Hope Study
Photo
আজারবাইজানের শাসকগোষ্ঠীর আচরণে রয়েছে এক অদ্ভুত দ্বিমুখিতা। আর্মেনিয়ার সাথে কারাবাখের যুদ্ধ শুরু হলে ইলহাম আলিয়েভ সামরিক পোশাক পরে সামনে আসেন। তখন এই লড়াইকে তুলে ধরা হয় মুসলিম বিশ্বের মর্যাদা ও অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে। সহযোগিতা চাওয়া হয় তুরস্ক, পাকিস্তানসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের কাছে। অথচ সংকট কেটে গেলেই বদলে যায় দৃশ্যপট।
গাজায় যখন হাজার হাজার মুসলিম শিশু নিহত হচ্ছে, তখন ইসরায়েলের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় চল্লিশ শতাংশ যোগান দিয়ে যাচ্ছে আজারবাইজান। এমনকি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর জন্য নিজেদের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে ঘাঁটি করার সুযোগ দিয়েছে বাকু। বাইরে মুসলিম উম্মাহর আবেগকে ব্যবহার করে ভূরাজনৈতিক সুবিধা আদায়, গোপনে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমানে জ্বালানির যোগান এবং দেশে ফিরে মুসলিম মেয়েদের মাথা থেকে হিজাব খুলে নেওয়া, এই হলো আজকের মুসলিম বিশ্বের সেক্যুলার জাতিরাষ্ট্রগুলোর আসল চেহারা। উম্মাহর রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এরা পাহারা দেয় পশ্চিমা প্রভুদের স্বার্থ।
কিন্তু ফেরাউনের প্রাসাদেও মূসা (আ) এর আওয়াজ ওঠে। হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান ও নিজামি গঞ্জভির উত্তরসূরি আজারবাইজানের তাওহিদি জনতা ও সাহসী কিশোরী বোনেরা আলিয়েভের এই জুলুমের সামনে মাথা নত করেনি। মচকে গেছে, কিন্তু ভেঙে পড়েনি।
বাকু থেকে শুরু করে দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের দাবানল। হিজাবি সহপাঠীদের স্কুল থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমে এসেছে। জন্ম নিয়েছে এক অভূতপূর্ব জাগরণ। যেসব মেয়েরা সচরাচর হিজাব পরত না, তারাও আজ জালিম সরকারের মুখের ওপর জবাব দিতে মাথায় ওড়না ও স্কার্ফ বেঁধে হিজাবি বোনদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১০ সালেও একবার স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করতে গিয়ে আজেরি মুসলমানদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল এই সরকার। জেল জুলুম আর পুলিশি নির্যাতন চালিয়েও সেদিন তারা ককেশাসের মানুষের দিল থেকে দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা মুছতে পারেনি। আজও পারবে না।
সত্তর বছরের সোভিয়েত লৌহযবনিকা যে ঈমানকে মাটির নিচে দাফন করতে পারেনি, কিছু পশ্চিমাপন্থী সেক্যুলার পুতুলের কাগুজে ফরমান সেই ঈমানকে নিভিয়ে দিতে পারবেনা, ইনশাআল্লাহ। আজারবাইজানের হিজাবি বোন ও মায়েদের এই লড়াই কেবল এক টুকরো কাপড়ের লড়াই নয়। এ লড়াই যুগের হুবাল ও তার স্থানীয় গোলামদের বিরুদ্ধে তাওহিদের আত্মমর্যাদার লড়াই।
জুলুমের রাত যত গভীরই হোক, ভোরের আলো ফোটা কেউ থামাতে পারে না। ককেশাসের সিংহহৃদয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা একা নয়, গোটা উম্মাহর দোয়া ও কলিজার স্পন্দন তাদের সাথে আছে। জালিমের তখত একদিন ভাঙবেই। শিরওয়ান ও বাকুর আসমানে আবারও সগৌরবে উড়বে তাওহিদের নিশান।
ইকবাল যেমনটা বলেছিলেন,
জাহা মে আহলে ঈমা সুরতে খুরশিদ জিতে হ্যায়,
ইধার ডুবে উধার নিকলে, উধার ডুবে ইধার নিকলে। - মুহাম্মদ নূর
