এক. পূজায় অংশ গ্রহণ :
হযরত ওমর রা. বলেন,
لَا تَدْخُلُوا عَلَى الْمُشْرِكِينَ فِي كَنَائِسِهِمْ يَوْمَ عِيدِهِمْ، فَإِنَّ السَّخْطَةَ تَنْزِلُ عَلَيْهِمْ.
তোমরা মুশরিকদের উৎসবের দিন তাদের গির্জায় যেয়ো না, কেননা তাদের উপর গযব নাযিল হয়।
তিনি আরো বলেন,
اجْتَنِبُوا أَعْدَاءَ اللهِ فِي عِيدِهِمْ.
তোমরা আল্লাহর শত্রুদের উৎসবের দিন তাদের থেকে দূরে থাকো। -মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, বর্ণনা নং ১৬০৯ ; আসসুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি, বর্ণনা নং ১৮৮৬২.
দুই. পূজার অনুষ্ঠানকে ভালো মনে করা
আল্লামা হিন্দি আল হানাফি রহ. (মৃত্যু : ৭৮৬ হি.) লেখেন,
اجتمع المجوس يوم النيروز فقال مسلم - خوب رسم نهاده اند أو قال نيك آئيى نهاده اند - خيف عليه الكفر.
নাইরোযের দিনে অগ্নিপূজকদের সমবেতকে যদি কোনো মুসলিম ‘খুব ভালো অনুষ্ঠান এটি, অথবা ‘এটি ভাল প্রভাব ফেললো’ ইত্যাদি বলে তাহলে তার ব্যাপারে কু]ফ]রীর আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরো লিখেন—
واتفق مشايخنا أن من رآى أمر الكفار حسنا فهو كافر.
আমাদের সকল ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য হলো, কেউ যদি কা]ফে]রের কোন বিষয়কে ভালো বলে, তাহলে সে কা]ফে]র হয়ে যাবে। -ফতোয়া তাতারখানিয়্যা-৭/৩৪৮ ; শরহু হামওয়ী -২/৮৮; আলবাহরুর রাইক ৫/১৩৩.
তিন. পূজা উপলক্ষে অমুসলিমদের শুভেচ্ছ জানানো:
পুজা উপলক্ষ্য কোনো অমুসলিমকে অভিনন্দন জানানো সম্পূর্ণ হারাম। তবে কেউ যদি এই পূজাকে সম্মানিত মনে করে জানায় তাহলে তার কু]ফরের আশঙ্কা রয়েছে।
ইবনে আব্দুল বার রহ. বলেন,
ولا يبدأ أحد من أهل الذمة بالسلام ولا يقصدون بتهيئته
জিম্মিকে আগে সালাম দিবে না, এবং তাদেরকে অভিনন্দন জানাবে না। -আল কাফি ফি ফিকহি আহলিল মাদিনাহ ২/১১৩৩
হাম্বলি মাজহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম হাজাবি রহ. বলেন,
وتحرم تهنئتهم
কাফেরদেরকে শুভেচ্ছা জানানো হারাম।
এই কথার ব্যাখ্যায় বাহুতি রহ. লেখেন,
لأنه تعظيم لهم
শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো তাদেরকে সম্মান করা। -কাশশাফুল কিনা ৭/২৫৮
আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম জাওযি রহ. মৃত্যু : ৭৫১ হি.) সুন্দর ভাষায় বলেছেন,
وأما التهنئة بشعائر الكفر المختصة به فحرام بالاتفاق ، مثل أن يُهنئهم بأعيادهم وصومهم ، فيقول : عيد مبارك عليك ، أو تهنأ بهذا العيد ونحوه فهذا إن سلِمَ قائله من الكفر فهو من المحرّمات ، وهو بمنزلة أن تُهنئة بسجوده للصليب بل ذلك أعظم إثماً عند الله ، وأشدّ مَـقتاً من التهنئة بشرب الخمر وقتل النفس وارتكاب الفرج الحرام ونحوه . وكثير ممن لا قدر للدِّين عنده يقع في ذلك ، ولا يدري قبح ما فعل ، فمن هنّـأ عبد بمعصية أو بدعة أو كـُـفْرٍ فقد تعرّض لِمقت الله وسخطه
কোন কু]ফ]রী আচারানুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমন- তাদের উৎসব ও উপবাস পালন উপলক্ষে বলা যে, ‘তোমাদের উৎসব শুভ হোক’ কিংবা ‘তোমার উৎসব উপভোগ্য হোক’ কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন কথা। যদি এ শুভেচ্ছাজ্ঞাপন করা কুফরীর পর্যায়ে নাও পৌঁছে; তবে এটি হারামের অন্তর্ভুক্ত। এ শুভেচ্ছা ক্রুশকে সেজদা দেয়ার কারণে কাউকে অভিনন্দন জানানোর পর্যায়ভুক্ত। বরং আল্লাহর কাছে এটি আরও বেশি জঘন্য গুনাহ। এটি মদ্যপান, হত্যা ও যিনা ইত্যাদির মত অপরাধের জন্য কাউকে অভিনন্দন জানানোর চেয়ে মারাত্মক। যাদের কাছে ইসলামের যথাযথ মর্যাদা নেই তাদের অনেকে এ গুনাতে লিপ্ত হয়ে পড়ে; অথচ তারা এ গুনাহের কদর্যতা উপলব্ধি করে না। যে ব্যক্তি কোন গুনার কাজ কিংবা বিদআত কিংবা কুফরী কর্মের প্রেক্ষিতে কাউকে অভিনন্দন জানায় সে নিজেকে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির সম্মুখীন করে। -আহকামু আহলিয যিম্মাহ ১/২৯৩.
চার. পূজার দিন অমুসলিমকে কোনো হাদিয়া দেওয়া:
হানাফি মাজহাবের সুপ্রশিদ্ধ কিতাব 'তাবয়িনুল হাকায়েক' উল্লেখ রয়েছে,
وقال أبو حفص الكبير - رحمه الله - لو أن رجلا عبد الله خمسين سنة ثم جاء يوم النيروز، وأهدى لبعض المشركين بيضة يريد به تعظيم ذلك اليوم فقد كفر، وحبط عمله،
ইমাম আবু হাফস আলকাবীর রহ. বলেন, যদি কেউ পঞ্চাশ বছর আল্লাহর ইবাদত করে এরপর কোনো নাইরুজের দিন (মুশরিকদের একটি উতসব) কোনো মুশরিককে ডিম হাদিয়া দেয় ঐদিনকে সম্মান করে, তাহলে সে কা]ফের হয়ে যাবে তার সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে। -তাবয়ীনুল হাকায়েক -৬/২২৮; আল বাহরুর রায়েক ৫/১৩৩; আদ্দুররুল মুখতার পৃ.৭৫৯; ফতোয়া হিন্দিয়া ২/২৭৭
তবে যদি তা ঐদিনকে সম্মান ছাড়া কোনো অভ্যাস বা সামাজিক কারনে দেয় তাহলে তা কুফর হবে না, তবে নাজায়েয এবং কাফেরদের সামাঞ্জস্য হয় যেহেতু তাই তা থেকে বেঁচে থাকে জরুরি। ইমাম যাইলায়ি রহ. বলেন,
ولم يرد به التعظيم لذلك اليوم، ولكن ما اعتاده بعض الناس لا يكفر، ولكن ينبغي له أن لا يفعل ذلك في ذلك اليوم خاصة، ويفعله قبله أو بعده كي لا يكون تشبها بأولئك القوم
ঐদিনের সম্মানের কারনে না হয়, বরং কিছু মানুষের অভ্যাসের কারনে হয় তাহলে কা]ফে]র হবে না। তবে মুসলমানদের ঐ বিশেষ দিন এমন কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। আগে পরে অন্যকোনো দিন সে এগুলো করবে। যাতে কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যতা না হয়। -তাবয়িনুল হাকায়েক ৬/২২৮
হযরত ওমর রা. বলেন,
لَا تَدْخُلُوا عَلَى الْمُشْرِكِينَ فِي كَنَائِسِهِمْ يَوْمَ عِيدِهِمْ، فَإِنَّ السَّخْطَةَ تَنْزِلُ عَلَيْهِمْ.
তোমরা মুশরিকদের উৎসবের দিন তাদের গির্জায় যেয়ো না, কেননা তাদের উপর গযব নাযিল হয়।
তিনি আরো বলেন,
اجْتَنِبُوا أَعْدَاءَ اللهِ فِي عِيدِهِمْ.
তোমরা আল্লাহর শত্রুদের উৎসবের দিন তাদের থেকে দূরে থাকো। -মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, বর্ণনা নং ১৬০৯ ; আসসুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি, বর্ণনা নং ১৮৮৬২.
দুই. পূজার অনুষ্ঠানকে ভালো মনে করা
আল্লামা হিন্দি আল হানাফি রহ. (মৃত্যু : ৭৮৬ হি.) লেখেন,
اجتمع المجوس يوم النيروز فقال مسلم - خوب رسم نهاده اند أو قال نيك آئيى نهاده اند - خيف عليه الكفر.
নাইরোযের দিনে অগ্নিপূজকদের সমবেতকে যদি কোনো মুসলিম ‘খুব ভালো অনুষ্ঠান এটি, অথবা ‘এটি ভাল প্রভাব ফেললো’ ইত্যাদি বলে তাহলে তার ব্যাপারে কু]ফ]রীর আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরো লিখেন—
واتفق مشايخنا أن من رآى أمر الكفار حسنا فهو كافر.
আমাদের সকল ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য হলো, কেউ যদি কা]ফে]রের কোন বিষয়কে ভালো বলে, তাহলে সে কা]ফে]র হয়ে যাবে। -ফতোয়া তাতারখানিয়্যা-৭/৩৪৮ ; শরহু হামওয়ী -২/৮৮; আলবাহরুর রাইক ৫/১৩৩.
তিন. পূজা উপলক্ষে অমুসলিমদের শুভেচ্ছ জানানো:
পুজা উপলক্ষ্য কোনো অমুসলিমকে অভিনন্দন জানানো সম্পূর্ণ হারাম। তবে কেউ যদি এই পূজাকে সম্মানিত মনে করে জানায় তাহলে তার কু]ফরের আশঙ্কা রয়েছে।
ইবনে আব্দুল বার রহ. বলেন,
ولا يبدأ أحد من أهل الذمة بالسلام ولا يقصدون بتهيئته
জিম্মিকে আগে সালাম দিবে না, এবং তাদেরকে অভিনন্দন জানাবে না। -আল কাফি ফি ফিকহি আহলিল মাদিনাহ ২/১১৩৩
হাম্বলি মাজহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম হাজাবি রহ. বলেন,
وتحرم تهنئتهم
কাফেরদেরকে শুভেচ্ছা জানানো হারাম।
এই কথার ব্যাখ্যায় বাহুতি রহ. লেখেন,
لأنه تعظيم لهم
শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো তাদেরকে সম্মান করা। -কাশশাফুল কিনা ৭/২৫৮
আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম জাওযি রহ. মৃত্যু : ৭৫১ হি.) সুন্দর ভাষায় বলেছেন,
وأما التهنئة بشعائر الكفر المختصة به فحرام بالاتفاق ، مثل أن يُهنئهم بأعيادهم وصومهم ، فيقول : عيد مبارك عليك ، أو تهنأ بهذا العيد ونحوه فهذا إن سلِمَ قائله من الكفر فهو من المحرّمات ، وهو بمنزلة أن تُهنئة بسجوده للصليب بل ذلك أعظم إثماً عند الله ، وأشدّ مَـقتاً من التهنئة بشرب الخمر وقتل النفس وارتكاب الفرج الحرام ونحوه . وكثير ممن لا قدر للدِّين عنده يقع في ذلك ، ولا يدري قبح ما فعل ، فمن هنّـأ عبد بمعصية أو بدعة أو كـُـفْرٍ فقد تعرّض لِمقت الله وسخطه
কোন কু]ফ]রী আচারানুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমন- তাদের উৎসব ও উপবাস পালন উপলক্ষে বলা যে, ‘তোমাদের উৎসব শুভ হোক’ কিংবা ‘তোমার উৎসব উপভোগ্য হোক’ কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন কথা। যদি এ শুভেচ্ছাজ্ঞাপন করা কুফরীর পর্যায়ে নাও পৌঁছে; তবে এটি হারামের অন্তর্ভুক্ত। এ শুভেচ্ছা ক্রুশকে সেজদা দেয়ার কারণে কাউকে অভিনন্দন জানানোর পর্যায়ভুক্ত। বরং আল্লাহর কাছে এটি আরও বেশি জঘন্য গুনাহ। এটি মদ্যপান, হত্যা ও যিনা ইত্যাদির মত অপরাধের জন্য কাউকে অভিনন্দন জানানোর চেয়ে মারাত্মক। যাদের কাছে ইসলামের যথাযথ মর্যাদা নেই তাদের অনেকে এ গুনাতে লিপ্ত হয়ে পড়ে; অথচ তারা এ গুনাহের কদর্যতা উপলব্ধি করে না। যে ব্যক্তি কোন গুনার কাজ কিংবা বিদআত কিংবা কুফরী কর্মের প্রেক্ষিতে কাউকে অভিনন্দন জানায় সে নিজেকে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির সম্মুখীন করে। -আহকামু আহলিয যিম্মাহ ১/২৯৩.
