❝ 𝐋𝐨𝐬𝐭 𝐋𝐞𝐭𝐭𝐞𝐫 | হারানো চিঠি ❞
653 subscribers
102 photos
23 videos
144 links
Let's get to know Islam 🥰

https://t.me/Islamicproverbs07
Download Telegram
খলিফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহাবীদের নিয়ে একটা মিটিংয়ে বসা।

তখন একজন বায়ু ত্যাগ করলো। অনেকেই নাকে হাত দিচ্ছে, দুর্গন্ধ লাগছে।

একপর্যায়ে খলিফা নির্দেশ দিলেন, যিনি এই কাজটি করেছেন, তিনি যেন অজু করে আসেন (একটু পরেই তো নামাজ)।

তখন আরেকজন সাহাবী অন্য পরামর্শ দিলেন। তাঁর নাম জারির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

তিনি বললেন, আমরা এক কাজ করি। সবাই মিলেই অজু করতে যাই। কারণ, যিনি এই কাজ করেছেন, তিনি একা উঠে গেলে তার অস্বস্তি হবে, অন্যরা তাকে নিয়ে মজা নিবে। তারচেয়ে আমরা সবাই মিলে অজু করতে গেলে তার ইজ্জত রক্ষা পাবে।

খলিফা সেই সাহাবীর পরামর্শ গ্রহণ করলেন। সবাই মিলে অজু করতে গেলেন।

.

পাবলিক প্লেইসে একজন মানুষের ইজ্জতের মূল্য সাহাবীদের কাছে কেমন ছিলো এই ঘটনা তারই এক প্রমাণ। তাদের মধ্যে কী ধরণের ইম্প্যাথি ছিলো চিন্তা করুন!

রেফারেন্স:

ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী, উমর ইবনুল খাত্তাব: ১/৩২০
🥰53
ঈমান দুর্বল হবার একটা লক্ষণ হল হারাম-হালালের ব্যাপারে শিথিলতা চলে আসা। উত্তম-অনুত্তমকে উপেক্ষা করা। নিজেকে 'না' বলার অভ্যাস চলে যাওয়া। ক্রমাগত চলতে থাকলে গুনাহ খুব সহজ এবং আমল খুব কঠিন হয়ে যায়।
.
গতো কয়েক বছর ধরে প্রগেসিভলি এমন অনেক আচরণ অনলাইনে প্র্যাকটিসিং বলে পরিচিতদের মধ্যে বাড়তে দেখছি। বেপর্দা নারীর খবর, ছবি, লিঙ্ক শেয়ার থেকে শুরু করে, খুব সহজে অশ্লীল বা ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলা, গালি দেয়া, অপ্রয়োজনে ছবি দেয়া, স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে উচ্ছাস ইত্যাদি। এগুলো অনলাইনে পাবলিকলি পোস্ট বা প্রচার করা হচ্ছে। অফলাইনের অবস্থা এর চেয়ে ভাল হবার কথা না।
.
এই আপাত ছোট ছোট বিষয়গুলো একসময় ছোট থাকে না। বরং ঈমান, আমল ও আখিরাতের জন্য অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
.
আল্লাহ্‌র রাসূল ﷺ বলেছেন,

অবশ্যই তোমাদের হৃদয়ে ঈমান জীর্ণ হয়; যেমন জীর্ণ হয় পুরনো কাপড়। সুতরাং তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা কর, যাতে তিনি তোমাদের হৃদয়ে তোমাদের ঈমান নবায়ন করে দেন। [তরজমা, ত্বাবারানী, হাকেম ৫, সহীহুল জামে’ ১৫৯০নং]
.
আমাদের উচিৎ ছিল নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের বড় একটা অংশ দুর্বলতাকে জাস্টিফাই করার দিকে মনোযোগী হয়েছি।

— Asif Adnan
2
গোপন গুনাহের ভয়াবহতা-
-
আমাদের অনেকের অবস্থা হলো, মানুষের সামনে খুব ভাল ভাল কাজ করি, অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলি, নিজেকে পরহেজগার হিসেবে প্রকাশের চেষ্টা করি। কিন্তু যখন নির্জনে বা একাকী থাকি তখন বিভিন্ন ধরণের গুনাহের কাজে লিপ্ত হই। চোখের গুনাহ, হাতের গুনাহ, পায়ের গুনাহ, লজ্জাস্থানের গুনাহ সহ নানান ধরণের গুনাহের কাজে নিজেকে জড়াই।

