⚠️ সতর্কবার্তা: এয়ারটেল ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
এয়ারটেল পোস্টপেইড সিমে কেউ রোমিং চালু করবেন না যদি দেশে অবস্থান করেন! প্রিপেইডকে পোস্টপেইডে কনভার্ট করবেন না যদি অতি জরুরি না হয়—নইলে বিপদে পড়তে পারেন।
আমি আগে এয়ারটেল প্রিপেইড ব্যবহার করতাম। পরে পোস্টপেইডে মাইগ্রেশন করি এবং বাংলাদেশে থাকা অবস্থাতেই রোমিং চালু করি। এখনো বাংলাদেশেই আছি এবং প্রায় এক বছর ধরে রোমিং চালু রয়েছে।
এখন আসি আসল সমস্যায়।
বর্তমানে পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে মাইগ্রেশন করা যায়, যেটা আগে সম্ভব ছিল না। কিন্তু বাস্তব সমস্যা হলো—আপনি যদি পোস্টপেইড সিমে একবারও রোমিং চালু করেন, তাহলে সেই সিম আর কখনোই প্রিপেইডে ফেরানো যাবে না। এই অভিজ্ঞতার শিকার আমি নিজে।
পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে কনভার্ট করার জন্য আমি আমার নিকটস্থ এয়ারটেল কেয়ার সেন্টারে যাই। সেখানে বলা হয়, রোমিং চালু থাকার কারণে এটি সম্ভব নয় এবং আগে রোমিং বন্ধ করতে হবে। কেয়ার সেন্টারে থাকা অবস্থাতেই ইমেইলের মাধ্যমে আমার রোমিং সার্ভিস বন্ধ করি আমি নিজে । কিন্তু তারপরও পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে মাইগ্রেশন সম্ভব হয়নি।
৪৮ ঘণ্টা পর আবার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করি, কিন্তু তখনও একই সমস্যা থাকে। এরপর আমি বিষয়টি নিয়ে এয়ারটেল রোমিং টিম ও হটলাইনে অভিযোগ জানাই। রোমিং টিম ইমেইল পাওয়ার পর আমাকে কল করে জানায়—পোস্টপেইড সিমে একবার রোমিং চালু করলে সেটিকে আর কখনোই প্রিপেইডে ফেরানো যায় না। তবে প্রিপেইড সিমে রোমিং চালু করলে সেই সুযোগ থাকে। অর্থাৎ প্রিপেইডকে পোস্টপেইড করা যাবে।
এই রোমিং চালু পোস্টপেইড সিমকে প্রিপেইডে কনভার্ট করতে গিয়ে আমি চরম হয়রানির শিকার হয়েছি। এয়ারটেল হটলাইন ও লাইভ চ্যাট একেক সময় একেক কথা বলে। কেউ বলে, রোমিং থাকলেও পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইড করা যাবে—যা বাস্তবে কখনোই সম্ভব হয়নি।
আবার অন্য হটলাইন বা লাইভ চ্যাট এজেন্ট বলে, রোমিং সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে এয়ারটেল কেয়ার ভিজিট করতে হবে। কিন্তু কেয়ার সেন্টারের এজেন্টরা জানায়, তাদের কাছে রোমিং সার্ভিস বন্ধ করার কোনো অপশনই নেই। কারণ আমি ইমেইলের মাধ্যমে যে রোমিং বন্ধ করেছি সেটা শুধুমাত্র সাময়িক সময়ের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—এয়ারটেল রোমিং টিম এক ধরনের কথা বলে, হটলাইন আরেক ধরনের কথা বলে, এবং কেয়ার সেন্টার সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে। এর ফলে একজন গ্রাহক হিসেবে আমি বারবার বিভ্রান্ত ও হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি তাদেরকে অনেক ইমেইল অনেক কল অনেক কিছু করেছি। শেষ পর্যন্ত তারা আমাকে কনফার্ম করে যে পোস্টপেইড সিমে রোমিং চালু করে ফেললে সেটাকে আর প্রিপেইড করা সম্ভব নয়।
👉 এই অভিজ্ঞতা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ—দেশে অবস্থান করলে পোস্টপেইড সিমে রোমিং চালু করবেন না এবং প্রিপেইড থেকে পোস্টপেইডে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নিন।
