জ্ঞান - Knowledge
2K subscribers
1.27K photos
21 videos
11 files
462 links
🙂🙂🙂
Download Telegram
এ*কজিবি*শোনিজম যখন হেলদি
ডা. অপূর্ব চৌধুরী

এ*কজিবি*শোনিজম । শব্দটা শুনলেই অনেকে শুরুতে ভাবে এক ধরনের ই*রো*টিক দৃশ্য, প্রদর্শন, এ*ক্সপ্লি*সিট বা ন্যু*ড প্রকাশ । শব্দটা প্রয়োগের কারণে এমনটা হয়েছে । সবসময় এক*জিবি"শোনিজম মানে ন*গ্ন*তা নয় । অনেক নন এ*ক্সপ্লি*সিট প্রকাশেও এ"কজি*বিশো"নিজম থাকে । এমন প্রকাশে সে*নসু*য়েল ফিলিংস থাকে, কিন্তু তার প্রদর্শন থাকে না । যেমন ধরুন : আপনি শরীর ঢাকলেন, সবকিছুই ঢাকলেন, কিন্তু শরীরের সাথে পোশাক এঁটে বাঁক গুলো প্রকাশ পাচ্ছে । এই বাঁকগুলো আপনাকে সে*নসু*য়েল ফিলিংস দেবে, আবার যে দেখায়, সেও তার শরীরের এই লাইনগুলো অন্য কেউ দেখছে, সেই তাকানো টা এনজয় করে । দুজনেই ফিলিংস পায় । মানব মন এইভাবেই কাজ করে । মেয়েদের চোখ এবং চোখের তাকানো ভঙ্গিতে যদি একটা ই*রো*টিক আহ্বান থাকে, এটাও এক ধরনের এ*কজিবি*শোনি*জম । যদিও পুরুষের তাকানো টা পা*শবিক এবং জোর*জবর"দস্তিমূলক । ডেলিকেট তাকানোতে কোমল আহ্বান থাকে, অত্যাচার নয় । মেয়েদের চুল ঠিক করার মধ্যেও একধরনের এ*কজিবি"শো"নিজম থাকে । অনামিকার আংটি ঘুরাচ্ছে হাতের মধ্যে একটু খুলে, একটু আবার পরিয়ে ! কখনো তাকিয়ে দেখেছেন, দৃশ্যটি কতটা মারাত্মক ! এগুলোকে বলে সফট সে*নসু*য়েলিটি । এ*কজিবি*শোনি"জম বা সফট সে*নসুয়ে*লিটি আনহেলদি কিছুই নয়, বরং অনেক সম্পর্কে এটা হেলদি, কিন্তু ততক্ষণে পর্যন্তই, যতক্ষণ পরিস্থিতির সম্মতি, নিয়ন্ত্রণ, কোন পক্ষকেই অস্বস্তিতে না ফেলা পর্যন্ত । দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মধ্যে পরস্পরের কনসেন্ট এন্ড রেসপেক্টিভ এটিচিইড থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক মূলক সে*নসুয়ে*লিটির বিনিময় হেলদি ।
“আমি আসলে খুব একা…” এই কথাটা কাউন্সেলিং রুমের সবচেয়ে কমন বাক্য বা বেশি শোনা বাক্য—
এই কথাটা কেবল কষ্টের কথা নয়। এটা মস্তিষ্কের একটি 𝗦𝗢𝗦 𝘀𝗶𝗴𝗻𝗮𝗹।

আমরা একাকীত্বকে এতদিন যেভাবে বুঝেছি, সেটি ছিল মূলত আবেগের ভাষায়—
👉“মন খারাপ লাগে”,
👉“কেউ বুঝতে পারে না”,
👉“নিজেকে একা লাগে।”
কিন্তু আধুনিক সাইকোলজি, নিউরোসায়েন্স ও বায়োলজিক্যাল রিসার্চ আজ স্পষ্টভাবে বলছে—
একাকীত্ব শুধু আবেগের বিষয় নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি 𝗻𝗲𝘂𝗿𝗼𝗹𝗼𝗴𝗶𝗰𝗮𝗹 𝘁𝗵𝗿𝗲𝗮𝘁। আজ আমরা জানি, দীর্ঘদিনের একাকীত্ব মানুষের মস্তিষ্কের বয়স বাড়িয়ে দেয়। শরীরের বয়স যতই হোক না কেন, একাকীত্বে ভোগা মানুষের 𝗯𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗮𝗴𝗲 তার প্রকৃত বয়সের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যেতে পারে।
এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে বুঝবো—

🛑🛑একাকীত্ব আসলে কী (𝗽𝘀𝘆𝗰𝗵𝗼𝗹𝗼𝗴𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗹𝗲𝘃𝗲𝗹)

মস্তিষ্ক একাকীত্বকে কীভাবে “হুমকি” হিসেবে দেখে
কোন কোন 𝗯𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗮𝗿𝗲𝗮 সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়
কীভাবে 𝗲𝗺𝗼𝘁𝗶𝗼𝗻𝗮𝗹 𝗽𝗮𝗶𝗻 → 𝗯𝗶𝗼𝗹𝗼𝗴𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗱𝗮𝗺𝗮𝗴𝗲-এ রূপ নেয় কেন একাকীত্ব 𝗱𝗲𝗺𝗲𝗻𝘁𝗶𝗮 ও 𝗰𝗼𝗴𝗻𝗶𝘁𝗶𝘃𝗲 𝗱𝗲𝗰𝗹𝗶𝗻𝗲-এর ঝুঁকি বাড়ায়
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এই ক্ষয় কি থামানো সম্ভব?

🔴1️⃣ একাকীত্ব কী—𝗣𝘀𝘆𝗰𝗵𝗼𝗹𝗼𝗴𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗥𝗲𝗮𝗹𝗶𝘁𝘆
একাকীত্ব মানেই একা থাকা নয়।
👉 একজন মানুষ সারাদিন মানুষের মাঝে থেকেও একাকী হতে পারে।
👉 আবার কেউ শারীরিকভাবে একা থেকেও একাকী নাও হতে পারে।
𝗣𝘀𝘆𝗰𝗵𝗼𝗹𝗼𝗴𝘆-তে একাকীত্বের সংজ্ঞা হলো—
“𝗣𝗲𝗿𝗰𝗲𝗶𝘃𝗲𝗱 𝗮𝗯𝘀𝗲𝗻𝗰𝗲 𝗼𝗳 𝗺𝗲𝗮𝗻𝗶𝗻𝗴𝗳𝘂𝗹 𝗲𝗺𝗼𝘁𝗶𝗼𝗻𝗮𝗹 𝗰𝗼𝗻𝗻𝗲𝗰𝘁𝗶𝗼𝗻.” অর্থাৎ—
কাউকে নিজের মনের কথা বলা যায় না। নিজের আবেগ বোঝার মতো কেউ নেই। সম্পর্ক আছে, কিন্তু নিরাপত্তা নেই। কথা বলা যায়, কিন্তু বোঝা যায় না
এই অনুভূতিটাই মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।

🛑2️⃣ মস্তিষ্ক কেন একাকীত্বকে হুমকি ভাবে?
মানুষের মস্তিষ্ক 𝘀𝗼𝗰𝗶𝗮𝗹 𝘀𝘂𝗿𝘃𝗶𝘃𝗮𝗹 𝗯𝗿𝗮𝗶𝗻।
𝗘𝘃𝗼𝗹𝘂𝘁𝗶𝗼𝗻𝗮𝗿𝘆 দৃষ্টিকোণ থেকে— 👉 দলছাড়া হওয়া মানে ছিল মৃত্যু।
তাই আজও মস্তিষ্ক— ,সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকে, সংযোগহীনতাকে ,অবহেলাকে “𝗧𝗵𝗿𝗲𝗮𝘁” হিসেবে রেজিস্টার করে।

এই 𝘁𝗵𝗿𝗲𝗮𝘁 𝗽𝗲𝗿𝗰𝗲𝗽𝘁𝗶𝗼𝗻 শুরু হলে—
👉𝗔𝗺𝘆𝗴𝗱𝗮𝗹𝗮 (𝗳𝗲𝗮𝗿 𝗰𝗲𝗻𝘁𝗲𝗿) সক্রিয় হয়
👉মস্তিষ্ক সবসময় 𝗮𝗹𝗲𝗿𝘁 থাকে
👉“𝗙𝗶𝗴𝗵𝘁 𝗼𝗿 𝗙𝗹𝗶𝗴𝗵𝘁” মোড চালু হয়
এটাই হলো একাকীত্বের 𝗯𝗶𝗼𝗹𝗼𝗴𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗲𝗻𝘁𝗿𝘆 𝗽𝗼𝗶𝗻𝘁।

🛑3️⃣ 𝗖𝗵𝗿𝗼𝗻𝗶𝗰 𝗦𝘁𝗿𝗲𝘀𝘀: একাকীত্বের প্রথম ক্ষতি
একাকীত্ব যদি সাময়িক হয়—মস্তিষ্ক সামলে নেয়।
কিন্তু একাকীত্ব যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়—
👉 তখন তৈরি হয় 𝗖𝗵𝗿𝗼𝗻𝗶𝗰 𝗣𝘀𝘆𝗰𝗵𝗼𝗹𝗼𝗴𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗦𝘁𝗿𝗲𝘀𝘀।

এর ফল—
▪️𝗛𝗣𝗔 𝗔𝘅𝗶𝘀 (𝗛𝘆𝗽𝗼𝘁𝗵𝗮𝗹𝗮𝗺𝘂𝘀–𝗣𝗶𝘁𝘂𝗶𝘁𝗮𝗿𝘆–𝗔𝗱𝗿𝗲𝗻𝗮𝗹) অতিসক্রিয়
✔️শরীর ধরে নেয়, বিপদ শেষ হয়নি
✔️স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ চলতেই থাকে
এই জায়গা থেকেই শুরু হয় মস্তিষ্কের 𝗮𝗴𝗲𝗶𝗻𝗴 𝗽𝗿𝗼𝗰𝗲𝘀𝘀।