চার. পূজার দিন অমুসলিমকে কোনো হাদিয়া দেওয়া:
হানাফি মাজহাবের সুপ্রশিদ্ধ কিতাব 'তাবয়িনুল হাকায়েক' উল্লেখ রয়েছে,
وقال أبو حفص الكبير - رحمه الله - لو أن رجلا عبد الله خمسين سنة ثم جاء يوم النيروز، وأهدى لبعض المشركين بيضة يريد به تعظيم ذلك اليوم فقد كفر، وحبط عمله،
ইমাম আবু হাফস আলকাবীর রহ. বলেন, যদি কেউ পঞ্চাশ বছর আল্লাহর ইবাদত করে এরপর কোনো নাইরুজের দিন (মুশরিকদের একটি উতসব) কোনো মুশরিককে ডিম হাদিয়া দেয় ঐদিনকে সম্মান করে, তাহলে সে কা]ফের হয়ে যাবে তার সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে। -তাবয়ীনুল হাকায়েক -৬/২২৮; আল বাহরুর রায়েক ৫/১৩৩; আদ্দুররুল মুখতার পৃ.৭৫৯; ফতোয়া হিন্দিয়া ২/২৭৭
তবে যদি তা ঐদিনকে সম্মান ছাড়া কোনো অভ্যাস বা সামাজিক কারনে দেয় তাহলে তা কুফর হবে না, তবে নাজায়েয এবং কাফেরদের সামাঞ্জস্য হয় যেহেতু তাই তা থেকে বেঁচে থাকে জরুরি। ইমাম যাইলায়ি রহ. বলেন,
ولم يرد به التعظيم لذلك اليوم، ولكن ما اعتاده بعض الناس لا يكفر، ولكن ينبغي له أن لا يفعل ذلك في ذلك اليوم خاصة، ويفعله قبله أو بعده كي لا يكون تشبها بأولئك القوم
ঐদিনের সম্মানের কারনে না হয়, বরং কিছু মানুষের অভ্যাসের কারনে হয় তাহলে কা]ফে]র হবে না। তবে মুসলমানদের ঐ বিশেষ দিন এমন কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। আগে পরে অন্যকোনো দিন সে এগুলো করবে। যাতে কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যতা না হয়। -তাবয়িনুল হাকায়েক ৬/২২৮
❤5🔥1
অনুবাদের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো-
১.
অনুবাদ একটি কঠিন কাজ। একজন অনুবাদককে একই সংগে দু ভাষায় শিক্ষিত হতে হয়। এর অভাব প্রকট।
২.
কালের ভাষা জানতে হবে। আমি যে যুগে বাস করছি, তার গতি-প্রকৃতি না জানলে আমার অনুবাদ কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারবে না।
৩.
কেউ হয়তো উঁচু দরের পাঠকদের জন্যে লেখেন। আমি মনে করি, সর্বশ্রেণির পাঠক উপযোগী লেখাই এ মুহূর্তে ইসলামী বইয়ের পাঠকদের জন্যে কাম্য।
৪.
বাংলার জ্ঞান-ভাণ্ডার এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উঠেনি। বা সে অর্থে এ দেশে এখনো তাকী উসমানী, আলী মিয়া নদভী, কারজাভী মানের লেখক বা ন্যূনতম নকশবন্দীর মানের হৃদয়জেতা দাঈ জন্মাননি। এক দিন যেনো জন্মান; সে পথ দেখাতে আমাদের এ অনুবাদ-আয়োজন।
কাজেই একজন অনুবাদককে শুধু ভাষাজ্ঞানী নয়; দ্বীনের কঠোর অনুসারী, উম্মার ব্যথা-বেদনা বহনকারীও হতে হবে।
৫.
মূল বইয়ের লেখক যদি উঁচু দরের লেখক বা সাহিত্যিক হন তাহলে তাঁর লেখায় কোনো ধরনের সংযোজন উচিত মনে করি না। কেননা হতে পারে আমার সংযোজন একটি বহু অর্থবোধক নদী-কে খালে পরিণত করবে।
আর যদি তিনি স্রেফ খতিব বা আলেম বা অন্য সংস্কৃতির হন তাহলে সংযোজন হতে পারে।
তবে সেখানে, যেখানে না করলে নয়। এবং তা দিতে হবে টীকায়, অনুবাদকের দিকে সম্বন্ধিত করে।
৬.
একজন অনুবাদকের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হতে হবে। তার কাছে যেমন প্রচুর সমার্থবোধক শব্দ থাকতে হবে, তেমনি থাকতে হবে একটি মর্মকে একাধিক শৈলীতে ব্যক্ত করার ক্ষমতা। নয়তো তাকে অক্ষম অনুবাদের অভিযোগ শুনতে হবে।
৭.
মনে রাখতে হবে,
'অভিধান অন্ধ, অভিধান বোবা।' কারণ,
১. যে শব্দগুলোর অর্থ দরকার তার সিংহভাগই আপনি ব্যবহৃত অভিধানগুলোয় পাবেন না।
২. প্রায়সময় দেখা যায়, অভিধানে প্রদত্ত অর্থ যুৎসই হচ্ছে না।
এটা অভিধানের দোষ নয়; সীমাবদ্ধতা। একজন লেখক শব্দের বহুমাত্রিক ব্যবহার করে থাকেন। পূর্বাপর মিলিয়ে সেখানে একটা বৈচিত্র সৃষ্টি করেন। কাজেই অনুবাদকদের শব্দার্থ জ্ঞান থাকতে হবে অবশ্যই অনেক বেশি।
(জনৈক ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তরে তাৎক্ষণিক যে কথাগুলো মনে পড়েছে, তা এখানে পেতে দিলাম। আরো কিছু জানলে বা মনে পড়লে আপডেট করবো, ইনশা আল্লাহ।)
@মাওালানা আব্দুল্লাহ ফারুক
১.
অনুবাদ একটি কঠিন কাজ। একজন অনুবাদককে একই সংগে দু ভাষায় শিক্ষিত হতে হয়। এর অভাব প্রকট।
২.
কালের ভাষা জানতে হবে। আমি যে যুগে বাস করছি, তার গতি-প্রকৃতি না জানলে আমার অনুবাদ কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারবে না।
৩.
কেউ হয়তো উঁচু দরের পাঠকদের জন্যে লেখেন। আমি মনে করি, সর্বশ্রেণির পাঠক উপযোগী লেখাই এ মুহূর্তে ইসলামী বইয়ের পাঠকদের জন্যে কাম্য।
৪.
বাংলার জ্ঞান-ভাণ্ডার এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উঠেনি। বা সে অর্থে এ দেশে এখনো তাকী উসমানী, আলী মিয়া নদভী, কারজাভী মানের লেখক বা ন্যূনতম নকশবন্দীর মানের হৃদয়জেতা দাঈ জন্মাননি। এক দিন যেনো জন্মান; সে পথ দেখাতে আমাদের এ অনুবাদ-আয়োজন।
কাজেই একজন অনুবাদককে শুধু ভাষাজ্ঞানী নয়; দ্বীনের কঠোর অনুসারী, উম্মার ব্যথা-বেদনা বহনকারীও হতে হবে।
৫.
মূল বইয়ের লেখক যদি উঁচু দরের লেখক বা সাহিত্যিক হন তাহলে তাঁর লেখায় কোনো ধরনের সংযোজন উচিত মনে করি না। কেননা হতে পারে আমার সংযোজন একটি বহু অর্থবোধক নদী-কে খালে পরিণত করবে।
আর যদি তিনি স্রেফ খতিব বা আলেম বা অন্য সংস্কৃতির হন তাহলে সংযোজন হতে পারে।
তবে সেখানে, যেখানে না করলে নয়। এবং তা দিতে হবে টীকায়, অনুবাদকের দিকে সম্বন্ধিত করে।
৬.
একজন অনুবাদকের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হতে হবে। তার কাছে যেমন প্রচুর সমার্থবোধক শব্দ থাকতে হবে, তেমনি থাকতে হবে একটি মর্মকে একাধিক শৈলীতে ব্যক্ত করার ক্ষমতা। নয়তো তাকে অক্ষম অনুবাদের অভিযোগ শুনতে হবে।
৭.
মনে রাখতে হবে,
'অভিধান অন্ধ, অভিধান বোবা।' কারণ,
১. যে শব্দগুলোর অর্থ দরকার তার সিংহভাগই আপনি ব্যবহৃত অভিধানগুলোয় পাবেন না।
২. প্রায়সময় দেখা যায়, অভিধানে প্রদত্ত অর্থ যুৎসই হচ্ছে না।
এটা অভিধানের দোষ নয়; সীমাবদ্ধতা। একজন লেখক শব্দের বহুমাত্রিক ব্যবহার করে থাকেন। পূর্বাপর মিলিয়ে সেখানে একটা বৈচিত্র সৃষ্টি করেন। কাজেই অনুবাদকদের শব্দার্থ জ্ঞান থাকতে হবে অবশ্যই অনেক বেশি।
(জনৈক ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তরে তাৎক্ষণিক যে কথাগুলো মনে পড়েছে, তা এখানে পেতে দিলাম। আরো কিছু জানলে বা মনে পড়লে আপডেট করবো, ইনশা আল্লাহ।)
@মাওালানা আব্দুল্লাহ ফারুক
❤9
পুজায় অংশগ্রহণ ও তাতে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান: পর্ব ২
.
১. দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া—
غیر مسلم حضرات کے تہوار وغیرہ ان کے مشرکانہ اعتقاد پر مبنی ہوتے ہیں؛ اس لیے ہمارے لیے مشرک سے برأت اور بے تعلقی کا اظہار ضروری ہے، اور چونکہ مبارکبادی دینے میں ان کے فکر و عقیدے کی توثیق و تائید ہوتی ہے؛ اس لیے اس سے احتراز ضروری ہے بسا اوقات یہ سلبِ ایمان کا بھی باعث ہوسکتا ہے۔
অমুসলিমদের উৎসব ইত্যাদি তাদের বহুঈশ্বরবাদী বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে; অতএব, আমাদের জন্য মুশরিকদের থেকে দূরত্ব এবং সম্পর্ক ছিন্নতা ঘোষনা করা আবশ্যক। আর অভিনন্দন জানানোর সময়, তাদের চিন্তাভাবনা এবং বিশ্বাস সত্যায়ন ও সমর্থন করা হয়। তাই অভিনন্দন জানানো থেকে দূরে থাকা জরুরি, কখনও কখনও এটি ঈমান ভঙ্গের কারণ হতে পারে। -ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ
২. জামিয়াতুল উলূম আল-ইসলামিয় বানূরি টাউনের ফতোয়া—
غیرمسلموں کے مذہبی تہوار کے موقع پر انہیں مبارک باد دینا یا ان کی جانب سے ان کے نظریہ کے مطابق کسی مسلمان کو اس دن کی تعظیم کے متعلق کلمات کہنا اور مسلمان کا جواب میں مبارک باد دینا دونوں جائز نہیں۔ ابتداءً مبارک باد دینا یا مبارک بادی کا جواب دینا گویا ان کے نقطۂ نظر کی تائید ہے، جب کہ غیر مسلموں کے مذہبی تہوار مشرکانہ اعتقادات پر مبنی ہوتے ہیں۔ مسلمان ہونے کی حیثیت سے ہمارے لیے شرک سے بے زاری اور لاتعلقی کا اظہار ضروری ہے، اور مذہبی اعتقادات میں شرعی اَحکام کی تعمیل لازم ہے، اس سلسلہ میں کسی کی رضا یا ناراضی کی پرواہ نہیں کرنی چاہیے، مخلوق کی اطاعت اور ان کی رضا کی بجائے خالق کی اطاعت اور اس کی رضا کو مقدم رکھنا لازم ہے؛ لہذا دیوالی کی مبارک باد دینا یا مبارک بادی کے جواب میں مبارک باد کے کلمات کہنا جائز نہیں۔ اور اگر اس سے ان کے دین کی تعظیم یا اس پر رضامندی مقصود ہو تو کفر کا اندیشہ ہے۔
অমুসলিমদের কোনো ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে তাদেরকে অভিনন্দন জানানো বা কোনো মুসলমানকে তাদের ধর্মের মত করে সেই দিনটির সম্মানসূচক কোনো বাক্য বলা ও বিনিময়ে অপর মুসলিম অভিনন্দন জানানো বৈধ নয়। প্রথমত, অভিনন্দন জানানো বা অভিনন্দনের জবাব দেওয়া তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করা হয়। অন্যদিকে অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলি বহুঈশ্বরবাদী বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে হয়। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের জন্য শিরক থেকে অনাগ্রহ ও বিচ্ছিন্নতা প্রদর্শন করা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসে শরীয়তের বিধি-বিধান মেনে চলা আবশ্যক। এক্ষেত্রে কারো সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির তোয়াক্কা করা যাবে না। বরং আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাই দীপাবলির শুভেচ্ছা জানানো বা শুভেচ্ছার জবাবে অভিনন্দন জাতীয় শব্দ ব্যবহার জায়েয নেই। আর যদি এর অর্থ তাদের ধর্মকে সম্মান করা বা সম্মানের ব্যাপারে সমর্থন দেওয়া, তাহলে কুফর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৩. দারুল উলূম করাচির ফতোয়া
کرسمس ہو یا دیوالی، غیر مسلموں کی کوئی بھی مذہبی عید یا تہوار ہو، مسلمانوں کے لیےا س میں حاضر ہونا ان کے جلسوں محفلوں میں شرکت کرنا یا ان کی عبادت گاہوں میں جانا اورا ن کے ساتھ شرکت کرنا ہرگز جائز نہیں ہے ۔اسی طرح اس موقع پر ان کو اس تہوار کی تعظیم کی خاطر مبارکباد دینا یا ان کو ہدایا دینا جائز نہیں ۔ بلکہ اگرا س سے ان کی دین کی تعظیم مقصود ہو تو اس میں کفر کا قوی اندیشہ ہے بلکہ بعض مشائخ نے ایسے شخص کو کافر فرمایا ہے ۔ لہذا مسلمانوں پرواجب ہے کہ وہ کرسمس وغیرہ میں نصاریٰ کے ساتھ یکجہتی یا محبت کی غرض سے شرکت سے مکمل اجتناب کریںورنہ سخت گناہ ہوگا اور اس میں کفر کا بھی قوی اندیشہ ہے ۔
ক্রিসমাস হোক বা দীপাবলি, অমুসলিমদের যে কোনো ধর্মীয় ঈদ বা উৎসবই হোক, মুসলমানদের জন্য সেখানে উপস্থিত হওয়া, তাদের মজলিসে অংশগ্রহণ করা বা তাদের উপাসনালয়ে গিয়ে তাদের সাথে অংশগ্রহণ করা জায়েয নেই। অনুরূপ এই উৎসবকে সম্মান করার জন্য তাদের অভিনন্দন জানানো বা নির্দেশনা দেওয়া জায়েয নেই। বরং এইকাজগুলো যদি তাদের দ্বীনকে সম্মান করা উদ্দেশ্য হয় তাহলে ব্যক্তির কুফর হওয়ার প্রবল আশংকা রয়েছে। কোন কোন শায়েখ এমন ব্যক্তিকে কাফের বলেছেন। অতএব মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য হলো একাত্মতা বা ভালবাসার উদ্দেশ্যে খ্রিস্টানদের সাথে ক্রিসমাস ও ইত্যাদিতে অংশ নেওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলা। অন্যথায় এটি একটি গুরুতর পাপ হবে এবং এতে কুফরের প্রবল ভয়ও রয়েছে।
.
১. দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া—
غیر مسلم حضرات کے تہوار وغیرہ ان کے مشرکانہ اعتقاد پر مبنی ہوتے ہیں؛ اس لیے ہمارے لیے مشرک سے برأت اور بے تعلقی کا اظہار ضروری ہے، اور چونکہ مبارکبادی دینے میں ان کے فکر و عقیدے کی توثیق و تائید ہوتی ہے؛ اس لیے اس سے احتراز ضروری ہے بسا اوقات یہ سلبِ ایمان کا بھی باعث ہوسکتا ہے۔
অমুসলিমদের উৎসব ইত্যাদি তাদের বহুঈশ্বরবাদী বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে; অতএব, আমাদের জন্য মুশরিকদের থেকে দূরত্ব এবং সম্পর্ক ছিন্নতা ঘোষনা করা আবশ্যক। আর অভিনন্দন জানানোর সময়, তাদের চিন্তাভাবনা এবং বিশ্বাস সত্যায়ন ও সমর্থন করা হয়। তাই অভিনন্দন জানানো থেকে দূরে থাকা জরুরি, কখনও কখনও এটি ঈমান ভঙ্গের কারণ হতে পারে। -ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ
২. জামিয়াতুল উলূম আল-ইসলামিয় বানূরি টাউনের ফতোয়া—
غیرمسلموں کے مذہبی تہوار کے موقع پر انہیں مبارک باد دینا یا ان کی جانب سے ان کے نظریہ کے مطابق کسی مسلمان کو اس دن کی تعظیم کے متعلق کلمات کہنا اور مسلمان کا جواب میں مبارک باد دینا دونوں جائز نہیں۔ ابتداءً مبارک باد دینا یا مبارک بادی کا جواب دینا گویا ان کے نقطۂ نظر کی تائید ہے، جب کہ غیر مسلموں کے مذہبی تہوار مشرکانہ اعتقادات پر مبنی ہوتے ہیں۔ مسلمان ہونے کی حیثیت سے ہمارے لیے شرک سے بے زاری اور لاتعلقی کا اظہار ضروری ہے، اور مذہبی اعتقادات میں شرعی اَحکام کی تعمیل لازم ہے، اس سلسلہ میں کسی کی رضا یا ناراضی کی پرواہ نہیں کرنی چاہیے، مخلوق کی اطاعت اور ان کی رضا کی بجائے خالق کی اطاعت اور اس کی رضا کو مقدم رکھنا لازم ہے؛ لہذا دیوالی کی مبارک باد دینا یا مبارک بادی کے جواب میں مبارک باد کے کلمات کہنا جائز نہیں۔ اور اگر اس سے ان کے دین کی تعظیم یا اس پر رضامندی مقصود ہو تو کفر کا اندیشہ ہے۔
অমুসলিমদের কোনো ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে তাদেরকে অভিনন্দন জানানো বা কোনো মুসলমানকে তাদের ধর্মের মত করে সেই দিনটির সম্মানসূচক কোনো বাক্য বলা ও বিনিময়ে অপর মুসলিম অভিনন্দন জানানো বৈধ নয়। প্রথমত, অভিনন্দন জানানো বা অভিনন্দনের জবাব দেওয়া তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করা হয়। অন্যদিকে অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলি বহুঈশ্বরবাদী বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে হয়। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের জন্য শিরক থেকে অনাগ্রহ ও বিচ্ছিন্নতা প্রদর্শন করা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসে শরীয়তের বিধি-বিধান মেনে চলা আবশ্যক। এক্ষেত্রে কারো সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির তোয়াক্কা করা যাবে না। বরং আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাই দীপাবলির শুভেচ্ছা জানানো বা শুভেচ্ছার জবাবে অভিনন্দন জাতীয় শব্দ ব্যবহার জায়েয নেই। আর যদি এর অর্থ তাদের ধর্মকে সম্মান করা বা সম্মানের ব্যাপারে সমর্থন দেওয়া, তাহলে কুফর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৩. দারুল উলূম করাচির ফতোয়া
کرسمس ہو یا دیوالی، غیر مسلموں کی کوئی بھی مذہبی عید یا تہوار ہو، مسلمانوں کے لیےا س میں حاضر ہونا ان کے جلسوں محفلوں میں شرکت کرنا یا ان کی عبادت گاہوں میں جانا اورا ن کے ساتھ شرکت کرنا ہرگز جائز نہیں ہے ۔اسی طرح اس موقع پر ان کو اس تہوار کی تعظیم کی خاطر مبارکباد دینا یا ان کو ہدایا دینا جائز نہیں ۔ بلکہ اگرا س سے ان کی دین کی تعظیم مقصود ہو تو اس میں کفر کا قوی اندیشہ ہے بلکہ بعض مشائخ نے ایسے شخص کو کافر فرمایا ہے ۔ لہذا مسلمانوں پرواجب ہے کہ وہ کرسمس وغیرہ میں نصاریٰ کے ساتھ یکجہتی یا محبت کی غرض سے شرکت سے مکمل اجتناب کریںورنہ سخت گناہ ہوگا اور اس میں کفر کا بھی قوی اندیشہ ہے ۔
ক্রিসমাস হোক বা দীপাবলি, অমুসলিমদের যে কোনো ধর্মীয় ঈদ বা উৎসবই হোক, মুসলমানদের জন্য সেখানে উপস্থিত হওয়া, তাদের মজলিসে অংশগ্রহণ করা বা তাদের উপাসনালয়ে গিয়ে তাদের সাথে অংশগ্রহণ করা জায়েয নেই। অনুরূপ এই উৎসবকে সম্মান করার জন্য তাদের অভিনন্দন জানানো বা নির্দেশনা দেওয়া জায়েয নেই। বরং এইকাজগুলো যদি তাদের দ্বীনকে সম্মান করা উদ্দেশ্য হয় তাহলে ব্যক্তির কুফর হওয়ার প্রবল আশংকা রয়েছে। কোন কোন শায়েখ এমন ব্যক্তিকে কাফের বলেছেন। অতএব মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য হলো একাত্মতা বা ভালবাসার উদ্দেশ্যে খ্রিস্টানদের সাথে ক্রিসমাস ও ইত্যাদিতে অংশ নেওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলা। অন্যথায় এটি একটি গুরুতর পাপ হবে এবং এতে কুফরের প্রবল ভয়ও রয়েছে।
❤6👍1
আগামী কিছু দিন ছাগল বা খাসির মাংস, নলি বা মাথা বাজার থেকে কিনা থেকে বিরত থাকুন এবং সতর্কতা অবলম্বন করুন ইনশা আল্লাহ। রেস্টুরেন্টে নলি/নেহারি খাওয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা।
.
সারাদেশে পূজা উপলক্ষে গায়রুল্লাহর নামে ব্যাপকভাবে পাঠাবলি দেওয়া হবে এবং সেগুলোর পূর্ণ বা খণ্ডাংশ বাজারে ছড়িয়ে যাবে।
©
.
