Abdullah bin bashir
11.3K subscribers
431 photos
90 videos
95 files
194 links
প্রয়োজনীয় পিডিএফ ও ব্যক্তিগত নোট
Download Telegram
"লিবারেল দর্শন থেকে জন্ম নেওয়া সেকুলারিজমের মৌলিক দর্শনও তা যা লিবারেলিজমের ভিত্তি। কিন্তু স্বতন্ত্র মতবাদ হিসেবে সেকুলারিজমের মাঝে আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেকুলারিজমের সংজ্ঞা, বাস্তবতা আর ইতিহাস সামনে রাখলে আমরা এই সিন্ধান্তে পৌঁছতে বাধ্য যে, সেকুলাজিম মূল ভিত্তি চারটি বিষয়ের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে,
ক. অন্যসকল ইজম আর মতবাদের মত সেকুলারিজমও মানুষের আকল ও যুক্তিকেই সবকিছুর মূল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বস্তুবাদি দুনিয়াকেই আসল বলে স্বীকৃতি দেয়। এবং সমাজকে এমনভাবে সাজানোর প্রতি তা জোড় দেয় যেখানে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা পরলৌকিক বিষয় থেকে হটিয়ে শুধু পর্যবেক্ষন ও যুক্তি থেকে বুঝা যায় এমন ইহলৌকিক বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
খ. সমাজ ও নৈতিকতাকে ধর্ম থেকে আলাদা করে ধর্মহীন করে দেওয়া।
গ. রাষ্ট্রের সকল বিষয়কে ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা
ঘ. শিক্ষানীতিকে ধর্মহীন আলোকে তৈরি করে রাখা।"

সূত্র : মাসিক বাইয়্যিনাতে ১৪৪০ হি.-এর রমজান ও শাওয়াল সংখ্যায় প্রকাশিত প্রবন্ধ ‘ইসলাম আউর সেকুলারিজম’, মুফতি আব্দুর রউফ গাজনাবী পৃ.২৭
মুফতি আব্দুর রউফ গজনবি রহ. দারুল উলুম দেওবন্দের উস্তাদ ছিলেন। পরবর্তীতে হিজরত করে পাকিস্তান চলে আসলে জামিয়া উলুমে ইসলামিয়া বানুরীটাউনের মুহাদ্দিস পদে নিয়োজিত হন।


প্রবন্ধ: সেকুলারিজম; ঈমান হরনের ধ্বংসাত্মক মহামারি"
পশ্চিমা সভ্যতা নিয়ে প্রকাশিতব্য বই থেকে
(সকলের কাছে বিশেষ দোয়া চাই, আল্লাহ যেনো কাজটিকে পূর্ণ করার তাওফিক দেয় এবং উম্মাহের জন্য ব্যাপক উপকারী হিসেবে কবুল করে বইটিকে।)
15👍1
সর্বশেষ বিশিষ্ট দায়ী ও যুগের অন্যতম সচেতন আলেম মাওলানা মঞ্জুর নোমানী রহ.-এর একটি ঈমানী আহবান দিয়েই আলোচনাটি শেষ করছি। তিনি তার বিখ্যাত বই ‘দ্বীন ও শরীয়ত’ তে লেখেন, “বর্তমান যুগে ইউরোপের প্রভাব মানুষকে পূর্ববর্তী যুগের শিরক থেকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে; কারণ, পূর্ববর্তী শিরকের মূলভিত্তি ছিলো নিছক নফসের পূজা এবং মূর্খতার ঘোঁড়ামি। বর্তমান যুগে পড়ালেখা করেছে এমন প্রত্যেক লোক—যদি তার ভেতর নূন্যতম অনুভূতি থাকে এবং পড়ালেখা করার কারণে কোনো বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে শিখেছে—সে মূর্তিপূজা, নক্ষত্র, বৃক্ষ এবং নদীর পূজা, অনুরূপ পশুদের পূজা করাকে সর্বোচ্চ স্তরের বোকামি এবং নির্বুদ্ধিতা মনে করবে। যদিও রীতি-নীতি হিসেবে অথবা সমাজের সাংস্কৃতির অংশ মনে করে সে নিজেই এসবের পূজা করে, তবুও ভেতরে ভেতরে সে এগুলোর প্রতি ঘৃণাই রাখে। কিন্তু সমস্যা হলো, ইউরোপের প্রভাবে পৃথিবীর বুকে পুরোনো ও সেকেলে সেই মূর্তির পরিবর্তে নতুন কিছু মূর্তি মাথা নাড়া দিয়ে উঠেছে। আজকাল এগুলোরই পূজা করা হচ্ছে। এ মূর্তিগুলোর নাম হলো— জাতী, দেশ, জাতীয় স্বার্থ, দেশের স্বার্থ, উদর, সম্পদ, শাসন ক্ষমতা ইত্যাদি ইত্যাদি।
বাস্তব কথা হলো, স্বজাতী এবং স্বদেশের প্রতি টান ও ভালোবাসা থাকা মোটেই মন্দ বিষয় নয়; বরং এটি স্বভাবগত বিষয়। আর নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এব্যাপারে আদেশও করা হয়েছে। অনুরূপ জাতীয় স্বার্থ এবং স্বদেশের স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং বসবাস নিয়ে চিন্তা-ফিকির করা, পৃথিবীর বুকে স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মানের সাথে জীবন যাপন করার আকাঙ্খা রাখা দোষনীয় নয়—যদি হালাল-হারাম যাচাই করে এবং অন্যের হক ঠিক রেখে চলা হয়। এভাবে কোনো সৎ উদ্দেশ্য পূর্ণ করা যেমন, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার জন্য অথবা আল্লাহর মাখলুকদের খেদমত করার নিয়তে শাসন ক্ষমতা অর্জনের চিন্তা করা এবং এর পেছনে শ্রম ব্যয় করাও ভুল কাজ নয়। আম্বিয়া কেরাম এগুলো থেকে বিরত থাকেন নি। (বরং এগুলো কীভাবে করবে) সে ক্ষেত্রে বিধি বিধান দিয়ে গিয়েছেন।
কিন্তু আমাদের বর্তমান সময়ে এসব বিষয় এতো উচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, এগুলো মা’বুদ (উপাস্য) এবং তাগুতের স্থান দখল করে নিয়েছে। বর্তমান সময়ে জাতী-রাষ্ট্রের কল্যান ও স্বার্থে সবকিছু করা একধরণের মূলনীতি এবং বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে (জাতী ও রাষ্ট্রের স্বার্থে) যত ধরণেরই বে-ইনসাফি করা হোক, অন্যের উপর যত জুলমই হোক না কেন, সেগুলো দেখার বিষয় নয়। এভাবে পেট পূজা ও সম্পদ পূজা এবং শাসন ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্খার ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধি বিধানকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হয়; যেনো পেট হলো তার মা’বুদ (উপাস্য), তাই তার পূজা করতে যা করা হবে তাই সঠিক, এবং সম্পদ ও রাজত্ব হলো এমন এক দেবী, যার জন্য ধর্ম ও সকল প্রকার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য বিসর্জন দিতে কোনো সমস্যা নেই। আজকাল অনেক মানুষই এসকল বস্তুকে নিজেদের মা’বুদ বানিয়ে নিয়েছে, পুরো বিশ্বই এভাবে চলছে।
এই দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, পেট পূজা, সম্পদ পূজা, শাসন পূজা, বর্তমান সময়ের এক নতুন শিরক। ইসলামের মধ্যে এর কোন স্থান নেই। এ সকল বিষয় থেকে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যেভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন সেটি কুরআনে কারীমে বিবৃত হয়েছে,
ﵟ‌إِنَّا ‌بُرَءَٰٓؤُاْ مِنكُمۡ وَمِمَّا تَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ ﵞ [الممتحنة: 4]
আমরা তোমাদের থেকে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে মা’বুদ রূপে গ্রহণ কর তাদের তেকে সম্পূর্ণ পৃথক। (মুমতাহিনা: ৪)
বস্তুত এসব মিথ্যা পূজার মূলে রয়েছে নফসের পূজা/খায়েশাত। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার বিধি বিধান বাদ দিয়ে যা সামনে আসে, এবং যা মন চায় তা করা। এটিই হচ্ছে প্রতিটি শিরক বরং সকল মন্দ কাজ ও সমস্যার মূল। তাই বলা যায় সবচেয়ে বড়ো মূর্তি হলো নফস।’’


