প্রিয়নবী (স.) উম্মতকে বিভিন্ন সময় ও প্রেক্ষাপটে নানারকম দোয়া শিখিয়েছেন। তার মধ্যে একটি দোয়া হলো—ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ বা জীব-জন্তুর অনিষ্ট থেকে পরিত্রাণের দোয়া।
দোয়াটি হলো- أعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ‘আউযু বি কালিমা-তিল্লাহি তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক। ’ অর্থ- আল্লাহর পূর্ণ কালিমার বিনিময়ে তার সৃষ্টির সব অনিষ্ট থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছি। (আবু দাউদ: ৩৮৯৮)
অতএব, মুমিন মুসলমানের উচিত- বর্তমান পরিস্থিতিতে নবীজির শেখানো দোয়াটির মাধ্যমে আল্লাহর নিরাপত্তা কামনা করা। এই দোয়াটি যারা নিয়মিত সকাল-বিকাল আমল করবেন, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বিষাক্ত সাপ-বিচ্ছু, মশাসহ সকল পোকা-মাকড় ও যাবতীয় ক্ষতিকর প্রাণীর ক্ষতি থেকে হেফাজত করবেন ইনশাআল্লাহ।
দোয়াটি হলো- أعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ‘আউযু বি কালিমা-তিল্লাহি তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক। ’ অর্থ- আল্লাহর পূর্ণ কালিমার বিনিময়ে তার সৃষ্টির সব অনিষ্ট থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছি। (আবু দাউদ: ৩৮৯৮)
অতএব, মুমিন মুসলমানের উচিত- বর্তমান পরিস্থিতিতে নবীজির শেখানো দোয়াটির মাধ্যমে আল্লাহর নিরাপত্তা কামনা করা। এই দোয়াটি যারা নিয়মিত সকাল-বিকাল আমল করবেন, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বিষাক্ত সাপ-বিচ্ছু, মশাসহ সকল পোকা-মাকড় ও যাবতীয় ক্ষতিকর প্রাণীর ক্ষতি থেকে হেফাজত করবেন ইনশাআল্লাহ।
সাইকোবায়োটিকস এন্ড ডীপ কিস!
________
(১)
বিজ্ঞানের একটি তুলনামূলক নতুন শাখা "সাইকোবায়োটিকস"- আমাদের শরীরে বসবাসরত ব্যাক্টেরিয়া কিভাবে আমাদের মস্তিষ্ককে, আমাদের ভাবনা কে, আমাদের অনুভূতিকে, আমাদের চিন্তা শক্তি কে, আমাদের ব্যক্তিত্ত্বকে, আমাদের সৃজনশীলতাকে নিয়ন্ত্রণ করে- তা গবেষণা হয় এই শাখায়। আমাদের শরীরের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় "প্রোবায়োটিক" আর এই উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে আমাদের শরীরে বাস করতে সহযোগিতা করে "প্রিবায়োটিক"। এখন মনে করা হয় যে আমাদের অন্ত্রে (গাট বা কোলন) যে ব্যাকটেরিয়া থাকে, তারা আমাদের মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করে, এবং এই নিয়ন্ত্রণ অক্ষ কে বলে "গাট-ব্রেন অক্ষ"!
(২)
আমাদের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাকটেরিয়া বাস করে, বেশিভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের শরীরের প্রয়োজনেই। প্রশ্ন হলো, এই ব্যাকটেরিয়া আসে কোথা থেকে? প্রথম আসে জন্মের সময়, মায়ের বার্থ ক্যানাল থেকে। এরপর আস্তে আস্তে খাবারের মাধ্যমে এবং বাহ্যিক পরিবেশ থেকে। প্রায় তিন বছর বয়সে একটি বাচ্চার অন্ত্রে প্রাপ্তবয়স্কের সমান ব্যাকটেরিয়া বসবাস করা শুরু করে। একজন মানুষের অন্ত্রে প্রায় এক হাজার প্রজাতির, মোট ১০০,০০০,০০০,০০০,০০০. ব্যাকটেরিয়া বাস করে। এদেরকে একসঙ্গে আমরা বলি "গাট মাইক্রোবায়োম"..আমাদের এই মাইক্রোবায়োম অনেকাংশেই নির্ধারণ করে আমাদের ইনেট ইম্যুনিটি, আমাদের এলার্জি, অনেক রকম অটোইমিউন ডিজিজ, এবং আমাদের ব্যক্তিত্ব, চেতনা, প্রতীতি, সৃজনশীলতা, ভাবনা, অনুভূতি এবং মনস্তাত্বিকতা। প্রতিদিন এই ব্যাকটেরিয়া পরিবর্তিত হয়- আমাদের খাবারের কারণে, ঔষধের কারণে, অসুখ-বিসুখের কারণে, পরিবেশের কারণে।
(৩)
কিভাবে গাট মাইক্রোবায়োম আমাদের মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করে? সাইকোবায়োটিকস-এর শারীরবৃত্বিয় প্রক্রিয়া কি? আমাদের অন্ত্রে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে তার বেশিরভাগই মূলত এনেরোবিক এবং বহুলাংশে গ্রাম পজিটিভ। এদের শরীরে লাইপোপলিস্যাকারাইড নেই, যেটি আমাদের ইম্যুন সিস্টেম কে উত্তেজিত করে, প্রো-ইনফ্লামেটরি সাইটোকাইন (ইন্টারলিউকিন, টিউমর নেক্রোসিস ফ্যাক্টর) তৈরি করে। গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া এটি করে না। তারা মূলত আমাদের শরীরে ইমিউন মডুলেট করে। আমাদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ল্যাকটোব্যাসিলাস এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত উপকারী হিসেবে পরিচিত। এরা আমাদের শরীরে ইনফ্লামেশন দমন করে, তার প্রমান পাওয়া যায় শরীরের রক্তে কম কর্টিসল এর উপস্থিতি দেখে এবং ইনফ্লামেটরি সাইটোকাইন এর মাত্রা দেখে। যাদের শরীরে এই ব্যাকটেরিয়ার পরিমান কমে যায়, তাদের শরীরে ইনফ্লামেশন বেশি হয়, সি-রিএক্টিভ প্রোটিন বাড়ে, সাইটোকাইন বাড়ে। এই সাইটোকাইন ব্লাড-ব্রেইন ব্যারিয়ার দুর্বল করে দিয়ে সাইটোকাইন মস্তিষ্কে প্রবেশ করায় এবং বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ করে যা আমাদের ব্যবহার, প্রতীতি, মননশীলতা, মেজাজ, ভালোলাগা-খারাপলাগা নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া এরা ভ্যাগাস নার্ভের উপর-ও নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি করে আমাদের মন কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
(৪)