গাজায় যখন হাজার হাজার মুসলিম শিশু নিহত হচ্ছে, তখন ইসরায়েলের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় চল্লিশ শতাংশ যোগান দিয়ে যাচ্ছে আজারবাইজান। এমনকি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর জন্য নিজেদের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে ঘাঁটি করার সুযোগ দিয়েছে বাকু। বাইরে মুসলিম উম্মাহর আবেগকে ব্যবহার করে ভূরাজনৈতিক সুবিধা আদায়, গোপনে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমানে জ্বালানির যোগান এবং দেশে ফিরে মুসলিম মেয়েদের মাথা থেকে হিজাব খুলে নেওয়া, এই হলো আজকের মুসলিম বিশ্বের সেক্যুলার জাতিরাষ্ট্রগুলোর আসল চেহারা। উম্মাহর রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এরা পাহারা দেয় পশ্চিমা প্রভুদের স্বার্থ।
কিন্তু ফেরাউনের প্রাসাদেও মূসা (আ) এর আওয়াজ ওঠে। হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান ও নিজামি গঞ্জভির উত্তরসূরি আজারবাইজানের তাওহিদি জনতা ও সাহসী কিশোরী বোনেরা আলিয়েভের এই জুলুমের সামনে মাথা নত করেনি। মচকে গেছে, কিন্তু ভেঙে পড়েনি।
বাকু থেকে শুরু করে দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের দাবানল। হিজাবি সহপাঠীদের স্কুল থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমে এসেছে। জন্ম নিয়েছে এক অভূতপূর্ব জাগরণ। যেসব মেয়েরা সচরাচর হিজাব পরত না, তারাও আজ জালিম সরকারের মুখের ওপর জবাব দিতে মাথায় ওড়না ও স্কার্ফ বেঁধে হিজাবি বোনদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১০ সালেও একবার স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করতে গিয়ে আজেরি মুসলমানদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল এই সরকার। জেল জুলুম আর পুলিশি নির্যাতন চালিয়েও সেদিন তারা ককেশাসের মানুষের দিল থেকে দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা মুছতে পারেনি। আজও পারবে না।
সত্তর বছরের সোভিয়েত লৌহযবনিকা যে ঈমানকে মাটির নিচে দাফন করতে পারেনি, কিছু পশ্চিমাপন্থী সেক্যুলার পুতুলের কাগুজে ফরমান সেই ঈমানকে নিভিয়ে দিতে পারবেনা, ইনশাআল্লাহ। আজারবাইজানের হিজাবি বোন ও মায়েদের এই লড়াই কেবল এক টুকরো কাপড়ের লড়াই নয়। এ লড়াই যুগের হুবাল ও তার স্থানীয় গোলামদের বিরুদ্ধে তাওহিদের আত্মমর্যাদার লড়াই।
জুলুমের রাত যত গভীরই হোক, ভোরের আলো ফোটা কেউ থামাতে পারে না। ককেশাসের সিংহহৃদয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা একা নয়, গোটা উম্মাহর দোয়া ও কলিজার স্পন্দন তাদের সাথে আছে। জালিমের তখত একদিন ভাঙবেই। শিরওয়ান ও বাকুর আসমানে আবারও সগৌরবে উড়বে তাওহিদের নিশান।
ইকবাল যেমনটা বলেছিলেন,
জাহা মে আহলে ঈমা সুরতে খুরশিদ জিতে হ্যায়,
ইধার ডুবে উধার নিকলে, উধার ডুবে ইধার নিকলে। - মুহাম্মদ নূর
❤2
দূর্গা পূজার ইতিহাস- যেভাবে ইংরেজদের হাত ধরে এলো দূর্গা পূজা- https://telegra.ph/দরগ-পজর-ইতহস--যভব-ইরজদর-হত-ধর-এল-দরগ-পজ-10-20
এই সময়ের কিছু জরুরী কথা
.
এক].
উম্মতের কোনো একজন সদস্য শি/রক করে জাহান্নামে চলে যাক—এটা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো সহ্য করতেন না। "মানুষ ইমান আনছেনা—এই দুঃখে তিনি মর্মপীড়ায় ভুগতেন। সেখানে উম্মতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ পূজা ও শিরকের মাধ্যমে জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, এটি কোনো আনন্দের খবর নয়। এতে আমরা আনন্দিত নই; বরং বিব্রত, দুঃখিত এবং মর্মাহত।
.
