গুনাহ করার পর ৪ টি জিনিস গুনাহ করার চেয়েও ভয়ংকরঃ
১। গুনাহ কে ছোট মনে করা
২। নিজেকে গুনাহের শাস্তির ব্যাপারে নির্ভীক মনে করা
৩। গুনাহ করে অনুশোচনার বদলে খুশি এবং বেপরোয়া হওয়া
৪। তওবা না করে গুনাহের উপর ই প্রতিষ্ঠিত থাকা
–হজরত আওয়াম ইবনু শা'ব রহিমাহুল্ললাহ
১। গুনাহ কে ছোট মনে করা
২। নিজেকে গুনাহের শাস্তির ব্যাপারে নির্ভীক মনে করা
৩। গুনাহ করে অনুশোচনার বদলে খুশি এবং বেপরোয়া হওয়া
৪। তওবা না করে গুনাহের উপর ই প্রতিষ্ঠিত থাকা
–হজরত আওয়াম ইবনু শা'ব রহিমাহুল্ললাহ
❤1
প্রশ্ন:
এক ব্যক্তি যোহর নামাযের পূর্বের চার রাকাত সুন্নতের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরীফের ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ’ পর্যন্ত পড়েছে। এ কারণে কি তাকে সাহু সিজদা দিতে হবে?
উত্তর:
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় তাকে সাহু সিজদা দিতে হবে। কেননা এক্ষেত্রে বিলম্ব না করে তাশাহহুদের পরপরই দাঁড়িয়ে যাওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু তা না করে ভুলে দরূদ শরীফের এ পরিমাণ পড়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে।
-আদ্দুররুল মুখতার, হা©র্শয়াতুত তহতাবী ১/২২৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪০১; শরহুল মুনইয়াহ ৩৩১; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭
- উত্তর প্রদানে মাসিক আলকাউসার
#মাসিক_আলকাউসার
এক ব্যক্তি যোহর নামাযের পূর্বের চার রাকাত সুন্নতের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরীফের ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ’ পর্যন্ত পড়েছে। এ কারণে কি তাকে সাহু সিজদা দিতে হবে?
উত্তর:
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় তাকে সাহু সিজদা দিতে হবে। কেননা এক্ষেত্রে বিলম্ব না করে তাশাহহুদের পরপরই দাঁড়িয়ে যাওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু তা না করে ভুলে দরূদ শরীফের এ পরিমাণ পড়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে।
-আদ্দুররুল মুখতার, হা©র্শয়াতুত তহতাবী ১/২২৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪০১; শরহুল মুনইয়াহ ৩৩১; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭
- উত্তর প্রদানে মাসিক আলকাউসার
#মাসিক_আলকাউসার
❤4
যে অন্তরে এমন কিছু আছে যা আল্লাহ অপছন্দ করেন সে অন্তরে নূর প্রবেশ করা নিষিদ্ধ থাকে।
— ইমাম সাহল বিন আব্দিল্লাহ আত তুসতারী (রাহ.)
[সূত্র : ইমাম ইবনু রাজাব হাম্বলী (রাহ.), লাতাইফুল মাআরিফ, পৃ. ৪৪০, আল মাকতাবুল ইসলামী, বৈরুত, ২০০৭ ঈ., পৃ. ৯২৬]
@Islamicproverbs07
— ইমাম সাহল বিন আব্দিল্লাহ আত তুসতারী (রাহ.)
[সূত্র : ইমাম ইবনু রাজাব হাম্বলী (রাহ.), লাতাইফুল মাআরিফ, পৃ. ৪৪০, আল মাকতাবুল ইসলামী, বৈরুত, ২০০৭ ঈ., পৃ. ৯২৬]
@Islamicproverbs07
🔥3
"কেউ যদি খালেস মনে আয়াতুল কুরসি পড়ে, তাহলে জিন শয়তান পালিয়ে যাবে।"
— শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.)
[মাজমুঊ আল-ফাতাওয়া, ১৯/৫৫]
— শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.)
[মাজমুঊ আল-ফাতাওয়া, ১৯/৫৫]
❤5
যদি কখনো ঈমানি দুর্বলতা অনুভব করেন, দুটি আমল অধিক পরিমাণে করলে এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে:
১. লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
২. ইস্তিগফার
---- তহা বিন জলিল হাফিযাহুল্লাহ
১. লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
২. ইস্তিগফার
---- তহা বিন জলিল হাফিযাহুল্লাহ
❤9
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদ্বিয়াল্লহু আনহু বলেন,
নেককাজের ফলেঃ
- অন্তরে নূর তৈরি হয়
- চেহারায় উজ্জ্বলতা আসে
- শরীরে শক্তি অর্জিত হয়
- রিজিক বৃদ্ধি পায় এবং
- সৃষ্টিজীবের অন্তরে ভালোবাসা তৈরি হয়
পক্ষান্তরে গুনাহ করলে,
- অন্তরে এক ধরনের অন্ধকার তৈরি হয়
- চেহারা কালো কালো হয়ে যায়
- শরীরে দুর্বলতা চলে আসে
- রিজিক কমে যায় এবং
- তার প্রতি মানুষের অন্তরে ঘৃণা তৈরি হয়
[ শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ
আল ইসতিকামাহ - ১/৩৫১]
নেককাজের ফলেঃ
- অন্তরে নূর তৈরি হয়
- চেহারায় উজ্জ্বলতা আসে
- শরীরে শক্তি অর্জিত হয়
- রিজিক বৃদ্ধি পায় এবং
- সৃষ্টিজীবের অন্তরে ভালোবাসা তৈরি হয়
পক্ষান্তরে গুনাহ করলে,
- অন্তরে এক ধরনের অন্ধকার তৈরি হয়
- চেহারা কালো কালো হয়ে যায়
- শরীরে দুর্বলতা চলে আসে
- রিজিক কমে যায় এবং