সারাদেশে পূজা উপলক্ষে গায়রুল্লাহর নামে ব্যাপকভাবে পাঠাবলি দেওয়া হবে এবং সেগুলোর পূর্ণ বা খণ্ডাংশ বাজারে ছড়িয়ে যাবে।
©
👍4❤3
fiqh10729.pdf
11.2 MB
হানাফি মাজহাবের অন্যতম ইমাম, কুদুরি রহ.-এর একটি বিখ্যাত কাজ শরহে মুখতাসারিল কারখি। বইটির গুরুত্ব তালেবে ইলম ভাইদের কাছে অজানা নয়। বইটির পুরো অংশ পাইনি। এতটুকু পেয়েছি, জানিনা বাকিটুকুর পিডিএফ পাওয়া যায় কি না। সবগুলো পেলে অবশ্যই ছাপাবো ইনশাআল্লাহ। বাকি আগ্রহিরা এতটুকু দেখতে পারেন, আশা করি আন্দাজ করতে পারবেন, কী চমৎকার একটি কাজ এটি।
❤8
আলহামদুলিল্লাহ, এই দুটো বিষয় নিয়ে বড় দুটো প্রবন্ধ তৈরি হয়েছে। খুব দ্রুতই প্রকাশ হবে টেলিগ্রামের এই চ্যানেলে। দোয়া চাই সকলের।
❤12👍3
আবু সাবের আব্দুল্লাহ সাহেব হাফিজাহুল্লাহের বই পড়ে আরো যা জানতে পারবেন।
১. রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস "জি*হা*দ কেয়ামত পর্যন্ত বাকি থাকবে" এই হাদিসের একটি আম অর্থও হবে। তখন হবে, যখন শক্তি থাকবে তখন অস্ত্রের মাধ্যমে, যখন তা না থাকবে, যবানের মাধ্যমে আর তাও না থাকলে অন্তরের মাধ্যমে। এভাবে কেয়ামত পর্যন্ত জ*হ*দ বাকি থাকবে। (পৃ. ২৮৯)
২. বর্তমানের রাষ্ট্রগুলো যেহেতু জাতিসংজ্ঞের সাথে চুক্তিবদ্ধ, তাই এখন জি*হ*দ শূরু করতে হলে জাতী সংজ্ঞকে জানাতে হবে আপনাদের সাথে আমাদের চুক্তি নাই, তারপর জি*হা*দ শূরু করতে হবে। (পৃ. ২৬৩)
৩. এমন কোনো কা*ফে*র রাষ্ট্র যদি থাকে যাদের তেমন শক্তি নাই, তারা কারো উপরে তেমন জুলুমও করে না ও মুসলিমদের জন্য তেমন হুমকিও নয় তাদের উপর আক্রমণ করা মুসলমানদের জন্য জায়েয নেই। (পৃ.৩১৩)
৪. সোভিয়ত আক্রমণের করার পরে পুরো আফগান আমিরের নেতৃত্বে জি*হা*দ করেছেন। মোল্লা ওমর যখন তালেবানি আন্দোলন শূরু করে উনি শাওকাত ও কুওয়াতে কাহেরাওয়ালা আমির ছিলেন।
৫. দারুল ইসলাম দুইপ্রকার, কামেল ও নাকেস। সাহেবাইন যে শর্ত করেছেন সেটা দারুল ইসলাম কামেল। আর আবু হানিফা যে শর্ত করেছেন সেটা হলো নাকেস দারুল ইসলামের জন্য।
৬. ইসলামি রাষ্ট্রে একজন যিম্মি শুধু জিযিয়া চুক্তি দেওয়া ছাড়া তার আর মুসলিমদের মাঝে গুনগত কোনো পার্থক্য নেই।
ওয়াল্লাহি, হুজুর এই বইতে মুসলিম রাষ্ট্রে অমুসলিমদের যে চিত্র একেছে, এটা পড়ার পর কোনো সাধারণ পাঠক যদি হযরত ওমরের যিম্মিদের সাথে আচরণ দেখে, শুরুতে উমরিয়্যাহগুলো পড়ে তাহলে তাহলে হযরত ওমরকে উগ্র বলা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। ! ফুকাহায়ে কেরাম যেগুলো লেখে গেছেন, একজন অমুসলিম ইসলামি ভূখণ্ডে জোড়ে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারবে যা মুসলিমদের কানে আসে, মুসলিমদের তৈরি করা কোনো শহরে অমুসলিম তাদের উপসনালয় বানাতে পারবে না, তার বাড়ি মুসলিমদের বাড়ি থেকে উঁচু হতে পারবে না ইত্যাদি এই পুরো ফিকহি কনসেপ্টকে তার উগ্রবাদি মনে হবে!
এতটুকু কী হুজুর বলতে পারতো না অন্তত মুসলিম শাসক মাসলাহাত মনে করলে সময়ের তাকাজায় বিভিন্ন নরম বিধানও দিতে পারবে!
৭. আগের এডিশনে শিরোনামে পাবেন "ইসলামি সাম্যতন্ত্রের (গণতন্ত্রের) রূপরেখা। আর এই এডিশনে পাবেন "ইসলামি জমহুরিয়্যাতের রূপরেখা"।
৮. জি*হা*দ দিফায়ি হোক বা ইকদামি কোনো পার্থক্য না করে সব প্রকারের জন্য আমীর, কুওয়াতে কাহেরা ইত্যাদি লাগবে।
৯. এই বই পড়ার পর আপনার যে অনুভুতি হবে, লিবারেল, সেকুলার পুজিবাদি মূল্যবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত এই পৃথিবীর সাথে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার গূনগত তেমন কোনো পার্থক্য নেই। কিছু ইতিকাদি বিষয় পার্থক্য আছে, আমালান তেমন কোনো পার্থক্য নেই। শুধু বিভিন্ন জালেম আর খারাপ শাসকরা এসে ইসলামের সাথে কিছু খারাপ আচরণ করে। তারা যদি না থাকে কিছু ভালো মানুষ পার্লামেন্টে যায় তাহলে মুসলমানদের আর কোনো সমস্যা নেই। এতেই হয়ে যাবে। যেমন এরদোয়ান!
.
এই হলো সংক্ষিপ্ত কিছু বিষয় যা পাবেন। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে প্রমানে দলিলের বিভিন্ন অবস্থা নিয়ে দেখি সময় করে লেখবো! আল্লাহ তাওফিক দিক।
.
ভাই! আপনাদের কিছু বলার নাই, আপনারা বলে যান। শুধু আল্লাহকে সাক্ষি রেখে এতটুকু বলি, হুজুরের প্রতি বা মুয়াসসাসার প্রতি আমার সামান্যতম ক্ষোভ নেই। আমি সাবের সাহেবের শামায়েলে তিরমিজির বাংলা শরাহ কত মানুষকে পড়তে দিছি আর পড়তে বলেছি তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা জানেন। কিন্তু এখানের বিষয়গুলো শরয়ী মাসআলা আরকিছুই আমার বলার নাই।
.
আর বেয়াদব ভাইগণ, দুনিয়ার যেকোনো আলোচনা ও মুসলিমদের উন্নতি নষ্ট করতে আপনাদের জুরি মেলা ভার। আপনাদের জবানের জি*হা*দে আল্লাহ বারাকাত দিক!
১. রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস "জি*হা*দ কেয়ামত পর্যন্ত বাকি থাকবে" এই হাদিসের একটি আম অর্থও হবে। তখন হবে, যখন শক্তি থাকবে তখন অস্ত্রের মাধ্যমে, যখন তা না থাকবে, যবানের মাধ্যমে আর তাও না থাকলে অন্তরের মাধ্যমে। এভাবে কেয়ামত পর্যন্ত জ*হ*দ বাকি থাকবে। (পৃ. ২৮৯)
২. বর্তমানের রাষ্ট্রগুলো যেহেতু জাতিসংজ্ঞের সাথে চুক্তিবদ্ধ, তাই এখন জি*হ*দ শূরু করতে হলে জাতী সংজ্ঞকে জানাতে হবে আপনাদের সাথে আমাদের চুক্তি নাই, তারপর জি*হা*দ শূরু করতে হবে। (পৃ. ২৬৩)
৩. এমন কোনো কা*ফে*র রাষ্ট্র যদি থাকে যাদের তেমন শক্তি নাই, তারা কারো উপরে তেমন জুলুমও করে না ও মুসলিমদের জন্য তেমন হুমকিও নয় তাদের উপর আক্রমণ করা মুসলমানদের জন্য জায়েয নেই। (পৃ.৩১৩)
৪. সোভিয়ত আক্রমণের করার পরে পুরো আফগান আমিরের নেতৃত্বে জি*হা*দ করেছেন। মোল্লা ওমর যখন তালেবানি আন্দোলন শূরু করে উনি শাওকাত ও কুওয়াতে কাহেরাওয়ালা আমির ছিলেন।
৫. দারুল ইসলাম দুইপ্রকার, কামেল ও নাকেস। সাহেবাইন যে শর্ত করেছেন সেটা দারুল ইসলাম কামেল। আর আবু হানিফা যে শর্ত করেছেন সেটা হলো নাকেস দারুল ইসলামের জন্য।
৬. ইসলামি রাষ্ট্রে একজন যিম্মি শুধু জিযিয়া চুক্তি দেওয়া ছাড়া তার আর মুসলিমদের মাঝে গুনগত কোনো পার্থক্য নেই।
ওয়াল্লাহি, হুজুর এই বইতে মুসলিম রাষ্ট্রে অমুসলিমদের যে চিত্র একেছে, এটা পড়ার পর কোনো সাধারণ পাঠক যদি হযরত ওমরের যিম্মিদের সাথে আচরণ দেখে, শুরুতে উমরিয়্যাহগুলো পড়ে তাহলে তাহলে হযরত ওমরকে উগ্র বলা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। ! ফুকাহায়ে কেরাম যেগুলো লেখে গেছেন, একজন অমুসলিম ইসলামি ভূখণ্ডে জোড়ে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারবে যা মুসলিমদের কানে আসে, মুসলিমদের তৈরি করা কোনো শহরে অমুসলিম তাদের উপসনালয় বানাতে পারবে না, তার বাড়ি মুসলিমদের বাড়ি থেকে উঁচু হতে পারবে না ইত্যাদি এই পুরো ফিকহি কনসেপ্টকে তার উগ্রবাদি মনে হবে!
এতটুকু কী হুজুর বলতে পারতো না অন্তত মুসলিম শাসক মাসলাহাত মনে করলে সময়ের তাকাজায় বিভিন্ন নরম বিধানও দিতে পারবে!
৭. আগের এডিশনে শিরোনামে পাবেন "ইসলামি সাম্যতন্ত্রের (গণতন্ত্রের) রূপরেখা। আর এই এডিশনে পাবেন "ইসলামি জমহুরিয়্যাতের রূপরেখা"।
৮. জি*হা*দ দিফায়ি হোক বা ইকদামি কোনো পার্থক্য না করে সব প্রকারের জন্য আমীর, কুওয়াতে কাহেরা ইত্যাদি লাগবে।
৯. এই বই পড়ার পর আপনার যে অনুভুতি হবে, লিবারেল, সেকুলার পুজিবাদি মূল্যবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত এই পৃথিবীর সাথে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার গূনগত তেমন কোনো পার্থক্য নেই। কিছু ইতিকাদি বিষয় পার্থক্য আছে, আমালান তেমন কোনো পার্থক্য নেই। শুধু বিভিন্ন জালেম আর খারাপ শাসকরা এসে ইসলামের সাথে কিছু খারাপ আচরণ করে। তারা যদি না থাকে কিছু ভালো মানুষ পার্লামেন্টে যায় তাহলে মুসলমানদের আর কোনো সমস্যা নেই। এতেই হয়ে যাবে। যেমন এরদোয়ান!
.
এই হলো সংক্ষিপ্ত কিছু বিষয় যা পাবেন। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে প্রমানে দলিলের বিভিন্ন অবস্থা নিয়ে দেখি সময় করে লেখবো! আল্লাহ তাওফিক দিক।
.
ভাই! আপনাদের কিছু বলার নাই, আপনারা বলে যান। শুধু আল্লাহকে সাক্ষি রেখে এতটুকু বলি, হুজুরের প্রতি বা মুয়াসসাসার প্রতি আমার সামান্যতম ক্ষোভ নেই। আমি সাবের সাহেবের শামায়েলে তিরমিজির বাংলা শরাহ কত মানুষকে পড়তে দিছি আর পড়তে বলেছি তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা জানেন। কিন্তু এখানের বিষয়গুলো শরয়ী মাসআলা আরকিছুই আমার বলার নাই।
.
আর বেয়াদব ভাইগণ, দুনিয়ার যেকোনো আলোচনা ও মুসলিমদের উন্নতি নষ্ট করতে আপনাদের জুরি মেলা ভার। আপনাদের জবানের জি*হা*দে আল্লাহ বারাকাত দিক!
😢13❤5👍1🔥1
ফেসবুকে আলোচনাটি দিয়েছি। সকলে পড়বেন, উপকারী হলে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করবেন।
https://www.facebook.com/abdullah.binbashir.1/posts/pfbid0351Cq99EjoFUbqG4DHwygLDKi4iCXaETk3CCXR5xuMdsvsUscchmo7KMgW1Y8rBw8l
https://www.facebook.com/abdullah.binbashir.1/posts/pfbid0351Cq99EjoFUbqG4DHwygLDKi4iCXaETk3CCXR5xuMdsvsUscchmo7KMgW1Y8rBw8l
❤23🔥3
Abdullah bin bashir
https://www.youtube.com/watch?v=mRo-QC_n2XU
ওলামায়ে দেওবন্দ আল কা*য়ে*দাকে কী মনে করতো? মঞ্জুর মেঙ্গল সাহেব কী দেওবন্দি ?
❤13👍1🔥1
আপনি কেমন জীবনসঙ্গী কামনা করেন? কেমন সন্তান গড়ে তুলতে চান?
নাজিমুদ্দিন আইয়্যুব। তিনি একটা লম্বা সময় পর্যন্ত অবিবাহিত ছিলেন। তার ভাই আসাদুদ্দিন তাকে একদিন প্রশ্ন করলেন, হে ভাই! তুমি কেন বিবাহ করছো না? নাজিমুদ্দিন তাকে বললেন, আমি আমার জন্য উপযুক্ত কাউকে পাইনি।
আসাদুদ্দিন বললেন, আমি কি তোমার জন্য একটি প্রস্তাব দিব? নাজিমুদ্দিন জিজ্ঞেস করলেন, কার ব্যাপারে প্রস্তাব রাখতে চাচ্ছেন?
