাওয়ানো দরকার।

(UNICEF - Infant and Young Child Feeding (IYCF) Guidelines.)

৫. জন্মের পর বাচ্চার ওজন না বেড়ে দেখি উল্টো কমে যাচ্ছে। এ কী হচ্ছে?

অনেক বাবা-মা ঘাবড়ে যান যখন দেখেন জন্মের দুই-তিন দিন পর বাচ্চার ওজন আগের চেয়ে কমে গেছে। কিন্তু এটি ফিজিওলজিক্যাল বা প্রাকৃতিক একটি প্রক্রিয়া।

ওজন কমার কারণ কী?

শিশু গর্ভে থাকা অবস্থায় তার শরীরে কিছু বাড়তি পানি বা ফ্লুইড থাকে। জন্মের পর প্রস্রাব ও প্রথম মল (Meconium) ত্যাগের মাধ্যমে সেই বাড়তি পানি বেরিয়ে যায়। এছাড়া প্রথম দিকে শাল দুধের পরিমাণ কম থাকায় ক্যালরি গ্রহণও কিছুটা কম হয়।

হিসাবটি কেমন আসলে?

বার্থ ওয়েটের ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বাভাবিক ধরা হয়।

সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে শিশু আবার তার জন্মের সময়ের ওজনে ফিরে আসে। এরপর থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০ গ্রাম করে ওজন বাড়তে থাকাটা স্বাভাবিক।

কখন চিন্তার বিষয়?

যদি ১০ দিন পার হওয়ার পরও ওজন না বাড়ে, অথবা ওজন কমার হার ১০ শতাংশের বেশি হয়, তবে বুঝতে হবে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে না (Inadequate feeding)। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।

(NICE Guidelines)

....
অনেক লিখে ফেলেছি। আজ এখানেই রাখি। সুযোগ হলে পরবর্তী পর্ব।

ডা. মারুফ রায়হান খান
৩৯ তম বিসিএসের চিকিৎসক
মুগদা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল
আমি আমার নিজের দাম্পত্য জীবন সহ, আমার আরো বিবাহিত ভাইদের জীবন থেকে যেটা বুঝেছি, স্বামী স্ত্রী একসাথে থাকলে অনেক সমস্যার সমাধানই হয়ে যায়। অথচ দূরে দুইজন দুই জায়গায় থাকলে দাম্পত্য জীবনে ও পারিবারিক জীবনে নানা রকম সমস্যা দানা বাঁধতে পারে।

ভুল বুঝাবুঝি, ভালবাসা এক্সপ্রেস করতে না পারা, অকারণ সন্দেহ ইত্যাদি। এমনকি শুধু স্বামী স্ত্রীর নিজেদের মধ্যে না, দুজনের দুই পরিবারের মধ্যেও নানাবিধ সমস্যা হতে পারে যদি স্বামী স্ত্রী দুইজন দূরে দুই জায়গায় থাকে।

এই সব গুলোরই সমাধান যতই যা হোক একসাথে থাকা, কাছাকাছি থাকা।
.
কাছাকাছি থাকলে ঘনিষ্ঠতা যেভাবে বাড়ে, আন্ডার স্ট্যান্ডিং যতটা ডেভেলপ হয়, পারস্পারিক মায়া দরদ যেভাবে বাড়ে, দূরে থেকে শুধুমাত্র মাসে দুই দিন বা সপ্তাহে একদিন একসাথে কাটিয়ে সেভাবে ঘনিষ্ঠতা, আন্ডার স্ট্যান্ডিং, মায়া মমতা বাড়ে না।
.
কিন্তু যে দুই বছর আমি ঢাকায় ছিলাম (পরিবার রাজশাহীতে) ঐ দুই বছর আমার স্ত্রীকেও আমার বাসায় রাখিনি।
যদিও শ্বশুর শ্বাশুরি আশা করে একটা মাত্র বউ কাছে থাকুক, তাই সে যাওয়া আসা করত, আমি আসলে আসত কিন্তু পার্মানেন্ট রাখিনি।
কারণ স্বামী এমন একজন ব্যক্তি যে কিনা মা এবং স্ত্রীর মধ্যে ম্যানেজমেন্ট করে, ব্যালেন্স করে।