- তার প্রতি মানুষের অন্তরে ঘৃণা তৈরি হয়
[ শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ
আল ইসতিকামাহ - ১/৩৫১]
❤6
আল্লাহ তাআলার আয়াত কতইনা জীবন্ত, মানুষের জীবনের সাথে কতইনা প্রাসঙ্গিক। নিম্নোক্ত আয়াতটি তিলাওয়াতের সময় হঠাৎ থমকে গেলাম এবং শিক্ষা গ্রহণ করলাম।
یٰعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّ اَرۡضِیۡ وَاسِعَۃٌ فَاِیَّایَ فَاعۡبُدُوۡنِ
'হে আমার মুমিন বান্দাগণ! নিশ্চয় আমার পৃথিবী প্রশস্ত। সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর। (আনকাবুত, আয়াতঃ ৫৬)
শিক্ষা: আল্লাহর যমীন তো এমন সংকীর্ণ নয় যে, কোথাও আপনাকে অবশ্যই থাকতে হবে। অতএব এমন কোন স্থানে চলে যাও, যেখানে সুন্দরভাবে দ্বীনের কাজ করতে পারবে।
یٰعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّ اَرۡضِیۡ وَاسِعَۃٌ فَاِیَّایَ فَاعۡبُدُوۡنِ
'হে আমার মুমিন বান্দাগণ! নিশ্চয় আমার পৃথিবী প্রশস্ত। সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর। (আনকাবুত, আয়াতঃ ৫৬)
শিক্ষা: আল্লাহর যমীন তো এমন সংকীর্ণ নয় যে, কোথাও আপনাকে অবশ্যই থাকতে হবে। অতএব এমন কোন স্থানে চলে যাও, যেখানে সুন্দরভাবে দ্বীনের কাজ করতে পারবে।
❤6
❝আমি কবরের চাইতে অধিক বীভৎস দৃশ্য কখনো দেখিনি। ❞
~ রাসূলুল্লাহ ﷺ
[ ইমাম তিরমিযী (রাহ.), আস সুনান, হা: ২৩০৮, তাঁর মতে হাসান গারীব ]
~ রাসূলুল্লাহ ﷺ
[ ইমাম তিরমিযী (রাহ.), আস সুনান, হা: ২৩০৮, তাঁর মতে হাসান গারীব ]
😢3
গাইরে মাহরাম কখনোই নিরাপদ না, যদিও সে দুনিয়ার সবচেয়ে তাকওয়াবান মানুষ হয়ে থাকে। কারণ মানুষের হৃদয় দ্রুত পরিবর্তনশীল। আর শয়তান সুযোগ-সন্ধানী।
[সূত্র : শারহুল উমদাহ, ৪/৭৮ ]
[সূত্র : শারহুল উমদাহ, ৪/৭৮ ]
🔥6❤3
আমার বয়স যখন ৩০ বছর,
এর মধ্যেই আমি একশতের-ও অধিক সংখ্যক বার প্রিয় নবী ﷺ কে স্বপ্ন দেখেছিলাম। অধমের মতে এটা এজন্যই হয়েছিল, আমি আমার নজরের খুব হিফাযাত করতাম।
জুলফিকার আহমাদ নকশবন্দী দামাত বারাকাতুহুম
এর মধ্যেই আমি একশতের-ও অধিক সংখ্যক বার প্রিয় নবী ﷺ কে স্বপ্ন দেখেছিলাম। অধমের মতে এটা এজন্যই হয়েছিল, আমি আমার নজরের খুব হিফাযাত করতাম।
জুলফিকার আহমাদ নকশবন্দী দামাত বারাকাতুহুম
❤9
কী অদ্ভুত তাই না?
আপনি সারা রাত জাগেন, ঘুম আসে না। আবার সে আপনিই ফজর পড়তে পারেন না—কারণ আপনার ঘুম ভাঙে না।
বই—কুরআনিক নসিহা।
~আদিব সালেহ।
আপনি সারা রাত জাগেন, ঘুম আসে না। আবার সে আপনিই ফজর পড়তে পারেন না—কারণ আপনার ঘুম ভাঙে না।
বই—কুরআনিক নসিহা।
~আদিব সালেহ।
😢8
রাসূলুল্লাহ (সা) ফাতিমা (রা) এর জন্য পাত্র খুঁজছিলেন তখন।
একদিন আবু বকর (রা) আর উমার (রা) আলী (রা) এর সঙ্গে গল্প করছিলেন। দেখলেন, আলী (রা) কেমন যেন চুপচাপ। আবু বকর (রা) বলে উঠলেন, “আলী, তুমি ফাতিমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছ না কেন?” উমার (রা) মাথা নেড়ে বললেন, “হ্যাঁ, আলী, তুমিই তো সবচেয়ে উপযুক্ত!”
আলী (রা) একটু লজ্জা পেলেন। বললেন, “আমার তো হাতে তো তেমন কিছুই নেই বিয়ে করার মত।” আবু বকর (রা) হেসে বললেন, “তুমি শুধু প্রস্তাব দাও। বাকিটা দেখা যাবে।”
আলী (রা) সাহস করে রাসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে গেলেন। কিন্তু চুপচাপ থাকলেন। রাসূল (সা) বললেন, “আলী, তুমি কি কিছু বলতে চাও?” তখন আলী (রা) খুব রয়ে সয়ে বললেন, “আমি আপনার ফাতিমাকে বিয়ে করতে চাই।” রাসূল (সা) মুচকি হেসে বললেন, “আচ্ছা! মাহর হিসেবে কী দিতে পারবে?”
আলী (রা) বললেন, “আমার তো শুধু সেই ঢালটাই আছে।” রাসূল (সা) বললেন, “ঠিক আছে। ঢালটা বিক্রি করে মাহরের অর্থ জোগাড় করো।” আর বললেন, “যাও, আবু বকর, উমার, উসমানদের খবরটা দাও।”
আলী (রা) গিয়ে উসমান (রা) কে ঘটনা জানালেন। উসমান (রা) নিজেই সেই ঢালটা কিনে নিলেন। আবার যাবার সময় সেই ঢালটাকেই উপহার হিসেবে দিলেন। তারপর আবার আরো কিছু উপহার দিলেন। এভাবে একে একে আবু বকর (রা) এবং উমার (রা) এর কাছে যাবার পর, তারাও খুব খুশি হয়ে উপহার দিলেন। তারপর উপহার এবং ঢাল বিক্রি করা অর্থ নিয়ে আলী (রা) রাসূল (সা) এর কাছে আসলেন।
রাসূল (সা) বললেন, “এই উপহারের অর্থ দিয়ে ওয়ালিমার আয়োজন করো।”
বুখারী (৫১৫০) ও মুসলিম (১৪২৪)
একদিন আবু বকর (রা) আর উমার (রা) আলী (রা) এর সঙ্গে গল্প করছিলেন। দেখলেন, আলী (রা) কেমন যেন চুপচাপ। আবু বকর (রা) বলে উঠলেন, “আলী, তুমি ফাতিমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছ না কেন?” উমার (রা) মাথা নেড়ে বললেন, “হ্যাঁ, আলী, তুমিই তো সবচেয়ে উপযুক্ত!”
