এছাড়াও লিবিয়া, ইয়ামেন ও সোমালিয়ায় পশ্চিমা জোট যুদ্ধ পরিচালনা করেছে ৷ প্রতিটি যুদ্ধে ন্যাটোর নের্তৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী অংশ নিয়েছে ৷ হাদিসের ভাষায়- খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্র হয়, অচিরেই বিজাতিরা তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই একত্রিত হবে। বাস্তবে তাই হচ্ছে, মুসলিমরা বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্বেও প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্যাতিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, বিতাড়িত ও নিজেদের ভূমিতেই আজ পরাধীন ও বাচ্যুস্তুত ৷ এগুলো থেকে উত্তরণের উপায় হচ্ছে- সেই তাওহীদ ও ঈমানের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া যেই তাওহীদ ও ঈমানের উপর ভিত্তি করে সাহাবাগণ অর্ধ্ব-পৃথিবী জয় করেছিলো ৷
আর যদি আমরা সেই তাওহীদ ও ঈমান আমল পালনে ব্যর্থ হই! তবে প্রকৃত দ্বীনে প্রত্যাবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত এভাবেই লাঞ্ছনা, যিল্লতি ও পরাধীনতার চাদরে আবৃত থাকতে হবে আর কাফেররা মুসলিমদের উপর কর্তৃত্ব করতেই থাকবে ৷ এটাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ভবিষ্যদ্বাণী, তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেছেন-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا تَبَايَعْتُمْ بِالْعِينَةِ وَأَخَذْتُمْ أَذْنَابَ الْبَقَرِ وَرَضِيتُمْ بِالزَّرْعِ وَتَرَكْتُمُ الْجِهَادَ سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ ذُلاًّ لاَ يَنْزِعُهُ حَتَّى تَرْجِعُوا إِلَى دِينِكُمْ .
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ যখন তোমরা ঈনা পদ্ধতিতে ব্যবসা করবে, গরুর লেজ আঁকড়ে ধরবে, কৃষিকাজেই সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ ছেড়ে দিবে তখন আল্লাহ তোমাদের উপর লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দিবেন। তোমরা তোমাদের দ্বীনে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদেরকে এই অপমান থেকে মুক্তি দিবেন না ৷ (আবু দাউদ, হা/৩৪৬২, সহীহ)
আর নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন ও উন্নয়নের জন্য নিজেদেরই চেষ্টা ও জিহাদ করতে হবে ৷ অন্যরা এসে ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়ে যাবে না ৷ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন-
إِنَّ اللّهَ لاَ يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلاَ مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ
আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। (আর রা'দ: ১১)
https://t.me/alolpath
আর যদি আমরা সেই তাওহীদ ও ঈমান আমল পালনে ব্যর্থ হই! তবে প্রকৃত দ্বীনে প্রত্যাবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত এভাবেই লাঞ্ছনা, যিল্লতি ও পরাধীনতার চাদরে আবৃত থাকতে হবে আর কাফেররা মুসলিমদের উপর কর্তৃত্ব করতেই থাকবে ৷ এটাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ভবিষ্যদ্বাণী, তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেছেন-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا تَبَايَعْتُمْ بِالْعِينَةِ وَأَخَذْتُمْ أَذْنَابَ الْبَقَرِ وَرَضِيتُمْ بِالزَّرْعِ وَتَرَكْتُمُ الْجِهَادَ سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ ذُلاًّ لاَ يَنْزِعُهُ حَتَّى تَرْجِعُوا إِلَى دِينِكُمْ .
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ যখন তোমরা ঈনা পদ্ধতিতে ব্যবসা করবে, গরুর লেজ আঁকড়ে ধরবে, কৃষিকাজেই সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ ছেড়ে দিবে তখন আল্লাহ তোমাদের উপর লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দিবেন। তোমরা তোমাদের দ্বীনে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদেরকে এই অপমান থেকে মুক্তি দিবেন না ৷ (আবু দাউদ, হা/৩৪৬২, সহীহ)
আর নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন ও উন্নয়নের জন্য নিজেদেরই চেষ্টা ও জিহাদ করতে হবে ৷ অন্যরা এসে ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়ে যাবে না ৷ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন-
إِنَّ اللّهَ لاَ يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلاَ مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ
আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। (আর রা'দ: ১১)
https://t.me/alolpath
Telegram
আলোর পথ
আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সা.) প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী মানুষের সার্বিক জীবনের পূর্ণ বিন্যাস করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
Media is too big
VIEW IN TELEGRAM
ইনশাআল্লাহ! বাংলাদেশ একদিন খিলাফতের কেন্দ্রবিন্দু হবে!
