⚠️ সতর্কবার্তা: এয়ারটেল ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
এয়ারটেল পোস্টপেইড সিমে কেউ রোমিং চালু করবেন না যদি দেশে অবস্থান করেন! প্রিপেইডকে পোস্টপেইডে কনভার্ট করবেন না যদি অতি জরুরি না হয়—নইলে বিপদে পড়তে পারেন।
আমি আগে এয়ারটেল প্রিপেইড ব্যবহার করতাম। পরে পোস্টপেইডে মাইগ্রেশন করি এবং বাংলাদেশে থাকা অবস্থাতেই রোমিং চালু করি। এখনো বাংলাদেশেই আছি এবং প্রায় এক বছর ধরে রোমিং চালু রয়েছে।
এখন আসি আসল সমস্যায়।
বর্তমানে পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে মাইগ্রেশন করা যায়, যেটা আগে সম্ভব ছিল না। কিন্তু বাস্তব সমস্যা হলো—আপনি যদি পোস্টপেইড সিমে একবারও রোমিং চালু করেন, তাহলে সেই সিম আর কখনোই প্রিপেইডে ফেরানো যাবে না। এই অভিজ্ঞতার শিকার আমি নিজে।
পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে কনভার্ট করার জন্য আমি আমার নিকটস্থ এয়ারটেল কেয়ার সেন্টারে যাই। সেখানে বলা হয়, রোমিং চালু থাকার কারণে এটি সম্ভব নয় এবং আগে রোমিং বন্ধ করতে হবে। কেয়ার সেন্টারে থাকা অবস্থাতেই ইমেইলের মাধ্যমে আমার রোমিং সার্ভিস বন্ধ করি আমি নিজে । কিন্তু তারপরও পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে মাইগ্রেশন সম্ভব হয়নি।
৪৮ ঘণ্টা পর আবার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করি, কিন্তু তখনও একই সমস্যা থাকে। এরপর আমি বিষয়টি নিয়ে এয়ারটেল রোমিং টিম ও হটলাইনে অভিযোগ জানাই। রোমিং টিম ইমেইল পাওয়ার পর আমাকে কল করে জানায়—পোস্টপেইড সিমে একবার রোমিং চালু করলে সেটিকে আর কখনোই প্রিপেইডে ফেরানো যায় না। তবে প্রিপেইড সিমে রোমিং চালু করলে সেই সুযোগ থাকে। অর্থাৎ প্রিপেইডকে পোস্টপেইড করা যাবে।
এই রোমিং চালু পোস্টপেইড সিমকে প্রিপেইডে কনভার্ট করতে গিয়ে আমি চরম হয়রানির শিকার হয়েছি। এয়ারটেল হটলাইন ও লাইভ চ্যাট একেক সময় একেক কথা বলে। কেউ বলে, রোমিং থাকলেও পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইড করা যাবে—যা বাস্তবে কখনোই সম্ভব হয়নি।
আবার অন্য হটলাইন বা লাইভ চ্যাট এজেন্ট বলে, রোমিং সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে এয়ারটেল কেয়ার ভিজিট করতে হবে। কিন্তু কেয়ার সেন্টারের এজেন্টরা জানায়, তাদের কাছে রোমিং সার্ভিস বন্ধ করার কোনো অপশনই নেই। কারণ আমি ইমেইলের মাধ্যমে যে রোমিং বন্ধ করেছি সেটা শুধুমাত্র সাময়িক সময়ের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—এয়ারটেল রোমিং টিম এক ধরনের কথা বলে, হটলাইন আরেক ধরনের কথা বলে, এবং কেয়ার সেন্টার সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে। এর ফলে একজন গ্রাহক হিসেবে আমি বারবার বিভ্রান্ত ও হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি তাদেরকে অনেক ইমেইল অনেক কল অনেক কিছু করেছি। শেষ পর্যন্ত তারা আমাকে কনফার্ম করে যে পোস্টপেইড সিমে রোমিং চালু করে ফেললে সেটাকে আর প্রিপেইড করা সম্ভব নয়।
👉 এই অভিজ্ঞতা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ—দেশে অবস্থান করলে পোস্টপেইড সিমে রোমিং চালু করবেন না এবং প্রিপেইড থেকে পোস্টপেইডে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নিন।
এয়ারটেল পোস্টপেইড সিমে কেউ রোমিং চালু করবেন না যদি দেশে অবস্থান করেন! প্রিপেইডকে পোস্টপেইডে কনভার্ট করবেন না যদি অতি জরুরি না হয়—নইলে বিপদে পড়তে পারেন।
আমি আগে এয়ারটেল প্রিপেইড ব্যবহার করতাম। পরে পোস্টপেইডে মাইগ্রেশন করি এবং বাংলাদেশে থাকা অবস্থাতেই রোমিং চালু করি। এখনো বাংলাদেশেই আছি এবং প্রায় এক বছর ধরে রোমিং চালু রয়েছে।
এখন আসি আসল সমস্যায়।
বর্তমানে পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে মাইগ্রেশন করা যায়, যেটা আগে সম্ভব ছিল না। কিন্তু বাস্তব সমস্যা হলো—আপনি যদি পোস্টপেইড সিমে একবারও রোমিং চালু করেন, তাহলে সেই সিম আর কখনোই প্রিপেইডে ফেরানো যাবে না। এই অভিজ্ঞতার শিকার আমি নিজে।
পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে কনভার্ট করার জন্য আমি আমার নিকটস্থ এয়ারটেল কেয়ার সেন্টারে যাই। সেখানে বলা হয়, রোমিং চালু থাকার কারণে এটি সম্ভব নয় এবং আগে রোমিং বন্ধ করতে হবে। কেয়ার সেন্টারে থাকা অবস্থাতেই ইমেইলের মাধ্যমে আমার রোমিং সার্ভিস বন্ধ করি আমি নিজে । কিন্তু তারপরও পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে মাইগ্রেশন সম্ভব হয়নি।
৪৮ ঘণ্টা পর আবার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করি, কিন্তু তখনও একই সমস্যা থাকে। এরপর আমি বিষয়টি নিয়ে এয়ারটেল রোমিং টিম ও হটলাইনে অভিযোগ জানাই। রোমিং টিম ইমেইল পাওয়ার পর আমাকে কল করে জানায়—পোস্টপেইড সিমে একবার রোমিং চালু করলে সেটিকে আর কখনোই প্রিপেইডে ফেরানো যায় না। তবে প্রিপেইড সিমে রোমিং চালু করলে সেই সুযোগ থাকে। অর্থাৎ প্রিপেইডকে পোস্টপেইড করা যাবে।
এই রোমিং চালু পোস্টপেইড সিমকে প্রিপেইডে কনভার্ট করতে গিয়ে আমি চরম হয়রানির শিকার হয়েছি। এয়ারটেল হটলাইন ও লাইভ চ্যাট একেক সময় একেক কথা বলে। কেউ বলে, রোমিং থাকলেও পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইড করা যাবে—যা বাস্তবে কখনোই সম্ভব হয়নি।
আবার অন্য হটলাইন বা লাইভ চ্যাট এজেন্ট বলে, রোমিং সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে এয়ারটেল কেয়ার ভিজিট করতে হবে। কিন্তু কেয়ার সেন্টারের এজেন্টরা জানায়, তাদের কাছে রোমিং সার্ভিস বন্ধ করার কোনো অপশনই নেই। কারণ আমি ইমেইলের মাধ্যমে যে রোমিং বন্ধ করেছি সেটা শুধুমাত্র সাময়িক সময়ের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—এয়ারটেল রোমিং টিম এক ধরনের কথা বলে, হটলাইন আরেক ধরনের কথা বলে, এবং কেয়ার সেন্টার সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে। এর ফলে একজন গ্রাহক হিসেবে আমি বারবার বিভ্রান্ত ও হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি তাদেরকে অনেক ইমেইল অনেক কল অনেক কিছু করেছি। শেষ পর্যন্ত তারা আমাকে কনফার্ম করে যে পোস্টপেইড সিমে রোমিং চালু করে ফেললে সেটাকে আর প্রিপেইড করা সম্ভব নয়।
👉 এই অভিজ্ঞতা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ—দেশে অবস্থান করলে পোস্টপেইড সিমে রোমিং চালু করবেন না এবং প্রিপেইড থেকে পোস্টপেইডে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নিন।
কওমীদের মধ্যে যারা দাখিল/SSC দিতে চান, তাদের জন্য বিরাট সুসংবাদ!
মাত্র ১ মাস পড়ে দাখিল দেওয়ার সুযোগ!
আপনার বয়স যতই হোক, এমনকি ৫০+ হলেও পরীক্ষা দিতে পারবেন। এবছরই পারবেন। অর্থাৎ ২০২৬ এর এপ্রিল মাসে যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, সেটাতেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
আগে কোনো ক্লাসই পড়া থাকা লাগবে না। ১ মাস পড়ে সরাসরি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিবেন।
এবছর দাখিল এবং ২০২৮ এ HSC দিলে, বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবীর প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দরজা আপনার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
এই সুযোগ মিস না করার পরামর্শ রইলো।
01810180303
পরিচালক, দাখিল/SSC বর্ষ,
মাদরাসাতু আহমাদ
মাত্র ১ মাস পড়ে দাখিল দেওয়ার সুযোগ!
