জ্ঞান - Knowledge
2K subscribers
1.27K photos
21 videos
11 files
462 links
🙂🙂🙂
Download Telegram
ছয়টা জিনিস যদি মেনে চলতে পারেন, মেন্টাল পিস আর ম্যাচুরিটি দুটোই বাড়বে। "6 Laws of Maturity"

১. সবকিছু সবাইরে বলবেন না।
আপনার গল্প সবার শুনতে ইচ্ছা করে না। এমনকি অনেকেই চায় আপনি ব্যর্থ হোন। তাই নিজেকে ফিল্টার করতে শিখেন।

২. বন্ধু ঠিকভাবে বাছাই করুন।
ভাল মানুষের সঙ্গে থাকলে নিজের মানসিকতা আপনা থেকেই উন্নতি হয়। বন্ধুরা আপনার ভবিষ্যৎ গড়ে, তাই বুদ্ধি খাটান।

৩. কিছু আশা করবেন না, কিন্তু সবকিছুতে কৃতজ্ঞ থাকুন।
ছোট জিনিসগুলার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিখেন। এতে আপনি একধরনের শান্তি পাবেন, যা অন্য কিছুতে সম্ভব না।

৪. সেরা চেষ্টা করুন, আর প্রসেসে বিশ্বাস রাখুন।
পরিশ্রম করলে ভাগ্য ভালো হবেই। যে কাজ করছেন, সেটা মন দিয়ে করেন। ফল আসবেই।

৫. নিজেকে কন্ট্রোল করুন, অন্যকে নয়।
আপনি অন্যকে কন্ট্রোল করতে পারবেন না, কিন্তু নিজের ইমোশন আর আচরণ কন্ট্রোল করাটা সত্যিকারের শক্তি।

৬. রিয়্যাক্ট কম করেন।
আপনার রিয়্যাকশন যদি কেউ কন্ট্রোল করতে না পারে, তখন কেউ আপনাকে ম্যানিপুলেটও করতে পারবে না।
যেকোনো হালাল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইস্তিখারা করুন!

ইস্তিখারা কী?
ইস্তিখারা অর্থ হলো—
আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া।
*যখন আমরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দ্বিধায় পড়ি (বিয়ে, চাকরি, ব্যবসা, পড়াশোনা, কোথাও যাওয়া ইত্যাদি), তখন আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেই ইস্তিখারা করা হয়।

ইস্তিখারা কেন পড়তে হয়?
কারণ—
- আমরা ভবিষ্যৎ জানি না
- কোনটা আমাদের জন্য ভালো, কোনটা খারাপ—তা শুধু আল্লাহ জানেন
তাই ইস্তিখারার মাধ্যমে আমরা বলি:
“হে আল্লাহ, আপনি জানেন, আমি জানি না—আমার জন্য যেটা ভালো সেটাই করে দিন।”

*ইস্তিখারা কখন পড়বেন?*
- যেকোনো হালাল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে
- ফরজ বা হারাম বিষয়ে ইস্তিখারা নেই

ইস্তিখারা কীভাবে পড়তে হয়?
১. ভালোভাবে অজু করবেন
২. দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বেন
(ফরজ নামাজের সাথে মিলাবেন না)
৩. নামাজ শেষে ইস্তিখারার দোয়া পড়বেন
৪. দোয়ার সময় নিজের প্রয়োজনের কথা মনে মনে বলবেন

▫️ ইস্তিখারার দু'আ:

কোন কাজে ভালো মন্দ বুঝতে না পারলে, মনে ঠিক-বেঠিক, উচিত-অনুচিত বা লাভ-নোকসানের দ্বন্দ্ব আল্লাহর নিকট মঙ্গল প্রার্থনা করতে দুই রাকআত নফল নামায পড়ে নিম্নের দুআ পঠনীয়।

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ ، وَأَسْتَعِينُكَ بِقُدْرَتِكَ ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلا أَقْدِرُ ، وَتَعْلَمُ وَلا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ () خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي وَعَاجِلِهِ وَآجِلِهِ ، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي وَعَاجِلِهِ وَآجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي ، وَاصْرِفْنِي عَنْهُ ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ، ثُمَّ رَضِّنِي بِهِ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্‌তাখীরুকা বিইলমিকা অ আস্‌তাক্‌দিরুকা বি কুদরাতিকা অ আসআলুকা মিন ফায্বলিকাল আযীম, ফাইন্নাকা তাক্‌দিরু অলা আক্‌দিরু অতা’লামু অলা আ’লামু অ আন্তা আল্লা-মুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুন্তা তালামু আন্না হা-যাল আমরা ( ) খাইরুল লী ফী দীনী অ মাআ’শী অ আ’কিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাক্‌দুরহু লী, অ য়্যাসসিরহু লী, সুম্মা বা-রিক লী ফীহ। অ ইন কুন্তা তা'লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দীনী অ মাআ’শী অ আ’-কিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাস্বরিফহু আন্নী অস্বরিফনী আনহু, অক্বদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কা-না সুম্মা রায্বযিনী বিহ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট তোমার ইলমের সাথে মঙ্গল প্রার্থনা করছি। তোমার কুদরতের সাথে শক্তি প্রার্থনা করছি এবং তোমার বিরাট অনুগ্রহ থেকে ভিক্ষা যাচনা করছি। কেননা, তুমি শক্তি রাখ, আমি শক্তি রাখি না। তুমি জান, আমি জানি না এবং তুমি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। হে আল্লাহ! যদি তুমি এই ( ) কাজ আমার জন্য আমার দ্বীন, দুনিয়া, জীবন এবং কাজের বিলম্বিত ও অবিলম্বিত পরিণামে ভালো জান, তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারিত ও সহজ করে দাও। অতঃপর তাতে আমার জন্য বৰ্কত দান কর। আর যদি তুমি এই কাজ আমার জন্য আমার দ্বীন, দুনিয়া, জীবন এবং কাজের বিলম্বিত ও অবিলম্বিত পরিণামে মন্দ জান, তাহলে তা আমার নিকট থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকে ওর নিকট থেকে সরিয়ে দাও। আর যেখানেই হোক মঙ্গল আমার জন্য বাস্তবায়িত কর, অতঃপর তাতে আমার মনকে পরিতুষ্ট করে দাও।

প্রথমে (هَذَا الأَمْرَ) ‘হা-যাল আমরা এর স্থলে বা পরে কাজের নাম নিতে হবে অথবা মনে মনে সেই জ্ঞাতব্য বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করতে হবে।

সে ব্যক্তি কর্মে কোনদিন লাঞ্ছিত হয় না, যে আল্লাহর নিকট তাতে মঙ্গল প্রার্থনা করে, অভিজ্ঞদের নিকট পরামর্শ গ্রহণ করে এবং ভালো-মন্দ বিচার করার পর কর্ম করে। (বুখারী ৭/ ১৬২, আবু দাউদ ২/৮৯, তিরমিযী ২/৩৫৫, আহমাদ ৩/৩৪৪)।

ইস্তিখারার পর কী হবে?
• স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়।
• মন যেদিকে স্বস্তি পায়
• কাজটি সহজ হয়ে যায় বা দূরে সরে যায়
—এভাবেই আল্লাহ সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করেন

বিশ্বাস রাখুন
ইস্তিখারার পর আল্লাহ যা ঘটাবেন—
সেটাই আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো।

আল্লাহ আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দিন।আমিন।

-নুরুল কুরআন একাডেমি।
আয়তুল কুরসি থেকে
#৩টা লাইফ লেসন

💢১. মেন্টাল লোড কমিয়ে ফেলুন (টেনশন ট্রান্সফার)

আল্লাহ হলেন ‘আল-কাইয়ুম’—তিনি সব ম্যানেজ করছেন।

যখনই কাজের চাপে মাথা খারাপ অবস্থা হবে, নিজেকে মনে করিয়ে দিন—পৃথিবীটা আপনি চালাচ্ছেন না। যিনি চালাচ্ছেন, তিনি সদা জেগে আছেন।

নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করে ফলাফলের চিন্তাটা ‘ডিলিট’ করে দিন। মনটা হালকা লাগবে।

