অমুসলিমদের_ধর্মীয়_উৎসবে_শুভেচ্ছে_ও_প্রসাদ_খাওয়ার_বিধান.pdf
912.1 KB
গুরুত্বপূর্ণ লেখাদুটোর ফ্রি-পিডিএফ।
❤20
Abdullah bin bashir
Photo
ছাত্রদেরকে শারীরিক শাস্তি দেওয়া
এ বিষয়টায় কিছু ভুল বুঝাবুঝি আছে। কেউ তো একে সম্পূর্ণই নাজায়েয বলেছেন। আর বৈধতার প্রবক্তাদের অধিকাংশই পরিমিতি ঠিক রাখতে পারেননি। তারা এর বৈধতার দোহাই দিয়ে শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করে ফেলেন। প্রকৃত অর্থে ছাত্রদের প্রহার করা সম্পূর্ণ হারাম বা নাজায়েযও নয়, আবার অভিভাবক বা উস্তাদের পূর্ণ স্বাধীনতাও নেই যে, সে তার মর্জি মোতাবেক যেভাবে খুশি শাস্তি দিয়ে যাবে; বরং এ ক্ষেত্রে নিম্নোবর্ণিত বিষয়গুলো লক্ষ্যণীয়:
ক. ছাত্রদেরকে শারীরিক শাস্তি দেওয়া শিক্ষকের জন্য যদিও বৈধ, তবে সাধারণ অবস্থায় এটা উত্তম কিছু নয়। তাই এর পরিবর্তে নসিহত করা, ভীতি প্রদর্শন করা, রাগ দেখানো ইত্যাদি উপযুক্ত কোনো পদ্ধতি বাছাই করে নেওয়া উচিত। ইমাম বাইহাকি রাহিমাহুল্লাহ আবু হুরাইরা রাজিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেন,
قال: «علموا ولا تعنفوا فإن المعلم خير من المعنف (المدخل إلى السنن الكبرى للبيهقي، رقم الحديث: ص ٣٧٠)
রাসুল বলেছেন, তোমরা শেখাও, তবে কঠোরতা করো না। কেননা শিক্ষক কঠোর স্বভাবের লোকের চেয়ে বহু ঊর্ধ্বে।
খ. নাবালেগ শিক্ষার্থীদের প্রহারের জন্য অভিভাবকের অনুমতি জরুরি। অনুমতি স্পষ্ট ভাষায়ও হতে পারে, আবার পরোক্ষভাবেও হতে পারে। যেমন: অভিভাবকের জানা থাকা যে, অমুক মাদরাসায় নিয়মের অমান্য করলে বা পড়া শিখে না আসলে ছাত্রদের শাস্তি দেওয়া হয়-এটা জেনেও নিজ সন্তানকে ওখানে ভর্তি করানো।
গ. নিশ্চিতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরই শাস্তি দেওয়া। দেখে নেওয়া যে, বাস্তবেই সে অপরাধ করেছে নাকি কেউ ভুল অভিযোগ করেছে? যে বিষয়টাকে অপরাধ ভাবা হচ্ছে এই ছেলের ক্ষেত্রে তা আদৌ অপরাধ কিনা?
ঘ. ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হওয়া; প্রথমেই শারীরিক শাস্তি না দেওয়া। অর্থাৎ প্রথমে নসিহত ও ভালোবাসা দেখানোর মাধ্যমে কাজ উদ্ধারের চেষ্টা করা। যদি এতে কাজ না হয়, তাহলে মৌখিক ভয়-ভীতি দেখানো। যদি এতেও কোনো ফল না আসে, তাহলে অন্য ছাত্রদের সামনে ধমক দেওয়া। এরপরেও যদি সে সংশোধন না হয়, তাহলে কানমলা বা হালকা ধরনের প্রহার করা যেতে পারে। এসবের কোনোটিই যদি কাজে না আসে, তাহলে বড় শাস্তির দিকে যাওয়া যেতে পারে। আল্লামা ইজুদ্দিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
ومهما حصل التأديب بالأخف من الأفعال والأقوال والحبس والاعتقاد لم يعدل إلى الأغلظ إذ هو مفسدة لا فائدة فيه، لحصول الغرض بما دونه.
কথা, কাজ ও আটক করার মতো লঘু শাস্তির মাধ্যমে যদি সংশোধন অনর্থক, যখন এর চেয়ে ছোট শাস্তির মাধ্যমেই উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাচ্ছে।
ঙ. সংশোধনের নিয়তে শাস্তি প্রদান করা; প্রতিশোধ নেওয়া বা মনের রাগ প্রশমিত করার উদ্দেশ্যে শাস্তি না দেওয়া। তাই উস্তাদ রাগান্বিত অবস্থায় প্রহার করা থেকে বিরত থাকবেন। কারণ, এ সময় ভারসমতা বজায় রাখা কঠিন।
চ. হাড়ভাঙা বা অঙ্গহানির মতো কঠিন শাস্তি থেকে বিরত থাকা। ফুকাহায়ে আহনাফ বলেন, তিনটির বেশি প্রহার করা যাবে না এবং সংবেদনশীল অঙ্গে বা প্রাণ নাশক কিছু দিয়ে প্রহার করা যাবে না। ফতোয়া শামিতে বলা হয়েছে,
أما المعلم فله ضربه.... والمعلم يضربه بحكم الملك بتمليك أبيه لمصلحة التعليم، وقيده الطرسوسي بأن يكون بغير آلة جارحة، وبأن لا يزيد على ثلاث ضربات .... قال الشرنبلالي: والنقل في كتاب الصلاة يضرب الصغير باليد لا بالخشبة، ولا يزيد على ثلاث ضربات. (حاشية ابن عابدين، ص٤٣٠/٦)
শিক্ষকের জন্য ছাত্রকে প্রহার করার অধিকার আছে। শিক্ষক শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে প্রহার করছে-বাবার দেওয়া অধিকারের কারণে শাসকের আদেশে।
তবে প্রহারের ক্ষেত্রে ইমাম তরতুসি রাহিমাহুল্লাহ কিছু শর্ত যুক্ত করেছেন। যেমন: ক্ষত সৃষ্টি কারক কিছু দিয়ে প্রহার করা যাবে না, তিনটার বেশি আঘাত করা যাবে না...
