শার্লক হোমস পড়তে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শুনতেও। ডয়েল সাহেব কীভাবে হোমসকে নিয়ে এত কিছু লিখে গেছেন, সেটা নিয়ে ভাবতে বসলে বিস্ময়ের সীমা থাকে না! হোমসের গল্পগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো লাগার গল্পটি হলো ‘দি হাউন্ড অব দ্য বাস্কারভিলস’। হোমসকে নিয়ে লেখা চারটি উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম সেরা।
উপন্যাসটি লেখার সময় ডয়েল অনেক জায়গা থেকেই ইন্সপিরেশন নিয়েছিলেন। সবচেয়ে বেশি যে কথাটা শোনা যায়, সেটা হলো, সতেরো শতকে ইংল্যান্ডের ডেভনশায়ারের ডার্টমুরে রিচার্ড ক্যাবেল নামের এক ভদ্রলোক বাস করতেন। তিনি নাকি খুবই নিষ্ঠুর প্রকৃতির লোক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কবরকে কেন্দ্র করে অদ্ভুত, নারকীয় সব লোককথা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ তাঁর কবরের দিক থেকে ভয়ংকর সব চিৎকার শুনেছেন বলে দাবি করতেন। কেউ কেউ একপাল কালো কুকুরকে তাঁর কবরকে কেন্দ্র করে ছুটোছুটি করতে দেখেছেন বলেও গল্প প্রচলিত ছিল। এমনকি কোনো কোনো লোককথায় স্বয়ং রিচার্ড সাহেবকেও সেই কুকুরগুলোর সঙ্গে দেখা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কারা সত্যিকার অর্থে এসব দেখেছিলেন, তার কোনো প্রমাণ অবশ্য মেলে না। তবে লোকমুখে ছড়াতে ছড়াতে এসব গল্প স্থানীয় legend-এ পরিণত হয়। স্থানীয় মানুষ নাকি এতটাই ভয় পেত যে, তাঁর কবরের ওপর ভারী পাথর বসানো হয় এবং কবরের চারপাশে লোহার বেড়া দিয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল, কিংবদন্তি অনুযায়ী, যেন ভদ্রলোকের অশরীরী আত্মা কবর থেকে বের হয়ে আসতে না পারে।
কিন্তু অশরীরী আত্মার জন্য লোহা বা পাথরই-বা কতটা বাধা? জানি না। লোককথায় অবশ্য লোহাকে অশুভ আত্মা ঠেকানোর উপায় হিসেবে ব্যবহারের কথা পাওয়া যায়।
এসব ছাড়াও, গোটা ইংল্যান্ডজুড়েই একসময় ভূতুড়ে কালো কুকুর বা Black Hound-এর folklore প্রচলিত ছিল। ডয়েলের এক বন্ধু, বারট্রাম ফ্লেচার রবিনসনের কাছ থেকেই তিনি ডেভনশায়ারে শত শত বছর ধরে চলে আসা নানা লোককথা সম্পর্কে জানতে পারেন। রবিনসন নিজে ডেভনের মানুষ ছিলেন এবং ডার্টমুরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল।
ব্যস! ক্রিয়েটিভ মানুষজনের আর কী চাই? তিনি পেয়ে গেলেন গল্পের রসদ। একটা aristocratic পরিবার, নিষ্ঠুরতা, মৃত্যু, haunting dog-এর কিংবদন্তি, সব মিলে গেল একটা দারুণ প্লটের মধ্যে। তারপর নিজের ক্রিয়েটিভিটি কাজে লাগিয়ে ভৌতিক গল্পের আবহ তৈরি করলেন এবং সেখানে এন্ট্রি দিলেন দ্য মাইটি শার্লক এর, যে অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস করে না, যে চলে science of deduction-এর ওপর ভর করে। র্যাশনালিটি ছাড়া যার মনে অন্য কোনো কিছুর জায়গা নেই।