স্বামী যখন দূরে তখন বউ শ্বাশুরির মধ্যে যেকোন সময় ইচ্ছে কিংবা অনিচ্ছেকৃত ভাবে হয়ত ঝামেলা হয়ে যেতে পারে। এখন আমি আসার পর সবাই একসাথে থাকি আলহামদুলিল্লাহ।
.
বিয়ে করা হয় বউকে কাছে রাখার জন্য, বউ এর থেকে দূরে থাকার জন্য না। যদি সামর্থ্য না থাকে বউকে কাছে রাখার তাহলে কিছুদিন পর বিয়ে করুন।
অনেকে আবার বিয়ে করে বউ রেখে প্রবাসে চলে যান, এরা কোন ক্যাটাগরির আমি মেলাতে পারিনা। দেখুন প্রয়োজন আর বিলাসিতা এক নয়।

অনেকেই আছেন প্রয়োজনে যেতে বাধ্য হয়ে থাকেন, কিন্তু ম্যাক্সিমামই তো বিলাসিতার জন্য, একটু খানি ভাল থাকার জন্য এই কাজ করে থাকেন। নিজেকেই প্রশ্ন করুন তো, আপনার টা প্রয়োজন না বিলাসিতা?
যদি প্রয়োজন হয়, তাহলেও কি খুব প্রয়োজন? পরিবারের কাছে থাকার চেয়েও?
.
আর সামর্থ্য কেন থাকবেনা? আপনার মেস ভাড়া যদি ১৫০০ টাকা হয়, আর ১৫০০ দিয়ে তিনহাজার টাকায় একটা কুড়েঘর ভাড়া নিন না?
খাবেন কম, পায়ে হেঁটে অফিসে যাবেন, পোশাক কিনবেন না, কিন্তু দিন শেষে একসাথে থাকবেন।
ভাতের ক্ষুধা মিটাবেন দুই কাপ চা একসাথে খেয়ে আড্ডা দিয়ে। স্ত্রী যখন কাঁধে যখন মাথা রাখবে, তখন পেটের ক্ষুধা কাঁধ দিয়েই চলে যাবে।
আর এত চিন্তার তো কিছু নেই। আল্লাহ বরকত দিয়ে দিবেন এই ভরসা, এই বিশ্বাস থাকা লাগে।
.
শুধুমাত্র ফ্যামিলির টানে, এবং ফ্যামিলির কাছে রিজিকের ব্যবস্থা না করতে পেরে, কিংবা ফ্যামিলিকেও আমার কাছে নিয়ে যেয়ে রাখতে পারিনি (স্ত্রী ছাত্রী ছিল, আর মা বাবা রাজশাহীতে। আর আমি তো বাবা মা ছেড়ে শুধু স্ত্রী নিয়ে থাকব না) ঢাকা থেকে চাকরি ছেড়ে চলে এসেছিলাম।

চারটা মাস বেকার বসে থেকেছি, মাত্র চারটা মাস। তারপর তো আলহামদুলিল্লাহ্‌ বরকতময় অবস্থা যাপন করছি সবাই একসাথে। আল্লাহ সম্মান জনক রিজিক দান করেছেন।
আমি আপনাকে রিস্ক নিতে বলছিনা, তবে তাওয়াক্কুল থাকলে রিস্ক নিন।
.
জীবিকার আগে পরিবারিক সম্পর্কে প্রাধান্য দিন।
আপনি বলবেন পরিবারের জন্যই তো জীবিকা। হ্যা সত্য। কিন্তু আপনার পরিবার আপনাকে ছেড়ে পোলাও মাংস খেতে চায়না বরং আপনাকে সাথে নিয়েই ডাল ভাত খেতে চায়।
প্রতিনিয়ত য‌দি কা‌ছে থেকে পা‌শে থে‌কে সুখ দুঃখ ভাগাভা‌গি না করা গে‌লো তো সেটা কেমন দাম্পত্য !
.
শুধু দূর থেকে টাকা পাঠিয়ে দেবার নাম পারিবারিক দায়িত্ব পালন নয়, দাম্পত্যের হক আদায় এভাবে হয়না। আপনি বলবেন আপনার সামর্থ্য নেই?
ভুল। হয়ত এটা বলতে পারেন যে স্বচ্ছল ভাবে চলার সামর্থ্য নেই। কিন্তু গরীবি হালে তো চলার সামর্থ্য আছে?
.
গরীবি হালে চলুন তবুও একসাথে থাকুন। যৌবনের অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেছেন দূরে থেকে। প্রতিটা মিনিট মুল্যবান। এভেন প্রতিটা সেকেন্ড।
.
আপনি যদি আমাকে খোঁটা দেন, যে বিয়ের প্রথম দুই বছর আমিই তো ছিলাম ঢাকায়।
তাহলে শুনে রাখুন, আমার মত আপনি পারতেন না। আমাদের ছিল মাত্র একদিন ছুটি। শুক্রবার। তবুও প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে বাসায় আসতাম আট ঘন্টার রাস্তা, আবার পর দিন সন্ধায় রওনা দিয়ে শনিবার সকালে অফিস ধরতাম। অর্থাৎ ষোল ঘন্টা ট্রাভেল করে ১০-১৫ ঘন্টা বাসায় থাকতে পারতাম।

