Abdullah bin bashir
11.3K subscribers
431 photos
90 videos
95 files
194 links
প্রয়োজনীয় পিডিএফ ও ব্যক্তিগত নোট
Download Telegram
দরদি মালির কথা শুনো।
😁31🤣9👏2😱1
আরেকদিনের স্বপ্ন...

দেখছিলাম, শরীর অনেক খারাপ ছিলো। এশার জামাত আর তারাবি হারামে না গিয়ে হোটেলেই পড়ে ফেলার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু আল্লাহ এমন পবিত্র স্থানে আসার তাওফিক দিয়েছে তার না-শোকরি যেন না হয় তাই হিম্মত করে বের হলাম। সাথে ইহরামের কাপড়ও নিলাম যদি শরীর সাড়া দেয় তাহলে তাওয়াফ করেই আসবো। জাবালে ওমরের কাছাকাছি আসতেই দেখি দুজন আফগানি নামাজের জন্য হেটে যাচ্ছে। এক জনের পাগড়ি আর অপরজনের আফগানি টুপি দেখেই আলাদা করে চিনা যায় তাদের পরিচয়। সাথে তাদের দেহ কাঠামো আর চলার ভঙ্গি আরেকটি পরিচয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে এরা তা*লে*বান!

পিছু নিলাম, আজ এদের সাথেই নামাজ পড়বো। বহু ভীড় ঠেলে আমি তাদের পিছনেই রইলাম। এক জায়গায় ফরজ পড়ার পর পুলিশ উঠিয়ে দিলো সেটা রাস্তা ছিলো তাই। আবার তাদের পিছনে চলা শুরু। লিফট দিয়ে উঠে তৃতীয় তলায় একটু ফাকাঁ পেয়ে তারা দাঁড়িয়ে গেলো আমি হতাশ মনে একটু সামনে যেতেই খেয়াল করলাম তাদের দুজনের পিছনে একজন দাঁড়ানো পরিমাণ জায়গা আছে। নিয়ত বেধে ফেলার আগেই বললাম, আমি পিছনে যেতে চাই, হেসে জায়গা দিলো। পুরো নামাজ শেষ না করেই তারা উঠে যায় কি না এমন একটা উৎকন্ঠা ছিলো ভিতরে। কারণ এখানে দশ রাকাত তারাবিহ হয়, আবার বিতরও হানাফিদের থেকে ভিন্ন। দেখলাম, ওরা পুরো নামাজই পড়লো, এবং শেষ করে বসলো। আমি দুরুদুরু মনে সালাম দিলাম, এত কষ্টের পর যদি শুনি, এরা আরবি বা উর্দু কিছুই পারে না তাহলে তো আশা শেষ! সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, উর্দু ইয়া আরবি, প্রথমজন কোনোটাই জানে না বলে মাথা নেড়ে দ্বিতীয়জনের দিকে তাকালো, সে মুচকি হেসে বললো, উর্দু খুবই অল্প বুঝি। আমি মনে মনে আল্লাহর শোকর আদায় করে এগিয়ে গেলাম আরেকটু। বেশি কথা বলার সুযোগ হবে কি না তাই আমি বাংলাদেশি পরিচয় দিয়েই কথা শুরু করলাম, ‘আল্লাহ আপনাদের যে নেয়ামত দিয়েছে দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমদেরও তা দেয়’। সে বললো, অবশ্যই! আল্লাহ পুরো দুনিয়ার সকল ভুখণ্ডে ইসলামি নেজাম কায়েম করার তাওফিক দান করুক। তার কথা শুনে দিলটা ভরে উঠলো, আলহামদুলিল্লাহ, সে শুধু আফগান নিয়েই না, পুরো দুনিয়া নিয়ে ফিকির করে। প্রকৃত মু*জা*হিদের এমনই হওয়া উচিত। একটু খটকা ছিলো, সে সাধারণ আফগানি না তা*লে*বানও! জিজ্ঞাসা করবো কি না ভেবে পাচ্ছিলাম না, কারণ নিরাপত্তা জনিত কোনো সমস্যা হয় কি না!? তাও সাহস করে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি তা*লে*বান? সাথির দিকে তাকিয়ে হেসে বললো, হাঁ, আমি তা*লে*বা*ন। কাবুল বিজয়ের দিন আমি সেখানেই ছিলাম। আমি তার হাত ধরে চুমু খেলাম। সে একদম অপ্রস্তুত হয়ে হাত সরিয়ে নিতে চাইলো, পারলো না। এই প্রথম কোনো তা*লে*বা*নের সাথে আমার সাক্ষাত, দীর্ঘ পাঁচ বছর যাদের বিজয়ের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছি, যাদের বিজয়ের খুশিতে সাথীদের মিষ্টি আর বিরিয়ানি খাইয়েছি, আজ তাদের দুজন সদস্যের সামনে বসে আছি, কথা বলছি! আলহামদুলিল্লাহ! সেদিনের দেখা সে স্বাদ আজও অনুভব করি।

আফগানিস্তানের বিভিন্ন হালত জিজ্ঞেস করলাম। এক পর্যায়ে পাঞ্জেশিরের বর্তমান অবস্থা জিজ্ঞাসা করলে সে অবাক হলো। আমি সেখানের বিভিন্ন প্রদেশের হালতের ব্যাপারেও খোঁজ রাখি যেনে খুশি হলো। বললো, প্রথমে কিছু সমস্যা ছিলো। এখন ওদের কোনো জামাত আর সেখানে সক্রিয় নেই, সব ঠিক হয়ে গেছে। তবে আই *এ*স খারেজিদের কিছুটা সমস্যা চলছে।