আল্লামা শুরুম্বুলালি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নামাজের ক্ষেত্রে প্রহারের যে বিষয়টা বলা হয়-তা হাত দিয়ে হতে হবে, কাঠ বা লাকডি দিয়ে নয় এবং তা তিনটার বেশি হতে পারবে না।
ছাত্রদের প্রহারের ক্ষেত্রে উক্ত শর্তগুলো বিবেচনায় রাখা আবশ্যক। এমনিতে কথায় কথায় তাদেরকে পিটানোর অভ্যাস বানিয়ে নেওয়া বা মাত্রাতিরিক্ত প্রহার করা-তারবিয়াতের দিক থেকে উপকারি কোনো পদ্ধতি নয়। আল্লামা মুসতফা সিবায়ি রাহিমাহুল্লাহ নিজের জীবনের অভিজ্ঞতায় লিখেছেন,
لا تستعمل الضرب في تأديب ولدك إلا حين تخفق الموعظة والتأنيب وليكن ضربك له ضرب تربية لا ضرب انتقام. وتجنب ضربه وأنت شديد الغضب منه، واحذر موطن الأذى من جسمه، وأشعره وأنت تضربه أنك لا تزال تحبه. وقلل ما استطعت من استعمال الضرب وسيلة للتأديب. ولأن يهابك ويحبك خير من أن يخافك ويكرهك. (هكذا علمتني الحياة، ضرب الأولاد صدد)
সন্তানের তারবিয়াতের ক্ষেত্রে উপদেশ ও ধমকে যদি কাজ না হয় তাহলেই কেবল প্রহার করবে। তবে তা প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে নয়; বরং ইসলাহ ও সংশোধনের নিয়তে। রাগান্বিত অবস্থায় প্রহার থেকে অবশ্যই দূরে থাকবে। শরীরের সংবেদনশীল জায়গায় প্রহার করবে না। প্রহারের সময়ও তাকে বোঝাও যে, তুমি এখনও তাকে মুহাব্বত করো। আর ইসলাহের
এ বিষয়টায় কিছু ভুল বুঝাবুঝি আছে। কেউ তো একে সম্পূর্ণই নাজায়েয বলেছেন। আর বৈধতার প্রবক্তাদের অধিকাংশই পরিমিতি ঠিক রাখতে পারেননি। তারা এর বৈধতার দোহাই দিয়ে শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করে ফেলেন। প্রকৃত অর্থে ছাত্রদের প্রহার করা সম্পূর্ণ হারাম বা নাজায়েযও নয়, আবার অভিভাবক বা উস্তাদের পূর্ণ স্বাধীনতাও নেই যে, সে তার মর্জি মোতাবেক যেভাবে খুশি শাস্তি দিয়ে যাবে; বরং এ ক্ষেত্রে নিম্নোবর্ণিত বিষয়গুলো লক্ষ্যণীয়:
ক. ছাত্রদেরকে শারীরিক শাস্তি দেওয়া শিক্ষকের জন্য যদিও বৈধ, তবে সাধারণ অবস্থায় এটা উত্তম কিছু নয়। তাই এর পরিবর্তে নসিহত করা, ভীতি প্রদর্শন করা, রাগ দেখানো ইত্যাদি উপযুক্ত কোনো পদ্ধতি বাছাই করে নেওয়া উচিত। ইমাম বাইহাকি রাহিমাহুল্লাহ আবু হুরাইরা রাজিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেন,
قال: «علموا ولا تعنفوا فإن المعلم خير من المعنف (المدخل إلى السنن الكبرى للبيهقي، رقم الحديث: ص ٣٧٠)
রাসুল বলেছেন, তোমরা শেখাও, তবে কঠোরতা করো না। কেননা শিক্ষক কঠোর স্বভাবের লোকের চেয়ে বহু ঊর্ধ্বে।
খ. নাবালেগ শিক্ষার্থীদের প্রহারের জন্য অভিভাবকের অনুমতি জরুরি। অনুমতি স্পষ্ট ভাষায়ও হতে পারে, আবার পরোক্ষভাবেও হতে পারে। যেমন: অভিভাবকের জানা থাকা যে, অমুক মাদরাসায় নিয়মের অমান্য করলে বা পড়া শিখে না আসলে ছাত্রদের শাস্তি দেওয়া হয়-এটা জেনেও নিজ সন্তানকে ওখানে ভর্তি করানো।
গ. নিশ্চিতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরই শাস্তি দেওয়া। দেখে নেওয়া যে, বাস্তবেই সে অপরাধ করেছে নাকি কেউ ভুল অভিযোগ করেছে? যে বিষয়টাকে অপরাধ ভাবা হচ্ছে এই ছেলের ক্ষেত্রে তা আদৌ অপরাধ কিনা?
ঘ. ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হওয়া; প্রথমেই শারীরিক শাস্তি না দেওয়া। অর্থাৎ প্রথমে নসিহত ও ভালোবাসা দেখানোর মাধ্যমে কাজ উদ্ধারের চেষ্টা করা। যদি এতে কাজ না হয়, তাহলে মৌখিক ভয়-ভীতি দেখানো। যদি এতেও কোনো ফল না আসে, তাহলে অন্য ছাত্রদের সামনে ধমক দেওয়া। এরপরেও যদি সে সংশোধন না হয়, তাহলে কানমলা বা হালকা ধরনের প্রহার করা যেতে পারে। এসবের কোনোটিই যদি কাজে না আসে, তাহলে বড় শাস্তির দিকে যাওয়া যেতে পারে। আল্লামা ইজুদ্দিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
ومهما حصل التأديب بالأخف من الأفعال والأقوال والحبس والاعتقاد لم يعدل إلى الأغلظ إذ هو مفسدة لا فائدة فيه، لحصول الغرض بما دونه.
