❝ 𝐋𝐨𝐬𝐭 𝐋𝐞𝐭𝐭𝐞𝐫 | হারানো চিঠি ❞
653 subscribers
102 photos
23 videos
144 links
Let's get to know Islam 🥰

https://t.me/Islamicproverbs07
Download Telegram
কত তাহাজ্জুদগুজার বান্দাকে আল্লাহর রাস্তা থেকে হারিয়ে যেতে দেখেছি, জেগে থেকেও ফরজে পর্যন্ত অবহেলা করার দুঃসাহস করতে দেখেছি! ভয় লাগে। রাস্তা ভুলে হারিয়ে যাওয়াটা পলকের ব্যাপার মাত্র।
.
ওইদিকে এই আধুনিক সময়েও, কত বান্দাকে দেখেছি আগে খেয়ে নিয়ে ইশার সলাতের পরই ঘুমিয়ে যেতে, যেন সুন্নাতের খিলাফ না হয়, তাহাজ্জুদ না ছুটে যায়। ফরজ যেন থাকে অটুট আর সুন্দর।
.
প্রায়োরিটি। আর কিছু না। আপনি আসলে হারিয়ে গেছেন। নিজেকে এই-সেই বুঝ দিয়ে দুনিয়ায় মেতে থাকতে থাকতে নিজের রাব্বকে ভুলেছেন, ছেড়েছেন, সরেছেন।
.
ভেবে দেখুন, আপনার আজকের এই অবস্থান, দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ততা, আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া, পুরোটাই ছিলো আপনার চয়েস, আপনারই সিদ্ধান্ত। তাই আপনাকেও আপনার যাবতীয় ভনিতা আর অজুহাতের উপরে সোপর্দ করা হয়েছে। এর উপরেই থাকবেন কিনা, এভাবেই চালিয়ে যাবেন কিনা, সেটাও আপনার ব্যাপার। কোন জোরাজুরি করবে না কেউ।
.
যে আল্লাহকে সত্যিই চায়, আল্লাহকে প্রায়োরিটি দেয়, তাকে আল্লাহ আরো বেশি বেশি করে আল্লাহর সান্নিধ্যে রাখেন, সহজ করে দেন, অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরিয়ে দেন, আর আরো বেশি আল্লাহর ইবাদাত করার তৌফিক দিয়ে দেন। কারণ, আল্লাহও যে তাকে ভালবাসেন।
.
আর যে আল্লাহকে চেনার পরেও, আল্লাহর দিক থেকে একবারের জন্যেও অন্যদিকে তাকানোর দুঃসাহস করে...
.
শুকরিয়া এটাই যে, ফেরার রাস্তা খোলা। এই লেখাটা পড়ার তৌফিক হয়েছে মানেই এখনো সুযোগ আছে। কতজন গোপনে গোপনে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের রাব্বের দিকে। কোনদিকে, কারও দিকে না তাকিয়ে এক মনে... নিজের কবর, হাশর, পুলসিরাত আর জাহান্নামের কথা ভেবে ভেবে সেই মানুষগুলো চোখ লাল করে, গাল ভিজিয়ে প্রস্তুতি নিতে নিতে দিনরাত হয়রান হয়ে যাচ্ছে!
.
কেউ তাদেরকে চিনে না৷ দরকারও নেই। তারাও চায়, তাদেরকে শুধু তাদের রাব্ব চিনুক। তারাও চায়, কেবলই তাদের রাব্বকে চিনতে, ভালবাসতে। সেই দয়াময় রাব্বের সাথে সময় কাটাতে।
আপনিও আজ থেকে তাদের একজন হয়ে যেতে পারেন। আলহামদুলিল্লাহ, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিরবার সুযোগ এখনো আছে।

লেখা : মোহাম্মদ তোয়াহা‌ আকবর
🔥32
মেধাশক্তি বৃদ্ধির কিছু দোয়া বা আমল:

১. নিয়ত:
প্রথমে মনে মনে নিয়ত করুন—
“হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তর পরিষ্কার করে দিন, আমার স্মরণশক্তি ও বোঝার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিন।”

২. কোরআনের আয়াতসমূহ—
সূরা আল-ইনশিরাহ (১–৮)
(মনের জড়তা ও অস্থিরতা দূর করে)
আলম নাশরাহ লাকা সদরাক…
পূর্ণ সূরাটি ১ বার বা ৩ বার পড়ুন।