আপনার বয়স যতই হোক, এমনকি ৫০+ হলেও পরীক্ষা দিতে পারবেন। এবছরই পারবেন। অর্থাৎ ২০২৬ এর এপ্রিল মাসে যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, সেটাতেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
আগে কোনো ক্লাসই পড়া থাকা লাগবে না। ১ মাস পড়ে সরাসরি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিবেন।
এবছর দাখিল এবং ২০২৮ এ HSC দিলে, বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবীর প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দরজা আপনার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
এই সুযোগ মিস না করার পরামর্শ রইলো।
01810180303
পরিচালক, দাখিল/SSC বর্ষ,
মাদরাসাতু আহমাদ
❤1
সিভিল ডিভোর্সের পরে দাম্পত্য: শরিয়ত কী বলে?
|০৭| ফেব্রুয়ারি |২০২৬|
❖ প্রশ্ন:
যদি কোনো ব্যক্তি প্রথমে শরিয়তসম্মতভাবে নিকাহ সম্পন্ন করেন, পরে ইংলিশ আইনের অধীনে সিভিল ম্যারেজ নিবন্ধন করান, অতঃপর ইংলিশ আইনের অধীনেই সিভিল ডিভোর্স গ্রহণ করেন, তাহলে এই অবস্থায় কি শরিয়তসম্মত নিকাহ বহাল থাকে, নাকি তা ভেঙে যায়?
বিশেষ করে যদি তিনি তিন মাসের ভেতর রুজু করে নেন, অর্থাৎ আবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে শরিয়তের হুকুম কী হবে?
আর যদি শরিয়তসম্মত নিকাহ বহাল না থাকে, তবে এমন পরিস্থিতিতে শরিয়তের নির্দেশনা কী? যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই এই বিধান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং অজ্ঞতাবশত রুজু করে নিয়েছেন।
❖ উত্তর:
যদি কোনো নারী ও পুরুষের মধ্যে শরিয়তসম্মতভাবে সহিহ নিকাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে, পরে তারা রাষ্ট্রীয় আইনের শর্ত পূরণ করতে সিভিল ম্যারেজও নিবন্ধন করান, এবং পরবর্তীতে আদালত নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই বিবাহ বাতিল করে দেয়, তাহলে একে এভাবে ধরে নেওয়া যে নিকাহ আগের মতোই বহাল আছে, কিংবা স্বামীর আগের মতো রুজুর অধিকার রয়েছে, এটি সঠিক নয়।
ফিকহের মৌলিক নীতিমালা হলো: কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ বা আদালত যখন নিকাহ ভেঙে দেয়, তখন তা কেবল সাময়িক বিচ্ছেদ থাকে না; বরং স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। এটি সেই তালাক নয় যাকে তালাকে রাজঈ বলা হয়, যেখানে স্বামী ইদ্দতের মধ্যে নতুন নিকাহ ছাড়াই স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারেন। বরং এটি বিচ্ছেদের এমন এক রূপ, যা ফিকহের পরিভাষায় তালাকে বাইন-এর অন্তর্ভুক্ত। তালাকে বাইন-এর ক্ষেত্রে স্বামীর আর রুজুর অধিকার অবশিষ্ট থাকে না—না কথার মাধ্যমে, না একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তে, না দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার দ্বারা।
অতএব, আদালত যখন কোনো বিবাহকে dissolve বা annul করে ( ভেঙে) দেয়, তখন কেবল এই কথা বলা যে আমরা তিন মাসের মধ্যে রুজু করে নিয়েছি, শরিয়তের দৃষ্টিতে কার্যকর হয় না। কারণ রুজু তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন রুজুর অধিকার বিদ্যমান থাকে; আর এখানে সে অধিকার ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এখন দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো নতুন করে নিকাহ সম্পন্ন করা, নতুন ইজাব-কবুল, নতুন মোহর নির্ধারণ এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে। নতুন আকদ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদা ফিরে আসে না।
যদি নারী ও পুরুষ উভয়েই এই শরিয়তসম্মত বিধান সম্পর্কে অবগত না থাকেন এবং ইদ্দতের মধ্যে রুজু হয়ে যায়, এই ধারণায় একসঙ্গে থাকা শুরু করে দেন, তবে বিষয়টি অজ্ঞতাবশত ঘটেছে। এমন অজ্ঞতার কারণে তাদেরকে ইচ্ছাকৃত গুনাহগার বলা হবে না। তবে সত্য যখন স্পষ্ট হয়ে যাবে, তখন আর বিলম্বের সুযোগ নেই। তাদের কর্তব্য হলো আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করা এবং অবিলম্বে শরিয়তের ভিত্তিতে নিজেদের সম্পর্ক সঠিক করা, অর্থাৎ নিয়মমাফিক পুনরায় নিকাহ করা। পূর্ববর্তী সময়টিকে কু-নিয়তের ওপর আরোপ করা হবে না; কিন্তু ভবিষ্যতে সঠিক পদ্ধতির অনুসরণ অবশ্যই জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যে দেশে তারা বসবাস করেন, সেখানকার আইনব্যবস্থা সাধারণত শরিয়তসম্মত নিকাহকেই যথেষ্ট বলে গণ্য করে না, বিশেষত যখন আদালত ইতোমধ্যেই সেই সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছে। তাই তারা যদি আবার একসঙ্গে থাকতে চান, তবে কেবল শরিয়তসম্মত নতুন নিকাহই নয়, বরং আইনি দিক থেকেও বিবাহ নিবন্ধন করা প্রয়োজন। এতে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার, বাসস্থান, উত্তরাধিকার, ভরণপোষণ, কর, চিকিৎসা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা সুরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো যায়।
সারকথা:
আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিকাহ তালাকে বাইন হিসেবে শেষ হয়ে গিয়েছিল। এর পর স্বামীর কথায় বা কাজে কোনো রুজু শরিয়তসম্মত নয়। পুনরায় স্বামী-স্ত্রী হতে হলে নতুন নিকাহ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে সেই নতুন নিকাহ নিবন্ধন করাও অপরিহার্য। অজ্ঞতার কারণে যা ঘটেছে, তার জন্য তওবা করা হবে; তবে এখন থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতিতে দাম্পত্য সম্পর্ক পুনর্গঠন করাই আবশ্যক।
-----------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
|০৭| ফেব্রুয়ারি |২০২৬|
❖ প্রশ্ন:
যদি কোনো ব্যক্তি প্রথমে শরিয়তসম্মতভাবে নিকাহ সম্পন্ন করেন, পরে ইংলিশ আইনের অধীনে সিভিল ম্যারেজ নিবন্ধন করান, অতঃপর ইংলিশ আইনের অধীনেই সিভিল ডিভোর্স গ্রহণ করেন, তাহলে এই অবস্থায় কি শরিয়তসম্মত নিকাহ বহাল থাকে, নাকি তা ভেঙে যায়?
বিশেষ করে যদি তিনি তিন মাসের ভেতর রুজু করে নেন, অর্থাৎ আবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে শরিয়তের হুকুম কী হবে?
