অর্থ:
হে আমাদের রব, আপনার রাসুলদের মাধ্যমে আপনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদেরকে দান করুন।
(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৪)
৩৪
আরবি:
وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
উচ্চারণ:
ওয়ালা তুখযিনা ইয়াওমাল কিয়ামাহ
অর্থ:
এবং কিয়ামতের দিন আমাদের অপমানিত করবেন না।
(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৪)
৩৫
আরবি:
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
উচ্চারণ:
রব্বানা আফরিগ ‘আলাইনা সাবরান ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমীন
অর্থ:
হে আমাদের রব, আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন।
(সূরা আল-আরাফ ৭:১২৬)
৩৬
আরবি:
رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ:
রব্বি নাজ্জিনি মিনাল কওমিজ্জালিমিন
অর্থ:
হে আমার রব, আমাকে জালিম সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন।
(সূরা আল-কাসাস ২৮:২১)
৩৭
আরবি:
رَبِّ أَنزِلْنِي مُنْزَلًا مُّبَارَكًا
উচ্চারণ:
রব্বি আনযিলনি মুনযালাম মুবারাকা
অর্থ:
হে আমার রব, আমাকে বরকতময় স্থানে অবতরণ করান।
(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:২৯)
৩৮
আরবি:
رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ
উচ্চারণ:
রব্বি আউযু বিকা মিন হামাযাতিশ শাইয়াতীন
অর্থ:
হে আমার রব, আমি শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:৯৭)
৩৯
আরবি:
وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
উচ্চারণ:
ওয়া আউযু বিকা রব্বি আইয়্যাহদুরুন
অর্থ:
এবং হে আমার রব, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যেন তারা আমার কাছে উপস্থিত না হয়।
(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:৯৮)
৪০
আরবি:
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ
উচ্চারণ:
রব্বি আওযি‘নি আন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতি আন‘আমতা আলাইয়্যা
অর্থ:
হে আমার রব, আমাকে অনুপ্রাণিত করুন যাতে আমি আপনার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে দান করেছেন।
(সূরা আন-নামল ২৭:১৯)
আমিন।
হে আমাদের রব, আপনার রাসুলদের মাধ্যমে আপনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদেরকে দান করুন।
(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৪)
৩৪
আরবি:
وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
উচ্চারণ:
ওয়ালা তুখযিনা ইয়াওমাল কিয়ামাহ
অর্থ:
এবং কিয়ামতের দিন আমাদের অপমানিত করবেন না।
(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৪)
৩৫
আরবি:
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
উচ্চারণ:
রব্বানা আফরিগ ‘আলাইনা সাবরান ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমীন
অর্থ:
হে আমাদের রব, আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন।
(সূরা আল-আরাফ ৭:১২৬)
৩৬
আরবি:
رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ:
রব্বি নাজ্জিনি মিনাল কওমিজ্জালিমিন
অর্থ:
হে আমার রব, আমাকে জালিম সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন।
(সূরা আল-কাসাস ২৮:২১)
৩৭
আরবি:
رَبِّ أَنزِلْنِي مُنْزَلًا مُّبَارَكًا
উচ্চারণ:
রব্বি আনযিলনি মুনযালাম মুবারাকা
অর্থ:
হে আমার রব, আমাকে বরকতময় স্থানে অবতরণ করান।
(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:২৯)
৩৮
আরবি:
رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ
উচ্চারণ:
রব্বি আউযু বিকা মিন হামাযাতিশ শাইয়াতীন
অর্থ:
হে আমার রব, আমি শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:৯৭)
৩৯
আরবি:
وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
উচ্চারণ:
ওয়া আউযু বিকা রব্বি আইয়্যাহদুরুন
অর্থ:
এবং হে আমার রব, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যেন তারা আমার কাছে উপস্থিত না হয়।
(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:৯৮)
৪০
আরবি:
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ
উচ্চারণ:
রব্বি আওযি‘নি আন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতি আন‘আমতা আলাইয়্যা
অর্থ:
হে আমার রব, আমাকে অনুপ্রাণিত করুন যাতে আমি আপনার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে দান করেছেন।
(সূরা আন-নামল ২৭:১৯)
আমিন।
❤1
কেন কৈশোর পেরিয়ে যাওয়ার পরও আপনার মুখে ব্রণ উঠেই চলেছে?
কেন ক্রিম, মলম, ফেসওয়াশ ব্যবহার করেও আপনার অ্যাকনি, একজিমা, সোরিয়াসিস, চুলকানি সারছে না?
যদি মনে করেন এসব আপনার ত্বকের দোষ, তার মানে আপনি নিজের দেহ সম্পর্কে কিছুই জানেন না!
সবাই ত্বকের সমস্যাকে শুধু ত্বকের সমস্যা হিসেবেই ভাবে। কিন্তু আসলে আপনার মুখে ব্রণ ওঠা, ত্বকে চুলকানি, একজিমা দেখা দেওয়া, কিংবা সোরিয়াসিসের মতো অটোইমিউন সমস্যা এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সূত্রপাত হয় পেটের ভেতরে!
বলা যেতে পারে, আপনার ত্বক আসলে আপনার পেটের ডিসপ্লে স্ক্রিন!
ভেতরে কী ঘটছে, তা সবার আগে ত্বকেই প্রকাশ পায়! এই কানেকশনকে বলা হয় 'গাট-স্কিন এক্সিস'।
অন্ত্র (Gut) হলো শরীরের ফিল্টার ফ্যাক্টরি ও প্রধান বর্জ্য নিষ্কাশন কেন্দ্র। এর কাজ ভালো জিনিস রক্তে পাঠানো, আর খারাপ জিনিস শরীর থেকে বের করে দেওয়া।
রক্ত হলো শরীরের ভেতরের নদী। এই নদী ফ্যাক্টরি থেকে পুষ্টি নিয়ে যায় এবং বর্জ্য বয়ে নিয়ে আসে।
ত্বক হলো শরীরের সবচেয়ে বড় নিষ্কাশন পথ (Largest Elimination Organ)।
যখন লিভার ও অন্ত্র ঠিকমতো বর্জ্য সামলাতে পারে না, তখন তা ত্বকের মাধ্যমেই ঠেলে বের হয়, ফলে তৈরি হয় ইনফ্লামেশন, ব্রণ, র্যাশ ইত্যাদি।
সমস্যা শুরু হয়, যখন অন্ত্রের দেয়াল (Gut Barrier) বিধ্বস্ত হয়। স্ট্রেস, প্রসেসড ফুড, রিফাইন্ড তেল, ঘুমের অভাব, অ্যান্টিবায়োটিক এসব কারণে অন্ত্রের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে intestinal permeability বাড়ে (একে লিকি গাট নামেও বলা হয়)। ফলে হজম না হওয়া খাদ্য, টক্সিন, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, বর্জ্য সরাসরি রক্তে ঢুকে টক্সিন ওভারলোড ঘটায়! তখন লিভার এই বি/ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে। লিভার যখন টক্সিন পরিষ্কার করে কুলিয়ে উঠতে পারে না, তখন শরীর তার সবচেয়ে বড় নিষ্কাশন পথ ত্বক দিয়ে ঘাম ও তৈলাক্ত পদার্থর সঙ্গে রক্তের টক্সিন বাইরে পুশ করে দিতে চায়! আর এই পুশ করার সময়ই ত্বকে সৃষ্টি হয় অসহ্য ইনফ্লামেশন! যাকে বাইরে থেকে ব্রণ, লাল চাকা চাকা একজিমা, সোরিয়াসিস, চুলকানি ইত্যাদি রুপে দেখা যায়!
আপনার ত্বকের প্রতিটি সমস্যার ধরনের সঙ্গে পেটের গন্ডগোলের একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন আছে—
- ব্রণ (Acne) এর কারণ হতে পারে গাট মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা (Dysbiosis), ইনসুলিন স্পাইক, ইনফ্লামেশন। পেটের ভালো-খারাপ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতা, অর্থাৎ পেটের ভেতরে খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে গেলে মুখে ব্রণ দেখা যায়।
- একজিমা এর কারণ হতে পারে লিকি গাট, ইমিউন সিস্টেমের অতিপ্রতিক্রিয়া। হজম না হওয়া খাবার রক্তে ঢুকে ইমিউন সিস্টেমকে উত্তেজিত করে তোলে। এই উত্তেজনা ত্বকে চুলকানি, শুষ্কতা ও লালচে ভাব তৈরি করে।
- সোরিয়াসিস এর কারণ হতে পারে অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া, অন্ত্রের ইনফ্লামেশন ও মাইক্রোবায়োম বিপর্যয়। অটো-ইমিউন ডিজঅর্ডারে আপনার শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভুল করে ত্বকের কোষকেই আক্রমণ করে। বেশিরভাগ অটো-ইমিউন সমস্যা শুরু হয় পেটের সেই লিকি গাট থেকেই!
বাইরে কৃত্রিম ক্রিম, লোশন, মলম মাখলে ক্ষতি ছাড়া, লাভ নেই! স্কিন ডিজিজ কোনো অভিশাপ না, এটা আপনার শরীরের হিলিং রেসপন্স।
আপনার ত্বককে সুন্দর, মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে হলে দেহের সেই ফিল্টার ফ্যাক্টরি অন্ত্রকে ঠিক করাই একমাত্র উপায়। আপনার ত্বকে সব সমস্যা চিরতরে ঠিক হয়ে যাবে, এজন্য শুধু আপনার ভেতরটা ঠিক করতে হবে!
ত্বক সুস্থ করতে হলে 'গাট হিলিং প্রটোকল' প্রয়োজন। এমন একটা উত্তম প্রটোকল হলো '4R Healing' (remove, repair, reinoculate, relax)—
- Remove
সব ক্ষতিকর, অপ্রাকৃতিক জিনিস বাদ দিন। ময়দা, চিনি, প্রসেসড ফুড, রিফাইন্ড অয়েল (পাম, সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, কর্ন, রাইস ব্র্যান), বাইরের ভাজাপোড়া এগুলো পেটের খারাপ ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, ইনফ্লামেশন ও লিকি গাট তৈরি করে। অনেকের ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাদ্য ও আটা, ময়দা ত্বকের প্রদাহ বাড়ায়। প্রয়োজনে ৩–৪ সপ্তাহ ডায়েটে গ্লুটেন ও ডেইরি পুরোপুরি বাদ দিয়ে শরীরের অবস্থা দেখুন।
- Repair
অন্ত্রের দেয়াল মেরামত করুন। অন্ত্রের জন্য গ্লুটামিন একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড। এটি অন্ত্রের কোষগুলোর জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করতে পারে এবং অন্ত্রের দেয়ালের কোষ মেরামতে সহায়তা করে। লাল মাংসে ভালো পরিমাণে গ্লুটামিনসহ বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, কারণ এটি একটি কমপ্লিট প্রোটিন সোর্স। তবে মাছ, ডিম, দুধ, মুরগি এবং কিছু উদ্ভিজ্জ খাবারেও (যেমন বাঁধাকপি) এটি পাওয়া যায়।হাড়ের স্যুপে (বোন ব্রোথ) থাকা কোলাজেন ও গ্লুটামিন অন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল মেরামতের জন্য সেরা। কোলাজেন, ওমেগা-৩, জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খান।
ভিটামিন ডি পেতে রোদে যান।
এখানে বলে রাখি, চিনি বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের নেশা থাকলে আপনি যখন পর্যাপ্ত ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন ও হেলদি ফ্যাট খাবেন তখন নেশা চলে যাবে।
কেন ক্রিম, মলম, ফেসওয়াশ ব্যবহার করেও আপনার অ্যাকনি, একজিমা, সোরিয়াসিস, চুলকানি সারছে না?
যদি মনে করেন এসব আপনার ত্বকের দোষ, তার মানে আপনি নিজের দেহ সম্পর্কে কিছুই জানেন না!
সবাই ত্বকের সমস্যাকে শুধু ত্বকের সমস্যা হিসেবেই ভাবে। কিন্তু আসলে আপনার মুখে ব্রণ ওঠা, ত্বকে চুলকানি, একজিমা দেখা দেওয়া, কিংবা সোরিয়াসিসের মতো অটোইমিউন সমস্যা এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সূত্রপাত হয় পেটের ভেতরে!
বলা যেতে পারে, আপনার ত্বক আসলে আপনার পেটের ডিসপ্লে স্ক্রিন!
ভেতরে কী ঘটছে, তা সবার আগে ত্বকেই প্রকাশ পায়! এই কানেকশনকে বলা হয় 'গাট-স্কিন এক্সিস'।
অন্ত্র (Gut) হলো শরীরের ফিল্টার ফ্যাক্টরি ও প্রধান বর্জ্য নিষ্কাশন কেন্দ্র। এর কাজ ভালো জিনিস রক্তে পাঠানো, আর খারাপ জিনিস শরীর থেকে বের করে দেওয়া।
রক্ত হলো শরীরের ভেতরের নদী। এই নদী ফ্যাক্টরি থেকে পুষ্টি নিয়ে যায় এবং বর্জ্য বয়ে নিয়ে আসে।
ত্বক হলো শরীরের সবচেয়ে বড় নিষ্কাশন পথ (Largest Elimination Organ)।
যখন লিভার ও অন্ত্র ঠিকমতো বর্জ্য সামলাতে পারে না, তখন তা ত্বকের মাধ্যমেই ঠেলে বের হয়, ফলে তৈরি হয় ইনফ্লামেশন, ব্রণ, র্যাশ ইত্যাদি।
সমস্যা শুরু হয়, যখন অন্ত্রের দেয়াল (Gut Barrier) বিধ্বস্ত হয়। স্ট্রেস, প্রসেসড ফুড, রিফাইন্ড তেল, ঘুমের অভাব, অ্যান্টিবায়োটিক এসব কারণে অন্ত্রের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে intestinal permeability বাড়ে (একে লিকি গাট নামেও বলা হয়)। ফলে হজম না হওয়া খাদ্য, টক্সিন, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, বর্জ্য সরাসরি রক্তে ঢুকে টক্সিন ওভারলোড ঘটায়! তখন লিভার এই বি/ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে। লিভার যখন টক্সিন পরিষ্কার করে কুলিয়ে উঠতে পারে না, তখন শরীর তার সবচেয়ে বড় নিষ্কাশন পথ ত্বক দিয়ে ঘাম ও তৈলাক্ত পদার্থর সঙ্গে রক্তের টক্সিন বাইরে পুশ করে দিতে চায়! আর এই পুশ করার সময়ই ত্বকে সৃষ্টি হয় অসহ্য ইনফ্লামেশন! যাকে বাইরে থেকে ব্রণ, লাল চাকা চাকা একজিমা, সোরিয়াসিস, চুলকানি ইত্যাদি রুপে দেখা যায়!