সূরা ত্ব-হা আয়াত ২৫–২৮

رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي ۝
وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي ۝
وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي ۝
يَفْقَهُوا قَوْلِي ۝

বাংলা উচ্চারণ:
রব্বিশ রহ লী সদরী
ওয়া ইয়াসসির লী আমরী
ওয়াহলুল উকদাতাম মিল লিসানী
ইয়াফক্বাহু ক্বাওলী

অর্থ:
হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন,
আমার কাজ সহজ করে দিন,
আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন,
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।

৩ বার পড়ুন।

৩. হাদিস থেকে দোয়া—
اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মান ফা‘নী বিমা ‘আল্লামতানী
ওয়া ‘আল্লিমনী মা ইয়ানফা‘উনী
ওয়া যিদনী ‘ইলমা

অর্থ:
হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাকে উপকৃত করুন,
আমাকে উপকারী জ্ঞান শিক্ষা দিন,
এবং আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।

৩ বা ৭ বার পড়ুন।

৪. বিশেষ যিকির (মেধা ও হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য)
يَا فَتَّاحُ، يَا عَلِيمُ

ইয়া ফাত্তাহু, ইয়া ‘আলীম
৩৩ বার।

আমলের নিয়ম (গুরুত্বপূর্ণ)
ফজরের পর বা পড়াশোনার আগে পড়া উত্তম।
চাইলে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করতে পারেন ইনশাআল্লাহ।
হারাম কাজ ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকুন (এটি সবচেয়ে শক্তিশালী শর্ত)
নিয়মিত করুন আল্লাহর ইচ্ছায় মেধাশক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকবে ইনশাআল্লাহ

- Raqi Mufti Abdul Malek
4
রমাদানের আগাম প্রস্তুতি শুরু হোক শাবান মাসে সাধ্যমত বেশি বেশি রোযা রাখার মাধ্যমে।
8🥰2
"কোনো জাতির মাঝে পাপাচার হতে থাকে, অথচ তারা একে পরিবর্তন করার সক্ষমতা রাখার পরও তা পরিবর্তন করে না, সেক্ষেত্রে তারা মারা যাবার আগেই আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন"।

مَا مِنْ قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِي يَقْدِرُونَ أَنْ يُغَيِّرُوا عَلَيْهِمْ وَلَايُغَيِّرُوا، ‌إِلَاّ ‌أَصَابَهُمُ ‌اللهُ ‌بِعِقَابٍ ‌قَبْلَ ‌أَنْ ‌يَمُوتُوا

~ রাসূলুল্লাহ ﷺ 

[ ইমাম ইবনু হিব্বান (রাহ.), আস সহীহ, হা: ২৮৬৪, শাইখ আলবানীর (রাহ.) মতে হাসান সহীহ- সহীহু মাওয়ারিদিয যামআন: ২/২১৬]
😢3👍1
এই ফিতনাহর সময়ে নিজের হিফাজতের জন্য সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দুয়াগুলো আকড়ে ধরুন। সুন্নাহকে প্রাণপণে ধরুন। একশ শহীদের সাওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ - এটাই আল্লাহর রাসূলের ওয়াদা।

من تمسك بسنتي عند فساد أمتي فله أجر مأة شهيد…
5❤‍🔥4
অন্তরে গুনাহর অবস্থান হচ্ছে কাপড়ে তেল লেগে যাবার মত ব্যাপার। আপনি যদি তা ধুয়ে ফেলার জন্য তাড়াহুড়া না করেন তাহলে তা বিস্তার লাভ করবে।

— ইমাম ইবনুল জাওযী (রহি.) 
[সূত্র : আল মুদহিশ, পৃ. ৩৫৭]
👍4😱1
নাজাতের এই রাতে, মুমিনদের আহ্লাদ ছড়িয়ে আছে দিগন্তের সতেজ বাতাসে।

নামাজ, জিকির, তেলাওয়াতে কাটুক আজকের রাত৷ সবাই সবার জন্য দোয়া করব ইনশাআল্লাহ৷ শবে বরাত বরকতপূর্ণ হোক।
3
রমাদ্বান এসে গেছে। আমরা সবকিছুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনের ডামাডোলে রমাদ্বানকে কতটুকু স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। যাদের নামাজের ব্যাপারে যত্ন নেই তারা কি নামাজকে নিয়ে ভাবছি?

