জ্ঞান - Knowledge
1.99K subscribers
1.27K photos
21 videos
10 files
462 links
🙂🙂🙂
Download Telegram
*এ অবস্থার জন্য দায়ী সন্তানদের মিডিয়া স্মার্টফোন সেক্যুলার শিক্ষার পিছনে ছুটাছুটি ছুটোনো, অভিভাবকদের দ্বীনহীনতা, দায়িত্বের ব্যাপারে অসচেতনতা।তারা নিজেরাই লুচ্চা পতিতা পাশ্চাত্য সভ্যতা, ভোগবাদি, লেবাসধারীর পক্ষে দালালি করে সন্তানদের ও তাই বানাতে চাই।
ভাইরাল ডায়েট নয় ! ওজন কমানোর মৌলিক নিয়ম

ওজন নিয়ন্ত্রণ শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবনের মূল চাবিকাঠি। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে প্রতিদিনই নতুন নতুন ডায়েট প্ল্যান আর ট্রেন্ড ভাইরাল হয়। কেউ বলে কিটো, কেউ বলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, আবার কেউবা বলে জুস ক্লিন্স! কিন্তু এগুলোর পেছনে না ছুটে যদি কিছু মৌলিক বিষয় নিয়মিতভাবে মেনে চলা যায়, তবে দীর্ঘ মেয়াদে ওজন কমানো এবং তা ধরে রাখা দুটোই সহজ হবে।

সুষম খাবার
প্রথম শর্ত হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস। প্রোটিন, শাকসবজি, ফলমূল আর হোল গ্রেইন নিয়মিত রাখুন খাদ্যতালিকায়। প্রোটিন ক্ষুধা কমায় এবং দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখে।

নিয়মিত ব্যায়াম
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়, যোগব্যায়াম বা সাইক্লিং করুন। এটি শুধু ক্যালরি পোড়ায় না, মেটাবলিজমও বাড়ায়।

পানি পান
প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। খাবারের আগে পানি খেলে ক্ষুধা কমে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

পর্যাপ্ত ঘুম
৭-৮ ঘণ্টার নিয়মিত ঘুম শরীরের মেটাবলিজম সঠিক রাখে। ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা বাড়ায়, ওজনও বাড়াতে পারে।

চিনি ও জাঙ্ক ফুড

কোলা, মিষ্টি, কেক-পেস্ট্রি এসব এড়িয়ে চলুন। এর বদলে লেবু পানি, ডাবের পানি বা তাজা ফলের রস বেছে নিন।