ডয়েল পুরো গল্পে জবরদস্ত একটা কাজ যেটা করেছেন, সেটা হলো, গল্পের সিংহভাগ অংশেই হোমসকে অনুপস্থিত রেখেছেন। আর এই কাজটা করায় গল্পটা আরও বেশি ইন্টারেস্টিং হয়ে উঠেছে। দেখা যাচ্ছে, ওয়াটসন নিজে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে, কিন্তু কোনো কিছুরই খেই পাচ্ছে না। এদিক-ওদিক অনেক ক্লু পড়ে আছে, অনেক এলিমেন্ট আছে, যেগুলো হোমস থাকলে তুড়িতেই একটার সঙ্গে আরেকটা জুড়ে দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে একটা কনক্লুশনে পৌঁছে যেত। কিন্তু ওয়াটসন তা পারছে না। ফলে ওয়াটসনের মতো আমরাও কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।
প্রথমে লন্ডনে হেনরি বাস্কারভিলের জুতো চুরি যাওয়া এবং অজানা এক লোকের হোমসদের ওপর নজর রাখা থেকে শুরু করে, বাস্কারভিল হলের মিস্টার ও মিসেস ব্যারিমোরের সন্দেহজনক আচরণ, তারপর মুরের ওপর রহস্যজনক দুজন মানুষের আনাগোনা এবং রাত-বিরেতে হাউন্ডের নারকীয় গর্জন, যে গর্জন শুনলে মনে হয়, তা কোনো পৃথিবীর প্রাণীর আওয়াজই নয় -- সবকিছুই ওয়াটসন আর হেনরি বাস্কারভিলকে প্রচণ্ড ধোঁয়াশার মধ্যে ফেলে দেয়।
তারপর স্ট্যাপলটন আর বেরিলের সেই বিচ্ছিন্ন জীবনে হেনরি বাস্কারভিলের উপস্থিতি পড়তেই স্ট্যাপলটনের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে থাকে। যে মানুষটিকে প্রথমে শান্ত, স্বাভাবিক একজন প্রকৃতিবিদ বলে মনে হয়েছিল, ধীরে ধীরে তার অন্য একটি চেহারা সামনে আসতে থাকে। গল্পের এক প্রান্তে লওরা লিওন্স নামের এক মহিলার আবির্ভাব ওয়াটসনের সামনে রহস্যের আরেকটি দরজা খুলে দেয়। সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না, কোন ঘটনাটার সঙ্গে কোন ঘটনাকে মিলিয়ে দেখবে।
তবে গল্পের শেষদিকে যথারীতি হোমসের আবির্ভাব ঘটে এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গেই সে পুরো রহস্যের সমাধান করার চেষ্টা করে। হোমসের উপস্থিতিতে আমরাও সাহস পাই। মনের ভয় দূর হয়ে যেতে থাকে। এ বিষয়টাই আমি ভীষণভাবে উপভোগ করেছি। এই যে কোনান ডয়েল যেভাবে হোমসকে একজন Savior এর পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, যাকে দেখে ওয়াটসন আর হেনরি বাস্কারভিলের মতো আমরা ভরসা পাচ্ছি, এসব একদম পিওর ট্যালেন্ট ছাড়া শুধু লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। ধন্য স্যার আর্থার কোনান ডয়েল।
যা বলছিলাম। পুরো গল্পজুড়ে রহস্যের ঘনীভূত হওয়া, যা শুরু হয় স্যার চার্লসের মৃত্যু দিয়ে আর নিস্তব্ধ রজনীতে অতিপ্রাকৃত এক হাউন্ডের গর্জন আমার চিন্তার সুতোকে ক্রমশ এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে গিয়ে সবকিছুতেই সন্দেহ হতে থাকে।