কথা, কাজ ও আটক করার মতো লঘু শাস্তির মাধ্যমে যদি সংশোধন অনর্থক, যখন এর চেয়ে ছোট শাস্তির মাধ্যমেই উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাচ্ছে।
ঙ. সংশোধনের নিয়তে শাস্তি প্রদান করা; প্রতিশোধ নেওয়া বা মনের রাগ প্রশমিত করার উদ্দেশ্যে শাস্তি না দেওয়া। তাই উস্তাদ রাগান্বিত অবস্থায় প্রহার করা থেকে বিরত থাকবেন। কারণ, এ সময় ভারসমতা বজায় রাখা কঠিন।
চ. হাড়ভাঙা বা অঙ্গহানির মতো কঠিন শাস্তি থেকে বিরত থাকা। ফুকাহায়ে আহনাফ বলেন, তিনটির বেশি প্রহার করা যাবে না এবং সংবেদনশীল অঙ্গে বা প্রাণ নাশক কিছু দিয়ে প্রহার করা যাবে না। ফতোয়া শামিতে বলা হয়েছে,
أما المعلم فله ضربه.... والمعلم يضربه بحكم الملك بتمليك أبيه لمصلحة التعليم، وقيده الطرسوسي بأن يكون بغير آلة جارحة، وبأن لا يزيد على ثلاث ضربات .... قال الشرنبلالي: والنقل في كتاب الصلاة يضرب الصغير باليد لا بالخشبة، ولا يزيد على ثلاث ضربات. (حاشية ابن عابدين، ص٤٣٠/٦)
শিক্ষকের জন্য ছাত্রকে প্রহার করার অধিকার আছে। শিক্ষক শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে প্রহার করছে-বাবার দেওয়া অধিকারের কারণে শাসকের আদেশে।
তবে প্রহারের ক্ষেত্রে ইমাম তরতুসি রাহিমাহুল্লাহ কিছু শর্ত যুক্ত করেছেন। যেমন: ক্ষত সৃষ্টি কারক কিছু দিয়ে প্রহার করা যাবে না, তিনটার বেশি আঘাত করা যাবে না...
আল্লামা শুরুম্বুলালি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নামাজের ক্ষেত্রে প্রহারের যে বিষয়টা বলা হয়-তা হাত দিয়ে হতে হবে, কাঠ বা লাকডি দিয়ে নয় এবং তা তিনটার বেশি হতে পারবে না।
ছাত্রদের প্রহারের ক্ষেত্রে উক্ত শর্তগুলো বিবেচনায় রাখা আবশ্যক। এমনিতে কথায় কথায় তাদেরকে পিটানোর অভ্যাস বানিয়ে নেওয়া বা মাত্রাতিরিক্ত প্রহার করা-তারবিয়াতের দিক থেকে উপকারি কোনো পদ্ধতি নয়। আল্লামা মুসতফা সিবায়ি রাহিমাহুল্লাহ নিজের জীবনের অভিজ্ঞতায় লিখেছেন,
لا تستعمل الضرب في تأديب ولدك إلا حين تخفق الموعظة والتأنيب وليكن ضربك له ضرب تربية لا ضرب انتقام. وتجنب ضربه وأنت شديد الغضب منه، واحذر موطن الأذى من جسمه، وأشعره وأنت تضربه أنك لا تزال تحبه. وقلل ما استطعت من استعمال الضرب وسيلة للتأديب. ولأن يهابك ويحبك خير من أن يخافك ويكرهك. (هكذا علمتني الحياة، ضرب الأولاد صدد)
সন্তানের তারবিয়াতের ক্ষেত্রে উপদেশ ও ধমকে যদি কাজ না হয় তাহলেই কেবল প্রহার করবে। তবে তা প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে নয়; বরং ইসলাহ ও সংশোধনের নিয়তে। রাগান্বিত অবস্থায় প্রহার থেকে অবশ্যই দূরে থাকবে। শরীরের সংবেদনশীল জায়গায় প্রহার করবে না। প্রহারের সময়ও তাকে বোঝাও যে, তুমি এখনও তাকে মুহাব্বত করো। আর ইসলাহের
❤17
Abdullah bin bashir
Photo
উদ্দেশ্যে প্রহারকে যত পারো কম ব্যবহার করো। মনে রাখবে, সে তোমাকে ভয় পাওয়ার পাশাপাশি ভালোবাসবে-এটাই উত্তম; ভয় পাওয়ার পাশাপাশি অপছন্দ করার চেয়ে।
বই: আহকামে মাদারেস
লেখক: মুফতি উবাইদুর রহমান মারদান
অনুবাদক: মাওলানা জাহিদ হাসান
মূল্য: ১৮০৳ (২৫% ছাড়ে)
বই: আহকামে মাদারেস
লেখক: মুফতি উবাইদুর রহমান মারদান
অনুবাদক: মাওলানা জাহিদ হাসান
মূল্য: ১৮০৳ (২৫% ছাড়ে)
❤24
শাতেম বিষয়ে কয়েকটা কথা :
শা*তে*ম বিষয়ে একটি কথা আমি বারবার বলেছি, আবারও বলবো। সেকুলার আইন প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়ে মুসলমানদের এই অনমনীয় আচরণই রাসুলের ইজ্জতকে নাপাক ও জাহান্নামের কীট মানসিক লোকদের থেকে হেফাজত করছে। নাহলে, এই রাষ্ট্র তার যাবতীয় শক্তি ব্যয় করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবন নিয়ে ঠিক ঐভাবেই নাটক, মুভি, উপন্যাস ইত্যাদিতে ছিনিমিনি খেলতো, যেমনটা গেন্দুদের দেবদেবী নিয়ে করা হয়।
সুতরাং সেকুলার রাষ্ট্র যতদিন বাস্তবিক মুমিনদের অন্তর প্রশান্ত করে নবি কটুক্তিকারীদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা না করবে, ততদিন আমরাও শাতেমদের জাহান্নামে পাঠানোর এই ধরনের পদ্ধতিগুলোর বিরুদ্ধেও যথাযথ সোচ্চার হবো না। যদি আপনাদের ভাষার মব বন্ধ করতে চান, তাহলে মবের পিছনের আসল কারণ বন্ধ করার বন্দোবস্ত করেন। কেউ আইন হাতে তুলে নিক এটা কোনো মুসলমান চায় না। কিন্তু রাসুলের ইজ্জতের প্রশ্নে সেকুলার রাষ্ট্রের নিরবতা বরং উলটো প্রটেকশনও মুসলমানদের জন্য বেদনাদায়ক, যা অন্য ইস্যুতে মেনে নেওয়া গেলেও রাসুলের ইজ্জতের ইস্যুতে সম্ভব না।
রাসুলের ইজ্জতের প্রশ্নে দুনিয়ার নিরাপত্তা কী হলো, দেশ কোন রসাতলে গেলো এগুলো নিয়ে আমাদের ভাবার বিশেষ কিছু নাই।
.
দুই.
