জ্ঞান - Knowledge
1.99K subscribers
1.27K photos
21 videos
10 files
462 links
🙂🙂🙂
Download Telegram
يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ
“আল্লাহ রিবা/ সুদকে ধ্বংস করেন এবং সদকাহকে বৃদ্ধি করেন।” (সূরা বাকারা, ২:২৭৬)

► চতুর্থত, দান-সদকা বাড়িয়ে দেওয়া। এ ধরনের সময়েই দান-সদকার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। একদিকে দান-সদকা সম্পদে সুরক্ষা ও বারাকাহ আনে, অন্যদিকে সমাজের দুর্বল মানুষদের টিকিয়ে রাখে। সংকটের সময় সবচেয়ে আগে আক্রান্ত হন নিম্নবিত্ত মানুষ, দিন আনে দিন খায় এমন পরিবার, একক উপার্জননির্ভর পরিবার, ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুর, অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা। তাই আমাদের আশেপাশের প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, কর্মচারী, সহকর্মী, কারা কষ্টে আছেন, তা খোঁজ নেওয়া খুব জরুরি। বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই সমাজকে টিকিয়ে রাখে।

রাসূল স. বলেন:

مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ
“সদকাহ কোনো সম্পদ কমিয়ে দেয় না।” (সহীহ মুসলিম: ২৫৮৮)

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন:

وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ رِبًا لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ ۖ وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ
"মানুষের ধন-সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তোমরা যে যাকাত দাও (তাই বৃদ্ধি পায়); বস্তুত তারাই হচ্ছে দ্বিগুণ লাভকারী।" (সূরা রূম, ৩০:৩৯)

► পঞ্চমত, কৃত্রিম সংকট তৈরি না করা। ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি বড় আমানাহ। অপ্রয়োজনে মূল্য বৃদ্ধি, মজুতদারি, কৃত্রিম ঘাটতি সৃষ্টি, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করা, এসব শুধু অনৈতিক নয়, শরীয়াহর দৃষ্টিতেও নিন্দনীয়। অনিশ্চিত সময়ে বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

مَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ
“যে ব্যক্তি মজুতদারি করে, সে গুনাহগার।” (সহীহ মুসলিম: ১৬০৫)

► ষষ্ঠত, প্যানিক বাইং থেকে বিরত থাকা। ব্যক্তি পর্যায়ে অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত জিনিস মজুত করতে শুরু করে। এতে নিজের জন্য সাময়িক নিরাপত্তার অনুভূতি এলেও সামগ্রিক বাজারে অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হয়, সরবরাহে চাপ পড়ে, এবং সংকট আরও ঘনীভূত হয়। তাই প্রয়োজনমাফিক কেনাকাটা করা, অযথা আতঙ্কে আচরণ না করা এবং অন্যদের জন্যও বাজারকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করা, এটিও দায়িত্বশীল আচরণের অংশ।

► সপ্তমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে মনোযোগী হওয়া। ব্যক্তিগত ঘর থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত, সব জায়গায় সাময়িকভাবে হলেও আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কোথায় বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে, কোথায় যাতায়াতে সাশ্রয় করা যায়, কোথায় বিকল্প পদ্ধতি নেওয়া যায়, এসব বাস্তবভাবে ভেবে দেখা দরকার।

সবশেষে, এ সময় আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। বিশ্লেষণ দরকার, পরিকল্পনা দরকার, কৌশল দরকার, কিন্তু সবকিছুর ওপরে দরকার দোয়া, তাওবা, ইস্তিগফার এবং আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন:

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا ۝ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন। এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেন, যা সে কল্পনাও করে না।” (সূরা ত্বালাক, ৬৫:২-৩)

আজকের বাস্তবতায় এই সবর জন্য বড় মোটিভেশন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। মুসলিম বিশ্বকে নিরাপদ রাখুন। আমাদের রিযিকে বারাকাহ দিন। আমাদের সিদ্ধান্তে হিকমাহ দিন। আমাদেরকে হালাল, সংযমী, দায়িত্বশীল জীবন যাপনের তাওফিক দিন। আর এই ফিতনা, অস্থিরতা, বিভক্তি, দুর্বলতা ও বৈশ্বিক বিপর্যয় থেকে উম্মাহকে উত্তমভাবে বের করে আনুন। আমিন।

--
ড. ইউসুফ সুলতান হাফি.
২৩ মার্চ ২০২৬
আগে জাদু করতে চুল নখ কাপড় লাগত
কেননা মানুষ মায়ের নাম জানত না
আগে সবাই ছবি আগলায়ে রাখত হয় তুলতো না না হলে দিত না । কাপড় ছিল কম ব্যবহার এর জিনিস ছিল কম তা ছিঁড়ে গেলে ঘর মুছত ফলে জাদু করার জিনিস পেতে না । নখ চুল মাটিতে বিসমিল্লাহ বলে পুতে ফেলত।
এর ফলে জাদু জীনের সমস্যা ২৫%ছিল
এখন আইডি কার্ডের বায়োডাটার কারনে সবাই মায়ের নাম জানে আর ফেসবুক এর কারনে সবাই ছবি নিতে পারে
কাপড় এর হিসাব নাই তাই হারালেও হিসাব থাকে না
কোন পার্লারে যায় সবাই জানে সেখান থেকে চুল নখ নিয়া কোন ব্যাপারই না
না চুল তাই জীন চালান করে জাদু অনেক সহজ হয়ে গেছে।

সব সময় সাবধান করি
দেখেন ইসলাম সত্য সুন্দর ধর্ম তার রিতিনীতি মানলে এইসব করা অসম্ভব

তাই সাবধান হোন
1
🇮🇳 চোখ বন্ধ করে কিভাবে চেন্নাই ভেলোর CMC তে ডক্টর দেখাবেন

CHRISTIAN MEDICAL COLLEGE (CMC VELLORE) সম্পূর্ণ গাইড 🇧🇩

🚖 স্টেশনে নামার পর

ভেলোর স্টেশনে নামলে ১৫০–২০০ টাকায় অটো ভাড়া দিয়ে চলে যান গান্ধী রোডে।

এখানেই বেশিরভাগ লজ ও রেসিডেন্সি পাওয়া যায়।

ভালো লজ ৩০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়।

ঘর ছোট, ব্যাগ রাখার জায়গা কম — তাই একটা দড়ি নিয়ে যান জামা-কাপড় ঝোলানোর জন্য।

🏠 কোথায় থাকবেন

• মধ্যবিত্তদের জন্য অনেক ভালো LODGE আছে।

• একটু আরামদায়কভাবে থাকতে চাইলে K.V.S. Chetty Street–এ ভালো RESIDENCY পাবেন।

• প্রতিটি লজেই Common Kitchen আছে — রান্না করা যায়।

• গ্যাস ভাড়া: ১৩০–১৫০ টাকা/কেজি।

• বাসন সেট (হাড়ি, কড়াই, থালা ইত্যাদি): ১২–২০ টাকা প্রতিদিন।

• নিজস্ব চাদর, বালিশের কভার নিয়ে গেলে ভালো হয়।

🍲 খাবার ও বাজার

• রান্না করতে না পারলে CMC OPD Block–এর উল্টো দিকের হোটেলগুলোতে খেতে পারেন।

🍛 জনপ্রিয় হোটেল:

• ব্যার্নাজী হোটেল

• অন্নপূর্ণা হোটেল

• নাগা হোটেল (Punjabi Dhaba গলির ভিতরে)

• গান্ধী রোডের কাছেই আছে সবজি আড়ত, এখানে অন্যান্য জায়গার চেয়ে কম দামে সবজি পাবেন।

🏥 হাসপাতালে প্রবেশ

• Security Guard রা খুব সহযোগিতাপূর্ণ — কোন গেট দিয়ে ঢুকবেন, কোথায় যাবেন সব বলে দেয়।

বাংলাদেশী রোগী হলে ৯০০ বি তে পাসপোর্ট রেজিষ্ট্রেশন করুন।

• প্রথমে যান ISSCC Building–এ।

• ১–৪ নং কাউন্টার থেকে CHRIS CARD করাতে হবে (ID Proof লাগবে)।

• এই কার্ডেই টাকা ভরে রাখবেন — Appointment, Test, ও Medicine কেনা সব কিছু এই কার্ডে হয়।

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখা ও টেস্ট বুকিং

• ডাক্তার দেখার পর উনি টেস্ট ও পরবর্তী অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিজেই বুক করে দিতে পারেন, যদি কার্ডে যথেষ্ট টাকা থাকে।

• সকালে ৭–৮টার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলে ভোর ৬টার মধ্যে পৌঁছে যান — অনেক লাইন পড়ে।

• ভাগ্য ভালো হলে একই দিনে টেস্ট ও রিপোর্টসহ আবার ডাক্তার দেখানো যায়।

• কার্ডে অব্যবহৃত টাকা ফেরত পাওয়া যায়।

🏨 হাসপাতালে ভর্তি হলে

• রোগীর সঙ্গে রাতে একজন মহিলা থাকা বাধ্যতামূলক (জেনারেল ওয়ার্ডে)।

• পুরুষরা রাত ৮টা পর্যন্ত থাকতে পারেন।

• নিজের জন্য চাদর, কম্বল, এয়ার পিলো নিয়ে যান — হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয় না।

