❝ 𝐋𝐨𝐬𝐭 𝐋𝐞𝐭𝐭𝐞𝐫 | হারানো চিঠি ❞
653 subscribers
102 photos
23 videos
144 links
Let's get to know Islam 🥰

https://t.me/Islamicproverbs07
Download Telegram
তুমি কি নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখতে চাও?
তাহলে একটা উপদেশ বলছি, যা তোমার জীবনের ধারা পাল্টে দিতে পারে ইনশাআল্লাহ।

একজন ভালো মানুষ আমাকে একবার এই কথাগুলো বলেছিলেন। আমি তাঁকে জীবনে মাত্র একবারই দেখেছিলাম, কিন্তু তাঁর এই কথাগুলো আমার জীবনে অনেক বড় প্রভাব ফেলেছিল।

আমি একদিন বিদেশের এক মাসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। মাসজিদটি প্রায় খালি ছিলো, শুধু আমি আর এক তাজিক (তাজিকিস্তানের) লোক ছিলাম। লোকটির চেহারা ছিল সাধারণ, কিন্তু তাঁর মুখে এক ধরনের অদ্ভুত নূর (আলোকোজ্জ্বলতা) ছিলো।

আমি ইমাম হয়ে নামাজ পড়ালাম। নামাজ শেষে লোকটি ভাঙ্গা আরবিতে বললেন:
"তোমাকে একটা উপদেশ দিবো, এটি পালন করো।"
আমি বললাম, "বলুন।"
তিনি বললেন:
"তুমি প্রতিদিন ১০০০ বার নাবী ﷺ-র প্রতি দুরূদ পাঠ করো। এটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ভাগ করে নিতে পারো। তুমি অবাক হবে যে কীভাবে তোমার জীবনে পরিবর্তন আসবে।"

তিনি আরও বললেন: "দেখো, তখন আর কোনো চিন্তা তোমাকে দমন করতে পারবে না, কোনো ঋণ তোমাকে কষ্ট দেবে না, আর প্রতিটি কষ্ট থেকে তুমি মুক্তি পাবে।
নবীজি ﷺ তোমাকে কিয়ামাতের দিনে চিনে ফেলবেন। কারণ, তোমার দুরূদ তাঁর কাছে পৌঁছাবে।"
চলে যাওয়ার আগে তিনি হেসে বললেন:
"তুমি তাঁকে স্বপ্নে দেখবে, 'কখনো তোমাকে শান্তনা দিতে, আবার কখনো সতর্ক করতে'।"

আমি সত্যিই সেই উপদেশ মানতে শুরু করলাম। প্রথম তিন বছর কিছুই দেখিনি। তবে আমার জীবন বদলে গেলো, সব কাজ সহজ হয়ে গেলো, আল্লাহর রহমাত ও নিরাপত্তা পেয়ে গেলাম।

এরপর ধীরে ধীরে নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখতে শুরু করলাম। প্রতিটি স্বপ্নে ছিলো বিশেষ বার্তা, 'হয়তো কোনো গুনাহ থেকে সাবধান করা অথবা কোনো ভালো খবর দেয়া'।

আল্লাহর কসম:
আমি যাকে-ই এই উপদেশ দিয়েছি, সবাই-ই নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখেছেন। কখনো সুসংবাদ নিয়ে, কখনো সতর্কবার্তা নিয়ে।

আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি:
যেকেউ প্রতিদিন ১০০০ বার দুরূদ শরীফ পড়বে, সে নিশ্চয়ই নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখবে ইনশাআল্লাহ।

কার্টেসী : শাইখ আহমাদ যায়দান (হাফিজাহুল্লাহ), মিশর।
ভাষান্তর : ইয়াছিন আরাফাত, আল-আযহার ইউনিভার্সিটি, কায়রো।
13
একজন নারী সাহাবীর কাছে দুটো বিয়ের প্রস্তাব আসে। এই দুজনের মধ্যে তিনি কাকে বিয়ে করবেন?