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে একদল বিষণ্ণ মানুষকে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে, আরেকদল বিষণ্ণ মানুষের শরীরে শুধু উপকারী ব্যাকটেরিয়া দিয়ে চিকিৎসা করে দীর্ঘমেয়াদে একই রকম অবসাদ মুক্তি হয়েছে। যাদের শরীরে এই ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম পরীক্ষার জন্য ফাংশনাল এমআরআই করে দেখা গেছে যে তাদের মস্তিস্ক দুঃখজনক সংবাদে তেমন সাড়া দেয় না। জীবনে তাদের অবসাদগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা কম থাকে। তাদের শরীরে সেরোটোনিন, ডোপামিন, এপিনেফ্রিন, কর্টিসল এর পরিমানে অন্যদের তুলনায় ভিন্ন পরিমানে নিঃসৃত হয়। তাদের দুঃখ সহ্য করার ক্ষমতা, প্রতিকূলতা মোকাবেলা করার ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে বেশি। এই ব্যাকটেরিয়া তাদের শরীরে এন্টি-ডিপ্রেসেন্টে হিসেবে কাজ করে। তাদের আত্মহত্যার প্রবণতা কম। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে মেডিকেল স্টুডেন্ট যারা ভালো ব্যাকটেরিয়া পান করে, তারা মেডিকেলের পরীক্ষার আগে এবং পরে অন্যদের তুলনায় কম স্ট্রেসড থাকে, তাদের শরীরে কম কর্টিসল নিঃসৃত হয়।
(৫)
কোথায় পাবেন এই ভালো ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক এবং প্রিবায়োটিক? এগুলো কিনতেই পাওয়া যায়। জন্মের সময় ভ্যাজাইনাল ডেলিভারির বাচ্চার শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া বেশি থাকে সিজারিয়ান বাচ্চার চেয়ে। কোনো কোনো গবেষণায় প্রমান হয়েছে (যদিও কিছুটা বিতর্কিত) যে সিজারিয়ান বাচ্চার বিষাদগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা বেশি, প্রতিকূলতা মোকাবেলার ক্ষমতা কম, এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। প্রাপ্তবয়স্ক বিবাহিত মানুষের জন্য "ডিপ কিস" বা লালা বিনিময় করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রতি দশ সেকেন্ড ডিপ কিস করলে গড়ে ৮০,০০০,০০০ মুখের ব্যাকটেরিয়া বিনিময় হয়। যারা দিনে কমপক্ষে তার স্বামী/স্ত্রী-র সাথে গড়ে নয় বার দশ সেকেন্ডের অধিক ডিপ কিস করেন, গাট মাইক্রোবায়োম, ভাবনা চিন্তা, দীর্ঘমেয়াদী মানসিকতা প্রায় একই রকম হয়ে যায়। স্বামী-স্ত্রী যারা নিয়মিত ডিপ কিস করেন তাদের ইমিউন রেস্পন্স, ইনফ্লামেটরি রেসপন্স,
________
(১)
বিজ্ঞানের একটি তুলনামূলক নতুন শাখা "সাইকোবায়োটিকস"- আমাদের শরীরে বসবাসরত ব্যাক্টেরিয়া কিভাবে আমাদের মস্তিষ্ককে, আমাদের ভাবনা কে, আমাদের অনুভূতিকে, আমাদের চিন্তা শক্তি কে, আমাদের ব্যক্তিত্ত্বকে, আমাদের সৃজনশীলতাকে নিয়ন্ত্রণ করে- তা গবেষণা হয় এই শাখায়। আমাদের শরীরের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় "প্রোবায়োটিক" আর এই উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে আমাদের শরীরে বাস করতে সহযোগিতা করে "প্রিবায়োটিক"। এখন মনে করা হয় যে আমাদের অন্ত্রে (গাট বা কোলন) যে ব্যাকটেরিয়া থাকে, তারা আমাদের মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করে, এবং এই নিয়ন্ত্রণ অক্ষ কে বলে "গাট-ব্রেন অক্ষ"!
(২)
আমাদের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাকটেরিয়া বাস করে, বেশিভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের শরীরের প্রয়োজনেই। প্রশ্ন হলো, এই ব্যাকটেরিয়া আসে কোথা থেকে? প্রথম আসে জন্মের সময়, মায়ের বার্থ ক্যানাল থেকে। এরপর আস্তে আস্তে খাবারের মাধ্যমে এবং বাহ্যিক পরিবেশ থেকে। প্রায় তিন বছর বয়সে একটি বাচ্চার অন্ত্রে প্রাপ্তবয়স্কের সমান ব্যাকটেরিয়া বসবাস করা শুরু করে। একজন মানুষের অন্ত্রে প্রায় এক হাজার প্রজাতির, মোট ১০০,০০০,০০০,০০০,০০০. ব্যাকটেরিয়া বাস করে। এদেরকে একসঙ্গে আমরা বলি "গাট মাইক্রোবায়োম"..আমাদের এই মাইক্রোবায়োম অনেকাংশেই নির্ধারণ করে আমাদের ইনেট ইম্যুনিটি, আমাদের এলার্জি, অনেক রকম অটোইমিউন ডিজিজ, এবং আমাদের ব্যক্তিত্ব, চেতনা, প্রতীতি, সৃজনশীলতা, ভাবনা, অনুভূতি এবং মনস্তাত্বিকতা। প্রতিদিন এই ব্যাকটেরিয়া পরিবর্তিত হয়- আমাদের খাবারের কারণে, ঔষধের কারণে, অসুখ-বিসুখের কারণে, পরিবেশের কারণে।
(৩)
কিভাবে গাট মাইক্রোবায়োম আমাদের মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করে? সাইকোবায়োটিকস-এর শারীরবৃত্বিয় প্রক্রিয়া কি? আমাদের অন্ত্রে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে তার বেশিরভাগই মূলত এনেরোবিক এবং বহুলাংশে গ্রাম পজিটিভ। এদের শরীরে লাইপোপলিস্যাকারাইড নেই, যেটি আমাদের ইম্যুন সিস্টেম কে উত্তেজিত করে, প্রো-ইনফ্লামেটরি সাইটোকাইন (ইন্টারলিউকিন, টিউমর নেক্রোসিস ফ্যাক্টর) তৈরি করে। গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া এটি করে না। তারা মূলত আমাদের শরীরে ইমিউন মডুলেট করে। আমাদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ল্যাকটোব্যাসিলাস এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত উপকারী হিসেবে পরিচিত। এরা আমাদের শরীরে ইনফ্লামেশন দমন করে, তার প্রমান পাওয়া যায় শরীরের রক্তে কম কর্টিসল এর উপস্থিতি দেখে এবং ইনফ্লামেটরি সাইটোকাইন এর মাত্রা দেখে। যাদের শরীরে এই ব্যাকটেরিয়ার পরিমান কমে যায়, তাদের শরীরে ইনফ্লামেশন বেশি হয়, সি-রিএক্টিভ প্রোটিন বাড়ে, সাইটোকাইন বাড়ে। এই সাইটোকাইন ব্লাড-ব্রেইন ব্যারিয়ার দুর্বল করে দিয়ে সাইটোকাইন মস্তিষ্কে প্রবেশ করায় এবং বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ করে যা আমাদের ব্যবহার, প্রতীতি, মননশীলতা, মেজাজ, ভালোলাগা-খারাপলাগা নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া এরা ভ্যাগাস নার্ভের উপর-ও নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি করে আমাদের মন কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
(৪)