🛑4️⃣ 𝗖𝗼𝗿𝘁𝗶𝘀𝗼𝗹: 𝗕𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗔𝗴𝗶𝗻𝗴-এর নীরব অস্ত্র
একাকীত্বে সবচেয়ে বেশি বাড়ে—
👉 𝗖𝗼𝗿𝘁𝗶𝘀𝗼𝗹 (𝗦𝘁𝗿𝗲𝘀𝘀 𝗛𝗼𝗿𝗺𝗼𝗻𝗲) স্বল্প সময় 𝗰𝗼𝗿𝘁𝗶𝘀𝗼𝗹 দরকার।
কিন্তু দীর্ঘদিন বেশি থাকলে—
🧠 মস্তিষ্কে যা ঘটে:
✔️𝗛𝗶𝗽𝗽𝗼𝗰𝗮𝗺𝗽𝘂𝘀 𝘀𝗵𝗿𝗶𝗻𝗸 করে
✔️𝗠𝗲𝗺𝗼𝗿𝘆 𝗳𝗼𝗿𝗺𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻 দুর্বল হয়
✔️𝗟𝗲𝗮𝗿𝗻𝗶𝗻𝗴 𝗰𝗮𝗽𝗮𝗰𝗶𝘁𝘆 কমে যায়
✔️𝗘𝗺𝗼𝘁𝗶𝗼𝗻𝗮𝗹 𝗿𝗲𝗴𝘂𝗹𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻 নষ্ট হয়

গবেষণায় দেখা গেছে— 👉 দীর্ঘদিন 𝗰𝗼𝗿𝘁𝗶𝘀𝗼𝗹 বেশি থাকলে 𝗵𝗶𝗽𝗽𝗼𝗰𝗮𝗺𝗽𝘂𝘀-এর 𝗻𝗲𝘂𝗿𝗼𝗻 মারা যেতে শুরু করে।
এটা সরাসরি 𝗯𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗮𝗴𝗶𝗻𝗴-এর লক্ষণ।

🛑5️⃣ 𝗛𝗶𝗽𝗽𝗼𝗰𝗮𝗺𝗽𝘂𝘀: স্মৃতির কেন্দ্র ভাঙতে থাকে
𝗛𝗶𝗽𝗽𝗼𝗰𝗮𝗺𝗽𝘂𝘀 হলো—
✅️স্মৃতি
✅️শেখা
✅️আবেগ ও বাস্তবতার সংযোগ কেন্দ্র

একাকীত্বে—
👉এই অংশের আয়তন কমে
👉নিউরনের সংযোগ নষ্ট হয়
👉নতুন নিউরন তৈরির ক্ষমতা কমে

ফলাফল—
✔️ভুলে যাওয়া
✔️মনোযোগ কম
✔️নতুন তথ্য ধরতে অসুবিধা
✔️জীবনের আনন্দ হারানো
এই লক্ষণগুলোকে অনেকেই “বয়সের স্বাভাবিক সমস্যা” ভাবে, কিন্তু অনেক সময় এগুলো 𝗹𝗼𝗻𝗲𝗹𝗶𝗻𝗲𝘀𝘀-𝗶𝗻𝗱𝘂𝗰𝗲𝗱 𝗯𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗮𝗴𝗶𝗻𝗴।

🛑6️⃣ 𝗣𝗿𝗲𝗳𝗿𝗼𝗻𝘁𝗮𝗹 𝗖𝗼𝗿𝘁𝗲𝘅: সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়
𝗣𝗿𝗲𝗳𝗿𝗼𝗻𝘁𝗮𝗹 𝗖𝗼𝗿𝘁𝗲𝘅 কাজ করে—
▪️সিদ্ধান্ত নেওয়া
▪️আবেগ নিয়ন্ত্রণ
▪️𝗜𝗺𝗽𝘂𝗹𝘀𝗲 𝗰𝗼𝗻𝘁𝗿𝗼𝗹
▪️ভবিষ্যৎ ভাবনা

একাকীত্বে দীর্ঘদিন থাকলে—
✅️️এই অংশ পাতলা হয়
✅️কার্যক্ষমতা কমে যায়
এর ফল—
✔️হুটহাট রেগে যাওয়া
✔️ভুল সিদ্ধান্ত
✔️আবেগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা
✔️সম্পর্ক আরও ভাঙা
এভাবে একাকীত্ব নিজেই নিজের ক্ষতি বাড়ায়।
🛑7️⃣ 𝗜𝗻𝗳𝗹𝗮𝗺𝗺𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻: ভেতরের আগুন
একাকীত্ব শুধু 𝗰𝗼𝗿𝘁𝗶𝘀𝗼𝗹 বাড়ায় না। এটি শরীরে তৈরি করে—
👉 𝗖𝗵𝗿𝗼𝗻𝗶𝗰 𝗜𝗻𝗳𝗹𝗮𝗺𝗺𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻
গবেষণায় দেখা গেছে— একাকীত্বে বেড়ে যায়:
✔️𝗜𝗟-𝟲
✔️𝗖𝗥𝗣
✔️𝗣𝗿𝗼-𝗶𝗻𝗳𝗹𝗮𝗺𝗺𝗮𝘁𝗼𝗿𝘆 𝗰𝘆𝘁𝗼𝗸𝗶𝗻𝗲𝘀

এই 𝗶𝗻𝗳𝗹𝗮𝗺𝗺𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻 যখন মস্তিষ্কে পৌঁছায়—
𝗡𝗲𝘂𝗿𝗼𝗶𝗻𝗳𝗹𝗮𝗺𝗺𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻 হয় নিউরন ক্ষয় দ্রুত হয়
𝗕𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗮𝗴𝗶𝗻𝗴 আরও ত্বরান্বিত হয়। আর এই কারণেই একাকীত্বকে বলা হয়—
👉“𝗦𝗹𝗼𝘄 𝗻𝗲𝘂𝗿𝗼𝗹𝗼𝗴𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗽𝗼𝗶𝘀𝗼𝗻.”

🛑8️⃣ 𝗡𝗲𝘂𝗿𝗼𝗶𝗺𝗮𝗴𝗶𝗻𝗴 কী দেখাচ্ছে?
𝗠𝗥𝗜 ও 𝗯𝗿𝗮𝗶𝗻 𝘀𝗰𝗮𝗻 গবেষণায় দেখা গেছে—
একাকী মানুষের—
▪️𝗚𝗿𝗲𝘆 𝗺𝗮𝘁𝘁𝗲𝗿 কম
▪️𝗛𝗶𝗽𝗽𝗼𝗰𝗮𝗺𝗽𝘂𝘀 ছোট
▪️𝗣𝗿𝗲𝗳𝗿𝗼𝗻𝘁𝗮𝗹 𝗰𝗼𝗿𝘁𝗲𝘅 দুর্বল
▪️𝗕𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗮𝗴𝗲 বেশি

মানে— 👉 বয়স ৪০
👉 𝗯𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗮𝗴𝗲 ৫০+
এটাকে বলে 𝗔𝗰𝗰𝗲𝗹𝗲𝗿𝗮𝘁𝗲𝗱 𝗕𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗔𝗴𝗶𝗻𝗴।

🛑9️⃣ 𝗖𝗼𝗴𝗻𝗶𝘁𝗶𝘃𝗲 𝗗𝗲𝗰𝗹𝗶𝗻𝗲: মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে
একাকীত্বে দীর্ঘদিন থাকলে দেখা যায়—
▪️স্মৃতিশক্তি কমে
▪️মনোযোগ ভেঙে যায়
▪️চিন্তা ধীর হয়ে যায়
▪️সিদ্ধান্তে গড়বড়
এগুলোই 𝗰𝗼𝗴𝗻𝗶𝘁𝗶𝘃𝗲 𝗱𝗲𝗰𝗹𝗶𝗻𝗲-এর লক্ষণ।
✔️গবেষণা বলছে— 👉 একাকীত্ব 𝗰𝗼𝗴𝗻𝗶𝘁𝗶𝘃𝗲 𝗱𝗲𝗰𝗹𝗶𝗻𝗲-এর গতি ২০–৩০% বাড়াতে পারে।

🛑🔟 𝗗𝗲𝗺𝗲𝗻𝘁𝗶𝗮 ও 𝗔𝗹𝘇𝗵𝗲𝗶𝗺𝗲𝗿’𝘀 𝗥𝗶𝘀𝗸
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জায়গা এখানেই। দীর্ঘস্থায়ী একাকীত্ব—
👉𝗗𝗲𝗺𝗲𝗻𝘁𝗶𝗮 𝗿𝗶𝘀𝗸 ৩০–৪০% বাড়ায়
👉𝗔𝗹𝘇𝗵𝗲𝗶𝗺𝗲𝗿’𝘀 হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়

কারণ—
👉𝗕𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗿𝗲𝘀𝗶𝗹𝗶𝗲𝗻𝗰𝗲 কমে যায়
👉𝗥𝗲𝗽𝗮𝗶𝗿 𝗺𝗲𝗰𝗵𝗮𝗻𝗶𝘀𝗺 দুর্বল হয়
👉সামান্য ক্ষতিও বড় প্রভাব ফেলে
এজন্যই একাকীত্বকে এখন 𝗺𝗼𝗱𝗶𝗳𝗶𝗮𝗯𝗹𝗲 𝗱𝗲𝗺𝗲𝗻𝘁𝗶𝗮 𝗿𝗶𝘀𝗸 𝗳𝗮𝗰𝘁𝗼𝗿 বলা হচ্ছে।

🛑1️⃣1️⃣ 𝗣𝘀𝘆𝗰𝗵𝗼𝗹𝗼𝗴𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗟𝗼𝗼𝗽: একাকীত্ব নিজেকেই বাড়ায়
একাকীত্ব একটি 𝘃𝗶𝗰𝗶𝗼𝘂𝘀 𝗰𝘆𝗰𝗹𝗲—
1️⃣ একাকীত্ব
2️⃣ 𝗕𝗿𝗮𝗶𝗻 𝘀𝘁𝗿𝗲𝘀𝘀
3️⃣ আবেগ ও সামাজিক দক্ষতা কমে
4️⃣ সম্পর্ক ভাঙে
5️⃣ একাকীত্ব আরও বাড়ে
এই লুপ না ভাঙলে— 👉 মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

🛑1️⃣2️⃣ ভালো খবর: 𝗡𝗲𝘂𝗿𝗼𝗽𝗹𝗮𝘀𝘁𝗶𝗰𝗶𝘁𝘆 এখনও বেঁচে আছে সবচেয়ে আশার কথা—
👉 এই ক্ষতি পুরোপুরি স্থায়ী নয়।
মস্তিষ্কের আছে—
🧠 𝗡𝗲𝘂𝗿𝗼𝗽𝗹𝗮𝘀𝘁𝗶𝗰𝗶𝘁𝘆
যদি—
▪️নিরাপদ সম্পর্ক তৈরি হয়
▪️নিয়মিত কথা বলা যায়
▪️আবেগ প্রকাশের জায়গা পাওয়া যায়
▪️কাউকে “𝗰𝗼𝗻𝗻𝗲𝗰𝘁𝗲𝗱” অনুভব করা যায়