পরামর্শ করার জন্য তিনি গেলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে।

তিনি তখন তালাকপ্রাপ্রা। ইদ্দত পালন শেষ হবার সাথে সাথেই তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব আসা শুরু হয়।

নারী সাহাবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অসম্ভব রূপবতী। একইসাথে তিনি ছিলেন মেধাবী, উচ্চ ব্যক্তিত্বসম্পন্না।

মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং আবু জাহম রাদিয়াল্লাহু আনহু এই দুজন তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

দুজনই উচ্চবংশীয়। তিনি এখন কার প্রস্তাবে 'হ্যাঁ' বলবেন?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলে রাসূলুল্লাহ দুই পাত্রের বায়োডাটা বিশ্লেষণ করে বললেন-

- মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু এখনো যুবক, তার তেমন অর্থসম্পদ নেই।

- আর আবু জাহম রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি বদগুণ আছে, তাঁর রাগ অনেক; স্ত্রীর গায়ে হাত তোলেন!

এই দুজনের বায়োডাটা বিশ্লেষণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানালেন, সেই নারী যেরকম ব্যক্তিত্বের অধিকারী, তাঁর সাথে ঐ দুজন সাহাবীর মিলে না।

(বিয়ের প্রস্তাবে পাত্র/পাত্রীর দোষগুণ উল্লেখ করা যে গীবত না, সেটার অন্যতম রেফারেন্স এই ঘটনা।)

.

এখন তাহলে তিনি কাকে বিয়ে করবেন?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রস্তাব দিলেন— উসামা ইবনে যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা!

এটা শুনে তো নারী সাহাবী ভীষণ অবাক হলেন।

কীভাবে? উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সামাজিক অবস্থান তো তাঁর চেয়ে নিচে। এরকম পাত্রকে তিনি কীভাবে বিয়ে করবেন?

একপর্যায়ে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রস্তাবে রাজি হয়ে উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বিয়ে করেন।

.

এমনিতেই তালাকপ্রাপ্তা তিনি। বিয়ে করেন তাঁর চেয়ে নিচের সামাজিক মর্যাদার এক পাত্রকে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরামর্শে বিয়ের পরিণতি কী হয়েছিলো?

তিনি নিজেই সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন— “আল্লাহ আমাদের এই দাম্পত্য জীবনের এতো বরকত দান করেন, তাতে আমি বাকিদের ঈর্ষার পাত্রে পরিণত হলাম!”

.

সেই নারী সাহাবীর নাম ফাতিমা বিনতে কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহা।

.

এই গল্পের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনসাইট আছে।

১. বিয়ের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে পরামর্শ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা। এতো প্রস্তাবের মধ্যে কোনটা গ্রহণ করতে হবে সেটার জন্য অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নেয়া।

২. 'পাত্র/পাত্রী কেমন?' জিজ্ঞেস করলে তার সাথে সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে না, বরং সে আসলেই যেমন, তেমনটা বলা উচিত।

৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারী সাহাবীদেরকে অনেক গরীব পাত্রের সাথে বিয়ে দেন। এমনকি নিজের মেয়ে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকেও।

অন্যদিকে, গরীব হবার কারণে প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করা, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতেও বলেন।

এর অন্যতম কারণ- একেক ব্যক্তির একেক পার্সোনালিটি।

ফাতিমা বিনতে কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন লাইফস্টাইলের ক্ষেত্রে একটু ভিন্ন। তাকে নিয়ে সংসার করার জন্য যে পরিমাণ উপার্জন থাকা দরকার সেটা না থাকায় একজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে বলেন। সাংসারিক জীবনে পাত্রের উপার্জন যে গুরুত্বপূর্ণ, এটাও একটা উদাহরণ।

৪. নিজের বুঝের চাইতে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করলে যে ফায়দা হয়, তার অন্যতম প্রমাণ হলো এই ঘটনা।

.