• রোগীর খাবারের জন্য প্রতিদিন ২৫০ টাকা (ঐচ্ছিক)।

• অপারেশনের সময় পরিবারের একজনকে রক্ত দিতে হয় বা কিনতে হয়।

• সব রিপোর্ট, এক্স-রে/MRI প্লেট সংগ্রহ করতে ভুলবেন না।

🚆 ক্যান্সার রোগীর জন্য বিশেষ সুবিধা

• ডাক্তারকে বললে Travel Compensation Form পাবেন।এটা শুধু ইন্ডিয়ান রা পায়।

• এই ফর্ম জমা দিয়ে ট্রেনে রুগী ও অ্যাটেনডেন্টের টিকিটে বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়।

🌿 টিপস:

চেষ্টা করবেন আগে থেকেই ডাক্তার বুক করে যেতে — সময় বাঁচবে ও ভিড় এড়ানো যাবে।

CMC তে সবাই খুব সহযোগিতাপূর্ণ, একটু ধৈর্য ও পরিকল্পনা রাখলেই সব সহজ হয়ে যায়।

✍️ লেখা: অভিজ্ঞতার আলোকে সাজানো CMC ভেলোর পূর্ণ গাইড

#CMC #Vellore #MedicalGuide #চেন্নাইভেলোর #BangladeshiPatients

শুভ খান
২৪।০৩।২০২৬
তিনটি বিষয়কে ভয় লাগে। খুবই ভয় লাগে :
১। হার্ট এটাক
২। ব্রেইন স্ট্রোক
৩। ক্যান্সার

এসব যে কারো যখন তখন ঘটতে পারে।

হুট করে দেখা যেতে পারে, হার্টে অনেক ব্লক। রিং পরাও। বাইপাস করো। আর কেউ কেউ তো এক এটাকেই শেষ!

অথবা ব্রেইন স্ট্রোক করে হুট করে শরীরের অর্ধেক অথবা পুরোটাই প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে। কিংবা একেবারে না ফেরার দেশেও চলে যেতে পারি।

কিংবা হুট করে শরীরে ফোর্থ স্টেজ ক্যান্সার ধরা পড়তে পারে। তখন সর্বস্ব উজাড় করে কেমোথেরাপি দেয়া হয়, বিদেশে ও নেয়া হয়। একসময় পরিবার আর্থিক সাপোর্ট আর দিতে পারেনা। তখন অফিস / বন্ধু বান্ধব / ব্যাচমেটদের সাহায্য ও চাওয়া হয়।

কারো সাহায্যার্থে ব্যান্ড প্রোগ্রাম ও আয়োজন করা হয়। কেউ কেউ হয়তো সরকারের বিশেষ তহবিল থেকে ও সাহায্য পান।

তবে যতই সাহায্য পাক, যত টাকাই থাকুক -- এক পর্যায়ে হয়তো টাকা দিয়ে ও আর কিছু করার থাকেনা। চলে যেতেই হয়।

নয়তো ধনীরা কখনোই মরতোনা।

#পুনশ্চ

যতই শরীর ফিট থাকুক। যতই জিম করি। কালোজিরা, মধু যতই খাইনা কেন -- আমরা যে কেউই এসবে আক্রান্ত হতে পারি।

জীবনে কখনো ধূমপান করিনি, মাদক তো প্রশ্নই আসেনা। খাওয়া দাওয়া ও নিয়ন্ত্রিত। রিগুলার হাঁটা চলাও করি। তবুও আমাদের খারাপ কিছু ধরা পড়তে পারে।

এমনকি খেলার মাঠে ও হার্ট এটাক করতে পারি। জিম করতে করতে ও হার্ট এটাক হতে পারে।

বাসায় শুয়ে বসে থাকা অবস্থায় ও হতে পারে।

তবে এটা ঠিক, শারীরিক ফিটনেস ভালো হলে -- আপনার কিছুটা হলেও ঝুঁকি কম। আক্রান্ত হলেও বাঁচার সম্ভাবনা আনফিট কারো চেয়ে বেশি।

তাই শরীরের যত্ন নেয়া জরুরী। খুবই জরুরী। রিগুলার হাঁটাচলা করা জরুরী। বছর একবার পুরো শরীর চেক-আপ করা জরুরী।

দামী জামাকাপড় / অলংকার কেনার চেয়ে নিজের শরীর চেক-আপ করা জরুরী। অনেক বেশি জরুরী।

সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা ও জরুরী। মানসিক শান্তি জরুরী।

জীবনে অপ্রয়োজনীয় প্যারা না নেয়াই ভালো।

সুখী থাকা জরুরী। সবচেয়ে জরুরী।

আর হ্যাপিনেস চারিপাশে ছড়িয়ে দেয়া উচিত।

হ্যাপিনেস ছড়িয়ে দেয়ার মতো আনন্দময় কিছু আর জগতে নেই!

নিজে সুখে থাকি। আশপাশের সবাইকে সুখে রাখার চেষ্টা করি।

সুখী করার চেষ্টা করি।

একটাই জীবন।

সেটা ট্রা*ম্পের মতো চারিদিকে এত যুদ্ধ বিগ্রহ, এত অশান্তির বীজ বপন করে কাটিয়ে কি লাভ!

হুদাই গায়ে পড়ে যুদ্ধ করে কী লাভ? শত কোটি মানুষকে বিপদে ফেলে কি লাভ?

অস্ত্র বিক্রি করবেন, দখলদারীত্ব করবেন।

আপনাকে মানুষ ওভাবেই মনে রাখবে।

মৃত্যুর পরে সবাই আপনাকে খারাপ কারণে, ভুল কারণে মনে রাখলে আপনার তাহলে আর অর্জন কিসে?
ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো আমাদের নিজেদের তৈরি করা সংশয় এবং সামাজিক প্রত্যাশার চাপ।

আমরা কেন এবং কীসের জন্য কাজ করছি তা পরিষ্কারভাবে জানতে হবে।

বর্তমান মুহূর্তকে গুরুত্ব না দেওয়া মানে নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।

ভয় একটি সামাজিক ও মানসিক নির্মাণ মাত্র, যা কেবল তখনই শক্তি পায় যখন আমরা একে প্রশ্রয় দিই।

সাহসের অর্থ ভয়হীনতা নয়, বরং ভয়ের চেয়েও বড় কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

আমরা যদি আমাদের ভয়ের মুখোমুখি না হই, তবে সেই ভয়ই আমাদের জীবনের সীমানা নির্ধারণ করে দেবে।

মহান কিছু অর্জনের জন্য পরিচিত গণ্ডি বা 'কমফোর্ট জোন' ত্যাগ করা অপরিহার্য।

একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া আমাদের শক্তিগুলো কেবল উদ্দেশ্যহীনভাবে ছড়িয়ে থাকে।

প্রতিদিন সকালে উঠে নিজের লক্ষ্যের কথা স্মরণ করা এবং সেই অনুযায়ী সংকল্পবদ্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সফল হওয়ার জন্য কেবল ইচ্ছা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন অটল ধৈর্য এবং নিরবিচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতা।

আপনার স্বপ্নগুলো অন্য কারো অনুমোদনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

অনুপ্রেরণা বা মোটিভেশন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, এটি অভ্যাসের মাধ্যমে ধরে রাখতে হয়।

বড় অর্জনের চেয়েও বড় বিষয় হলো প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

অলসতা হলো আত্মার এক প্রকার কারাদণ্ড; কাজই আমাদের প্রকৃত মুক্তি দেয়।

জীবনের মান নির্ভর করে আমরা কতটা মনোযোগের সাথে আমাদের কাজগুলো করছি তার ওপর।

নিজের প্রতি সত্যবাদী হওয়াই হলো বীরত্বের শ্রেষ্ঠ রূপ।

অন্যদের তুষ্ট করার জন্য নিজের ব্যক্তিত্বকে বিসর্জন দেওয়া এক ধরনের দাসত্ব।

আমাদের কাজ যেন কেবল নিজের জন্য না হয়, বরং তা যেন অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে।

জীবন শেষে প্রশ্ন একটাই থাকবে— আমরা কি আমাদের পূর্ণ সম্ভাবনা দিয়ে বেঁচেছিলাম?
_______
Source: The Motivation Manifesto
নববিবাহিত? প্রথম তিন বছরের জন্য ১০টি পরামর্শ
বাদল সৈয়দ

“Grow old with me, the best is yet to be.”

‘চলো একসাথে বুড়ো হই— সামনে কত আনন্দ যে অপেক্ষা করছে!’