দুই বছরে এক বৃহস্পতিবারও মিস যেতনা।
এভাবেই গিয়েছে আমার দুই বছর। প্রতি মাসে চারবার বাসায় আসতাম, এত কষ্ট হতো, কারণ আমি বাস জার্নি পারতাম না (এখন পারি), কত রাতে বাস পাইনি, ট্রাকের উপর উঠে বাসায় এসেছি।
যদিও কম বয়সে (আসলে কম না, বরং আমার বেশিই মনে হয়) বিয়ে করেছি, তবুও ঐ দুই বছরের জন্য নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনা। বিবাহিত জীবনের ঐ দুই বছর কি ফিরে পাবো আর?
.
বৃদ্ধ বৃদ্ধা হয়ে একদিন বারান্দায় ভাববেন দুজন যে, আজ দুজনের সব আছে, ছেলে পেলে নাতি পুতি। কিন্তু একসাথে হারানো সময় গুলো নেই। খুব মিস করবেন কিন্তু কিছুই করার থাকবেনা। হারানো যৌবন আর দাম্পত্যের মুহুর্ত গুলো ফিরে পাবেন না।
আর সময়ও আপনাদের ক্ষমা করবে না, কারণ আপনি এর মুল্যায়ন করেন নি। সময় শোধ নিবে।
কী করে বুঝাই আপনাকে ! দূরে থেকেন না।
.
একসাথে থাকুন।
একসাথে থাকুন।
একসাথে থাকুন।
.
প্রতিদিন দুইবেলা খান, রোজা রেখে খাওয়া খরচ কমান। তবুও একসাথে থাকুন। নাহলে প্রচুর পস্তাবেন, প্রচুর।

আর বিবাহিত হয়েই ব্যাচেলর লাইফ কাটানোতে শতভাগ সুকুনও লাভ করতে পারবেন না। এই সেই অশান্তি লেগেই থাকবে।

//
আমি কেন নিজের উদাহরন দিই?
কারন অনেকেই বলে থাকেন, যে বলা সহজ করা কঠিন। তাই যা বলছি, নিজেও তা যে করেছিও সেটার রেফারেন্স টেনে দিই। আর নিজে যা পারিনা, তা অন্যদের বলিও না।

লেখা: Shah Mohammad tonmoy
এই আর্টিকেলটিতে 'মিনিমালিস্ট' জীবনধারা গড়ে তোলার জন্য ১৩টি সহজ দৈনন্দিন অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে।
মিনিমালিজম বা সহজ জীবনযাপনের সেই অভ্যাসগুলো হলো-

১. "একটি এলে একটি ছাড়ুন" নিয়ম: ঘরে নতুন কোনো জিনিস (যেমন: পোশাক বা শৌখিন বস্তু) কিনলে পুরনো একটি জিনিস দান করে দিন বা সরিয়ে ফেলুন। এতে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের স্তূপ জমবে না।

২. তালিকা তৈরি করুন: কেনাকাটা করতে যাওয়ার আগে তালিকা করুন। এতে আপনি অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকবেন এবং শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসই কিনবেন।