আমি সুযোগ বুঝে জিজ্ঞাসা করলাম, আমাদের দেশের অনেকেই এটা বলে, তা*লে*বান আর কা*য়ে*দা সম্পূর্ণ ভিন্ন জামাত। তারা বিরোধি। সে অবাক হয়ে বললো, কখনোই না। তারা আমাদের সাথি। পাশে বসা তা*লে*বান বললো সিয়াসি কিছু পার্থক্য রয়েছে। এছাড়া আমরা একটাই জামাত। আমি এবার আসল প্রশ্ন করলাম, টি*টি*পি কী আপনাদের সাথী? সে সাথির দিকে তাকিয়ে হেসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, আপনি টি*টি*পিকে কীভাবে দেখেন? বললাম, আমি দুনিয়ার সকল মু*জা*হি*দকেই ভালোবাসি, যাদের অস্ত্র কু*ফ*ফারদের দিকে দেওয়া তাদের জন্যই আমার দোয়া।
মাশাআল্লাহ, বহুত আচ্ছা বলে জানালো, আসলে তারা আমাদেরই একটি জামাত। আমাদের বহুত সাথী, আফগান জি*হা*দ শেষ করে এখন সেখানে কাজ করছে। আমরা সম্পূর্ণ এক জামাত, আমাদের উদ্দেশ্য একই। রাজনৈতিক কিছু বক্তব্য আমরা দিতে বাধ্য হই। কিন্তু তা কখনোই সত্য নয়। আর মিডিয়ার কথা কখনোই বিশ্বাস করবেন না। এটা বলেই সে মোবাইল বের করে কয়েকটা ছবি বের করলো, আমাকে দেখিয়ে বললো, আমাদের সাথী, সে শহিদ হয়েছে পাক সেনাদের সাথে যুদ্ধ করে। আমাদের এখন রোখ ঐদিকেই। বললাম, পাকিস্তানের একদল আলেম তো তো টি*টিপির বহু বিরোধিতা করছে, এটাকে কীভাবে দেখেন? সে আফসোস করে বললো, এটা খুবই দুঃখজনক, সেখানে অনেক বেশি বিরোধিতার শিকার তারা। তবে আল্লাহ ভরসা ঠিক হয়ে যাবে। জিজ্ঞাসা করলাম, তাকি সাহেব কিছুদিন আগে এক সাক্ষাতকারে বললো, টি*টি*পির সাথে আপনাদের কোনো সম্পর্ক নেই। দুইজনই হেসে দিলো। বললো, তাকী সাহেব অনেক বড় আলেম, কিন্তু... সে আর কথা আগালো না। আমিও জিজ্ঞাসা করিনি, বুঝে নিয়েছি সে কী বলতে চায়।
👍95🔥4
আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কত বছর তা*লে*বানদের সাথে? সে বললো, দশ বছর হবেই। আমি কাবুলেরই সন্তান। সেখানের একটি স্কুলে পড়তাম। জিজ্ঞাসা করলাম, কাজের শুরুতে আলেমরা কী তা*লে*বানদের বিরোধিতা করতো না? বললো, আরে আমি যে মসজিদে সিক্রেট এজেণ্ট ছিলাম, সেখানের ইমামও তা*লেবা*নদের বিরোধী ছিলো। এমন প্রচুর ছিলো। আবার আলহামদুলিল্লাহ একদল আলেম তাদের সাধ্যমতো প্রকাশ্যে গোপনে বিভিন্নভাবে আমাদের সমর্থন করে গেছে। আমাদের স্কুলে ডেমোক্রেসিকে ভালো দৃষ্টিতে পড়ানো হতো। আমাদের পরিক্ষাতেও প্রশ্ন এসেছে ডিমোক্রসি কী সে সম্পর্কে।আমি লেখে দিয়েছি এটা একটি কু*ফরি শাসন। আমি হেসে দিলাম, বললাম, নাম্বার কাটেনি? সে মুসকি হাসি দিয়ে বললো, শুধু নাম্বারই কেটেছে, আর কিছুই করতে পারেনি! বললাম, এই শিক্ষাব্যবস্থা কী এখন তা*লে*বানরা পরিবর্তন করছে না?
‘শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন করছে না, বাকি কারিকুলাম পূর্ণ পরিবর্তন করছে’। উত্তরে বললো।

আমাদের দেশের অবস্থা জিজ্ঞাসা করল, বললাম হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনের কথা, কীভাবে সব জায়গায় এরা বসে গেছে!? হেসে দিয়ে বললো,.... জন্য দাঁড়িয়ে যান দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে।
বেশ অবাক হলাম, আমি যতই সমস্যার কথা বলি তার একটাই সমাধান তার কাছে...। যেনো এটা করলেই সকল সমস্যাএ সমাধান একবারেই করা সম্ভব। সবকিছুতেই তাদের সে নববি শিক্ষা। আমাদের তো শুনতেই ভয় কাপ উঠে।

কথা শেষে উঠে দাঁড়ালাম। বললো, আফগান জাতি বহু কোরবানি দিয়ে আজকে এখানে এসেছে, এমনও ঘর আছে যেখানে বারো-তেরোজন পুরুষ নিহত হয়েছে। আপনারাও কোরবানি করার ফিকির করেন, আমরা বিশ বছরে যা পেরেছি আপনারা আরো দ্রুত পারবেন। আরে জি*হা-দের যে মজা তা এই হারামেও আপনি পাবেন না। দেখেন, প্রতি বছর কত মানুষ শুধু অসুস্থতাই মারা যায়? তার দশ পার্সেণ্টও যদি জি*হা*দের ময়দানে মারা যেতো তাহলে আজকের পৃথিবীর চিত্র ভিন্ন থাকতো।... আমার পুরো শরীরে ভয়ের একটা কাপুনি উঠে গেলো!