আসাদ উদ্দিন বললেন, সেলজুক সাম্রাজের বাদশার রাজকন্যা অথবা প্রধান ওজিরের কন্যার ব্যাপারে বলছি।
নাজিমুদ্দিন বলেন, তারা কেউই আমার যোগ্য নয়। এই কথা শুনে তার ভাই আশ্চর্য হলেন এবং জিজ্ঞাস করলেন, তাহলে কে তোমার উপযুক্ত? নাজিমুদ্দিন উত্তর দিলেন,
" আমি একজন সালিহা জীবনসঙ্গিনী কামনা করি, যে আমাকে হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আর তার গর্ভ থেকে আমার ঘরে এমন এক সন্তান জন্ম নিবে, যাকে সে উত্তমরূপে প্রতিপালন করবে। আমাদের সন্তান যুবক বয়সে উপনীত হবে। সে হবে সুদক্ষ অশ্বারোহী। সে-ই বাইতুল মাকদিসের স্বাধীনতা উম্মাহর কাছে ফিরিয়ে আনবে।"
আসাদুদ্দিন এবার আর আশ্চর্য হলেন না। তিনি জিজ্ঞাস করলেন, তুমি এমন মেয়ে কোথায় পাবে? নাজিমুদ্দিন বললেন, যে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে নিয়ত রাখে, আল্লাহ তাকে দান করেন।
তারপর কোন একদিন নাজিমুদ্দিন তিকরিত ( ইরাকের একটি শহর) এর কোন এক মসজিদে একজন শাইখের মজলিসে ছিলেন। এমন সময় একজন যুবতী এসে দেয়ালের আড়াল থেকে ঐ শাইখকে ডাকতে লাগলেন। ঐ শাইখ নাজিমুদ্দিন থেকে অনুমতি নিয়ে যুবতীর ডাকে সাড়া দিলেন। মসজিদের শাইখ যুবতী মেয়েটিকে বলল, তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার জন্য বাড়িতে যেই ছেলেটিকে পাঠিয়েছিলাম, তাকে ফিরিয়ে দিলে কেন? যুবতী উত্তর দিল, শাইখ! ছেলেটি মর্যাদা আর সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে উত্তম হলেও আমার জন্য উপযুক্ত না। শাইখ বলল, তাহলে তুমি কেমন ছেলে চাও? যুবতী মেয়েটি উত্তরে বলল,
" আমি এমন একজন যুবককে কামনা করি, যিনি আমাকে হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবেন। আর আমার গর্ভে তার এমন এক সন্তান জন্ম নিবে, যে হবে অভিজ্ঞ অশ্বারোহী। সে বাইতুল মাকদিসকে মুসলিম উম্মাহর অধীনে ফিরিয়ে আনবে। "
আল্লাহু আকবার! হুবহু এই কথাটাই তো নাজিমুদ্দিন তার ভাইকে বলেছিল। নাজিমুদ্দিন সৌন্দর্য আর মর্যাদার অধিকারী অনেক মেয়েকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আর এই মেয়েও এরকম অনেক ছেলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। আবার তাদের উভয়ের উদ্দেশ্যও এক।
নাজিমুদ্দিন এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলেন না। তিনি দাঁড়িয়ে গিয়ে শাইখকে ডেকে বললেন, শাইখ! আমি এই মেয়েকে বিবাহ করতে চাই। শাইখ বললেন, আরে এই মেয়ে গ্রামের সবচেয়ে দরিদ্র ঘরের সন্তান। নাজিমুদ্দিন বললেন, এটাই সেই মেয়ে যাকে আমি কামনা করি।
নাজিমুদ্দিন সেই মেয়েকে বিবাহ করলেন। তাদের ঘরে একজন সন্তান জন্ম নিল। সেই সন্তান মহান বীর যোদ্ধা হয়ে বাইতুল মাকদিসকে মুসলিমদের অধীনে ফিরিয়ে আনলেন। তিনিই হলেন সালাউদ্দিন আইয়্যুবি রহিমাহুল্লাহ।
এটাই আমাদের ঐতিহ্য। আমাদের সন্তানদের এই শিক্ষাই দেয়া উচিত।
(আলি সাল্লাবি হাফিজাহুল্লাহর পোস্ট থেকে অনুদিত)
@ইফতেখার সিফাত ভাই
নাজিমুদ্দিন আইয়্যুব। তিনি একটা লম্বা সময় পর্যন্ত অবিবাহিত ছিলেন। তার ভাই আসাদুদ্দিন তাকে একদিন প্রশ্ন করলেন, হে ভাই! তুমি কেন বিবাহ করছো না? নাজিমুদ্দিন তাকে বললেন, আমি আমার জন্য উপযুক্ত কাউকে পাইনি।
আসাদুদ্দিন বললেন, আমি কি তোমার জন্য একটি প্রস্তাব দিব? নাজিমুদ্দিন জিজ্ঞেস করলেন, কার ব্যাপারে প্রস্তাব রাখতে চাচ্ছেন?
আসাদ উদ্দিন বললেন, সেলজুক সাম্রাজের বাদশার রাজকন্যা অথবা প্রধান ওজিরের কন্যার ব্যাপারে বলছি।
নাজিমুদ্দিন বলেন, তারা কেউই আমার যোগ্য নয়। এই কথা শুনে তার ভাই আশ্চর্য হলেন এবং জিজ্ঞাস করলেন, তাহলে কে তোমার উপযুক্ত? নাজিমুদ্দিন উত্তর দিলেন,
" আমি একজন সালিহা জীবনসঙ্গিনী কামনা করি, যে আমাকে হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আর তার গর্ভ থেকে আমার ঘরে এমন এক সন্তান জন্ম নিবে, যাকে সে উত্তমরূপে প্রতিপালন করবে। আমাদের সন্তান যুবক বয়সে উপনীত হবে। সে হবে সুদক্ষ অশ্বারোহী। সে-ই বাইতুল মাকদিসের স্বাধীনতা উম্মাহর কাছে ফিরিয়ে আনবে।"
আসাদুদ্দিন এবার আর আশ্চর্য হলেন না। তিনি জিজ্ঞাস করলেন, তুমি এমন মেয়ে কোথায় পাবে? নাজিমুদ্দিন বললেন, যে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে নিয়ত রাখে, আল্লাহ তাকে দান করেন।
তারপর কোন একদিন নাজিমুদ্দিন তিকরিত ( ইরাকের একটি শহর) এর কোন এক মসজিদে একজন শাইখের মজলিসে ছিলেন। এমন সময় একজন যুবতী এসে দেয়ালের আড়াল থেকে ঐ শাইখকে ডাকতে লাগলেন। ঐ শাইখ নাজিমুদ্দিন থেকে অনুমতি নিয়ে যুবতীর ডাকে সাড়া দিলেন। মসজিদের শাইখ যুবতী মেয়েটিকে বলল, তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার জন্য বাড়িতে যেই ছেলেটিকে পাঠিয়েছিলাম, তাকে ফিরিয়ে দিলে কেন? যুবতী উত্তর দিল, শাইখ! ছেলেটি মর্যাদা আর সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে উত্তম হলেও আমার জন্য উপযুক্ত না। শাইখ বলল, তাহলে তুমি কেমন ছেলে চাও? যুবতী মেয়েটি উত্তরে বলল,
" আমি এমন একজন যুবককে কামনা করি, যিনি আমাকে হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবেন। আর আমার গর্ভে তার এমন এক সন্তান জন্ম নিবে, যে হবে অভিজ্ঞ অশ্বারোহী। সে বাইতুল মাকদিসকে মুসলিম উম্মাহর অধীনে ফিরিয়ে আনবে। "
আল্লাহু আকবার! হুবহু এই কথাটাই তো নাজিমুদ্দিন তার ভাইকে বলেছিল। নাজিমুদ্দিন সৌন্দর্য আর মর্যাদার অধিকারী অনেক মেয়েকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আর এই মেয়েও এরকম অনেক ছেলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। আবার তাদের উভয়ের উদ্দেশ্যও এক।
নাজিমুদ্দিন এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলেন না। তিনি দাঁড়িয়ে গিয়ে শাইখকে ডেকে বললেন, শাইখ! আমি এই মেয়েকে বিবাহ করতে চাই। শাইখ বললেন, আরে এই মেয়ে গ্রামের সবচেয়ে দরিদ্র ঘরের সন্তান। নাজিমুদ্দিন বললেন, এটাই সেই মেয়ে যাকে আমি কামনা করি।
নাজিমুদ্দিন সেই মেয়েকে বিবাহ করলেন। তাদের ঘরে একজন সন্তান জন্ম নিল। সেই সন্তান মহান বীর যোদ্ধা হয়ে বাইতুল মাকদিসকে মুসলিমদের অধীনে ফিরিয়ে আনলেন। তিনিই হলেন সালাউদ্দিন আইয়্যুবি রহিমাহুল্লাহ।
এটাই আমাদের ঐতিহ্য। আমাদের সন্তানদের এই শিক্ষাই দেয়া উচিত।
(আলি সাল্লাবি হাফিজাহুল্লাহর পোস্ট থেকে অনুদিত)
@ইফতেখার সিফাত ভাই
❤33👍6
Abdullah bin bashir
আপনি কেমন জীবনসঙ্গী কামনা করেন? কেমন সন্তান গড়ে তুলতে চান? নাজিমুদ্দিন আইয়্যুব। তিনি একটা লম্বা সময় পর্যন্ত অবিবাহিত ছিলেন। তার ভাই আসাদুদ্দিন তাকে একদিন প্রশ্ন করলেন, হে ভাই! তুমি কেন বিবাহ করছো না? নাজিমুদ্দিন তাকে বললেন, আমি আমার জন্য উপযুক্ত কাউকে পাইনি।…
লেখাটি বোনদের মাঝে ও ভাইদের মাঝে খুব প্রচার করুন ইনশাআল্লাহ
❤8👍1
প্রসাদ খাওয়ার বিধান
আব্দুল্লাহ বিন বশির
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গিত খাবার—প্রাণী জাতীয়, মিষ্টান্ন বা ফলমুল যাইহোক না কেন, এমনকি পানি হলেও; এসবকিছুই মুসলমানের জন্য খাওয়া বা ব্যবহার করা নাজায়েয ও হারাম। চাই এই উৎসর্গ মুশরিকরা দেবদেবির জন্য করুক বা কোনো মুর্খ মুসলিম ওলি-আউলিয়াদের নামে করুক।
বর্তমানে হিন্দু মুসলিমদের অগাদ মেলামেশায় ও মুসলিমদের মাঝে ‘ওয়ালা-বারা’-এর সঠিক চর্চা না থাকার কারণে এই স্পষ্ট মাসআলাটিও বহু মুসলিম জনসাধারণ একধরনের ভুলে বসে আছেন। সাথে বিভিন্ন অপপ্রচারেও অনেকে বিভ্রান্তির শিকার হয়। এখানে ধোঁকা দেওয়ার সূরত একেক রকম হয়ে থাকে। কাউকে বলা হয় প্রসাদ এটা তো পবিত্র জিনিস হারাম হবে কেন! কাউকে বলা হয়, প্রসাদ যেটা প্রাণী জাতীয় তা হারাম, তবে মিষ্টান্ন বা ফলমূল হারাম নয়। ইত্যাদী।
এই বিভ্রান্ত দূর করতে এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু কথা এখানে উল্লেখ করছি।
১. ‘প্রসাদ’ কাকে বলে
হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থ গীতায় প্রসাদের পরিচয়ে লেখা হয়েছে, “যে শুদ্ধ দ্রবাদি ভক্তিসহকারে ভগবানকে উতসর্গ করা হয়। তাহাই ভগবান উপহার হিসেবে গ্রহন করেন এবং তাহাই প্ৰসাদ রুপে জগৎ খ্যাত হয়। তুমি যাহা কিছুই করো, যাহা কিছু গ্রহন করো, যাহা কিছু পরিত্যাগ করো, যাহা হোম করো। সমস্ত কিছুই আমাতে সমর্পন পূর্বক করো। -শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ৯/২৬-২৭
গীতার অন্য স্থানে বলা হয়, “আর যারা ভগবানকে দেয়া খাদ্য অর্থাৎ প্রসাদ গ্রহণ করে সে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হন। - শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ৩/১২-১৩
প্রাসাদের সংজ্ঞা থেকে দুটো বিষয় এখানে স্পষ্ট হচ্ছে। এক. প্রসাদ হলো অমুসলিমরা তাদের ভ্রান্ত প্রভুদের সম্মানের জন্য যে সমস্ত খাবার উৎসর্গ করে থাকে। দুই. প্রসাদের সাথে তাদের ধর্মীয় একটি বিধানও যুক্ত রয়েছে। এবং এই হিসেবে তা তাদের ধর্মের একটি প্রতীকীও বলা যায়।
২. প্রসাদের বিধান
প্রথমত, প্রসাদ অমুসলিমদের একটি ধর্মীয় প্রতীকীর অন্তর্ভুক্ত এবং ধর্মীয় একটি বিশেষ মূল্যবোধকে সামনে রেখেই তারা খাবারটি গ্রহণ করে, কোনো সাধারণ খাবার মনে করে খায় না। এটাকে ভগবানের উদ্দেশ্যে বিশেষ একটি বস্তু মনে করে, যার মূল উদ্দেশ্যই হয় তাদের মিথ্যা ভগবানের সম্মান। সূতরাং এই খাবারকে খাওয়ার অর্থই হলো অমুসলিমদের এই প্রতীকীকে বিশেষ সম্মান করা ও নিজের মাঝে ধারণ করা। যা স্পষ্টই হারাম। আল্লামা হিন্দি রহ. (মৃত্যু: ৭৮৬ হি.) লেখেন,
واتفق مشايخنا أن من رآى أمر الكفار حسنا فهو كافر.