যারা নতুন বিয়ে করেছেন তাঁদের অভিনন্দন।

মাত্র শুরু করা সংসারযাত্রা অনেক দীর্ঘ হবে। যদি এ যাত্রাপথ আনন্দের না হয়— যদি দুজনে হাত ধরে সে পথ পাড়ি না দেন তবে জীবন অনেক কঠিন হবে।
এটি যাতে আনন্দের হয়, উপভোগের হয়, সেজন্য প্রথম তিন বছর কিছু কাজ করতে পারেন। কাজগুলো ছোটো ছোটো বীজের মতো— কিন্তু ঠিকভাবে রোপণ করলে এগুলোই সংসারকে ফুলে ফুলে ভরা বিশাল বাগানে পরিণত করবে।

১) টিনএজার হয়ে যান। মাটিতে লেপ্টা মেরে বসে খুনসুটি করুন। বকবক করুন। সহজ কাজ, কিন্তু সম্পর্ককে জমিয়ে মিষ্টি ক্ষীর বানিয়ে ফেলে। এই ক্ষীরের নাম বন্ধুত্ব। যে দম্পতি পরস্পরের বন্ধু হয়ে যান, তাঁদের চেয়ে সুখী আর কেউ নেই।

২) চায়ের কাপ নিয়ে মুখোমুখি বসুন। চায়ের কাপ সংসারে যে উষ্ণতা আনে, তা অতুলনীয়।

৩) বাড়ির বাইরে যান— গল্প করতে করতে দুজনে একসঙ্গে হাঁটুন। এটি দুজনের বোঝাপড়ায় আলাদা মাত্রা আনবে।

৪) বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখুন। দেখবেন সম্পর্কে নতুন রসায়ন জন্ম নিচ্ছে। বৃষ্টির শব্দের মাদকতা এই অপার্থিব রসায়ন তৈরি করে।

৫) দুজন দুজনের জন্য আলাদা আলাদা ডিশ রান্না করুন। সে খাবার একসাথে খান। আজ মনে হচ্ছে, খুব ছোটো ব্যাপার, কিন্তু এটিই একসময় সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতিগুলোর একটি হবে।

৬) একসাথে প্রিয় গানগুলো শুনুন। গান হচ্ছে উষ্ণ প্রেমের জন্মগৃহ। সে ঘরে একবার ঢুকতে পারলে বুকের ভেতর অলৌকিক এক নেশা তৈরি হয়। এ নেশা পরস্পরকে আরও ভালোবাসার নেশা।

৭) দুজনে মিলে রোমান্টিক সিনেমা দেখুন। শুধুই দুজনে। রোমান্টিকতায় কিছুক্ষণ হারিয়ে যান। সময়টা রোমান্টিকতার।

৮) কোনো ঘোষণা ছাড়াই একটি দিন একান্ত নিজেদের করে নিন।

সেদিন শুধু নিজেদের—
আর কারো নয়।

কোনো কাজ নয়—
বিছানাটা অগোছালো থাকুক,
সিঙ্কে পড়ে থাকুক থালাবাসন—
এমনকি রান্নার ঝামেলায়ও যাবেন না।

খাবার কিনে আনুন।
ফোন থাকুক বন্ধ।

‘সেদিন শুধু মিশিবার—
অলস ভালোবাসিবার।’

৯) খুব ছোটো ছোটো উপহার দিয়ে একে অন্যকে সারপ্রাইজ দিন। এ বিস্ময় বড় আনন্দের। বড় মমতার। এই মমতা আপনাদের চিরদিন ছায়া দিয়ে রাখবে।

১০) মাঝে মাঝে রাত জাগুন। বারান্দা বা জানালার কাছে বসে মধ্যরাতের ভাষা শুনুন— সে ভাষা অদ্ভুত রোমান্টিক! কী অসাধারণ এ মুহূর্ত, কল্পনাও করতে পারবেন না।

আপনাদের আগে পরিচয় থাকুক বা না থাকুক— বিয়ের পর প্রথম তিন বছর পরস্পরকে নতুন করে আবিষ্কার করার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘদিন প্রেম থাকলেও বিয়ের পর আপনি সঙ্গীর অনেক কিছুই আবিষ্কার করবেন, যা আগে দেখেননি। সেগুলো ভালোও লাগতে পারে, খারাপও লাগতে পারে। এগুলো সয়ে নিয়ে বাস্তবে সংসার সাজানোর জন্য এ তিন বছর প্রেমকে নবায়ন করা খুব জরুরি।

আগে পরিচয় না থাকলে নতুন মানুষটির সাথে ঘোরতর প্রেম করা শুরু করতে হবে। এ রসায়ন ভালো না হলে সামনে একসাথে চলা খুব কঠিন হবে।

মনে রাখবেন— মোটাদাগে প্রায় পঞ্চাশ বছরের যুগল জীবন আপনারা শুরু করেছেন।
এটি একটি দীর্ঘ রেলভ্রমণ। প্রথম তিনটি স্টেশন খুব ভালোভাবে পাড়ি দিন— বাকি সাতচল্লিশটি স্টেশন খুব আনন্দে পার হয়ে যাবেন।

তিনটি স্টেশন মানে প্রথম তিন বছর।

একসাথে আপনাদের চুল পাকুক— এরচেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই।

আপনাদের ট্রেন যেদিন পঞ্চাশতম স্টেশন পার হবে, সেদিন আমি হয়তো থাকব না। তাই অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়ে রাখলাম।

পাদটীকা: বিয়ের তিন বছর পর যে এগুলো করা যাবে না- তা কিন্তু নয়।

ছবি: Pexels

#আসুনমায়াছড়াই
#BadalSyed
2
মিনিমালিস্টরা বিশ্বাস করেন যে, ঘর পরিষ্কার রাখার উপায় শুধু গোছানো নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় জিনিস ঘর থেকে বের করে দেওয়া। তারা প্রতিদিন এই জিনিসগুলো ফেলে দেন বা সরিয়ে ফেলেন:

১. অপ্রয়োজনীয় কাগজ ও মেইল:
প্রতিদিন আমাদের ঘরে অনেক বিজ্ঞাপনপত্র, পুরনো রসিদ, খবরের কাগজ বা অপ্রয়োজনীয় চিঠিপত্র জমা হয়। মিনিমালিস্টরা এগুলো জমান না। প্রতিদিনের কাগজ সেদিনই চেক করে যা দরকার নেই তা সরাসরি রিসাইকেল বিন বা ডাস্টবিনে ফেলে দেন।

২. কেনাকাটার ব্যাগ ও প্যাকেট:
অনলাইন ডেলিভারির বক্স বা বাজারের প্লাস্টিক ব্যাগ আমরা অনেক সময় 'পরে কাজে লাগবে' ভেবে জমিয়ে রাখি। মিনিমালিস্টরা এই অভ্যাস ত্যাগ করেন। তারা প্যাকেট খোলার সাথে সাথেই বক্স বা বাড়তি প্লাস্টিক ব্যাগগুলো বিদায় করেন।

৩. মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার:
তারা প্রতিদিন ফ্রিজ বা রান্নাঘরের ক্যাবিনেট একবার চেক করেন। কোনো কিছুর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা কোনো সবজি পচে গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দেন। এতে রান্নাঘর সব সময় সতেজ ও দুর্গন্ধমুক্ত থাকে।

৪. পুরনো রসিদ এবং কুপন:
পকেটে বা মানিব্যাগে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় রসিদ বা যে কুপনগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো তারা প্রতিদিন ডাস্টবিনে ফেলে দেন যাতে মানিব্যাগ বা ড্রয়ার নোংরা না হয়।

৫. অকেজো কলম বা স্টেশনারি:
লেখার সময় কলম না চললে বা কোনো ছোটখাটো জিনিস ভেঙে গেলে আমরা তা টেবিলের ওপর রেখে দিই। মিনিমালিস্টরা এগুলো সাথে সাথে ফেলে দেন। অকেজো জিনিস জমিয়ে রাখা মানেই অপ্রয়োজনীয় জঞ্জাল বাড়ানো।

৬. ডিজিটাল আবর্জনা:
ঘর পরিষ্কারের পাশাপাশি তারা প্রতিদিনের অপ্রয়োজনীয় ইমেইল, ঝাপসা ছবি বা ফোনের স্ক্রিনশট ডিলিট করেন। এতে মানসিক প্রশান্তি বাড়ে এবং ডিজিটাল ডিভাইস গোছানো থাকে।

৭. অতিরিক্ত বাসনপত্র:
সিঙ্কে এঁটো বাসন জমিয়ে রাখা ঘরকে নোংরা দেখায়। তারা খাওয়ার পরপরই বাসন ধুয়ে ফেলেন এবং রান্নাঘরে রাখা অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় কৌটা বা থালা-বাসন নিয়মিত বিদায় করেন।

৮. অপ্রয়োজনীয় উপহার বা স্যুভেনিয়ার:
এমন কোনো ছোট জিনিস বা শো-পিস যা আপনার ঘরের সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে না বা আপনার কোনো কাজে আসছে না, সেগুলো তারা দান করে দেন বা সরিয়ে ফেলেন।

ঘর গোছানোর চেয়ে ঘর থেকে বাড়তি জিনিস কমানো বেশি জরুরি। আপনি যদি প্রতিদিন মাত্র ৫-১০ মিনিট সময় নিয়ে এই ছোটখাটো অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো বিদায় করেন, তবে আপনার ঘর কখনোই অগোছালো হবে না।
_______
Source: The Spruce
পুরুষ কখনো নারীকে ভোগ করতে পারে না—এমন একপেশে কথা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর। ইসলামে বিবাহ একটি পবিত্র চুক্তি ও ইবাদত, যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই একে অপরের জন্য পোশাক।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:
“তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ করো, এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।” (সূরা আর-রুম: ২১)

এখানে ভোগ নয়, বরং পারস্পরিক শান্তি, ভালোবাসা (মাওয়াদ্দাহ) ও দয়া (রহমাহ)-এর কথা বলা হয়েছে।