তবে আমাদের দাবি হলো; ঈমান ও শিরকের মাঝে ইলমিভাবে কোনো অস্পষ্টতা রাখা যাবে না। তাওয়ীলাতের কুয়াশা দিয়ে ঈমানের স্বচ্ছতায় কোনো প্রকার ধোঁয়াশা তৈরি করা যাবে না। দরদ ও সহমর্মিতার রেখা টেনে ঈমান-ইসলামের অকাট্য বিষয়গুলোকে ঝাপসা করে দিলে উম্মত বাঁচবে না ভাই; বরং দলে দলে আরও বেশি করে জাহান্নামের দিকে যাবে। অনেকে বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে জান্নাতে নেয়ার ফিকির করতেন আর আমরা সবাইকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তাদের জানা দরকার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে জান্নাতে নিতেন ঈমান ও আকিদার ইলম এবং তার ওপর আমল দিয়ে; শিরককে ঈমান বলে নয়। আমি আবারো বলছি শিরককে ইমান বলে নয়।
.
উম্মতকে বাঁচানোর সঠিক তরিকা হলো—শিরককে শিরক বলা এবং এর পরকালীন ভয়াবহতাগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা, যাতে উম্মত সতর্ক হতে পারে। যখন ফতোয়া হবে, মূর্তিপূজার শুভেচ্ছা দিলে বা দেবী দুর্গার বন্দনা গাইলেও ঈমান যায় না—তখন মানুষ শিরকের প্রতি দুঃসাহসী হয়ে উঠবে এবং অগণিত উম্মতকে তাদের অজান্তেই জাহান্নামের পথে টেনে নিয়ে যাবে। যা এখন ঘটে চলেছে।
.
দুই].
যে আদর্শের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে নেতৃস্থানীয়রা দলে দলে শিরকের দিকে ধাবিত হচ্ছে, সেই আদর্শের নাম ‘সেক্যুলারিজম’ (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ)। তাই ব্যক্তি বা দল এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই আদর্শের টুটি চেপে ধরা এবং এর চলমান উদাহরণগুলো খুলে খুলে আলোচনা করা। আদর্শিক জায়গায় যদি আঘাত করা না যায়, তাহলে পূজার সিজন শেষে এই কট্টর সেক্যুলাররাই ঈদের সিজনে টুপি পরে পাক্কা মুসিলম হয়ে যাবে। আর আমরাও নিয়ম করে তিনবেলা ধোকা খেতে থাকবো। তাই সেক্যুলারিজমের মূল চরিত্র এবং তার কুফরি দাবি দাওয়াগুলো—জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। এটাই জাতিকে বাঁচানোর প্রাথমিক পথ।
.
তিন.
শিরক ও কুফরের ব্যাপারে ইসলামের সিদ্ধান্ত হলো—ইসলাম এই জমিনে এর উৎসব তো দূরের কথা, সাধারণ অবস্থায়ও তা মেনে নেয় না। তবে জোর করে নয়; কারণ জোর করে কাউকে ঈমানদার বানানো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, বরং তা হতে হবে সিস্টেম বা ব্যবস্থার মাধ্যমে। এখন যেমন পরাজিত হয়ে মুসলিমরা কুফরি ব্যবস্থার গ্যাঁড়াকলে পড়ে ঈমান হারাচ্ছে, ঠিক তেমনি কুফরও পরাজিত হয়ে নিজ জায়গা থেকে সরে আসবে। এটাই ইসলামের সোনালী যুগের ইতিহাস, এটাই কুরআনের ভাষ্য।
.
কিন্তু ইসলাম যদি প্রতিষ্ঠিত না থাকে এবং রাষ্ট্র যদি সেক্যুলার হয়, তবে ইসলামী রাষ্ট্র থাকলে যে মূলনীতি প্রয়োগ করা হতো; (জিজিয়া দিয়ে ধর্ম পালনের অধিকার) তা এখানে চলবে না। এখানে কী করতে হবে তা নিন্মোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত—‘
.
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
.
‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় বা অসৎ কাজ হতে দেখে, তবে সে যেন তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করে। আর যদি সেই সামর্থ্য না থাকে, তবে সে যেন তার মুখ দিয়ে তার প্রতিবাদ করে। আর যদি সেই সামর্থ্যও না থাকে, তবে সে যেন অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করে (এবং তা দূর করার আকাঙ্খা রাখে)। আর এটি হলো ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর।" (সহিহ মুসলিম: হাদিস নম্বর ৪৯ -ঈমান অধ্যায়)।
.