আর যদি শরিয়তসম্মত নিকাহ বহাল না থাকে, তবে এমন পরিস্থিতিতে শরিয়তের নির্দেশনা কী? যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই এই বিধান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং অজ্ঞতাবশত রুজু করে নিয়েছেন।
❖ উত্তর:
যদি কোনো নারী ও পুরুষের মধ্যে শরিয়তসম্মতভাবে সহিহ নিকাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে, পরে তারা রাষ্ট্রীয় আইনের শর্ত পূরণ করতে সিভিল ম্যারেজও নিবন্ধন করান, এবং পরবর্তীতে আদালত নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই বিবাহ বাতিল করে দেয়, তাহলে একে এভাবে ধরে নেওয়া যে নিকাহ আগের মতোই বহাল আছে, কিংবা স্বামীর আগের মতো রুজুর অধিকার রয়েছে, এটি সঠিক নয়।
ফিকহের মৌলিক নীতিমালা হলো: কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ বা আদালত যখন নিকাহ ভেঙে দেয়, তখন তা কেবল সাময়িক বিচ্ছেদ থাকে না; বরং স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। এটি সেই তালাক নয় যাকে তালাকে রাজঈ বলা হয়, যেখানে স্বামী ইদ্দতের মধ্যে নতুন নিকাহ ছাড়াই স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারেন। বরং এটি বিচ্ছেদের এমন এক রূপ, যা ফিকহের পরিভাষায় তালাকে বাইন-এর অন্তর্ভুক্ত। তালাকে বাইন-এর ক্ষেত্রে স্বামীর আর রুজুর অধিকার অবশিষ্ট থাকে না—না কথার মাধ্যমে, না একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তে, না দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার দ্বারা।
অতএব, আদালত যখন কোনো বিবাহকে dissolve বা annul করে ( ভেঙে) দেয়, তখন কেবল এই কথা বলা যে আমরা তিন মাসের মধ্যে রুজু করে নিয়েছি, শরিয়তের দৃষ্টিতে কার্যকর হয় না। কারণ রুজু তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন রুজুর অধিকার বিদ্যমান থাকে; আর এখানে সে অধিকার ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এখন দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো নতুন করে নিকাহ সম্পন্ন করা, নতুন ইজাব-কবুল, নতুন মোহর নির্ধারণ এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে। নতুন আকদ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদা ফিরে আসে না।
যদি নারী ও পুরুষ উভয়েই এই শরিয়তসম্মত বিধান সম্পর্কে অবগত না থাকেন এবং ইদ্দতের মধ্যে রুজু হয়ে যায়, এই ধারণায় একসঙ্গে থাকা শুরু করে দেন, তবে বিষয়টি অজ্ঞতাবশত ঘটেছে। এমন অজ্ঞতার কারণে তাদেরকে ইচ্ছাকৃত গুনাহগার বলা হবে না। তবে সত্য যখন স্পষ্ট হয়ে যাবে, তখন আর বিলম্বের সুযোগ নেই। তাদের কর্তব্য হলো আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করা এবং অবিলম্বে শরিয়তের ভিত্তিতে নিজেদের সম্পর্ক সঠিক করা, অর্থাৎ নিয়মমাফিক পুনরায় নিকাহ করা। পূর্ববর্তী সময়টিকে কু-নিয়তের ওপর আরোপ করা হবে না; কিন্তু ভবিষ্যতে সঠিক পদ্ধতির অনুসরণ অবশ্যই জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যে দেশে তারা বসবাস করেন, সেখানকার আইনব্যবস্থা সাধারণত শরিয়তসম্মত নিকাহকেই যথেষ্ট বলে গণ্য করে না, বিশেষত যখন আদালত ইতোমধ্যেই সেই সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছে। তাই তারা যদি আবার একসঙ্গে থাকতে চান, তবে কেবল শরিয়তসম্মত নতুন নিকাহই নয়, বরং আইনি দিক থেকেও বিবাহ নিবন্ধন করা প্রয়োজন। এতে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার, বাসস্থান, উত্তরাধিকার, ভরণপোষণ, কর, চিকিৎসা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা সুরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো যায়।
সারকথা:
আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিকাহ তালাকে বাইন হিসেবে শেষ হয়ে গিয়েছিল। এর পর স্বামীর কথায় বা কাজে কোনো রুজু শরিয়তসম্মত নয়। পুনরায় স্বামী-স্ত্রী হতে হলে নতুন নিকাহ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে সেই নতুন নিকাহ নিবন্ধন করাও অপরিহার্য। অজ্ঞতার কারণে যা ঘটেছে, তার জন্য তওবা করা হবে; তবে এখন থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতিতে দাম্পত্য সম্পর্ক পুনর্গঠন করাই আবশ্যক।
-----------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
❝কতিপয় আলিম বলেছেন, একজন মুসলিম নারীর জন্য আবশ্যক নিজের স্বামীর ব্যাপারে এসব দায়িত্ব পালন করা—
১. স্বামীর কাছে সর্বদা লজ্জাশীল ও শালীন থাকা।
২. স্বামীর সামনে চোখ নত রাখা।
৩. স্বামীর আদেশ মেনে চলা।
৪. স্বামী যখন কথা বলে, তখন চুপ থাকা।
৫. স্বামী আগমন করলে (তাঁকে সম্মানের সাথে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য) দাঁড়িয়ে যাওয়া।
৬. স্বামী যখন বাইরে বের হয়, তখন দাঁড়িয়ে যেয়ে তাঁকে এগিয়ে দেওয়া।
৭. স্বামী যখন ঘুমাতে যায়, তখন নিজেকে স্বামীর কাছে সমর্পণ করা।
৮. স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্বামীর বিছানা, সম্পদ ও গৃহের ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকতা না করা।
৯. স্বামীর জন্য (গৃহের ভেতরে) সুগন্ধি ব্যবহার করা।
১০. মেসওয়াক ও সুগন্ধির মাধ্যমে মুখের পরিচর্যা করা (যেন মুখ থেকে দুর্গন্ধ না বের হয়)।
১১. স্বামীর উপস্থিতিতে সর্বদা সৌন্দর্য বজায় রাখা।
১২. স্বামীর অনুপস্থিতিতে রূপচর্চা পরিহার করা।
১৩. স্বামীর পরিবার ও আত্মীয়দের সম্মান করা।
১৪. স্বামীর কাছ থেকে সামান্য কিছু পেলেও সেটাকে অনেক মনে করা।❞
— আল্লামা ইবনু হাজার আল-হাইতামি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৯৭৪ হি.)
·
উৎস : আহমাদ বিন মুহাম্মাদ ইবনু হাজার আল-হাইতামি, আজ-জাওয়াজির আন ইকতিরাফিল কাবায়ির (দামেস্ক : দারুল ফিকর, ১ম প্রকাশ, ১৪০৭ হি./১৯৮৭ খ্রি.), খ. ২, পৃ. ৭৭।
- সংগৃহীত: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ মৃধা
১. স্বামীর কাছে সর্বদা লজ্জাশীল ও শালীন থাকা।
২. স্বামীর সামনে চোখ নত রাখা।
৩. স্বামীর আদেশ মেনে চলা।
৪. স্বামী যখন কথা বলে, তখন চুপ থাকা।
৫. স্বামী আগমন করলে (তাঁকে সম্মানের সাথে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য) দাঁড়িয়ে যাওয়া।
৬. স্বামী যখন বাইরে বের হয়, তখন দাঁড়িয়ে যেয়ে তাঁকে এগিয়ে দেওয়া।
৭. স্বামী যখন ঘুমাতে যায়, তখন নিজেকে স্বামীর কাছে সমর্পণ করা।
৮. স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্বামীর বিছানা, সম্পদ ও গৃহের ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকতা না করা।
৯. স্বামীর জন্য (গৃহের ভেতরে) সুগন্ধি ব্যবহার করা।
১০. মেসওয়াক ও সুগন্ধির মাধ্যমে মুখের পরিচর্যা করা (যেন মুখ থেকে দুর্গন্ধ না বের হয়)।
১১. স্বামীর উপস্থিতিতে সর্বদা সৌন্দর্য বজায় রাখা।
১২. স্বামীর অনুপস্থিতিতে রূপচর্চা পরিহার করা।
১৩. স্বামীর পরিবার ও আত্মীয়দের সম্মান করা।
১৪. স্বামীর কাছ থেকে সামান্য কিছু পেলেও সেটাকে অনেক মনে করা।❞
— আল্লামা ইবনু হাজার আল-হাইতামি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৯৭৪ হি.)
·
উৎস : আহমাদ বিন মুহাম্মাদ ইবনু হাজার আল-হাইতামি, আজ-জাওয়াজির আন ইকতিরাফিল কাবায়ির (দামেস্ক : দারুল ফিকর, ১ম প্রকাশ, ১৪০৭ হি./১৯৮৭ খ্রি.), খ. ২, পৃ. ৭৭।
- সংগৃহীত: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ মৃধা
প্রতিটি সুস্থ মানুষেরই জীবনের অনেক বড় এক কৌতুহল ও আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকে নিজের জীবনসঙ্গী নিয়ে। জীবনে সবাই এমন একজন সঙ্গী চায়, যে তার জীবনকে পূর্ণতা দেবে।
বর্তমান সেল্ফ ডেভেলপমেন্ট জগতে “ল অব অ্যাট্রাকশন” নামে একটি ধারণা জনপ্রিয়। যেখানে বলা হয়, মানুষ তার চিন্তা, মানসিকতা ও অভ্যন্তরীণ অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জিনিসকেই জীবনে আকর্ষণ করে। ল অব অ্যাট্রাকশন কি মানুষের ক্ষেত্রে কাজ করে? জীবনে কি নির্দিষ্ট রকম একজন মানুষকে আকর্ষণ করা সম্ভব?
হ্যাঁ, সম্ভব। তবে এটি কোনো গুপ্ত জাদু নয়; বরং একটি মানসিক ও সচেতন প্রক্রিয়া, যা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে।
অনেকের কাছে এগুলো অদ্ভুত বা অবাস্তব মনে হতে পারে। কিন্তু সেরকম কিছু না এটা।
মানুষকে প্রথমেই নিজের নিয়ত ও হৃদয় ঠিক করতে হবে। কারণ একজন মানুষ যেমন চিন্তা করে, যেমন বিশ্বাস ধারণ করে এবং নিজের চরিত্রকে যেমন গড়ে তোলে—তার সিদ্ধান্ত, আচরণ ও সম্পর্কও ধীরে ধীরে তেমন হয়ে ওঠে। তাই তুমি যদি জীবনে একজন ভালো, দয়ালু, দায়িত্বশীল ও পবিত্র মানুষকে সঙ্গী হিসেবে চাও, তাহলে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—আমি নিজে কি সেই গুণগুলোর দিকে এগোচ্ছি বা ধারণ করছি?
