Abdullah bin bashir
11.3K subscribers
427 photos
89 videos
95 files
194 links
প্রয়োজনীয় পিডিএফ ও ব্যক্তিগত নোট
Download Telegram
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
স্পষ্ট ও সাফ কথা, ধর্মউপদেষ্টার জন্য তাওবা করা জরুরি। উনি নিজের মুখেই বলছেন, যেটা উনি গায়ে দিয়েছেন সেটা অমুসলিমদের একটি শেয়ার বা প্রতীকী। আর কোনো মুসলমানের জন্য অমুসলিমদের প্রতীকী গায়ে দেওয়া কুফরের অন্তর্ভুক্ত। তবে এজন্য উনাকে কাফের বলা জায়েয না হলেও উনার জন্য তাওবা করা জরুরি। এটা অবশ্যই উনি নিকৃষ্ট একটি গুনাহের কাজ করেছেন। উনি প্রকাশ্যে না হলেও আল্লাহর কাছে যেনো ক্ষমা চেয়ে নেন। এটা কোনো সাধারণ বিষয় নয়, কাফে রের শেয়ার বহন করে একজন আলেম গর্ববোধ করা, এটা কত মানুষের জন্য কুফরের রাস্তা খুলে দিবে, আল্লাহই ভালো জানেন!

উনি একজন আলেম উনার জন্য গ্রহণযোগ্য কোনো তাবিল আছে বলে মনে হয় না।
.
দ্বিতীয়ত, অমুসলিমদের সামনে তিনি যেভাবে এদেশের মুসলমানদের লাঞ্চিত করেছেন এটা ছিলো আরো বেশি দুঃখজনক। উনার উচিত প্রকাশ্য মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাওয়া!
👍22😢19
অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও শুভেচ্ছা জানানোর বিধান।
বিস্তারিত আসবে “মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক” বইতে।

এখন জানার জন্য এই পোষ্টটি দেখতে পারেন।

https://www.facebook.com/share/p/zLEWB8KydB2uWMPR/
16👍4
Media is too big
VIEW IN TELEGRAM
মুশতাকুন্নবী সাহেবের বক্তব্যটা শুনা ও শুনানো দরকার।
42👍2🔥2
.... শরীয়ত ও সুস্থ বিবেকের দৃষ্টিতে কু]ফ]র নিজেই একটি অপরাধ আর কা]ফে]র একজন অপরাধী। বস্তুবাদের এই যুগে মানুষ এটাকে যে নামে ও শিরোনামেই ব্যক্ত করুক অথবা যে রঙ ও ঢঙ্গেই উপস্থাপন করুক ।শরীয়তের দৃষ্টিতে কু]ফ]র সাধারণ অপরাধই শুধু নয় বরং সবচেয়ে বড় অপরাধ এবং অসংখ্য অপরাধের গোড়া। দুনিয়ার সকল আইনেরই অপরাধ ও নিরপরাধ নির্ধারনের নিজস্ব মাপকাঠি ও প্রয়োগক্ষেত্র রয়েছে। এবং সে বিবেচনায় অপরাধী ও নিরাপরাধীর সাথে আচরণে পার্থক্য করা হয়। সকলের সাথে সমান আচরণ করা হয় না। ইসলামেও কা*ফে*র ও মুসলমানের সাথে একরকম আচরণ রাখা হয়নি। বড় আফসোসের বিষয় হলো বর্তমানে মানুষ চুরি, ডাকাতি, যিনা ও গুম-খুনকে অপরাধ মনে করে অথচ কু*ফ*র হলো এই সকল অপরাধ থেকেও আরো বড় অন্যায় ও সকল অপরাধের মূল! "।
প্রকাশিতব্য মুসলিম-অমুসলিম সম্পর্ক বই থেকে
মুফতি উবাইদুর রহমান
👍2514
সম্ভবত দুইবছর আগের ঘটনা। বাইতুল মুকাররম সিরাত বইমেলায় বসেছিলাম। হঠাৎ সংবাদ আসলো মুফতি তাকী উসমানী সাহেব ইনতেকাল করেছেন। ফেসবুকেও মুহুর্তে এই বিষয়ে পোষ্ট আসতে শুরু করেছে। বুকের ভিতরটা এমন ভয়ংকর চিপ দিয়ে উঠেছে, এমনটা এর আগে আমার কখনো হয়েছে বলে মনে হয় না৷ চোখের কোনায় মনের অজান্তেই দেখি পানি জমা শুরু হয়েছে! কী যেনো হারিয়্ব ফেললাম! সামনে বসা একজন মুফতি সাহেব বেদনাবিধুর স্বরে বললেন, পুরো উপমহাদেশ তো এতিম হয়ে গেলো!

অল্পক্ষণের মধ্যেই ‘মৃত্যুর সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এই সুসংবাদ আসলো। কী যেনো এক মহান রত্ন ফিরে এসেছে এমন একটা অনূভুতি সামনে বসা সকলের চেহারায় লক্ষ্য করলাম। ‘তাকী সাহেব নেই’ এই সংবাদ এই পুরো উপমহাদেশের মানুষ কীভাবে সহ্য করবে তার সামান্য ঝলক সেদিন দেখেছিলাম!
.
আজকের এক সেমিনারে হযরতের দূর্বল হাটার চিত্র দেখে দিলটা কেমন এক অজানা বিষন্নতায় ভরে উঠলো। বুকের চিনচিন ব্যাথাটা আবার অনুভব করলাম! অথচ...