প্রবন্ধ: জাতীয়তাবাদ; জাহিলিয়াতের নতুন রূপ
পশ্চিমা সভ্যতা নিয়ে প্রকাশিতব্য বই থেকে
(সকলের কাছে বিশেষ দোয়া চাই, আল্লাহ যেনো কাজটিকে পূর্ণ করার তাওফিক দেয় এবং উম্মাহের জন্য ব্যাপক উপকারী হিসেবে কবুল করে বইটিকে।)
17👍4👎1
Transgenderism.pdf
979.3 KB
ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে বাংলাদেশের আলেমদের সম্মেলিত ফতোয়া যা হাইয়াতুল উলইয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই ফতোয়া দেশের শীর্ষ কয়েকজন মুফতির তত্ত্ববধানে তৈরি হয়েছে, যারা হলেন,
১. মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব (মারকাজুদ দাওয়াহ)
২. মুফতি আব্দুস সালামা সাহেব (ফরিদাবাদ মাদরাসা )
৩. মুফতি মিজানুর রহমান সাইদ সাহেব (শায়খ যাকারিয়া )
৪. মাওলানা মাহফুজ সাহেব
৫. মুফতি কেফায়াতুল্লাহ সাহেব (হাটহাজারি)

এই ফতোয়াতে স্পষ্টই বলা হয়েছে ট্রান্সজেন্ডার শুধুই কোনো হারাম কাজ নয় বরং এই মতবাদটি স্পষ্ট একটি কুফরি মতবাদ।
56👍1
প্রচলিত ইসলামি ব্যাংক নিয়ে সময়ে সময়ে কথা উঠে। এদেশে একদল সর্বদা প্রচার করে থাকে ইসলামি ব্যাংকের পক্ষেই অধিকাংশ আলেমগণ। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন যা ইনশাআল্লাহ এই বইটির দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যাবে। যে সমস্ত দীনদার ভাইরা যারা এগুলো নিয়ে আগ্রহ রাখেন ও মাদরাসার তালেবে ইলম ভাইগণ যারা প্রচলিত ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বৈধ মনে করেন তাদেরকে এই বইটি পড়ার আহবান করবো। এজন্য নয় যে, আপনার মত থেকে ফিরিয়ে আনা, উদ্দেশ্য হলো ভিন্নমতের দলিলভিত্তিক আলোচনাগুলোও সামনে রাখুন। একমুখী অধ্যায়ন তাহকিকের ময়দানে একটি দোষ।
👍22
কিছু ভাইদের বড় সমস্যা হলো তারা সম্ভবত মনে করেন, ইজতিহাদ একটা জন্মগত কিংবা মৌলিক অধিকার ও ফরজে আইন। এটা আমাকে করতেই হবে। কেউ বাঁধা দেওয়ার অধিকার রাখে না! অথচ এটা একটা মহান দায়িত্ব যার মৌলিকতা ১২০০ বছর আগেই ইমামগণ আদায় করে দিয়েছেন এবং প্রত্যেক মাযহাবের পরবর্তী ইমামগণ উসুল-ফুরু এই সুদীর্ঘ সময় ধরে গবেষণার পর গবেষণা চালিয়ে আমাদের মুখে তুলে দিয়ে ইহসান করেছেন। এখন আর নতুন করে মৌলিক ইজতিহাদের না আছে কোনো সুযোগ আর না আছে কোনো প্রয়োজন।

তবে শাখাগত ইজতিহাদ এখনও আছে এবং এর ধারাবাহিকতা কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। এজন্য ইমামদের উসুল বোঝার ক্ষেত্রে এই ১২০০ বছরের ইজতিহাদকে সামনে রাখতে হবে ও সমাধান দিতে হবে। কিন্তু প্রতিটি মাযহাবে এত বেশি পরিমাণে গবেষণা হয়েছে যা এক জীবনে সবার পক্ষে সব মাযহাবের পূর্ণ গবেষণা করা সম্ভব নয় এবং তার কোনো প্রয়োজনই নেই, বরং এক মাযহাবই গবেষণা করে শেষ করা সম্ভব নয়।

এজন্য যেকোনো একটা মাযহাবের উসুলগুলোকে খুব ভালোভাবে শিখে আয়ত্ত করে সেই মাযহাব অনুযায়ী ইজতিহাদ করে সমস্যার সমাধান দেওয়াই যথেষ্ট এবং এটাই কর্তব্য। এর মধ্যেই উম্মতের স্থিরতা থাকবে এবং পরস্পরের মাঝে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে না।

হ্যাঁ, যে সকল মাসআলা রাষ্ট্রীয়, সামাজিক কিংবা আন্তর্জাতিক; যেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো একটি মতকেই গ্রহণ করতে হবে, নতুবা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে সেসব ক্ষেত্রে সব মাযহাবের বড় বড় আলেমদের সমন্বয়ে যুগ চাহিদা (বাস্তবসম্মত) ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের স্বার্থে কোনো একটি মতের উপরে একমত হওয়ার চেষ্টা করাই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু যেগুলো মানুষের দৈনন্দিন ইবাদতের বিষয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে এমনটার কোনো প্রয়োজন নেই।

এত দীর্ঘ সময় শত শত মুজতাহিদ সকলেই চার মাযহাবের হক্কানিয়াতকে স্বীকার করে নিয়েছেন। এখন নতুন করে আবার ইজতিহাদে মুতলাকের দরজা খুলে দেওয়া মানে সেই স্থিতিশীলতাকে দূর করে আবার আগের যুগের গুতাগুতিকে ফিরে আনা! দীর্ঘ সময় পরস্পর ঝগড়া বিবাদ ও আলোচনা পর্যালোচনার পরেই উম্মতের মাঝে একটা স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিলো। সেটাকে নতুন ইজতিহাদে মুতলাকের মোড়কে নষ্ট করা কখনোই সঠিক বলে গণ্য হয়নি। যা হবার তা তো হয়েছেই এখনও যদি এমন অনর্থক শ্লোগান তুলে আম খাস সবাইকে ইজতিহাদের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয় তাহলে তা উম্মতের মাঝে আরও দীর্ঘস্থায়ী ফিতনার বীজ বপন ছাড়া আর কিছুই করবে না।

মূলত এই ভাইদেরর আরেকটি সমস্যা হলো, তারা মনে করেন যে তাকলীদ মানেই তাহকীকের বিপরীত! অথচ তাকলীদ কিছুতেই তাহকীকের পথে বাধা নয়। উম্মাহর ইতিহাসের বড় বড় মুহাদ্দিস, মুফাসসির ইমামদের নাম খুঁজে দেখুন। তারা প্রত্যেকেই বা অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে মুকাল্লিদ ছিলেন। কিন্তু তাকলিদ সত্ত্বেও তাদের তাহকীকের ধারে কাছেও আমরা যেতে পারবো না। যারা তাকলীদকে তাহকীকের বিপরীত রূপে তুলে ধরছে তাদের যোগ্যতা ঐ মহান ব্যক্তিদের সামনে কিছুই নয়।

