মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ণয়ের তীর, এসব শয়তানের কাজের অন্তর্ভুক্ত অপবিত্র বস্তু। সুতরাং এগুলো থেকে দূরে থাকো।
এর পাশাপাশি, বহু লাইফ ইনশুরেন্স পলিসিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রিবা বিদ্যমান থাকে। প্রিমিয়ামের অর্থ সুদভিত্তিক খাতে বিনিয়োগ করার মাধ্যমেই তা ঘটে। রিবা কেবল একটি কারিগরি নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং তা নিষিদ্ধ, কারণ এটি অন্যায়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়, ঝুঁকিহীন লাভ নিশ্চিত করে এবং ইসলামী অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত নৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, আল্লাহ ব্যবসাকে বৈধ করেছেন এবং রিবাকে হারাম করেছেন। যেখানে রিবা বিদ্যমান থাকে, সেখানে কঠোরতম প্রয়োজনের শর্ত ছাড়া বৈধতার কথা বলা যায় না।
এই সব কারণ একত্রে বিবেচনা করে বহু জ্যেষ্ঠ আলেম এবং আন্তর্জাতিক ফিকহ কাউন্সিলসমূহ সাধারণ নীতি হিসেবে প্রচলিত বাণিজ্যিক ইনশুরেন্সকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন, বিশেষ করে যখন তা কেবল সুবিধা, লাভ বা অনুমাননির্ভর সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়, প্রকৃত ক্ষতি থেকে সুরক্ষার প্রয়োজন থেকে নয়।
একই সঙ্গে এটিও সত্য যে ইসলামি আইন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নয়, যা বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন। বরং এটি একটি নৈতিক ও আইনগত কাঠামো, যার লক্ষ্য মানুষের মৌলিক স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং কষ্ট ও সংকট দূর করা। শরিয়তের একটি গভীর দিক হলো এই স্বীকৃতি যে চরম প্রয়োজন বা তীব্র সংকটের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যেতে পারে। এই নীতিটি একটি মৌলিক সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে, প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে তোলে। এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত আরেকটি নীতি হলো, তীব্র প্রয়োজনকে প্রয়োজনের মর্যাদায় গণ্য করা হয়, তা সাধারণ হোক বা বিশেষ।
এই নীতিগুলো কোনো ফাঁকফোকর নয়; বরং শরিয়তের উচ্চতর নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রকাশ। এগুলো এই বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে যে আইন মানুষের কল্যাণের জন্য প্রণীত, মানুষের ওপর অসহনীয় কষ্ট চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। আল্লাহ তাআলা এ সত্যটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, তিনি দ্বীনের মধ্যে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি। একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সার্বজনীন আইনগত নীতি স্থাপন করেছেন, যখন তিনি বলেছেন, কোনো ক্ষতি করা যাবে না, আবার ক্ষতির প্রতিদান হিসেবেও ক্ষতি করা যাবে না।
লাইফ ইনশুরেন্সের প্রেক্ষাপটে কখনো কখনো এমন প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিতে পারে, যেখানে একটি পরিবারের আর্থিক বিপর্যয় পূর্বানুমেয় এবং গুরুতর ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সেই অবস্থায়, যখন স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, স্ত্রী কর্মজীবী নন এবং তাঁর কোনো স্বতন্ত্র আয় নেই, ছোট সন্তানরা পুরোপুরি নির্ভরশীল, আর বাড়ির মর্টগেজ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের মতো বড় দায়সমূহ বকেয়া রয়ে গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে উপার্জনকারীর মৃত্যু কেবল সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি করে না; বরং নির্ভরশীলদের জন্য চরম ক্ষতি, অস্থিরতা এবং মর্যাদাহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই ধরনের ক্ষতি প্রতিরোধ করা শরিয়তের পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে জীবন সংরক্ষণ, পরিবার সংরক্ষণ এবং সুরক্ষামূলক অর্থে সম্পদ সংরক্ষণের মৌলিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে।
সুতরাং, যদি সমবায়ভিত্তিক তাকাফুল, পর্যাপ্ত সঞ্চয় বা পারিবারিক সহায়তার মতো শরিয়তসম্মত বিকল্পগুলো বাস্তবসম্মতভাবে বিদ্যমান না থাকে, তাহলে প্রয়োজনের পরিসরে লাইফ ইনশুরেন্সে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে এই অনুমতি শর্তহীন নয়; বরং এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সূত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা প্রয়োজনের কারণে বৈধ করা হয়, তা প্রয়োজনের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। উদ্দেশ্য হতে হবে ক্ষতি থেকে সুরক্ষা লাভ, লাভ বা অনুমাননির্ভর সুবিধা অর্জন নয়। আর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে কিংবা বৈধ বিকল্প সহজলভ্য হয়ে উঠলে এই ব্যবস্থাটি পুনর্মূল্যায়ন করা আবশ্যক।
এটি স্পষ্টভাবে বলা উচিত যে, যদি কোনো ইনশুরেন্স মডেল প্রকৃতপক্ষে গরর, মাইসির এবং রিবা এড়িয়ে চলে, তাহলে এর বৈধতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ শরিয়ত নিজে সুরক্ষা, পারস্পরিক সহযোগিতা বা পরিকল্পনার ধারণাকে নিষিদ্ধ করে না। চ্যালেঞ্জটি হলো, অধিকাংশ প্রচলিত লাইফ ইনশুরেন্স পলিসি, এমনকি যেগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত, বাস্তবে খুব কম ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা এবং কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা থেকে মুক্ত থাকে।
সংক্ষেপে, যেসব লাইফ ইনশুরেন্সে গরর, মাইসির বা রিবা বিদ্যমান, সেগুলো নীতিগতভাবে অবৈধ। তবে যেখানে এই উপাদানগুলো প্রকৃতপক্ষে অনুপস্থিত, সেখানে বৈধতা স্পষ্ট। এছাড়া, প্রকৃত প্রয়োজন বা তীব্র সংকটের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে স্ত্রী, সন্তান বা অন্য নির্ভরশীলদের কল্যাণ গুরুতর ঝুঁকিতে থাকলে, এমন ইনশুরেন্স প্রয়োজনীয় পরিসরে অনুমোদিত হতে পারে, প্রতিষ্ঠিত আইনগত সূত্র, নৈতিক উদ্দেশ্য এবং শরিয়তের দয়া ও মমত্ববোধের সর্বজনীন নীতির আলোকে।
--------------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
এর পাশাপাশি, বহু লাইফ ইনশুরেন্স পলিসিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রিবা বিদ্যমান থাকে। প্রিমিয়ামের অর্থ সুদভিত্তিক খাতে বিনিয়োগ করার মাধ্যমেই তা ঘটে। রিবা কেবল একটি কারিগরি নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং তা নিষিদ্ধ, কারণ এটি অন্যায়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়, ঝুঁকিহীন লাভ নিশ্চিত করে এবং ইসলামী অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত নৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, আল্লাহ ব্যবসাকে বৈধ করেছেন এবং রিবাকে হারাম করেছেন। যেখানে রিবা বিদ্যমান থাকে, সেখানে কঠোরতম প্রয়োজনের শর্ত ছাড়া বৈধতার কথা বলা যায় না।
এই সব কারণ একত্রে বিবেচনা করে বহু জ্যেষ্ঠ আলেম এবং আন্তর্জাতিক ফিকহ কাউন্সিলসমূহ সাধারণ নীতি হিসেবে প্রচলিত বাণিজ্যিক ইনশুরেন্সকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন, বিশেষ করে যখন তা কেবল সুবিধা, লাভ বা অনুমাননির্ভর সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়, প্রকৃত ক্ষতি থেকে সুরক্ষার প্রয়োজন থেকে নয়।
একই সঙ্গে এটিও সত্য যে ইসলামি আইন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নয়, যা বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন। বরং এটি একটি নৈতিক ও আইনগত কাঠামো, যার লক্ষ্য মানুষের মৌলিক স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং কষ্ট ও সংকট দূর করা। শরিয়তের একটি গভীর দিক হলো এই স্বীকৃতি যে চরম প্রয়োজন বা তীব্র সংকটের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যেতে পারে। এই নীতিটি একটি মৌলিক সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে, প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে তোলে। এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত আরেকটি নীতি হলো, তীব্র প্রয়োজনকে প্রয়োজনের মর্যাদায় গণ্য করা হয়, তা সাধারণ হোক বা বিশেষ।
এই নীতিগুলো কোনো ফাঁকফোকর নয়; বরং শরিয়তের উচ্চতর নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রকাশ। এগুলো এই বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে যে আইন মানুষের কল্যাণের জন্য প্রণীত, মানুষের ওপর অসহনীয় কষ্ট চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। আল্লাহ তাআলা এ সত্যটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, তিনি দ্বীনের মধ্যে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি। একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সার্বজনীন আইনগত নীতি স্থাপন করেছেন, যখন তিনি বলেছেন, কোনো ক্ষতি করা যাবে না, আবার ক্ষতির প্রতিদান হিসেবেও ক্ষতি করা যাবে না।
লাইফ ইনশুরেন্সের প্রেক্ষাপটে কখনো কখনো এমন প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিতে পারে, যেখানে একটি পরিবারের আর্থিক বিপর্যয় পূর্বানুমেয় এবং গুরুতর ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সেই অবস্থায়, যখন স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, স্ত্রী কর্মজীবী নন এবং তাঁর কোনো স্বতন্ত্র আয় নেই, ছোট সন্তানরা পুরোপুরি নির্ভরশীল, আর বাড়ির মর্টগেজ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের মতো বড় দায়সমূহ বকেয়া রয়ে গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে উপার্জনকারীর মৃত্যু কেবল সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি করে না; বরং নির্ভরশীলদের জন্য চরম ক্ষতি, অস্থিরতা এবং মর্যাদাহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই ধরনের ক্ষতি প্রতিরোধ করা শরিয়তের পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে জীবন সংরক্ষণ, পরিবার সংরক্ষণ এবং সুরক্ষামূলক অর্থে সম্পদ সংরক্ষণের মৌলিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে।
সুতরাং, যদি সমবায়ভিত্তিক তাকাফুল, পর্যাপ্ত সঞ্চয় বা পারিবারিক সহায়তার মতো শরিয়তসম্মত বিকল্পগুলো বাস্তবসম্মতভাবে বিদ্যমান না থাকে, তাহলে প্রয়োজনের পরিসরে লাইফ ইনশুরেন্সে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে এই অনুমতি শর্তহীন নয়; বরং এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সূত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা প্রয়োজনের কারণে বৈধ করা হয়, তা প্রয়োজনের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। উদ্দেশ্য হতে হবে ক্ষতি থেকে সুরক্ষা লাভ, লাভ বা অনুমাননির্ভর সুবিধা অর্জন নয়। আর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে কিংবা বৈধ বিকল্প সহজলভ্য হয়ে উঠলে এই ব্যবস্থাটি পুনর্মূল্যায়ন করা আবশ্যক।
এটি স্পষ্টভাবে বলা উচিত যে, যদি কোনো ইনশুরেন্স মডেল প্রকৃতপক্ষে গরর, মাইসির এবং রিবা এড়িয়ে চলে, তাহলে এর বৈধতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ শরিয়ত নিজে সুরক্ষা, পারস্পরিক সহযোগিতা বা পরিকল্পনার ধারণাকে নিষিদ্ধ করে না। চ্যালেঞ্জটি হলো, অধিকাংশ প্রচলিত লাইফ ইনশুরেন্স পলিসি, এমনকি যেগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত, বাস্তবে খুব কম ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা এবং কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা থেকে মুক্ত থাকে।
সংক্ষেপে, যেসব লাইফ ইনশুরেন্সে গরর, মাইসির বা রিবা বিদ্যমান, সেগুলো নীতিগতভাবে অবৈধ। তবে যেখানে এই উপাদানগুলো প্রকৃতপক্ষে অনুপস্থিত, সেখানে বৈধতা স্পষ্ট। এছাড়া, প্রকৃত প্রয়োজন বা তীব্র সংকটের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে স্ত্রী, সন্তান বা অন্য নির্ভরশীলদের কল্যাণ গুরুতর ঝুঁকিতে থাকলে, এমন ইনশুরেন্স প্রয়োজনীয় পরিসরে অনুমোদিত হতে পারে, প্রতিষ্ঠিত আইনগত সূত্র, নৈতিক উদ্দেশ্য এবং শরিয়তের দয়া ও মমত্ববোধের সর্বজনীন নীতির আলোকে।
--------------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
প্রারম্ভিক বয়ঃসন্ধি ; দায়িত্ব ও সহমর্মিতা
|২৮|০১|২০২৬|
❖ প্রশ্ন
আসসালামু আলাইকুম শায়খ, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার পরিচিত একজন এই প্রশ্নটি করেছেন। এ বিষয়ে পরামর্শ চাই ?
“আমার এক বোন আছে, সে একেবারেই ছোট, পুরো নয় বছরও পূর্ণ হয়নি। তার মাসিক শুরু হয়েছে, অথচ সে কিছুই জানে না। আমরা সব সময় তাকে এমনভাবে লালন করেছি, যেন সে এখনো নয় মাসের শিশুই। সে ভীষণ ভয় পেয়েছে, দায়িত্ব বহন করার মানসিকতা তার নেই। রোজা রাখা বা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার মতো বিষয় তার জন্য খুবই কঠিন। এ বিষয়ে শরিয়তের হুকুম কী, দয়া করে জানাবেন।”
❖ উত্তর
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আল্লাহ তাআলা যেন এই সংবেদনশীল বিষয়ে সহজতা ও প্রজ্ঞা দান করেন। আপনি যে পরিস্থিতির কথা বলেছেন, তা নিঃসন্দেহে আবেগগত ও বাস্তব, উভয় দিক থেকেই কঠিন। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান স্পষ্টভাবে বোঝা যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোমলতা ও সহমর্মিতা অপরিহার্য।
এ বিষয়ে মূলনীতি হলো, ইসলামি শরিয়ত দায়িত্ব আরোপ করে বুলূঘ বা বয়ঃসন্ধির ওপর; বয়স, আবেগগত পরিপক্বতা বা মানসিক বিকাশের ওপর নয়। দায়িত্ব যেন অস্পষ্ট বা ব্যক্তিনির্ভর না থাকে, সে জন্য শরিয়ত বুলূঘ নির্ধারণের জন্য স্পষ্ট ও বস্তুগত লক্ষণ নির্ধারণ করেছে। কন্যার ক্ষেত্রে বুলূঘের প্রথম ও সুস্পষ্ট লক্ষণ হলো ঋতুস্রাব শুরু হওয়া। অতএব, কোনো মেয়ের মাসিক শুরু হলে, (সে নয় বা দশ বছরের হলেও) শরিয়তের দৃষ্টিতে সে বালিগাহ ও মুকাল্লাফাহ হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি মাসিক না হয়, তবে পনেরো চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়াকে বুলূঘের চূড়ান্ত সীমা ধরা হয়।
এই বিধান কোনো একক মাযহাবের মত নয়; বরং চার সুন্নি মাযহাবের সকল ফকিহের ঐকমত্যে প্রতিষ্ঠিত। হানাফি মাযহাবে ইমাম কাসানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নারীদের ক্ষেত্রে বুলূঘের লক্ষণ হলো ঋতুস্রাব ও গর্ভধারণ; আর ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন বয়স নয় বছর। অতএব, কোনো মেয়ে নয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর ঋতুস্রাব শুরু করলে সে বালিগা হিসেবে গণ্য হবে। শাফেয়ি মাযহাবে ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ লিখেছেন, কোনো কন্যা নয়টি চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়ার পর ঋতুস্রাব শুরু করলে সে বালিগা হয়ে যায় এবং শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য হয়। মালেকি মাযহাবে ইমাম দাসূকী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নারীর বুলূঘের লক্ষণ হলো নয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর ঋতুস্রাব, অথবা গর্ভধারণ, অথবা পনেরো চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়া। আর হাম্বলি মাযহাবে ইমাম ইবনে কুদামাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নারী ঋতুস্রাব, গর্ভধারণ, লোম উদ্গম কিংবা পনেরো বছর পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে বালিগা হয়; আর ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন বয়স নয় বছর।
এই সুস্পষ্ট উদ্ধৃতিগুলোর আলোকে নির্ধারিত হয় যে, চার মাযহাবের মতে নয় চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো কন্যার ঋতুস্রাব শুরু হলে সে শরিয়তের দৃষ্টিতে বুলূঘে উপনীত হয় এবং তার ওপর শরিয়তের বিধান কার্যকর হয়। ফলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়, রমজানের রোজা ফরজ হয়, পর্দা ও শালীনতার বিধান প্রযোজ্য হয়, এবং অন্যান্য ধর্মীয় দায়িত্বও তার ওপর বর্তায়, যেমনটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে হয়।
তবে একই সঙ্গে এ কথাও স্মরণ রাখতে হবে যে, শরিয়ত রহমতের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং প্রকৃত কষ্টকে উপেক্ষা করে না। এত অল্প বয়সে রোজা রাখলে যদি তীব্র দুর্বলতা দেখা দেয়, অথবা স্বাস্থ্যের ক্ষতির বাস্তব আশঙ্কা থাকে, তবে শরিয়ত সাময়িকভাবে রোজা না রাখার অনুমতি দেয়। সে ক্ষেত্রে রোজার ফরজিয়ত বাতিল হয় না; বরং সক্ষম হলে পরে তা আদায় করার সুযোগ দেওয়া হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদিও তাকলিফ বুলূঘের সঙ্গে সম্পর্কিত, বুদ্ধিবৃত্তিক বা আবেগগত পরিপক্বতার সঙ্গে নয়, তবু এর অর্থ এই নয় যে শিশুর সঙ্গে কঠোরতা করা হবে বা হঠাৎ করে সব বিধানের বোঝা তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। শিশুর দায়িত্বের পাশাপাশি পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের ওপরও একটি গুরুদায়িত্ব বর্তায়। তাদের কর্তব্য হলো প্রজ্ঞা, স্নেহ ও ধৈর্যের সঙ্গে সন্তানকে ধর্মীয় দায়িত্বের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুত করা, সম্ভব হলে বুলূঘের আগেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত, সন্তান যেন ধর্মকে ভয় বা চাপের উৎস হিসেবে না দেখে; বরং আল্লাহর নৈকট্য, প্রশান্তি ও মর্যাদার পথ হিসেবে গ্রহণ করে।
একটি অল্পবয়সী কন্যাশিশুর কাছ থেকে হঠাৎ করে, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই, সব ধর্মীয় দায়িত্ব পূর্ণমাত্রায় বহন করার প্রত্যাশা করা উচিত নয়। নবী সা. যেমন শিশুদের ধীরে ধীরে নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনি লজ্জাশীলতা, পোশাকবিধি ও ধর্মীয় সচেতনতাও ধাপে ধাপে, তার বয়স ও মানসিক অবস্থার উপযোগী করে শেখানো প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে সহজ-সরল পোশাক, সামগ্রিক শালীনতা এবং হায়ার অনুভূতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে; হিজাবের পূর্ণ ধারণা ও তার বিধান সময়ের সঙ্গে কোমলভাবে বোঝানো উচিত।
|২৮|০১|২০২৬|
❖ প্রশ্ন
আসসালামু আলাইকুম শায়খ, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার পরিচিত একজন এই প্রশ্নটি করেছেন। এ বিষয়ে পরামর্শ চাই ?