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার পারস্পরিক:
-স্ত্রীর অধিকার স্বামীর উপর: মোহরানা (দেনমোহর), ভরণপোষণ (খাবার, বাসস্থান, পোশাক), ন্যায়সঙ্গত আচরণ, যৌন তৃপ্তি এবং সর্বোত্তম চরিত্রের সাথে ব্যবহার।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর প্রতি সর্বোত্তম আচরণ করে।” (তিরমিযী)

- স্বামীর অধিকার স্ত্রীর উপর: সম্মান, আনুগত্য (যতক্ষণ না পাপের আদেশ), স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও সম্মান রক্ষা।
আল্লাহ বলেন: “পুরুষেরা নারীদের রক্ষক ও ভরণপোষণকারী...”(সূরা আন-নিসা: ৩৪) — এটি দায়িত্ব, শোষণ নয়।

(সূরা আল-বাকারা: ২২৮) -এ স্পষ্ট বলা হয়েছে:
“নারীদেরও অধিকার রয়েছে (স্বামীর উপর) যেমন স্বামীর অধিকার রয়েছে তাদের উপর, তবে পুরুষদের একটি মর্যাদা (দায়িত্বের) বেশি।”

ইসলাম কোনো পক্ষকে ভোগের বস্তু বানায়নি। উভয়ের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পূরণ পারস্পরিক অধিকার। যৌন সম্পর্ক শুধু স্বামীর জন্য নয়—স্ত্রীরও অধিকার।

বাস্তবতা ও সতর্কতা:
মানুষের লোভ (নারী বা পুরুষ যেই হোক) স্বাভাবিক, কিন্তু ইসলাম তা নিয়ন্ত্রণ করে। টাকা-সম্পদের লোভ যদি বিয়ে বা সম্পর্কের ভিত্তি হয়, তাহলে সে সম্পর্ক টেকে না। রাসূল ﷺ বলেছেন, দুনিয়ার সেরা সম্পদ হলো 'পুণ্যবতী স্ত্রী'।

দোষ ঘুরেফিরে পুরুষের—এমন সাধারণীকরণও ভুল। উভয় পক্ষের দায়িত্ব রয়েছে। স্বামী যদি দায়িত্ব পালন না করে, সে জবাবদিহি করবে আল্লাহর কাছে। স্ত্রী যদি অবাধ্যতা করে বা সম্পর্ক নষ্ট করে, সেও জবাবদিহি করবে।

ইসলামী বার্তা:
বিবাহ হলো ইবাদত ও সম্পর্কের মাধ্যম। এতে কোনো পক্ষই অপরকে “ভোগ” করে না। বরং উভয়ে মিলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে, পরস্পরকে রক্ষা করে এবং সংসারে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।

“তোমরা একে অপরের প্রতি সদয় হও, পরস্পরের প্রতি দয়া করো।” — এটাই ইসলামের শিক্ষা।

যারা এ ধরনের একপেশে পোস্ট ছড়ায়, তারা প্রায়ই নিজের অভিজ্ঞতা বা সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তিকে ইসলামের সাথে মিলিয়ে ফেলে। সত্যিকারের ইসলাম সবসময় ন্যায়বিচার, দয়া ও ভারসাম্য শেখায়।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক বোঝার তাওফিক দান করুন। আমীন।
সন্তানকে ভালো মানুষ ও সত্যিকারের মুমিন হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের চেষ্টার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পিতা-মাতার দোয়া। ভালো পরিবেশ বা শিক্ষার পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্য ছাড়া এই চেষ্টা অসম্পূর্ণ।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ আমাদের চমৎকার দোয়া শিখিয়েছেন:

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامً

উচ্চারণ: রব্বানা- হাবলানা- মিন আযওয়া-জিনা- ওয়া যুররিয়্যা-তিনা- কুররতা আ’ইয়ুনিঁউ ওয়াজ্‘আলনা- লিলমুত্তাকীনা ইমা-মা-।

অর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করো এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ বানাও।" (সূরা ফুরকান: ৭৪)

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ

উচ্চারণ: রব্বিজ'আলনী মুকীমাছ ছলা-তি ওয়া মিন যুররিয়্যাতী, রব্বানা- ওয়া তাকব্বাল দু'আ-।

অর্থ: "হে আমার পালনকর্তা! আমাকে নামাজ কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা, আমার দোয়া কবুল করুন।" (সূরা ইবরাহিম: ৪০)

আসুন, সন্তানের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য আমরা শুধু জাগতিক চেষ্টাই না করি, বরং নিয়মিত মহান রবের দরবারে হাত তুলি। আল্লাহ আমাদের সকল সন্তানকে নেককার, সুস্থ ও সব ধরনের বিপদ থেকে নিরাপদ রাখুন। আমিন। ❤️

#Parenting #IslamicReminder #DuaForChildren
🌸 হাম হলে কীভাবে সামলাবেন :-🌸
পোস্ট সেভ করুন ও শেয়ার করুন — কোনো মায়ের সন্তান যেন না কষ্ট পায়।

হামের প্রধান লক্ষণ:

🔸 হঠাৎ উচ্চ জ্বর (১০২–১০৪ ডিগ্রি)
🔸 চোখ লাল হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া ও আলোয় অস্বস্তি
🔸 নাক দিয়ে পানি পড়া ও কাশি
🔸 মুখের ভিতরে সাদা সাদা দানা (Koplik spots)
🔸 ৩–৪ দিন জ্বরের পর গায়ে লালচে দানা (rash) যা মুখ থেকে শুরু হয়ে পুরো শরীরে ছড়ায়
🔸 দুর্বলতা, খেতে না চাওয়া ও চোখের সমস্যা

এই লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন — এটা হাম।

হাম হলে একটা ওষুধ খাইয়ে ঠিক হয়ে যাবে না।
সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো — আপনার সতর্ক যত্ন ও ভালোবাসা ❤️

### হাম সামলানোর সঠিক উপায়:

১. জ্বর নিয়ন্ত্রণ
প্যারাসিটামল সিরাপ দিন (প্রতি ৮ কেজি ওজনের জন্য ১ চামচ করে)।
৬ ঘণ্টা পরপর। নিজে ডোজ ঠিক করবেন না — ডাক্তার দেখিয়ে নিন।

২. শরীরে পানি ধরে রাখুন 💧
বাচ্চা খেতে না চাইলেও অল্প অল্প করে পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, দুধ বা স্যুপ খাওয়ান।

৩. ভিটামিন A অবশ্যই দিন 👁️
হামে শরীর থেকে ভিটামিন A কমে যায়। এতে চোখ শুকিয়ে যেতে পারে, রাতকানা হতে পারে এমনকি অন্ধত্বও হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন A সাপ্লিমেন্ট দিন।

৪. পুষ্টিকর খাবার
ডিম, দুধ, মাছ, ডাল, ফলমূল (বিশেষ করে কমলা, পেঁপে, গাজর) — যত বেশি পারেন খাওয়ান। পুষ্টি যত বেশি, সুস্থ হওয়া তত দ্রুত।

৫. চোখের যত্ন
ঘর অন্ধকার রাখুন। হালকা গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে চোখ মুছিয়ে দিন। সমস্যা বাড়লে ডাক্তার দেখান।

৬. কাশি ও অস্বস্তি
হালকা গরম পানি বা লেবু পানি দিন।

জটিলতা দেখলে দেরি করবেন না:
শ্বাসকষ্ট, বুকে ঘড়ঘড় শব্দ, খিঁচুনি, অতিরিক্ত জ্বর বা শিশু অচেতন হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যান

প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা
সময়মতো MR / MMR টিকা দিন। একটা টিকায় আপনার সন্তানকে এই কষ্ট থেকে বাঁচান।

অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন — র‍্যাশ ওঠার আগে ও পরে অন্তত ৪ দিন। হাম খুবই ছোঁয়াচে।

হাম সাধারণ জ্বর নয়, কিন্তু সচেতনতা ও সঠিক যত্নে বেশিরভাগ শিশুই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়।

আপনার একটা শেয়ার যদি একটা শিশুকে বাঁচায়, তাহলেই আমার এই লেখা সার্থক। পোস্টটি সব গ্রুপে ওয়ালে শেয়ার করুন।

Dr. Aminul Islam
জীবন কঠিন—এটি মেনে নেওয়াই হলো জীবনের বড় সত্য। যখন আমরা বুঝতে পারি জীবন কঠিন, তখন এটি আর ততটা কঠিন থাকে না।

সমস্যা সমাধানের মাধ্যমেই আমরা মানসিকভাবে বড় হই। সমস্যার মুখোমুখি হওয়া এবং তা সমাধান করাই জীবনের মূল উদ্দেশ্য।

আমাদের উচিত সবসময় সত্যের পথে থাকা, এমনকি যদি সেই সত্য আমাদের আরামদায়ক বিশ্বাসকে ভেঙে দেয় তবুও।

শৃঙ্খলাই হলো আধ্যাত্মিক বিবর্তনের একমাত্র উপায়। শৃঙ্খল ছাড়া জীবনের কোনো সমস্যাই স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়।

আমাদের জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। অন্যকে দোষারোপ করা মানে নিজের পরিবর্তনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।

জীবন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের খেলা। কখন হাল ধরতে হবে এবং কখন ছেড়ে দিতে হবে, তা জানাই বড় কৌশল।

ভালোবাসা কোনো অনুভূতি নয়, এটি একটি সিদ্ধান্ত এবং কাজ। এটি নিজের বা অন্য কারো আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য স্বেচ্ছায় নিজেকে প্রসারিত করার নাম।