সুপ্রতিষ্ঠিত শাতেম আর হুট করে একজন রাসুলকে গালি দিয়ে দিলো অথবা কারো কথা থেকে রাসুলের শানের খেলাফ মনে হওয়া শাতেম, এই বিষয়গুলোতে আমাদের শতভাগ সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নিতে হবে আওয়াজ তুলতে হবে। যেনো এমন না হয়, শাতেমদের ইস্যুটা ব্যক্তিগত রাগ ক্ষোভ মিটানোর একটা রাস্তা হয়ে যায়৷ অথবা এটা একটা হাস্যরসের বিষয় হয়ে যায়।
শাতেমের ইস্যু আসলে দায়িত্বশীলদের উচিত সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নেওয়া। আমাদের আওয়াজ যেনাও প্রকৃত আশেকের জন্যই হয়। এমন যেনো না হয়, আমরা আবেগে একজনকে হিরো বানিয়ে ফেললাম, কিন্তু সে আসলে তার ব্যক্তিগত ক্ষোভ উঠিয়েছে, বা অন্যায়ভাবে, বেউসুলিভাবে কাউকে শাতেম বানিয়ে তার বিরুদ্ধে অন্যায় প্রদক্ষেপ নিয়েছে। এই তো, কিছুদিন আগের ঘটনা, বেরলভিপন্থী এক লোক ইমামকে শাতেম আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করে বসছে! অথচ, সেটা ছিলো সম্পূর্ণ তার ভুলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
.
তিন.
শাতেমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো আশেককে যদি গ্রেফতার করা হয়, তাহলে এই গ্রেফতার বা এর বিরুদ্ধে রায় দিলেই এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ঢালাওভাবে কা*ফে*র বলার সুযোগ নেই। কারণ, এখানে বেশকিছু ওজর বিদ্যমান রয়েছে। শাতেমের কাফের হওয়া আর শাতেমের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দুটো এক নয়। এগুলোকে উসুলের আলোকে বুঝতে হবে। আবেগ দিয়ে নয়।
শা*তে*ম বিষয়ে একটি কথা আমি বারবার বলেছি, আবারও বলবো। সেকুলার আইন প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়ে মুসলমানদের এই অনমনীয় আচরণই রাসুলের ইজ্জতকে নাপাক ও জাহান্নামের কীট মানসিক লোকদের থেকে হেফাজত করছে। নাহলে, এই রাষ্ট্র তার যাবতীয় শক্তি ব্যয় করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবন নিয়ে ঠিক ঐভাবেই নাটক, মুভি, উপন্যাস ইত্যাদিতে ছিনিমিনি খেলতো, যেমনটা গেন্দুদের দেবদেবী নিয়ে করা হয়।
সুতরাং সেকুলার রাষ্ট্র যতদিন বাস্তবিক মুমিনদের অন্তর প্রশান্ত করে নবি কটুক্তিকারীদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা না করবে, ততদিন আমরাও শাতেমদের জাহান্নামে পাঠানোর এই ধরনের পদ্ধতিগুলোর বিরুদ্ধেও যথাযথ সোচ্চার হবো না। যদি আপনাদের ভাষার মব বন্ধ করতে চান, তাহলে মবের পিছনের আসল কারণ বন্ধ করার বন্দোবস্ত করেন। কেউ আইন হাতে তুলে নিক এটা কোনো মুসলমান চায় না। কিন্তু রাসুলের ইজ্জতের প্রশ্নে সেকুলার রাষ্ট্রের নিরবতা বরং উলটো প্রটেকশনও মুসলমানদের জন্য বেদনাদায়ক, যা অন্য ইস্যুতে মেনে নেওয়া গেলেও রাসুলের ইজ্জতের ইস্যুতে সম্ভব না।
রাসুলের ইজ্জতের প্রশ্নে দুনিয়ার নিরাপত্তা কী হলো, দেশ কোন রসাতলে গেলো এগুলো নিয়ে আমাদের ভাবার বিশেষ কিছু নাই।
.
দুই.
সুপ্রতিষ্ঠিত শাতেম আর হুট করে একজন রাসুলকে গালি দিয়ে দিলো অথবা কারো কথা থেকে রাসুলের শানের খেলাফ মনে হওয়া শাতেম, এই বিষয়গুলোতে আমাদের শতভাগ সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নিতে হবে আওয়াজ তুলতে হবে। যেনো এমন না হয়, শাতেমদের ইস্যুটা ব্যক্তিগত রাগ ক্ষোভ মিটানোর একটা রাস্তা হয়ে যায়৷ অথবা এটা একটা হাস্যরসের বিষয় হয়ে যায়।
শাতেমের ইস্যু আসলে দায়িত্বশীলদের উচিত সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নেওয়া। আমাদের আওয়াজ যেনাও প্রকৃত আশেকের জন্যই হয়। এমন যেনো না হয়, আমরা আবেগে একজনকে হিরো বানিয়ে ফেললাম, কিন্তু সে আসলে তার ব্যক্তিগত ক্ষোভ উঠিয়েছে, বা অন্যায়ভাবে, বেউসুলিভাবে কাউকে শাতেম বানিয়ে তার বিরুদ্ধে অন্যায় প্রদক্ষেপ নিয়েছে। এই তো, কিছুদিন আগের ঘটনা, বেরলভিপন্থী এক লোক ইমামকে শাতেম আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করে বসছে! অথচ, সেটা ছিলো সম্পূর্ণ তার ভুলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
.
তিন.
শাতেমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো আশেককে যদি গ্রেফতার করা হয়, তাহলে এই গ্রেফতার বা এর বিরুদ্ধে রায় দিলেই এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ঢালাওভাবে কা*ফে*র বলার সুযোগ নেই। কারণ, এখানে বেশকিছু ওজর বিদ্যমান রয়েছে। শাতেমের কাফের হওয়া আর শাতেমের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দুটো এক নয়। এগুলোকে উসুলের আলোকে বুঝতে হবে। আবেগ দিয়ে নয়।
❤19
Abdullah bin bashir
Photo
বর্তমান সময়ে "আইন বাস্তবায়ন ক্ষমতা”-এর পর্যালোচনা
আলোচ্য বিষয়ের অধীনে কোনো কোনো কিতাবে মুসলমানদের হাতে ক্ষমতা থাকার বিষয়টিকেই একটি রাষ্ট্র দারুল ইসলাম হওয়ার মূল ভিত্তি বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, কোনো এলাকায় যদি মুসলিম শাসক থাকে আর সে সেখানে ইসলামি বিধান কার্যকর করার ক্ষমতা রাখে, তাহলে সে ভূখণ্ড দারুল ইসলাম বলে গণ্য হবে। এই বক্তব্য ফিকহি দৃষ্টিতে ঠিক কি না, সেটা এখানে আলোচ্য নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগের যুগের তুলনায় বর্তমান সময়ের রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থায় বিশাল পরিবর্তন এসেছে। তাই কোনো দেশের শরয়ি অবস্থান নির্ধারণ করতে গেলে এসব পরিবর্তন বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। নাহলে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হবে।
আগের যুগে সাধারণত এমন ছিল-
ক) পূর্বে শাসনক্ষমতা পুরোপুরি শাসকের হাতে থাকত। তিনি যা চাইতেন তাই কার্যকর হতো। এখন অবস্থা এমন নয়। আগে যেমন হতো, শাসক রাতে কোনো বিষয়ে চিন্তা করলেন, তো সকালে আইন করে তা বাস্তবায়ন করে ফেললেন। কিন্তু এখন তা এভাবে সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়-যা আজকের উন্নত বিশ্বের বড় অংশেই চালু রয়েছে-কোনো কিছুকে আইন করতে হলে নিয়ম মেনে পার্লামেন্ট বা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিতে হয়।
খ) আজ রাষ্ট্রের যে ধারণা তা পূর্বে ছিল না। বরং তখন শাসকদের দিয়ে একটি রাষ্ট্রের পরিচয় হতো। এখন রাষ্ট্রকে একটি স্থায়ী সত্তা হিসেবে ধরা হয়। শাসক ও সরকারকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রকৃত গুরুত্ব শাসকের নয়, রাষ্ট্রেরই-শাসক মূলত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শাসনকার্য পরিচালনা করে।
গ) বর্তমানে সংবিধান ও আইনের যে রূপ, অতীতে তা এমন ছিল না। সংবিধান ও আইন প্রণয়নের বর্তমান ধারণাগুলো তখন প্রচলিত ছিল না। শাসন কীভাবে পরিচালিত হবে, কখন কী করতে হবে, এসবের জন্য আলাদা বিশেষ কাগজপত্র বা আইন প্রণয়নের তেমন প্রয়োজন পড়ত না। শাসক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব কাজ পরিচালনা করতেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে গেছে।
বর্তমান যুগে এর রূপ এমন হতে পারে-আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় বিধিব্যবস্থার পর্যায়ে দ্বীনের বিধানই কার্যকর থাকবে। এরপর যদি শাসকগণ বিভিন্ন অন্যায় কাজে লিপ্তও থাকে, তবুও তাদের সে কাজ অবশ্যই অন্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে। তবে যখন রাষ্ট্রের আইনকানুন দ্বীনের অনুসারী হবে, তখন এটিই বলা হবে যে, দেশে ইসলামি বিধান কার্যকর রয়েছে।
বই: দারুল ইসলাম ও দারুল হরব
লেখক: মুফতি উবাইদুর রহমান মারদান
অনুবাদক: উস্তায আব্দুল্লাহ বিন বশির
মূল্য: ১৯৮৳ (২৫% ছাড়ে)
আলোচ্য বিষয়ের অধীনে কোনো কোনো কিতাবে মুসলমানদের হাতে ক্ষমতা থাকার বিষয়টিকেই একটি রাষ্ট্র দারুল ইসলাম হওয়ার মূল ভিত্তি বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, কোনো এলাকায় যদি মুসলিম শাসক থাকে আর সে সেখানে ইসলামি বিধান কার্যকর করার ক্ষমতা রাখে, তাহলে সে ভূখণ্ড দারুল ইসলাম বলে গণ্য হবে। এই বক্তব্য ফিকহি দৃষ্টিতে ঠিক কি না, সেটা এখানে আলোচ্য নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগের যুগের তুলনায় বর্তমান সময়ের রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থায় বিশাল পরিবর্তন এসেছে। তাই কোনো দেশের শরয়ি অবস্থান নির্ধারণ করতে গেলে এসব পরিবর্তন বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। নাহলে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হবে।
আগের যুগে সাধারণত এমন ছিল-
ক) পূর্বে শাসনক্ষমতা পুরোপুরি শাসকের হাতে থাকত। তিনি যা চাইতেন তাই কার্যকর হতো। এখন অবস্থা এমন নয়। আগে যেমন হতো, শাসক রাতে কোনো বিষয়ে চিন্তা করলেন, তো সকালে আইন করে তা বাস্তবায়ন করে ফেললেন। কিন্তু এখন তা এভাবে সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়-যা আজকের উন্নত বিশ্বের বড় অংশেই চালু রয়েছে-কোনো কিছুকে আইন করতে হলে নিয়ম মেনে পার্লামেন্ট বা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিতে হয়।
খ) আজ রাষ্ট্রের যে ধারণা তা পূর্বে ছিল না। বরং তখন শাসকদের দিয়ে একটি রাষ্ট্রের পরিচয় হতো। এখন রাষ্ট্রকে একটি স্থায়ী সত্তা হিসেবে ধরা হয়। শাসক ও সরকারকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রকৃত গুরুত্ব শাসকের নয়, রাষ্ট্রেরই-শাসক মূলত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শাসনকার্য পরিচালনা করে।
গ) বর্তমানে সংবিধান ও আইনের যে রূপ, অতীতে তা এমন ছিল না। সংবিধান ও আইন প্রণয়নের বর্তমান ধারণাগুলো তখন প্রচলিত ছিল না। শাসন কীভাবে পরিচালিত হবে, কখন কী করতে হবে, এসবের জন্য আলাদা বিশেষ কাগজপত্র বা আইন প্রণয়নের তেমন প্রয়োজন পড়ত না। শাসক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব কাজ পরিচালনা করতেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে গেছে।
বর্তমান যুগে এর রূপ এমন হতে পারে-আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় বিধিব্যবস্থার পর্যায়ে দ্বীনের বিধানই কার্যকর থাকবে। এরপর যদি শাসকগণ বিভিন্ন অন্যায় কাজে লিপ্তও থাকে, তবুও তাদের সে কাজ অবশ্যই অন্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে। তবে যখন রাষ্ট্রের আইনকানুন দ্বীনের অনুসারী হবে, তখন এটিই বলা হবে যে, দেশে ইসলামি বিধান কার্যকর রয়েছে।
বই: দারুল ইসলাম ও দারুল হরব
লেখক: মুফতি উবাইদুর রহমান মারদান
অনুবাদক: উস্তায আব্দুল্লাহ বিন বশির
মূল্য: ১৯৮৳ (২৫% ছাড়ে)
❤6🥰2
Abdullah bin bashir
Photo
সময় উপযোগী একটা আকিদার কিতাবের মতন কেমন হওয়া উচিত তার এক উত্তম দৃষ্টান্ত হলো এই অসাধারণ কিতাব!
