‘তুমি দৃঢ় চিত্তে তাদের সাথে অবস্থান করো যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের রবকে ডাকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। এবং দুনিয়ার জীবনের শোভা ও চাকচিক্য কামনায় তুমি তাদের থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিও না।’
[ সুরা আল-কাহফ, ১৮ : ২৮ ]
❤17
- ফজর আদায় করবেন ,কোরআন তেলাওয়াত করবেন, রিযিকের সন্ধানে বের হবেন, রাস্তায় চলার পথে ইস্তেগফার কে বন্ধু বানিয়ে নিবেন, সালাত গুলা সময় মতো আদায় করবেন!
দেরি হলে বাসায় এসে কাজা আদায় করবেন! দিন শেষে আবার কোরআন তেলাওয়াত করবেন, রিপিট..
এমন সুন্দর করে নিজের জীবনটা গুছালে আপনার আবার ডিপ্রেশন আসে কি করে বলুন!?
সব শেষে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখবেন।
© আব্দুল্লাহ
দেরি হলে বাসায় এসে কাজা আদায় করবেন! দিন শেষে আবার কোরআন তেলাওয়াত করবেন, রিপিট..
এমন সুন্দর করে নিজের জীবনটা গুছালে আপনার আবার ডিপ্রেশন আসে কি করে বলুন!?
সব শেষে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখবেন।
© আব্দুল্লাহ
❤48
আগামীকাল এসএসসি/দাখিল'২৫ পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশিত হবে।
সকলের জন্য রইল অবিরাম অন্তহীন ভালোবাসা ও দোয়া। যেন সকলেই তাদের বাবা-মা এবং সমাজের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।
পরীক্ষার রেজাল্ট দেখতে নিম্নোক্ত লিঙ্ক এ ঢুকুন: "Education Board Bangladesh" http://www.educationboardresults.gov.bd/result.php
সকলের জন্য রইল অবিরাম অন্তহীন ভালোবাসা ও দোয়া। যেন সকলেই তাদের বাবা-মা এবং সমাজের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।
পরীক্ষার রেজাল্ট দেখতে নিম্নোক্ত লিঙ্ক এ ঢুকুন: "Education Board Bangladesh" http://www.educationboardresults.gov.bd/result.php
🥰11❤1
আজ এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে। যারা ভালো রেজাল্ট করবা, তাদেরকে অভিনন্দন। আর যাদের ফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হবে না, তারা মন খারাপ করো না। মানুষের জীবনের পথ অনেক দীর্ঘ। এক জায়গায় ব্যর্থ হলেই জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে যায় না।
আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সততার সঙ্গে পরিশ্রম করে যেতে থাকো—একদিন শান্তি ও সাফল্য আসবেই।
আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সততার সঙ্গে পরিশ্রম করে যেতে থাকো—একদিন শান্তি ও সাফল্য আসবেই।
❤15
Forwarded from আলোর পথ
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
A+পাওয়া নিয়ে কি বলে দেখেন,,,
Mizanur Rahman Azhari 🥰💔
Mizanur Rahman Azhari 🥰💔
❤17🔥2👍1
অঙ্কে খারাপ করলে আম্মু রাগ হতো খুব।
ধর্ম, সমাজ বা বাংলাতে খারাপ করলে আম্মুকে আমি কখনও রাগ করতে দেখিনি।
অথচ ম্যাথমেটিক্সে ১ মার্ক কম পাইলেও আম্মুর রাগটা হতো দেখার মতো।
প্রথমেই রেজাল্ট কার্ডটা ছুড়ে ফেলতেন। তারপর আমার কলার ধরে আমাকে তুলে বসাতেন ডাইনিং টেবিলের উপর। তারপর আমাকে দিতেন তার কষ্টের ইয়া বড় ফিরিস্তি।
তোর জন্য আমি কী না করেছি? চাকরি ছেড়েছি, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তোরে আমি পানির জগটা পর্যন্ত ধরতে দিই না। ভোরে উঠে টিফিন বানাইয়া রেডি করে দিই। আবার দুপুরে নিয়ে আসি। এইসব দেখার জন্য?