অনেকে এগুলোকে খুব হালকা চোখে দেখে, মনে করে এখন অল্প একটুই তো, পরে ভাল হয়ে যাবো। কিন্তু ভাইয়েরা! এগুলোকে হালকা চোখে দেখার কোন সুযোগ নেই। কেননা এর প্রভাব ও ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। গোপন গুনাহে লিপ্ত লোকদের অন্তর থেকে প্রশান্তি ও স্থিরতা বিদায় নেয়। নিজের সাথে ধোঁকাবাজি করার কারনে অন্তরে সর্বদা এক ধরণের অশান্তি বিরাজ করে। কেউ দেখে ফেলল কিনা সবসময় এই ভয়ে ভীত থাকে।

এ তো গেল দুনিয়াবী নগদ শাস্তি। আর আখিরাতে যা অপেক্ষা করছে তা আরো ভয়াবহ। হাদীসে এসেছে,

عَنْ ثَوْبَانَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ ‏:‏ لأَعْلَمَنَّ أَقْوَامًا مِنْ أُمَّتِي يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِحَسَنَاتٍ أَمْثَالِ جِبَالِ تِهَامَةَ بِيضًا فَيَجْعَلُهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَبَاءً مَنْثُورًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثَوْبَانُ ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفْهُمْ لَنَا جَلِّهِمْ لَنَا أَنْ لاَ نَكُونَ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لاَ نَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ أَمَا إِنَّهُمْ إِخْوَانُكُمْ وَمِنْ جِلْدَتِكُمْ وَيَأْخُذُونَ مِنَ اللَّيْلِ كَمَا تَأْخُذُونَ وَلَكِنَّهُمْ أَقْوَامٌ إِذَا خَلَوْا بِمَحَارِمِ اللَّهِ انْتَهَكُوهَا ‏

সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। আমি আমার উম্মাতের এমন কিছু মানুষের সম্পর্কে জানি যারা কিয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমলসহ উপস্থিত হবে। অর্থাৎ তারা অনেক বেশি নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে।
কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের সেই নেক আমলগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। (অর্থাৎ তাদের পাহাড়সম নেক আমলগুলোকে বিনষ্ট করে দেবেন,ফলে এসব নেক আমল তাদের কোন কাজে আসবেনা।)

তখন সাহাবী আরয করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের নিকট তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করুন, যেন অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- তারা তোমাদেরই ভাই এবং দেখতেও তোমাদের মতই। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতই ইবাদত করবে। (অর্থাৎ তাদের বাহ্যিক আমল দেখে মনে হবে তারা অনেক বড় আল্লাহওয়ালা এবং মুত্তাকী পরহেজগার। এবং তাদের চলাফেরাও হবে সমাজের ভাল মানুষদের সাথেই।)
কিন্তু তারা যখনই নির্জনে থাকে, তখনই আল্লাহ যেসব বিষয়কে হারাম করেছেন সেসবে লিপ্ত হয়। ইবনে মাজাহ ৪২৪৫

ইন্নালিল্লাহ! কত ভয়ানক কথা! আশা করি এই একটি হাদিসই গোপন গুনাহে লিপ্ত ভাইদেরকে সতর্ক করার জন্য যথেষ্ট।

প্রিয় ভাইয়েরা! আসুন আজ থেকে সব ধরণের গোপন গুনাহ ছেড়ে দেয়ার সংকল্প করি। নির্জনতার সুযোগে গুনাহ হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকলে নির্জনতা এড়িয়ে চলি। প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যাবহার বর্জন করি। একান্ত প্রয়োজন হলে অন্যদের সামনে ব্যাবহার করার চেষ্টা করি। যাদের সাথে থাকলে আল্লাহর কথা মনে হয় এমন লোকদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলি। ইসলাহের জন্য রব্বানী আলেমদের সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটানোর চেষ্টা করি। আর এই দোয়াটা বেশি বেশি পড়ার চেষ্টা করি-

اللَّهُمَّ اجْعَلْ سَرِيرَتِي خَيْرًا مِنْ عَلاَنِيَتِي وَاجْعَلْ عَلاَنِيَتِي صَالِحَةً اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ صَالِحِ مَا تُؤْتِي النَّاسَ مِنَ الْمَالِ وَالأَهْلِ وَالْوَلَدِ غَيْرِ الضَّالِّ وَلاَ الْمُضِلِّ ‏