....
এরপর আর কিছুই মনে নেই।...
39🔥5
جہاد افغانستان .pdf
30.7 MB
বইটির নাম "জিহাদে আফগানিস্তান"। বইটি লেখেছেন মুফতি নুর মুহাম্মদ সাহেব, যিনি দারুল উলুম ওনা ওজিরিস্তানের মুহতামিম। বইটির শুরুতে পাকিস্তান ও আফগানের বিখ্যাত সব আলেমদের প্রশংসাবাণী উল্লেখ রয়েছে। মুফতি নুর মুহাম্মদ সাহেব ওজারিস্তানসহ ঐ অঞ্চলের অন্যতম বিখ্যাত ও গ্রহণযোগ্য আলেম হিসেবে প্রসিদ্ধ। উনি ইলমি ময়দানে যেমন বিখ্যাত মানুষ তেমনি, রাশিয়াদের আক্রমণের সময় ইসলাম ও আফগান রক্ষায় সশস্ত্র অংশগ্রহণও করেছেন।
27👍4
Abdullah bin bashir
جہاد افغانستان .pdf
"জি*হা*দে আফ*গানিস্তান" শিরোনামে আজ একটি বইয়ের সন্ধান পেলাম। বইটি লেখেছেন মুফতি নুর মুহাম্মদ সাহেব, যিনি দারুল উলুম ওনা ওজিরিস্তানের মুহতামিম। বইটির শুরুতে পাকিস্তান ও আফগানের বিখ্যাত সব আলেমদের প্রশংসাবাণী উল্লেখ রয়েছে। মুফতি নুর মুহাম্মদ সাহেব ওজারিস্তানসহ ঐ অঞ্চলের অন্যতম বিখ্যাত ও গ্রহণযোগ্য আলেম হিসেবে প্রসিদ্ধ। উনি ইলমি ময়দানে যেমন বিখ্যাত মানুষ তেমনি রাশিয়াদের আক্রমণের সময় ইসলাম ও আফগান রক্ষায় সশস্ত্র অংশগ্রহণও করেছেন।
বইটির সন্ধান পাই মূলত বর্তমান পাকিস্তানের অন্যতম একজন কর্মঠ ও গ্রহণযোগ্য আলেম মুফতি উবাইদুর রহমান সাহেবের একটি বইতে, যেখানে মুসলিম গোয়েন্দা হত্যার একটি ইখতিলাফ নিয়ে আলোচনার প্রক্কালে সর্বশেষ সমাধান হিসেবে নূর মুহাম্মদ সাহেবের হাওয়ালা উল্লেখ করেন ও টিকাতে বইটির নাম দেন।
যাইহোক এতগুলো কথা বলার মাকসাদ হলো বইটার সূচি ও কিছু আলোচনা দেখে আমি তব্দা খেয়ে বসে আছি! উনি সে সময় যে মাসআলাগুলো লেখে গেছেন ও যে বিষয়গুলোকে জি*হা*দের জন্য ক্ষতিকারক ও শ্ত্রুপক্ষের অপপ্রচার হিসেবে চিহ্নিত করে গেছেন সে মাসআলাগুলোকে এখন আমাদের একদল নির্ভরযোগ্য আলেম 'জমহুর আলেমের মত' হিসেবে নিজেদের বইতে উল্লেখ করছে এবং সে বই অনেক বড় আলেমদের তত্ত্ববধানে প্রকাশিতও হচ্ছে! হায় আল্লাহ!
যাইহোক, বিভিন্ন উস্তাদদের আদেশে আমি সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না, আপনারা উপরে উল্লেখ করা বইটি পড়বেন ইনশাআল্লাহ। বাস, এতটুকুই কথা।
25👍9
এমনো তো হতে পারে রাইসি তাদের বারোতম ইমামের গুহায় গেছে, তাদের ইমাম দাজ্জালকে দ্রুত বের হয়ে আসার জন্য আহবান করতে।🤣
😁45👍1
সজলের মত জামাতের ছেলেগুলো কখনোই বুঝবে না ইরাক, সিরিয়া,ইয়ামেন আর ফিলিস্তিনের লক্ষ লক্ষ আহলুস সুন্নাহের মানুষের উপর শিয়া কর্তৃক অত্যাচারের বাস্তবতা। জামাতের অন্যতম বড় বিচ্যুতি আমার কাছে এটাও মনে হয়, এদের কাছে হাজারো ইসলাম বিরোধি কাজ হোক বাকি শাসক যদি একটু উন্নতি করে, একটু ইসলামি ফ্লেভার লাগিয়ে ফেলে তাহলে বাস, এ শাসকের সাত খুন মাফ। এত বড় কর্মঠ একটি জামাত অথচ আকিদার মাসআলায় এরা কতটা মিসকিন!
👍37🔥9😁4
Forwarded from Hasan
ইমারতের একটা প্রতিনিধিদল রাইসিরা জানাযায় যাওয়ার ব্যাপারটা সমর্থনযোগ্য না, যেমনিভাবে আমরা তাদের খেলাধুলার সমর্থন করিনা। তালিবরা সাহাবাদের জামাত না, তাদের ভুল বিচ্যূতি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। শোকবার্তা পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজি পর্যন্ত ঠিকাছে কিন্তু জানাযায় অংশগ্রহণ করা আমাদের কাছে সমর্থিত না। পৃথিবীতে সাহাবাদের পর কোন খেলাফতই ত্রুটি এবং ভুল বিচ্যূতি থেকে মুক্ত ছিলো না। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীতে তালিবরাই একমাত্র, যারা পরিপূর্ণভাবে শরিয়াহ বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু তাদের এই বিচ্যূতির সুযোগ নিয়ে যারা খারেজি মতবাদ চিন্তাধারা প্রচার করে, তারাই হলো আলী রাদিআল্লাহু আনহুর সময়কা খা***জিদের আদর্শিক উত্তরসুরী।

আলী রাদিআল্লাহু সময় নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছিলেন, উসমান হত্যাকারীদের শাস্তির জন্য আগে নিজের শাসন মজবুত করে ধীর গতিতে আগাতে চাচ্ছিলেন, কিন্তু খা**জিদের তাড়াহুড়ো প্রবণতা এবং তাদের বিপজ্জনক মানসিকতা উম্মতকে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে ফলে মুসলমানদের মধ্যেই তারা সংঘর্ষ বাঁধিয়েছে তারা। ইমারত মানদণ্ড হতে পারবে না, তবে মানদণ্ডের মতো হওয়ার চেষ্টা করে, ইমারত হচ্ছে আমাদের দৃষ্টান্ত, আর সাহাবাদের যুগে হলো মানদণ্ড। ফেতনাবাজ দল আজো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের দায়িত্ব উম্মতকে সতর্ক করা এবং যতটা সম্ভব ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা। ইমারত তার ভুল‌ বিচ্যূতি নিয়েই তারা খা*দের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন সন্দেহ ছাড়াই।