"মুসলিমদের শিরক করতে বিরত থাকার নসিহত করতে গিয়ে মুশরিকদের শিরকের অধিকার নিশ্চিত করার চেয়ে আমার কাছে চুপ থাকাই উত্তম। আমরা কাউকে যেমন মদ, জিনা বা চুরির অধিকার দিতে পারি না, ঠিক তেমনি শিরকের অনুমোদনও দিতে পারি না। আমরা বলতে পারি না—‘তোমরা যত পারো উৎসব করে শিরক করো।’ এটি নবীজির পুরো জীবনের দাওয়াতি দরদ ও অনুভূতির সাথে যায় না; এমনকি মানুষের প্রতি মানুষের দরদের জায়গা থেকেও তা মেলে না।" (সুরা তাওবার বিষয়বস্তুর কথা আলোচনা না-ই বা করলাম)।
.
চার].
.
আল্লাহর জমিনে শিরক হোক—তা আমরা চাই না। কেবল দলগত মুসলিম বা আক্ষরিক অর্থে ইসলামী আকাঙ্খা থেকে নয়; বরং রাসুলের উম্মতের প্রতি পূর্ণ দরদ ও জাহান্নামের ভয়াবহতার উপলব্ধি থেকেই আমরা এটা চাই না। তাই পৃথিবীর সমস্ত অমুসলিমদের প্রতি আমাদের আহ্বান—হে বনি আদমের সন্তানেরা! তোমরা ইসলামে এসো। ইসলাম তোমাদেরও দ্বীন, তোমাদেরও জীবনবিধান। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরো পৃথিবীর জন্য রহমত, সমগ্র মানবজাতির কল্যাণকামী। তাঁর ওপর ঈমান আনো, আল্লাহকে এক বলে মেনে নাও। নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।
.
এক].
উম্মতের কোনো একজন সদস্য শি/রক করে জাহান্নামে চলে যাক—এটা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো সহ্য করতেন না। "মানুষ ইমান আনছেনা—এই দুঃখে তিনি মর্মপীড়ায় ভুগতেন। সেখানে উম্মতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ পূজা ও শিরকের মাধ্যমে জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, এটি কোনো আনন্দের খবর নয়। এতে আমরা আনন্দিত নই; বরং বিব্রত, দুঃখিত এবং মর্মাহত।
.
তবে আমাদের দাবি হলো; ঈমান ও শিরকের মাঝে ইলমিভাবে কোনো অস্পষ্টতা রাখা যাবে না। তাওয়ীলাতের কুয়াশা দিয়ে ঈমানের স্বচ্ছতায় কোনো প্রকার ধোঁয়াশা তৈরি করা যাবে না। দরদ ও সহমর্মিতার রেখা টেনে ঈমান-ইসলামের অকাট্য বিষয়গুলোকে ঝাপসা করে দিলে উম্মত বাঁচবে না ভাই; বরং দলে দলে আরও বেশি করে জাহান্নামের দিকে যাবে। অনেকে বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে জান্নাতে নেয়ার ফিকির করতেন আর আমরা সবাইকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তাদের জানা দরকার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে জান্নাতে নিতেন ঈমান ও আকিদার ইলম এবং তার ওপর আমল দিয়ে; শিরককে ঈমান বলে নয়। আমি আবারো বলছি শিরককে ইমান বলে নয়।
.
উম্মতকে বাঁচানোর সঠিক তরিকা হলো—শিরককে শিরক বলা এবং এর পরকালীন ভয়াবহতাগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা, যাতে উম্মত সতর্ক হতে পারে। যখন ফতোয়া হবে, মূর্তিপূজার শুভেচ্ছা দিলে বা দেবী দুর্গার বন্দনা গাইলেও ঈমান যায় না—তখন মানুষ শিরকের প্রতি দুঃসাহসী হয়ে উঠবে এবং অগণিত উম্মতকে তাদের অজান্তেই জাহান্নামের পথে টেনে নিয়ে যাবে। যা এখন ঘটে চলেছে।
.
দুই].