তুমি যদি দয়ালু মানুষ চাও, তাহলে নিজের ভেতরেও সেই দয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তুমি যদি যত্নশীল, সহানুভূতিশীল মানুষ চাও, তাহলে সেই গুণগুলো নিজেকে ধারণ করতে হবে।
তবে কখনোই নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির কল্পনা করা যাবে না। কারণ এতে অন্য কারও মানসিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়। অনেক মানুষ প্রায়ই নির্দিষ্ট কাউকে পাওয়ার নেশায় ডুবে যায়। কিন্তু কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা বা কারও হৃদয় নিজের ইচ্ছামতো বদলানোর চেষ্টাটা সঠিক নয়!
যদি তোমার জীবনে এমন মানুষ আসে যাদের তুমি চাও না, তাহলে অন্যকে নয়, তোমার নিজেকেই দেখতে হবে। কারণ তুমি কেবল নিজেকেই বদলাতে পারো; অন্য কাউকে নয়। আর যখন মানুষ উপলব্ধি করে নিজেকে বদলানোই তো কত কঠিন, তখন সে অন্যকে বদলানোর চেষ্টা করা বন্ধ করে দেয়।
হৃদয়ের মালিক একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। আমরা কারও মন পরিবর্তন করতে পারি না; আমরা কেবল নিজের চরিত্র, আচরণ ও নিয়তকে উন্নত ও শুদ্ধ করতে পারি। যখন একজন মানুষ নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, নিজের চরিত্র সুন্দর করে এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, তখন সৃষ্টিকর্তাই তার জন্য উপযুক্ত মানুষ ও উপযুক্ত পরিস্থিতির দরজা খুলে দেন।
ধরা যাক, তুমি এমন একজন জীবনসঙ্গী চাও যিনি রোম্যান্টিক, পবিত্র, শান্ত, সহানুভূতিশীল, মানসিকভাবে ম্যাচিউর এবং ধার্মিক। তাহলে শুধু সেই মানুষকে কল্পনা করাই যথেষ্ট নয়; বরং নিজেকেও সেই মানসিকতা ও চরিত্রের দিকে নিয়ে যেতে হবে। কারণ সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক সামঞ্জস্য থেকে। ভালো মানুষ শুধু ভালো মানুষের সঙ্গেই মানানসই হয়।
প্রথমে একটি কাগজে একটি বৃত্ত আঁকতে হবে। সেই বৃত্তের ভেতরে লিখতে হবে “আমার মানুষ” অথবা “আমার জীবনসঙ্গী/সঙ্গিনী”। সে হচ্ছে তোমার প্রতিকী জীবনসঙ্গী। এরপর বৃত্ত থেকে চারদিকে অনেকগুলো লাইন বের করে প্রতিটি লাইনে লিখতে হবে সেই মানুষের গুণগুলো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তুমি কেমন মানুষ চাও, সেটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা। প্রথম গুণ হওয়া উচিত স্বাধীনতা। কারণ যে ব্যক্তি নিজে স্বাধীন নয়, সে অন্য কাউকেও স্বাধীনভাবে বাঁচতে দেয় না। তারপর মানুষটা সুখী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কেউই দুঃখী মানসিকতার মানুষের সঙ্গে জীবন কাটাতে চায় না।
লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, বরং তার গুণাবলি। নিয়মিত সেই গুণগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। যেমন—সৌন্দর্য, প্রেম, সুস্বাস্থ্য, প্রাণবন্ততা, ইতিবাচক উপস্থিতি, ব্যক্তিত্ব, আর্থিক স্বনির্ভরতা, কোনো জটিলতা না থাকা, ব্যক্তিগত উন্নতির প্রতি আগ্রহ ইত্যাদি। তুমি শুধু সেই গুণগুলোর মধ্যেই নিজেকে উৎসর্গ করবে যেন তোমার জীবনে সেগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কেউ আসে।
এরপর আসে মেন্টাল প্র্যাক্টিস। কল্পনায় নিজেকে সেই মানুষের সঙ্গে দেখতে হবে। ধীরে ধীরে একটি পূর্ণ মানসিক চিত্র তৈরি হবে। তারপর মানসিকভাবে সেই ব্যক্তির সঙ্গে জীবনযাপন শুরু করতে হবে—কল্পনায় হাঁটা, কথা বলা, একসঙ্গে খাওয়া, আলাপ করা। এই প্র্যাক্টিস কাউকে জানানো উচিত নয়; এটি তোমার প্রাইভেট বিষয়।
কল্পনাশক্তি এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন তুমি বারবার নিজের জীবনের লক্ষ্য, মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষিত গুণাবলি নিয়ে ভাবো, তখন তোমার সিদ্ধান্তগুলো বদলাতে শুরু করে। তুমি ভিন্নভাবে মানুষ নির্বাচন করো, ভিন্ন পরিবেশে চলাফেরা করো এবং সাবকনশাসলি এমন পথে চলো যা তোমাকে তোমার কাঙ্ক্ষিত জীবনের দিকে নিয়ে যায়। একে কেউ মেন্টাল ভাইব্রেশন বলে, কেউ অভ্যাসের পরিবর্তন বলে, আবার নিয়ত পরিশুদ্ধির ফলও বলা যায়।
বর্তমান সেল্ফ ডেভেলপমেন্ট জগতে “ল অব অ্যাট্রাকশন” নামে একটি ধারণা জনপ্রিয়। যেখানে বলা হয়, মানুষ তার চিন্তা, মানসিকতা ও অভ্যন্তরীণ অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জিনিসকেই জীবনে আকর্ষণ করে। ল অব অ্যাট্রাকশন কি মানুষের ক্ষেত্রে কাজ করে? জীবনে কি নির্দিষ্ট রকম একজন মানুষকে আকর্ষণ করা সম্ভব?
হ্যাঁ, সম্ভব। তবে এটি কোনো গুপ্ত জাদু নয়; বরং একটি মানসিক ও সচেতন প্রক্রিয়া, যা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে।
অনেকের কাছে এগুলো অদ্ভুত বা অবাস্তব মনে হতে পারে। কিন্তু সেরকম কিছু না এটা।
মানুষকে প্রথমেই নিজের নিয়ত ও হৃদয় ঠিক করতে হবে। কারণ একজন মানুষ যেমন চিন্তা করে, যেমন বিশ্বাস ধারণ করে এবং নিজের চরিত্রকে যেমন গড়ে তোলে—তার সিদ্ধান্ত, আচরণ ও সম্পর্কও ধীরে ধীরে তেমন হয়ে ওঠে। তাই তুমি যদি জীবনে একজন ভালো, দয়ালু, দায়িত্বশীল ও পবিত্র মানুষকে সঙ্গী হিসেবে চাও, তাহলে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—আমি নিজে কি সেই গুণগুলোর দিকে এগোচ্ছি বা ধারণ করছি?
তুমি যদি দয়ালু মানুষ চাও, তাহলে নিজের ভেতরেও সেই দয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তুমি যদি যত্নশীল, সহানুভূতিশীল মানুষ চাও, তাহলে সেই গুণগুলো নিজেকে ধারণ করতে হবে।
তবে কখনোই নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির কল্পনা করা যাবে না। কারণ এতে অন্য কারও মানসিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়। অনেক মানুষ প্রায়ই নির্দিষ্ট কাউকে পাওয়ার নেশায় ডুবে যায়। কিন্তু কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা বা কারও হৃদয় নিজের ইচ্ছামতো বদলানোর চেষ্টাটা সঠিক নয়!