আপনার ত্বকের প্রতিটি সমস্যার ধরনের সঙ্গে পেটের গন্ডগোলের একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন আছে—
- ব্রণ (Acne) এর কারণ হতে পারে গাট মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা (Dysbiosis), ইনসুলিন স্পাইক, ইনফ্লামেশন। পেটের ভালো-খারাপ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতা, অর্থাৎ পেটের ভেতরে খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে গেলে মুখে ব্রণ দেখা যায়।
- একজিমা এর কারণ হতে পারে লিকি গাট, ইমিউন সিস্টেমের অতিপ্রতিক্রিয়া। হজম না হওয়া খাবার রক্তে ঢুকে ইমিউন সিস্টেমকে উত্তেজিত করে তোলে। এই উত্তেজনা ত্বকে চুলকানি, শুষ্কতা ও লালচে ভাব তৈরি করে।
- সোরিয়াসিস এর কারণ হতে পারে অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া, অন্ত্রের ইনফ্লামেশন ও মাইক্রোবায়োম বিপর্যয়। অটো-ইমিউন ডিজঅর্ডারে আপনার শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভুল করে ত্বকের কোষকেই আক্রমণ করে। বেশিরভাগ অটো-ইমিউন সমস্যা শুরু হয় পেটের সেই লিকি গাট থেকেই!
বাইরে কৃত্রিম ক্রিম, লোশন, মলম মাখলে ক্ষতি ছাড়া, লাভ নেই! স্কিন ডিজিজ কোনো অভিশাপ না, এটা আপনার শরীরের হিলিং রেসপন্স।
আপনার ত্বককে সুন্দর, মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে হলে দেহের সেই ফিল্টার ফ্যাক্টরি অন্ত্রকে ঠিক করাই একমাত্র উপায়। আপনার ত্বকে সব সমস্যা চিরতরে ঠিক হয়ে যাবে, এজন্য শুধু আপনার ভেতরটা ঠিক করতে হবে!
ত্বক সুস্থ করতে হলে 'গাট হিলিং প্রটোকল' প্রয়োজন। এমন একটা উত্তম প্রটোকল হলো '4R Healing' (remove, repair, reinoculate, relax)—
- Remove
সব ক্ষতিকর, অপ্রাকৃতিক জিনিস বাদ দিন। ময়দা, চিনি, প্রসেসড ফুড, রিফাইন্ড অয়েল (পাম, সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, কর্ন, রাইস ব্র্যান), বাইরের ভাজাপোড়া এগুলো পেটের খারাপ ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, ইনফ্লামেশন ও লিকি গাট তৈরি করে। অনেকের ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাদ্য ও আটা, ময়দা ত্বকের প্রদাহ বাড়ায়। প্রয়োজনে ৩–৪ সপ্তাহ ডায়েটে গ্লুটেন ও ডেইরি পুরোপুরি বাদ দিয়ে শরীরের অবস্থা দেখুন।
- Repair
অন্ত্রের দেয়াল মেরামত করুন। অন্ত্রের জন্য গ্লুটামিন একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড। এটি অন্ত্রের কোষগুলোর জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করতে পারে এবং অন্ত্রের দেয়ালের কোষ মেরামতে সহায়তা করে। লাল মাংসে ভালো পরিমাণে গ্লুটামিনসহ বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, কারণ এটি একটি কমপ্লিট প্রোটিন সোর্স। তবে মাছ, ডিম, দুধ, মুরগি এবং কিছু উদ্ভিজ্জ খাবারেও (যেমন বাঁধাকপি) এটি পাওয়া যায়।হাড়ের স্যুপে (বোন ব্রোথ) থাকা কোলাজেন ও গ্লুটামিন অন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল মেরামতের জন্য সেরা। কোলাজেন, ওমেগা-৩, জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খান।
ভিটামিন ডি পেতে রোদে যান।
এখানে বলে রাখি, চিনি বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের নেশা থাকলে আপনি যখন পর্যাপ্ত ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন ও হেলদি ফ্যাট খাবেন তখন নেশা চলে যাবে।
❤1
- Reinoculate
ভালো ব্যাকটেরিয়া ফিরিয়ে আনুন। প্রোবায়োটিক (টক দই, কেফির, ফারমেন্টেড ফুড) ও প্রিবায়োটিক (কলা, রসুন, পেঁয়াজ, ফল, শাকসবজি, হোলগ্রেইন, বাদাম, বীজ) খান। প্রোবায়োটিক ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, আর প্রিবায়োটিক ভালো ব্যাকটেরিয়াদের বেঁচে থাকার খাবার।
- Relax
স্ট্রেস কমান। ব্রিদিং এক্সারসাইজ, মেডিটেশন করুন। ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমান। ঘুম হলো গাটের প্রধান মেরামতের সময়। রাত জাগা বা অপর্যাপ্ত ঘুম সরাসরি অন্ত্রের দেয়ালের ক্ষতি এবং প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়াও, এই প্রটোকলে আরো কিছু সহজ অভ্যাস রয়েছে—
- Hydration
পানি হলো শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার। পর্যাপ্ত পানি পান করা লিভার ও কিডনিকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে, যা ত্বকের উপর চাপ কমায়।
- Regular Exercise
নিয়মিত ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে, স্ট্রেস হরমোন (কর্টিসল) কমায় এবং স্বাভাবিক মলত্যাগে সাহায্য করে। এই সবকটিই অন্ত্র ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
- Patience
অন্ত্র মেরামত এবং ত্বকের উন্নতি হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস, এমনকি বছরও লাগতে পারে। কিন্তু সময় লাগা মানে এই না যে, আপনি সুস্থ হবেন না বা এই প্রটোকল কার্যকর না। মনে রাখা জরুরি যে, এটি একটি জার্নি, ইন্সট্যান্ট সমাধান না!
আপনার অসুস্থতা অনুযায়ী চিকিৎসা ও সমাধান পেতে প্রয়োজনে একজন প্রাকৃতিক চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ এর শরনাপন্ন হোন।
Mission: Captain Green
📺 Youtube- @missioncaptaingreen
💻 Facebook Page- @missioncaptaingreen
📱 Facebook ID- @thecaptaingreen
🟢 Whatsapp- wa.me/8801768788932
📱 Instagram- @missioncaptaingreen
📱 Upscrolled- @missioncaptaingreen
ভালো ব্যাকটেরিয়া ফিরিয়ে আনুন। প্রোবায়োটিক (টক দই, কেফির, ফারমেন্টেড ফুড) ও প্রিবায়োটিক (কলা, রসুন, পেঁয়াজ, ফল, শাকসবজি, হোলগ্রেইন, বাদাম, বীজ) খান। প্রোবায়োটিক ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, আর প্রিবায়োটিক ভালো ব্যাকটেরিয়াদের বেঁচে থাকার খাবার।
- Relax
স্ট্রেস কমান। ব্রিদিং এক্সারসাইজ, মেডিটেশন করুন। ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমান। ঘুম হলো গাটের প্রধান মেরামতের সময়। রাত জাগা বা অপর্যাপ্ত ঘুম সরাসরি অন্ত্রের দেয়ালের ক্ষতি এবং প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়াও, এই প্রটোকলে আরো কিছু সহজ অভ্যাস রয়েছে—
- Hydration
পানি হলো শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার। পর্যাপ্ত পানি পান করা লিভার ও কিডনিকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে, যা ত্বকের উপর চাপ কমায়।
- Regular Exercise
নিয়মিত ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে, স্ট্রেস হরমোন (কর্টিসল) কমায় এবং স্বাভাবিক মলত্যাগে সাহায্য করে। এই সবকটিই অন্ত্র ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
- Patience
অন্ত্র মেরামত এবং ত্বকের উন্নতি হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস, এমনকি বছরও লাগতে পারে। কিন্তু সময় লাগা মানে এই না যে, আপনি সুস্থ হবেন না বা এই প্রটোকল কার্যকর না। মনে রাখা জরুরি যে, এটি একটি জার্নি, ইন্সট্যান্ট সমাধান না!
আপনার অসুস্থতা অনুযায়ী চিকিৎসা ও সমাধান পেতে প্রয়োজনে একজন প্রাকৃতিক চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ এর শরনাপন্ন হোন।
Mission: Captain Green
📺 Youtube- @missioncaptaingreen
💻 Facebook Page- @missioncaptaingreen
📱 Facebook ID- @thecaptaingreen
🟢 Whatsapp- wa.me/8801768788932
📱 Instagram- @missioncaptaingreen
📱 Upscrolled- @missioncaptaingreen
👍1
পুরুষের হাত পায়ে মেহেদি লাগানো জায়েয নেই। এমনিভাবে নাবালেগ ছেলের হাত পায়ে মেহেদি লাগানোও নিষেধ।
খোলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৩,
ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১০৯
খোলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৩,
ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১০৯
পুরুষদের জন্য মেহেদি ব্যবহার প্রসঙ্গ
ইসলামি শরিয়তে মেয়েদের জন্য মেহেদি ব্যবহারের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। মেয়েদের জন্য পায়ে মেহেদী ব্যবহার করাও জায়েয, আদব পরিপন্থী নয়। অনেকেই মেয়েদের পায়ে মেহেদি ব্যবহার করা নিয়ে আপত্তি করে থাকেন। তাদের এসব আপত্তি ঠিক নয়।
আর পুরুষদের জন্য হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়েয নেই। তবে তারা চুল ও দাড়িতে ব্যবহার করতে পারবে। তবে বর্তমান সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাবে মেহেদির ব্যবহার ব্যাপকভাবে পুরুষদের হাতসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেটা কখনোই কাম্য ছিল না।
শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে পুরুষদের জন্য বিয়ের সময়ও হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়েয নেই। বরং সাজ-সজ্জার উদ্দেশ্যে তারা কখনও হাতে-পায়ে মেহেদী লাগাতে পারবে না। কারণ এটা এক ধরনের রঙ। আর পুরুষদের জন্য রঙ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এমনকি ছোট ছেলে বাচ্চাদের জন্যও এটি নিষিদ্ধ।
• হাদিসে ইরশাদ হয়েছে
عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم طيب الرجال ما ظهر ريحه وخفي لونه وطيب النساء ما ظهر لونه وخفي ريحه
‘আবু হুরাইরাহ রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষের সুগন্ধি এমন হবে যার সুগন্ধি প্রকাশ পায় কিন্তু রঙ গোপন থাকে এবং নারীর সুগন্ধি এমন হবে যার রঙ প্রকাশ পায় কিন্তু সুগন্ধি গোপন থাকে। (তিরমিযী হাদীস নং ২৭৮৭)
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরুষ সাজসজ্জার জন্য রং ব্যবহার করতে পারবে না। আরো একাধিক হাদিসে অঙ্গসজ্জার জন্য পুরুষকে রং ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। বরং তারা এমন প্রসাধনী ব্যবহার করবে যার ঘ্রান রয়েছে কিন্ত রঙ থাকবে না। যেমন আতর ইত্যাদি। আর নারীরা এমন প্রসাধনী ব্যবহার করবে যার রঙ থাকবে কিন্তু ঘ্রান থাকবে না। যেমন জাফরান, মেহেদি ইত্যাদি।
তবে পুরুষ চুল ও দাঁড়িতে মেহেদি ব্যবহার করতে পারবে। একইভাবে চিকিৎসার প্রয়োজনে পুরুষ মেহেদি ব্যবহার করতে পারবে—সেটা যে অঙ্গেই হোক না কেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩৪১; রদ্দুল মুহতার : ৬/৪২২)
• হযরত আবু হুরাইরাহ রাযি.থেকে বর্ণিত,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِمُخَنَّثٍ قَدْ خَضَبَ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ بِالْحِنَّاءِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ’’ مَا بَالُ هَذَا فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَتَشَبَّهُ بِالنِّسَاءِ . فَأُمِرَ بِهِ فَنُفِيَ إِلَى النَّقِيعِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نَقْتُلُهُ فَقَالَ إِنِّي نُهِيتُ عَنْ قَتْلِ الْمُصَلِّينَ ‘‘
‘কোন একদিন এক হিজড়াকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আনা হলো। তার হাত-পা মেহেদী দ্বারা রাঙ্গানো ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এর এ অবস্থা কেনো? বলা হলো, হে আল্লাহ্র রাসূল! সে নারীর বেশ ধরেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আন-নাকী নামক স্থানে নির্বাসন দেয়ার নির্দেশ দিলেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাকে হত্য| করবো না? তিনি বললেন, সালাত আদায়কারীদের হত্য| করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।’ [সুনানে আবু দাউদ- ৪৯২৮] বর্ণানাকারী আবু- উসামাহ বলেন, আন-নাফী’ হলো মাদীনাহ্ এর প্রান্তবর্তী একটি জনপদ, এটা বাকী’ নয়।
এই হাদিস থেকে জানা যায় যে, মেহেদি লাগানো নারীদের সৌন্দর্য ও বেশভূষা। পুরুষদের জন্য এটি অনুমোদিত নয়। এই নিষেধাজ্ঞা অন্য একটি হাদীস দ্বারাও সমর্থন করা হয়েছে।
• যেমন হযরত আনাস রাযি.থেকে বর্ণিতঃ নবী কারিম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষদের জাফরানী রং লাগাতে (ও জাফরানি রংয়ের কাপড় পরতে) নিষেধ করেছেন। [বুখারী- ৫৮৪৬, মুসলিম-২১০১, আহমাদ ১২৯৪১]
হাফিজ ইবনে হাজার রহ. লিখেছেন: ‘পুরুষদের জন্য তাদের হাত-পা রং করা হারাম, তবে মেহেদি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।’ [ফাতহুল বারী ১০/৩৬৭]
• মেহেদীর সাজ মহিলাদের সাজ। হাদিস শরীফে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: أَوْمَتْ امْرَأَةٌ مِنْ وَرَاءِ سِتْرٍ بِيَدِهَا، كِتَابٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَبَضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ، فَقَالَ: مَا أَدْرِي أَيَدُ رَجُلٍ، أَمْ يَدُ امْرَأَةٍ؟ قَالَتْ: بَلِ امْرَأَةٌ، قَالَ: لَوْ كُنْتِ امْرَأَةً لَغَيَّرْتِ أَظْفَارَكِ يَعْنِي بِالْحِنَّاءِ