তাহলে—
▪️𝗖𝗼𝗿𝘁𝗶𝘀𝗼𝗹 কমে
▪️𝗜𝗻𝗳𝗹𝗮𝗺𝗺𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻 কমে
▪️𝗛𝗶𝗽𝗽𝗼𝗰𝗮𝗺𝗽𝘂𝘀 আবার সক্রিয় হয়
▪️𝗕𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗮𝗴𝗶𝗻𝗴 ধীর হয়

🛑1️⃣3️⃣ কাউন্সেলিং রুমের বাস্তবতা

একাকীত্ব মানে দুর্বলতা নয়।
কিন্তু একাকীত্বে আটকে থাকা—
মস্তিষ্কের জন্য বিপজ্জনক।

একাকীত্বকে আর হালকা করে দেখার সময় নেই।
এটা— 👉আবেগ নয়, 𝗻𝗲𝘂𝗿𝗼𝗹𝗼𝗴𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗿𝗲𝗮𝗹𝗶𝘁𝘆
👉মন খারাপ নয়, 𝗯𝗿𝗮𝗶𝗻 𝗵𝗲𝗮𝗹𝘁𝗵 𝗶𝘀𝘀𝘂𝗲
👉দুর্বলতা নয়, চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা
আপনি যদি নিজেকে একা অনুভব করেন—
👉 সাহায্য চাওয়া বিলাসিতা নয়
👉 এটা আপনার মস্তিষ্কের যত্ন

🔯🔯এই পেজটি এমন একটি নিরাপদ জায়গা তৈরি করতেই আছে দিনের পর দিন — যেখানে কথা বলা যায়, বোঝা যায়, আর ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়া যায়।
ভালো লাগলে
𝗙𝗼𝗹𝗹𝗼𝘄 করুন Counselling Psychologist
কারও উপকার হতে পারে ভেবে 𝗦𝗵𝗮𝗿𝗲 করুন ভালো লাগলে কমেন্ট করতে পারেন।
1
ঠিক আছে। নিচে আমি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিফিং স্পিচ সাজিয়ে দিচ্ছি—যেটা আপনি চাইলে ১০–১৫ মিনিট, আবার চাইলে ৩০–৪৫ মিনিট ধরে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট কথাচ্ছলে উপস্থাপন করতে পারবেন।
ভাষা রাখছি কথার মতো, কিন্তু ভিতরে থাকবে ডাটা, ইতিহাস, আন্তর্জাতিক উদাহরণ আর বাংলাদেশের বাস্তবতা
আপনি চাইলে মাঝেমাঝে থামতে পারবেন, প্রশ্ন নিতে পারবেন—স্পিচটা সেইভাবেই লেখা।

---

# 🎤 ব্রিফিং স্পিচ

বিষয়: *ডিগ্রি নয়, দক্ষতা—নতুন বাংলাদেশের শিক্ষা দর্শন*

---

### 🔹 ভূমিকা (Opening – ১–২ মিনিট)

ভাই ও বোনেরা,
আজ আমি আপনাদের কাছে কোনো “স্বপ্নময় ভাষণ” দিতে আসিনি।
আমি আসছি একটা খুব সাধারণ প্রশ্ন নিয়ে—

👉 আমরা কেমন মানুষ তৈরি করতে চাই?
👉 শুধু সার্টিফিকেটধারী মানুষ, নাকি কাজ করতে পারা মানুষ?

আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দারিদ্র্য না।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—
📌 শিক্ষিত কিন্তু অদক্ষ জনসংখ্যা।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে,
👉 বাংলাদেশে প্রায় ৪০% গ্র্যাজুয়েট “job-ready” না
মানে ডিগ্রি আছে, কিন্তু কাজের দক্ষতা নেই।

এই জায়গা থেকেই আমাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে শিক্ষা নিয়ে।

---

## 🧠 ১. প্রাথমিক শিক্ষা: চাপমুক্ত শৈশব, শক্ত ভিত্তি (ক্লাস ১–৫)

চলুন শুরু করি একদম গোড়া থেকে।

একটা ৬–৭ বছরের বাচ্চার স্কুলব্যাগের ওজন যদি তার শরীরের ১৫–২০% হয়—
ডাক্তাররা বলেন, এটা তার মেরুদণ্ডের জন্য ক্ষতিকর।

কিন্তু আমরা কী করছি?
👉 ব্যাগ বড়, বই বেশি, চাপ ভয়ংকর।

এখন প্রশ্ন—
কম চাপ দিলে কি বাচ্চারা কম শেখে?
না।

ফিনল্যান্ডের উদাহরণ দেই।
ফিনল্যান্ডে ক্লাস ৬ পর্যন্ত প্রায় হোমওয়ার্কই নেই
কিন্তু তারা নিয়মিত PISA পরীক্ষায় বিশ্বের টপে

তাই আমাদের প্রস্তাব—

### আমরা কী করতে চাই:

* ক্লাস ১–৩: একদম No school bag
* ক্লাস ৪–৫: খুব হালকা ব্যাগ
* ক্লাস ৫ পর্যন্ত কোনো হাই-স্টেকস পরীক্ষা নয়
* প্রাথমিক পর্যায়ে নো রুটিন হোমওয়ার্ক

### কেন:

* শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যই ভবিষ্যৎ উৎপাদনশীলতার ভিত্তি
* ভয় আর মুখস্থ দিয়ে সৃজনশীল মানুষ তৈরি হয় না

### কীভাবে:

* বই-খাতা স্কুলেই থাকবে
* শেখানো হবে কাজের মাধ্যমে—ছবি আঁকা, গান, নাটক, খেলাধুলা
* মূল্যায়ন হবে পোর্টফোলিও আর শিক্ষক পর্যবেক্ষণ দিয়ে

---

## 🍱 ২. স্কুল টিফিন ও স্বাস্থ্য: শেখার জন্য পেট ভরা দরকার

একটা খুব সোজা প্রশ্ন করি—
খালি পেটে কি কেউ মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারে?

জাপানে স্কুল লাঞ্চ সিস্টেম চালু আছে ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে
ফলাফল—

* শিশুদের অসুস্থতা কম
* উপস্থিতি বেশি
* শৃঙ্খলা ও সামাজিকতা বেশি

বাংলাদেশেও WFP দেখিয়েছে—
👉 স্কুলে খাবার দিলে উপস্থিতি ১০–১৫% পর্যন্ত বাড়ে

### তাই আমাদের সিদ্ধান্ত:

* প্রতিটি প্রাথমিক স্কুলে ফ্রি স্বাস্থ্যকর টিফিন
* প্রতিটি স্কুলে নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী
* শিশুদের চোখ, দাঁত, টিকা—সব কিছুর রেকর্ড থাকবে

কারণ শেখার আগে বেঁচে থাকা আর সুস্থ থাকা জরুরি

---

## 🧑‍🏫 ৩. শিক্ষক: পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ

সোজা কথা বলি—
ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো শিক্ষক ছাড়া অসম্ভব।

আমরা কী দেখি?
👉 বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রাইভেট ইনকামে সুযোগ পান
👉 প্রাইমারি মাস্টারের সেই সুযোগ নেই

### তাই প্রস্তাব:

* প্রাইমারি শিক্ষকের বেতন ও মর্যাদা সর্বোচ্চ স্তরে আনা
* শিক্ষক ক্যারিয়ার ট্র্যাক:

* Junior → Senior → Master Trainer
* নিয়মিত প্রশিক্ষণ (CPD) বাধ্যতামূলক
* শিক্ষকরা রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত

কারণ—
📌 আপনি যদি শিক্ষককে সম্মান না দেন,
সে জাতি গড়বে কীভাবে?

---

## 🏫 ৪. মাধ্যমিক শিক্ষা: জীবন শিখবো, শুধু বই না (ক্লাস ৬–১০)

এখন আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়।

একজন এসএসসি পাশ করা ছেলের জানা থাকা উচিত—

* থানায় জিডি কীভাবে করতে হয়
* ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা
* বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল দেওয়া
* আগুন লাগলে কী করতে হয়
* হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিক চিকিৎসা

কিন্তু আমরা কী শেখাই?
👉 অ্যামিবার প্রজনন
👉 জবা ফুলের পরাগায়ন

### তাই আমরা কী করতে চাই:

* ক্লাস ৬–৮: জীবন দক্ষতা + নাগরিক শিক্ষা
* ক্লাস ৮ থেকে বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা
* বিজ্ঞান/আর্টস/কমার্স ভাগাভাগি ক্লাস ৯–১০ পর্যন্ত না

জার্মানিতে কী হয় জানেন?
👉 সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় না
👉 কিন্তু যুব বেকারত্ব প্রায় নেই

কারণ—
👉 স্কুল থেকেই হাতে-কলমে কাজ শেখে

---

## 🛠️ ৫. HSC পর্যায়: পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ শেখা

এই জায়গায় আমরা বড় পরিবর্তন চাই।

আজ বাস্তবতা কী?
👉 ইন্টার পাশ একজন ছেলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে না
👉 বাবা খরচ বন্ধ করলে সে ভেঙে পড়ে

কিন্তু বিদেশে গেলে?
👉 সেই ছেলেই পার্ট টাইম কাজ করে

### তাই নতুন নিয়ম:

* ক্লাস ১১–১২:

* পার্ট টাইম কাজ / ইন্টার্নশিপ / ফ্রিল্যান্স বাধ্যতামূলক
* শুধু রেজাল্ট না—

* কর্মস্থলের সুপারভাইজারের সার্টিফিকেট লাগবে
লক্ষ্য:
👉 আয় বড় কথা না
👉 কাজের অভিজ্ঞতা বড় কথা

---

## 🎓 ৬. উচ্চশিক্ষা: দায়বদ্ধতা ও মান

এখন আসি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আমাদের প্রশ্ন—
👉 মাস্টার্স কি সময় কাটানোর জায়গা?
👉 নাকি গবেষণা আর দক্ষতার জায়গা?