💢২. মালিকানা বোধ ছাড়ুন (ডিটাচমেন্ট)
‘আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁর’

আপনার পকেটের ফোনটা, গায়ের জামাটা—আসলে আপনার না। আপনাকে কিছুদিনের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। লিজ নেওয়া জিনিসের মতো।

এটা ভাবলে দেখবেন, কোনো কিছু হারালে বা নষ্ট হলে আর বুক ফেটে কান্না আসছে না।

💢৩. নিজের সমস্যাকে ছোট করে দেখুন (পারসপেক্টিভ)

যিনি বিশাল আসমান-জমিন সামলাতে গিয়ে ক্লান্ত হন না, আপনার ছোটখাটো সমস্যা তাঁর কাছে কিছুই না।

যখনই মনে হবে আপনি শেষ, তখন আকাশের দিকে তাকান। ভাবুন, এই বিশাল গ্যালাক্সি যিনি সামলাচ্ছেন, আপনার ভাড়ার টাকা বা অফিসের ঝামেলার সমাধান করা তাঁর জন্য এক সেকেন্ডের ব্যাপার। শুধু ভরসাটা রাখুন।

ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা। ওয়া হুয়াল-আলিউল-আজিম

(মাসুদ শরীফ ভাইয়ের ওয়াল থেকে)

#আয়তুল #কুরসি #রিমাইন্ডার
বিয়ের ছয়টি স্টেজ
বাদল সৈয়দ

১) ফ্যান্টাসি স্টেজ-

এখন জীবন রঙিন। সবকিছুই মধুর—ম্যাজিকাল। এখন নতুন জীবন উপভোগের শ্রেষ্ঠ সময়।

সময়টা মিষ্টি রাগ-অনুরাগের। বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হলেই মেয়েটি অভিমানে গাল ফুলবে। জন্মদিন ভুলে গেলে বালিশে উপুড় হয়ে কেঁদে বুক ভাসাবে।

অফিসের কাজে দূরে গেলে ছেলেটি অস্থির হয়ে উঠবে। বারবার ভিডিও কল করে মধুর বিরক্তি উৎপত্তি করবে।

বাস্তবতা এখনো দরজার কড়া নাড়েনি।

এখন আরেকজন নাক ডাকলেও কিউট লাগবে!

২) রিয়েলিটি চেক স্টেজ-

আস্তে আস্তে নিঃশর্ত ভালো লাগার মুখোশ খুলে যাবে। দোষগুলো চোখে পড়বে। কিছু কিছু অভ্যাসে পছন্দ হবে না। টুকটাক রাগারাগি হবে, ধীরে ধীরে তা বাড়বে। একজন মাঝে রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যাবে—দেখা যাবে রাতে আরেকজন অনুতপ্ত চেহারা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির ড্রয়িংরুমে বসে আছে। তারপর মান-অভিমান ভুলে দুজনে নিজের ঘরে ফিরে আসবে।

সময়টা একটু কঠিন। বাস্তবতার রোলার কোস্টারে চেপে মাঝে মাঝে মনে হবে—‘আমি ভুল করিনি তো?’

এখন নাক ডাকলে বিরক্ত লাগা শুরু হবে।

৩) ফ্রাস্ট্রেশন স্টেজ-

ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি বাড়বে। দুজন সহজে একমত হবে না। তর্ক হবে। সে তর্কের সূত্র ধরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটবে। রাগ-অভিমান থেকে জন্ম নিতে পারে বিতৃষ্ণা।

মাঝে মাঝে কথাবার্তা বন্ধ থাকবে। কখনো কখনো অন্যজনের কিছুই ভালো লাগবে না।

হতাশা কাজ করবে—‘ও এরকম কেন?’—এটা ভেবে খুব মন খারাপ হবে।

চিন্তা-ভাবনা হবে সেই নদীর মতো—‘ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।’

নাক ডাকা নিয়ে রাগারাগি হবে। মুখের বালিশ ছুঁড়ে মারবে। মাঝে মাঝে অন্য ঘরে ঘুমাবে।

সময়টা খারাপ। এ স্টেজে সবচেয়ে বেশি ডিভোর্স হয়।

৪) গ্রোথ স্টেজ-

ফ্যান্টাসি থেকে ফ্রাস্ট্রেশন—এসব স্টেজ পেরিয়ে বিয়ে চতুর্থ স্টেজে পড়েছে।

এখন বুঝবে, নদীর ওপারে সর্বসুখ নেই। সেখানকার অবস্থাও এপারের মতোই।

এখন একজন আরেকজনকে আরও ভালোভাবে বুঝবে। মানুষটিকে বদলানোর চেয়ে সহাবস্থানে বিশ্বাস করবে। ত্রুটিগুলো মেনে নেবে।

এ পর্বে ভালোবাসা জমা শুরু হবে।

নাক ডাকলে বিরক্ত লাগবে—কিন্তু মানিয়ে নেবে।

এখান থেকেই ম্যাচিউরিটির শুরু।

৫) ট্রু লাভ স্টেজ-

এখন শুরু হবে আসল ভালোবাসা।

দুজনের অনেক যুদ্ধ হয়েছে। কত গ্লাস-প্লেট ভেঙেছে! রণক্লান্ত দুজন এখন থিতু হবে।

এখন সন্ধির সময়।

অনেক ঝড়ঝাপটার পরও দুজনে লেপ্টে আছে। এভাবেই জয় হয়েছে প্রেমের। তাই এখন দাম্পত্য অনেক শান্তির—ভালোবাসার—সহমর্মিতার।

এখন ফ্যান্টাসি নয়, বিতৃষ্ণা নয়—পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সময়। ছেলেমেয়ে বড় করার সময়।

এখন দাওয়াত খেতে গেলে হোস্ট যতটা না বলবেন, তার চেয়ে অন্যজন বেশি বলবে—‘এটা খাও, ওটা খাও। খুব স্বাদ হয়েছে।’

এ পর্বে ভালোবাসা জমতে জমতে গাঢ় ক্ষীর হবে।

এখন নাক ডাকলে ভয় হবে—‘ওর হার্টে কোনো সমস্যা নেই তো! নইলে এভাবে নাক ডাকছে কেন?’

৬) লিগ্যাসি স্টেজ-

এখন আর নিজের জীবন বলতে কিছু নেই। ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে গেছে। কারও কারও নাতি-নাতনিও হয়ে গেছে। তাদের নিয়েই সময় কেটে যায়।

ছেলেটা দূরে থাকে, ঠিকমতো খাচ্ছে তো?
মেয়েটা শ্বশুরবাড়িতে কেমন আছে?
নাতিটার জ্বর কমছে না।
নাতিনটা খেতে চায় না।

এসব চিন্তাই এখন প্রধান চিন্তা—নিজেদের চিন্তা গৌণ হয়ে যাবে।

এখন তৈরি হবে লিগ্যাসি, যেটা স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবে।

তবে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন হবে—তা হচ্ছে, আগে অন্যজন বলত—‘এটা খাও, ওটা খাও।’ এখন বলবে—‘এটা খেও না, ওটা খেও না, ডায়াবেটিস বেড়ে যাবে।’

এখন নাক ডাকার অত্যাচার অনিবার্য নিয়তি বলে মেনে নেবে।

পাদটীকা: তিন নম্বর স্টেজ পার হলে আপনি নিরাপদ। আমার পাঁচ নাম্বার চলছে—আপনার?