৩. সাথে সাথে পরিষ্কার করুন: কাজ শেষ হওয়া মাত্রই জায়গাটি গুছিয়ে রাখুন। যেমন—খাওয়ার পর থালাবাসন ধুয়ে ফেলা বা কাপড় খোলার পর তা সঠিক স্থানে রাখা। এতে ঘর অগোছালো হবে না।

৪. এক মিনিটের নিয়ম: যে কাজটি করতে এক মিনিটের কম সময় লাগে (যেমন: মেইল ডিলিট করা বা জুতো গুছিয়ে রাখা), তা জমিয়ে না রেখে তখনি করে ফেলুন।

৫. ৯০-৯০ নিয়ম: কোনো জিনিস রাখার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—বিগত ৯০ দিনে কি এটি ব্যবহার করেছেন? অথবা আগামী ৯০ দিনে কি এটি ব্যবহার করবেন? উত্তর 'না' হলে সেটি বিদায় করুন।

৬. ৩০-৩০ নিয়ম: যদি ৩০ ডলারের (বা নির্দিষ্ট পরিমাণের) বেশি দামি কিছু কিনতে চান, তবে ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এই সময়টুকু আপনাকে ভাবতে সাহায্য করবে যে জিনিসটি আসলেও আপনার প্রয়োজন কিনা।

৭. ২০-২০ নিয়ম: কোনো জিনিস যদি ২০ মিনিটের মধ্যে এবং ২০ ডলারের (বা অল্প টাকায়) আশেপাশে কেনা সম্ভব হয়, তবে "ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে" ভেবে তা অহেতুক জমিয়ে রাখবেন না।

৮. শক্তি সাশ্রয় করুন: অপ্রয়োজনে লাইট-ফ্যান বন্ধ রাখা বা ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার কমিয়ে আনাও মিনিমালিস্ট জীবনের অংশ। এটি মানসিক প্রশান্তি দেয়।

৯. প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা: স্মার্টফোনের অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডিলিট করুন এবং নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। ডিজিটাল জঞ্জাল কমালে কাজে মনোযোগ বাড়ে।

১০. উপহার দেওয়ার ধরণ পরিবর্তন: বস্তুগত উপহারের চেয়ে প্রিয়জনকে সুন্দর সময় বা কোনো অভিজ্ঞতা (যেমন—একসাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়া) উপহার দেওয়ার চেষ্টা করুন।

১১. না বলতে শিখুন: আপনার সময় এবং শক্তির অপচয় করে এমন কাজ বা দাওয়াতে বিনয়ের সাথে 'না' বলতে শিখুন। সব কিছুতে রাজি হওয়া মানে নিজের ওপর চাপ বাড়ানো।

১২. প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট স্থান: ঘরের প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করুন। কাজ শেষে সেটি সেখানেই রাখুন, যাতে পরে খুঁজতে না হয়।

১৩. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: আপনার যা আছে তা নিয়েই খুশি থাকার চেষ্টা করুন। নতুন জিনিসের পেছনে না ছুটে বর্তমানের প্রাপ্তিগুলোর প্রশংসা করলে মনের অতৃপ্তি কমে যায়।

মিনিমালিজম মানেই সব কিছু ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং আপনার জীবনে যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোকে জায়গা দেওয়া। এই অভ্যাসগুলো চর্চা করলে মানসিক চাপ কমে এবং জীবন অনেক সহজ ও সুন্দর হয়।
_____
প্রতিদিন ১০০টা চুল পড়া কি স্বাভাবিক? শাহরুখ খানের চুল কি আসল? Gunjanshouts পডকাস্টে ডার্মাটোলজিস্ট ও হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডাক্তার শেইল গুপ্তা, যিনি ২০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতায় ১৫,০০০-এরও বেশি হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করেছেন এবং নিজেও ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছেন। তিনি সাবধান করেছেন যে পর্যাপ্ত ট্রায়াল ছাড়া হেয়ার ক্লোনিং ক্যান্সার কোষের মতো অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আরও ভয়ের কথা হলো, এখন পাড়ার নাপিতও হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার খুলে আপনার চুলের বারোটা বাজানোর অপেক্ষায় আছে!