‘হযরত আয়েশা রা. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা পর্দার আড়াল থেকে একটি কিতাব হাতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে বাড়িয়ে দিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত না বাড়িয়ে বললেনঃ আমি বুঝতে পারছি না এটা কোনো পুরুষের হাত না কি নারীর হাত? সে বললো, বরং নারীর হাত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি মহিলা হলে অবশ্যই তোমার নখগুলো মেহেদীর রঙ দ্বারা রঞ্জিত করতে। [সুনানে আবু দাউদ-৪১৬৬]
ইসলামি শরিয়তে মেয়েদের জন্য মেহেদি ব্যবহারের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। মেয়েদের জন্য পায়ে মেহেদী ব্যবহার করাও জায়েয, আদব পরিপন্থী নয়। অনেকেই মেয়েদের পায়ে মেহেদি ব্যবহার করা নিয়ে আপত্তি করে থাকেন। তাদের এসব আপত্তি ঠিক নয়।
আর পুরুষদের জন্য হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়েয নেই। তবে তারা চুল ও দাড়িতে ব্যবহার করতে পারবে। তবে বর্তমান সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাবে মেহেদির ব্যবহার ব্যাপকভাবে পুরুষদের হাতসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেটা কখনোই কাম্য ছিল না।
শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে পুরুষদের জন্য বিয়ের সময়ও হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়েয নেই। বরং সাজ-সজ্জার উদ্দেশ্যে তারা কখনও হাতে-পায়ে মেহেদী লাগাতে পারবে না। কারণ এটা এক ধরনের রঙ। আর পুরুষদের জন্য রঙ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এমনকি ছোট ছেলে বাচ্চাদের জন্যও এটি নিষিদ্ধ।
• হাদিসে ইরশাদ হয়েছে
عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم طيب الرجال ما ظهر ريحه وخفي لونه وطيب النساء ما ظهر لونه وخفي ريحه
‘আবু হুরাইরাহ রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষের সুগন্ধি এমন হবে যার সুগন্ধি প্রকাশ পায় কিন্তু রঙ গোপন থাকে এবং নারীর সুগন্ধি এমন হবে যার রঙ প্রকাশ পায় কিন্তু সুগন্ধি গোপন থাকে। (তিরমিযী হাদীস নং ২৭৮৭)
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরুষ সাজসজ্জার জন্য রং ব্যবহার করতে পারবে না। আরো একাধিক হাদিসে অঙ্গসজ্জার জন্য পুরুষকে রং ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। বরং তারা এমন প্রসাধনী ব্যবহার করবে যার ঘ্রান রয়েছে কিন্ত রঙ থাকবে না। যেমন আতর ইত্যাদি। আর নারীরা এমন প্রসাধনী ব্যবহার করবে যার রঙ থাকবে কিন্তু ঘ্রান থাকবে না। যেমন জাফরান, মেহেদি ইত্যাদি।
তবে পুরুষ চুল ও দাঁড়িতে মেহেদি ব্যবহার করতে পারবে। একইভাবে চিকিৎসার প্রয়োজনে পুরুষ মেহেদি ব্যবহার করতে পারবে—সেটা যে অঙ্গেই হোক না কেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩৪১; রদ্দুল মুহতার : ৬/৪২২)
• হযরত আবু হুরাইরাহ রাযি.থেকে বর্ণিত,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِمُخَنَّثٍ قَدْ خَضَبَ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ بِالْحِنَّاءِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ’’ مَا بَالُ هَذَا فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَتَشَبَّهُ بِالنِّسَاءِ . فَأُمِرَ بِهِ فَنُفِيَ إِلَى النَّقِيعِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نَقْتُلُهُ فَقَالَ إِنِّي نُهِيتُ عَنْ قَتْلِ الْمُصَلِّينَ ‘‘
‘কোন একদিন এক হিজড়াকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আনা হলো। তার হাত-পা মেহেদী দ্বারা রাঙ্গানো ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এর এ অবস্থা কেনো? বলা হলো, হে আল্লাহ্র রাসূল! সে নারীর বেশ ধরেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আন-নাকী নামক স্থানে নির্বাসন দেয়ার নির্দেশ দিলেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাকে হত্য| করবো না? তিনি বললেন, সালাত আদায়কারীদের হত্য| করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।’ [সুনানে আবু দাউদ- ৪৯২৮] বর্ণানাকারী আবু- উসামাহ বলেন, আন-নাফী’ হলো মাদীনাহ্ এর প্রান্তবর্তী একটি জনপদ, এটা বাকী’ নয়।
এই হাদিস থেকে জানা যায় যে, মেহেদি লাগানো নারীদের সৌন্দর্য ও বেশভূষা। পুরুষদের জন্য এটি অনুমোদিত নয়। এই নিষেধাজ্ঞা অন্য একটি হাদীস দ্বারাও সমর্থন করা হয়েছে।
• যেমন হযরত আনাস রাযি.থেকে বর্ণিতঃ নবী কারিম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষদের জাফরানী রং লাগাতে (ও জাফরানি রংয়ের কাপড় পরতে) নিষেধ করেছেন। [বুখারী- ৫৮৪৬, মুসলিম-২১০১, আহমাদ ১২৯৪১]
হাফিজ ইবনে হাজার রহ. লিখেছেন: ‘পুরুষদের জন্য তাদের হাত-পা রং করা হারাম, তবে মেহেদি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।’ [ফাতহুল বারী ১০/৩৬৭]
• মেহেদীর সাজ মহিলাদের সাজ। হাদিস শরীফে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: أَوْمَتْ امْرَأَةٌ مِنْ وَرَاءِ سِتْرٍ بِيَدِهَا، كِتَابٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَبَضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ، فَقَالَ: مَا أَدْرِي أَيَدُ رَجُلٍ، أَمْ يَدُ امْرَأَةٍ؟ قَالَتْ: بَلِ امْرَأَةٌ، قَالَ: لَوْ كُنْتِ امْرَأَةً لَغَيَّرْتِ أَظْفَارَكِ يَعْنِي بِالْحِنَّاءِ
‘হযরত আয়েশা রা. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা পর্দার আড়াল থেকে একটি কিতাব হাতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে বাড়িয়ে দিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত না বাড়িয়ে বললেনঃ আমি বুঝতে পারছি না এটা কোনো পুরুষের হাত না কি নারীর হাত? সে বললো, বরং নারীর হাত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি মহিলা হলে অবশ্যই তোমার নখগুলো মেহেদীর রঙ দ্বারা রঞ্জিত করতে। [সুনানে আবু দাউদ-৪১৬৬]
উপরোক্ত হাদিস দিয়ে বুঝা গেলো, মেহেদী ব্যবহার করা এটা মহিলাদের সাজ। আর মহিলাদের সাজে সজ্জিত হওয়া পুরুষের জন্য হারাম। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ
‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব পুরুষকে লা’নত করেছেন। যারা নারীর বেশ ধারণ করে এবং ঐসব নারীকে যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে।’ [সহিহ বুখারী হা-৫৪৬৫]
• অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে
أن امرأة أتت عائشة رضي الله عنها فسألتها عن خضاب الحناء فقالت لا بأس به ولكني أكرهه كان حبيبي [ رسول الله ] صلى الله عليه و سلم يكره ريحه
এক মহিলা হযরত আয়শা রা. এর কাছে মেহেদি লাগানো বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাবে বলেন, এতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু রাসূল সা. মেহেদির ঘ্রাণ অপছন্দ করতেন। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪১৬৪}
• ফাতাওয়ায়ে শামিতে এসেছে,‘পুরুষ তার হাতে ও পায়ে মেহেদি লাগাতে পারবে না। কারণ এতে মহিলাদের সাথে সাদৃশ্যতা পাওয়া যাওয়ার কারণে তা মাকরুহ।’ [ফাতাওয়ায়ে শামি ৬/৪২২]
মিরকাতুল মাফাতিহে এসেছে,‘নারীদের জন্য হাত ও পায়ে মেহেদি লাগানো মুস্তাহাব।’ [মিরকাতুল মাফাতিহ ৮/৩০৪]
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরিতে এসেছে, ‘বিনাপ্রয়োজনে ছেলে বাচ্চাদের হাতে ও পায়ে মেহেদি লাগানো জায়েয নয়। অবশ্য মেয়েরা ছোট হোক বড় হোক সৌন্দর্যের জন্য তাদের সকল অঙ্গে মেহেদী লাগাতে পারবে। এতে কোনো সমস্যা নেই৷’ [ফতওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫৯]
• পুরুষদের জন্য চুল ও দাঁড়িতে ব্যবহার করা যাবে
তবে পুরুষেরা চুল ও দাঁড়িতে মেহেদী ব্যবহার করতে পারবে। কারণ হাদিস শরীফে হযরত আবু যার রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
‘যেসব জিনিস দিয়ে তোমরা বার্ধক্যকে পরিবর্তন করতে পারো তার মধ্যে মেহেদি ও কাতাম হলো সর্বোত্তম।’ [সুনানে নাসাঈ হাদিস: ৫০৭৮ আবু দাউদ: ৪২০৫ তিরমিযি: ১৭৫৩ ]
• চিকিৎসার জন্য মেহেদি ব্যবহার বৈধ:
তবে যদি কোন অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য হয়ে থাকে, তাহলে পুরুষের জন্য মেহেদী ব্যবহার করা জায়েজ আছে। কারণ হাদিস শরীফে এসেছে,
‘আলী ইবনু উবাইদুল্লাহ রহ. হতে তার দাদীর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেবিকা ছিলেন। তিনি বলেন,‘যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহে কোন তলোয়ার বা দা-এর আঘাতে ক্ষত হতো, তিনি তাতে মেহেদী লাগানোর জন্য আমাকে নির্দেশ দিতেন।’ [জামে তিরমিযি-২০৫৪]
এজন্য ইমাম নববী রহ. বলেন,
‘মেহেদী পুরুষের জন্য ব্যবহার করা হারাম। তবে অসুস্থতা ও এ ধরণের অন্যান্য কোনো কারণে বৈধ।’ [আল মাজমুউ শরহুল মুহায্যাব ১/২৯৪]
• মেহেদী লাগানোর পর অযু করলে অযু হবে কি?
আমাদের দেশে বাজারে যেসব মেহেদীর প্রচলন রয়েছে যেমন গোল্ড মেহেদী বা টিউব মেহেদী এগুলো ব্যবহার করা জায়েয। এবং এগুলো ব্যবহার করে প্রলেপ উঠিয়ে ফেলার পর অযু-গোসল সবই সহীহ হবে।
কেননা এ মেহেদী লাগানোর পর শরীরে যে রঙ অবশিষ্ট থাকে যার কোনো কোনোটিতে পরবর্তীতে আবরণের মতো উঠে তা আমাদের জানামতে চামড়ায় পানি পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়। তাই এগুলো ব্যবহার করতে সমস্যা নেই। তবে যেসব মেহেদি চামড়ায় পানি পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয় সেগুলো ব্যবহার করা যাবে না। [শরহুল মুনয়া ৪৮; রদ্দুল মুহতার ১/১৫৪]
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪৮৯০; ফাতহুল বারী ১০/৩৬৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৪২২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৩; সহীহ মুসলিম ২/১৯৯, আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ২/৩৬৬, ফাতাওয়া খানিয়া আলা হামিশি হিন্দিয়া ৩/৪১৩; রদ্দুর মুহতার ৯/৫২২।
Khairul Islam 22/12/2022
হানাফী ফিকহ-Hanafi Fiqh
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ
‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব পুরুষকে লা’নত করেছেন। যারা নারীর বেশ ধারণ করে এবং ঐসব নারীকে যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে।’ [সহিহ বুখারী হা-৫৪৬৫]
• অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে
أن امرأة أتت عائشة رضي الله عنها فسألتها عن خضاب الحناء فقالت لا بأس به ولكني أكرهه كان حبيبي [ رسول الله ] صلى الله عليه و سلم يكره ريحه
এক মহিলা হযরত আয়শা রা. এর কাছে মেহেদি লাগানো বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাবে বলেন, এতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু রাসূল সা. মেহেদির ঘ্রাণ অপছন্দ করতেন। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪১৬৪}
• ফাতাওয়ায়ে শামিতে এসেছে,‘পুরুষ তার হাতে ও পায়ে মেহেদি লাগাতে পারবে না। কারণ এতে মহিলাদের সাথে সাদৃশ্যতা পাওয়া যাওয়ার কারণে তা মাকরুহ।’ [ফাতাওয়ায়ে শামি ৬/৪২২]
মিরকাতুল মাফাতিহে এসেছে,‘নারীদের জন্য হাত ও পায়ে মেহেদি লাগানো মুস্তাহাব।’ [মিরকাতুল মাফাতিহ ৮/৩০৪]
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরিতে এসেছে, ‘বিনাপ্রয়োজনে ছেলে বাচ্চাদের হাতে ও পায়ে মেহেদি লাগানো জায়েয নয়। অবশ্য মেয়েরা ছোট হোক বড় হোক সৌন্দর্যের জন্য তাদের সকল অঙ্গে মেহেদী লাগাতে পারবে। এতে কোনো সমস্যা নেই৷’ [ফতওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫৯]
• পুরুষদের জন্য চুল ও দাঁড়িতে ব্যবহার করা যাবে
তবে পুরুষেরা চুল ও দাঁড়িতে মেহেদী ব্যবহার করতে পারবে। কারণ হাদিস শরীফে হযরত আবু যার রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
‘যেসব জিনিস দিয়ে তোমরা বার্ধক্যকে পরিবর্তন করতে পারো তার মধ্যে মেহেদি ও কাতাম হলো সর্বোত্তম।’ [সুনানে নাসাঈ হাদিস: ৫০৭৮ আবু দাউদ: ৪২০৫ তিরমিযি: ১৭৫৩ ]
• চিকিৎসার জন্য মেহেদি ব্যবহার বৈধ:
তবে যদি কোন অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য হয়ে থাকে, তাহলে পুরুষের জন্য মেহেদী ব্যবহার করা জায়েজ আছে। কারণ হাদিস শরীফে এসেছে,
‘আলী ইবনু উবাইদুল্লাহ রহ. হতে তার দাদীর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেবিকা ছিলেন। তিনি বলেন,‘যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহে কোন তলোয়ার বা দা-এর আঘাতে ক্ষত হতো, তিনি তাতে মেহেদী লাগানোর জন্য আমাকে নির্দেশ দিতেন।’ [জামে তিরমিযি-২০৫৪]
এজন্য ইমাম নববী রহ. বলেন,
‘মেহেদী পুরুষের জন্য ব্যবহার করা হারাম। তবে অসুস্থতা ও এ ধরণের অন্যান্য কোনো কারণে বৈধ।’ [আল মাজমুউ শরহুল মুহায্যাব ১/২৯৪]
• মেহেদী লাগানোর পর অযু করলে অযু হবে কি?