আমি চুপচাপ আম্মুর কথা শুনি। আমার অসহ্য লাগে। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে, আমি ইঞ্জিনিয়ার হবো না। আমার চিৎকার গলাতেই আটকাতে যায়। আম্মু এখন রেগে আগুন। সেই আগুনে ঘি ঢালার সাহস আমার নাই।
আম্মুর দ্বিতীয় দফার শাসন শুরু হতো নাহিদ ভাইয়া পড়াতে আসার পর।
নাহিদ ভাইয়া চোখ নিচু করে বসে থাকতো। আমার এতো লজ্জা লাগতো যে বলার না। আম্মুর লজ্জা লাগতো না। তিনি এক নাগাড়ে বলেই যেতেন, এতোগুলো টাকা তো বাবা মুখ দেখতে দিই না আমরা। আমাদেরও কষ্টের টাকা। ন্যাশনালের টিচার রেখে রাফি এতো মার্কস পাইলে পাবলিক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট রেখে আমার লাভ কী বলো?
নাহিদ ভাই উত্তর দেন না।
আমি বুঝি, উনি নিরুপায়। আমার মতোই।
সেদিন আর পড়ানোটা জমে না। আমরা রোবটের মতো ক্যালকুলেশন করতে থাকি।
লেখাপড়া আমি করি না, এমন না। বাট পরীক্ষার হলে আমার কী যেন হয়ে যায়, আমার অঙ্ক কোনভাবেই মেলে না। এখানে আমার দোষটা কী?
২.
বাবার সাথে আমার দেখা হয় কম।
প্রথম কারণ,
একবার বাবা আমাকে গল্পের ছলেই প্রশ্ন করেছিলো, আজ স্কুলে কী শিখলে, বাবা? আমি আমার নতুন শেখা কবিতাটা বাবাকে বলি,
আম্মু বলেন, পড়রে সোনা
আব্বু বলেন, মন দে।
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।
আমার কেবল ইচ্ছে জাগে
নদীর কাছে থাকতে,
বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
কর্ণফুলীর কূলটায়,
দুধভরা ওই চাঁদের বাটি
ফেরেশতারা উল্টায়।
তখন কেবল ভাবতে থাকি
কেমন করে উড়ব......
বাবা আমাকে থামিয়ে দেন। বলেন, চাঁদ কোন বাটি না। চাঁদ একটা উপগ্রহ। আর চাঁদ কোন ফেরেশতারা উল্টায় না। তোমাদের স্কুলের বিজ্ঞান কে শেখায়? বলো, ১৪৪ এর বর্গমূল করলে কত হবে?
আমি বলতে পারি না। থেমে যাই।
বাবা আম্মুর সাথে রাগে গজগজ করে। এখন তো চাকরির বাজার খুব খারাপ। এর ম্যাথ এর যদি এই অবস্থা হয়, ভবিষ্যতে কী করবে? তুমি দ্যাখো না কেন কিছু......
সেদিন থেকে বাবাকে আমি খুব ভয় পাই।
কারণ আপনাদের আগেই বলেছি, ম্যাথ জিনিসটা আমার একদমই পছন্দ না।
৩.