এয়ারটেল পোস্টপেইড সিমে কেউ রোমিং চালু করবেন না যদি দেশে অবস্থান করেন! প্রিপেইডকে পোস্টপেইডে কনভার্ট করবেন না যদি অতি জরুরি না হয়—নইলে বিপদে পড়তে পারেন।
আমি আগে এয়ারটেল প্রিপেইড ব্যবহার করতাম। পরে পোস্টপেইডে মাইগ্রেশন করি এবং বাংলাদেশে থাকা অবস্থাতেই রোমিং চালু করি। এখনো বাংলাদেশেই আছি এবং প্রায় এক বছর ধরে রোমিং চালু রয়েছে।
এখন আসি আসল সমস্যায়।
বর্তমানে পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে মাইগ্রেশন করা যায়, যেটা আগে সম্ভব ছিল না। কিন্তু বাস্তব সমস্যা হলো—আপনি যদি পোস্টপেইড সিমে একবারও রোমিং চালু করেন, তাহলে সেই সিম আর কখনোই প্রিপেইডে ফেরানো যাবে না। এই অভিজ্ঞতার শিকার আমি নিজে।
পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে কনভার্ট করার জন্য আমি আমার নিকটস্থ এয়ারটেল কেয়ার সেন্টারে যাই। সেখানে বলা হয়, রোমিং চালু থাকার কারণে এটি সম্ভব নয় এবং আগে রোমিং বন্ধ করতে হবে। কেয়ার সেন্টারে থাকা অবস্থাতেই ইমেইলের মাধ্যমে আমার রোমিং সার্ভিস বন্ধ করি আমি নিজে । কিন্তু তারপরও পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে মাইগ্রেশন সম্ভব হয়নি।
৪৮ ঘণ্টা পর আবার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করি, কিন্তু তখনও একই সমস্যা থাকে। এরপর আমি বিষয়টি নিয়ে এয়ারটেল রোমিং টিম ও হটলাইনে অভিযোগ জানাই। রোমিং টিম ইমেইল পাওয়ার পর আমাকে কল করে জানায়—পোস্টপেইড সিমে একবার রোমিং চালু করলে সেটিকে আর কখনোই প্রিপেইডে ফেরানো যায় না। তবে প্রিপেইড সিমে রোমিং চালু করলে সেই সুযোগ থাকে। অর্থাৎ প্রিপেইডকে পোস্টপেইড করা যাবে।
এই রোমিং চালু পোস্টপেইড সিমকে প্রিপেইডে কনভার্ট করতে গিয়ে আমি চরম হয়রানির শিকার হয়েছি। এয়ারটেল হটলাইন ও লাইভ চ্যাট একেক সময় একেক কথা বলে। কেউ বলে, রোমিং থাকলেও পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইড করা যাবে—যা বাস্তবে কখনোই সম্ভব হয়নি।
আবার অন্য হটলাইন বা লাইভ চ্যাট এজেন্ট বলে, রোমিং সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে এয়ারটেল কেয়ার ভিজিট করতে হবে। কিন্তু কেয়ার সেন্টারের এজেন্টরা জানায়, তাদের কাছে রোমিং সার্ভিস বন্ধ করার কোনো অপশনই নেই। কারণ আমি ইমেইলের মাধ্যমে যে রোমিং বন্ধ করেছি সেটা শুধুমাত্র সাময়িক সময়ের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—এয়ারটেল রোমিং টিম এক ধরনের কথা বলে, হটলাইন আরেক ধরনের কথা বলে, এবং কেয়ার সেন্টার সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে। এর ফলে একজন গ্রাহক হিসেবে আমি বারবার বিভ্রান্ত ও হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি তাদেরকে অনেক ইমেইল অনেক কল অনেক কিছু করেছি। শেষ পর্যন্ত তারা আমাকে কনফার্ম করে যে পোস্টপেইড সিমে রোমিং চালু করে ফেললে সেটাকে আর প্রিপেইড করা সম্ভব নয়।
👉 এই অভিজ্ঞতা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ—দেশে অবস্থান করলে পোস্টপেইড সিমে রোমিং চালু করবেন না এবং প্রিপেইড থেকে পোস্টপেইডে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নিন।
কওমীদের মধ্যে যারা দাখিল/SSC দিতে চান, তাদের জন্য বিরাট সুসংবাদ!