যে আদর্শের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে নেতৃস্থানীয়রা দলে দলে শিরকের দিকে ধাবিত হচ্ছে, সেই আদর্শের নাম ‘সেক্যুলারিজম’ (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ)। তাই ব্যক্তি বা দল এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই আদর্শের টুটি চেপে ধরা এবং এর চলমান উদাহরণগুলো খুলে খুলে আলোচনা করা। আদর্শিক জায়গায় যদি আঘাত করা না যায়, তাহলে পূজার সিজন শেষে এই কট্টর সেক্যুলাররাই ঈদের সিজনে টুপি পরে পাক্কা মুসিলম হয়ে যাবে। আর আমরাও নিয়ম করে তিনবেলা ধোকা খেতে থাকবো। তাই সেক্যুলারিজমের মূল চরিত্র এবং তার কুফরি দাবি দাওয়াগুলো—জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। এটাই জাতিকে বাঁচানোর প্রাথমিক পথ।
.
তিন.
শিরক ও কুফরের ব্যাপারে ইসলামের সিদ্ধান্ত হলো—ইসলাম এই জমিনে এর উৎসব তো দূরের কথা, সাধারণ অবস্থায়ও তা মেনে নেয় না। তবে জোর করে নয়; কারণ জোর করে কাউকে ঈমানদার বানানো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, বরং তা হতে হবে সিস্টেম বা ব্যবস্থার মাধ্যমে। এখন যেমন পরাজিত হয়ে মুসলিমরা কুফরি ব্যবস্থার গ্যাঁড়াকলে পড়ে ঈমান হারাচ্ছে, ঠিক তেমনি কুফরও পরাজিত হয়ে নিজ জায়গা থেকে সরে আসবে। এটাই ইসলামের সোনালী যুগের ইতিহাস, এটাই কুরআনের ভাষ্য।
.
কিন্তু ইসলাম যদি প্রতিষ্ঠিত না থাকে এবং রাষ্ট্র যদি সেক্যুলার হয়, তবে ইসলামী রাষ্ট্র থাকলে যে মূলনীতি প্রয়োগ করা হতো; (জিজিয়া দিয়ে ধর্ম পালনের অধিকার) তা এখানে চলবে না। এখানে কী করতে হবে তা নিন্মোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত—‘
.
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
.
‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় বা অসৎ কাজ হতে দেখে, তবে সে যেন তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করে। আর যদি সেই সামর্থ্য না থাকে, তবে সে যেন তার মুখ দিয়ে তার প্রতিবাদ করে। আর যদি সেই সামর্থ্যও না থাকে, তবে সে যেন অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করে (এবং তা দূর করার আকাঙ্খা রাখে)। আর এটি হলো ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর।" (সহিহ মুসলিম: হাদিস নম্বর ৪৯ -ঈমান অধ্যায়)।
.
"মুসলিমদের শিরক করতে বিরত থাকার নসিহত করতে গিয়ে মুশরিকদের শিরকের অধিকার নিশ্চিত করার চেয়ে আমার কাছে চুপ থাকাই উত্তম। আমরা কাউকে যেমন মদ, জিনা বা চুরির অধিকার দিতে পারি না, ঠিক তেমনি শিরকের অনুমোদনও দিতে পারি না। আমরা বলতে পারি না—‘তোমরা যত পারো উৎসব করে শিরক করো।’ এটি নবীজির পুরো জীবনের দাওয়াতি দরদ ও অনুভূতির সাথে যায় না; এমনকি মানুষের প্রতি মানুষের দরদের জায়গা থেকেও তা মেলে না।" (সুরা তাওবার বিষয়বস্তুর কথা আলোচনা না-ই বা করলাম)।
.
চার].
.
আল্লাহর জমিনে শিরক হোক—তা আমরা চাই না। কেবল দলগত মুসলিম বা আক্ষরিক অর্থে ইসলামী আকাঙ্খা থেকে নয়; বরং রাসুলের উম্মতের প্রতি পূর্ণ দরদ ও জাহান্নামের ভয়াবহতার উপলব্ধি থেকেই আমরা এটা চাই না। তাই পৃথিবীর সমস্ত অমুসলিমদের প্রতি আমাদের আহ্বান—হে বনি আদমের সন্তানেরা! তোমরা ইসলামে এসো। ইসলাম তোমাদেরও দ্বীন, তোমাদেরও জীবনবিধান। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরো পৃথিবীর জন্য রহমত, সমগ্র মানবজাতির কল্যাণকামী। তাঁর ওপর ঈমান আনো, আল্লাহকে এক বলে মেনে নাও। নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।
.
আমরা সাক্ষা দিচ্ছি..
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ
"আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল।"
.
رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا وَرَسُولًا
"আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নবী ও রাসুল হিসেবে সানন্দচিত্তে গ্রহণ করেছি।" - মুহাম্মদ আফসার
আমরা সাক্ষা দিচ্ছি..
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ
"আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল।"
.
رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا وَرَسُولًا
"আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নবী ও রাসুল হিসেবে সানন্দচিত্তে গ্রহণ করেছি।" - মুহাম্মদ আফসার
Hope Study
Photo
জীবনের শেষ অধ্যায়ে এক কবির নিঃসঙ্গ ট্র্যাজেডি!
.
বাংলা সাহিত্যে ফররুখ আহমদ এমন একজন কবি, যিনি অবহেলিত-দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের হাহাকারকে কবিতায় ধারণ করেছিলেন। অথচ জীবনের শেষ অধ্যায়ে তাঁকেও পার করতে হয়েছিল দারিদ্র্য, অসুস্থতা, পারিবারিক শোক ও পেশাগত অনিশ্চয়তার কঠিন সময়। যাঁর কবিতায় ছিল মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, তাঁর নিজের জীবনের শেষ দিনগুলোই হয়ে উঠেছিল এক বেদনাদায়ক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
.
১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরার মাঝাইল গ্রামে জন্ম নেওয়া ফররুখ আহমদ বাংলা সাহিত্যে পরিচিতি লাভ করেন মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে। ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে লেখা তাঁর ‘লাশ’ কবিতা তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র স্থান অধিকার করে। সাহিত্যিক স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছিলেন। কিন্তু সাহিত্যিক খ্যাতি যে একজন মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, তাঁর শেষ জীবন তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ।
.
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ফররুখ আহমদের কর্মজীবনে সংকট দেখা দেয়। তিনি ঢাকা বেতারে কাজ করতেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনা তাঁর আর্থিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেয়। বিষয়টি শুধু একজন কবির কর্মহীন হয়ে পড়ার ঘটনা ছিল না; এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তাঁর পরিবারের ভরণপোষণ এবং অসুস্থতা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর সামর্থ্য।
.
কবির এই সংকটের কথা সাহিত্যিক আহমদ ছফাও তুলে ধরেছিলেন। গণকণ্ঠ পত্রিকায় তাঁর লেখা ‘ফররুখ আহমদের কী অপরাধ’ শীর্ষক প্রতিবেদন কবির চাকরি-সংক্রান্ত সংকট নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তৈরি করে। তিনি সেখানে লিখেছিলেন-
“খবর পেয়েছি বিনা চিকিৎসায় কবি ফররুখ আহমদের মেয়ে মারা গেছে। এই প্রতিভাধর কবি যাঁর দানে আমাদের সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে—পয়সার অভাবে তাঁর মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে পারেননি, ওষুধ কিনতে পারেননি। কবি এখন বেকার।”
.
ফররুখ আহমদের শেষ জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকগুলোর একটি ছিল তাঁর পরিবারের দুর্দশা। তাঁর এক মেয়ে মারা গিয়েছিল চিকিৎসার অভাবে। একই সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবনেও আর্থিক দুর্দশা তো ছিলই। তাঁর এক ছেলে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ছিলেন, কিন্তু অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায় সেই পড়াশোনাও।
.
একজন বাবার কাছে সন্তানের অসুস্থতা ও মৃত্যু এমনিতেই অসহনীয়। তার ওপর চিকিৎসার সামর্থ্য না থাকাটা যে কত নির্মম, সেটা সে বাবাই বুঝতে পারে।
.
ফররুখ আহমদের শেষ জীবনের আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবরণগুলোর একটি পাওয়া যায় তাঁর বন্ধু আবু রুশদের স্মৃতিকথায়। কবি জীবনের শেষ দিকে অর্ধাহার ও বিনা চিকিৎসায় দিন কাটিয়েছেন। তাঁর অনুরাগীরা সাহায্য করতে চাইলেও তিনি বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে লিখেছেন আবু রুশদ।
.
সাহিত্যিক আহমদ ছফাও কবির মৃত্যুর পর তাঁর আত্মমর্যাদার প্রসঙ্গটি নিয়ে লিখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ছফা ফররুখ আহমদের ব্যক্তিত্ব ও তাঁর সময়-সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আরও জটিল মূল্যায়ন করেছিলেন।
.
১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায় মৃত্যুবরণ করে মুসলিম রেনেসাঁর এই অগ্রদূত। তাঁর বয়স তখন ছিল ৫৬ বছর।
@HopeStudy24hours
.