হে আল্লাহ! আমার বাহিরের অবস্থার চেয়ে ভিতরের অবস্থাকে বেশি ভাল করে দিন এবং আমার বাহিরের অবস্থাকেও ভাল বানিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি মানুষকে যে ধন-দৌলত, পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্তুতি দান করেন তাদের মধ্য থেকে আমাকে উত্তমগুলো দিন, যারা নিজেরা গোমরাহ নয় এবং অন্যদেরকেও গোমরাহকারী নয়। - (জামে' তিরমিজি, ৩৫৮৬ নং হাদীস)

এই দোয়াটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শিখিয়েছিলেন, দোয়াটির অর্থ ও মর্ম অত্যন্ত সুন্দর। এজন্য আমরা সময় সুযোগ করে বেশি বেশি পড়ার চেষ্টা করি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গোপন গুনাহ থেকে হেফাজত করুন এবং পরিপূর্ণ ইসলাহ করে দিন। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন
2😭2
❝ইস্তেগফার (استغفار) এর শক্তি❞

১১ মে ২০২৫ থেকে আমি একটি সিদ্ধান্ত নেই—প্রতিদিন ৩,০০০ বার ইস্তেগফার (আসতাগফিরুল্লাহ) পাঠ করব, একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহর কাছে আমার গুনাহ মাফ করানো।

এর পাশাপাশি আমি নিয়মিত দরুদ শরীফও পড়তাম—৫০০, কখনো ১০০ বার করে। নামাজ তো পড়তামই, কিন্তু শুধু নিজেই নয়—আমি আমার আম্মাকেও শেখাতাম আল্লাহ্‌ ও দীন সম্পর্কে যতটা পারি।
আম্মা খুব সরল ও মনোযোগী। আমি তাকে যা শিখাতাম, তিনি তা মন দিয়ে শুনতেন, নামাজে আমার সাথে দাঁড়াতেন। আমি তাকে ইস্তেগফারের ফজিলত বলার পর, তিনিও শুরু করলেন—প্রতিদিন ৫,০০০-৬,০০০ বার ইস্তেগফার! আমরা মা-মেয়ে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইস্তেগফার পড়ি। আর এই ক’দিনের মধ্যে এমন কিছু পরিবর্তন এসেছে আমাদের জীবনে, যা আমাদের চোখে পানি এনে দিয়েছে।

আমার আব্বা একজন সাংবাদিক। গত ৭-৮ মাস ধরে কোনো বিজ্ঞাপন পাচ্ছিলেন না, সংসার চলছিল কষ্টে। কিন্তু ইস্তেগফার শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ৪-৫ টি বিজ্ঞাপন পেয়েছেন—২৫ হাজার, ২০ হাজার টাকার মতো! একেকটা বিজ্ঞাপন।
আলহামদুলিল্লাহ!

আমার একমাত্র ভাই স্কুলে যেত না, কখনো আমরা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন সে একটি কাজে হাতেখড়ি নিচ্ছে এবং অন্য দেশে যাওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য বিশাল স্বস্তি।
আলহামদুলিল্লাহ! সবই আল্লাহ্‌র দয়ায়।

আমি ইন শা আল্লাহ সবসময় ইস্তেগফার ও দরুদ পড়তে থাকব।

যারা এই লেখা পড়ছেন, আপনাদের সবার প্রতি অনুরোধ— আপনারাও শুরু করুন ইস্তেগফার ও দুরুদ পড়া। দেখবেন— সমস্যার সমাধান আসবে, রিজিকের দরজা খুলে যাবে, আর আল্লাহ্‌ আপনাকে ভালোবাসবেন ইন শা আল্লাহ্।