“আমার এক বোন আছে, সে একেবারেই ছোট, পুরো নয় বছরও পূর্ণ হয়নি। তার মাসিক শুরু হয়েছে, অথচ সে কিছুই জানে না। আমরা সব সময় তাকে এমনভাবে লালন করেছি, যেন সে এখনো নয় মাসের শিশুই। সে ভীষণ ভয় পেয়েছে, দায়িত্ব বহন করার মানসিকতা তার নেই। রোজা রাখা বা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার মতো বিষয় তার জন্য খুবই কঠিন। এ বিষয়ে শরিয়তের হুকুম কী, দয়া করে জানাবেন।”
❖ উত্তর
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আল্লাহ তাআলা যেন এই সংবেদনশীল বিষয়ে সহজতা ও প্রজ্ঞা দান করেন। আপনি যে পরিস্থিতির কথা বলেছেন, তা নিঃসন্দেহে আবেগগত ও বাস্তব, উভয় দিক থেকেই কঠিন। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান স্পষ্টভাবে বোঝা যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোমলতা ও সহমর্মিতা অপরিহার্য।
এ বিষয়ে মূলনীতি হলো, ইসলামি শরিয়ত দায়িত্ব আরোপ করে বুলূঘ বা বয়ঃসন্ধির ওপর; বয়স, আবেগগত পরিপক্বতা বা মানসিক বিকাশের ওপর নয়। দায়িত্ব যেন অস্পষ্ট বা ব্যক্তিনির্ভর না থাকে, সে জন্য শরিয়ত বুলূঘ নির্ধারণের জন্য স্পষ্ট ও বস্তুগত লক্ষণ নির্ধারণ করেছে। কন্যার ক্ষেত্রে বুলূঘের প্রথম ও সুস্পষ্ট লক্ষণ হলো ঋতুস্রাব শুরু হওয়া। অতএব, কোনো মেয়ের মাসিক শুরু হলে, (সে নয় বা দশ বছরের হলেও) শরিয়তের দৃষ্টিতে সে বালিগাহ ও মুকাল্লাফাহ হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি মাসিক না হয়, তবে পনেরো চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়াকে বুলূঘের চূড়ান্ত সীমা ধরা হয়।
এই বিধান কোনো একক মাযহাবের মত নয়; বরং চার সুন্নি মাযহাবের সকল ফকিহের ঐকমত্যে প্রতিষ্ঠিত। হানাফি মাযহাবে ইমাম কাসানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নারীদের ক্ষেত্রে বুলূঘের লক্ষণ হলো ঋতুস্রাব ও গর্ভধারণ; আর ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন বয়স নয় বছর। অতএব, কোনো মেয়ে নয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর ঋতুস্রাব শুরু করলে সে বালিগা হিসেবে গণ্য হবে। শাফেয়ি মাযহাবে ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ লিখেছেন, কোনো কন্যা নয়টি চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়ার পর ঋতুস্রাব শুরু করলে সে বালিগা হয়ে যায় এবং শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য হয়। মালেকি মাযহাবে ইমাম দাসূকী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নারীর বুলূঘের লক্ষণ হলো নয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর ঋতুস্রাব, অথবা গর্ভধারণ, অথবা পনেরো চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়া। আর হাম্বলি মাযহাবে ইমাম ইবনে কুদামাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নারী ঋতুস্রাব, গর্ভধারণ, লোম উদ্গম কিংবা পনেরো বছর পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে বালিগা হয়; আর ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন বয়স নয় বছর।
এই সুস্পষ্ট উদ্ধৃতিগুলোর আলোকে নির্ধারিত হয় যে, চার মাযহাবের মতে নয় চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো কন্যার ঋতুস্রাব শুরু হলে সে শরিয়তের দৃষ্টিতে বুলূঘে উপনীত হয় এবং তার ওপর শরিয়তের বিধান কার্যকর হয়। ফলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়, রমজানের রোজা ফরজ হয়, পর্দা ও শালীনতার বিধান প্রযোজ্য হয়, এবং অন্যান্য ধর্মীয় দায়িত্বও তার ওপর বর্তায়, যেমনটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে হয়।
তবে একই সঙ্গে এ কথাও স্মরণ রাখতে হবে যে, শরিয়ত রহমতের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং প্রকৃত কষ্টকে উপেক্ষা করে না। এত অল্প বয়সে রোজা রাখলে যদি তীব্র দুর্বলতা দেখা দেয়, অথবা স্বাস্থ্যের ক্ষতির বাস্তব আশঙ্কা থাকে, তবে শরিয়ত সাময়িকভাবে রোজা না রাখার অনুমতি দেয়। সে ক্ষেত্রে রোজার ফরজিয়ত বাতিল হয় না; বরং সক্ষম হলে পরে তা আদায় করার সুযোগ দেওয়া হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদিও তাকলিফ বুলূঘের সঙ্গে সম্পর্কিত, বুদ্ধিবৃত্তিক বা আবেগগত পরিপক্বতার সঙ্গে নয়, তবু এর অর্থ এই নয় যে শিশুর সঙ্গে কঠোরতা করা হবে বা হঠাৎ করে সব বিধানের বোঝা তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। শিশুর দায়িত্বের পাশাপাশি পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের ওপরও একটি গুরুদায়িত্ব বর্তায়। তাদের কর্তব্য হলো প্রজ্ঞা, স্নেহ ও ধৈর্যের সঙ্গে সন্তানকে ধর্মীয় দায়িত্বের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুত করা, সম্ভব হলে বুলূঘের আগেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত, সন্তান যেন ধর্মকে ভয় বা চাপের উৎস হিসেবে না দেখে; বরং আল্লাহর নৈকট্য, প্রশান্তি ও মর্যাদার পথ হিসেবে গ্রহণ করে।
একটি অল্পবয়সী কন্যাশিশুর কাছ থেকে হঠাৎ করে, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই, সব ধর্মীয় দায়িত্ব পূর্ণমাত্রায় বহন করার প্রত্যাশা করা উচিত নয়। নবী সা. যেমন শিশুদের ধীরে ধীরে নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনি লজ্জাশীলতা, পোশাকবিধি ও ধর্মীয় সচেতনতাও ধাপে ধাপে, তার বয়স ও মানসিক অবস্থার উপযোগী করে শেখানো প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে সহজ-সরল পোশাক, সামগ্রিক শালীনতা এবং হায়ার অনুভূতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে; হিজাবের পূর্ণ ধারণা ও তার বিধান সময়ের সঙ্গে কোমলভাবে বোঝানো উচিত।
❤1
শিশুটি যদি ভুল করে, ভয় পায় বা নিয়মিতভাবে মানিয়ে নিতে কষ্ট বোধ করে, তবে কঠোরতা বা ভর্ৎসনা এড়িয়ে চলা জরুরি। কারণ কঠোরতা প্রায়ই উল্টো ফল দেয় এবং ধর্মের প্রতি অনীহা সৃষ্টি করতে পারে। এর পরিবর্তে স্নেহভরা ব্যাখ্যা, আশ্বাস, উৎসাহ এবং আন্তরিক দুআর আশ্রয় নেওয়াই সঠিক পথ। এ ক্ষেত্রে মা, বড় বোন ও নিকটবর্তী নারী আত্মীয়দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি নিজেরাই মর্যাদা ও ভারসাম্যের সঙ্গে নামাজ, শালীনতা ও হিজাব পালন করেন, তবে সেই জীবন্ত দৃষ্টান্তই হয়ে ওঠে সবচেয়ে শক্তিশালী শিক্ষা, কারণ শিশুরা শোনার চেয়ে দেখেই বেশি শেখে।
মেয়েটি যখন কোনো ভালো কাজ করে, নামাজ আদায় করে বা শালীনতা রক্ষা করে, তখন তাকে প্রশংসা করা উচিত এবং তার মূল্যবোধ জাগ্রত করা দরকার। তার বয়সের উপযোগী ভাষায়, কোমল ভঙ্গিতে তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে আল্লাহ তার চেষ্টা ভালোবাসেন এবং তার আন্তরিকতাকে পুরস্কৃত করেন। যদি সে প্রতিরোধ দেখায় বা অতিভার অনুভব করে, তবে তা ধৈর্য ও বোঝাপড়ার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে; কারণ এই সংবেদনশীলতা তার বিকাশপর্বেরই অংশ, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব ও স্থিরতা আপনাতেই আসবে।
এছাড়া তাকে বুঝতে সাহায্য করতে হবে যে হিজাব ও ধর্মচর্চা কেবল কিছু বিধিনিষেধ নয়; বরং তা সম্মান, সুরক্ষা ও পরিচয়ের প্রতীক, যার উদ্দেশ্য তার মর্যাদা সংরক্ষণ করা এবং আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ককে দৃঢ় করা, তার আনন্দ বা শৈশব কেড়ে নেওয়া নয়।
----------------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
মেয়েটি যখন কোনো ভালো কাজ করে, নামাজ আদায় করে বা শালীনতা রক্ষা করে, তখন তাকে প্রশংসা করা উচিত এবং তার মূল্যবোধ জাগ্রত করা দরকার। তার বয়সের উপযোগী ভাষায়, কোমল ভঙ্গিতে তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে আল্লাহ তার চেষ্টা ভালোবাসেন এবং তার আন্তরিকতাকে পুরস্কৃত করেন। যদি সে প্রতিরোধ দেখায় বা অতিভার অনুভব করে, তবে তা ধৈর্য ও বোঝাপড়ার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে; কারণ এই সংবেদনশীলতা তার বিকাশপর্বেরই অংশ, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব ও স্থিরতা আপনাতেই আসবে।
এছাড়া তাকে বুঝতে সাহায্য করতে হবে যে হিজাব ও ধর্মচর্চা কেবল কিছু বিধিনিষেধ নয়; বরং তা সম্মান, সুরক্ষা ও পরিচয়ের প্রতীক, যার উদ্দেশ্য তার মর্যাদা সংরক্ষণ করা এবং আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ককে দৃঢ় করা, তার আনন্দ বা শৈশব কেড়ে নেওয়া নয়।
----------------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
মানুষের শরীরের সব রোগের মূল কেন্দ্র হলো তার পেট!
রাসূল (সা.) বলেছেন:
“পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র মানুষ পূর্ণ করে না।” (তিরমিজি)
অথচ আমরা জিহ্বাকে খুশি করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের এই পেট বা পাকস্থলীকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলছি। যার ফলাফল—অল্প বয়সে শরীরে বাসা বাঁধছে কঠিন সব রোগ।
কেন আমরা অসুস্থ হচ্ছি?
বিজ্ঞান বলছে, আমাদের অন্ত্র বা Gut হলো আমাদের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’। যখন আমরা অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, প্রসেসড ফুড বা চিনিযুক্ত খাবার খাই, তখন পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীর ভেতর থেকে ধসে পড়তে থাকে।
অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে ভবিষ্যতে যা হতে পারে:
১. স্থায়ী গ্যাস্ট্রিক ও আলসার:
অনিয়ম করে খাওয়া এবং বাইরের তেল-চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলীতে এসিডের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। দীর্ঘদিন এটি চলতে থাকলে আলসার এবং হজমশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
২. স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি:
অতিরিক্ত শর্করা এবং ফাস্টফুড রক্তে ইনসুলিন স্পাইক ঘটায়। এটি শরীরে চর্বি জমায়, যা পরবর্তীতে ফ্যাটি লিভার, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৩. অলসতা ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস:
বেশি খেলে শরীর ভারী হয়ে যায়, ইবাদতে মন বসে না এবং সবসময় ক্লান্তি কাজ করে। বিজ্ঞান মতে, অতিরিক্ত ভোজন মস্তিষ্কের ‘কগনিটিভ ফাংশন’ কমিয়ে দেয়, ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. ত্বক ও হরমোনের সমস্যা:
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে তার ছাপ মুখে পড়ে। একনি, ব্রন, এবং হরমোনাল ইমব্যালেন্সের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অস্বাস্থ্যকর খাবার।
সুস্থ থাকতে আজই যে পরিবর্তনগুলো জরুরি:
১. পেটের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ম মানা:
সুন্নাহ অনুযায়ী, পেটের এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি এবং এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখুন। এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরকে হালকা রাখে।
২. ন্যাচারাল বা অর্গানিক খাবার গ্রহণ:
প্যাকেটজাত খাবার কমিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন। মধু, কালোজিরা, বাদাম, খেজুর এবং ঘরে তৈরি খাবারকে প্রাধান্য দিন। এগুলো শরীরে ‘হিলিং’ বা নিরাময় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।
৩. সূর্যাস্তের পর ভারী খাবার বর্জন:
ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন। এতে ঘুমের সময় শরীর ডিটক্সিফাই করার সুযোগ পায় এবং মেদ জমে না।
৪. মাঝেমধ্যে রোজা রাখা:
সপ্তাহে অন্তত একদিন বা মাসে ৩টি সুন্নাহ রোজা (আইয়ামে বিজ) রাখার চেষ্টা করুন। বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘অটোফ্যাজি’ বলা হয়, যা শরীরের মৃত কোষগুলোকে ধ্বংস করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
মনে রাখবেন—
জিহ্বার স্বাদ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু স্বাস্থ্যের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। আল্লাহ আপনাকে যে সুস্থ শরীর দিয়েছেন, তা ভেজাল খাবার দিয়ে নষ্ট করবেন না।
সুস্থ শরীরই আপনাকে ইবাদত এবং দুনিয়াবী কাজে সফল হতে সাহায্য করবে। তাই আজই আপনার প্লেটের খাবারটি যাচাই করুন—এটি বিষ খাচ্ছেন না তো?
রাসূল (সা.) বলেছেন:
“পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র মানুষ পূর্ণ করে না।” (তিরমিজি)
অথচ আমরা জিহ্বাকে খুশি করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের এই পেট বা পাকস্থলীকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলছি। যার ফলাফল—অল্প বয়সে শরীরে বাসা বাঁধছে কঠিন সব রোগ।
কেন আমরা অসুস্থ হচ্ছি?
বিজ্ঞান বলছে, আমাদের অন্ত্র বা Gut হলো আমাদের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’। যখন আমরা অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, প্রসেসড ফুড বা চিনিযুক্ত খাবার খাই, তখন পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীর ভেতর থেকে ধসে পড়তে থাকে।
অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে ভবিষ্যতে যা হতে পারে:
১. স্থায়ী গ্যাস্ট্রিক ও আলসার:
অনিয়ম করে খাওয়া এবং বাইরের তেল-চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলীতে এসিডের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। দীর্ঘদিন এটি চলতে থাকলে আলসার এবং হজমশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
২. স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি:
অতিরিক্ত শর্করা এবং ফাস্টফুড রক্তে ইনসুলিন স্পাইক ঘটায়। এটি শরীরে চর্বি জমায়, যা পরবর্তীতে ফ্যাটি লিভার, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৩. অলসতা ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস:
বেশি খেলে শরীর ভারী হয়ে যায়, ইবাদতে মন বসে না এবং সবসময় ক্লান্তি কাজ করে। বিজ্ঞান মতে, অতিরিক্ত ভোজন মস্তিষ্কের ‘কগনিটিভ ফাংশন’ কমিয়ে দেয়, ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. ত্বক ও হরমোনের সমস্যা:
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে তার ছাপ মুখে পড়ে। একনি, ব্রন, এবং হরমোনাল ইমব্যালেন্সের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অস্বাস্থ্যকর খাবার।
সুস্থ থাকতে আজই যে পরিবর্তনগুলো জরুরি:
১. পেটের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ম মানা:
সুন্নাহ অনুযায়ী, পেটের এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি এবং এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখুন। এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরকে হালকা রাখে।
২. ন্যাচারাল বা অর্গানিক খাবার গ্রহণ:
প্যাকেটজাত খাবার কমিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন। মধু, কালোজিরা, বাদাম, খেজুর এবং ঘরে তৈরি খাবারকে প্রাধান্য দিন। এগুলো শরীরে ‘হিলিং’ বা নিরাময় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।
৩. সূর্যাস্তের পর ভারী খাবার বর্জন:
ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন। এতে ঘুমের সময় শরীর ডিটক্সিফাই করার সুযোগ পায় এবং মেদ জমে না।
৪. মাঝেমধ্যে রোজা রাখা:
সপ্তাহে অন্তত একদিন বা মাসে ৩টি সুন্নাহ রোজা (আইয়ামে বিজ) রাখার চেষ্টা করুন। বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘অটোফ্যাজি’ বলা হয়, যা শরীরের মৃত কোষগুলোকে ধ্বংস করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
মনে রাখবেন—
জিহ্বার স্বাদ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু স্বাস্থ্যের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। আল্লাহ আপনাকে যে সুস্থ শরীর দিয়েছেন, তা ভেজাল খাবার দিয়ে নষ্ট করবেন না।
সুস্থ শরীরই আপনাকে ইবাদত এবং দুনিয়াবী কাজে সফল হতে সাহায্য করবে। তাই আজই আপনার প্লেটের খাবারটি যাচাই করুন—এটি বিষ খাচ্ছেন না তো?