রেফারেন্স:
সুনানে আন-নাসাঈ: ৩২৩৭, সহীহ মুসলিম: ৭২৭৬, ইবনে হাজার আসকালানী, আল-ইসাবা: ৪/৩৮৪, সুনানে আন-নাসাঈ: ৩২৪৪, সুনানে আবু দাউদ: ২২৮৪
5
বিয়ের আগে পর্দার ক্ষেত্রে মেয়েদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ চাচাতো-মামাতো-খালাতো-ফুফাতো ভাইদের সামনে। আর বিয়ের পরে চ্যালেঞ্জ দে-বর ও দুলা-ভাইয়ের সামনে। এই চ্যালেঞ্জ কমপ্লিট হলেই অনেকটা সহজ হয়ে যায় পর্দা মেইনটেইন করা।

ছেলেদের পর্দার বেলায় মামি, চাচি, শা-লি, ভাবি এই ৪ টা চ্যালেঞ্জিং।
🔥71
ছবিতে যে হাদিসে কুদসী লিখা আছে তার অর্থ হলো:
"আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি।" অর্থাৎ এভাবে নফল আদায় করতে করতে আমার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়।
(সহিহ বুখারী : ৬৫০২)
.
এরপর ছবিতে নিচ থেকে উপরে আল্লাহর নৈকট্য লাভের ১৪ টি নফল আমলের তালিকা সিঁড়ির মতো করে দেখানো হয়েছে। তা হলো :

১. সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা
২.আইয়ামে বীয-এর রোযা (প্রতি আরবী মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা)
৩.সুন্নতে রাতেবাহ (ফরয নামাযের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সুন্নাত নামাযগুলো)
৪. চাশতের নামায
৫. রাতের নামায তথা তাহাজ্জুদ
৬. দু'আ করা
৭. সাদাকা বা দান-খয়রাত
৮. পিতা-মাতার প্রতি সদাচারণ
৯. বিতর নামায
১০. কুরআন তিলাওয়াত
১১. আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা
১২.আল্লাহ্ যিকির ও তাসবীহ
১৩. মসজিদে প্রবেশের পর দুই রাকাত নামায
১৪. ওযূর পরের দুই রাকাত নামায
4🔥2
- দরুদ এর আমলের ফজিলত শুনে এক হাজার টার্গেট নিয়ে শুরু করলাম, আল্লাহ তায়ালা এমন মুমিন বান্দা দেখালেন যে মাঝে মধ্যে ৫০০০ বারও পড়ে।

- দুইদিন কয়েক হাজার বার ইস্তিগফার পড়ার পর খুব বুজুর্গি ভাব যখন এলো, আল্লাহ তায়ালা এমন বান্দা দেখালেন একদিনেই ১৭৫০০ বার পড়া শেষ।

- সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি তাসবিহ সকাল সন্ধ্যা ১০০ বার পড়ে মনে হলো এমন আমল আর কয়জনে করে? এক ভাইয়ের সাথে আল্লাহ তায়ালা দেখা করিয়ে দিলেন, কথাপ্রসঙ্গে তিনি বললেন, ভাই আমি অন্য জিকির করতে পারিনা সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি ১০০০ বার পড়ার চেষ্টা করি, কোন সমস্যা হবে?

- একদিন আধা পারা তিলাওয়াত করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে যখন বাইরে বের হই, রেগুলার ৩-৫ পারা পড়া লোক আরেকটু বেশি তিলাওয়াত না করতে পারার আফসোস করে।

-- সপ্তাহে এক দুইদিন কিয়ামুল লাইল/ তাহাজ্জুদ পড়ে আত্মতুষ্টির মধ্যে থাকা আমাকে আল্লাহ তায়ালা এমন মানুষের সাক্ষাৎ লাভ করান যার বছরে কালেভদ্রে তাহাজ্জুদ মিস হয়।

আমাদের চারপাশেই এমন অনেক লোক থাকে যাদের আমল সম্পর্কে কল্পনা করাও সম্ভব না। চিন্তা করি একবার, হাশরের মাঠে সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লহু আনহুমের আমলের সাথে আমাদের গুলো মাপা হবে। আগে থাকতে সতর্ক হয়ে যাই।
9
হাসিনার হাতে গু_*ম হওয়া একজন ভিক্টিম বলেছেন, তাকে উ-ল-ঙ্গ করে তার লি_ঙ্গের সাথে ইট বেঁ-ধে ঝু-লিয়ে রেখে দিয়েছিলো৷