- হাবিবা
4
কত তাহাজ্জুদগুজার বান্দাকে আল্লাহর রাস্তা থেকে হারিয়ে যেতে দেখেছি, জেগে থেকেও ফরজে পর্যন্ত অবহেলা করার দুঃসাহস করতে দেখেছি! ভয় লাগে। রাস্তা ভুলে হারিয়ে যাওয়াটা পলকের ব্যাপার মাত্র।
.
ওইদিকে এই আধুনিক সময়েও, কত বান্দাকে দেখেছি আগে খেয়ে নিয়ে ইশার সলাতের পরই ঘুমিয়ে যেতে, যেন সুন্নাতের খিলাফ না হয়, তাহাজ্জুদ না ছুটে যায়। ফরজ যেন থাকে অটুট আর সুন্দর।
.
প্রায়োরিটি। আর কিছু না। আপনি আসলে হারিয়ে গেছেন। নিজেকে এই-সেই বুঝ দিয়ে দুনিয়ায় মেতে থাকতে থাকতে নিজের রাব্বকে ভুলেছেন, ছেড়েছেন, সরেছেন।
.
ভেবে দেখুন, আপনার আজকের এই অবস্থান, দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ততা, আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া, পুরোটাই ছিলো আপনার চয়েস, আপনারই সিদ্ধান্ত। তাই আপনাকেও আপনার যাবতীয় ভনিতা আর অজুহাতের উপরে সোপর্দ করা হয়েছে। এর উপরেই থাকবেন কিনা, এভাবেই চালিয়ে যাবেন কিনা, সেটাও আপনার ব্যাপার। কোন জোরাজুরি করবে না কেউ।
.
যে আল্লাহকে সত্যিই চায়, আল্লাহকে প্রায়োরিটি দেয়, তাকে আল্লাহ আরো বেশি বেশি করে আল্লাহর সান্নিধ্যে রাখেন, সহজ করে দেন, অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরিয়ে দেন, আর আরো বেশি আল্লাহর ইবাদাত করার তৌফিক দিয়ে দেন। কারণ, আল্লাহও যে তাকে ভালবাসেন।
.
আর যে আল্লাহকে চেনার পরেও, আল্লাহর দিক থেকে একবারের জন্যেও অন্যদিকে তাকানোর দুঃসাহস করে...
.
শুকরিয়া এটাই যে, ফেরার রাস্তা খোলা। এই লেখাটা পড়ার তৌফিক হয়েছে মানেই এখনো সুযোগ আছে। কতজন গোপনে গোপনে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের রাব্বের দিকে। কোনদিকে, কারও দিকে না তাকিয়ে এক মনে... নিজের কবর, হাশর, পুলসিরাত আর জাহান্নামের কথা ভেবে ভেবে সেই মানুষগুলো চোখ লাল করে, গাল ভিজিয়ে প্রস্তুতি নিতে নিতে দিনরাত হয়রান হয়ে যাচ্ছে!
.
কেউ তাদেরকে চিনে না৷ দরকারও নেই। তারাও চায়, তাদেরকে শুধু তাদের রাব্ব চিনুক। তারাও চায়, কেবলই তাদের রাব্বকে চিনতে, ভালবাসতে। সেই দয়াময় রাব্বের সাথে সময় কাটাতে।
আপনিও আজ থেকে তাদের একজন হয়ে যেতে পারেন। আলহামদুলিল্লাহ, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিরবার সুযোগ এখনো আছে।

লেখা : মোহাম্মদ তোয়াহা‌ আকবর
🔥32
মেধাশক্তি বৃদ্ধির কিছু দোয়া বা আমল:

১. নিয়ত:
প্রথমে মনে মনে নিয়ত করুন—
“হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তর পরিষ্কার করে দিন, আমার স্মরণশক্তি ও বোঝার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিন।”

২. কোরআনের আয়াতসমূহ—
সূরা আল-ইনশিরাহ (১–৮)
(মনের জড়তা ও অস্থিরতা দূর করে)
আলম নাশরাহ লাকা সদরাক…
পূর্ণ সূরাটি ১ বার বা ৩ বার পড়ুন।

সূরা ত্ব-হা আয়াত ২৫–২৮

رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي ۝
وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي ۝
وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي ۝
يَفْقَهُوا قَوْلِي ۝

বাংলা উচ্চারণ:
রব্বিশ রহ লী সদরী
ওয়া ইয়াসসির লী আমরী
ওয়াহলুল উকদাতাম মিল লিসানী
ইয়াফক্বাহু ক্বাওলী

অর্থ:
হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন,
আমার কাজ সহজ করে দিন,
আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন,
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।

৩ বার পড়ুন।

৩. হাদিস থেকে দোয়া—
اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মান ফা‘নী বিমা ‘আল্লামতানী
ওয়া ‘আল্লিমনী মা ইয়ানফা‘উনী
ওয়া যিদনী ‘ইলমা

অর্থ:
হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাকে উপকৃত করুন,
আমাকে উপকারী জ্ঞান শিক্ষা দিন,
এবং আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।

৩ বা ৭ বার পড়ুন।

৪. বিশেষ যিকির (মেধা ও হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য)
يَا فَتَّاحُ، يَا عَلِيمُ