স্বর্গ যখন মুঠোতে. . .
মানুষ স্বর্গ বা বেহেশতের নেশায় বুদ হয়ে আছে, এর জন্য যদি তাকে খড়গহস্ত হতে হয় তাতেও রাজী। মা তার সদ্যজাত শিশুর রক্তপানেও প্রস্তুত। কিন্তু তাকে যদি বলি আপনি ঠিক কতটা স্বর্গীয় স্বত্ত্বা হতে পেরেছেন? ধরুন, আপনি আপনার পছন্দসই সমস্ত খাবার রান্না করলেন অথচ নিজে জ্বর বা রোগগ্রস্ত। তাহলে এসবের স্বাদ কী আদৌ নিতে পারবেন? কিংবা একজন মানুষ দেখতে খুব সুন্দর, পরিপাটি, ভালো-দামী পোশাক পরে, তার গায়ের মেশক-আম্বড়ের ঘ্রাণ দূর থেকে আঁচ পাওয়া যায়, সবাই দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অথচ লোকটি ক্যান্সার বা এইডস রোগে আক্রান্ত। তদ্রুপ, মানুষ তার বাহিরের দুনিয়া বা কল্পনার রাজত্বে উত্তরাধিকারী হতে মরিয়া হলেও নিজেকে এক নরকের অগ্নিকূপে রূপান্তরিত করছে। মানুষ এমন এক সুখের জন্য আলেয়ার পিছুপিছু মরিচীকা ধরতে ছুটে মরছে, কিন্তু কখনও তা ধরা দেবে না যা চিরন্তন সত্য। ত্রিপিটক থেকে সংক্ষেপে একটি উদাহরণ লিখছি-
"একবার এক ব্রাহ্মণ গৌতমবুদ্ধের নিকট এসে প্রশ্ন করে যে, আপনার কিছু শিষ্য আপনাকে মানার দাবি করেও বিভ্রান্ত ও কিছু সত্যপন্থী, এরকম কেন? তখন বুদ্ধ তাকে বললঃ আচ্ছা, ধরো এক ব্যক্তি তোমার কাছে রাজগৃহ যাওয়ার রাস্তা জিজ্ঞেস করল। তুমি তাকে রাজগৃহ যাওয়ার ঠিকঠাক রাস্তা, এইপথ ধরে যাও, তারপর একটা গ্রাম, তারপর কিছু দূরে একটা শহর, তারপর একটা প্রশস্ত পুকুর, তারপরেই কাঙ্ক্ষিত রাজগৃহ পাবে বলে দিলে। তারপর উক্ত ব্যক্তি উল্টোপথ ধরে বিভ্রান্তি হলো, রাস্তা হারালো। তারপর আরেক লোক এসে একই রাজগৃহ যাওয়ার রাস্তা জানতে চাইলে পূর্বের মতোই জবাব দিলে, উক্ত ব্যক্তি সেই কথানুযায়ী সঠিক গন্তব্য খুঁজে পেল। এখন বলো উভয়কেই একই জবাব দেওয়ার পরেও একজন বিভ্রান্তি-বিভ্রট ও অন্যজন সঠিক গন্তব্য পেলো কিভাবে? তখন ব্রাহ্মণ জবাব দিল- এতে আমি কী করতে পারি? কারণ আমি তো পথপ্রদর্শনকারী মাত্র।
তখন বুদ্ধ বললেন- তদ্রুপ, আমিও সেই নির্বাণপথ লাভের পথপ্রদর্শনকারী। কেউ পথপ্রাপ্ত ও কেউ পথভ্রষ্ট নিজেই নিজেকে স্থির করে"
[সূত্রপিটক, মধ্যমনিকায়, উপরি পঞ্চাশ (গণক মৌদগল্লায়ন-০৭)]
মানুষ স্বর্গ বা বেহেশতের নেশায় বুদ হয়ে আছে, এর জন্য যদি তাকে খড়গহস্ত হতে হয় তাতেও রাজী। মা তার সদ্যজাত শিশুর রক্তপানেও প্রস্তুত। কিন্তু তাকে যদি বলি আপনি ঠিক কতটা স্বর্গীয় স্বত্ত্বা হতে পেরেছেন? ধরুন, আপনি আপনার পছন্দসই সমস্ত খাবার রান্না করলেন অথচ নিজে জ্বর বা রোগগ্রস্ত। তাহলে এসবের স্বাদ কী আদৌ নিতে পারবেন? কিংবা একজন মানুষ দেখতে খুব সুন্দর, পরিপাটি, ভালো-দামী পোশাক পরে, তার গায়ের মেশক-আম্বড়ের ঘ্রাণ দূর থেকে আঁচ পাওয়া যায়, সবাই দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অথচ লোকটি ক্যান্সার বা এইডস রোগে আক্রান্ত। তদ্রুপ, মানুষ তার বাহিরের দুনিয়া বা কল্পনার রাজত্বে উত্তরাধিকারী হতে মরিয়া হলেও নিজেকে এক নরকের অগ্নিকূপে রূপান্তরিত করছে। মানুষ এমন এক সুখের জন্য আলেয়ার পিছুপিছু মরিচীকা ধরতে ছুটে মরছে, কিন্তু কখনও তা ধরা দেবে না যা চিরন্তন সত্য। ত্রিপিটক থেকে সংক্ষেপে একটি উদাহরণ লিখছি-
"একবার এক ব্রাহ্মণ গৌতমবুদ্ধের নিকট এসে প্রশ্ন করে যে, আপনার কিছু শিষ্য আপনাকে মানার দাবি করেও বিভ্রান্ত ও কিছু সত্যপন্থী, এরকম কেন? তখন বুদ্ধ তাকে বললঃ আচ্ছা, ধরো এক ব্যক্তি তোমার কাছে রাজগৃহ যাওয়ার রাস্তা জিজ্ঞেস করল। তুমি তাকে রাজগৃহ যাওয়ার ঠিকঠাক রাস্তা, এইপথ ধরে যাও, তারপর একটা গ্রাম, তারপর কিছু দূরে একটা শহর, তারপর একটা প্রশস্ত পুকুর, তারপরেই কাঙ্ক্ষিত রাজগৃহ পাবে বলে দিলে। তারপর উক্ত ব্যক্তি উল্টোপথ ধরে বিভ্রান্তি হলো, রাস্তা হারালো। তারপর আরেক লোক এসে একই রাজগৃহ যাওয়ার রাস্তা জানতে চাইলে পূর্বের মতোই জবাব দিলে, উক্ত ব্যক্তি সেই কথানুযায়ী সঠিক গন্তব্য খুঁজে পেল। এখন বলো উভয়কেই একই জবাব দেওয়ার পরেও একজন বিভ্রান্তি-বিভ্রট ও অন্যজন সঠিক গন্তব্য পেলো কিভাবে? তখন ব্রাহ্মণ জবাব দিল- এতে আমি কী করতে পারি? কারণ আমি তো পথপ্রদর্শনকারী মাত্র।
তখন বুদ্ধ বললেন- তদ্রুপ, আমিও সেই নির্বাণপথ লাভের পথপ্রদর্শনকারী। কেউ পথপ্রাপ্ত ও কেউ পথভ্রষ্ট নিজেই নিজেকে স্থির করে"
[সূত্রপিটক, মধ্যমনিকায়, উপরি পঞ্চাশ (গণক মৌদগল্লায়ন-০৭)]
নকল ও আসল প্রেমিকের পার্থক্য
বাদল সৈয়দ
১)
নকল প্রেমিক শুধু আপনার প্রশংসাই করবে, সমালোচনা করবে না।
আসলে কি আপনি ত্রুটিমুক্ত? তাহলে তা তার চোখে পড়ছে না কেন?
কারণ সে আপনাকে মুগ্ধ করে ভোলাতে চায়।
আসল প্রেমিক আপনার প্রশংসাও করবে—সমালোচনাও করবে।
কারণ সে চায় আপনার ত্রুটিগুলো না থাকুক; সে চায় আপনাকে আরও সুন্দর করতে।
২)
নকল প্রেমিক কেবল রূপের পূজা করতেই থাকবে—খুবই কনভিন্সিং উপায়ে আপনাকে বারবার মনে করিয়ে দেবে, আপনি কত সুন্দর।
আসল প্রেমিক এ ধরনের পূজা মাঝে মাঝে করবে—সবসময় নয়।
কারণ সে প্রশংসা করে টিকে থাকতে চায় না, ভালোবাসার জোরে টিকে থাকতে চায়।
সে তো আপনাকে নিজের সত্তাই মনে করে—তাই এত প্রশংসার ধার ধারে না।
(তবে একেবারে না করাও ভালো নয়—মাঝে মাঝে করা উচিত।)
৩)
নকল প্রেমিকের কথা হবে অতি সুমিষ্ট—একেবারে রসগোল্লার মতো।
কথা দিয়েই সে আপনাকে টিনএজ বয়সে ফিরিয়ে নেবে।
কারণ সে এসেছে সাময়িক সময়ের জন্য—কাজ হাসিল করে চলে যাবে।
তাই সে কথা দিয়ে আপনাকে আটকে রাখতে চায়।
আসল প্রেমিকের কথাবার্তা অতটা মিষ্টি হবে না।
সে এসেছে আপনার সঙ্গে সারাজীবন থাকার জন্য,
আর সারাজীবন মিষ্টি কথা বলা সম্ভব নয়।
৪)
নকল প্রেমিক ঝগড়াকে ‘নাস্তি’ মানবে।
সে কখনোই ঝগড়া করবে না।
কারণ সে উদ্দেশ্য হাসিলে এসেছে—ঝগড়া করে সে উদ্দেশ্য নষ্ট করতে চায় না।
আসল প্রেমে ঝগড়া অনিবার্য।
সব কথায় একমত হওয়া কীভাবে সম্ভব?
আসল প্রেমিক ঝগড়া করবে, কথা বন্ধ রাখবে—আবার ফিরে আসবে।
কারণ তার উদ্দেশ্য একটাই—আপনার সঙ্গে বুড়ো হওয়া।
৫)
নকল প্রেমিক খুব ইমোশন দেখায়।
কথায় কথায় মন খারাপের ভান করে, মাঝে মাঝে কান্নাও করে।
এসব করে আপনার মন নরম করার জন্য।
তার ভাবভঙ্গিতে মনে হয়, আপনার জন্মদিনই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।
সত্যিকারের প্রেমিক কাটখোট্টা হতে পারে।
সে ইমোশন দেখানোর প্রয়োজনই বুঝবে না।
কারণ সে ভাবে—ভালোবাসার মানুষটিকে ইমোশন দেখিয়ে ভোলাতে হবে কেন?
সে আপনার জন্মদিনের কথাও ভুলে যেতে পারে—
কারণ তার হৃদয়ে আপনিই তো গোলাপ হয়ে ফুটে আছেন।
কেনা ফুলের দরকার কী?
( তবে মনে রাখাটা ভালো)
৬)
আসল প্রেমিক মাঝে মাঝে আপনার পোশাক নিয়ে আপত্তি করতে পারে।
কারণ সে একজন পুরুষ হিসেবে আরেকজন পুরুষের মনস্তত্ত্ব বোঝে।
সে জানে, কোন পোশাকে অস্বস্তিকর চোখ আপনাকে অনুসরণ করতে পারে।
সে কখনোই চাইবে না এরকম হোক।
নকল প্রেমিক আপনি যাই পরুন—
‘পরীর মতো লাগছে’ বলে মাতামাতি করবে।
কারণ আপনার প্রতি তার সত্যিকারের মায়া বা শ্রদ্ধা নেই।
আপনাকে নিয়ে কে কী ভাবল—তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।
৭)
নকল প্রেমিক ‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি’ মার্কা সহানুভূতি দেখায়।
আপনার সামান্য জ্বর হলে তার চিন্তা দেখে মনে হয়,
সে নিজেই হার্ট অ্যাটাক করে মরে যাবে।
আসল প্রেমিক এত দরদ দেখাবে না—
কিন্তু বড় অসুখে সে-ই ঘটিবাটি বিক্রি করে চিকিৎসা করাবে।
হাসপাতালের বিনিদ্র রাতে পাশে বসে থাকবে।
তখন নকল প্রেমিক নতুন শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।
(আমি প্রার্থনা করি—আপনি সুস্থ থাকুন।)
৮)
নকল প্রেমিক সব বিষয়ে কথা বলবে, শুধু ভবিষ্যত নিয়ে কিছু বলতে বললে
থমকে যাবে- ব্যাপারটি সে এড়িয়ে যাবে। কারণ আপনাকে নিয়ে সে ভবিষ্যত রচনার কথা ভাবে না।
আসল প্রেমিক আজকের কথা যত বলবে, আগামীকাল নিয়ে বলবে আরো বেশি। কারণ আপনাকে ঘিরেই তার সমস্ত ভবিষ্যত স্বপ্ন রচিত হয়।
নকল ও আসল প্রেমিকের মূল পার্থক্য হলো—
প্রথমজন অতি ভালো।
সমস্যা হচ্ছে, এত ভালো ভালো নয়।
দ্বিতীয়জন ভালোমন্দে মেশানো।
সেটাই স্বাভাবিক—
এমনকি তরকারিতেও নুন আর ঝাল থাকে, তাই না?
চিনি দিয়ে তরকারি যেমন খাওয়া যায় না,
তেমন ভান করা প্রেমিকের সঙ্গে জীবন কাটানোও যায় না।
দয়া করে দই মনে করে চুন খাবেন না—
জিন্দেগির জন্য জিহ্বা পুড়ে যাবে।
পাদটীকা:
প্রেমিকের জায়গায় প্রেমিকা হলেও,
আসল–নকলের চরিত্র মোটা দাগে প্রায় একই।
ছবি: Pexels - এর পাবলিক ডোমেইন থেকে নেওয়া।
#আসুনমায়াছড়াই
#BadalSyed
বাদল সৈয়দ
১)
নকল প্রেমিক শুধু আপনার প্রশংসাই করবে, সমালোচনা করবে না।
আসলে কি আপনি ত্রুটিমুক্ত? তাহলে তা তার চোখে পড়ছে না কেন?
কারণ সে আপনাকে মুগ্ধ করে ভোলাতে চায়।
আসল প্রেমিক আপনার প্রশংসাও করবে—সমালোচনাও করবে।
কারণ সে চায় আপনার ত্রুটিগুলো না থাকুক; সে চায় আপনাকে আরও সুন্দর করতে।
২)
নকল প্রেমিক কেবল রূপের পূজা করতেই থাকবে—খুবই কনভিন্সিং উপায়ে আপনাকে বারবার মনে করিয়ে দেবে, আপনি কত সুন্দর।
আসল প্রেমিক এ ধরনের পূজা মাঝে মাঝে করবে—সবসময় নয়।
কারণ সে প্রশংসা করে টিকে থাকতে চায় না, ভালোবাসার জোরে টিকে থাকতে চায়।
সে তো আপনাকে নিজের সত্তাই মনে করে—তাই এত প্রশংসার ধার ধারে না।
(তবে একেবারে না করাও ভালো নয়—মাঝে মাঝে করা উচিত।)
৩)
নকল প্রেমিকের কথা হবে অতি সুমিষ্ট—একেবারে রসগোল্লার মতো।
কথা দিয়েই সে আপনাকে টিনএজ বয়সে ফিরিয়ে নেবে।
কারণ সে এসেছে সাময়িক সময়ের জন্য—কাজ হাসিল করে চলে যাবে।
তাই সে কথা দিয়ে আপনাকে আটকে রাখতে চায়।
আসল প্রেমিকের কথাবার্তা অতটা মিষ্টি হবে না।
সে এসেছে আপনার সঙ্গে সারাজীবন থাকার জন্য,
আর সারাজীবন মিষ্টি কথা বলা সম্ভব নয়।
৪)
নকল প্রেমিক ঝগড়াকে ‘নাস্তি’ মানবে।
সে কখনোই ঝগড়া করবে না।
কারণ সে উদ্দেশ্য হাসিলে এসেছে—ঝগড়া করে সে উদ্দেশ্য নষ্ট করতে চায় না।
আসল প্রেমে ঝগড়া অনিবার্য।
সব কথায় একমত হওয়া কীভাবে সম্ভব?
আসল প্রেমিক ঝগড়া করবে, কথা বন্ধ রাখবে—আবার ফিরে আসবে।
কারণ তার উদ্দেশ্য একটাই—আপনার সঙ্গে বুড়ো হওয়া।
৫)
নকল প্রেমিক খুব ইমোশন দেখায়।
কথায় কথায় মন খারাপের ভান করে, মাঝে মাঝে কান্নাও করে।
এসব করে আপনার মন নরম করার জন্য।
তার ভাবভঙ্গিতে মনে হয়, আপনার জন্মদিনই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।
সত্যিকারের প্রেমিক কাটখোট্টা হতে পারে।
সে ইমোশন দেখানোর প্রয়োজনই বুঝবে না।
কারণ সে ভাবে—ভালোবাসার মানুষটিকে ইমোশন দেখিয়ে ভোলাতে হবে কেন?
সে আপনার জন্মদিনের কথাও ভুলে যেতে পারে—
কারণ তার হৃদয়ে আপনিই তো গোলাপ হয়ে ফুটে আছেন।
কেনা ফুলের দরকার কী?