আলী (রা) একটু লজ্জা পেলেন। বললেন, “আমার তো হাতে তো তেমন কিছুই নেই বিয়ে করার মত।” আবু বকর (রা) হেসে বললেন, “তুমি শুধু প্রস্তাব দাও। বাকিটা দেখা যাবে।”
আলী (রা) সাহস করে রাসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে গেলেন। কিন্তু চুপচাপ থাকলেন। রাসূল (সা) বললেন, “আলী, তুমি কি কিছু বলতে চাও?” তখন আলী (রা) খুব রয়ে সয়ে বললেন, “আমি আপনার ফাতিমাকে বিয়ে করতে চাই।” রাসূল (সা) মুচকি হেসে বললেন, “আচ্ছা! মাহর হিসেবে কী দিতে পারবে?”
আলী (রা) বললেন, “আমার তো শুধু সেই ঢালটাই আছে।” রাসূল (সা) বললেন, “ঠিক আছে। ঢালটা বিক্রি করে মাহরের অর্থ জোগাড় করো।” আর বললেন, “যাও, আবু বকর, উমার, উসমানদের খবরটা দাও।”
আলী (রা) গিয়ে উসমান (রা) কে ঘটনা জানালেন। উসমান (রা) নিজেই সেই ঢালটা কিনে নিলেন। আবার যাবার সময় সেই ঢালটাকেই উপহার হিসেবে দিলেন। তারপর আবার আরো কিছু উপহার দিলেন। এভাবে একে একে আবু বকর (রা) এবং উমার (রা) এর কাছে যাবার পর, তারাও খুব খুশি হয়ে উপহার দিলেন। তারপর উপহার এবং ঢাল বিক্রি করা অর্থ নিয়ে আলী (রা) রাসূল (সা) এর কাছে আসলেন।
রাসূল (সা) বললেন, “এই উপহারের অর্থ দিয়ে ওয়ালিমার আয়োজন করো।”
বুখারী (৫১৫০) ও মুসলিম (১৪২৪)
❤5💯1
আমি এমন বহু মানুষকে দেখেছি, যাদের অনেক দোষ-ত্রুটি ও মন্দ স্বভাব ছিলো। কিন্তু তাঁরা অন্যদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার ফলে আল্লাহও তাঁদের দোষ-ত্রুটি গোপন রেখেছেন। অবশেষে এক সময়ে তাঁদের সেসব দোষ-ত্রুটি ও মন্দ স্বভাব বিদূরিত হয়ে যায়। আবার এমন লোকদেরকেও দেখেছি, যাদের তেমন দোষ-ত্রুটি ও মন্দ স্বভাব ছিলো না। কিন্তু তাঁরা অন্যদের দোষচর্চায় লিপ্ত হবার দরুন নিজেরাও সেসবে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
-ইবনু ইয়াযদান মাদাঈনী রাহিমাহুল্লাহ
বই : আত্মশুদ্ধি
লেখক : আবু আব্দুর রহমান আস সুলামী রহ.
পৃষ্ঠা : ২৪
-ইবনু ইয়াযদান মাদাঈনী রাহিমাহুল্লাহ
বই : আত্মশুদ্ধি
লেখক : আবু আব্দুর রহমান আস সুলামী রহ.
পৃষ্ঠা : ২৪
❤3
আতাউল্লাহ শাহ বুখারী রহিমাহুল্লাহ বলেন,
আমি দুনিয়ায় দুটি জিনিস দেখিনি।
১. আল্লাহর রাস্তায় যে দান সদাকা করে তাকে কখনো ভিক্ষা করতে দেখিনি।
২. কোন জা লিম কে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ায় পাকড়াও করেন নি এমন কখনো দেখিনি।
---- মুফতি মুশতাকুন্নবি হাফিযাহুল্লাহ এর বয়ান থেকে সংগৃহীত
আমি দুনিয়ায় দুটি জিনিস দেখিনি।
১. আল্লাহর রাস্তায় যে দান সদাকা করে তাকে কখনো ভিক্ষা করতে দেখিনি।
২. কোন জা লিম কে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ায় পাকড়াও করেন নি এমন কখনো দেখিনি।
---- মুফতি মুশতাকুন্নবি হাফিযাহুল্লাহ এর বয়ান থেকে সংগৃহীত
❤3
ভয় পেয়ো না। ভুলে যেয়ো না—ঘনঘোর গভীর আঁধার রাতও কিন্তু এক রাতের বেশি স্থায়ী হয় না।
বই: আজ ছুটি নিক দুঃখরা!
বই: আজ ছুটি নিক দুঃখরা!
❤3
হাকীমুল উম্মত থানভী রহ. বলেন, 'অন্তরের প্রভাব মানুষের কথা এবং পোশাকের ওপর পড়ে থাকে। এ কারণেই আল্লাহওয়ালাদের তাবাররুক তথা স্পর্শধন্য জিনিসের প্রভাব পড়ে। সোহবতের মাধ্যমে প্রভাব পড়ে আরও বেশি।'
[বই : প্রশান্ত অন্তর লাভের ১০০ উপায়]
[বই : প্রশান্ত অন্তর লাভের ১০০ উপায়]
❤3
মহিলাদের যেমন মেনোপজ-এর পর হঠাৎ করে কমে আসে সব সেক্স-হরমোন। পুরুষের তেমন না, পুরুষের টেস্টোস্টেরোন কমে ধীরে ধীরে।
১৭ বছর বয়েসে সর্বোচ্চ হয়, এরপর ২০-৩০ বছর ধরে সর্বোচ্চের আশেপাশে থাকে। ৩০-এর পর প্রতি বছর ১% হারে এই মাত্রা কমে যায়। ৭০ বছরে গিয়ে সর্বোচ্চের ৩০% এ নেমে আসে।
চিন্তা করেছেন, কী এক জীবন কাটাচ্ছি আমরা? কী এক দুনিয়া বানিয়ে রেখেছি আমরা? যে সময়টা শরীরের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ, সে সময়টাতেই আমরা স্ত্রী ছাড়া থাকি!
