প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সব পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে চীন। তারা জানিয়েছে, বাণিজ্য যুদ্ধ, শুল্ক যুদ্ধ বা অন্য যে কোনো যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির প্রতিক্রিয়ায় চীনও মার্কিন কৃষিপণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বার্তায় জানিয়েছে, তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।
বুধবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং ঘোষণা দেন, প্রতিরক্ষা ব্যয় ৭.২% বাড়ানো হবে। বেইজিংয়ের বার্তা স্পষ্ট অর্থনৈতিক সংকট ও শুল্ক যুদ্ধের মাঝেও চীনের অগ্রগতি থামবে না।
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
🔥17😁2
Islam Insight
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
❤13🔥7👍5
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর শুরু হওয়া দাঙ্গায় ৫৩ জন নিহত হন যার মধ্যে ৪০ জনই ছিলেন মুসলিম। আহতের সংখ্যা ৫০০-এরও বেশি যাদের বেশিরভাগই মুসলিম। তখন দাঙ্গার ছুতোয় আরএসএস ও বিজেপির কর্মীরা জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ ও মুস্তাফাবাদে মুসলিমদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে। কিন্তু তারপর বিচারের নামে যা চলেছে তা আরও ভয়াবহ।
পুলিশ ৭৫৮টি মামলা রুজু করে এবং ২০০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেফতার করে কিন্তু বিজেপি সরকার কর্তৃক পালিত সেই পুলিশদের লক্ষ্য ছিল উল্টো মুসলিম সমাজের কর্মী ও আন্দোলনকারীরা। দিল্লি সংখ্যালঘু কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পুলিশ মুসলিমদের এফআইআর গ্রহণ করেনি বরং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো দিল্লির দাঙ্গার আসল ষড়যন্ত্রকারী কপিল মিশ্র এখন দিল্লির আইন ও বিচারমন্ত্রী! উমর খালিদ, খালিদ সাইফি, গুলফিশান ফাতিমার মতো প্রতিবাদীরা আজও কারাগারে বন্দি, তাদের জামিন পর্যন্ত মঞ্জুর হয়নি।
দিল্লি দাঙ্গা শুধু একটি দাঙ্গা নয়, এটি হিন্দুত্ববাদী শাসনের মুসলিমবিদ্বেষী নীতির প্রতিচ্ছবি। ভারতের মুসলিমরা বসে নেই আজও তারা সাহসের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে এই অন্যায় কি কখনো থামবে? নাকি হিন্দুত্ববাদী শাসনের অধীনে মুসলিমদের ভাগ্য চিরকাল বিচারহীনতায় আটকে থাকবে?
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
🤬16😢4👍1
আগামী ২৭ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের পাঠানো বিশেষ ফ্লাইটে দেশটির উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সফরকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে ২৮ মার্চ ড. ইউনূসের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের হাইনান প্রদেশে আগামী ২৫ থেকে ২৮ মার্চ বাউ (বিওএও) ফোরাম ফর এশিয়ার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনটিতে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানায় চীন।
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
🔥22❤3
জাতিসংঘ ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা এপ্রিল থেকে $১২.৫০ থেকে কমিয়ে মাত্র $৬ করা হবে। অর্থ সংকটের কারণে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থীর জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে।
শরণার্থী কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান রেশনই অপর্যাপ্ত, আরও কাটছাঁট হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
😢26💔2
আজকের_তারাবীহ
রামাদান_০৬
সূরা আ'রাফ, আয়াত ১ থেকে ২০৬
✅ বিশুদ্ধ তাওহীদের প্রতি ঈমান আনতে বলা হয়। পূর্বের জাতিসমূহ সীমালঙ্ঘন করার পর তাদের কাছে অকস্মাৎ আযাব এসেছে, রাতে বা দুপুরে বিশ্রামের সময়। তখন তারা আর ঈমান আনার সুযোগ পায়নি। কিয়ামতের দিন উম্মাত এবং রাসূলগণ উভয়পক্ষই নিজ নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। আমলনামা ওজন করা হবে। অস্বীকারকারীদের মীযানের পাল্লা হালকা হবে।