ইয়া ফাত্তাহু, ইয়া ‘আলীম
৩৩ বার।

আমলের নিয়ম (গুরুত্বপূর্ণ)
ফজরের পর বা পড়াশোনার আগে পড়া উত্তম।
চাইলে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করতে পারেন ইনশাআল্লাহ।
হারাম কাজ ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকুন (এটি সবচেয়ে শক্তিশালী শর্ত)
নিয়মিত করুন আল্লাহর ইচ্ছায় মেধাশক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকবে ইনশাআল্লাহ

- Raqi Mufti Abdul Malek
4
রমাদানের আগাম প্রস্তুতি শুরু হোক শাবান মাসে সাধ্যমত বেশি বেশি রোযা রাখার মাধ্যমে।
8🥰2
"কোনো জাতির মাঝে পাপাচার হতে থাকে, অথচ তারা একে পরিবর্তন করার সক্ষমতা রাখার পরও তা পরিবর্তন করে না, সেক্ষেত্রে তারা মারা যাবার আগেই আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন"।

مَا مِنْ قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِي يَقْدِرُونَ أَنْ يُغَيِّرُوا عَلَيْهِمْ وَلَايُغَيِّرُوا، ‌إِلَاّ ‌أَصَابَهُمُ ‌اللهُ ‌بِعِقَابٍ ‌قَبْلَ ‌أَنْ ‌يَمُوتُوا

~ রাসূলুল্লাহ ﷺ 

[ ইমাম ইবনু হিব্বান (রাহ.), আস সহীহ, হা: ২৮৬৪, শাইখ আলবানীর (রাহ.) মতে হাসান সহীহ- সহীহু মাওয়ারিদিয যামআন: ২/২১৬]
😢3👍1
এই ফিতনাহর সময়ে নিজের হিফাজতের জন্য সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দুয়াগুলো আকড়ে ধরুন। সুন্নাহকে প্রাণপণে ধরুন। একশ শহীদের সাওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ - এটাই আল্লাহর রাসূলের ওয়াদা।

من تمسك بسنتي عند فساد أمتي فله أجر مأة شهيد…
5❤‍🔥4
অন্তরে গুনাহর অবস্থান হচ্ছে কাপড়ে তেল লেগে যাবার মত ব্যাপার। আপনি যদি তা ধুয়ে ফেলার জন্য তাড়াহুড়া না করেন তাহলে তা বিস্তার লাভ করবে।

— ইমাম ইবনুল জাওযী (রহি.) 
[সূত্র : আল মুদহিশ, পৃ. ৩৫৭]
👍4😱1
নাজাতের এই রাতে, মুমিনদের আহ্লাদ ছড়িয়ে আছে দিগন্তের সতেজ বাতাসে।

নামাজ, জিকির, তেলাওয়াতে কাটুক আজকের রাত৷ সবাই সবার জন্য দোয়া করব ইনশাআল্লাহ৷ শবে বরাত বরকতপূর্ণ হোক।
3
রমাদ্বান এসে গেছে। আমরা সবকিছুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনের ডামাডোলে রমাদ্বানকে কতটুকু স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। যাদের নামাজের ব্যাপারে যত্ন নেই তারা কি নামাজকে নিয়ে ভাবছি?

সাবিত আল বুনানী রহ. বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে নামাজে দাঁড়াতে দেখেছি। যেন একটা কাঠের টুকরোর মত নিশ্চল। স্থির। সাহাবায়ে আজমায়ীনের নামাজ ছিলো এমন। পাখি এসে মাথার উপর বসত গাছ মনে করে।

আল্লাহ তায়ালা পাঁচটা জিনিসের উপর ইসলামকে স্থির করেছেন। কালিমা আমরা পড়ে ঈমান আনি। এরপর অসুস্থা থাকলে রোযাও মাফ। টাকা পয়সা না থাকলে হজ্ব-যাকাতও মাফ। বাকী থাকে শুধু নামাজটাই। এইটাও যদি রমাদ্বানে ঠিক করে না ফেলি জীবনে আর মুসলমান বলার মত পরিচিতি আর আছে কী!