মাত্র ১ মাস পড়ে দাখিল দেওয়ার সুযোগ!
আপনার বয়স যতই হোক, এমনকি ৫০+ হলেও পরীক্ষা দিতে পারবেন। এবছরই পারবেন। অর্থাৎ ২০২৬ এর এপ্রিল মাসে যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, সেটাতেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
আগে কোনো ক্লাসই পড়া থাকা লাগবে না। ১ মাস পড়ে সরাসরি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিবেন।
এবছর দাখিল এবং ২০২৮ এ HSC দিলে, বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবীর প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দরজা আপনার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
এই সুযোগ মিস না করার পরামর্শ রইলো।
01810180303
পরিচালক, দাখিল/SSC বর্ষ,
মাদরাসাতু আহমাদ
মাত্র ১ মাস পড়ে দাখিল দেওয়ার সুযোগ!
আপনার বয়স যতই হোক, এমনকি ৫০+ হলেও পরীক্ষা দিতে পারবেন। এবছরই পারবেন। অর্থাৎ ২০২৬ এর এপ্রিল মাসে যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, সেটাতেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
আগে কোনো ক্লাসই পড়া থাকা লাগবে না। ১ মাস পড়ে সরাসরি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিবেন।
এবছর দাখিল এবং ২০২৮ এ HSC দিলে, বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবীর প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দরজা আপনার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
এই সুযোগ মিস না করার পরামর্শ রইলো।
01810180303
পরিচালক, দাখিল/SSC বর্ষ,
মাদরাসাতু আহমাদ
❤1
সিভিল ডিভোর্সের পরে দাম্পত্য: শরিয়ত কী বলে?
|০৭| ফেব্রুয়ারি |২০২৬|
❖ প্রশ্ন:
যদি কোনো ব্যক্তি প্রথমে শরিয়তসম্মতভাবে নিকাহ সম্পন্ন করেন, পরে ইংলিশ আইনের অধীনে সিভিল ম্যারেজ নিবন্ধন করান, অতঃপর ইংলিশ আইনের অধীনেই সিভিল ডিভোর্স গ্রহণ করেন, তাহলে এই অবস্থায় কি শরিয়তসম্মত নিকাহ বহাল থাকে, নাকি তা ভেঙে যায়?
বিশেষ করে যদি তিনি তিন মাসের ভেতর রুজু করে নেন, অর্থাৎ আবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে শরিয়তের হুকুম কী হবে?
আর যদি শরিয়তসম্মত নিকাহ বহাল না থাকে, তবে এমন পরিস্থিতিতে শরিয়তের নির্দেশনা কী? যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই এই বিধান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং অজ্ঞতাবশত রুজু করে নিয়েছেন।
❖ উত্তর:
যদি কোনো নারী ও পুরুষের মধ্যে শরিয়তসম্মতভাবে সহিহ নিকাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে, পরে তারা রাষ্ট্রীয় আইনের শর্ত পূরণ করতে সিভিল ম্যারেজও নিবন্ধন করান, এবং পরবর্তীতে আদালত নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই বিবাহ বাতিল করে দেয়, তাহলে একে এভাবে ধরে নেওয়া যে নিকাহ আগের মতোই বহাল আছে, কিংবা স্বামীর আগের মতো রুজুর অধিকার রয়েছে, এটি সঠিক নয়।
ফিকহের মৌলিক নীতিমালা হলো: কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ বা আদালত যখন নিকাহ ভেঙে দেয়, তখন তা কেবল সাময়িক বিচ্ছেদ থাকে না; বরং স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। এটি সেই তালাক নয় যাকে তালাকে রাজঈ বলা হয়, যেখানে স্বামী ইদ্দতের মধ্যে নতুন নিকাহ ছাড়াই স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারেন। বরং এটি বিচ্ছেদের এমন এক রূপ, যা ফিকহের পরিভাষায় তালাকে বাইন-এর অন্তর্ভুক্ত। তালাকে বাইন-এর ক্ষেত্রে স্বামীর আর রুজুর অধিকার অবশিষ্ট থাকে না—না কথার মাধ্যমে, না একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তে, না দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার দ্বারা।