আল্লাহ হযরতের ছায়াকে আমাদের উপর দীর্ঘায়িত করুক। হযরতের আধুরা স্বপ্নগুলো শেষ করেই যেনো দুনিয়ার এই খেলার জীবন শেষ করে প্রিয় রবের সান্নিধ্যে যেতে পারে সেই দোয়া করি।
38👍8😭7
ধর্ম উপদেষ্টার কাছে পা ধরা অনুরোধ থাকবে উদারতার নামে নিজের দীন ও ঈমানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না।
.
কোনোরকম ভূমিকা ছাড়াই বলি, ধর্ম উপদেষ্টা সম্প্রতি বৌদ্ধদের কোনো এক অনুষ্ঠানে একটি ঘৃণিত বক্তব্য দিয়েছে। সে বক্তব্যের সবচেয়ে জঘন্য অংশ ছিলো,

“এক সময় অস্ট্রেলিয়া থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত বৌদ্ধদের শাসন ছিলো। আজ তা সংকুচিত। আর এটা শুধুই আমাদের অসহিষ্ণুতার কারণে”

কতটা জঘন্য ছিলো এই বক্তব্য একটি বারের জন্যও কী কল্পনা করা যায়? আমাদের পূর্বসুরিরা কু]ফ]রের অন্ধকার থেকে ঈমানের নূরের আনার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ বিলিন করেছে তা অসহিষ্ণুতা ছিলো? কী বলতেছেন এগুলো এমন ঘৃণিত বক্তব্য তো কোনো রামবামও তো দেশে দেয়ার সাহস করে না!

হযরত যদি আপনাদের ভাষাতে আমি এভাবে বলি,

“মাজুসি ধর্মের দ্বারা পরিচালিত পারস্য পুরো পৃথিবীর অর্ধেকের উপরে ছিলো। সাহাবাদের অসহিষ্ণুতার কারণে আজ তা নাই”

তাহলে আপনার বক্তব্য দিয়ে কী আমার এই বক্তব্যকে ডিফেন্ড করতে পারবো!

আপনার এজাতীয় বক্তব্য শুধুই ভুলই নয় বরং ভুল থেকেও বড় কিছু। স্বল্প মেয়াদি এই পদে গিয়ে নিজেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন তা একটি বার ভেবে দেখবেন। প্রতিটি ধর্মের মজমায় গিয়ে তাদের খুশি করার জন্য যা করতেছেন মনে রাখবেন কস্মিনকালেও তাতে সফল হবেন না। তারা আপনার প্রতি শুধুই এবং শুধু সন্তুষ্ট হবে যখন আপনি ঈমানের গণ্ডিকে পারি দিবেন।
.
আরেকটি বিষয়, মুহতারাম, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আপনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন। এগুলো কী আপনাকে লেখে যারা দিয়েছে তারাই করেছে না আপনি স্ক্রিপ্টের বাহিরে গিয়ে এগুলো বলছেন!

বি. দ্র. পুরো ভিডিও জুরে বেগানা নারী থাকার কারণে ভিডিওসহ দিতে পারিনি। যাদের ভিডিও দেখা লাগবেই তারা নীচের লিংক থেকে দেখে নিবেন।

https://www.facebook.com/share/v/AkAXVaMis6MGeLGK/
31👍11😢3
মাওলানা আব্দুল মাজিদ হাফিজাহুল্লাহ লেখেন,

আপনি কি জানেন ছোটবেলায় আপনাকে পেন্সিল দিয়ে কেন লেখান হত ? আর বড় হওয়ার পর আপনি কেন কলম দিয়ে লেখেন ?
কারণ, ছোটদের বেশি বেশি ভুল হয় তাই তা বারবার মুছার সুযোগ থাকাচাই , এজন্যই তাদের হাতে পেন্সিল তুলে দেয়া হয় । আর বড়দের এত বেশি ভূল কাম্য নয় তাই মুছার জন্য এত ব্যবস্থাও রাখা হয় না তাই বড়দের হাতে কলম ।

ফলে আপনি যদি কোন আলিমেদ্বীন বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি হন তাহলে ভাবা দরকার আপনি কিন্তু পেন্সিলের যুগ পারকরে কলমের যুগে অবস্থান করছেন । শিশু কালের মত মুছেফেলার সুযোগ বারবার ফিরে আসবে না । তাই তীর নিক্ষেপের আগেই ভাবুন লক্ষ্য ঠিক আছে কিনা ? পরে ভাবার দিন শৈশব কালেই শেষ হয়ে গেছে ।

বাচ্চাদের ন্যায় প্রতি পাঁচ মিনিট পর খেলনা পরিবর্তনের সময় আপনার জন্য নেই । এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে দীর্ঘক্ষণ চিন্তাকের মত ভাবুন । আপনার হাতে পেন্সিল ও নাই আছে কলম ।