কাউকে ভালোবাসা মানেই আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া। যারা আঘাতের ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখে, তারা আসলে জীবন থেকেই দূরে সরে যায়।

যদি আপনি কাউকে ছাড়া চলতে না পারেন, তবে সেটি ভালোবাসা নয় বরং পরনির্ভরশীলতা।

আপনি অন্যকে ততক্ষণ ভালোবাসতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি নিজেকে ভালোবাসতে শিখছেন।

মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য একা থাকার ক্ষমতা অর্জন করা জরুরি।

মানসিক রোগ হলো এড়িয়ে যাওয়া যন্ত্রণার বিকল্প। আমরা যখন জীবনের কঠিন সত্যগুলো এড়াতে চাই, তখনই আমরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি।

অজানাকে ভয় পাবেন না। আধ্যাত্মিক বৃদ্ধি মানেই হলো চেনা পথ ছেড়ে অচেনা পথে পা রাখা।

শোনা একটি শিল্প। কাউকে মন দিয়ে শোনার মানে হলো তাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা।

শেখার কোনো শেষ নেই। যারা মনে করে তারা সব জানে, তাদের মানসিক বৃদ্ধি সেখানেই থেমে যায়।

আলস্য হলো আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রধান শত্রু। আমাদের মনের গভীরে যে আলস্য আছে, সেটিই আমাদের পরিবর্তনের পথে বাধা দেয়।

জীবন একটি দীর্ঘ যাত্রা। এই যাত্রায় কোনো শর্টকাট নেই, কেবল কঠিন পথটিই আপনাকে মুক্তির ঠিকানায় পৌঁছে দিতে পারে।
_______
Source: The Road Less Traveled
2
প্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহ
৬/৩/২০২৬

প্রশ্ন:
একজন নারী তালাকের পর নিজের কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে থাকেন। কন্যাটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তিনি তার বিয়ে দেন, কিন্তু সেখানে পিতার অনুপস্থিতিতে নানা (মাতামহ) কে অভিভাবক (ওলি) করা হয় এবং প্রাক্তন স্বামীকে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয় না। প্রশ্ন হলো, ওলির অনুমতি ছাড়া কি এই বিয়ে বৈধ? হানাফি মাযহাবের মতে ওলি ছাড়াও বিয়ে বৈধ, অন্যদিকে অন্যান্য ইমামদের মতে তা অবৈধ। কুরআন-হাদিসের আলোকে কোন মতটি অধিক গ্রহণযোগ্য?

উত্তর:
ইসলামী ফিকহে বিবাহের নীতিমালা ও শর্ত নির্ধারণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষত প্রাপ্তবয়স্ক নারীর স্বাধীনতা এবং ওলির অনুমতির প্রসঙ্গে। এ বিষয়ে ফকীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে মূলনীতি হচ্ছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী স্বাধীন, সচেতন এবং নিজ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম একটি সত্তা; তার নিজের সম্মতিই বিবাহের বৈধতার জন্য মৌলিক ও যথেষ্ট।

কুরআনে “তানকিহু” ও “ইয়ানকিহনা” শব্দগুলোর ব্যবহারে নারীকেই ক্রিয়ার কর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, বিবাহের ক্ষেত্রে নারীকে সক্রিয় ভূমিকা দেওয়া হয়েছে এবং তার সম্মতিকে কেন্দ্রস্থলে রাখা হয়েছে। অতএব, প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সম্মতি ছাড়া তার বিয়ে সম্পন্ন করা কুরআন-সুন্নাহর চেতনার পরিপন্থী।

হানাফি মাযহাবের দৃষ্টিতে, প্রাপ্তবয়স্ক কন্যা ওলির অনুমতি ছাড়াও নিজ বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে। কারণ, সে নিজের বিবেচনা-বুদ্ধি দ্বারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা রাখে। যদি বিবাহের অন্যান্য শর্ত—যেমন ঈমান, সদিচ্ছা এবং শরয়ি বিধানসমূহ পূর্ণ থাকে, তবে কন্যার সম্মতিই যথেষ্ট; ওলির উপস্থিতি অপরিহার্য নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের স্বাধীনতা ও শরিয়তের অন্তর্নিহিত চেতনার সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীর বোধ, বিচারশক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দেয় এবং তাকে নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দায়িত্বশীল করে তোলে।

অন্যদিকে, শাফেয়ি, হাম্বলি ও মালিকি মাযহাবের মতে ওলির অনুমতি অপরিহার্য শর্ত। তাদের দলিল সেই হাদিস “ওলি ছাড়া কোনো বিবাহ নেই” যা থেকে তারা ওলির উপস্থিতিকে আবশ্যিক বলে গণ্য করেন।

তবে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর প্রসঙ্গে হানাফি মতটি অধিক যুক্তিসংগত ও মানবিক বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের কল্যাণ-অকল্যাণ বুঝতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম; তার সম্মতিই বিবাহের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।

কুরআন ও সুন্নাহর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিও এই মতের পক্ষে অধিক শক্তিশালী। কুরআনে বিবাহের মৌলিক উপাদান (ঈমান, পারস্পরিক সম্মতি ও সদিচ্ছা) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে (সূরা নিসা ৪:২১)। একইভাবে হাদিসেও প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সম্মতির গুরুত্ব সুস্পষ্ট। বিবাহের প্রকৃত লক্ষ্য হলো, দুই পক্ষের আন্তরিক সম্মতি ও কল্যাণকামী মনোভাব নিয়ে একটি পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। যদি সেই সম্মতি বিদ্যমান থাকে, তবে ওলির অনুপস্থিতি এই লক্ষ্যকে ব্যাহত করে না; বরং তা নারীর স্বাধীন চেতনা ও পরিপক্বতারই স্বীকৃতি বহন করে।

এই আলোকে বলা যায়, যদি প্রাপ্তবয়স্ক কন্যা নিজের সম্মতিতে বিবাহ সম্পন্ন করে এবং ওলি হিসেবে নানাকে মনোনীত করে, তবে হানাফি মত অনুযায়ী এ বিবাহ শরয়ি ও আইনগতভাবে বৈধ, শর্ত এই যে, তার সম্মতি সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান থাকা লাগবে।

এই মত শুধু কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিকোণ থেকেই শক্তিশালী নয়; বরং এটি মানবিক স্বাধীনতা, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধেরও পূর্ণ স্বীকৃতি দেয়।

----------

মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড
1
ছোট বেলা থেকে শুনে আসতেছি একজন মানুষ সুস্থ থাকার জন্য দৈনিক ভালো পরিমাণ পানি পান করতে হবে। পানি বেশী করে পান করলে শরীর ভালো থাকে। স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠে। ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু গত প্রায় ২ বছর ধরে যখন থেকে কিডনী ডায়ালাইসিস জগতে আসলাম, তখন থেকে বুঝতে পারছি আসলে এ পানি ঠিক মত পান করাও যে কত বড় নেয়ামত। কেনো এ কথা বললাম?

বলা হয়ে থাকে কিডনী রোগীদের বাঁচতে হলে একটা কাপড় পানিতে ভিজিয়ে ওই কাপড় টা চেপে চেপে ফোঁটা ফোঁটা করে পানি পান করাতে। কারণ একটু বেশী পানি পান করলে কিডনী রোগীদের শরীর পানিতে ফুলে যায়। যাঁর ফলে তাদের শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হয়। এজন্য পরিমাণ মত পানিও ঠিক মত তাঁরা পান করতে পারেন না!!

কিডনী ডায়ালাইসিস জগত চিনতাম না। গত প্রায় ২ বছর এটার সাথে এমন ভাবে জড়িত হলাম! চোখের সামনে অনেক রোগী ইতিমধ্যে হায়াত শেষ হয়ে আল্লাহর কাছে চলে গিয়েছেন। অনেক তরুণ বয়সে বলতে পারেন আমাদের বয়সেরও ছোট মানুষের ও কিডনী ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। এমন অনেক রোগী চোখের সামনে দেখে আসতেছি।

সপ্তাহে ২/৩/৪ বার করে কিডনী ডায়ালাইসিস করতে হয়। এটা মূলত আমাদের শরীরের রক্ত সব একটা লাইন দিয়ে বের করে তা থেকে পানি পরিশোধন করে অন্য আরেকটা লাইন দিয়ে শরীরে সব রক্ত প্রবেশ করে।
এ পুরো প্রক্রিয়া টা মেশিন এ ৪ ঘন্টা টাইমার সেট থাকে।

এর আগে শেষ হয় না। পুরো ৪ ঘন্টা শুয়ে থাকতে হয় কিডনী রোগী দের। এরপর হাসপাতাল থেকে বাসায় আসা যাওয়া মিলে আরও ১/২ ঘন্টা লেগে যায়।
অর্থাৎ, পুরো ৫/৬ ঘন্টা সময়ের ব্যাপার। যা প্রতি সপ্তাহে ২/৩/৪ দিন এমন চলতেই থাকে।

কিডনী রোগী তো একা চলাচল করতে পারে না। তাঁর সাথে আরেকজন বা দুইজন মানুষ থাকতে হয়। মানে এ রোগী সহ আরও মোট ২/৩ জন্য মানুষের সপ্তাহে ২/৩/৪ দিন ৫/৬ ঘন্টা করে কিডনী ডায়ালাইসিস এ সময় অতিবাহিত করতে হয়।

এছাড়াও তাদের ঔষুধ, দেখাশোনা করা ইত্যাদি ব্যাপার তো রয়েছেই।

মূলত এ কিডনী ডায়ালাইসিস জগত টা গত প্রায় ২ বছর নিজ চোখে সব দেখে আসতেছি। গত প্রায় ২ বছর আমার সহ এমন সকল মানুষদের বলতে পারেন পুরো দিনটাই হাসপাতালে কাটা হয়েছে বা হচ্ছে।

আমার আব্বু কিডনী ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন।

সবাই আমার আব্বুর জন্য দো'আ করবেন।

এমন সকল কিডনী রোগীদের জন্য দো'আ করবেন।

দিন দিন এমন রোগীদের শরীর দূর্বল থেকে দূর্বল
হতে থাকে।

আল্লাহ এমন রোগ কাউকে না দিক।

সুস্থ থাকা যে কত বড় একটা নেয়ামত তা বলার বাহিরে!