এইতো !!
1
"এই কুরআন আমি নাযিল করিয়াছি যাহা কল্যাণময়। সুতরাং উহার অনুসরণ কর এবং সাবধান হও, তাহা হইলে তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হইবে;"(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১৫৫)
.
উপরের আয়াতে কুরআন কি করতে বলা হয়েছে?
.
কুরআন: মাদ্রাসায় মুখস্ত করার জন্য আসেনাই। মূর্দার পাশে, কবরে লাশের জন্য ব্যবহার হতে কুরআন আসেনাই। সুর করে তিলায়াত করার জন্য আসেনাই। সুরা পাঠ করে মানুষের শরীরে ফু দেয়ার জন্য আসেনাই। লাল কাপড়ে বেধে আলমারির উপর শোভাবর্ধনের জন্য আসেনাই। তর্ক বিতর্ক, বাহাস করার জন্য আসেনাই। কন্টাক নিয়ে কোন নিদিষ্ট অঞ্চলের মানুষকে খুশি
করে সম্মিলিত দোয়া করার জন্য আসে নাই। সুর করে পড়িয়ে নামাজের নামে বেতন নেওয়ার জন্য আসে নাই।
.
কুরআন এসেছে মানবজাতীর মুক্তির জন্য। মানবজাতীর পথপ্রদর্শক হিসেবে এসেছে৷ আল্লাহর বিধানে নিবিরভাবে/নিরবিচ্ছিন্নভাবে অনুসরনের জন্য এসেছে৷ কুরআন এসেছে আল্লাহর সান্ন্যিধ্যে থেকে জীবন পরিচালনার নিয়ামক হিসেবে৷
.
সুতরাং, কুরআনের সত্য ধারন করুন, আল্লাহ কুরআনে কি বলতে চেয়েছেন সেটা বুঝুন এবং সেই অনুযায়ী চলুন। না হয়, মৃত্যুর পর আফসোস করে বলতে হবে...
.
(সুরাঃ কাহফ ১৮, আয়াত ৪২)"তাহার ফল - সম্পদ বিপর্যয়ে বেষ্টিত হইয়া গেল এবং সে উহাতে যাহা ব্যয় করিয়াছিল তাহার জন্য আক্ষেপ করিতে লাগিল যখন উহা মাচানসহ ভূমিসাৎ হইয়া গেল। সে বলিতে লাগিল, ‘হায়, আমি যদি কাহাকেও আমার প্রতিপালকের শরীক না করিতাম!"
.
(সূরাঃ যুখরুফ ৪৩, আয়াত ৩৬)"যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহ্‌র স্মরণে বিমুখ হয় আমি তাহার জন্য নিয়োজিত করি এক শয়তান, অতঃপর সে - ই হয় তাহার সহচর।"
.
(সূরঃ আন-নাবা ৭৮, আয়াত ৪০)"আমি তো তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করিলাম ; সেই দিন মানুষ তাহার কৃতকর্ম প্রত্যক্ষ করিবে এবং অবিশ্বাসী বলিবে, ‘হায়, আমি যদি মাটি হইতাম !"
.
(সূরাঃ আল-মুলক ৬৭, আয়াত ১০)"এবং উহারা আরও বলিবে, ‘যদি আমরা শুনিতাম অথবা বিবেক - বুদ্ধি প্রয়োগ করিতাম, তাহা হইলে আমরা জাহান্নামবাসী হইতাম না।"
.
(সূরাঃ আল-ফজর ৮৯, আয়াত ২৪)"সে বলিবে, ‘হায়! আমার এ জীবনের জন্য আমি যদি কিছু অগ্রিম পাঠাইতাম !"
.
(সূরাঃ আল-ফুরকান ২৫, আয়াত ২৭,২৮)"জালিম ব্যক্তি সেই দিন নিজ হস্তদ্বয় দংশন করিতে করিতে বলিবে, ‘হায়, আমি যদি রাসূলের সঙ্গে সৎপথ অবলম্বন করিতাম! হায়, দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করিতাম!"
.
(সূরাঃ আল-হাক্বক্কাহ ৬৯, আয়াত ২৫-২৭)"কিন্তু যাহার আমলনামা তাহার বাম হস্তে দেওয়া হইবে, সে বলিবে, ‘হায়! আমাকে যদি দেওয়াই না হইত আমার ‘আমলনামা, ‘এবং আমি যদি না জানিতাম আমার হিসাব ! ‘হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হইত।"
.
(সূরাঃ আল-আহযাব ৩৩, আয়াত ৬৬)"যেদিন উহাদের মুখমণ্ডল অগ্নিতে উলটপালট করা হইবে সেদিন উহারা বলিবে, ‘হায়, আমরা যদি আল্লাহকে মানিতাম ও রাসূলকে মানিতাম!"
.
(সূরাঃ আন-নিসা ৪, আয়াত ৭৩)"আর তোমাদের প্রতি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ হইলে, যেন তোমাদের ও তাহার মধ্যে কোন সম্পর্ক নাই এমনভাবে বলিবেই, ‘হায়! যদি তাহাদের সঙ্গে থাকিতাম তবে আমিও বিরাট সাফল্য লাভ করিতাম।"
.
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ২৭)"তুমি যদি দেখিতে পাইতে যখন তাহাদেরকে দোজখের পার্শ্বে দাঁড় করান হইবে এবং তাহারা বলিবে, ‘হায়! যদি আমাদের প্রত্যাবর্তন ঘটিত তবে আমরা আমাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহ অস্বীকার করিতাম না এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হইতাম!"
.
হুজুররা এই বিষয়ে সেই বিষয়ে অই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে বল্লেও আল্লাহ বলছেন শুধুমাত্র কুরআনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে।
.
(সূরাঃ যুখরুফ ৪৩, আয়াত ৪৪)"কুরআন তো তোমার ও তোমার সম্প্রদায়ের জন্য সম্মানের বস্তু ; তোমাদেরকে অবশ্যই এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হইবে।"
.
কুরআন পাঠ করুন নিজ মাতৃভাষা বাংলায় অর্থসহ বুঝে বুঝে, সে অনুযায়ী কাজ করুন, নিশ্চয় কুরআনই নিরবিচ্ছিন্ন অনুসরন অনৈতিক - অন্যায়কাজ হইতে ফিরাইয়া রাখে।
.
#সংগৃহীত
স্বামী তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ায় ঐ স্ত্রীকে নিয়ে এখন পুনরায় সংসার করার সুযোগ নেই ।

হাদীসে বর্ণিত রয়েছে
عن مجاهد قال كنت عند ابن عباس فجاء رجل فقال إنه طلق امرأته ثلاثا. قال فسكت حتى ظننت أنه رادها إليه ثم قال ينطلق أحدكم فيركب الحموقة ثم يقول يا ابن عباس يا ابن عباس وإن الله قال (وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا) وإنك لم تتق الله فلم أجد لك مخرجا عصيت ربك وبانت منك امرأتك
অর্থ: হযরত মুজাহিদ রহঃ. বলেন,আমি ইবনে আব্বাস রাঃ-এর পাশে ছিলাম। সে সময় এক ব্যক্তি এসে বলেন-‘সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ চুপ করে রইলেন। আমি মনে মনে ভাবছিলাম-হয়ত তিনি তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার কথা বলবেন (রুজু করার হুকুম দিবেন)। কিছুক্ষণ পর ইবনে আব্বাস রা. বলেন,তোমাদের অনেকে নির্বোধের মত কাজ কর;[তিন তালাক দিয়ে দাও!] তারপর ‘ইবনে আব্বাস! ইবনে আব্বাস! বলে চিৎকার করতে থাক। শুনে রাখ আল্লাহ তা‘য়ালা বাণী-“যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘য়ালাকে ভয় করে আল্লাহ তা‘য়ালা তার জন্য পথকে খুলে দেন। তুমিতো স্বীয় রবের নাফরমানী করেছো [তিন তালাক দিয়ে]। এ কারণে তোমার স্ত্রী তোমার থেকে পৃথক হয়ে গেছে।{সুনানে আবু দাউদ-১/২৯৯, হাদীস নং-২১৯৯, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৪৭২০, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১৪৩}
গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসকে একদিন তার এক শিষ্য জিজ্ঞেস করলোঃ "আচ্ছা গুরুদেব, আপনি কি আমায় বলতে পারেন, কিভাবে আমি আমার জীবনের লক্ষ্যে পৌছাতে পারবো?"