ঘনঘন মত ও পথ পরিবর্তনকারিরা যদি যুগ ও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষার উপকরণের এই পরিবর্তনের ফিলোসফি বুঝত তাহলে তারা বাঁচত বিব্রতহওয়া থেকে সমাজ পেত দূরদর্শী এক রাহবার ।
66👍11🔥2🤔1
যদি কোনো ধরনের আর কোনো ঝামেলা না হয় তাহলে এই শুক্রবার থেকে বইটি পাবেন বাইতুল মুকাররম বই মেলায় ইনশাআল্লাহ।

শুক্রবার দুপুর থেকে থাকবো মেলায়, দেখা হবে, কথা হবে ইনশাআল্লাহ।
38👍7
কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা : একটি ভুল বোঝাবুঝি

একটি ধারণা অনেকের মাঝে কাজ করে, কাফেরের সাথে সম্পর্ক নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তার কুফরি বিশ্বাসকে সমর্থন করার সাথে শর্তযুক্ত। অর্থাৎ কেউ যদি কুফরি বিশ্বাসকে সমর্থন না করে, তাহলে কাফেরের সাথে বন্ধুত্ব করতে কোনো বাধা নেই। আসলে বিষয়টি এমন নয়। বরং স্বাভাবিকভাবেই কাফেরের সাথে বন্ধুত্ব রাখা অবৈধ। তবে এতটুকু প্রার্থক্য রয়েছে যে, তার কুফরি আকিদা-বিশ্বাসের কারণে মুহাব্বত রাখা কেবল অবৈধ বা গোনাহই নয়, বরং সুস্পষ্ট কুফর। আর পার্থিব বিষয়াদিতে বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া কাফেরদের সাথে মিত্রতা করা কুফরি নয় বটে, তবে তাও নিষিদ্ধ। আর কুফর ও কুফরির কারণ, অনুষঙ্গ ও উপসর্গ ইত্যাদির প্রতি মুহাব্বত নিষিদ্ধ ও নিন্দনীয় হওয়া তো আকল, নৈতিক বিচারবোধ ও শরিয়তের দৃষ্টিতে একদমই স্পষ্ট। তাই সে সম্পর্ক নিয়ে বিস্তর ও জোরালো আলোচনার বিশেষ প্রয়োজন নেই।

বাকি নিছক পার্থিব বিষয়ে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাখ্যা, অজুহাত অনুপ্রবেশ করার ছিদ্র ছিল, তাই এই সম্পর্ক নিয়ে জোরালো আলোচনার প্রয়োজন। আর কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহে ইসলামিতে এই অংশ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এর একটি বড় কারণ এটিও যে, যদিও ভালোবাসার উৎস ধর্মীয় কোনো বিষয় নাও হয়, বরং পার্থিব উদ্দেশ্যেই হয়, তবুও এই সম্পর্ক ও বন্ধুত্বই ক্রমান্বয়ে কুফর, কুফরের আচার-অনুষ্ঠান, কুফরি ধারণা-বিশ্বাস ও অভ্যাসের প্রতি ব্যক্তিকে কোমল ও নমনীয় বানিয়ে ফেলে। দেখা যায়, ব্যক্তি কার্যত কোনো কুফরি করার পদক্ষেপ না নিলেও কুফর ও তার পাপাচারের প্রতি ব্যক্তির ঘৃণা, বিদ্বেষ ও অনুশোচনাবোধ একেবারেই দুর্বল হয়ে যায়। কারণ কোনো জিনিসের প্রতি ভালোবাসা একজন মানুষকে অন্ধ ও বধির করে ফেলে, যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।

এ কারণেই ফকিহগণ কাফেরদের সাথে সম্পর্ক ও ভালোবাসার সকল দিককে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন, যদিও সে সম্পর্ক কুফরের প্রতি সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে না হয়।
.
প্রকাশিতব্য : 'মুসলিম-অমুসলিম সম্পর্ক' বই থেকে
লেখক: মুফতি উবাইদুর রহমান (মুফতি তাকী উসমানী ও সমিউল হক হক কানী রহিমাহুমাল্লাহের শাগরেদ)
23👍8
ঢাকায় জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদের কার্যালয় হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে উপদেষ্টা শারমিন মুরশেদ।
.
জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদের কার্যালয় আর কোন কোন দেশে আছে দেখা যাক-
.
বুরকিনা ফাসো,
কম্বোডিয়া,
চাদ,
গুয়েতেমালা,
গায়েনা,
হন্ডুরাস,
লাইবেরিয়া,
মৌরিতানিয়া,
মেক্সিকো,
নাইজার,
ফিলিস-৩,
cরিয়া,
সুদান,
তিউনিসিয়া
এবং ইয়েমেন।
.
কোনো না কোনো সংকটে রয়েছে এমন দেশেই ওএইচসিএইচআর কান্ট্রি অফিস খুলতে পেরেছে।
.
এই লিস্টে বাংলাদেশের নাম আসার সায়েন্সটা কী?
.
সম্ভাব্য ৪টা উত্তর মাথায় আসছে,
.
মিয়ানমার-আরাকান
কোল্ড ওয়ার ২.০
পার্বত্য চট্টগ্রাম
এলজি টিভি
.
এনজিওবাগী উপদেষ্টারা দিল্লীর গোলামির পর আমাদের গলায় ওয়াশিংটনের গোলামির শেকল পরাতে উঠেপড়ে লেগেছে।