আপনারা কেউ কখনো জীবনের উদ্দেশ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে গেলে!!
একবার হলেও কবরস্থান এবং হাসপাতালে ঘুরে আসবেন। তাহলে দেখবেন জীবনের উদ্দেশ্য পেয়ে যাবেন।

হাসপাতাল ঘুরে দেখলে বুঝতে পারবেন মানুষ কত অসহায়!

কবরস্থানে গেলে বুঝতে পারবেন এ দুনিয়া আজীবনের নয়!!

মাত্র কয়েকটা বছর কিংবা কয়েকটা দিন???
😢3
বাবা মা যাদের আছে, তাদের চেয়ে বড়লোক কেউ নেই। সময় থাকতে এটা বোঝা জরুরি।

পৃথিবীতে অনেক অসুন্দর আছে, সেগুলোতে ফোকাস না দিলেই হয়৷ যা কিছু ভালো, সেটা নিয়ে থাকতে হবে।

জীবনটা স্রষ্টার দেয়া এত বড় একটা গিফট, প্রতিটা মুহূর্ত উদযাপন করাই ভালো৷

নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে কোনো গ্লানি নেই।

ভেঙে পড়াও জীবনের একটা অংশ।

জীবনে এত কাজ করার আছে! কিন্তু সময় খুব অল্প। যে কোনো সময় মরে যেতে হবে। এই অল্প সময়ের মধ্য যতটা অর্থবহ ভ্রমণ করা যায়, তত ভালো।

কারো সাথে প্রতিযোগিতায় নামার দরকার নাই। নিজের কাজ নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই ভালো।

অন্যের জীবন দেখে অনুপ্রেরণা নিতে পারো৷ তবে অন্যে কী করলো, কতদূর গেল তা দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া বা তার সাথে কম্পিটিশনে নামাটাই ক্ষতির কারণ।

একটা জীবন ভালোবাসার জন্যই যথেষ্ট না৷ সেখানে কত কিছু করে আমরা এনার্জি নষ্ট করি।
_______
উক্তি: শারমীন সুলতানা সুমী
কার্টেসী: সময়ের গল্প
1
প্রিয় পাঠক, এক টুকরা কাগজ নিন৷ কাগজে আপনার নাম লিখুন৷ নামের নিচে দুটো ফোন নাম্বার লিখুন৷ না, আপনার ফোন নাম্বার না৷ আপনার অতি আপনজনের ফোন নাম্বার৷ আপনার পিতা, মাতা, ভাই অথবা স্বামী/স্ত্রীর।

আর যদি আপনি হোস্টেল বা মেসে থাকেন, তাহলে রুমমেটের ফোন নাম্বার৷
নাম্বার লেখার আগে ছোট করে সেই ব্যক্তির পরিচয় লিখবেন৷ বাবা, ভাই, রুমমেট এরকম লিখলে হবে।

ফোন নাম্বারের নিচে লিখবেন আপনার রক্তের গ্রুপ।

আপনার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকুক বা না থাকুক, এই কাগজ সারাক্ষণ শার্ট অথবা প্যান্টের পকেটে রাখবেন৷ আপনি যখন দুর্ঘটনায় পতিত হবেন, তখন সবাই ভিডিও করবে না, সবাই রিল বানিয়ে ভিউ ব্যবসা করবে না৷ কোনো কোনো মানবিক মানুষ আপনার সাহায্যার্থে এগিয়ে আসবে৷ তখন আপনাকে হাসপাতালে নেয়া হবে৷ আপনি হয়তো তখন অজ্ঞান থাকবেন অথবা মৃত্যুবরণ করবেন। তখন আপনার আপনজনকে খবর দিতে হলে ওই ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা যাবে।

আপনার পকেটে যে ফোন থাকবে, সেটা লক করা থাকবে, সুতরাং ওপেন করে আপনজনদের ফোন নাম্বার বের করা মুশকিল হবে৷ সবচেয়ে বড় কথা হলো- আপনার পকেটের ফোন চুরি হয়ে যাবে৷ বাঙালিরা দুর্ঘটনাকবলিত মানুষের এবং মৃত মানুষের পকেট থেকে ফোন, টাকাপয়সা চুরি করতে খুব পারদর্শী।

যদি আপনি জীবিত থাকেন, তখন চিকিৎসার জন্য আপনার রক্ত লাগতে পারে৷ তখন কাগজের রক্তের গ্রুপ দেখে দ্রুত সেই রক্ত জোগাড় করতে পদক্ষেপ নেয়া যাবে।

আপনার শিশুকে স্কুলে পাঠানোর আগে বা শিক্ষা সফরে পাঠানোর আগে একই কাজ করবেন৷ শার্ট অথবা প্যান্টের পকেটে নাম, ফোন নাম্বার, রক্তের গ্রুপ লিখে দিতে হবে।

এদেশে কেউ ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে, এই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে না৷ সুতরাং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিয়ে বাইরে বের হওয়া ভালো৷ কাগজ রাখতে হবে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া যায়।

এই কথাগুলো অনেক রূঢ় মনে হচ্ছে৷ কিন্তু বাস্তবতা এটাই ভাই৷ দোয়া দরূদ পড়ে অবশ্যই বের হবেন। তবে প্রাথমিক প্রস্তুতি রাখতে হবে৷
সহি সালামতে গন্তব্যে পৌঁছতে পারলে স্রষ্টার কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করুন। স্বাভাবিকভাবে আপনি বেঁচে আছেন, এটাই অলৌকিক ঘটনা, এবং স্রষ্টার অনেক বড় রহমত।
______
1
আমার পরিচিত একজন ব্যবসায়ী রয়েছেন।
আল্লাহ তায়ালা তাকে কোটি কোটি টাকার সম্পদ দান করেছেন—
কিন্তু গ্রামের কাউকেই তিনি তা জানতে দেননি।

গ্রামে ঢোকার প্রায় ১৫ কিলোমিটার আগেই নেমে যান,
নিজের প্রায় ৮০ লাখ টাকার গাড়িটি আবার ঢাকায় পাঠিয়ে দেন।
এরপর নিজে ভ্যান, অটো বা CNG-তে করে
একদম সাধারণ মানুষের মতো বাড়িতে পৌঁছান।

গ্রামে থাকা অবস্থায় তিনি আয়রন করা জামাও পরেন না—
নিজেকে স্বাভাবিক ও সাধারণ রাখতেই এই চেষ্টা।

এত কিছু মেনে চলার পেছনে একটাই কারণ—
বদনজরের ভয়।

কারণ, নজর মানুষকে উঁচু থেকে নিচে নামিয়ে দিতে পারে,
একজন বাদশাকে ফকির বানিয়ে দিতে পারে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে
বদনজর ও হিংসা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
1
এই আর্টিকেলে এমন ১০টি সাধারণ অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে যা আমাদের অজান্তেই জীবনের আনন্দ কেড়ে নেয়।

১. জীবন যেমন ‘হওয়া উচিত’ তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা: জীবন সবসময় আপনার মনের মতো হবে না। তাই হতাশ না হয়ে সেই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করুন। বর্তমান পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও আপনার প্রতিক্রিয়া আপনার হাতে।

২. অনিয়ন্ত্রণযোগ্য বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা: যেসব সমস্যা আপনি সমাধান করতে পারবেন না, সেগুলো মেনে নিন। অতীত বা কাল্পনিক কোনো বিষয় নিয়ে শক্তি নষ্ট করবেন না। মাঝে মাঝে ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে বড় সাহসের কাজ।

৩. অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখা: আপনি গত বছর বা গত সপ্তাহে যা ছিলেন, আজ তা নন। জীবন পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে নতুন শুরুকে স্বাগত জানান।

৪. নিজেকে ক্ষমা না করা: অতীতে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুলের জন্য নিজেকে সারাজীবন দোষ দেবেন না। সেই ভুলগুলো ছিল আপনার জন্য বড় শিক্ষা। নিজেকে ক্ষমা করে সামনে এগিয়ে যান।

৫. জীবনের গৎবাঁধা নিয়মে আটকে থাকা: অধিকাংশ মানুষ অন্যের দেওয়া বা সমাজের তৈরি নিয়মে জীবন কাটায়। নিজের পছন্দ বা প্যাশনকে গুরুত্ব দিন। জনপ্রিয়তা নয়, বরং যা সঠিক তা করার চেষ্টা করুন।