( তবে মনে রাখাটা ভালো)
৬)
আসল প্রেমিক মাঝে মাঝে আপনার পোশাক নিয়ে আপত্তি করতে পারে।
কারণ সে একজন পুরুষ হিসেবে আরেকজন পুরুষের মনস্তত্ত্ব বোঝে।
সে জানে, কোন পোশাকে অস্বস্তিকর চোখ আপনাকে অনুসরণ করতে পারে।
সে কখনোই চাইবে না এরকম হোক।
নকল প্রেমিক আপনি যাই পরুন—
‘পরীর মতো লাগছে’ বলে মাতামাতি করবে।
কারণ আপনার প্রতি তার সত্যিকারের মায়া বা শ্রদ্ধা নেই।
আপনাকে নিয়ে কে কী ভাবল—তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।
৭)
নকল প্রেমিক ‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি’ মার্কা সহানুভূতি দেখায়।
আপনার সামান্য জ্বর হলে তার চিন্তা দেখে মনে হয়,
সে নিজেই হার্ট অ্যাটাক করে মরে যাবে।
আসল প্রেমিক এত দরদ দেখাবে না—
কিন্তু বড় অসুখে সে-ই ঘটিবাটি বিক্রি করে চিকিৎসা করাবে।
হাসপাতালের বিনিদ্র রাতে পাশে বসে থাকবে।
তখন নকল প্রেমিক নতুন শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।
(আমি প্রার্থনা করি—আপনি সুস্থ থাকুন।)
৮)
নকল প্রেমিক সব বিষয়ে কথা বলবে, শুধু ভবিষ্যত নিয়ে কিছু বলতে বললে
থমকে যাবে- ব্যাপারটি সে এড়িয়ে যাবে। কারণ আপনাকে নিয়ে সে ভবিষ্যত রচনার কথা ভাবে না।
আসল প্রেমিক আজকের কথা যত বলবে, আগামীকাল নিয়ে বলবে আরো বেশি। কারণ আপনাকে ঘিরেই তার সমস্ত ভবিষ্যত স্বপ্ন রচিত হয়।
নকল ও আসল প্রেমিকের মূল পার্থক্য হলো—
প্রথমজন অতি ভালো।
সমস্যা হচ্ছে, এত ভালো ভালো নয়।
দ্বিতীয়জন ভালোমন্দে মেশানো।
সেটাই স্বাভাবিক—
এমনকি তরকারিতেও নুন আর ঝাল থাকে, তাই না?
চিনি দিয়ে তরকারি যেমন খাওয়া যায় না,
তেমন ভান করা প্রেমিকের সঙ্গে জীবন কাটানোও যায় না।
দয়া করে দই মনে করে চুন খাবেন না—
জিন্দেগির জন্য জিহ্বা পুড়ে যাবে।
পাদটীকা:
প্রেমিকের জায়গায় প্রেমিকা হলেও,
আসল–নকলের চরিত্র মোটা দাগে প্রায় একই।
ছবি: Pexels - এর পাবলিক ডোমেইন থেকে নেওয়া।
#আসুনমায়াছড়াই
#BadalSyed
ফোনের ক্যামেরায় টেপ লাগিয়ে ব্যবহার করছে- ইশরায়লের প্রধানমন্ত্রী "নিয়াহু" কিন্তু কেন?
#সরল_জবাব: আপনি ক্যামেরা অফ রাখলেও ফোন কর্তৃপক্ষ ক্যামেরা অন রাখার ব্যবস্থা রেখেছে। অর্থাৎ যদিও আপনি মনে করছেন- শুধুমাত্র আপনি ছবি তোলার সময়'ই ছবি কিংবা ভিডিও হয়ে থাকে! তাহলে ভুল বুঝেছেন।
#মোবাইলের সামন-পিছন দুই দিকের ক্যামেরা'ই সব সময়ের জন্য অন থাকে, এবং আপনার তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। এমনকি আপনি যদি মোবাইলকে ওপেন রেখে নিজের পোশাক পরিবর্তন করেন! তাহলে সেই সময়ের ছবি ভিডিওও সংগ্রহ করে মোবাইল, যা পরবর্তীতে নেট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্দিষ্ট জায়গায় ট্রান্সফার করে নেটওয়ার্ক। অতএব আপনি যদি সাবধান না হন তবে আপনার সর্বনাশ।
#আমি আজ দীর্ঘদিন যাবৎ মোবাইল পাশে রেখে পোশাক পরিবর্তন করি না, এবং আমার স্ত্রীকে আমার মোবাইল থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি। তাকে এমন মোবাইল কিনে দিয়েছি যেটাতে শুধু সিম লাগানো যায়, সামন ক্যামেরা নেই এবং ক্যামেরা অন করে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। আর পাশাপাশি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে খুব ভালো করে বুঝিয়েছি- যেন সে কখনোই ভিডিও কলে কোথাও কথা না বলে। অনেক আত্মীয়-স্বজন ভিডিও কল দিয়ে থাকে- পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য, কিন্তু আমি সেখানেও আমার স্ত্রীকে ইনভল্ভ করি না ইনশাআল্লাহ।
#বিষয়টি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করা জরুরি মনে করেই এই পোস্ট করেছি। আপনিও যদি এটাকে জরুরি মনে করেন তবে অবশ্যই এই পোস্টটি শেয়ার করুন, যেন অন্যরা সতর্ক হয়।
ফিরদাউস হাসান কুড়িগ্রামী
#সরল_জবাব: আপনি ক্যামেরা অফ রাখলেও ফোন কর্তৃপক্ষ ক্যামেরা অন রাখার ব্যবস্থা রেখেছে। অর্থাৎ যদিও আপনি মনে করছেন- শুধুমাত্র আপনি ছবি তোলার সময়'ই ছবি কিংবা ভিডিও হয়ে থাকে! তাহলে ভুল বুঝেছেন।
#মোবাইলের সামন-পিছন দুই দিকের ক্যামেরা'ই সব সময়ের জন্য অন থাকে, এবং আপনার তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। এমনকি আপনি যদি মোবাইলকে ওপেন রেখে নিজের পোশাক পরিবর্তন করেন! তাহলে সেই সময়ের ছবি ভিডিওও সংগ্রহ করে মোবাইল, যা পরবর্তীতে নেট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্দিষ্ট জায়গায় ট্রান্সফার করে নেটওয়ার্ক। অতএব আপনি যদি সাবধান না হন তবে আপনার সর্বনাশ।
#আমি আজ দীর্ঘদিন যাবৎ মোবাইল পাশে রেখে পোশাক পরিবর্তন করি না, এবং আমার স্ত্রীকে আমার মোবাইল থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি। তাকে এমন মোবাইল কিনে দিয়েছি যেটাতে শুধু সিম লাগানো যায়, সামন ক্যামেরা নেই এবং ক্যামেরা অন করে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। আর পাশাপাশি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে খুব ভালো করে বুঝিয়েছি- যেন সে কখনোই ভিডিও কলে কোথাও কথা না বলে। অনেক আত্মীয়-স্বজন ভিডিও কল দিয়ে থাকে- পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য, কিন্তু আমি সেখানেও আমার স্ত্রীকে ইনভল্ভ করি না ইনশাআল্লাহ।
#বিষয়টি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করা জরুরি মনে করেই এই পোস্ট করেছি। আপনিও যদি এটাকে জরুরি মনে করেন তবে অবশ্যই এই পোস্টটি শেয়ার করুন, যেন অন্যরা সতর্ক হয়।
ফিরদাউস হাসান কুড়িগ্রামী
মানুষ আপনাকে পাত্তা দেয় না, সম্মান করে না! সমস্যাটা অন্য মানুষ না, আপনি! চলুন দেখি কিভাবে নিজেকে Respect করা যায় যাতে করে পুরো পৃথিবী আপনাকে Respect করে! সবগুলো পয়েন্ট 👇
১। Speak with Intention!
হ্যাঁ, আপনিই। YOU.
কথা বলার সময় বিড়বিড় করা... কথায় কথায় "sorry" বলা... "ummm," "aaah" করা... এগুলো আজকেই বাদ দিন।
Here's a life hack:
একটু slowly কথা বলুন। আপনাকে instantly confident শোনাবে।
চুপচাপ moment-গুলো "um" বা "sorry" দিয়ে fill করার দরকার নাই।
Silence can be powerful.
People admire people who mean what they say.
২। Take Care of Yourself First!
খুব cliché শোনাচ্ছে, তাই না? "আগে নিজের যত্ন নাও"... but seriously, last কবে নিজেকে genuinely priority দিয়েছেন?
Start small. Super small.
Time মতো খান।
ঘুমের routine ঠিক করেন।
Don't doomscroll till 3 AM.
এমনভাবে dress up করুন যেন নিজেকে appreciate করছেন। Even if it's for yourself.
দিনে কয়েকটা mental break নিন... just to reset.
আপনিই যদি নিজের value না বোঝেন, অন্য কেউ কি বুঝবে?
৩। Learn to Say NO!
অনেক হয়েছে people-pleasing. Now, learn the magic word.
"না।"
"না, আমি পারবো না।"
Full stop. কোনো explanation দেওয়ার দরকার নেই।
You don't owe anyone a reason.
নিজের peace-কে protect করুন 'না' বলে...
যখন কাজটা করতে forced লাগছে।
যখন আপনি genuinely tired.
যখন এটা আপনার goals-এর সাথে যায় না।
...তখন "না" বলে দিন।
নিজের time-কে আগে respect করুন... নাহলে অন্যরাও করবে না।
৪। Know Your Boundaries!
কখনো এমন হয়েছে যে মন থেকে ‘না’ বলতে চেয়েও, মুখে ‘হ্যাঁ’ বলে ফেলেছেন? 🙂
This is where it all begins. নিজের time, energy, আর relationships-এর চারপাশে একটা অদৃশ্য দেয়াল বানান।
এটাকে বলে healthy boundaries.
কাকে কতটা access দেবেন, কখন দেবেন, সেই decision আপনার।
Remember: Respect begins when you show others how to treat you. আপনিই তো মানুষকে শেখাবেন যে, আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে।
৫। Keep Your Promises!
Trust. এই জিনিসটা এখান থেকেই শুরু হয়।
কথা দিয়ে কথা রাখা। No matter how small it is.
বলেছেন কল ব্যাক করবেন? তাহলে করুন।
Promise করেছেন দেখা করবেন? Show up.
ভুল করেছেন? Own it. Sorry বলুন and fix it.
Excuses-এর চেয়ে honesty-র value অনেক বেশি।
Your word is your bond. এটাকে ভাঙবেন না।
৬। Build Quiet Confidence!
Loud বা showy হওয়ার দরকার নেই। Just... a calm, solid presence.
সোজা হয়ে দাঁড়ান। Even when একা আছেন।
এমন পোশাক পরুন যা আপনাকে bold, smart, approachable feel করায়।
Eye contact করুন। Seriously, it's a game-changer.
হাসলে মন থেকে হাসুন।
Confidence whispers; it doesn’t need to scream.
৭। Respect Others First!
The golden rule.
Want respect? Give respect.
It's that simple.
কথা বলার চেয়ে বেশি শোনার চেষ্টা করুন।
অন্যদের success-এ celebrate করুন। Genuinely.
সবাইকে equally treat করুন। From the CEO to the office cleaner.
একটা simple "thank you" অনেক দূর নিয়ে যায়।
Respect given is respect earned.
১। Speak with Intention!
হ্যাঁ, আপনিই। YOU.
কথা বলার সময় বিড়বিড় করা... কথায় কথায় "sorry" বলা... "ummm," "aaah" করা... এগুলো আজকেই বাদ দিন।
Here's a life hack:
একটু slowly কথা বলুন। আপনাকে instantly confident শোনাবে।
চুপচাপ moment-গুলো "um" বা "sorry" দিয়ে fill করার দরকার নাই।
Silence can be powerful.
People admire people who mean what they say.
২। Take Care of Yourself First!
খুব cliché শোনাচ্ছে, তাই না? "আগে নিজের যত্ন নাও"... but seriously, last কবে নিজেকে genuinely priority দিয়েছেন?
Start small. Super small.
Time মতো খান।
ঘুমের routine ঠিক করেন।
Don't doomscroll till 3 AM.
এমনভাবে dress up করুন যেন নিজেকে appreciate করছেন। Even if it's for yourself.
দিনে কয়েকটা mental break নিন... just to reset.
আপনিই যদি নিজের value না বোঝেন, অন্য কেউ কি বুঝবে?
৩। Learn to Say NO!
অনেক হয়েছে people-pleasing. Now, learn the magic word.
"না।"
"না, আমি পারবো না।"
Full stop. কোনো explanation দেওয়ার দরকার নেই।
You don't owe anyone a reason.
নিজের peace-কে protect করুন 'না' বলে...
যখন কাজটা করতে forced লাগছে।
যখন আপনি genuinely tired.
যখন এটা আপনার goals-এর সাথে যায় না।
...তখন "না" বলে দিন।
নিজের time-কে আগে respect করুন... নাহলে অন্যরাও করবে না।
৪। Know Your Boundaries!
কখনো এমন হয়েছে যে মন থেকে ‘না’ বলতে চেয়েও, মুখে ‘হ্যাঁ’ বলে ফেলেছেন? 🙂
This is where it all begins. নিজের time, energy, আর relationships-এর চারপাশে একটা অদৃশ্য দেয়াল বানান।
এটাকে বলে healthy boundaries.
কাকে কতটা access দেবেন, কখন দেবেন, সেই decision আপনার।
Remember: Respect begins when you show others how to treat you. আপনিই তো মানুষকে শেখাবেন যে, আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে।
৫। Keep Your Promises!
Trust. এই জিনিসটা এখান থেকেই শুরু হয়।
কথা দিয়ে কথা রাখা। No matter how small it is.
বলেছেন কল ব্যাক করবেন? তাহলে করুন।
Promise করেছেন দেখা করবেন? Show up.
ভুল করেছেন? Own it. Sorry বলুন and fix it.
Excuses-এর চেয়ে honesty-র value অনেক বেশি।
Your word is your bond. এটাকে ভাঙবেন না।
৬। Build Quiet Confidence!
Loud বা showy হওয়ার দরকার নেই। Just... a calm, solid presence.
সোজা হয়ে দাঁড়ান। Even when একা আছেন।
এমন পোশাক পরুন যা আপনাকে bold, smart, approachable feel করায়।
Eye contact করুন। Seriously, it's a game-changer.
হাসলে মন থেকে হাসুন।
Confidence whispers; it doesn’t need to scream.
৭। Respect Others First!
The golden rule.
Want respect? Give respect.
It's that simple.
কথা বলার চেয়ে বেশি শোনার চেষ্টা করুন।
অন্যদের success-এ celebrate করুন। Genuinely.
সবাইকে equally treat করুন। From the CEO to the office cleaner.
একটা simple "thank you" অনেক দূর নিয়ে যায়।
Respect given is respect earned.
❤2
এবার একটু সিরিয়াস হয়ে নিজের জীবনটা নিয়ে ভাবুন।
ইসলামীক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বিশ্বাস করি: এই দুনিয়ায় হঠাৎ কিছুই ঘটে না। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মানুষ দিয়েই সাহায্য করেন, পথ দেখান, শিক্ষা দেন।
যেমনটা কুরআনে বলা হয়েছে:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।" (সূরা রা‘দ: ১১) অর্থাৎ, আল্লাহ সুযোগ তৈরি করে দেন, বিপদে মানুষ পাঠান, ইশারা দেন কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই।
ধরুন, আপনি পানিতে ডুবে যাচ্ছেন। আপনি দোয়া করলেন "হে আল্লাহ, আমাকে বাঁচান।" আল্লাহ তো আর নিজে আসবে না; বরং আপনাকে বাঁচানোর জন্য একজন মানুষকে নৌকা নিয়ে পাঠালেন। এখন আপনি যদি বলেন, "না, আমি নৌকায় উঠব না আল্লাহ নিজে আসবেন," দেখা গেলো শেষ পর্যন্ত আপনি পানিতে ডুবে মা'রা গেলেন।
তাহলে কি দোষ আল্লাহর? কি'য়ামতের দিনে আল্লাহ যখন বলবেন, "আমি তো তোমাকে বাঁচানোর জন্য নৌকা পাঠিয়েছিলাম; তুমি কেন উঠলে না?" তখন আপনি কি উত্তর দিবেন।
এটাই জীবনের বাস্তবতা।
আমাদের জীবনে আল্লাহ অনেক সময় এমন মানুষ পাঠান যারা আমাদের একাকীত্ব দূর করে, ভুল করলে সাবধান দেয়, সামনে এগোতে অনুপ্রাণিত করে, সঠিক পথে থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়। তারা হতে পারে আপনার বন্ধু, শিক্ষক, অভিভাবক, কিংবা কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী কণ্ঠস্বর। এগুলোই আল্লাহর পাঠানো উছিলা মাধ্যম।
সব সময় আপনার হাতে চয়েস থাকে। উদাহরণস্বরূপ:
আপনার দুজন বন্ধু আছে, একজন নে-শাখোর আর একজন ভালো, যে কিনা নিজের লাইফ নিয়ে সিরিয়াস। এখন আপনি যদি ভালোটার সাথে না মিশে শুধু খারাপটার সাথেই বেশিরভাগ সময় কাটান। একসময় দেখা গেলো ধীরে ধীরে আপনি নিজেও ভুল পথে পা বাড়াবেন।
এবার পয়েন্টে আসুন।
কেউ আমাদের ভালো পরামর্শ দিলে, সতর্ক করলে, বাস্তবতার কথা বললে আমরা সেটাকে উপেক্ষা করি। নিজের খেয়ালে চলি। পরে যখন জীবন এলোমেলো হয়ে যায়, তখন অভিযোগ করে বলি: আল্লাহ আমাকে এমন জীবন কেন দিলেন?
কিন্তু সেদিন যদি উত্ত আসে।
"আমিতো তোমার জীবনে মানুষ পাঠিয়েছিলাম, যারা তোমাকে সঠিক পথে থাকতে বলেছিল। তুমি কেন তাদের কথা শুনলে না?" কেন ভালো সঙ্গ বেছে না নিয়ে খারাপ সঙ্গ বেছে নিলে!
তখন আপনি কী বলবেন?