(একটি বিদেশি ভিডিও থেকে আইডিয়া নিয়ে নিজের মতো করে লিখা)

#আসুনমায়াছড়াই
#BadalSyed
জীবনে যখন রিজিকের চাপ, ঋণের বোঝা আর অস্থিরতা একসাথে ঘিরে ধরে—
তখন শুধু দোয়া নয়, সঠিক সময়ে সঠিক আমল দরকার।

শায়খ হাবীব কাজিম আস-সাক্কাফ হাফিযাহুল্লাহ এই আমলটি গুরুত্ব দিয়ে শিখিয়েছেন—

📌 জুমার নামাজ অথবা যোহরের নামাজের পরপরই

১) চারটি সূরা ৭ বার করে পড়বেন

সূরা আল-ফাতিহা
সূরা আল-ইখলাস
সূরা আল-ফালাক
সূরা আন-নাস

২) এরপর নিচের দোয়াটি ৭০ বার পড়বেন

আরবি দোয়া:
اللَّهُمَّ يَا غَنِيُّ يَا حَمِيدُ، يَا مُبْدِئُ يَا مُعِيدُ،
يَا رَحِيمُ يَا وَدُودُ، أَغْنِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ،
وَبِطَاعَتِكَ عَنْ مَعْصِيَتِكَ، وَبِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইয়া গনিইয়্যু ইয়া হামীদ,
ইয়া মুবদিইউ ইয়া মুঈদ,
ইয়া রাহীমু ইয়া ওয়াদূদ,
আগনিনি বি হালালিকা আন হারামিকা,
ওয়া বিথো‘আতিকা আন মা‘সিয়াতিকা,
ওয়া বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।

অর্থ:
হে আল্লাহ, হে অভাবমুক্ত ও প্রশংসার যোগ্য,
হে সৃষ্টির সূচনাকারী ও পুনরায় ফিরিয়ে আননেওয়ালা,
হে পরম দয়ালু, হে গভীরভাবে ভালোবাসেন যিনি—
আপনার হালাল দ্বারা আমাকে হারাম থেকে মুক্ত রাখুন,
আপনার আনুগত্যের মাধ্যমে আমাকে গুনাহ থেকে দূরে রাখুন,
এবং আপনার অনুগ্রহে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত করুন।

অনেকেই এই আমলে আল্লাহর পক্ষ থেকে অপ্রত্যাশিত সাহায্য পেয়েছেন—
কেউ ঋণমুক্ত হয়েছেন,
কেউ রিজিকের দরজা খুলতে দেখেছেন,
কেউ আবার মানসিক প্রশান্তি ফিরে পেয়েছেন।

© Ekram Hossain – ইকরাম হোসা

📌 রেফারেন্স:
ইমাম নববী (রহ.) — আল-আযকার
আল-কালিমুত-তাইয়্যিব
সালাফদের রিজিক ও অর্থসংকটের আমল
Forwarded from Rumi-Lovers 🌸
▪️শরীর শরমিন্দা...🌼

জামাই - বউ বা নারী পুরুষের সম্পর্ক মানেই দেহের ভালবাসার গোলাম হওয়া না। বহুবিধ ভালবাসা চর্চার একটি সম্পর্ক । তাতে শরীরের ভালবাসা অন্যতম মাত্র ।শরীর বেশি গুরুত্ব পেলে সংকট গুরুতর ।কেমনে সে সংকটে জ্বলে মানুষ সেইটার পাঠ আছে । 

আর নারী পুরুষের শরীরের নৈকট্য পেলেই শরীরের কামতৃষ্ণা জাগে না । জাগলেও হৃদয়ের ভালবাসা অনির্বচনীয় রোশনির সামনে শরীরের তৃষ্ণার ক্ষুদ্রতা প্রকাশ পায় । জাগছে— জাগছে— জাগছে কিন্তু না , শরীর শরমিন্দা হয়ে গেছে । কেন হয় অমন কখনো তার গল্প আছে ।

শামস বাসররাতে দেহ মেলালেন না কেন ? পরেও নতুন বউয়ের রুমে আসেন , বসেন গল্প করতে করতে বউয়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন , সুন্দরী বউ শামসের কপালে চুমু দেন । ব্যাস অতটুকুই । নাহ অক্ষমতা না , অন্য কিছু ....। এই সুন্দরী বউ মরার আগে মরতে চান । সেটা কেমনে ? আছে এর গল্প এতে । আর আসল চ্যালেঞ্জ ভালো ও মন্দকে ভালবাসা । কাম ক্রোধ হিংসাও দরকারি । ব্যবহার জানতে হবে । জানলে মজা , নইলে বিপদ ।

অনুবাদঃ সারওয়ার চৌধুরী
আমরা অনেক সময় সুখ খুঁজতে গিয়ে আসলে এক ধরণের উত্তেজনার পেছনে ছুটি, কিন্তু আমাদের মনের আসল তৃষ্ণা থাকে শান্তির জন্য।
আপনি কি সুখ খুঁজছেন নাকি শান্তি? ৯টি লক্ষণ দেখে বোঝা যাবে।

১. পরবর্তী বড় আনন্দের অপেক্ষায় থাকা: আপনি কি সবসময় ভাবেন "পরবর্তী ছুটিতে কী করব?" বা "পরের বড় ইভেন্টটা কবে?" যদি বর্তমানের সাধারণ মুহূর্তগুলো আপনার কাছে পানসে মনে হয় এবং আপনি কেবল বড় কোনো উত্তেজনার অপেক্ষায় থাকেন, তবে বুঝবেন আপনার মন আসলে শান্তি খুঁজছে।

২. সাফল্য বা জয় খুব অল্প সময় স্থায়ী হওয়া: কোনো বড় লক্ষ্য অর্জনের পর আপনার খুশি কি মাত্র কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টা থাকে? এরপরই কি আবার নতুন কিছু পাওয়ার দুশ্চিন্তা শুরু হয়? এটি ইঙ্গিত দেয় যে আপনি শুধু সাময়িক 'সুখ' খুঁজছেন।

৩. ভালো মুহূর্তেও অস্থির থাকা: যখন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, তখনও কি আপনার মনে হয়—"এরপরে খারাপ কী ঘটবে?" ভালো সময়েও মনের কোণে ভয় থাকা মানে হলো আপনার মনের গভীরে শান্তির অভাব।

৪. বিশ্রামকে মনে করা একটি 'পুরস্কার': আপনি কি মনে করেন যে অনেক কাজ করার পরেই কেবল বিশ্রাম নেওয়ার অধিকার আপনার আছে? শান্তি মানে হলো বিশ্রামকে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নেওয়া, একে 'অর্জন' করার বিষয় হিসেবে দেখা নয়।

৫. নীরবতাকে কোলাহল দিয়ে পূর্ণ করা: একটু একা বা নিরিবিলি থাকলেই কি আপনি ফোন হাতে নেন বা গান চালিয়ে দেন? নীরবতায় অস্বস্তি বোধ করা মানে আপনি নিজের ভেতরের অস্থিরতা থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন।

৬. কাউকে হতাশ না করতে সবসময় 'হ্যাঁ' বলা: সবাইকে খুশি করতে গিয়ে নিজের সীমা অতিক্রম করা শান্তির বড় বাধা। এটি আপনাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দেয়।

৭. মুড বদলাতে ফোনের আশ্রয় নেওয়া: মন খারাপ হলেই কি আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করা শুরু করেন? এটি সাময়িকভাবে ডোপামিন দেয় (সুখ), কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শান্তি দেয় না।

৮. বড় আয়োজনের চেয়ে সহজ দিনগুলো বেশি মনে পড়া: আপনি কি খেয়াল করেছেন আপনার সেরা স্মৃতিগুলো কোনো বড় উৎসবের নয়, বরং বৃষ্টির দিনে বারান্দায় বসে চা খাওয়া বা কোনো প্রিয় মানুষের সাথে হাঁটার মতো সাধারণ দিনের? তার মানে আপনার আত্মা শান্তিতেই বেশি তৃপ্ত হয়।

৯. সবসময় কিছু একটা করার তাড়না অনুভব করা: আপনি যদি বসে থাকতে না পারেন এবং সবসময় নিজেকে ব্যস্ত রাখার এক ধরণের চাপ অনুভব করেন, তবে আপনার 'শান্তি' প্রয়োজন।

সুখ আসে সাময়িক উত্তেজনা বা প্রাপ্তি থেকে, যা অনেকটা আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতো। কিন্তু শান্তি হলো গভীর শ্বাস, হালকা কাঁধ এবং একটি শান্ত মনের মতো যা সবসময় ভবিষ্যতের কথা ভেবে অস্থির হয় না। জীবনকে কেবল 'happy' করার চেষ্টা না করে 'peaceful' বা শান্তিময় করার দিকে নজর দিন।
____
Source: Cottonwood Psychology
আমাদের সবার জীবনেই দুঃখ-কষ্ট আছে। এটাই বাস্তবতা। জীবন একটা পরীক্ষা। আমাদের পরীক্ষা করা হবেই। তাইতো আল্লাহ বলেন,

أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ ٱلْبَأْسَآءُ وَٱلضَّرَّآءُ وَزُلْزِلُوا۟ حَتَّىٰ يَقُولَ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ مَتَىٰ نَصْرُ ٱللَّهِ أَلَآ إِنَّ نَصْرَ ٱللَّهِ قَرِيبٌ

তোমরা কি মনে করো জান্নাতে প্রবেশ করবে (কোনোরকম পরীক্ষা করা ছাড়াই)? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গিয়েছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। (তাদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল) তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং (ভয়ে) এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে রসূল ও তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণ পর্যন্ত বলেছিল, ❝কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে?❞ জেনে রেখো, আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। [সূরা বাকারা : ২১৪]
সুবহানাল্লাহ! সুতরাং আমাদের পরীক্ষা করা হবেই। কঠোরতা আসবে, বাঁধাবিপত্তি আসবে। এটাই এই জীবনের বাস্তবতা।

আমাদের বুঝতে হবে, যাকিছুই ঘটছে সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। আপনার হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনি যদি আল্লাহকে ভুলে যান, হতাশায় নিমজ্জিত হবেন। ভাববেন, চারিদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন আর কুয়াশাচ্ছন্ন। কিন্তু না। আমরা এটা বিশ্বাস করি না। আমরা সুখী সমাপ্তিতে বিশ্বাসী, বাহিরটা যতই নিরস হোক না কেন। এটা তো দুনিয়া। আপনি নিম্নতম স্থানে আছেন। দুনিয়া অর্থই নিম্নতম স্থান। আমরা একদম তলায় আছি, এখান থেকে শুধু ঊর্ধ্বেই যাওয়া যায়। সত্যিই!

এই স্থান, আল্লাহর কসম এই জায়গাকে সাজানোই হয়েছে আপনার অন্তর ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়ার জন্য। এটাকে এভাবেই নকশা করা হয়েছে। যদি আপনি এই দুনিয়ায় সুখী হওয়ার খোঁজে থাকেন আপনি ভুল জায়গায় আছেন।

আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আমাদের যেসব পরীক্ষা করা হয় তা শুধু দুঃখ-দুর্যোগের মাধ্যমে করা হয় না; যেমন মৃত্যু বা সম্পদের ক্ষতির মাধ্যমে। আল্লাহ আমাদের অনেক নিয়ামত দিয়েছেন, কিন্তু তার জন্য আমরা আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করি না। নেয়ামাতগুলোকে আমরা সঠিক কাজে ব্যবহারও করি না।

আপনি যদি আল্লাহ তাআলার দ্বারা পরীক্ষিত না হয়ে থাকেন, যদি সেই পরীক্ষাটা দেখতে না পান; তাহলে মনে রাখুন—হয় আপনাকে দুঃখ-কষ্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে, অথবা আনন্দ-ফুর্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে। উভয়ক্ষেত্রে একই ফলাফলের দরকার হয়; আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন।

যাকে দুঃখ-দুর্দশার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়; সে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আর এই কষ্ট থেকে বাঁচার একটা উপায় পেয়ে যায়। আর যাকে বিভিন্ন নিয়ামতের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে; সে আল্লাহর এসব নিয়ামতরাজির জন্য আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে। ফলে তাকে দেওয়া সব নিয়ামতরাজি ব্যবহার করে সে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হবার চেষ্টা চালিয়ে যায়।

কতজন ধনী মানুষকে চিনেন যাদের প্রচুর সম্পদ রয়েছে? তাদের মাঝে এমন অনেককেই পাবেন যারা সন্তানদের কারণে অপমানজনক, যন্ত্রণাদায়ক জীবনযাপন করছেন। তার ছেলে হয়তো সম্পূর্ণরূপে উচ্ছৃঙ্খল। চারিদিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন, মানুষ কঠোর যন্ত্রণাদায়ক জীবনযাপন করছে। আপনি তার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন কারণ তার রয়েছে বিশাল বাড়ি, সুন্দর মার্সিডিজ গাড়ি। যদি তার তার জায়গায় থাকতেন হয়তো বলতেন ❝আমার অবস্থাই ভালো, যদিও আমি গরীব, বা কিছুটা বিপদে রয়েছি; অন্তত আমি রাতে ঘুমাতে পারি। তার জায়গায় থাকলে আমাকে যতসব ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমাতে হতো।❞

যখন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আপনাকে পরীক্ষা করা হয়। এই সময় আপনাকে দুটি পথের যেকোনো একটি বেছে নিতে হয়।

[১] হয় আপনি এখনই এই কষ্টের মোকাবেলা করবেন এবং আল্লাহর নিকটবর্তী হবেন,
[২] অথবা এই কষ্টের মোকাবেলায় আপনি দেরি করবেন; অন্যদের করুণা ও সাহায্য ভিক্ষা করবেন। কোনো উপায় অবলম্বন না করে কষ্টটাকে দীর্ঘায়িত করবেন।

বইয়ের নাম : ডিপ্রেশন : বিষাদের উপত্যকা পেরিয়ে

লেখক : নোমান আলী খান

জীবনের দুঃখ, কষ্ট ও হতাশার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ হারিয়ে যায়, আবার কেউ নতুন করে জেগে ওঠে। এই যাত্রা কখনো সহজ নয়—তবে পথ জানা থাকলে, এই অন্ধকার থেকেও পূর্বের চেয়ে উজ্জ্বল এক জীবনে রূপান্তরিত হওয়া সম্ভব। আসলে এই হতাশা ও যাতনাগুলো জীবনকে ধ্বংস করার জন্য নয়—বরং জীবনকে নতুন করে আবিষ্কার করার, দুনিয়াকে বাস্তবতার চোখে চেনার এক অনন্য সুযোগ।

কুর'আনে প্রতিটি নবীর কাহিনিতে দুঃখ-কষ্টের বর্ণনা পাবেন। এই জমিনের সবচেয়ে সম্মানিত ও নিষ্পাপ মানুষগুলো—তাঁরাই গিয়েছেন সবচেয়ে বিশাল কষ্টের ভেতর দিয়ে। তাঁদের দায়িত্ব যেমন ছিল মহান, দুঃখ-যাতনাও তেমনি গভীর। কিন্তু এই কষ্টের মাঝেও তাঁরা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন—এবং তাঁদের সাথে যারা ছিলেন, তারাও।মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি বলেন, ❝আল্লাহ তোমাকে দুটি ডানা দিয়েছেন—সুখ ও দুঃখ। তবে কেন তুমি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটবে?❞ হাদীসেও একই সুর ধ্বনিত হয়েছে—আশা ও ভয় উভয়ই থাকবে, কিন্তু নিরাশ হওয়ার কোনো জায়গা নেই, হতাশ হওয়ার অবকাশ নেই।তাহলে প্রশ্ন হলো: কীভাবে এই
আশা ও সংগ্রামের সেরাটা অর্জন করব? সেই উত্তরই বিস্তৃত হয়েছে এই বইয়ে।

সংগ্রহ করতে পারেন আমাদের প্রকাশিত সেরা কিছু বই, যেগুলো আপনাকে আখিরাতের পথ দেখাবে, অন্তরে প্রশান্তির ফল্গুধারা বইয়ে দিবে এবং কুরআনের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করবে ইনশাআল্লাহ। সমাগত রামাদানে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর করতে, সালাত ও কুরআন অধ্যয়নে মনোনিবেশ করতে এই বইগুলো আপনার সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।

১। ডিপ্রেশন : বিষাদের উপত্যকা পেরিয়ে — উস্তাদ নোমান আলী খান
২। আমি ও আমার রব — উস্তাদ নোমান আলী খান
৩। কীভাবে নামাজের মধুরতা লাভ করা যায়? — মিশারী আল-খারাজ
৪। প্রশান্তির খোঁজ : পর্ব–১ — উস্তাদ নোমান আলী খান
৫। প্রশান্তির খোঁজ : পর্ব–২ — উস্তাদ নোমান আলী খান
৬। কুরআন থেকে আহরিত জীবনের পাঠ [কুরআনের রত্ন]