আমাদের দেশে বাজারে যেসব মেহেদীর প্রচলন রয়েছে যেমন গোল্ড মেহেদী বা টিউব মেহেদী এগুলো ব্যবহার করা জায়েয। এবং এগুলো ব্যবহার করে প্রলেপ উঠিয়ে ফেলার পর অযু-গোসল সবই সহীহ হবে।
কেননা এ মেহেদী লাগানোর পর শরীরে যে রঙ অবশিষ্ট থাকে যার কোনো কোনোটিতে পরবর্তীতে আবরণের মতো উঠে তা আমাদের জানামতে চামড়ায় পানি পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়। তাই এগুলো ব্যবহার করতে সমস্যা নেই। তবে যেসব মেহেদি চামড়ায় পানি পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয় সেগুলো ব্যবহার করা যাবে না। [শরহুল মুনয়া ৪৮; রদ্দুল মুহতার ১/১৫৪]
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪৮৯০; ফাতহুল বারী ১০/৩৬৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৪২২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৩; সহীহ মুসলিম ২/১৯৯, আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ২/৩৬৬, ফাতাওয়া খানিয়া আলা হামিশি হিন্দিয়া ৩/৪১৩; রদ্দুর মুহতার ৯/৫২২।
Khairul Islam 22/12/2022
হানাফী ফিকহ-Hanafi Fiqh
সব মানুষই নিজের মতো বাঁচে, বাঁচতে চায় । কারো জীবন ভুলে ভরা, কারো কেটে যায় শুধরে নিতে বেলা, কারোটা না জেনেই কেটে যায় পড়ন্ত বেলা । তবুও মানুষ বাঁচে, প্রাণ যতক্ষণ আছে । দেহ বেঁচে থাকে, মন অনেক আগেই হয়তো মারা যায় । পাশেরজন হয়তো টের'ই পায় না, তার সাথে কাটিয়ে দেয়া বিশ বছরের মানুষটি অনেক আগেই মারা গেছে । মরে মরে মানুষটি জানান দিচ্ছিল দেহটা এখনো আছে । জগতের সবচেয়ে বড় অত্যাচার নিজের মতো থাকতে না পারা । কিন্তু ক' জন বুঝে, একজনের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া মানে তার বাতাসটুকুও কেড়ে নেয়া । মন মরে যাওয়া মানুষগুলো বেঁচে থাকতে একটা নিয়ম বানিয়ে নেয় । তারা জানে না দেহটাকে কিভাবে থামিয়ে দিতে হয়, যদিও তারা জানে তারা অনেক আগেই মারা গেছে মনে মনে । জীবন ঘুরে ফিরে একটি চলমান উপন্যাস । সেখানে অন্ধকার থাকে, আলো থাকে, রঙিন সময় থাকে, কপাট বন্ধ করে কষ্টের জল পড়া থাকে । কেবল ভেতরে উঁকি দেবার কেউ থাকে না তাদের । মানুষ বাঁচে অনেক পরিচয়ে । কাজে, সফলতায়, ভোগে, ব্যর্থতায় । কিন্তু কেউ জানে না সবচেয়ে বড় মৃত্যুটা তাদের আগেই ঘটে গেছে ভিতরে । কেউ জানতেও পারে না, কেউ শোকও করে না, কারণ জানে পাশের মানুষটি তো দিব্যি হাসছে, কাজ করছে, বেঁচে আছে !
জীবন শেষ হয় নিঃশ্বাস থামলে নয়, জীবন শেষ হয় নিজের মতো করে বাঁচার ইচ্ছেটুকু নিঃশব্দে মরে গেলে ।
- অপূর্ব চৌধুরী
জীবন শেষ হয় নিঃশ্বাস থামলে নয়, জীবন শেষ হয় নিজের মতো করে বাঁচার ইচ্ছেটুকু নিঃশব্দে মরে গেলে ।
- অপূর্ব চৌধুরী
পেট ফাঁপা হল ম্যাজিক থেরাপি!!
ঈদের দিন নানা ধরনের খাবার খেয়ে পেট ফেঁপে আছে, অস্বস্তি লাগছে তারা এই ম্যাজিক থেরাপি পান করে ৫/৬ ঘন্টা কাটান
গরম পানিতে লেবু, আদা ও পিংক সল্ট মিশিয়ে পান করা হজমশক্তি বৃদ্ধি, ওজন কমানো এবং শরীর ডিটক্স করতে অত্যন্ত কার্যকর।
এটি বিপাক হার বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
সকালে খালি পেটে বা ভারী খাবারের পর এটি খেলে দ্রুত পেট পরিষ্কার হয় এবং শরীর হাইড্রেটেড থাকে।
উপকারি গরম পানিতে লেবু, আদা ও পিংক সল্ট মিশিয়ে পান করা হজমশক্তি বৃদ্ধি, ওজন কমানো এবং শরীর ডিটক্স করতে অত্যন্ত কার্যকর। এটি বিপাক হার বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
সকালে খালি পেটে বা ভারী খাবারের পর এটি খেলে দ্রুত পেট পরিষ্কার হয় এবং শরীর হাইড্রেটেড থাকে।
উপকারিতা ও প্রস্তুত প্রণালী:
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হজম: আদার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান এবং লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড দ্রুত চর্বি পোড়াতে এবং হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
পানীয় তৈরির নিয়ম: এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চা চামচ লেবুর রস, আদার রস (বা সামান্য আদা কুচি) এবং এক চিমটি পিংক সল্ট মিশিয়ে নিন।
সকালে নাস্তা খাওয়ার পরিবর্তে ৬ ঘন্টায় ২/৩ গ্লাস এই পানীয় পান করুন। আর কিছু খাবেন না। দুপুরে স্বাভাবিক খাবার খাবেন।
এই ম্যাজিক থেরাপি আপনার পেট হালকা করে দিবে।
#দেশজপ্যাথি
#alamgiralam
#lifestyle
#wellbeing
#ayurveda
#আলমগীরআলম
#naturelovers
ঈদের দিন নানা ধরনের খাবার খেয়ে পেট ফেঁপে আছে, অস্বস্তি লাগছে তারা এই ম্যাজিক থেরাপি পান করে ৫/৬ ঘন্টা কাটান
গরম পানিতে লেবু, আদা ও পিংক সল্ট মিশিয়ে পান করা হজমশক্তি বৃদ্ধি, ওজন কমানো এবং শরীর ডিটক্স করতে অত্যন্ত কার্যকর।
এটি বিপাক হার বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
সকালে খালি পেটে বা ভারী খাবারের পর এটি খেলে দ্রুত পেট পরিষ্কার হয় এবং শরীর হাইড্রেটেড থাকে।
উপকারি গরম পানিতে লেবু, আদা ও পিংক সল্ট মিশিয়ে পান করা হজমশক্তি বৃদ্ধি, ওজন কমানো এবং শরীর ডিটক্স করতে অত্যন্ত কার্যকর। এটি বিপাক হার বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
সকালে খালি পেটে বা ভারী খাবারের পর এটি খেলে দ্রুত পেট পরিষ্কার হয় এবং শরীর হাইড্রেটেড থাকে।
উপকারিতা ও প্রস্তুত প্রণালী:
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হজম: আদার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান এবং লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড দ্রুত চর্বি পোড়াতে এবং হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
পানীয় তৈরির নিয়ম: এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চা চামচ লেবুর রস, আদার রস (বা সামান্য আদা কুচি) এবং এক চিমটি পিংক সল্ট মিশিয়ে নিন।
সকালে নাস্তা খাওয়ার পরিবর্তে ৬ ঘন্টায় ২/৩ গ্লাস এই পানীয় পান করুন। আর কিছু খাবেন না। দুপুরে স্বাভাবিক খাবার খাবেন।
এই ম্যাজিক থেরাপি আপনার পেট হালকা করে দিবে।
#দেশজপ্যাথি
#alamgiralam
#lifestyle
#wellbeing
#ayurveda
#আলমগীরআলম
#naturelovers
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন— শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) যখন কোন বিপদ-আপদের সম্মুখীন হতেন, তখন "আয়াতুস সাকীনাহ" পাঠ করতেন।
তিনি (রহি.) আরো বলেন, "কুরআনুল কারীমের ৬টি আয়াতে উক্ত "সাকীনাহ" নিহিত রয়েছে, আয়াতগুলো হলো—
١. وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ ءَايَةَ مُلْكِهِۦٓ أَن يَأْتِيَكُمُ ٱلتَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ
১."আর, তাদের নবী তাদেরকে বলেছিলেন, তার রাজত্বের নিদর্শন এই যে, তোমাদের নিকট তাবূত আসবে, যাতে রয়েছে তোমাদের রবের নিকট হতে প্রশান্তি।" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ২৪৮)
٢. ثُمَّ أَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَعَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ
২."তারপর আল্লাহ্ তাঁর নিকট হতে তাঁর রাসূলের উপর ও মুমিনদের উপর প্রশান্তি নাযিল করেন।" (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত : ২৬)
٣. إِذْ يَقُولُ لِصَـٰحِبِهِۦ لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا ۖ فَأَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُۥ بِجُنُودٍۢ لَّمْ تَرَوْهَا
৩."তিনি (ﷺ) তখন তাঁরা সঙ্গীকে বলেছিলেন, ‘বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ তো আমাদের সাথে আছেন।’ অতঃপর, আল্লাহ্ তার উপর তাঁর প্রশান্তি নাযিল করেন এবং তাঁকে শক্তিশালী করেন এমন এক সৈন্যবাহিনী দ্বারা যা তোমরা দেখতে পাওনি।" (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত : ৪০)
٤. هُوَ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ ٱلسَّكِينَةَ فِى قُلُوبِ ٱلْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوٓا۟ إِيمَـٰنًۭا مَّعَ إِيمَـٰنِهِمْ ۗ وَلِلَّهِ جُنُودُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًۭا
৪."তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেছেন, যেন তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়। আর আসমানসমূহ ও যমীনের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ্ হলেন সর্বজ্ঞ, হিকমতওয়ালা।" (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত : ৪)
٥. لَّقَدْ رَضِىَ ٱللَّهُ عَنِ ٱلْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ ٱلشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِى قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ ٱلسَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَـٰبَهُمْ فَتْحًۭا قَرِيبًۭا
৫."অবশ্যই আল্লাহ মুমিনগণের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তারা গাছের নীচে আপনার কাছে বাই’আত গ্ৰহণ করেছিল। অতঃপর, তাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি জেনে নিয়েছেন; ফলে তিনি তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয়ে পুরস্কৃত করলেন।" (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত : ১৮)
٦. إِذْ جَعَلَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ ٱلْجَـٰهِلِيَّةِ فَأَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَعَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ
৬."যখন কা*ফিররা তাদের অন্তরে পোষন করেছিল গোত্রীয় অহমিকা --- অজ্ঞতার যুগের অহমিকা, তখন আল্লাহ্ তাঁর রাসূল ও মুমিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন।" (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত : ২৬)
[সূত্র : মাদারিজুস সালিকীন, ২/৫০২]
তিনি (রহি.) আরো বলেন, "কুরআনুল কারীমের ৬টি আয়াতে উক্ত "সাকীনাহ" নিহিত রয়েছে, আয়াতগুলো হলো—
١. وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ ءَايَةَ مُلْكِهِۦٓ أَن يَأْتِيَكُمُ ٱلتَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ
১."আর, তাদের নবী তাদেরকে বলেছিলেন, তার রাজত্বের নিদর্শন এই যে, তোমাদের নিকট তাবূত আসবে, যাতে রয়েছে তোমাদের রবের নিকট হতে প্রশান্তি।" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ২৪৮)
٢. ثُمَّ أَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَعَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ
২."তারপর আল্লাহ্ তাঁর নিকট হতে তাঁর রাসূলের উপর ও মুমিনদের উপর প্রশান্তি নাযিল করেন।" (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত : ২৬)
٣. إِذْ يَقُولُ لِصَـٰحِبِهِۦ لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا ۖ فَأَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُۥ بِجُنُودٍۢ لَّمْ تَرَوْهَا
৩."তিনি (ﷺ) তখন তাঁরা সঙ্গীকে বলেছিলেন, ‘বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ তো আমাদের সাথে আছেন।’ অতঃপর, আল্লাহ্ তার উপর তাঁর প্রশান্তি নাযিল করেন এবং তাঁকে শক্তিশালী করেন এমন এক সৈন্যবাহিনী দ্বারা যা তোমরা দেখতে পাওনি।" (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত : ৪০)
٤. هُوَ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ ٱلسَّكِينَةَ فِى قُلُوبِ ٱلْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوٓا۟ إِيمَـٰنًۭا مَّعَ إِيمَـٰنِهِمْ ۗ وَلِلَّهِ جُنُودُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًۭا
৪."তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেছেন, যেন তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়। আর আসমানসমূহ ও যমীনের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ্ হলেন সর্বজ্ঞ, হিকমতওয়ালা।" (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত : ৪)
٥. لَّقَدْ رَضِىَ ٱللَّهُ عَنِ ٱلْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ ٱلشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِى قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ ٱلسَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَـٰبَهُمْ فَتْحًۭا قَرِيبًۭا
৫."অবশ্যই আল্লাহ মুমিনগণের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তারা গাছের নীচে আপনার কাছে বাই’আত গ্ৰহণ করেছিল। অতঃপর, তাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি জেনে নিয়েছেন; ফলে তিনি তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয়ে পুরস্কৃত করলেন।" (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত : ১৮)
٦. إِذْ جَعَلَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ ٱلْجَـٰهِلِيَّةِ فَأَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَعَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ
৬."যখন কা*ফিররা তাদের অন্তরে পোষন করেছিল গোত্রীয় অহমিকা --- অজ্ঞতার যুগের অহমিকা, তখন আল্লাহ্ তাঁর রাসূল ও মুমিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন।" (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত : ২৬)
[সূত্র : মাদারিজুস সালিকীন, ২/৫০২]
আপনার বাচ্চার জ্বর হলে কি করবেন। প্রপার গাইডলাইন দিচ্ছি-
১.জ্বর হলে বাচ্চাকে প্রচুর তরল খাবার খেতে দিন। এক্ষেত্রে পানি ও পানীয় জাতীয় খাবার যেমন স্যুপ, ফলের রস ইত্যাদি খাওয়াতে পারেন।
২.শরীরের তাপ কমানোর জন্য পানি দিয়ে গা মুছিয়ে দিন যা তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে সাহায্য করবে।
৩.এখন বাচ্চার জ্বর হলে কিভাবে Paracetamol drop দিবেন চলেন শেখায়-
আপনি হিসাব করবেন প্রতি কেজিতে ৩ ফোঁটা। ধরেন আপনার বাবুর ওজন ৩ কেজি। তাহলে আপনি দিবেন ৯ ফোঁটা করে-৮ ঘন্টা পরপর।
Drop এর হিসাব তো বুঝলেন। তাহলে Paracetamol সিরাপ কিভাবে দিবেন চলেন শেখায়-
আমরা সহজ হিসাব করবো 👉 ৮ কেজি ওজনে = ১ চামুচ (৫ ml)
✔️ বাচ্চার ওজন ৮ কেজি → দিবেন ১ চামুচ (৫ ml)
✔️ বাচ্চার ওজন ১৬ কেজি → দিবেন ২ চামুচ (১০ ml)
এখন যদি ওজন ১২ কেজি হয়?