এবারের রমাদ্বান হোক নামাজকে আপন করার!
5
আমাদের রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, ‘কে আছো যে আমার কাছে দোয়া করবে, আমি তার দোয়া কবুল করব?
কে আছো যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব?
কে আছো যে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?’
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

তাহাজ্জুদ আসলে শুধু নামাজ নয়, এটা আল্লাহর সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ।
এটা ইবাদতের নান্দনিকতা—নীরব রাত, সেজদায় অশ্রু, আর একান্ত কথোপকথন।

রমজানের প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ কত সহজ! সেহরির জন্য তো এমনিতেই উঠা হয়। সেই সময় আপনার কান্না, আপনার অপ্রকাশিত দুঃখ, বুকের গভীরের ভার—সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা হলো আল্লাহর দরবার।

আজ রাতেই চেষ্টা করুন:

২ রাকাত দিয়ে শুরু করুন

তাহাজ্জুদ পড়ে দোয়া করুন

দোয়ায় কাঁদতে পারলে কাঁদুন, না পারলে কাঁদার চেষ্টা করুন

হয়তো সত্যিই—
আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় দরজা খুলে যাবে আজ রাতেই।

আল্লাহ আমাদেরকে তাহাজ্জুদের মিষ্টতা দান করুন। আমিন।

- শায়েখ উমায়ের কোব্বাদি হাফি.

কালেক্টেড
3
রমজান সম্পর্কে ১২ টি বই। কমেন্ট চেক করুন।
রামাযানে গুনাহ করতে ইচ্ছে হলে এই কল্পনা করবে-

আল্লাহ যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি তোমার জন্য শয়*তানকে পর্যন্ত বেঁধে রাখলাম! সামান্য চেষ্টা করলেই গুনাহের থেকে বাঁচতে পারতে। আমার সন্তুষ্টির জন্য এই সামান্য চেষ্টাটুকু করতে পারো নি?? আমার হুকুম তোমার কাছে এতটাই তুচ্ছ ছিল??

কী জওয়াব দিবে??

~ মুফতি আবু সালেহ মুহাম্মাদুল্লাহ (হাফি:)
4
৩০ দিন রোজা রাখার পর, যদি জানতে পারেন - আপনার একটা রোজাও কবুল হয়নি, কেমন লাগবে তখন?
>বিস্তারিত কমেন্ট বক্সে!
2
রমাদানের একটা বিশেষ আমল হল “ইস্তিগফার”।
ইস্তিগফারের ২০ টি উপকারিতা আছেঃ-

১) আল্লাহ তায়ালার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ।
২) রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় আমল।
৩) গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়ার মাধ্যম।
৪) জান্নাত লাভের মাধ্যম।
৫) অন্তরের অন্ধকার দূর করে।
৬) এর দ্বারা আত্মিক প্রশান্তি লাভ হয়।
৭) আল্লাহ তা'য়ালার রহমত নাজিল হয়।
৮) কবরের সর্বোত্তম প্রতিবেশী।
৯) এর দ্বারা সবরকম শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ হয়।
১০) হালাল রিজক বৃদ্ধি হওয়ার বিশাল আমল।
১১) নফসকে দুশ্চিন্তা, পেরেশানি,  হতাশা, অবৈধ যৌনক্ষুধা, কুমন্ত্রণা গুনাহের আবর্জনা থেকে পবিত্র করে।
১২) নেক সন্তান লাভের মাধ্যম।
১৩) সর্বরোগের চিকিৎসা।
১৪) এর দ্বারা দুনিয়ায় মানুষের সর্বোত্তম জীবন লাভ হয়।
১৫) এটা গ্রহণযোগ্য আমলের নিরাপত্তা।
১৬) এর দ্বারা বিপদাপদ দূর হয়।
১৭) এর বরকতে মানুষের নিজস্ব আসল মর্যাদা এবং ফজিলত লাভ হয়।
১৮) উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ হয়।
১৯) অন্তর চক্ষু খুলে যায়।
২০) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল - আল্লাহ তা'য়ালার সাথে বান্দার সম্পর্ক ঠিক হয়।

[ ইলা মাগফিরাহঃ পৃষ্ঠা ৩২২,৩২৩ ]
7
একটা সিক্রেট ঘটনা বলি। অনেকসময় আমরা দেখি কেউ মারা যাওয়ার আগে অনেক ভালো ভালো কাজ করতে থাকে। এমন অনেক ইশারা দিতে থাকে মৃত্যুর যেগুলো আমরা শুনে বুঝি না। কিন্তু তার মৃত্যুর পর আমরা বুঝি। আরে! সে তো আগেই জানতো সে মারা যাচ্ছে!

