জ্ঞান - Knowledge
1.99K subscribers
1.27K photos
21 videos
10 files
462 links
🙂🙂🙂
Download Telegram
প্রকৃত তাওবা: হৃদয়ের প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা
মানুষ ভুল করে, পথ হারায়, আবার ফিরে আসে। এই ফিরে আসার নামই তাওবা—প্রভুর দিকে বিনম্র প্রত্যাবর্তন। এ সম্পর্কে হযরত আমিরুল মোমেনিন আলী (আঃ) এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী বাণী প্রদান করেছেন। তিনি বলেন—

التّوبَةُ نَدَمٌ بِالْقَلْبِ وَ اسْتِغْفارٌ بِاللِّسانِ وَ تَرْكٌ بِالْجَوارِحِ، وَ اِضمارٌ أنْ لایَعُودَ.

তাওবা হলো—
হৃদয়ের গভীরে আন্তরিক অনুতাপ,
জিহ্বার মাধ্যমে বিনীত ক্ষমা প্রার্থনা,
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা গুনাহ সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ,
এবং দৃঢ় অঙ্গীকার— আর কখনো সেই গুনাহে ফিরে না যাওয়া।
সূত্র: ফিহরিস্তে গুরার, পৃষ্ঠা ৩৯

তাওবার চারটি আলোকস্তম্ভ:

এই সংক্ষিপ্ত বাণীর মধ্যে তাওবার পূর্ণাঙ্গ দর্শন নিহিত রয়েছে। তাওবা কেবল মুখের উচ্চারণ নয়; এটি হৃদয়, জিহ্বা, কর্ম ও সংকল্প—সমগ্র সত্তার পরিবর্তনের নাম।

১। হৃদয়ের অনুশোচনা (নদামাহ)
যখন মানুষ নিজের ভুল উপলব্ধি করে অন্তর থেকে লজ্জিত হয়, তখন হৃদয় নরম হয়ে যায়। এই অন্তরের কান্নাই তাওবার প্রথম ধাপ। অনুতাপহীন তাওবা কেবল শব্দমাত্র।

২। জিহ্বার ইস্তিগফার
“আস্তাগফিরুল্লাহ” উচ্চারণ কেবল একটি বাক্য নয়; এটি আত্মার আর্তনাদ, প্রভুর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার বিনম্র আবেদন। জিহ্বা তখন হৃদয়ের ভাষা প্রকাশ করে।

৩। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিবর্তন
যে গুনাহ থেকে তাওবা করা হলো, তা বাস্তব জীবনে ছেড়ে দিতে হবে। যদি আমল না বদলায়, তবে তাওবা অপূর্ণ থেকে যায়। সত্য তাওবা মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়।

৪। পুনরায় না ফেরার দৃঢ় সংকল্প
তাওবা মানে অতীতকে বিদায় জানিয়ে নতুন জীবনের সূচনা। দৃঢ় সংকল্প ছাড়া তাওবা স্থায়ী হয় না। এ অঙ্গীকারই মানুষকে পুনরায় পতন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহারঃ
তাওবা হলো আত্মার জাগরণ, অন্তরের পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর সান্নিধ্যে ফিরে আসার এক পবিত্র অঙ্গীকার। যখন হৃদয় কাঁদে, জিহ্বা ক্ষমা চায়, কর্ম বদলে যায় এবং ভবিষ্যৎ সংশোধনের দৃঢ় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়—তখনই তাওবা প্রকৃত অর্থে পূর্ণতা পায়।
আল্লাহ আমাদের তাওবাকে সত্য, গ্রহণযোগ্য এবং স্থায়ী করে দিন।
এক ব্যক্তি হযরত উমর (রা.)-এর কাছে এসে বললেন, "আল্লাহ আপনাকে যে দায়িত্ব ও ক্ষমতা দিয়েছেন, সেখান থেকে আমাকে কোনো একটি পদের দায়িত্ব (চাকরি) দিন।"

হযরত উমর (রা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি কুরআন পড়তে পারো?" সে উত্তর দিল, "না।" হযরত উমর (রা.) বললেন, "যে কুরআন পড়তে জানে না, আমরা তাকে কোনো দায়িত্ব দিই না।" (হযরত উমর (রা.) চেয়েছিলেন মানুষ আগে দ্বীন শিখুক, কারণ দ্বীনের জ্ঞান থাকলে সে আমানতদারিতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। )

লোকটি সেখান থেকে ফিরে গেল এবং এই আশায় কঠোর পরিশ্রম করে কুরআন শিখতে শুরু করল যে, কুরআন শেখা শেষ হলে সে আবার উমর (রা.)-এর কাছে যাবে এবং একটি চাকরি পাবে।

কিন্তু যখন সে কুরআন শিখে ফেলল, তখন সে উমর (রা.)-এর কাছে যাওয়া বন্ধ করে দিল। একদিন হঠাৎ তার সাথে হযরত উমর (রা.)-এর দেখা হলো। তিনি তাকে দেখে বললেন, "তুমি কি আমাদের ছেড়ে দিলে (আমাদের কাছে আসা বন্ধ করে দিলে)?"

সে উত্তর দিল, "হে আমিরুল মুমিনিন! আমি আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো লোক নই; কিন্তু আমি কুরআন শিখেছি আর এই কুরআনই আমাকে উমর এবং উমরের দরজার মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত করে দিয়েছে (অর্থাৎ আল্লাহ আমাকে স্বাবলম্বী করে দিয়েছেন)।"

হযরত উমর (রা.) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "কুরআনের কোন আয়াতটি তোমাকে এতটা স্বাবলম্বী ও নিশ্চিন্ত করল?"

লোকটি উত্তর দিল, আল্লাহর এই বাণী:

"যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে), আল্লাহ তার জন্য (সংকট থেকে বের হওয়ার) পথ করে দেন। আর তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" (সূরা তালাক: ২-৩)

কুরআন কেবল তেলাওয়াতের জন্য নয়, বরং এর প্রতিটি আয়াত মানুষের জীবন দর্শন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। মানুষ যখন প্রকৃত অর্থে আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং তাঁকে ভয় করে চলে, তখন আল্লাহ দুনিয়াবি সব অভাব দূর করে দেন।
তুমি কি খেয়াল করেছ, যখন তুমি কোনো কিছুর জন্য একদম পাগল হয়ে যাও— সারাক্ষণ ভাবছো "এটা আমার চাই-ই চাই", "কীভাবে পাব?"— ঠিক তখনই যেন জিনিসটা তোমার থেকে আরও দূরে সরে যায়?