[ বাকিটুকু নিচে ]
Max Rab
উপন্যাসটি লেখার সময় ডয়েল অনেক জায়গা থেকেই ইন্সপিরেশন নিয়েছিলেন। সবচেয়ে বেশি যে কথাটা শোনা যায়, সেটা হলো, সতেরো শতকে ইংল্যান্ডের ডেভনশায়ারের ডার্টমুরে রিচার্ড ক্যাবেল নামের এক ভদ্রলোক বাস করতেন। তিনি নাকি খুবই নিষ্ঠুর প্রকৃতির লোক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কবরকে কেন্দ্র করে অদ্ভুত, নারকীয় সব লোককথা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ তাঁর কবরের দিক থেকে ভয়ংকর সব চিৎকার শুনেছেন বলে দাবি করতেন। কেউ কেউ একপাল কালো কুকুরকে তাঁর কবরকে কেন্দ্র করে ছুটোছুটি করতে দেখেছেন বলেও গল্প প্রচলিত ছিল। এমনকি কোনো কোনো লোককথায় স্বয়ং রিচার্ড সাহেবকেও সেই কুকুরগুলোর সঙ্গে দেখা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কারা সত্যিকার অর্থে এসব দেখেছিলেন, তার কোনো প্রমাণ অবশ্য মেলে না। তবে লোকমুখে ছড়াতে ছড়াতে এসব গল্প স্থানীয় legend-এ পরিণত হয়। স্থানীয় মানুষ নাকি এতটাই ভয় পেত যে, তাঁর কবরের ওপর ভারী পাথর বসানো হয় এবং কবরের চারপাশে লোহার বেড়া দিয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল, কিংবদন্তি অনুযায়ী, যেন ভদ্রলোকের অশরীরী আত্মা কবর থেকে বের হয়ে আসতে না পারে।
কিন্তু অশরীরী আত্মার জন্য লোহা বা পাথরই-বা কতটা বাধা? জানি না। লোককথায় অবশ্য লোহাকে অশুভ আত্মা ঠেকানোর উপায় হিসেবে ব্যবহারের কথা পাওয়া যায়।
এসব ছাড়াও, গোটা ইংল্যান্ডজুড়েই একসময় ভূতুড়ে কালো কুকুর বা Black Hound-এর folklore প্রচলিত ছিল। ডয়েলের এক বন্ধু, বারট্রাম ফ্লেচার রবিনসনের কাছ থেকেই তিনি ডেভনশায়ারে শত শত বছর ধরে চলে আসা নানা লোককথা সম্পর্কে জানতে পারেন। রবিনসন নিজে ডেভনের মানুষ ছিলেন এবং ডার্টমুরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল।
ব্যস! ক্রিয়েটিভ মানুষজনের আর কী চাই? তিনি পেয়ে গেলেন গল্পের রসদ। একটা aristocratic পরিবার, নিষ্ঠুরতা, মৃত্যু, haunting dog-এর কিংবদন্তি, সব মিলে গেল একটা দারুণ প্লটের মধ্যে। তারপর নিজের ক্রিয়েটিভিটি কাজে লাগিয়ে ভৌতিক গল্পের আবহ তৈরি করলেন এবং সেখানে এন্ট্রি দিলেন দ্য মাইটি শার্লক এর, যে অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস করে না, যে চলে science of deduction-এর ওপর ভর করে। র্যাশনালিটি ছাড়া যার মনে অন্য কোনো কিছুর জায়গা নেই।