যদি তোমার জীবনে এমন মানুষ আসে যাদের তুমি চাও না, তাহলে অন্যকে নয়, তোমার নিজেকেই দেখতে হবে। কারণ তুমি কেবল নিজেকেই বদলাতে পারো; অন্য কাউকে নয়। আর যখন মানুষ উপলব্ধি করে নিজেকে বদলানোই তো কত কঠিন, তখন সে অন্যকে বদলানোর চেষ্টা করা বন্ধ করে দেয়।
হৃদয়ের মালিক একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। আমরা কারও মন পরিবর্তন করতে পারি না; আমরা কেবল নিজের চরিত্র, আচরণ ও নিয়তকে উন্নত ও শুদ্ধ করতে পারি। যখন একজন মানুষ নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, নিজের চরিত্র সুন্দর করে এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, তখন সৃষ্টিকর্তাই তার জন্য উপযুক্ত মানুষ ও উপযুক্ত পরিস্থিতির দরজা খুলে দেন।
ধরা যাক, তুমি এমন একজন জীবনসঙ্গী চাও যিনি রোম্যান্টিক, পবিত্র, শান্ত, সহানুভূতিশীল, মানসিকভাবে ম্যাচিউর এবং ধার্মিক। তাহলে শুধু সেই মানুষকে কল্পনা করাই যথেষ্ট নয়; বরং নিজেকেও সেই মানসিকতা ও চরিত্রের দিকে নিয়ে যেতে হবে। কারণ সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক সামঞ্জস্য থেকে। ভালো মানুষ শুধু ভালো মানুষের সঙ্গেই মানানসই হয়।
প্রথমে একটি কাগজে একটি বৃত্ত আঁকতে হবে। সেই বৃত্তের ভেতরে লিখতে হবে “আমার মানুষ” অথবা “আমার জীবনসঙ্গী/সঙ্গিনী”। সে হচ্ছে তোমার প্রতিকী জীবনসঙ্গী। এরপর বৃত্ত থেকে চারদিকে অনেকগুলো লাইন বের করে প্রতিটি লাইনে লিখতে হবে সেই মানুষের গুণগুলো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তুমি কেমন মানুষ চাও, সেটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা। প্রথম গুণ হওয়া উচিত স্বাধীনতা। কারণ যে ব্যক্তি নিজে স্বাধীন নয়, সে অন্য কাউকেও স্বাধীনভাবে বাঁচতে দেয় না। তারপর মানুষটা সুখী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কেউই দুঃখী মানসিকতার মানুষের সঙ্গে জীবন কাটাতে চায় না।
লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, বরং তার গুণাবলি। নিয়মিত সেই গুণগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। যেমন—সৌন্দর্য, প্রেম, সুস্বাস্থ্য, প্রাণবন্ততা, ইতিবাচক উপস্থিতি, ব্যক্তিত্ব, আর্থিক স্বনির্ভরতা, কোনো জটিলতা না থাকা, ব্যক্তিগত উন্নতির প্রতি আগ্রহ ইত্যাদি। তুমি শুধু সেই গুণগুলোর মধ্যেই নিজেকে উৎসর্গ করবে যেন তোমার জীবনে সেগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কেউ আসে।
এরপর আসে মেন্টাল প্র্যাক্টিস। কল্পনায় নিজেকে সেই মানুষের সঙ্গে দেখতে হবে। ধীরে ধীরে একটি পূর্ণ মানসিক চিত্র তৈরি হবে। তারপর মানসিকভাবে সেই ব্যক্তির সঙ্গে জীবনযাপন শুরু করতে হবে—কল্পনায় হাঁটা, কথা বলা, একসঙ্গে খাওয়া, আলাপ করা। এই প্র্যাক্টিস কাউকে জানানো উচিত নয়; এটি তোমার প্রাইভেট বিষয়।
কল্পনাশক্তি এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন তুমি বারবার নিজের জীবনের লক্ষ্য, মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষিত গুণাবলি নিয়ে ভাবো, তখন তোমার সিদ্ধান্তগুলো বদলাতে শুরু করে। তুমি ভিন্নভাবে মানুষ নির্বাচন করো, ভিন্ন পরিবেশে চলাফেরা করো এবং সাবকনশাসলি এমন পথে চলো যা তোমাকে তোমার কাঙ্ক্ষিত জীবনের দিকে নিয়ে যায়। একে কেউ মেন্টাল ভাইব্রেশন বলে, কেউ অভ্যাসের পরিবর্তন বলে, আবার নিয়ত পরিশুদ্ধির ফলও বলা যায়।
❤1👍1
এই প্র্যাক্টিসের মাধ্যমে তুমি কল্পনায় সেই সম্পর্কের অভিজ্ঞতা অনুভব করতে থাকো—হাঁটা, কথা বলা, সময় কাটানো, জীবনের মুহূর্তগুলোও মানসিকভাবে উপলব্ধি করা। ধীরে ধীরে এই মানসিক বাস্তবতা তোমার আচরণ, আত্মবিশ্বাস এবং সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। আর একসময় দেখা যায়, ঠিক সেই ধরনের একজন মানুষ তোমার বাস্তব জীবনেই এসে উপস্থিত হয়।
তাই শুধু উদ্দেশ্যহীন অপেক্ষা করা নয়; বরং নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা এবং ফলাফল সৃষ্টিকর্তার হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। তুমি নিজের চরিত্র উন্নত করবে, নিজের জীবনকে সুশৃঙ্খলিত করবে, ইতিবাচক চিন্তা রাখবে এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে ভাল কিছু চাইবে। এরপর যা তোমার জন্য কল্যাণকর, সেটাই তোমার জীবনে আসবে—সম্ভবত এমনভাবে, যা তুমি কল্পনাও করোনি।
সত্যটা খুব সিম্পল। মানুষ যা পেতে চায়, তার আগে তাকে সেটার যোগ্য হওয়ার চেষ্টা করতে হয়। তুমি যদি শান্তি চাও, আগে নিজের ভেতরে শান্তি তৈরি করো। তুমি যদি ভালোবাসা চাও, আগে ভালো মানুষ হও। কারণ যখন অন্তর বদলায়, তখনই জীবনের বাস্তবতাও বদলাতে শুরু করে। আর সেই পরিবর্তনের পথেই মানুষ খুঁজে পায় সঠিক মানুষ, সঠিক সময় এবং সঠিক নিয়তি। রেজাল্ট আসার মধ্যে যে সময় বা বিলম্বটুকু আছে সেটা হচ্ছে ইলিউশান! যা একসময় কেটে যায়। তাই তুমি হতাশ হয়ে বা অস্থির হয়ে নিজেকে নেগেটিভ কিছু করবে না।
Red Pill 2
তাই শুধু উদ্দেশ্যহীন অপেক্ষা করা নয়; বরং নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা এবং ফলাফল সৃষ্টিকর্তার হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। তুমি নিজের চরিত্র উন্নত করবে, নিজের জীবনকে সুশৃঙ্খলিত করবে, ইতিবাচক চিন্তা রাখবে এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে ভাল কিছু চাইবে। এরপর যা তোমার জন্য কল্যাণকর, সেটাই তোমার জীবনে আসবে—সম্ভবত এমনভাবে, যা তুমি কল্পনাও করোনি।
সত্যটা খুব সিম্পল। মানুষ যা পেতে চায়, তার আগে তাকে সেটার যোগ্য হওয়ার চেষ্টা করতে হয়। তুমি যদি শান্তি চাও, আগে নিজের ভেতরে শান্তি তৈরি করো। তুমি যদি ভালোবাসা চাও, আগে ভালো মানুষ হও। কারণ যখন অন্তর বদলায়, তখনই জীবনের বাস্তবতাও বদলাতে শুরু করে। আর সেই পরিবর্তনের পথেই মানুষ খুঁজে পায় সঠিক মানুষ, সঠিক সময় এবং সঠিক নিয়তি। রেজাল্ট আসার মধ্যে যে সময় বা বিলম্বটুকু আছে সেটা হচ্ছে ইলিউশান! যা একসময় কেটে যায়। তাই তুমি হতাশ হয়ে বা অস্থির হয়ে নিজেকে নেগেটিভ কিছু করবে না।
Red Pill 2
১. ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে হিজামা
হিজামা শুধু একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নয়—এটি একটি সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসা।
🔹 রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের চিকিৎসার মধ্যে উত্তম হলো—হিজামা।”
— সহীহ বুখারী
🔹 আরেক হাদিসে এসেছে:
“যে রাতে আমাকে মিরাজে নেওয়া হয়েছিল, প্রত্যেক ফেরেশতা আমাকে বলেছিলেন—হে মুহাম্মাদ, আপনার উম্মতকে হিজামার নির্দেশ দিন।”
— সুনান ইবনে মাজাহ
👉 অর্থাৎ, হিজামা শুধু দেহের চিকিৎসা নয়, বরং এটি সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে ইবাদতের সওয়াবও এনে দেয়।
** ২. বিজ্ঞান কী বলে?
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে হিজামাকে বলা হয় Cupping Therapy।
*** গবেষণায় যা পাওয়া গেছে:
✅ রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে – ক্ষতস্থানে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়
✅ টক্সিন ও মেটাবলিক বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে
✅ মাইগ্রেন ও টেনশন হেডেক কমাতে কার্যকর
✅ লো-ব্যাক পেইন ও জয়েন্ট পেইনে উপকারী
✅ হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
✅ শরীরে ইমিউন রেসপন্স বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে
***বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে (যেমন PubMed-এ প্রকাশিত স্টাডি) দেখা গেছে—
Cupping therapy শরীরের inflammatory markers কমাতে এবং muscle relaxation-এ সহায়ক।
*** কীভাবে কাজ করে?
হিজামা মূলত দুইভাবে কাজ করে:
1. Negative Pressure তৈরি করে – কাপের মাধ্যমে রক্ত উপরের দিকে টেনে আনে
2. Cupping-এ সামান্য কাটা দিয়ে জমে থাকা রক্ত বের করা হয়
এর ফলে:
জমাট রক্ত সরে যায়
স্থানীয় টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে
নার্ভ সিগন্যালিং উন্নত হয়
* অবশ্যই প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ হিজামা থেরাপিস্ট বা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করতে হবে।
** ইসলামী ও বৈজ্ঞানিক সমন্বয়
হিজামা হলো এমন একটি চিকিৎসা—
যেখানে সুন্নাহ ও বিজ্ঞান এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে।
*** আপনি যদি নিয়ত করেন—
“আমি সুন্নাহ পালনের জন্য এবং শরীর সুস্থ রাখার জন্য হিজামা করছি”—
তাহলে এটি ইবাদতও, চিকিৎসাও।
***“যে চিকিৎসা নবীর সুন্নাহ, সেটাই আজ আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত—আপনি কি এখনো হিজামা নিয়ে সন্দিহান?”