ইবলীস অহংকারের কারণে আদাম (আঃ)-কে সেজদা করার হুকুম অমান্য করে। ফলে সে অভিশপ্ত হয়। সে আল্লাহর কাছে কিয়ামাত পর্যন্ত হায়াত চায়, যেন মানুষদের চারদিক থেকে পথভ্রষ্ট করতে পারে। আল্লাহ তার এই দুআ কবুল করে তার অনুসারীদেরসহ তাকে দিয়ে জাহান্নাম পরিপূর্ণ করার ওয়াদা করেন। আদাম-হাওয়া (আঃ)-কে জান্নাতে রেখে তাঁদের একটি গাছের নিকটবর্তী হতে মানা করা হয়। শয়তান একদিন তাঁদের প্ররোচিত করে। কসম করে নিজেকে কল্যাণকামী দাবি করে। ওই গাছটির স্বাদ নিলে তাঁরা অমর বা ফেরেশতা হয়ে যাবেন বলেই আল্লাহ এটি খেতে নিষেধ করেছেন বলে দাবি করে। তার কথামতো কাজ করার পর তাঁদের লজ্জাস্থান উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁরা ইবলীসের মতো অহংকার না করে মাফ চান। আল্লাহ তাঁদের মাফ করে সকলকে জমিনে পাঠিয়ে দেন সাময়িক জিন্দেগির পরীক্ষাস্বরূপ।
✅ আল্লাহ আমাদের সাবধান করে দেন যে, শয়তান যেভাবে আমাদের পূর্বপুরুষদের উলঙ্গ করেছে, আমাদের যেন সেভাবে প্ররোচিত করে অশ্লীলতার দিকে নিতে না পারে। মূলত মুশরিকরা যে উলঙ্গ হয়ে কাবা তাওয়াফ করতো, তার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। লজ্জা নিবারণ ও সৌন্দর্যের জন্য আল্লাহর দেওয়া পোশাক পরতে বলা হয়। আর তাকওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম। সালাতে যাওয়ার সময় সাজসজ্জা গ্রহণ করতে বলা হয়। খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতে বলা হয়, অপচয় করতে নিষেধ করা হয়। দুনিয়াতে মুমিনরা আল্লাহর দেওয়া হালাল দ্রব্যাদি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করবে। আর আখিরাতের নিয়ামতও বিশেষভাবে মুমিনদেরই জন্য। মুশরিকরা যেসব মনগড়া হারামের বিধান নিজেদের উপর চাপিয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। আসল হারাম হলো শির্ক, অন্যের প্রতি সীমালঙ্ঘন, প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা।
কিয়ামাতের দিন সব যুগের কাফিররা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তারা একে অপরকে দোষারোপ করবে এবং একজন আরেকজনের জন্য দ্বিগুণ আযাবের দুআ করবে। মিথ্যা উপাস্য ও নেতৃবর্গ সেদিন তাদের সাহায্য করবে না। মুমিনরা জান্নাতে মিলেমিশে থাকবে। তাদের মনের দুঃখ-কষ্ট, শত্রুতা ভুলিয়ে দেওয়া হবে। আর যেসব ঈমানদারের গুনাহ ও নেকি সমান, তারা আরাফে ঘোরাফেরা করবে। একবার জান্নাতিদের দেখে সালাম দিবে, একবার জাহান্নামিদের তিরস্কার করবে (আরাফবাসীরাও পরে জান্নাতে যাবে)। জাহান্নামীরা জান্নাতিদের অনুরোধ করবে এক ফোঁটা পানি হলেও তাদের উপর ফেলতে। ঘোষণা করা হবে যে এই দিনে এসব নিয়ামত কাফিরদের উপর হারাম।
✅ আল্লাহর বিভিন্ন সৃষ্ট নিদর্শনের কথা বর্ণনা করে দেখানো হয় কীভাবে দুনিয়াতেই মৃত থেকে জীবিত ও জীবিত থেকে মৃতকে বের করা হচ্ছে। অতএব আখিরাতের অস্তিত্ব অসম্ভব কিছু নয়। নূহ, হুদ, সালিহ, লূত ও শুআইব(আলাইহিমুসসালাম) নবীগণের কাহিনী সংক্ষেপে পরপর বলা হয়। সকল ক্ষেত্রেই লক্ষণীয় বিষয় হলো- তাঁদের সম্প্রদায়গুলোর কমন সমস্যা ছিলো শির্ক। শির্কের পাশাপাশি একেক কওমের একেক সমস্যা ছিলো। অহংকার, অত্যাচার, সমকামিতা ও ওজনে কমবেশি করার মতো গুনাহে তারা লিপ্ত ছিলো। নবীগণ তাওহীদের দাওয়াত দিলে সকল ক্ষেত্রেই দুর্বল লোকেরা কথা শুনতো। আর সমাজের রুইকাতলারা বিরোধিতা করতো। তারা মুজিযা দেখানোর আবদার করতো। অথচ মুজিযা দেখেও ঈমান আনতো না।