আরেকজন বললেন, তাকে উ-ল_ঙ্গ করে মহিলাদের সামনে নিয়ে যাওয়া হতো৷ এক বোনকে তার নিক্বাবের জন্যে শুধুমাত্র সারারাত জানালার সাথে বেঁ-ধে ঝু-লিয়ে রাখা হয়েছে। মাসিকের জন্যে প্যা-ড চাওয়ায় অকথ্য ভাষায় গা-লি, বি-দ্রু-প করা হয়েছে।

বে-শ্যা-টা বুঝতো সম্ভ্রান্ত মানুষের কাছে কারো সামনে আনফিটভাবে যাওয়াটাও মানসিক য-ন্ত্রণার। নিক্বাব পরা মেয়ের ওড়না টেনে খুলে ফেলার য-ন্ত্রণা আর তাকে রে-ই_প করার য-ন্ত্রণা সেইমভাবেই অনুভূত হয়। সে জন্যে সে এতোসব অদ্ভুত অবাক করা নির্যা-তনের মহা-কারখানা খুলে বসেছিলো।

গু-*ম কমিশন এক ঘন্টার একটি বিস্তারিত ডকুমেন্টারি করেছে। আপনার হাতে অনেক সময় না থাকলেও এক ঘন্টা খরচ করে দেখেন এটা। কোন ন-র-ক থেকে মুক্তি পেয়েছেন জানা তো দরকার... তাই না?

জয়েন : https://t.me/Islamicproverbs07
😭61🔥1
"হৃদয়ে জমে থাকা কষ্টের অনুভূতিগুলো আমাদের সবসময় মনে করিয়ে দেয় যে এইটা আমাদের আসল বাড়ি নয়, আমরা এই দুনিয়ার কেউ নই!

আমরা কেবলই আল্লাহর। আমরা এই দুনিয়ার জন্য বাঁচি না, আমরা আখিরাতের জন্য বাঁচি।
.
– শাইখ আবু নাওয়ার রাহিমাহুল্লাহ
5❤‍🔥1
আল্লাহ তায়ালা পাঁচটি ক্ষেত্রে পাঁচটি বিষয় পাঁচ কারণে গোপন রেখেছেন।

১. জুমআহর দিন দুআ কবুলের সময় কোনটি তা গোপন রেখেছেন যেন পুরা দিন দুআয় দুআয় কাটে।
২. রমাদ্বানের শেষ দশকের কোন রাত লাইলাতুল ক্বদর তা গোপন রেখেছেন যেন পুরো শেষ দশকই বন্দেগীতে পার হয়।
৩. আল্লাহ তায়ালা কোন আমলে সন্তুষ্ট হবেন তা গোপন রেখেছেন যেন বান্দা সব আমলই করতে থাকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির আশায়।
৪. কোন গুনাহে আল্লাহ তায়ালা রাগান্বিত হোন তা আলাদা করে বলে দেননি যেন বান্দা সমস্ত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।
৫. আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কে আল্লাহর প্রিয় বান্দা তা মানুষের সামনে উন্মোচন করে দেননি যেন প্রত্যেকেই প্রত্যেকের ব্যাপারে এই সুধারণা রাখে যে সে হয়তো আল্লাহর প্রিয় বান্দা।

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ।
14
ইচ্ছাকৃত নামায না পড়ার দুনিয়াবী শাস্তি কি?

১. ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ: এর মতে: এ ব্যক্তি মুরতাদ। শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড।
(আল মুগনী লিইবনে কুদামা-২/১৫৬)

২. ইমাম শাফেয়ী রহ: ও ইমাম মালেক রহ: এর মতে: এ ব্যক্তি মুরতাদ নয়, তবে এটি এতটাই মারাত্মক অপরাধ যে, ইসলামী রাষ্ট্রের বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড এর শাস্তি প্রদান করবে।
(কিতাবুল উম্ম- ১/২৫৫, ত্ববাক্বাতুশ শাফিইয়্যাহ-২/৬৪)