### নতুন নীতি:

* Bachelor:

* মেধা + প্রয়োজন অনুযায়ী স্কলারশিপ
* Masters:

* গবেষণা বাধ্যতামূলক
* নিজে উপার্জন বা স্কলারশিপ ছাড়া নয়

কারণ—
📌 ফ্রি শিক্ষা মানেই মানসম্মত শিক্ষা না
📌 দায়বদ্ধতা থাকলে অপচয় কমে

---

## 📊 ৭. ডাটা, স্বচ্ছতা ও ইউনিক স্টুডেন্ট আইডি

আমরা আর আন্দাজে শিক্ষা চালাতে চাই না।

### তাই:

* প্রতিটি শিক্ষার্থীর ইউনিক স্টুডেন্ট আইডি
* জাতীয় শিক্ষা ড্যাশবোর্ড:

* উপস্থিতি
* শেখার অগ্রগতি
* শিক্ষক ঘাটতি
* অবকাঠামো সমস্যা

ডাটা থাকলে—
👉 দুর্নীতি কমে
👉 সিদ্ধান্ত ঠিক হয়

---

## 🎯 শেষ কথা (Closing)

ভাই ও বোনেরা,
আমরা এমন শিক্ষা চাই না—
যা শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করায়।

আমরা এমন শিক্ষা চাই—
👉 যা মানুষ বানায়
👉 কাজ করতে শেখায়
👉 নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখায়

ডিগ্রি নয়, দক্ষতা।
আবেগ নয়, প্রস্তুতি।

এই হলো নতুন বাংলাদেশের শিক্ষা দর্শন।
অপরাজিতা ফুলের শুকনো পাপড়ি থেকে ব্লু টি তৈরি করা হয়।
নীল অপরাজিতা ফুলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্থোসায়ানিন থাকে, এই কারণে চায়ের রঙ নীল হয়।

বহুকাল আগে থেকেই, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে অপরাজিতা ফুলের নীল চা পান করা হয়।
থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে রাতের খাওয়ার পর লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে নীল চা পান করা হয়।

ইদানিং, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গন্ডি পার করে এই চা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ব্লু টি খেলে লিভার ভালো থাকে।
খালি পেটে ১ কাপ নীল চা পান করলে শরীর ডিটক্স হয়।
এই পানীয়তে উত্তম পরিমানে ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে।

কমার্সিয়ালি অপরাজিতা ফুলের পাপড়ি এবং লেমনগ্রাস (থাই পাতা) শুকিয়ে প্যাকেটজাত করে ব্লু টি তৈরী হয়।
দামি ব্লু টির প্যাকেট না কিনে আপনি নিজেই অপরাজিতা ফুল সংগ্রহ করে এটা তৈরি করতে পারেন।

নীল চা তৈরির পদ্ধতি সিম্পল!
প্রথমে ১ কাপ জল গরম করে এতে ৪-৫টি অপরাজিতা ফুল দিয়ে ৫ মিনিট সিদ্ধ করে নিতে হবে। সঠিকভাবে ফুটানোর পর এই চায়ের রং নীল হয়ে যায়।

এরপর চাইলে স্বাদের জন্য এক চামচ মধু এবং সুগন্ধযুক্ত করতে পুদিনা, আদা যোগ করা যেতে পারে।

এই চায়ে লেবু মেশালে দেখা মিলবে এক ম্যাজিক! গরম কিংবা ঠান্ডা নীল চায়ে লেবুর রস পড়ামাত্রই ‘পি-এইচ’ লেভেল চেঞ্জ হয়। যার ফলে চায়ের রঙ নীল থেকে পার্পল হয়ে যায়। একে তখন পার্পল টি বলে।

ব্লু টি হজমে সাহায্য করে, লিভারে বাইল তৈরিতে সাহায্য করে। ভারী খাবার খাওয়ার আগে বা পরে এক কাপ ব্লু টি খেতে পারেন।
প্রাকৃতিক নীল চায়ের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

নীল চা খাওয়ার আদর্শ সময় হল শোওয়ার আগে।
এটি চাপ উপশমকারী হিসাবে কাজ করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে ভাল ঘুম হতে ভূমিকা রাখে।

Captain Green
2
লাইফ ইন্সুইরেন্স
|২৪| জানুয়ারি| ২০২৬|

❖ প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
শায়েখ, এর আগে আমি যে প্রশ্নগুলো করেছিলাম, সেগুলোর বিস্তারিত উত্তরের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি সেগুলো কমিউনিটির অনেকের সঙ্গে শেয়ার করেছি, এবং আলহামদুলিল্লাহ সেগুলো বহু ইসলামি বিষয়ে বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর করতে এবং নানা উদ্বেগের সমাধান করতে অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

এখন আমার আরেকটি প্রশ্ন রয়েছে, যে বিষয়ে আপনার দিকনির্দেশনা পেলে কৃতজ্ঞ থাকব। আর্থিক খাতে কর্মরত এক তরুণী বোন আমার কাছে লাইফ ইনশুরেন্স বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তাকে সঠিকভাবে পথনির্দেশ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমি বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানতে চাইছি। আপনার ধারাবাহিক সহায়তার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

আমার প্রশ্নগুলো হলো :

লাইফ ইনশুরেন্স কি ইসলামে নিষিদ্ধ, যদিও সেই পলিসি সুদভিত্তিক না হয়? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামীর মৃত্যু হলে পরিবার লাইফ ইনশুরেন্সের অর্থ দিয়ে বাড়ির মর্টগেজ পরিশোধ করে কিংবা সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করে, বিশেষ করে যখন স্ত্রী উপার্জনশীল নন। এই ধরনের প্রয়োজন কি শরঈ হুকুমের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে?

আর কিছু লাইফ ইনশুরেন্স পলিসি আছে, যেখানে প্রিমিয়ামের অর্থ সুদভিত্তিক খাতে নয়; বরং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়, এবং সেই ফান্ড নির্বাচন করেন পলিসিধারী নিজেই। যদি এতে সুদ না থাকে, তাহলে কি এই ধরনের পলিসি বৈধ বলে গণ্য হবে?

এই বিষয়ে আপনার দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় রইলাম।

= মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুদ্দিন নাদভী

❖ উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার আন্তরিকতা, গভীর মনোযোগপূর্ণ প্রশ্ন এবং শরিয়তের সঠিক নীতিমালার আলোকে অন্যদের পথনির্দেশ করার আগ্রহের জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আর্থিক বিষয়, নিরাপত্তা এবং পারিবারিক কল্যাণসংক্রান্ত প্রশ্নগুলো বিশেষ যত্নের দাবি রাখে, কারণ এগুলো শরঈ বিধান, নৈতিক উদ্দেশ্য এবং বাস্তব মানবিক অসহায়তার সংযোগস্থলে অবস্থান করে। সে কারণেই লাইফ ইনশুরেন্সের মতো বিষয়কে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু নিষেধাজ্ঞার আলোকে বিচার করা যথেষ্ট নয়; বরং ইসলামী আইনের সামগ্রিক কাঠামো, তার মূলনীতি এবং উচ্চতর উদ্দেশ্যের আলোকে বিষয়টি অনুধাবন করা জরুরি।

ইসলামী ফিকহে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতি হলো, লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল বিধান হচ্ছে বৈধতা। অর্থাৎ আর্থিক চুক্তিসমূহ নীতিগতভাবে বৈধ, যতক্ষণ না তাতে এমন কোনো উপাদান থাকে যা শরিয়তের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী, অথবা তার নৈতিক ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শরিয়ত নির্বিচারে কোনো লেনদেন নিষিদ্ধ করে না; বরং অর্থনৈতিক জীবনে জুলুম, শোষণ, ক্ষতি এবং নৈতিক অবক্ষয় প্রতিরোধ করাই তার উদ্দেশ্য।

যখন আলেমগণ বলেন যে বাণিজ্যিক ইনশুরেন্স, যার মধ্যে প্রচলিত লাইফ ইনশুরেন্সও অন্তর্ভুক্ত, সাধারণভাবে বৈধ নয়, তখন এর দ্বারা তারা পারস্পরিক সুরক্ষা বা আর্থিক পরিকল্পনার ধারণাকেই অবৈধ ঘোষণা করতে চান না। বরং এই নিষেধাজ্ঞা সংশ্লিষ্ট হয় কিছু নির্দিষ্ট উপাদানের সঙ্গে, যা সাধারণত এই ধরনের চুক্তিতে বিদ্যমান থাকে। সেগুলো হলো গরর (ধোকা), জুয়া মাইসির এবং সুদ (রিবা)। এই উপাদানগুলো কেন নিষিদ্ধ, তা অনুধাবন করা হুকুমের প্রকৃতি ও সীমা বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গরর বলতে এমন অতিরিক্ত অনিশ্চয়তাকে বোঝায়, যা কোনো চুক্তির মূল বিনিময়কেই অনির্দিষ্ট করে তোলে। ইসলামী আইন সামান্য বা অনিবার্য অনিশ্চয়তা অনুমোদন করে, কিন্তু গুরুতর গরর নিষিদ্ধ করে, কারণ তা অধিকার ও দায়দায়িত্বের বিষয়ে গভীর অস্পষ্টতা সৃষ্টি করে। প্রচলিত লাইফ ইনশুরেন্সে দেখা যায়, পলিসিধারী দীর্ঘ সময় ধরে প্রিমিয়াম পরিশোধ করেন, অথচ তিনি জানেন না বিমাকৃত ঘটনাটি আদৌ ঘটবে কি না, কখন ঘটবে, কিংবা শেষ পর্যন্ত ঠিক কতটুকু সুবিধা পাওয়া যাবে। ফলে পুরো চুক্তিটিই এমন এক ভবিষ্যৎ ঘটনার ওপর নির্ভরশীল থাকে, যা কখনো নাও ঘটতে পারে। এ কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করেছেন। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি গররযুক্ত বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা হলো বিবাদ, শোষণ এবং অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জনের পথ রুদ্ধ করা।

গররের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত আরেকটি উপাদান হলো মাইসির। মাইসির বলতে বোঝায় উৎপাদনশীল পরিশ্রম বা ন্যায্য বিনিময়ের পরিবর্তে কেবল সুযোগ বা অনিশ্চয়তার ভিত্তিতে সম্পদ অর্জন করা। যদিও ইনশুরেন্স বিনোদনমূলক অর্থে জুয়া নয়, তবু কাঠামোগত দিক থেকে এতে সাদৃশ্য রয়েছে। কারণ এখানে এক পক্ষ কেবল একটি অনিশ্চিত ঘটনার সংঘটনের ফলে অসমানুপাতিকভাবে বড় লাভ পেতে পারে, আর অপর পক্ষ কোনো সমমূল্যের প্রতিদান না পেয়েই ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। কুরআন এ ধরনের ব্যবস্থাকে নিন্দা করেছে, কারণ এতে প্রকৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ঝুঁকিনির্ভর সম্পদ স্থানান্তরকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে ঈমানদারগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া,
মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ণয়ের তীর, এসব শয়তানের কাজের অন্তর্ভুক্ত অপবিত্র বস্তু। সুতরাং এগুলো থেকে দূরে থাকো।