টুটুল ছিলো আমার বেস্টফ্রেন্ড।
হ্যা, স্কুলের বেস্টফ্রেন্ড যেমন হয়, অমনই। টুটুল ক্লাসে না আসলে আমিও ক্লাস করি না। আমরা এক বেঞ্চে বসতাম। টিফিন ভাগাভাগি করে খেতাম। একবার স্যার টুটুলকে বের করে দিলো। সাথে সাথে আমিও বের হয়ে গেলাম।
ফাইভের বৃত্তির রেজাল্ট হওয়ার পর আমার খুব মন খারাপ হলো। বৃত্তিটা আমি পাইনি, তাই।
তবে যখন জানলাম বৃত্তিটা পেয়েছে টুটুল, তখন আমার আর কোন খারাপ লাগা ছিলো না। আমি আনন্দে দুইটা ডিগবাজি দিলাম। আম্মুকে এসে খবরটা দিলাম হাসতে হাসতে।
এবং সেই প্রথমবার আম্মু আমার গায়ে হাত তুললো।
রাতে আব্বু এসে বোঝালো, টুটুল কীভাবে আমি বোকা বানিয়েছে। আমাকে পড়তে না দিয়ে নিজে চুপিচুপি পড়েছে। এরপর আব্বু মাথায় শক্ত করে হাত দিয়ে বলেছিলো,
। মেইক শিওর, তোমারে যেন কেউ ইউজ করতে না পারে। ক্লিয়ার?
আমি মাথা নাড়াই। পরদিন টুটুলকে বাটপার, বেঈমান যত কিছু আছে বলে গালি দিয়েছিলাম। মিষ্টির প্যাকেট ফেলে দিয়ে টুটুল সেই যে কানতে কানতে চলে গেল, আর কখনও আমার সামনে এলো না।
সেই থেকে আমার আর কোন বেস্টফ্রেন্ড হয় নাই কখনও। ভেবেছিলাম আর হবেও না।
ক্যালকুলেশন দিয়ে ফ্রেন্ড বানানো সম্ভব। বেস্টফ্রেন্ড না।
কিন্তু না, ক্লাস নাইনে উঠে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হলো। আরেকটা।
৪.
বাহাদুরের সাথে আমার পরিচয়টা রাস্তায়।
প্রথম প্রথম যখন পিছে পিছে আসতো, ভয় পেয়েছিলাম খুব। ছোটবেলা থেকেই আমি কুত্তা ডরাই কি না!
কিন্তু স্কুল শেষে বের হয়েও যখন দেখলাম মাঠের কোণে বসে আমার জন্য ওয়েট করছে, অদ্ভুত এক ভালো লাগায় ভরে গিয়েছিলো আমার মন। কতদিন পর কেউ আমার জন্য ওয়েট করলো!!
রাস্তার বন্ধুত্বটা দিন দিন গাঢ় হতে লাগলো। কোনদিন পাউরিটি কিনে দিতাম, কোনদিন দিতাম আমার টিফিন বক্সের পুরোটাই। বাহাদুর খেতে খেতে কুই কুই শব্দ করতো। আমি ওর মাথায় হাত রাখতাম।
আমার সাথে স্কুল পর্যন্ত যাওয়া আবার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসা হয়ে দাঁড়াল ওর রোজকার একটা রুটিন।
ধর্ম, সমাজ বা বাংলাতে খারাপ করলে আম্মুকে আমি কখনও রাগ করতে দেখিনি।
অথচ ম্যাথমেটিক্সে ১ মার্ক কম পাইলেও আম্মুর রাগটা হতো দেখার মতো।
প্রথমেই রেজাল্ট কার্ডটা ছুড়ে ফেলতেন। তারপর আমার কলার ধরে আমাকে তুলে বসাতেন ডাইনিং টেবিলের উপর। তারপর আমাকে দিতেন তার কষ্টের ইয়া বড় ফিরিস্তি।
তোর জন্য আমি কী না করেছি? চাকরি ছেড়েছি, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তোরে আমি পানির জগটা পর্যন্ত ধরতে দিই না। ভোরে উঠে টিফিন বানাইয়া রেডি করে দিই। আবার দুপুরে নিয়ে আসি। এইসব দেখার জন্য?
ক্লাস ফাইভের পরীক্ষায় একশো তুলতে পারিস না, তুই ইঞ্জিনিয়ার হবি কী করে?