এই যুগেও যাদেরকে আমরা বড় মুহাক্কিক হিসেবে দেখছি তাদের বেশিরভাগই মুকাল্লিদ। গায়রে মুকাল্লিদদের মধ্যে এ ধরণের লেখালেখি ও গবেষণার উদাহরণ খুবই কম পাওয়া যাবে। যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে সাতহিয়্যাত ও স্থূলতা পাওয়া যায়। এর দ্বারা আমি সালাফী ঘরানাকে ছোট করছি না। সালাফীদের মধ্যে অনেক বড় বড় আলেম রয়েছেন। তাদেরও অনেক তাহকীকী লেখালেখি ও আলোচনা রয়েছে।

কেউ যদি সালাফী হয়ে থাকে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি শুধু তাদের ক্ষেত্রেই যারা অযোগ্যতা সত্ত্বেও ইজতিহাদের দরজায় পা দেয়, ইমামদের ক্ষেত্রে অযাচিত উক্তি করে, উম্মাহর স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোর বিরোধিতা করে এবং মুসলিম উম্মাহর মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

পাশাপাশি আমি তাদেরও বিরোধিতা করি যারা নিজেদেরকে হানাফী বা কোনো একটি মাযহাবী বলে পরিচয় দেয়ার পরেও নিজ মাযহাবের উসুল সম্পর্কে অজ্ঞতা রাখে, যেকোনো ক্ষেত্রে সালাফী উসুল অনুযায়ী যাচাই করে ফেলে, বরং ক্ষেত্রবিশেষে মেইনস্ট্রীম সালাফীদের ইলমী অবস্থানও গ্রহণ করে না।

যারা একমুখী ও অসম্পূর্ণ অধ্যয়ন করেই হানাফীদের শক্তিশালী দলীল সমৃদ্ধ কিতাবগুলো অধ্যায়ন না করেই নিজেকে মুজতাহিদ হিসেবে প্রকাশ করে। হানাফী হওয়ার পরেও ইমাম আবু হানীফাকে চিনে না, তাকে হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল মনে করে অথবা হানাফীদেরকে মুরজিয়া মনে করে; এই টাইপের মাথামোটা, অদূরদর্শী এবং আগাছাদেরকে আমি চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করি। তবে যারা পরিপূর্ণ যোগ্য ও মুতাবাহহির আলেম, যাদের তাহকীকের যোগ্যতা রয়েছে, যাদের ইলম ও তাকওয়া রয়েছে তারা যদি দুই একটা মাসআলাতে হানাফী মাযহাব অনুযায়ী আমল না-ও করেন তাদের প্রতি আমার কোনো আপত্তি নেই। এমন নজির সব যুগে ছিলো, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ভালোভাবে বোঝার তাওফীক দান করুন। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।

মাওলানা আবু উসামা জাফর হাফিজাহুল্লাহ
23👍7
তুমি যে নূরের রবি – নিখিলের ধ্যানের ছবি
তুমি না এলে দুনিয়ায়- আঁধারে ডুবিত সবি॥
ইয়া নবী সালামু আলাইকা – ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা
ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা – সালাওয়াতুল্লাহি আলাইকা॥

আকাবিরে উলামায়ে দেওবন্দের কেউ কখনোই মূল ‘মাওলিদ’ এর বিরোধিতা করেননি। সরদারে আলম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) মাওলিদ তথা জন্মে আনন্দপ্রকাশ, মাওলিদের ঘটনা বর্ণনা, কবিতা ও ইসলামী নাশীদ পাঠ- এগুলো আমাদের আকাবির-আসলাফের আদর্শ। তারা বিরোধিতা করেছেন দিন নির্ধারণ করে জন্মদিন পালনের বিজাতীয় সংস্কৃতি, হাজির-নাজির আকীদার মতো কুসংস্কার সংবলিত কিয়ামের প্রথাকে। এটা আকাবিরে দেওবন্দের ভারসাম্যপূর্ণ মেজায, বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়িমুক্ত মধ্যমপন্থী চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এই কারণে মাসলাকে দেওবন্দের মাদরাসাগুলোতে সবসময়ই মাওলিদ থেকেছে। কিন্তু ঈদে মীলাদুন্নবী ঢুকেনি। বিদআতপূর্ণ কিয়াম ঢুকেনি। দু’টোর মাঝে পার্থক্য করা চাই। মূল মাওলিদ (তথা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মবৃত্তান্ত আলোচনা সংবলিত মজলিস) আর বাৎসরিক জন্মদিন পালনের বিজাতীয় রীতি দু’টোকে আলাদা আলাদা রেখে বিচার করা চাই। এটা নিয়ে বাহাস-বিতর্ক, পলাপলির অভিযোগ, বাহাস পরবর্তী কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি সব অর্থহীন কাজ। উম্মাহর দাঈরা এসব কাজে ব্যস্ত থাকলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় তৃতীয় পক্ষ।

মাওলানা মিযান হারুন হাফি.
36👍3🔥1
আগামীকাল ভারতের নির্বাচনে মোদিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলে ভারত প্রধানমন্ত্রী মোদি নয় বরং 'ভগবান মোদি' পাবে। গত টার্মে মোদির বেশকিছু মূর্তি তৈরি হয়েছে এবং সেগুলোর পুজাও চলছে কোথাও কোথাও। আর এই দফায় নির্বাচনের আগে মোদি নিজেই এক ইন্টারভিউতে বলেছে, "আমার মনে হয় আমি বায়োলজিক্যাল সৃষ্টি হইনি। বরং পরমাত্মা আমাকে এক বিশেষ উদ্দেশ্য দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন।"

তাহলে একটু স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করুন, স্বয়ং ভগবান মানুষকে যা আদেশ করবে তা কেমন পালনীয় হবে? স্বয়ং ভগবান কাউকে হত্যা করতে বললে সেই হত্যাটা কতটা পূন্যের কাজ হবে? বাংলাদেশী* ও ভারতীয় মুসলমানদের দায়িত্বশীলরা কী এখনো মুসলমানদের এই ধোকায় রাখবে, বাংলাদেশ ও ভারতের মুসলমানরা পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ মুসলমান!?

হিন্দুদের নতুন বিষ্ণুর জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মুসলমানদের অগ্রিম অগ্রিম শুভেচ্ছা।

*যারা এখনো ভাবেন বাংলাদেশ আর ভারত ভিন্নকিছু বা ভারতে যা হবে সেটার প্রভাব বাংলায় হবে না, বাংলাদেশ এত মুসলিমের দেশ ইত্যাদি, তাদের জন্য আফসোস ছাড়া আমার আর কিছুই নেই।
😢26👍14
পাকিস্তানের ওজিরিস্তানের একজন আলেম মুফতি নাদিম খান দরবেশ হাফিজাহুল্লাহ। উনার সাথে আমার প্রথম পরিচয় প্রচলিত নির্বাচন নিয়ে উনার একটি তাহকিকি রিসালা দিয়ে। পাকিস্তানের একজন বক্তা আলেম যিনি ইলিয়াস ঘুম্মানের খাস শাগরেদ মুফতি আব্দুল ওয়াহেদ কুরাইশি, সে গণতন্ত্র নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যেটার খণ্ডনে মুফতি নাদিম সাহেব একটি ভিডিও দেন। সেখানে গণতন্ত্রের ভ্রান্ততা নিয়ে তিনি কিছু উসুলি জবাব দেন। আশা করি ভিডিওটি এই বিষয়ে যারা দিকভ্রান্তিতে ভোগেন তাদের কাজে দিবে।

*মুফতি নাদিম সাহেবের প্রচলিত নির্বাচনের শরয়ী ভিত্তি নিয়ে বইটির লিংক : https://t.me/abdullahbinbashir/120