বায়োলজি-বিরুদ্ধ এক সিস্টেম বানিয়ে পশ্চিমা সভ্যতা আমাদেরকে ডাকছে তাদের মতো হবার জন্য। ঠিক কখন আমরা হতে পারব তাদের মতো — যখন ইউরোপের মত আমাদেরও ৫০% জনসংখ্যা হবে জারজ, আমাদের ৭০% মেয়েরা ১৮-এর আগেই হারাবে সতীত্ব, সতীত্ব-রক্ষা হবে মান্ধাতার আমলের ধ্যানধারণা। আর T-এর জোয়ারের এই সময়টা অপব্যবহার করে করে বাড়বে যৌনরোগের ওষুধ, সার্জারি, পর্নো-ইন্ডাস্ট্রি, সেক্স-ট্যুরিজম আর ডিপ্রেশনের ঔষুধের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাজার।
হয় আমাদেরকেও ওদের পরিণতি বরণ করতে হবে, কেননা ওদের স্কীম অনুসরণের ফলও ওদের মতোই হবে। কাঁঠাল গাছ লাগাবেন, কাঁঠালই ফলবে। আর নয়তো ইউরোপের আধুনিকতা-স্বাধীনতা-প্রগতি-উন্নতির ধারণাকে ছুঁড়ে ফেলতে হবে। স্পষ্ট বলে দিতে হবে : তোমাদের পথেই আমরা হাঁটতে চাই না। আমরা আমাদের সন্তানদের বিয়ে ৩০-এর পরে না, ২৫-এর আগেই, সম্ভব হলে আরও আগে দিব।
ব্যক্তিজীবনে আপনি ইউরোপীয় প্রতিটি ধারণাকে (প্রযুক্তি না, ধ্যান-ধারণা) ছুঁড়ে ফেলতে পারলে ‘কমপক্ষে’ ‘অ্যাট লীস্ট’ আপনার ব্যক্তিগত জীবনে সুখী হতে পারবেন।
১৭ বছর বয়েসে সর্বোচ্চ হয়, এরপর ২০-৩০ বছর ধরে সর্বোচ্চের আশেপাশে থাকে। ৩০-এর পর প্রতি বছর ১% হারে এই মাত্রা কমে যায়। ৭০ বছরে গিয়ে সর্বোচ্চের ৩০% এ নেমে আসে।
চিন্তা করেছেন, কী এক জীবন কাটাচ্ছি আমরা? কী এক দুনিয়া বানিয়ে রেখেছি আমরা? যে সময়টা শরীরের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ, সে সময়টাতেই আমরা স্ত্রী ছাড়া থাকি!
বায়োলজি-বিরুদ্ধ এক সিস্টেম বানিয়ে পশ্চিমা সভ্যতা আমাদেরকে ডাকছে তাদের মতো হবার জন্য। ঠিক কখন আমরা হতে পারব তাদের মতো — যখন ইউরোপের মত আমাদেরও ৫০% জনসংখ্যা হবে জারজ, আমাদের ৭০% মেয়েরা ১৮-এর আগেই হারাবে সতীত্ব, সতীত্ব-রক্ষা হবে মান্ধাতার আমলের ধ্যানধারণা। আর T-এর জোয়ারের এই সময়টা অপব্যবহার করে করে বাড়বে যৌনরোগের ওষুধ, সার্জারি, পর্নো-ইন্ডাস্ট্রি, সেক্স-ট্যুরিজম আর ডিপ্রেশনের ঔষুধের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাজার।
হয় আমাদেরকেও ওদের পরিণতি বরণ করতে হবে, কেননা ওদের স্কীম অনুসরণের ফলও ওদের মতোই হবে। কাঁঠাল গাছ লাগাবেন, কাঁঠালই ফলবে। আর নয়তো ইউরোপের আধুনিকতা-স্বাধীনতা-প্রগতি-উন্নতির ধারণাকে ছুঁড়ে ফেলতে হবে। স্পষ্ট বলে দিতে হবে : তোমাদের পথেই আমরা হাঁটতে চাই না। আমরা আমাদের সন্তানদের বিয়ে ৩০-এর পরে না, ২৫-এর আগেই, সম্ভব হলে আরও আগে দিব।
ব্যক্তিজীবনে আপনি ইউরোপীয় প্রতিটি ধারণাকে (প্রযুক্তি না, ধ্যান-ধারণা) ছুঁড়ে ফেলতে পারলে ‘কমপক্ষে’ ‘অ্যাট লীস্ট’ আপনার ব্যক্তিগত জীবনে সুখী হতে পারবেন।
© শামসুল আরেফিন শক্তি
❤3
কিভাবে নামাজের মধুরতা আস্বাদন করা যায়? পর্ব ১
১.১
পরম করুনাময় এবং অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা ও শুকরিয়া আল্লাহ তায়ালার জন্যে, এবং অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সকল নবী রাসুল গনের উপর। বেশ কিছুদিন আগে, কুয়েতী দা’য়ী মিশারী আল-খারাজ এর উপস্থাপনায় ”كيف تتلذذ بالصلاة؟” নামে একটি আরবি প্রোগ্রাম প্রচারিত হয়েছিল যার মানে হলো: “কিভাবে নামাজের মধুরতা আস্বাদন করা যায়?” আমা…দের প্রায় সবারই নামাজের ‘খুশু’ কমবেশি হয়ে থাকে। খুশু কী? এটা আসলে অন্তরের বা মনের একটি অবস্থা যা নামাজে প্রশান্তি, গাম্ভীর্য ও বিনম্রতা বজায় রাখে; যা হৃদয় থেকে বর্ষিত হয়ে আমাদের আল্লাহর সামনে বিনম্র ও আম্ত্মসমর্পিত করে।
কোন কোন সময় নামাজে আমাদের আরাধনা এমন হয় যেনো আমরা প্রতিটা শব্দ কে ভেতর থেকে অনুভব করি; আবার অন্য সময় নামাজ শুধু নিয়ম মেনে উঠাবসা ছাড়া আর কিছুই হয় না। ইনশা-আল্লাহ, আমরা আগামী কিছুদিন নামাজের অতিগুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করব।