আমি চুপচাপ আম্মুর কথা শুনি। আমার অসহ্য লাগে। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে, আমি ইঞ্জিনিয়ার হবো না। আমার চিৎকার গলাতেই আটকাতে যায়। আম্মু এখন রেগে আগুন। সেই আগুনে ঘি ঢালার সাহস আমার নাই।
আম্মুর দ্বিতীয় দফার শাসন শুরু হতো নাহিদ ভাইয়া পড়াতে আসার পর।
নাহিদ ভাইয়া চোখ নিচু করে বসে থাকতো। আমার এতো লজ্জা লাগতো যে বলার না। আম্মুর লজ্জা লাগতো না। তিনি এক নাগাড়ে বলেই যেতেন, এতোগুলো টাকা তো বাবা মুখ দেখতে দিই না আমরা। আমাদেরও কষ্টের টাকা। ন্যাশনালের টিচার রেখে রাফি এতো মার্কস পাইলে পাবলিক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট রেখে আমার লাভ কী বলো?
নাহিদ ভাই উত্তর দেন না।
আমি বুঝি, উনি নিরুপায়। আমার মতোই।
সেদিন আর পড়ানোটা জমে না। আমরা রোবটের মতো ক্যালকুলেশন করতে থাকি।
লেখাপড়া আমি করি না, এমন না। বাট পরীক্ষার হলে আমার কী যেন হয়ে যায়, আমার অঙ্ক কোনভাবেই মেলে না। এখানে আমার দোষটা কী?
২.
বাবার সাথে আমার দেখা হয় কম।
প্রথম কারণ,
উনি ব্যাংকের কাজে ভয়ঙ্কর ব্যস্ত থাকেন। দ্বিতীয় কারণ, আমি উনাকে ভয় পাই।
একবার বাবা আমাকে গল্পের ছলেই প্রশ্ন করেছিলো, আজ স্কুলে কী শিখলে, বাবা? আমি আমার নতুন শেখা কবিতাটা বাবাকে বলি,
আম্মু বলেন, পড়রে সোনা
আব্বু বলেন, মন দে।
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।
আমার কেবল ইচ্ছে জাগে
নদীর কাছে থাকতে,
বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
কর্ণফুলীর কূলটায়,
দুধভরা ওই চাঁদের বাটি
ফেরেশতারা উল্টায়।
তখন কেবল ভাবতে থাকি
কেমন করে উড়ব......
বাবা আমাকে থামিয়ে দেন। বলেন, চাঁদ কোন বাটি না। চাঁদ একটা উপগ্রহ। আর চাঁদ কোন ফেরেশতারা উল্টায় না। তোমাদের স্কুলের বিজ্ঞান কে শেখায়? বলো, ১৪৪ এর বর্গমূল করলে কত হবে?
আমি বলতে পারি না। থেমে যাই।
বাবা আম্মুর সাথে রাগে গজগজ করে। এখন তো চাকরির বাজার খুব খারাপ। এর ম্যাথ এর যদি এই অবস্থা হয়, ভবিষ্যতে কী করবে? তুমি দ্যাখো না কেন কিছু......
সেদিন থেকে বাবাকে আমি খুব ভয় পাই।
কারণ আপনাদের আগেই বলেছি, ম্যাথ জিনিসটা আমার একদমই পছন্দ না।
৩.