ভিডিওর লিংক : https://www.youtube.com/watch?v=4o4G9-98BGQ
🔥12👍2
কালান্তরের রাজনৈতিক সংখ্যায় একটি প্রবন্ধ লেখে অপ্রত্যাশিতভাবে কিছু টাকা হাদিয়া পাই। টাকাগুলো যেহেতু সিয়াসাত বিষয়ে লেখেই পেয়েছি তাই চিন্তা করলাম সিয়াসাত বিষয়েই কিছু কিতাব সংগ্রহ করে। সেই টাকাগুলোর সাথে নিজের থেকে কিছু মিলিয়ে সিয়াসাতের এই কিতাবগুলো সংগ্রহ করলাম। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ যেনো বইগুলো থেকে পূর্ণ ইস্তেফাদা করার তাওফিক দেয়। আমীন।

বি.দ্র. বইগুলো আমি এখনো বিস্তারিত পড়েনি। সুচি আর সামান্যকিছু অংশ দেখে ভালো মনে হওয়াতে সংগ্রহ করা। কোনো তালেবে ইলম ভাই বইগুলো পড়তে চাইলে অবশ্যই সতর্কতার সাথে পড়বেন। বইয়ের সবকথা আর বিষয়ের সাথে একমত হয়েই আমি বইগুলো সংগ্রহ করেছি আর পোষ্ট দিয়ে জানাচ্ছি এমন নয়। তবে সাধারণ দৃষ্টিতে যতটুকু মনে হয়েছে বইগুলো ভালো।
34👍3
যদি হতো কেমন হতো তাহলে?
🔥2110👏1
নারীর পার্লামেন্টের সদস্য হওয়া

বর্তমান ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানের প্রধান বিচারপতি আব্দুল হাকিম হক্কানী দা. বা. লেখেছেন,

“নারীদের সরকারি কাজে অংশগ্রহণকে জায়েয মনে করার অধপতন এটা মুসলিম দেশগুলোতে গ ণ ত ন্ত্রের প্রভাবের ফলে হয়েছে। আর যারা মনে করে নারী সুপ্রিম বিচারক হতে পারবে বা পার্লামেন্টে যেতে পারবে তাদের মনমস্তিষ্ক ব্যাপকভাবে পশ্চিমা সভ্যতা দ্বারা প্রভাবিত।”

(হক্কানী সাহেবের কথাটা এমন কাছাকাছি অর্থে অনেক আগে উনার একটি টুইটারের আলোচনায় দেখেছিলাম)
44👍1
পাকিস্তানের লাল মসজিদ ও জামিয়ার হাফসার ট্রাজেডি আজও গাইরাতবান মুসলমানের অন্তরে তীব্র ব্যাথার সৃষ্টি করে। টানা সাত দিনের নাপাক বাহিনী কর্তৃক ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চালানো সে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিবরন নিয়ে লেখেছেন জামিয়া হাফসার মুহতামিম ও লাল মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আজিজ হাফিজাহুল্লাহের স্ত্রী মুহতারামাহ উম্মে হাসান । সেদিন তিনি তার চোখের সামনে অসংখ্য ছাত্রীর লাশ দেখেছেন। দেখেছেন বহু নিষ্পাপ শিশুকে গুলিবদ্ধ হয়ে কালিমা পড়ে জান্নাতের অভিমুখে যেতে। লাল মসজিদ ও জামিয়া হাফসার সে কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ তিনি লিপিবদ্ধ করেন। যাতে সেদিনের সেই নৃশংসতা ও সঠিক ইতিহাস ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ থাকে।


নিজের চোখে দেখা অনেকগুলো শাহাদাতের ঘটনা লেখেন তিনি তার স্মৃতিচারনে। যার মাঝে সানিয়্যাহ নামের এক ছোট্ট মেয়ের ঈমানদীপ্ত শাহাদাতের ঘটনা আপনাদের শুনাই। উম্মে হাসসান লেখেন, ‘আমি ছাত্রীদের এই কঠিন সময়ে সবর ও আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জু করতে বললাম, ‘আল্লাহ যাকে মহব্বত করেন তাকেই বিভিন্ন পরিক্ষায় ফেলেন।’ এই কথা শুনে প্রথম ক্লাসের ছোট্ট সানিয়্যাহর মন তা কিছুতেই মেনে নিলো না। সে বলতে লাগলো, ‘আমরা যদি আল্লাহর এতই নৈকট্য অর্জন করে থাকি তাহলে তিনি আমাদের এমন জুলুম-অত্যাচারের মাঝে কেন ফেললেন।’ আমি ছোট সানিয়্যাকে বিভিন্নভাবে বুঝাতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু তার ছোট্টমন কিছুতেই আমার কথা মেনে নিলো না। মাগরিবের নামাজের সময় হয়ে গেলো। জামিয়ার উঠানে বৃষ্টির পানির জন্য বালতি রাখা ছিলো। সানিয়্যাহ অজু করার জন্য বালতির সামনে গেলে আমি বললাম, ‘বেটি, পানির খুব সংকট চলছে, তুমি তায়াম্মুম করে নেও। কিন্তু ছোট্ট সানিয়্যাহর কী যেনো হলো। সে আমার কথা না মেনে বালতির পানি দিয়ে অজু করে নিলো। অজু শেষে ছোট্ট ছোট্ট শাহাদাত আঙ্গুল আসমানে উঁচিয়ে কালিমায়ে শাহাদাত পড়ছিলো। এমন সময় তীব্র একটি আওয়াজ হলো আর ছোট্ট সানিয়্যাহ মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। দেখলাম, ছোট্ট সানিয়্যাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। রক্তে তার পুরো শরীর একাকার হয়ে গেছে। আমি দৌড়ে গেলাম তার কাছে। গিয়ে দেখি ছোট্ট সানিয়্যাহ মিটিমিটি হাসছে। আমাকে দেখে বললো, ‘আপিজান, আপনি সত্যই বলেছেন, আল্লাহ বাস্তবেই আমাদের অনেক মহব্বত করেন’। এটা বলেই ছোট্ট সানিয়্যাহ চিরদিনের জন্য নিশ্চুপ হয়ে গেলো।



পুরো সাতদিনের এই নৃশংস সময় মুহতারামাহ উম্মে হাসসান জামিয়া হাফসাতেই অবস্থান করেছেন। অনেকের পীড়াপীড়ি সত্ত্বেও মহান এই মহিয়সী নারী কোনো অবস্থায় সেখান থেকে বের হয়ে যেতে রাজি হননি। একান্ত শেষ সময় যখন আর কোনো পথ বাকি ছিলো না, চতুর্থদিক থেকে ভয়ংকর ফায়ারিংয়ের মাধ্যমে নাপাক বাহিনী মাদরাসা অভিমুখে ধীরে ধীরে আগাতে ছিলো এবং তিনি সেখানে অবস্থানের ব্যাপারে জেদ ধরলেন তখন সেদিনের মহান শহিদ আব্দুর রশিদ গাজি বললেন, ভাবিজান, আপনার জীবিত বের হয়ে যাওয়া উচিত। বাহিনী ভিতরে ঢুকে আপনাকে জীবিত পেলে কী করে তা ঠিক নেই। উম্মে হাসসান বলেন, আমি এই কথার পরেও চলে যেতে রাজি হলাম না। তখন আব্দুর রশিদ সাহেব আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘আমি এখানের আমির হিসেবে আপনাকে চলে যাওয়ার আদেশ করছি।’ তখন উম্মে হাসসান তার একমাত্র নাড়ি ছেড়াধন ছেলে হাসসানের কপালে শেষবারের মত চুমু দিয়ে বের হয়ে আসার সময় সম্বোধন করে বললেন, “বেটা! আমি তোমাকে আজকের এই দিনের জন্যই লালনপালন করে বড় করেছি। হিম্মত হারা হয়ো না। পূর্ণ ইসতেকামাতের সাথে জমে থাকবে। মসজিদ ও কুরআনের পবিত্রতা আর তোমার এই সকল বোন-ভাইদের জীবন রক্ষার্থে যদি আজ আমার আল্লাহ তোমার জীবনের কুরবানিকে কবুল করে নেয় তাহলে তা হবে আমাদের জন্য সৌভাগ্যের ও আল্লাহর দরবারে উঁচু মর্যাদা অর্জনের মাধ্যম। বেটা! সিনায় গুলি খাবে। খেয়াল রাখবে পলায়ন করতে গিয়ে পিঠে গুলি খেয়ে আমাদেরকে আল্লাহর সামনে বেইজ্জতি করবে না। এই কথার পূর্ণ খেয়াল রাখবে, আমাদের পেয়ারা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে যেনো আমরা লাঞ্চিত না হই।”