👉 ৮ কেজিতে ১ চামুচ, তাই ১২ কেজিতে = দেড় চামুচ (৭.৫ ml)
আর যদি ওজন একটু কমবেশি হয় তাহলে কি করবেন?
✔️ ৭ কেজি → ৫ ml থেকে একটু কম
✔️ ৯ কেজি → ৫ ml থেকে একটু বেশি
✔️ ১১ কেজি → ৭.৫ ml থেকে একটু কম
অর্থাৎ মনে রাখবেন 👉 ৮ কেজিতে ৫ ml
এভাবে কাছাকাছি হিসাব করে সহজেই ডোজ ঠিক করা যায়।
৪.জ্বরের সময় বাচ্চাকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ান। জ্বরের সময় বাচ্চাদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শরীর নিরাময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার জরুরি। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি চিকেন স্যুপ, সবজির স্যুপ খেতে দিন। তবে এ সময় বেশি ঝাল-মসলাযুক্ত, চর্বিযুক্ত ও উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
-ডা. মাহাদী
১.জ্বর হলে বাচ্চাকে প্রচুর তরল খাবার খেতে দিন। এক্ষেত্রে পানি ও পানীয় জাতীয় খাবার যেমন স্যুপ, ফলের রস ইত্যাদি খাওয়াতে পারেন।
২.শরীরের তাপ কমানোর জন্য পানি দিয়ে গা মুছিয়ে দিন যা তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে সাহায্য করবে।
৩.এখন বাচ্চার জ্বর হলে কিভাবে Paracetamol drop দিবেন চলেন শেখায়-
আপনি হিসাব করবেন প্রতি কেজিতে ৩ ফোঁটা। ধরেন আপনার বাবুর ওজন ৩ কেজি। তাহলে আপনি দিবেন ৯ ফোঁটা করে-৮ ঘন্টা পরপর।
Drop এর হিসাব তো বুঝলেন। তাহলে Paracetamol সিরাপ কিভাবে দিবেন চলেন শেখায়-
আমরা সহজ হিসাব করবো 👉 ৮ কেজি ওজনে = ১ চামুচ (৫ ml)
✔️ বাচ্চার ওজন ৮ কেজি → দিবেন ১ চামুচ (৫ ml)
✔️ বাচ্চার ওজন ১৬ কেজি → দিবেন ২ চামুচ (১০ ml)
এখন যদি ওজন ১২ কেজি হয়?
👉 ৮ কেজিতে ১ চামুচ, তাই ১২ কেজিতে = দেড় চামুচ (৭.৫ ml)
আর যদি ওজন একটু কমবেশি হয় তাহলে কি করবেন?
✔️ ৭ কেজি → ৫ ml থেকে একটু কম
✔️ ৯ কেজি → ৫ ml থেকে একটু বেশি
✔️ ১১ কেজি → ৭.৫ ml থেকে একটু কম
অর্থাৎ মনে রাখবেন 👉 ৮ কেজিতে ৫ ml
এভাবে কাছাকাছি হিসাব করে সহজেই ডোজ ঠিক করা যায়।
৪.জ্বরের সময় বাচ্চাকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ান। জ্বরের সময় বাচ্চাদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শরীর নিরাময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার জরুরি। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি চিকেন স্যুপ, সবজির স্যুপ খেতে দিন। তবে এ সময় বেশি ঝাল-মসলাযুক্ত, চর্বিযুক্ত ও উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
-ডা. মাহাদী
"তুই ছাড়া আমার আর কে আছে বাবা!"—নিজের জীবনের সব হতাশা আর প্রত্যাশার বোঝা বাচ্চার কাঁধে চাপানো কতটা টক্সিক?
......
সংসারে হয়তো অশান্তি চলছে, অথবা নিজের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো নিয়ে আপনি চরম হতাশায় ভুগছেন। দিনশেষে ৬ বা ৭ বছরের ছোট্ট সন্তানকে বুকে জড়িয়ে আপনি হয়তো কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, "আমার জীবনের সব কষ্ট শুধু তোর মুখটার দিকে তাকিয়ে সহ্য করছি রে! তুই ছাড়া এ পৃথিবীতে আমার আপন বলতে আর কেউ নেই।"
শুনতে কথাটি মাতৃত্ব বা পিতৃত্বের চরম আত্মত্যাগের মতো মনে হলেও, শিশু মনোবিজ্ঞান এটিকে একটি ভয়ংকর মানসিক নির্যাতন বা 'ইমোশনাল অ্যাবিউজ' হিসেবে দেখে। আপনি হয়তো ভালোবাসার জায়গা থেকেই কথাটি বলছেন, কিন্তু এই একটি বাক্যের মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানের ছোট্ট কাঁধে এমন এক বিশাল পাহাড় চাপিয়ে দিচ্ছেন, যার ভারে তার পুরো শৈশবটাই পিষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কিডোরা স্মার্ট প্যারেন্টিং-এর আজকের এই অত্যন্ত গভীর এবং সেনসিটিভ আর্টিকেলে আমরা জানবো 'ইমোশনাল এনমেশমেন্ট' (Emotional Enmeshment) সম্পর্কে—কীভাবে বাবা-মায়েরা নিজেদের মানসিক শূন্যতা পূরণের জন্য সন্তানকে হাতিয়ার বানাচ্ছেন এবং এর ফলে বাচ্চার কী ভয়ংকর ক্ষতি হচ্ছে।
ইমোশনাল এনমেশমেন্ট বা মানসিক নির্ভরতা কী?
সহজ কথায়, বাবা-মা যখন নিজেদের জীবনের দুঃখ, দাম্পত্য কলহ বা হতাশা সামলাতে না পেরে সন্তানকে নিজেদের 'বেস্ট ফ্রেন্ড' বা 'থেরাপিস্ট' বানিয়ে ফেলেন, তখন তাকে ইমোশনাল এনমেশমেন্ট বলে। এখানে বাবা-মা এবং সন্তানের মধ্যকার সুস্থ বাউন্ডারি বা সীমানাটি পুরোপুরি মুছে যায়। সন্তান তখন আর সন্তান থাকে না, সে হয়ে যায় বাবা-মায়ের মানসিক আশ্রয়দাতা।
এই 'ভালোবাসা' বাচ্চার মনে কী ভয়ংকর ক্ষতি করছে?
আপনার বলা ওই আবেগপূর্ণ কথাগুলো বাচ্চার মস্তিষ্কে কীভাবে কাজ করে, তা জানলে আপনি শিউরে উঠবেন:
১. শৈশব চুরি হওয়া (Loss of Childhood):
যে বয়সে বাচ্চার শুধু খেলাধুলা এবং নিজের জগৎ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সে সে বাবা-মায়ের ইমোশনাল গার্ডিয়ান (Guardian) বা অভিভাবক হয়ে যায়। সে সারাক্ষণ টেনশনে থাকে—"আমি যদি এখন খেলতে যাই, তাহলে মা তো একা বসে কাঁদবে!" অন্য বাচ্চাদের মতো সে স্বাধীনভাবে হাসতে বা বাঁচতে ভুলে যায়। তার নিজের শৈশবটি চিরতরে হারিয়ে যায়।
২. গিল্ট ট্রিপ বা আজীবনের অপরাধবোধ (The Guilt Trap):
বাচ্চারা খুব দ্রুত বুঝে যায় যে, বাবা-মায়ের সুখ বা বেঁচে থাকা সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভরশীল। বড় হয়ে এরা যদি পড়াশোনার জন্য বিদেশে যেতে চায় বা নিজের পছন্দে জীবনসঙ্গী বেছে নিতে চায়, তখন তাদের ভেতরে চরম অপরাধবোধ বা গিল্ট কাজ করে। তারা ভাবে, "আমি চলে গেলে মায়ের কী হবে?" নিজেদের সুখ বিসর্জন দিয়ে এরা বাবা-মায়ের কাছেই শেকলবদ্ধ হয়ে থাকে।
৩. ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রভাব (Toxic Future Relationships):
যে শিশু ছোটবেলা থেকেই অন্যের মানসিক দায়িত্ব নিতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, বড় হয়ে সে নিজের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও 'সেভিয়র কমপ্লেক্স' (Savior Complex)-এ ভোগে। এরা সবসময় এমন পার্টনার বা বন্ধু বেছে নেয়, যারা মানসিকভাবে দুর্বল বা টক্সিক, কারণ তারা মনে করে "অন্যকে উদ্ধার করাই আমার জীবনের একমাত্র কাজ।" নিজেদের জীবনে এরা কখনোই সুখী হতে পারে না।
কীভাবে এই টক্সিক চক্র ভাঙবেন? (প্যারেন্টিং সলিউশন)
আপনার জীবনের দুঃখ বা একাকিত্বের দায় আপনার সন্তানের নয়। তাকে সুস্থভাবে বড় করতে হলে এই মানসিক বাউন্ডারি তৈরি করা খুব জরুরি:
১. বড়দের সমস্যা বড়দের কাছে রাখুন (Adult Problems for Adults):
দাম্পত্য কলহ, আর্থিক অনটন বা শাশুড়ির সাথে ঝগড়ার কথা কখনোই সন্তানের সাথে শেয়ার করবেন না। আপনার যদি কথা বলার মানুষের প্রয়োজন হয়, তবে নিজের বন্ধু, আত্মীয় বা একজন প্রফেশনাল থেরাপিস্টের সাহায্য নিন। বাচ্চার ছোট্ট মস্তিষ্ক বড়দের এই জটিল রাজনীতি বা ইমোশন প্রসেস করার জন্য তৈরি হয়নি।
২. সন্তানকে আপনার 'জীবনের একমাত্র লক্ষ্য' বানাবেন না:
মাতৃত্ব বা পিতৃত্ব আপনার জীবনের একটি সুন্দর অংশ হতে পারে, কিন্তু এটাই যেন আপনার একমাত্র পরিচয় না হয়। নিজের জন্য আলাদা শখ, বন্ধু সার্কেল এবং জগৎ তৈরি করুন। আপনি মানসিকভাবে স্বাধীন থাকলেই আপনার সন্তান স্বাধীনভাবে বড় হওয়ার সুযোগ পাবে।
৩. নিঃশর্ত ভালোবাসার নিশ্চয়তা দিন:
সন্তানকে বোঝান যে আপনি তাকে ভালোবাসেন ঠিকই, কিন্তু সে আপনার সুখের জন্য দায়ী নয়।
❌ ভুল কথা: "তুই ভালো রেজাল্ট না করলে আমার আর বেঁচে থেকে লাভ কী!"
✅ সঠিক কথা: "আমি তোকে অনেক ভালোবাসি। তুই যেমনই হোস না কেন, আমি নিজের যত্ন নিজেই নিতে পারব।"
পরিশেষে
আপনার সন্তান একটি স্বাধীন পাখি হিসেবে জন্ম নিয়েছে। আপনার জীবনের না-পাওয়া স্বপ্ন, একাকিত্ব বা হতাশার শেকল দিয়ে তাকে নিজের সাথে বেঁধে রাখবেন না। তাকে বাচ্চার মতো বাঁচতে দিন। একজন অসুখী এবং নির্ভরশীল বাবা-মায়ের চেয়ে একজন মানসিকভাবে শক্ত এবং নিজের সীমানা বজায় রাখা অভিভাবকই একটি শিশুর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
......
সংসারে হয়তো অশান্তি চলছে, অথবা নিজের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো নিয়ে আপনি চরম হতাশায় ভুগছেন। দিনশেষে ৬ বা ৭ বছরের ছোট্ট সন্তানকে বুকে জড়িয়ে আপনি হয়তো কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, "আমার জীবনের সব কষ্ট শুধু তোর মুখটার দিকে তাকিয়ে সহ্য করছি রে! তুই ছাড়া এ পৃথিবীতে আমার আপন বলতে আর কেউ নেই।"
শুনতে কথাটি মাতৃত্ব বা পিতৃত্বের চরম আত্মত্যাগের মতো মনে হলেও, শিশু মনোবিজ্ঞান এটিকে একটি ভয়ংকর মানসিক নির্যাতন বা 'ইমোশনাল অ্যাবিউজ' হিসেবে দেখে। আপনি হয়তো ভালোবাসার জায়গা থেকেই কথাটি বলছেন, কিন্তু এই একটি বাক্যের মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানের ছোট্ট কাঁধে এমন এক বিশাল পাহাড় চাপিয়ে দিচ্ছেন, যার ভারে তার পুরো শৈশবটাই পিষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কিডোরা স্মার্ট প্যারেন্টিং-এর আজকের এই অত্যন্ত গভীর এবং সেনসিটিভ আর্টিকেলে আমরা জানবো 'ইমোশনাল এনমেশমেন্ট' (Emotional Enmeshment) সম্পর্কে—কীভাবে বাবা-মায়েরা নিজেদের মানসিক শূন্যতা পূরণের জন্য সন্তানকে হাতিয়ার বানাচ্ছেন এবং এর ফলে বাচ্চার কী ভয়ংকর ক্ষতি হচ্ছে।
ইমোশনাল এনমেশমেন্ট বা মানসিক নির্ভরতা কী?