এই প্রশ্নটাই আসলে নিজেকে করা দরকার।
আমরা কি আল্লাহর পাঠানো সুযোগগুলো চিনতে পারছি? আমরা কি সঠিক পরামর্শকে অহংকারে ঠেলে দিচ্ছি? নাকি নিজের ভুল সিদ্ধান্তের দায়ও তাকদীরের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি?
কুরআনে আল্লাহ বলেন:
"আর মানুষ নিজের হাতেই যা অর্জন করে, তার কারণেই স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে।" (সূরা রূম: ৪১) এই আয়াত দ্বারা আমরা বুঝতে পারি, সবকিছুর দায় বাইরে নয়; অনেক কিছুই আমাদের নিজের পছন্দের ফল।
জীবন মানে শুধু দোয়া করা নয়; দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ যে দরজা খুলে দেন, সেই দরজায় গিয়ে দাঁড়ানোও জরুরি। তাই কিছু সময় মানুষের দেওয়া সঠিক পরামর্শ গুলো শুনতে হয়।
এবার নিজেকে প্রশ্ন করার পালা।
আজ আপনার জীবনে যে মানুষগুলো আপনাকে ভালো পথে ডাকছে, সচেতন করছে, সাবধান করছে। আপনি কি তাদের কথা শুনছেন? নাকি জীবনটা শুধু অভিযোগ করেই কাটিয়ে দিবেন?
Social Psychologist :
Jahid Hasan Scientist 👨🔬
#JummahMubarak
#islamicreminder
#decisionmaking
ইসলামীক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বিশ্বাস করি: এই দুনিয়ায় হঠাৎ কিছুই ঘটে না। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মানুষ দিয়েই সাহায্য করেন, পথ দেখান, শিক্ষা দেন।
যেমনটা কুরআনে বলা হয়েছে:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।" (সূরা রা‘দ: ১১) অর্থাৎ, আল্লাহ সুযোগ তৈরি করে দেন, বিপদে মানুষ পাঠান, ইশারা দেন কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই।
ধরুন, আপনি পানিতে ডুবে যাচ্ছেন। আপনি দোয়া করলেন "হে আল্লাহ, আমাকে বাঁচান।" আল্লাহ তো আর নিজে আসবে না; বরং আপনাকে বাঁচানোর জন্য একজন মানুষকে নৌকা নিয়ে পাঠালেন। এখন আপনি যদি বলেন, "না, আমি নৌকায় উঠব না আল্লাহ নিজে আসবেন," দেখা গেলো শেষ পর্যন্ত আপনি পানিতে ডুবে মা'রা গেলেন।
তাহলে কি দোষ আল্লাহর? কি'য়ামতের দিনে আল্লাহ যখন বলবেন, "আমি তো তোমাকে বাঁচানোর জন্য নৌকা পাঠিয়েছিলাম; তুমি কেন উঠলে না?" তখন আপনি কি উত্তর দিবেন।
এটাই জীবনের বাস্তবতা।
আমাদের জীবনে আল্লাহ অনেক সময় এমন মানুষ পাঠান যারা আমাদের একাকীত্ব দূর করে, ভুল করলে সাবধান দেয়, সামনে এগোতে অনুপ্রাণিত করে, সঠিক পথে থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়। তারা হতে পারে আপনার বন্ধু, শিক্ষক, অভিভাবক, কিংবা কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী কণ্ঠস্বর। এগুলোই আল্লাহর পাঠানো উছিলা মাধ্যম।
সব সময় আপনার হাতে চয়েস থাকে। উদাহরণস্বরূপ:
আপনার দুজন বন্ধু আছে, একজন নে-শাখোর আর একজন ভালো, যে কিনা নিজের লাইফ নিয়ে সিরিয়াস। এখন আপনি যদি ভালোটার সাথে না মিশে শুধু খারাপটার সাথেই বেশিরভাগ সময় কাটান। একসময় দেখা গেলো ধীরে ধীরে আপনি নিজেও ভুল পথে পা বাড়াবেন।
এবার পয়েন্টে আসুন।
কেউ আমাদের ভালো পরামর্শ দিলে, সতর্ক করলে, বাস্তবতার কথা বললে আমরা সেটাকে উপেক্ষা করি। নিজের খেয়ালে চলি। পরে যখন জীবন এলোমেলো হয়ে যায়, তখন অভিযোগ করে বলি: আল্লাহ আমাকে এমন জীবন কেন দিলেন?
কিন্তু সেদিন যদি উত্ত আসে।
"আমিতো তোমার জীবনে মানুষ পাঠিয়েছিলাম, যারা তোমাকে সঠিক পথে থাকতে বলেছিল। তুমি কেন তাদের কথা শুনলে না?" কেন ভালো সঙ্গ বেছে না নিয়ে খারাপ সঙ্গ বেছে নিলে!
তখন আপনি কী বলবেন?
এই প্রশ্নটাই আসলে নিজেকে করা দরকার।
আমরা কি আল্লাহর পাঠানো সুযোগগুলো চিনতে পারছি? আমরা কি সঠিক পরামর্শকে অহংকারে ঠেলে দিচ্ছি? নাকি নিজের ভুল সিদ্ধান্তের দায়ও তাকদীরের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি?
কুরআনে আল্লাহ বলেন:
"আর মানুষ নিজের হাতেই যা অর্জন করে, তার কারণেই স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে।" (সূরা রূম: ৪১) এই আয়াত দ্বারা আমরা বুঝতে পারি, সবকিছুর দায় বাইরে নয়; অনেক কিছুই আমাদের নিজের পছন্দের ফল।
জীবন মানে শুধু দোয়া করা নয়; দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ যে দরজা খুলে দেন, সেই দরজায় গিয়ে দাঁড়ানোও জরুরি। তাই কিছু সময় মানুষের দেওয়া সঠিক পরামর্শ গুলো শুনতে হয়।
এবার নিজেকে প্রশ্ন করার পালা।
আজ আপনার জীবনে যে মানুষগুলো আপনাকে ভালো পথে ডাকছে, সচেতন করছে, সাবধান করছে। আপনি কি তাদের কথা শুনছেন? নাকি জীবনটা শুধু অভিযোগ করেই কাটিয়ে দিবেন?
Social Psychologist :
Jahid Hasan Scientist 👨🔬
#JummahMubarak
#islamicreminder
#decisionmaking
জ্ঞান - Knowledge
Photo
✅ সুদমুক্ত ৭ম সরকারি সুকুকে ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে ভাড়া আয় হবে উৎসে কর কাটার পর ৮,৬৪০ টাকা।
✅ এই সুকুকে বিনিয়োগ করতে চাইলে এই ১ পেজের ফর্ম পূরণ করে যে ব্যাংকে আপনার সেভিংস বা কারেন্ট একাউন্ট আছে সে শাখায় জমা দিন। আর কোনো ডকুমেন্টস লাগবে না, কোনো চার্জ নেই।
✅ আপনি আবেদন পাঠাবেন ব্যাংকের শাখায়, শাখা পাঠাবে তার হেড অফিসের ট্রেজারী ডিভিশনে, ট্রেজারী ডিভিশন পাঠাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে।
✅ ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, বীমা কোম্পানি ছাড়াও নিবাসী এবং অনিবাসী বাংলাদেশী ব্যক্তিরা বিনিয়োগ করতে পারবে।
✅ ১০ হাজার বা তার গুণিতক যে কোনো পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করা যাবে।
✅ ৭ম সরকারি সুকুক এ ৯.৬০% এ রেন্টাল পেমেন্ট পাওয়া যাবে। উৎসে কর ১০% বাদ দিয়ে ভাড়া আয়ের অবশিষ্ট টাকা ৬ মাস পর পর আপনার সেই সেভিংস বা কারেন্ট একাউন্ট এ ঢুকবে।
✅ এই সুকুকের মেয়াদ ৭ বছর। এই ৭ বছরে ১৪টা ষান্মাসিক কিস্তিতে ভাড়া আয়ের টাকা পাবেন। ১৪তম কিস্তির সাথে মূল টাকা ফেরত পাবেন।
✅ সরকারি সুকুকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কর রেয়াত পাওয়া যায়।
🔥 আবেদনের শেষ তারিখ ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
✅ এই সুকুকে বিনিয়োগ করতে চাইলে এই ১ পেজের ফর্ম পূরণ করে যে ব্যাংকে আপনার সেভিংস বা কারেন্ট একাউন্ট আছে সে শাখায় জমা দিন। আর কোনো ডকুমেন্টস লাগবে না, কোনো চার্জ নেই।
✅ আপনি আবেদন পাঠাবেন ব্যাংকের শাখায়, শাখা পাঠাবে তার হেড অফিসের ট্রেজারী ডিভিশনে, ট্রেজারী ডিভিশন পাঠাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে।
✅ ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, বীমা কোম্পানি ছাড়াও নিবাসী এবং অনিবাসী বাংলাদেশী ব্যক্তিরা বিনিয়োগ করতে পারবে।
✅ ১০ হাজার বা তার গুণিতক যে কোনো পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করা যাবে।
✅ ৭ম সরকারি সুকুক এ ৯.৬০% এ রেন্টাল পেমেন্ট পাওয়া যাবে। উৎসে কর ১০% বাদ দিয়ে ভাড়া আয়ের অবশিষ্ট টাকা ৬ মাস পর পর আপনার সেই সেভিংস বা কারেন্ট একাউন্ট এ ঢুকবে।
✅ এই সুকুকের মেয়াদ ৭ বছর। এই ৭ বছরে ১৪টা ষান্মাসিক কিস্তিতে ভাড়া আয়ের টাকা পাবেন। ১৪তম কিস্তির সাথে মূল টাকা ফেরত পাবেন।
✅ সরকারি সুকুকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কর রেয়াত পাওয়া যায়।
🔥 আবেদনের শেষ তারিখ ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ভোটের আগে টাকা দিয়ে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে বড় ধরনের লাগাম টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি—এই ছয় দিন বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠানো যাবে। প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে মাত্র এক হাজার টাকা। অর্থাৎ বড় অঙ্কের লেনদেন কার্যত বন্ধই থাকছেএকই সময়ে আরো কঠোর হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেল। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে—সব অ্যাপেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধেই এই উদ্যোগ।
লক্ষ্য একটাই—ভোটার প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকানো।
একই সময়ে আরো কঠোর হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেল। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে—সব অ্যাপেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধেই এই উদ্যোগ।
লক্ষ্য একটাই—ভোটার প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকানো।
একই সময়ে আরো কঠোর হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেল। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে—সব অ্যাপেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।
ইবাদতে অলসতা আসে খুব নীরবে। আপনি চান, মনও চায়—কিন্তু ধারাবাহিকতা থাকে না। এই জায়গাটাতেই উলামায়ে কিরাম এমন কিছু ছোট আমল শিখিয়েছেন, যা ইবাদতের ভেতরের বাধা ভাঙতে সাহায্য করে।
এই আমলে কোনো জটিলতা নেই, কোনো বাড়াবাড়িও নেই। শুধু নিয়মিতভাবে আল্লাহর একটি নামের সাথে নিজেকে যুক্ত করা—যেন ইবাদত আবার বোঝা না হয়ে আত্মিক প্রশান্তির জায়গা হয়ে ওঠে।
আমল:
মাগরিব ও এশার নামাজের মাঝখানে প্রতিদিন
يَا وَارِثُ (ইয়া ওয়ারিসু) — ১০০ বার
অর্থ:
হে সবকিছুর চূড়ান্ত মালিক ও উত্তরাধিকারী আল্লাহ।
এই নামটি পড়লে মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে—সবকিছুর মালিক সে নিজে নয়। ইবাদতও তার ক্ষমতায় নয়; বরং আল্লাহ চাইলে তাওফিক দেন। আর এই উপলব্ধিটাই অলসতার মূল শেকড় কেটে দিতে সাহায্য করে।
© Ekram Hossain – ইকরাম হোসাইন
রেফারেন্স ও সূত্র:
উলামায়ে কিরামের অভিজ্ঞতাভিত্তিক নসিহত ও তাযকিয়ার কিতাবসমূহে বর্ণিত।
শায়খের পরিচিতি:
শায়খ ডক্টর আলী জুম‘আ (হাফিজাহুল্লাহ) — মিসরের একজন প্রখ্যাত আলেম, খতিব ও দাঈ। তিনি আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়া), যিকির-আদব এবং দ্বীনি নসিহত বিষয়ে বহু বছর ধরে দাওয়াত ও শিক্ষা-কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
#Ekramcreation
এই আমলে কোনো জটিলতা নেই, কোনো বাড়াবাড়িও নেই। শুধু নিয়মিতভাবে আল্লাহর একটি নামের সাথে নিজেকে যুক্ত করা—যেন ইবাদত আবার বোঝা না হয়ে আত্মিক প্রশান্তির জায়গা হয়ে ওঠে।
আমল:
মাগরিব ও এশার নামাজের মাঝখানে প্রতিদিন
يَا وَارِثُ (ইয়া ওয়ারিসু) — ১০০ বার
অর্থ:
হে সবকিছুর চূড়ান্ত মালিক ও উত্তরাধিকারী আল্লাহ।
এই নামটি পড়লে মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে—সবকিছুর মালিক সে নিজে নয়। ইবাদতও তার ক্ষমতায় নয়; বরং আল্লাহ চাইলে তাওফিক দেন। আর এই উপলব্ধিটাই অলসতার মূল শেকড় কেটে দিতে সাহায্য করে।
© Ekram Hossain – ইকরাম হোসাইন
রেফারেন্স ও সূত্র:
উলামায়ে কিরামের অভিজ্ঞতাভিত্তিক নসিহত ও তাযকিয়ার কিতাবসমূহে বর্ণিত।
শায়খের পরিচিতি:
শায়খ ডক্টর আলী জুম‘আ (হাফিজাহুল্লাহ) — মিসরের একজন প্রখ্যাত আলেম, খতিব ও দাঈ। তিনি আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়া), যিকির-আদব এবং দ্বীনি নসিহত বিষয়ে বহু বছর ধরে দাওয়াত ও শিক্ষা-কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
#Ekramcreation
❤1
"একজন সন্ন্যাসী নির্জনে ধ্যান করতে চাইলেন। মনাস্ট্রি থেকে দূরে একটা হ্রদের একদম মাঝখানে চলে গেলেন তিনি একটা নৌকা করে, যেখান থেকে উপকূল আর ভালো করে দেখাও যায় না। অতঃপর, এই নির্জন স্থানে ধ্যানস্থ হলেন সন্ন্যাসী।
কয়েক ঘণ্টা শান্ত নিস্তরঙ্গ শান্তিপূর্ণ ধ্যানের পর, তিনি হঠাৎ একটা প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করলেন। বুঝতে পারলেন অন্য আরেকটা নৌকা ধাক্কা মেরেছে তাঁর নৌকায়। সন্ন্যাসী ভয়ানক ক্রুদ্ধ হলেন মনে মনে। তিনি যখন ধ্যানে বসেছেন, কে তাঁকে এভাবে ধাক্কা মারতে সাহস করে! নৌকাটির আরোহীকে চিৎকার করে ভর্ৎসনা করতে যাবেন, এইসময় চোখ মেলে দেখলেন, নৌকাটিতে কেউ নেই। চালকহীন নৌকাটি ভাসতে ভাসতে হ্রদের মাঝখানে এসে তাঁর নৌকাকে ধাক্কা মেরেছে।
সেই মুহূর্তেই ওই সন্ন্যাসীর আত্মোপলব্ধি হল, "ক্রোধ বাইরে নয়, আমার ভিতরেই ছিল। দরকার ছিল বাইরে থেকে শুধু একটা আঘাতের, একটা উত্তেজনার!"
এর পর থেকে যখনই কেউ তাকে বিরক্ত করত, উত্তেজিত করত, তিনি শুধু একটা কথাই নিজেকে বলতেন, "ক্রোধ রয়েছে আমার ভিতরে; সামনের মানুষটা শুধুই একটা চালকবিহীন নৌকা।"
থিক নাট হান
কয়েক ঘণ্টা শান্ত নিস্তরঙ্গ শান্তিপূর্ণ ধ্যানের পর, তিনি হঠাৎ একটা প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করলেন। বুঝতে পারলেন অন্য আরেকটা নৌকা ধাক্কা মেরেছে তাঁর নৌকায়। সন্ন্যাসী ভয়ানক ক্রুদ্ধ হলেন মনে মনে। তিনি যখন ধ্যানে বসেছেন, কে তাঁকে এভাবে ধাক্কা মারতে সাহস করে! নৌকাটির আরোহীকে চিৎকার করে ভর্ৎসনা করতে যাবেন, এইসময় চোখ মেলে দেখলেন, নৌকাটিতে কেউ নেই। চালকহীন নৌকাটি ভাসতে ভাসতে হ্রদের মাঝখানে এসে তাঁর নৌকাকে ধাক্কা মেরেছে।
সেই মুহূর্তেই ওই সন্ন্যাসীর আত্মোপলব্ধি হল, "ক্রোধ বাইরে নয়, আমার ভিতরেই ছিল। দরকার ছিল বাইরে থেকে শুধু একটা আঘাতের, একটা উত্তেজনার!"
এর পর থেকে যখনই কেউ তাকে বিরক্ত করত, উত্তেজিত করত, তিনি শুধু একটা কথাই নিজেকে বলতেন, "ক্রোধ রয়েছে আমার ভিতরে; সামনের মানুষটা শুধুই একটা চালকবিহীন নৌকা।"
থিক নাট হান
জেফ্রি এপস্টিনের ঘটনাগুলো দেখে রাসুল (স:) এর একটি হাদিসের কথা বারবার মনে পড়ছে।
আল্লাহু আকবার!
হযরত আদি ইবনে হাতিম (রা.) বর্ণনা করেন-
রাসুল (স:) বলেছেন,
“অচিরেই এমন সময় আসবে, যখন একজন নারী সানা থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত একা সফর করবে, অথচ আল্লাহ ছাড়া আর কারও কোনো ভয় তার থাকবে না।”
উল্লেখ্য, সে সময় এই অঞ্চলটি ছিল জাহেলি আরবের অন্যতম অনিরাপদ একটি এলাকা।
কিন্তু সুবহানাল্লাহ! রাসুল (স:) এর এই ভবিষ্যদ্বাণী আদি ইবনে হাতিম (রা.) নিজ জীবদ্দশাতেই দেখে যান- হযরত উমর (রা.) এর খিলাফতকালে।
.