বই বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত রয়াল্টির অর্থ নাকবাংলার অনুবাদ ও ডাবিং কার্যক্রমে ব্যয় হয়। তাই বই সংগ্রহের মাধ্যমে আপনিও আমাদের এই দাওয়াতি মিশনে অংশীদার হতে পারেন। প্রিয়জনদের হাদিয়া হিসেবেও উপহার দিতে পারেন এই বইগুলো। এভাবে সাদাকায়ে জারিয়ার ধারা উন্মুক্ত হবে, যা কিয়ামতের দিন আমলের পাল্লায় ভারী সম্পদ হিসেবে উপস্থিত হবে ইনশাআল্লাহ।

কমেন্টে সংগ্রহ করার দেয়া থাকবে।
অধিকাংশ মানুষই জানে না কীভাবে সঠিক জীবনসঙ্গী বেছে নিতে হয়। আমরা কেবল আকর্ষণের ওপর ভিত্তি করে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি, যা দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য যথেষ্ট নয়। এই আর্টিকেলে আজীবন জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার জন্য ৪টি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড বা ক্রাইটেরিয়ার কথা বলা হয়েছে।

১. সে আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করে:
এটি সবচেয়ে সরল কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আপনার সঙ্গী আপনার সাথে কেমন আচরণ করছে তা অনেক বড় বিষয়। দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঙ্গীর মধ্যে আপনার প্রতি দয়া এবং শ্রদ্ধা থাকা বাধ্যতামূলক। জীবনের কঠিন সময়ে সে আপনার সাথে কতটা পরিপক্ক ও সহানুভূতিশীল উপায়ে কথা বলে, তা লক্ষ্য করুন।

২. তার প্রতি আপনার সম্মান:
আপনার সাথে ব্যবহারের বাইরেও ব্যক্তি হিসেবে সে কেমন, সেটির ওপর এই সম্মান নির্ভর করে। আপনি কি তার মূল্যবোধ, জীবনবোধ বা জীবনধারাকে মনে-প্রাণে শ্রদ্ধা করেন? যদি ব্যক্তি হিসেবে তার প্রতি আপনার শ্রদ্ধা না থাকে, তবে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

৩. সামঞ্জস্যতা বা মিল:
আপনাদের শখ বা পছন্দ একদম হুবহু হতে হবে এমন নয়, তবে আপনাদের জীবনের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার (priorities) এবং জীবনধারা বা লাইফস্টাইলের মধ্যে অন্তত ৫০% বা তার বেশি মিল থাকা জরুরি। এই মিলগুলোই সম্পর্ককে টেকসই ও আনন্দদায়ক করে তোলে।

৪. রসায়ন বা আকর্ষণ:
এটি শারীরিক ও মানসিক—উভয় ধরনের আকর্ষণকে বোঝায়। সম্পর্কে সবসময় 'আতশবাজি'র মতো উত্তেজনা থাকবে না, তবে একে অপরের প্রতি শারীরিক ও মানসিক টান থাকা প্রয়োজন যাতে দীর্ঘকাল পরও আকর্ষণ বজায় থাকে।

লেখক আন্ড্রেয়া ওয়াচটার (Andrea Wachter) এর মতে, যদি কোনো ব্যক্তি এই ৪টি শর্তের সবকটি পূরণ করতে না পারে, তবে সম্ভবত সে আপনার জন্য সঠিক জীবনসঙ্গী নয়। কেবল ভালোবাসা বা আকর্ষণের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং এই চারটি বিষয়ের ভারসাম্য দেখে সঙ্গী নির্বাচন করা উচিত।
_______
সূত্র: সাইকোলজি টুডে
সায়্যিদুল মুহাদ্দিসিন ইমামু আহলিস সুন্নাত ওয়াল জাম'আহ আহমাদ ইবনু হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

“নারীর নখও আওরাহ। সুতরাং সে যখন বাইরে বের হবে, তখন তার শরীরের কোনো কিছুই প্রকাশ পাবে না—না তার হাত, না তার নখ, না তার মোজা (খুফ)। কেননা মোজা পায়ের আকৃতি ও গঠনকে স্পষ্ট করে তোলে।”

— [ যা'দুল মুসাফির ফিল ফিক্বহি আলা ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ইমাম আল খাল্লাল ]
.
একবার হযরত ঈসা (আ.)-কে দেখা গেল, তিনি একটি পাহাড়ের দিকে খুব দ্রুত দৌড়াচ্ছিলেন।

এক ব্যক্তি এই দৃশ্য দেখে তার পিছু নিল। সে দৌড়াতে দৌড়াতে হযরত ঈসা (আ.)-কে জিজ্ঞেস করল, "হে আল্লাহর নবী! কী হয়েছে? আপনার পেছনে তো কোনো সিংহ নেই, কোনো শত্রু নেই, কোনো ভয়ও নেই। তবে আপনি পাখির মতো এমন উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছেন কেন?"

হযরত ঈসা (আ.) এত দ্রুত ছুটছিলেন যে উত্তর দেওয়ার ফুরসত পাচ্ছিলেন না। লোকটি নাছোড়বান্দা হয়ে এক-দুই মাঠ দৌড়ে তার কাছে পৌঁছাল এবং জোর দিয়ে জিজ্ঞেস করল, "আল্লাহর ওয়াস্তে একটু দাঁড়ান! আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে, আপনি কার ভয়ে পালাচ্ছেন?"

তখন ঈসা (আ.) বললেন, "আমি এক আহাম্মক (মূর্খ,নির্বোধ) লোকের কাছ থেকে পালাচ্ছি। তুমি আমাকে বাধা দিও না, আমাকে পালাতে দাও, আমি নিজেকে বাঁচাতে চাই।"

লোকটি অবাক হয়ে বলল, "আপনি কি সেই মসীহ (ঈসা) নন, যার স্পর্শে অন্ধ ও বধির সুস্থ হয়ে যায়?"
ঈসা (আ.) বললেন, "হ্যাঁ, আমিই সেই।"

লোকটি বলল, "আপনি কি সেই মহান ব্যক্তি নন, যিনি আল্লাহর দেওয়া 'ইসমে আজম' পড়ে মৃত মানুষের ওপর ফুঁ দিলে সে জীবিত হয়ে সিংহের মতো লাফিয়ে ওঠে?"
ঈসা (আ.) বললেন, "হ্যাঁ, আমিই সেই।"

লোকটি আবার বলল, "আপনি কি মাটি দিয়ে পাখি বানিয়ে তাতে ফুঁ দিলে তা সত্যিকারের পাখি হয়ে উড়ে যায় না?"
ঈসা (আ.) বললেন, "হ্যাঁ, তা-ও সত্য।"

তখন লোকটি বলল, "তাহলে আপনার কিসের ভয়? যার হাতে আল্লাহর দেওয়া এমন অলৌকিক ক্ষমতা আছে, সে কেন একজন সাধারণ মূর্খ,নির্বোধ লোককে ভয় পাবে? আপনি তো চাইলেই তাকে ঠিক করতে পারেন।"

হযরত ঈসা (আ.) তখন আল্লাহর কসম খেয়ে বললেন, "শোনো! আমি সেই ইসমে আজম পড়ে অন্ধ ও বধিরকে সুস্থ করেছি, তারা ভালো হয়েছে। আমি পাথরের পাহাড়ের ওপর পড়েছি, পাহাড় ফেটে চৌচির হয়েছে। আমি মৃত লাশের ওপর পড়েছি, সে জীবিত হয়েছে। কিন্তু আমি হাজারবার সেই একই পবিত্র নাম একজন আহাম্মক বা মূর্খের ওপর ভালোবেসে পড়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি! তার বোকামি একটুও কমেনি। সে পাথরের মতো শক্ত হয়ে রইল, সেখান থেকে কোনো ফসল ফলল না।"

লোকটি জিজ্ঞেস করল, "এর কারণ কী? আল্লাহর নামের প্রভাব সব জায়গায় খাটল, কিন্তু মূর্খের বেলায় কেন খাটল না?"