সক্রেটিস মুচকি হেসে বললেনঃ "আচ্ছা আমি তোমাকে সেটা বলতে পারবো, তবে সেটার জন্য তোমাকে আগামীকাল বিকেলে নদীর ধারে আসতে হবে।"

তো যেই কথা সেই কাজ, পরদিন বিকেলে শিষ্য নদীর ধারে গিয়ে গুরুর অপেক্ষা করতে লাগলো। একটুপর সক্রেটিস ও এলো। এসে সক্রেটিস বললো "এবার তোমাকে আমার সাথে জলে নামতে হবে"।

কেন বা কী? এসব কিছু জানতে না চেয়েই শিষ্য তার গুরুর সাথে জলে নেমে গেল। কারণ তার গুরু নিশ্চয়ই তাকে কোন ভালো শিক্ষা দিবেন, এ বিশ্বাস তার ছিল।

তো জলে নামতেই সক্রেটিস তার ছাত্রের মাথা পানিতে চেপে ধরলো শক্ত করে, শিষ্য কিছু বুঝে উঠতে না পেরে হাত পা দাপিয়ে, পানিতে হাস-ফাস শুরু করলো। সে যতই মাথা তুলতে চেষ্টা করে সক্রেটিস তাকে আরও জোরে চেপে ধরে।

এভাবে মিনিট দেড়েক চেপে ধরে রাখার পর, সক্রেটিস তার শিষ্যকে ছেড়ে দিলো এবং কিছুক্ষণ পর বললো, "তুমি নিশ্চয় তোমার প্রশ্নের উত্তরটি পেয়েছ?"
শিষ্য বললো, "কিভাবে গুরুদেব?"

সক্রেটিস এবার বললো, "দেখ যখন তোমাকে আমি তোমাকে আমি জলের নিচে চেপে ধরেছিলাম, তখন তোমার একমাত্র লক্ষ্য কী ছিল? কিসের জন্য তুমি আপ্রাণ চেষ্টা করছিলে?"
শিষ্য বললো "আমার লক্ষ্য ছিল শুধু কিভাবে আমি আমার জীবন বাঁচাবো? কিভাবে মুক্তি পাব এই পানি থেকে?

-"জগতের আর কোন চিন্তা কি তখন তোমার মাথায় ছিলো?"
-"না গুরুদেব।"

ঠিক এভাবেই যখন তুমি তোমার জীবনের নির্ধারিত লক্ষ্যকে, শুধুমাত্র একটি লক্ষ্যে পরিণত করতে পারবে, জগতের অন্যসব চিন্তা মাথা থেকে দূরে রেখে তখনি তুমি তোমার জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। হতে পারবে সফল একজন মানুষ। তাই লক্ষ্য ঠিক করে পরিশ্রম করে যাওয়াই তো দরকার, সফলতাও একদিন আসবে।

#আধ্যাত্মিক #জগতের #বাণী
#life #motivation #philosophy #spiritualawakening #দার্শনিক #সক্রেটিস #দর্শন #everyone #viralpage #viralpost
2
তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা দুনিয়ার জন্য তাই রাখত যা তাদের পরকাল থেকে অতিরিক্ত থাকত, অথচ তোমরা আজ পরকালের জন্য তাই রাখছ যা তোমাদের দুনিয়া থেকে অতিরিক্ত থাকছে।

- আব্দুল্লাহ ইবন আউন (রাহিমাহুল্লাহ)
[হিলয়াতুল আউলিয়া]

إن من كان قبلكم كانوا يجعلون للدنيا ما فضل عن آخرتهم ، وإنكم اليوم تجعلون لآخرتكم ما فضل عن دنياكم .

©
ফরজ গোসল অবস্থায় সাহরী খেয়ে রোজা রাখা জায়েয আছে ।

উম্মুল মোমিনীন আয়েশা রা. বর্ণিত হাদিস:
ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﺪﺭﻛﻪ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻫﻮ ﺟﻨﺐ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺣﻠﻢ، ﻓﻴﻐﺘﺴﻞ ﻭﻳﺼﻮﻡ

“রমজান মাসে স্বপ্নদোষ ব্যতীতই অপবিত্র অবস্থায় (অর্থাৎ স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে নাপাক অবস্থায়) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর হয়ে যেত। অত:পর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন।”
[সহিহ বুখারি : ১৮২৯ ও মুসলিম : ১১০৯।]

রাসুলের অপর স্ত্রী উম্মুল মোমিনীন উম্মে সালামা রা. বর্ণনা করেন:
ﻛﺎﻥ ﻳﺪﺭﻛﻪ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻭﻫﻮ ﺟﻨﺐ ﻣﻦ ﺃﻫﻠﻪ ﺛﻢ ﻳﻐﺘﺴﻞ ﻭﻳﺼﻮﻡ.
“সহবাসের ফলে নাপাকি অবস্থায় রাসুল সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর করে ফেলতেন। অত:পর গোসল করে রোজা রাখতেন।
[সহিহ বুখারি: ১৯২৬]