এক আনসারী ও এক মুহাজির এর কাহিনী:
সুনানে আবু দাউদ থেকে হাসান সনদে বর্ণিত; কোন একটি যুদ্ধের সময় নবী (সা:) দুজন পাহারাদার নিয়োগ করেন, তাদের একজন ছিলেন মুহাজিরীন, আরেকজন ছিলেন। একটা সময় আনসারী সাহাবী নামাজের জন্য উঠে পড়লেন অপরদিকে মুহাজিরীন সাহাবী তখন ক্লান্তিতে তন্দ্রা মতো এসেছিলেন। এই সময় প্রতিপক্ষের এক মুশরিক এই অবস্থা দেখে সুযোগ বুঝে আনসার সাহাবীর দিকে তীর ছুড়ে মারেন। এটা তাঁর গায়ে লাগে, কিন্তু তবুও কষ্ট করে তীর বের করে রক্তাক্ত অবস্থায় নামাজ চালিয়ে গেলেন। এটা দেখে ঐ মুশরিক আবার তীর নিক্ষেপ করলেন। আবারও আনসার সাহাবী তীরটি অপসারণ করে নামাজ চালিয়ে গেলেন। কিন্তু যখন তৃতীয় তীর আঘাত হানল; তিনি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেন না এবং তিনি রুকু এবং সেজদায় চলে গেলেন, এর মাঝে মুহাজিরীন সাহাবীর ঘুম ভেঙ্গে যায়(মুশরিক তা দেখে পালিয়ে যায়), এবং তাঁর সাথীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে চেঁচিয়ে উঠে বললেন “সুবহান-আল্লাহ! যখন প্রথম সে তোমাকে আঘাত করেছিলো আমাকে কেন ডাকলে না?” আনসারী সাহাবীর উত্তর ছিল, “আমি তখন এমন একটি সুরা তিলাওয়াত করছিলাম যা আমি ভালবাসি, আর আমি সেটা থামাতে চাচ্ছিলাম না।” আল্লাহ আকবার, আমাদের পক্ষে কী কল্পনা করা সম্ভব কী পরিমান আবেগ ও নিষ্ঠা ছিলো তাঁর নামাজে?
নামাজের মধুরতা:
নামাজ হল সর্বোত্তম ইবাদত। যখন কেউ নামাজ শেষ করার উদ্দেশ্যে সালাম ফেরায় তখন সে নিশ্চিত ভাবেই এক প্রশান্তি লাভ করে। ইবনে আল যাওজী নামাজের ব্যাপারে বলেন: “আমরা এমন এক উদ্যানে অবস্থান করি যেখানে আমাদের খাদ্য হল খুশু আর পানীয় হল অশ্রু” যে নামাজে পূর্ণভাবে আরাধনা করে তার আত্মা তার কাছে আর থাকেনা; যেমন ইবনে তায়মিয়্যাহ বলেন, তার রুহ আসলে আল্লাহর আরশের তাওয়াফ করতে থাকে।
কেউ একথা বলতে পারেন যে এরাতো আগের জামানার মানুষ, এখন কেউ এরকম অনুভব করেন না। কিন্তু এ কথা মোটেও সত্য নয়; যে কেউ নামাজের এই অমৃতসুধার সন্ধান পেতে পারে, আর এর জন্য দরকার নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং খুশু অর্জনের রহস্য উন্মোচন করা। আর এর মাধ্যমেই নামাজ হতে পারে আমাদের সব কিছুর সমাধান; সব দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি ও হতাশার ঔষুধ, এমন কিছু যার মাঝে আমরা পরম প্রশান্তি লাভ করি; এমন কিছু যা আমরা চাই কখনও শেষ না হোক।
চলুন তাহলে শুরু করি রহস্য উন্মোচন এবং আল্লাহর সাথে কথোপকথন।
১) প্রথমত আমাদের যে কাজটি করতে হবে সেটা হলো খুশু সম্পর্কে আমাদের ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। খুশু মানে শুধু এই না যে আপনি খুবই কষ্ট করে এমন মনোনিবেশ করেছেন যে আপনাকে আর ভিন্নমুখী করা সম্ভবই নয়। একাগ্রত হৃদয় বা মন হল খুশুর প্রথম স্তর। অনেকটা এরকম যে আপনি কেবল একটি বাড়ির দরজা খুলেছেন, এখনো পুরো বাড়িটা দেখা বাকি আছে। খুশুর গভীরতা অসীম। অনেকেরই এটা মনে হয় যে মনকে একাগ্রত করা, নিজের চিন্তা চেতনাকে কেন্দ্রীভূত করা খুবই কঠিন কাজ। এই ধারনাকে নির্মূল করতে নামাজে আসার সময়ই আমাদের নামাজের ব্যাপারে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে আসতে হবে। ধরা যাক আমাদের প্রতি নামাজে ১০ মিনিট সময় লাগে। মানে দিনে ৫০ মিনিট; এক ঘন্টাও না। বাকি তেইশ ঘন্টা আমার দুনিয়ার জন্য। এই পঞ্চাশটা মিনিটও কী আমরা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য দিতে পারিনা? এইটুকু সময়েও কী আমরা দুনিয়ার জিনিস নিয়ে ভাববো?