আমরা শহীদ আবরার ফাহাদের মৃত্যুর পর তার বায়োতে দেখেছিলাম সেখানে লেখা: 'অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা অসীম মহাকাশের অন্তে'। আবার শহীদ হাদিকে দেখতাম শাহাদাতের আগে এমনসব কথা বলছেন যেন তিনি তার মৃত্যু হবে আগেই জানতেন। আবার অনেকেই দেখা যায় মৃত্যুর আগে গুনাহ আরো বেশি শুরু করে দেয়। এমনকি সে গুনাহের উপর মারা যায়। কিন্তু এগুলো কি কাকতালীয় নাকি আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দাকে আগেই ইশারা দেন? এনিয়ে সুন্দর একটা হাদিস আছে। সেই হাদিসটাই আজকের সিক্রেট ঘটনা।

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

إن الله إذا أراد بعبده خيرا قيض له ملكا قبل موته بعام فسدده ويسره حتى يموت وهو خير ما كان، فإذا حضر فرأى ثوابه من الجنة فجعل يتهوع نفسه ود أنها خرجت، فعند ذلك أحب لقاء الله فأحب الله لقاءه، وإذا أراد بعبد سوءا قيض له شيطانا قبل موته بعام فصده وأضله وفتنه حتى يموت شر ما كان، ويقول الناس مات فلان وهو شر ما كان، فإذا حضر فرأى ثوابه من النار جعل يتبلع نفسه ود أنه لا يخرج، فعند ذلك كره لقاء الله وكره الله لقاءه

আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান তখন তার মৃত্যুর এক বছর আগে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেন। সেই ফেরেশতা তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। তার জন্য নেক আমল করা সহজ করে দেয়। এমনকি সে তার জীবনের সর্বোত্তম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় এবং সে জান্নাতে তার প্রতিদান দেখতে পায় তখন তার প্রাণ যেন বের হয়ে যেতে চায়। সে কামনা করে যে তার রূহ দ্রুত বের হয়ে যাক। তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎকে ভালোবাসে আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎকে ভালোবাসেন।

আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দার অকল্যাণ চান তখন তার মৃত্যুর এক বছর আগে একটা শয়তানকে তার উপর নিয়োজিত করে দেন। সে তাকে সত্য পথ থেকে ফিরিয়ে দেয়। গোমরাহ করে এবং বিভ্রান্তিতে ফেলে রাখে। এমনকি সে জীবনের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। মানুষ বলতে থাকে: অমুক ব্যক্তি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় মারা গেছে। যখন মৃত্যুর সময় আসে এবং সে জাহান্নামে তার শাস্তি দেখতে পায় তখন তার প্রাণ যেন ভিতরে ঢুকে যেতে চায়। সে কামনা করে যে তা বের না হোক। তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎকে অপছন্দ করে আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎকে অপছন্দ করেন। [মুসান্নাফে আবি শায়বা]

আপনি কোনটা চান? আল্লাহর সাক্ষাৎ পাওয়ার অসীম কামনা নাকি শয়তানের সাথে দোস্তি?

মালিক! তোমার দীদার আমাদের নসীব করো।

—Ammarul Hoque Hafi.
7
“যে ব্যক্তি কুরআন তেলাওয়াত মন দিয়ে শুনে, সে তেলাওয়াতকারীর সাওয়াবে অংশীদার হয়ে যায়। অর্থাৎ তেলাওয়াতকারির মতো সেও প্রতিটি হরফের বিনিময়ে সমান সাওয়াব পেতে থাকে। আর হরফ-প্রতি সাওয়াব দশ গুণ।”

— শায়খ বিন বায (রহি.)
[সূত্র : ফাতাওয়া নূর আলা দারব, ২৬/৩৫০]
6
সাহরি আমাদের শেখায়, আমরা ফজরের নামাজের জন্য উঠতে পারি।

তারাবিহ আমাদের শেখায়, আমরা রাতভর নামাজ পড়তে পারি।

রোজা আমাদের শেখায়, আমরা আমাদের ইচ্ছা ও লোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

রমজান কেবল আমাদের ঈমানের সাময়িক বৃদ্ধি নয়; এটি শেখায়—আমরা প্রতিদিনই এগুলো করতে সক্ষম।

তাই, জীবনকে রমজান মনে করে বাঁচো, তবে আখেরাত হবে ঈদের মতো আনন্দের।

- মাহমুদ বিন নূর
7👍1