আর ঠিক যখনই তুমি হাল ছেড়ে দাও, নিজেকে শান্ত করো, তখনই হুট করে সুযোগগুলো তোমার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করে। এটা কেবল মনের ভুল নয়, এর পেছনে গভীর বিজ্ঞান এবং জীবনদর্শন আছে।
চলো আজ তোমাদের সাথে এই 'অভাবের মানসিকতা' বনাম 'প্রাচুর্যের শক্তি' নিয়ে কিছু কথা বলি।

১. কেন অতিরিক্ত চাওয়া আসলে বাধা হয়ে দাঁড়ায়?
যখন তুমি কোনো কিছুর প্রতি অবসেসড হয়ে যাও, তখন তোমার শরীরে Cortisol (স্ট্রেস হরমোন) লেভেল বেড়ে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায়, তখন তোমার টানেল ভিশন তৈরি হয়। অর্থাৎ, তোমার মস্তিষ্কের সক্ষমতা সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং তুমি বড় কোনো সুযোগ বা সমাধান দেখতে পাও না।
তুমি যখন মনে করো "আমার এটা না হলে চলবে না", তখন তুমি আসলে বলছো যে, তোমার কাছে ওই জিনিসটা নেই। এই 'নেই' বা 'অভাব' থেকেই জন্ম নেয় নেতিবাচক এনার্জি। মনে রাখবে, অভাব সবসময় অভাবকেই আকর্ষণ করে।

২. পাত্র তৈরি করো, কিন্তু তৃষ্ণা নয়।
তোমার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা হলো একটা পাত্রের মতো। তুমি একটা বড় লক্ষ্য স্থির করেছ মানে তুমি একটা বড় পাত্র তৈরি করেছ। কিন্তু সেই পাত্রে প্রাপ্তি তখনই আসবে যখন তুমি 'পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা' ত্যাগ করবে।
পাওয়ার ইচ্ছা রাখো, কিন্তু কখন হবে, কীভাবে হবে— সেই দুশ্চিন্তা বন্ধ করো। এটা সৃষ্টিকর্তার কাছে সমর্পণ করো। এই সমর্পণটাই তোমার এবং তোমার সাফল্যের মাঝখানের দূরত্বটা কমিয়ে দেয়।

৩. বাসা থেকে বের হও একজন 'রাজার' মতো
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের অবচেতন মন কিছুটা শূন্যতা অনুভব করে। মনে হয় যেন কিছু একটা নেই। ঠিক এই সময়েই তোমাকে কাজ করতে হবে। প্রতিদিন সকালে ৫-১০ মিনিট সময় নাও, ধ্যান করো। নিজেকে বোঝাও যে— "আমার যা প্রয়োজন, সব আমার ভেতরেই আছে।" তুমি যদি নিজেকে একজন ভিখারির মতো ভাবো, যে কেবল সুযোগ খুঁজছে, তবে মানুষ তোমাকে ব্যবহার করবে, ঠকাবে এবং তুমি কেবল বিভ্রান্তিই পাবে।
কিন্তু তুমি যদি নিজেকে একজন রাজার মতো ভাবো, তবে তোমার চারপাশে একটা অদৃশ্য আত্মবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি হবে।
একজন রাজার যেমন সেনাবাহিনী থাকে, তোমার এই পজিটিভ ভাইব বা পজিটিভিটি তেমনই তোমার সুরক্ষাকবচ হয়ে কাজ করবে। তখন ভুল মানুষ তোমার কাছে ঘেঁষার সাহস পাবে না, আর সঠিক সুযোগগুলো চুম্বকের মতো তোমার দিকে ছুটে আসবে।

৪. ল অফ রেজোন্যান্স।
সহজ কথা— তুমি যা, তুমি তা-ই আকর্ষণ করবে। যদি তুমি অভাবী বা অভাব বোধ নিয়ে ইনভেস্টর, কাস্টমার বা বন্ধুদের সামনে যাও, তবে তারা তোমার সেই অভাবী চেহারাটাই দেখবে। কিন্তু তুমি যদি নিজেকে পূর্ণ মনে করে কাজ শুরু করো, তবে সাফল্য তোমার পিছু নেবে।

জীবনটা অভাবের তাড়নায় কাটানোর জন্য নয়, প্রাচুর্য উপভোগ করার জন্য। নিজেকে আজ থেকেই ওই উচ্চতায় নিয়ে যাও যেখানে অভাব নয়, বরং আত্মবিশ্বাস কথা বলে।
তুমি যখন নিজেকে জয় করে ফেলবে, পুরো পৃথিবী তোমার সামনে নতজানু হবে।

Red Pill 2
গৌতমবুদ্ধ বলেন-

বন্ধুরূপী শত্রুকে কথা বলার চারটি লক্ষণ দেখে বোঝা যায়—কেউ বন্ধুর ভান করলেও আসলে সে প্রকৃত শত্রু।

১। সে পুরোনো দিনের কথা তুলে বন্ধুত্ব দেখায়, কিন্তু তা শুধু মুখের কথা।

২️। সে ভবিষ্যতে অনেক সাহায্য করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করে না।

৩️। সে শুধু মিষ্টি ও ফাঁকা কথা বলে তোমার মন জিততে চায়।

৪️। কিন্তু সত্যিই যখন তার সাহায্য দরকার হয়, তখন সে অজুহাত দেয়—"আমি পারব না" বা "আমার সামর্থ্য নেই"

[ত্রিপিটক, সূত্রপিটক, দীর্ঘনিকায়, পাথিক বর্গ, সিংগালোবাদ সূত্র, স্কন্ধঃ ২৫৬]
বুদ্ধের অদৃশ্য কুঠারাঘাত?

মানুষ কিভাবে কাল্পনিক ঈশ্বর, দেবতা ও নানান বস্তুর প্রতি রজু হয় বা জড়িয়ে পড়ে, তার বাইশটি উপমা বুদ্ধ উক্ত সূত্র-স্কন্ধে বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে সবার বুঝার সান্নিধ্যে তিনটি উপমা সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখার চেষ্টা করেছি।

গৌতমবুদ্ধ বলেন-

"যে সাধারণ মানুষরা আর্যদের সঙ্গ পায়নি, ধর্ম ঠিকভাবে শেখেনি এবং সৎ মানুষের শিক্ষা জানে না।

তারা পৃথিবীকে শুধু "পৃথিবী" হিসেবেই চেনে। তারপর ভাবে—এটাই পৃথিবী, আমি পৃথিবীর মধ্যে আছি, আমি পৃথিবী থেকে এসেছি, পৃথিবী আমার এবং পৃথিবী নিয়ে আনন্দ করে ও আসক্ত হয়। কেন এমন করে?

সাধারণ মানুষ দেবতাকে শুধু "দেবতা" হিসেবেই চেনে। তারপর ভাবে—এটাই দেবতা, আমি দেবতার মধ্যে আছি বা দেবলোকে আছি, আমি দেবতা থেকে এসেছি, দেবতা আমার এবং দেবতা নিয়ে আনন্দ করে ও আসক্ত হয়। কেন এমন করে?

সাধারণ মানুষ ব্রহ্মকে শুধু "ব্রহ্ম" হিসেবেই চেনে। তারপর ভাবে—এটাই ব্রহ্ম, আমি ব্রহ্মের মধ্যে আছি, আমি ব্রহ্ম থেকে এসেছি, ব্রহ্ম আমার এবং ব্রহ্ম নিয়ে আনন্দ করে ও আসক্ত হয়। কেন এমন করে?

তারপর বুদ্ধ বলেন-
কারণ তারা পৃথিবী, দেবতা, ব্রহ্ম'র আসল সত্য জানে না। তারা বুঝতে পারে না যে এগুলো অনিত্য, পরিবর্তনশীল এবং 'আমি বা আমার' নয়।
.
[ত্রিপিটক, সূত্রপিটক, মধ্যমনিকায়, মূল-পঞ্চাশ, মূলপর্যায় সূত্র, স্কন্ধঃ ০২]