হযরত ঈসা (আ.) বললেন:
"অন্ধত্ব বা বধিরতা হলো আল্লাহর দেওয়া একটি 'পরীক্ষা'। এসব রোগের ওপর মানুষের দয়া আসে এবং আল্লাহর নাম নিলে তা ভালো হয়। কিন্তু মূর্খতা বা আহাম্মকি কোনো পরীক্ষা নয়, এটি হলো আল্লাহর 'গজব'।

মুর্খতা,নির্বুদ্ধিতা এমন এক রোগ, যার কোনো ওষুধ নেই। এটি এমন এক দাগ, যা আল্লাহ সিলমোহর করে দিয়েছেন। কোনো চিকিৎসাতেই এটি সারে না।"

আল্লামা রুমী রহ. বলেন, ঈসা (আ.) যেমন মূর্খদের কাছ থেকে দূরে থেকেছেন ঠিক সেভাবে তুমিও মূর্খদের থেকে দূরে থেকো। কারণ মূর্খদের সঙ্গ মানুষের অনেক ক্ষতি করে, এমনকি রক্তও ঝরায়। বাতাস যেমন ধীরে ধীরে পানি শুষে নেয়, মূর্খরাও তেমনি ধীরে ধীরে তোমার ঈমান ও জ্ঞান শুষে নেবে। তারা তোমার অন্তরের উষ্ণতা কেড়ে নিয়ে তোমাকে পাথরের মতো ঠান্ডা ও অনুভূতিহীন করে দেবে।

হযরত ঈসা (আ.)-এর পালানো ভয়ে ছিল না, তিনি তো নিরাপদ। তিনি পালিয়েছিলেন আমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য, যেন আমরাও মূর্খদের সঙ্গ থেকে বেঁচে থাকি।

© Mohammad Salman
📖 মাসনবী
✒️ আল্লামা জালালুদ্দীন রুমী রহ.
যখন প্রয়োজন হালকা নয়—বরং তীব্র হয়ে ওঠে,
তখন সাধারণ আমল নয়, নির্দিষ্ট ও পরীক্ষিত কুরআনি আমল দরকার হয়।

এই কারণেই উলামায়ে কিরাম প্রয়োজন পূরণের জন্য
সূরা ইয়াসীন একটানা ৭ বার পড়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

অনেকেই এতে আল্লাহর সাহায্য, পথ খুলে যাওয়া ও অন্তরের স্থিরতা অনুভব করেছেন—ইনশাআল্লাহ।

তবে মনে রাখতে হবে—
এটি নবী করিম ﷺ থেকে বর্ণিত কোনো হাদিস নয়।
বরং শাইখদের অভিজ্ঞতা ও সাধনার আলোকে প্রচলিত একটি আমল।

এই আমলটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন—
শাইখ ডক্টর আলী জুম‘আ (হাফিজাহুল্লাহ)
শাইখ যাকি আদ-দীন ইবরাহিম (রহ.)-এর সূত্রে।

© Ekram Hossain – ইকরাম হোসাইন

নিয়ত ঠিক রাখুন, তাড়াহুড়ো নয়—
আল্লাহর কাছে চাওয়ার আদব নিয়ে পড়ুন।
ফয়সালা তাঁর কাছেই।

#Ekramcreation
শ্বাস-প্রশ্বাস যত দ্রুত হবে, যৌন মিলনের স্থায়িত্ব তত কম হবে; শ্বাস-প্রশ্বাস যত শান্ত ও ধীর হবে, এটি তত দীর্ঘস্থায়ী হবে। আর যৌন মিলন যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, যৌনতাকে সমাধির দ্বার বা অতিচেতনার (superconsciousness) একটি মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তত বাড়বে। আমি আগেই বলেছি, যৌন- সমাধিতেই মানুষের মধ্যে অহংহীনতা এবং কালহীনতার বোধ জাগ্রত হয়। শ্বাস-প্রশ্বাস অত্যন্ত ধীর হওয়া উচিত। শ্বাসের ধীরগতি উপলব্ধির গভীর থেকে গভীরতর দিগন্ত উন্মোচন করবে।
যৌন মিলনের সময় মনে রাখার মতো আরেকটি বিষয় হলো আপনার সচেতনতা বা মনোযোগ দুই চোখের মাঝখানে, আজ্ঞা চক্রে (agnichakra) নিবদ্ধ থাকা উচিত। যদি সেখানে মনোযোগ স্থির থাকে, তবে চূড়ান্ত আনন্দের (climax) স্থায়িত্ব দীর্ঘ করা যায় এমনকি তিন ঘণ্টা পর্যন্ত। আর এই ধরনের যৌন মিলন একজন মানুষকে ব্রহ্মচর্যের মাটিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে কেবল এই জীবনের জন্য নয়, পরবর্তী জীবনের জন্যও। একজন নারী লিখেছেন যে বিনোবা (ভাবে) একজন ব্রহ্মচারী, এবং জিজ্ঞাসা করেছেন আমি কি মনে করি তিনি কখনও সমাধির অভিজ্ঞতা পাননি? তিনি আরও লিখেছেন যে যেহেতু আমিও একজন ব্রহ্মচারী এবং অবিবাহিত, তাই হয়তো আমারও সমাধির অভিজ্ঞতা নেই। যদি সেই নারী এখানে উপস্থিত থাকেন তবে আমি তাকে বলতে চাই যে বিনোবা, আমি বা অন্য কেউ যৌনতার প্রকৃত অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্রহ্মচর্যের স্তর এবং তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারে না। আমি তাকে আরও বলতে চাই যে এই অভিজ্ঞতা এই জীবনের হতে পারে, অথবা গত জীবনেরও হতে পারে। যে ব্যক্তি এই জীবনে ব্রহ্মচর্য লাভ করেছেন, তা কোনো গভীর যৌন মিলনের অভিজ্ঞতার কারণেই সম্ভব হয়েছে এবং অন্য কিছুর জন্য নয়। এটাই একমাত্র ব্যাখ্যা। যদি কোনো ব্যক্তি গত জীবনে যৌনতার গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকেন, তবে তিনি এই জীবনে যৌনতা থেকে মুক্ত হয়ে জন্মগ্রহণ করবেন; এমনকি কল্পনায়ও যৌনতা তাকে বিচলিত করবে না। উল্টো, অন্য মানুষেরা যৌনতা নিয়ে কেন এমন আচরণ করে তা দেখে তিনি অবাক হবেন; তিনি বিস্মিত হবেন যে মানুষ যৌনতার জন্য এত পাগল কেন। এমন ব্যক্তিকে এমনকি পুরুষ এবং নারীর মধ্যে পার্থক্য বোঝার জন্যও পরিশ্রম করতে হবে।

​যদি কোনো ব্যক্তি মনে করেন যে তিনি শৈশব থেকেই ব্রহ্মচারী হতে পারবেন, যৌনতার কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি ব্রহ্মচারী থাকবেন, তবে তিনি স্নায়ুরোগী (neurotic) হয়ে পড়বেন। যারা সবসময় ব্রহ্মচর্যের কথা আওড়ান, ব্রহ্মচর্য পালনের জন্য চিৎকার করেন, তারা মানুষের বিচ্ছিন্নতা বা ভাঙন সৃষ্টি করছেন। এর থেকে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই আসবে না। ব্রহ্মচর্য চাপিয়ে দেওয়া যায় না; ব্রহ্মচর্য কেবল অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতার নির্যাস হিসেবে বিকশিত হয়। ব্রহ্মচর্য হলো এক শান্ত ও গভীর অভিজ্ঞতার ফল আর সেই অভিজ্ঞতা হলো যৌনতার। যদি যৌনতার সময় কেউ একবারও পূর্ণ সত্যের সন্ধান পায়, তবে সে জীবনের অনন্ত যাত্রার জন্য যৌনতা থেকে মুক্তি পায়...........