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে একদল বিষণ্ণ মানুষকে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে, আরেকদল বিষণ্ণ মানুষের শরীরে শুধু উপকারী ব্যাকটেরিয়া দিয়ে চিকিৎসা করে দীর্ঘমেয়াদে একই রকম অবসাদ মুক্তি হয়েছে। যাদের শরীরে এই ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম পরীক্ষার জন্য ফাংশনাল এমআরআই করে দেখা গেছে যে তাদের মস্তিস্ক দুঃখজনক সংবাদে তেমন সাড়া দেয় না। জীবনে তাদের অবসাদগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা কম থাকে। তাদের শরীরে সেরোটোনিন, ডোপামিন, এপিনেফ্রিন, কর্টিসল এর পরিমানে অন্যদের তুলনায় ভিন্ন পরিমানে নিঃসৃত হয়। তাদের দুঃখ সহ্য করার ক্ষমতা, প্রতিকূলতা মোকাবেলা করার ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে বেশি। এই ব্যাকটেরিয়া তাদের শরীরে এন্টি-ডিপ্রেসেন্টে হিসেবে কাজ করে। তাদের আত্মহত্যার প্রবণতা কম। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে মেডিকেল স্টুডেন্ট যারা ভালো ব্যাকটেরিয়া পান করে, তারা মেডিকেলের পরীক্ষার আগে এবং পরে অন্যদের তুলনায় কম স্ট্রেসড থাকে, তাদের শরীরে কম কর্টিসল নিঃসৃত হয়।
(৫)
কোথায় পাবেন এই ভালো ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক এবং প্রিবায়োটিক? এগুলো কিনতেই পাওয়া যায়। জন্মের সময় ভ্যাজাইনাল ডেলিভারির বাচ্চার শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া বেশি থাকে সিজারিয়ান বাচ্চার চেয়ে। কোনো কোনো গবেষণায় প্রমান হয়েছে (যদিও কিছুটা বিতর্কিত) যে সিজারিয়ান বাচ্চার বিষাদগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা বেশি, প্রতিকূলতা মোকাবেলার ক্ষমতা কম, এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। প্রাপ্তবয়স্ক বিবাহিত মানুষের জন্য "ডিপ কিস" বা লালা বিনিময় করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রতি দশ সেকেন্ড ডিপ কিস করলে গড়ে ৮০,০০০,০০০ মুখের ব্যাকটেরিয়া বিনিময় হয়। যারা দিনে কমপক্ষে তার স্বামী/স্ত্রী-র সাথে গড়ে নয় বার দশ সেকেন্ডের অধিক ডিপ কিস করেন, গাট মাইক্রোবায়োম, ভাবনা চিন্তা, দীর্ঘমেয়াদী মানসিকতা প্রায় একই রকম হয়ে যায়। স্বামী-স্ত্রী যারা নিয়মিত ডিপ কিস করেন তাদের ইমিউন রেস্পন্স, ইনফ্লামেটরি রেসপন্স,
সাইটোকাইন এবং নিউরোট্রান্সমিটারের মধ্যে অনেক সমতা আছে। জীন ট্রান্সক্রিপশনে "স্পাউজাল ইফেক্ট" বলেও একটি মেকানিজম আছে। যদিও একই পরিবেশে বাস, একই ধরণে খাবার খাওয়া তার ভূমিকাও এখানে রয়েছে। ডিপ কিসিং এর সাথে মনোসুখ এর সমান্তরাল ভূমিকা আছে। মানুষ ছাড়া আরো অন্য কোনো প্রাণী ডিপ কিস প্রাকটিস করে না। কেন তাহলে মানুষ এটা করে? কেন মানুষের মুখ পরিষ্কার রাখতে হয়? কেন মহানবী (সাঃ) বলেছিলেন যে মানুষের খুব কষ্ট না হলে আমি তাদের প্রতি বেলা নামাজের আগে মেছওয়াক করে মুখ পরিষ্কার করতে বলতাম?
(৬)
যদিও ডিপ কিস যৌনতা বা প্রজননের অংশ নয়, তবুও স্বামী-স্ত্রীর শরীরতত্বীয় এবং মানসিক কল্যানে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বল্প-উপলব্ধ। তবে একাধিক মানুষের সাথে ডিপ কিস করলে বিভিন্ন রকম অসুখ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যারা সারা জীবনে ছয়জন বা ততোধিক মানুষের সাথে ডিপ কিস করেছেন, তাদের মুখে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ইনফেশন এবং গলার ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে (ডঃ ম-রা গিলিসন, ২০০৯ এবং ২০১২)- এ কারণে সঙ্গীর সংখ্যা কম হতে হবে। স্বামী-স্ত্রী-র মানসিকতা একই রকম হবার ক্ষেত্রে এই ডিপ কিসিং এবং লালা বিনিময় করা বিজ্ঞানসম্মত। ডিপ কিসিং এর মাধ্যমে ফেরোমোন (এ সম্পর্কে অন্য একদিন বিশদভাবে লিখবো) এর ও আদান প্রদান হয়- যা আমাদের প্রজনন এবং প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে বার্তা বহন করে। আচ্ছা, মহানবী (সাঃ) তার স্ত্রী যে গ্লাসে পানি খেতেন, তিনি কখনো কখনো সেই গ্লাসের স্ত্রীর মুখের ছাপ লেগে থাকা জায়গায় মুখ রেখে পানি পান করতেন। এটি কি তিনি "ভালো ব্যাকটেরিয়া ট্রান্সফার" করার জন্য করতেন, যাতে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর মাইক্রোবায়োম একই হয়, একই মানসিকতার হন দুজনে? তিনি চাইলে এই বিষয়টি গোপন রাখতে পারতেন, কিন্তু তিনি কোনো লজ্জা না করে এটি আমাদের কেন জানিয়ে দিয়েছিলেন দেড় হাজার বছর আগে?
তিনি নিশ্চয়ই এমন কাজ করতেন না- যার পিছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই!
(৭)
যে ব্যাকটেরিয়া আপনি দেখেন না, সেই কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া বাস করে আপনাদের শরীরে, অন্ত্রে। তারা পৃথিবী গড়েছে আমাদের শরীরে আমাদের অজান্তে। শুধু আমাদের একজনের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা-ই সমস্ত পৃথিবীর মানুষের সংখ্যার চেয়ে বেশী! কি করে তারা সেখানে? কি তাদের অভিপ্রায়? কেন তারা ডিপ কিস-এর মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীর যায়? কেন ওরাল সেক্স এ যায় না? ভ্যাজিনাল লাকটোব্যাসিলাস কিন্তু গাট ল্যাকটোব্যাসিলাস থেকে ভিন্ন। ওরাল সেক্সের মাধ্যমের ভ্যাজিনাল লেকটোব্যাসিলাস কিন্তু আমাদের অন্ত্রে বাস করতে পারে না পিএইচ (ক্ষারতা-র ভিন্নতার জন্য)- তাহলে ওরাল সেক্স কি বিজ্ঞানসম্মত, ধর্মসম্মত?
(৮)
নিশ্চয়ই আপনারা এখন ডিপ কিস নিয়ে গবেষণা করবেন, ডিপ কিস প্রাকটিস করবেন।
আপনাদের জন্য কয়েকটা প্রশ্ন করে আজ শেষ করি, এগুলো আপনাদের জন্য উপহার, চিন্তার খোরাক!
আচ্ছা, ভ্যাজাইনাল ফ্লোরা-তে ল্যাকটোব্যাসিলাস কেন থাকে? তারা না থাকলে কি হতো?
আচ্ছা, আপনারা কখনো পার্কিনসন্স রুগীর কোলন ক্যান্সার হতে দেখেছেন? না হলে কেন না?
যারা ডিপ কিসিং প্রাকটিস করেন, তাদের গাট মাইক্রোবায়োম কি ক্যান্সার প্রতিরোধী?
সুখী মানুষদের কি ক্যান্সার কম হয়? বিষাদগ্রস্ত মানুষদের ক্যান্সার কি বেশি হয়?
কারা বেশি বিষাদগ্রস্থ মানুষ: যারা স্রষ্টায় বিশ্বাসী, না যারা অবিশ্বাসী?