নামাজ শুরুর আগে এই কথা গুলো মনে মনে ভাববেন, যাতে আমাদের নফস আমাদের এই বলে ধোঁকা দিতে না পারে যে “নামাজে মনোযোগ দেয়া খুবই কঠিন”-কারণ এটা খুবই সম্ভব একটা কাজ; মনে রাখা উচিত আল্লাহর সামনে দাড়ানোর আনন্দ/মিষ্টতা দুনিয়ার যেকোনো প্রলোভনের চেয়ে অনেক অনেক আকাঙ্ক্ষিত, অনেক সুখের শুধু একবার তা অনুভব করলে আর কিছুতেই মন উদাস হবে না।
১.১
পরম করুনাময় এবং অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা ও শুকরিয়া আল্লাহ তায়ালার জন্যে, এবং অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সকল নবী রাসুল গনের উপর। বেশ কিছুদিন আগে, কুয়েতী দা’য়ী মিশারী আল-খারাজ এর উপস্থাপনায় ”كيف تتلذذ بالصلاة؟” নামে একটি আরবি প্রোগ্রাম প্রচারিত হয়েছিল যার মানে হলো: “কিভাবে নামাজের মধুরতা আস্বাদন করা যায়?” আমা…দের প্রায় সবারই নামাজের ‘খুশু’ কমবেশি হয়ে থাকে। খুশু কী? এটা আসলে অন্তরের বা মনের একটি অবস্থা যা নামাজে প্রশান্তি, গাম্ভীর্য ও বিনম্রতা বজায় রাখে; যা হৃদয় থেকে বর্ষিত হয়ে আমাদের আল্লাহর সামনে বিনম্র ও আম্ত্মসমর্পিত করে।
কোন কোন সময় নামাজে আমাদের আরাধনা এমন হয় যেনো আমরা প্রতিটা শব্দ কে ভেতর থেকে অনুভব করি; আবার অন্য সময় নামাজ শুধু নিয়ম মেনে উঠাবসা ছাড়া আর কিছুই হয় না। ইনশা-আল্লাহ, আমরা আগামী কিছুদিন নামাজের অতিগুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করব।
এক আনসারী ও এক মুহাজির এর কাহিনী:
সুনানে আবু দাউদ থেকে হাসান সনদে বর্ণিত; কোন একটি যুদ্ধের সময় নবী (সা:) দুজন পাহারাদার নিয়োগ করেন, তাদের একজন ছিলেন মুহাজিরীন, আরেকজন ছিলেন। একটা সময় আনসারী সাহাবী নামাজের জন্য উঠে পড়লেন অপরদিকে মুহাজিরীন সাহাবী তখন ক্লান্তিতে তন্দ্রা মতো এসেছিলেন। এই সময় প্রতিপক্ষের এক মুশরিক এই অবস্থা দেখে সুযোগ বুঝে আনসার সাহাবীর দিকে তীর ছুড়ে মারেন। এটা তাঁর গায়ে লাগে, কিন্তু তবুও কষ্ট করে তীর বের করে রক্তাক্ত অবস্থায় নামাজ চালিয়ে গেলেন। এটা দেখে ঐ মুশরিক আবার তীর নিক্ষেপ করলেন। আবারও আনসার সাহাবী তীরটি অপসারণ করে নামাজ চালিয়ে গেলেন। কিন্তু যখন তৃতীয় তীর আঘাত হানল; তিনি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেন না এবং তিনি রুকু এবং সেজদায় চলে গেলেন, এর মাঝে মুহাজিরীন সাহাবীর ঘুম ভেঙ্গে যায়(মুশরিক তা দেখে পালিয়ে যায়), এবং তাঁর সাথীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে চেঁচিয়ে উঠে বললেন “সুবহান-আল্লাহ! যখন প্রথম সে তোমাকে আঘাত করেছিলো আমাকে কেন ডাকলে না?” আনসারী সাহাবীর উত্তর ছিল, “আমি তখন এমন একটি সুরা তিলাওয়াত করছিলাম যা আমি ভালবাসি, আর আমি সেটা থামাতে চাচ্ছিলাম না।” আল্লাহ আকবার, আমাদের পক্ষে কী কল্পনা করা সম্ভব কী পরিমান আবেগ ও নিষ্ঠা ছিলো তাঁর নামাজে?
নামাজের মধুরতা:
নামাজ হল সর্বোত্তম ইবাদত। যখন কেউ নামাজ শেষ করার উদ্দেশ্যে সালাম ফেরায় তখন সে নিশ্চিত ভাবেই এক প্রশান্তি লাভ করে। ইবনে আল যাওজী নামাজের ব্যাপারে বলেন: “আমরা এমন এক উদ্যানে অবস্থান করি যেখানে আমাদের খাদ্য হল খুশু আর পানীয় হল অশ্রু” যে নামাজে পূর্ণভাবে আরাধনা করে তার আত্মা তার কাছে আর থাকেনা; যেমন ইবনে তায়মিয়্যাহ বলেন, তার রুহ আসলে আল্লাহর আরশের তাওয়াফ করতে থাকে।
কেউ একথা বলতে পারেন যে এরাতো আগের জামানার মানুষ, এখন কেউ এরকম অনুভব করেন না। কিন্তু এ কথা মোটেও সত্য নয়; যে কেউ নামাজের এই অমৃতসুধার সন্ধান পেতে পারে, আর এর জন্য দরকার নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং খুশু অর্জনের রহস্য উন্মোচন করা। আর এর মাধ্যমেই নামাজ হতে পারে আমাদের সব কিছুর সমাধান; সব দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি ও হতাশার ঔষুধ, এমন কিছু যার মাঝে আমরা পরম প্রশান্তি লাভ করি; এমন কিছু যা আমরা চাই কখনও শেষ না হোক।
চলুন তাহলে শুরু করি রহস্য উন্মোচন এবং আল্লাহর সাথে কথোপকথন।
১) প্রথমত আমাদের যে কাজটি করতে হবে সেটা হলো খুশু সম্পর্কে আমাদের ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। খুশু মানে শুধু এই না যে আপনি খুবই কষ্ট করে এমন মনোনিবেশ করেছেন যে আপনাকে আর ভিন্নমুখী করা সম্ভবই নয়। একাগ্রত হৃদয় বা মন হল খুশুর প্রথম স্তর। অনেকটা এরকম যে আপনি কেবল একটি বাড়ির দরজা খুলেছেন, এখনো পুরো বাড়িটা দেখা বাকি আছে। খুশুর গভীরতা অসীম। অনেকেরই এটা মনে হয় যে মনকে একাগ্রত করা, নিজের চিন্তা চেতনাকে কেন্দ্রীভূত করা খুবই কঠিন কাজ। এই ধারনাকে নির্মূল করতে নামাজে আসার সময়ই আমাদের নামাজের ব্যাপারে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে আসতে হবে। ধরা যাক আমাদের প্রতি নামাজে ১০ মিনিট সময় লাগে। মানে দিনে ৫০ মিনিট; এক ঘন্টাও না। বাকি তেইশ ঘন্টা আমার দুনিয়ার জন্য। এই পঞ্চাশটা মিনিটও কী আমরা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য দিতে পারিনা? এইটুকু সময়েও কী আমরা দুনিয়ার জিনিস নিয়ে ভাববো?