এই দুনিয়ায় মুক্ত হয়ে এসেছিলেম, তারপর আমি পিতা-মাতা দেখেছি, সমাজে বড় হয়েছি, ধীরে-ধীরে সবকিছুর সাথে মিশেছি, মিশতে গিয়ে বিশ্বাসের খুঁটি গেঁড়েছি, সেই ভূমিচ্ছেদ খুঁটিকে পাকাপোক্ত করতে গিয়ে কত ঈশ্বর, দেবতা, দৈবশক্তি, বস্তু, অবস্তু, ভৌত-অভৌত নানান কিছুর ধারস্থ হয়েছি। এখানেই বুদ্ধ আপত্তি তুলে ধরেছেন, বৈচিত্র্যময় বিশ্বাসের খুঁটি ভর দিয়েই এক কাল্পনিক জগৎ তৈরি, বিশ্বাসের ট্যাবলেট খেয়ে দুনিয়াকে রণভূমি বানিয়েছি। আমরা এসব কাল্পনিক সত্ত্বাকে ধ্রুবসত্য ভেবে উপত্যকার প্রান্তে-প্রান্তে উদ্ভান্ত হয়ে ঘুরছি। এসব কাল্পনিক সত্ত্বাকে আঁকড়ে ধরে মূলসত্যকে পাশ কেটে ফিরি, নিজ কর্ম ও কর্মফলকে ধূর্ত দোকানীর মতো নষ্ট খাবারকে নিচে লুকিয়ে ফেলি। বুদ্ধ সেসব সত্ত্বাকে যেন ভেতর থেকে ভেঙে দিলেন, তিনি বিশ্বাসের মূর্তিতে এক অদৃশ্য কুঠারাঘাত করলেন। কারণ তিনি জানেন যে, মিথ্যাকে গুড়িয়ে দিলেই সত্য উদ্ভাসিত হয়।
1
"কালের এসব বালা-মুসিবতে কেঁদো না-খুশি থাকো;
কেন না বন্ধুর তীর বন্ধুর পাশে এসে পড়ে।"

—হযরত খাজা গরিবে নেওয়াজ (রহ.)
Forwarded from Muslimah's Ayaah - MA
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
নিশ্চয়ই মানুষ ইলমের প্রয়োজন বোধ করে পানীয় এবং খাদ্যের চেয়ে বেশি।

#MA
Forwarded from Md. Ajmine
"আপনার স্ত্রীকে রাণীর মর্যাদা দিন, বিনিময়ে তিনি আপনাকে রাজার মর্যাদা দিবেন।

সাফিয়্যা (রা.) ছিলেন, নবীজির অন্যতম স্ত্রী। তিনি কিছুটা খাটো ছিলেন, ফলে উটের পীঠে আরোহন করতে কষ্ট হতো।

তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সাহায্য করার জন্যে নিজের হাঁটু পেতে দিতেন। সাফিয়্যা (রা.) সেই হাঁটুতে পা রেখে উটের হাওদায় ওঠে বসতেন। [সহিহ বুখারি: ৪২১১]

আম্মাজান সাফিয়্যা (রা.) বলেন,❝একবার রাসূল ﷺ তাঁর স্ত্রীদের সাথে হজ্বে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আমার উট বসে পড়ল, কারণ ওটা ছিল সবচেয়ে দুর্বল উট, তাই আমি কেঁদে ফেললাম

নবী ﷺ আমার কাছে আসলেন আর আমার চোখের জল নিজের জামা ও হাত দিয়ে মুছে দিলেন।❞ [মুসনাদে আহমাদ: ৬/৩৩৭]

সুবহানাল্লাহ!.....

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটি তাঁর স্ত্রীর সাহায্যে নিজের হাঁটু বিছিয়ে দেন আর সেই হাঁটুতে পা দিয়ে ভর করে স্ত্রী উটের পীঠে চড়েন!

কী অসাধারণ দৃশ্য! কী চমৎকার বিনয় ও ভালবাসা! আবার স্ত্রীর চোখের পানি নিজের জামা ও হাত দিয়ে পরম মমতায় মুছে দেন

অন্য হাদিসে এসেছে, তিনি উঠের পীঠে তন্দ্রালু হয়ে পড়তেন, তখন নবীজি তাঁর মাথা ধরে রাখতেন! একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর কাছ থেকে আর কী চায়?

একজন স্ত্রী হিসেবে সাফিয়্যা (রা.) নিজ স্বামী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কীভাবে মূল্যায়ন করতেন?

কতটুকু ভালবাসতেন? এটি বুঝতে একটি হাদিসই যথেষ্ট হতে পারে।

হাদিসে এসেছে,❝রাসূল ﷺ যখন প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে মৃ*ত্যুশয্যায় ছিলেন, তাঁর স্ত্রীরা তাঁর চারপাশে জড়ো হলেন। তখন সাফিয়্যা (রা.) বললেন

হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আপনার জায়গায় যদি আমি থাকতে পারতাম!’ (অর্থাৎ, আপনার কষ্টটা আপনার না হয়ে যদি আমার হতো!) তাঁর কথা শুনে অন্য স্ত্রীগণ মুখটিপে হাসলেন

রাসূল ﷺ তাঁদের দেখে ফেললেন এবং বললেন, ‘তোমাদের মুখ ধুয়ে ফেল।’ তাঁরা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কেন?’ তিনি জবাবে বললেন,‘কারণ তোমরা তাঁকে বিদ্রুপ করেছ। আল্লাহর শপথ! সে সত্য বলছে।❞

[তবাকাতে ইবনে সা'দ: ৮/১০১]

জ্বী, এটিই বাস্তবতা। জ্ঞানীরা বলেন, নারীকে আপনি যেটুকু ভালবাসা ও সম্মান দিবেন, সে বিনিময়ে তারচেয়ে বেশি ভালবাসা ও সম্মান ফিরিয়ে দেবে। আবার তাকে যতটুকু ঘৃণা দেখাবেন, বিনিময়ে সে তারচেয়েও বেশি ঘৃণা ফিরিয়ে দেবে।
বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়ক ফল ও সবজি

মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবার। কিছু নির্দিষ্ট ফল ও সবজি রয়েছে, যা বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। এগুলো নিয়মিত খেলে স্তন্যপান করানো মায়েরা বেশি পরিমাণে দুধ উৎপাদন করতে পারেন।

🥦 বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়ক সবজি:

পুঁইশাক – আয়রন ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ, দুধ উৎপাদন বাড়ায়।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: ভাজি, ভর্তা বা মাছের সঙ্গে রান্না করে খেতে পারেন।

লাল শাক – ফাইটোইস্ট্রোজেন থাকার কারণে স্তন্য উৎপাদন বাড়ায়।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: ভাজি বা ভর্তা করে খেতে পারেন।

শজনে ও শজনে পাতা – প্রচুর ক্যালসিয়াম ও আয়রন আছে, যা দুধের পরিমাণ বাড়ায়।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: তরকারি বা ডালের সাথে রান্না করে খেতে পারেন।

মিষ্টি কুমড়া – বিটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ, স্তন্য উৎপাদনে সহায়ক।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: ভর্তা, ভাজি বা স্যুপের মতো খেতে পারেন।

লাউ – শরীর ঠান্ডা রাখে ও বুকের দুধের পরিমাণ বাড়ায়।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: তরকারি, ভর্তা বা সবজি মিশিয়ে রান্না করে খেতে পারেন।

গাজর – ভিটামিন এ ও বিটা-ক্যারোটিন থাকার কারণে স্তন্য উৎপাদন বাড়ায়।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: সালাদ, জুস বা রান্না করে খেতে পারেন।

মেথি পাতা ও মেথি বীজ – ফাইটোইস্ট্রোজেন ও গ্যালাক্টোগগ সমৃদ্ধ, দুধ উৎপাদনে কার্যকর।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: মেথি পাতা সবজি হিসেবে খেতে পারেন, আর মেথি বীজ পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খান।

🍎 বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়ক ফল:

পেঁপে (কাঁচা ও পাকা) – প্রাকৃতিক এনজাইম ও হরমোন থাকায় স্তন্য উৎপাদনে সহায়ক।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: কাঁচা পেঁপে তরকারি বা স্যুপ করে, পাকা পেঁপে সরাসরি খেতে পারেন।