টুটুল ছিলো আমার বেস্টফ্রেন্ড।
হ্যা, স্কুলের বেস্টফ্রেন্ড যেমন হয়, অমনই। টুটুল ক্লাসে না আসলে আমিও ক্লাস করি না। আমরা এক বেঞ্চে বসতাম। টিফিন ভাগাভাগি করে খেতাম। একবার স্যার টুটুলকে বের করে দিলো। সাথে সাথে আমিও বের হয়ে গেলাম।
ফাইভের বৃত্তির রেজাল্ট হওয়ার পর আমার খুব মন খারাপ হলো। বৃত্তিটা আমি পাইনি, তাই।
তবে যখন জানলাম বৃত্তিটা পেয়েছে টুটুল, তখন আমার আর কোন খারাপ লাগা ছিলো না। আমি আনন্দে দুইটা ডিগবাজি দিলাম। আম্মুকে এসে খবরটা দিলাম হাসতে হাসতে।
এবং সেই প্রথমবার আম্মু আমার গায়ে হাত তুললো।
রাতে আব্বু এসে বোঝালো, টুটুল কীভাবে আমি বোকা বানিয়েছে। আমাকে পড়তে না দিয়ে নিজে চুপিচুপি পড়েছে। এরপর আব্বু মাথায় শক্ত করে হাত দিয়ে বলেছিলো,
বি ক্যালকুলেটিভ
। মেইক শিওর, তোমারে যেন কেউ ইউজ করতে না পারে। ক্লিয়ার?
আমি মাথা নাড়াই। পরদিন টুটুলকে বাটপার, বেঈমান যত কিছু আছে বলে গালি দিয়েছিলাম। মিষ্টির প্যাকেট ফেলে দিয়ে টুটুল সেই যে কানতে কানতে চলে গেল, আর কখনও আমার সামনে এলো না।
সেই থেকে আমার আর কোন বেস্টফ্রেন্ড হয় নাই কখনও। ভেবেছিলাম আর হবেও না।
ক্যালকুলেশন দিয়ে ফ্রেন্ড বানানো সম্ভব। বেস্টফ্রেন্ড না।
কিন্তু না, ক্লাস নাইনে উঠে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হলো। আরেকটা।
৪.
বাহাদুরের সাথে আমার পরিচয়টা রাস্তায়।
প্রথম প্রথম যখন পিছে পিছে আসতো, ভয় পেয়েছিলাম খুব। ছোটবেলা থেকেই আমি কুত্তা ডরাই কি না!
কিন্তু স্কুল শেষে বের হয়েও যখন দেখলাম মাঠের কোণে বসে আমার জন্য ওয়েট করছে, অদ্ভুত এক ভালো লাগায় ভরে গিয়েছিলো আমার মন। কতদিন পর কেউ আমার জন্য ওয়েট করলো!!
রাস্তার বন্ধুত্বটা দিন দিন গাঢ় হতে লাগলো। কোনদিন পাউরিটি কিনে দিতাম, কোনদিন দিতাম আমার টিফিন বক্সের পুরোটাই। বাহাদুর খেতে খেতে কুই কুই শব্দ করতো। আমি ওর মাথায় হাত রাখতাম।
আমার সাথে স্কুল পর্যন্ত যাওয়া আবার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসা হয়ে দাঁড়াল ওর রোজকার একটা রুটিন।
❤4💔2
পোলাপাইন আমাকে খেপাত কুকুর বডিগার্ড নিয়ে আসার জন্য। আমার গায়ে লাগতো না একটুও। ভালোবাসা আর মায়া অদ্ভুত একটা জিনিস। একবার জমে গেলে কিছুই আর গায়ে লাগে না।
৫.
বাবার বদলির নোটিশ আসলো বছর খানেক পর।
দুইদিনের মধ্যে আমাদের বাসার সবকিছু ট্রাকে উঠে গেল। জায়গা হলো না শুধু বাহাদুরের। আমি বাবার পা ধরলাম, মায়ের আচল ধরলাম, মাটিতে গড়াগড়ি খাইলাম। লাভ হলো না।
বাহদুরের ছলছল চোখের সামনে দিয়ে চলে গেল আমাদের ট্রাক। বাবা তখন আমাকে বোঝাচ্ছেন,
। একটা কুত্তাকে এতোদূর নিয়ে গিয়ে লাভটা কী বলো?
৬.
তিথির সাথে আমার সম্পর্কটা যে বাসায় মানবে না, আমি ভালো করেই জানতাম।
বাট আম্মু যে লোক পাঠাইয়া তিথির বাসায় হুমকি দিয়া আসবে, এতোদূর আমি ভাবিনি কখনও।
তিথি অবশ্য শক্ত মেয়ে ছিলো। আমার চোখে চোখ রেখে বলেছিল, আমাকে নিয়ে পালাতে পারবা?