.
প্রথমেই শুকরিয়া জানাই হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা Ishaq Omar ভাইকে। আমার মত এক সাধারণ মানুষের সামান্য আবেদনে এত বিশাল বই উনি পিডিএফ করে আমায় দিয়েছেন। উনার জায়গায় আমি হলে হয়তো এমন করতাম না। জাযাকাল্লাহ খাইরান।
.
কিতাবটি লেখক হলেন বর্তমান ইমারতে ইসলামিয়া আফগানের হেরাত প্রদেশের গভর্নর নুর আহমদ ইসলামজাদ হাফিজাহুল্লাহ। আফগানের বুজুর্গ ওলামায়ে কেরামের কাছে তিনি ইলম শিখেছেন। এয় মেধাবী ছিলেন যে, মাত্র ২০ দিনে সরফে মীরের মত কিতাব এভং ৬ দিনে শরহে মিয়াতে আমেল ইতকানের সাথে পড়ে ফেলেছেন! এরপর জামিয়া হক্কানিয়াতে দাওরা ও ইফতা পড়েছেন।
.
আমাদের সালাফরা যখন আকিদার কিতাব লেখতেন, তখন ওই সময়ের ভয়ংকর ফিতনাগুলো থেকে উম্মতকে ব্যাপকভাবে সতর্ক করতে আকিদার মূল মতনে বা আকিদার মৌলিক কিতাবগুলোতে সেগুলোর আলোচনা নিয়ে আসতেন৷ এতে উম্মত সামগ্রিকভাবে সেই ফিতনা সম্পর্কে সচেতন হয়ে যেতে পারতো সহজেই।
ইদানীং আকিদার সংক্ষিপ্ত অনেক ভালো কিছু মতন বের হলেও সময়ের সবচেয়ে বড় ফিতনাগুলো সম্পর্কে কেমন জানি সুকুত ইখতিয়ার করে ফেলে! যার কারণে উম্মত সময়ের জঘন্যতম কু*ফ*রগুলো সম্পর্কে যতটুকু হওয়া প্রয়োজন, ততটুকু হচ্ছে না।
কিন্তু হযরতের এই কিতাবটিকে এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রম লাগলো।
আমি সেখানের একটি মতন দিচ্ছি, দেখুন,
حقائق الأشياء ثابتة، والعِلْمُ بها مُتحقق ؛ خِلَافًا لِلسُّوفسطائيَّةِ، وَمَا وراء المادَّةِ مَوجود عند المتألهين خلافا للدهرية والعالم حادث خلافا للفلاسفة، والحاكم هو الله خلافا للديمقراطية والعقل عاجز عن درك حكم الأحكام عند أهلِ السُّنَّةِ والجماعة، خلافا للإمامية والعصرانية والعلمانية
তালেবে ইলম ভাইরা শুধু এতটুকুতেই আশা করি বুঝেছেন একটি সময় উপযোগী মতন কত সুন্দর হয়।
.
লেখক নিজের মতনের শরাহ নিজেই করেছেন। শরাহতে মতনের প্রতিটি বিষয় নিয়ে বিস্তর আলাপ করেছেন। আকিদার বিভিন্ন খুটিনাটি বিষয় নিয়ে লেখকের এত চমৎকার বুঝাপড়া দেখে বেশ অবাকই হলাম। এত এত যুদ্ধের মাঝে এত বিস্তার পড়াশোনা কীভাবে সম্ভব!
.
হযরত এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। প্রাচীন বিভিন্ন ফিরকা নিয়ে অনেক গভীর পড়াশোনা থেকেও বর্তমান জামানার বুদ্ধবৃত্তিক যে ফিতনা তাতে জোর দিতে বেশি তাগিদ দিয়েছেন। হযরতের বক্তব্য হলো,
فعِلمُ الكلام الذي هو نتيجة النهج الثاني؛ شعبة من الدفاع عن الدين بطريق خاص كان له ضرورة في صدر الإسلام، وأما في عصرنا هذا؛ حيث نرى مغالبة الكفر وآثاره، وظهور مكاتب فكرية منحرفة تستهدف الحديث والسُّنَّة، ويتسمون باسم المتنورين والمجددين والعلمانية؛ فإنَّنا نحتاج إلى جيل من المجاهدين يُدافع عن النَّبي وشرعه في هذا الثغر من ثغور الغزوة الفكرية، والتي ربما هي أشدُّ وأشدُّ، فلا بُدَّ للمسلمين من متكلمين باحثين خبراء في أحوال العصرِ والشُّبَه المعاصرة، لكن لا بالجمود على ما في الكتب القديمة، فإنَّ المعتزلة قد ماتوا ودُفِنُوا مع أفكارهم، فَحِفْظُكَ الآن دلائل بطلان الاعتزال لا فائدة فيه؛ بل الغزو الفكري يتطلب مُجاهِدًا مُشمِّرًا عَن ساق الجد في مقابلة الشكولاريين والروافض والعلمانيين والغُلاةِ مِنَ البرلويّين وغيرهم على ما سيجيء في هذا الكتاب إن شاء الله.
আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন। আমীন।
.
মাতুরিদি ধারার একটি অমূল্য সংযোজন এই বইটি। বইয়ের শুরুতেই হযরত ইলমে কালাম নিয়ে এত চমৎকার আলোচনা করেছেন যে, অন্তর প্রশান্ত হয়ে যাবে, যাদের কলবে সালিম আছে।
.
প্রথমেই শুকরিয়া জানাই হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা Ishaq Omar ভাইকে। আমার মত এক সাধারণ মানুষের সামান্য আবেদনে এত বিশাল বই উনি পিডিএফ করে আমায় দিয়েছেন। উনার জায়গায় আমি হলে হয়তো এমন করতাম না। জাযাকাল্লাহ খাইরান।
.