চুল পড়া কি সত্যিই মহামারী হয়ে উঠছে? আগে ৪০ পার হলে চুল পড়তো, এখন ২০ বছর বয়সেই শুরু হচ্ছে। ডাক্তার শেইল বলছেন, এর পেছনে রয়েছে দূষণ, ভেজাল খাবার, স্ট্রেস, খারাপ ঘুমের অভ্যাস এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। এর সাথে জিনের ভূমিকাও আছে। বাবা-মা দুজনের পক্ষেই যদি চুল পড়ার ইতিহাস থাকে, তাহলে ঝুঁকি দ্বিগুণ। হেয়ার লসের একটা অদ্ভুত কারণ হলো টাক পড়ার ভয়! কারণ এই ভয় থেকে স্ট্রেস বাড়ে, ঘুম কমে, খাওয়াদাওয়া নষ্ট হয়, আর এই সব মিলিয়েই চুল আরও বেশি পড়ে।

একজন সাধারণ মানুষের মাথায় প্রায় ১ লক্ষ চুল থাকে। প্রতিদিন ১০০টা পড়া একেবারে স্বাভাবিক। কিন্তু এখন মানুষ Google করে এই সংখ্যা জেনে আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। মেয়েরা বিশেষভাবে বেশি ভয় পায়, কারণ লম্বা চুল পনিটেল খুললে একসাথে অনেক চুল দেখা যায়, কিন্তু একই ১০০টা চুল ছেলেদের মাথায় পড়লে কেউ খেয়ালই করত না। তাই চুল পড়ার পরিমাণ নয়, বরং মাথার গোড়ায় ঘনত্ব দেখে বিচার করুন। গোড়ায় ঘনত্ব ঠিক থাকলে চিন্তার কিছু নেই, চুল ঠিকই গজাচ্ছে।

চুলের তিনটা ধাপ আছে। প্রথম ধাপ Anagen, যেখানে চুল বাড়ে এবং এটা প্রায় ৩ বছর স্থায়ী হয়। দ্বিতীয় ধাপ Catagen, এটা মাত্র ১-২ সপ্তাহের ক্ষণস্থায়ী পরিবর্তনের ধাপ। তৃতীয় ধাপ Telogen, যেখানে চুল পড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় এবং প্রায় ৩ মাস থাকে। অর্থাৎ চুল পড়া আর গজানো একটা চক্রের মতো চলতে থাকে। সমস্যা তখনই যখন পড়ছে কিন্তু ফিরে আসছে না।
মেয়েদের কথা আলাদা করে বললেন ডাক্তার শেইল। প্রেগন্যান্সিতে চুল ঘন হয়, কারণ তখন Anagen Phase দীর্ঘ হয়। কিন্তু ডেলিভারির পর হরমোন পরিবর্তনে একসাথে অনেক চুল Telogen Phase-এ ঢুকে যায়, তাই ঝাঁকে ঝাঁকে পড়ে। এটা ভয়ের না, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। অসুস্থতার পর, এমনকি কোভিডের পরেও এভাবে চুল পড়তে পারে।

ছেলেদের টাককে বলে Androgenetic Alopecia। এখানে টেস্টোস্টেরন হরমোন DHT-তে রূপান্তরিত হয়ে চুলের গোড়া সরু করে দেয়। গ্রেড ১-২ পর্যন্ত একেবারে স্বাভাবিক, কোনো চিকিৎসার দরকার নেই। কিন্তু অনেক তরুণ এই স্তরেই ভয় পেয়ে ট্রান্সপ্লান্ট করিয়ে ফেলছে, যা ডাক্তার শেইলের মতে সম্পূর্ণ অনৈতিক। গ্রেড ৩ থেকে এগোলে এবং ৬-৭ হলে মাথা প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।

মেয়েদের ক্ষেত্রে চুল সব দিক থেকে পাতলা হয়, সিঁথি চওড়া হয়, পনিটেলের পুরুত্ব কমে। ঘন করে টানা বেণি বা পনিটেল থেকে Traction Alopecia হতে পারে, এমনকি স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে।