আমাদের সকল ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য হলো, কেউ যদি কাফেরের কোন বিষয়কে (শিয়ার) ভালো মনে করে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। -ফতোয়া তাতারখানিয়্যা-৭/৩৪৮ ; শরহু হামওয়ী -২/৮৮; আলবাহরুর রাইক ৫/১৩৩
দ্বিতীয়ত, অমুসলিমরা এই প্রসাদকে তাদের ভগবানের নামে উৎসর্গ করে থাকে/ শরীয়তের পরিভাষায় উৎসর্গকে বলা হয় ‘নজর’ যাকে আমরা মান্নত বলি। ইসলামের অকাট্ট বিধান হলো গাইরুল্লাহের নামে মান্নত করা হারাম। আর প্রসাদ চাই তা প্রাণী জাতীয় খাদ্য হোক বা মিষ্টান্ন অথবা ফলমূল তা গাইরুল্লাহের নামে মান্নতের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
ﵟإِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةَ وَٱلدَّمَ وَلَحۡمَ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ بِهِۦ لِغَيۡرِ ٱللَّهِۖ ﵞ
আল্লাহ তো তোমাদের জন্য হারাম করেছেন কেবল মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশ্ত এবং ওই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। -সূরা বাকারাহ : ১৭৩
অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন,
ﵟحُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةُ وَٱلدَّمُ وَلَحۡمُ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيۡرِ ٱللَّهِ بِهِۦﵞ
তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত শূকরের গোশ্ত ও সেই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। -সূরা মায়েদা : ৩
আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ব্যাপকভাবেই
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফতি শফী রহ. বলেন,
یہاں ایک چوتھی صورت اور ہے جس کا تعلق حیوانات کے علاوہ دوسری چیزوں سے ہے، مثلاً مٹھائی، کھانا وغیرہ جن کو غیراللہ کے نام پر نذر (منت) کے طور سے ہندو لوگ بتوں پر اور جاہل مسلمان بزرگوں کے مزارات پر چڑھاتے ہیں، حضرات فقہاء نے اس کو بھی اشتراکِ علت یعنی تقرب الی غیراللہ کی وجہ سے "ما اہل لغیر اللہ" کے حکم میں قرار دے کر حرام کہا ہے، اور اس کے کھانے پینے دوسروں کو کھلانے اور بیچنے خریدنے سب کو حرام کہا ہے" ۔
এখানে একটি চতুর্থ সূরত হলো, যা প্রাণী ছাড়া অন্যান্য বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত। যেমন মিষ্টান্ন, খাবার জাতীয় বস্তু ইত্যাদী যেগুলো হিন্দুরা তাদের দেবতার সামনে এবং মুর্খ মানুষরা বিভিন্ন বুজুর্গের মাজারে মান্নত করে দান করে ফুকাহায়ে কেরাম এগুলোকেও ইল্লত এক হওয়ার কারণে হারাম বলেছেন। সুতরাং এমন বস্তু খাওয়া বা কাউকে খাওয়ানো, ক্রয়-বিক্রয় সব হারাম হবে। -মাআরিফুল কুরআন ১/৪২৪, যাকারিয়্যাহ বুক ডিপো
মুফতি খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানি সাহেব লেখেন,
আব্দুল্লাহ বিন বশির
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গিত খাবার—প্রাণী জাতীয়, মিষ্টান্ন বা ফলমুল যাইহোক না কেন, এমনকি পানি হলেও; এসবকিছুই মুসলমানের জন্য খাওয়া বা ব্যবহার করা নাজায়েয ও হারাম। চাই এই উৎসর্গ মুশরিকরা দেবদেবির জন্য করুক বা কোনো মুর্খ মুসলিম ওলি-আউলিয়াদের নামে করুক।
বর্তমানে হিন্দু মুসলিমদের অগাদ মেলামেশায় ও মুসলিমদের মাঝে ‘ওয়ালা-বারা’-এর সঠিক চর্চা না থাকার কারণে এই স্পষ্ট মাসআলাটিও বহু মুসলিম জনসাধারণ একধরনের ভুলে বসে আছেন। সাথে বিভিন্ন অপপ্রচারেও অনেকে বিভ্রান্তির শিকার হয়। এখানে ধোঁকা দেওয়ার সূরত একেক রকম হয়ে থাকে। কাউকে বলা হয় প্রসাদ এটা তো পবিত্র জিনিস হারাম হবে কেন! কাউকে বলা হয়, প্রসাদ যেটা প্রাণী জাতীয় তা হারাম, তবে মিষ্টান্ন বা ফলমূল হারাম নয়। ইত্যাদী।
এই বিভ্রান্ত দূর করতে এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু কথা এখানে উল্লেখ করছি।
১. ‘প্রসাদ’ কাকে বলে
হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থ গীতায় প্রসাদের পরিচয়ে লেখা হয়েছে, “যে শুদ্ধ দ্রবাদি ভক্তিসহকারে ভগবানকে উতসর্গ করা হয়। তাহাই ভগবান উপহার হিসেবে গ্রহন করেন এবং তাহাই প্ৰসাদ রুপে জগৎ খ্যাত হয়। তুমি যাহা কিছুই করো, যাহা কিছু গ্রহন করো, যাহা কিছু পরিত্যাগ করো, যাহা হোম করো। সমস্ত কিছুই আমাতে সমর্পন পূর্বক করো। -শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ৯/২৬-২৭
গীতার অন্য স্থানে বলা হয়, “আর যারা ভগবানকে দেয়া খাদ্য অর্থাৎ প্রসাদ গ্রহণ করে সে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হন। - শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ৩/১২-১৩
প্রাসাদের সংজ্ঞা থেকে দুটো বিষয় এখানে স্পষ্ট হচ্ছে। এক. প্রসাদ হলো অমুসলিমরা তাদের ভ্রান্ত প্রভুদের সম্মানের জন্য যে সমস্ত খাবার উৎসর্গ করে থাকে। দুই. প্রসাদের সাথে তাদের ধর্মীয় একটি বিধানও যুক্ত রয়েছে। এবং এই হিসেবে তা তাদের ধর্মের একটি প্রতীকীও বলা যায়।
২. প্রসাদের বিধান
প্রথমত, প্রসাদ অমুসলিমদের একটি ধর্মীয় প্রতীকীর অন্তর্ভুক্ত এবং ধর্মীয় একটি বিশেষ মূল্যবোধকে সামনে রেখেই তারা খাবারটি গ্রহণ করে, কোনো সাধারণ খাবার মনে করে খায় না। এটাকে ভগবানের উদ্দেশ্যে বিশেষ একটি বস্তু মনে করে, যার মূল উদ্দেশ্যই হয় তাদের মিথ্যা ভগবানের সম্মান। সূতরাং এই খাবারকে খাওয়ার অর্থই হলো অমুসলিমদের এই প্রতীকীকে বিশেষ সম্মান করা ও নিজের মাঝে ধারণ করা। যা স্পষ্টই হারাম। আল্লামা হিন্দি রহ. (মৃত্যু: ৭৮৬ হি.) লেখেন,
واتفق مشايخنا أن من رآى أمر الكفار حسنا فهو كافر.
আমাদের সকল ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য হলো, কেউ যদি কাফেরের কোন বিষয়কে (শিয়ার) ভালো মনে করে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। -ফতোয়া তাতারখানিয়্যা-৭/৩৪৮ ; শরহু হামওয়ী -২/৮৮; আলবাহরুর রাইক ৫/১৩৩
দ্বিতীয়ত, অমুসলিমরা এই প্রসাদকে তাদের ভগবানের নামে উৎসর্গ করে থাকে/ শরীয়তের পরিভাষায় উৎসর্গকে বলা হয় ‘নজর’ যাকে আমরা মান্নত বলি। ইসলামের অকাট্ট বিধান হলো গাইরুল্লাহের নামে মান্নত করা হারাম। আর প্রসাদ চাই তা প্রাণী জাতীয় খাদ্য হোক বা মিষ্টান্ন অথবা ফলমূল তা গাইরুল্লাহের নামে মান্নতের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
ﵟإِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةَ وَٱلدَّمَ وَلَحۡمَ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ بِهِۦ لِغَيۡرِ ٱللَّهِۖ ﵞ
আল্লাহ তো তোমাদের জন্য হারাম করেছেন কেবল মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশ্ত এবং ওই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। -সূরা বাকারাহ : ১৭৩
অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন,
ﵟحُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةُ وَٱلدَّمُ وَلَحۡمُ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيۡرِ ٱللَّهِ بِهِۦﵞ
তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত শূকরের গোশ্ত ও সেই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। -সূরা মায়েদা : ৩
আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ব্যাপকভাবেই
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফতি শফী রহ. বলেন,
یہاں ایک چوتھی صورت اور ہے جس کا تعلق حیوانات کے علاوہ دوسری چیزوں سے ہے، مثلاً مٹھائی، کھانا وغیرہ جن کو غیراللہ کے نام پر نذر (منت) کے طور سے ہندو لوگ بتوں پر اور جاہل مسلمان بزرگوں کے مزارات پر چڑھاتے ہیں، حضرات فقہاء نے اس کو بھی اشتراکِ علت یعنی تقرب الی غیراللہ کی وجہ سے "ما اہل لغیر اللہ" کے حکم میں قرار دے کر حرام کہا ہے، اور اس کے کھانے پینے دوسروں کو کھلانے اور بیچنے خریدنے سب کو حرام کہا ہے" ۔
এখানে একটি চতুর্থ সূরত হলো, যা প্রাণী ছাড়া অন্যান্য বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত। যেমন মিষ্টান্ন, খাবার জাতীয় বস্তু ইত্যাদী যেগুলো হিন্দুরা তাদের দেবতার সামনে এবং মুর্খ মানুষরা বিভিন্ন বুজুর্গের মাজারে মান্নত করে দান করে ফুকাহায়ে কেরাম এগুলোকেও ইল্লত এক হওয়ার কারণে হারাম বলেছেন। সুতরাং এমন বস্তু খাওয়া বা কাউকে খাওয়ানো, ক্রয়-বিক্রয় সব হারাম হবে। -মাআরিফুল কুরআন ১/৪২৪, যাকারিয়্যাহ বুক ডিপো
মুফতি খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানি সাহেব লেখেন,
جو مٹھائی بتوں پر چڑہائی گئی ہو، اور ایسے ہی چڑھاوے کی مٹھائی کو یہ حضرات پرشاد کہتے ہیں، تو ان کا کھانا جائز نہیں، گو یہ ذبیحہ نہیں، لیکن قرآن مجید نے بتوں کے نام پر اور آستانوں پر ذبح کۓ گیۓ جانورں کو جس سبب سے حرام قرار دیا ہے، وہ یہی یے کہ ان کے ذریعہ شرک کی تعظیم کی گئی ہے، اور یہ بات پرشاد اور چرھاوے میں بھی پايئ جاتی ہے۔
মুর্তিকে উৎসর্গ করে যে মিষ্টান্ন পেশ করা হয় তাকে প্রসাদ বলা হয়। তা খাওয়া নাজায়েয। যদিও এটা উৎসর্গিত পশু নয়, কিন্তু কুরআন মুর্তির নামে উৎসর্গ করা পশুকে যে কারণে নিষিদ্ধ করেছে তা হলো, এর মাধ্যমে শিরককে সম্মান করা হয়। আর সেই একই কারণ প্রসাদের মাঝেও পাওয়া যায়। (তাই প্রসাদ খাওয়াও হারাম হবে)। -কিতাবুল ফাতাওয়া ১/৩০৩ ইমানিয়্যাত অধ্যায়, যমযম পাবলিশার্স, করাচি ২০০৭ ইং
৩. প্রসাদ খাওয়া বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের ফতোয়া
হযরত থানভি রহ. (মৃত্যু: )
হযরত থানভি রহ. এক ফতোয়া হিন্দুদের দেবিদের জন্য উৎসর্গকৃত পানি খাওয়াও নাজায়েজ বলেছেন। পুরো ফতোয়াটি হলো,
"سوال: موسمِ گرما میں اکثر اہل ہنود جگہ جگہ پانی پلایا کرتے ہیں، اس کے متعلق ایسا سنا ہے کہ وہ پانی دیوتاؤں کے نام پر پلاتے ہیں، تو اس پانی کا مسلمان کو پینا جائز ہے نہیں؟
الجواب: اگر محقق ہوجاوے کہ دیوتاؤں کے نام کا ہے تو "ما اهل لغیر اللّٰه" کے حکم میں ہے، لہذا ناجائز ہے۔"
প্রশ্ন: গরমের মৌসুমে হিন্দুদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় পানি খাওয়ার ব্যবস্থা করে রাখা হয়। বলা হয়, তারা এই পানি মানুষকে দেব-দেবির নামে খাওয়ায়। মুসলমানদের জন্য কী এই পানি খাওয়া জায়েয হবে?