এটাই ছিলো মুহতারামা উম্মে হাসসানের তার একমাত্র ছেলের সাথে শেষ কথা। সেদিন চাচা আব্দুর রশিদ গাজির সাথে হাসসানও শাহাদাতের মহান মর্যাদা অর্জন করেন।
😢26🔥6👍3
পুজিবাদের অনেকগুলো পুঁজার মুর্তির শ্রেষ্ঠ মুর্তি হলো টাকা। ওরা সে মুর্তির পুজার জন্য অন্যকে গু খাওয়াতেও রাজি, আবার অন্যের গু খেতেও রাজি। ওদের সে মুর্তির মাথা বরাবর আঘাত করেন দেখবেন ওদের ছটফটানি কেমন শুরু। আর সে ছটফটানির সামান্য এক ঝলক ছিলো কোকাকলার এই ভিডিওটা। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ছেসরা ভিডিও বোধহয় এটা।
.
শাহবাগি আর সেমি শাহবাগিদের যদি সামান্য মগজ নামক কোনো বস্তু থাকে, তাহলে বয়কটে কী লাভ হবে, এই নিম্নমানের যুক্তি নিয়ে আর হাজির হবে না। বয়কটে কী হয় এটার উতকৃষ্ট উদাহরণ হলো এই এড।
.
সামনে কুরবানির ঈদ, কোকাকোলার ব্যবসার বিশাল বড় মৌসুম। এই মৌসুমে তারা বড়ধরনের লস থেকে বাঁচতেই এডের এই বুদ্ধিমান (?) উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। আর কাফেরদের চক্রান্ত তাদের বিপরীত ব্যাকফায়ার করেছে আলহামদুলিল্লাহ, এই এড না হলে হয়তো মুসলমানরা নতুন উদ্যোগে বয়কট করতো না, কিছুটা বিক্রিও হতো। ইনশাআল্লাহ, পূর্ণ বয়কট করুন, আশপাশে যাকেই কিনতে দেখবেন, গিয়ে ডাইরেক্ট বলুন, এই পন্য সংগ্রহ করার চেয়ে ইসরাইলের ফান্ডে সরাসরি গিয়ে বোমা কিনার টাকা দিয়ে আসুন, যাতে আমাদের মুসলিম ভাইদের শয়তানের দোসররা আরো বেশি করে হত্যা করতে পারে।
28👍1
তিনচার মাস আগের ঘটনা। কাওরান বাজারে একটি টিভি প্রোগ্রাম শেষ করে হালকা কিছু খাওয়ার জন্য ভদ্রস্ত দোকান খুঁজছিলাম। ক্ষুধা যেমন লেগেছে, পিপাসাও লেগেছে চরম। মেট্রো স্টেশনের পশ্চিম পাশে বসুন্ধরা সিটির দিকে যেতে শপিং মলের নিচে একটি বড়সড় কোমল পানীয়র দোকান দেখে এগিয়ে গেলাম।

দোকানের বাইরে একটি বিশাল ফ্রিজ, ভেতরেও কয়েকটি ফ্রিজ। সবগুলো কোকাকোলার পানীয়। কোক, ফান্টা, পেপসি ইত্যাদি। আমি বাইরের ফ্রিজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে ভেতরে গেলাম। ভেতরের ফ্রিজগুলোতেও একই জিনিস।

দোকানের এক কর্মীকে বললাম, এসব ছাড়া কিছু নেই? মিনারেল ওয়াটার হলেও চলবে। তিনি এ্যাকুয়াফিনার বোতলের সারির দিকে ইশারা করে ম্লান হাসি দিয়ে বললেন, আসলে এখানে যা আছে, আমি জানি- আপনি কোনোটাই খাবেন না।

তারপর কানের কাছে এসে বললেন, ‘দেখুন- আমি নিজে এখানে চাকরি করি, কিন্তু এখানকার কোনো পণ্য আমি এখন মুখে লাগাই না। ফিলিস্তিনি শিশুদের রক্তাক্ত ছবি সামনে ভেসে ওঠে। আমি অলরেডি এর বিকল্প চাকরি অনুসন্ধান শুরু করেছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

ওদেরই দোকানে একজন মুসলিম ভাইয়ের এমন চেতনামাখা কথা শুনে আমার পিপাসা মিটে গেল। মনটার সঙ্গে যেন পেটও ভরে গেল।

আরে বেনিয়ার দল, তোরা আমাদের বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুলভাল আবেগে ভাসাতে চাস? ওইদিন চলে গেছে। এখন তোদের দোকানে পর্যন্ত পৌঁছে গেছে উম্মাহর চেতনা। তোদের অর্ধশতাব্দীর ব্যবসার কোমর আর সোজা হতে দেব না ইনশাআল্লাহ।

#আকসা_আমাদের

©
49
আরব আমিরাতের এক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক টুইট করেছে, ‘যার কাছে দেশ থেকেও ধর্ম বড় তার কোনো নিরাপত্তা নেই।’

এই কথার উত্তরে বিশিষ্ট গবেষক ড. সামি আমেরি লেখেন, ‘আর যার কাছে ধর্ম থেকেও দেশ বড় তার তো ঈমানই নাই।’
57👍4🔥1
জনপরিসরে তাকবিরের উচ্চারণ ট্যাবুর মত হয়ে গেছে। অথচ সাহাবায়ে কেরামের সমাজে তাকবিরের আমল ছিল খুবই স্বাভাবিক। তারা পথেঘাটে, বাজারে, সর্বত্রই অনায়েসে তাকবিরের চর্চা করতে পারেন।

মুসলিম সমাজ হিসেবে এটি আমাদের জন্য দু:খজনক ব্যাপার। এটি সমাজে আমাদের দূর্বলতা ও আধিপত্যহীনতার একটি নিদর্শন। আমরা তাকবিরের আমল চর্চার মৌসুমে আছি। সারা বছরেই সাহাবায়ে কেরামের সমাজে তাকবিরের চর্চা ছিল। কিন্তু জিলহজ্ব মাসের শুরু থেকে তারা বাজারে, পথেঘাটে তাকবিরের ধ্বনি আরো বাড়িয়ে দিতেন।

আমাদেরও উচিত জনপরিসরে তাকবিরের চর্চা করা। তাকবিরের প্রতি তৈরি হওয়া ট্যাবু ভেঙ্গে দেয়া। এটি সামাজিকভাবে ইসলামের আধিপত্য তৈরিরও একটি ধাপ হতে পারে আমাদের জন্য। এই তাকবিরের প্রতি সেকুলার ও ব্রাক্ষ্মণ্যবাদীদের আছে ঐতিহাসিক চুলকানি ও ভীতি।৷