ট্রান্সপ্লান্ট কি আসলেই সবার জন্য? না। ডাক্তার শেইল বলছেন যে ট্রান্সপ্লান্ট কোনো এককালীন সমাধান নয়, বরং এটা একটা যাত্রার শুরু। আর এই যাত্রায় তিনটা স্তম্ভ একসাথে দরকার। প্রথমত ওষুধ, দ্বিতীয়ত PRP(Platelet Rich Plasma)-এর মতো নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা, তৃতীয়ত হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট। তিনি বলছেন এই তিনটাকে ট্রাইপডের তিনটা পা হিসেবে ভাবুন, একটা বেশি হেলে গেলেই ট্রাইপড পড়ে যাবে।

ট্রান্সপ্লান্টের আদর্শ বয়স নিয়ে মজার একটা গল্প বললেন তিনি। ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর বলেছিল, "স্যার, ৭০ বছরে নাকি ১৭ বছরে চুল বেশি দরকার?" ডাক্তার শেইল তাকে ২০ পার করে আসতে বললেন। সঠিক বয়সে না করলে, ভবিষ্যতে চুল পড়া অব্যাহত থাকলে আর ডোনার হেয়ার বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে তিনি বললেন, তার কাছে এক তরুণ রোগী এসে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল সে রেলের লাইনে শুয়ে পড়বে যদি চিকিৎসা না হয়। তুরস্কে খারাপ ট্রান্সপ্লান্টের পর একজন ফরাসি তরুণ আত্মহত্যাও করেছে। ডাক্তার শেইল বলছেন, Dwayne Johnson-এর কথা মনে রাখুন। চুল ছাড়াও মানুষ অসাধারণ হতে পারে। চুল আর ব্যক্তিত্ব আলাদা জিনিস।

Minoxidil এবং Finasteride হলো সবচেয়ে কার্যকর দুটো ওষুধ, যেগুলোর পেছনে ৩০ বছরের গবেষণা আছে। কিন্তু এই ওষুধের বিষয়ে যা কেউ বলে না তা হলো, একবার শুরু করলে হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না। বন্ধ করলে আগের চেয়েও বেশি চুল পড়তে পারে। Finasteride-এর মাত্রা বেশি হলে কিছু রোগীর মধ্যে আত্মঘাতী প্রবণতাও তৈরি হয়।

ভারতে Minoxidil ৫% থেকে শুরু হয়ে এখন ১৭.৫%-এ পৌঁছে গেছে, যা মোটেই নিরাপদ নয়। আর বাজারে যেসব ৭০-৮০ হাজার টাকার হেয়ার বুস্টার কিট বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর মূল উপাদান ৩০০ টাকার Finasteride ট্যাবলেট ছাড়া আর কিছুই না।
PRP অর্থাৎ Platelet Rich Plasma-তে রোগীর নিজের রক্ত নিয়ে সেন্ট্রিফিউজ করে স্ক্যাল্পে ইনজেক্ট করা হয়। এটা কার্যকর, কিন্তু একটাই সেশন যথেষ্ট। ডাক্তার শেইলের নিজের গবেষণায় দেখেছেন যে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ সেশনে কোনো বাড়তি ফল আসে না। তবুও ক্লিনিকগুলো বারবার সেশন করায়, কারণ এটা তাদের ব্যবসার জন্য লাভজনক।

আরও ভয়ের কথা হলো, এখন সেলুনেও PRP হচ্ছে! একটা সেলুনের রাজা নামের নাপিত তাকে PRP শেখাতে বলেছিল। কিছুদিন পর শুনলেন সেই রাজা একটা হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টারই খুলে ফেলেছে।

সঠিক ডাক্তার চিনবেন কীভাবে? ডাক্তার শেইল বললেন, সেলিব্রিটি এন্ডোর্সমেন্ট দেখে বিচার করবেন না। একজন ক্রিকেটার তার ক্লিনিকের প্রশংসা করে বলছেন সেখানে প্রতি তিন সপ্তাহে ডেকে PRP করানো হয়, কিন্তু সেই ক্রিকেটার বুঝতেই পারছেন না যে ক্লিনিক তাকে ব্যবহার করছে। একবার একটি ক্লিনিকে তিনি দেখলেন সেখানকার ডাক্তারের PhD ছিল হিন্দি বিষয়ে! তাই খুঁজুন doctor-run সেন্টার, বছরের পর বছরের অভিজ্ঞতা এবং সেই ডাক্তার যিনি আপনাকে সত্য কথা বলতে ভয় পান না।