সহজ কথায়, বাবা-মা যখন নিজেদের জীবনের দুঃখ, দাম্পত্য কলহ বা হতাশা সামলাতে না পেরে সন্তানকে নিজেদের 'বেস্ট ফ্রেন্ড' বা 'থেরাপিস্ট' বানিয়ে ফেলেন, তখন তাকে ইমোশনাল এনমেশমেন্ট বলে। এখানে বাবা-মা এবং সন্তানের মধ্যকার সুস্থ বাউন্ডারি বা সীমানাটি পুরোপুরি মুছে যায়। সন্তান তখন আর সন্তান থাকে না, সে হয়ে যায় বাবা-মায়ের মানসিক আশ্রয়দাতা।
এই 'ভালোবাসা' বাচ্চার মনে কী ভয়ংকর ক্ষতি করছে?
আপনার বলা ওই আবেগপূর্ণ কথাগুলো বাচ্চার মস্তিষ্কে কীভাবে কাজ করে, তা জানলে আপনি শিউরে উঠবেন:
১. শৈশব চুরি হওয়া (Loss of Childhood):
যে বয়সে বাচ্চার শুধু খেলাধুলা এবং নিজের জগৎ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সে সে বাবা-মায়ের ইমোশনাল গার্ডিয়ান (Guardian) বা অভিভাবক হয়ে যায়। সে সারাক্ষণ টেনশনে থাকে—"আমি যদি এখন খেলতে যাই, তাহলে মা তো একা বসে কাঁদবে!" অন্য বাচ্চাদের মতো সে স্বাধীনভাবে হাসতে বা বাঁচতে ভুলে যায়। তার নিজের শৈশবটি চিরতরে হারিয়ে যায়।
২. গিল্ট ট্রিপ বা আজীবনের অপরাধবোধ (The Guilt Trap):
বাচ্চারা খুব দ্রুত বুঝে যায় যে, বাবা-মায়ের সুখ বা বেঁচে থাকা সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভরশীল। বড় হয়ে এরা যদি পড়াশোনার জন্য বিদেশে যেতে চায় বা নিজের পছন্দে জীবনসঙ্গী বেছে নিতে চায়, তখন তাদের ভেতরে চরম অপরাধবোধ বা গিল্ট কাজ করে। তারা ভাবে, "আমি চলে গেলে মায়ের কী হবে?" নিজেদের সুখ বিসর্জন দিয়ে এরা বাবা-মায়ের কাছেই শেকলবদ্ধ হয়ে থাকে।
৩. ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রভাব (Toxic Future Relationships):
যে শিশু ছোটবেলা থেকেই অন্যের মানসিক দায়িত্ব নিতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, বড় হয়ে সে নিজের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও 'সেভিয়র কমপ্লেক্স' (Savior Complex)-এ ভোগে। এরা সবসময় এমন পার্টনার বা বন্ধু বেছে নেয়, যারা মানসিকভাবে দুর্বল বা টক্সিক, কারণ তারা মনে করে "অন্যকে উদ্ধার করাই আমার জীবনের একমাত্র কাজ।" নিজেদের জীবনে এরা কখনোই সুখী হতে পারে না।
কীভাবে এই টক্সিক চক্র ভাঙবেন? (প্যারেন্টিং সলিউশন)
আপনার জীবনের দুঃখ বা একাকিত্বের দায় আপনার সন্তানের নয়। তাকে সুস্থভাবে বড় করতে হলে এই মানসিক বাউন্ডারি তৈরি করা খুব জরুরি:
১. বড়দের সমস্যা বড়দের কাছে রাখুন (Adult Problems for Adults):
দাম্পত্য কলহ, আর্থিক অনটন বা শাশুড়ির সাথে ঝগড়ার কথা কখনোই সন্তানের সাথে শেয়ার করবেন না। আপনার যদি কথা বলার মানুষের প্রয়োজন হয়, তবে নিজের বন্ধু, আত্মীয় বা একজন প্রফেশনাল থেরাপিস্টের সাহায্য নিন। বাচ্চার ছোট্ট মস্তিষ্ক বড়দের এই জটিল রাজনীতি বা ইমোশন প্রসেস করার জন্য তৈরি হয়নি।
২. সন্তানকে আপনার 'জীবনের একমাত্র লক্ষ্য' বানাবেন না:
মাতৃত্ব বা পিতৃত্ব আপনার জীবনের একটি সুন্দর অংশ হতে পারে, কিন্তু এটাই যেন আপনার একমাত্র পরিচয় না হয়। নিজের জন্য আলাদা শখ, বন্ধু সার্কেল এবং জগৎ তৈরি করুন। আপনি মানসিকভাবে স্বাধীন থাকলেই আপনার সন্তান স্বাধীনভাবে বড় হওয়ার সুযোগ পাবে।
৩. নিঃশর্ত ভালোবাসার নিশ্চয়তা দিন:
সন্তানকে বোঝান যে আপনি তাকে ভালোবাসেন ঠিকই, কিন্তু সে আপনার সুখের জন্য দায়ী নয়।
❌ ভুল কথা: "তুই ভালো রেজাল্ট না করলে আমার আর বেঁচে থেকে লাভ কী!"
✅ সঠিক কথা: "আমি তোকে অনেক ভালোবাসি। তুই যেমনই হোস না কেন, আমি নিজের যত্ন নিজেই নিতে পারব।"
পরিশেষে
আপনার সন্তান একটি স্বাধীন পাখি হিসেবে জন্ম নিয়েছে। আপনার জীবনের না-পাওয়া স্বপ্ন, একাকিত্ব বা হতাশার শেকল দিয়ে তাকে নিজের সাথে বেঁধে রাখবেন না। তাকে বাচ্চার মতো বাঁচতে দিন। একজন অসুখী এবং নির্ভরশীল বাবা-মায়ের চেয়ে একজন মানসিকভাবে শক্ত এবং নিজের সীমানা বজায় রাখা অভিভাবকই একটি শিশুর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
📣 প্যারেন্টিংয়ের এই সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে জয়েন করুন আমাদের Kidora - Parenting Club ফেইসবুক গ্রুপে!
কম খাওয়া
-----
بسم الله الرحمن الرحيم
মানুষের জীবনে চাহিদা ও কামনা, এ দুটো যেন অবিচ্ছেদ্য। আর এই কামনাগুলোর ব্যবহারে এক ধরনের বিশেষ আনন্দ লুকিয়ে আছে। প্রয়োজন ও আনন্দ যখন একত্রিত হয়, তখনই তা আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এগুলো অর্জনের উত্তেজনা ও আকাঙ্ক্ষায় আমরা অনেক সময় ভুলে যাই, আসলে এগুলোর প্রয়োজন আমাদের আছে কি না! আর প্রয়োজন থাকলেও, সেই প্রয়োজনের সীমারেখা আমরা উপেক্ষা করি।
কামনার ব্যাপারে আমাদের দুটি মৌলিক ভুল আছে,
এক, প্রয়োজন ছাড়াই কামনার অনুসরণ করা;
দুই, তার সীমা অতিক্রম করে ফেলা।
কামনার অনুসরণ মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, আর তার সব দুঃখ-কষ্ট ও বিপদের মূল উৎস। আমরা ভুলে যাই—শয়তান, যে আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু, সে এই কামনার পথ দিয়েই আমাদের পথভ্রষ্ট করে। প্রজ্ঞার দাবি ছিল, আমরা কামনাকে লাগাম দিই, প্রবৃত্তির ফাঁদে না পড়ি, শয়তানের কৌশল সম্পর্কে সতর্ক থাকি এবং দুঃখ-কষ্টের মূল শিকড় কেটে ফেলি। কিন্তু আমরা তা করি না, কারণ তা সহজ নয়।
তাহলে প্রশ্ন আসে, কামনাকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায় কী? খাওয়া-দাওয়া, যৌন আকাঙ্ক্ষা, অহমিকা, এসব ধ্বংসাত্মক প্রবণতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কীভাবে? আর কেউ যদি এর চিকিৎসাও বলে দেয়, তবুও তা বাস্তবে প্রয়োগ করা কেন কঠিন হয়ে পড়ে?
আমার মতে, সব কামনার একসঙ্গে চিকিৎসা করা কঠিনই নয়, বরং মনোবল ভেঙে দেওয়ার মতো। তাই এমন একটি কামনা দিয়ে শুরু করা উচিত, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ, এবং যা অন্য কামনাগুলোকেও নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ক হতে পারে।
আর তা হলো, খাওয়া ও পান করার আকাঙ্ক্ষা। যদি আমরা খাওয়া-দাওয়ার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল শিখে ফেলি, তবে অন্যান্য কামনা থেকেও মুক্তি পাওয়া সহজ হয়ে যাবে।
খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের দুটি পদ্ধতি রয়েছে, একটি জ্ঞানভিত্তিক, অন্যটি ব্যবহারিক।
১. জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি
এটির ছয়টি দিক রয়েছে:
প্রথমত, আমরা স্পষ্টভাবে বুঝে নেব, ক্ষুধা ও তৃষ্ণা শুধু ইঙ্গিত দেয় যে আমাদের খাওয়া বা পান করা প্রয়োজন। কিন্তু এগুলো কখনো নির্ধারণ করতে পারে না, আমরা কী খাব, কখন খাব, কতটুকু খাব; বা কী পান করব, কখন করব, কতটুকু করব। অর্থাৎ, কামনা অন্ধ ও নির্বোধ।
দ্বিতীয়ত, যেহেতু কামনা অন্ধ ও নির্বোধ, তাই তার সহায়তায় আমাদের বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হবে।
তৃতীয়ত, আমরা চিন্তা করব, ক্ষুধা বা তৃষ্ণার অবস্থায় আমরা কতক্ষণ ধৈর্য ধরতে পারি, যাতে আমরা দুর্বল না হয়ে পড়ি এবং আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত না ঘটে। যতক্ষণ সম্ভব ধৈর্য ধারণ করব, কারণ ধৈর্যই মানবজীবনের সব উন্নতি ও সফলতার প্রধান চাবিকাঠি।
চতুর্থত, আমরা এমন খাদ্য গ্রহণ করব, যাতে তিনটি শর্ত থাকে :
এক, তা হালাল ও পবিত্র;
দুই, তা স্বাস্থ্যকর ও শক্তিদায়ক;
তিন, তা আমাদের আত্মমর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ না করে, অর্থাৎ, তা কারও কাছে চেয়ে নেওয়া নয়, লোভ বা হীন মানসিকতা থেকে অর্জিত নয়।
পঞ্চমত, নিজের শরীরের উপযোগিতা অনুযায়ী কোনো জ্ঞানী ও সৎ চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেব, দিনে কতবার খাওয়া উচিত, কখন খাওয়া উচিত এবং কতটুকু খাওয়া উচিত।
ষষ্ঠত, আমরা কাজ করার আগে তার পরিণতি নিয়ে ভাবব। পেটে যা কিছু প্রবেশ করে, তার প্রভাব আমাদের শরীরে পড়ে, আর সেই প্রভাব আমরা পরিবর্তন করতে পারি না। পৃথিবীর অধিকাংশ রোগের পেছনে রয়েছে খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে অসতর্কতা।
২. ব্যবহারিক পদ্ধতি
এটির চারটি দিক রয়েছে :
প্রথমত, ভালোভাবে ক্ষুধা না লাগা পর্যন্ত কখনো খাব না। ভালো ক্ষুধার অর্থ হলো. শরীর তার দায়িত্ব পালনে কিছুটা দুর্বলতা অনুভব করতে শুরু করেছে। আর খাওয়ার ইচ্ছা কিছুটা বাকি থাকতেই খাওয়া ছেড়ে দেব। পশু পেট ভরে খায়, কিন্তু মানুষ খায় প্রয়োজন অনুযায়ী, পেট ভরে নয়।
দ্বিতীয়ত, চেষ্টা করব খাবারের প্লেট ছোট রাখতে এবং শুরুতেই অল্প পরিমাণে খাবার নিতে। যদি প্রয়োজন হয়, পরে আবার নেওয়া যাবে। আমাদের খাওয়ার ধরন দেখে যেন মনে না হয় আমরা লোভী।
তৃতীয়ত, বেশি বেশি রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তুলব। আর ইফতারের সময় সেহরির তুলনায় কম খাব।
চতুর্থত, বিনা মূল্যের খাবার থেকে বিরত থাকব, দাওয়াতে কম অংশ নেব। যদি কখনো দাওয়াতে যেতেই হয়, তবে আগে থেকেই কিছু খেয়ে যাব, যাতে সেখানে কম খাওয়া হয়। আর এরপর দুই-তিন দিন রোজা রাখব।
যদি এই নীতিগুলো সামনে রেখে চলা যায়, তবে তোমার স্বাস্থ্য হবে আরও সুস্থ ও সজীব, আয়ু হবে দীর্ঘতর, কাজের সময় থাকবে প্রফুল্লতা ও প্রাণশক্তি। রোগব্যাধি থেকে থাকবে নিরাপত্তা, আর শয়তান তোমার সামনে নিজেকেই দুর্বল অনুভব করবে।
শেষ কথা এই, ভুলে যেও না, কম খাওয়া নবীগণের সুন্নত এবং সকল প্রাজ্ঞ মানুষের পথ। আর অতিরিক্ত খাওয়া বুদ্ধি ও হৃদয়কে দুর্বল করে দেয়; মানুষ হয়ে পড়ে জড়বুদ্ধি ও নির্বোধ, তার সাহস ও উদ্যম নিস্তেজ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সে শয়তানের কাছে পরাভূত হয়—বরং তারই এক আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়।
----------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড
-----
بسم الله الرحمن الرحيم
মানুষের জীবনে চাহিদা ও কামনা, এ দুটো যেন অবিচ্ছেদ্য। আর এই কামনাগুলোর ব্যবহারে এক ধরনের বিশেষ আনন্দ লুকিয়ে আছে। প্রয়োজন ও আনন্দ যখন একত্রিত হয়, তখনই তা আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এগুলো অর্জনের উত্তেজনা ও আকাঙ্ক্ষায় আমরা অনেক সময় ভুলে যাই, আসলে এগুলোর প্রয়োজন আমাদের আছে কি না! আর প্রয়োজন থাকলেও, সেই প্রয়োজনের সীমারেখা আমরা উপেক্ষা করি।
কামনার ব্যাপারে আমাদের দুটি মৌলিক ভুল আছে,
এক, প্রয়োজন ছাড়াই কামনার অনুসরণ করা;
দুই, তার সীমা অতিক্রম করে ফেলা।
কামনার অনুসরণ মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, আর তার সব দুঃখ-কষ্ট ও বিপদের মূল উৎস। আমরা ভুলে যাই—শয়তান, যে আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু, সে এই কামনার পথ দিয়েই আমাদের পথভ্রষ্ট করে। প্রজ্ঞার দাবি ছিল, আমরা কামনাকে লাগাম দিই, প্রবৃত্তির ফাঁদে না পড়ি, শয়তানের কৌশল সম্পর্কে সতর্ক থাকি এবং দুঃখ-কষ্টের মূল শিকড় কেটে ফেলি। কিন্তু আমরা তা করি না, কারণ তা সহজ নয়।
তাহলে প্রশ্ন আসে, কামনাকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায় কী? খাওয়া-দাওয়া, যৌন আকাঙ্ক্ষা, অহমিকা, এসব ধ্বংসাত্মক প্রবণতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কীভাবে? আর কেউ যদি এর চিকিৎসাও বলে দেয়, তবুও তা বাস্তবে প্রয়োগ করা কেন কঠিন হয়ে পড়ে?