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কখনো উম্মাহর উপকার করে নাই, বরং তারা সবসময়ই ধর্মীয় অস্থিরতা এবং ফেতনার কারণ হয়েছে।

اللهم ارنا الحق حقا وارزقنا اتباعه وارنا الباطل باطلا وارزقنا اجتنابه

“ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের হক'কে হক হিসেবে চেনার এবং তার অনুসারণের তৌফিক দান করুন, এবং বাতিলকে বাতিল হিসেবে জানার এবং তা থেকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুন।”
👍3110
শরীয়া অনুযায়ী ভুখন্ড পরিচালনা করে খারেজিদের যেখানে জামাতে সাহাবার শ্রেষ্ঠ জামাত খোলাফায়ে রাশেদীনের অন্যতম হযরত আলী রা. ও খাইরুল কুরুনের খলিফাগণ সন্তুষ্টি করতে পারেনি, সেই খারেজিদের উত্তরসূরিদের তালেবানরা কীভাবে সন্তুষ্ট করবে!? কস্মিনকালেও সম্ভব না। তবে এখানে একটি কথা আছে, তালেবানদের কাছে উম্মতের প্রত্যাশা অনেক বেশি, তাই সেই প্রত্যাশার জায়গা থেকে কেউ যদি তাদের কোনো পদক্ষেপে কিছুটা আক্ষেপ করে তাহলে সেটা ভিন্ন বিষয়। তবে কোনটা আক্ষেপের সমালোচনা আর কোনটা বিদ্বেষের সমালোচনা সেটা ব্যক্তির শব্দচয়ন ও সার্বিক কার্যক্রমেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
32👍2
আফগানিস্তানের ইমারত সরকারের বিভিন্ন ভালো কাজগুলোর প্রতিবেদন এখন অনেক চ্যানেল করছে। বিশেষত অনেক ইসলামি পক্ষের সংবাদ নিউজ ও চ্যানেলগুলো খুব চমৎকার করে মুসলমানদের দিল শীতলকারী সে সংবাদগুলো উম্মতের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে এতে আমরা তাদের শুকরিয়া জানাই। সাথে আমরা এটাও না ভুলি এই সবকিছু হয়েছে তালেবদের বিজয়ের পরে। কিন্তু তালেবদের বিজয়ের পূর্বে আমাদের যে সকল ভাই জীবনের মায়া ত্যাগ করে মৃত্যু পরোয়ানা বা অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলের ভয় মাথায় নিয়ে সর্বদা আমাদের জন্য তালেবদের নিউজগুলো প্রতিনিয়ত সরবরাহ করেছে যখন বিশ্বের সকল নিউজ ছিলো একদম নিশ্চুপ, সেই ভাইদের কুরবানিকে যেন আমরা ভুলে না যাই। বা তাদের সেই অবদানকে এখন বিজয়ের পরের সময়ের নিউজারদের দেখে আমরা খোটা না দেই, এই নিউজাররা তালেবদের খবর প্রচার করছি ভেবে এক ভিন্নরকম আত্মতুষ্টিতে না ভুগি।
39👍2😭2
বানুরীটাউনের ওলামায়ে কেরাম ও তাদের ইলমি খিদমাত।

কিতাবটির প্রথম সন্ধান পাই দেড় বছর আগে। অনলাইনে একটি ছবি দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম পঞ্চাশ বা একশো পৃষ্ঠার ছোট কোনো বই আজ মাকতাবায় গিয়ে যখন প্রথম দর্শন হয় দেখি ইয়া মোটা একটি বই! ৭৮৭ পৃষ্ঠা!!

বানুরীটাউনের একজন ফারেগ কাজটি করেছেন। বানুরীটাউনে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যতজন আলেম পড়িয়েছেন এনন চল্লিশজন আলেমের পরিচয় ও তাদের বিভিন্ন ইলমি খেদমাত নিয়ে বইটি লেখা! বানুরীটাউনের ওলামামায়ে কেরামের এমন অসংখ্য তাসনিফের এখানে সন্ধান মিলবে যা হয়তো অনেকে জানতোও না। কাজটা যে কত উপকারী একটি কাজ হয়েছে এটা শুধু রুচিশীল আহলে ইলমগণই অনুধাবন করতে পারবেন, আমার মত তালেবে ইলমের জন্য তো এতটুকুতেই অনেক খুশি লাগতেছে, একটি কিতাবে অনেক মহান ব্যক্তিদের সাথে পরিচয় ঘটবে, যারা সময়ের স্রোতে গা না বাসিয়ে উম্মতকে তুরাসেত সাথে পূর্ণ সম্পৃক্ত করে রেখেছেন এখনো।

আরো মজার বিষয় মাটির গর্ব মুফতিয়ে আজম মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী রহ.-এর পরিচয় ও হযরতের তাসনিফের একটি তালিকা এখানে এসে গেছে আলহামদুলিল্লাহ।
31🔥2👍1
চাটগামী রহ.-এর পরিচয় ও কিতাবগুলোর তালিকা।
33👍2
আমার আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর জন্য আফসোস হয় না, কারণ সে একজন ভারসাম্যহীন মানুষ, আমার দুঃখ লাগে এখনো একদল লোক তার অনুসরণ করে, এর থেকেও আরো দুঃখ লাগে একদল সচেতন লোক তার পক্ষে ইনিয়ে বিনিয়ে সাফাই গায়, সে অনেক গাইরাতবান ইত্যাদি! অথচ বিক্রমপুরীর যতটা না এসকল মাথামোটা কর্মকাণ্ড গাইরাতের কারনে করে থেকে তার থেকে বেশি করে থাকে জাহালাতের কারনে। সে অল্প কিছু জেনে ভাবে সে জেনে গেছে অনেক কিছু। তার আরেকটা মৌলিক সমস্যা হলো সে মুসলিমদের তাকফির ও গালাগালি করে মজা পায়। একারনে তাকফির বা গালাগালি সংক্রান্ত ছোট্ট কিছু পেলেই যা বিশেষ কিছু বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত সেটাকে সে সকল মুসলমানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে ফেলে বারবার করতেই থাকে। আল্লাহ এমন মানুষদের থেকে উম্মতকে হেফাজত করুন। আমীন।
👍4510
ما من دين زال سلطانه إلا بدلت أحكامه وغيرت سنته كما أن السلطان إذا عرى عن الدين كان السلطان قهر و مفسد دهر