উত্তর : যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় পানি দেবতাদের নামে উৎসর্গ করা তাহলে তা কুরআনে বর্ণিত “আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উচ্চারণ করা হয়েছে” বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে। তাই তা পান করা জায়েয হবে না। - ইমদাদুল ফতোয়া ৮/৫৬৩, শাব্বির আহমদ কাসেমী সাহেবের তাহকিককৃত নুসখা
ইউসুফ লুধিয়ানবি রহ. (মৃত্যু: হি.) বলেন,
بتوں کے نام نذر کی ہوئی چیز شرعا حرام ہے، کسی مسلمان کو اس کا کھانا جائز نہیں
মুর্তির নামে মান্নত করা বস্তু শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম। কোনো মুসলমানের জন্য তা খাওয়া জায়েয নয়। -আপকি মাসায়েল আউর উনকি হাল পৃ. ২/১৪০, অধ্যায়: গাইরে মুসলিম সে তায়াল্লুকাত, প্রকাশনী: মাকতাবায়ে লুধিয়ানবি ২০১১ ইং
দারুল উলুম বানুরি টাউনের এক ফতোয়ায় বলা হয় :
جب یقینی طور پر معلوم ہے کہ ہندو کی طرف سے دی گئی مٹھائی بت کے نام پر دی گئی ہے تو اس کا کھانا ہرگز جائز نہیں ہے۔
যদি নিশ্চিতভাবে জানা যাবে যে হিন্দুদের পক্ষ থেকে দেওয়া মিষ্টি মুর্তির নামে উৎসর্গ করা তাহলে তা খাওয়া কোনোভাবেই জায়েয নেই।
দারুল উলুম দেওবন্দের এক ফতোয়ায় বলা হয়,
غیر مسلم اپنی دیوی دیوتاوٴں پر جو مٹھائیاں وغیرہ چڑھاتے ہیں جسے وہ پرشاد کہتے ہیں مسلمانوں کے لیے اس کا کھانا ناجائز ہےاگر مٹھائی چڑھاوے کی نہ ہو تو اس کو لینے کی گنجائش ہے۔
অমুসলিমরা দেব-দেবীর সামনে যে মিষ্টান্ন ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য রাখে যাকে তারা প্রসাদ বলে মুসলমানদের জন্য তা খাওয়া জায়েয নেই। তবে যদি সাধারণ মিষ্টি হিন্দুরা হাদিয়া দেয় তাহলে তা গ্রহণ করার সুযোগ আছে।
কিছু আপত্তি ও তার জবাব :
প্রথম আপত্তি :
কুরআনের যে আয়াত এখানে পেশ করা হচ্ছে প্রসাদ খাওয়া হারামের বিষয়ে সেখানে " أُهِلَّ" শব্দের মধ্যে মিষ্টান্ন বা ফলমূলকে অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক নয়। কারণ আয়াতের উদ্দিষ্ট বিষয় হচ্ছে গাইরুল্লাহের নামে জবাই করা জানোয়ার। ফলমূল বা মিষ্টান্ন নয়। বিভিন্ন তাফসিরে জবাইয়ের বিষয়টি স্পষ্ট আছে।
জবাব : কুরআনে বর্ণিত " أُهِلَّ" শব্দকে শুধু গাইরুল্লাহের নামে জবাইকৃত বস্তুর মধ্যে বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গিত জন্তুর মাঝে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া সঠিক নয়।
প্রতমত: শব্দটির মূল অর্থ জবাই নয় ও পশুও নয়। মূল অর্থ হলো আওয়াজ করা, নাম নেওয়া। যেহেতু সে সময়ের আরবের কাফেররা পশু জবাই করার সময় দেবদেবি আর মুর্তির নামে আওয়াজ করতো তাই শব্দটিকে এই অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলা শব্দটিকে যে ব্যাপক ভঙ্গিতে বর্ণনা করেছেন, তা থেকে আয়াতের দাবী হলো প্রত্যেক ঐ বস্তুই হারাম হবে যেখানে গাইরুল্লাহের নাম নেওয়া হয়েছে। তা পশু হোক বা অন্যকিছু।
ইমাম জাসসাস রহ. (মৃত্যু: হি.) বলেছেন,
« قوله تعالى: {وما أهل لغير الله به} فإن ظاهره يقتضي تحريم ما سمي عليه غير الله، لأن الإهلال هو إظهار الذكر والتسمية، وأصله استهلال الصبي إذا صاح حين يولد، ومنه إهلال المحرم; فينتظم ذلك تحريم ما سمي عليه الأوثان على ما كانت العرب تفعله، وينتظم أيضا تحريم ما سمي عليه اسم غير الله أي اسم كان»
মুর্তিকে উৎসর্গ করে যে মিষ্টান্ন পেশ করা হয় তাকে প্রসাদ বলা হয়। তা খাওয়া নাজায়েয। যদিও এটা উৎসর্গিত পশু নয়, কিন্তু কুরআন মুর্তির নামে উৎসর্গ করা পশুকে যে কারণে নিষিদ্ধ করেছে তা হলো, এর মাধ্যমে শিরককে সম্মান করা হয়। আর সেই একই কারণ প্রসাদের মাঝেও পাওয়া যায়। (তাই প্রসাদ খাওয়াও হারাম হবে)। -কিতাবুল ফাতাওয়া ১/৩০৩ ইমানিয়্যাত অধ্যায়, যমযম পাবলিশার্স, করাচি ২০০৭ ইং
৩. প্রসাদ খাওয়া বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের ফতোয়া
হযরত থানভি রহ. (মৃত্যু: )
হযরত থানভি রহ. এক ফতোয়া হিন্দুদের দেবিদের জন্য উৎসর্গকৃত পানি খাওয়াও নাজায়েজ বলেছেন। পুরো ফতোয়াটি হলো,
"سوال: موسمِ گرما میں اکثر اہل ہنود جگہ جگہ پانی پلایا کرتے ہیں، اس کے متعلق ایسا سنا ہے کہ وہ پانی دیوتاؤں کے نام پر پلاتے ہیں، تو اس پانی کا مسلمان کو پینا جائز ہے نہیں؟
الجواب: اگر محقق ہوجاوے کہ دیوتاؤں کے نام کا ہے تو "ما اهل لغیر اللّٰه" کے حکم میں ہے، لہذا ناجائز ہے۔"
প্রশ্ন: গরমের মৌসুমে হিন্দুদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় পানি খাওয়ার ব্যবস্থা করে রাখা হয়। বলা হয়, তারা এই পানি মানুষকে দেব-দেবির নামে খাওয়ায়। মুসলমানদের জন্য কী এই পানি খাওয়া জায়েয হবে?
উত্তর : যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় পানি দেবতাদের নামে উৎসর্গ করা তাহলে তা কুরআনে বর্ণিত “আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উচ্চারণ করা হয়েছে” বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে। তাই তা পান করা জায়েয হবে না। - ইমদাদুল ফতোয়া ৮/৫৬৩, শাব্বির আহমদ কাসেমী সাহেবের তাহকিককৃত নুসখা
ইউসুফ লুধিয়ানবি রহ. (মৃত্যু: হি.) বলেন,
بتوں کے نام نذر کی ہوئی چیز شرعا حرام ہے، کسی مسلمان کو اس کا کھانا جائز نہیں
মুর্তির নামে মান্নত করা বস্তু শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম। কোনো মুসলমানের জন্য তা খাওয়া জায়েয নয়। -আপকি মাসায়েল আউর উনকি হাল পৃ. ২/১৪০, অধ্যায়: গাইরে মুসলিম সে তায়াল্লুকাত, প্রকাশনী: মাকতাবায়ে লুধিয়ানবি ২০১১ ইং
দারুল উলুম বানুরি টাউনের এক ফতোয়ায় বলা হয় :
جب یقینی طور پر معلوم ہے کہ ہندو کی طرف سے دی گئی مٹھائی بت کے نام پر دی گئی ہے تو اس کا کھانا ہرگز جائز نہیں ہے۔
যদি নিশ্চিতভাবে জানা যাবে যে হিন্দুদের পক্ষ থেকে দেওয়া মিষ্টি মুর্তির নামে উৎসর্গ করা তাহলে তা খাওয়া কোনোভাবেই জায়েয নেই।
দারুল উলুম দেওবন্দের এক ফতোয়ায় বলা হয়,
غیر مسلم اپنی دیوی دیوتاوٴں پر جو مٹھائیاں وغیرہ چڑھاتے ہیں جسے وہ پرشاد کہتے ہیں مسلمانوں کے لیے اس کا کھانا ناجائز ہےاگر مٹھائی چڑھاوے کی نہ ہو تو اس کو لینے کی گنجائش ہے۔
অমুসলিমরা দেব-দেবীর সামনে যে মিষ্টান্ন ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য রাখে যাকে তারা প্রসাদ বলে মুসলমানদের জন্য তা খাওয়া জায়েয নেই। তবে যদি সাধারণ মিষ্টি হিন্দুরা হাদিয়া দেয় তাহলে তা গ্রহণ করার সুযোগ আছে।
কিছু আপত্তি ও তার জবাব :
প্রথম আপত্তি :
কুরআনের যে আয়াত এখানে পেশ করা হচ্ছে প্রসাদ খাওয়া হারামের বিষয়ে সেখানে " أُهِلَّ" শব্দের মধ্যে মিষ্টান্ন বা ফলমূলকে অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক নয়। কারণ আয়াতের উদ্দিষ্ট বিষয় হচ্ছে গাইরুল্লাহের নামে জবাই করা জানোয়ার। ফলমূল বা মিষ্টান্ন নয়। বিভিন্ন তাফসিরে জবাইয়ের বিষয়টি স্পষ্ট আছে।
জবাব : কুরআনে বর্ণিত " أُهِلَّ" শব্দকে শুধু গাইরুল্লাহের নামে জবাইকৃত বস্তুর মধ্যে বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গিত জন্তুর মাঝে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া সঠিক নয়।
প্রতমত: শব্দটির মূল অর্থ জবাই নয় ও পশুও নয়। মূল অর্থ হলো আওয়াজ করা, নাম নেওয়া। যেহেতু সে সময়ের আরবের কাফেররা পশু জবাই করার সময় দেবদেবি আর মুর্তির নামে আওয়াজ করতো তাই শব্দটিকে এই অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলা শব্দটিকে যে ব্যাপক ভঙ্গিতে বর্ণনা করেছেন, তা থেকে আয়াতের দাবী হলো প্রত্যেক ঐ বস্তুই হারাম হবে যেখানে গাইরুল্লাহের নাম নেওয়া হয়েছে। তা পশু হোক বা অন্যকিছু।
ইমাম জাসসাস রহ. (মৃত্যু: হি.) বলেছেন,
« قوله تعالى: {وما أهل لغير الله به} فإن ظاهره يقتضي تحريم ما سمي عليه غير الله، لأن الإهلال هو إظهار الذكر والتسمية، وأصله استهلال الصبي إذا صاح حين يولد، ومنه إهلال المحرم; فينتظم ذلك تحريم ما سمي عليه الأوثان على ما كانت العرب تفعله، وينتظم أيضا تحريم ما سمي عليه اسم غير الله أي اسم كان»
আয়াতের বাহ্যিকতার দাবী হলো প্রত্যেক ঐ বস্তুই হারাম হবে যাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম নেওয়া হয়েছে। "أهل" শব্দটির অর্থ হলো নাম নেওয়া ও আলোচনা করা। নবভূমিষ্ট বাচ্চা যখন চিৎকার করে আরবীতে তাকে استهلال الصبي বলা হয়; এথেকেই ‘উহিল্লা’ শব্দটিকে আওয়াজ করা বা নাম নেওয়ার অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আরবরা পশু জবাইতে মূর্তির নাম নিতো তাই তা হারাম করতে এই শব্দটি ব্যবহার হয়েছে। তেমনি প্রত্যেক ঐ জিনিষ যাতে আলাহ ছাড়া অন্য কারো নাম নেওয়া হয়েছে চাই তা যার নামেই হোক তা হারাম করতেও এখানে আয়াতে তা ব্যবহার হয়েছে। -আহকামুল কুরআন ২/৩৮২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
তৃতীয়ত, গাইরুল্লাহের নামে মান্নতের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলো বিভিন্ন পশু বা জীবজন্তু দেবদেবির নামে উৎসর্গ করা বা জবাই করা। আর আরবের মাঝে সে প্রচলন ছিলো। তাই পশু ও জবাই অর্থটি অন্য অর্থ থেকে প্রসিদ্ধ হয়েছে। আর যে সকল মুফাসসির জবেহ অর্থ করেছেন তারা প্রসিদ্ধ অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে তা করেছেন, অর্থের মাঝে নির্দিষ্ট করা বা সীমাবদ্ধতা উদ্দেশ্য নয়। কুরআনের বর্ণিতশব্দের এই সূক্ষ পার্থক্যের দিকে লক্ষ্য করেই সম্ভবত বহু সংখ্যক মুফাসসির আয়াতটিকে জবাই করা বা পশুর অর্থ না করে ব্যাপক অর্থে আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। উদাহরণ স্বরূপ ইবনুল জাওযি রহ. (মৃত্যু: ৫৯৭ হি.)-এর ইবারত দেখা যেতে পারে। তিনি وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ -এর ব্যাখ্যা করেন,
ومعنى وَما أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ: ما رفع فيه الصوت بتسمية غير الله
আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ (সেই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে)-এর অর্থ হলো গাইরুল্লাহের নামে আওয়াজ উঁচু করা। -যাদুল মাসির ফি ইলমিত তাফসির ১/১৩৩, দারুল কিতাব আলআরাবি, প্রথম প্রকাশ: ১৪২২ হি.