৩. ইমাম আবু হানিফা রহ: এর মতে: এমন ব্যক্তি মুরতাদ নয় এবং মৃত্যুদণ্ড ও তার শাস্তি নয়।
তবে এটা এতটাই মারাত্মক অপরাধ যে, বিচারক শাস্তি স্বরূপ তাকে তিন দিন বন্দী করে রাখবে, যদি নামাযে অভ্যস্ত হয় তাহলে তাকে ছেড়ে দিবে, নতুবা তাকে এমন প্রহার করা হবে, যাতে শরীর থেকে রক্ত বেরিয়ে যায়। তবে বিচারক চাইলে তাকে মৃত্যুদণ্ড ও দিতে পারে হদ হিসেবে নয়, তা'জীর হিসেবে।
(ফয়জুল বারী- ১/১০৬, ফয়জুল ক্বদীর-২/১৮৯)
4
*কবরে গিয়ে যদি দেখা যায়, মাফ পাইনি ধরা খেয়ে গিয়েছি, তার চেয়ে বেশি দম বন্ধ করা কোন কিছু কি হতে পারে? কল্পনা করলেও তো হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়।*

— হোসাইন সাকিব
😭10👍2
যদি আপনি ঈমান ও তাকওয়ার অভাব দূর করতে চান জীবন থেকে তবে প্রতিবার আজান হলে অন্য কাজ ও কথা ফেলে জবাব দিন মুআজ্জিনের কথার এবং নামাজ পড়ুন। দেখুন ঈমানের দিক থেকে কতটা প্রাণবন্ত লাগে নিজেকে। আপনার ধারণা নেই কত মানুষ এই পরামর্শ শুনেও নিজেদের অপারগ রাখবে এবং আফসোসও করবে। আপনি ব্যতিক্রম হোন।

~ আসিফ সিফগাত ভূঁইয়া!
👍82
“মুমিন কখনোই পাপ করে পূর্ণ তৃপ্তি লাভ করতে পারে না; বরং সে যখনই কোনো পাপ করে, তখন তার অন্তরে দুঃখ ছেয়ে যায় কিন্তু কারো অন্তরে যদি এই দুঃখ কাজ না করে, তাহলে তার আফসোস করা উচিত। কারণ, তার অন্তর মরে গেছে।”

~ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)
সূত্র:[মাদারিজুস সালিকিন  খণ্ড ১, পৃঃ ১৮০]
6
আনন্দিত হওয়া, কষ্ট পাওয়া—এগুলো সবাই পারে। কিন্তু তুমি যদি তোমার আনন্দকে শোকরে পাল্টে নিতে পারো আর কষ্টগুলোকে সবরে, তাহলেই তুমি সেরা।

— ইমাম ইবনু কাসীর (রাহি.)।

(তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা হাদীদ এর তাফসীর)
7
'মাত্র ৩৪‌ দি‌নেই জীব‌নের‌ মোড় ঘু‌রে গে‌লো। ১০০০ (নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই) বার দুরুদ পাঠ ছিলো আমার টা‌র্নিং প‌য়েন্ট!' এই গল্পটি এক ভাইয়ের কাছ থেকে শোনা, যিনি একসময় নামাজহীন, গাফেল জীবনে ডুবে ছিলেন।

তিনি বলেন—
"আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকমতো পড়তাম না, দ্বীন নিয়ে ভাবনাও ছিল না। জীবনে শুধু হতাশাই ছিল। চাকরি নেই, সংসারে টানাপোড়েন, আত্মীয়দের কাছে অপমান—সবমিলিয়ে হতাশার অতল গহ্বরে ডুবে যাচ্ছিলাম।

একদিন হঠাৎ করে ইউটিউবে দরুদের ফজিলত নিয়ে একটি লেকচার দেখি। ফজিলত দেখে নিয়ত করলাম, একবার চেষ্টা করে দেখি।
আমি ঠিক করলাম—প্রতিদিন ১০০০ বার দুরুদ পড়ব, ৪০ দিন পর্যন্ত।
প্রথম কয়েকদিনেই মনে হচ্ছিল, ভেতরের ভার যেন একটু হালকা হয়ে যাচ্ছে। অজানা এক প্রশান্তি পেতাম।

দিন যেতে লাগলো। ঠিক ৩৪তম দিনে একটা কোম্পানি থেকে চাকরির কল আসে। যেই চাকরির জন্য আমি আগেও অনেকবার আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছিলাম—এবার একেবারে ডিরেক্ট রিক্রুট!