যে ধর্মের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা শেষ হয়ে যায় তার বিধিবিধান ও জীবনধারণ পদ্ধতিও আসল রূপ থেকে পরিবর্তন হয়ে যেতে থাকে, যেমন কোনো শাসক যদি ধর্মহীন হয়ে যায় তাহলে সে জালেম ও সময়ের অন্যতম ফাসাদ সৃষ্টিকারীতে পরিণত হয়। -বাদায়েয়ুস সুলুক ফি তবায়েয়ুল মুলুক ১/১০9
14👍2
ইফতেখার জামিলকে জ্ঞানপাপী বললে খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হবে না। কারণ, সে অনেক সিন্ধান্ত জেনে বুঝেই দেয়। এবং এটা করে তার মতের বিরোধীদের দমন করা বা কোনঠাসা করতে। সে তার এক প্রবন্ধে দা্বী করেছে "সশস্ত্র ধারা উঠে এসেছে মডারেট ধারা থেকে, সুতরাং সশস্ত্রধারা ঠিকে থাকতে হলে বা সসস্ত্র ধারা মডারেট ধারা ছাড়া কল্পনা করে বোকামি", একজন জ্ঞানচর্চাকারী কতটা মূর্খের কাতারে নেমে আসলে এগুলো বলতে পারে! যুক্তিটা কেমন জানি এমন হল, আরবের মুসলিম ধারা ঠিকে থাকতে হলে কুরাইশদের কুফরি ধারা ঠিকে থাকা জরুরি, কুরাইশদের কুফরিদ ধারা বাদ দিয়ে আরবের মুসলিম ধারা কল্পনা করা বোকামি! লজিকম্যানদের লজিক! এদের কাছে বাস্তবতা বুঝে তাওবা বা সঠিক সিন্ধান্তের কোনো দাম নেই। সে যে এটা বুঝে না, তা না, সে এগুলো করে খুবই চাতুরতার সাথে, বিপক্ষকে দমন করতে। সে সকল সেকুলার বা গোড়া ফ্যামিনিষ্টদের বিপক্ষে লেখে তখন পূর্ণ সতর্কতা আর ইহতিরামের সাথেই লেখে, কিন্তু জিহাদ বা তার ভাষার সশস্ত্র ধারার বিরুদ্ধে লেখে তখনই তার ভিতরের মডারেট শয়তান বের হয়ে আসে।