সকল জাতিকেই সংকট ও প্রাচুর্য দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। সীমালঙ্ঘন করার ফলে অবশেষে আচমকা এমন সময়ে আযাব এসেছে যে একেবারে অপ্রস্তুত অবস্থায় পুরো জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। কেবল সংশ্লিষ্ট নবী ও তাঁর মুষ্টিমেয় অনুসারীরা রক্ষা পেয়েছে। মূসা (আঃ) এর কাহিনী বিস্তারিত বলা হয়েছে। ফিরআউনকে মুজিযা দেখানোর পরও ঈমান আনতে ও জুলুম থেকে নিবৃত হতে অস্বীকার করে। রাজ্যের জাদুকরদের সাথে মূসার (আঃ) প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। জাদুকররা মোকাবেলার সময় তাদের জাদু (দৃষ্টিবিভ্রম) ও মূসার মুজিযার (বাস্তবিক অতিপ্রাকৃত ঘটনা) পার্থক্য বুঝতে পেরে ঈমান আনে। ফিআউন ক্রোধে দিশা হারিয়ে ফেলে একে ষড়যন্ত্র আখ্যায়িত করে এবং বনী ইসরাইলকে অত্যাচার করতে থাকে। ফিরআউনের কওমের উপর ভয়ংকর কিছু আযাব পরপর আসে। বন্যা, পঙ্গপাল, ঘুনপোকা, ব্যাঙ ও রক্ত।
✅ প্রতিবারাই তারা মূসার কাছে এসে আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে অনুরোধ করে ঈমান আনার অঙ্গিকার করে। আযাব সরে যাওয়ার পর আবার ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে। অবশেষে বনী ইসরাইলকে ধাওয়া করার সময় ফিরআউন ও তার লস্কর লোহিত সাগরে ডুবে মরে।
❤13👍1
Islam Insight
আজকের_তারাবীহ রামাদান_০৬ সূরা আ'রাফ, আয়াত ১ থেকে ২০৬ ✅ বিশুদ্ধ তাওহীদের প্রতি ঈমান আনতে বলা হয়। পূর্বের জাতিসমূহ সীমালঙ্ঘন করার পর তাদের কাছে অকস্মাৎ আযাব এসেছে, রাতে বা দুপুরে বিশ্রামের সময়। তখন তারা আর ঈমান আনার সুযোগ পায়নি। কিয়ামতের দিন উম্মাত এবং রাসূলগণ…
✅ শাম-ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের সীমায় নিরাপদে প্রবেশ করার পর বনী ইসরাইল ও মূসা-হারুন (আঃ) এর বিচিত্র কাহিনী শুরু হয়। এতদিন আল্লাহর এত নিয়ামাত দেখেও দাসত্বমনা বনী ইসরাইল জাতি অন্য এক জাতিকে মূর্তিপূজা করতে দেখে মূসাকে অনুরোধ করে ওদের জন্যও একটা পূজার মূর্তি বানিয়ে দিতে। মূসা (আঃ) এর নসিহতে তারা নিবৃত হয়।
✅ মূসা (আঃ)-কে তাওরাত দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাঁকে তূর পাহাড়ে ডেকে নেন। তিনি আল্লাহকে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তূর পাহাড়ে আল্লাহ তাজাল্লী নিক্ষেপ করলে মূসা (আঃ) অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি আল্লাহর ক্ষমতা ও নিজের আবদারের পার্থক্য উপলব্ধি করেন। ফলকে লেখা তাওরাত নিয়ে তিনি ফেরত আসেন।
✅ এদিকে মূসার (আঃ) অনুপস্থিতিতে হারুন (আঃ) বনী ইসরাইলের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তারা তাঁকে অমান্য করে এক জাদুকরের বানানো স্বর্ণের বাছুরের উপাসনা শুরু করে। মূসা (আঃ) ফিরে এসে আবারও নসিহত করে তাদের নিবৃত করেন। এভাবেই উম্মাতকে সরলপথে ধরে রাখতে নবীগণ অনেক কষ্ট করেছেন। আবার বারবার ভুল করার পরও উম্মাতদের আল্লাহ বারবার মাফ করে বারবার সুযোগ দিয়েছেন। তাওরাত-ইঞ্জিলের এসব কাহিনী একজন নিরক্ষর ব্যক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করছেন, এটাও মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নবুওয়তের একটি প্রমাণ।
✅ এছাড়াও আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের আলেমরা ঘুষের বিনিময়ে মানুষের সুবিধামতো কিতাব বিকৃত করতো। রুহের জগতে থাকা অবস্থায় আল্লাহ আমাদের থেকে সাক্ষ্য নিয়েছেন যে তিনিই আমাদের রব্ব। অতএব, বাপদাদাকে শির্ক করতে দেখাটা শির্ক করার জন্য কোনো অজুহাত নয়। মুশরিকরা আল্লাহর উপর এমন বৈশিষ্ট্য আরোপ করতো, যা তাঁর বৈশিষ্ট্য নয়। আবার এমন বৈশিষ্ট্য অস্বীকার করতো যা আসলে আল্লাহর বৈশিষ্ট্য। তাই আল্লাহকে তাঁর সুন্দরতম গুণবাচক নামসমূহ ধরে ডাকতে আদেশ করা হয়। মূর্তিপূজার অসারতা বর্ণনা করে আল্লাহর ইবাদাত ও যিকিরের কিছু সুন্দর পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়।
✅ মূসা (আঃ)-কে তাওরাত দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাঁকে তূর পাহাড়ে ডেকে নেন। তিনি আল্লাহকে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তূর পাহাড়ে আল্লাহ তাজাল্লী নিক্ষেপ করলে মূসা (আঃ) অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি আল্লাহর ক্ষমতা ও নিজের আবদারের পার্থক্য উপলব্ধি করেন। ফলকে লেখা তাওরাত নিয়ে তিনি ফেরত আসেন।