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
বাংলা অর্থ: আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। [সূরা রুম: ৩০: ২১ ]
_______________
হামীম ইবনে কাওছার, এমডি, পিএইচডি, এফএসিপি ।
মলিকিউলার মাইক্রোবায়োলজিস্ট । ক্যান্সার ইম্যুনো-বায়োলোজিস্ট ।
মেডিসিন স্পেশালিস্ট । হেমাটোলজিস্ট । মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট ।
ক্যানসাস, যুক্তরাষ্ট্র।
(৬)
যদিও ডিপ কিস যৌনতা বা প্রজননের অংশ নয়, তবুও স্বামী-স্ত্রীর শরীরতত্বীয় এবং মানসিক কল্যানে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বল্প-উপলব্ধ। তবে একাধিক মানুষের সাথে ডিপ কিস করলে বিভিন্ন রকম অসুখ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যারা সারা জীবনে ছয়জন বা ততোধিক মানুষের সাথে ডিপ কিস করেছেন, তাদের মুখে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ইনফেশন এবং গলার ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে (ডঃ ম-রা গিলিসন, ২০০৯ এবং ২০১২)- এ কারণে সঙ্গীর সংখ্যা কম হতে হবে। স্বামী-স্ত্রী-র মানসিকতা একই রকম হবার ক্ষেত্রে এই ডিপ কিসিং এবং লালা বিনিময় করা বিজ্ঞানসম্মত। ডিপ কিসিং এর মাধ্যমে ফেরোমোন (এ সম্পর্কে অন্য একদিন বিশদভাবে লিখবো) এর ও আদান প্রদান হয়- যা আমাদের প্রজনন এবং প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে বার্তা বহন করে। আচ্ছা, মহানবী (সাঃ) তার স্ত্রী যে গ্লাসে পানি খেতেন, তিনি কখনো কখনো সেই গ্লাসের স্ত্রীর মুখের ছাপ লেগে থাকা জায়গায় মুখ রেখে পানি পান করতেন। এটি কি তিনি "ভালো ব্যাকটেরিয়া ট্রান্সফার" করার জন্য করতেন, যাতে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর মাইক্রোবায়োম একই হয়, একই মানসিকতার হন দুজনে? তিনি চাইলে এই বিষয়টি গোপন রাখতে পারতেন, কিন্তু তিনি কোনো লজ্জা না করে এটি আমাদের কেন জানিয়ে দিয়েছিলেন দেড় হাজার বছর আগে?
তিনি নিশ্চয়ই এমন কাজ করতেন না- যার পিছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই!
(৭)
যে ব্যাকটেরিয়া আপনি দেখেন না, সেই কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া বাস করে আপনাদের শরীরে, অন্ত্রে। তারা পৃথিবী গড়েছে আমাদের শরীরে আমাদের অজান্তে। শুধু আমাদের একজনের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা-ই সমস্ত পৃথিবীর মানুষের সংখ্যার চেয়ে বেশী! কি করে তারা সেখানে? কি তাদের অভিপ্রায়? কেন তারা ডিপ কিস-এর মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীর যায়? কেন ওরাল সেক্স এ যায় না? ভ্যাজিনাল লাকটোব্যাসিলাস কিন্তু গাট ল্যাকটোব্যাসিলাস থেকে ভিন্ন। ওরাল সেক্সের মাধ্যমের ভ্যাজিনাল লেকটোব্যাসিলাস কিন্তু আমাদের অন্ত্রে বাস করতে পারে না পিএইচ (ক্ষারতা-র ভিন্নতার জন্য)- তাহলে ওরাল সেক্স কি বিজ্ঞানসম্মত, ধর্মসম্মত?
(৮)
নিশ্চয়ই আপনারা এখন ডিপ কিস নিয়ে গবেষণা করবেন, ডিপ কিস প্রাকটিস করবেন।
আপনাদের জন্য কয়েকটা প্রশ্ন করে আজ শেষ করি, এগুলো আপনাদের জন্য উপহার, চিন্তার খোরাক!
আচ্ছা, ভ্যাজাইনাল ফ্লোরা-তে ল্যাকটোব্যাসিলাস কেন থাকে? তারা না থাকলে কি হতো?
আচ্ছা, আপনারা কখনো পার্কিনসন্স রুগীর কোলন ক্যান্সার হতে দেখেছেন? না হলে কেন না?
যারা ডিপ কিসিং প্রাকটিস করেন, তাদের গাট মাইক্রোবায়োম কি ক্যান্সার প্রতিরোধী?
সুখী মানুষদের কি ক্যান্সার কম হয়? বিষাদগ্রস্ত মানুষদের ক্যান্সার কি বেশি হয়?
কারা বেশি বিষাদগ্রস্থ মানুষ: যারা স্রষ্টায় বিশ্বাসী, না যারা অবিশ্বাসী?
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
বাংলা অর্থ: আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। [সূরা রুম: ৩০: ২১ ]
_______________
হামীম ইবনে কাওছার, এমডি, পিএইচডি, এফএসিপি ।
মলিকিউলার মাইক্রোবায়োলজিস্ট । ক্যান্সার ইম্যুনো-বায়োলোজিস্ট ।
মেডিসিন স্পেশালিস্ট । হেমাটোলজিস্ট । মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট ।
ক্যানসাস, যুক্তরাষ্ট্র।
প্রশ্ন : শিশুকে বুকের দুধ পান করালে মায়ের দিক থেকে উপকার কী?
উত্তর : মায়ের দিক থেকে উপকারটা অনেক বেশি বলা যায়। প্রথম কথা হলো বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর থেকে আমরা জানি, মায়ের জরায়ুটা বড় থাকে। এখানে পুরো বাচ্চাটা ছিল। বের হওয়ার পর কিন্তু সেটি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে হবে। এই দুধ পান করলে খুব দ্রুত সুন্দরভাবে এটি স্বাভাবিক অবস্থায় আসে। আমাদের মস্তিষ্কের কিছু জিনিস রয়েছে, যেটা থেকে মস্তিষ্কে এসে দুধটা তৈরি করে। মস্তিষ্ক থেকে ওই হরমোন বেশি তৈরি হয়, সঙ্গে করে অক্সিটোসিন বা অন্যান্য হরমোন জরায়ুর ওপর কাজ করে। এদের সাধারণত দেখা যায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় না। এ ছাড়া মায়ের নিজের যে একটি তৃপ্তি, মানসিক প্রশান্তি, সেটি যেই পরিমাণ সে পাবে, সেটা অনেক।
জরায়ুর ক্যানসার, স্তন ক্যানসার—এগুলো কিন্তু অনেক কমে যাবে। এগুলোর হার একেবারে নিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে যদি কেউ নিয়মিত ব্রেস্ট ফিডিং করান।
~অধ্যাপক ডা. ফাতেমা পারভীন চৌধুরী।
@[100065722590059:2048:IClinic]
উত্তর : মায়ের দিক থেকে উপকারটা অনেক বেশি বলা যায়। প্রথম কথা হলো বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর থেকে আমরা জানি, মায়ের জরায়ুটা বড় থাকে। এখানে পুরো বাচ্চাটা ছিল। বের হওয়ার পর কিন্তু সেটি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে হবে। এই দুধ পান করলে খুব দ্রুত সুন্দরভাবে এটি স্বাভাবিক অবস্থায় আসে। আমাদের মস্তিষ্কের কিছু জিনিস রয়েছে, যেটা থেকে মস্তিষ্কে এসে দুধটা তৈরি করে। মস্তিষ্ক থেকে ওই হরমোন বেশি তৈরি হয়, সঙ্গে করে অক্সিটোসিন বা অন্যান্য হরমোন জরায়ুর ওপর কাজ করে। এদের সাধারণত দেখা যায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় না। এ ছাড়া মায়ের নিজের যে একটি তৃপ্তি, মানসিক প্রশান্তি, সেটি যেই পরিমাণ সে পাবে, সেটা অনেক।
জরায়ুর ক্যানসার, স্তন ক্যানসার—এগুলো কিন্তু অনেক কমে যাবে। এগুলোর হার একেবারে নিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে যদি কেউ নিয়মিত ব্রেস্ট ফিডিং করান।
~অধ্যাপক ডা. ফাতেমা পারভীন চৌধুরী।
@[100065722590059:2048:IClinic]
সঠিক নিয়মে রক্তচাপ(Blood Pressure) মাপুন:
হঠাৎ যে কোন অবস্থায় রক্তচাপ মাপবেন না।
ধূমপান, মদ্যপানের পর না।
চা,কফি খাবার পর না।
মাপার পূর্বে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নেবেন।
মাপার সময় কথা বলবেন না।
মানসিক অশান্তি ও উত্তেজনার সময় না।
রাগান্বিত বা পরিশ্রমের পর না।
প্রস্রাবের চাপ থাকলে না।
দাঁড়িয়ে মাপবেন না।
কাপড়ের উপর দিয়ে মাপলে সঠিক হবে না।
বেশী গরম বা ঠান্ডা জায়গায় না।
Dr Samir Kumar Kundu, NICVD, Dhaka.