শাহ আব্দুল আজিজ দেহলবি রহ.-এর দিকে সম্পৃক্ত ‘ফাতাওয়ায়ে আজিজিয়া’তে বলা হয়েছে,
بزمانہ نزول قرآن شریف جو لغت عرب کی تھی اور جو عرف وہاں کا تھا اس لغت اور عرف ميں ہرگز 'اھلال' بمعنی ذبح نہیں آیا ہے نہ کسی شعر میں ایسا آیا ہے نہ کسی عبارت میں۔ بلکہ 'اھلال' کا معنی لغت عرب میں یہ ہے "بلند کرنا آوازکا" اور "شہرت دینا" چناچہ 'اھلال' اس معنی میں بھی آیا ہے "لرکے کا بوقت پیدائیش اول مرتبہ آواز بلند کرنا" ... وغیرہ مستعمل ہے اور اگر کہا جائے" اھللت للہ" تو ہرگز اس کا معنی" ذبحت للہ" مفہوم نہ ہوگا۔ اور اگر 'اھلال' کا معنی ذبح کہا جائے تو یہ قباحت بھی ہے کہ اگر 'اھل' بمعنی ذبح کہا جائے تو ذبح لغیر اللہ معنی اس آیت کا ہوگا ارو ذبح باسم غیر اللہ اس آیت کا نہ ہوگا۔
কুরআন নাজিলের সময় আরবী ভাষা বা তাদের প্রচলনে শব্দটি জবাইয়ের অর্থ আসেনি। এমনকি কোনো আরবী কবিতাতেই এই শব্দটি জবইয়ের অর্থে ব্যবহার হয়নি। বরং শব্দটির মূল অর্থই হলো ‘আওয়াজ উঁচু করা’, ‘প্রসিদ্ধ করা’।…। " اھللت للہ" বাক্যের অনুবাদ যদি আল্লাহর জন্য জবাই করেছি অর্থে নেওয়া সঠিক হবে না। তখন আয়াতের অর্থ দাঁড়াবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য জবাই করা, আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারো নামে জবাইয়ের অর্থ আর থাকবে না। -ফাতাওয়া আজিজিয়া ৫৩৭, অধ্যায়: মাসায়েলে হজ্জ
চতুর্থত, সূরা মায়েদার আয়াতে মুর্তির নামে জবাই করা বস্তুকে স্বতন্ত্র হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ (সেই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে)কেও যদি একই অর্থ ধরা হয় তাহলে এটার স্বতন্ত্রতা বাকি থাকে না। সূরা মায়েদার পুরো আলোচনা দেখুন,
ﵟحُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةُ وَٱلدَّمُ وَلَحۡمُ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيۡرِ ٱللَّهِ بِهِۦ وَٱلۡمُنۡخَنِقَةُ وَٱلۡمَوۡقُوذَةُ وَٱلۡمُتَرَدِّيَةُ وَٱلنَّطِيحَةُ وَمَآ أَكَلَ ٱلسَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيۡتُمۡ وَمَا ذُبِحَ عَلَى ٱلنُّصُبِ ﵞ
তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত শূকরের গোশ্ত ও সেই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে এবং (হারাম করা হয়েছে) … ঐ পশু, যা পূজার বস্তুর কাছে জবেহ করা হয়। -সূরা মায়েদা : ৩
দ্বিতীয় আপত্তি : সাহাবায়ে কেরাম থেকে ও ফিকহের বিভিন্ন নসে স্পষ্ট আছে অমুসলিমদের উৎসবের দিনে তাদের জবাই করা পশু ব্যাতিত অন্যান ফলমূল বা মিষ্টান্ন গ্রহণ করতে কোনো অসুবিধা নেই। যেমন, আয়েশা রাযি.–কে এক মহিলা জিজ্ঞেস করল যে, আমাদের কিছু অগ্নিপূজারী প্রতিবেশি আছে, তারা তাদের উৎসবের দিন আমাদেরকে হাদিয়া দেয় (এটার বিধান কি)? তিনি বলেন,
أما ما ذبح لذلك اليوم فلا تأكلوا ، ولكن كلوا من أشجارهم. اهـ
ঐ দিন যা জবেহ করা হয় তা খেও না, তবে তাদের দেওয়া ফলফলাদি খেতে পারবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, বর্ণনা নং ২৪৮৫৬
এথেকে স্পষ্ট যে, প্রসাদ বা অন্যান্য ফলমূল বা মিষ্টান্ন খাওয়াতে কোনো সমস্যা নেই।
তৃতীয়ত, গাইরুল্লাহের নামে মান্নতের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলো বিভিন্ন পশু বা জীবজন্তু দেবদেবির নামে উৎসর্গ করা বা জবাই করা। আর আরবের মাঝে সে প্রচলন ছিলো। তাই পশু ও জবাই অর্থটি অন্য অর্থ থেকে প্রসিদ্ধ হয়েছে। আর যে সকল মুফাসসির জবেহ অর্থ করেছেন তারা প্রসিদ্ধ অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে তা করেছেন, অর্থের মাঝে নির্দিষ্ট করা বা সীমাবদ্ধতা উদ্দেশ্য নয়। কুরআনের বর্ণিতশব্দের এই সূক্ষ পার্থক্যের দিকে লক্ষ্য করেই সম্ভবত বহু সংখ্যক মুফাসসির আয়াতটিকে জবাই করা বা পশুর অর্থ না করে ব্যাপক অর্থে আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। উদাহরণ স্বরূপ ইবনুল জাওযি রহ. (মৃত্যু: ৫৯৭ হি.)-এর ইবারত দেখা যেতে পারে। তিনি وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ -এর ব্যাখ্যা করেন,
ومعنى وَما أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ: ما رفع فيه الصوت بتسمية غير الله
আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ (সেই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে)-এর অর্থ হলো গাইরুল্লাহের নামে আওয়াজ উঁচু করা। -যাদুল মাসির ফি ইলমিত তাফসির ১/১৩৩, দারুল কিতাব আলআরাবি, প্রথম প্রকাশ: ১৪২২ হি.
শাহ আব্দুল আজিজ দেহলবি রহ.-এর দিকে সম্পৃক্ত ‘ফাতাওয়ায়ে আজিজিয়া’তে বলা হয়েছে,
بزمانہ نزول قرآن شریف جو لغت عرب کی تھی اور جو عرف وہاں کا تھا اس لغت اور عرف ميں ہرگز 'اھلال' بمعنی ذبح نہیں آیا ہے نہ کسی شعر میں ایسا آیا ہے نہ کسی عبارت میں۔ بلکہ 'اھلال' کا معنی لغت عرب میں یہ ہے "بلند کرنا آوازکا" اور "شہرت دینا" چناچہ 'اھلال' اس معنی میں بھی آیا ہے "لرکے کا بوقت پیدائیش اول مرتبہ آواز بلند کرنا" ... وغیرہ مستعمل ہے اور اگر کہا جائے" اھللت للہ" تو ہرگز اس کا معنی" ذبحت للہ" مفہوم نہ ہوگا۔ اور اگر 'اھلال' کا معنی ذبح کہا جائے تو یہ قباحت بھی ہے کہ اگر 'اھل' بمعنی ذبح کہا جائے تو ذبح لغیر اللہ معنی اس آیت کا ہوگا ارو ذبح باسم غیر اللہ اس آیت کا نہ ہوگا۔
কুরআন নাজিলের সময় আরবী ভাষা বা তাদের প্রচলনে শব্দটি জবাইয়ের অর্থ আসেনি। এমনকি কোনো আরবী কবিতাতেই এই শব্দটি জবইয়ের অর্থে ব্যবহার হয়নি। বরং শব্দটির মূল অর্থই হলো ‘আওয়াজ উঁচু করা’, ‘প্রসিদ্ধ করা’।…। " اھللت للہ" বাক্যের অনুবাদ যদি আল্লাহর জন্য জবাই করেছি অর্থে নেওয়া সঠিক হবে না। তখন আয়াতের অর্থ দাঁড়াবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য জবাই করা, আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারো নামে জবাইয়ের অর্থ আর থাকবে না। -ফাতাওয়া আজিজিয়া ৫৩৭, অধ্যায়: মাসায়েলে হজ্জ
চতুর্থত, সূরা মায়েদার আয়াতে মুর্তির নামে জবাই করা বস্তুকে স্বতন্ত্র হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ (সেই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে)কেও যদি একই অর্থ ধরা হয় তাহলে এটার স্বতন্ত্রতা বাকি থাকে না। সূরা মায়েদার পুরো আলোচনা দেখুন,
ﵟحُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةُ وَٱلدَّمُ وَلَحۡمُ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيۡرِ ٱللَّهِ بِهِۦ وَٱلۡمُنۡخَنِقَةُ وَٱلۡمَوۡقُوذَةُ وَٱلۡمُتَرَدِّيَةُ وَٱلنَّطِيحَةُ وَمَآ أَكَلَ ٱلسَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيۡتُمۡ وَمَا ذُبِحَ عَلَى ٱلنُّصُبِ ﵞ
তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত শূকরের গোশ্ত ও সেই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে এবং (হারাম করা হয়েছে) … ঐ পশু, যা পূজার বস্তুর কাছে জবেহ করা হয়। -সূরা মায়েদা : ৩
দ্বিতীয় আপত্তি : সাহাবায়ে কেরাম থেকে ও ফিকহের বিভিন্ন নসে স্পষ্ট আছে অমুসলিমদের উৎসবের দিনে তাদের জবাই করা পশু ব্যাতিত অন্যান ফলমূল বা মিষ্টান্ন গ্রহণ করতে কোনো অসুবিধা নেই। যেমন, আয়েশা রাযি.–কে এক মহিলা জিজ্ঞেস করল যে, আমাদের কিছু অগ্নিপূজারী প্রতিবেশি আছে, তারা তাদের উৎসবের দিন আমাদেরকে হাদিয়া দেয় (এটার বিধান কি)? তিনি বলেন,
أما ما ذبح لذلك اليوم فلا تأكلوا ، ولكن كلوا من أشجارهم. اهـ
ঐ দিন যা জবেহ করা হয় তা খেও না, তবে তাদের দেওয়া ফলফলাদি খেতে পারবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, বর্ণনা নং ২৪৮৫৬
এথেকে স্পষ্ট যে, প্রসাদ বা অন্যান্য ফলমূল বা মিষ্টান্ন খাওয়াতে কোনো সমস্যা নেই।