অতএব, আদালত যখন কোনো বিবাহকে dissolve বা annul করে ( ভেঙে) দেয়, তখন কেবল এই কথা বলা যে আমরা তিন মাসের মধ্যে রুজু করে নিয়েছি, শরিয়তের দৃষ্টিতে কার্যকর হয় না। কারণ রুজু তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন রুজুর অধিকার বিদ্যমান থাকে; আর এখানে সে অধিকার ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এখন দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো নতুন করে নিকাহ সম্পন্ন করা, নতুন ইজাব-কবুল, নতুন মোহর নির্ধারণ এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে। নতুন আকদ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদা ফিরে আসে না।
যদি নারী ও পুরুষ উভয়েই এই শরিয়তসম্মত বিধান সম্পর্কে অবগত না থাকেন এবং ইদ্দতের মধ্যে রুজু হয়ে যায়, এই ধারণায় একসঙ্গে থাকা শুরু করে দেন, তবে বিষয়টি অজ্ঞতাবশত ঘটেছে। এমন অজ্ঞতার কারণে তাদেরকে ইচ্ছাকৃত গুনাহগার বলা হবে না। তবে সত্য যখন স্পষ্ট হয়ে যাবে, তখন আর বিলম্বের সুযোগ নেই। তাদের কর্তব্য হলো আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করা এবং অবিলম্বে শরিয়তের ভিত্তিতে নিজেদের সম্পর্ক সঠিক করা, অর্থাৎ নিয়মমাফিক পুনরায় নিকাহ করা। পূর্ববর্তী সময়টিকে কু-নিয়তের ওপর আরোপ করা হবে না; কিন্তু ভবিষ্যতে সঠিক পদ্ধতির অনুসরণ অবশ্যই জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যে দেশে তারা বসবাস করেন, সেখানকার আইনব্যবস্থা সাধারণত শরিয়তসম্মত নিকাহকেই যথেষ্ট বলে গণ্য করে না, বিশেষত যখন আদালত ইতোমধ্যেই সেই সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছে। তাই তারা যদি আবার একসঙ্গে থাকতে চান, তবে কেবল শরিয়তসম্মত নতুন নিকাহই নয়, বরং আইনি দিক থেকেও বিবাহ নিবন্ধন করা প্রয়োজন। এতে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার, বাসস্থান, উত্তরাধিকার, ভরণপোষণ, কর, চিকিৎসা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা সুরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো যায়।
সারকথা:
আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিকাহ তালাকে বাইন হিসেবে শেষ হয়ে গিয়েছিল। এর পর স্বামীর কথায় বা কাজে কোনো রুজু শরিয়তসম্মত নয়। পুনরায় স্বামী-স্ত্রী হতে হলে নতুন নিকাহ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে সেই নতুন নিকাহ নিবন্ধন করাও অপরিহার্য। অজ্ঞতার কারণে যা ঘটেছে, তার জন্য তওবা করা হবে; তবে এখন থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতিতে দাম্পত্য সম্পর্ক পুনর্গঠন করাই আবশ্যক।
-----------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
|০৭| ফেব্রুয়ারি |২০২৬|
❖ প্রশ্ন:
যদি কোনো ব্যক্তি প্রথমে শরিয়তসম্মতভাবে নিকাহ সম্পন্ন করেন, পরে ইংলিশ আইনের অধীনে সিভিল ম্যারেজ নিবন্ধন করান, অতঃপর ইংলিশ আইনের অধীনেই সিভিল ডিভোর্স গ্রহণ করেন, তাহলে এই অবস্থায় কি শরিয়তসম্মত নিকাহ বহাল থাকে, নাকি তা ভেঙে যায়?
বিশেষ করে যদি তিনি তিন মাসের ভেতর রুজু করে নেন, অর্থাৎ আবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে শরিয়তের হুকুম কী হবে?