সেদিন শুধু সেজদায় পড়ে কেঁদেছিলাম আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে কেঁদেছিলাম। দুরুদের বরকতে আল্লাহ তায়ালা আমার জন্য অসম্ভব কে সম্ভব করে দিয়েছেন।

আল্লাহ দরুদকে আমার জন্য হিদায়াতের দরজা বানিয়ে দিয়েছেন।
এই দরুদই আমাকে নামাজে ফিরিয়েছে, হতাশা থেকে মুক্ত করেছে, আর প্রমাণ করেছে—দোয়া কবুল হয়, শুধু দরজা ঠিক রাখতে হয়।
আজও আমি ১০০০ (নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই) দুরুদ পড়ি, তবে আর কোনো চাওয়ার জন্য নয়, বরং আল্লাহর ভালোবাসার জন্য।

- সংগৃহীত
4
"দুআ কবুল হওয়ার পথে একট বড় বাধা হল গুনাহ, এজন্য নিয়ম হল সর্বপ্রথম নিজের গুনাহর জন্যে ক্ষমাপ্রার্থী হওয়া, এরপর দুআ করা। এজন্যই দেখা যায় জানাযার নামাযের দুআয় বলা হয়:
‌اللَّهُمَّ ‌اغْفِرْ ‌لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا
অর্থাৎ হে আল্লাহ, মাফ কর আমাদের জীবিতদের ও মৃতদের।
মৃতদের পূর্বেই জীবিতদের উল্লেখ করা হয়েছে। আর যে দুআ করছে সে জীবিত। তাই সে প্রথমে নিজের জন্য এবং পরে মৃতদের জন্য দুআ করে"।

~ মাওলানা মো. আমিনুল ইসলাম [রাহ.]

[তফসীরে নূরুল কোরআন: ৯/৯৮]
👍6
একটা অতি চমৎকার দুআ শেখাব। তবে তার আগে একটু ভূমিকা টানি এই দুআর। ভূমিকাটার দরকার খুব একটা নেই। তবুও বলা আর কি...

আমার মায়ের ইন্সমনিয়া আছে। যাকে বলে অনিদ্রা রোগ। দীর্ঘ বছর যাবত ঘুম হয় না। সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। কতশত চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। ডাক্তার-কবিরাজ সব দেখানো শেষ। শেষমেশ সারা শরীর ও মাথায় যন্ত্রপাতি বসিয়ে স্লিপ টেস্ট করে জানা গেলো আম্মু ঘুমানোর সময় তার ব্রেইনের কিছু নার্ভ জেগে থাকে। ফলে ঘুমালেও সেই ঘুম তিনি অনুভব করেন না। এমন ঘুম আসলে না ঘুমানোর মতই।

জিনগতভাবে এই রোগের কিছুটা আমিও পেয়েছি। ঘুম হয় না। এমনও হয় যে আমি টানা জার্নি করে এসে শুইলাম কিন্তু ঘুম কিছুতেই আসছে না। নার্ভ এক্টিভ থাকে। নানা পরিকল্পনা অথবা কোনো শিডিউল মাথায় ঘুরতে থাকে। অথবা কোনোকিছু জানা বা পড়া দরকার। ডিস্টার্বিং এলেমেন্টস ঘুমাতে দিচ্ছেই না। আবার ঘুমালেও ঘুমের ব্যাপারটা আয়োজন করে করতে হয়। সারা ঘর অন্ধকার করে শীতল করে গায়ে পাতলা কাঁথা টেনে পিনড্রপ সাইলেন্টে ঘুমুতে হয়। অনেক দূরের ইট ভাঙার শব্দও কানে এলে গভীর ঘুম ভেঙে যায়। এমনিতেও ঘুম যে আসে না তা না। কিন্তু সেই ঘুম হয় আধখ্যাচড়া। কিছুটা অভ্যাসজনিত কারণও আছে। বায়োলজিক্যাল ক্লক সেট হয়ে আছে এভাবেই।