ডয়েল পুরো গল্পে জবরদস্ত একটা কাজ যেটা করেছেন, সেটা হলো, গল্পের সিংহভাগ অংশেই হোমসকে অনুপস্থিত রেখেছেন। আর এই কাজটা করায় গল্পটা আরও বেশি ইন্টারেস্টিং হয়ে উঠেছে। দেখা যাচ্ছে, ওয়াটসন নিজে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে, কিন্তু কোনো কিছুরই খেই পাচ্ছে না। এদিক-ওদিক অনেক ক্লু পড়ে আছে, অনেক এলিমেন্ট আছে, যেগুলো হোমস থাকলে তুড়িতেই একটার সঙ্গে আরেকটা জুড়ে দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে একটা কনক্লুশনে পৌঁছে যেত। কিন্তু ওয়াটসন তা পারছে না। ফলে ওয়াটসনের মতো আমরাও কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।
প্রথমে লন্ডনে হেনরি বাস্কারভিলের জুতো চুরি যাওয়া এবং অজানা এক লোকের হোমসদের ওপর নজর রাখা থেকে শুরু করে, বাস্কারভিল হলের মিস্টার ও মিসেস ব্যারিমোরের সন্দেহজনক আচরণ, তারপর মুরের ওপর রহস্যজনক দুজন মানুষের আনাগোনা এবং রাত-বিরেতে হাউন্ডের নারকীয় গর্জন, যে গর্জন শুনলে মনে হয়, তা কোনো পৃথিবীর প্রাণীর আওয়াজই নয় -- সবকিছুই ওয়াটসন আর হেনরি বাস্কারভিলকে প্রচণ্ড ধোঁয়াশার মধ্যে ফেলে দেয়।
তারপর স্ট্যাপলটন আর বেরিলের সেই বিচ্ছিন্ন জীবনে হেনরি বাস্কারভিলের উপস্থিতি পড়তেই স্ট্যাপলটনের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে থাকে। যে মানুষটিকে প্রথমে শান্ত, স্বাভাবিক একজন প্রকৃতিবিদ বলে মনে হয়েছিল, ধীরে ধীরে তার অন্য একটি চেহারা সামনে আসতে থাকে। গল্পের এক প্রান্তে লওরা লিওন্স নামের এক মহিলার আবির্ভাব ওয়াটসনের সামনে রহস্যের আরেকটি দরজা খুলে দেয়। সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না, কোন ঘটনাটার সঙ্গে কোন ঘটনাকে মিলিয়ে দেখবে।
তবে গল্পের শেষদিকে যথারীতি হোমসের আবির্ভাব ঘটে এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গেই সে পুরো রহস্যের সমাধান করার চেষ্টা করে। হোমসের উপস্থিতিতে আমরাও সাহস পাই। মনের ভয় দূর হয়ে যেতে থাকে। এ বিষয়টাই আমি ভীষণভাবে উপভোগ করেছি। এই যে কোনান ডয়েল যেভাবে হোমসকে একজন Savior এর পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, যাকে দেখে ওয়াটসন আর হেনরি বাস্কারভিলের মতো আমরা ভরসা পাচ্ছি, এসব একদম পিওর ট্যালেন্ট ছাড়া শুধু লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। ধন্য স্যার আর্থার কোনান ডয়েল।
যা বলছিলাম। পুরো গল্পজুড়ে রহস্যের ঘনীভূত হওয়া, যা শুরু হয় স্যার চার্লসের মৃত্যু দিয়ে আর নিস্তব্ধ রজনীতে অতিপ্রাকৃত এক হাউন্ডের গর্জন আমার চিন্তার সুতোকে ক্রমশ এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে গিয়ে সবকিছুতেই সন্দেহ হতে থাকে।
[ বাকিটুকু নিচে ]
Max Rab
[ পরবর্তী অংশ ]
আমি ভাবতে থাকি, এইবার কি তাহলে হোমস সত্যি সত্যিই কোনো অতিপ্রাকৃত কিছুর মুখোমুখি হতে চলেছে? হোমস নিজে তো প্রমাণ ছাড়া কোনো কিছু বিশ্বাস করে না। এইবার কি তাহলে অতিলৌকিক কোনো কিছুর প্রমাণ সে সত্যিই পেয়ে যাবে? নাকি শেষ পর্যন্ত এই রহস্যের কোনো সমাধানই হবে না?এসব ভাবতে ভাবতেই প্রথম এই উপন্যাসটা পড়া শেষ করেছিলাম। দুর্দান্ত লেগেছিল। পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম।