- মুহতারাম সিরাজুল হক।
আমীর, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান।
- মুহতারাম সিরাজুল হক।
আমীর, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান।
❤11
>>>ব্রেকিং<<<
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশ থেকে বিএনপিসহ বিরোধীদলের ডাকা সকল কর্মসূচীতে একাত্মতা ঘোষণা করলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশ থেকে বিএনপিসহ বিরোধীদলের ডাকা সকল কর্মসূচীতে একাত্মতা ঘোষণা করলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
❤11
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি হাসিনার অনুগত পুলিশলীগের নূন্যতম দয়া-মায়া না থাকলেও পুলিশের প্রতি বিরোধীদলীয় কর্মীদের সহমর্মিতা এই ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট।
গত ২৮ অক্টোবর, ২০২৩ এ নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশে হামলা চালিয়ে এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছিল দুই পুলিশ সদস্য। এইসময় পুলিশের এক সদস্য হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে টেনে তুলছে আটককৃত ঐ বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী।
গত ২৮ অক্টোবর, ২০২৩ এ নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশে হামলা চালিয়ে এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছিল দুই পুলিশ সদস্য। এইসময় পুলিশের এক সদস্য হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে টেনে তুলছে আটককৃত ঐ বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী।
❤11
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
এখন দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একই কাতারে আসতে হবে : ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ
❤11
আলোর পথ
সৎ নেতৃত্বের গুরুত্ব: ১. অসৎ লোক এখানে সৎ হতে বাধ্য। ২. সততা, ন্যায়, নীতি, এবং কল্যাণকর কার্যক্রম সুন্দর ও সুচার রূপে বাস্তবায়িত হয়ে সমাজ সুন্দরের পরশে বিকশিত ও প্রস্ফুটিত হয়। ৩. অন্যায়, অনাচার, পাপাচার ,এখানে বিকাশ লাভ করতে পারে না।
অসৎ নেতৃত্বের কুফল:
১. সততা, ন্যায়, নীতি, ও কল্যাণ সমাজ হতে বিদায় নেয়।
২. পাপাচার, অনাচার, অন্যায়, দুর্নীতি, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
৩. সৎ ভাবে চলতে চাইলেও চলা যায় না।
১. সততা, ন্যায়, নীতি, ও কল্যাণ সমাজ হতে বিদায় নেয়।
২. পাপাচার, অনাচার, অন্যায়, দুর্নীতি, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
৩. সৎ ভাবে চলতে চাইলেও চলা যায় না।
😢8
ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবতাঃ
عن عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ، وَهْوَ فِي قُبَّةٍ مِنْ أَدَمٍ فَقَالَ اعْدُدْ سِتًّا بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ، مَوْتِي، ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، ثُمَّ مُوتَانٌ يَأْخُذُ فِيكُمْ كَقُعَاصِ الْغَنَمِ.
আউফ ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি তাবুক যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আসলাম ৷ তখন তিনি একটি চামড়ার তৈরী তাঁবুতে ছিলেন। তারপর তিনি বললেনঃ কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মাকদিস বিজয় ৷ অতঃপর ছাগলের মহামারীর ন্যায় তোমাদের মাঝে ব্যাপক মৃত্যু ঘটবে ৷ (সহিহ বুখারী, হা/৩১৭৬)
ইবনে মাজাহ এর বর্ণনায় রয়েছে—
يَا عَوْفُ احْفَظْ خِلاَلاً سِتًّا بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ إِحْدَاهُنَّ مَوْتِي . قَالَ فَوَجَمْتُ عِنْدَهَا وَجْمَةً شَدِيدَةً . فَقَالَ: قُلْ إِحْدَى ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ دَاءٌ يَظْهَرُ فِيكُمْ يَسْتَشْهِدُ اللَّهُ بِهِ ذَرَارِيَّكُمْ وَأَنْفُسَكُمْ وَيُزَكِّي بِهِ أَمْوَالَكُمْ.