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যে কোন জরুরী অবস্থায় তখন অবস্থা বুঝে রক্তচাপ মাপতে হবে যেমন স্ট্রোক, হৃদরোগে আক্রান্ত, দৃষ্টি শক্তির সমস্যা, কিডনীর সমস্যা ইত্যাদি।এসব ক্ষেত্রে রোগীর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হয়।
নীচের ছবি দেখুন এবং অনুসরণ করুন:
হঠাৎ যে কোন অবস্থায় রক্তচাপ মাপবেন না।
ধূমপান, মদ্যপানের পর না।
চা,কফি খাবার পর না।
মাপার পূর্বে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নেবেন।
মাপার সময় কথা বলবেন না।
মানসিক অশান্তি ও উত্তেজনার সময় না।
রাগান্বিত বা পরিশ্রমের পর না।
প্রস্রাবের চাপ থাকলে না।
দাঁড়িয়ে মাপবেন না।
কাপড়ের উপর দিয়ে মাপলে সঠিক হবে না।
বেশী গরম বা ঠান্ডা জায়গায় না।
Dr Samir Kumar Kundu, NICVD, Dhaka.
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যে কোন জরুরী অবস্থায় তখন অবস্থা বুঝে রক্তচাপ মাপতে হবে যেমন স্ট্রোক, হৃদরোগে আক্রান্ত, দৃষ্টি শক্তির সমস্যা, কিডনীর সমস্যা ইত্যাদি।এসব ক্ষেত্রে রোগীর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হয়।
নীচের ছবি দেখুন এবং অনুসরণ করুন:
👍1
ব্লেড, ক্ষুর বা কাঁচি দ্বারা অবাঞ্ছিত লোম বা পশম পরিস্কার করা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য জায়েয। অনুরূপভাবে হেয়ার রিমুভার জাতীয় ক্যামিক্যাল দ্বারা পরিস্কার করাতেও শরীয়তের কোন বাধা নেই। তবে পুরুষের জন্য চেঁছে ফেলা এবং মহিলাদের জন্য উপড়িয়ে ফেলা মুস্তাহাব। (কিতাবুল ফিকহ আ’লাল মাযাহিবিল আরবাআ’ ২/৪৫)
‘অস্ত্রোপচার কক্ষে তখন অস্ত্রোপচার চলছিল। অনেকেই ছিলেন। কিন্তু আমি ছিলাম সেখানে সর্বকনিষ্ঠ চিকিৎসক। সেই সময় অস্ত্রোপচার করতে করতে একজন জ্যেষ্ঠ পুরুষ সার্জন ঘামছিলেন। আচমকাই তিনি ঘুরে দাঁড়ালেন এবং আমার বুকে মাথা গুঁজে দিলেন। এরপর তিনি তাঁর ভুরু আমার বুকে ঘষতে লাগলেন। আমি পুরো বরফ হয়ে গেলাম। ভাবলাম, তাঁর মুখ কেন আমার বুকে?
দ্বিতীয়বারও ওই সার্জন এমনটি করলে জুডিথ তাঁকে একটি তোয়ালে দিতে চান। কিন্তু জবাবে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘না না, বরং এটা বেশ মজার।’
জুডিথ বলছিলেন, ‘আমার নিজেকে নোংরা লাগছিল। অপমানিত বোধ করছিলাম। আরও বেশি খারাপ লেগেছিল, অন্য সহকর্মীরা কেউ এ নিয়ে কিছু বললেন না।’
জুডিথ এখন যুক্তরাজ্যের একজন অভিজ্ঞ ও মেধাবী কনসালট্যান্ট–সার্জন। কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথম দিকেই তিনি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা তাঁর জন্য খুবই অস্বস্তিকর ছিল। তারপরও তিনি বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন।
জুডিথ বলেন, ওই চিকিৎসকের চেয়ে বড় কেউ সেখানে ছিলেন না। কিন্তু তিনি (অসদাচরণকারী) জানতেন, এ ধরনের আচরণে কিছু যাবে–আসবে না। অস্ত্রোপচার কক্ষে জুডিথের সঙ্গে এমনটা হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা ছিল আরও ব্যাপক।
অ্যানি (ছদ্মনাম) নিজের অভিজ্ঞতা বিবিসির সঙ্গে ভাগ করে নেন। তিনি মনে করেন, ভুক্তভোগীরা মুখ খুললেই পরিবর্তন আসবে। তাঁর সঙ্গে যা হয়েছে, এটিকে তিনি ধর্ষণ বলতে চান না। আবার তাঁর সঙ্গে যা হয়েছে, তা তাঁর সম্মতিতে হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছিল একটি সম্মেলনে। সেখানে একই ধরনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা ছিলেন। অ্যানি ছিলেন একজন ট্রেইনি আর ওই ব্যক্তি ছিলেন কনসালট্যান্ট।
অ্যানি বলেন, ‘তাঁর প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল। আর সেই দৃষ্টিতেই আমি তাঁর দিকে তাকিয়েছিলাম। ওই ব্যক্তি এই বিশ্বাসের সুযোগই নিয়েছেন। কারণ, আমি সেখানে কাউকে চিনতাম না। তাই আমি যেখানে উঠেছিলাম, তিনি সেখানে এসেছিলেন। আমি ভাবলাম, তিনি হয়তো আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। হঠাৎ তিনি আমাকে জাপটে ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
আমার মাথা কাজ করছিল না, জমে যাই। আমি তাঁকে থামাতে পারছিলাম না। আমি এমনটা কোনো দিন কল্পনাও করিনি, এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। পরদিন যখন তাঁকে আবার দেখি, আমি কোনোরকমে নিজেকে ধরে রেখেছিলাম।’
অ্যানি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, এ নিয়ে হইচই করে লাভ হবে না। কারণ, আমার সঙ্গে যা হয়েছে, এটি এখানে গা–সহা বিষয় হয়ে গেছে। কিন্তু এ ঘটনা আমার জীবনে দীর্ঘ প্রভাব রেখে গেছে। প্রথমে ওই ঘটনা আমাকে অসাড় করে দিয়েছিল। পরে এটি আমার জীবনে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হয়ে আসে। কর্মক্ষেত্রে, এমনকি কোনো রোগীকে প্রস্তুত করতে গেলেও এই স্মৃতি আমার মনে হানা দিত।’
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) কর্মীদের ওপর করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে অস্ত্রোপচার কক্ষে পুরুষ সার্জনদের হাতে নারী সার্জনরা যৌন হয়রানির শিকার হন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
বিবিসি নিউজ এমন হয়রানির শিকার বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলেছে। গবেষকেরা বলেন, জ্যেষ্ঠ পুরুষ সার্জনদের হাতে শিক্ষানবিশ নারী সার্জনদের যৌন হয়রানির একটি ধারা রয়েছে। এনএইচএসের হাসপাতালগুলোয় এখনো এমন হচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার, ইউনিভার্সিটি অব সারে, ওয়ার্কিং পার্টি অব সেক্সুয়াল মিসকন্ডাক্ট ইন সার্জারি (ডব্লিউপিএসএমএস) যৌথভাবে এই গবেষণা করেছে। গবেষকেরা এই গবেষণা প্রতিবেদন বিবিসির সঙ্গে শেয়ার করেছেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে যৌন হয়রানি, যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণকে সার্জারির ‘ওপেন সিক্রেট’ বলে উল্লেখ করা হয়। দ্য রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস জানায়, গবেষণায় যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তা ‘সত্যিই বেদনাদায়ক’।
গবেষণায় অংশ নেওয়া নারী সার্জনদের তিন ভাগের প্রায় দুই ভাগই বলেছেন, তাঁদের টার্গেট করে যৌন হয়রানি করা হয়। এক-তৃতীয়াংশ নারী সার্জন জানিয়েছেন, তাঁরা গত পাঁচ বছরে সহকর্মীদের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