কলা – প্রচুর পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম থাকে, যা স্তন্য উৎপাদন বাড়ায়।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন ১-২টি কলা খাওয়া ভালো।

ডাবের পানি – শরীর হাইড্রেটেড রাখে ও দুধের পরিমাণ বাড়ায়।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন ১ গ্লাস ডাবের পানি পান করতে পারেন।

আমলকী – প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় দুধের গুণগত মান উন্নত করে।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: কাঁচা খেতে পারেন বা চা বানিয়ে পান করতে পারেন।

খেজুর – উচ্চমাত্রায় আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকায় দুধ উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন ২-৩টি খেজুর খেতে পারেন বা দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।

বেদানা – প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আয়রন থাকায় স্তন্য উৎপাদন বাড়ায়।
🟢 খাওয়ার নিয়ম: ফল হিসেবে খেতে পারেন বা জুস বানিয়ে পান করতে পারেন।

💡 বুকের দুধ বৃদ্ধির সাধারণ পরামর্শ:

পর্যাপ্ত পানি পান করুন – প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
প্রতিদিন দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খান – দুধ, দই, ছানা দুধ উৎপাদন বাড়ায়।
সুষম খাবার খান – প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের পরিমাণ ঠিক রাখা জরুরি।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন – মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বুকের দুধ কমিয়ে দিতে পারে।
শিশুকে নিয়মিত দুধ খাওয়ান – নিয়মিত স্তন্যপান করালে দুধের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

প্রাকৃতিকভাবে বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য এসব খাবার ও পরামর্শ অনুসরণ করুন। মা ও শিশু দুজনই সুস্থ থাকুক! ❤️

🔴 সতর্কতা:
আমি ডাঃ মোঃ ফাইজুল হক
প্রতারকরা ফেসবুকে আমার ছবি এবং ভিডিও ব্যবহার করে রোগীদের সাথে প্রতারণা করছে।

আমাদের মোবাইল নাম্বার হলো: 01972859950 ও 01712859950 , অন্য কোনো নাম্বার নাই।
সতর্ক থাকবেন।

প্রয়োজনে whatsapp এ ভিডিও কল করে, ভিডিওতে আমার সাথে কথা বলে কনফার্ম হয়ে নিবেন। 01712859950 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ আছে ।
মাইক টাইসনের এই কথাটা মেন্টাল স্ট্রেংথের সবচেয়ে বড় সত্য তুলে ধরে মন এবং আবেগের মধ্যে কে জিতবে, সেটাই ঠিক করে দেয় আপনি সফল হবেন নাকি হারিয়ে যাবেন। আবেগ স্বাভাবিক রাগ, ভয়, হতাশা, উত্তেজনা সবাই অনুভব করে। কিন্তু সমস্যা তখন হয় যখন আবেগ আপনার সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে। রাগের মাথায় কথা বলে ফেলেন, ভয়ে সুযোগ হাতছাড়া করেন, হতাশায় হাল ছেড়ে দেন এভাবে আবেগ আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করলে, আপনি নিজের জীবনের ড্রাইভার নন, প্যাসেঞ্জার।

বাস্তবতা হলো, সফল মানুষেরা আবেগহীন নন তারা ইমোশনালি ইন্টেলিজেন্ট। তারা আবেগ অনুভব করেন, কিন্তু সেটা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন না। তারা মনকে ট্রেনিং দেন মেডিটেশন, সেল্ফ-রিফ্লেকশন, ডিসিপ্লিন যাতে কঠিন মুহূর্তেও তারা শান্ত থাকতে পারেন, র‍্যাশনালি ভাবতে পারেন। মনে রাখবেন, আবেগ একটা ঢেউ আসবে, যাবে। কিন্তু আপনার মন হলো নোঙর যা আপনাকে স্থির রাখবে। তাই নিজের মনকে শক্তিশালী করুন, নিয়ন্ত্রণ শিখুন নাহলে জীবন আপনার আবেগের খেলনা হয়ে যাবে।

#StayInControl #TrainYourMind #Discipline #MasterYourMind #InnerStrength #DontReact #StayCalm #Motivation #MindsetMatters #Spikestory
তোমার সারাদিন কঠোর অনুশাসনে বন্দি থাকার প্রয়োজন নেই।
শুধু ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম ১৫ মিনিট নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখো।

বিছানা ছাড়ো। নিজের বিছানাটা গুছিয়ে ফেলো। হাতের মুষ্টির ওপর ভর দিয়ে ১৫টা পুশ-আপ দাও। তারপর বাইরে বেরিয়ে আসো, সূর্যের দিকে তাকাও।
আর খবরদার, ওই অভিশপ্ত ফোনটা ছোঁবে না!

ব্যাস, এটুকুই।
তুমি যদি দিনের শুরুর এই প্রথম ১৫ মিনিট জয় করতে পারো, তবে পরবর্তী ১২ ঘণ্টা তুমি কেমন মানুষ হয়ে থাকবে—তা তুমি তখনই ঠিক করে ফেললে।

অধিকাংশ পুরুষ বিছানা থেকে ওঠার আগেই হেরে যায়। তারা দিনটা শুরুই করে দুনিয়ার যত আবর্জনা আর অন্যের হইচই নিজেদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে।
কিন্তু তুমি তাদের মতো নও।

মনে রেখো, এই ১৫ মিনিট শুধু দিনটা ভালোভাবে শুরু করার জন্য নয়। এটা আসলে একটা সিগন্যাল—তোমার মস্তিষ্ককে দেওয়া একটা কড়া বার্তা যে, তুমি তোমার জীবনের চালক, জীবন তোমাকে চালাচ্ছে না।
মনে রেখো, শক্তিশালী জ্ঞান শক্তিশালী অভ্যাস গড়ে তোলে, আর শক্তিশালী অভ্যাস গড়ে তোলে একজন শক্তিশালী মানুষ।
তুমি যদি আমাদের এই যাত্রায় শামিল হতে চাও, তবে তার শুরুটা হবে এই ১৫ মিনিট দিয়েই।

কাল সকাল থেকে কি তুমি এই ১৫ মিনিটের চ্যালেঞ্জটা নিবে? কাল সকালে ফোন ধরার আগে আমাকে একটি মেসেজ দিও—দেখি তোমার সংকল্প কতটা দৃঢ়!

Red Pill 2
1
গ্রেজুয়েট হতে যাচ্ছেন/হয়েছেন, স্থায়ীভাবে দ্রুত দেশ ছাড়তে চাচ্ছেন? লেখাটি আপনার জন্য:

বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রাজুয়েট—প্রায় ৯০%—ইংরেজি শুদ্ধভাবে লিখতে পারে না। ( পরিসংখ্যান বলে)
ফল?
IELTS Writing ব্যান্ড উঠেনা, Reading বোঝে না, GRE Verbal ভয় লাগে। অথচ পয়সা বাঁচাতে বা বৃত্তির জন্য স্কোর ভাল দরকার । অন্যথায় বিদেশে গিয়ে survival job… দেশে low-tier job…
আমি প্রতিদিন ক্লাসে এটা দেখি।
এটা মেধার অভাব না—দক্ষতার ঘাটতি।

কেন হয় এমন? ৭টি মূল কারণ
আমাদের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করুন
- Verb pattern ভুল — Ditransitive/Directive/Transitive কি জানে না
- Preposition–Collocation দুর্বল
- Articles/Determiners ভুল
-Word order logical না
- Plural–singular agreement mismatch
- Idiomatic phrasing দুর্বল
- Basic 9 phrases আয়ত্ত না করা
এসব ঠিক না করলে, আপনি global market-ready নন—
IELTS হোক, GRE হোক, Job Writing হোক।