হে আওফ! ভেতরে এসো। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি সম্পূর্ণ প্রবেশ করবো ? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, সম্পূর্ণভাবে এসো ৷ অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আওফ! কিয়ামতের পূর্বকার ছয়টি আলামত স্বরণ রাখবে। সেগুলোর একটি হচ্ছে আমার মৃত্যু ৷ আওফ (রাঃ) বলেনঃ আমি একথায় অত্যন্ত মর্মাহত হলাম ৷ তিনি বলেনঃ তুমি বল, প্রথমটি ৷ অতঃপর বাইতুল মাকদিস বিজয় ৷ অতঃপর তোমাদের মধ্যে এক মহামারী ছড়িয়ে পড়বে, যদ্দ্বারা আল্লাহ তোমাদের সন্তান-সন্ততি এবং তোমাদেরকে শাহাদাত নসীব করবেন এবং তোমাদের ধনসম্পদ সমূহ পরিশুদ্ধ করবেন ৷
(ইবনে মাজাহ, হা/৪০৪২, সহীহ)
হাদিসটির বাস্তবতাঃ
** হিজরী ১১ সনের ১২ই রবিউল আওয়াল রোজ সোমবার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন ৷
** রাসূল (সাঃ)-এর ইন্তেকালের মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় ১৫ হিজরি মোতাবেক ৬৩৬ সালে আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ (রাঃ) এর নের্তৃত্বে মুসলিম বাহিনী বায়তুল মাকদিস বিজয় করেন ৷
** হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ) বলেনঃ খলিফাহ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর শাসনামলে হিজরী ১৮ সালে (৬৩৯ খ্রিঃ) বাইতুল মাকদিসের নিকটবর্তী আমওয়াস নামক অঞ্চলে হাদিসে বর্ণিত মহামারী সংঘটিত হয় ৷ (ফাতহুল বারী: ৬/২৭৮)
** মোল্লা আলী ক্বারী (রহ:) বলেনঃ এটা ছিল আমওয়াসের মহামারী এবং ইসলামের প্রথম মহামারী যেখানে মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে ৭০ (সত্তর) হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল ৷ বাইতুল মাকদিস বিজয়ের পর মুসলিমদের সামরিক ঘাটি ছিল এই আমওয়াস অঞ্চলে ৷ (মিরক্বাতুল মাফাতীহ: ৮/২৪১১)
** ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ:) বলেনঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ইন্তেকালের পর উমর ইবনুল খাত্তাব (রা:) এর খেলাফতকালে বাইতুল মাকদিস বিজয় হয় ৷ এরপরই শামের আমওয়াস অঞ্চলে ব্যাপক মহামারী দেখা দেয় ৷ এই মহামারীতে বহু সাহাবী যেমন— মুয়াজ বিন জাবাল, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আব্দুর রহমান ইবনে মুয়াজ, শুরাহবীল ইবনু হাসানাহ, আবু জান্দাল বিন সোহাইল, ফাজল ইবনু আব্বাস সহ অসংখ্য সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন ৷
(আল জাওয়াব আস সহীহ: ৬/৮৬)
বিঃদ্রঃ উল্লেখিত হাদীসে ছয়টি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে ৷ তন্মধ্যে যেগুলো সুস্পষ্টভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, আমরা সেগুলোই উল্লেখ করেছি ৷
عن عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ، وَهْوَ فِي قُبَّةٍ مِنْ أَدَمٍ فَقَالَ اعْدُدْ سِتًّا بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ، مَوْتِي، ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، ثُمَّ مُوتَانٌ يَأْخُذُ فِيكُمْ كَقُعَاصِ الْغَنَمِ.