এখন প্রশ্ন হচ্ছে- এই হাদিসের সঙ্গে জেফ্রি এপস্টিনের ঘটনার সম্পর্ক কী?
আমরা বিশ্বাস করি, আমরা আজ সবচেয়ে নিরাপদ, সভ্য, ও আধুনিক সময়ে বাস করছি।
আমাদের হাতের মুঠোয় পুরো দুনিয়া। মুহূর্তেই পৃথিবীর যে কোনো জায়গার খবর জানতে পারি, দ্রুততম সময়ে যাতায়াত করতে পারি এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করছি।
এবং শিক্ষা, মানবাধিকার, নারী অধিকার, শিশু অধিকার, লিঙ্গ অধিকারন- এমন অসংখ্য অধিকারের চর্চা চলছে।
কিন্তু এই অধিকারচর্চা এবং সভ্যতার চরম শিখরে পৌঁছানোর পরও আমরা কী দেখছি?
যারা আমাদের মানবাধিকার শেখায়, সভ্যতার সবক দেয়, তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী হয়ে উঠেছে।
নারী ও শিশু অধিকারের বুলি আওড়িয়ে তারা শুধু নারী ও শিশুদের সঙ্গে বি*কৃত যৌনাচারেই লিপ্ত নয়- বরং নিজেদের বি*কৃত যৌন চাহিদা পূরণের জন্য মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ পর্যন্ত কে*টে খাওয়ার মতো নৃশং*সতার অভিযোগও সামনে আসছে।
আরবের জাহেলিয়াতের চেয়েও বহুগুণ বড় জাহেলিয়াতের সাক্ষী হচ্ছি আমরা।
.
অথচ দেখুন-
আরবের সেই জাহেলিয়াতকে ইসলাম মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এমনভাবে নির্মূল করেছিল যে, আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এক দুর্গম জনপদেও একজন নারী নির্ভয়ে, নিরাপদে চলাফেরা করতে পেরেছিল।
.
অন্যদিকে আজ আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিসিটিভি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকেও দেখছি- নারী, শিশু কিংবা পুরুষ কেউই নিরাপদ নয়। আপনার মেয়ে, আপনার বোন, আপনার সন্তান যেকোনো সময় তাদের ভোগের বস্তু এমনকি তাদের খাবারের মেনু হয়ে যেতে পারে।
কল্পনা করা যায়?
এবং সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো-
যারা আমাদের কাছে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার ফেরি করে, তারাই হয়ে উঠছে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় অনিরাপত্তার কারণ।
.
তাই যদি দুনিয়াবাসী আবারও প্রকৃত নিরাপত্তা চায়, তাহলে আবারও খি*লা*ফত প্রতিষ্ঠার দিকেই ফিরে যেতে হবে।
ইসলামের হাতেই দুনিয়াবাসীর প্রকৃত নিরাপত্তা।
✒️ Foysal Ibn Ali
আল্লাহু আকবার!
হযরত আদি ইবনে হাতিম (রা.) বর্ণনা করেন-
রাসুল (স:) বলেছেন,
“অচিরেই এমন সময় আসবে, যখন একজন নারী সানা থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত একা সফর করবে, অথচ আল্লাহ ছাড়া আর কারও কোনো ভয় তার থাকবে না।”
উল্লেখ্য, সে সময় এই অঞ্চলটি ছিল জাহেলি আরবের অন্যতম অনিরাপদ একটি এলাকা।
কিন্তু সুবহানাল্লাহ! রাসুল (স:) এর এই ভবিষ্যদ্বাণী আদি ইবনে হাতিম (রা.) নিজ জীবদ্দশাতেই দেখে যান- হযরত উমর (রা.) এর খিলাফতকালে।
.
এখন প্রশ্ন হচ্ছে- এই হাদিসের সঙ্গে জেফ্রি এপস্টিনের ঘটনার সম্পর্ক কী?
আমরা বিশ্বাস করি, আমরা আজ সবচেয়ে নিরাপদ, সভ্য, ও আধুনিক সময়ে বাস করছি।
আমাদের হাতের মুঠোয় পুরো দুনিয়া। মুহূর্তেই পৃথিবীর যে কোনো জায়গার খবর জানতে পারি, দ্রুততম সময়ে যাতায়াত করতে পারি এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করছি।
এবং শিক্ষা, মানবাধিকার, নারী অধিকার, শিশু অধিকার, লিঙ্গ অধিকারন- এমন অসংখ্য অধিকারের চর্চা চলছে।
কিন্তু এই অধিকারচর্চা এবং সভ্যতার চরম শিখরে পৌঁছানোর পরও আমরা কী দেখছি?
যারা আমাদের মানবাধিকার শেখায়, সভ্যতার সবক দেয়, তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী হয়ে উঠেছে।
নারী ও শিশু অধিকারের বুলি আওড়িয়ে তারা শুধু নারী ও শিশুদের সঙ্গে বি*কৃত যৌনাচারেই লিপ্ত নয়- বরং নিজেদের বি*কৃত যৌন চাহিদা পূরণের জন্য মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ পর্যন্ত কে*টে খাওয়ার মতো নৃশং*সতার অভিযোগও সামনে আসছে।
আরবের জাহেলিয়াতের চেয়েও বহুগুণ বড় জাহেলিয়াতের সাক্ষী হচ্ছি আমরা।
.
অথচ দেখুন-
আরবের সেই জাহেলিয়াতকে ইসলাম মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এমনভাবে নির্মূল করেছিল যে, আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এক দুর্গম জনপদেও একজন নারী নির্ভয়ে, নিরাপদে চলাফেরা করতে পেরেছিল।
.
অন্যদিকে আজ আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিসিটিভি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকেও দেখছি- নারী, শিশু কিংবা পুরুষ কেউই নিরাপদ নয়। আপনার মেয়ে, আপনার বোন, আপনার সন্তান যেকোনো সময় তাদের ভোগের বস্তু এমনকি তাদের খাবারের মেনু হয়ে যেতে পারে।
কল্পনা করা যায়?
এবং সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো-
যারা আমাদের কাছে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার ফেরি করে, তারাই হয়ে উঠছে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় অনিরাপত্তার কারণ।
.
তাই যদি দুনিয়াবাসী আবারও প্রকৃত নিরাপত্তা চায়, তাহলে আবারও খি*লা*ফত প্রতিষ্ঠার দিকেই ফিরে যেতে হবে।
ইসলামের হাতেই দুনিয়াবাসীর প্রকৃত নিরাপত্তা।
✒️ Foysal Ibn Ali
পুরুষের যৌন সমস্যা
( ১৮+ যৌন শিক্ষা বিষয়ক লেখা )
.
🟩 সমস্যা ১ঃ
☑️যৌন আকাঙ্ক্ষার অভাব (Impaired Sexual Interest)
.
☑️লক্ষনঃ
এখানে পুরুষদের মধ্যে যৌন উত্তেজনা আসে এবং যৌন সুখ লাভ করেন কিন্তু তাদের যৌন কাজের প্রতি আগ্রহ তীব্রভাবে কমে যায়। নিজের মধ্যে যৌন আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে সঙ্গীর সব ধরনের যৌন আবেদন বা আচরণ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং পুরুষ নিজ উদ্যোগী হয়ে কখনো সঙ্গীর সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হয় না। কিছু কিছু পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে যৌনতায় আগ্রহ না পেলেও হস্তমৈথুন করে যৌন সুখানুভূতি লাভ করে।
.
অনেক নারী অভিযোগ করে থাকেন যে তাদের স্বামী তাদের সঙ্গে যৌন মিলন না করলেও তাদের সামনেই হস্তমৈথুন করে। একজন নারী এ ধরনের আচরণ কখনো মেনে নিতে পারে না এবং এতে করে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় যেটা অন্যান্য ছোট খাট বিষয় দিয়ে প্রকাশিত হয়।
.
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ, ঝগড়াঝাঁটি, বিষন্নতা, সঙ্গীর প্রতি সন্দেহবাতিকতা ইত্যাদি কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
.
🟩 সমস্যা ২ঃ
☑️ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (Erectile Dysfunction)
(লিঙ্গ ঠিকভাবে শক্ত না হওয়া)
.
☑️লক্ষনঃ
DSM- 5 (Diagnostic and Statistical Manual for mental disorders) এর মতে, সঙ্গীর সঙ্গে যৌনসহবাস করার জন্য বা যোনিপথে লিঙ্গ প্রবেশ করানোর জন্য লিঙ্গ প্রয়োজনীয় পরিমান শক্ত হয় না। যৌন আদর করার পরও তাদের লিঙ্গ শক্ত হয় না, অথবা হলেও যোনিতে লিঙ্গ প্রবেশ করানোর সময় লিঙ্গটা নেতিয়ে বা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এতে করে লিঙ্গ যোনিতে ঢুকে না। অথবা ঢুকাতে পারলেও বীর্য বের (Ejaculate) হওয়ার আগেই লিঙ্গ নিস্তেজ হয়ে যায়। ফলাফল, সঙ্গীকে চূড়ান্ত যৌন সুখ দিতে পারে না। ৭ থেকে ১৮ শতাংশ পুরুষদের মধ্যে জীবনে কোনো না কোনো সময়ে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এটাকেই মূলত পুরুষত্বহীনতা বলা হয়।
.
শৈশব নির্যাতন অথবা যৌন আঘাত, দীর্ঘ মেয়াদি চাপ, সঙ্গীকে যৌনসুখ না দিতে পারার অপরাধবোধ, বিষন্নতা, দাম্পত্য কলহ ইত্যাদি কারণে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন হতে পারে।
.
🟩 সমস্যা ৩ঃ
☑️দ্রুত বীর্যপাত (Premature Ejaculation)
.
☑️লক্ষনঃ
মাস্টার অ্যান্ড জনশন, সেক্স থেরাপিস্ট (১৯৭১) এর মতে, পুরুষদের মধ্যে এটা খুবই কমন সমস্যা। এখানে যৌন আদরের কারণে পুরুষদের লিঙ্গ উত্থিত হয় কিন্তু যৌন সহবাসের নিমিত্তে নারীর যোনিপথে লিঙ্গ প্রবেশ করানোর পরপরই বীর্য বের হয়ে যায়। সময়ের হিসেবে বললে ১ মিনিটের ও কম সময়ের মধ্যে বীর্যপাত হয়ে যায়। যদিও যৌনসঙ্গমের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নাই তবুও যদি দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যায় তাহলে সঙ্গীর মনে হতে পারে যৌনসুখের সময়টা খুবই ক্ষনস্থায়ী ছিল বা পরিপূর্ণ/চূড়ান্ত সুখ লাভ করতে পারেনি।
.
এরকম দ্রুত বীর্যপাত নারী এবং পুরুষ দুজনের জন্যই চরম লজ্জাকর ও হতাশাজনক হতে পারে। ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পুরুষের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এ সমস্যা হতে পারে। তবে DSM-5 অনুযায়ী কারো মধ্যে এ সমস্যাটা ৬ মাস ধরে থাকলে ডাক্তার অথবা চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীদের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।
.
যদি এ সমস্যার সঠিক কারণ এখনো অজানা তবুও মানসিক চাপ, বিষন্নতা, দুশ্চিন্তা, সঙ্গীকে সুখি করতে না পারার জন্য দোষী, নিজের শরীরের ইমেজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব, যৌন সহবাসের সময় সম্পর্কে ভুল ধারণা ইত্যাদি কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
.
🟩 সমস্যা ৪ঃ
☑️বিলম্বিত বীর্যপাত (Retarded Ejaculation)
.
☑️লক্ষনঃ
এটা পুরুষের এমন একটি সমস্যা যেখানে দীর্ঘক্ষণ যৌনসঙ্গম করার ফলেও বীর্যপাত করতে পারে না বা বীর্যপাত হয় না। এমনকি ২৫/৩০ মিনিট পরেও বীর্যপাত হয় না। এতে করে পুরুষ কখনও ক্লাইমেক্স বা চরমপুলক লাভ করে না। ওদিকে সঙ্গীর অর্গাজম হয়ে যায় (শারীরিক স্বাভাবিক অবস্থা)। কিন্তু পুরুষের বীর্যপাত না হওয়ায় বা খুবই দেরিতে হওয়ার কারণে নারী সঙ্গীর অবস্থা তখন ভয়াবহ হয়ে যায়। এ অবস্থা যদি কোনো পুরুষের মধ্যে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে থাকে তাহলে মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা জরুরি।
.
এটাকে বিলম্বিত অর্গাজম বলা হয়। এ সমস্যার কারণে অনেক নারী বিবাহবিচ্ছেদ ঘটায়। কিন্তু এটার চিকিৎসা করলে সুফল পাওয়া যায়।
.
🟩 সমস্যা ৫ঃ
☑️যৌন বিতৃষ্ণা বা বিরাগ (Sexual Aversion)
.
☑️লক্ষণ:
এখানে পুরুষের মধ্যে যৌন কাজের প্রতি মারাত্মক অনীহা চলে আসে। যৌন কাজের বা যৌন সঙ্গমের প্রতি অনীহা ঘৃণা, অপমান, লজ্জা এবং আত্মসম্মানের সঙ্গে জড়িত থাকে। এ বিতৃষ্ণা বা অনীহা যে কোনো স্পেসিফিক কাজ যেমন ওরাল সেক্স অথবা যৌনিতে লিঙ্গ ঢুকানো নিয়ে হতে পারে, এটা হতে পারে বীর্যের গন্ধ, চুমু দেয়ার সময় লালার গন্ধের প্রতি। এটা হতে পারে সঙ্গীর যৌন অঙ্গ যেমন স্তন বা যোনির প্রতি। এটা হতে পারে যৌন সঙ্গম করার সময় সঙ্গীর বিভিন্ন শব্দের প্রতি।
( ১৮+ যৌন শিক্ষা বিষয়ক লেখা )
.
🟩 সমস্যা ১ঃ
☑️যৌন আকাঙ্ক্ষার অভাব (Impaired Sexual Interest)
.
☑️লক্ষনঃ
এখানে পুরুষদের মধ্যে যৌন উত্তেজনা আসে এবং যৌন সুখ লাভ করেন কিন্তু তাদের যৌন কাজের প্রতি আগ্রহ তীব্রভাবে কমে যায়। নিজের মধ্যে যৌন আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে সঙ্গীর সব ধরনের যৌন আবেদন বা আচরণ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং পুরুষ নিজ উদ্যোগী হয়ে কখনো সঙ্গীর সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হয় না। কিছু কিছু পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে যৌনতায় আগ্রহ না পেলেও হস্তমৈথুন করে যৌন সুখানুভূতি লাভ করে।
.
অনেক নারী অভিযোগ করে থাকেন যে তাদের স্বামী তাদের সঙ্গে যৌন মিলন না করলেও তাদের সামনেই হস্তমৈথুন করে। একজন নারী এ ধরনের আচরণ কখনো মেনে নিতে পারে না এবং এতে করে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় যেটা অন্যান্য ছোট খাট বিষয় দিয়ে প্রকাশিত হয়।
.
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ, ঝগড়াঝাঁটি, বিষন্নতা, সঙ্গীর প্রতি সন্দেহবাতিকতা ইত্যাদি কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
.
🟩 সমস্যা ২ঃ
☑️ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (Erectile Dysfunction)
(লিঙ্গ ঠিকভাবে শক্ত না হওয়া)
.
☑️লক্ষনঃ
DSM- 5 (Diagnostic and Statistical Manual for mental disorders) এর মতে, সঙ্গীর সঙ্গে যৌনসহবাস করার জন্য বা যোনিপথে লিঙ্গ প্রবেশ করানোর জন্য লিঙ্গ প্রয়োজনীয় পরিমান শক্ত হয় না। যৌন আদর করার পরও তাদের লিঙ্গ শক্ত হয় না, অথবা হলেও যোনিতে লিঙ্গ প্রবেশ করানোর সময় লিঙ্গটা নেতিয়ে বা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এতে করে লিঙ্গ যোনিতে ঢুকে না। অথবা ঢুকাতে পারলেও বীর্য বের (Ejaculate) হওয়ার আগেই লিঙ্গ নিস্তেজ হয়ে যায়। ফলাফল, সঙ্গীকে চূড়ান্ত যৌন সুখ দিতে পারে না। ৭ থেকে ১৮ শতাংশ পুরুষদের মধ্যে জীবনে কোনো না কোনো সময়ে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এটাকেই মূলত পুরুষত্বহীনতা বলা হয়।
.
শৈশব নির্যাতন অথবা যৌন আঘাত, দীর্ঘ মেয়াদি চাপ, সঙ্গীকে যৌনসুখ না দিতে পারার অপরাধবোধ, বিষন্নতা, দাম্পত্য কলহ ইত্যাদি কারণে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন হতে পারে।
.
🟩 সমস্যা ৩ঃ
☑️দ্রুত বীর্যপাত (Premature Ejaculation)
.
☑️লক্ষনঃ
মাস্টার অ্যান্ড জনশন, সেক্স থেরাপিস্ট (১৯৭১) এর মতে, পুরুষদের মধ্যে এটা খুবই কমন সমস্যা। এখানে যৌন আদরের কারণে পুরুষদের লিঙ্গ উত্থিত হয় কিন্তু যৌন সহবাসের নিমিত্তে নারীর যোনিপথে লিঙ্গ প্রবেশ করানোর পরপরই বীর্য বের হয়ে যায়। সময়ের হিসেবে বললে ১ মিনিটের ও কম সময়ের মধ্যে বীর্যপাত হয়ে যায়। যদিও যৌনসঙ্গমের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নাই তবুও যদি দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যায় তাহলে সঙ্গীর মনে হতে পারে যৌনসুখের সময়টা খুবই ক্ষনস্থায়ী ছিল বা পরিপূর্ণ/চূড়ান্ত সুখ লাভ করতে পারেনি।
.