মাওলানা ইফতেখার সিফাত
30👍23
আমার এক বন্ধু বিরাট বড় কোকের পাগল, সে কোকের পিছনে এই দুই বছর যত টাকা ঢালছে তাতে মনে হয় গাজীপুর সিটি কর্পারেশনে এক দুই খান বাড়ি বানানো যেতো।
ইদানীং সে কোক খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। এর আগেও ওজন কমানোর তাগিদে সে একশ চল্লিশ বারের বেশি কোক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে, ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তার কোকের জন্য গলা শুকিয়ে গেছে, সে ঝপাৎ করে কোক কিনে খাওয়া শুরু করেছে। এইবারও আমরা তাই ভেবেছি, দুদিন পরই কপকপ করে কোক খাবে।
কিন্তু সে খেলোই না। শুধু কোক না, পেপসি টু যত ই*স*রা*ইলের পন্য বাদ দেওয়া সম্ভব সবই বাদ দিয়ে ঝিম মেরে বসে রইলো। অন্যসব বাদ দেওয়া তার জন্য দূরহ নাও হতে পারে, কিন্তু চার মাস সে কোক পুরো ছেড়ে বসে আছে এই তথ্য তার নিজের আম্মা জানার পরও বিশ্বাস করেনি, আমরা তো দূরের কেইস।
কারণটা খুব সাধারণ, তার একার কোক খাওয়া না খাওয়াতে হয়তো তেমন কিছু আসবে যাবে না, কিন্তু এটা তার জন্য মনের শান্তি। দুনিয়ার এক প্রান্তে নির্বিচারে গনহ*ত্যা চলছে, আর সেই গনহ*ত্যার মূলনায়কের একটা প্রডাক্ট বর্জন করে যতটা সম্ভব প্রতিবাদ করছে।

আর দশটা মানুষের প্রতিবাদ হয়তো এই লেভেলেই থেমে যেতো, কিন্তু সে আরেকটা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলল, টার্ম ফাইনালের প্রেজেন্টেশনের পিপিটি ফাইলের শেষ
স্লাইডকে আমরা বলি থ্যাংক ইউ স্লাইড। এই স্লাইড অন্য সবাই ফুল পাতা লতা দিয়ে সাজিয়ে একসার করে। সে পুরো উলটো কাহিনি করে বসলো।
থ্যাংক ইউ স্লাইডের বদলায় গাজার ধ্বং*সস্তুপের ছবি সাথে হ্যাশট্যাগ স্টপ গাজা জে*নোসাইড দিয়ে প্রেজেন্টেশন শেষ করলো। পুরো রুমে পিন পতন নিরবতা। দুই কোর্স ইন্সট্রাকটর কটকট করে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

"রিসার্চ ওয়ার্কে রাজনীতি ঢুকানোর কারণে তোমাকে আমি জিরো দিতে পারি এই তথ্য জানো?" এক স্যার খড়খড়ে গলায় বলল।
আমার বন্ধু শান্ত গলায় বললো, "এটা রাজনীতি না স্যার, এটা জে*নোসাইড। এখানে নির্বিচারে মানুষ মারা হচ্ছে। রিসার্চ করে কি লাভ যদি মানুষই না বাচে? সাইন্স ইজ ফর পিপল।"

আরেক কোর্স ইন্সট্রাকটর কড়া গলায় বলল, এতে কি লাভ হলো? তোমার এই প্রেজেন্টেশন তো ই*জ*রা*&ইল দেখে নাই যে তারা তোমার প্রতিবাদের ঝড়ে উড়ে যুদ্ধ থামাবে।"
"এই রুমের ত্রিশজনের মত মানুষ আছে, স্যার। এই ত্রিশজন মানুষ এই প্রেজেন্টেশন দেখবে। তারা আজকে একবার হলেও এই গণহত্যার কথা ভাববে। ত্রিশজনের মধ্যে পনেরজন বাসায় গিয়ে এটা নিয়ে সার্চ দেবে, শেয়ার দেবে। এই পনেরজনের মধ্যে একজন হয়ত ভবিষ্যতে বড় কোনো পজিশনে যাবে। আমাদের পক্ষ থেকে সে তখন বলতে পারবে। ইট'স লাইক এ চেইন রিয়েকশন।"
আমার বন্ধুর উত্তরটা ছিলো এইরকম।

ক্লাশের পিনপতন নিরবতা ভেঙে তালির শব্দে সে দিন ডিন অফিস থেকে লোক পর্যন্ত ছুটে এসেছিলো।

গল্প এখানেই শেষ। তবে একটা ছোট তথ্য শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছি না। সেই প্রেজেন্টেশন আমার বন্ধু পেয়েছিল ২০ মার্ক। পুরো প্রেজেন্টেশনে মার্ক ছিলো ১৫, এক্সটা ৫ নাম্বার সে পেয়েছে খুব সহজ একটা কারনে, কারণ সে তার শেষের স্লাইড দিয়ে প্রুভ করতে পেরেছে "রিসার্চ ইজ ফর পিপল।"
এবং একটা ছাত্র ছাত্রীও, আমাদের মিনমিনা শয়তান টপারগুলো পর্যন্ত বিন্দুমাত্র কথা বলেনি তার মার্কিং নিয়ে।

আমার এই কাহিনি শেয়ারের উদ্দেশ্য খুব সাধারণ। রা*ফায় যে গনহ*ত্যা চলছে, তা নিয়ে যারা শেয়ার করছে বা লেখালিখি করছেন তারা প্রায়শই হয়ত শুনে যাচ্ছে, "তুমি একলা কি করবা? তারা কি তোমার কথায় যু*দ্ধ বন্ধ করবে?"

উত্তরটা হচ্ছে একা একা না। আপনার আমার শেয়ার করা এই লেখা বা ভিডিও আর দশটা মানুষের কাছে যাবে, তারাও দেখবে আর জানবে পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে আপনার আমার মতোই মানুষগুলো কি ভয়ংকর বিভীষিকাময় দিন কাটাচ্ছে।

এইটুকু মানুষ হয়ে জানতে হয়, অন্যকে জানাতে চাইতে হয়। মানুষ হওয়ার কিছু শর্ত আছে, সেই শর্তগুলোর একটা হলো ভয় পাওয়া। চুপ থাকতে থাকতে অন্তরের মনুষ্যত্ব নামক ব্যাপারটা সিলগালা হয়ে গেলো নাকি সেই ভয় পাওয়া।

অন্তত এইটুকু ভয় আমাদের পেতে হবে। গাজা বা রা*ফার মানুষদের জন্য তো বটেই, আমাদের নিজেদের মনুষ্যত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও আমাদের বলতে হবে, "স্টপ জে*নোসাইড, ফ্রি প্যা*লেস্টাইন।"

কেউ শুনুক, আর নাই বা শুনুক।
--- সংগৃহীত
16👍4👏2
Media is too big
VIEW IN TELEGRAM
দুইটা কথা এই ভিডিও দেখে বলি,

১. এভাবে এক দুই প্রজন্ম মুর্খ করে তৈরি করতে পারলেই সামনের সকল ডাক্তার, ইঞ্জিয়ার আর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উচ্চপদস্থ পদগুলো চলে ঐখানের দাদাবাবুদের হাতে, সেটার প্রস্তুতি চলছে। চূড়ান্ত দাস বানানোর স্টেপগুলো এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা...