বি:দ্র:আমাদের কোন হিজামা সেন্টার নেই।
হিজামা শুধু একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নয়—এটি একটি সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসা।
🔹 রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের চিকিৎসার মধ্যে উত্তম হলো—হিজামা।”
— সহীহ বুখারী
🔹 আরেক হাদিসে এসেছে:
“যে রাতে আমাকে মিরাজে নেওয়া হয়েছিল, প্রত্যেক ফেরেশতা আমাকে বলেছিলেন—হে মুহাম্মাদ, আপনার উম্মতকে হিজামার নির্দেশ দিন।”
— সুনান ইবনে মাজাহ
👉 অর্থাৎ, হিজামা শুধু দেহের চিকিৎসা নয়, বরং এটি সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে ইবাদতের সওয়াবও এনে দেয়।
** ২. বিজ্ঞান কী বলে?
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে হিজামাকে বলা হয় Cupping Therapy।
*** গবেষণায় যা পাওয়া গেছে:
✅ রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে – ক্ষতস্থানে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়
✅ টক্সিন ও মেটাবলিক বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে
✅ মাইগ্রেন ও টেনশন হেডেক কমাতে কার্যকর
✅ লো-ব্যাক পেইন ও জয়েন্ট পেইনে উপকারী
✅ হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
✅ শরীরে ইমিউন রেসপন্স বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে
***বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে (যেমন PubMed-এ প্রকাশিত স্টাডি) দেখা গেছে—
Cupping therapy শরীরের inflammatory markers কমাতে এবং muscle relaxation-এ সহায়ক।
*** কীভাবে কাজ করে?
হিজামা মূলত দুইভাবে কাজ করে:
1. Negative Pressure তৈরি করে – কাপের মাধ্যমে রক্ত উপরের দিকে টেনে আনে
2. Cupping-এ সামান্য কাটা দিয়ে জমে থাকা রক্ত বের করা হয়
এর ফলে:
জমাট রক্ত সরে যায়
স্থানীয় টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে
নার্ভ সিগন্যালিং উন্নত হয়
* অবশ্যই প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ হিজামা থেরাপিস্ট বা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করতে হবে।
** ইসলামী ও বৈজ্ঞানিক সমন্বয়
হিজামা হলো এমন একটি চিকিৎসা—
যেখানে সুন্নাহ ও বিজ্ঞান এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে।
*** আপনি যদি নিয়ত করেন—
“আমি সুন্নাহ পালনের জন্য এবং শরীর সুস্থ রাখার জন্য হিজামা করছি”—
তাহলে এটি ইবাদতও, চিকিৎসাও।
***“যে চিকিৎসা নবীর সুন্নাহ, সেটাই আজ আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত—আপনি কি এখনো হিজামা নিয়ে সন্দিহান?”
বি:দ্র:আমাদের কোন হিজামা সেন্টার নেই।
👍1
কাদেরিয়া তরীকার প্রবর্তক সৈয়্যদনা বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর শিক্ষা ও দর্শনে পরকালীন প্রতিটি বিষয়ের একটি গভীর আধ্যাত্মিক ও রূহানি তাৎপর্য রয়েছে। কাদেরিয়া তরীকার দৃষ্টিতে পুলসিরাত কেবল একটি বাহ্যিক সেতু নয়, বরং এটি মানুষের রূহানি পূর্ণতা অর্জনের চূড়ান্ত পরীক্ষা।
পুলসিরাত কেবল পরকালের একটি সেতু নয়, বরং এটি ইহকালে আমাদের নফস বা কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক পরম পরীক্ষা। কাদেরিয়া তরীকার মহান ইমাম, গাউসুল আজম হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) শিখিয়েছেন— যে ব্যক্তি দুনিয়াতে শরীয়ত ও তরিকতের সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে পারবে, পরকালে তার জন্য পুলসিরাত হবে বিদ্যুতের মতো দ্রুত এবং আলোকোজ্জ্বল।
১. দুনিয়াই হলো রূহানি পুলসিরাত
কাদেরিয়া তরীকার মূল দর্শন হলো 'শরীয়ত' ও 'তরিকত'-এর সুসমন্বয়। বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'ফুতুহুল গায়ব' ও 'গুনিয়াতুত ত্বলিবীন'-এ গুরুত্ব দিয়েছেন যে, একজন মুমিন দুনিয়াতে থাকাকালীন শরীয়তের প্রতিটি হুকুম পালনের মাধ্যমে যে কঠিন পথ অতিক্রম করে, সেটিই হলো তার রূহানি পুলসিরাত।
যদি কেউ দুনিয়াতে প্রবৃত্তির (নফস) প্রলোভন থেকে বেঁচে শরীয়তের সূক্ষ্ম পথে চলতে পারে, তবে পরকালে তার জন্য সেই সেতুটি প্রশস্ত হয়ে যাবে।
২. ভারসাম্যই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি
পুলসিরাতকে বলা হয় চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম এবং তলোয়ারের চেয়ে ধারালো। কাদেরিয়া তরীকার ব্যাখ্যায় এর অর্থ হলো— আধ্যাত্মিক জীবনে 'ইফরাত' (সীমালঙ্ঘন) এবং 'তাফরিত' (শিথিলতা) এই দুইয়ের মাঝামাঝি থাকা।
অত্যধিক বৈরাগ্য অবলম্বন করে দুনিয়া ত্যাগ করা (যাতে হক্ব নষ্ট হয়)।
আবার দুনিয়াতে নিমজ্জিত হয়ে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া। এই দুই প্রান্তের মাঝে যে সূক্ষ্ম ভারসাম্যের পথ, তাই হলো প্রকৃত সিরাত।
৩. নফসের সাথে জিহাদ ও পুলসিরাত
বড় পীর (রহ.) শিখিয়েছেন, মানুষের নফস বা কুপ্রবৃত্তি হলো সেই জাহান্নাম যার ওপর দিয়ে রূহকে জান্নাতের দিকে যেতে হয়।
নফসে আম্মারা: এটি মানুষকে নিচের দিকে (জাহান্নামে) টেনে নামাতে চায়।
নফসে মুতমাইন্না: এটি মুমিনকে পুলসিরাতের ওপর দিয়ে বাতাসের গতিতে পার করে দেয়। কাদেরিয়া তরীকার জিকির ও সাধনার মাধ্যমে যখন নফস পবিত্র হয়, তখন পুলসিরাতের সেই অন্ধকার পথ আল্লাহর 'নূর'-এ আলোকিত হয়ে যায়।
৪. পীরের ফয়েজ ও শাফায়াত
কাদেরিয়া তরীকার অনুসারীরা বিশ্বাস করেন যে, হাশরের সেই কঠিন দিনে কামেল পীর বা মুর্শিদের আধ্যাত্মিক সাহায্য (ফয়েজ) মুমিনকে সাহস জোগাবে।
বড় পীর (রহ.)-এর একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে— "আমার মুরিদ যদি প্রাচ্যে থাকে আর তার সতর (লজ্জা) উন্মোচিত হয়ে যায় এবং আমি প্রতীচ্যে থাকি, তবে আমি হাত বাড়িয়ে তার সতর ঢেকে দেব।" এই আধ্যাত্মিক অভিভাবকত্ব পুলসিরাত পার হওয়ার সময় মুমিনকে বিচলিত হতে দেয় না। তবে এর জন্য শর্ত হলো— মুমিনকে অবশ্যই পীরের দেখানো পথে (সুন্নাহর অনুসারী হয়ে) চলতে হবে।
৫. 'আনানিয়ত' বা অহংবোধ বিসর্জন
কাদেরিয়া তরীকার সারকথা হলো 'ফানা' হওয়া বা আল্লাহর কাছে নিজেকে বিলীন করা। পুলসিরাত দিয়ে কোনো 'ভারী' জিনিস পার হতে পারে না। এখানে 'ভার' মানে হলো গুনাহ এবং 'অহংকার'। যার ভেতর "আমি বড়" এই বোধ থাকে, সে পুলসিরাতের ভার সহ্য করতে পারে না। যে ব্যক্তি নিজেকে তুচ্ছ মনে করে এবং আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা করে, সে পালকের মতো হালকা হয়ে পুল পার হয়ে যায়।
....