এর পাশাপাশি, বহু লাইফ ইনশুরেন্স পলিসিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রিবা বিদ্যমান থাকে। প্রিমিয়ামের অর্থ সুদভিত্তিক খাতে বিনিয়োগ করার মাধ্যমেই তা ঘটে। রিবা কেবল একটি কারিগরি নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং তা নিষিদ্ধ, কারণ এটি অন্যায়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়, ঝুঁকিহীন লাভ নিশ্চিত করে এবং ইসলামী অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত নৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, আল্লাহ ব্যবসাকে বৈধ করেছেন এবং রিবাকে হারাম করেছেন। যেখানে রিবা বিদ্যমান থাকে, সেখানে কঠোরতম প্রয়োজনের শর্ত ছাড়া বৈধতার কথা বলা যায় না।

এই সব কারণ একত্রে বিবেচনা করে বহু জ্যেষ্ঠ আলেম এবং আন্তর্জাতিক ফিকহ কাউন্সিলসমূহ সাধারণ নীতি হিসেবে প্রচলিত বাণিজ্যিক ইনশুরেন্সকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন, বিশেষ করে যখন তা কেবল সুবিধা, লাভ বা অনুমাননির্ভর সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়, প্রকৃত ক্ষতি থেকে সুরক্ষার প্রয়োজন থেকে নয়।

একই সঙ্গে এটিও সত্য যে ইসলামি আইন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নয়, যা বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন। বরং এটি একটি নৈতিক ও আইনগত কাঠামো, যার লক্ষ্য মানুষের মৌলিক স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং কষ্ট ও সংকট দূর করা। শরিয়তের একটি গভীর দিক হলো এই স্বীকৃতি যে চরম প্রয়োজন বা তীব্র সংকটের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যেতে পারে। এই নীতিটি একটি মৌলিক সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে, প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে তোলে। এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত আরেকটি নীতি হলো, তীব্র প্রয়োজনকে প্রয়োজনের মর্যাদায় গণ্য করা হয়, তা সাধারণ হোক বা বিশেষ।

এই নীতিগুলো কোনো ফাঁকফোকর নয়; বরং শরিয়তের উচ্চতর নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রকাশ। এগুলো এই বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে যে আইন মানুষের কল্যাণের জন্য প্রণীত, মানুষের ওপর অসহনীয় কষ্ট চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। আল্লাহ তাআলা এ সত্যটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, তিনি দ্বীনের মধ্যে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি। একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সার্বজনীন আইনগত নীতি স্থাপন করেছেন, যখন তিনি বলেছেন, কোনো ক্ষতি করা যাবে না, আবার ক্ষতির প্রতিদান হিসেবেও ক্ষতি করা যাবে না।

লাইফ ইনশুরেন্সের প্রেক্ষাপটে কখনো কখনো এমন প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিতে পারে, যেখানে একটি পরিবারের আর্থিক বিপর্যয় পূর্বানুমেয় এবং গুরুতর ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সেই অবস্থায়, যখন স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, স্ত্রী কর্মজীবী নন এবং তাঁর কোনো স্বতন্ত্র আয় নেই, ছোট সন্তানরা পুরোপুরি নির্ভরশীল, আর বাড়ির মর্টগেজ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের মতো বড় দায়সমূহ বকেয়া রয়ে গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে উপার্জনকারীর মৃত্যু কেবল সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি করে না; বরং নির্ভরশীলদের জন্য চরম ক্ষতি, অস্থিরতা এবং মর্যাদাহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই ধরনের ক্ষতি প্রতিরোধ করা শরিয়তের পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে জীবন সংরক্ষণ, পরিবার সংরক্ষণ এবং সুরক্ষামূলক অর্থে সম্পদ সংরক্ষণের মৌলিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে।

সুতরাং, যদি সমবায়ভিত্তিক তাকাফুল, পর্যাপ্ত সঞ্চয় বা পারিবারিক সহায়তার মতো শরিয়তসম্মত বিকল্পগুলো বাস্তবসম্মতভাবে বিদ্যমান না থাকে, তাহলে প্রয়োজনের পরিসরে লাইফ ইনশুরেন্সে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে এই অনুমতি শর্তহীন নয়; বরং এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সূত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা প্রয়োজনের কারণে বৈধ করা হয়, তা প্রয়োজনের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। উদ্দেশ্য হতে হবে ক্ষতি থেকে সুরক্ষা লাভ, লাভ বা অনুমাননির্ভর সুবিধা অর্জন নয়। আর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে কিংবা বৈধ বিকল্প সহজলভ্য হয়ে উঠলে এই ব্যবস্থাটি পুনর্মূল্যায়ন করা আবশ্যক।

এটি স্পষ্টভাবে বলা উচিত যে, যদি কোনো ইনশুরেন্স মডেল প্রকৃতপক্ষে গরর, মাইসির এবং রিবা এড়িয়ে চলে, তাহলে এর বৈধতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ শরিয়ত নিজে সুরক্ষা, পারস্পরিক সহযোগিতা বা পরিকল্পনার ধারণাকে নিষিদ্ধ করে না। চ্যালেঞ্জটি হলো, অধিকাংশ প্রচলিত লাইফ ইনশুরেন্স পলিসি, এমনকি যেগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত, বাস্তবে খুব কম ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা এবং কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা থেকে মুক্ত থাকে।

সংক্ষেপে, যেসব লাইফ ইনশুরেন্সে গরর, মাইসির বা রিবা বিদ্যমান, সেগুলো নীতিগতভাবে অবৈধ। তবে যেখানে এই উপাদানগুলো প্রকৃতপক্ষে অনুপস্থিত, সেখানে বৈধতা স্পষ্ট। এছাড়া, প্রকৃত প্রয়োজন বা তীব্র সংকটের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে স্ত্রী, সন্তান বা অন্য নির্ভরশীলদের কল্যাণ গুরুতর ঝুঁকিতে থাকলে, এমন ইনশুরেন্স প্রয়োজনীয় পরিসরে অনুমোদিত হতে পারে, প্রতিষ্ঠিত আইনগত সূত্র, নৈতিক উদ্দেশ্য এবং শরিয়তের দয়া ও মমত্ববোধের সর্বজনীন নীতির আলোকে।

--------------

মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
প্রারম্ভিক বয়ঃসন্ধি ; দায়িত্ব ও সহমর্মিতা
|২৮|০১|২০২৬|

❖ প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম শায়খ, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার পরিচিত একজন এই প্রশ্নটি করেছেন। এ বিষয়ে পরামর্শ চাই ?

“আমার এক বোন আছে, সে একেবারেই ছোট, পুরো নয় বছরও পূর্ণ হয়নি। তার মাসিক শুরু হয়েছে, অথচ সে কিছুই জানে না। আমরা সব সময় তাকে এমনভাবে লালন করেছি, যেন সে এখনো নয় মাসের শিশুই। সে ভীষণ ভয় পেয়েছে, দায়িত্ব বহন করার মানসিকতা তার নেই। রোজা রাখা বা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার মতো বিষয় তার জন্য খুবই কঠিন। এ বিষয়ে শরিয়তের হুকুম কী, দয়া করে জানাবেন।”

❖ উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আল্লাহ তাআলা যেন এই সংবেদনশীল বিষয়ে সহজতা ও প্রজ্ঞা দান করেন। আপনি যে পরিস্থিতির কথা বলেছেন, তা নিঃসন্দেহে আবেগগত ও বাস্তব, উভয় দিক থেকেই কঠিন। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান স্পষ্টভাবে বোঝা যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোমলতা ও সহমর্মিতা অপরিহার্য।

এ বিষয়ে মূলনীতি হলো, ইসলামি শরিয়ত দায়িত্ব আরোপ করে বুলূঘ বা বয়ঃসন্ধির ওপর; বয়স, আবেগগত পরিপক্বতা বা মানসিক বিকাশের ওপর নয়। দায়িত্ব যেন অস্পষ্ট বা ব্যক্তিনির্ভর না থাকে, সে জন্য শরিয়ত বুলূঘ নির্ধারণের জন্য স্পষ্ট ও বস্তুগত লক্ষণ নির্ধারণ করেছে। কন্যার ক্ষেত্রে বুলূঘের প্রথম ও সুস্পষ্ট লক্ষণ হলো ঋতুস্রাব শুরু হওয়া। অতএব, কোনো মেয়ের মাসিক শুরু হলে, (সে নয় বা দশ বছরের হলেও) শরিয়তের দৃষ্টিতে সে বালিগাহ ও মুকাল্লাফাহ হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি মাসিক না হয়, তবে পনেরো চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়াকে বুলূঘের চূড়ান্ত সীমা ধরা হয়।

এই বিধান কোনো একক মাযহাবের মত নয়; বরং চার সুন্নি মাযহাবের সকল ফকিহের ঐকমত্যে প্রতিষ্ঠিত। হানাফি মাযহাবে ইমাম কাসানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নারীদের ক্ষেত্রে বুলূঘের লক্ষণ হলো ঋতুস্রাব ও গর্ভধারণ; আর ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন বয়স নয় বছর। অতএব, কোনো মেয়ে নয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর ঋতুস্রাব শুরু করলে সে বালিগা হিসেবে গণ্য হবে। শাফেয়ি মাযহাবে ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ লিখেছেন, কোনো কন্যা নয়টি চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়ার পর ঋতুস্রাব শুরু করলে সে বালিগা হয়ে যায় এবং শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য হয়। মালেকি মাযহাবে ইমাম দাসূকী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নারীর বুলূঘের লক্ষণ হলো নয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর ঋতুস্রাব, অথবা গর্ভধারণ, অথবা পনেরো চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়া। আর হাম্বলি মাযহাবে ইমাম ইবনে কুদামাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নারী ঋতুস্রাব, গর্ভধারণ, লোম উদ্গম কিংবা পনেরো বছর পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে বালিগা হয়; আর ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন বয়স নয় বছর।

এই সুস্পষ্ট উদ্ধৃতিগুলোর আলোকে নির্ধারিত হয় যে, চার মাযহাবের মতে নয় চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো কন্যার ঋতুস্রাব শুরু হলে সে শরিয়তের দৃষ্টিতে বুলূঘে উপনীত হয় এবং তার ওপর শরিয়তের বিধান কার্যকর হয়। ফলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়, রমজানের রোজা ফরজ হয়, পর্দা ও শালীনতার বিধান প্রযোজ্য হয়, এবং অন্যান্য ধর্মীয় দায়িত্বও তার ওপর বর্তায়, যেমনটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে হয়।