তো এই লম্বা কেচ্ছা বিশেষ জরুরী না। এই যে অনিদ্রা রোগ এটা শুধু আমাদের না। সাহাবাদেরও ছিলো। তারাও তো মানুষ ছিলেন। মানসিক চাপ বা অন্যান্য কারণে অনেকেরই ঘুমের সমস্যা হতো। তাদের সমস্ত সমস্যার একমাত্র সমাধান ছিলো নবী আলাইহিস সালামকে খুলে বলা। আল্লাহর নবীও তাদেরকে কোনোকিছুরই সমাধান না দিয়ে ফেরাতেন না। ঠিক তেমনি ঘুমের সমস্যা নিয়ে যায়েদ ইবনে সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু গেলেন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে। বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাতে অনেক চেষ্টা করি। ঘুম আসে না। বিছানায় শুধু গড়াগড়ি করি। কী করতে পারি?

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রিয় সাহাবীর সমস্যা শুনে কি চমৎকার একটা দুআ শেখালেন দেখুন! বললেন: যায়েদ! বলো...

اَللّٰهُمَّ غَارَتِ النُّجُوْمُ، وَهَدَأَتِ الْعُيُوْنُ، وَأَنْتَ حَيٌّ قَيُّوْمٌ، لاَ تَأْخُذُكَ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ أَهْدِئْ لَيْلِيْ، وَأَنِمْ عَيْنِيْ

আল্লা-হুম্মা গা-রাতিন নুজুম, ওয়া হাদাআতিল উ’য়ুন, ওয়া আনতা ‘হাইয়ুন ক্বাইয়ুম, লা তাঅ্খুযুকা সিনাতুউ ওয়ালা নাওম, ইয়া ‘হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ুম, আহদিঅ্ লাইলী ওয়া আনিম ‘আইনি।

হে আল্লাহ! তারকারাজি নিভে গেছে। (মানুষের) চোখগুলো (ঘুমে) শান্ত হয়ে গেছে। আর আপনি তো চিরঞ্জীব-চিরস্থায়ী—তন্দ্রা ও নিদ্রা যাকে স্পর্শ করতে পারে না। হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! আমার রাতকে শান্তিময় করুন এবং আমার চোখে ঘুম দিন।

[ইবনে হিব্বান, তাবারানী]

এরপর থেকে যায়েদ ইবনে সাবিত আর কখনোই ইন্সমনিয়ায় আক্রান্তই হননি। সীরাতে আসলে নাই কী! ঘুম না এলে কী করতে হবে তাও নবী আলাইহিস সালাম শিখিয়ে দিচ্ছেন। ভাবা যায়!
3
হায়াত আমার কমছে প্রতিদিন,
গুনাহ আমার বাড়ছে বাধাহীন!
😭4
অতিরিক্ত ঘুমের অভ্যাস অনেকেরই আছে। বেশিরভাগ অতিরিক্ত ঘুমের অভ্যাস থাকা মানুষ সাধারণত স্থুল মস্তিষ্কের হয়। অতিরিক্ত ঘুমালে বুদ্ধি ভোঁতা হয়ে যায়। কাজের স্পিরিট কমে যায়। ক্রমশ মানুষ জড়তার দিকে চলে যায়। নবী আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে সাহাবা ও সালাফদের কেউই অতিরিক্ত ঘুমাতেন না। আল্লাহ তায়ালা তাদের সিফাত বয়ান করতে গিয়ে বলেছেন:

كَانُوۡا قَلِیۡلًا مِّنَ الَّیۡلِ مَا یَهۡجَعُوۡنَ وَ بِالۡاَسۡحَارِ هُمۡ یَسۡتَغۡفِرُوۡنَ 
রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাতো। আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা চাওয়ায় রত থাকত।

তো ঘুম কমানো আল্লাহর বান্দাদের সিফাত। প্রয়োজনমাফিক ৬/৭ ঘন্টা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য এনাফ ঘুম। তাহযিবুন নুফুস নামে একটা কিতাব আছে। সেখানে এসেছে: যখন মানুষ অতিরিক্ত ঘুমায় তখন অন্তর শক্ত হয়ে যায়। মূল্যবান সময় বরবাদ হয়ে যায়। আর যখন বান্দা কম ঘুমায় তখন সময়ের কাজ সময়ে করতে পারে।