গবেষণায় অংশ নেওয়া নারী সার্জনরা জানান, হয়রানির এ ঘটনা প্রকাশ করলে হয়তো তাঁদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে। এমনকি এটা জানানোর পর এনএইচএস ব্যবস্থা নেবে—এমন আস্থা ছিল না তাঁদের।
সার্জনদের প্রতি আস্থায় নাড়া পড়েছে
এ ধরনের আচরণের পরও চারপাশের সবাই চুপ থাকবেন—এটাই এখানে অকথিতভাবে স্বীকৃত। অস্ত্রোপচার কক্ষে জ্যেষ্ঠ সার্জনদের কাছ থেকে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ নেন শিক্ষানবিশ সার্জনরা। গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারের কথা ভেবে ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালী চিকিৎসকদের বিষয়ে মুখ খোলা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রিটিশ জার্নাল অব সার্জারি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নারী সার্জনরা কিসের মধ্য দিয়ে যান, তা বুঝতে এই প্রতিবেদন প্রথম পদক্ষেপ।
দ্বিতীয়বারও ওই সার্জন এমনটি করলে জুডিথ তাঁকে একটি তোয়ালে দিতে চান। কিন্তু জবাবে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘না না, বরং এটা বেশ মজার।’
জুডিথ বলছিলেন, ‘আমার নিজেকে নোংরা লাগছিল। অপমানিত বোধ করছিলাম। আরও বেশি খারাপ লেগেছিল, অন্য সহকর্মীরা কেউ এ নিয়ে কিছু বললেন না।’
জুডিথ এখন যুক্তরাজ্যের একজন অভিজ্ঞ ও মেধাবী কনসালট্যান্ট–সার্জন। কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথম দিকেই তিনি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা তাঁর জন্য খুবই অস্বস্তিকর ছিল। তারপরও তিনি বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন।
জুডিথ বলেন, ওই চিকিৎসকের চেয়ে বড় কেউ সেখানে ছিলেন না। কিন্তু তিনি (অসদাচরণকারী) জানতেন, এ ধরনের আচরণে কিছু যাবে–আসবে না। অস্ত্রোপচার কক্ষে জুডিথের সঙ্গে এমনটা হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা ছিল আরও ব্যাপক।
অ্যানি (ছদ্মনাম) নিজের অভিজ্ঞতা বিবিসির সঙ্গে ভাগ করে নেন। তিনি মনে করেন, ভুক্তভোগীরা মুখ খুললেই পরিবর্তন আসবে। তাঁর সঙ্গে যা হয়েছে, এটিকে তিনি ধর্ষণ বলতে চান না। আবার তাঁর সঙ্গে যা হয়েছে, তা তাঁর সম্মতিতে হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছিল একটি সম্মেলনে। সেখানে একই ধরনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা ছিলেন। অ্যানি ছিলেন একজন ট্রেইনি আর ওই ব্যক্তি ছিলেন কনসালট্যান্ট।
অ্যানি বলেন, ‘তাঁর প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল। আর সেই দৃষ্টিতেই আমি তাঁর দিকে তাকিয়েছিলাম। ওই ব্যক্তি এই বিশ্বাসের সুযোগই নিয়েছেন। কারণ, আমি সেখানে কাউকে চিনতাম না। তাই আমি যেখানে উঠেছিলাম, তিনি সেখানে এসেছিলেন। আমি ভাবলাম, তিনি হয়তো আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। হঠাৎ তিনি আমাকে জাপটে ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
আমার মাথা কাজ করছিল না, জমে যাই। আমি তাঁকে থামাতে পারছিলাম না। আমি এমনটা কোনো দিন কল্পনাও করিনি, এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। পরদিন যখন তাঁকে আবার দেখি, আমি কোনোরকমে নিজেকে ধরে রেখেছিলাম।’
অ্যানি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, এ নিয়ে হইচই করে লাভ হবে না। কারণ, আমার সঙ্গে যা হয়েছে, এটি এখানে গা–সহা বিষয় হয়ে গেছে। কিন্তু এ ঘটনা আমার জীবনে দীর্ঘ প্রভাব রেখে গেছে। প্রথমে ওই ঘটনা আমাকে অসাড় করে দিয়েছিল। পরে এটি আমার জীবনে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হয়ে আসে। কর্মক্ষেত্রে, এমনকি কোনো রোগীকে প্রস্তুত করতে গেলেও এই স্মৃতি আমার মনে হানা দিত।’
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) কর্মীদের ওপর করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে অস্ত্রোপচার কক্ষে পুরুষ সার্জনদের হাতে নারী সার্জনরা যৌন হয়রানির শিকার হন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
বিবিসি নিউজ এমন হয়রানির শিকার বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলেছে। গবেষকেরা বলেন, জ্যেষ্ঠ পুরুষ সার্জনদের হাতে শিক্ষানবিশ নারী সার্জনদের যৌন হয়রানির একটি ধারা রয়েছে। এনএইচএসের হাসপাতালগুলোয় এখনো এমন হচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার, ইউনিভার্সিটি অব সারে, ওয়ার্কিং পার্টি অব সেক্সুয়াল মিসকন্ডাক্ট ইন সার্জারি (ডব্লিউপিএসএমএস) যৌথভাবে এই গবেষণা করেছে। গবেষকেরা এই গবেষণা প্রতিবেদন বিবিসির সঙ্গে শেয়ার করেছেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে যৌন হয়রানি, যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণকে সার্জারির ‘ওপেন সিক্রেট’ বলে উল্লেখ করা হয়। দ্য রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস জানায়, গবেষণায় যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তা ‘সত্যিই বেদনাদায়ক’।
গবেষণায় অংশ নেওয়া নারী সার্জনদের তিন ভাগের প্রায় দুই ভাগই বলেছেন, তাঁদের টার্গেট করে যৌন হয়রানি করা হয়। এক-তৃতীয়াংশ নারী সার্জন জানিয়েছেন, তাঁরা গত পাঁচ বছরে সহকর্মীদের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
গবেষণায় অংশ নেওয়া নারী সার্জনরা জানান, হয়রানির এ ঘটনা প্রকাশ করলে হয়তো তাঁদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে। এমনকি এটা জানানোর পর এনএইচএস ব্যবস্থা নেবে—এমন আস্থা ছিল না তাঁদের।
সার্জনদের প্রতি আস্থায় নাড়া পড়েছে
এ ধরনের আচরণের পরও চারপাশের সবাই চুপ থাকবেন—এটাই এখানে অকথিতভাবে স্বীকৃত। অস্ত্রোপচার কক্ষে জ্যেষ্ঠ সার্জনদের কাছ থেকে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ নেন শিক্ষানবিশ সার্জনরা। গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারের কথা ভেবে ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালী চিকিৎসকদের বিষয়ে মুখ খোলা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রিটিশ জার্নাল অব সার্জারি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নারী সার্জনরা কিসের মধ্য দিয়ে যান, তা বুঝতে এই প্রতিবেদন প্রথম পদক্ষেপ।