বাংলা সাহিত্যে ফররুখ আহমদ এমন একজন কবি, যিনি অবহেলিত-দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের হাহাকারকে কবিতায় ধারণ করেছিলেন। অথচ জীবনের শেষ অধ্যায়ে তাঁকেও পার করতে হয়েছিল দারিদ্র্য, অসুস্থতা, পারিবারিক শোক ও পেশাগত অনিশ্চয়তার কঠিন সময়। যাঁর কবিতায় ছিল মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, তাঁর নিজের জীবনের শেষ দিনগুলোই হয়ে উঠেছিল এক বেদনাদায়ক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
.
১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরার মাঝাইল গ্রামে জন্ম নেওয়া ফররুখ আহমদ বাংলা সাহিত্যে পরিচিতি লাভ করেন মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে। ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে লেখা তাঁর ‘লাশ’ কবিতা তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র স্থান অধিকার করে। সাহিত্যিক স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছিলেন। কিন্তু সাহিত্যিক খ্যাতি যে একজন মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, তাঁর শেষ জীবন তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ।
.
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ফররুখ আহমদের কর্মজীবনে সংকট দেখা দেয়। তিনি ঢাকা বেতারে কাজ করতেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনা তাঁর আর্থিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেয়। বিষয়টি শুধু একজন কবির কর্মহীন হয়ে পড়ার ঘটনা ছিল না; এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তাঁর পরিবারের ভরণপোষণ এবং অসুস্থতা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর সামর্থ্য।
.
কবির এই সংকটের কথা সাহিত্যিক আহমদ ছফাও তুলে ধরেছিলেন। গণকণ্ঠ পত্রিকায় তাঁর লেখা ‘ফররুখ আহমদের কী অপরাধ’ শীর্ষক প্রতিবেদন কবির চাকরি-সংক্রান্ত সংকট নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তৈরি করে। তিনি সেখানে লিখেছিলেন-
“খবর পেয়েছি বিনা চিকিৎসায় কবি ফররুখ আহমদের মেয়ে মারা গেছে। এই প্রতিভাধর কবি যাঁর দানে আমাদের সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে—পয়সার অভাবে তাঁর মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে পারেননি, ওষুধ কিনতে পারেননি। কবি এখন বেকার।”
.
ফররুখ আহমদের শেষ জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকগুলোর একটি ছিল তাঁর পরিবারের দুর্দশা। তাঁর এক মেয়ে মারা গিয়েছিল চিকিৎসার অভাবে। একই সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবনেও আর্থিক দুর্দশা তো ছিলই। তাঁর এক ছেলে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ছিলেন, কিন্তু অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায় সেই পড়াশোনাও।
.
একজন বাবার কাছে সন্তানের অসুস্থতা ও মৃত্যু এমনিতেই অসহনীয়। তার ওপর চিকিৎসার সামর্থ্য না থাকাটা যে কত নির্মম, সেটা সে বাবাই বুঝতে পারে।
.
ফররুখ আহমদের শেষ জীবনের আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবরণগুলোর একটি পাওয়া যায় তাঁর বন্ধু আবু রুশদের স্মৃতিকথায়। কবি জীবনের শেষ দিকে অর্ধাহার ও বিনা চিকিৎসায় দিন কাটিয়েছেন। তাঁর অনুরাগীরা সাহায্য করতে চাইলেও তিনি বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে লিখেছেন আবু রুশদ।
.
সাহিত্যিক আহমদ ছফাও কবির মৃত্যুর পর তাঁর আত্মমর্যাদার প্রসঙ্গটি নিয়ে লিখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ছফা ফররুখ আহমদের ব্যক্তিত্ব ও তাঁর সময়-সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আরও জটিল মূল্যায়ন করেছিলেন।
.