Quick Mental Scan (IELTS essay submit করার আগে)
Just check:
Verb pattern
Preposition/Collocation
Article
Word order
Agreement
Idiomatic phrasing
9 phrases
সব ঠিক = Meaning crystal clear.
ভিডিও গাইড লিংক: (পোস্টে দেওয়া হয়েছে নীচে, তবে বেইসিক ঠিক আগে করতে হয় )

যারা financially weak — কী করবেন?
কোর্স করা সম্ভব না আর্থিক ভাবে যারা হত দরিদ্র তারা Wren and Martin প্রথমে তুটষ্থ করে ফেলেন যেমন আমার পরিবারে ক্লাশ নাইন টেনে শেখানো হয়েছিল -- তাই আমি বাবার কাছে কৃতজ্ঞ ।
একটাই বই: Wren & Martin
আজও grammar-এর সবচেয়ে solid base.
সব কোচিংয়ের shortcut বাদ—এই বইই foundation তৈরি করে।

আমার উদ্দেশ্য
তরুণদের সত্যিকারের স্কিল দেওয়া।
চোর-টাইপ shortcut কোচিং নয়।
শিক্ষাদানই আমার হালাল রুজি—এটা আমি গর্ব করে বলি। আমার লাভ? শদগায়ে জারিয়া । আর পরিশ্রম করে পড়িয়ে যখন আয় করি তা আমার হালাল রুজি । হালাল রুজি না হলে ইবাদত কবুল হয়না তা শুধু হাদিস নয় কুরআন বলে --জানা আছে? তাই ঢাকা কোর্ট উকালিতি ছেড়েছি । হ্যাঁ, অনেকে সেখানে সৎ তাদেরও অভিনন্দন ।
পবিত্র কুরআন নিয়ে গবেষণামূলক আমার এই বইটি পড়তে পারেন ( প্রকাশ ২০১২) :
https://quazisstepinenglishgrammar.wordpress.com/author-of-the-scientific/

আমাদের লক্ষ্য
মাত্র সেই ২০–৩০% গ্রাজুয়েট যারা সত্যিকারের skill upgrade চায়।
Strong tone ব্যবহার করছি—কারণ ধাক্কা না খেলে শেখা হয় না।

Final Message
ইংরেজি ঠিক না হলে—career ঠিক হয় না।
আপনি গ্রাজুয়েট—আপনার জায়গা low-skill line-এ নয়।
নিজেকে global-standard-এ আপগ্রেড করুন—আজ থেকেই।
-----------------------------------------------------------------------
Written by Quazi Sir
IELTS teaching since 2008, GRE since 2018
An author of two peer-reviewed, Amazon-published English grammar books — perhaps the only one of their kind from Bangladesh, as far as we know.

ভিডিও গাইড লিংক: (পোস্টে দেওয়া হয়েছে নীচে, তবে বেইসিক ঠিক আগে করতে হয় )

https://youtu.be/1VOtaxd-tYQ
or
https://youtu.be/9KuWHmM3T5E
2
🌿 পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে রোগমুক্তির প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া

আপনার শারীরিক সমস্যা যেটাই হোক না কেন, নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করে ঘরে বসেই নিজ দায়িত্বে চিকিৎসা শুরু করা যায়।

🟢 প্রথম তিনদিন: বিশেষ জলচিকিৎসা পর্ব

🕰 সময়সূচি
সূর্যোদয় 🌅 থেকে সূর্যাস্ত 🌇 পর্যন্ত
প্রতি এক ঘণ্টা পরপর পান করবেন বিশেষ পানীয়
🥤 বিশেষ পানীয় প্রস্তুত প্রণালী
হালকা কুসুম গরম পানির সঙ্গে—
🍋 লেবুর রস
🧴 ভিনেগার
🍯 যৎসামান্য প্রাকৃতিক মধু
মিশিয়ে পান করবেন।
🍃 অতিরিক্ত (দিনে ১–২ বার)

বিভিন্ন সবুজ পাতার রস:
তুলসী পাতা
পুদিনা পাতা
লেটুসপাতা
ধনেপাতা
(ব্লেন্ড করে পান করুন)

🚫 এর বাইরে অন্য কোনো খাবার স্পর্শও করবেন না।

🪑 পান করার নিয়ম
মাটির সমতলে বসে
দুই হাতে গ্লাস ধরে
কুলি করতে করতে
কমপক্ষে তিন বা ততোধিক শ্বাসে পান করবেন

💧 জল সংগ্রহের বিশেষ নির্দেশনা
প্রথম তিনদিনের জন্য—
সম্ভব হলে জমজম কূপ-এর পানি
না পারলে পাহাড়ি ঝর্ণার পানি
অথবা সরাসরি বৃষ্টি থেকে ধারণকৃত পানি
সংরক্ষণ করবেন:
কাঁসা বা মাটির কলসে
কলস মাটির হলে এক টুকরো তামা ভিজিয়ে রাখবেন

🟢 চতুর্থ দিন থেকে খাদ্যাভ্যাস
🌅 সকাল
ঘুম থেকে উঠে ১ গ্লাস পানি
কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি 🚶
🥗 নাস্তা (একটি বিকল্প বেছে নিন)

🌈 সাত রঙের প্রাকৃতিক জীবন্ত খাবারের নাস্তা
অথবা আপনার ওজন × প্রতি কেজিতে ১০ গ্রাম দেশীয় মৌসুমি ফল

⚠️ টক ও মিষ্টি ফল একসঙ্গে নয়
টক ফল খাওয়ার পর ৩০ মিনিট বিরতি দিয়ে মিষ্টি ফল

🥜 বাদাম/বীজ (একটি বিকল্প)
পঞ্চ-বাদাম (কাজু, আখরোট, পেস্তা, কাঠবাদাম, দেশি চীনা) – আগের রাতে ভিজিয়ে
অথবা
কুমড়ো বীজ
সূর্যমুখী বীজ
অঙ্কুরিত ডাল বীজ

পানীয়
গ্রিন টি
অথবা
লেবু-হলুদ-গোলমরিচের চা

🕚 বেলা ১১টার দিকে
একটি বিকল্প:
তোকমা দানা / চিয়া বীজ / তিষি / তুলসী বীজ / ইসুবগুলের ভুষি (ভিজিয়ে)
অথবা
এক গ্লাস পাকা চালকুমড়া/কচি লাউয়ের রস + ১টি আমলকি

🕛 দুপুর
বাতাবি লেবু
অথবা
কাঁচা বাঁধাকপি / পেঁপে / আমড়া কুঁচি
মাখাবেন:
আদা
রসুন
পেঁয়াজ
কাঁচা হলুদ
বিট লবণ
মরিচ
কাসুন্দি
দিনভর:
লেবুর পানি (১–২ বার মধুসহ)

🌆 বিকেল
গরম মসলা ফুটিয়ে আদা/কালোজিরার চা

🌇 সূর্যাস্তের আগে
অল্প পরিমাণে:
খেজুর
কলা
কুল (বরই)
ডালিম (আনার)
ত্বীন
জলপাই
আঙুর
(যে কোনো ১ বা ২টি ফল)

🚶 প্রতিদিনের অভ্যাস
প্রতিবার খাবারের পর ৪০ কদম হাঁটা
নিমপাতা সিদ্ধ পানিতে পা চুবিয়ে ৪০ মিনিট বসা
খালি পায়ে কাদামাটিতে হাঁটা বা স্থির দাঁড়ানো