গবেষণায় নিবন্ধিত ১ হাজার ৪৩৪ সার্জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে অর্ধেকই নারী। এতে বলা হয়, ৬৩ ভাগ নারী জানিয়েছেন, তাঁরা সহকর্মীদের দ্বারা যৌন হয়রানির টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। ৩০ ভাগ নারী জানিয়েছেন, তাঁরা সহকর্মীর হাতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ১১ ভাগ নারী বলেছেন, ক্যারিয়ারের স্বার্থে তাঁরা বাধ্য হয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। ৯০ ভাগ নারী এবং ৮১ ভাগ পুরুষ যৌন অসদাচরণ স্বচক্ষে দেখেছেন বলে জরিপে স্বীকার করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষেরাও এ ধরনের নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ। প্রতিবেদনটির শেষ দিকে বলা হয়, নারী ও পুরুষ সার্জনরা ‘ভিন্ন বাস্তবতায় বাস করেন’।
ভুক্তভোগী নারীরা গবেষকদের বলেছেন, ক্যারিয়ারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় এ বিষয়ে অভিযোগ করার সাহস পাননি তাঁরা। এ ছাড়া অভিযোগ করলেই যে এনএইচএস কোনো ব্যবস্থা নেবে, তাতেও তাঁদের খুব একটা আস্থা ছিল না।
এক্সেটার ইউনিভার্সিটির চিকিৎসক ক্রিস্টোফার বেগেনি বলেন, গবেষণায় উঠে আসা ফলাফল সার্জারি পেশা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
ইতিমধ্যে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ নামে দ্বিতীয় আরেকটি প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যসেবা খাতে যৌন অসদাচরণ ঠেকাতে কী করণীয়, সে সম্পর্কে সুপারিশ করা হয়েছে।
দুটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্জনদের মধ্যে মাত্র ২৮ শতাংশ নারী। সার্জারিতে অনুক্রম (হিয়ারারকি) খুব গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলা হয়। এতে পুরুষ চিকিৎসকেরা বেশ ক্ষমতাবান থাকেন। এর বাইরে সার্জারি বিভাগে কাজের চাপও অনেক বেশি থাকে।
ইউনিভার্সিটি অব সারের অধ্যাপক ক্যারি নিউল্যান্ড বলেন, এসব কারণে এমন আচরণের পরও পুরুষ চিকিৎসকেরা পার পেয়ে যান। এ কারণে এমন ঘটনা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটছে।
এই নারী চিকিৎসক বলেন, জুনিয়র নারী সার্জনরা প্রায়ই পুরুষ সহকর্মীদের হাতে এমন যৌন নির্যাতনের শিকার হন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওই পুরুষ সহকর্মী সিনিয়র এবং তাঁদের সুপারভাইজর হয়ে থাকেন। ফলে ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে চুপ থাকার একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক
এ গবেষণায় আরেকটি জিনিস সামনে উঠে এসেছে। আর তা হচ্ছে, এনএইচএস ট্রাস্টস, দ্য জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিল (চিকিৎসকদের অনুশীলন করার জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধনের বিষয়টি দেখভাল করে) এবং দ্য রয়্যাল কলেজ অব সার্জনসের (মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ) প্রতি আস্থাহীনতা।
ইউনিভার্সিটি অব সারের কনসালট্যান্ট সার্জন ক্যারি নিউল্যান্ডস বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ করে তুলতে আমাদের তদন্তপ্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনা দরকার, যাতে ভুক্তভোগীরা এসব ঘটনা প্রকাশ করতে সাহসী হয়ে উঠতে পারে।’
ইংল্যান্ডের দ্য রয়্যাল কলেজ অব সার্জনসের প্রেসিডেন্ট টিম মিচেল বিবিসিকে বলেন, গবেষণার ফল খুবই বেদনাদায়ক এবং সার্জিকেল পেশার জন্য খুবই বিব্রতকর। তিনি স্বীকার করেন, ‘হরহামেশা ঘটে থাকা এ ধরনের আচরণ’ আগে কখনো আমলে নেওয়া হয়নি।
মিচেল বলেন, কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের আচরণের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’–এর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীরা যাতে তাঁদের সমস্যার কথা বলার মতো পরিবেশ পান, সে আস্থা তৈরি করতে হবে।
এনএইচএস ইংল্যান্ডের চিকিৎসক বিন্তা সুলতান বলেন, এই গবেষণা প্রতিবেদন ‘পড়া সত্যি কঠিন’। হাসপাতালগুলোকে ‘সবার জন্য নিরাপদ’ করতে আরও পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল, প্রতিবেদনে তার ‘স্পষ্ট প্রমাণ’ রয়েছে।
জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিল গত মাসে চিকিৎসকদের পেশাগত মানদণ্ড হালনাগাদ করেছে। কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী চার্লি ম্যাসি বলেন, রোগী বা চিকিৎসক, কারও প্রতি অগ্রহণযোগ্য যৌন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে এটি বেমানান।
*** ফুটনোট: যারা পশ্চিমের আধুনিকতা/ মডার্নিটি, পুঁজিবাদ ও ভোগবাদী চাকচিক্যময় সমাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আমাদের সমাজকেও তাদের মতো করে সাজাতে চান—তারা এইসব মূল্যবোধের হাত ধরে পশ্চিমা সমাজ যে নৈতিক অধ:পতনের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে—তার সম্মুখীন হবার প্রস্তুতিও নিতে পারেন।
পশ্চিমে আইন-শৃঙ্ক্ষলার এত কার্যকারিতা থাকা স্বত্তেও যেখানে অহরহ নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটছে—সেখানে আমাদের দেশের মতো অকার্যকর বিচারব্যবস্থা বজায় থাকার মাঝেই যদি পশ্চিমা মূলবোধগুলোর প্রয়োগ করা হয়—তা যে কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে—সেটা বেশ সহজেই অনুমেয়। ইতোমধ্যেই আমরা দেশে তার নজির দেখেছি বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন সময়ে।
*** সম্প্রতি 'প্রথম আলো' পত্রিকায় 'অস্ত্রোপচার কক্ষেও পুরুষ সহকর্মীর কাছে নিরাপদ নন নারী সার্জনরা' শীর্ষক শিরোনামে বিবিসি'র এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
(মূল প্রতিবেদনের লিংক দেখুন কমেন্টে।)
©সিয়ান
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষেরাও এ ধরনের নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ। প্রতিবেদনটির শেষ দিকে বলা হয়, নারী ও পুরুষ সার্জনরা ‘ভিন্ন বাস্তবতায় বাস করেন’।
ভুক্তভোগী নারীরা গবেষকদের বলেছেন, ক্যারিয়ারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় এ বিষয়ে অভিযোগ করার সাহস পাননি তাঁরা। এ ছাড়া অভিযোগ করলেই যে এনএইচএস কোনো ব্যবস্থা নেবে, তাতেও তাঁদের খুব একটা আস্থা ছিল না।