পুলসিরাত কেবল পরকালের একটি সেতু নয়, বরং এটি ইহকালে আমাদের নফস বা কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক পরম পরীক্ষা। কাদেরিয়া তরীকার মহান ইমাম, গাউসুল আজম হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) শিখিয়েছেন— যে ব্যক্তি দুনিয়াতে শরীয়ত ও তরিকতের সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে পারবে, পরকালে তার জন্য পুলসিরাত হবে বিদ্যুতের মতো দ্রুত এবং আলোকোজ্জ্বল।
১. দুনিয়াই হলো রূহানি পুলসিরাত
কাদেরিয়া তরীকার মূল দর্শন হলো 'শরীয়ত' ও 'তরিকত'-এর সুসমন্বয়। বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'ফুতুহুল গায়ব' ও 'গুনিয়াতুত ত্বলিবীন'-এ গুরুত্ব দিয়েছেন যে, একজন মুমিন দুনিয়াতে থাকাকালীন শরীয়তের প্রতিটি হুকুম পালনের মাধ্যমে যে কঠিন পথ অতিক্রম করে, সেটিই হলো তার রূহানি পুলসিরাত।
যদি কেউ দুনিয়াতে প্রবৃত্তির (নফস) প্রলোভন থেকে বেঁচে শরীয়তের সূক্ষ্ম পথে চলতে পারে, তবে পরকালে তার জন্য সেই সেতুটি প্রশস্ত হয়ে যাবে।
২. ভারসাম্যই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি
পুলসিরাতকে বলা হয় চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম এবং তলোয়ারের চেয়ে ধারালো। কাদেরিয়া তরীকার ব্যাখ্যায় এর অর্থ হলো— আধ্যাত্মিক জীবনে 'ইফরাত' (সীমালঙ্ঘন) এবং 'তাফরিত' (শিথিলতা) এই দুইয়ের মাঝামাঝি থাকা।
অত্যধিক বৈরাগ্য অবলম্বন করে দুনিয়া ত্যাগ করা (যাতে হক্ব নষ্ট হয়)।
আবার দুনিয়াতে নিমজ্জিত হয়ে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া। এই দুই প্রান্তের মাঝে যে সূক্ষ্ম ভারসাম্যের পথ, তাই হলো প্রকৃত সিরাত।
৩. নফসের সাথে জিহাদ ও পুলসিরাত
বড় পীর (রহ.) শিখিয়েছেন, মানুষের নফস বা কুপ্রবৃত্তি হলো সেই জাহান্নাম যার ওপর দিয়ে রূহকে জান্নাতের দিকে যেতে হয়।
নফসে আম্মারা: এটি মানুষকে নিচের দিকে (জাহান্নামে) টেনে নামাতে চায়।
নফসে মুতমাইন্না: এটি মুমিনকে পুলসিরাতের ওপর দিয়ে বাতাসের গতিতে পার করে দেয়। কাদেরিয়া তরীকার জিকির ও সাধনার মাধ্যমে যখন নফস পবিত্র হয়, তখন পুলসিরাতের সেই অন্ধকার পথ আল্লাহর 'নূর'-এ আলোকিত হয়ে যায়।
৪. পীরের ফয়েজ ও শাফায়াত
কাদেরিয়া তরীকার অনুসারীরা বিশ্বাস করেন যে, হাশরের সেই কঠিন দিনে কামেল পীর বা মুর্শিদের আধ্যাত্মিক সাহায্য (ফয়েজ) মুমিনকে সাহস জোগাবে।
বড় পীর (রহ.)-এর একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে— "আমার মুরিদ যদি প্রাচ্যে থাকে আর তার সতর (লজ্জা) উন্মোচিত হয়ে যায় এবং আমি প্রতীচ্যে থাকি, তবে আমি হাত বাড়িয়ে তার সতর ঢেকে দেব।" এই আধ্যাত্মিক অভিভাবকত্ব পুলসিরাত পার হওয়ার সময় মুমিনকে বিচলিত হতে দেয় না। তবে এর জন্য শর্ত হলো— মুমিনকে অবশ্যই পীরের দেখানো পথে (সুন্নাহর অনুসারী হয়ে) চলতে হবে।
৫. 'আনানিয়ত' বা অহংবোধ বিসর্জন
কাদেরিয়া তরীকার সারকথা হলো 'ফানা' হওয়া বা আল্লাহর কাছে নিজেকে বিলীন করা। পুলসিরাত দিয়ে কোনো 'ভারী' জিনিস পার হতে পারে না। এখানে 'ভার' মানে হলো গুনাহ এবং 'অহংকার'। যার ভেতর "আমি বড়" এই বোধ থাকে, সে পুলসিরাতের ভার সহ্য করতে পারে না। যে ব্যক্তি নিজেকে তুচ্ছ মনে করে এবং আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা করে, সে পালকের মতো হালকা হয়ে পুল পার হয়ে যায়।
....
আপনার আশেপাশে এমন অনেক মানুষের দেখা পাবেন, যারা এই কথাগুলো বলতেই থাকে। ধরে নেবেন জীবনের প্রতি তাদের বিতৃষ্ণা এসে গেছে৷ ভালো থাকার আশা তারা ছেড়ে দিয়েছেন। এমন মানুষদের আপনি সাহায্য করুন৷
•
১. “যা হওয়ার তা-ই হবে”:
শুনে মনে হতে পারে তিনি পরিস্থিতি মেনে নিচ্ছেন, কিন্তু বারবার এটি বলার অর্থ হলো তিনি পরিস্থিতির উন্নতির আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে তার নিজের জীবন পরিবর্তন করার আর কোনো ক্ষমতা নেই।
২. “এখন আমার পরিবর্তনের বয়স নেই”:
এটি আসলে একটি অজুহাত। যখন কেউ নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, তখন তিনি বয়সকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। আসলে যেকোনো বয়সেই নিজেকে পরিবর্তন করা সম্ভব, কিন্তু হতাশ ব্যক্তি সেটা বিশ্বাস করতে চান না।
৩. “আমার আর কিছু যায় আসে না”:
এটি উদাসীনতার লক্ষণ। যখন একজন মানুষ বারবার আঘাত পান বা ব্যর্থ হন, তখন তিনি নিজেকে রক্ষা করার জন্য কোনো কিছুতেই গুরুত্ব না দেওয়ার অভিনয় করেন। আসলে তিনি ভেতর থেকে এতটাই ক্লান্ত যে নতুন করে কিছু অনুভব করার শক্তি পান না।
৪. “হয়তো অন্য কোনো জন্মে হবে”:
নিজের স্বপ্ন বা ইচ্ছাকে অসম্ভব মনে করে এই বাক্যটি বলা হয়। এর মাধ্যমে তিনি স্বীকার করে নিচ্ছেন যে এই জীবনে তার কাঙ্ক্ষিত সুখ পাওয়া আর সম্ভব নয়। এটি এক ধরণের দীর্ঘশ্বাস।
৫. “আমি শুধু একটু ক্লান্ত”:
এই ক্লান্তি শারীরিক নয়, বরং মানসিক। যখন কেউ বলেন তিনি ক্লান্ত, তখন আসলে তিনি বোঝাতে চান যে তিনি জীবন নিয়ে যুদ্ধ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছেন। ঘুমের মাধ্যমে এই ক্লান্তি দূর হয় না।
৬. “এতে কিছু যায় আসে না”:
এটি এক প্রকার নেতিবাচক দর্শন। ভালো কাজ বা সাফল্য—কোনো কিছুই তাকে আনন্দ দেয় না কারণ তিনি মনে করেন শেষ পর্যন্ত সবকিছুর ফল শূন্য। এই মানসিকতা তাকে কর্মস্পৃহা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
৭. “তোমাদের যা ভালো লাগে তা-ই করো”:
অতিরিক্ত নমনীয়তা সবসময় ভালো নয়। যখন একজন মানুষ নিজের পছন্দ-অপছন্দ জানানো বন্ধ করে দেন এবং অন্যের সিদ্ধান্তে সায় দেন, তখন বুঝতে হবে তিনি নিজের অস্তিত্ব বা মতামতের ওপর গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছেন।
৮. “সেই একই দিন, একই কাজ”:
জীবনকে যখন একটি একঘেয়ে চক্র মনে হয় এবং প্রতিদিনকে বোঝা মনে হয়, তখন মানুষ এই কথাটি বলে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে তার জীবনে কোনো নতুনত্ব বা আনন্দের জায়গা অবশিষ্ট নেই।
_______
যদি আপনি নিজের মধ্যে বা আপনার পরিচিত কারো মধ্যে এই কথাগুলো বারবার শুনতে পান, তবে তা অবহেলা করবেন না। এগুলো কেবল সাধারণ কথা নয়, বরং মনের গভীর থেকে আসা এক ধরণের সাহায্যের আর্তনাদ। সঠিক সচেতনতা এবং প্রয়োজনে থেরাপি বা প্রিয়জনের সাথে কথা বলার মাধ্যমে এই অবস্থা থেকে ফিরে আসা সম্ভব।
•
১. “যা হওয়ার তা-ই হবে”:
শুনে মনে হতে পারে তিনি পরিস্থিতি মেনে নিচ্ছেন, কিন্তু বারবার এটি বলার অর্থ হলো তিনি পরিস্থিতির উন্নতির আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে তার নিজের জীবন পরিবর্তন করার আর কোনো ক্ষমতা নেই।
২. “এখন আমার পরিবর্তনের বয়স নেই”:
এটি আসলে একটি অজুহাত। যখন কেউ নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, তখন তিনি বয়সকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। আসলে যেকোনো বয়সেই নিজেকে পরিবর্তন করা সম্ভব, কিন্তু হতাশ ব্যক্তি সেটা বিশ্বাস করতে চান না।
৩. “আমার আর কিছু যায় আসে না”:
এটি উদাসীনতার লক্ষণ। যখন একজন মানুষ বারবার আঘাত পান বা ব্যর্থ হন, তখন তিনি নিজেকে রক্ষা করার জন্য কোনো কিছুতেই গুরুত্ব না দেওয়ার অভিনয় করেন। আসলে তিনি ভেতর থেকে এতটাই ক্লান্ত যে নতুন করে কিছু অনুভব করার শক্তি পান না।