২. মুসলিম চাষীরা কেন শিক্ষিত হবে বলে, হিন্দু ব্রাহ্মনরা যেই উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছিলো সেটাই এখন বাস্তবায়ন করছে শয়তানের দোসররা।

আমরা চুপ করেই থাকি সবাই।
👍23
আরো অনেক দূর পর্যন্ত যেতে হবে। মাত্র শুরু।
🔥25👍105
যে কাজগুলো আমার কুরবানিকে করবে আরো সুন্দর

‘কুরবানি’ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক সুবর্ণ সুযোগ। ইমানি চেতনায় বলিয়ান হয়ে মিল্লাতে ইবরাহিমিয়ার জাগরণের জাগ্রত হওয়ার প্রশিক্ষণ হলো মহামান্বিত এই কুরবানি। যুক্তি আর তর্কের উর্ধ্বে উঠে শুধু আল্লাহর আদেশের সামনে নিজেকে সমর্পণ করার মাস হলো এই জিলহজ্জ। এখানের কাজগুলো যুক্তির নিরিখে নয় করতে হবে ইমানের নিরিখে। আল্লাহর আদেশে, নবির পথের অনুসারী হয়ে। এটাই শিক্ষা। আর এই শিক্ষাটুকু মুমিনকে প্রতি বছর স্মরণ করিয়ে দিতে আসে কুরবানি।

কুরবানি একটি ওয়াজিব আমল। প্রতিটি সচ্ছল (শরিয়তের দৃষ্টিতে) মুকিম ব্যক্তির জন্যে তা আবশ্যক। তাই সে সংক্রান্ত বেশকিছু বিধানও রয়েছে। আমি এখানে বিধান নিয়ে কিছুই বলবোনা। শুধু কুরবানির এমনকিছু বিধান যেগুলো আমাদের কুরবানির মত এই মহৎ আমলকে করবে আরো সুন্দরময়।

১. কুরবানির পশু সাধ্যমতো দ্রুত ক্রয় করা বা সংগ্রহ করা যাতে তার সাথে একটা মহব্বতের সম্পর্ক তৈরি করা যায়

ইমাম কাসানী রহ. (মৃত্যু ৫৮৭হি.) বলেন,
فيستحب أن يربط الأضحية قبل أيام النحر بأيام لما فيه من الاستعداد للقربة وإظهار الرغبة فيها فيكون له فيه أجر وثواب،

কুরবানির কয়েকদিন পূর্বেই পশুর ব্যবস্থা করে ফেলা। এতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করা ও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। আর তাতে রয়েছে সাওয়াব।-বাদায়েয়ুস সানায়ে ৫/৭৮।

২. শরীকে পশু কুরবানি করার চেয়ে একা ছাগল কুরবানি করা উত্তম।

ইবনে কুদামা রহ. বলেন,
الشاة أفضل من شرك في بدنة لأن إراقة الدم مقصود في الأضحية، و المنفرد يتقرب بإراقته كله.

এক গরুতে শরিক হওয়ার চেয়ে আলাদা ছাগল কুরবানি করা উত্তম। কারণ কুরবানিতে আসল উদ্দেশ্য হলো পশুর রক্ত প্রবাহিত করা। আর একা কুরবানিতে তা পূর্ণভাবে হয়।-আল মুগনি ৫/১৬৩

৩. কুরবানির পশু ক্রয় করার পূর্বেই শরীক নির্ধারণ করে নেওয়া।

যদি কেউ শরীকে কুরবানি করতে চায় তাহলে ক্রয় করার পূর্বেই তা নির্ধারণ করে নেওয়া। যদি ব্যক্তি ধনী হয় তাহলে ক্রয় করার পরেও অংশীদার নিতে পারবে। তবে গরিব হলে পারবেনা।

ইমাম সারাখসি রহ. (মৃত্যু ৪৮৪হি.) বলেন,
(وَإِنْ اشْتَرَى بَقَرَةً يُرِيدُ أَنْ يُضَحِّيَ بِهَا عَنْ نَفْسِهِ، ثُمَّ اشْتَرَكَ مَعَهُ سِتَّةٌ أَجْزَأَهُ اسْتِحْسَانًا)، ... (وَلَوْ فَعَلَ ذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَشْتَرِيَ كَانَ أَحْسَنَ)؛ لِأَنَّهُ أَبْعَدُ عَنْ الِاخْتِلَافِ، وَلَيْسَ فِيهِ مَعْنَى الرُّجُوعِ فِي الْقُرْبَةِ لَا صُورَةً، وَلَا مَعْنًى فَكَانَ ذَلِكَ أَفْضَلَ.

গরু ক্রয়ের পর কাউকে শরিক করে তাহলে তা বৈধ হবে। তবে উত্তম হলো, ক্রয়ের পূর্বেই শরীক ঠিক করে নেওয়া।- আলমাবসুত লিস সারাখসি ১২/১৫।

৪. কুরবানির পশু দেখতে সুন্দর ও নাদুসনুদুস ক্রয় করা।

হযরত আনাস রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি শিংওয়ালা দুটো মোটাতাজা দুম্বা কুরবানি জবাই করতেন। আমিও তদ্রুপ করতাম।- সহিহ বুখারি হাদিস নং ৫৫৫৩-৫৫৫৪

হযরত আবু উমামাহ রহ. বলেন, আমরা মদিনায় মোটাতাজা পশু কুরবানি করতাম। অন্যান্য মুসলমানরাও তাই করতো।-সহিহ বুখারি ৪/২২৫, মুয়সসাসাতুর রিসালাহ।

ইমাম কাসানী রহ. (মৃত্যু ৫৮৭হি.) বলেন,
فَالْمُسْتَحَبُّ أَنْ يَكُونَ أَسْمَنَهَا وَأَحْسَنَهَا وَأَعْظَمَهَا لِأَنَّهَا مَطِيَّةُ الْآخِرَةِ
কুরবানির পশু নাদুসনুদুস, দেখতে সুন্দর ও বড়সড় হওয়া মুসতাহাব।-বাদায়েয়ুস সামায়ে ৫/৮০

৫. কুরবানির গরুর মহত্ত্ব ও গুরুত্ব বুঝানোর উদ্দেশ্য তা সাজানো উত্তম।

কুরবানি করা ইসলামের শায়ায়েরে অন্তর্ভুক্ত। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেন,
ولا خلاف كونها -الأضحية- من شعائر الدين.
এই বিষয়ে কোনো ইমামের মাঝে ইখতেলাফ নেই কুরবানি দ্বীনের একটি শিয়ার।- ফাতহুল বারী ১০/৩, মাকতাবাতুস সফা।

কুরআনের সুরা হজ্জের ৩২ নং আয়াতে দ্বীনের শিয়ারকে সম্মান করতে বলা হয়েছে। ঐ আয়াতকে সামনে রেখে কাসানী রহ. বলেন,
فَيُسْتَحَبُّ أَنْ يُقَلِّدَهَا وَيُجَلِّلَهَا اعْتِبَارًا بِالْهَدَايَا، وَالْجَامِعُ أَنَّ ذَلِكَ يُشْعِرُ بِتَعْظِيمِهَا قَالَ اللَّه تَعَالَى {ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ} [الحج: 32]
হজ্জের পশুর মত কুরবানির গরুকে সাজানো এবং তার প্রতি আলাদা যত্নবান থাকা মুস্তাহাব। কারণ এতে পশুকে সম্মান করা হয় যা কুরআনে এসেছে।-বাদায়েয়ুস সানায়ে ৫/৭৮

৬. নিজ হাতে কুরবানি করা।

হযরত আনাস রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে দুটো নাদুসনুদুস দুম্বা কুরবানি করেছেন।- বুখারি হাদিস নং ৫৫৫৮।