এক্সেটার ইউনিভার্সিটির চিকিৎসক ক্রিস্টোফার বেগেনি বলেন, গবেষণায় উঠে আসা ফলাফল সার্জারি পেশা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
ইতিমধ্যে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ নামে দ্বিতীয় আরেকটি প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যসেবা খাতে যৌন অসদাচরণ ঠেকাতে কী করণীয়, সে সম্পর্কে সুপারিশ করা হয়েছে।
দুটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্জনদের মধ্যে মাত্র ২৮ শতাংশ নারী। সার্জারিতে অনুক্রম (হিয়ারারকি) খুব গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলা হয়। এতে পুরুষ চিকিৎসকেরা বেশ ক্ষমতাবান থাকেন। এর বাইরে সার্জারি বিভাগে কাজের চাপও অনেক বেশি থাকে।
ইউনিভার্সিটি অব সারের অধ্যাপক ক্যারি নিউল্যান্ড বলেন, এসব কারণে এমন আচরণের পরও পুরুষ চিকিৎসকেরা পার পেয়ে যান। এ কারণে এমন ঘটনা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটছে।
এই নারী চিকিৎসক বলেন, জুনিয়র নারী সার্জনরা প্রায়ই পুরুষ সহকর্মীদের হাতে এমন যৌন নির্যাতনের শিকার হন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওই পুরুষ সহকর্মী সিনিয়র এবং তাঁদের সুপারভাইজর হয়ে থাকেন। ফলে ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে চুপ থাকার একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক
এ গবেষণায় আরেকটি জিনিস সামনে উঠে এসেছে। আর তা হচ্ছে, এনএইচএস ট্রাস্টস, দ্য জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিল (চিকিৎসকদের অনুশীলন করার জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধনের বিষয়টি দেখভাল করে) এবং দ্য রয়্যাল কলেজ অব সার্জনসের (মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ) প্রতি আস্থাহীনতা।
ইউনিভার্সিটি অব সারের কনসালট্যান্ট সার্জন ক্যারি নিউল্যান্ডস বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ করে তুলতে আমাদের তদন্তপ্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনা দরকার, যাতে ভুক্তভোগীরা এসব ঘটনা প্রকাশ করতে সাহসী হয়ে উঠতে পারে।’
ইংল্যান্ডের দ্য রয়্যাল কলেজ অব সার্জনসের প্রেসিডেন্ট টিম মিচেল বিবিসিকে বলেন, গবেষণার ফল খুবই বেদনাদায়ক এবং সার্জিকেল পেশার জন্য খুবই বিব্রতকর। তিনি স্বীকার করেন, ‘হরহামেশা ঘটে থাকা এ ধরনের আচরণ’ আগে কখনো আমলে নেওয়া হয়নি।
মিচেল বলেন, কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের আচরণের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’–এর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীরা যাতে তাঁদের সমস্যার কথা বলার মতো পরিবেশ পান, সে আস্থা তৈরি করতে হবে।
এনএইচএস ইংল্যান্ডের চিকিৎসক বিন্তা সুলতান বলেন, এই গবেষণা প্রতিবেদন ‘পড়া সত্যি কঠিন’। হাসপাতালগুলোকে ‘সবার জন্য নিরাপদ’ করতে আরও পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল, প্রতিবেদনে তার ‘স্পষ্ট প্রমাণ’ রয়েছে।
জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিল গত মাসে চিকিৎসকদের পেশাগত মানদণ্ড হালনাগাদ করেছে। কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী চার্লি ম্যাসি বলেন, রোগী বা চিকিৎসক, কারও প্রতি অগ্রহণযোগ্য যৌন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে এটি বেমানান।
*** ফুটনোট: যারা পশ্চিমের আধুনিকতা/ মডার্নিটি, পুঁজিবাদ ও ভোগবাদী চাকচিক্যময় সমাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আমাদের সমাজকেও তাদের মতো করে সাজাতে চান—তারা এইসব মূল্যবোধের হাত ধরে পশ্চিমা সমাজ যে নৈতিক অধ:পতনের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে—তার সম্মুখীন হবার প্রস্তুতিও নিতে পারেন।
পশ্চিমে আইন-শৃঙ্ক্ষলার এত কার্যকারিতা থাকা স্বত্তেও যেখানে অহরহ নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটছে—সেখানে আমাদের দেশের মতো অকার্যকর বিচারব্যবস্থা বজায় থাকার মাঝেই যদি পশ্চিমা মূলবোধগুলোর প্রয়োগ করা হয়—তা যে কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে—সেটা বেশ সহজেই অনুমেয়। ইতোমধ্যেই আমরা দেশে তার নজির দেখেছি বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন সময়ে।
*** সম্প্রতি 'প্রথম আলো' পত্রিকায় 'অস্ত্রোপচার কক্ষেও পুরুষ সহকর্মীর কাছে নিরাপদ নন নারী সার্জনরা' শীর্ষক শিরোনামে বিবিসি'র এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
(মূল প্রতিবেদনের লিংক দেখুন কমেন্টে।)
©সিয়ান
"বান্দা যখন এমনভাবে
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁর-ই, তাঁর-ই সকল প্রশংসা, তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান'
-
(এই যিকরটি) পড়ে যে তার রূহ এর প্রতি আন্তরিক হয়, তার অন্তর ও জবান একে সত্যায়িত করে,
তখন তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে যায়, যে (এভাবে এই যিকর) পাঠ করেছে আল্লাহ তার দিকে দৃষ্টিপাত করেন।
আর আল্লাহ যেই বান্দার দিকে দৃষ্টিপাত করেন তার চাওয়া পূর্ণ হওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়।"
.
~ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
.
.
[ ইমাম নাসাঈ (রাহ.), আস সুনানুল কুবরা, হা: ৯৭৭২, শাইখ আলবানীর (রাহ.) মতে সহিহ- কালিমাতুল ইখলাস, পৃ: ৬১] p: 75
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁর-ই, তাঁর-ই সকল প্রশংসা, তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান'
-
(এই যিকরটি) পড়ে যে তার রূহ এর প্রতি আন্তরিক হয়, তার অন্তর ও জবান একে সত্যায়িত করে,
তখন তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে যায়, যে (এভাবে এই যিকর) পাঠ করেছে আল্লাহ তার দিকে দৃষ্টিপাত করেন।
আর আল্লাহ যেই বান্দার দিকে দৃষ্টিপাত করেন তার চাওয়া পূর্ণ হওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়।"
.
~ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
.
.
[ ইমাম নাসাঈ (রাহ.), আস সুনানুল কুবরা, হা: ৯৭৭২, শাইখ আলবানীর (রাহ.) মতে সহিহ- কালিমাতুল ইখলাস, পৃ: ৬১] p: 75