আমি চোখ নামিয়ে নিয়েছিলাম। তিথি আর কখনওই আমার সামনে আসে নাই। ভেবেছিলাম, সহজেই ভুলে যাবো।
বাট পারলাম না। ঘুম উধাও হয়ে গেল। খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিলাম। লেখাপড়াও। এখানে সেখানে ঘুরি। একদিন চেক করার জন্য ইট দিয়ে হাতে বাড়ি দিলাম। একটুও ব্যথা লাগলো না আমার। বুঝলাম, আমার অনুভূতি মরে গেছে।
পরের সপ্তাহে আমাকে ধরে বেঁধে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। বাবা বলে দিলো, ওরে সুস্থ করতে হবে ডাক্তার। আমার একটিমাত্র ছেলে, খুব আদরে মানুষ করেছি।
ডাক্তার আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন।
৭.
বিয়ের তিন বছর পর আমি বাবা হলাম।
বাবা হতে পেরে আমি খুশি। আব্বু আম্মু আরো বেশি খুশি। ততদিনে আমি এমবিএ শেষ করে সিক্স ডিজিট স্যালারিতে তিন বছর পার করে ফেলেছি। কিছুদিনের মধ্যেই সাত ডিজিট হবে বলে অফিসে জোর গুঞ্জন।
এর মধ্যে তরু বললো, দেশের এজুকেশন সিস্টেমের কী অবস্থা, দেখেছ?
আমি মাথা নাড়াই।
ও বলতে থাকে, মাথা নাড়ালে তো হবে না। বাবা হয়েছো, ছেলের ভবিষ্যত নিয়েও তো কিছু ভাবতে হবে। কানাডা না হোক,ইউরোপে মাইগ্রেটের চেষ্টা তো আমরা করতেই পারি? এই দেশে বাচ্চা মানুষ করতে ইচ্ছা করে না আমার।
আমি নিজেও যে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবি নি, তা না।
তরুর কথা শোনার পর আরো জোরেশোরে ভাবা শুরু করি।
সবকিছুর ক্যালকুলেশন করি। বাড়ি, গাড়ি, ক্যারিয়ার সুইচ, ডেবিট, ক্রেডিট, পিআর পাইতে কতদিন লাগবে, স্কুলিং সিস্টেম বা ডে কেয়ার সিস্টেম। সেভিংস বা ইনস্যুরেন্স। সবকিছু গুছাইয়া উঠতে বেশ কষ্ট হলেও শেষপর্যন্ত এদিক ওদিক করে ম্যানেজ করে ফেলি।
বাবা বলে
মা বলে,
আমি তারচেয়েও ঠান্ডা কন্ঠে বলি,
৮.
এরপর মা বাবা অনেক চিৎকার চেচামেচি করেছে।
আমার কানে আসেনি আর।
তিথিরে ছাড়ার পর থেকে আমি আর মানুষ ছাড়তে ভয় পাই না। আমারে ভয় দেখাইয়া লাভ আছে?
আম্মু বলে,
আমি বলি, বাহাদুরও তো একলাই ছিলো, আম্মু!!
বাবা বলে, এই তোরে শিক্ষা দিয়েছি? বাবার প্রতি এতোটুকু ভালোবাসা নাই?
আমি বলি,
তোমারে আর মারে নিয়ে গিয়ে আমার লাভটা কী?
বাবা শেষপর্যন্ত চুপ হয়েছিলো। চুপ হয়নি আম্মু।
আমাদের ফ্লাইটের দিন যত আগাইয়া আসতে থাকে, আম্মু তত পাগলের মতো করতে থাকে। কোনদিন সমাজের দোহাই দেয়, কোনদিন ধর্ম কোনদিন আবার দোহাই দেয় বাঙ্গালী কালচারের।
বোকা মেয়ে!!