সুলাইমান আলাইহিস সালামকে শৈশবে তার মা বলতেন: বেটা! বেশি ঘুমিওনা। অতিরিক্ত ঘুম কিয়ামতের দিন মানুষকে কপর্দকহীন বানিয়ে ছাড়বে।

ঘুম কমানোর কোনো দুয়া হাদিসে উল্লিখিত নাই তবে মুসান্নাফে আবি শাইবাতে একটা দুয়া এসেছে যেটা সালাফরা পড়তেন। সেটা পড়তে পারেন।

ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺍﺷْﻔِﻨِﻲْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﻮْﻡِ ﺑِﻴَﺴِﻴْﺮٍ، ﻭَﺍﺭْﺯُﻗْﻨِﻲْ ﺳَﻬَﺮًﺍ ﻓِﻲْ ﻃَﺎﻋَﺘِﻚَ .

আল্লাহুম্মাশফিনী মিনান নাওমি বিইয়াসীর, ওয়ারযুক্বনী সাহারন ফী ত্বআতিক।

ইয়া আল্লাহ! সামান্য ঘুম দ্বারাই আমার প্রয়োজন পূরণ করুন এবং আপনার আদেশ পালনে রাত্রিজাগরণের তাওফীক দিন।
©
10
হযরত আইয়ুব আ. ১৮ বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। শয্যাশায়ী অবস্থায় তিনি দোয়া করলেন। দোয়াতে শুধু এটুক বললেন: 'مَسَّنِيَ الضُّرُّ' আমাকে দুঃখকষ্ট স্পর্শ করেছে। জাস্ট এটুক। কী বিনয় নিয়ে বললেন। অথচ, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে তিনি কষ্টে আছেন‌। কিন্তু দোয়াতে বললেন 'স্পর্শ করেছে।' যেন খুব সামান্য কষ্ট। এমন বিনয়, এমন ধৈর্য—সুবাহানাল্লাহ।

দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি বিছানা থেকে উঠতেই পারেন নি। তাঁর স্ত্রী তাঁকে বাথরুমে নিয়ে যেতেন। ফিরিয়ে আনতেন। দেখভাল করতেন।

এ সময় তিনি তাঁর সব সম্পদ হারিয়েছেন। ২১ জন সন্তানও হারিয়েছেন। রোগের কারণে সবাই তার থেকে দূরেও সরে গেছে। পুরো শহর তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে। কী ভয়ংকর বিপদ! এত কিছুর পরও তিনি বললেন— وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ : "তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।"

দেখুন, সুখে থাকতে 'আল্লাহ দয়ালু' বলাটা সহজ। কিন্তু ১৮ বছর বিপদের পরও এমনটা বলতে পারাটা সাধারণ বিষয় নয়।

আর আমরা? আমরা দু'দিনের বিপদেই আল্লাহ থেকে নিরাশ হয়ে যাই। নানান অভিযোগ করি। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে বলতে থাকি— 'আল্লাহ কি সত্যিই আমাকে ভালোবাসেন? তিনি কি আমায় ভুলে গেছেন? এত কষ্টে ফালায়ে রাখছেন কেন?'

-------------------------
মাহমুদ বিন নূর
7👍2
আল্লাহর দেওয়া হাজারো নেয়ামতের মাঝে সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো— মুসলমান পরিচয়! তাই সর্বদা শুকরিয়া প্রকাশ করুন এই ভেবে— আল্লাহ আপনাকে মুসলিম বানিয়ে এই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন এবং আপনার অন্তরে ঈমানের আলো দিয়েছেন।
ভেবে দেখুন— কোটি কোটি মানুষ আজ বিভ্রান্তির অন্ধকারে ডুবে আছে, অথচ আল্লাহ আপনাকে তাঁর তাওহীদের পথে দাঁড় করিয়েছেন। এটি এমন এক নেয়ামত— যা দুনিয়ার সব সম্পদ, খ্যাতি কিংবা ক্ষমতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তাই এই নেয়ামতের কদর করুন, রবের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করুন এবং সর্বোপরি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করুন।

লেখা : মাহমুদুল হাছান
4