✅ এদিকে মূসার (আঃ) অনুপস্থিতিতে হারুন (আঃ) বনী ইসরাইলের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তারা তাঁকে অমান্য করে এক জাদুকরের বানানো স্বর্ণের বাছুরের উপাসনা শুরু করে। মূসা (আঃ) ফিরে এসে আবারও নসিহত করে তাদের নিবৃত করেন। এভাবেই উম্মাতকে সরলপথে ধরে রাখতে নবীগণ অনেক কষ্ট করেছেন। আবার বারবার ভুল করার পরও উম্মাতদের আল্লাহ বারবার মাফ করে বারবার সুযোগ দিয়েছেন। তাওরাত-ইঞ্জিলের এসব কাহিনী একজন নিরক্ষর ব্যক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করছেন, এটাও মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নবুওয়তের একটি প্রমাণ।
এত নিয়ামাতের পরও বনী ইসরাইল পরবর্তীতে কিতাব বিকৃত করে। সপ্তাহে একদিন শনিবারে কাজকর্ম করা নিষিদ্ধ থাকার মতো সহজ বিধান অমান্য করে সেদিন তারা মাছ ধরতো। কিছু লোক নিজেরা না ধরলেও, যারা ধরতো তাদের হিদায়াতের ব্যাপারে হতাশ হয়ে তাদেরকে মানা করা ছেড়ে দিয়েছিলো। কিছু লোক নিজেরাও এ কাজ থেকে বিরত থাকতো, অন্যদেরও তা হতে নিষেধ করতো। প্রথমোক্ত দলটিকে আল্লাহ আযাব দিয়ে বানরে পরিণত করেন।
✅ এছাড়াও আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের আলেমরা ঘুষের বিনিময়ে মানুষের সুবিধামতো কিতাব বিকৃত করতো। রুহের জগতে থাকা অবস্থায় আল্লাহ আমাদের থেকে সাক্ষ্য নিয়েছেন যে তিনিই আমাদের রব্ব। অতএব, বাপদাদাকে শির্ক করতে দেখাটা শির্ক করার জন্য কোনো অজুহাত নয়। মুশরিকরা আল্লাহর উপর এমন বৈশিষ্ট্য আরোপ করতো, যা তাঁর বৈশিষ্ট্য নয়। আবার এমন বৈশিষ্ট্য অস্বীকার করতো যা আসলে আল্লাহর বৈশিষ্ট্য। তাই আল্লাহকে তাঁর সুন্দরতম গুণবাচক নামসমূহ ধরে ডাকতে আদেশ করা হয়। মূর্তিপূজার অসারতা বর্ণনা করে আল্লাহর ইবাদাত ও যিকিরের কিছু সুন্দর পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়।
❤15
Islam Insight
✅ শাম-ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের সীমায় নিরাপদে প্রবেশ করার পর বনী ইসরাইল ও মূসা-হারুন (আঃ) এর বিচিত্র কাহিনী শুরু হয়। এতদিন আল্লাহর এত নিয়ামাত দেখেও দাসত্বমনা বনী ইসরাইল জাতি অন্য এক জাতিকে মূর্তিপূজা করতে দেখে মূসাকে অনুরোধ করে ওদের জন্যও একটা পূজার মূর্তি বানিয়ে…
✅ সূরা আনফাল নাযিল হয় মূলত বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। যুদ্ধ জয়ের পর মুসলিমদের একাংশ রাসূল (সাঃ) এর রক্ষণাবেক্ষণে দাঁড়িয়ে যায়, একাংশ শত্রুদের ধাওয়া করে, একদল গনীমত সংগ্রহ করে। তিন দলেরই ধারণা ছিলো তারা নিজেরাই গনীমতের বেশি হকদার। কারণ বদর ছিলো প্রথম যুদ্ধ এবং গনীমতের বিধান তখনও নাযিল হয়নি। এ নিয়ে তাঁদের মাঝে মনোমালিন্য বেঁধে যায়।
আল্লাহ ওয়াহী নাযিল করে জানিয়ে দেন যে গনীমত কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। এভাবে তাঁদের মনে চলে আসা সম্পদের টান দূর করে মন নরম করে ফেলা হয়। উল্লেখ্য আনফাল অর্থ বোনাস। গনীমতের জন্য আনফাল কথাটা ব্যবহার করে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এটি না পেলে আফসোসের কিছু নেই, আর পেলে তো উপরি পাওনা। দিল নরম করার পর দীর্ঘ নসিহত করা হয়। যুদ্ধজয়কে মুসলিমরা যেন নিজেদের কৃতিত্ব না ভাবে। কাফিরদেরকে মুসলিমরা নিজ শক্তিতে মারেনি, বরং আল্লাহই মেরেছেন। যুদ্ধের আগের রাতে প্রশান্তির ঘুম ও বৃষ্টি দিয়ে আল্লাহ সাহায্য করেছেন। ময়দানে ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করেছেন।
✅ কাফিররা মক্কায় দুর্বল মুসলিমদের উপর কী নির্যাতন করেছে, যুদ্ধে তারা কীভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে, এখনও এসব কাজ না ছাড়লে পরিণাম কী হবে, এই নিয়ে কাফিরদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখা হয়েছে।
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
❤15👍1
Media is too big
VIEW IN TELEGRAM
তোমরা কী করবে তোমাদের সম্মান রক্ষার জন্য, বিভর জালিমদের হাত যদি তোমাদের নিজ ঘরে পৌঁছায়?