এখন আমি শুধু
বুঝি। সারাজীবন ক্যালকুলেশন শিখিয়ে এখন আমার কাছে
করলে কীভাবে হবে!!
যত্তসব ডিজগাস্টিং ব্যাকডেটেড বুড়ো মানুষের দল!!
লেখা: সেহেরি টেইলস
@alolpath
৫.
বাবার বদলির নোটিশ আসলো বছর খানেক পর।
দুইদিনের মধ্যে আমাদের বাসার সবকিছু ট্রাকে উঠে গেল। জায়গা হলো না শুধু বাহাদুরের। আমি বাবার পা ধরলাম, মায়ের আচল ধরলাম, মাটিতে গড়াগড়ি খাইলাম। লাভ হলো না।
বাহদুরের ছলছল চোখের সামনে দিয়ে চলে গেল আমাদের ট্রাক। বাবা তখন আমাকে বোঝাচ্ছেন,
বি ক্যালকুলেটিভ
। একটা কুত্তাকে এতোদূর নিয়ে গিয়ে লাভটা কী বলো?
ছেলে মানুষ, এতো ইমোশনাল হলে চলে?
৬.
তিথির সাথে আমার সম্পর্কটা যে বাসায় মানবে না, আমি ভালো করেই জানতাম।
বাট আম্মু যে লোক পাঠাইয়া তিথির বাসায় হুমকি দিয়া আসবে, এতোদূর আমি ভাবিনি কখনও।
তিথি অবশ্য শক্ত মেয়ে ছিলো। আমার চোখে চোখ রেখে বলেছিল, আমাকে নিয়ে পালাতে পারবা?
আমি চোখ নামিয়ে নিয়েছিলাম। তিথি আর কখনওই আমার সামনে আসে নাই। ভেবেছিলাম, সহজেই ভুলে যাবো।
বাট পারলাম না। ঘুম উধাও হয়ে গেল। খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিলাম। লেখাপড়াও। এখানে সেখানে ঘুরি। একদিন চেক করার জন্য ইট দিয়ে হাতে বাড়ি দিলাম। একটুও ব্যথা লাগলো না আমার। বুঝলাম, আমার অনুভূতি মরে গেছে।
পরের সপ্তাহে আমাকে ধরে বেঁধে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। বাবা বলে দিলো, ওরে সুস্থ করতে হবে ডাক্তার। আমার একটিমাত্র ছেলে, খুব আদরে মানুষ করেছি।
ডাক্তার আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন।
৭.
বিয়ের তিন বছর পর আমি বাবা হলাম।
বাবা হতে পেরে আমি খুশি। আব্বু আম্মু আরো বেশি খুশি। ততদিনে আমি এমবিএ শেষ করে সিক্স ডিজিট স্যালারিতে তিন বছর পার করে ফেলেছি। কিছুদিনের মধ্যেই সাত ডিজিট হবে বলে অফিসে জোর গুঞ্জন।
এর মধ্যে তরু বললো, দেশের এজুকেশন সিস্টেমের কী অবস্থা, দেখেছ?
আমি মাথা নাড়াই।
ও বলতে থাকে, মাথা নাড়ালে তো হবে না। বাবা হয়েছো, ছেলের ভবিষ্যত নিয়েও তো কিছু ভাবতে হবে। কানাডা না হোক,ইউরোপে মাইগ্রেটের চেষ্টা তো আমরা করতেই পারি? এই দেশে বাচ্চা মানুষ করতে ইচ্ছা করে না আমার।
আমি নিজেও যে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবি নি, তা না।
তরুর কথা শোনার পর আরো জোরেশোরে ভাবা শুরু করি।
সবকিছুর ক্যালকুলেশন করি। বাড়ি, গাড়ি, ক্যারিয়ার সুইচ, ডেবিট, ক্রেডিট, পিআর পাইতে কতদিন লাগবে, স্কুলিং সিস্টেম বা ডে কেয়ার সিস্টেম। সেভিংস বা ইনস্যুরেন্স। সবকিছু গুছাইয়া উঠতে বেশ কষ্ট হলেও শেষপর্যন্ত এদিক ওদিক করে ম্যানেজ করে ফেলি।
বাবা বলে
, কবে যাচ্ছি তাহলে?