আমি উপন্যাসটি original English-এ পড়িনি এখনও। প্রথম পড়ি অদ্রীশ বর্ধনের অনুবাদটা। স্কুলে থাকতে। ভীষণ ভালো অনুবাদ। দারুণ লেখা। ভদ্রলোক বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচে টীকা সংযুক্ত করে দিয়েছেন, যেখানে হোমস-সম্পর্কিত নানা তথ্য দেওয়া আছে। তিনি যে শুধু অনুবাদ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং অনেক research-ও করেছেন, এটা তারই প্রমাণ।
গল্পটি পড়ার পর Sunday Suspense-এ যে কতবার শুনেছি, তার ইয়ত্তা নেই! দীপ এত সুন্দর করে গল্পটা ন্যারেট করেছেন আর মীর এত সুন্দর করে হোমসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যে বারবার শুনতে মন চায়। শুনিও। আমার Sunday Suspense-এর comfort stories-এর একটা হচ্ছে এই ‘দি হাউন্ড অব দ্য বাস্কারভিলস’।
সামনে ইংরেজিটাও পড়ার ইচ্ছে আছে। এতকাল পড়িনি আলসেমি করেই। স্কুলে থাকতে ইংরেজিতে বই পড়ার অভ্যাস ছিল না বলে পড়া শুরু করেও ড্রপ করে দিতে হয়েছিল। তখন বাংলা অনুবাদটাই ধরি। মণীন্দ্র দত্তের অনুবাদ দিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু অদ্রীশ বর্ধনেরটা বেশি ভালো লাগায় দত্ত মশাইয়েরটা পড়া ছেড়ে দিই।
এবার ইচ্ছে আছে, একদিন মূল ইংরেজিতেই উপন্যাসটা পড়ব। দেখি, সেই পুরোনো ডার্টমুর, কুয়াশা, নিস্তব্ধ রাত আর দূর থেকে ভেসে আসা সেই হাউন্ডের গর্জন ইংরেজি ভাষায় পড়ে দেখতে কেমন লাগে, যেমনটা ডয়েল নিজে লিখেছিলেন।
Max Rab
আমি ভাবতে থাকি, এইবার কি তাহলে হোমস সত্যি সত্যিই কোনো অতিপ্রাকৃত কিছুর মুখোমুখি হতে চলেছে? হোমস নিজে তো প্রমাণ ছাড়া কোনো কিছু বিশ্বাস করে না। এইবার কি তাহলে অতিলৌকিক কোনো কিছুর প্রমাণ সে সত্যিই পেয়ে যাবে? নাকি শেষ পর্যন্ত এই রহস্যের কোনো সমাধানই হবে না?এসব ভাবতে ভাবতেই প্রথম এই উপন্যাসটা পড়া শেষ করেছিলাম। দুর্দান্ত লেগেছিল। পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম।
আমি উপন্যাসটি original English-এ পড়িনি এখনও। প্রথম পড়ি অদ্রীশ বর্ধনের অনুবাদটা। স্কুলে থাকতে। ভীষণ ভালো অনুবাদ। দারুণ লেখা। ভদ্রলোক বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচে টীকা সংযুক্ত করে দিয়েছেন, যেখানে হোমস-সম্পর্কিত নানা তথ্য দেওয়া আছে। তিনি যে শুধু অনুবাদ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং অনেক research-ও করেছেন, এটা তারই প্রমাণ।