আর যদি শরিয়তসম্মত নিকাহ বহাল না থাকে, তবে এমন পরিস্থিতিতে শরিয়তের নির্দেশনা কী? যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই এই বিধান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং অজ্ঞতাবশত রুজু করে নিয়েছেন।
❖ উত্তর:
যদি কোনো নারী ও পুরুষের মধ্যে শরিয়তসম্মতভাবে সহিহ নিকাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে, পরে তারা রাষ্ট্রীয় আইনের শর্ত পূরণ করতে সিভিল ম্যারেজও নিবন্ধন করান, এবং পরবর্তীতে আদালত নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই বিবাহ বাতিল করে দেয়, তাহলে একে এভাবে ধরে নেওয়া যে নিকাহ আগের মতোই বহাল আছে, কিংবা স্বামীর আগের মতো রুজুর অধিকার রয়েছে, এটি সঠিক নয়।
ফিকহের মৌলিক নীতিমালা হলো: কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ বা আদালত যখন নিকাহ ভেঙে দেয়, তখন তা কেবল সাময়িক বিচ্ছেদ থাকে না; বরং স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। এটি সেই তালাক নয় যাকে তালাকে রাজঈ বলা হয়, যেখানে স্বামী ইদ্দতের মধ্যে নতুন নিকাহ ছাড়াই স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারেন। বরং এটি বিচ্ছেদের এমন এক রূপ, যা ফিকহের পরিভাষায় তালাকে বাইন-এর অন্তর্ভুক্ত। তালাকে বাইন-এর ক্ষেত্রে স্বামীর আর রুজুর অধিকার অবশিষ্ট থাকে না—না কথার মাধ্যমে, না একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তে, না দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার দ্বারা।
অতএব, আদালত যখন কোনো বিবাহকে dissolve বা annul করে ( ভেঙে) দেয়, তখন কেবল এই কথা বলা যে আমরা তিন মাসের মধ্যে রুজু করে নিয়েছি, শরিয়তের দৃষ্টিতে কার্যকর হয় না। কারণ রুজু তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন রুজুর অধিকার বিদ্যমান থাকে; আর এখানে সে অধিকার ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এখন দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো নতুন করে নিকাহ সম্পন্ন করা, নতুন ইজাব-কবুল, নতুন মোহর নির্ধারণ এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে। নতুন আকদ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদা ফিরে আসে না।
যদি নারী ও পুরুষ উভয়েই এই শরিয়তসম্মত বিধান সম্পর্কে অবগত না থাকেন এবং ইদ্দতের মধ্যে রুজু হয়ে যায়, এই ধারণায় একসঙ্গে থাকা শুরু করে দেন, তবে বিষয়টি অজ্ঞতাবশত ঘটেছে। এমন অজ্ঞতার কারণে তাদেরকে ইচ্ছাকৃত গুনাহগার বলা হবে না। তবে সত্য যখন স্পষ্ট হয়ে যাবে, তখন আর বিলম্বের সুযোগ নেই। তাদের কর্তব্য হলো আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করা এবং অবিলম্বে শরিয়তের ভিত্তিতে নিজেদের সম্পর্ক সঠিক করা, অর্থাৎ নিয়মমাফিক পুনরায় নিকাহ করা। পূর্ববর্তী সময়টিকে কু-নিয়তের ওপর আরোপ করা হবে না; কিন্তু ভবিষ্যতে সঠিক পদ্ধতির অনুসরণ অবশ্যই জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যে দেশে তারা বসবাস করেন, সেখানকার আইনব্যবস্থা সাধারণত শরিয়তসম্মত নিকাহকেই যথেষ্ট বলে গণ্য করে না, বিশেষত যখন আদালত ইতোমধ্যেই সেই সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছে। তাই তারা যদি আবার একসঙ্গে থাকতে চান, তবে কেবল শরিয়তসম্মত নতুন নিকাহই নয়, বরং আইনি দিক থেকেও বিবাহ নিবন্ধন করা প্রয়োজন। এতে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার, বাসস্থান, উত্তরাধিকার, ভরণপোষণ, কর, চিকিৎসা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা সুরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো যায়।
সারকথা:
আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিকাহ তালাকে বাইন হিসেবে শেষ হয়ে গিয়েছিল। এর পর স্বামীর কথায় বা কাজে কোনো রুজু শরিয়তসম্মত নয়। পুনরায় স্বামী-স্ত্রী হতে হলে নতুন নিকাহ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে সেই নতুন নিকাহ নিবন্ধন করাও অপরিহার্য। অজ্ঞতার কারণে যা ঘটেছে, তার জন্য তওবা করা হবে; তবে এখন থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতিতে দাম্পত্য সম্পর্ক পুনর্গঠন করাই আবশ্যক।
-----------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।