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
😢50💔8👍3
✅ আজ রমাদানের ১ম জুম'আ। সকলেই সূরা কাহফ তিলাওয়াত ও বেশী বেশী দরুদ শরীফ পাঠ করি।
✅ অনেকদিন কথা বলা হয় না, পরিবারের এমন কারো সাথে কিছুক্ষণ ফোনে কথা বলুন। পাশাপাশি নিকটাত্মীয়দের নিয়মিত খোজ-খবর নিন।
✅ কোনো প্রতিবেশী মুসলিম ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ থাকলে তা আজই মিটিয়ে ফেলুন।
আপনার রমাদান প্রোডাক্টিভ হচ্ছে তো ? না হলে নিচের লেখাগুলো পড়ে রমাদানকে সঠিকভাবে কাজ লাগান।
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
❤16👍1
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ১৪ মার্চ থেকে অনলাইনে বিক্রি শুরু হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, এবারও সব টিকিট শুধু অনলাইনে বিক্রি হবে, কাউন্টারে কোনো অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাবে না।
প্রতিদিন ঢাকা থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ৩১৫টি টিকিট বিক্রি করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ মার্চ মিলবে ২৪ মার্চের টিকিট, ১৫ মার্চ ২৫ মার্চের, এভাবে ২০ মার্চ পর্যন্ত ৩০ মার্চের টিকিট পাওয়া যাবে। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ৩১ মার্চ, ১ ও ২ এপ্রিলের টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঈদযাত্রার সুবিধার্থে পূর্বাঞ্চলে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাত্রীদের চাপ সামলাতে ৩৬টি অতিরিক্ত কোচ সংযুক্ত করা হবে।
রেলওয়ে মহাপরিচালক জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ৯ মার্চ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
👏8❤2
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
পবিত্র আল-আকসা প্রাঙ্গণে তারাবির সালাতে মনোমুগ্ধকর তিলাওয়াত
❤42😢1
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
❤33👍3
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
🔘 ইসলাম ইনসাইট ।। আন্তর্জাতিক (ভারত)
🔴 রাজস্থানের গঙ্গাপুর সিটিতে চলন্ত ট্রেনে এক বয়োবৃদ্ধ আলিমকে ট্রেনে মারাত্মকভাবে পিটিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা তাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত করে এই হামলা চালায়।
🔴 বাংলাদেশের তথাকথিত সুশীল বুদ্ধিজীবীরা এমনই চিত্র এদেশে দেখতে চায় যেখানে সাধারণ মুসলিমদের উপর বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে নির্যাতন চালানো হবে ? আপনারাও কি তাই চান ? 🔴
প্রত্যক্ষদর্শী মুসলিমদের দাবি, তিনি ট্রেনের সিটে বসে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন। ট্রেনে ওঠার সময় কিছু আরএসএস সন্ত্রাসীরা তার সামনে মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্য করতে থাকে যেন তিনি তা শুনতে পান। এরপর এক উগ্র নারী তাকে ‘পাকিস্তানি’ বলে কটূক্তি করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে রেলের টিটিই তাকে দরজার কাছে ডাকেন। ঠিক তখনই ওই দুই পুরুষ ও নারী মিলে তাকে নির্মমভাবে মারধর শুরু করে। নির্যাতনের শিকার সম্মানিত আলিম গঙ্গাপুর সিটির একটি মাদ্রাসার পরিচালক এবং অনুদান সংগ্রহের জন্য তিনি আঙ্কালাশওয়ারে গিয়েছিলেন।
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
🤬42😢3👍1
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
❤17🔥9
Islam Insight
রোহিঙ্গা কিশোর কামাল গণহত্যা থেকে নিজের জীবন বাঁচাতে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। বয়স মাত্র দশ বছর, কিন্তু তার চোখে জ্বলছে এমন এক আগুন, যা তার পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটির স্মৃতিতে প্রজ্জ্বলিত।
কামালের শহীদ বাবা আরাকানের মংডুতে কৃষিকাজ করতেন। গরু-ছাগল, ধানক্ষেত, মসজিদে আযান, সালাত আদায় এই ছিলো তার জীবন। কিন্তু একদিন সন্ত্রাসী জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মি (AA) তাদের গ্রামে আগুন দিয়ে সুন্দর সাজানো জীবনকে ধ্বংস করে দিলো। সেদিনের বিভীষিকা এখনো কামালের মনে দগদগে ঘায়ের মতো, তার চোখের সামনে সেনারা তার বাবাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মেরেছিল। তার মা'কে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তারপর সে আর কখনো মায়ের কথা শোনেনি। গ্রামে সেদিন আগুন জ্বলেছিল সারারাত, ধোঁয়ার মধ্যে সে শুধু "আল্লাহ! আল্লাহ!" ধ্বনি শুনেছিল।
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ
"তোমরা কেন আল্লাহর পথে সংগ্রাম করবে না? সেই নির্যাতিত পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য যারা আর্তনাদ করে: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এই জালিমদের হাত থেকে রক্ষা করো!" (সুরা আন-নিসা: ৭৫)
"আমরা বিশ্বকে জানাবো আমাদের সত্য! আমরা ভিক্ষুক নই, আমরা বীর পূর্বপুরুষদের সন্তান!"