তবে একই সঙ্গে এ কথাও স্মরণ রাখতে হবে যে, শরিয়ত রহমতের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং প্রকৃত কষ্টকে উপেক্ষা করে না। এত অল্প বয়সে রোজা রাখলে যদি তীব্র দুর্বলতা দেখা দেয়, অথবা স্বাস্থ্যের ক্ষতির বাস্তব আশঙ্কা থাকে, তবে শরিয়ত সাময়িকভাবে রোজা না রাখার অনুমতি দেয়। সে ক্ষেত্রে রোজার ফরজিয়ত বাতিল হয় না; বরং সক্ষম হলে পরে তা আদায় করার সুযোগ দেওয়া হয়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদিও তাকলিফ বুলূঘের সঙ্গে সম্পর্কিত, বুদ্ধিবৃত্তিক বা আবেগগত পরিপক্বতার সঙ্গে নয়, তবু এর অর্থ এই নয় যে শিশুর সঙ্গে কঠোরতা করা হবে বা হঠাৎ করে সব বিধানের বোঝা তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। শিশুর দায়িত্বের পাশাপাশি পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের ওপরও একটি গুরুদায়িত্ব বর্তায়। তাদের কর্তব্য হলো প্রজ্ঞা, স্নেহ ও ধৈর্যের সঙ্গে সন্তানকে ধর্মীয় দায়িত্বের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুত করা, সম্ভব হলে বুলূঘের আগেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত, সন্তান যেন ধর্মকে ভয় বা চাপের উৎস হিসেবে না দেখে; বরং আল্লাহর নৈকট্য, প্রশান্তি ও মর্যাদার পথ হিসেবে গ্রহণ করে।

একটি অল্পবয়সী কন্যাশিশুর কাছ থেকে হঠাৎ করে, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই, সব ধর্মীয় দায়িত্ব পূর্ণমাত্রায় বহন করার প্রত্যাশা করা উচিত নয়। নবী সা. যেমন শিশুদের ধীরে ধীরে নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনি লজ্জাশীলতা, পোশাকবিধি ও ধর্মীয় সচেতনতাও ধাপে ধাপে, তার বয়স ও মানসিক অবস্থার উপযোগী করে শেখানো প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে সহজ-সরল পোশাক, সামগ্রিক শালীনতা এবং হায়ার অনুভূতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে; হিজাবের পূর্ণ ধারণা ও তার বিধান সময়ের সঙ্গে কোমলভাবে বোঝানো উচিত।
1
শিশুটি যদি ভুল করে, ভয় পায় বা নিয়মিতভাবে মানিয়ে নিতে কষ্ট বোধ করে, তবে কঠোরতা বা ভর্ৎসনা এড়িয়ে চলা জরুরি। কারণ কঠোরতা প্রায়ই উল্টো ফল দেয় এবং ধর্মের প্রতি অনীহা সৃষ্টি করতে পারে। এর পরিবর্তে স্নেহভরা ব্যাখ্যা, আশ্বাস, উৎসাহ এবং আন্তরিক দুআর আশ্রয় নেওয়াই সঠিক পথ। এ ক্ষেত্রে মা, বড় বোন ও নিকটবর্তী নারী আত্মীয়দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি নিজেরাই মর্যাদা ও ভারসাম্যের সঙ্গে নামাজ, শালীনতা ও হিজাব পালন করেন, তবে সেই জীবন্ত দৃষ্টান্তই হয়ে ওঠে সবচেয়ে শক্তিশালী শিক্ষা, কারণ শিশুরা শোনার চেয়ে দেখেই বেশি শেখে।

মেয়েটি যখন কোনো ভালো কাজ করে, নামাজ আদায় করে বা শালীনতা রক্ষা করে, তখন তাকে প্রশংসা করা উচিত এবং তার মূল্যবোধ জাগ্রত করা দরকার। তার বয়সের উপযোগী ভাষায়, কোমল ভঙ্গিতে তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে আল্লাহ তার চেষ্টা ভালোবাসেন এবং তার আন্তরিকতাকে পুরস্কৃত করেন। যদি সে প্রতিরোধ দেখায় বা অতিভার অনুভব করে, তবে তা ধৈর্য ও বোঝাপড়ার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে; কারণ এই সংবেদনশীলতা তার বিকাশপর্বেরই অংশ, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব ও স্থিরতা আপনাতেই আসবে।

এছাড়া তাকে বুঝতে সাহায্য করতে হবে যে হিজাব ও ধর্মচর্চা কেবল কিছু বিধিনিষেধ নয়; বরং তা সম্মান, সুরক্ষা ও পরিচয়ের প্রতীক, যার উদ্দেশ্য তার মর্যাদা সংরক্ষণ করা এবং আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ককে দৃঢ় করা, তার আনন্দ বা শৈশব কেড়ে নেওয়া নয়।

----------------

মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
মানুষের শরীরের সব রোগের মূল কেন্দ্র হলো তার পেট!

রাসূল (সা.) বলেছেন:
“পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র মানুষ পূর্ণ করে না।” (তিরমিজি)

অথচ আমরা জিহ্বাকে খুশি করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের এই পেট বা পাকস্থলীকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলছি। যার ফলাফল—অল্প বয়সে শরীরে বাসা বাঁধছে কঠিন সব রোগ।

কেন আমরা অসুস্থ হচ্ছি?
বিজ্ঞান বলছে, আমাদের অন্ত্র বা Gut হলো আমাদের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’। যখন আমরা অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, প্রসেসড ফুড বা চিনিযুক্ত খাবার খাই, তখন পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীর ভেতর থেকে ধসে পড়তে থাকে।

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে ভবিষ্যতে যা হতে পারে:

১. স্থায়ী গ্যাস্ট্রিক ও আলসার:
অনিয়ম করে খাওয়া এবং বাইরের তেল-চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলীতে এসিডের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। দীর্ঘদিন এটি চলতে থাকলে আলসার এবং হজমশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

২. স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি:
অতিরিক্ত শর্করা এবং ফাস্টফুড রক্তে ইনসুলিন স্পাইক ঘটায়। এটি শরীরে চর্বি জমায়, যা পরবর্তীতে ফ্যাটি লিভার, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৩. অলসতা ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস:
বেশি খেলে শরীর ভারী হয়ে যায়, ইবাদতে মন বসে না এবং সবসময় ক্লান্তি কাজ করে। বিজ্ঞান মতে, অতিরিক্ত ভোজন মস্তিষ্কের ‘কগনিটিভ ফাংশন’ কমিয়ে দেয়, ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

৪. ত্বক ও হরমোনের সমস্যা:
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে তার ছাপ মুখে পড়ে। একনি, ব্রন, এবং হরমোনাল ইমব্যালেন্সের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অস্বাস্থ্যকর খাবার।

সুস্থ থাকতে আজই যে পরিবর্তনগুলো জরুরি:

১. পেটের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ম মানা:
সুন্নাহ অনুযায়ী, পেটের এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি এবং এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখুন। এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরকে হালকা রাখে।

২. ন্যাচারাল বা অর্গানিক খাবার গ্রহণ:
প্যাকেটজাত খাবার কমিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন। মধু, কালোজিরা, বাদাম, খেজুর এবং ঘরে তৈরি খাবারকে প্রাধান্য দিন। এগুলো শরীরে ‘হিলিং’ বা নিরাময় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।

৩. সূর্যাস্তের পর ভারী খাবার বর্জন:
ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন। এতে ঘুমের সময় শরীর ডিটক্সিফাই করার সুযোগ পায় এবং মেদ জমে না।

৪. মাঝেমধ্যে রোজা রাখা:
সপ্তাহে অন্তত একদিন বা মাসে ৩টি সুন্নাহ রোজা (আইয়ামে বিজ) রাখার চেষ্টা করুন। বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘অটোফ্যাজি’ বলা হয়, যা শরীরের মৃত কোষগুলোকে ধ্বংস করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

মনে রাখবেন—

জিহ্বার স্বাদ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু স্বাস্থ্যের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। আল্লাহ আপনাকে যে সুস্থ শরীর দিয়েছেন, তা ভেজাল খাবার দিয়ে নষ্ট করবেন না।

সুস্থ শরীরই আপনাকে ইবাদত এবং দুনিয়াবী কাজে সফল হতে সাহায্য করবে। তাই আজই আপনার প্লেটের খাবারটি যাচাই করুন—এটি বিষ খাচ্ছেন না তো?
স্বর্গ যখন মুঠোতে. . .

মানুষ স্বর্গ বা বেহেশতের নেশায় বুদ হয়ে আছে, এর জন্য যদি তাকে খড়গহস্ত হতে হয় তাতেও রাজী। মা তার সদ্যজাত শিশুর রক্তপানেও প্রস্তুত। কিন্তু তাকে যদি বলি আপনি ঠিক কতটা স্বর্গীয় স্বত্ত্বা হতে পেরেছেন? ধরুন, আপনি আপনার পছন্দসই সমস্ত খাবার রান্না করলেন অথচ নিজে জ্বর বা রোগগ্রস্ত। তাহলে এসবের স্বাদ কী আদৌ নিতে পারবেন? কিংবা একজন মানুষ দেখতে খুব সুন্দর, পরিপাটি, ভালো-দামী পোশাক পরে, তার গায়ের মেশক-আম্বড়ের ঘ্রাণ দূর থেকে আঁচ পাওয়া যায়, সবাই দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অথচ লোকটি ক্যান্সার বা এইডস রোগে আক্রান্ত। তদ্রুপ, মানুষ তার বাহিরের দুনিয়া বা কল্পনার রাজত্বে উত্তরাধিকারী হতে মরিয়া হলেও নিজেকে এক নরকের অগ্নিকূপে রূপান্তরিত করছে। মানুষ এমন এক সুখের জন্য আলেয়ার পিছুপিছু মরিচীকা ধরতে ছুটে মরছে, কিন্তু কখনও তা ধরা দেবে না যা চিরন্তন সত্য। ত্রিপিটক থেকে সংক্ষেপে একটি উদাহরণ লিখছি-

"একবার এক ব্রাহ্মণ গৌতমবুদ্ধের নিকট এসে প্রশ্ন করে যে, আপনার কিছু শিষ্য আপনাকে মানার দাবি করেও বিভ্রান্ত ও কিছু সত্যপন্থী, এরকম কেন? তখন বুদ্ধ তাকে বললঃ আচ্ছা, ধরো এক ব্যক্তি তোমার কাছে রাজগৃহ যাওয়ার রাস্তা জিজ্ঞেস করল। তুমি তাকে রাজগৃহ যাওয়ার ঠিকঠাক রাস্তা, এইপথ ধরে যাও, তারপর একটা গ্রাম, তারপর কিছু দূরে একটা শহর, তারপর একটা প্রশস্ত পুকুর, তারপরেই কাঙ্ক্ষিত রাজগৃহ পাবে বলে দিলে। তারপর উক্ত ব্যক্তি উল্টোপথ ধরে বিভ্রান্তি হলো, রাস্তা হারালো। তারপর আরেক লোক এসে একই রাজগৃহ যাওয়ার রাস্তা জানতে চাইলে পূর্বের মতোই জবাব দিলে, উক্ত ব্যক্তি সেই কথানুযায়ী সঠিক গন্তব্য খুঁজে পেল। এখন বলো উভয়কেই একই জবাব দেওয়ার পরেও একজন বিভ্রান্তি-বিভ্রট ও অন্যজন সঠিক গন্তব্য পেলো কিভাবে? তখন ব্রাহ্মণ জবাব দিল- এতে আমি কী করতে পারি? কারণ আমি তো পথপ্রদর্শনকারী মাত্র।