🌿 সন্ধ্যার পানীয় (চতুর্থ দিন থেকে)
একটি বেছে নিন:
সাজনা পাতা + কালোজিরা + হলুদ চা
গ্রিন টি
রোজেলা টি
বিটের স্যুপ (আদা-রসুন-গোলমরিচ সহ)

⚠️ খাদ্যসংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনা
ফল ও শাকসবজি অবশ্যই রাসায়নিকমুক্ত
বাজারের জিনিসের উপর ভরসা নয়
চতুর্থ থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত রান্না করা খাবার সম্পূর্ণ বর্জন
বর্ণিত নিয়মের বাইরে কিছু স্পর্শও নয়

💊 বিশেষ নির্দেশনা
🧪 যাদের ড্রাগস সেবনের বদাভ্যাস আছে:
spirulina ক্যাপসুল
প্রতিদিন ২+২+২ নিয়মে

💆 থেরাপি (সপ্তাহে ১–২ বার)
Whole body oil massage
আকুপ্রেশার থেরাপি
হিজমা
জটিল রোগীদের:
প্রতিদিন ডে-এনিমা

🌙 ঘুম ও নামাজ
রাত জাগা যাবে না
এশার নামাজের পর ঘুম
তাহাজ্জুদে জাগা
ফজরের পর হাঁটা/দৌড়/সাইকেল 🚴
সূর্যের নরম আলো গ্রহণ ☀️
নিমগাছের নিচে প্রাণায়াম/ইয়োগা

🕌 ইবাদত ও আধ্যাত্মিক চর্চা
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে
সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা
বিশ্রামে সূরা ফাতিহা ও সূরা নাস পাঠ
গোসল স্বাভাবিক বা বরফমিশ্রিত পানি
আগে কাদা মেখে রোদে বসা

📚 সময় কাটাবেন:
মাতৃভাষায় ধর্মগ্রন্থ পাঠ
মনীষীদের জীবনী
হাস্যরসাত্মক বই
📵 সামাজিক মাধ্যম ও টিভি থেকে দূরে থাকবেন

🤲 দোয়া ও দান
প্রতিদিন ৩ জন অভুক্তকে খাওয়ানো
প্রতি ওয়াক্তে ২ রাকাত অতিরিক্ত নফল নামাজ
দীর্ঘ সেজদায় রোগমুক্তির দোয়া
আত্মীয়-স্বজনদের দোয়া চাইবেন

দোয়া ছাড়া কিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে না।
🌟 বিশ্বাস ও ইয়াক্বীন
আল্লাহ অন্তরের বিশ্বাস অনুযায়ী প্রতিদান দেন
পূর্ণ আস্থা থাকলে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
যার ইয়াক্বীন যত দৃঢ়, সুস্থতার সম্ভাবনা তত বেশি

এক সপ্তাহ পর
চিকিৎসা শেষে টেস্ট করাতে পারেন
জটিলতা কমতে শুরু করবে
শারীরিক অবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি দেখে নিজেই বিস্মিত হবেন
1
প্রেগন্যান্সিতে আপনি যা খান সেটা বাবুর ডিএনএ কে ইফেক্ট করে।

প্রেগন্যান্সিতে জেস্টেশনাল ডায়বেটিস এখন কমন। যেসব মায়েরা অতিরিক্ত ওজন এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নিয়ে গর্ভধারন করেন, সম্ভাবনা খুব বেশি যে আপনার সন্তানের পরবর্তী জীবনে ডায়বেটিস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুন পর্যন্ত বেড়ে যাবে। মায়ের পেটে থাকতেই বাবু তার পরবর্তী জীবনে সম্ভাব্য মেটাবলিক ডিজিজের ঝুঁকিতে পড়ে যায়! আনফেয়ার রাইট?

প্রেগন্যান্সিতে জিডিএম ঠেকাতে তাই অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ট্র্যাকে এনে এরপর কনসিভের প্ল্যানিং করা ভালো। হুট হাট কন্সিভ করে ফেলা এবং প্রথম ট্রাইমিস্টারেই মিসক্যারেজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন অহরহ। একটু সাবধান হলে ক্ষতি তো নেই। আপনার অসাবধানতা বশত একটা প্রান ঝড়ে গেলো গিলটি ফিলিংসে সব কিছু বন্ধ করে দিতে ইচ্ছা হবেনা?

তাই প্রেগন্যান্সিকে টেকেন ফর গ্র্যান্টেড হিসাবে নিবেন না। বহু দম্পত্তি একটা সন্তানের আশায় হাহাকার করছে। দেশ বিদেশের আইভিএফ-ফার্টিলিটি সেন্টার গুলোতে গেলে এই অনুভূতি বুঝা যায় আরো মারাত্মক ভাবে।

প্রেগন্যান্সিতে যাওয়ার অন্তত ৬ মাস আগে থেকে নিজের শরীরকে প্রিপেয়ার করে নিন। ওজন বেশি থাকলে কমিয়ে নিন। বেশি বেশি কার্ব খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেই হ্যাবিট চেঞ্জ করুন। একজন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ও গাইনোকোলজিস্ট এর আন্ডারে থেকে নিজেকে পরিবর্তন করুন।

শুরু থেকেই ফলিক এসিড, কোলিন, ডিএইচ এ, কোয়ালিটি প্রোটিন ইনটেক শুরু করুন। এগুলা আপনার বেবির ব্রেইন এবং বডি শেইপিং এ মেজর রোল প্লে করবে। প্রেগন্যান্সিতে আপনার বেবিকে মায়ের ভিতরে সুস্থ একটা পরিবেশ দিলে অবশ্যই আল্লাহ চাইলে আপনার বেবি হবে এক্টিভ ও বুদ্ধিতে স্মার্ট।

[ ছবিতে আমার মামাতো বোন। গোলাপি ম্যাডাম গতকাল দুনিয়াতে এসেছেন। সবাই মাশ আল্লাহ বলে দেন ]
1
আসুন আমাদের দেহ থেকে নেগেটিভ এনার্জি দূর করার জন্য রিলাক্সেশন এক্সারসাইজ শিখি

আমাদের বাইরের শরীর ছাড়াও ভেতরে আরেকটা জগৎ আছে। এ শরীরের অনুভূতি আপনি ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারবে না। সে যত কাছের মানুষই হোক।

প্রত্যেক মানুষের শরীরের সাথে একটা এনার্জি বলয় থাকে। আপনি যখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ফুরফুরে মেজাজে থাকেন, তখন সে বলয় আলোকিত থাকে। আপনার কাছে এলেই মানুষ টের পাবে সে আনন্দ। আবার যখন কেউ রেগে যায়, দেখতে পাবেন তার কাছে সহজে কেউ ঘেঁষতে চায় না।

কারণ তখন তার বলয় নেগেটিভ এনার্জিতে পরিপূর্ণ থাকে। তার বেশি কাছে গেলে আহত হবার ভয় থাকে। আপনি খালি চোখে না দেখলেও অন্য কোনভাবে সে অনুভূতি টের পান। যে কারণে রাগান্বিত মানুষের কাছে কেউ ঘেঁষতে চায় না।

এই রিলাক্সেশন এক্সারসাইজের উদ্দেশ্য হলো আমাদের ভেতরের আমিটাকে আগে উপলব্ধি করা। তারপর সে শরীর থেকে নেগেটিভ এনার্জি দূর করে দেয়া।

🟩 শুরু করা যাক:

এজন্য প্রথমে শিরদাঁড়া সোজা করে চেয়ারের একটু প্রান্তের দিকে বসতে হবে, যাতে আপনার পিঠ চেয়ারে লেগে না থাকে। পা দুটো একটু ভেতরের দিকে টেনে নিন। পায়ের পাতা দুটো বাইরের দিকে ছড়িয়ে দিন। এতে ব্যাকপেইন কম হয়। আপনি চাইলে শুয়েও এই এক্সারসাইজ করতে পারবেন।