তবে ফজরের নামাজের পূর্বেই গোসল করে নামাজ আদায় করে নিতে হবে ।
3
স্টিভ হার্ভির এই কথাটা আধুনিক জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ডিস্ট্র্যাকশন। আমরা সবাই লক্ষ্য নিয়ে শুরু করি, কিন্তু পথে হারিয়ে যাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, নেটফ্লিক্সে অহেতুক বিঞ্জ ওয়াচিং, অপ্রয়োজনীয় গসিপ, টক্সিক রিলেশনশিপ। এই বিভ্রান্তিগুলো শুরুতে ছোট মনে হয়, কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার ফোকাস নষ্ট করে, আপনার শক্তি শুষে নেয়, এবং আপনাকে লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে নিয়ে যায়। একদিন দেখবেন, বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু আপনি একই জায়গায় আছেন কারণ আপনার সময় এবং এনার্জি অর্থহীন জিনিসে চলে গেছে।

বাস্তবতা হলো, সাফল্য এবং ব্যর্থতার মধ্যে পার্থক্য প্রতিভায় নয় ফোকাসে। যারা নিজেদের ডিস্ট্র্যাকশন থেকে দূরে রাখতে পারেন, যারা "না" বলতে জানেন, যারা প্রায়োরিটি ক্লিয়ার রাখেন তারাই এগিয়ে যান। তাই নিজের জীবন চেক করুন: কোন জিনিসগুলো আপনাকে আপনার গোল থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে? সেগুলো চিহ্নিত করুন এবং কাট করুন। নিষ্ঠুর হোন নিজের সাথে আপনার স্বপ্ন আপনার ডিস্ট্র্যাকশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

#Intentional #SuccessMindset #StayOnTrack #NoExcuses #Motivation #SelfControl #CommitToYourGoals #BeLaser #WinningHabits #Spikestory
1
এখন থেকে হাজারে ৮.৫০ টাকা খরচে বিকাশের টাকা ক্যাশ করতে পারবেন NPSB এর মাধ্যমে।
আমি আগেও একাধিকবার বলেছি, ক‌ওমি মাদরাসাই পৃথিবীর একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বসবাস করতে নিষেধ করা হয়। প্রকারান্তরে সমকামিতা উস্কে দেওয়া হয়। এ নিয়ে আরো কথা বলার দরকার।

দেশের ৯৯% কওমি মাদরাসার কর্তৃপক্ষের (মুহতামিম/নায়েবে মুহতামিম) মানসিকতা হচ্ছে, সহকারী শিক্ষকরা যতই স্ত্রী থেকে দূরে থাকবে, ইলমের জন্য ততই মঙ্গল। শিক্ষকরা মাসে ২ দিনের জায়গায় ৩ দিন ছুটি চাইলেই এমন আচরণ পাওয়া যায় যে, ইলম বুঝি সব গেল। Roman4you

কোনো কোনো মুরুব্বী পর্যায়ের মুহতামিম তার ছাত্র-শিক্ষদের ইসলাহি নসিহত করতে গিয়ে বলেন যে, "বিয়ের পরে বউকে দূরে রেখে যদি মাদরাসায় পড়ে থাকতে পারিস, তাহলে আল্লাহ তোদেরকে ইলম ঢেলে দিবেন।"

তাদের প্রসিদ্ধ একটি নসিহত হচ্ছে,
ضاع العلم بين أفخاذ النساء
ضاع العلم بين ثديي النساء

নতুন বিয়ের পরে কোনো শিক্ষক যদি মাসে ২য় বার ছুটি চায়, তাহলে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে তাকে বলা হয়, "বিয়ে করে বউ পাগল হয়ে গেলেন, এতবার ছুটি নিলে প্রতিষ্ঠান বাঁচাবে কে?"

করোনা চলাকালীন (মাদরাসা বন্ধ থাকা অবস্থায়) এক মাদরাসায় এক শিক্ষককে বিয়ের ৭ দিনের মাথায় ফোন দিয়ে নিয়ে আসা হলো মাদরাসা-মসজিদে নামাজ পড়ানোর জন্য। অথচ নামাজ পড়ানোর জন্য মুহতামিম/নায়েবে মুহতামিম সাহেবরাই যথেষ্ট ছিলেন। কারণ এদের বাসা মাদরাসার পাশেই। মাদরাসার কোয়ার্টারে। যেহেতু আল্লাহ তায়ালা একমাত্র তাদেরকেই পুরুষাঙ্গ দান করেছেন তাই পুরুষাঙ্গের হক আদায় করা বাধ্যতামূলক। যা হোক সেই উস্তাদকে নিয়ে এসে এক মাসের মাথায়ও ছুটি দিতে গড়িমসি করা হয়েছে।

আরেক হেফজ বিভাগের শিক্ষককে বিয়ের একদিন পরেই চলে আসতে হয়েছে, এক মাসের আগে ছুটি পাওয়ার নিয়ম নেই মাদ্রাসায়। ছুটি দেয়ার ক্ষমতা নাকি মুহতামিমের নেই। তিনি বাসা নিয়ে পুরোদমে পরিবারকে নিয়ে থাকবেন। তার একটা মিনিটও যেন স্ত্রী ছাড়া না যায় তা নিশ্চিত করেন।