বই: From Sex to Superconsciousness
মূল: ওশো রজনীশ
অনুবাদ: আধ্যাত্মিক জগতের বাণী

বইটির বাংলা অনুবাদ পিডিএফ কিনতে মেসেজ করুন আমাদের পেজে👉 আধ্যাত্মিক জগতের বানী পিডিএফ লাইব্রেরী
#osho #motivation #দর্শন #selfimprovement
বিবাহিতদের যৌন শিক্ষা
(১৮+ একটি সেক্স এডুকেশন বিষয়ক লেখা )
.
যৌনভাব প্রকাশের চমৎকার অংশ হলাে শৃঙ্গার এবং কখন কি করতে হবে তার কোনাে নির্দিষ্ট ছক নেই । সুতরাং সঙ্গমে প্রস্তুত হয়েছে কিনা দম্পতিরা নিজেরাই তা বুঝে নেবে । গড়পড়তা মানের একজন নারী তার সাড়া দেয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় প্রায় বিশ মিনিট শৃঙ্গারের পর ।
.
কোনাে কোনাে অভিজ্ঞ স্ত্রীর ক্ষেত্রে মাত্র দশ থেকে পনের মিনিট বা সামান্য বেশি সময় প্রযােজন হয় , আর যৌন সমস্যায় আক্রান্ত মহিলার প্রয়ােজন হয় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ মিনিট । তাৎক্ষণিকভাবে কোনাে প্রতিক্রিয়া না দেখালে কোনাে স্বামীর ভাবা উচিৎ নয় যে তার স্ত্রী অস্বাভাবিক অথবা শীতল । কারণ একজন মহিলা সাড়া দেয় পুরুষের চাইতে দেরীতে , সুতরাং তাকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে কারণ সেও যৌন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে সক্ষম ।
.
মহিলারা সাধারণত অভিযােগ করে যে তাদের স্বামীরা তাদের প্রস্তুত করতে পৰ্মাপ্ত সময় দেয়না । কেউ কেউ তাে বলেন যে তারা প্রস্তুতই হন না । যে সব স্ত্রীকে জোর করে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় না দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হয় , তাদের মনে হয় স্বামীর ইচ্ছে পূরণের জন্য তাদের দেহ ব্যবহার করা হয়েছে । তার প্রয়ােজনের প্রতি কোনাে খেয়ালই করা হয়নি । অথচ, সারাদিনে সামান্য রােমান্টিক কোমলতা , রাতে সামান্য একটু বেশি সময় দিলে পুরাে ধারণাই বদলে যেতে পারে ।
.
যে স্বামীর দ্রুত স্খলন হয়ে যায় এবং যিনি কোনাে শৃংগার করেন না , সে পুরুষকে স্বী ভাবে অশিক্ষিত কুৎসিত বলে । অথচ এ স্বামীটিই হয়তাে নিজেকে দারুণ খেলােয়াড় বলে মনে করে এবং স্ত্রীর চূড়ান্ত তৃপ্তিকে স্ত্রী যতটা বলে তার চাইতে অনেক বেশি বাড়িয়ে বলে । সত্য হলাে এসব দ্রুত প্রেমিকরা কখনাে প্রত্যাশিতদের তালিকায় পড়ে না ।
.
পুরুষও শৃংগার থেকে লাভবান হতে পারে । স্ত্রী সাড়া দেয়ায় , আনন্দিত হওয়ায় নিজের জন্যও পাবে প্রচুর আনন্দ । আদর , উত্তেজক চিন্তায় অথবা দর্শনে তার যৌনাঙ্গের উত্তেজনার পর , সে উত্তজনার দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে যার স্থায়িত্ব বিশ মিনিটেরও বেশি হতে পারে ।

.
শৃংগারে দম্পতিদের দুজনেরই ভালােবাসার নাটক করা উচিৎ যা তারা দুজনে পছন্দ করে । সাধারণত স্বামী ভালােবাসার নানারকম নানা কলা দিয়ে শুরু করতে চায় , তবে অনিচ্ছুক পার্টনারের উপর তা জোর করে চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয় । এখানে দুজনের আনন্দ পাওয়া হলাে মূল চাবিকাঠি , এবং দুজনের পছন্দ হলেই তবে নানা রকম কলা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা হতে পারে ।
.
যৌন বিষয়ক পন্ডিত হারবার্ট মাইল , সন্দেহপ্রবণ দম্পতিদের জন্য নিজের উপদেশগুলাে দিয়েছেন , ' সমাজে এবং কমিউনিটিতে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিনয় হলাে গুণের রাণী , কিন্তু বেডরুমের একান্ত গােপনীয়তায় , বন্ধ দরজার আড়ালে এবং সত্যিকার বৈবাহিক ভালােবাসায় বিনয় বলে কিছু নেই । স্বামী স্ত্রী দুজনে ভালােবাসায় , যৌনতায় যেমন খুশি মজা পায় তেমন করতে পারে । "
.
তবে একটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে । যৌন অভিজ্ঞতাগুলাে এমন যেন হয় যাতে স্বামী স্ত্রী দুজনেই মজা পায় । কেউ কখনাে অন্যজন যা চায়না তা জোর করে চাপিয়ে দেবেন না । ভালােবাসায় জোরের কিছু নেই ' ।
.
.
.
ডাঃ মোঃ ফাইজুল হক

Gov. Registered Ayurvedic , Unani and Homoeopathic Physician , Ayurved Tirtha
Hijama/ Cupping Therapist
Advanced Trained on Cognitive-Behavior Therapy for Depression (DU)
Trained on Therapeutic Counselling
(Department of Clinical Psychology, University of Dhaka)
.
.
আমার ২টি চেম্বার:
1️⃣ ধামরাই ইসলামপুর চেম্বার:
এ-৩৮/১ , ইসলামপুর, ধামরাই, ঢাকা
( নবীনগর স্মৃতিসৌধের পাশে, ধামরাই ইসলামপুর সরকারি হাসপাতাল ও গোডাউন মোড়ের মাঝে আমবাগান মসজিদের গলি )
সোম,মঙ্গল,বুধ,বৃহস্পতি,শুক্র সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা

2️⃣ সাভার চেম্বার:
সি - ৯৮ (২য় তলা ), ফ্ল্যাট # ডি,মজিদপুর রোড, সাভার ,ঢাকা
( অন্ধ মার্কেটের দক্ষিণ পাশে, স্বপ্ন সুপারশপ এর সাথে,মজিদপুর রোড, আল বারাকা সুপার মার্কেটের অপজিটে)
শনি ও রবি সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা

বিঃ দ্রঃ সাক্ষাতের আগে অবশ্যই ফোন দিয়ে সময় নিয়ে আসতে হবে ।
.
🔴 সতর্কতা: কিছু প্রতারক আমার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে প্রতারণা করছে!

আমাদের মোবাইল নাম্বার:
01972859950,
01712859950

এই নাম্বার ছাড়া আমাদের কোন নাম্বার নাই। সতর্ক থাকবেন, সাবধান থাকবেন।

🟩 আমার কাছে চিকিৎসা নেওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো পড়ুন:

★ আমি কোন গ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসা করিনা।

★ আমার কাছে সব রোগী ভালো হয় না , পৃথিবীতে এমন কোন ডাক্তার নাই যার কাছে সকল রোগী ভালো হয় ।
১০ জন রোগীর মধ্যে যদি ৮ রোগী আমার চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয় , তাহলে এই ৮ জন রোগীর কাছে আমি অনেক ভালো ডাক্তার কিন্তু বাকি যে ২ জন রোগী ভালো হয়নি তাদের কাছে আমি চরম খারাপ ডাক্তার। এটা শুধু আমার বেলায় না সকল ডাক্তারদের বেলায় প্রযোজ্য।
আমার চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ২৩ বছর , এই ২৩ বছরে যেমন অনেক রোগী আমার চিকিৎসায় ভালো হয়েছেন তেমনি অনেক রোগী ভালো হননি ।

★ আমি যে ওষুধ দেই তা ন্যাচারাল মেডিসিন হওয়ার কারণে দ্রুত রেজাল্ট পাওয়া যায় না , ধৈর্য ধরে ওষুধ খেতে হয় । যারা এখন খাবেন এখন ভাল হবেন এই টাইপের রেজাল্ট চান তারা আমার কাছে না আসলে ভালো । চিকিৎসার ক্ষেত্রে যার ধৈর্য্য আছে আমার কাছে তারা দেখা করতে পারেন ।