তাহলে ঠিকমত বসুন বা সত্য বিছানায় বালিশ ছাড়া হয়ে শুয়ে পড়ুন । হাত দুটো কোলের ওপর রাখুন। এক হাতের তালু আরেক হাতের ওপর রেখে বসুন।

এবার চোখ দুটো বন্ধ করুন। প্রথমে মুখ দিয়ে দম ছাড়ুন। সমস্ত ফুসফুস খালি করে ফেলুন। এবার আস্তে আস্তে পেটের ভেতর দম নিন। যখনই টের পাবেন আপনার বুক ফুলতে শুরু করেছে, থামুন। এরপর বাথরুম করার সময় যেমন পেটের নিচের দিকে চাপ দেন, সেরকম চাপ দিয়ে পেটের বাতাস নিচের দিকে পাঠিয়ে দিন।

তারপর ৩-৪ সেকেণ্ড শ্বাস ধরে রাখুন।

আবার রিপিট করুন। এটাকে বলে এবডোমেনাল ব্রিদিং।

এভাবে শ্বাস নিলে আপনার ফুসফুসের নিচের অংশে বাতাসের প্রবাহ হবে। তাই প্রথম প্রথম একটু মাথা ঘুরতে পারে, হালকা লাগতে পারে, কিন্তু ভয় পাবেন না। এটা ঠিক হয়ে যাবে।

পরপর তিনবার এরকম দম নিন।

আপনার চোখ বন্ধ থাকবে। চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় আপনার দুই ভ্রর মধ্যবর্তী বিন্দুর দিকে মনোযোগ দিন।

যাঁরা ন্যাচারাল মেডিটেটর তাঁরা এরকম দৃষ্টি দেবার সাথে সাথেই মনশূন্য অবস্থায় চলে যেতে পারেন। একই সাথে সারা দেহে কম্পন শুরু হয়ে যেতে পারে। বিদ্যুৎ প্রবাহের মতো অনুভূত হতে পারে। দুই ভ্রুর মধ্যখানে আলোর ঝিকিমিকি দেখা যেতে পারে।

আপনার ক্ষেত্রে যদি তা না হয়, তাহলে হতাশ হবার কিছু নেই। প্রতিদিন দু'বার করে করলে, এক মাসের মাঝেই আপনি এটা টের পাবেন।

তার আগ পর্যন্ত চোখ দুই ভ্রুর দিকে মন দিন। দেখুন আপনি এর সাথে মিশে গেছেন। এবার মনোযোগ দিন, আপনার হাতের দিকে।

সেখানে এখন কোন বাতাসের স্পর্শ পাচ্ছেন কিনা। গরম বা ঠাণ্ডা কোন অনুভূতি টের পান কিনা।

এখানে কল্পনা বা ভিজুয়ালাইজ করবেন না। যা টের পাচ্ছেন তাই। টের না পেলেও কোন সমস্যা নেই।

এবার আপনার ঠোঁট দুটো অনুভব করুন। তারা পরস্পরের সাথে লেগে আছে, এটা ফিল করুন।

এবার নাক। তারপর দুই পায়ের পাতার তালু। পায়ের আঙুল, গোড়ালী, দুই হাঁটু। এরপর আপনার সম্পূর্ণ ব্যাক। সবারই কমবেশি ব্যাকের দিকে নেগেটিভ এনার্জি জমা থাকে।

আপনি এবার সচেতনভাবে সে নেগেটিভ এনার্জিকে তলপেটের দিকে ঠেলে দিন। আর বলুন, এ নেগেটিভ এনার্জি আমার পায়খানার সাথে দেহ থেকে বেরিয়ে যাবে।

এবার কাঁধের দিকে মন দিন। কাঁধে সবসময় মানসিক চাপের নেগেটিভ এনার্জি জমা থাকে। এবার তাদের আপনি পাকস্থলীর দিকে ঠেলে দিন। মনে মনে বলুন, এই নেগেটিভ এনার্জিও আমার দেহ থেকে সময়মত বেরিয়ে যাবে।

এরপর আপনার মাথার পেছন দিকে মনোযোগ দিন। এখানে জমে থাকা নেগেটিভ এনার্জিকেও পাকস্থলীর দিকে ঠেলে দিন। আর মনে মনে বলুন এবার এই নেগেটিভ এনার্জিও সময়মত দেহ থেকে বেরিয়ে যাবে।

এবার আমরা মনোযোগ দেব নেগেটিভ এনার্জির বলয়ের ওপর।

সেই সাথে একটা জিনিস জেনে রাখা জরুরি। সেটা হলো আমরা শুধু ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নিই না। আমরা আমাদের শরীরের প্রতিটা কোষ দিয়ে শ্বাস নিই। এখন এটাকে নাম দেয়া হয়েছে সেলুলার রেসপিরেশন।

কারণ আপনার দেহের তাপমাত্রা সহ শ্বাসের কাজ চালানোর জন্য চামড়ার রেসপিরেশন দরকার।

এরকম শ্বাস নিতে হলে ইউটিউবে হোল বডি রেসপিরেশনের টেকনিক দেখে নিতে পারেন। এজন্যেই নিয়মিত গোসল করে চামড়া পরিষ্কার রাখা জরুরি।

যাই হোক, এবার রিলাক্সেশন এক্সারসাইজের পরের ধাপে আসি।

আপনার চোখ বন্ধ আছে , নিজের আপন বলয়টা অনুভব করবেন। এবার দেহ নয় বরং দেহের ভেতর ও বাইরের দেহ সংলগ্ন খালি অংশের দিকে আপনার মনোযোগ দিতে হবে।

তাই প্রথমে আপনার মুখের সামনের বাতাসকে অনুভব করুন। তারপর চোখের সামনের বাতাস ফিল করুন। এবার নাকের ফুটোর বাতাসে মন দিন। দেখুন ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকছে আর গরম বাতাস বেরুচ্ছে। কল্পনা করবেন না। অনুভব করুন।
এবার মুখের ভেতর জমে থাকা বাতাস অনুভব করুন। এবার চোয়াল থেকে বুক পর্যন্ত বাইরের বাতাস ফিল করুন। আপনার গলা ও শ্বাসনালীর ভেতরের বাতাস ফিল করুন। আপনার মাথা ও ঘাড়ের পেছনের বাতাস ফিল করুন। সম্পূর্ণ পিঠের পেছনের দিকের বাতাস ফিল করুন। বুক ও পেটের সামনের বাতাস ফিল করুন। দু'পায়ের মধ্যবর্তী বাতাস ফিল করুন। তাদের বাইরের দিকের বাতাস ফিল করুন।

দেখুন আপনার এনার্জি বলয় পরিষ্কার হয়ে গেছে।

এবার মনে করুন যারা আপনার জীবনে কোন না কোন সময় আপনাকে দুঃখ দিয়েছে বিশাল এক জেলে আপনি তাদের বন্দি করে রেখেছেন, আপনি অডিও-ভিডিও প্রমাণসহ তাদের বন্দি করে রেখেছেন। আপনি মনে মনে চেয়েছেন তাদের কঠিন শাস্তি হোক।

তাদের অনেকে শাস্তি পেয়েছে। কেউ কেউ পায়নি। তবু আপনি তাদের জেলে আটকে রেখেছেন। যেভাবেই হোক তারা তাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করুক।