নামাজ শুরুর আগে এই কথা গুলো মনে মনে ভাববেন, যাতে আমাদের নফস আমাদের এই বলে ধোঁকা দিতে না পারে যে “নামাজে মনোযোগ দেয়া খুবই কঠিন”-কারণ এটা খুবই সম্ভব একটা কাজ; মনে রাখা উচিত আল্লাহর সামনে দাড়ানোর আনন্দ/মিষ্টতা দুনিয়ার যেকোনো প্রলোভনের চেয়ে অনেক অনেক আকাঙ্ক্ষিত, অনেক সুখের শুধু একবার তা অনুভব করলে আর কিছুতেই মন উদাস হবে না।
❤5
২.২
এর পরের নামাজে এই পন্থা প্রয়োগ করে দেখুন। নিজের মন থেকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করুন যে আল্লাহতায়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দিতে চান, মার্জনা করে দিতে চান এবং আপনার প্রতি করুনা বর্ষণ করতে চান। বিশ্বাস করুন এবং মনপ্রাণ দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করুন যেনো তিনি আপনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন, এবং শুধু তাইই না, আপনি যেনো জান্নাতে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিবেশী হোন| এগুলো আকাশচুম্বী কল্পনাপ্রসূত কোন গল্প নয়।
বরং আল্লাহ
তায়ালা বলেন: “তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব।” [সুরা গাফির ৪০:৬০]
নবী(সা:) বলেন: “আল্লাহর কাছ থেকে নিশ্চয়তার সাথে প্রার্থনা করো যে তিনি তোমার ডাক শুনবেন।” [সুনান আল-তিরমিজীঃ ৩৪৭৯] যদি আপনি তা করেন; আল্লাহ তায়ালা আপনাকে তার থেকেও অনেক বেশী দান করবেন| কিন্তু মনে রাখবেন এসব চাইতে হবে ‘রযা’ অবস্থায় “আমানি” অবস্থায় না| পার্থক্য কোথায়?
‘রযা’ হল এতক্ষণ ধরে যা বলা হল তা সব, কিন্তু এসব করতে হবে একাগ্র চিত্তে ও পরিশ্রমের মাধ্যমে; একবারে না হলে পুনরায় চেষ্টা করতে হবে, চাইতে হবে আল্লাহর কাছে তিনি যেনো আপনার জন্য ‘রযা’ পাওয়াকে সহজ করে দেন, যদি তা না করি তাহলে সেটা হল ‘আমানি’..সঠিক একাগ্রতা আর অধ্যাবসায় ছাড়া এমনি এমনি আল্লাহর করুনা প্রার্থনা করা- তিনি(আল্লাহ) তা করা পছন্দ করেন না| আল্লাহতায়ালা বলেন: “আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল।” [সুরা তাহা ২০:৮২]
আর এমন করলেই তিনি আপনাকে আপনার প্রতাশার চাইতেও বেশী কিছু দান করবেন।
আল্লাহর করুনা
আল্লাহ তাঁর করুণাকে ১০০ ভাগে ভাগ করেছেন, এবং তার মাত্র একটি ভাগ তিনি সমগ্র পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, বাকি ৯৯ ভাগ তিনি নিজের জন্যের রেখে দিয়েছেন। [সহীহ মুসলিমঃ ৬৯০৮] এই এক ভাগই এত শক্তিশালী যে তা সৃষ্টির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মায়েদের, বাবাদের, সন্তানদের, স্বামীদের, স্ত্রীদের এমনকি সকল পশু প্রানীদের মাঝে এমন ভাবে বিদ্যমান- যে সন্তান যতই যা করুক মা তাঁর সন্তানের একটু কষ্ট দেখলে কী যন্ত্রনাই না পায়; কোন বাবা তার সন্তানের জন্য কত কী না করেন; জন্ম দেয়ার পর মা কিভাবে আগলে রাখে তার সন্তান দের….আরো কত…আরেকটি উদাহরন দেই-নিজের জন্মের আগের অবস্থা কল্পনা করুন – কিছুই ছিলেন না আপনি, নয় মাস মায়ের পেটে থেকে মাকে ব্যথা দিয়েছেন, এত কষ্ট দিয়েও ক্ষান্ত হননি, পৃথিবীতে আসার মুহূর্তেও মাকে দিয়েছেন কী অসম্ভব কষ্ট, কী পরিমান কষ্ট সহ্য আপনার মা আপনাকে জন্ম দিলেন অথচ জন্মের পরপরই আপনিই হয়ে গেলেন তার নয়নমনি, আদরের ধন।…একবার কী চিন্তা করেছেন আপনি কী এমন করেছিলেন যে আপনি আপনার মার এত ভালোবাসা, দয়া, করুনার পাত্র হয়ে গেলেন? এসবি যদি সেই একটি ভাগেরই অংশ হয়ে থাকে তবে বাকি ৯৯ ভাগের কথা কী কল্পনা করা সম্ভব? কখনই না ..তার করুনা অসীম; শেষ বিচারের দিন তিনি যখন এই সমগ্র করুনা নিয়ে আমাদের বিচার করবেন তখন কী অবস্থা হতে পারে? এটা কী আমাদের আবৃত না করে পারবে? আমাদের চেয়ে অনেক পাপী মানুষ যাদের আল্লাহ তাঁর স্বীয় করুনায় ক্ষমা করে দিয়েছেন, যেমন সেই মানুষটি যে ৯৯জনকে হত্যা করেছিলো তারপর আরও একজন কে হত্যা করে ১০০ পুরো করছিলো। কিন্তু তওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসার একাগ্র ইচ্ছার কারনে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। [সহীহ বুখারীঃ খন্ড ৪, অধ্যায় ৫৬, হাদীস নং ৬৭৬] তাহলে কিভাবে তিনি আমাদের ক্ষমা ও করুনা না করে থাকতে পারেন?