সাবিত আল বুনানী রহ. বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে নামাজে দাঁড়াতে দেখেছি। যেন একটা কাঠের টুকরোর মত নিশ্চল। স্থির। সাহাবায়ে আজমায়ীনের নামাজ ছিলো এমন। পাখি এসে মাথার উপর বসত গাছ মনে করে।

আল্লাহ তায়ালা পাঁচটা জিনিসের উপর ইসলামকে স্থির করেছেন। কালিমা আমরা পড়ে ঈমান আনি। এরপর অসুস্থা থাকলে রোযাও মাফ। টাকা পয়সা না থাকলে হজ্ব-যাকাতও মাফ। বাকী থাকে শুধু নামাজটাই। এইটাও যদি রমাদ্বানে ঠিক করে না ফেলি জীবনে আর মুসলমান বলার মত পরিচিতি আর আছে কী!

এবারের রমাদ্বান হোক নামাজকে আপন করার!
5
আমাদের রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, ‘কে আছো যে আমার কাছে দোয়া করবে, আমি তার দোয়া কবুল করব?
কে আছো যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব?
কে আছো যে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?’
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

তাহাজ্জুদ আসলে শুধু নামাজ নয়, এটা আল্লাহর সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ।
এটা ইবাদতের নান্দনিকতা—নীরব রাত, সেজদায় অশ্রু, আর একান্ত কথোপকথন।

রমজানের প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ কত সহজ! সেহরির জন্য তো এমনিতেই উঠা হয়। সেই সময় আপনার কান্না, আপনার অপ্রকাশিত দুঃখ, বুকের গভীরের ভার—সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা হলো আল্লাহর দরবার।

আজ রাতেই চেষ্টা করুন:

২ রাকাত দিয়ে শুরু করুন

তাহাজ্জুদ পড়ে দোয়া করুন

দোয়ায় কাঁদতে পারলে কাঁদুন, না পারলে কাঁদার চেষ্টা করুন

হয়তো সত্যিই—
আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় দরজা খুলে যাবে আজ রাতেই।

আল্লাহ আমাদেরকে তাহাজ্জুদের মিষ্টতা দান করুন। আমিন।

- শায়েখ উমায়ের কোব্বাদি হাফি.

কালেক্টেড
3
রমজান সম্পর্কে ১২ টি বই। কমেন্ট চেক করুন।
রামাযানে গুনাহ করতে ইচ্ছে হলে এই কল্পনা করবে-

আল্লাহ যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি তোমার জন্য শয়*তানকে পর্যন্ত বেঁধে রাখলাম! সামান্য চেষ্টা করলেই গুনাহের থেকে বাঁচতে পারতে। আমার সন্তুষ্টির জন্য এই সামান্য চেষ্টাটুকু করতে পারো নি?? আমার হুকুম তোমার কাছে এতটাই তুচ্ছ ছিল??

কী জওয়াব দিবে??

~ মুফতি আবু সালেহ মুহাম্মাদুল্লাহ (হাফি:)
4
৩০ দিন রোজা রাখার পর, যদি জানতে পারেন - আপনার একটা রোজাও কবুল হয়নি, কেমন লাগবে তখন?
>বিস্তারিত কমেন্ট বক্সে!
2
রমাদানের একটা বিশেষ আমল হল “ইস্তিগফার”।
ইস্তিগফারের ২০ টি উপকারিতা আছেঃ-

১) আল্লাহ তায়ালার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ।
২) রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় আমল।
৩) গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়ার মাধ্যম।
৪) জান্নাত লাভের মাধ্যম।
৫) অন্তরের অন্ধকার দূর করে।
৬) এর দ্বারা আত্মিক প্রশান্তি লাভ হয়।
৭) আল্লাহ তা'য়ালার রহমত নাজিল হয়।
৮) কবরের সর্বোত্তম প্রতিবেশী।
৯) এর দ্বারা সবরকম শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ হয়।
১০) হালাল রিজক বৃদ্ধি হওয়ার বিশাল আমল।
১১) নফসকে দুশ্চিন্তা, পেরেশানি,  হতাশা, অবৈধ যৌনক্ষুধা, কুমন্ত্রণা গুনাহের আবর্জনা থেকে পবিত্র করে।
১২) নেক সন্তান লাভের মাধ্যম।
১৩) সর্বরোগের চিকিৎসা।
১৪) এর দ্বারা দুনিয়ায় মানুষের সর্বোত্তম জীবন লাভ হয়।
১৫) এটা গ্রহণযোগ্য আমলের নিরাপত্তা।
১৬) এর দ্বারা বিপদাপদ দূর হয়।
১৭) এর বরকতে মানুষের নিজস্ব আসল মর্যাদা এবং ফজিলত লাভ হয়।
১৮) উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ হয়।
১৯) অন্তর চক্ষু খুলে যায়।
২০) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল - আল্লাহ তা'য়ালার সাথে বান্দার সম্পর্ক ঠিক হয়।