আমার মতে, সব কামনার একসঙ্গে চিকিৎসা করা কঠিনই নয়, বরং মনোবল ভেঙে দেওয়ার মতো। তাই এমন একটি কামনা দিয়ে শুরু করা উচিত, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ, এবং যা অন্য কামনাগুলোকেও নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ক হতে পারে।
আর তা হলো, খাওয়া ও পান করার আকাঙ্ক্ষা। যদি আমরা খাওয়া-দাওয়ার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল শিখে ফেলি, তবে অন্যান্য কামনা থেকেও মুক্তি পাওয়া সহজ হয়ে যাবে।
খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের দুটি পদ্ধতি রয়েছে, একটি জ্ঞানভিত্তিক, অন্যটি ব্যবহারিক।
১. জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি
এটির ছয়টি দিক রয়েছে:
প্রথমত, আমরা স্পষ্টভাবে বুঝে নেব, ক্ষুধা ও তৃষ্ণা শুধু ইঙ্গিত দেয় যে আমাদের খাওয়া বা পান করা প্রয়োজন। কিন্তু এগুলো কখনো নির্ধারণ করতে পারে না, আমরা কী খাব, কখন খাব, কতটুকু খাব; বা কী পান করব, কখন করব, কতটুকু করব। অর্থাৎ, কামনা অন্ধ ও নির্বোধ।
দ্বিতীয়ত, যেহেতু কামনা অন্ধ ও নির্বোধ, তাই তার সহায়তায় আমাদের বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হবে।
তৃতীয়ত, আমরা চিন্তা করব, ক্ষুধা বা তৃষ্ণার অবস্থায় আমরা কতক্ষণ ধৈর্য ধরতে পারি, যাতে আমরা দুর্বল না হয়ে পড়ি এবং আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত না ঘটে। যতক্ষণ সম্ভব ধৈর্য ধারণ করব, কারণ ধৈর্যই মানবজীবনের সব উন্নতি ও সফলতার প্রধান চাবিকাঠি।
চতুর্থত, আমরা এমন খাদ্য গ্রহণ করব, যাতে তিনটি শর্ত থাকে :
এক, তা হালাল ও পবিত্র;
দুই, তা স্বাস্থ্যকর ও শক্তিদায়ক;
তিন, তা আমাদের আত্মমর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ না করে, অর্থাৎ, তা কারও কাছে চেয়ে নেওয়া নয়, লোভ বা হীন মানসিকতা থেকে অর্জিত নয়।
পঞ্চমত, নিজের শরীরের উপযোগিতা অনুযায়ী কোনো জ্ঞানী ও সৎ চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেব, দিনে কতবার খাওয়া উচিত, কখন খাওয়া উচিত এবং কতটুকু খাওয়া উচিত।
ষষ্ঠত, আমরা কাজ করার আগে তার পরিণতি নিয়ে ভাবব। পেটে যা কিছু প্রবেশ করে, তার প্রভাব আমাদের শরীরে পড়ে, আর সেই প্রভাব আমরা পরিবর্তন করতে পারি না। পৃথিবীর অধিকাংশ রোগের পেছনে রয়েছে খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে অসতর্কতা।
২. ব্যবহারিক পদ্ধতি
এটির চারটি দিক রয়েছে :
প্রথমত, ভালোভাবে ক্ষুধা না লাগা পর্যন্ত কখনো খাব না। ভালো ক্ষুধার অর্থ হলো. শরীর তার দায়িত্ব পালনে কিছুটা দুর্বলতা অনুভব করতে শুরু করেছে। আর খাওয়ার ইচ্ছা কিছুটা বাকি থাকতেই খাওয়া ছেড়ে দেব। পশু পেট ভরে খায়, কিন্তু মানুষ খায় প্রয়োজন অনুযায়ী, পেট ভরে নয়।
দ্বিতীয়ত, চেষ্টা করব খাবারের প্লেট ছোট রাখতে এবং শুরুতেই অল্প পরিমাণে খাবার নিতে। যদি প্রয়োজন হয়, পরে আবার নেওয়া যাবে। আমাদের খাওয়ার ধরন দেখে যেন মনে না হয় আমরা লোভী।
তৃতীয়ত, বেশি বেশি রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তুলব। আর ইফতারের সময় সেহরির তুলনায় কম খাব।
চতুর্থত, বিনা মূল্যের খাবার থেকে বিরত থাকব, দাওয়াতে কম অংশ নেব। যদি কখনো দাওয়াতে যেতেই হয়, তবে আগে থেকেই কিছু খেয়ে যাব, যাতে সেখানে কম খাওয়া হয়। আর এরপর দুই-তিন দিন রোজা রাখব।
যদি এই নীতিগুলো সামনে রেখে চলা যায়, তবে তোমার স্বাস্থ্য হবে আরও সুস্থ ও সজীব, আয়ু হবে দীর্ঘতর, কাজের সময় থাকবে প্রফুল্লতা ও প্রাণশক্তি। রোগব্যাধি থেকে থাকবে নিরাপত্তা, আর শয়তান তোমার সামনে নিজেকেই দুর্বল অনুভব করবে।
শেষ কথা এই, ভুলে যেও না, কম খাওয়া নবীগণের সুন্নত এবং সকল প্রাজ্ঞ মানুষের পথ। আর অতিরিক্ত খাওয়া বুদ্ধি ও হৃদয়কে দুর্বল করে দেয়; মানুষ হয়ে পড়ে জড়বুদ্ধি ও নির্বোধ, তার সাহস ও উদ্যম নিস্তেজ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সে শয়তানের কাছে পরাভূত হয়—বরং তারই এক আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়।
----------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড
যুদ্ধ, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকট
যুদ্ধের তখন মাত্র তৃতীয় বা চতুর্থ দিন। পরপর দুই দিন, প্রথমে মালয়েশিয়ার টিমের সঙ্গে, এরপর বাংলাদেশের টিমের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। আলোচনার বিষয় ছিল, এই যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে, ব্যক্তি পর্যায়ে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এর প্রভাব কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে, এবং আমাদের স্ট্র্যাটেজিক ডিরেকশন কী হওয়া উচিত।
এর দু-একদিন পর মালয়েশিয়ার একটি বড় প্রতিষ্ঠানের ইফতার-পূর্ব একটি অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে একাধিক শরীয়াহ স্কলারের সঙ্গে কথাবার্তা হয়। আমার মনে হয়েছে, তখনও অনেকে বিষয়টিকে পুরোপুরি সিরিয়াসভাবে বিবেচনা করছিলেন না। কিন্তু আমি তখনই টিমকে বলেছিলাম, এবারের যুদ্ধের প্রভাব পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি অর্থনীতিকেই কোনো না কোনোভাবে ছুঁয়ে যাবে। আমাদের সময়ে সর্বশেষ কোভিডে আমরা যে বৈশ্বিক ধাক্কা দেখেছি, অথবা তার আগে যে অর্থনৈতিক মন্দাগুলো দেখেছি, আল্লাহ না করুন, এবারের রিসেশন তার চেয়েও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে।
মালয়েশিয়ায় গত দুই সপ্তাহেই জ্বালানির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে, এবং সামনে আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে। এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে নয়; পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা, পণ্যমূল্য, বিদ্যুৎ এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও পড়বে। হয়তো সরকারি পর্যায়েও শীঘ্রই ওয়ার্ক ফ্রম হোম, জ্বালানি সাশ্রয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, এ ধরনের পদক্ষেপ সামনে আসতে পারে বলে সংবাদ হচ্ছে। যদিও মালয়েশিয়া নিজস্বভাবে কিছু জ্বালানি উৎপাদন করে, তবুও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও সংবেদনশীল। আমাদের জ্বালানি ব্যবস্থার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। যদিও গ্যাসের ক্ষেত্রে কিছুটা নিজস্ব সুবিধা আছে, তবুও বৈশ্বিক তেলের বাজার যখন অস্থির হয়ে যায়, তখন তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে, আমদানি ব্যয়ে, পরিবহন ব্যয়ে এবং বাজারদরে। সব মিলিয়ে আমরা হয়তো একটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক চাপের দিকেই এগোচ্ছি।
এ অবস্থায় রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান, পরিবার, সকল স্তরেই আমাদের খোলামেলা ও গভীর আলোচনা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্পেশাল টাস্কফোর্স তৈরি করা প্রয়োজন। যারা প্রচলিত অর্থনীতি ও ইসলামী অর্থনীতির সমন্বয়ে এই সংকটকালে নানা সমাধানে কাজ করার পরামর্শ দেবে। ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন সংকটকালে গণমানুষের মৌলিক চাহিদা - খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিতকরণে নানা কার্যকরী পদক্ষেপের নজীর আছে।
এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি বিষয় ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র, সবারই মাথায় রাখা দরকার।
► প্রথমত, বাস্তবতাকে জানা ও স্বীকার করা। আমরা একটি কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, অথবা খুব দ্রুত এমন এক সময়ের দিকে যাচ্ছি। এই বিষয়টি পরিবারে, প্রতিষ্ঠানে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সবার বোঝা প্রয়োজন। সংকটের সময়ে কমন আন্ডারস্ট্যান্ডিং না থাকলে সিদ্ধান্তে বিশৃঙ্খলা আসে, ব্যয়ে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়, এবং মানসিক অস্থিরতাও বেড়ে যায়।
► দ্বিতীয়ত, ব্যয় সংকোচন। ভালো সময়ে মানুষ ও প্রতিষ্ঠান অনেক ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় করে, শপিং, বাইরে খাওয়া, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ, অগ্রাধিকারহীন প্রকল্প, প্রদর্শনধর্মী ব্যয় ইত্যাদি। কিন্তু অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে এসব ব্যয় কমিয়ে আনা খুব জরুরি। শুধু অতিরিক্ত ব্যয় নয়, প্রয়োজনীয় ব্যয়ের মধ্যেও কোথায় কীভাবে আরও সংযমী হওয়া যায়, সেটিও নতুন করে দেখা উচিত। পরিবারে বাজেট করা, প্রতিষ্ঠানে ব্যয়ের খাত রিভিউ করা, এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প স্থগিত রাখা জরুরী।
অপচয় সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার ভাষা খুবই কঠিন:
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ
“নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সূরা ইসরা, ১৭:২৭)
আর ব্যয়ের ভারসাম্য সম্পর্কে তিনি বলেন:
وَالَّذِينَ إِذَا أَنفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَٰلِكَ قَوَامًا
“আর তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপচয়ও করে না, কৃপণতাও করে না; বরং এ দুয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।” (সূরা ফুরকান, ২৫:৬৭)
আজকের বাস্তবতায় এই ভারসাম্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। না আতঙ্কে সব বন্ধ করে দেওয়া, না বেপরোয়াভাবে চলা, বরং হিসাবী, সংযমী ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
► তৃতীয়ত, সকল প্রকার হারাম আয় থেকে সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে আসা। হারাম আয় বাহ্যিক পরিমাণে হয়তো বেশি দেখা যায়, কিন্তু তা বারাকাহ নষ্ট করে দেয়। আর বারাকাহ কী জিনিস, তা মানুষ সবচেয়ে বেশি অনুভব করে মুসিবত ও সংকটের সময়ে। যখন আয় কমে যায়, বাজার অস্থির হয়, অসুস্থতা বা অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন অল্প সম্পদেও নিরাপদ থাকা, অল্প উপার্জনেও প্রয়োজন মিটে যাওয়া, সামান্যতে শান্তি পাওয়া, এসবই বারাকাহর প্রকাশ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
যুদ্ধের তখন মাত্র তৃতীয় বা চতুর্থ দিন। পরপর দুই দিন, প্রথমে মালয়েশিয়ার টিমের সঙ্গে, এরপর বাংলাদেশের টিমের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। আলোচনার বিষয় ছিল, এই যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে, ব্যক্তি পর্যায়ে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এর প্রভাব কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে, এবং আমাদের স্ট্র্যাটেজিক ডিরেকশন কী হওয়া উচিত।
এর দু-একদিন পর মালয়েশিয়ার একটি বড় প্রতিষ্ঠানের ইফতার-পূর্ব একটি অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে একাধিক শরীয়াহ স্কলারের সঙ্গে কথাবার্তা হয়। আমার মনে হয়েছে, তখনও অনেকে বিষয়টিকে পুরোপুরি সিরিয়াসভাবে বিবেচনা করছিলেন না। কিন্তু আমি তখনই টিমকে বলেছিলাম, এবারের যুদ্ধের প্রভাব পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি অর্থনীতিকেই কোনো না কোনোভাবে ছুঁয়ে যাবে। আমাদের সময়ে সর্বশেষ কোভিডে আমরা যে বৈশ্বিক ধাক্কা দেখেছি, অথবা তার আগে যে অর্থনৈতিক মন্দাগুলো দেখেছি, আল্লাহ না করুন, এবারের রিসেশন তার চেয়েও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে।
মালয়েশিয়ায় গত দুই সপ্তাহেই জ্বালানির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে, এবং সামনে আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে। এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে নয়; পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা, পণ্যমূল্য, বিদ্যুৎ এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও পড়বে। হয়তো সরকারি পর্যায়েও শীঘ্রই ওয়ার্ক ফ্রম হোম, জ্বালানি সাশ্রয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, এ ধরনের পদক্ষেপ সামনে আসতে পারে বলে সংবাদ হচ্ছে। যদিও মালয়েশিয়া নিজস্বভাবে কিছু জ্বালানি উৎপাদন করে, তবুও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও সংবেদনশীল। আমাদের জ্বালানি ব্যবস্থার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। যদিও গ্যাসের ক্ষেত্রে কিছুটা নিজস্ব সুবিধা আছে, তবুও বৈশ্বিক তেলের বাজার যখন অস্থির হয়ে যায়, তখন তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে, আমদানি ব্যয়ে, পরিবহন ব্যয়ে এবং বাজারদরে। সব মিলিয়ে আমরা হয়তো একটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক চাপের দিকেই এগোচ্ছি।