মা বলে,
কানাডায় নাকি খুব ঠান্ডা?
আমি তারচেয়েও ঠান্ডা কন্ঠে বলি,
আমরা যাচ্ছি। তোমরা যাচ্ছো না।
৮.
এরপর মা বাবা অনেক চিৎকার চেচামেচি করেছে।
আমার কানে আসেনি আর।
তিথিরে ছাড়ার পর থেকে আমি আর মানুষ ছাড়তে ভয় পাই না। আমারে ভয় দেখাইয়া লাভ আছে?
আম্মু বলে,
এইদিন দেখার জন্য তোরে পেটে ধরসিলাম? একলা থাকবো কিভাবে এখানে?
আমি বলি, বাহাদুরও তো একলাই ছিলো, আম্মু!!
বাবা বলে, এই তোরে শিক্ষা দিয়েছি? বাবার প্রতি এতোটুকু ভালোবাসা নাই?
আমি বলি,
ক্যালকুলেশন বাবা।
তোমারে আর মারে নিয়ে গিয়ে আমার লাভটা কী?
বুড়ো মানুষ, কোন কাজ করতে পারবা না, বাইরে চিকিৎসার আর ওষুধের খরচ জানো? এসব করতে গেলে আমি আমার বাচ্চা মানুষ করবো কীভাবে?
আর তুমি আমাকে ক্যালকুলেশন শিখিয়েছো। ভালোবাসা শেখাওনি তো!!
বাবা শেষপর্যন্ত চুপ হয়েছিলো। চুপ হয়নি আম্মু।
আমাদের ফ্লাইটের দিন যত আগাইয়া আসতে থাকে, আম্মু তত পাগলের মতো করতে থাকে। কোনদিন সমাজের দোহাই দেয়, কোনদিন ধর্ম কোনদিন আবার দোহাই দেয় বাঙ্গালী কালচারের।
বোকা মেয়ে!!
বাংলা, ধর্ম আর সমাজ আমি সেই কবেই ছেড়ে এসেছি।
এখন আমি শুধু
ম্যাথমেটিক্স
বুঝি। সারাজীবন ক্যালকুলেশন শিখিয়ে এখন আমার কাছে
সমাজবিজ্ঞান বা ধর্ম আশা
করলে কীভাবে হবে!!
যত্তসব ডিজগাস্টিং ব্যাকডেটেড বুড়ো মানুষের দল!!
লেখা: সেহেরি টেইলস
@alolpath
❤7😢5💔3
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
“আল্ল-হুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ💖
(সল্লল্ল-হু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম)”
#JummaMubarak
(সল্লল্ল-হু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম)”
#JummaMubarak
❤15
পুরান ঢাকার হত্যা*কাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম হ*ত্যা। এই হ*ত্যার ভিডিও কেউ দেখবেন না, এতটা বি*কৃত মানসিকতার ঘটনা।
বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা হয়—২০২৫ সালে এসেও এ ধরনের ব*র্বর হ*ত্যা দেখতে হচ্ছে এই বাংলাদেশে। অথচ বছরও পূর্ণ হয়নি, দেশে একটা গণঅভ্যুত্থান হয়ে গেল!
বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা হয়—২০২৫ সালে এসেও এ ধরনের ব*র্বর হ*ত্যা দেখতে হচ্ছে এই বাংলাদেশে। অথচ বছরও পূর্ণ হয়নি, দেশে একটা গণঅভ্যুত্থান হয়ে গেল!
😢22