[ ইলা মাগফিরাহঃ পৃষ্ঠা ৩২২,৩২৩ ]
7
একটা সিক্রেট ঘটনা বলি। অনেকসময় আমরা দেখি কেউ মারা যাওয়ার আগে অনেক ভালো ভালো কাজ করতে থাকে। এমন অনেক ইশারা দিতে থাকে মৃত্যুর যেগুলো আমরা শুনে বুঝি না। কিন্তু তার মৃত্যুর পর আমরা বুঝি। আরে! সে তো আগেই জানতো সে মারা যাচ্ছে!

আমরা শহীদ আবরার ফাহাদের মৃত্যুর পর তার বায়োতে দেখেছিলাম সেখানে লেখা: 'অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা অসীম মহাকাশের অন্তে'। আবার শহীদ হাদিকে দেখতাম শাহাদাতের আগে এমনসব কথা বলছেন যেন তিনি তার মৃত্যু হবে আগেই জানতেন। আবার অনেকেই দেখা যায় মৃত্যুর আগে গুনাহ আরো বেশি শুরু করে দেয়। এমনকি সে গুনাহের উপর মারা যায়। কিন্তু এগুলো কি কাকতালীয় নাকি আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দাকে আগেই ইশারা দেন? এনিয়ে সুন্দর একটা হাদিস আছে। সেই হাদিসটাই আজকের সিক্রেট ঘটনা।

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

إن الله إذا أراد بعبده خيرا قيض له ملكا قبل موته بعام فسدده ويسره حتى يموت وهو خير ما كان، فإذا حضر فرأى ثوابه من الجنة فجعل يتهوع نفسه ود أنها خرجت، فعند ذلك أحب لقاء الله فأحب الله لقاءه، وإذا أراد بعبد سوءا قيض له شيطانا قبل موته بعام فصده وأضله وفتنه حتى يموت شر ما كان، ويقول الناس مات فلان وهو شر ما كان، فإذا حضر فرأى ثوابه من النار جعل يتبلع نفسه ود أنه لا يخرج، فعند ذلك كره لقاء الله وكره الله لقاءه

আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান তখন তার মৃত্যুর এক বছর আগে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেন। সেই ফেরেশতা তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। তার জন্য নেক আমল করা সহজ করে দেয়। এমনকি সে তার জীবনের সর্বোত্তম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় এবং সে জান্নাতে তার প্রতিদান দেখতে পায় তখন তার প্রাণ যেন বের হয়ে যেতে চায়। সে কামনা করে যে তার রূহ দ্রুত বের হয়ে যাক। তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎকে ভালোবাসে আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎকে ভালোবাসেন।

আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দার অকল্যাণ চান তখন তার মৃত্যুর এক বছর আগে একটা শয়তানকে তার উপর নিয়োজিত করে দেন। সে তাকে সত্য পথ থেকে ফিরিয়ে দেয়। গোমরাহ করে এবং বিভ্রান্তিতে ফেলে রাখে। এমনকি সে জীবনের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। মানুষ বলতে থাকে: অমুক ব্যক্তি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় মারা গেছে। যখন মৃত্যুর সময় আসে এবং সে জাহান্নামে তার শাস্তি দেখতে পায় তখন তার প্রাণ যেন ভিতরে ঢুকে যেতে চায়। সে কামনা করে যে তা বের না হোক। তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎকে অপছন্দ করে আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎকে অপছন্দ করেন। [মুসান্নাফে আবি শায়বা]

আপনি কোনটা চান? আল্লাহর সাক্ষাৎ পাওয়ার অসীম কামনা নাকি শয়তানের সাথে দোস্তি?