এরকম দ্রুত বীর্যপাত নারী এবং পুরুষ দুজনের জন্যই চরম লজ্জাকর ও হতাশাজনক হতে পারে। ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পুরুষের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এ সমস্যা হতে পারে। তবে DSM-5 অনুযায়ী কারো মধ্যে এ সমস্যাটা ৬ মাস ধরে থাকলে ডাক্তার অথবা চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীদের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।
.
যদি এ সমস্যার সঠিক কারণ এখনো অজানা তবুও মানসিক চাপ, বিষন্নতা, দুশ্চিন্তা, সঙ্গীকে সুখি করতে না পারার জন্য দোষী, নিজের শরীরের ইমেজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব, যৌন সহবাসের সময় সম্পর্কে ভুল ধারণা ইত্যাদি কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
.
🟩 সমস্যা ৪ঃ
☑️বিলম্বিত বীর্যপাত (Retarded Ejaculation)
.
☑️লক্ষনঃ
এটা পুরুষের এমন একটি সমস্যা যেখানে দীর্ঘক্ষণ যৌনসঙ্গম করার ফলেও বীর্যপাত করতে পারে না বা বীর্যপাত হয় না। এমনকি ২৫/৩০ মিনিট পরেও বীর্যপাত হয় না। এতে করে পুরুষ কখনও ক্লাইমেক্স বা চরমপুলক লাভ করে না। ওদিকে সঙ্গীর অর্গাজম হয়ে যায় (শারীরিক স্বাভাবিক অবস্থা)। কিন্তু পুরুষের বীর্যপাত না হওয়ায় বা খুবই দেরিতে হওয়ার কারণে নারী সঙ্গীর অবস্থা তখন ভয়াবহ হয়ে যায়। এ অবস্থা যদি কোনো পুরুষের মধ্যে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে থাকে তাহলে মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা জরুরি।
.
এটাকে বিলম্বিত অর্গাজম বলা হয়। এ সমস্যার কারণে অনেক নারী বিবাহবিচ্ছেদ ঘটায়। কিন্তু এটার চিকিৎসা করলে সুফল পাওয়া যায়।
.
🟩 সমস্যা ৫ঃ
☑️যৌন বিতৃষ্ণা বা বিরাগ (Sexual Aversion)
.
☑️লক্ষণ:
এখানে পুরুষের মধ্যে যৌন কাজের প্রতি মারাত্মক অনীহা চলে আসে। যৌন কাজের বা যৌন সঙ্গমের প্রতি অনীহা ঘৃণা, অপমান, লজ্জা এবং আত্মসম্মানের সঙ্গে জড়িত থাকে। এ বিতৃষ্ণা বা অনীহা যে কোনো স্পেসিফিক কাজ যেমন ওরাল সেক্স অথবা যৌনিতে লিঙ্গ ঢুকানো নিয়ে হতে পারে, এটা হতে পারে বীর্যের গন্ধ, চুমু দেয়ার সময় লালার গন্ধের প্রতি। এটা হতে পারে সঙ্গীর যৌন অঙ্গ যেমন স্তন বা যোনির প্রতি। এটা হতে পারে যৌন সঙ্গম করার সময় সঙ্গীর বিভিন্ন শব্দের প্রতি।
.
যৌন বিরাগ পুরো যৌন কাজের প্রতিও হতে পারে। আবার হতে পারে নির্দিষ্ট একটা কাজের প্রতি। যেমন কোনো পুরুষ হয়তোবা শুধু যৌন সঙ্গম করতে পছন্দ করে, কিন্তু যৌন আদর যেমন- চুমু দেয়া, স্তন ঘর্ষণ করা, যোনিতে চুমু দেয়া ইত্যাদি পছন্দ করে না। অনেক নারী অভিযোগ করে থাকেন তাদের সঙ্গী কোনোরকম শারীরিক অন্য আদর ছাড়া লিঙ্গ যোনিতে প্রবেশ করিয়ে দেন।
.
কোনো পুরুষের মধ্যে এ সমস্যা থাকলে সেটা তাদের সঙ্গীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কটা খারাপ করে দিতে পারে। তাদের ভালো যৌন সম্পর্ক হয়ে উঠে না। সম্পর্কটা তখন একটা অভ্যাসে পরিণত হয়। এ অবস্থা যদি কারও মধ্যে ৬ মাস চলতে থাকে এবং এজন্য যদি তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পেলে তাহলে এটা যৌন বিপর্যয় ডিসঅর্ডার।
.
.
🟩 চিকিৎসা:
আমাদের দেশে যেহেতু যৌন সমস্যা বা যৌনরোগ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় না, তাই অনেকেই অপচিকিৎসার ফাঁদে পড়ে। লোভনীয় ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন, ১০০% গ্যারান্টি , এক ফাইল যথেষ্ট , ২৪ ঘণ্টায় সমাধানের নিশ্চয়তা ইত্যাদির লোভে অনেকেই প্রতারিত হন।
.
তাই কারো মধ্যে উপরোক্ত যৌন সমস্যাগুলো দেখা দিলে সরাসরি ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।
.
যদি সমস্যা দীর্ঘদিনের হয় তাহলে চিকিৎসকের কাছে কাছে প্রথমে স্বামী গেলেও চিকিৎসার ধাপে ধাপে স্ত্রীকেও স্বামীর সাথে যেতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীর ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয় ।
.
🔴 বলা হয়ে থাকে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যতই সমস্যা থাকুক, মতের অমিল থাকুক, চাওয়া পাওয়া না মিলুক, কিন্তু দিন শেষে তাদের মধ্যে চমৎকার একটা রোমান্টিক যৌন-সম্পর্ক বাকি সব সমস্যাকে গৌণ করে দিতে পারে। যৌন সম্পর্ক শুধুই শারীরিক নয়, মানসিকও।
.
✅ এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানার জন্য আমার লেখা নিম্নের বই দুইটি পড়তে পারেন:
১) বয়সন্ধিকালের যৌনশিক্ষা
২) বড়দের যৌনশিক্ষা
.
নিচের মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বই দুটি সংগ্রহ করতে পারবেন ।
.
.
.
ডা: মোঃ ফাইজুল হক
সরকারি রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক এবং ইউনানী ডাক্তার । আয়ুর্বেদ তীর্থ
মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলর ।
Trained on Cognitive-Behavior Therapy for Depression (DU)
Trained on Therapeutic Counselling
(Department of Clinical Psychology, University of Dhaka)
.
☑️চেম্বারঃ
আমার ২টি চেম্বার:
1️⃣ ধামরাই ইসলামপুর চেম্বার:
এ-৩৮/১ , ইসলামপুর, ধামরাই, ঢাকা
( নবীনগর স্মৃতিসৌধের পাশে, ধামরাই ইসলামপুর সরকারি হাসপাতাল ও গোডাউন মোড়ের মাঝে আমবাগান মসজিদের গলি )
সোম,মঙ্গল,বুধ,বৃহস্পতি,শুক্র সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা
2️⃣ সাভার চেম্বার:
সি - ৯৮ (২য় তলা ), ফ্ল্যাট # ডি,মজিদপুর রোড, সাভার ,ঢাকা
( অন্ধ মার্কেটের দক্ষিণ পাশে, স্বপ্ন সুপারশপ এর সাথে,মজিদপুর রোড, আল বারাকা সুপার মার্কেটের অপজিটে)
শনি ও রবি সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা
ফোন দিয়ে আসুন 01712-859950, 01972-859950
বিস্তারিত ঠিকানা জানতে ওয়েবসাইট ভিজিট করুন:
www.faijulhuq.info/contact-us/
.
🔴 সতর্কতা: কিছু প্রতারক আমার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে প্রতারণা করছে!
✅ আমাদের মোবাইল নাম্বার:
01972859950,
01712859950
এই নাম্বার ছাড়া আমাদের কোন নাম্বার নাই। সতর্ক থাকবেন, সাবধান থাকবেন।
আমার ওয়েবসাইট:
www.faijulhuq.com
ও
www.faijulhuq.info
যৌন বিরাগ পুরো যৌন কাজের প্রতিও হতে পারে। আবার হতে পারে নির্দিষ্ট একটা কাজের প্রতি। যেমন কোনো পুরুষ হয়তোবা শুধু যৌন সঙ্গম করতে পছন্দ করে, কিন্তু যৌন আদর যেমন- চুমু দেয়া, স্তন ঘর্ষণ করা, যোনিতে চুমু দেয়া ইত্যাদি পছন্দ করে না। অনেক নারী অভিযোগ করে থাকেন তাদের সঙ্গী কোনোরকম শারীরিক অন্য আদর ছাড়া লিঙ্গ যোনিতে প্রবেশ করিয়ে দেন।
.
কোনো পুরুষের মধ্যে এ সমস্যা থাকলে সেটা তাদের সঙ্গীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কটা খারাপ করে দিতে পারে। তাদের ভালো যৌন সম্পর্ক হয়ে উঠে না। সম্পর্কটা তখন একটা অভ্যাসে পরিণত হয়। এ অবস্থা যদি কারও মধ্যে ৬ মাস চলতে থাকে এবং এজন্য যদি তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পেলে তাহলে এটা যৌন বিপর্যয় ডিসঅর্ডার।
.
.
🟩 চিকিৎসা:
আমাদের দেশে যেহেতু যৌন সমস্যা বা যৌনরোগ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় না, তাই অনেকেই অপচিকিৎসার ফাঁদে পড়ে। লোভনীয় ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন, ১০০% গ্যারান্টি , এক ফাইল যথেষ্ট , ২৪ ঘণ্টায় সমাধানের নিশ্চয়তা ইত্যাদির লোভে অনেকেই প্রতারিত হন।
.
তাই কারো মধ্যে উপরোক্ত যৌন সমস্যাগুলো দেখা দিলে সরাসরি ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।
.
যদি সমস্যা দীর্ঘদিনের হয় তাহলে চিকিৎসকের কাছে কাছে প্রথমে স্বামী গেলেও চিকিৎসার ধাপে ধাপে স্ত্রীকেও স্বামীর সাথে যেতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীর ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয় ।
.
🔴 বলা হয়ে থাকে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যতই সমস্যা থাকুক, মতের অমিল থাকুক, চাওয়া পাওয়া না মিলুক, কিন্তু দিন শেষে তাদের মধ্যে চমৎকার একটা রোমান্টিক যৌন-সম্পর্ক বাকি সব সমস্যাকে গৌণ করে দিতে পারে। যৌন সম্পর্ক শুধুই শারীরিক নয়, মানসিকও।
.
✅ এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানার জন্য আমার লেখা নিম্নের বই দুইটি পড়তে পারেন:
১) বয়সন্ধিকালের যৌনশিক্ষা
২) বড়দের যৌনশিক্ষা
.
নিচের মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বই দুটি সংগ্রহ করতে পারবেন ।
.
.
.
ডা: মোঃ ফাইজুল হক
সরকারি রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক এবং ইউনানী ডাক্তার । আয়ুর্বেদ তীর্থ
মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলর ।
Trained on Cognitive-Behavior Therapy for Depression (DU)
Trained on Therapeutic Counselling
(Department of Clinical Psychology, University of Dhaka)
.
☑️চেম্বারঃ
আমার ২টি চেম্বার:
1️⃣ ধামরাই ইসলামপুর চেম্বার:
এ-৩৮/১ , ইসলামপুর, ধামরাই, ঢাকা
( নবীনগর স্মৃতিসৌধের পাশে, ধামরাই ইসলামপুর সরকারি হাসপাতাল ও গোডাউন মোড়ের মাঝে আমবাগান মসজিদের গলি )
সোম,মঙ্গল,বুধ,বৃহস্পতি,শুক্র সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা
2️⃣ সাভার চেম্বার:
সি - ৯৮ (২য় তলা ), ফ্ল্যাট # ডি,মজিদপুর রোড, সাভার ,ঢাকা
( অন্ধ মার্কেটের দক্ষিণ পাশে, স্বপ্ন সুপারশপ এর সাথে,মজিদপুর রোড, আল বারাকা সুপার মার্কেটের অপজিটে)
শনি ও রবি সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা
ফোন দিয়ে আসুন 01712-859950, 01972-859950
বিস্তারিত ঠিকানা জানতে ওয়েবসাইট ভিজিট করুন:
www.faijulhuq.info/contact-us/
.
🔴 সতর্কতা: কিছু প্রতারক আমার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে প্রতারণা করছে!
✅ আমাদের মোবাইল নাম্বার:
01972859950,
01712859950
এই নাম্বার ছাড়া আমাদের কোন নাম্বার নাই। সতর্ক থাকবেন, সাবধান থাকবেন।
আমার ওয়েবসাইট:
www.faijulhuq.com
ও
www.faijulhuq.info
মুফতি বিচারক নন
|২৮ |জানুয়ারি |২০২৬|
ইসলামি শরিয়তে প্রতিটি দায়িত্ব ও পদমর্যাদার একটি নির্দিষ্ট সীমা, পরিধি ও কর্তব্য নির্ধারিত আছে। এই সীমারেখাগুলো মেনে চলাই ন্যায়, ভারসাম্য ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়; আর এগুলো লঙ্ঘন করলেই জন্ম নেয় ফিতনা, বিশৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শত্রুতা। এই মৌলিক পার্থক্যগুলোর মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথচ উপেক্ষিত বিষয় হলো, মুফতি ও বিচারকের মধ্যকার পার্থক্য।
মুফতি কখনোই বিচারক নন, আর শরিয়তও তাঁকে বিচারকের ক্ষমতা অর্পণ করেনি। যখন এই পার্থক্যটি দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়, তখন ফতোয়া রায় হয়ে দাঁড়ায়, মতামত রূপ নেয় চূড়ান্ত আদেশে, আর কল্যাণকামিতা পরিণত হয় অভিযোগ ও বিচারে।
মুফতির দায়িত্ব মূলত শরিয়তের বিধান ব্যাখ্যা করা, তা প্রয়োগ করা নয়। তিনি শরিয়তের নীতিমালার আলোকে কোনো বিষয় স্পষ্ট করেন, পথনির্দেশ দেন, এবং তাদের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা. এর বিধানের অনুসারী হতে চান। পক্ষান্তরে বিচারকের দায়িত্ব হলো বিরোধ নিষ্পত্তি ও বিবাদ মীমাংসা করা। তিনি পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনেন, সাক্ষ্য গ্রহণ করেন, প্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা করেন, এবং শেষে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে কিংবা বিপক্ষে রায় ঘোষণা করেন। এ কারণেই শরিয়ত এই দুই পদকে পৃথক রেখেছে এবং একটির ক্ষমতা অন্যটির হাতে দেয়নি।
এই নীতির আলোকে বিষয়টি একেবারেই সুস্পষ্ট, যেমন একজন মুফতি হত্যা, চুরি, ব্যভিচার বা অন্যান্য ফৌজদারি অপরাধের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন না, তেমনি তিনি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঈমান-কুফর, হেদায়াত-পথভ্রষ্টতা, গ্রহণযোগ্যতা বা প্রত্যাখ্যানের চূড়ান্ত ফয়সালা দেওয়ার অধিকারও রাখেন না। কুফর, ইসলাম, ঈমান ও নিফাক এমন বিষয়, যার সম্পর্ক মানুষের অন্তরের সঙ্গে, আর অন্তরের অবস্থা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। শরিয়ত যদিও বাহ্যিক আচরণের ভিত্তিতে কিছু বিধান নির্ধারণ করেছে, তবে সেগুলো কার্যকর করার ক্ষমতা সবার হাতে দেয়নি; বরং একটি নিয়মতান্ত্রিক বিচারব্যবস্থার সঙ্গে তা সম্পৃক্ত করেছে।
তবুও আমাদের সমাজে এক ভয়াবহ প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, ফতোয়াকেই আদালত মনে করা হচ্ছে, আর মুফতিকেই বিচারক ভাবা হচ্ছে। ফলে কিছু মানুষ এই ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছে যে, তারা অমুক ব্যক্তিকে কাফির, অমুক দলকে পথভ্রষ্ট এবং অমুক মতবাদকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বহিষ্কৃত ঘোষণা করার অধিকার রাখে। এই মানসিকতা শুধু শরিয়তের মূলনীতির পরিপন্থীই নয়; এর পরিণতি হিসেবে গোটা উম্মাহকে পারস্পরিক সংঘর্ষ ও স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দেয়।
উপমহাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম সমাজের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ সমস্যা নতুন নয়। উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরুতে তাকফির, তাফসিক ও তাদলিলের বাজার বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রকাশ্যে মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাঈল শহীদের তাকফির করা হয়; স্যার সৈয়দ আহমদ খানকে ইসলাম থেকে বহিষ্কারের দাবিতে অনড় থাকা হয়; মাওলানা কাসিম নানুতবি ও মাওলানা রশিদ আহমদ গঙ্গোহীর বিরুদ্ধে একের পর এক কুফরের ফতোয়া দেওয়া হয়। আল্লামা শিবলী নুমানি ও মাওলানা ফারাহিকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। এরও আগে, ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতো মহান ইমামের বিরুদ্ধেও এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে তিনি হাদিস অস্বীকারকারী ছিলেন, এমনকি কিছু চরমপন্থী তাঁর সম্পর্কে এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কলমে লিপিবদ্ধ করারও যোগ্য নয়।
এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, যখন মুফতি নিজের সীমা অতিক্রম করেন, তখন এর আঘাত শুধু ব্যক্তির ওপর এসে পড়ে না; বরং সম্পূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, সংগঠন ও আন্দোলন এর শিকার হয়। প্রতিটি গোষ্ঠী অন্যকে আঘাত করাকেই দ্বীনের সবচেয়ে বড় খেদমত মনে করতে শুরু করে। এভাবেই তাকফির ও তাদলিলের এক অন্তহীন শৃঙ্খল গড়ে ওঠে।