কওমি মাদরাসার নতুন বিবাহিত শিক্ষকরা কি যে জুলুমের ভিতর দিয়ে নিজেদের বিবাহ পরবর্তী জীবনটা কাটায়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এইসব মজলুমের দিলের আহ শব্দের কারণেই হয়তো বড়হুজুরদের ছেলেপেলে মানুষ হয় না। কিছু হয় বেয়াদব আর কিছু হয় নাস্তিক। বাবার অর্জন মাটিতে মিশিয়ে ছাড়ে।

আরেক মাদরাসায় এক শিক্ষকের স্ত্রী অসুস্থ ছিল, ডিএন্ডসি করা লেগেছে, এক সপ্তাহের মাথায় ২য় বার ছুটি নেওয়াতে তাকে মিটিংয়ে সবার সামনে বউ পাগল বলে অপমান করা হয়েছে।

অধিকাংশ কওমি মাদরাসায় কোনো শিক্ষক মাদরাসার কাছে বাসা নিয়ে আসতে চাইলে তাকে অনুমতি দেয়া হয় না। অজুহাত দেখানো হয় যে, মাদরাসার পড়াশোনায় ক্ষতি হবে। ইলমের ক্ষতি হবে৷

অন্যদিকে লম্বা সময় স্ত্রী থেকে দূরে থাকার কারণে শিক্ষকদের মধ্যে যৌন চাহিদা জেগে উঠে, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে৷ কওমি মাদরাসার এই লজ্জাজনক বিষয়গুলোর মূল কারণ যে, এই স্ত্রী থেকে দূরে রাখার জঘন্য মানসিকতা, এটা এই আকাবির নামধারী বুজুর্গদের কেউ স্বীকার‌ই করতে চান না। এটাকে তারা দীনের খেদমত বলে মনে করেন।

ইলমের দোহাই দিয়ে এভাবে শিক্ষকদেরকে নিজের শারীরিক চাহিদা, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার শারয়ি বিধান কী, এই বিষয়ে ক‌ওমি মাদরাসার মূল প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ, বাংলাদেশের হাটহাজারী ও ক‌ওমি মাদরাসার শিক্ষাবোর্ড বেফাক ও হাইআতুল উল‌ইয়া থেকে ফতোয়া জারি করা দরকার।

সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের সফরে রাসুলের কাছে নপুংশক হয়ে যাওয়ার আবেদন করেছিলেন। কারণ ছিল একটাই, স্ত্রী থেকে দীর্ঘ সময় দূরে, আবার যুদ্ধের এলাকায় কাফির সুন্দরী মেয়েদেরকে দেখে শারীরিক চাহিদা জেগে উঠা। অথচ তারা রাসুলের সান্নিধ্যে ছিলেন। রাসুলুল্লাহ( সাঃ) সফরে গেলে তার এক স্ত্রীকে নিয়ে যেতেন। রাসুলের সান্নিধ্যে থাকাবস্থায়ই যদি সাহাবাদের ভিতরে শারীরিক চাহিদা জেগে উঠা দোষনীয় না হয়, তাহলে এই ফেতনার জমানায় কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের মধ্যে এই চাহিদা জেগে উঠা কি খুব অস্বাভাবিক?

চাহিদা জাগার পরে যদি তাৎক্ষনিক পূর্ণ করতে না পারে, সেক্ষেত্রে এই শিক্ষক মাদরাসার কচি ছেলেদের দিকে নজর দিবে না তো কী করবে?

মেশকাত শরিফের সেই প্রসিদ্ধ হাদিস, যা বড় বড় অন্য কিতাবগুলোতেও আছে, রাসুল একবার বাসা থেকে বের হলে এক মহিলার দিকে নজর পড়ল, তাকে রাসুলের পছন্দ হলো। সাথে সাথে ঘরে ঢুকে রাসুলের এক স্ত্রীর সাথে চাহিদা পুরণ করে বের হয়ে এসে বলেন, "তোমাদের কারো যদি বাইরের কোনো মহিলার প্রতি আকর্ষণ অনুভব হয়, তাহলে সে যেন নিজ স্ত্রীর কাছে যায়। কারণ স্ত্রীর মধ্যে তা-ই রয়েছে, ঐ মহিলার মাঝে যা রয়েছে।"

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়ে আল্লাহ এই ঘটনা ঘটিয়ে উম্মতকে বিশেষ শিক্ষা দিয়েছেন৷ হায়! আকাবিররা যদি এই শিক্ষাটা গ্রহণ করতেন....!!
একজন শিক্ষক কোনো দাড়িবিহীন সুশ্রী ছেলের প্রতি বারবার দৃষ্টিপাত হলে কতক্ষণ সে নিজেকে ঠিক রাখতে পারে? যেখানে সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের ময়দানে রাসুলের সোহবতে থাকাবস্থায়ও শারীরিক চাহিদার শিকার হয়ে গেলেন? যেখানে রাসুলের অন্তরেও (আল্লাহর ইচ্ছায়ই, উম্মতের শিক্ষার জন্য) কারো প্রতি আকর্ষণ অনুভব হতে পারে৷

এই শিক্ষক নিজের জেগে উঠা চাহিদা কোথায় পূর্ণ করবে, যদি তাকে স্ত্রীর কাছে যেতে দেয়া না হয়?