"আমাদের লড়াই শুধু জীবনের জন্য নয়, সম্মানের জন্য! আমরা আমাদের আরাকানে সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে ফিরবো ইন শা আল্লাহ!"
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
😢23👍3❤2
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যেখানে দু'পক্ষই শক্তিশালী অবস্থান নিচ্ছে। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, চীন যদি মার্কিন পণ্যে শুল্ক আরোপ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এর প্রতিক্রিয়ায় চীনা দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়ে দেয়, তারা যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তা বাণিজ্যযুদ্ধ হোক বা সামরিক সংঘাত।
এই হুঁশিয়ারির জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দৃঢ়ভাবে বলেন, "আমরাও প্রস্তুত।"
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
👍7🔥6
This media is not supported in your browser
VIEW IN TELEGRAM
ভারতের গোরখপুরের হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের নির্দেশে আবু হুরাইরা মসজিদের উপরের দুটি তলা ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে এবং তা আদালতের শুনানির আগেই! মুসলিম সম্প্রদায়ের আপত্তি এবং আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে, হিন্দুত্ববাদী বিজেপি প্রশাসন একতরফাভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। মসজিদ কমিটি সংঘাত এড়ানোর জন্য বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে উগ্র বিজেপির শাসনামলে একের পর এক মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা টার্গেট করা হচ্ছে অথচ অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থানগুলো অক্ষত থাকছে। এটি নিছক পক্ষপাত নয় বরং মুসলিমদের বিপক্ষে হিন্দুত্ববাদী ভারতের সুপরিকল্পিত নিপীড়ন। তাদের মূল উদ্দেশ্য একটাই মুসলিমদের আতঙ্কিত করা, তাদের ধর্মীয় পরিচয় ধ্বংস করা এবং হিন্দুত্ববাদীদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।
উগ্র বিজেপি এবং আরএসএসের লক্ষ্য হলো মুসলিমদের গণহত্যা করা, ইসলামকে ধ্বংস করা এবং মুসলিমদের সমাজে নিঃশেষ করে দেওয়া। তারা চায় মুসলিমরা ভয় পেয়ে তাদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ছেড়ে দিক। কিন্তু ভারতের মুসলিমরা তাদের এই অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে ইনশাআল্লাহ।
ইনশাআল্লাহ অতি শীঘ্রই হিন্দুত্ববাদী শাসনের মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং ভারতের মুসলিমরা তাদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে।
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
🤬27😢8👍1
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সহায়তা স্থগিতের কারণে জাতিসংঘ ইন্দোনেশিয়ায় থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্যও তহবিল কমিয়েছে। প্রায় ১,০০০ রোহিঙ্গার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও নগদ সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)।
মিয়ানমারে চরম নির্যাতনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গারা প্রতিবছর জীবন বাজি রেখে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া পৌঁছানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ না পাওয়ায় তারা পুরোপুরি জাতিসংঘের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
সম্প্রতি IOM-এর চিঠিতে জানানো হয়েছে, "তহবিল সংকটের কারণে এখন থেকে পেকানবারুর ৯২৫ রোহিঙ্গার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও নগদ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে না।"
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
😢17👍1
আজকের_তারাবীহ
রামাদান_০৭
সূরা আনফাল, আয়াত ৪১ থেকে ৭৫