৪. “হয়তো অন্য কোনো জন্মে হবে”:
নিজের স্বপ্ন বা ইচ্ছাকে অসম্ভব মনে করে এই বাক্যটি বলা হয়। এর মাধ্যমে তিনি স্বীকার করে নিচ্ছেন যে এই জীবনে তার কাঙ্ক্ষিত সুখ পাওয়া আর সম্ভব নয়। এটি এক ধরণের দীর্ঘশ্বাস।
৫. “আমি শুধু একটু ক্লান্ত”:
এই ক্লান্তি শারীরিক নয়, বরং মানসিক। যখন কেউ বলেন তিনি ক্লান্ত, তখন আসলে তিনি বোঝাতে চান যে তিনি জীবন নিয়ে যুদ্ধ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছেন। ঘুমের মাধ্যমে এই ক্লান্তি দূর হয় না।
৬. “এতে কিছু যায় আসে না”:
এটি এক প্রকার নেতিবাচক দর্শন। ভালো কাজ বা সাফল্য—কোনো কিছুই তাকে আনন্দ দেয় না কারণ তিনি মনে করেন শেষ পর্যন্ত সবকিছুর ফল শূন্য। এই মানসিকতা তাকে কর্মস্পৃহা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
৭. “তোমাদের যা ভালো লাগে তা-ই করো”:
অতিরিক্ত নমনীয়তা সবসময় ভালো নয়। যখন একজন মানুষ নিজের পছন্দ-অপছন্দ জানানো বন্ধ করে দেন এবং অন্যের সিদ্ধান্তে সায় দেন, তখন বুঝতে হবে তিনি নিজের অস্তিত্ব বা মতামতের ওপর গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছেন।
৮. “সেই একই দিন, একই কাজ”:
জীবনকে যখন একটি একঘেয়ে চক্র মনে হয় এবং প্রতিদিনকে বোঝা মনে হয়, তখন মানুষ এই কথাটি বলে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে তার জীবনে কোনো নতুনত্ব বা আনন্দের জায়গা অবশিষ্ট নেই।
_______
যদি আপনি নিজের মধ্যে বা আপনার পরিচিত কারো মধ্যে এই কথাগুলো বারবার শুনতে পান, তবে তা অবহেলা করবেন না। এগুলো কেবল সাধারণ কথা নয়, বরং মনের গভীর থেকে আসা এক ধরণের সাহায্যের আর্তনাদ। সঠিক সচেতনতা এবং প্রয়োজনে থেরাপি বা প্রিয়জনের সাথে কথা বলার মাধ্যমে এই অবস্থা থেকে ফিরে আসা সম্ভব।
❤1
প্রতিদিনের জীবনকে আরও অর্থবহ করে তোলার জন্য সহজ কিছু কৌশলের কথা এখানে বলা হয়েছে।
•
১. দিনের শুরুতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন:
সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই নেতিবাচক চিন্তা না করে, আপনার জীবনের ভালো তিনটি জিনিসের কথা ভাবুন। এটি ছোট কোনো বিষয়ও হতে পারে, যেমন—ভালো এক কাপ চা বা সুন্দর আবহাওয়া। কৃতজ্ঞতা আপনার সারাদিনের মেজাজ ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করে।
২. উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ শুরু করুন:
সকালে নিজের কাছে নিজেই একটি প্রতিজ্ঞা করুন। যেমন—"আজ আমি সবার সাথে নম্রভাবে কথা বলব" অথবা "আজ আমি মন দিয়ে আমার কাজগুলো শেষ করব।" কোনো বড় লক্ষ্য নয়, বরং ছোট ছোট ভালো কাজের সংকল্প আপনার দিনটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।
৩. অন্যের উপকার করুন:
অন্যকে সাহায্য করলে নিজের মনে এক ধরণের তৃপ্তি আসে। এটি হতে পারে কাউকে একটি সুন্দর মেসেজ পাঠানো, কাউকে কোনো কাজে সাহায্য করা বা শুধু কাউকে দেখে হাসা। অন্যের মুখে হাসি ফোটানো জীবনকে অর্থবহ করার অন্যতম সেরা উপায়।
৪. কাজের মাঝে বিরতি নিন ও সচেতন থাকুন:
আমরা অনেক সময় রোবটের মতো কাজ করি। কাজের মাঝে মাঝে কিছুক্ষণ বিরতি নিন। গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং বর্তমানে কী ঘটছে তা অনুভব করার চেষ্টা করুন। একে 'মাইন্ডফুলনেস' বলে, যা মানসিক চাপ কমিয়ে শান্তি দেয়।
৫. নিজের প্রিয় কাজটির জন্য সময় রাখুন:
সারাদিন শুধু দায়িত্ব পালন না করে অন্তত ১০-১৫ মিনিট এমন কিছু করুন যা আপনি সত্যিই ভালোবাসেন। সেটা হতে পারে বই পড়া, গান শোনা, বাগান করা বা রান্না করা। এই ছোট আনন্দটুকু আপনাকে সতেজ রাখবে।
৬. মানুষের সাথে সংযোগ বাড়ান:
প্রিয়জন বা বন্ধুদের সাথে গুণগত সময় কাটান। কেবল কাজের কথা না বলে মনের কথা শেয়ার করুন। সামনাসামনি কথা বলা বা অন্তত ফোন করা আপনাকে একাকিত্ব থেকে মুক্তি দেবে এবং জীবনের অর্থ খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
৭. দিনশেষে নিজের পর্যালোচনা করুন:
ঘুমানোর আগে সারাদিন কী কী ভালো হলো তা একবার ভাবুন। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা থেকে শিক্ষা নিন এবং নিজের ছোট ছোট সাফল্যগুলোকে উদযাপন করুন। এটি আপনাকে আগামীকালের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করবে।
•
জীবনকে অর্থবহ করার জন্য অনেক বড় কিছু করার প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট অভ্যাস, সচেতনতা এবং অন্যের প্রতি ভালোবাসা আমাদের প্রতিটি দিনকে সুন্দর করে তুলতে পারে।
____
সূত্র: Real Simple
•
১. দিনের শুরুতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন:
সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই নেতিবাচক চিন্তা না করে, আপনার জীবনের ভালো তিনটি জিনিসের কথা ভাবুন। এটি ছোট কোনো বিষয়ও হতে পারে, যেমন—ভালো এক কাপ চা বা সুন্দর আবহাওয়া। কৃতজ্ঞতা আপনার সারাদিনের মেজাজ ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করে।
২. উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ শুরু করুন:
সকালে নিজের কাছে নিজেই একটি প্রতিজ্ঞা করুন। যেমন—"আজ আমি সবার সাথে নম্রভাবে কথা বলব" অথবা "আজ আমি মন দিয়ে আমার কাজগুলো শেষ করব।" কোনো বড় লক্ষ্য নয়, বরং ছোট ছোট ভালো কাজের সংকল্প আপনার দিনটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।
৩. অন্যের উপকার করুন:
অন্যকে সাহায্য করলে নিজের মনে এক ধরণের তৃপ্তি আসে। এটি হতে পারে কাউকে একটি সুন্দর মেসেজ পাঠানো, কাউকে কোনো কাজে সাহায্য করা বা শুধু কাউকে দেখে হাসা। অন্যের মুখে হাসি ফোটানো জীবনকে অর্থবহ করার অন্যতম সেরা উপায়।
৪. কাজের মাঝে বিরতি নিন ও সচেতন থাকুন:
আমরা অনেক সময় রোবটের মতো কাজ করি। কাজের মাঝে মাঝে কিছুক্ষণ বিরতি নিন। গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং বর্তমানে কী ঘটছে তা অনুভব করার চেষ্টা করুন। একে 'মাইন্ডফুলনেস' বলে, যা মানসিক চাপ কমিয়ে শান্তি দেয়।
৫. নিজের প্রিয় কাজটির জন্য সময় রাখুন:
সারাদিন শুধু দায়িত্ব পালন না করে অন্তত ১০-১৫ মিনিট এমন কিছু করুন যা আপনি সত্যিই ভালোবাসেন। সেটা হতে পারে বই পড়া, গান শোনা, বাগান করা বা রান্না করা। এই ছোট আনন্দটুকু আপনাকে সতেজ রাখবে।
৬. মানুষের সাথে সংযোগ বাড়ান:
প্রিয়জন বা বন্ধুদের সাথে গুণগত সময় কাটান। কেবল কাজের কথা না বলে মনের কথা শেয়ার করুন। সামনাসামনি কথা বলা বা অন্তত ফোন করা আপনাকে একাকিত্ব থেকে মুক্তি দেবে এবং জীবনের অর্থ খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
৭. দিনশেষে নিজের পর্যালোচনা করুন:
ঘুমানোর আগে সারাদিন কী কী ভালো হলো তা একবার ভাবুন। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা থেকে শিক্ষা নিন এবং নিজের ছোট ছোট সাফল্যগুলোকে উদযাপন করুন। এটি আপনাকে আগামীকালের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করবে।
•
জীবনকে অর্থবহ করার জন্য অনেক বড় কিছু করার প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট অভ্যাস, সচেতনতা এবং অন্যের প্রতি ভালোবাসা আমাদের প্রতিটি দিনকে সুন্দর করে তুলতে পারে।
____
সূত্র: Real Simple