স্ত্রী থেকে দূরে রাখার এসব মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি কতটুকু শরিয়তসম্মত, তা নিয়ে আলোচনার সময় এসেছে।

© সংগৃহীত ও সম্পাদিত

[ এখানে মাদরাসা ও হুজুরদের অপমান বা হাসির খোরাক বানানো উদ্দেশ্য না। এসব জাহেলি কাজ বন্ধ করে সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজ রাখা উদ্দেশ্য। ]
যদি তোমার বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হয়
দেরি হওয়ার আগে শেখা জরুরি

১. সময়মতো নামাজ পড়ো এটা তোমার দিনের কেন্দ্রবিন্দু
এবং বরকতের চাবিকাঠি। (সূরা আনকাবুত 29:45 )

২. নিজেকে শৃঙ্খলিত করো- আত্মনিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্বপ্ন শুধু
স্বপ্নই থেকে যায়। (সূরা আল-হাশর 59:18)

৩. গোপনে হারাম থেকে বাঁচো একা থাকলে যা করো,
সেটাই তোমার আসল পরিচয়। (সূরা আল-মুলক 67:12)

৪. সঠিক বন্ধুর সঙ্গ নাও তারা তোমাকে জান্নাতের দিকে
টানতে পারে, বা জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিতে পারে। (আবুদাউদ 4833)

৫. অযথা বিয়েতে দেরি করো না "পারফেক্ট টাইম" এর
পিছনে ছোটা অনেক সময় ফিতনার দিকে নিয়ে যায়।
(বুখারি 5065, মুসলিম 1400)

৬. বেসিক ফিকহ ও আকীদা শিখো- জ্ঞান ছাড়া আল্লাহর
ইবাদত সঠিকভাবে করা যায় না। জ্ঞান ঈমান বাড়ায়।
(সুনান ইবনে মাজাহ 224)

৭. জবান নিয়ন্ত্রণ করো জিহ্বা এমন ক্ষত করে, যা হাতের
আঘাতের থেকেও দ্রুত ধ্বংস করে। (তিরমিযি 2616)

৮. দৃষ্টি হেফাজত করো- এটা তোমার হৃদয়কে অযাচিত
বাসনা ও আফসোস থেকে রক্ষা করে। (সূরা আন-নূর
24:30-31)

৯. নিয়মিত দান করো দান কখনো সম্পদ কমায় না, বরং
বাড়ায়। (মুসলিম 2588)

১০. ঋণ থেকে দূরে থাকো এটা স্বাধীনতা ও বরকত কেড়ে
নেয়। (বুখারি 2397)

১১. শরীরকে শক্ত রাখো- স্বাস্থ্য একটি আমানত; শক্তি
ইবাদত ও কাজে সহায়তা করে। (বুখারি 18)

১২. মূল্যবান কোনো দক্ষতা অর্জন করো যাতে তুমি হালাল
উপার্জন করতে পারো, কারো চাকরির উপর নির্ভর না
করে। (তিরমিযি 1130)

১৩. প্রতিদিন কুরআন পড়ো এক পৃষ্ঠা হলেও আল্লাহর
সাথে সংযোগ তৈরি হয়। (সূরা ফাতির 35:29)

১৪. সফর করো আল্লাহর সৃষ্টি দেখো, জ্ঞান অর্জন করো,
আর স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি ভাঙো। (সূরা আল-আনকাবুত
29:20)

১৫. মৃত্যুকে স্মরণ করো- এটা তোমার অগ্রাধিকার ঠিক
রাখে। (তিরমিযি 2307)
4
একটি ভুল ধারণা : রোযা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে কি রোযা ভেঙে যায়?

কেউ কেউ মনে করেন, রোযা অবস্থায় যদি স্বপ্নদোষ হয় তাহলে রোযা ভেঙে যাবে। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। স্বপ্নদোষের কারণে রোযা ভাঙে না।

একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনটি বস্তু রোযা ভঙ্গের কারণ নয়; বমি, শিঙ্গা লাগানো ও স্বপ্নদোষ। (মুসনাদে বাযযার, হাদীস ৫২৮৭; নসবুর রায়াহ ২/৪৪৭; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩/১৭০; জামে তিরমিযী, হাদীস ৭১৯; সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৪/২৬৪)

সুতরাং রোযা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে রোযা ভেঙে যায়- এ ধারণা ঠিক নয়।

[সূত্র : মাসিক আল কাউসার
বর্ষ : ১২, সংখ্যা : ০৩
জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৭ || মার্চ ২০১৬]
👍1
দরকার হলে আবার শূন্য থেকে শুরু করুন।

কিন্তু এবার আবেগ দিয়ে না, প্ল্যানিং দিয়ে।

ইচ্ছা দিয়ে না, ডিসিপ্লিন দিয়ে।

দুইদিনের পরিশ্রম দিয়ে না, কনসিসট্যান্সি দিয়ে।

কারণ নতুন শুরু মানে ব্যর্থতা না,

নতুন শুরু মানে, আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসা।

@Joy
7
এক নজরে সিয়াম বা রোজার জরুরি মাসআলা-মাসায়েল

❑ ১. সিয়ামের সংজ্ঞা:

সিয়াম (الصيام) আরবি শব্দ। বহুবচন। একবচন সওম (الصوم)। বাংলায় রোজা যা মূলত ফারসি ভাষা থেকে আগত। সওম-এর শাব্দিক অর্থ, বিরত থাকা।

শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক (ফজর) থেকে সূর্যাস্ত (মাগরিব) পর্যন্ত রোজা ভঙ্গকারী সকল কাজ থেকে বিরত থাকাই হল সিয়াম বা রোজা।

❑ ২. রোজা রাখার বিধান:

নিম্নে বর্ণিত কতিপয় শর্ত সাপেক্ষ প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ।

❖ আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

"হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।" [সূরা আল-বাকারা: ১৮৩]

❖ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ

"ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসুল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ সম্পাদন করা এবং রমজানের রোজা রাখা।" [সহিহ বুখারী: ৮ ও সহিহ মুসলিম: ১৬]

❑ ৩. রোজা ফরজ হওয়ার শর্তাবলি:

রোজা ফরজ হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই━

১. মুসলিম হতে হবে। অমুসলিমের জন্য এ বিধান প্রযোজ্য নয়।
২. প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদের রোজা রাখা আবশ্যক নয়। তবে তাদেরকে অভ্যস্ত করার জন্য রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করা উচিত।
৩. সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন হতে হবে। পাগলের উপর রোজা ফরজ নয়।
৪. রোজা রাখার শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। রোজা রাখতে অক্ষম বা যার জন্য কষ্টসাধ্য তার জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়। যেমন: বয়োবৃদ্ধ, দীর্ঘ মেয়াদী রোগী কিংবা শয্যাশায়ী ব্যক্তির জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়।

প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বা গরমে ভারী কাজ করার কারণে রোজা রাখতে কষ্ট হলে রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ নয়। এ ক্ষেত্রে হয় কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিবে অথবা রাত্রিকালীন কাজ করবে।

৫. শরিয়তের বাধামুক্ত থাকতে হবে। (যেমন: ঋতুস্রাব, সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব নির্গত হওয়া ইত্যাদি)

❑ ৪. রোজার নিয়ত:

ক. মনে মনে রোজা রাখার নিয়ত থাকা আবশ্যক। মুখে উচ্চারণ করে আরবিতে ‘নাওয়াইতু আন আসূমা গানান..” অথবা বাংলায় নিয়ত উচ্চারণ করা বিদআত।

খ. ফজরের পূর্বেই নিয়ত করা আবশ্যক।

গ. পুরো মাসের জন্য মাসের শুরুতে একবার নিয়ত করাই যথেষ্ট। তবে প্রতি রাতে আলাদা আলাদা নিয়ত করা উত্তম।

উল্লেখ্য যে, কোনও কারণে রোজা ভাঙলে পুনরায় শুরু করার সময় আবার নিয়ত করতে হবে।

❑ ৪. রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ:

◈ ক. যেকারণে রোজা ভেঙে যায় এবং কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয় তা হল, রোজা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা:

যদি কোনও ব্যক্তি রমজান মাসে ইচ্ছাকৃত ভাবে স্ত্রী সহবাস করে তবে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং এর বদলে একটি রোজা কাজা করার পাশাপাশি কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা রাখা) আদায় করতে হবে। তাও সম্ভব না হলে একটি রোজার বিনিময়ে ৬০ জন গরিব-অসহায় মানুষকে খাবার খাওয়াতে হবে বা খাদ্যদ্রব্য প্রদান করতে হবে। (জনপ্রতি সোয়া কেজি চাল)। টাকা দেওয়া শরিয়ত সম্মত নয়।

◈ খ. যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায় কিন্তু শুধু কাজা আবশ্যক হয় (কাফফারা নয়):

নিচের কারণগুলোর কোনও একটি ঘটলে রোজা ভেঙে যাবে এবং রমজানের পর সেই রোজার পরিবর্তে একটি রোজা রেখে দিলেই হবে (কাফফারা আবশ্যক নয়):

➧ (১). ইচ্ছাকৃত ভাবে পানাহার করা: সুবহে সাদিক বা ফরজ উদিত হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইচ্ছাকৃত ভাবে কোনও খাবার, পানীয়, ওষুধ ইত্যাদি গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য যে, এমন কিছু যা সাধারণত খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয় না তা ইচ্ছাকৃত ভাবে গিলে ফেললেও রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। যেমন: পাথর, মাটি বা অখাদ্য অন্য কিছু।

➧ (২) ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করা: যদি কেউ আঙুল দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে মুখ ভরে ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করে। রোগ বা অন্য কোনও কারণে অনিচ্ছা বশতঃ বমি হলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

➧ (৩) নাক বা কানে ওষুধ প্রবেশ করানো: যদি এমন কোনও তরল ওষুধ ব্যবহার করা হয় যা সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছে যায়।

- রোজা অবস্থায় রক্ত দান করলে বা হিজামা (সিঙ্গা) লাগালে রোজা ভঙ্গ হওয়ার বিষয়টি দ্বিমতপূর্ণ। অধিক বিশুদ্ধ মতে, রোজা ভঙ্গ হবে না। কিন্তু যেহেতু অনেক আলেমের মতে রোজা ভেঙ্গে যাবে তাই সতর্কতা এবং মতবিরোধ থেকে বাঁচার স্বার্থে সম্ভব হলে তা দিনে না করে রাতে করাই ভালো।