১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায় মৃত্যুবরণ করে মুসলিম রেনেসাঁর এই অগ্রদূত। তাঁর বয়স তখন ছিল ৫৬ বছর।
@HopeStudy24hours
চীনের মুসলিমদের কথা উঠলেই বর্তমানে আমাদের মাথায় উইঘুরদের কথা আসে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ থেকে প্রায় দেড়শো বছর আগে চীনের বুকেই ঘটেছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এবং ভয়াবহ এক মুসলিম গণহত্যা? ১৮ শতকের শেষ ও ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মাঞ্চু (চিং রাজবংশ) শাসনামলে চীনের হুই (Hui) মুসলিমদের ওপর যে নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তা আজ মূলধারার ইতিহাস থেকে প্রায় মুছে ফেলা হয়েছে।
মাঞ্চু সাম্রাজ্যের বৈষম্যমূলক নীতি, চরম নিপীড়ন এবং ভারী কর আরোপের প্রতিবাদে চীনের মুসলিমরা বিদ্রোহ শুরু করে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ইউনান প্রদেশের প্যান্থে বিদ্রোহ' (১৮৫৬–১৮৭৩) এবং উত্তর-পশ্চিম চীনের 'ডুনগান বিদ্রোহ' (১৮৬২–১৮৭৭)। এই অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমন করতে মাঞ্চু শাসকগোষ্ঠী যে পথ বেছে নিয়েছিল, তা ছিল চরম পৈশাচিক।
মাঞ্চু জেনারেলরা, বিশেষ করে কুখ্যাত সেনাপতি 'জুও জংটাং' (Zuo Zongtang) মুসলিমদের বিদ্রোহ দমন করতে পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করে। শানসি, গানসু, নিংজিয়া এবং জিনজিয়াং প্রদেশে হাজার হাজার মুসলিম গ্রাম পুরোপুরি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। নির্বিচারে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, শুধু ডুনগান বিদ্রোহ দমনের সময়ই প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ প্রাণ হারায়, যার বিশাল অংশ ছিল মুসলিম।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয়েছিল শানসি প্রদেশে। বিদ্রোহের আগে সেখানে প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি মুসলিমের বসবাস ছিল। কিন্তু মাঞ্চু বাহিনীর গণহত্যার পর সেখানে মুসলিমদের সংখ্যা নেমে আসে মাত্র কয়েক হাজারে! যারা বেঁচে গিয়েছিলেন, তাদেরও বাধ্য করা হয়েছিল দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে নির্বাসনে যেতে।
আজ চীনের শানসি বা ইউনান প্রদেশে গেলে সেই পুরনো সমৃদ্ধ মুসলিম জনপদগুলোর দেখা খুব একটা মেলে না। বিশাল সাম্রাজ্যের চাকচিক্যের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে লাখ লাখ মজলুম মানুষের রক্ত আর কান্না।
মাঞ্চু সাম্রাজ্যের বৈষম্যমূলক নীতি, চরম নিপীড়ন এবং ভারী কর আরোপের প্রতিবাদে চীনের মুসলিমরা বিদ্রোহ শুরু করে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ইউনান প্রদেশের প্যান্থে বিদ্রোহ' (১৮৫৬–১৮৭৩) এবং উত্তর-পশ্চিম চীনের 'ডুনগান বিদ্রোহ' (১৮৬২–১৮৭৭)। এই অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমন করতে মাঞ্চু শাসকগোষ্ঠী যে পথ বেছে নিয়েছিল, তা ছিল চরম পৈশাচিক।
মাঞ্চু জেনারেলরা, বিশেষ করে কুখ্যাত সেনাপতি 'জুও জংটাং' (Zuo Zongtang) মুসলিমদের বিদ্রোহ দমন করতে পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করে। শানসি, গানসু, নিংজিয়া এবং জিনজিয়াং প্রদেশে হাজার হাজার মুসলিম গ্রাম পুরোপুরি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। নির্বিচারে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, শুধু ডুনগান বিদ্রোহ দমনের সময়ই প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ প্রাণ হারায়, যার বিশাল অংশ ছিল মুসলিম।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয়েছিল শানসি প্রদেশে। বিদ্রোহের আগে সেখানে প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি মুসলিমের বসবাস ছিল। কিন্তু মাঞ্চু বাহিনীর গণহত্যার পর সেখানে মুসলিমদের সংখ্যা নেমে আসে মাত্র কয়েক হাজারে! যারা বেঁচে গিয়েছিলেন, তাদেরও বাধ্য করা হয়েছিল দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে নির্বাসনে যেতে।
আজ চীনের শানসি বা ইউনান প্রদেশে গেলে সেই পুরনো সমৃদ্ধ মুসলিম জনপদগুলোর দেখা খুব একটা মেলে না। বিশাল সাম্রাজ্যের চাকচিক্যের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে লাখ লাখ মজলুম মানুষের রক্ত আর কান্না।
😭1