ইমাম কাসানী রহ. (মৃত্যু ৫৮৭হি.) বলেন,
فَالْأَفْضَلُ أَنْ يَذْبَحَ بِنَفْسِهِ إنْ قَدَرَ عَلَيْهِ لِأَنَّهُ قُرْبَةٌ فَمُبَاشَرَتُهَا بِنَفْسِهِ أَفْضَلُ مِنْ تَوْلِيَتِهَا غَيْرَهُ كَسَائِرِ الْقُرُبَاتِ،
উত্তম হলো, যদি সক্ষম হয় তাহলে নিজের পশু নিজেই জবাই করা। কারণ কুরবানি করা ইবাদত। আর নিজের ইবাদত নিজে আদায় করাই সর্বোত্তম।- বাদায়েয়ুস সানায়ে ৫/৮৯
3👍3👎1
৭. নিজে ভালো করে জবাই করতে না পারলে অন্যকে দিয়ে জবাই করানো যাবে । তবে এক্ষেত্রে আলেমদের দিয়ে করানোই উত্তম।

ইমাম নববি রহ. (মৃত্যু ৬৭৬ হি.) বলেন,
وَلَهُ أَنْ يُوَكِّلَ فِي ذَبْحِهَا مَنْ تَحِلُّ ذَبِيحَتُهُ، وَالْأَوْلَى أَنْ يُوكِّلَ مُسْلِمًا فَقِيهًا، لِعِلْمِهِ بِشُرُوطِهَا.
নিজে জবাই করতে না পারলে অন্যকে দিয়ে জবাই করানো যাবে। তবে উত্তম পশু জবাইয়ের শরয়ী বিষয় জানেন এমন একজন আলেমকে দিয়ে জবাই করানো।- রওজাতুত তালেবিন ৩/২০০

৮. কুরবানির পশু নিজে জবাই না করলেও জবাইয়ের নিজে উপস্থিত থাকা সর্বোত্তম। এক্ষেত্রে পর্দার পরিপূর্ণ লক্ষ্য রেখে মহিলারাও উপস্থিত থাকতে পারেন। যদি কুরবানি মহিলার পক্ষ থেকে হয়।

ورواه أبو القاسم الأصبهاني عن عليّ ولفظه: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يا فاطمة قومي فاشهدي أضحيتك، فإنَّ لك بأوَّل قطرةٍ تقطرُ من دمها مغفرةً لكلِّ ذنبٍ.

হযরত আলী রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতেমা রা.কে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে ফাতেমা! তুমি তোমার কুরবানিতে উপস্থিত থাকবে। কারণ কুরবানির রক্ত মাটিতে পড়ার সাথে আল্লাহ তোমার সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন।- তারগিব ওয়াত তারহিব ২/১৫৫। মুস্তাদরাকে হাকেম ৪/২১১।
قال المنذري : وقدْ حسن بعض مشايخنا على هذا، والله أعْلمُ.(الترغيب والترهيب للمنذري ت عمارة ,٢/ ١٥٥)

ইমাম সারাখসি রহ. (মৃত্যু ৪৮৪হি.) বলেন,
فَإِنْ كَانَ يَخَافُ أَنْ يَعْجِزَ عَنْ ذَلِكَ فَالْأَفْضَلُ أَنْ يَسْتَعِينَ بِغَيْرِهِ، وَلَكِنَّهُ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَشْهَدَهَا بِنَفْسِهِ لِمَا رُوِيَ أَنَّ «النَّبِيَّ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - قَالَ لِفَاطِمَةَ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا - قُومِي فَاشْهَدِي أُضْحِيَّتَكِ فَإِنَّهُ يُغْفَرُ لَكِ بِأَوَّلِ قَطْرَةٍ مِنْ دَمِهَا كُلُّ ذَنْبٍ أَمَا أَنَّهُ يُجَاءُ بِلَحْمِهَا وَدَمِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
যদি নিজে পশু জবাই করতে না পারে তাহলে উত্তম হলো, অন্য কাউকে দিয়ে করানো। তবে নিজে উপস্তিত থাকা ভালো। কারণ হাদিসে উৎসাহিত করা হয়েছে।- আল মাবসুত ১২/১৮।

৭. গোস্ত তিনভাগে বন্টন করা।
قال أبو جعفر الطحاوي: وينبغي له أن يتصدق منها، ولا يقصر عن الثلث.

ইমাম তহাবী রহ. (মৃত্যু ৩২১হি.) বলেন, কুরবানির গোস্ত থেকে সদকা করা উচিত এবং তা একতৃতিয়াংশের কম না হওয়া চাই।- মুখতাসুত তাহাবী পৃ.৩০৬ আবু ওয়াফা আফগানী রহ.-র তাহকীককৃত নুসখা।

قال أحمد: الصدقة عندهم بالثلث استحبابًا.....
وقد روي عن عبد الله بن مسعود أنه كان يهدي الثلث منها إلى أولاد أخيه، ويأكل الثلث، ويتصدق بالثلث، وكذا قال أصحابنا في ذلك،
ইমাম জাসসাস রহ. (মৃত্যু ৩৭০হি.)বলেন, তিন ভাগের একভাগ সদকা করা মুস্তাহাব।...

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণনা করা হয়, তিনি একভাগ তার ভাতিজাদের হাদিয়া দিতেন। একভাগ নিজে খেতেন। আর একভাগ সদকা করে দিতেন। আমাদের ওলামায়ে আহনাফও এমনটিই বলেন।- শরহু মুখতাসারুত তাহাবী ৭/৩৩৭-৩৪১।

৮. গোস্ত পরিমানে কম হয় আর পরিবার বড় হয় তাহলে কাউকে না দিয়ে নিজ প্রয়োজন ও পরিবারের জন্যে গোস্ত রেখে দেওয়াই উত্তম। ইমাম কাসানী রহ. (মৃত্যু ৫৮৭হি.) বলেন,
إلَّا أَنْ يَكُونَ الرَّجُلُ ذَا عِيَالٍ وَغَيْرَ مُوَسَّعِ الْحَالِ فَإِنَّ الْأَفْضَلَ لَهُ حِينَئِذٍ أَنْ يَدَعَهُ لِعِيَالِهِ وَيُوسِعَ بِهِ عَلَيْهِمْ؛ لِأَنَّ حَاجَتَهُ وَحَاجَةَ عِيَالِهِ مُقَدَّمَةٌ عَلَى حَاجَةِ غَيْرِهِ قَالَ النَّبِيُّ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - «ابْدَأْ بِنَفْسِك ثُمَّ بِغَيْرِك.
ব্যক্তি যদি গরিব আর আর অসচ্ছল হয় তাহলে উত্তম হলো নিজ পরিবারের জন্যে রেখে দেওয়া। পরিবারের প্রয়োজন পুরণ করা অন্যের প্রয়োজন থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।-বাদায়েয়ুস সানায়ে ৫/৮১।

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ابْدَأْ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا، فَإِنْ فَضَلَ شَيْءٌ فَلِأَهْلِكَ، فَإِنْ فَضَلَ عَنْ أَهْلِكَ شَيْءٌ فَلِذِي قَرَابَتِكَ، فَإِنْ فَضَلَ عَنْ ذِي قَرَابَتِكَ شَيْءٌ فَهَكَذَا وَهَكَذَا» يَقُولُ: فَبَيْنَ يَدَيْكَ وَعَنْ يَمِينِكَ وَعَنْ شِمَالِكَ

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রথমে নিজের জন্য খরচ করো। যদি অতিরিক্ত হয় তাহলে পরিবারের জন্যে খরচ করো। আরো অতিরিক্ত হয় তাহলে আত্মীয়স্বজনের জন্য খরচ করো।-সহিহ মুসলিম হাদিস নং ৯৯৭

(হাঁ, তবে কেউ যদি পুরো অংশই নিজের জন্যে রেখে দিতে চায় কোনো কারণ ছাড়া তাও জায়েয হবে। -আলমুহিতুল বুরহানি ৬/৯৪)

আল্লাহ আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করে নিক। এবং কুরবানির পূর্ণ শিক্ষা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুক। আমীন।
13👍3