তখন বুদ্ধ বললেন- তদ্রুপ, আমিও সেই নির্বাণপথ লাভের পথপ্রদর্শনকারী। কেউ পথপ্রাপ্ত ও কেউ পথভ্রষ্ট নিজেই নিজেকে স্থির করে"

[সূত্রপিটক, মধ্যমনিকায়, উপরি পঞ্চাশ (গণক মৌদগল্লায়ন-০৭)]
নকল ও আসল প্রেমিকের পার্থক্য
বাদল সৈয়দ

১)
নকল প্রেমিক শুধু আপনার প্রশংসাই করবে, সমালোচনা করবে না।
আসলে কি আপনি ত্রুটিমুক্ত? তাহলে তা তার চোখে পড়ছে না কেন?
কারণ সে আপনাকে মুগ্ধ করে ভোলাতে চায়।

আসল প্রেমিক আপনার প্রশংসাও করবে—সমালোচনাও করবে।
কারণ সে চায় আপনার ত্রুটিগুলো না থাকুক; সে চায় আপনাকে আরও সুন্দর করতে।

২)
নকল প্রেমিক কেবল রূপের পূজা করতেই থাকবে—খুবই কনভিন্সিং উপায়ে আপনাকে বারবার মনে করিয়ে দেবে, আপনি কত সুন্দর।

আসল প্রেমিক এ ধরনের পূজা মাঝে মাঝে করবে—সবসময় নয়।
কারণ সে প্রশংসা করে টিকে থাকতে চায় না, ভালোবাসার জোরে টিকে থাকতে চায়।
সে তো আপনাকে নিজের সত্তাই মনে করে—তাই এত প্রশংসার ধার ধারে না।
(তবে একেবারে না করাও ভালো নয়—মাঝে মাঝে করা উচিত।)

৩)
নকল প্রেমিকের কথা হবে অতি সুমিষ্ট—একেবারে রসগোল্লার মতো।
কথা দিয়েই সে আপনাকে টিনএজ বয়সে ফিরিয়ে নেবে।
কারণ সে এসেছে সাময়িক সময়ের জন্য—কাজ হাসিল করে চলে যাবে।
তাই সে কথা দিয়ে আপনাকে আটকে রাখতে চায়।

আসল প্রেমিকের কথাবার্তা অতটা মিষ্টি হবে না।
সে এসেছে আপনার সঙ্গে সারাজীবন থাকার জন্য,
আর সারাজীবন মিষ্টি কথা বলা সম্ভব নয়।

৪)
নকল প্রেমিক ঝগড়াকে ‘নাস্তি’ মানবে।
সে কখনোই ঝগড়া করবে না।
কারণ সে উদ্দেশ্য হাসিলে এসেছে—ঝগড়া করে সে উদ্দেশ্য নষ্ট করতে চায় না।

আসল প্রেমে ঝগড়া অনিবার্য।
সব কথায় একমত হওয়া কীভাবে সম্ভব?
আসল প্রেমিক ঝগড়া করবে, কথা বন্ধ রাখবে—আবার ফিরে আসবে।
কারণ তার উদ্দেশ্য একটাই—আপনার সঙ্গে বুড়ো হওয়া।

৫)
নকল প্রেমিক খুব ইমোশন দেখায়।
কথায় কথায় মন খারাপের ভান করে, মাঝে মাঝে কান্নাও করে।
এসব করে আপনার মন নরম করার জন্য।
তার ভাবভঙ্গিতে মনে হয়, আপনার জন্মদিনই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।

সত্যিকারের প্রেমিক কাটখোট্টা হতে পারে।
সে ইমোশন দেখানোর প্রয়োজনই বুঝবে না।
কারণ সে ভাবে—ভালোবাসার মানুষটিকে ইমোশন দেখিয়ে ভোলাতে হবে কেন?
সে আপনার জন্মদিনের কথাও ভুলে যেতে পারে—
কারণ তার হৃদয়ে আপনিই তো গোলাপ হয়ে ফুটে আছেন।
কেনা ফুলের দরকার কী?
( তবে মনে রাখাটা ভালো)

৬)
আসল প্রেমিক মাঝে মাঝে আপনার পোশাক নিয়ে আপত্তি করতে পারে।
কারণ সে একজন পুরুষ হিসেবে আরেকজন পুরুষের মনস্তত্ত্ব বোঝে।
সে জানে, কোন পোশাকে অস্বস্তিকর চোখ আপনাকে অনুসরণ করতে পারে।
সে কখনোই চাইবে না এরকম হোক।

নকল প্রেমিক আপনি যাই পরুন—
‘পরীর মতো লাগছে’ বলে মাতামাতি করবে।
কারণ আপনার প্রতি তার সত্যিকারের মায়া বা শ্রদ্ধা নেই।
আপনাকে নিয়ে কে কী ভাবল—তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

৭)
নকল প্রেমিক ‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি’ মার্কা সহানুভূতি দেখায়।
আপনার সামান্য জ্বর হলে তার চিন্তা দেখে মনে হয়,
সে নিজেই হার্ট অ্যাটাক করে মরে যাবে।

আসল প্রেমিক এত দরদ দেখাবে না—
কিন্তু বড় অসুখে সে-ই ঘটিবাটি বিক্রি করে চিকিৎসা করাবে।
হাসপাতালের বিনিদ্র রাতে পাশে বসে থাকবে।
তখন নকল প্রেমিক নতুন শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।
(আমি প্রার্থনা করি—আপনি সুস্থ থাকুন।)

৮)
নকল প্রেমিক সব বিষয়ে কথা বলবে, শুধু ভবিষ্যত নিয়ে কিছু বলতে বললে
থমকে যাবে- ব্যাপারটি সে এড়িয়ে যাবে। কারণ আপনাকে নিয়ে সে ভবিষ্যত রচনার কথা ভাবে না।

আসল প্রেমিক আজকের কথা যত বলবে, আগামীকাল নিয়ে বলবে আরো বেশি। কারণ আপনাকে ঘিরেই তার সমস্ত ভবিষ্যত স্বপ্ন রচিত হয়।

নকল ও আসল প্রেমিকের মূল পার্থক্য হলো—
প্রথমজন অতি ভালো।
সমস্যা হচ্ছে, এত ভালো ভালো নয়।

দ্বিতীয়জন ভালোমন্দে মেশানো।
সেটাই স্বাভাবিক—
এমনকি তরকারিতেও নুন আর ঝাল থাকে, তাই না?

চিনি দিয়ে তরকারি যেমন খাওয়া যায় না,
তেমন ভান করা প্রেমিকের সঙ্গে জীবন কাটানোও যায় না।

দয়া করে দই মনে করে চুন খাবেন না—
জিন্দেগির জন্য জিহ্বা পুড়ে যাবে।

পাদটীকা:
প্রেমিকের জায়গায় প্রেমিকা হলেও,
আসল–নকলের চরিত্র মোটা দাগে প্রায় একই।

ছবি: Pexels - এর পাবলিক ডোমেইন থেকে নেওয়া।

#আসুনমায়াছড়াই
#BadalSyed
ফোনের ক্যামেরায় টেপ লাগিয়ে ব্যবহার করছে- ইশরায়লের প্রধানমন্ত্রী "নিয়াহু" কিন্তু কেন?
#সরল_জবাব: আপনি ক্যামেরা অফ রাখলেও ফোন কর্তৃপক্ষ ক্যামেরা অন রাখার ব্যবস্থা রেখেছে। অর্থাৎ যদিও আপনি মনে করছেন- শুধুমাত্র আপনি ছবি তোলার সময়'ই ছবি কিংবা ভিডিও হয়ে থাকে! তাহলে ভুল বুঝেছেন।
#মোবাইলের সামন-পিছন দুই দিকের ক্যামেরা'ই সব সময়ের জন্য অন থাকে, এবং আপনার তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। এমনকি আপনি যদি মোবাইলকে ওপেন রেখে নিজের পোশাক পরিবর্তন করেন! তাহলে সেই সময়ের ছবি ভিডিওও সংগ্রহ করে মোবাইল, যা পরবর্তীতে নেট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্দিষ্ট জায়গায় ট্রান্সফার করে নেটওয়ার্ক। অতএব আপনি যদি সাবধান না হন তবে আপনার সর্বনাশ।

#আমি আজ দীর্ঘদিন যাবৎ মোবাইল পাশে রেখে পোশাক পরিবর্তন করি না, এবং আমার স্ত্রীকে আমার মোবাইল থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি। তাকে এমন মোবাইল কিনে দিয়েছি যেটাতে শুধু সিম লাগানো যায়, সামন ক্যামেরা নেই এবং ক্যামেরা অন করে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। আর পাশাপাশি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে খুব ভালো করে বুঝিয়েছি- যেন সে কখনোই ভিডিও কলে কোথাও কথা না বলে। অনেক আত্মীয়-স্বজন ভিডিও কল দিয়ে থাকে- পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য, কিন্তু আমি সেখানেও আমার স্ত্রীকে ইনভল্ভ করি না ইনশাআল্লাহ।

#বিষয়টি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করা জরুরি মনে করেই এই পোস্ট করেছি। আপনিও যদি এটাকে জরুরি মনে করেন তবে অবশ্যই এই পোস্টটি শেয়ার করুন, যেন অন্যরা সতর্ক হয়।

ফিরদাউস হাসান কুড়িগ্রামী
মানুষ আপনাকে পাত্তা দেয় না, সম্মান করে না! সমস্যাটা অন্য মানুষ না, আপনি! চলুন দেখি কিভাবে নিজেকে Respect করা যায় যাতে করে পুরো পৃথিবী আপনাকে Respect করে! সবগুলো পয়েন্ট 👇

১। Speak with Intention!
হ্যাঁ, আপনিই। YOU.
কথা বলার সময় বিড়বিড় করা... কথায় কথায় "sorry" বলা... "ummm," "aaah" করা... এগুলো আজকেই বাদ দিন।
Here's a life hack:
একটু slowly কথা বলুন। আপনাকে instantly confident শোনাবে।
চুপচাপ moment-গুলো "um" বা "sorry" দিয়ে fill করার দরকার নাই।
Silence can be powerful.
People admire people who mean what they say.