কিতাবটি লেখক হলেন বর্তমান ইমারতে ইসলামিয়া আফগানের হেরাত প্রদেশের গভর্নর নুর আহমদ ইসলামজাদ হাফিজাহুল্লাহ। আফগানের বুজুর্গ ওলামায়ে কেরামের কাছে তিনি ইলম শিখেছেন। এয় মেধাবী ছিলেন যে, মাত্র ২০ দিনে সরফে মীরের মত কিতাব এভং ৬ দিনে শরহে মিয়াতে আমেল ইতকানের সাথে পড়ে ফেলেছেন! এরপর জামিয়া হক্কানিয়াতে দাওরা ও ইফতা পড়েছেন।
.
আমাদের সালাফরা যখন আকিদার কিতাব লেখতেন, তখন ওই সময়ের ভয়ংকর ফিতনাগুলো থেকে উম্মতকে ব্যাপকভাবে সতর্ক করতে আকিদার মূল মতনে বা আকিদার মৌলিক কিতাবগুলোতে সেগুলোর আলোচনা নিয়ে আসতেন৷ এতে উম্মত সামগ্রিকভাবে সেই ফিতনা সম্পর্কে সচেতন হয়ে যেতে পারতো সহজেই।
ইদানীং আকিদার সংক্ষিপ্ত অনেক ভালো কিছু মতন বের হলেও সময়ের সবচেয়ে বড় ফিতনাগুলো সম্পর্কে কেমন জানি সুকুত ইখতিয়ার করে ফেলে! যার কারণে উম্মত সময়ের জঘন্যতম কু*ফ*রগুলো সম্পর্কে যতটুকু হওয়া প্রয়োজন, ততটুকু হচ্ছে না।
কিন্তু হযরতের এই কিতাবটিকে এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রম লাগলো।
আমি সেখানের একটি মতন দিচ্ছি, দেখুন,
حقائق الأشياء ثابتة، والعِلْمُ بها مُتحقق ؛ خِلَافًا لِلسُّوفسطائيَّةِ، وَمَا وراء المادَّةِ مَوجود عند المتألهين خلافا للدهرية والعالم حادث خلافا للفلاسفة، والحاكم هو الله خلافا للديمقراطية والعقل عاجز عن درك حكم الأحكام عند أهلِ السُّنَّةِ والجماعة، خلافا للإمامية والعصرانية والعلمانية
তালেবে ইলম ভাইরা শুধু এতটুকুতেই আশা করি বুঝেছেন একটি সময় উপযোগী মতন কত সুন্দর হয়।
.
লেখক নিজের মতনের শরাহ নিজেই করেছেন। শরাহতে মতনের প্রতিটি বিষয় নিয়ে বিস্তর আলাপ করেছেন। আকিদার বিভিন্ন খুটিনাটি বিষয় নিয়ে লেখকের এত চমৎকার বুঝাপড়া দেখে বেশ অবাকই হলাম। এত এত যুদ্ধের মাঝে এত বিস্তার পড়াশোনা কীভাবে সম্ভব!
.
হযরত এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। প্রাচীন বিভিন্ন ফিরকা নিয়ে অনেক গভীর পড়াশোনা থেকেও বর্তমান জামানার বুদ্ধবৃত্তিক যে ফিতনা তাতে জোর দিতে বেশি তাগিদ দিয়েছেন। হযরতের বক্তব্য হলো,
فعِلمُ الكلام الذي هو نتيجة النهج الثاني؛ شعبة من الدفاع عن الدين بطريق خاص كان له ضرورة في صدر الإسلام، وأما في عصرنا هذا؛ حيث نرى مغالبة الكفر وآثاره، وظهور مكاتب فكرية منحرفة تستهدف الحديث والسُّنَّة، ويتسمون باسم المتنورين والمجددين والعلمانية؛ فإنَّنا نحتاج إلى جيل من المجاهدين يُدافع عن النَّبي وشرعه في هذا الثغر من ثغور الغزوة الفكرية، والتي ربما هي أشدُّ وأشدُّ، فلا بُدَّ للمسلمين من متكلمين باحثين خبراء في أحوال العصرِ والشُّبَه المعاصرة، لكن لا بالجمود على ما في الكتب القديمة، فإنَّ المعتزلة قد ماتوا ودُفِنُوا مع أفكارهم، فَحِفْظُكَ الآن دلائل بطلان الاعتزال لا فائدة فيه؛ بل الغزو الفكري يتطلب مُجاهِدًا مُشمِّرًا عَن ساق الجد في مقابلة الشكولاريين والروافض والعلمانيين والغُلاةِ مِنَ البرلويّين وغيرهم على ما سيجيء في هذا الكتاب إن شاء الله.
আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন। আমীন।
.
মাতুরিদি ধারার একটি অমূল্য সংযোজন এই বইটি। বইয়ের শুরুতেই হযরত ইলমে কালাম নিয়ে এত চমৎকার আলোচনা করেছেন যে, অন্তর প্রশান্ত হয়ে যাবে, যাদের কলবে সালিম আছে।
❤26
তীব্র দুঃখের জায়গা এটা না যে, পুজার সময় এদেশের সেকুলার বা সেকুলার রাজনীতি করা ব্যক্তিরা কেউ নিজের ঈমান খুইয়েছে, কেউ বা ঈমানকে ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
তীব্র দুঃখ হলো, এই লোকগুলো ঈদের সময় টুপি পড়লে, পীরের মসজিদে এসে হাটু গেড়ে বসলে, কোনো স্কলারের দারসে উপস্থিত হলে, নির্বাচনের সময় “ইসলাম বিরোধী আইন করবো না” বলে হাসি দিলে আমরা সব ভুলে যাবো। সব ভুলে এই লোকগুলোকেই নিজেদের নেতা, নিজেদের উলিল আমর ঘোষণা করবো। এদের প্রশংসার স্তুতিবাণী গেয়ে যাবো!