©আসিফ আদনান ভাই।
😢28
উৎসর্গে একজন তালেবে ইলমের আবেগ।
49👍3
খে/লা/ফত প্রতিষ্ঠার পথ ও পদ্ধতি, কিছু বিক্ষিপ্ত ভাবনা-২
শ[রী[য়াহ প্রতিষ্ঠায় বৈধ ‘তাদাররুজ’
.
যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়ে গণ[তান্ত্রি]ক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেন, তারাও তাদাররুজ তথা ধীর-নীতির আশ্রয় নিয়েই কাজটি করেন, যা একটি বিভ্রান্তি।
.
তাদাররুজের একটি ক্ষেত্র হচ্ছে, শ[রীয়]ত নযিল হওয়ার ক্ষেত্রে এক ধাপে না করে ধীরে ধীরে করা, যাতে মানুষ বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত হয়ে তার কল্যাণ-অকল্যাণ বুঝে সহজে আমলে যেতে পারে। এটি শ[রীয়]ত অনেক বিধানের ক্ষেত্রেই করেছে। সুস্পষ্ট একটি উদাহরণ হচ্ছে মদ হারাম করার বিষয়টি।
.
এই তাদাররুজ শরীয়তপ্রণেতার সঙ্গে খাস। পরবর্তী কারো জন্য এটির অবকাশ নেই। সুতরাং এখন একজন ইসলাম গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গেই মদ তার জন্য হারাম সাব্যস্ত হবে এবং তাকে তা পরিত্যাগ করতে হবে। একথা বলার সুযোগ নেই যে, আমি ধীরে ধীরে ছাড়ব। এখন আমার জন্য তা বৈধ।
.
তাদাররুজের দ্বিতীয় ক্ষেত্র হচ্ছে ইসলাহি পদক্ষেপ ও দাওয়াতের উপস্থাপন। আমি যখন কাউকে দাওয়াত দিব, তখন তাকে সব বিষয়ে একসঙ্গে দাওয়াত দেয়া সম্ভবও নয়, কাম্যও নয়। এখানে গুরুত্বের বিচারে বিষয়গুলো সাজাতে হবে এবং ধীরে ধীরে আগাতে হবে।
.
যেমন একজন মুশরিককে দাওয়াত দিতে গেলে প্রথমে ঈমান ও তওহীদের দাওয়াত দিতে হবে, তারপর নামায রোযার দাওয়াত দিতে হবে। কারো ইসলাহের ক্ষেত্রেও একটি অগ্রাধিকারের বিন্যাস অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং ধীরে ধীরে আগাতে হবে।
.
তাদাররুজের তৃতীয় ক্ষেত্র হচ্ছে, শ[রী[য়াহ প্রতিষ্ঠা এবং আমর বিলমারুফ ও নাহি আনিল মুনকার। এগুলোর জন্য শক্তি সামর্থ্যের প্রয়োজন। যার যতটুকু শক্তি আছে, সে ততটুকু করবে, বাকিটার জন্য শক্তি অর্জনের চেষ্টা করবে। যে অংশের শক্তি সামর্থ্য নেই, সে অংশ কারো উপর ওয়াজিবও হয় না।
.
উপরোক্ত তিন ক্ষেত্রে তাদাররুজ তথা ধীরনীতি অবলম্বন করে ধাপে ধাপে আগানো শুধু জায়েযই নয়; বরং জরুরিও। এটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। একজন মদ্যপ ও একজন পতিতাকে তার কর্ম থেকে বিরত রাখা এবং একটি মদের বার ও একটি পতিতালয় বন্ধ করা যেমন ব্যক্তির দায়িত্ব তেমন রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব। তবে তা অবশ্যই সামর্থ্য সাপেক্ষে।
.
বলা বাহুল্য, এসব ক্ষেত্রে ‘তাদাররুজ’ গ্রহণ করার মধ্যে কর্তার জন্য কোনো কুফর, শিরক কিংবা হারামে লিপ্ত হওয়ার বিষয় নেই। সর্বোচ্চ যেটা আছে, সেটা হল সক্ষমতা অর্জিত হওয়া পর্যন্ত অন্যায় ও অপরাধীকে ছেড়ে রাখা, বিচারের মুখোমুখি না করা।

লিখেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি
https://www.facebook.com/abdullah.almahdi.77398
14👍4
যেমন ছিলেন ওলামায়ে দেওবন্দ
.
হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রহিমাহুল্লাহ নিয়মতান্ত্রিক কোনো আলেম ছিলেন না। কিন্তু ইলমে তাসাওউফের ছিলেন মহান ইমাম। যার কারণে যুগের বড় বড় আলেমগণ উনার কাছে তাসাওউফের বাইয়াত নেন। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ওলামায়ে দেওবন্দের শিরোমনি হযরত কাসেম নানুতবি, রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী প্রমুখগণ রহিমাহুমুল্লাহ। হাজি সাহেবকে উনারা কী পরিমাণ মহব্বত ও ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন তা শুধু গাঙ্গুহী রহিমাহুল্লাহের এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয় "যে শাস্ত্রে হাজি সাহেব ইমাম সেখানে আমরা তার সাধারণ গোলামের কাতারে"।
কিন্তু ওলামায়ে দেওবন্দের অনন্যতা এখানেই, এত ভক্তি সত্ত্বেও ফিকহের মাসআলায় তারা কখনোই হাজি সাহেবের আমলকে দলিল বানাতেন না। বা হাজি সাহেবের কোনো আমলকে ইনিয়ে বিনিয়ে বৈধতার চেষ্টা করতেন না।
একবার এক লোখ একটি মাসআলার বিষয়ে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী রহিমাহুল্লাহের নিকট এসে বলে 'হাজি সাহেবে আমাকে এই বিষয়ে অনুমতি দিয়েছেন'। জবাবে গাঙ্গুহী রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'তিনি অনুমতি দিলেও তা দলিল হবে না। ফিকহি মাসআলার ক্ষেত্রে তিনি ইমাম নন, এখানে আমরা ফকিহদের অনুসরণ করবো। আর ফিকহের ক্ষেত্রে আমল করতে হলে হযরতকেও আমাদের থেকে অনুমোদন নিয়ে আমল করতে হবে।"