✅ গনীমতের মাল বণ্টনের নিয়ম বর্ণিত হয়। বদরের দুই দল আলোচনা করে যুদ্ধের তারিখ ঠিক করতে গেলে উভয় দলই মতভেদ করতো। আল্লাহ তাঁর নির্ধারিত সময়েই যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছেন। যেন যাদের ধ্বংস হওয়ার, তারা সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখেই ধ্বংস হয়; আর যাদের বেঁচে থাকার, তারাও সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখেই বেঁচে থাকে। আল্লাহর ইচ্ছায় উভয় দল পরস্পরকে চোখের দেখায় কম সংখ্যক দেখছিলো। ফলে মুমিনদের সাহস বাড়ে, আর কাফিরদের অহংকার ও অসাবধানতা বাড়ে।
যুদ্ধের সময় অধিক যিকির করতে এবং কুরআন সুন্নাহর অনুগামিতা করতে বলা হয়। অন্তঃকলহ করতে নিষেধ করা হয়। কাফিরদের মতো অহংকারের সহিত লোক দেখানো ধাঁচের যুদ্ধ মহড়া না করতে বলা হয়। শয়তান কাফিরদেরকে যুদ্ধের ব্যাপারে খুব উৎসাহ দিয়েছিলো। ময়দানে এসে ফেরেশতাদের দেখে সে তার বন্ধু কাফিরদের ফেলে পলায়ন করে।
✅ কুরাইশ মুশরিকদের ফিরআউনের সাথে তুলনা করা হয়। উভয় অহংকারী দলই শক্তি ও সংখ্যায় বেশি হয়েও লাঞ্ছিত হয়েছে। এটা তাদের নিজেদেরই দোষ। কাফিররাই আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম জীব। চুক্তি ভঙ্গকারী শত্রু জাতি ও বিশ্বাসঘাতকদের সাথে সমুচিত আচরণ করতে বলা হয়।
✅ জানা-অজানা শত্রুদের মনে ভীতি সঞ্চার করার লক্ষ্য মুমিনদের যথাসাধ্য সামরিক শক্তি অর্জন করতে বলা হয়। আর কোনো শত্রুজাতি শান্তিচুক্তি করতে চাইলে তা করতে বলা হয়। এটা করে তারা যদি ধোঁকা দিতে চায়, তাহলে তা উন্মোচন করার জন্য আল্লাহ আছেন। প্রচণ্ড গোত্রীয় চেতনাবাদী আরব সমাজে আল্লাহ কীভাবে মুমিনদের মাঝে দ্বীনি সম্প্রীতি সৃষ্টি করে দিয়েছেন তা স্মরণ করানো হয়।
প্রাথমিকভাবে মুসলিম ও কাফিরের যুদ্ধ শক্তির অনুপাত ১:১০ হলেও যুদ্ধ ছেড়ে পলায়ন না করে যুদ্ধ করতে বলা হয়, এতেই মুসলিমরা আল্লাহর ইচ্ছায় সফল হবে। পরে বিধান সহজ করে ১:২ করা হয়। শত্রুর শক্তি একেবারে চূর্ণ করার আগ পর্যন্ত তাদের হত্যা না করে বন্দী করা আল্লাহর পছন্দ নয়। বদরের বন্দীদের হত্যা না করে মুক্তিপণ আদায় করার কারণে আল্লাহ কড়া ধমকি দেন। কিন্তু সেই সাথে মাফও করে দেন এবং যা অর্থ অর্জিত হয়েছে, তা নিশ্চিন্তে ভোগ করার অনুমতি দেন। আর সেসকল কাফিরদের অন্তরে যদি আল্লাহ ঈমান আনার ইচ্ছা দেখেন, তাহলে তাদের এই মুক্তিপণ বাবদ সম্পদের ক্ষতিকে তিনি এর চেয়েও উত্তম জিনিস দিয়ে ক্ষতিপূরণ করে দিবেন।
✅ যারা তখনও হিজরত করেনি, তাদের সাথে সম্পদের উত্তরাধিকারের বিধান এবং কাফির গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তাদের সহায়তার বিধান বর্ণিত হয়। যারা ঈমান আনার পর হিজরত ও জিহাদ করেছেন এবং যারা তাঁদের আশ্রয় দিয়েছেন (আনসার), তাঁদেরকে সাচ্চা মুমিন আখ্যায়িত করে ক্ষমা ও উত্তম রিযিকের ওয়াদা করা হয়।
❤14
Islam Insight
আজকের_তারাবীহ রামাদান_০৭ সূরা আনফাল, আয়াত ৪১ থেকে ৭৫ ✅ গনীমতের মাল বণ্টনের নিয়ম বর্ণিত হয়। বদরের দুই দল আলোচনা করে যুদ্ধের তারিখ ঠিক করতে গেলে উভয় দলই মতভেদ করতো। আল্লাহ তাঁর নির্ধারিত সময়েই যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছেন। যেন যাদের ধ্বংস হওয়ার, তারা সুস্পষ্ট প্রমাণ…
✅ সূরা তাওবাহর বক্তব্য অনেকটা সূরা আনফালের মতোই। আরবের অনেক লোক মুসলিম ও মুশরিকদের মাঝে যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি দেখার অপেক্ষায় ছিলো। মুসলিমদের মক্কা বিজয় ও হুনাইন যুদ্ধ জয়ের পর সমগ্র আরবের এসব লোকদের ইসলাম গ্রহণের পথে আর বাধা রইলো না। এমতাবস্থায় আরব উপদ্বীপকে ইসলামের কেন্দ্র ঘোষণার্থে সেখানে অমুসলিমদের স্বাধীন নাগরিকত্ব নিষিদ্ধ ঘোষণা করার প্রয়োজন দেখা দেয়। যুদ্ধরত নয় এমন মুশরিকদের যাদের সাথে এমন চুক্তি ছিলো যার মেয়াদ নির্ধারিত হয়নি, তাদের চার মাস সময় দেওয়া হয়। এর মাঝে ইসলাম গ্রহণ না করলে আরব উপদ্বীপ ছেড়ে চলে যাবে।