আউফ ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি তাবুক যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আসলাম ৷ তখন তিনি একটি চামড়ার তৈরী তাঁবুতে ছিলেন। তারপর তিনি বললেনঃ কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মাকদিস বিজয় ৷ অতঃপর ছাগলের মহামারীর ন্যায় তোমাদের মাঝে ব্যাপক মৃত্যু ঘটবে ৷ (সহিহ বুখারী, হা/৩১৭৬)
ইবনে মাজাহ এর বর্ণনায় রয়েছে—
يَا عَوْفُ احْفَظْ خِلاَلاً سِتًّا بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ إِحْدَاهُنَّ مَوْتِي . قَالَ فَوَجَمْتُ عِنْدَهَا وَجْمَةً شَدِيدَةً . فَقَالَ: قُلْ إِحْدَى ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ دَاءٌ يَظْهَرُ فِيكُمْ يَسْتَشْهِدُ اللَّهُ بِهِ ذَرَارِيَّكُمْ وَأَنْفُسَكُمْ وَيُزَكِّي بِهِ أَمْوَالَكُمْ.
হে আওফ! ভেতরে এসো। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি সম্পূর্ণ প্রবেশ করবো ? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, সম্পূর্ণভাবে এসো ৷ অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আওফ! কিয়ামতের পূর্বকার ছয়টি আলামত স্বরণ রাখবে। সেগুলোর একটি হচ্ছে আমার মৃত্যু ৷ আওফ (রাঃ) বলেনঃ আমি একথায় অত্যন্ত মর্মাহত হলাম ৷ তিনি বলেনঃ তুমি বল, প্রথমটি ৷ অতঃপর বাইতুল মাকদিস বিজয় ৷ অতঃপর তোমাদের মধ্যে এক মহামারী ছড়িয়ে পড়বে, যদ্দ্বারা আল্লাহ তোমাদের সন্তান-সন্ততি এবং তোমাদেরকে শাহাদাত নসীব করবেন এবং তোমাদের ধনসম্পদ সমূহ পরিশুদ্ধ করবেন ৷
(ইবনে মাজাহ, হা/৪০৪২, সহীহ)
হাদিসটির বাস্তবতাঃ
** হিজরী ১১ সনের ১২ই রবিউল আওয়াল রোজ সোমবার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন ৷
** রাসূল (সাঃ)-এর ইন্তেকালের মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় ১৫ হিজরি মোতাবেক ৬৩৬ সালে আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ (রাঃ) এর নের্তৃত্বে মুসলিম বাহিনী বায়তুল মাকদিস বিজয় করেন ৷
** হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ) বলেনঃ খলিফাহ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর শাসনামলে হিজরী ১৮ সালে (৬৩৯ খ্রিঃ) বাইতুল মাকদিসের নিকটবর্তী আমওয়াস নামক অঞ্চলে হাদিসে বর্ণিত মহামারী সংঘটিত হয় ৷ (ফাতহুল বারী: ৬/২৭৮)
** মোল্লা আলী ক্বারী (রহ:) বলেনঃ এটা ছিল আমওয়াসের মহামারী এবং ইসলামের প্রথম মহামারী যেখানে মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে ৭০ (সত্তর) হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল ৷ বাইতুল মাকদিস বিজয়ের পর মুসলিমদের সামরিক ঘাটি ছিল এই আমওয়াস অঞ্চলে ৷ (মিরক্বাতুল মাফাতীহ: ৮/২৪১১)
** ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ:) বলেনঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ইন্তেকালের পর উমর ইবনুল খাত্তাব (রা:) এর খেলাফতকালে বাইতুল মাকদিস বিজয় হয় ৷ এরপরই শামের আমওয়াস অঞ্চলে ব্যাপক মহামারী দেখা দেয় ৷ এই মহামারীতে বহু সাহাবী যেমন— মুয়াজ বিন জাবাল, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আব্দুর রহমান ইবনে মুয়াজ, শুরাহবীল ইবনু হাসানাহ, আবু জান্দাল বিন সোহাইল, ফাজল ইবনু আব্বাস সহ অসংখ্য সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন ৷
(আল জাওয়াব আস সহীহ: ৬/৮৬)
বিঃদ্রঃ উল্লেখিত হাদীসে ছয়টি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে ৷ তন্মধ্যে যেগুলো সুস্পষ্টভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, আমরা সেগুলোই উল্লেখ করেছি ৷
👍3