মালিক! তোমার দীদার আমাদের নসীব করো।

—Ammarul Hoque Hafi.
7
“যে ব্যক্তি কুরআন তেলাওয়াত মন দিয়ে শুনে, সে তেলাওয়াতকারীর সাওয়াবে অংশীদার হয়ে যায়। অর্থাৎ তেলাওয়াতকারির মতো সেও প্রতিটি হরফের বিনিময়ে সমান সাওয়াব পেতে থাকে। আর হরফ-প্রতি সাওয়াব দশ গুণ।”

— শায়খ বিন বায (রহি.)
[সূত্র : ফাতাওয়া নূর আলা দারব, ২৬/৩৫০]
6
সাহরি আমাদের শেখায়, আমরা ফজরের নামাজের জন্য উঠতে পারি।

তারাবিহ আমাদের শেখায়, আমরা রাতভর নামাজ পড়তে পারি।

রোজা আমাদের শেখায়, আমরা আমাদের ইচ্ছা ও লোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

রমজান কেবল আমাদের ঈমানের সাময়িক বৃদ্ধি নয়; এটি শেখায়—আমরা প্রতিদিনই এগুলো করতে সক্ষম।

তাই, জীবনকে রমজান মনে করে বাঁচো, তবে আখেরাত হবে ঈদের মতো আনন্দের।

- মাহমুদ বিন নূর
7👍1
একবার এক সাহাবী রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন:

ইয়া রাসূলাল্লাহ! কেউ একজন গুনাহ করল। এখন কী হবে?

আল্লাহর রাসূল বললেন: يكتب عليه - তার গুনাহ লিখে রাখা হবে।

এরপর সে আবার বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে এরপর তাওবা করে ফেলল আর ইস্তিগফারও করল। এখন কী হবে?

হুযুর বললেন: يُغْفَرُ له ويتابُ عليه - তাকে মাফ করে দেয়া হবে তার তাওবাও কবুল করা হবে।

সাহাবীর মনের মধ্যে এখনো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তিনি ভাবছেন: আচ্ছা! গুনাহ তো মাফ হলো। তাওবাও কবুল হলো। আবার যদি গুনাহ করে তাহলে কী হবে? মনের মাঝে প্রশ্ন এসেছে আর নবী আলাইহিস সালামও তো বিরক্ত হবেন না। যাই! জিজ্ঞেস করেই আসি। তিনি আবার বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে যদি আবার গুনাহ করে। এখন?

আল্লাহর নবী তো! তিনি তো জানেন কী উত্তর দিতে হবে। বললেন: হ্যাঁ! তার গুনাহ আবার লেখা হবে।

সাহাবী ভাবলেন: গুনাহ যদি আবার লেখা হয় তাহলে তো আবার তাওবা ইস্তিগফার করতে হবে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হুযুর! সে আবার তাওবা করল এবং আবারো গুনাহ মাফ চাইলে কি আল্লাহ মাফ করবেন?

এবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে উত্তরটা দিলেন তা শোনার সাথে সাথে আপনার মুখ দিয়ে বের হবে 'ওয়াহ'। আল্লাহ তায়ালা এত দয়ালু!

হুযুর এবার বললেন:

يُغْفَرُ له ويتابُ عليه ويثاب على توبته ولا يمَلُّ اللهُ حتَّى تمَلُّوا

তাকে মাফ করে দেয়া হবে। তার তাওবা কবুল করা হবে। তার তাওবার কারণে তাকে সাওয়াবও দেয়া হবে। এখানেই শেষ নয়। তোমরা ক্ষমা চাইতে চাইতে ক্লান্ত হয়ে যেতে পারো কিন্তু আল্লাহু আযযা ওয়াজাল্লাহ মাফ করতে করতে ক্লান্ত হবেন না। [তাবারানী]

এজন্যই তো বলেছেন সেই মালিক:

اِلَّا مَنۡ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَاُولٰٓئِكَ یُبَدِّلُ اللّٰهُ سَیِّاٰتِهِمۡ حَسَنٰتٍ ؕ

তবে যে তাওবা করে ও ঈমান আনে এবং নেক আমল করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের গুনাহগুলো সাওয়াবে পরিবর্তন করে দেবেন।