২। Take Care of Yourself First!
খুব cliché শোনাচ্ছে, তাই না? "আগে নিজের যত্ন নাও"... but seriously, last কবে নিজেকে genuinely priority দিয়েছেন?
Start small. Super small.
Time মতো খান।
ঘুমের routine ঠিক করেন।
Don't doomscroll till 3 AM.
এমনভাবে dress up করুন যেন নিজেকে appreciate করছেন। Even if it's for yourself.
দিনে কয়েকটা mental break নিন... just to reset.
আপনিই যদি নিজের value না বোঝেন, অন্য কেউ কি বুঝবে?

৩। Learn to Say NO!
অনেক হয়েছে people-pleasing. Now, learn the magic word.
"না।"
"না, আমি পারবো না।"
Full stop. কোনো explanation দেওয়ার দরকার নেই।
You don't owe anyone a reason.
নিজের peace-কে protect করুন 'না' বলে...
যখন কাজটা করতে forced লাগছে।
যখন আপনি genuinely tired.
যখন এটা আপনার goals-এর সাথে যায় না।
...তখন "না" বলে দিন।
নিজের time-কে আগে respect করুন... নাহলে অন্যরাও করবে না।

৪। Know Your Boundaries!
কখনো এমন হয়েছে যে মন থেকে ‘না’ বলতে চেয়েও, মুখে ‘হ্যাঁ’ বলে ফেলেছেন? 🙂
This is where it all begins. নিজের time, energy, আর relationships-এর চারপাশে একটা অদৃশ্য দেয়াল বানান।
এটাকে বলে healthy boundaries.
কাকে কতটা access দেবেন, কখন দেবেন, সেই decision আপনার।
Remember: Respect begins when you show others how to treat you. আপনিই তো মানুষকে শেখাবেন যে, আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে।

৫। Keep Your Promises!
Trust. এই জিনিসটা এখান থেকেই শুরু হয়।
কথা দিয়ে কথা রাখা। No matter how small it is.
বলেছেন কল ব্যাক করবেন? তাহলে করুন।
Promise করেছেন দেখা করবেন? Show up.
ভুল করেছেন? Own it. Sorry বলুন and fix it.
Excuses-এর চেয়ে honesty-র value অনেক বেশি।
Your word is your bond. এটাকে ভাঙবেন না।

৬। Build Quiet Confidence!
Loud বা showy হওয়ার দরকার নেই। Just... a calm, solid presence.
সোজা হয়ে দাঁড়ান। Even when একা আছেন।
এমন পোশাক পরুন যা আপনাকে bold, smart, approachable feel করায়।
Eye contact করুন। Seriously, it's a game-changer.
হাসলে মন থেকে হাসুন।
Confidence whispers; it doesn’t need to scream.

৭। Respect Others First!
The golden rule.
Want respect? Give respect.
It's that simple.
কথা বলার চেয়ে বেশি শোনার চেষ্টা করুন।
অন্যদের success-এ celebrate করুন। Genuinely.
সবাইকে equally treat করুন। From the CEO to the office cleaner.
একটা simple "thank you" অনেক দূর নিয়ে যায়।
Respect given is respect earned.
2
এবার একটু সিরিয়াস হয়ে নিজের জীবনটা নিয়ে ভাবুন।

ইসলামীক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বিশ্বাস করি: এই দুনিয়ায় হঠাৎ কিছুই ঘটে না। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মানুষ দিয়েই সাহায্য করেন, পথ দেখান, শিক্ষা দেন।

যেমনটা কুরআনে বলা হয়েছে:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।" (সূরা রা‘দ: ১১) অর্থাৎ, আল্লাহ সুযোগ তৈরি করে দেন, বিপদে মানুষ পাঠান, ইশারা দেন কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই।

ধরুন, আপনি পানিতে ডুবে যাচ্ছেন। আপনি দোয়া করলেন "হে আল্লাহ, আমাকে বাঁচান।" আল্লাহ তো আর নিজে আসবে না; বরং আপনাকে বাঁচানোর জন্য একজন মানুষকে নৌকা নিয়ে পাঠালেন। এখন আপনি যদি বলেন, "না, আমি নৌকায় উঠব না আল্লাহ নিজে আসবেন," দেখা গেলো শেষ পর্যন্ত আপনি পানিতে ডুবে মা'রা গেলেন।

তাহলে কি দোষ আল্লাহর? কি'য়ামতের দিনে আল্লাহ যখন বলবেন, "আমি তো তোমাকে বাঁচানোর জন্য নৌকা পাঠিয়েছিলাম; তুমি কেন উঠলে না?" তখন আপনি কি উত্তর দিবেন।

এটাই জীবনের বাস্তবতা।
আমাদের জীবনে আল্লাহ অনেক সময় এমন মানুষ পাঠান যারা আমাদের একাকীত্ব দূর করে, ভুল করলে সাবধান দেয়, সামনে এগোতে অনুপ্রাণিত করে, সঠিক পথে থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়। তারা হতে পারে আপনার বন্ধু, শিক্ষক, অভিভাবক, কিংবা কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী কণ্ঠস্বর। এগুলোই আল্লাহর পাঠানো উছিলা মাধ্যম।

সব সময় আপনার হাতে চয়েস থাকে। উদাহরণস্বরূপ:
আপনার দুজন বন্ধু আছে, একজন নে-শাখোর আর একজন ভালো, যে কিনা নিজের লাইফ নিয়ে সিরিয়াস। এখন আপনি যদি ভালোটার সাথে না মিশে শুধু খারাপটার সাথেই বেশিরভাগ সময় কাটান। একসময় দেখা গেলো ধীরে ধীরে আপনি নিজেও ভুল পথে পা বাড়াবেন।

এবার পয়েন্টে আসুন।
কেউ আমাদের ভালো পরামর্শ দিলে, সতর্ক করলে, বাস্তবতার কথা বললে আমরা সেটাকে উপেক্ষা করি। নিজের খেয়ালে চলি। পরে যখন জীবন এলোমেলো হয়ে যায়, তখন অভিযোগ করে বলি: আল্লাহ আমাকে এমন জীবন কেন দিলেন?

কিন্তু সেদিন যদি উত্ত আসে।
"আমিতো তোমার জীবনে মানুষ পাঠিয়েছিলাম, যারা তোমাকে সঠিক পথে থাকতে বলেছিল। তুমি কেন তাদের কথা শুনলে না?" কেন ভালো সঙ্গ বেছে না নিয়ে খারাপ সঙ্গ বেছে নিলে!

তখন আপনি কী বলবেন?

এই প্রশ্নটাই আসলে নিজেকে করা দরকার।
আমরা কি আল্লাহর পাঠানো সুযোগগুলো চিনতে পারছি? আমরা কি সঠিক পরামর্শকে অহংকারে ঠেলে দিচ্ছি? নাকি নিজের ভুল সিদ্ধান্তের দায়ও তাকদীরের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি?

কুরআনে আল্লাহ বলেন:
"আর মানুষ নিজের হাতেই যা অর্জন করে, তার কারণেই স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে।" (সূরা রূম: ৪১) এই আয়াত দ্বারা আমরা বুঝতে পারি, সবকিছুর দায় বাইরে নয়; অনেক কিছুই আমাদের নিজের পছন্দের ফল।

জীবন মানে শুধু দোয়া করা নয়; দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ যে দরজা খুলে দেন, সেই দরজায় গিয়ে দাঁড়ানোও জরুরি। তাই কিছু সময় মানুষের দেওয়া সঠিক পরামর্শ গুলো শুনতে হয়।

এবার নিজেকে প্রশ্ন করার পালা।
আজ আপনার জীবনে যে মানুষগুলো আপনাকে ভালো পথে ডাকছে, সচেতন করছে, সাবধান করছে। আপনি কি তাদের কথা শুনছেন? নাকি জীবনটা শুধু অভিযোগ করেই কাটিয়ে দিবেন?

Social Psychologist :
Jahid Hasan Scientist 👨‍🔬

#JummahMubarak
#islamicreminder
#decisionmaking
জ্ঞান - Knowledge
Photo
সুদমুক্ত ৭ম সরকারি সুকুকে ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে ভাড়া আয় হবে উৎসে কর কাটার পর ৮,৬৪০ টাকা।

এই সুকুকে বিনিয়োগ করতে চাইলে এই ১ পেজের ফর্ম পূরণ করে যে ব্যাংকে আপনার সেভিংস বা কারেন্ট একাউন্ট আছে সে শাখায় জমা দিন। আর কোনো ডকুমেন্টস লাগবে না, কোনো চার্জ নেই।

আপনি আবেদন পাঠাবেন ব্যাংকের শাখায়, শাখা পাঠাবে তার হেড অফিসের ট্রেজারী ডিভিশনে, ট্রেজারী ডিভিশন পাঠাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে।

ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, বীমা কোম্পানি ছাড়াও নিবাসী এবং অনিবাসী বাংলাদেশী ব্যক্তিরা বিনিয়োগ করতে পারবে।

১০ হাজার বা তার গুণিতক যে কোনো পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করা যাবে।

৭ম সরকারি সুকুক এ ৯.৬০% এ রেন্টাল পেমেন্ট পাওয়া যাবে। উৎসে কর ১০% বাদ দিয়ে ভাড়া আয়ের অবশিষ্ট টাকা ৬ মাস পর পর আপনার সেই সেভিংস বা কারেন্ট একাউন্ট এ ঢুকবে।

এই সুকুকের মেয়াদ ৭ বছর। এই ৭ বছরে ১৪টা ষান্মাসিক কিস্তিতে ভাড়া আয়ের টাকা পাবেন। ১৪তম কিস্তির সাথে মূল টাকা ফেরত পাবেন।

সরকারি সুকুকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কর রেয়াত পাওয়া যায়।

🔥 আবেদনের শেষ তারিখ ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ভোটের আগে টাকা দিয়ে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে বড় ধরনের লাগাম টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি—এই ছয় দিন বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠানো যাবে। প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে মাত্র এক হাজার টাকা। অর্থাৎ বড় অঙ্কের লেনদেন কার্যত বন্ধই থাকছেএকই সময়ে আরো কঠোর হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেল। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে—সব অ্যাপেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধেই এই উদ্যোগ।

লক্ষ্য একটাই—ভোটার প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকানো।

একই সময়ে আরো কঠোর হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেল। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে—সব অ্যাপেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।