হযরত থানবি রহিমাহুল্লাহ বলেন, "কোনো ব্যক্তি যদি হযরত গাঙ্গুহী রহিমাহুল্লাহের সামনে শরয়ী ফাতাওয়ার ব্যাপারে হাজি সাহেবের উক্তি পেশ করতো, তাহলে তিনি সাফ বলে দিতেন, হযরত হাজি সাহেবের জন্য এসব শাখাগত মাসআলায় আমাদের অনুসরণ করা ওয়াজিব। এসব মাসআলায় আমাদের জন্য তার অনুসরণ করা জায়েয নয়।"
.
সূত্র: মাওলানা রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহি: জীবন ও কর্ম, আব্দুর রশিদ তারাপাশী পৃ. ১৩৮, ইত্তেহাদ প্রকাশনী
18👍4
দাবী উঠুক সর্বস্তর থেকে
👍47🔥8
সকল প্রশংসা মহান রবের। দোয়া চাই বাকি কাজটুকুও যেনো সঠিকভাবে হয়ে যায়। এবং বইটি আমার নাজাতের উসিলা হয়।
28👍5
"সাপের মাথা তত্ত্ব--আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক" এই উম্মতের মুজাদ্দিদিনদের কত বড় দূরদর্শীতা ছিলো, হায় এই উম্মাহ যদি তা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতো!
ফিলিস্তিনে বর্তমান হিজ্রাইল আর আমাদের সাথে ভারতের কর্মকাণ্ডগুলো দেখেও যারা এই উম্মাহের মুজাদ্দিদদের দূরদর্শীতা বুঝতে পারছে না, তাদের জন্য আফসোস করা ছাড়া কিছুই করার নেই।
😭188👍3
Media is too big
VIEW IN TELEGRAM
প্রথমালো আনিসুল হক একজন কুরআন অবমাননাকারী। আনিসুল হকের বিচার চাই৷ মতিগং এর বিচার চাই।
এইগুলো ভাইরাল করেন। প্রথমালো গংকে কোন ছাড় হবে না।
👍3310🔥3
শর্ট - মুসলিম অমুসলিম.pdf
520.1 KB
মুসলিম-অমুসলিম বইয়ের শর্ট পিডিএফ। পিডিএফ পড়ে দেখতে পারেন বইটি আপনার জন্য উপকারী কি না। উপকারী হলে অবশ্যই সংগ্রহ করবেন ইনশাআল্লাহ।
👍135
খে-লা[ফ]ত প্রতিষ্ঠার পথ ও পদ্ধতি, কিছু বিক্ষিপ্ত ভাবনা-৩
শ-রী-য়াহ প্রতিষ্ঠায় অবৈধ ‘তাদাররুজ’
.
পক্ষান্তরে যদি কোনো ব্যক্তি মনে করে, মদ্যপ ও মদের বার কিংবা পতিতা ও পতিতালয় বন্ধ করতে হলে আগে তাদের সঙ্গ দিতে হবে এবং তারা যেসব অন্যায় কর্ম করে সেগুলোতে অংশ গ্রহণ করে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব তৈরি করতে হবে এবং সম্পর্ক তৈরি করলেই তাদেরকে দাওয়াত দিয়ে দ্বীনের পথে আনা যাবে, তাহলে এটার অনুমোদন শ[রী]য়ত দিবে না।
.
একইভাবে ইসলামী আন্দোলনকারীরা যদি মনে করে, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে গণতন্ত্রীদের সঙ্গ দিতে হবে, গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা গ্রহণ করতে হবে, গণতন্ত্রে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রীদের বুঝাতে হবে এটা কুফর, এটাকেও শ[রী]য়ত অনুমোদন করে না এবং এটা শ[রী]য়ত সম্মত তাদারুরজের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
কিছু বাস্তব উদাহরণ দিয়ে আরেকটু পরিষ্কার করা যাক!
.
গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাসহ গণতন্ত্রের অনেক অনুসঙ্গই যে কুফর, এবিষয়ে আমাদের জানামতে নির্ভরযোগ্য কোনো ইসলামী দল কিংবা ব্যক্তির দ্বিমত নেই। এমনকি যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় খে-লা[ফ]ত প্রতিষ্ঠার প্রবক্তা, তাদেরও না।
.
তবুও মিশর কিংবা তুরস্কে যখন গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টারা ক্ষমতায় আসেন, তারা—
১. গণতান্ত্রিক সংবিধান গ্রহণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
২. গণতান্ত্রিক কুফুরি সংবিধান রক্ষা করার শপথ নেন।
৩. কুরআন সুন্নাহকে রাষ্ট্রপরিচালনার একমাত্র ভিত্তি বানাতে পারেন না।
৪. কুরআন সুন্নাহর খেলাফ মানবরচিত আইন বহাল রাখেন।
৫. কুরআন সুন্নাহর আইনকে সংসদের অনুমোদনের মুখাপেক্ষী বানান।
৬. ক্ষমতায় যাওয়ার আগে তারা এমন কিছু বিষয়ে ছাড় দেন, যেগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদেরকে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠায় বাঁধা প্রদান করে।
এই কাজগুলো সবই হয় কুফর-শিরক, না হয় অন্তত হারাম।
.
পক্ষান্তরে মু-জা[হি]দ তা-লে বা নরা যখন জি/হা/দের মাধ্যমে ক্ষমতায় যান, তারা—
১. প্রথম দিন থেকেই গণতান্ত্রিক কুফুরি সংবিধান বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এক মুহূর্তের জন্যও তারা গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে বরদাশত করেন না।
২. কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপরিচালনার ঘোষণা দেন।
৩. কুরআন সুন্নাহর খেলাফ সকল আইন প্রথম মুহূর্তেই বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
.
ফলে জি/হা/দিদের রাষ্ট্র প্রথম দিন থেকেই ইসলামী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়; যদিও তারা শক্তি সামর্থ্যের অভাবে এবং মাফসাদা-মাসলাহার বিবেচনায় কিছু মুনকারাতের ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করেন বা পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব করেন। তাদাররুজ নীতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে অগ্রসর হন। কিন্তু তারা নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো কুফর শিরক ও হারামে লিপ্ত হন না। তাদের রাষ্ট্রে আগে থেকে চলে আসা কোনো মদের বার বন্ধ করতে যদি তারা বিলম্বও করেন, তবে সেটা থাকে অবৈধ হিসেবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যার কোনো সম্মান ও নিরাপত্তার অধিকার থাকে না।
.
পক্ষান্তরে গণতান্ত্রিক ইসলামীদের রাষ্ট্র পাঁচ/দশ বছর পরও গণতান্ত্রিক ও স্যেকুলারই থেকে যায় এবং রাষ্ট্রপরিচালনায় তাদেরকে বিভিন্ন কুফর শিরক ও হারাম বিষয়ে যুক্ত হয়ে চলতে হয়, যা শ[রী]য়তে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটা বৈধ তাদাররুজের অন্তর্ভুক্তও নয়। কুফর-শিরক বন্ধ করার জন্য নিজেরা কিছুদিনের জন্য কুফর-শিরক গ্রহণ করা যায় না, নিজেরা কুফর-শিরক নাফেয করা যায় না। এটা শ[রী]য়তে অনুমোদিত নয়; যদিও উদ্দেশ্য ভল হয়।
.
হাঁ, গণতান্ত্রিক ইসলামী দলের কাজে রাষ্ট্রে একটি ইতিবাচক প্রভাব অবশ্যই পড়ে, তা আমরা অস্বীকার করি না। নিরেট সেক্যুলার গণতন্ত্রীদের রাষ্ট্র যেভাবে দিন দিন কট্টর থেকে কট্টর সেক্যুলার ও ইসলামবিদ্বেষী হয়ে ওঠে, ইসলামী গণতন্ত্রীদের রাষ্ট্র সেরকম হয় না; বরং তাদের হাতে ক্ষমতা থাকলে রাষ্ট্রটি দিন দিন কিছুটা ইসলামবান্ধব হয়ে ওঠে। কিছু ইসলামসম্মত আইন হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে কিছু ইসলামবিরোধী আইন সংশোধন বা বিলুপ্ত হয়। কিন্তু এতটুকু ইতিবাচক প্রভাবের জন্য শ[রী]য়ত কিছুতেই এক মুহূর্তের জন্যও কুফর-শিরক গ্রহণ করার অনুমোদন দেয় না।
.
উম্মতের এই ক্রান্তিলগ্নে খে-লা[ফ]ত প্রতিষ্ঠায় জি/হা/দি মা/ন/হা/জও গণতান্ত্রিক মানহাজের এই পার্থক্যটা আমাদের খুব ভাল করে অনুধাবন করা জরুরি।

লিখেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি
https://www.facebook.com/abdullah.almahdi.77398
🔥11👍109
লেখেছেন প্রিয় মাওলানা আবু উসামা জাফর