➧ (৪) ভুলবশত ইফতার বা সেহরি করা: সময় শেষ হওয়ার পর সেহরি খাওয়া অথবা সময় হওয়ার আগে ইফতার করে ফেলা (যদিও ব্যক্তি মনে করেছিল সময় আছে)।
উল্লেখ্য যে, উক্ত রোজা কাজা করার বিষয়ে আলেমদের মাঝে দ্বিমত আছে। তবে অধিক বিশুদ্ধ মতে তা কাজা করে নিবে। এটাই অধিক সতর্কতামূলক অবস্থান।

➧ (৫) রোজা অবস্থায় অসতর্কতা বশত কোনও কিছু খেলে বা পান করলে রজা ভঙ্গ হয় না। তবে স্মরণ আসার সাথে সাথে পানাহার বন্ধ করতে হবে। এমনকি মুখে থাকলেও তা ফেলে দিতে হবে।

➧ (৬) নারীদের পিরিয়ড বা সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব: রোজা থাকা অবস্থায় দিনের যেকোনো সময় ঋতুস্রাব শুরু হলে বা বাচ্চা প্রসব হলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

❑ ৫. যাদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে (৫টি শ্রেণি):

✪ ১. অসুস্থ ব্যক্তি: যদি রোজা রাখার কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তাহলে রোজা ভাঙতে পারবেন এবং পরবর্তীতে সুস্থ হলে তা কাজা করবেন।

✪ ২. মুসাফির: সফরের কারণে কষ্ট হলে রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ। তবে কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। ভাঙ্গলে পরবর্তীতে তা কাজা করা আবশ্যক।

আল্লাহ তাআালা বলেন,

وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ

"আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ অথবা সফরে আছে (সে অন্য সময়ে কাজা করবে)।" [সূরা আল বাকারা: ১৮৫

✪ ৩. ঋতুমতী ও প্রসূতি নারী:

মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব বা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর স্রাব চলাকালীন সময় (সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪০ দিন) রোজা রাখা আবশ্যক নয়। রোজা অবস্থায় স্রাব শুরু হলে বা বাচ্চা প্রসব হলে স্বয়ংক্রিয় রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে রমজানের পরে আগামী রমজানের পূর্বে তা কাজা করে নিতে হবে।

✪ ৪. গর্ভবতী ও দুগ্ধ দানকারী মা: যদি নিজের বা বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে তার তিনি রোজা ভাঙতে পারবেন এবং পরে কাজা করবেন। তবে যদি কোনও ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে তবে রোজা রাখা মুস্তাহাব।

✪ ৫. অতিবৃদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদী রোগী: যারা একেবারেই রোজা রাখতে সক্ষম নন তাদের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়। তবে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্যদ্রব্য (ফিদিয়া যার পরিমাণ সোয়া কেজি চাল) দিতে হবে।

❑ ৬. রোজার মূল শিক্ষা ও উদ্দেশ্য:

❍ ১. তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি অর্জন:

রোজার প্রধান এবং মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের মনে আল্লাহর ভয় বা সচেতনতা সৃষ্টি করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

"হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।" [সূরা বাকারা: ১৮৩]

❍ ২. নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ (আত্মশুদ্ধি):

সারাদিন নিজের বৈধ চাহিদা (খাবার ও পানীয়) পরিহার করার মাধ্যমে একজন মুমিন তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। এটি মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিশালী করে এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

❍ ৩. ধৈর্য ও সহনশীলতার চর্চা:

ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে রোজাদার ধৈর্যের গুণ অর্জন করে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসকে "ধৈর্যের মাস" হিসেবে অভিহিত করেছেন।

❍ ৪. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব বোধ:

অনাহারে থাকার যন্ত্রণা অনুভবের মাধ্যমে সমাজের অভাবী ও দরিদ্র মানুষের কষ্টের প্রতি সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। এটি দান-সদকা ও মানুষের সেবায় উৎসাহিত করে।

❍ ৫. আখলাক বা চরিত্রের সংশোধন:

রোজা অবস্থায় মিথ্যা বলা, গিবত করা বা ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকা বাধ্যতামূলক।

রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ

"যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী কাজ বর্জন করেনি, তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনও প্রয়োজন নেই।" [সহিহ বুখারী: ১৯০৩]

❍ ৬. শারীরিক সুস্থতা:

চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম পায় এবং শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়, যা সুস্থতার জন্য সহায়ক। এ ছাড়াও অনেক উপকার আছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

"আর তোমাদের রোজা রাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পারো।" [সূরা বাকারা: ১৮৪]
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদ্ধতির আলোকে সিয়াম পালনের তওফিক দান করুন এবং তা কবুল করুন। আমিন।
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব
#abdullahilhadi
সত্য জানার চেয়েও প্রকাশ করা কঠিন, বিশেষ করে এই বাংলাদেশে।
"মানুষ আজ ঈশ্বরকে ধর্মগ্রন্থে বন্দি করে নিজেরাই তাঁর আসন দখলে নিয়েছে। এখন সেই ঈশ্বরের কারামুক্তির জন্য নতুন করে আন্দোলন করতে হবে। ওরা বলে- ওদের মুক্তি আর আমি বলি- ঈশ্বরমুক্তি"

- বয়ানে রুহুল আমিন