এ অবস্থায় রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান, পরিবার, সকল স্তরেই আমাদের খোলামেলা ও গভীর আলোচনা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্পেশাল টাস্কফোর্স তৈরি করা প্রয়োজন। যারা প্রচলিত অর্থনীতি ও ইসলামী অর্থনীতির সমন্বয়ে এই সংকটকালে নানা সমাধানে কাজ করার পরামর্শ দেবে। ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন সংকটকালে গণমানুষের মৌলিক চাহিদা - খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিতকরণে নানা কার্যকরী পদক্ষেপের নজীর আছে।
এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি বিষয় ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র, সবারই মাথায় রাখা দরকার।
► প্রথমত, বাস্তবতাকে জানা ও স্বীকার করা। আমরা একটি কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, অথবা খুব দ্রুত এমন এক সময়ের দিকে যাচ্ছি। এই বিষয়টি পরিবারে, প্রতিষ্ঠানে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সবার বোঝা প্রয়োজন। সংকটের সময়ে কমন আন্ডারস্ট্যান্ডিং না থাকলে সিদ্ধান্তে বিশৃঙ্খলা আসে, ব্যয়ে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়, এবং মানসিক অস্থিরতাও বেড়ে যায়।
► দ্বিতীয়ত, ব্যয় সংকোচন। ভালো সময়ে মানুষ ও প্রতিষ্ঠান অনেক ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় করে, শপিং, বাইরে খাওয়া, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ, অগ্রাধিকারহীন প্রকল্প, প্রদর্শনধর্মী ব্যয় ইত্যাদি। কিন্তু অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে এসব ব্যয় কমিয়ে আনা খুব জরুরি। শুধু অতিরিক্ত ব্যয় নয়, প্রয়োজনীয় ব্যয়ের মধ্যেও কোথায় কীভাবে আরও সংযমী হওয়া যায়, সেটিও নতুন করে দেখা উচিত। পরিবারে বাজেট করা, প্রতিষ্ঠানে ব্যয়ের খাত রিভিউ করা, এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প স্থগিত রাখা জরুরী।
অপচয় সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার ভাষা খুবই কঠিন:
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ
“নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সূরা ইসরা, ১৭:২৭)
আর ব্যয়ের ভারসাম্য সম্পর্কে তিনি বলেন:
وَالَّذِينَ إِذَا أَنفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَٰلِكَ قَوَامًا
“আর তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপচয়ও করে না, কৃপণতাও করে না; বরং এ দুয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।” (সূরা ফুরকান, ২৫:৬৭)
আজকের বাস্তবতায় এই ভারসাম্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। না আতঙ্কে সব বন্ধ করে দেওয়া, না বেপরোয়াভাবে চলা, বরং হিসাবী, সংযমী ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
► তৃতীয়ত, সকল প্রকার হারাম আয় থেকে সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে আসা। হারাম আয় বাহ্যিক পরিমাণে হয়তো বেশি দেখা যায়, কিন্তু তা বারাকাহ নষ্ট করে দেয়। আর বারাকাহ কী জিনিস, তা মানুষ সবচেয়ে বেশি অনুভব করে মুসিবত ও সংকটের সময়ে। যখন আয় কমে যায়, বাজার অস্থির হয়, অসুস্থতা বা অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন অল্প সম্পদেও নিরাপদ থাকা, অল্প উপার্জনেও প্রয়োজন মিটে যাওয়া, সামান্যতে শান্তি পাওয়া, এসবই বারাকাহর প্রকাশ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ
“আল্লাহ রিবা/ সুদকে ধ্বংস করেন এবং সদকাহকে বৃদ্ধি করেন।” (সূরা বাকারা, ২:২৭৬)
► চতুর্থত, দান-সদকা বাড়িয়ে দেওয়া। এ ধরনের সময়েই দান-সদকার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। একদিকে দান-সদকা সম্পদে সুরক্ষা ও বারাকাহ আনে, অন্যদিকে সমাজের দুর্বল মানুষদের টিকিয়ে রাখে। সংকটের সময় সবচেয়ে আগে আক্রান্ত হন নিম্নবিত্ত মানুষ, দিন আনে দিন খায় এমন পরিবার, একক উপার্জননির্ভর পরিবার, ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুর, অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা। তাই আমাদের আশেপাশের প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, কর্মচারী, সহকর্মী, কারা কষ্টে আছেন, তা খোঁজ নেওয়া খুব জরুরি। বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই সমাজকে টিকিয়ে রাখে।
রাসূল স. বলেন:
مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ
“সদকাহ কোনো সম্পদ কমিয়ে দেয় না।” (সহীহ মুসলিম: ২৫৮৮)
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন:
وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ رِبًا لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ ۖ وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ
"মানুষের ধন-সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তোমরা যে যাকাত দাও (তাই বৃদ্ধি পায়); বস্তুত তারাই হচ্ছে দ্বিগুণ লাভকারী।" (সূরা রূম, ৩০:৩৯)
► পঞ্চমত, কৃত্রিম সংকট তৈরি না করা। ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি বড় আমানাহ। অপ্রয়োজনে মূল্য বৃদ্ধি, মজুতদারি, কৃত্রিম ঘাটতি সৃষ্টি, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করা, এসব শুধু অনৈতিক নয়, শরীয়াহর দৃষ্টিতেও নিন্দনীয়। অনিশ্চিত সময়ে বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
مَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ
“যে ব্যক্তি মজুতদারি করে, সে গুনাহগার।” (সহীহ মুসলিম: ১৬০৫)
► ষষ্ঠত, প্যানিক বাইং থেকে বিরত থাকা। ব্যক্তি পর্যায়ে অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত জিনিস মজুত করতে শুরু করে। এতে নিজের জন্য সাময়িক নিরাপত্তার অনুভূতি এলেও সামগ্রিক বাজারে অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হয়, সরবরাহে চাপ পড়ে, এবং সংকট আরও ঘনীভূত হয়। তাই প্রয়োজনমাফিক কেনাকাটা করা, অযথা আতঙ্কে আচরণ না করা এবং অন্যদের জন্যও বাজারকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করা, এটিও দায়িত্বশীল আচরণের অংশ।
► সপ্তমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে মনোযোগী হওয়া। ব্যক্তিগত ঘর থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত, সব জায়গায় সাময়িকভাবে হলেও আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কোথায় বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে, কোথায় যাতায়াতে সাশ্রয় করা যায়, কোথায় বিকল্প পদ্ধতি নেওয়া যায়, এসব বাস্তবভাবে ভেবে দেখা দরকার।
সবশেষে, এ সময় আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। বিশ্লেষণ দরকার, পরিকল্পনা দরকার, কৌশল দরকার, কিন্তু সবকিছুর ওপরে দরকার দোয়া, তাওবা, ইস্তিগফার এবং আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন:
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন। এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেন, যা সে কল্পনাও করে না।” (সূরা ত্বালাক, ৬৫:২-৩)
আজকের বাস্তবতায় এই সবর জন্য বড় মোটিভেশন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। মুসলিম বিশ্বকে নিরাপদ রাখুন। আমাদের রিযিকে বারাকাহ দিন। আমাদের সিদ্ধান্তে হিকমাহ দিন। আমাদেরকে হালাল, সংযমী, দায়িত্বশীল জীবন যাপনের তাওফিক দিন। আর এই ফিতনা, অস্থিরতা, বিভক্তি, দুর্বলতা ও বৈশ্বিক বিপর্যয় থেকে উম্মাহকে উত্তমভাবে বের করে আনুন। আমিন।
--
ড. ইউসুফ সুলতান হাফি.
২৩ মার্চ ২০২৬
“আল্লাহ রিবা/ সুদকে ধ্বংস করেন এবং সদকাহকে বৃদ্ধি করেন।” (সূরা বাকারা, ২:২৭৬)
► চতুর্থত, দান-সদকা বাড়িয়ে দেওয়া। এ ধরনের সময়েই দান-সদকার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। একদিকে দান-সদকা সম্পদে সুরক্ষা ও বারাকাহ আনে, অন্যদিকে সমাজের দুর্বল মানুষদের টিকিয়ে রাখে। সংকটের সময় সবচেয়ে আগে আক্রান্ত হন নিম্নবিত্ত মানুষ, দিন আনে দিন খায় এমন পরিবার, একক উপার্জননির্ভর পরিবার, ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুর, অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা। তাই আমাদের আশেপাশের প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, কর্মচারী, সহকর্মী, কারা কষ্টে আছেন, তা খোঁজ নেওয়া খুব জরুরি। বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই সমাজকে টিকিয়ে রাখে।
রাসূল স. বলেন:
مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ
“সদকাহ কোনো সম্পদ কমিয়ে দেয় না।” (সহীহ মুসলিম: ২৫৮৮)
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন:
وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ رِبًا لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ ۖ وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ
"মানুষের ধন-সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তোমরা যে যাকাত দাও (তাই বৃদ্ধি পায়); বস্তুত তারাই হচ্ছে দ্বিগুণ লাভকারী।" (সূরা রূম, ৩০:৩৯)
► পঞ্চমত, কৃত্রিম সংকট তৈরি না করা। ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি বড় আমানাহ। অপ্রয়োজনে মূল্য বৃদ্ধি, মজুতদারি, কৃত্রিম ঘাটতি সৃষ্টি, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করা, এসব শুধু অনৈতিক নয়, শরীয়াহর দৃষ্টিতেও নিন্দনীয়। অনিশ্চিত সময়ে বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
مَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ
“যে ব্যক্তি মজুতদারি করে, সে গুনাহগার।” (সহীহ মুসলিম: ১৬০৫)
► ষষ্ঠত, প্যানিক বাইং থেকে বিরত থাকা। ব্যক্তি পর্যায়ে অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত জিনিস মজুত করতে শুরু করে। এতে নিজের জন্য সাময়িক নিরাপত্তার অনুভূতি এলেও সামগ্রিক বাজারে অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হয়, সরবরাহে চাপ পড়ে, এবং সংকট আরও ঘনীভূত হয়। তাই প্রয়োজনমাফিক কেনাকাটা করা, অযথা আতঙ্কে আচরণ না করা এবং অন্যদের জন্যও বাজারকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করা, এটিও দায়িত্বশীল আচরণের অংশ।
► সপ্তমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে মনোযোগী হওয়া। ব্যক্তিগত ঘর থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত, সব জায়গায় সাময়িকভাবে হলেও আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কোথায় বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে, কোথায় যাতায়াতে সাশ্রয় করা যায়, কোথায় বিকল্প পদ্ধতি নেওয়া যায়, এসব বাস্তবভাবে ভেবে দেখা দরকার।
সবশেষে, এ সময় আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। বিশ্লেষণ দরকার, পরিকল্পনা দরকার, কৌশল দরকার, কিন্তু সবকিছুর ওপরে দরকার দোয়া, তাওবা, ইস্তিগফার এবং আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন:
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন। এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেন, যা সে কল্পনাও করে না।” (সূরা ত্বালাক, ৬৫:২-৩)
আজকের বাস্তবতায় এই সবর জন্য বড় মোটিভেশন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। মুসলিম বিশ্বকে নিরাপদ রাখুন। আমাদের রিযিকে বারাকাহ দিন। আমাদের সিদ্ধান্তে হিকমাহ দিন। আমাদেরকে হালাল, সংযমী, দায়িত্বশীল জীবন যাপনের তাওফিক দিন। আর এই ফিতনা, অস্থিরতা, বিভক্তি, দুর্বলতা ও বৈশ্বিক বিপর্যয় থেকে উম্মাহকে উত্তমভাবে বের করে আনুন। আমিন।
--
ড. ইউসুফ সুলতান হাফি.
২৩ মার্চ ২০২৬
আগে জাদু করতে চুল নখ কাপড় লাগত
কেননা মানুষ মায়ের নাম জানত না
আগে সবাই ছবি আগলায়ে রাখত হয় তুলতো না না হলে দিত না । কাপড় ছিল কম ব্যবহার এর জিনিস ছিল কম তা ছিঁড়ে গেলে ঘর মুছত ফলে জাদু করার জিনিস পেতে না । নখ চুল মাটিতে বিসমিল্লাহ বলে পুতে ফেলত।
এর ফলে জাদু জীনের সমস্যা ২৫%ছিল
এখন আইডি কার্ডের বায়োডাটার কারনে সবাই মায়ের নাম জানে আর ফেসবুক এর কারনে সবাই ছবি নিতে পারে
কাপড় এর হিসাব নাই তাই হারালেও হিসাব থাকে না
কোন পার্লারে যায় সবাই জানে সেখান থেকে চুল নখ নিয়া কোন ব্যাপারই না
না চুল তাই জীন চালান করে জাদু অনেক সহজ হয়ে গেছে।
সব সময় সাবধান করি
দেখেন ইসলাম সত্য সুন্দর ধর্ম তার রিতিনীতি মানলে এইসব করা অসম্ভব
তাই সাবধান হোন
কেননা মানুষ মায়ের নাম জানত না
আগে সবাই ছবি আগলায়ে রাখত হয় তুলতো না না হলে দিত না । কাপড় ছিল কম ব্যবহার এর জিনিস ছিল কম তা ছিঁড়ে গেলে ঘর মুছত ফলে জাদু করার জিনিস পেতে না । নখ চুল মাটিতে বিসমিল্লাহ বলে পুতে ফেলত।
এর ফলে জাদু জীনের সমস্যা ২৫%ছিল
এখন আইডি কার্ডের বায়োডাটার কারনে সবাই মায়ের নাম জানে আর ফেসবুক এর কারনে সবাই ছবি নিতে পারে
কাপড় এর হিসাব নাই তাই হারালেও হিসাব থাকে না
কোন পার্লারে যায় সবাই জানে সেখান থেকে চুল নখ নিয়া কোন ব্যাপারই না
না চুল তাই জীন চালান করে জাদু অনেক সহজ হয়ে গেছে।
সব সময় সাবধান করি
দেখেন ইসলাম সত্য সুন্দর ধর্ম তার রিতিনীতি মানলে এইসব করা অসম্ভব
তাই সাবধান হোন
❤1