তার আরেকটা সমস্যা হলো সে সশস্ত্র (পড়ুন বর্তমান সময়ের জিহাদের যেকোনো পদক্ষেপ) যেকোনো চিন্তা ও ধারাকে সর্বদা সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে এবং এরা খারাপ এমন একটা ধারণা প্রথমেই ঠিক করে এদের ব্যাপারে সামনে কথা বলে যার কারণে সে কখনোই সশস্ত্র কোনো ধারা সম্পর্কেই (আমার দেখা) সঠিক সিন্ধান্ত বা সঠিক কথা বলতে পারেনি। সে দাবী করেছে সশস্ত্র ধারা নাকি ট্রেডিশনাল নয় এগুলো মূলত মডারেট! অর্থাৎ, সে প্রথমেই সিন্ধান্ত পৌছে যাচ্ছে যে, দুনিয়ার সকল সসস্ত্র ধারাই হলো সালাফি! চিন্তার দৌড়ত্ব দেখেছেন! সে যে মূল বিষয় জানেনা এটা আমি বিশ্বাস করি না। সে এই ফলাফলে ইচ্ছাকৃতই পৌছে। কারণ এদেশে সশস্ত্র যেকোনো ধারাকে আলেমদের মাধ্যমে ধরাশায়ী করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিই হলো তাদেরকে সালাফি ট্যাগ দিয়ে দেয়া, আর সে এই কাজটা খুব ভালোই করে ও করতে পারে। এজন্যই ইফতেখার জামিলকে আমি যথেষ্ঠ সম্মান করলেও ও তার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও তাকে আমি একজন জ্ঞানপাপীই মনে করি, যার অত্যাধিক জ্ঞান চর্চা তার জন্য রহমত না হয়ে অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাইহোক, তার ব্যাপারে একটা বাস্তবতা এটাই সে মডার্নিজমের বিরুদ্ধে কথা বললেও তার অসংখ্যা সিন্ধান্ত মডারেট ধারার পক্ষেই যায় সর্বদা। তাই তার থেকে জ্ঞান নেয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে।
👍39🥰63🔥3
মুসলিম সমাজে পশ্চিমা ভাবধারার আলোকে ইসলামকে সংস্কারের পক্ষে যারা আওয়াজ তুলে তাদের সকলের কার্যক্রম ও চিন্তাধারাকে এক কাতারে ফেলা যায় না। একেকদল একেকদৃষ্টিভঙ্গি থেকে মডার্নিজম ও তার মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে মুসলমানদের কাছে পরিচিত করাচ্ছে। তাদের সকলকে আমরা তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি।
১। প্রথম দল হলো যারা ইসলামের জ্ঞানতত্ত্বকে অস্বীকার করে না। তারা পশ্চিমের তৈরি হওয়া মডার্ন সকল কিছুকে ইসলামের জ্ঞানের মাঝে তালাশ করে। এবং সালাফদের চিরচারিত ব্যাখ্যা ছেড়ে দিয়ে পশ্চিমা সকল মূল্যবোধ আর জ্ঞানকে এমন ব্যাখ্যা দিয়ে হাজির করে, যেন পশ্চিমের সকল জ্ঞান, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি এই সবকিছু ইসলামেরই সৃষ্টি! তারা কখনো বলে, গণতন্ত্রের সঠিক ধারনা তো ইসলামই সর্বপ্রথম পেশ করেছে, আবার কখনো বলে, মাল্টিকালচারালিম (একই সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সমানঅধিকারের সাথে বসবাস) তো মদিনা সনদেই পাওয়া যায়! কখনো বলে বসে, ইমাম আবু হানিফাই হলো আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার প্রবর্তক! কখনো দলিল নিয়ে হাজির হয়—বাকস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতাই হলো ইসলামের মৌলিক শিক্ষা! ইসলামি গণতন্ত্র, ইসলামি সমাজতন্ত্র, ইসলামি পুঁজিবাদ, ইসলামি নারীবাদ—এককথায় আধুনিক পশ্চিমের সকল বিষয়ের যোগসূত্র এরা খুঁজে পায় ইসলামের মাঝে!
এই শ্রেণি পশ্চিমে তৈরি হওয়া সকল জাহিলিয়্যাত ও মডার্ন ধ্যানধারনার আবশ্যকীয় প্রতিটি অংশকে টেনেটুনে ইসলামের পোশাক পড়ানোর অপ্রাণ চেষ্ঠা চালায়! এরা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো ইসলামের ও পশ্চিমের মাঝে একটি ব্রীজ তৈরির কাজ করে, কিন্তু এই ব্রীজে শুধু একমুখি চলাচল করা যায়। আজ পর্যন্ত এই ব্রীজ দিয়ে শুধু পশ্চিমা চিন্তাধারাগুলোই ইসলামের মাঝে প্রবেশ করেছে, ইসলামের কিছু পশ্চিমে প্রবেশের সুযোগ পায়নি।
২। দ্বিতীয় শ্রেণি হলো, যারা মোটদাগে ইসলামের জ্ঞানতত্ত্বকে স্বীকার করলেও ইসলামের মুতাওয়ারাস ফিকহকে (যুগ পরম্পরায় দ্বীনের যে জ্ঞানতত্ত্ব ফকিহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসরি ও মুতাকাল্লিমিন ওলামাগণ দিয়ে গিয়েছেন) স্বীকৃতি দেয় না। তাদের বক্তব্য হলো, পূর্বের ফকিহরা যে সমাধান দিয়ে গিয়েছেন তা শুধুই সে সময়ের সাথেই নির্ধারিত, ফকিহরা তাদের সময়ের মত করে ইসলাম ব্যাখ্যা করেছে তাই আমাদেরও দায়িত্ব হলো আমরা আমাদের সময়ের আলোকে ইসলামের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করবো। এই শ্রেণির মাঝে এইজন্য ব্যাপাকভাবে ‘উরফ’, ‘মাকাসেদে শরিয়া’ ইত্যাদি বিভিন্ন ইসলামের পরিভাষার আগ্রহ ও চর্চা দেখা যায়। যেগুলোর মাধ্যমে ফকিহদের স্পষ্ট সমাধানগুলোকে তারা বাতিল করে দিতে পারে। এরা পশ্চিমের তৈরি হওয়া ও পশ্চিমা মূল্যবোধের জন্য আবশ্যক এমন প্রতিটি বিষয়কে কুরআনের আলোকে প্রমাণ করে দেখানোর চেষ্টায় লিপ্ত থাকে!
৩। তৃতীয় ও সবচেয়ে নিকৃষ্ট শ্রেণি হলো, সেকুলার শ্রেণি। এরা শুরুতেই প্রচার করে ধর্ম একজন মানুষের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। ইসলামে ব্যক্তিগত কিছু ধর্মীয় বিষয় ছাড়া রাষ্ট্র, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ে সুনিশ্চিত কোনো ধারণা নেই। বরং যেকোনো উপযোগি বিষয় এসবক্ষেত্রে গ্রহণ করাই হলো ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। এরা শয়তানি চিন্তার উপর প্রতিষ্ঠিত হিউমান রাইটস, গণতন্ত্র, লিবারেলিজম ইত্যাদিকে ইসলামের মৌলিকত্বের সাথে কোনো সাংঘর্ষিক নয় বলে মত প্রচার করে।
এই তিন শ্রেণি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ক্ষেত্র বিশেষ একেঅপরের খণ্ডনে লিপ্ত হলেও মূলত এদের কাজ একে অপরের সহযোগি হয়ে যায়। এরা কখনো একে অপরকে বাতিল বললেও তাদের দাবি ও সমাধানগুলো দিনশেষে সে বাতিলের পক্ষে গিয়েই দাঁড়ায়—পশ্চিমা আধুনিকতাকে ইসলামিকরণ করা।
....
সর্বশেষ মনে রাখতে হবে, মডার্নিজম বা আধুনিকতাবাদ মুসলিমদের জন্য এক বিশাল ফিতনা। কোনো মুসলিম আধুনিকতাবাদের বিশ্বাসি হতে পারে না। পারে না, আধুনিকতা অবলম্বন করে ইসলামের বিজয়ের স্বপ্ন দেখতে। কারণ আধুনিকতার মরীচিকায় দৌড়াতে দৌড়াতে যদি কখনো মুসলিমরা পশ্চিমের উপর বিজয়ই হয়ও ততদিনে ইসলাম আর তাদের মাঝে থাকবে না। ইসলামের সকল মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে যে বিজয় তা কখনোই ইসলাম হয় না ও হবে না। বরং তাই হবে পশ্চিমা সভ্যতার আরেকটি বিজয় ও আরেকটি রূপ! আল্লাহ মুসলমানদের বাস্তবতা বুঝে এই ফিতনাকে সমূলে উৎখাত করার তাওফিক দান করুক। আমীন।

'মডার্নিজম : খোদাদ্রোহী একজীবন দর্শন' প্রবন্ধ
পশ্চিমা সভ্যতা নিয়ে প্রকাশিতব্য বই থেকে