★ সকল রোগ ওষুধে ভালো হয় না (যেমন কিছু সাইকোসেক্সুয়াল ডিস্ফাংশন ) এক্ষেত্রে কাউন্সিলিং , মনো চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তখন সময় আরো বেশি লাগে ।

★আমার সাথে সাক্ষাতের আগে অবশ্যই একটা কাগজে ভালো করে আপনার সকল সমস্যা লিখে নিয়ে আসতে হবে , পূর্বের কোন চিকিৎসার কাগজপত্র থাকলে তাও সাথে করে নিয়ে আসতে হবে ।

★ কিছু কিছু রোগের চিকিৎসা আমি করিনা , যেমন- দাত এর চিকিৎসা করিনা , পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসা করিনা , মোটা হওয়ার কোন ওষুধ দেইনা , টাক মাথায় চুল গজানোর জন্য কোনো ওষুধ দেই না । এরকম আরো অনেকগুলো সমস্যা আছে । কি কি রোগের চিকিৎসা করা হয় তা দেখার জন্য কমেন্টে দেওয়া আমার ওয়েবসাইটের লিংক ক্লিক করুন।

★ চেম্বারে সরাসরি রোগী দেখি , অনলাইনেও রোগী দেখি (ভিজিট প্রযোজ্য )
শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং যৌবন ও স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য হচ্ছে 'কোলাজেন'!
৩০ বছরের পর যখন শরীর স্বাভাবিকভাবে কম কোলাজেন তৈরি করতে শুরু করে, তখন খাদ্য থেকেই এটি পাওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে যায়।
কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার ও ভিটামিনসমূহ শরীরে নতুন কোলাজেন তৈরি করে, ফলে ত্বক টানটান, গ্লো করা এবং যৌবনদীপ্ত থাকে।

কোলাজেন হলো দেহের স্ট্রাকচারাল প্রোটিন। এটা ত্বক, হাড়, পেশি, চুল, নখ, চোখ, রক্তনালী, জয়েন্ট এ সবকিছুর জন্য কাঠামো তৈরি করে।
সোজা কথায়, এটা দেহের প্রাকৃতিক আঠা, যা সবকিছুকে শক্তভাবে একসাথে ধরে রাখে।
শরীরের মোট প্রোটিনের প্রায় ৩০ শতাংশই কোলাজেন দ্বারা গঠিত!

শরীরে ২৮ প্রকারেরও বেশি কোলাজেন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০-৯০ শতাংশই হলো টাইপ-১, ২, ৩, ৫ এবং ১০ কোলাজেন।
শরীর নিজেই প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন তৈরি করে।
তবে ২০-৩০ বছর বয়সের পর থেকে দেহে কোলাজেন উৎপাদন কমতে শুরু করে।
বিশেষ করে, নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ পরবর্তী সময় ও হরমোন পরিবর্তনের কারণে কোলাজেন পতন ত্বরান্বিত হয়।
এই প্রক্রিয়াকে আরো বেশি তরান্বিত করে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের প্রভাব, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, ধূমপান, মদ্যপান, চিনি, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, রিফাইন্ড ফুড, জাংকফুড ইত্যাদি!

এর ফলাফল হিসাবে দেখা দেয়–
- ত্বকের বলিরেখা, শুষ্কতা, ঝুলে পড়া, ফাইন লাইন
- ঠোঁট, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, পড়ে যাওয়া
- হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া (osteoporosis), জয়েন্টে ব্যথা ও শক্ত ভাব

অনেকেই ভাবে, হাড় মানে শুধুই ক্যালসিয়াম। কিন্তু আসলে হাড়ের গঠন অনেকটা স্টিল ও কংক্রিটের মতো।
কোলাজেন হলো স্টিলের মতো, এটি হাড়ের ভেতরে ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যা হাড়কে নমনীয়তা ও কিছুটা ইলাস্টিসিটি দেয়।
আর,
ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য মিনারেল হলো কংক্রিটের মতো, এগুলো কোলাজেন ফ্রেমওয়ার্কের ফাঁকা জায়গাগুলো ভরে দেয়, ফলে হাড় শক্ত ও টেকসই হয়।
যদি কোলাজেন না থাকে, তাহলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাবে, একটু চাপেই ভেঙে যাবে।
আর যদি ক্যালসিয়াম না থাকে, তাহলে হাড় নরম ও বাঁকানো হয়ে যাবে।
হাড়ে কোলাজেন ও ক্যালসিয়াম দুটিই সমান জরুরি।
এ কারণেই হাড়ের জন্য শুধু ক্যালসিয়াম খেলেই হবে না; প্রোটিন, ভিটামিন C, ভিটামিন D এবং কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবারও লাগবে।

বয়সের সঙ্গে কোলাজেন কমে যাওয়া স্বাভাবিক, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করলে এই প্রক্রিয়া ধীর করা সম্ভব।
যেমন- পর্যাপ্ত প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, নিয়মিত ব্যায়াম।

ভিটামিন সি কোলাজেন সংশ্লেষণের একটি অপরিহার্য কো-ফ্যাক্টর।
কোলাজেন উৎপাদন অপ্টিমাইজ করতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের সাথে কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।

কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা–

- হাড়ের ঝোল (Bone Broth)
পশুপাখির হাড়, হাটু-গোড়ালির হাড় (পায়া)
মাছের মাথা, মাছের চামড়া, ছোট মাছ, হাঁস-মুরগির চামড়া ও পা
- অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (Organ Meats)
পশুপাখির লিভার (কলিজা), কিডনি, গিলা (হৃদপিণ্ড), মগজ (Brain)
- হোল প্রোটিন
ডিম, মাছ, মাংস, ডাল।
- পশুপাখির চামড়া কোলাজেনের ভাল উৎসগুলোর একটি। গরু ছাগলের চামড়া রান্না করে খাওয়া যায়। হাঁস-মুরগির চামড়াসহ মাংস খাওয়া যায়।
- মাছের মধ্যে কোলাজেন সবচেয়ে বেশি থাকে স্কিন, কাঁটা, মাথায় ও ছোট মাছে।

শুধু কোলাজেন খেলেই হবে না, শরীরে যাতে এটি উত্তমরূপে এবজর্ব হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
এর জন্য প্রয়োজন–

- ভিটামিন-সি
লেবু, কাচা মরিচ, আমলকী, টমেটো, ক্যাপসিকাম, ব্রোকলি
- তামা, জিংক সমৃদ্ধ খাবার
বাদাম, তিল, যকৃত (লিভার), বীজ, ডাল, ছোলা, ডিম
- সালফার সমৃদ্ধ খাবার
পেঁয়াজ, রসুন, ডিম, বাঁধাকপি, ব্রকলি, ফুলকপি
- অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার
কালো চাল, লাল চাল, সবুজ শাক, হলুদ, গ্রিন টি, হার্বাল টি

সবচেয়ে উত্তম হলো ব্যালান্সড ডায়েট ফলো করা, যেখানে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল, বীজ এর সমন্বয় থাকে।
কোলাজেন বাড়ানোর জন্য এই খাবারগুলো খেলে যেমন ভালো, তেমনি চিনি, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটযুক্ত, রিফাইন্ড ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এতে কোলাজেন তৈরি হওয়ার হার কমে যায় এবং শরীরে ইনফ্লামেশন হয়।
ভেতর ঠিক না রেখে বাইরে থেকে ক্রিম-লোশন মেখে কোনো লাভ নাই।

- দিনে অন্তত ২–৩ লিটার পানি পান করুন। কোলাজেন হাইড্রেশনের জন্য পানি দরকার। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে কোলাজেন ভাঙন দ্রুত ঘটে।
- ধূমপান, অতিরিক্ত চিনি, জাঙ্ক ফুড বাদ দিন। এগুলো কোলাজেন ভেঙে দেয়। অস্বাস্থ্যকর খাবার (প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি, রিফাইন্ড খাবার) কোলাজেন উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করে।