৬. নতুন ধারণা বা শিক্ষাকে বাধা দেওয়া: ভাববেন না যে আপনি সব জানেন। শেখা বন্ধ করবেন না। বই পড়ুন, অন্যের কথা শুনুন এবং নিজের জ্ঞানকে অন্যের কল্যাণে কাজে লাগান।

৭. ক্ষণিক আনন্দের পেছনে ছোটা: বস্তুগত সুখ সাময়িক। দীর্ঘস্থায়ী সুখ আসে নিজের উন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজের মাধ্যমে। যা এখন আনন্দ দিচ্ছে কিন্তু ভবিষ্যতে ক্ষতি করবে, এমন কাজ থেকে দূরে থাকুন।

৮. সবসময় অন্যের জীবন নিয়ে পড়ে থাকা: অন্যের সফলতার গল্প দেখতে দেখতে নিজের গল্প লিখতে ভুলে যাবেন না। নিজেকে গুরুত্ব দিতে শিখুন। নিজের যত্ন নিন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।

৯. ছোট ছোট ব্যর্থতাকে ভয় পাওয়া: সফল হতে হলে অনেকবার ব্যর্থ হতে হতে পারে। ভুল করা মানে আপনি চেষ্টা করছেন। ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, বরং পড়ে গিয়ে উঠে না দাঁড়ানোই হলো আসল ব্যর্থতা।

১০. ‘সঠিক সময়ের’ জন্য অপেক্ষা করা: নিখুঁত মুহূর্ত বলে কিছু নেই। সময়কে নিখুঁত করে নিতে হয়। খুশির জন্য ছুটির দিন বা বিশেষ সময়ের অপেক্ষা করতে করতে পুরো জীবনটাই পার করে দেবেন না। প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগান।

একটি ছোট অনুশীলন:
আপনার জীবনের যেকোনো একটি ক্ষেত্র বেছে নিন যা আপনি উন্নত করতে চান। এই ৪টি প্রশ্ন নিজেকে করুন:
১. বর্তমানে আপনার সমস্যা কী?
২. কোন অভ্যাসগুলোর কারণে আপনি আজ এই সমস্যায় পড়েছেন?
৩. আপনি নিজেকে ভবিষ্যতে কেমন দেখতে চান?
৪. সেখানে পৌঁছাতে প্রতিদিন আপনাকে কোন ছোট নতুন অভ্যাসটি শুরু করতে হবে?

মনে রাখবেন, আপনি যদি বারবার পুরনো অভ্যাসে ফিরে যান, তবে জীবনে উন্নতি করা সম্ভব নয়। আজই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিন।
______
1
🚧বেশিরভাগ মানুষ মদিনায় ভুল হোটেল বেছে নেয়।

কারণ তারা মনে করে

“মসজিদ নববীর কাছে” থাকাই যথেষ্ট।

কিন্তু তা নয়।

কেউ কেউ রওজার কাছাকাছি থাকতে চায়।

আবার কেউ কেউ শপিং এলাকার কাছে থাকতে পছন্দ করে।

আর এই জায়গাগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিকে অবস্থিত।

🟢 আপনি যদি রওজার কাছাকাছি থাকতে চান
গেট ৩০১–৩১০, ৩৬৫–৩৬৯ এর কাছাকাছি হোটেল বেছে নিন
→ কিছু হোটেল থেকে সবুজ গম্বুজের দৃশ্যও দেখা যায়

🔴 আপনি যদি কেনাকাটা, খাবার, ক্যাফে এবং মানি চেঞ্জারের (বিন দাউদ, তাইবা মল, ফুড কোর্ট) কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন

গেট ৩২৮–৩৩৮ এর কাছাকাছি হোটেল বেছে নিন

🟣 আপনি যদি ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর (মসজিদ গামামা, মসজিদ আলী, মসজিদ আবু বকর) নামাজে যাওয়া-আসার পথে আপনি এগুলো অতিক্রম করবেন
৩০৯-৩১০।
🟢 কুবা ওয়াকওয়ে ও মসজিদে বিল্লাল র: এর কাছাকাছি হোটেলে থাকতে চান
আশেপাশের এলাকায় থাকতে চান
গেট ৩১০–৩২৬ এর কাছাকাছি হোটেল বেছে নিন

🔵 আপনি যদি জান্নাতুল বাকির আরও কাছাকাছি যেতে চান
গেটের কাছাকাছি হোটেল বেছে নিন ৩৪০–৩৬৪
→ কিছু হোটেল থেকে এমনকি জান্নাতুল বাকির সরাসরি দৃশ্যও দেখা যায়

সঠিক দিকটি বেছে নিলে

প্রতিদিন আপনার শক্তি বাঁচতে পারে।
#ibmtravel #madinah #Hajj2026 #hajj #umrah #saudiarabia
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, শায়েখ!
আপনি আমাকে ছোটো ও বড়ো নেক আমলের লিষ্ট দিন।

উত্তর: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম । ৭০টি এমন আমল যাতে রয়েছে বহু ফজিলত

আমল: ১
প্রত্যেক ওযুর পর কালেমা শাহাদত পাঠ করুণ (আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রাসূলুহূ)। এতে জান্নাতের ৮টি দরজার যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৩৪।

আমল: ২
প্রত্যেক ফরজ সলাত শেষে আয়াতুল কুরসি পাঠ করুণ এতে মৃত্যুর সাথে সাথে জান্নাতে যেতে পারবেন। সহিহ নাসাই, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ৯৭২।

আমল: ৩
প্রত্যেক ফরজ সলাত শেষে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং ১ বার (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর) পাঠ করুণ এতে আপনার অতীতের সব পাপ ক্ষমা হয়ে যাবে। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ১২২৮। সেই সাথে জাহান্নাম থেকেও মুক্তি পেয়ে যাবেন কেননা দিনে ৩৬০ বার এই তাসবিহগুলো পড়লেই জাহান্নাম থেকে মুক্ত রাখা হয় আর এভাবে ৫ ওয়াক্তে ৫০০ বার পড়া হচ্ছে। সহিহ মুসলিম, মিশকাত হাদিস নং- ১৮০৩) ।

আমল: ৪
প্রতিরাতে সূরা মুলক পাঠ করুণ এতে কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। সহিহ নাসাই, সহিহ তারগিব, হাকিম হাদিস নং- ৩৮৩৯, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ১১৪০।

আমল: ৫
রাসুল (সাঃ)-এর উপর সকালে ১০ বার ও সন্ধ্যায় ১০ বার দরুদ পড়ুন এতে আপনি নিশ্চিত রাসুল (সাঃ)-এর সুপারিশ পাবেন। তিবরানি, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৬৫৬ ।

আমল: ৬
সকালে ১০০ বার ও বিকালে ১০০ বার সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি পরলে সৃষ্টিকুলের সমস্ত মানুষ থেকে বেশী মর্যাদা দেওয়া হবে। সহিহ আবু দাউদ, হাদিস নং- ৫০৯১। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি 'সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি' পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়। (তিরমিজি : ৩৪৬৪)

আমল: ৭
সকালে ১০০ বার ও সন্ধ্যায় ১০০ বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পাঠ করলে কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশী সওয়াব আর কারো হবে না। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৬৯২।

আমল: ৮
সকালে ও বিকালে ১০০ বার সুবহানাল্লাহ, ১০০ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ১০০ বার আল্লাহু আকবার এবং ১০০ বার লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর পাঠ করলে অগণিত সওয়াব হবে। নাসাই, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৬৫১।

আমল: ৯
বাজারে প্রবেশ করে- (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু য়্যুহয়ী ওয়া য়্যুমীতু ওয়া হুয়া হাইয়ুল লা য়্যামূত, বিয়াদিহিল খাইরু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর)পাঠ করুণ এতে ১০ লক্ষ পুণ্য হবে, ১০ লক্ষ পাপ মোচন হবে, ১০ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি হবে এবং জান্নাতে আপনার জন্য ১ টি গৃহ নির্মাণ করা হবে। তিরমিজি, হাদিস নং- ৩৪২৮,৩৪২৯।

আমল: ১০
বাড়িতে সালাম দিয়ে প্রবেশ করুণ এতে আল্লাহ তা’লা নিজ জিম্মাদারিতে আপনাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ইবনু হিব্বান, হাদিস নং- ৪৯৯, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৩১৬।

আমল: ১১
জামাতে ইমামের প্রথম তাকবীরের সাথে ৪০ দিন সলাত আদায় করুন এতে আপনি নিশ্চিত জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। তিরমিজি, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ৭৪৭, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৪০৪)।

আমল_১২
প্রতিমাসের আয়ের একটা অংশ এতিমখানা বা মসজিদ মাদ্রাসা বা গরিব-দুখি, বিধবা ও দুস্থদের মাঝে দান করবেন হোক সেটা অতি অল্প এতে আপনি আল্লাহ তা’লার কাছে জিহাদকারির সমতুল্য হবেন। সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৬০০৭।

আমল: ১৩
মহিলারা ৪টি কাজ করবেন, ১- ৫ ওয়াক্ত সলাত ২- রমজানের সিয়াম, ৩- লযযাস্থানের হেফাজত, ৪- স্বামীর আনুগত্য করুণ এতে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস নং- ৪১৬৩ ।