✅ আর যাদের সাথে মেয়াদ নির্ধারিত আছে, তাদের সাথে মেয়াদ পূর্ণ করা হবে। তারপরও তারা মুসলিম না হলে বা আরব উপদ্বীপ ছেড়ে না গেলে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করা হবে। এসকল মুশরিকেরা মুসলিমদের বাগে পেলে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক বা ন্যায়-অন্যায়ের মূল্য দেয় না। তাদের সাথে অনুরূপ আচরণের হুকুম করা হয়। তারপর কিছু শর্ত বর্ণিত হয়, যেখানে তাদের হত্যা না করে নিরাপত্তা দিতে হবে। যেমন- ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হওয়া। মুশরিকরা কাবার রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে গর্ব করতো। মূর্তিপূজকরা যে এ দায়িত্বের অযোগ্য, তা ঘোষণা করা হয়।
আত্মীয়-ঘরবাড়ি-সম্পদের চেয়ে জিহাদকে অধিক ভালোবাসতে বলা হয়। আপন আত্মীয়ও যদি কাফির হয়, তাদেরও অভিভাবক বানানো যাবে না। হুনাইনের যুদ্ধের দিন মুসলিমরা নিজেদের সংখ্যাধিক্য দেখে নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছিলো। ফলে প্রাথমিকভাবে পরাজয় বরণ করে। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের পুনঃসংগঠিত করে আক্রমণের সুযোগ দিয়ে বিজয় দেন। এই নিয়ামাতের কথা স্মরণ করানো হয়।
✅ আহলে কিতাবগণের উপর জিযিয়ার বিধান আরোপ করা হয়। তাদের ভ্রান্ত ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো তিরস্কার করা হয়। যেমন- আল্লাহর সন্তান আছে বলে বিশ্বাস করা এবং পীর-দরবেশদেরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা। তাদের অন্যায়ভাবে সম্পদ কুক্ষিগত করার কাজকেও তিরস্কার করা হয়। মুশরিকরা নিজ সুবিধার্থে পবিত্র মাসসমূহ আগপিছ করে বছর হিসাব করতো। এটিকে তিরস্কার করা হয়।
✅ এরপর রোমানদের বিরুদ্ধে সংঘটিতব্য তাবূক যুদ্ধের বিভিন্ন দিক বর্ণনা শুরু হয়। সংখ্যার স্বল্পতা, আসবাবের অভাব, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও জিহাদে বের হতে নানাভাবে উৎসাহিত করা হয়। মুনাফিকদের কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়। জিহাদের ইচ্ছা যদি তাদের থাকতোই তাহলে কিছু না কিছু প্রস্তুতি নিতো। কিন্তু তারা জিহাদে গেলে বিশৃঙ্খলাই করবে। তাই আল্লাহই তাদের ঘরে বসিয়ে রেখেছেন।
মুনাফিকদের অনেকে আজগুবি সব অজুহাত দিতো। এক মুনাফিক আরজ করেছিলো রোমান নারীদের দেখলে সে ফিতনায় পড়ে যাবে, তাই তাকে জিহাদে না যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। আল্লাহ বলেন জিহাদে না গিয়ে বসে থাকাটাই ফিতনা। মুসলিমদের উপর বিপদ আসলে মুনাফিকরা ভাবে যে তারা বেঁচে গেলো। অথচ তাকদিরে থাকা বিপদ আসবেই। মুমিনরা তো হয় জয়ী হবে নয়তো শহীদ হবে, আর মুনাফিকরা হয় আল্লাহর হাতে সরাসরি বা মুমিনদের হাত দিয়ে শাস্তি পাবে।
✅ তারা কেউ কেউ টাকা দিয়ে শারীরিক জিহাদ থেকে অব্যাহতি চায়। আর মুমিনদের মধ্যে কেউ সদকা দিলে তাকে লোক দেখানো বলে উপহাস করে। কেউ দারিদ্রের কারণে কিছু দিতে না পারলে তাকেও উপহাস করে। আল্লাহ বলেন মুনাফিকদের দানই বরং কবুল হয় না। মুমিনরা ঠিকই সাওয়াব পায়। যাকাতের খাতসমূহ বর্ণিত হয়।
✅ রাসূল (সাঃ) সকলের কথা বিশ্বাস করেন বলে মুনাফিকরা খুশি হয় এই ভেবে যে তাঁকে তারা সহজেই প্রতারিত করছে। আল্লাহ এই ধারণা খণ্ডন করে দেন যে তিনি তাঁর রাসূলকে ঠিকই সব গোপন চক্রান্ত জানিয়ে দেন।নিজেদের মুসলিম দাবি করার পরও মুনাফিকরা কাফিরসুলভ কথাবার্তা বলে। জিজ্ঞেস করলে বলে ঠাট্টা করছিলো। এটাকেও কুফরি আখ্যায়িত করা হয়।
মুনাফিক নারী-পুরুষদের তিরস্কার করে তাদের পূর্বেকার জাতিসমূহের সীমালঙ্ঘনকারীদের সাথে তুলনা করা হয়। মুমিন নারী-পুরুষদের প্রশংসা করে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়। কাফিরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে মৌখিক জিহাদ করতে বলা হয়। তাদের প্রতি কঠোর হতে বলা হয়। গরমের ভয়ে জিহাদ না করতে চাওয়ার মানসিকতা খণ্ডন করে বলা হয় জাহান্নাম এরচেয়েও উত্তপ্ত।
Please open Telegram to view this post
VIEW IN TELEGRAM
❤15