গল্পটি পড়ার পর Sunday Suspense-এ যে কতবার শুনেছি, তার ইয়ত্তা নেই! দীপ এত সুন্দর করে গল্পটা ন্যারেট করেছেন আর মীর এত সুন্দর করে হোমসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যে বারবার শুনতে মন চায়। শুনিও। আমার Sunday Suspense-এর comfort stories-এর একটা হচ্ছে এই ‘দি হাউন্ড অব দ্য বাস্কারভিলস’।
সামনে ইংরেজিটাও পড়ার ইচ্ছে আছে। এতকাল পড়িনি আলসেমি করেই। স্কুলে থাকতে ইংরেজিতে বই পড়ার অভ্যাস ছিল না বলে পড়া শুরু করেও ড্রপ করে দিতে হয়েছিল। তখন বাংলা অনুবাদটাই ধরি। মণীন্দ্র দত্তের অনুবাদ দিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু অদ্রীশ বর্ধনেরটা বেশি ভালো লাগায় দত্ত মশাইয়েরটা পড়া ছেড়ে দিই।
এবার ইচ্ছে আছে, একদিন মূল ইংরেজিতেই উপন্যাসটা পড়ব। দেখি, সেই পুরোনো ডার্টমুর, কুয়াশা, নিস্তব্ধ রাত আর দূর থেকে ভেসে আসা সেই হাউন্ডের গর্জন ইংরেজি ভাষায় পড়ে দেখতে কেমন লাগে, যেমনটা ডয়েল নিজে লিখেছিলেন।
Max Rab
Max Rab
Voice message
আজকেও হিন্দিতে কথা বলার দুঃসাহস করেছি। দু-তিন লাইনের গানও আছে একটা। পারলে শুনুন।
Max Rab
আজকেও হিন্দিতে কথা বলার দুঃসাহস করেছি। দু-তিন লাইনের গানও আছে একটা। পারলে শুনুন।
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
ইনস্টাতে পেলাম।
আমার ক্ষেত্রে, মুভি দেখতে পারাটাই বড় কথা। ছোট থেকেই মুভি দেখে, মুভি ভালোবেসে বড় হয়েছি। এখন একলা দেখি আর লোকজন নিয়ে গিয়ে দেখি সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। অবশ্য একলা থিয়েটারে গিয়ে মুভি দেখিনি কখনও। সবসময় লোকজন এর সাথেই যাই। একবার একলা ট্রাই করা উচিত।
আমার ক্ষেত্রে, মুভি দেখতে পারাটাই বড় কথা। ছোট থেকেই মুভি দেখে, মুভি ভালোবেসে বড় হয়েছি। এখন একলা দেখি আর লোকজন নিয়ে গিয়ে দেখি সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। অবশ্য একলা থিয়েটারে গিয়ে মুভি দেখিনি কখনও। সবসময় লোকজন এর সাথেই যাই। একবার একলা ট্রাই করা উচিত।
কোনো মেয়েকে পছন্দ করা, ভালোবাসতে পারা একটা হেভেনলি ব্যাপার মনে হয় আমার কাছে। ভালোবাসার তীব্র অনুভূতিটা যখন কাজ করে, তখন মনের মধ্যে যে অফুরন্ত আনন্দের ধারা প্রবাহিত হতে থাকে, সেই আনন্দটা অন্য কোনো আনন্দের সাথে তুলনা করা যায় না। সেই ভালোবাসাটা যদি বিশুদ্ধ হয়, শুধু লাস্ট না থাকে, তাহলে ব্যক্তির মন শান্ত হয়ে চোখে পানি চলে আসে। মনের মধ্যে শূন্যতা বিলীন হয়ে নিজের জীবনকে পরিপূর্ণ মনে হয়। মনে হয়, তখন মরে গেলেও আর কোনো আফসোস থাকবে না। পিছুটানও থাকবে না। এটারনাল সানশাইন অব দ্য স্পটলেস মাইন্ড মুভিতে যখন ক্লেমেন্টাইন আর জোল ব্যারিশ শুয়ে ছিল বরফের ওপর, তখন জোলও এই কথা বলেছিল, "I could die right now, Clem. I'm just happy. I've never felt that before. I'm just exactly where I want to be."