আমল: ১৪
মসজিদে ফজরের সলাত আদায় করে বসে দোয়া জিকির পাঠ করুণ এবং সূর্য উঠে গেলে ২ রাকাত ইশরাকের সলাত আদায় করুণ এতে প্রতিদিন নিশ্চিত কবুল ১ টি হজ্জ ও উমরার সওয়াব পাবেন। তিরমিজি, তারগিব হাদিস নং- ৪৬১।

আমল_১৫
প্রতিটি ভালো কাজ ডান দিক দিয়ে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা।

আমল: ১৬
ঘুম থেকে উঠে ঘুমের দুয়া পড়া ।

আমল: ১৭
বাথরুমে যেতে দুয়া পড়ে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা, বের হওয়ার সময় ডান পা দিয়ে বের হয়ে দুয়া পড়া। [বাথরুমে কোন দুয়া পড়া যাবে না]

আমল_১৮
-ওযুর পূর্বে মিসওয়াক করার অভ্যাস করা। -ওযুর শুরুতে এবং শেষে হাদিসে বর্ণিত দুয়া পড়া।

আমল: ১৯
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা দিয়ে দুয়া পড়ে বের হওয়া এবং প্রবেশের সময়ও ডান পা দিয়ে প্রবেশ করে সালাম দেয়া। যদিও ঘরে কেউ না থাকুক না কেন সালাম দেয়া সুন্নাহ, আল্লাহর হুকুম। যদি ঘরে কেউ নাকে তবে এই সালাম ঘরের ফিরিশতাদের জন্য।

আমল: ২০
মসজিদে ডান পা দিয়ে দরুদ ও দুয়া পড়ে ঢুকা এবং বাম পা দিয়ে দরুদ ও দুয়া পড়ে বের হওয়া।
আমল : ২১
রাস্তার ডানপাশে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। না পারলে ভিন্ন কথা।

আমল: ২২
ফরজ সালাত শেষে হাদিসে বর্ণিত যিকির, দুয়ার আমল করা। ফজর ও মাগরিবের পর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়া, তিন ক্বুল পড়ে শরীর দম করা, ইত্ত্যাদি হাদিসে বর্ণিত আমল করা।

আমল: ২৩
আযানের জবাব দেয়া, আযানের পর হাদিসে বর্ণিত দুয়া পড়া। (হাত উত্তোলন না করে) -চলতে ফিরতে ছোট বড় সকলকে সালাম দেয়া। সালাম দিয়ে কথা শুরু ও শেষ করা। শুদ্ধভাবে সালাম দেয়া।

আমল: ২৪
জামা ও জুতা পরার সময় ডান দিক পরা এবং খোলার সময় বামদিকে আগে খুলা। সম্ভব হলে হাদিসে বর্ণিত দুয়া মুখস্থ করে আমলের অভ্যাস করা।

আমল: ২৫
পানি খাওয়ার সময় ৬টি সুন্নত ভালোভাবে মেনে খাওয়ার চেষ্টা করা।

আমল: ২৬
ভাত বা যেকোন খাবার খাওয়ার সময় সমতল জায়গায় বসে দস্তরখানা বিছিয়ে বিসমিল্লাহ বলে দুয়া পড়ে খাওয়া, কিছু পরে গেলে তুলে ধুয়ে খাওয়া, খাওয়া শেষে আলহামদুলিল্লাহ্‌ পড়া।

আমল: ২৭
ঘুমানোর আগে সূরা মূলক তিলাওয়াত করা, তিন ক্বুল (ইখলাস, ফালাক্ব, নাস) পড়ে তিনবার শরীর দম করা, ঘুমের দুয়া পড়া, আয়াতুল কুরসী পড়া, সূরা কাফিরুন পড়ে ডান কাত হয়ে শোয়া।

আমল: ২৮
ঘুমের মাঝখানে কোন খারাপ স্বপ্ন দেখলে উঠে বামপাশে তিনবার থু থু ফেলা এবং আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম পড়ে আল্লাহর কাছে শয়তানের হাত থেকে পানাহ চাওয়া।

আমল: ২৯
আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা :-
‘‘কেউ যদি চায় যে তার মূলধন বৃদ্ধি করা হোক এবং বয়স দীর্ঘ করা হোক, তবে তাকে বল সে যেন আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’’ [বুখারী, মুসলিম]

আমল: ৩০
২টি পবিত্র হারামে (মক্কা ও মাদীনা) সলাত পড়া :-
‘‘আমার এই মাসজিদে সালাত পড়া অন্য কোথাও ১ হাজার বার সালাত পড়ার চেয়েও উত্তম, শুধুমাত্র মাসজিদুল হারাম ছাড়া এবং মসজিদুল হারাম এ সলাত পড়া অন্য কোথাও একশ হাজার বার সালাত পড়ার চেয়ে উত্তম।’’ [আহমাদ, ইব্ন মাজাহ]

আমল : ৩১
জামা’আতে সালাত পড়া :-
‘‘জামা’আতে সালাত পড়া একাকী সালাত পড়ার চাইতে ২৭ গুন বেশী মর্যাদার।’’ [বুখারী, মুসলিম]

আমল: ৩২
ইশা এবং ফজর জামা’আতে পড়া :-
‘‘যে ব্যক্তি ইশার সালাত জামা’আতে পড়ল সে যেন অর্ধেক রাত ইবাদাত করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা’আতে পড়ল সে যেন পুরো রাত ইবাদাত করল।’’ [মুসলিম]

আমল: ৩৩
নফল সালাত বাসায় পড়া :-
‘‘ফরজ সালাত ছাড়া মানুষের সালাতের মধ্যে সেই সালাত উৎকৃষ্ট, যা সে ঘরে পড়ে।’’ [বুখারী , মুসলিম]

আমল: ৩৪
জুম’আর দিনের ইবাদাতগুলো পালন করা :-
‘‘যে জুমু’আহর দিনে গোসল করে , তারপর প্রথম খুৎবার পূর্বেই উপস্থিত থাকে, পায়ে হেটেঁ আসে, ইমামের কাছে বসে এবং মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শুনে ও কোন কথা না বলে -- তাহলে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে একবছর সালাত পড়া ও রোজা রাখার সমান সাওয়াব পাবে।’’ (আহল-আস-সুনান) হযরত আউস ইবনে আউস আসসাকাফি (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, 'যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করবে, অতঃপর কোনো রকম যানবাহনে না চড়ে হেঁটে আগে আগে মসজিদে যাবে, ইমামের নিকটবর্তী বসবে, চুপ থাকবে এবং অনর্থক কথা বলা থেকে বিরত থাকবে, তবে তার জন্য বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত প্রতি কদমে এক বছরের রোজা ও কিয়ামুল লাইলের সওয়াব লেখা হবে। (আবু দাউদ : ৩৪৫)

আমল: ৩৫
দোহার (ইশরাক) সালাত পড়া :-
‘‘যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা’আতের সাথে পড়ে, তারপর সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত আল্লাহর যিকর করে, তারপর দু’ রাকাআত সালাত পড়ে, সে যেন হজ্জ এবং ওমরাহর সাওয়াব পূর্ণ করল। [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একথাটি ৩ বার জোরে জোরে পুনরাবৃত্তি করলেন। [আত-তিরমিজি]

আমল: ৩৬
ইলমের জন্য মাসজিদে যাওয়া :-
‘‘যে দুনিয়াবি কোন কারন ছাড়া দ্বীনি ইলম শিখা বা শিখানোর উদ্দেশ্যে মাসজিদে যায়, সে ঐ ব্যক্তির মত যে তার হজ্জ পূর্ণ করেছে।’’ [আত তাবারানী]

আমল: ৩৭
রমজানে ওমরাহ পালন করা :-
‘‘রমজানে ওমরাহ করা আমার সাথে হজ্জ করার সমান।’’ [বুখারী]

আমল: ৩৮
মাসজিদে ফরজ সালাত আদায় করা :-
‘‘যে ব্যক্তি নিজের গৃহ থেকে পবিত্রতা অর্জন করে (অজু ও প্রয়োজনে গোসলও করে) আল্লাহর গৃহের মধ্য থেকে কোন একটি গৃহের দিকে যায়, আল্লাহর ফরজের মধ্য থেকে কোন একটি ফরজ আদায় করার উদ্দেশ্যে, তার একটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং অন্য পদক্ষেপটি তার একটি মর্যাদা উন্নত করে।’’ [মুসলিম]

আমল: ৩৯
জামা’আতে প্রথম সারিতে দাড়ানোর চেষ্টা করা :-
‘‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম সারির জন্য ৩ বার এবং দ্বিতীয় সারির জন্য ১ বার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।’’ [আন নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]

আমল: ৪০
মাদীনার মাসজিদুল কুবায় সালাত পড়া :-
‘‘যে ব্যক্তি ঘর থেকে নিজেকে পবিত্র করে, তারপর মাসজিদুল কু’বায় আসে এবং সালাত পড়ে, সে যেন ওমরাহর সাওয়াব পেল।’’ [আন নাসাঈ, ইবন মাজাহ]

আমল_৪১
আযানের জবাব দেয়া :-
‘‘যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তার পুনরাবৃত্তি করে যাও। যখন আযান শেষ হয় তখন (দোয়া) চাও, তোমাকে দেয়া হবে।’’ [আবু দাউদ, আন নাসাঈ]