ভাবা যায়! আমরা কেমন মালিকের গোলাম। যে মালিক তার বান্দাকে কাছে টেনে নিতে যেন সবসময় প্রস্তুত হয়েই আছেন। কিন্তু বান্দা তো যায় না। আমরা ভাবি বা অনেকসময় বলেও ফেলি: আল্লাহ তো আমার অকল্যাণই চায় তাইলে আমি মাফ চেয়ে কী হবে? আরে! আপনি গুনাহকে তো গুনাহই মনে করেন না। গুনাহ যদি মনে করতেন তবে আপনি মালিকের দরবারে লুটোপুটি করে কাঁদতেন। আর আপনার মালিকের রহমে জোয়ার এসে যেত।

এজন্যই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

إنَّ المؤمنَ يرَى ذنوبَه كأنه في أصلِ جبلٍ يخافُ أنْ يقعَ عليه وإنَّ الفاجرَ يرَى ذنوبَه كذبابٍ وقع على أنفِه قال به هكذا ، فطار .

নিশ্চয়ই মুমিনের কোনো গুনাহ হয়ে গেলে সে তার গুনাহকে এমনভাবে দেখে যেন সে পাহাড়ের গোড়ায় বসে আছে এবং ভয় পাচ্ছে এই বুঝি পাহাড়টা তার উপর ধ্বসে পড়ল বলে! আর পাপাচারী যখন গুনাহ করে সে তার গুনাহকে দেখে যেন একটা মাছি তার নাকে এসে বসল আর সে 'হুশ' করে তাড়িয়ে দিলো। আর মাছিটা উড়ে গেলো। [তিরমিযী]

গুনাহ করার পর যদি আপনার অস্বস্তি না লাগে। আপনার মনে ভয় না ধরে। তাহলে আপনি কীভাবে আশা করেন যে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে তাওবা নসীব করবেন। ইস্তিগফারের তাওফিক দেবেন। আপনি তো গুনাহকে মাছির মত হালকা মনে করেন আর নিজের গুনাহের ব্যাপারে বাহানা দেয়া শুরু করেন। এটাই তো আল্লাহ তায়াল বলেছেন:

بل الإنسان على نفسه بصيرة ولو ألقى معاذيرة

মানুষ নিজের ব্যাপারে খুব ভালোমতই জানে। যদিও সে নানা বাহানা দিতে থাকে।

এবার আপনিই ঠিক করুন আপনি কোন কাতারে থাকবেন। আল্লাহর কাছে ভেঙে পড়া মুমিনের কাতারে নাকি সেই মুনাফিকের কাতারে যে কিনা কোনোদিন মালিকের কাছে ফিরে আসে না আবার অভিযোগ করে কেন তাকে মালিক মাফ করলো না। বলুন!
4
আবুল জাওযা আর রাবি' রহিমাহুল্লাহ বলেন,

" মু না ফি কের জন্য বড় পাথর সরানো থেকেও কুরআন পাঠ কঠিনতর।"

[ হিলইয়াতুল আউলিয়া - ৩/৮০ ]
😢1
দ্রুত বিয়ে হওয়ার জন্য আমলঃ

বিবাহ ইসলামের অন্যতম প্রধান সামাজিক বিধান এবং মহানবী ﷺ-এর এক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ।

বিয়ে করা শুধু মহানবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর সুন্নাহই নয়; বরং তা অন্যান্য নবীগণেরও সুন্নাহ। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلاً مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجاً وَذُرِّيَّةً

আমি আপনার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান দিয়েছি। (সূরা রাদ : ৩৮)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি নারীদের বিয়ে করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার (উম্মাহর) অন্তর্ভুক্ত নয়।"
(সহিহ বুখারী : ৫০৬৩;
সহিহ মুসলিম : ১৪০১)

দ্রুত বিয়ে হওয়ার জন্য আমলঃ

(প্রতিদিন ফজর এবং মাগরীবের ফরয সালাতের পর পড়বেন)

দরূদে ইব্রাহীম (৩ বার)

اَللّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ اٰلِ مُحَمَّدٍ

হে আল্লাহ্‌! মুহাম্মাদ(সঃ)-এর উপর এবং মুহাম্মাদ(সঃ)-এর বংশধরগণের উপর রহমত নাযিল করুন।

كَمَا صَلَّيْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ اٰلِ إِبْرَاهِيمَ