মাক্কী যিন্দেগী কি আদৌ সহজ? মাক্কী যিন্দেগীর মর্ম হলো,
فاصدع بما تؤمر و أعرض عن المشركين
আপনাকে যা কিছু আদেশ করা হচ্ছে তার সবকিছু উচ্চ আওয়াজে ঘোষণা করুন এবং মুশরিকদের থেকে বিমুখ থাকুন।
অর্থাৎ, দীনের সব বিষয় খুলে খুলে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে, সেদিন মানুষকে আহ্বান করতে হবে। আর এটা করতে গিয়ে যদি আঘাত আসে তাহলে প্রতিঘাত করা যাবে না!
আবার দাওয়াতটাও যেমন তেমন হলে হবে না। ওদের কলিজায় গিয়ে আঘাত হানতে হবে।
كبر على المشركين ما تدعوهم إليه
তুমি মুশরিদেরকে যেদিকে আহবান করছো তা তাদের উপর অনেক ভারি ও কষ্টকর।

আমরা মাক্কী যিন্দেগীকে যতটা নিরীহ মনে করি আসলে মাক্কী যিন্দেগী মোটেও নিরীহ নয়। মাক্কী যিন্দেগী হলো বিপ্লবের সূচনা, কষ্ট ও সহিষ্ণুতার অনুশীলন, দীনের জন্য কুরবানীতে অভ্যস্ত হওয়া, শ্রবণ ও আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্বের অধীনে রাখা এবং দাওয়াত, তা'লীম ও ইসলাহের মাধ্যমে সর্বাত্মক বিপ্লব ও জি/হাদের প্রস্তুতি। বরং, ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহর ভাষায় এটাও এক ধরনের (আভিধানিক ও ব্যাপকার্থে) জি/হা/দ।

এবার আমরা নিজেদের কথা চিন্তা করি। আমরা কি সমাজ ও মানুষকে এভাবে দাওয়াত দেই? সেকুলারিজম, সংবিধান, গণতন্ত্র ইত্যাদির কুফরগুলো কি আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে সবাইকে এগুলো পরিত্যাগ করার দাওয়াত দিচ্ছি? আমরা কি এমন বিষয়ের দিকে দাওয়াত দিচ্ছি যা তাদের জন্য ভারি ও কষ্টকর? আমরা কি কোনো কাটছাঁট ও রাখঢাক ছাড়াই পূর্ণ দীনের দাওয়াত দিচ্ছি?

তাহলে আমরা কেন বারবার সীরাতের ধারাবাহিক ঘটনা দিয়ে দলীল দিই? কেন মদীনায় হিজরতের আগে অমুক আমল ছিল না বলে সেটার দাওয়াত দেওয়া যাবে না কিংবা সেটার চেষ্টা করা যাবে না বলে মার্কেটিং করতে থাকি? বর্তমানে আমরা মাক্কী যিন্দেগীতে অবস্থান করছি বলে জিগির তুলছি?

অর্থাৎ, সবাই মেনে নিয়েছে যে ইসলাম পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পরে হুবহু ধারাবাহিকতা আর বাকী নেই। বরং, প্রেক্ষাপট বুঝে আমাদেরকে কুরআন সুন্নাহর আলোকে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি তাই হয় তাহলে কুরআন সুন্নাহ থেকে আমাদের দলীল দেওয়া দরকার। কেন বারবার সীরাতের ধারাবাহিকতা থেকে দলীল দেওয়া হয়? এটা কি এক ধরনের হিপোক্রেসি নয়?
34👍8
জুমার বয়ান (সারাংশ)
বাইতুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ
খতীব: ,মাওলানা আব্দুল মালেক হাফিযাহুল্লাহ
১লা নভেম্বর ২০২৪

হামদ ও সানার পর বয়ানের শুরুতে তিনি জুমার দিনের ফজিলত আলোচনা করেন। এরপর বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অধিকাংশ খুতবার শুরুতে তাকওয়া বিষয়ক কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করতেন। এরমধ্যে সুরা আলে ইমরান, নিসা, আহযাব ও হাশর অন্যতম।
আজকে সুরা হাশরের আয়াতের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা জানবো ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালা আয়াতের শুরু করেছেন 'হে মুমিনগণ' বলে। এটি অত্যন্ত মোহাব্বত ও আবেদনপূর্ণ আহবান। এই আহ্বানের মাধ্যমে তিনি মুমিনদেরকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ঈমানের অন্যতম দিকনির্দেশনা হলো, তাকওয়া অর্জন করা।

তাকওয়া মানে কি, তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহর নেয়ামতকে স্মরণ করে, তার সামনে উপস্থিত হওয়ার বিষয়কে মনে ধারণ করে, আল্লাহর নির্দেশিত সকল বিধান পালন করা এবং নিষেধকৃত সকল কাজ থেকে বিরত থাকা।
তাকওয়া মানে শুধু ভয় নয়, কারণ যে ভয়ের পরে করণীয় না থাকে তাকে তাকওয়া বলে না। আরবি শব্দ ওয়াও, কাফ, ইয়া এই মূল ধাতুর অর্থই হচ্ছে বেঁচে থাকা। অর্থাৎ আল্লাহর নিষেধকৃত সকল কাজ থেকে বেঁচে থাকা।