(সকলের কাছে বিশেষ দোয়া চাই, উস্তাদদের পক্ষ থেকে বইটি প্রকাশ করার জন্য বলা হয়েছে, তাই নতুন করে কাজটি আবার শুরু করেছি।
18🥰8👍2
আলোচনার আগে একটি বিষয় ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। তা হলো ‘যুক্তি’ ব্যাবহার ইসলামে একটি প্রশংসিত বিষয়। আল্লাহ মানুষকে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে নিজেদের যুক্তি ও মেধা ব্যায় করে আল্লাহকে চিনার জন্য বারবার উদ্ধুদ্ধ করেছেন। এ থেকে কতক মানুষ ধারণা করে বসে, যুক্তিবাদ কুফরি হবে কেন! যাদের মন এধরনের প্রশ্ন আসে তাদের কাছে মূলত পশ্চিমা যুক্তিবাদ স্পষ্ট নয়। তারা জানে না, পশ্চিমা দার্শনিকরা যুক্তিকে কোন অর্থে ব্যবহার করে থাকে। যুক্তিবাদের বিস্তারিত পরিচয়ে যাওয়ার আগে পশ্চিমা সভ্যতার সর্বজন স্বীকৃত রুশোর যুক্তি নিয়ে একটি মন্তব্য দেখে নেওয়া যাক। সে তার জগত বিখ্যাত বই ‘সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ বইতে লেখে, “যে মুহূর্তে ব্যক্তি যুক্তির বয়স অর্জন করে, সে-মুহুর্তে সে নিজের প্রভুতে পরিণত হয়। কারণ তার অস্ত্বিত্বের সর্বোত্তম নিশ্চয়তা কিসে, এখন সে নিজেই তার নির্ধারক।’’

প্রবন্ধ : লিবারেলিজম; ধর্মকে জীবন থেকে মুছে ফেলার স্বাধীনতা
পশ্চিমা সভ্যতা নিয়ে প্রকাশিতব্য বই থেকে
(সকলের কাছে বিশেষ দোয়া চাই, আল্লাহ যেনো কাজটিকে পূর্ণ করার তাওফিক দেয় এবং উম্মাহের জন্য ব্যাপক উপকারী হিসেবে কবুল করে বইটিকে।)
22👍2
"লিবারেল দর্শন থেকে জন্ম নেওয়া সেকুলারিজমের মৌলিক দর্শনও তা যা লিবারেলিজমের ভিত্তি। কিন্তু স্বতন্ত্র মতবাদ হিসেবে সেকুলারিজমের মাঝে আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেকুলারিজমের সংজ্ঞা, বাস্তবতা আর ইতিহাস সামনে রাখলে আমরা এই সিন্ধান্তে পৌঁছতে বাধ্য যে, সেকুলাজিম মূল ভিত্তি চারটি বিষয়ের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে,
ক. অন্যসকল ইজম আর মতবাদের মত সেকুলারিজমও মানুষের আকল ও যুক্তিকেই সবকিছুর মূল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বস্তুবাদি দুনিয়াকেই আসল বলে স্বীকৃতি দেয়। এবং সমাজকে এমনভাবে সাজানোর প্রতি তা জোড় দেয় যেখানে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা পরলৌকিক বিষয় থেকে হটিয়ে শুধু পর্যবেক্ষন ও যুক্তি থেকে বুঝা যায় এমন ইহলৌকিক বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
খ. সমাজ ও নৈতিকতাকে ধর্ম থেকে আলাদা করে ধর্মহীন করে দেওয়া।
গ. রাষ্ট্রের সকল বিষয়কে ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা
ঘ. শিক্ষানীতিকে ধর্মহীন আলোকে তৈরি করে রাখা।"

সূত্র : মাসিক বাইয়্যিনাতে ১৪৪০ হি.-এর রমজান ও শাওয়াল সংখ্যায় প্রকাশিত প্রবন্ধ ‘ইসলাম আউর সেকুলারিজম’, মুফতি আব্দুর রউফ গাজনাবী পৃ.২৭
মুফতি আব্দুর রউফ গজনবি রহ. দারুল উলুম দেওবন্দের উস্তাদ ছিলেন। পরবর্তীতে হিজরত করে পাকিস্তান চলে আসলে জামিয়া উলুমে ইসলামিয়া বানুরীটাউনের মুহাদ্দিস পদে নিয়োজিত হন।