যেমন আপনি রহমত নাযিল করেছিলেন ইবরাহীম(আঃ) এবং ইবরাহীম(আঃ)-এর বংশধরগণের উপর।

إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ

নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসনীয়,সম্মানীয়।

اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ اٰلِ مُحَمَّدٍ

হে আল্লাহ্‌! মুহাম্মাদ(সঃ)-এর উপর এবং মুহাম্মাদ(সঃ)-এর বংশধরগণের উপর বরকত দিন।

كَمَا بَارَكْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ اٰلِ إِبْرَاهِيمَ

যেমন আপনি বরকত দিয়েছিলেন ইবরাহীম(আঃ) এবং ইবরাহীম(আঃ)-এর বংশধরগণের উপর।

إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ

নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসনীয়,সম্মানীয়।

(বুখারী : ৩৩৭০)

•  সূরা কাসাসের ২৪ নং আয়াতের অংশ (৭ বার)

رَبِّ اِنِّيْ لِمَاۤ اَنْزَلْتَ اِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيْرٌ

আয়াতের অর্থঃ
হে আমার রব, নিশ্চয় আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।

কখন, কোন পরিস্থিতিতে মূসা (আঃ) এই দু'আ করেছিলেন তা বুঝতে সূরা কাসাস এর (১৫-২৪) নাম্বার আয়াত পড়তে পারেন এখান থেকে– লিংক প্রথম কমেন্টে

• সূরা তাওবাহ্ ১২৯ নং আয়াতের অংশ (৭ বার)

حَسْبِيَ اللّٰهُ ﻵ إِلٰهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ

আয়াতের অর্থঃ
আমার জন্য আল্লাহ্‌ই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ্ নেই । আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা’আরশের রব।

ইস্তিখারার সংক্ষিপ্ত দু'আ (৭ বার)

‏  اللَّهُمَّ خِرْ لِي وَاخْتَرْ لِي ‏

"আল্লহুম্মা খিরলী ওয়াখ তারলী।"
(আরবি পড়া উত্তম, বাংলায় পড়লে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে)

আয়াতের অর্থঃ
হে আল্লাহ্‌! আমার জন্য যেটা মঙ্গল সে দিকে আমাকে চালিত করুন।

(সুনান তিরমিযী : ৩৫১৬;
সুনান ইবনু মাজাহ্ : ১৫৫৭)

দরূদে ইব্রাহীম (৩ বার)

- মুফতি আরিফুল ইসলাম উস্তায কর্তৃক আমলকৃত এবং বর্ণনাকৃত (ইরানের একজন শায়েখ থেকে সংগৃহীত)

.

এই আমলটি করার পর এক গ্লাস পানি নিন। তাতে নিয়্যাত সহ সাত বার করে সূরা ফাতিহা, সূরা নাস, সূরা ফালাক্ব, সূরা ইখলাস, সূরা কাফিরুন এবং আয়াতুল কুরসী পড়ে ফুঁ দিন। প্রতিবার সূরা পড়ার পর একবার করে পানিতে ফুঁ দিবেন। এরপর এই পড়া পানিটুকু নিয়্যাত অনুযায়ী পান করবেন।

নিয়্যাতঃ বিয়ের উপর থাকা সকল বাঁধা অথবা যাদু, নজর, হাসাদ ও জ্বীনকে ধ্বংস করা।

• দ্রুত বিয়ের আমল হিসেবে শায়খ আতিক উল্লাহ হুজুরের লিখাটি নিচে সংযুক্ত করে দেওয়া হলো–

১. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা। যথাসম্ভব সার্বক্ষণিক এস্তেগফার করা। উঠতে বসতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকা।
২. সুরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াতটা পড়তে পারি। প্রতি ফরজ নামাজের পর তো বটেই, সুযোগ পেলেই দোয়াটি গভীর আবেগ নিয়ে পড়তে পারি।

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

৩. বেশি বেশি দোয়া করা। বিশেষ করে দুয়া কবুল হওয়ার সময়গুলো একটাও যেন দোয়াবিহীন না যায়।

৪. আমল-দোয়ার পাশাপাশি হালাল পন্থায় পাত্র/পাত্রীর খোঁজ করাও জরুরী।

৫. অনেক সময় জাদু-সিহর করে বিয়ে আটকে রাখা হয়। এজন্য রুকইয়া করা।

৬. নিয়মিত সদকা করা।

রেজওয়ান আলম ভাই
7
দোয়া কবুল হওয়ার অসাধারণ একটা গল্প।
2