কিন্তু এখন আপনাকে একটা ভাল কাজ করতে হবে। আপনি আপনার জেলের দরজা খুলে দিন।

প্রতিদিন এক মাস এ মেডিটেশন করে জীবনে যতজনকে আপনার মনে' আটকে রেখেছিলেন, তাদের সবাইকে ছেড়ে দিন।

দেখুন আপনি তাদের আটকে রেখেছেন মনে হলেও আসলে তাদের পাহারা দিতে গিয়ে, নিজেই হয়ে পড়েছিলেন বন্দি। তাদের ছেড়ে দিয়ে আপনি এখন মুক্ত। আপনার আর কোন জেলখানা পাহারা দিতে হচ্ছে না।

এবার একটা সুন্দর বাগানবাড়ি কল্পনা করুন। দেখুন সেখানে আপনার সব বন্ধু আর যারা আপনাকে ভাল কাজে উৎসাহ দিয়েছেন, তাদের জমা করে রেখেছেন। সময় পেলেই আপনি তাদের সাথে সময় কাটাতে সে বাগানবাড়িতে চলে যান। এবার তাদেরও মুক্ত করে দিন।

দুঃখের স্মৃতি যেমন আপনাকে বন্দি করে রাখে, আনন্দের স্মৃতিও আপনাকে একইভাবে বন্দি করে রাখে।

এই দুটো দলকেই পাখি বানিয়ে উড়িয়ে দিন।

এবার বাকি রয়ে গেলেন শুধু আপনি। স্মৃতিবিহীন। দুঃখ বা আনন্দবিহীন। এটাই পরম শান্তির জায়গা।

আপনার আসল ঘর এটাই। শূন্য ঘর।

আনন্দ এবং দুঃখ চক্রাকারে আসে। আপনি এখন এ চক্র ভেঙে বেরিয়ে এসেছেন। এখন আপনার জীবনে থাকবে শুধু শান্তি।

আপনি এখন আর চিন্তার জেলখানা বা বাগান বাড়ি নতুন করে তৈরি করবেন না ,আপনি এখন চিন্তামুক্তভাবে বাঁচতে চান, জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে চান।

এবার আপনি চোখ বুজে ৫ থেকে ১০ মিনিট চিন্তা-শূন্য অবস্থায় কাটিয়ে চোখ খুলুন।

(এতক্ষণ আমরা যা শিখলাম এটা হচ্ছে "জো ডিসপেনজার কোহেরেন্স মেডিটেশন" )
আমি মাঝেমধ্যে পুরোপুরি ব্ল্যাংক হয়ে যাই।
হতাশ লাগে। কি করবো, কোন দিকে যাবো,
কিছুই বুঝতে পারি না।

কারণ সত্যিটা হলো, দুনিয়াটা ফেয়ার জায়গা না।

এখানে শুধু যোগ্য হওয়াটা, শুধু চেষ্টা করাটাই অনেক সময় যথেষ্ট না।

আপনি সৎ থাকতে চাইবেন, রুলস মেনে চলতে চাইবেন।

কিন্তু আপনাকে খেলতে হবে এমন সব মানুষের সাথে,
যারা রুলস মানে না, যারা শর্টকাট নেয়,
যারা আনফেয়ারভাবেই এগিয়ে যায়।

সেই সময় হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু এটাও মাথায় রাখা দরকার,

দুনিয়া সবসময় ফেয়ার হবে না, তাই বলে আমাকেও আনফেয়ার হতে হবে, এমন কোনো নিয়ম কিন্তু নেই।

দুনিয়াতে কেউ হয়তো দ্রুত জিতবে,
আর কেউ হয়তো ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে।

কিন্তু অনেকসময় নিজের কাছে হেরে না যাওয়া আর টিকে থাকাটাই আসলে সবচেয়ে বড় জয়।
শারঈ প্রশ্নোত্তর | প্রশ্নঃ রোজায় সহবাস হয়ে গেলে কাফফারা হিসেবে শুধু ফিতরা আদায় করলে হবে?: জবাবঃ-بسم الله الرحمن الرحيم
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ: هَلَكْتُ، قَالَ: «وَمَا أَهْلَكَكَ؟» قَالَ: وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَعْتِقْ رَقَبَةً» قَالَ: لَا أَجِدُ، قَالَ: «صُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ» قَالَ: لَا أُطِيقُ، قَالَ: «أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا»
অনুবাদ- হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। রাসূল সাঃ জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে কে ধ্বংস করেছে? সাহাবী বললেন, রমজানে আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেছি। রাসূল সাঃ তাকে বললেন, তাহলে এর বদলে একটি গোলাম আযাদ কর। সাহাবী বললেন, আমি এতে সক্ষম নই। নবীজী সাঃ বললেন, তাহলে লাগাতার দুই মাস রোযা রাখ। সাহাবী বললেন, আমি এতেও সক্ষম নই। তখন রাসূল সাঃ বললেন, তাহলে তুমি ৬০ জন মিসকিনকে খানা খাওয়াও। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৭১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৬৯৪৪, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-১১০৭, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১৯৪৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩৫২৭}
★★রোযার কাফফারা আদায় করার পদ্ধতিঃ
আপনি যদি শারিরিকভাবে শক্ত সামর্থ হয়ে থাকেন। তাহলে লাগাতার দুই মাস রোযা রাখতে হবে। মাঝখানে রোযা ভাঙ্গা যাবে না। যদি মাঝখানে রোযা ভেঙ্গে ফেলেন তাহলে আবার প্রথম থেকে ৬০ দিন গণনা করতে হবে। এভাবে ষাট দিন রোযা রাখলে আপনার রোযা ভঙ্গের কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। আর যদি লাগাতার ষাট দিন রোযা রাখতে সক্ষম না হন, তাহলে প্রতি রোযার জন্য সদকায়ে ফিতির পরিমাণ টাকা গরীবদের দান করে দেয়া আবশ্যক। তথা ষাট রোযার জন্য ষাটটি সদকায়ে ফিতির পরিমাণ অর্থ দান করা আবশ্যক।প্রতি রোযার পরিবর্তে একজন গরীবকে দুবেলা খাবার খাওয়াবে অথবা পৌনে দু’ কেজি গমের মূল্য সদকা করবে। এটাকে বলা হয় ফিদিয়া । যেমন সদকায়ে ফিতির পরিমাণ টাকা যদি ৬০ টাকা হয়। তাহলে আপনার তিন হাজার ছয়শত টাকা দান করা আবশ্যক। কিন্তু মনে রাখতে হবে রোযা রাখতে সক্ষম হলে ফিদিয়া আদায় করলে তা আদায় হবে না।
বিস্তারিত জানুনঃ https://ifatwa.info/1752/
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, এক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী কাফফারার রোযা আদায়ে সক্ষম হলে তাদেরকে কাফফারা হিসেবে লাগাতার ৬০ দিন রোযাই রাখতে হবে।
লাগাতার ৬০ টি রোযা রাখার শারীরিক ভাবে শক্তি না থাকলে ৬০ টি সদকায়ে ফিতর সমপরিমাণ টাকা গরিব মিসকিনকে দান করে দিতে হবে।দুইজনকে আলাদা আলাদা ভাবে ৬০ টি সদকায়ে ফিতর সমপরিমাণ টাকা গরিব মিসকিনকে দান করতে হবে।
★প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যেহেতু স্বামী স্ত্রী উভয়ে কাফফারার রোযা আদায়ে শারিরীক ভাবে ফিট,সুতরাং তাদেরকে কাফফারা হিসেবে লাগাতার ৬০ দিন রোযাই রাখতে হবে।
সদকায়ে ফিতর আদায়ের সুযোগ নেই।
পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।

http://dlvr.it/TRDVtM Web: www.ifatwa.info