যেহেতু আমরা এক গর্তে দুবার দংশন নয়, বরং গর্তে থাকতেই পছন্দ করি, তাই আল্লাহও আমাদেরকে এভাবেই লাঞ্চিত করতেই থাকবেন। আর লাঞ্চিত হওয়াকেই আমরা নিজেদের ফখর হিসেবে মনে মনে মনকলা খেতে থাকব।
এর থেকে বড় লাঞ্চনা আর কী হতে পারে, একজন এমন প্রকাশ্য কুফরি উচ্চারণ করা ব্যক্তিকে আমি মসজিদের মিম্বারে বসাই, আমি মাদরাসার অনুষ্ঠানে নিয়ে প্রশংসার ঢালি সাজাই!
.
দায়িত্বশীল আলেমরা যদি উম্মতকে এরপরেও সতর্ক না করেন, উম্মতের এই কঠিন সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা না দিতে পারেন, তাহলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা ও দুনিয়ার লাঞ্চনার জন্য তৈয়ার হন ইনশাআল্লাহ।
তীব্র দুঃখ হলো, এই লোকগুলো ঈদের সময় টুপি পড়লে, পীরের মসজিদে এসে হাটু গেড়ে বসলে, কোনো স্কলারের দারসে উপস্থিত হলে, নির্বাচনের সময় “ইসলাম বিরোধী আইন করবো না” বলে হাসি দিলে আমরা সব ভুলে যাবো। সব ভুলে এই লোকগুলোকেই নিজেদের নেতা, নিজেদের উলিল আমর ঘোষণা করবো। এদের প্রশংসার স্তুতিবাণী গেয়ে যাবো!
যেহেতু আমরা এক গর্তে দুবার দংশন নয়, বরং গর্তে থাকতেই পছন্দ করি, তাই আল্লাহও আমাদেরকে এভাবেই লাঞ্চিত করতেই থাকবেন। আর লাঞ্চিত হওয়াকেই আমরা নিজেদের ফখর হিসেবে মনে মনে মনকলা খেতে থাকব।
এর থেকে বড় লাঞ্চনা আর কী হতে পারে, একজন এমন প্রকাশ্য কুফরি উচ্চারণ করা ব্যক্তিকে আমি মসজিদের মিম্বারে বসাই, আমি মাদরাসার অনুষ্ঠানে নিয়ে প্রশংসার ঢালি সাজাই!
.
দায়িত্বশীল আলেমরা যদি উম্মতকে এরপরেও সতর্ক না করেন, উম্মতের এই কঠিন সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা না দিতে পারেন, তাহলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা ও দুনিয়ার লাঞ্চনার জন্য তৈয়ার হন ইনশাআল্লাহ।
👍17❤9🔥1
নিজের বই তাই কিছু বললে ভাববেন, মার্কেটিংয়ের জন্য বলি! (সবাই ভাববে না। যাদের অন্তরে বক্রতা থাকে তারাই সাধারণত এগুলো করে) তবে পুজার সময় রিদ্দার যে ভয়াবহ তুফান দেখলেন, তা থেকে বাঁচতে হলে ওয়ালা-বারা অথবা আল হুব্বু ফিল্লা এবং বুগযু ফিল্লাহের আকিদা মজবুতের বিকল্প নাই। আর যদি কিছু মনে না করেন, তাহলে বলবো এই বিষয়ে এই বইয়ের বিকল্প একবারে নাই বললেই চলে!
.
ঈমান-কুফরের মাসআলাগুলো খুব আলোচনা করুন। যদি পরবর্তী প্রজন্মের ঈমান ধরে রাখতে চান, তাহলে আল্লাহর ওয়াস্তে ঈমান-কুফরের মাসআলা নিয়ে খুব আলোচনা করুন।
.
ঈমান-কুফরের মাসআলাগুলো খুব আলোচনা করুন। যদি পরবর্তী প্রজন্মের ঈমান ধরে রাখতে চান, তাহলে আল্লাহর ওয়াস্তে ঈমান-কুফরের মাসআলা নিয়ে খুব আলোচনা করুন।
❤15👍4🥰1💯1
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
জাতীয় মিম্বার থেকে...
.
ধর্ম যার যার, এটা দ্বারা যদি উদ্দেশ্য হয়, কাউকে অন্য ধর্মের উপর জোর করা হবে না, তাহলে কথা ঠিক আছে।
আর যদি উদ্দেশ্য হয়, ইসলাম যেমন সত্য ধর্ম, অন্য ধর্মও তেমন সত্য, তাহলে প্রথমে আপনারই ঈমান শেষ....
-জাতীয় খতিব
মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব
.
ধর্ম যার যার, এটা দ্বারা যদি উদ্দেশ্য হয়, কাউকে অন্য ধর্মের উপর জোর করা হবে না, তাহলে কথা ঠিক আছে।
আর যদি উদ্দেশ্য হয়, ইসলাম যেমন সত্য ধর্ম, অন্য ধর্মও তেমন সত্য, তাহলে প্রথমে আপনারই ঈমান শেষ....
-জাতীয় খতিব
মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব
👍32❤25🔥3👌1
যে জিহাদি দল দলগতভাবে মনে করে:
জি হা দ করতে হলে আশআরি মাতুরিদি আকিদা পরিত্যাগ করতে হবে।
আশআরি মাতুরিদি আকিদার ধারকবাহক ইমামরা গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট,
আমি সে জিহাদি দলকে* গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট মনে করি এ ক্ষেত্রে।
এই বিষয়গুলো স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। শুকরিয়া।
*সে দলের ব্যক্তি বিশেষ বা বিশেষ মাসলাকের কেউ তাদের মাসলাকের কারণে মনে করলে সেটা তাদের মাসলাকের বিষয়। উম্মাহের সামগ্রিক জি হা দ এই সকল মাসআলাকের উর্ধ্বে আলহামদুলিল্লাহ।
জি হা দ করতে হলে আশআরি মাতুরিদি আকিদা পরিত্যাগ করতে হবে।
আশআরি মাতুরিদি আকিদার ধারকবাহক ইমামরা গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট,
আমি সে জিহাদি দলকে* গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট মনে করি এ ক্ষেত্রে।
এই বিষয়গুলো স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। শুকরিয়া।
*সে দলের ব্যক্তি বিশেষ বা বিশেষ মাসলাকের কেউ তাদের মাসলাকের কারণে মনে করলে সেটা তাদের মাসলাকের বিষয়। উম্মাহের সামগ্রিক জি হা দ এই সকল মাসআলাকের উর্ধ্বে আলহামদুলিল্লাহ।
❤17🤔2