এই প্রবণতার স্বাভাবিক ও অনিবার্য পরিণতি হলো শেষ পর্যন্ত সব মুসলমানই সন্দেহভাজন, বরং প্রত্যাখ্যাত বলে বিবেচিত হয়। ‘কুফর’ শব্দটি যদি অস্বস্তিকর মনে হয়, তবে তাকে নরম করে বলা হয়, উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের মধ্যেই কুফরের কোনো না কোনো চিহ্ন বিদ্যমান। এর ওপর আরও যোগ হয় সেই নীতি, যে ব্যক্তি কাফিরকে কাফির মনে করে না, সেও কাফির। এই নীতির পর আর কোনো ব্যতিক্রমের অবকাশ থাকে না। পরিধি এমন বিস্তৃত হয়ে যায় যে, আলেম হোক বা সাধারণ মানুষ, সাধক হোক বা দাঈ, সবাই তার ভেতরে ঢুকে পড়ে।
কিছু মানুষ এই পরিস্থিতিকে হালকা করে দেখাতে চান এভাবে যে, হয়তো তাকফিরকারীদের পক্ষ থেকে তাড়াহুড়া হয়েছে, কিংবা কোনো ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যাও সমস্যার সমাধান করে না। প্রথমত, যেসব বিষয়ে ‘চূড়ান্ত’ বলা হয়, সেখানে এমন ধরনের ভুলের সম্ভাবনা স্বীকারই করা হয় না। যদি সামান্যতম সন্দেহও থাকত, তবে তারা কাউকে কাফির ঘোষণা করতেন না। দ্বিতীয়ত, ধরেও নেওয়া যাক যে ভুল হয়েছে, তবু পরিণতি ভিন্ন হয় না। কারণ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, কেউ যখন কাউকে কাফির বলে, তখন দুজনের একজন অবশ্যই কাফির হয়, যাকে বলা হলো, অথবা যে বলল। এই নীতির আলোকে, যদি যাকে কাফির বলা হয়েছে সে
|২৮ |জানুয়ারি |২০২৬|
ইসলামি শরিয়তে প্রতিটি দায়িত্ব ও পদমর্যাদার একটি নির্দিষ্ট সীমা, পরিধি ও কর্তব্য নির্ধারিত আছে। এই সীমারেখাগুলো মেনে চলাই ন্যায়, ভারসাম্য ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়; আর এগুলো লঙ্ঘন করলেই জন্ম নেয় ফিতনা, বিশৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শত্রুতা। এই মৌলিক পার্থক্যগুলোর মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথচ উপেক্ষিত বিষয় হলো, মুফতি ও বিচারকের মধ্যকার পার্থক্য।
মুফতি কখনোই বিচারক নন, আর শরিয়তও তাঁকে বিচারকের ক্ষমতা অর্পণ করেনি। যখন এই পার্থক্যটি দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়, তখন ফতোয়া রায় হয়ে দাঁড়ায়, মতামত রূপ নেয় চূড়ান্ত আদেশে, আর কল্যাণকামিতা পরিণত হয় অভিযোগ ও বিচারে।
মুফতির দায়িত্ব মূলত শরিয়তের বিধান ব্যাখ্যা করা, তা প্রয়োগ করা নয়। তিনি শরিয়তের নীতিমালার আলোকে কোনো বিষয় স্পষ্ট করেন, পথনির্দেশ দেন, এবং তাদের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা. এর বিধানের অনুসারী হতে চান। পক্ষান্তরে বিচারকের দায়িত্ব হলো বিরোধ নিষ্পত্তি ও বিবাদ মীমাংসা করা। তিনি পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনেন, সাক্ষ্য গ্রহণ করেন, প্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা করেন, এবং শেষে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে কিংবা বিপক্ষে রায় ঘোষণা করেন। এ কারণেই শরিয়ত এই দুই পদকে পৃথক রেখেছে এবং একটির ক্ষমতা অন্যটির হাতে দেয়নি।
এই নীতির আলোকে বিষয়টি একেবারেই সুস্পষ্ট, যেমন একজন মুফতি হত্যা, চুরি, ব্যভিচার বা অন্যান্য ফৌজদারি অপরাধের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন না, তেমনি তিনি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঈমান-কুফর, হেদায়াত-পথভ্রষ্টতা, গ্রহণযোগ্যতা বা প্রত্যাখ্যানের চূড়ান্ত ফয়সালা দেওয়ার অধিকারও রাখেন না। কুফর, ইসলাম, ঈমান ও নিফাক এমন বিষয়, যার সম্পর্ক মানুষের অন্তরের সঙ্গে, আর অন্তরের অবস্থা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। শরিয়ত যদিও বাহ্যিক আচরণের ভিত্তিতে কিছু বিধান নির্ধারণ করেছে, তবে সেগুলো কার্যকর করার ক্ষমতা সবার হাতে দেয়নি; বরং একটি নিয়মতান্ত্রিক বিচারব্যবস্থার সঙ্গে তা সম্পৃক্ত করেছে।
তবুও আমাদের সমাজে এক ভয়াবহ প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, ফতোয়াকেই আদালত মনে করা হচ্ছে, আর মুফতিকেই বিচারক ভাবা হচ্ছে। ফলে কিছু মানুষ এই ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছে যে, তারা অমুক ব্যক্তিকে কাফির, অমুক দলকে পথভ্রষ্ট এবং অমুক মতবাদকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বহিষ্কৃত ঘোষণা করার অধিকার রাখে। এই মানসিকতা শুধু শরিয়তের মূলনীতির পরিপন্থীই নয়; এর পরিণতি হিসেবে গোটা উম্মাহকে পারস্পরিক সংঘর্ষ ও স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দেয়।
উপমহাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম সমাজের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ সমস্যা নতুন নয়। উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরুতে তাকফির, তাফসিক ও তাদলিলের বাজার বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রকাশ্যে মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাঈল শহীদের তাকফির করা হয়; স্যার সৈয়দ আহমদ খানকে ইসলাম থেকে বহিষ্কারের দাবিতে অনড় থাকা হয়; মাওলানা কাসিম নানুতবি ও মাওলানা রশিদ আহমদ গঙ্গোহীর বিরুদ্ধে একের পর এক কুফরের ফতোয়া দেওয়া হয়। আল্লামা শিবলী নুমানি ও মাওলানা ফারাহিকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। এরও আগে, ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতো মহান ইমামের বিরুদ্ধেও এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে তিনি হাদিস অস্বীকারকারী ছিলেন, এমনকি কিছু চরমপন্থী তাঁর সম্পর্কে এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কলমে লিপিবদ্ধ করারও যোগ্য নয়।
এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, যখন মুফতি নিজের সীমা অতিক্রম করেন, তখন এর আঘাত শুধু ব্যক্তির ওপর এসে পড়ে না; বরং সম্পূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, সংগঠন ও আন্দোলন এর শিকার হয়। প্রতিটি গোষ্ঠী অন্যকে আঘাত করাকেই দ্বীনের সবচেয়ে বড় খেদমত মনে করতে শুরু করে। এভাবেই তাকফির ও তাদলিলের এক অন্তহীন শৃঙ্খল গড়ে ওঠে।
এই প্রবণতার স্বাভাবিক ও অনিবার্য পরিণতি হলো শেষ পর্যন্ত সব মুসলমানই সন্দেহভাজন, বরং প্রত্যাখ্যাত বলে বিবেচিত হয়। ‘কুফর’ শব্দটি যদি অস্বস্তিকর মনে হয়, তবে তাকে নরম করে বলা হয়, উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের মধ্যেই কুফরের কোনো না কোনো চিহ্ন বিদ্যমান। এর ওপর আরও যোগ হয় সেই নীতি, যে ব্যক্তি কাফিরকে কাফির মনে করে না, সেও কাফির। এই নীতির পর আর কোনো ব্যতিক্রমের অবকাশ থাকে না। পরিধি এমন বিস্তৃত হয়ে যায় যে, আলেম হোক বা সাধারণ মানুষ, সাধক হোক বা দাঈ, সবাই তার ভেতরে ঢুকে পড়ে।
কিছু মানুষ এই পরিস্থিতিকে হালকা করে দেখাতে চান এভাবে যে, হয়তো তাকফিরকারীদের পক্ষ থেকে তাড়াহুড়া হয়েছে, কিংবা কোনো ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যাও সমস্যার সমাধান করে না। প্রথমত, যেসব বিষয়ে ‘চূড়ান্ত’ বলা হয়, সেখানে এমন ধরনের ভুলের সম্ভাবনা স্বীকারই করা হয় না। যদি সামান্যতম সন্দেহও থাকত, তবে তারা কাউকে কাফির ঘোষণা করতেন না। দ্বিতীয়ত, ধরেও নেওয়া যাক যে ভুল হয়েছে, তবু পরিণতি ভিন্ন হয় না। কারণ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, কেউ যখন কাউকে কাফির বলে, তখন দুজনের একজন অবশ্যই কাফির হয়, যাকে বলা হলো, অথবা যে বলল। এই নীতির আলোকে, যদি যাকে কাফির বলা হয়েছে সে
কাফির না হয়, তবে বলনেওয়ালাই কাফির সাব্যস্ত হয়। আর যেহেতু সবাই একে অপরকে কাফির বলে, তাই শেষ পর্যন্ত ফল দাঁড়ায়, সবাই কুফরের পরিসরে প্রবেশ করে।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে, যদি কুফর সবচেয়ে বড় গুনাহ হয়, তবে মানুষ নিজের নিজের কুফর থেকে তওবা করে না কেন? এই প্রশ্ন আমাদেরও দীর্ঘদিন ভাবিয়ে রেখেছিল। অবশেষে মানুষের মনস্তত্ত্বের একটি গভীর পর্যবেক্ষণ থেকে এর জবাব স্পষ্ট হলো। মানুষ নিজের ময়লা পরিষ্কার করা সহজ মনে করে, কিন্তু অন্যের ময়লা ছোঁয়াকে অত্যন্ত ঘৃণ্য মনে করে। সে নিজের অপবিত্রতাকে হালকা ও ক্ষমাযোগ্য বলে ধরে নেয়, আর অন্যের অপবিত্রতাকে ভয়ংকর, দুর্গন্ধময় ও অসহনীয় বলে বিবেচনা করে। ঠিক তেমনি, মানুষ নিজের কুফর বা নিফাকের জন্য কোনো না কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে নেয়, কিন্তু অন্যের কুফর তার কাছে চরম ঘৃণ্য ও অগ্রহণযোগ্য মনে হয়।
অথচ কুফরের অবস্থায় মৃত্যু হওয়াই সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি, যার ফল হতে পারে চিরস্থায়ী ধ্বংস। এ থেকে মুক্তির পথ এই নয় যে আমরা অন্যের ঈমান খুঁটিয়ে দেখতে বসব; বরং পথ হলো, নিজের ঈমান নিয়ে ভীত থাকা, অন্যদের অবস্থার ভালো ব্যাখ্যা করা, এবং নিজের গুনাহের ব্যাপারে কোনো রকম শৈথিল্য না দেখানো।
সালাফে সালেহিনের পথচলা ছিল ঠিক এমনই। তারা সাধারণ মুসলমানদের ব্যাপারে সদ্ভাব পোষণ করতেন, আর নিজেদের সম্পর্কে নিফাক ও কুফরের আশঙ্কা করতেন। ইমাম বুখারি রহ. ‘কিতাবুল ঈমান’-এ ইমাম হাসান বসরি রহ.-এর উক্তি উদ্ধৃত করেছেন, নিফাক থেকে কেবল মুমিনই ভয় পায়, আর নিফাক থেকে কেবল মুনাফিকই নির্ভয় থাকে। ইবনু আবি মুলাইকাহ রহ. বলেন, আমি ত্রিশজন সাহাবায়ে কেরামকে পেয়েছি, সবাই নিজের ব্যাপারে নিফাকের ভয় করতেন। এমনকি হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর মতো মহান সাহাবিও আশঙ্কা করতেন, কোথাও তিনি মুনাফিক না হয়ে যান। হজরত হাসান বসরি রহ. কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি এত কান্নাকাটি করেন কেন? তিনি বলেছিলেন, আমার আশঙ্কা হয়—আগামীকাল যেন আমাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা না হয়।
সালাফদের বাণী ও অবস্থা একত্র করলে এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হতে পারে। সারকথা হলো, তারা নিজেদের নফসকে অভিযুক্ত করতেন, আর অন্যদের ঈমানের ব্যাপারে সদ্ভাব রাখতেন। এটাই সুন্নি পথ, আর আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এই পথটিকেই জীবিত করা।
অতএব, মুফতির জন্য অপরিহার্য হলো, তিনি যেন নিজের দায়িত্বের সীমার মধ্যে থাকেন। তিনি বিচারক হবেন না, মুহতাসিব হবেন না, এবং মানুষের ঈমানের হিসাব গ্রহণ করবেন না। তাঁর কাজ হলো, যারা শরিয়ত অনুযায়ী জীবন যাপন করতে চান, তাদের জন্য ফতোয়া দেওয়া; ফতোয়াকে অস্ত্র বানিয়ে মানুষকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেওয়া নয়। যদি মুফতি এই দরজা খুলে দেন, তবে এক মুফতি আরেক মুফতিকে কাফির ঘোষণা করবে, আর পরিণতি হবে, কোনো ব্যক্তি, কোনো গোষ্ঠী এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই নিরাপদ থাকবে না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নিজেদের দোষত্রুটি চিনে নেওয়ার তাওফিক দিন, অন্যদের ব্যাপারে সদ্ভাব দান করুন, আমাদের তওবা ও আল্লাহমুখী প্রত্যাবর্তনের সামর্থ্য দিন, এবং আমাদের সব মুসলমানের জন্য কল্যাণকামী বানান। আমিন।
--------------------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে, যদি কুফর সবচেয়ে বড় গুনাহ হয়, তবে মানুষ নিজের নিজের কুফর থেকে তওবা করে না কেন? এই প্রশ্ন আমাদেরও দীর্ঘদিন ভাবিয়ে রেখেছিল। অবশেষে মানুষের মনস্তত্ত্বের একটি গভীর পর্যবেক্ষণ থেকে এর জবাব স্পষ্ট হলো। মানুষ নিজের ময়লা পরিষ্কার করা সহজ মনে করে, কিন্তু অন্যের ময়লা ছোঁয়াকে অত্যন্ত ঘৃণ্য মনে করে। সে নিজের অপবিত্রতাকে হালকা ও ক্ষমাযোগ্য বলে ধরে নেয়, আর অন্যের অপবিত্রতাকে ভয়ংকর, দুর্গন্ধময় ও অসহনীয় বলে বিবেচনা করে। ঠিক তেমনি, মানুষ নিজের কুফর বা নিফাকের জন্য কোনো না কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে নেয়, কিন্তু অন্যের কুফর তার কাছে চরম ঘৃণ্য ও অগ্রহণযোগ্য মনে হয়।
অথচ কুফরের অবস্থায় মৃত্যু হওয়াই সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি, যার ফল হতে পারে চিরস্থায়ী ধ্বংস। এ থেকে মুক্তির পথ এই নয় যে আমরা অন্যের ঈমান খুঁটিয়ে দেখতে বসব; বরং পথ হলো, নিজের ঈমান নিয়ে ভীত থাকা, অন্যদের অবস্থার ভালো ব্যাখ্যা করা, এবং নিজের গুনাহের ব্যাপারে কোনো রকম শৈথিল্য না দেখানো।
সালাফে সালেহিনের পথচলা ছিল ঠিক এমনই। তারা সাধারণ মুসলমানদের ব্যাপারে সদ্ভাব পোষণ করতেন, আর নিজেদের সম্পর্কে নিফাক ও কুফরের আশঙ্কা করতেন। ইমাম বুখারি রহ. ‘কিতাবুল ঈমান’-এ ইমাম হাসান বসরি রহ.-এর উক্তি উদ্ধৃত করেছেন, নিফাক থেকে কেবল মুমিনই ভয় পায়, আর নিফাক থেকে কেবল মুনাফিকই নির্ভয় থাকে। ইবনু আবি মুলাইকাহ রহ. বলেন, আমি ত্রিশজন সাহাবায়ে কেরামকে পেয়েছি, সবাই নিজের ব্যাপারে নিফাকের ভয় করতেন। এমনকি হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর মতো মহান সাহাবিও আশঙ্কা করতেন, কোথাও তিনি মুনাফিক না হয়ে যান। হজরত হাসান বসরি রহ. কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি এত কান্নাকাটি করেন কেন? তিনি বলেছিলেন, আমার আশঙ্কা হয়—আগামীকাল যেন আমাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা না হয়।
সালাফদের বাণী ও অবস্থা একত্র করলে এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হতে পারে। সারকথা হলো, তারা নিজেদের নফসকে অভিযুক্ত করতেন, আর অন্যদের ঈমানের ব্যাপারে সদ্ভাব রাখতেন। এটাই সুন্নি পথ, আর আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এই পথটিকেই জীবিত করা।
অতএব, মুফতির জন্য অপরিহার্য হলো, তিনি যেন নিজের দায়িত্বের সীমার মধ্যে থাকেন। তিনি বিচারক হবেন না, মুহতাসিব হবেন না, এবং মানুষের ঈমানের হিসাব গ্রহণ করবেন না। তাঁর কাজ হলো, যারা শরিয়ত অনুযায়ী জীবন যাপন করতে চান, তাদের জন্য ফতোয়া দেওয়া; ফতোয়াকে অস্ত্র বানিয়ে মানুষকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেওয়া নয়। যদি মুফতি এই দরজা খুলে দেন, তবে এক মুফতি আরেক মুফতিকে কাফির ঘোষণা করবে, আর পরিণতি হবে, কোনো ব্যক্তি, কোনো গোষ্ঠী এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই নিরাপদ থাকবে না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নিজেদের দোষত্রুটি চিনে নেওয়ার তাওফিক দিন, অন্যদের ব্যাপারে সদ্ভাব দান করুন, আমাদের তওবা ও আল্লাহমুখী প্রত্যাবর্তনের সামর্থ্য দিন, এবং আমাদের সব মুসলমানের জন্য কল্যাণকামী বানান। আমিন।
--------------------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।