ট্রান্সপ্লান্টের মূল নীতি হলো মাথার পেছনের DHT-resistant চুল সামনের ফাঁকা জায়গায় লাগানো। এই চুলগুলো নতুন জায়গায় গিয়েও আগের জায়গার বৈশিষ্ট্য ধরে রাখে।

FUT বা Follicular Unit Transplant-এ পেছন থেকে একটা স্ট্রিপ কেটে নেওয়া হয়, তারপর মাইক্রোস্কোপের নিচে টেকনিশিয়ানরা একটা একটা করে গ্রাফট আলাদা করে। এতে বেশি গ্রাফট পাওয়া যায়, ডোনার ৩ বার পর্যন্ত ব্যবহার করা যায় এবং Elon Musk এটাই করিয়েছেন।

FUE বা Follicular Unit Extraction-এ একটা একটা করে চুল তুলে লাগানো হয়। এতে বড় কাটার দাগ নেই, কিন্তু ডোনার এলাকায় গর্ত গর্ত হয়ে যায়। ডাক্তার শেইল বলছেন FUE-এর ক্ষেত্রে সারাজীবনে মাত্র ২০০০-৩০০০ গ্রাফট পাওয়া যায়, FUT-এ ৭৫০০-৮০০০।

DHI বা Direct Hair Implant নামটা আসলে একটা বড় মার্কেটিং চাল। এটা মূলত FUE-এরই একটা ভিন্নরূপ, যেখানে একটা পেন-আকৃতির টুল ব্যবহার করা হয়। ডাক্তার শেইল নিজে ২০ বছর আগে এই টুল ব্যবহার করেছিলেন এবং ছেড়ে দিয়েছিলেন, কারণ এতে নিয়ন্ত্রণ কম, পাশের গ্রাফট বেরিয়ে আসে এবং টেকনিশিয়ান নির্ভর।

তাহলে FUE এত জনপ্রিয় কেন? কারণ ডাক্তারদের শেখা সহজ, কম টিম লাগে, ইচ্ছামতো যেকোনো শহরে সেন্টার খোলা যায়। রোগীদের মনে FUT নিয়ে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে "বড় দাগ হবে" বলে, যদিও সেই দাগ চুল দিয়ে ঢেকে ফেলা যায়।

সেলিব্রিটিদের ট্রান্সপ্লান্ট দেখতে কেন ধরা পড়ে? রণবীর কাপুর, ধোনি অনেকেরই হেয়ারলাইন দেখলে ট্রান্সপ্লান্ট বোঝা যায়। ডাক্তার শেইল বললেন, এর পেছনে আছে দক্ষতার অভাব, সাথে Finasteride না নেওয়া বা বন্ধ করে দেওয়া। ভালো ট্রান্সপ্লান্টের ৯০% অবদান আসলে ওষুধের, বাকি ১০% সার্জনের দক্ষতা। শাহরুখের চুল নিয়ে তিনি বললেন, উনি জিনগত ভাবেই আশীর্বাদপ্রাপ্ত। ধূমপান করলেই চুল ভালো হয় না।

ভবিষ্যতে কী আসছে? AI এবং Hair Cloning কি সমাধান? ডাক্তার শেইল ২০ বছর ধরে Hair Cloning নিয়ে আলোচনা শুনছেন, কিন্তু এখনও মানুষের উপর পর্যাপ্ত ট্রায়াল হয়নি। ক্যান্সার কোষের মতো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধির ঝুঁকি আছে। Exosome নিয়েও অনেক হাইপ আছে কিন্তু US FDA-এর অনুমোদন নেই। AI দিয়ে Robotic Hair Transplant-ও এসেছে, কিন্তু সেটা রোবটের মতো দেখতে লাগে।

তিনি বলছেন, ভবিষ্যতের সেরা চিকিৎসা হলো Pranayam, Yoga এবং lifestyle modification, অর্থাৎ পুরনো শিকড়ে ফিরে যাওয়া।