প্রবন্ধ: সেকুলারিজম; ঈমান হরনের ধ্বংসাত্মক মহামারি"
পশ্চিমা সভ্যতা নিয়ে প্রকাশিতব্য বই থেকে
(সকলের কাছে বিশেষ দোয়া চাই, আল্লাহ যেনো কাজটিকে পূর্ণ করার তাওফিক দেয় এবং উম্মাহের জন্য ব্যাপক উপকারী হিসেবে কবুল করে বইটিকে।)
15👍1
সর্বশেষ বিশিষ্ট দায়ী ও যুগের অন্যতম সচেতন আলেম মাওলানা মঞ্জুর নোমানী রহ.-এর একটি ঈমানী আহবান দিয়েই আলোচনাটি শেষ করছি। তিনি তার বিখ্যাত বই ‘দ্বীন ও শরীয়ত’ তে লেখেন, “বর্তমান যুগে ইউরোপের প্রভাব মানুষকে পূর্ববর্তী যুগের শিরক থেকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে; কারণ, পূর্ববর্তী শিরকের মূলভিত্তি ছিলো নিছক নফসের পূজা এবং মূর্খতার ঘোঁড়ামি। বর্তমান যুগে পড়ালেখা করেছে এমন প্রত্যেক লোক—যদি তার ভেতর নূন্যতম অনুভূতি থাকে এবং পড়ালেখা করার কারণে কোনো বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে শিখেছে—সে মূর্তিপূজা, নক্ষত্র, বৃক্ষ এবং নদীর পূজা, অনুরূপ পশুদের পূজা করাকে সর্বোচ্চ স্তরের বোকামি এবং নির্বুদ্ধিতা মনে করবে। যদিও রীতি-নীতি হিসেবে অথবা সমাজের সাংস্কৃতির অংশ মনে করে সে নিজেই এসবের পূজা করে, তবুও ভেতরে ভেতরে সে এগুলোর প্রতি ঘৃণাই রাখে। কিন্তু সমস্যা হলো, ইউরোপের প্রভাবে পৃথিবীর বুকে পুরোনো ও সেকেলে সেই মূর্তির পরিবর্তে নতুন কিছু মূর্তি মাথা নাড়া দিয়ে উঠেছে। আজকাল এগুলোরই পূজা করা হচ্ছে। এ মূর্তিগুলোর নাম হলো— জাতী, দেশ, জাতীয় স্বার্থ, দেশের স্বার্থ, উদর, সম্পদ, শাসন ক্ষমতা ইত্যাদি ইত্যাদি।
বাস্তব কথা হলো, স্বজাতী এবং স্বদেশের প্রতি টান ও ভালোবাসা থাকা মোটেই মন্দ বিষয় নয়; বরং এটি স্বভাবগত বিষয়। আর নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এব্যাপারে আদেশও করা হয়েছে। অনুরূপ জাতীয় স্বার্থ এবং স্বদেশের স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং বসবাস নিয়ে চিন্তা-ফিকির করা, পৃথিবীর বুকে স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মানের সাথে জীবন যাপন করার আকাঙ্খা রাখা দোষনীয় নয়—যদি হালাল-হারাম যাচাই করে এবং অন্যের হক ঠিক রেখে চলা হয়। এভাবে কোনো সৎ উদ্দেশ্য পূর্ণ করা যেমন, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার জন্য অথবা আল্লাহর মাখলুকদের খেদমত করার নিয়তে শাসন ক্ষমতা অর্জনের চিন্তা করা এবং এর পেছনে শ্রম ব্যয় করাও ভুল কাজ নয়। আম্বিয়া কেরাম এগুলো থেকে বিরত থাকেন নি। (বরং এগুলো কীভাবে করবে) সে ক্ষেত্রে বিধি বিধান দিয়ে গিয়েছেন।
কিন্তু আমাদের বর্তমান সময়ে এসব বিষয় এতো উচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, এগুলো মা’বুদ (উপাস্য) এবং তাগুতের স্থান দখল করে নিয়েছে। বর্তমান সময়ে জাতী-রাষ্ট্রের কল্যান ও স্বার্থে সবকিছু করা একধরণের মূলনীতি এবং বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে (জাতী ও রাষ্ট্রের স্বার্থে) যত ধরণেরই বে-ইনসাফি করা হোক, অন্যের উপর যত জুলমই হোক না কেন, সেগুলো দেখার বিষয় নয়। এভাবে পেট পূজা ও সম্পদ পূজা এবং শাসন ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্খার ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধি বিধানকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হয়; যেনো পেট হলো তার মা’বুদ (উপাস্য), তাই তার পূজা করতে যা করা হবে তাই সঠিক, এবং সম্পদ ও রাজত্ব হলো এমন এক দেবী, যার জন্য ধর্ম ও সকল প্রকার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য বিসর্জন দিতে কোনো সমস্যা নেই। আজকাল অনেক মানুষই এসকল বস্তুকে নিজেদের মা’বুদ বানিয়ে নিয়েছে, পুরো বিশ্বই এভাবে চলছে।
এই দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, পেট পূজা, সম্পদ পূজা, শাসন পূজা, বর্তমান সময়ের এক নতুন শিরক। ইসলামের মধ্যে এর কোন স্থান নেই। এ সকল বিষয় থেকে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যেভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন সেটি কুরআনে কারীমে বিবৃত হয়েছে,
ﵟ‌إِنَّا ‌بُرَءَٰٓؤُاْ مِنكُمۡ وَمِمَّا تَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ ﵞ [الممتحنة: 4]
আমরা তোমাদের থেকে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে মা’বুদ রূপে গ্রহণ কর তাদের তেকে সম্পূর্ণ পৃথক। (মুমতাহিনা: ৪)
বস্তুত এসব মিথ্যা পূজার মূলে রয়েছে নফসের পূজা/খায়েশাত। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার বিধি বিধান বাদ দিয়ে যা সামনে আসে, এবং যা মন চায় তা করা। এটিই হচ্ছে প্রতিটি শিরক বরং সকল মন্দ কাজ ও সমস্যার মূল। তাই বলা যায় সবচেয়ে বড়ো মূর্তি হলো নফস।’’


প্রবন্ধ: জাতীয়তাবাদ; জাহিলিয়াতের নতুন রূপ
পশ্চিমা সভ্যতা নিয়ে প্রকাশিতব্য বই থেকে
(সকলের কাছে বিশেষ দোয়া চাই, আল্লাহ যেনো কাজটিকে পূর্ণ করার তাওফিক দেয় এবং উম্মাহের জন্য ব্যাপক উপকারী হিসেবে কবুল করে বইটিকে।)
17👍4👎1
Transgenderism.pdf
979.3 KB
ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে বাংলাদেশের আলেমদের সম্মেলিত ফতোয়া যা হাইয়াতুল উলইয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই ফতোয়া দেশের শীর্ষ কয়েকজন মুফতির তত্ত্ববধানে তৈরি হয়েছে, যারা হলেন,
১. মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব (মারকাজুদ দাওয়াহ)
২. মুফতি আব্দুস সালামা সাহেব (ফরিদাবাদ মাদরাসা )
৩. মুফতি মিজানুর রহমান সাইদ সাহেব (শায়খ যাকারিয়া )
৪. মাওলানা মাহফুজ সাহেব
৫. মুফতি কেফায়াতুল্লাহ সাহেব (হাটহাজারি)

এই ফতোয়াতে স্পষ্টই বলা হয়েছে ট্রান্সজেন্ডার শুধুই কোনো হারাম কাজ নয় বরং এই মতবাদটি স্পষ্ট একটি কুফরি মতবাদ।
56👍1