পাশাপাশি আল্লাহ এই আয়াতে মুমিনদেরকে কিয়ামত দিবসের জন্য কী প্রেরণ করেছে, তা চিন্তা করার আদেশ দিয়েছেন।
মুমিনের আসল জীবন হচ্ছে আখেরাতের জীবন। এই আয়াতে আগামীকাল বলা হয়েছে, কারণ আখেরাতের দীর্ঘ জীবনের তুলনায় পুরো দুনিয়ার সময় একদিনের মতোই বা তার চেয়েও কম।

এজন্য প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য হল, কবরে যাওয়ার আগে কবরের প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে নিয়ে যাওয়া।
কবরে যে তিন প্রশ্ন করা হবে তার উত্তর শুধু মুখস্ত করে গেলেই হবে না, বরং যদি সত্যিকার অর্থে নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে আরবি না জানলেও কবরে গিয়ে আরবিতে উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে।
কবরের প্রশ্ন সমূহের সারমর্ম হচ্ছে, আল্লাহর উপর বিশুদ্ধভাবে পরিপূর্ণ বিশ্বাস এবং ইসলামকে একমাত্র ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষনবী শ্রেষ্ঠনবী বিশ্বনবী মেনে তার জীবন বিধানকে বাস্তবায়িত করা। বেদাত এবং জাহিলিয়াতমুক্ত জীবন গঠন করা।

এরপর তিনি তাকওয়ার বিভিন্ন প্রকাশক্ষেত্রের মধ্যে থেকে দুইটি প্রকাশ ক্ষেত্র আলোচনা করেছেন।
প্রথম হলো, জুলুম থেকে বেঁচে থাকা। হাদিসে আল্লাহর রাসুল বলেন, তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো। কারণ জুলুম কেয়ামতের দিন গভীর এবং অনেক অন্ধকারের কারণ হবে। 'একটি জুলুম' বা 'একটু জুলুম' যেটাই হোক না কেন, একজনের উপর জুলুম বা একাধিক ব্যক্তির উপর জুলুম সর্বক্ষেত্রেই জালেমের জন্য অন্ধকার হবে, তার জীবনে কোন আলো থাকবে না।

জুলুমের অন্যতম প্রকাশক্ষেত্র হলো, দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়া। বর্তমানে অন্যায়ভাবে সিন্ডিকেট করে যেভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে পুরো দেশের মানুষকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে পূর্বে কখনোই এমন ছিল না। তারপরও দ্রব্যমূল্য বাড়ানো এবং এভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি কোন বাজারে অন্যায় ভাবে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাকে আগুনের বড় জায়গায় বসিয়ে শাস্তি দিবেন।

আজকে যারা সিন্ডিকেট করছে তাদের অপরাধ চোর ডাকাত বা অর্থ আত্মসাৎকারীদের মতই ভয়ংকর এবং তাদের এই অতিরিক্ত উপার্জন পরিষ্কার হারাম।

তাকওয়ার দ্বিতীয় প্রকাশক্ষেত্র হলো, সূরা নিসার প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, আদম এবং হাওয়া থেকে তিনি পুরুষ এবং নারী সৃষ্টি করেছেন।
তাই পুরুষের পুরুষ থাকা এবং পুরুষের জন্য আল্লাহর প্রদত্ত সকল বিধান পালন করা ফরজ। নারীর জন্য নারী থাকা এবং নারী হিসাবে আল্লাহর প্রদত্ত সকল বিধান পালন করা ফরজ।

কোন পুরুষ নারীতে রূপান্তরিত হওয়া অথবা নিজেকে নারী মনে করা, অনুরূপভাবে কোন নারী নিজেকে পুরুষে রূপান্তরিত করা অথবা নিজেকে পুরুষ ভাবা হারাম এবং কবিরা গুনাহ। এটা আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করার সমতুল্য। এল জি বি টি বা সমকামিতা একটি রুচিবিরুদ্ধ ঘৃণ্য অপরাধ। এই অপরাধকে সমর্থন কোন মুসলমান দিতে পারে না।

আজকে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস খোলার কথা গণমাধ্যমে এসেছে, যতটুকু জানি বাংলাদেশ সরকার এখনো এই সিদ্ধান্ত নেননি। আমরা আশা করব সরকার এই সিদ্ধান্ত নিবেন না এবং এই মুসলিম দেশে তারা সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না।

যে জাতিসংঘ ইজরায়েলের জুলুম থেকে ফিলিস্তিনের শিশুদের রক্ষা করতে পারেনি, যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেনি এমনকি ঔষধ ও খাবার পর্যন্ত অনুরোধ করেও ঢুকাতে পারেনি তারা কিভাবে মানবাধিকারের কথা বলে...!
মানবাধিকার শিখতে হবে আল্লাহর কোরআন এবং রাসূলের সুন্নাহ থেকে। আমরা রাসূলের আদর্শ নিজেরা বাস্তবায়ন করব এবং এর দাওয়াত সর্বত্র ছড়িয়ে দিব ইনশাআল্লাহ।

Collected from Luthferabbe Afnan
25👍6