❤🔥4
লোকজন আমায় গালাগাল করবে এটা শুনলে। কিন্তু তবুও বলতে চাই। আয়নার দিকে তাকালে আমার নিজেকে কখনও কখনও এতো ভালো লাগে যে, মনে হয়, মেগান ফক্সের সাথে যদি আমার পরিচয় হতো কোনোভাবে, সেও আমায় ডেট করতে চাইতো 😭
🔥3🤣1
একবার এক মেয়ে আমায় বলেছিল, তুমি যদি আরেকটু লম্বা হতে তাহলে তোমার সাথে প্রেম করতাম আমি। অবশ্য মেয়েটাকে যে আমি খুব পছন্দ করতাম এমনও না। কিন্তু নিজের হাইট নিয়ে এমন নির্দয় খোঁচা খেয়ে আমার সেল্ফ কনফিডেন্স সাথে সাথে তলানিতে পড়ে গেছিল। এতদিন ভাবতাম, আসলে ভুলটা কোথায় হচ্ছে আমার? গলতি হো কহাঁ রহা হ্যাঁয়? কেন মেয়েদের সুনজরে পড়ছি না আমি? হুট করে মনে পড়লো, ঐ মেয়ের কথা। আমি তো আসল জায়গাতেই ফেল করে গেছি। সেটা, হাইট। আমি বাকি বিষয়গুলোতে পাশ করলেও, হাইটের বেলায় ফেল করে যাওয়ায় আর মেয়েদের চোখে ঠিক যোগ্য পাত্র হয়ে উঠতে পারছি না। সেটাই স্বাভাবিক। কেউ ফিজিক্স, ম্যাথ, কেমিস্ট্রিতে ৯৫+ পেলেও যদি বাংলাতে ৩০ পেয়ে বসে থাকে, সে তো ফেলই। পাশ তো করতে পারবে না। আমার বেলায় হয়েছে সেইম কেস। 🥲
😁4
অনেকদিন হয়ে গেল রাত্তিরবেলা লং ডিস্টেন্সে কোথাও যাওয়া হয় না। লং জার্নি বলতে আমি ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরাটাই বোঝাচ্ছি। সাধারণত হয় কী, আমি বাসে চড়ে কানে ইয়ার বাড গুঁজে বাসের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে থাকি। ইয়ার বাডে কিছু না কিছু বাজতে থাকে। হয় গান, না হয় কোনো গল্প, না হয় অন্য কিছু। গাড়ির দুলুনিতে তন্দ্রার ভাব চলে আসে। ঘুমিয়ে পড়ি। কোনো এক ঝাঁকুনিতে ঘুম ভাঙে। জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি কোথায় পৌঁছলাম। বাস চলতে থাকে। আমি তাকিয়ে থাকি বাইরে। বাতাসের ঝাপটা আমার মুখে লাগতে থাকে। সে ঝাপটায় চোখ বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। তবু জোর করে চেয়ে থাকি। চশমাটাও কিছু এডভান্টেজ দেয়৷ যতদূর চোখ যায়, খালি মাঠ না হয় ফসলি জমি দেখা যায়। অন্ধকার। হরেক রকমের গল্প মাথায় ঘুরতে থাকে। আবার, আকাশের দিকে তাকালে বুকটা খালি খালি লাগতে থাকে।
❤🔥3❤1
Forwarded from Max Rab
Mawlid Al Nabi Mubarak everyone!
Let's send enormous amount of Salawat upon Prophet Mohammed (pbuh), and pray for everyone in this world. Pray for the betterment of Duniya and Akhirah. Pray for all the oppressed people around the world. Pray for blessings. Express gratitude for what we have. Eid Mubarak!
Let's send enormous amount of Salawat upon Prophet Mohammed (pbuh), and pray for everyone in this world. Pray for the betterment of Duniya and Akhirah. Pray for all the oppressed people around the world. Pray for blessings. Express gratitude for what we have. Eid Mubarak!
❤3