তাহলে আপনি আমি কী তাঁর অসীম করুনার ভাগিদার হতে পারিনা? অবশ্যই পারি। চলুন তাহলে আজ থেকেই এভাবে নামাজ পড়ি ও প্রার্থনা করি
আগের পর্ব উপরে আছে।
এর পরের নামাজে এই পন্থা প্রয়োগ করে দেখুন। নিজের মন থেকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করুন যে আল্লাহতায়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দিতে চান, মার্জনা করে দিতে চান এবং আপনার প্রতি করুনা বর্ষণ করতে চান। বিশ্বাস করুন এবং মনপ্রাণ দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করুন যেনো তিনি আপনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন, এবং শুধু তাইই না, আপনি যেনো জান্নাতে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিবেশী হোন| এগুলো আকাশচুম্বী কল্পনাপ্রসূত কোন গল্প নয়।
বরং আল্লাহ
তায়ালা বলেন: “তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব।” [সুরা গাফির ৪০:৬০]
নবী(সা:) বলেন: “আল্লাহর কাছ থেকে নিশ্চয়তার সাথে প্রার্থনা করো যে তিনি তোমার ডাক শুনবেন।” [সুনান আল-তিরমিজীঃ ৩৪৭৯] যদি আপনি তা করেন; আল্লাহ তায়ালা আপনাকে তার থেকেও অনেক বেশী দান করবেন| কিন্তু মনে রাখবেন এসব চাইতে হবে ‘রযা’ অবস্থায় “আমানি” অবস্থায় না| পার্থক্য কোথায়?
‘রযা’ হল এতক্ষণ ধরে যা বলা হল তা সব, কিন্তু এসব করতে হবে একাগ্র চিত্তে ও পরিশ্রমের মাধ্যমে; একবারে না হলে পুনরায় চেষ্টা করতে হবে, চাইতে হবে আল্লাহর কাছে তিনি যেনো আপনার জন্য ‘রযা’ পাওয়াকে সহজ করে দেন, যদি তা না করি তাহলে সেটা হল ‘আমানি’..সঠিক একাগ্রতা আর অধ্যাবসায় ছাড়া এমনি এমনি আল্লাহর করুনা প্রার্থনা করা- তিনি(আল্লাহ) তা করা পছন্দ করেন না| আল্লাহতায়ালা বলেন: “আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল।” [সুরা তাহা ২০:৮২]
আর এমন করলেই তিনি আপনাকে আপনার প্রতাশার চাইতেও বেশী কিছু দান করবেন।
আল্লাহর করুনা
আল্লাহ তাঁর করুণাকে ১০০ ভাগে ভাগ করেছেন, এবং তার মাত্র একটি ভাগ তিনি সমগ্র পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, বাকি ৯৯ ভাগ তিনি নিজের জন্যের রেখে দিয়েছেন। [সহীহ মুসলিমঃ ৬৯০৮] এই এক ভাগই এত শক্তিশালী যে তা সৃষ্টির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মায়েদের, বাবাদের, সন্তানদের, স্বামীদের, স্ত্রীদের এমনকি সকল পশু প্রানীদের মাঝে এমন ভাবে বিদ্যমান- যে সন্তান যতই যা করুক মা তাঁর সন্তানের একটু কষ্ট দেখলে কী যন্ত্রনাই না পায়; কোন বাবা তার সন্তানের জন্য কত কী না করেন; জন্ম দেয়ার পর মা কিভাবে আগলে রাখে তার সন্তান দের….আরো কত…আরেকটি উদাহরন দেই-নিজের জন্মের আগের অবস্থা কল্পনা করুন – কিছুই ছিলেন না আপনি, নয় মাস মায়ের পেটে থেকে মাকে ব্যথা দিয়েছেন, এত কষ্ট দিয়েও ক্ষান্ত হননি, পৃথিবীতে আসার মুহূর্তেও মাকে দিয়েছেন কী অসম্ভব কষ্ট, কী পরিমান কষ্ট সহ্য আপনার মা আপনাকে জন্ম দিলেন অথচ জন্মের পরপরই আপনিই হয়ে গেলেন তার নয়নমনি, আদরের ধন।…একবার কী চিন্তা করেছেন আপনি কী এমন করেছিলেন যে আপনি আপনার মার এত ভালোবাসা, দয়া, করুনার পাত্র হয়ে গেলেন? এসবি যদি সেই একটি ভাগেরই অংশ হয়ে থাকে তবে বাকি ৯৯ ভাগের কথা কী কল্পনা করা সম্ভব? কখনই না ..তার করুনা অসীম; শেষ বিচারের দিন তিনি যখন এই সমগ্র করুনা নিয়ে আমাদের বিচার করবেন তখন কী অবস্থা হতে পারে? এটা কী আমাদের আবৃত না করে পারবে? আমাদের চেয়ে অনেক পাপী মানুষ যাদের আল্লাহ তাঁর স্বীয় করুনায় ক্ষমা করে দিয়েছেন, যেমন সেই মানুষটি যে ৯৯জনকে হত্যা করেছিলো তারপর আরও একজন কে হত্যা করে ১০০ পুরো করছিলো। কিন্তু তওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসার একাগ্র ইচ্ছার কারনে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। [সহীহ বুখারীঃ খন্ড ৪, অধ্যায় ৫৬, হাদীস নং ৬৭৬] তাহলে কিভাবে তিনি আমাদের ক্ষমা ও করুনা না করে থাকতে পারেন?
তাহলে আপনি আমি কী তাঁর অসীম করুনার ভাগিদার হতে পারিনা? অবশ্যই পারি। চলুন তাহলে আজ থেকেই এভাবে নামাজ পড়ি ও প্রার্থনা করি
আগের পর্ব উপরে আছে।
❤1